মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১২

ধর্ম দর্শন



ধর্ম-দর্শন


গোঁড়া ধার্মিকদের নিয়ে কোন কালেই সমস্যাটা ছিল না। তারা ধর্ম সাধনাতেই নিমজ্জিত থাকে। প্রতিটা ধর্মেরই নিজস্ব আচার বিচার ব্যাপ্তি ও গরিমা এতোটাই বিশাল যে, প্রকৃত ধার্মিকের অন্য গৃহে উঁকি দেবার সময় বার করা প্রায় অসম্ভব।
সমস্যা অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী দের নিয়ে। বক ধার্মিকদের নিয়ে। অপব্যাখ্যাদ্বারা জারিত ধার্মিকদের নিয়ে। যারা যুক্তির থেকে আবেগকে প্রাধান্য দেয় বেশী। যে সমাজে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেশী, পাতি কথায় বেকার, সেই সমাজে ধর্মাচার নিয়ে মাতামাতি অত্যন্ত বেশী। কারন তাদের হাতে খরচ করবার মত সময় অগাধ। উল্টোটাও সত্য, যাদের হাতে অগাধ ধনসম্পত্তি রয়েছে, তারাও ধর্মের মত মুচমুচে বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করে। জীবনের সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলা আম জনগনের পেটের চিন্তায় রাতে যেখানে ঘুম হয়না, সেখানে ধর্ম নিয়ে আদিখ্যেতা করার সময় কোথায়?
একটা উদাহরন, বেসরকারী ব্যাঙ্কে বা বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত কোন কর্মচারিকে কখনো কোথাও ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করতে দেখেছেন? দেখবেন না। কাজের চাপের চোটে তাদের চিড়েচ্যাপ্টা জীবনে এমনিতেই ত্রাহি ত্রাহি রব। ক্যাচালি করার সময় কোথায়?
ধর্ম মানে যাহাকে ধারন করা যায়। যারা ধর্মকে অস্বিকার করে, তাঁরা আসলে নিজের বর্তমানকে নিয়ে অস্তিত্বসঙ্কটে ভুগছেন, নতুবা অযোগ্যোতার দরুন অকৃতকার্য হতে হতে, একমাত্র বিক্ষোভের ব্যাক্তি(!) ঈশ্বরের প্রতি ক্ষোভের হেতু ধর্মের বিরুদ্ধাচারন শুরু করেছেন। এরা দীশাহিন জীবনযাপনের হেতু, নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু। ধর্মকে অস্বিকার করা, আসলে হাঁটুতে বুদ্ধি রেখে বিজ্ঞানচর্চার সামিল। জ্ঞান না থাকলে বিজ্ঞান হয়না। তেমনই ধারন ক্ষমতা না থাকলে ধর্ম হয় না। ধর্ম কখনই বিজ্ঞানকে অস্বিকার করেনি। ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের কোন বিরোধ নেই। ভন্ডরা বিভেদ সৃষ্টি করেছে আর করেছে ধর্ম ব্যাবসায়িরা। ধর্ম কে বাদ দিয়ে বিজ্ঞানের অস্তিত্ব নেই। ধর্ম বিনা রাষ্ট্রব্যাবস্থা টিকতে পারে না। সকল হানাহানিই ভোগের জন্য। ধর্ম ত্যাগ শেখায়, তাই প্রকৃত ধার্মিক কখনই হানাহানি করবে না। যারা করেন, তারা আর যাই হোক ধার্মিক হতে পারেন না।
ব্যাক্তি স্বাধীন অনেক ব্যাক্তিই নিজেকে নাস্তিক বলে থাকেন। অথচ ধর্মের সাথে জড়িত যাবতীয় আমোদের মজা নেন তারিয়ে তারিয়ে। এ এক অদ্ভুত মানসিক বিকার। যাকে আমি স্বিকার করিনা, যা আমার বিশ্বাসের পরিপন্থী, যে ঘটনা পরম্পরা আমার জীবনধারর সাতে খাপ খায় না।, সেখানে আমার যেকোন ধরনের উপস্থিতিই স্ববিরোধিতার সামিল। আর এটাও এক ধরনের স্বাধিকার ভঙ্গ। এই প্রজাতির মানুষবর্গ দেখতে আপাত নিরিহবাদী হলেও, এদের মানসিক স্থিরতা খুবই ভঙ্গুর, যে কোন মুহুর্তে যে কোন দিকে বাঁক নিতে পারে। কারন নীতিহিততা হয়ে জীবনধারন মৃত্যুরই সামিল। ধর্মীয় মৌলবাদীদের থেকে এনাদের ফারাক খুবই কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাস্তিকের দল উৎসেচকের ভুমিকা পালক করে, খুচিয়ে ঘা করে এনারা মজা লোটেন।
ধর্মের উৎপত্তি মানব সভ্যতার বিকাশের জন্য। মানব সংহতিকে একটি গঠনমূলক রুপ দিতে। ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতার, ভিন্ন চরিত্রের মানুষদের মানুষদের এক সুত্রে বাঁধিতে ধর্মের উৎপত্তি। ধ্রুবক জীবনধারাকে সর্বত্র সমান ভাবে ছরিয়ে দিতে ধর্মের উৎপত্তি। ভালো আর মন্দের ফারকটা বোঝানোর পন্থাকে সার্বজনীন রুপ দিতে ধর্মের উৎপত্তি।
