শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০

ব্ল্যাকআউটের ভ্রূকুটি

 



চতুর্দিকে নানান গবেষণামূলক প্রবন্ধ পড়ে একটা জিনিস বুঝতে পারছি যে, খুব শিগগিরই আমাদের দেশ সহ গোটা পৃথিবী জুড়েই একটা ব্ল্যাকআউটের থাবা গ্রাস করতে চলেছে সম্ভবত। হতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে হ্যাকিং করবে অবশিষ্ট সমস্ত সিস্টেমকে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ধসে পড়া, নেভিগেশন সিস্টেমের বিকল হয়ে যাওয়া, মোবাইল টেকনোলোজির স্তব্ধ হয়ে যাওয়া থেকে আমাদের ভাবনার অতীত এমন সব দুর্যোগ আসতে পারে। মোবাইল টেকনোলজিই যখন থাকবেনা তখন ইন্টারনেট দ্বারা আজকের এই ‘জ্ঞান ও যোগাযোগের’ যে আদানপ্রদান এ সবই সেদিন স্তব্ধ হয়ে যাবে, কোন কিছুই কাজ করবেনা।

যদিও বিগত দু’দশক ধরে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ক্রমাগত সাইবার হামলার এমন আশঙ্কাকে বাজারি খবরে নিয়মিত জিইয়ে রেখে দেওয়ার দরুন এ বিষয়ে জনগণ আর সেভাবে ভয় পায়না আজকাল। অনেক সময় নিয়ে এই উদাসীনতা তৈরি করা গেছে জনমানসে। পুঁজিবাদিরা যে ধ্বংসের মাঝেও নিজেদের মুনাফা খুঁজে নেয়, করোনাকালে তা আমরা দেখেছি, তার জন্যই এই প্রস্তুতি। ডলারের পতন আসন্ন এটা নিশ্চিত, পেট্রো ডলারের অর্থনীতি তার ‘ডেট অফ এক্সপেয়ারি’ অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়ে এখন বোনাসে চলছে, এই অবস্থায় একটা চরম ঝাঁকুনি দিয়ে নতুন অর্থব্যবস্থার প্রবর্তনা না হলে দেউলিয়া সুদী অর্থনীতি নিজেকে বিস্তার করতে পারবেনা। সুতরাং নতুন অর্থনীতি ব্যবস্থার জন্যই একটা থেমে আবার শুরুর জন্য ‘ব্ল্যাকআউট’ ভীষণ জরুরী, কারণ ধ্বংসের মাঝেই সৃষ্টির বীজ থাকে।

বর্তমানে আবার ‘নিম্ন সৌর’ বৎসরকাল চলছে, হতেই পারে কোনো উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মহাজাগতিক রশ্মি দিয়ে কিছু একটা করে বসবে ক্ষমতাধরেরা; কিম্বা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের গল্প ফেঁদে আসলে এমন কিছু একটা করা যাতে পৃথিবীর অবাঞ্ছিত গরীব সম্প্রদায়কে অনেকটাই কমিয়ে ফেলা যায় ধর্ম বর্ণ রাষ্ট্র নির্বিশেষে। মোদ্দাকথা ‘ইলুমিনাতি-মেসনস-রেড ল্যান্টার্ন্স-ব্ল্যাক ড্রাগনস-ক্রোকোডাইল-আইরিশ ব্রাদারহুড-অর্ডার অফ স্টার- রসিক্রিয়ানিজম- ব্ল্যাক হ্যান্ড-ডেবিউন্টে’ ইত্যাদিদের মতো সিক্রেট সংগঠন গুলো ভিসন-২১ নামের যে মারণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তাতে কমপক্ষে কয়েকশো কোটি মানুষ এর শিকার হতে পারে।

করোনা আরও শক্তিশালী মারণ ক্ষমতা নিয়ে ফিরে আসাটাও এই পরিকল্পনারই অংশ, এক্ষেত্রে মর্টালিটি রেট ২০% এর আশেপাশে রাখাটাই লক্ষ্য। কোনো মাস্ক, ভ্যাকসিনই এর থেকে মুক্তি দেবেনা। ইতি মধ্যেই বিল গেটসের সহযোগী এদেশের সিরাম ইন্সটিটিউটের ‘পুনাওয়ালা’ সরকারের কাছে ৮০ হাজার কোটি মজুদ রাখতে বলেছে ভ্যাকসিনের জন্য, সুতরাং লগ্নিকারীরা যথেষ্ট মুনাফা না কামানো পর্যন্ত এই মহামারী যাবেনা। অতএব, ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২১ এর শেষ পর্যন্ত ভিসন টুয়েন্টি ওয়ান পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মধ্যেই ইলুমিনাতিরা এই দুর্যোগ ঘটাতে চলেছে বিশ্বজুড়ে। কিছুদিন আগের একটা নিবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম বিশ্ব যুদ্ধের, সেটার মধ্যেই হয়তো বাকিগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দিয়ে শুভ মহরৎ অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে, পরবর্তীতে তুরস্ক-গ্রিস। এদিকে এলিটরা সেই মতো তাদের নিজেদের জন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে বলেই কন্সপিরেসি থিয়োরিস্টদের দাবি আছে তথ্যপ্রমাণ সহ।