অনেকের মতে সংগঠিত ধর্ম ব্যাবস্থা মানব সভ্যতার বিচারে এক্কেবারে আধুনিক ঘটনা, মাত্র ৩ হাজার বছরের পুরাতন। তাহলে তার আগের মানুষেরা কিভাবে বিনা ধর্মে জীবনিপাত করতেন?
আসলে এটা একটা গোড়ায় গলদ প্রশ্ন। প্রথম পালটা প্রশ্ন, আপনি কবে এই প্রশ্নটা তুলছেন? ২০১৬ সালে দাঁড়িয়ে। ৩০০০ বছর আছে পৃথিবীতে মানব সভ্যতার ধারনাটা কেমন ছিল? সেই আমলে লড়াই টা ছিল মূলত মানবদের সাথে পশুদের। কারন একএকটি ছোট জনগোষ্ঠী জঙ্গলে থাকতো জংলী জানোয়ারদের সাথে। খাদ্য বলতে গাছপালা বা কাঁচা মাংস, আর থাকার স্থান বড় গাছ বা তার কোটোর বা গুহা। যেগুলো পশুরাও ব্যাবহার করতো। তাই তখনকার মূল যুদ্ধটা ছিল খাদ্য আর বাসস্থানের, আর বাসস্থানের। সেই পরিসরটা ছিল বিশাল, আর মানুষের সংখ্যা টা ছিল অত্যান্ত মুষ্টিমেয়।
আজকের পৃথিবীতে এই জনবিষ্ফোরনে মানুষের সবথেকে বড় শত্রু মানুষই। সেখানে অনুশাষনের জন্য ধর্ম ভিন্ন কোন উপাই নেই। আজকের যুগে মানুষ দু ধরনের রোজগার করে, এক গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য, দ্বিতীয় বাহুল্য বিলাশিতার জন্য। দ্বিতীয় শ্রেণী তাদের মনরঞ্জনের জন্য নিরন্তর রোজগারের সাপ্লাই লাইনটা চালু রাখতে যে কোন কিছু পন্থা অবলম্বন করতে পারে। মানুষকে পন্য বানিয়ে মানুষের কাছেই বিক্রি করে তারা। তাই এদের প্রলভোন থেকে ও হানাহানি থেকে রক্ষা করতে ও মানুষজাতিকে একতার সুত্রে বাঁধতে ধর্ম নামক পৃথক পৃথক সমাজের উতপত্তি হয়েছিল বোধহয়।
ধর্ম আর ধর্মান্ধতাকে একই ছাঁচে ফেললে হবে না। যুদ্ধ বাজেরা ধর্মের দোহায় দিয়ে কাজ হাসিল করে। কারন ধর্ম বিষয়টা সকল সময় শান্তির কথা বলে ও আদর্শ জীবনযাত্রার কথা বলে। তাতেই সাধারণ মানুষ তাতে আকৃষ্ট হয়।বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার মধ্যে কতজন ধার্মিক সেটা প্রশ্ন যোগ্য নিশ্চই। আর এই আকৃষ্টতার সুযোগটা ব্যাবসাদারেরা নেয়। কারো বিশেষ অপছন্দতার বিষয়গুলো প্রকট করে , বার বার তাতে সুরুসুরি দিয়ে বিরুদ্ধমতকে খুচিয়ে জাগিয়ে, গনমাধ্যমে সেই ঘটনার বারংবার সম্প্রচারের মাধ্যমে, অপপ্রচারকে সত্যির মোড়কে বাজারজাত করে, ফায়দা লোটে অধিকাংশ রাষ্ট্রনেতারা। সাথে থাকে স্বার্থান্বেশি কিছু চামচা শ্রেনির ভেকধারী ধর্মগুরুর দল।
প্রায় সমস্ত ধর্মের গ্রন্থ গুলো সহস্র বছর প্রাচীন ভাষায় মুদ্রিত, তাই কোন নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী, বেশিরভাগ মানুষের কাছে ধর্মের মূল প্রতিপাদ্য গুলো অধরা থেকে যায়। ব্যাবসারেরা মেকি ধর্গুরুদের দ্বারা নিজেদের স্বার্থের অনুকুলে মিথ্যা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের কাম্য বিভেদ সৃষ্টি করে। অর্থের শক্তির কাছে দূর্বৃত্তের কখনো অভাব হয় না। দুর্বৃত্তের সাথে আসল ধার্মিকেরা কখনই পেরে ওঠে না, কারন ধার্মিক কখনই ছল চাতুরি মিথ্যার আশ্রই নেবেন না, নিতান্ত জীবন সংশয় ব্যাতিরেকে। ধর্মের আড়ম্বর দীর্ঘায়িত হয় ধর্মের মূল মন্ত্র থেকে। এখন ধর্মকে যারা মানেন না, বিশেষত নাস্তিকেরা। তারা অবুঝ, তাতে ধর্মের কি দোষ?
গুহামানবের বুদ্ধির থেকে আজকের মানুষের বুদ্ধি মেধা একতা চাহিদা লক্ষ্যগুন বেশী, তাই প্রতিযোগিইতাও বেশী। ধর্মের আস্তরন উঠে গেলে মানুষ পশুর থেকে বেশী ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। ধর্ম তো একটা পোষাক স্বরূপ।
তাই প্রকৃত ধার্মিকের প্রকটতা অত্যন্ত প্রয়োজন। আর দরকার কিছু যোগ্য নেতার। যিনি ব্যাক্তি স্বার্থের উর্ধে গিয়ে মানব ধর্মের প্রচার করবেন, হানাহানি বন্ধ করতে পারবেন। সেটা যে আঙ্গিকেই হোক না কেন!

শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

প্রেম প্রেম খেলা

 


সম্পর্কের টানাপোরেন আনেক দিনের, শেষমেশ সম্পর্কটা ভেঙেই গেল। হঠাৎ করেই কালবৈশাখি যেন সব কিছু ওলঠ পালট করে দিল। শামিমের জীবনে এটাই ছিল সব চাইতে বেশি হারানোর যন্ত্রণা কারন নিলুফাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে ছিল সে। জীবনের প্রথম ভালো লাগা, প্রথম প্রেম। এভাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে কোনো দিন কল্পনাও করেনি শামিম। শ্রাবনে অঝোর ধারা যেমন বৃষ্টি ঝরে তেমনি প্রতি মাঝ রাতেই বালিশ ভিজে যেত কান্না, দুচোখ বাঁধা মানেনি। নিলুফার হঠাৎ করে এই পরিবর্তনের মানে খুঁজতে গিয়ে বার বার জড়িয়ে পরেছে স্মৃতির অন্তরালে। মনে পরে যায় সেই সব দিন গুলোর কথা, একদিন নিলুফা শামিমকে না দেখলে থাকতে পারতো না। আজ ভাবলে অবাক লাগে শামিমের।

এই কি সেই নিলুফা যে শামিমের মুখে একবার “এই শোনোনা” শোনার জন্যে হাপিত্যেশ করে বসে থাকত। হুম, সত্যিই সব কিছুর পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে, তাই আজ সব কিছু নকল লাগে, নকল ভালোবাসা, মনে হয় সব অভিনয়! কাছে আসা, হাজার প্রতিশ্রুতি আর ভালোবাসার অণঙ্গীকার, যার সবই আজ মলিন হয়ে গেছে। তবু তো চলতে হবেই, জীবন থেমে থাকেনা। শামিমও তাই ব্যাথাকে সঙ্গী করেই আইন পড়া শেষ করে।

দেখতে দেখতে অনেক গুলো বৎসর কেটে গেছে, শুনেছে নিলুফার বিয়ে হয়ে গেছে এ শহরেরই এক বড় শিল্পপতির সাথে। সেটাও নাকি আবার লভ ম্যারেজ। এদিকে শামিম ভালবাসাকে তার জীবনের অভিষাপ মেনে নিয়ে দ্বিতীয়বার আর কাউকে আনতে চাইনি জীবনে, কিম্বা বলা ভাল আনতে পারেনি। অবশ্য মনে মনে অন্য মেয়েদের প্রতি কেমন যেন একটা বিতৃষ্ণা তাড়া করে ফেরে। দেখতে দেখতে আরো তিনটে বৎসর কেটে যায়। আজও স্মৃতির পাতা থেকে ঝরে পরে অতীতের টুকরো টুকরো মান, অভিমানে জড়ানো কথামালা। এখনো মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যায়, স্বপ্ন দেখে নিলুফার- মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সে রাতে আর ঘুম আসেনা, মোবাইলের ইন্টারনেটে আজগুবি সব জিনিস খুঁজতে থাকে

পেশাগতভাবে শামিম আজ আইনজীবি, অতিদ্রুত যথেষ্ট সুনামও করেছে মার্কেটে। তাই মা লক্ষীর কৃপায় ধন সম্পদ উপচে পরেছে। হাজারো বস্তু সুখের ভিড়েও মানসিক সুখ যেন তার কাছে চাতক পাখি, আজও প্রথম প্রেমকে ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে ককিয়ে ওঠে মনের অন্তঃকোনে লুকিয়ে থাকা নিষ্পেষিত যন্ত্রণা। তাই কাজের ব্যাস্ততার মধ্যে দিয়ে জোর করে ভুলে থাকার চেষ্টাই করে চলে রোজ

সেদিন যখন শামিম তার বৈঠকখানায় বসে মক্কেলদের সাথে কথা বলছিল হঠাৎ চমকে ওঠে একটা চেনা গলার স্বর শুনে। আতে পারি শামিম বাবু? পক্ককেশ যে বৃদ্ধটি দ্বারপ্রান্তে তিনি যে নিলুফার বাবা, যেটা চিনতে এতটু ভুল হয়নি তার যিনি এক সময় শামিমকে নিজের সন্তানের থেকে কম স্নেহ করতেননা, শামিমও তাঁকে বাবামশাই বলেই ডাকতো। তাই নামধরে ডাকা মানুষের কন্ঠে বাবু ডাক শুনে শামিম একটু চমকেই উঠেছিল। সে উঠে গিয়ে প্রণাম করে, তাঁকে নিয়ে তার অতিথিশালায় গেল।

সোফা বসে নিলুফার বাবা সাগর বাবু শামিমের দিকে কাষ্ঠল নজরে চেয়ে থাকে। তাঁর চোখ এড়াইনা শামিমে পরিপাটি করে সাজানো গোছান ঘরবাড়ি। শামিমে কথাতেই ধ্যান ভাঙার মতো চমকে ওঠে,

-কেমন আছেন বাবামশাই,

-তোমার কিছুই পাল্টাইনি শামিম, তুমি সেই আগের মতই আছো

শামিম এবার তার আবেগ ধরে রাখতে পারেনা, হ্যাঁ বাবামশাই আমি সেই আগের শামিম। কিন্ত মনের গভীরে একটা বিরাট এক জ্বালাময়ী ক্ষত বইতে বইতে জীবনের গতিপথটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হল সেটা আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় না। সাগর বাবু মাথা নিচু করে নিশ্চুপ হয়ে যান।

সুদীপ্তঃ ছাড়ুন সে সব কথা, বলুন আজ এতো গুলো বৎসর পর হঠাৎ!