কারা এই সোসাইটির সদস্য! মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA এর একটি রিপোর্ট “Bloodlines of the Illuminati” নামের একটা pdf মতে ১৩টি পরিবারের নাম পাওয়া যায়, যারা বিশ্ব শাসন করছে। প্রসঙ্গত এরা সকলেই ইহুদী জায়নবাদি। প্রত্যেকেই শক্তিশালী পরিবার, একতাই এদের মূল শক্তি। মেলনস ফ্যামিলি, কার্নেগিজ ফ্যামিলি, রথচাইল্ডস ফ্যামিলি, রকফিলার্স ফ্যামিলি, ডিউকস ফ্যামিলি, অ্যাস্টার্স ফ্যামিলি, ডরানসেস ফ্যামিলি, রেনল্ডেস ফ্যামিলি, স্টিলিমানস ফ্যামিলি, বেকারস ফ্যামিলি, পাইনেস ফ্যামিলি, কুইলম্যানস ফ্যামিলি, ওয়াটসনস ফ্যামিলি হলো এই তেরোর মাঝে, এরাই সমস্ত গোপন সমিতি গুলোর কর্ণধার। নতুন শতকে প্যান ইউরোপ ও মার্কিন মুলুকের টুকস ফ্যামিলি, ক্লেইনওয়ার্টস, ডুপন্টস, ওয়ারবার্গস, ফিপ্পিস, গ্রেসস, গুগেনহেমস, মিলার্স, ড্রেক্সেলস, উইনথ্রপস, ভ্যানডারবিল্টস, হুইটনিস, হার্কিনিস দের মতো কয়েকটি অতি ধনী পরিবার এই গোপন সমিতি গুলোর সদস্য হিসাবে যোগ দিয়েছে। এদের অধীনেই বিশ্বজোড়া প্রতিটি সেক্টরে নানান সফল পেশাদারেরা এদের দ্বারা সরাসরি পোষিত হয়ে এদের পক্ষে কর্মসম্পাদন করে থাকে।

কথিত আছে পৃথিবীর মোট অস্থাবর সম্পদের ৯১ ভাগের মালিক এরাই। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ফেডারাল রিজার্ভ সব বিশ্ব ব্যাঙ্কিং সিস্টেম, বিশ্ব মিডিয়া ও সিনেমা-টিভির মালিকানা, বিশ্বের অধিকাংশ মাল্টিন্যাশানাল FMCG কোম্পানির ৯৯% এরাই কুক্ষিগত করে রেখেছে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ব্যাতিরেকে। উপরের এই পরিবারগুলোকে কখনও কোনো ধনীর তালিকাতে দেখবেননা, ফোর্বস ম্যাগাজিন হোক বা ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ কোথাও এদের সম্বন্ধে কোনো তথ্য পাওয়া যাবেনা। কিন্তু এরাই মূলত বিশ্বের চালিকাশক্তি।

ষড়যন্ত্রের যে জাল তৈরি করেছে এরা, তা আসলে অনেক পুরাতন একটা এজেন্ডা। ওয়ান অর্ডার ওয়ার্ল্ড। কোয়ান্টাম কম্পিউটার সমৃদ্ধ তথা বেশকিছু উপগ্রহ সিস্টেম মহাকাশে ঘুরছে, যেগুলোর ঘোষিত মালিক চিন। আমেরিকা তথা নাসা কোনো কোয়ান্টাম কম্পিউটার চালিত স্যাটেলাইট পাঠাতে সক্ষম হয়েছে কিনা তার কোনো পরিষ্কার তথ্য নেই, অফিশিয়ালি জানায়নি আজও। বাইনারি কম্পিউটারের এলগরিদম দিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে হ্যাক করা যায়না, কিন্তু একটা কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাইনারির যাবতীয় সুরক্ষা কবজ খেয়ে ফেলতে পারে মূহুর্তে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এমন একটা ঘটনা সত্যিই যদি ঘটে, বিশ্বে মানচিত্র যে আবার নতুন করে লেখা হবে তা বলাই বাহুল্য। হাইব্রিড গণতন্ত্রের যে চাষ গত শতকে শুরু হয়েছিল, তা আবার নতুন ক্ষমতাধরেদের গোমস্তাতে পরিণত হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। নতুন পোশাকে উপনিবেশবাদের চাষ হবে।

সুতরাং রাশিয়া, চীন বা আমেরিকা যাদের তরফ থেকেই আক্রমণ/অভিযোগ হোক- একটা যে ব্ল্যাকআউট আসতে চলেছে এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন; যার ফল ভুগবো আমরা। যদি আপনি চীনা নাগরিক হন, সম্ভবত তাহলে আপনার ভয় বাকিদের চেয়ে অনেকটাই কম। সুতরাং সিট বেল্ট বেঁধে নিন আর মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন এমন একটা পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য। খাদ্যদ্রব্য, সুরক্ষা বস্তু, নগদ অর্থ, প্রিসিয়াস মেটাল, ওষুধপত্র, জ্বালানী ইত্যাদি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরী সামগ্রী যতটা সম্ভব অন্তত ছয় মাসের জন্য একটা মজুদ ব্যবস্থা গড়ে রাখাটাই বোধহয় উত্তম।

আর হ্যাঁ, অনলাইনে বা ক্লাউড স্টোরে আপনার যে সকল- স্মৃতি, ছবি, ডকুমেন্টস রয়েছে সেগুলোর মাঝে গুরুত্বপুর্ন গুলো হার্ড কপিতে ট্রান্সফার করে নিতে ভুলবেননা।

এ বিষয়ে আপনি কিছু জেনে থাকলে, কিম্বা আমার কোনো বোঝার ভুল হলে সেই বিষয়টা শেয়ার করতে পারেন কমেন্টে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...