চোখের কোনায় তখন জল সাগর বাবুর। জানো শামিম, জীবন বড় বৈচিত্রময়, কখন আলো আবার কখন আঁধার, কখন ভালো কখন মন্দ, কখন জোয়ার তো কখন আবার ভাঁটা, আজ আমরা বড় অসহায় শামিম। পেনশানের সামান্য টাকায় তোমার মাসিমার চিকিৎসা করা হয়, তারপরও শেষ রক্ষা হয়নিতোমার মাসিমা গত হবার পর একটা রোড এক্সিডেন্টে নিলুফাও বিধবা হয়। শেষের দিকে ব্যাবসা ভালো যাচ্ছিল না বলে মোটা টাকার লোন নেয় জুবিন, মৃত্যু অবধি অপেক্ষা না করেই সব সম্পত্তি ব্যাঙ্ক নিলাম করিয়ে নেয়। নিলুফা এখন আমার কাছেই থাকে।

শামিমের মনে হল যেন মথায় আকাশ ভেঙ্গে পরেছে, এই পরিস্থিতির জন্য ও মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। ঠিক কি উত্তর দেবে বা কি উত্তর হওয়া উচিৎ সেটা ভুলে খানিক স্থবির হয়ে রইল। আনন্দ হচ্ছে, না করুনা হচ্ছে, না প্রিয়জন বিয়োগের যন্ত্রণা, নাহ শামিম কিছুই ব্যাখ্যা করতে পারলোনা পরিস্থিতিটাকে

গৃহসহায়ক মন্টুদার ডাকে শামিমের সম্বিৎ ফিরল। কল্পনার জগত থেকে এক লহমায় বাস্তবের রুক্ষ জমিতে আছড়ে পড়ল, ভাবল এই নিলুফাই একদিন আমাকে অস্বীকার করে চলে গেছিল, কারন সেদিন তার কাছে আয়েশ করার মত যথেষ্ট ধনসম্পদ ছিলনাশামিমের বাগদত্তা হয়েও বিনা কারনে দীর্ঘদিন বিয়েটা ঝুলিয়ে রেখেছিল, একটা দীর্ঘস্থায়ী রোজগারের বাহানা দেখিয়ে। সেদিন দোষ ছিল শামিম বেকার,  উকালতি জমেনি সেভাবে, রোজগারহীন সহায়, নিলুফার সরকারি চাকুরে বাবার তুলনায় সে গরিব ছিল। সেদিন সকলেই দায় এড়িয়েছিল। বাবামশাইও কোনো প্রতিবাদ করেননি সেদিন, না তাদের বিয়েতে কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলেন, বরং মেয়ের সিদ্ধান্তেই প্রচ্ছন্ন সম্মতি চছিলো।

এই ভাবনাগুলো মাতথাতে আসতেই, শামিমও কেমন যন্ত্রের মত বলে ফেলল, এখন আমি কি করতে পারি বাবা মশাই!

-নিলুফা ভীষন ভেঙে পরেছে। কারোর সাথে কথা বলেনা, কোথাও বেড় হয়না সেভাবে। তোমার সামনে এসে দাড়াবে সে সাহসই বা পাবে কোথা। নিয়তির কাছে সব হরিয়ে ভরসা শুধু আমাদের শেষ সম্বল জুবিনের করা ইন্সুরেন্সের টাকাটুকু, কিন্তু ইন্সুরেন্স কোম্পানি নানা আজুহাত বানিয়ে ভিন্নভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে ক্রমাগত হয়রান করাচ্ছে। এই অবস্থায় তুমি ব্যক্তিগতভাবে যদি আমাদের একটু সাহায্য করো, তাহলে চিরজীবন ঋণী হয়ে থাকব।

শামিম আমতা আমতা করে শুধাল,

- কগজ পত্র সব এনেছেন।

- না বাবা সবতো আনা হয়নি, তবে কাল যদি তুমি একবার আমাদের বাড়িতে আসো তাহলে ভালো হয়। এটা আমার অনুরোধ।

শামিম আজান্তেই হারিয়ে যায় পুরানো স্মৃতির পথ ধরে, হেঁটে চলে যায়- এমনই রোজ বিকালে শামিম নিলুফার সাথে দেখা করতে যেত ওদের বাড়িতেমনে পরে সেদিন বিকালের কথা, আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে ছিলো। বৃষ্টিও হচ্ছিলো মুশলধারে, শামিম ভেবেছিলো সেই বিকালে আর যাবেনা এই এলোপাথাড়ি বৃষ্টিতেবিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছিলো, বৃষ্টি তবুও নাছোড়বান্দা- তখনি নিলুফার ফোন, হ্যালো, কি হলো তুমি আজ এলেনা যেবাবা মা নেই বাড়িতে, বাজার করতে গিয়ে বৃষ্টিতে আঁটকে পরেছে তারাও

প্লিজ বাবু এসো না, কাতর কন্ঠে নিলুফা কণ্ঠে ভয় মিশ্রিত আতণঙ্ক ও অনুরাগের ছায়া। শামিমের ক্ষমতা ছিলোনা নিলুফার কাতর মায়াভরা কন্ঠকে উপেক্ষা করার, প্রায় বশিকরণের মত শামিম বেরিয়ে পরে পলকা ছাতা নিয়ে ওই বৃষ্টিতেই। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুতের চমক, শামিম নিলুফাদের গেটে পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই ত্রস্তপদে বেরিয়ে আসে নিলুফা। শামিম বুঝতে পারে তার জন্য অধীর ভাবে নিলুফা প্রতিক্ষা করছিল। লোডশেডিং, তাই চতুর্দিক ঘন অন্ধকারে বৃষ্টি ভেজা শরীরে ড্রইং রুমে প্রবেশ করে শামিম।

-এমা তুমিতো একদম ভিজে গেছো, শামিম হাসি মুখে বলে তুমিও তো ভিজে রয়েছোএকটা জোর বিদ্যুৎ সহ বজ্রপাত নিলুফা আর শামিমকে আলিঙ্গন বদ্ধ করার জন্য অনুঘটকের কাজ করল। দুজনের শরীরেও যেন বিদ্যুৎ খেলে গিয়েছিলো, এই প্রথম এতো কাছে আশা দুজনার বৃষ্টি ভেজা শীতল শরীরে দুজনই উষ্ণতা খুঁজে পেতে নতুন এক আজানা শিহরন খেলে যায়। শামিম নিলুফার চিবুক উঁচু করে তুলে ধরে কম্পিত ওষ্ঠে এঁকে দেয় প্রথম চুম্বনের রেখা

শামিমকে উন্মত্তের মত আঁকড়ে ধরে নিলুফা, আন্ধকার ঘরে দুজনেই চুপ। সলজ্জ আকুতি তখনও বেশী সাহসী করতে বাধা দিচ্ছে, আরেকটা বজ্রপাত। কে জানে বজ্রপাত আদৌ হয়েছিলো কিনা, সেই বাহানাতে আর কোন বাধা মানেনি দুটি উষ্ণ শরীর। জীবনের প্রথম আলিঙ্গন বয়ে আনে যৌবনের আদিম খেলা তাদের উষ্ণ ঠোঁট, প্রতিটা রোমকূপ বিন্দু বিন্দু যৌনতার মধু শুষে নিয়েছিলো। তার পর শৃঙ্গার ভালোবাসার সোহাগে আজানা সুখের পরশ, উত্তেজিত মাংসপেশীর আঘাত করাঘাতের পর, দুজনেই দুজনকে আরো মোহিত করে, শৈথিল্য সুখের সাগরে ভেসে যায় উভয়েই। চাঁদ তারা হীন সেদিনের মধুর সন্ধ্যার সাক্ষী রয়ে যায় একটা আটপৌরে বিছানার চাদর।

 

…ক্রমশ

 

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ০৭

স্মৃতি সততই সুখের হয় না। কখনো কখনো তা চরম দু:খের ও হয়। এখন যার ভাগ্য যেমন। দু:খ সর্বস্ব যার জীবন, তাকে দু:খের মাঝেই সুখের ঠিকানা খুজতে হয়।


যে জিনিস একবার হারায়, শত চেষ্টা তেও তা খুঁজে পাওয়া যায় না। এটাই বাস্তব সত্য। কেউ বেঁচে থেকে প্রায়শ্চিত্ত করে, কেও মড়ে গিয়ে শান্তি তে বাঁচে।



চরম ভালোবাসা না থাকলে সত্যিই কি ঘৃনা করা যায়?? অন্তত মন থেকে??

সুখ..........


পেলে পূর্নতা.... না পেলে কাব্য। তা এক অন্য সুখময় পুর্ণতা। গরলবানী ইচ্ছাধীন হয় না। কষ্ট দেখতে পাওয়া আর কষ্ট অনুভব করার মধ্যে আকাশ ও জমীনের ফারাক।



এতো বড় নরক কারা ভর্তী করবে!! যদি দেশে পাপাচার না হয়?? তবে সেটাই একমাত্র স্বর্গের বিকল্প নয়, এই সুন্দর মুহুর্ত গুলো.... আমরা যাদের কেনা গোলাম। অন্যতম বিকল্প।



কান্না হাসি.... হা হা হা হা.... ও ও ও ও.... একটু সুসংবদ্ধ করে নিলেই যা ইচ্ছা তা ই করা যায়। কেউ শোকে কাঁদে, কেউ সেটাও পারে না। সে পাথর হয়ে গেছে যে। কোন যাদুদন্ডই তাকে আর জাগানোর ক্ষমতা রাখে না। শুধু পর্বত হতে চাই। অনেকে বাসা বাধুক, মাথায় হিমবাহ জমুক, নিচে ঘিরে ধরা মেঘের রাশি। নদী প্রবাহিত হোক। অগুন্তি।



একদিন কালের নিয়মে ক্ষয় হবে। ওই নদী গুলোই তো কান্না। মেঘ গুলো জমে থাকা দলা পাকানো অভিমান, ক্ষোভ, নিজের উপর অত্যাচারের ফসল।


বন্যা সাময়িক সব কেরে নেয়, দাবানল সব ছারখার করে দেয়, খরা দূর্ভিক্ষ কে নিমন্ত্রন করে। কিন্তু নিজে জ্বলে একটা সুন্দর ভবিষ্যত আগামীকে দান করে যায়।


ক্ষমা না করতে পারলে প্রেমে সফল হবো কি করে!! অস্ফুটবাক...... জনান্তিক জানে। সে সব আলেয়ার ঘুনসি তে বাধা। আলোর রানার ছুয়ে চলেছে। সময় মামরি ফেলবে। নতুন সবুজেরা উল্লাস করবে। ক্ষত শুকিয়ে যাবে। আবার ফুল ফুটবে, রঙীন ফুল। রসালো ফল। আবার প্রান ছুটবে দুর্বার গতিতে।



মনের বয়য় বাড়ছে... এটা যখন বাড়ে দুম করেই বাড়ে। ভারে নুজ্ব হয়ে গেছি। ক্লান্ত......



আমি সফল। দাড়িপাল্লা নিখুঁত। কমবেশি হবার জো মোটেই ছিলো না। রত্নহার সজ্জিত, বর্ম পরিহিত। অস্ত্র ত্যাগ করেছি। হনহনিয়ে বনবন করে উড়ার সময় আগত, দ্বারপ্রান্তে.....



এটাই স্বার্থকতা।


উন্মাদ হার্মাদ

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ০৬

জীবনটা এক অদ্ভুত অন্ধকারের সমাহার। সারাক্ষন সেই আলোর খোঁজেই ছুটে চলা। আশ্চর্য সব সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। কে যে কাকে চাই, আর কিভাবে চাই বোঝা বড্ড মুসকিল। অন্যকে বোঝার চেষ্টা করবো কি, নিজেকেই নিজে চিনতে পারিনা মাঝে মাঝে, কে আমি?? কি আমার উদ্দেশ্য??


তাই অন্যকে জানার বৃথা চেষ্টাও করিনা। কিন্তু যখন দেখি যে একটাই ভয়, আর তার প্রতিক্রিয়া টাও একই। তখন অনুভুতি গুলো ও হরতাল ডেকে বসে। কেমন যেন স্থবির হয়ে যায়। কাঁদতে গিয়েও হেঁসে ফেলি।



আচ্ছা যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পিছু হটতে হয়, সেটা যুদ্ধের ই অঙ্গ, পলায়ন টা অবশ্যই নয়। জীবন টা ও যুদ্ধ ই। বা তার থেকেও বেশি। সেখানে আত্মহত্যা করাটা ই সব থেকে গৌরবের কি!! তাতে যত দু:খ ই পাই না কেন!! বা উচ্চারন করা টা ও অন্যায়, খুব খুব অন্যায়।


আর পলায়ন কারি কে এক কথায় ঘৃনা করি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এটা এটা সবটাই আমার আভ্যন্তরীণ। একটা ফুসফুস, সে বলছে আমি আর নিশ্বাস নেবো না, আরে হৃদয় তাহলে বাঁচে কি করে??


সব স্বার্থপর। আসলে কিছুতেই নিয়িন্ত্রন নেই। সব যে ভালোবাসার ক্লোরোফর্মে অবশ।



সেই একই কথার পূনরাবৃত্তি, নিজেকে রেকগনাইসড করা মুসকিল হয়ে যাচ্ছে।



একটু বাতাস পাওয়া যাবে??? ধার.......



একটু শ্বাস নিতাম..... গলা বুজে আসছে। অভিমানেরা অবরোধ করেছে। রক্তও চাক্কা জ্যামের হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। পাকস্থলি VRS নেবে বলে বায়না ধরেছে। কিন্তু চোখ সেই শিবরাত্রির সলতের মত স্বপ্নের জাল বুনে চলেছে।



যার জন্য, এই বাতাসের খোঁজ.... একটা দমকা বাতাস। যা কিছু খারাপ সব উড়ে পালাবে।এক পলকে। পারলে সাথে আমাকেও। কোন অনির্দিষ্ট ঠিকানায়। তার শান্তির ক্রোড়ে।



সুদুরে.........


উন্মাদ হার্মাদ 

বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ৫

গত কয়েকদিন ধরেই মান ও সম্মান নিয়ে বেশ কয়েকটা লেখা পরেচে। আমাদের এক বিশেষ ঠেকে।


যদিও আমার ওটা সাবজেক্ট নাই বলে, তেমন উৎসাহিত হইনি।



আমার তো শালা, সম্মান ই নেই, যে অসম্মানিত হবো। আমার তো...


বাপ বললে মোদির ভাই (এক্ষেত্রে আপনি মনে মনে যা খুশি বসাতেই পারেন), আনন্দের আর সীমা নাই।


লোকে জন্মাবার পর ছ্যাবলা হয়, আমি মায়ের পেট থেকেই ত্যাদোঁড়।আমার লেখা বা মন্তব্যে কারোর খারাপ কিছু লাগলে এক টাই কাজ করবেন, খুবই সহজ আর রেডিমেড, ২ মিনিটস নুডলসের মতো:-



একটা গ্লাস নিন, একটু ঠান্ডা জল ঢালুন, হালকা ইসব গুলের ভুষি বা কায়মচূর্ন মিসিয়ে নিন। এবার মানসিক ভাবে নিজেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করুন। মনে রাখবেন বাঙালীর যুদ্ধ, আধাঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা না।



মিনিট পনেরো পর কমোড ওয়ালা প্যানে গিয়ে টাইম নিয়ে বসুন, সঙ্গে করে পকেটে ২ টো মাড়ি বিস্কুট  আর এক বোতোল ফ্রিজের জল। অবশ্যই ইজের খুলে বসবেন। ব্যাটা ছেলে হলে, আগে বিড়ি টা শেষ করুন। মেয়েরা শ্বাশুরী বা ননদের নাম বারবার  নিলেই ও কাজ টা ত্বরান্বিত হবে।



এবার নেট অন করে ফেসবুক অন করুন। আর তার আগে উইকিপিডিয়া তে গিয়ে একবার নিজের খিস্তির স্টক টা ঝালিয়ে নিন। আর তার সাথে হিমেসের নিজের গাওয়া গান চালিয়ে দিন। উপায়ান্তরে হানি সিং ও চলবে।



কারন বলছি।



হিমেসের গান শুনলেই, মুখে অটোমেটিক বিকৃতি শুরু হয়ে যাবে, যেটা আপনাকে কোঁথ পারতে সাহায্য করবে। এবার নিম্নচাপের টুপটাপ বর্ষন শুরু হয়ে গেলেই, ওই বিকৃতি মুখের যাবতীয় এক্সপ্রেশন এক্সটেন্ডেড করুন। আমার লেখায় বা মন্তব্যের প্রত্তুত্তর গুলো যাবতীয় কাঁচা গালাগালি সহ পরিবেশন করুন সমস্ত রেভুলিউসন সহ।। কারন ততক্ষন আপনার উদরলঘুতার কারনে মনেও হালকা প্রাশান্তি ভাব বিরাজমান।



এবার বিস্কুট দুটো খেয়ে নিন, একটু ঠান্ডা জলো গলায় ঢালুন। আবার বেগ টা ফিরে পাবেন।



আবার এক প্রস্থ মন কে সুখ দিয়ে নিন, আমায় গাল দিয়ে, অন্য অনেকের প্রতি যত্তো  ও যাবতীয় ক্ষোভ, সব আমার উপর ঢেলে দিন। সাথে সাথে যত্তো রাগবেন, পেট টা ও রিলাক্স ফিল করবে।



এবার একটু হালকা ঘাম মুছে নিন। ছেলারা লুঙ্গি দিয়ে, মেয়েরা নাইটির অতিরিক্ত অংশ দিয়ে। যদিও আমার আবার ওই সুবিধা নেই। আমি বাথরুমে জন্মাবস্থার সময়কালেই বিশ্বাসী। জীবনে নাগা হবার যে সুপ্ত বাসনা টা ছিলো,  সেটা ওখানেই মেটায়।



সে যাই হোক। পেটের এবং মনের যাবতীয় স্খলন পরিপূর্ন করে, টয়লেট পেপার দিয়ে মুছে নিন, আপনার হলুদ পাখীদের। তার সাথে আমার নাম, ২১ বার অত্যন্ত ঘৃনামিশ্রিত স্বরে উচ্চারিত করুন। এবং কমোডে ফেলার আগে জয় অকপট জয় আপনজন বলে, অরিজিত সিং এর একটা রোমান্টিক গান চালিয়ে, হাত ধুয়ে(ডেটল সাবান দিয়ে) একটা সরি পোষ্ট করে দিন ফেসবুকে।



ব্যাস....
সাপ-লাঠি দুই ঈ অক্ষত।


(ক্যালাবেন না প্লিজ)

শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১২

উন্মাদ ণামা ~ ০৪

না পাওয়ার কষ্ট সহ্য করা যায়, কারন সান্তনা নামক শব্দ টি সেখানে উপস্থিত থাকে। 
মনকে ভুলিয়ে রাখা যায়।

আর পেয়ে হারানোর জ্বালা অসহ্য। সে যন্ত্রনা জাষ্ট নেওয়া যায় না।আর সেটা যখন আপনি বুঝতে পারছেন যে, এই সুখ প্রাপ্তি শুধু মাত্র ক্ষনিকের। তখন শরীর টা সম্পূর্ন কোমা তে চলে যায়।

সেটাই বড্ড কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে।


শান্তি চাই। মনেও সমাজেও।

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ০৩

অসুস্থ ভারাক্রান্ত শরীরটাকে নিয়ে পরন্ত বৈকালের আলো অন্ধকারের আবছায়াতে, অনিচ্ছার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে, কোন ক্রমে হামাগুড়ির ন্যায় হিঁচরে পায়চারি করছি।


হঠাৎ খেয়াল করলাম, আমার সুন্দর সুবাসিত বাগিচায় এ কি? ডানা ওয়ালা নির্বিষ থেকে বিষাক্ত সব কীট পতঙ্গের দল। চর্তুদিক থেকে তারা দলে দলে তারা বেড়িয়ে আসছে। হঠাৎ ঈ কেন না জানি, অতিরিক্ত মাত্রায় শঙ্কিত হয়ে পরলাম।


আচ্ছা শরীর সুস্থ থাকলে কি এই সকল তুচ্ছ বিষয় কি আমার গোচরে আসত?? তাহলে কি সাময়িক অসুস্থতা আমাদের সংকীর্ণ মনন কে প্রসারিত করে??


এই সকল ভাবনা ভাবতে ভাবতেই, ভাবলাম, এই পৃথিবী কি শুধুই আমার জন্য তৈরি? তা তো মোটেই নয়? তাহলে আমি শঙ্কিত কেন?



আমরা তো সাম্যের কথা বলি, তাহলে তো এই পৃথিবীরর সমস্ত রং রুপ গন্ধ, আলো বাতাসে কীটেরও সমান অধিকার, তাহলে কেন এই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য?



হতেই পারে কোন কোন কীটের উজ্জ্বল রং রুপের ছলনাময় অকর্ষনে আমি তাৎক্ষণিক মোতান্বিত হয়েছি, এবং ছুঁয়ে বিষাক্ত রসে জ্বল্বছি, তাতে ঈ ওই কীটের কি দোষ?? লালসার বশবর্তী আমি হয়েছিলাম। কীট শুধু তার লীলা প্রদর্শন করে ছিল মাত্র।



হৃদয়ের ব্যাকুলতা আরো কিছুটা প্রশম হল, যখন ভাবলাম, প্রকৃতিগত কারনেই এ এক বিচিত্র নিয়ম, কীট পতঙ্গের মস্তিষ্ক নেই, সুতরাং বুদ্ধিও নেই। তাদের নিজস্ব ভাবনা চিন্তাও কিছু নেই। জৈবিক দৈনন্দিন ক্রীড়াকলাপ ব্যাতিরেকে।



তাদের জীবনীশক্তি কালের নিরিখে অত্যন্ত সীমিত। তাই কালক্ষেপ না করে দ্রুত নিরাপত্তার আস্তিন, শয়নকক্ষের দিকে ধাবিত হইলাম। এই কীটেরা আমাদের বৃহত্তর পৃথিবীর আনাচেকানাচে ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে বলেই আমাদের শয়নকক্ষ এতটা নিরাপদ! হয়ত শুম্ভনিশুম্ভের বিবাদ থাকতো না।হয়ত ভাল এতটা ভালো হত না।



প্রতক্ষ বিপদের হাত থেকে হয় তো বাঁচলাম, কিন্তু সত্যিই বাঁচলাম কি?? 😩 এমনিতেই সাহস কম আমাদের, কলহ প্রীয় নিন্দাচর্চায় পারদর্শী জাতি আমরা, কঙ্কালসার প্রায় অন্ত:সারশুন্যের দিকে ধাবমান।



বাতানুকূল যন্ত্রের শীতল বাতাস, একটা নতুন ভাবনা জন্ম দিল,



আচ্ছা আমাদের বর্তমান সমাজটা ও কি আমার পরন্ত বিকালের বাগিচার ন্যায় নয় কি??



শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

উন্মাদনামা ~ ২

প্রলাপ


আমি তোমাকে বৃষ্টির মত চাইনা, যে ভালবাসার স্পর্শে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে চলে যাবে।



চাই তোমাকে বাতাসের মত, যে সারাটিখন আমার পাশে থাকবে।


আমি তোমাকে জোছনার মত চাইনা, যে হটাৎ করে আসবে আবার হারিয়ে যাবে।



চাই তোমাকে তাঁরার মত, যে তুমি সারাটিরাত আমার বুকে ভালবাসার জলন্ত ফুল হয়ে চুপটি করে ঘুমিয়ে থাকবে।


আমি তোমাকে চাঁদের মত চাইনা যে সবসময় চুপটি করে থাকবে,



চাই তোমাকে সূর্যের মত, যে তুমি প্রভাত হলে মিষ্টি হেসে আমার ঘুম ভাঙাবে, 


আবার কখনো দুপুরের রাগি সূর্যের মত কারণে অকারণে রাগ করে লাল হয়ে যাবে, 

আবার কখনো বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের মত আমার ভালবাসার আকাশকে রাঙিয়ে অস্ত যাবে।

আমি তোমাকে রংধনুর মত চাইনা, যে কিছুক্ষন আনন্দ দিয়ে মুছে যাবে।



চাই তোমাকে নীল আকাশের মত, যে তুমি আমার হাসি-কান্নায়, রাগে-অভিমানে, সর্বত্র বিরজমান থাকবে।



বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ১

একে ছাল ক্যেলানো গরম। সকাল থেকেই মনে হচ্ছে, যে মোমো প্যানের ভিতর গ্যোঁত হয়ে বসে আছি। আমার সিল মাছের ব্লাডারের গুঁতো, চর্বিতে চর্বিতে টের পাচ্ছি।


তার উপর সক্কাল সক্কাল ধামাধরা দলের কেষ্টু বিষ্টু দের আনাগোনা। শ্লাদের সারা বচ্ছরই তো মোচ্ছোব। আর আমার মত পাবলিকদের কাছে তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার, তবে চাওয়াটা জুতসই হলেও পাওয়াটা তাদের সন্তোষজনক হলো না।একটু অসম্মানেই বিদেয় হলো। তার মধ্যে একটা ছিনাল ও ছিলো। ইচ্ছা তো হচ্ছিলো ওটাকেই একটা কিছু দিই। কি উৎকট পোষাক রে বাওয়া। ওনার জীবনের পথে, যৌবনের টায়ারের দাগ টা ও মিলিয়ে যাবার পথে। অনন্ত একটা ডিও দেবার  ইচ্ছা শেষমেশ হয়েছিলো। যা বোটকা ঘামের গন্ধ।



আমারই বা কম কি!!! সাইটে একবার রাউন্ড দেবো কি, আধা পথে যেতেই পায়ের জুতো ভিজে সপসপ। অনেকেই লক্ষ্য করেছে ঠিকিই, সাহষ করে বলতে পারছে না.. 

ভাবছে প্যান্টে মুতেছি।


ওরে পাগলা, ওটা ঘামের গঙ্গা জমুনা। মাথার গোমুখ থেকে খরস্রোতা ঘামনদী,  বুক বেয়ে বাকি শরীর থেকে কালেকসন করতে করতে ধারা নিচের দিকে নেমেছে। যার জন্য অস্বস্তি ঠিকিই আছে, কিন্তু সে রকম কষ্ট নেই। তবে চাঁদি ফাটছে রোদ্রে। আর মাথার চুল ও শ্লা হালকা হয়ে গেলো, জাষ্ট ঘেমে ঘেমে।মাথার চুলের সুললিত বাগিচা লবনজলের প্রভাবে আজ ধু ধু মরুভুমি। এদিকে লিটার লিটার জল গিলছি। 

এক্কেবারে নরকগুলজার। একে তো গাড়িতে গাড়িতে জীবন জেরবার। তার ওপর ফোন!! কেন যে এটা আবিষ্কার হয়েছিল কে জানে, মুষ্ঠিযন্ত্র কম, মিথ্যা যন্ত্র বেশি... জ্বলে গেলো জীবনটা।

তার ওপর আমার চিরাচরিত অভ্যাস, দেশলাই আমার হারাবেই। শ্লা দরকারের সময় আর খুঁজে পাবো না। যে পকেটেই হাত দিই সিগারেট ১-২ প্যাকেট ঠিকিই বেড়োবেই। কিন্তু দেশলাই বা লাইটার!!!! কোন মতেই না। কোথায় যে ফেলি, না কি যে হয় কিছুই জানি না। ওদিকে নেশা মাথায় চড়ে নেত্ত করছে, অপিসে এলেই লোকে খিস্তি খাচ্ছে......


সারমর্ম:- দেশলাই না হারানোর কৌশল জানা আছে কারো??

please help me, এবার মনে হচ্ছে খ্যাপা ই হয়ে যাবো।

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১১

উন্মাদের প্রিয় কবিতা



আমার প্রিয় কবিতাঃ কবি বিষ্ণুজ্যোতি রায় মহাশয়


মাগো আমায় লাইক দিতে বল ,
সকাল থেকে পোষ্ট দিয়েছি মেলা -
এখন আমি চ্যাটবক্সে বসে
করবো শুধু প্রেম পিরিতির খেলা ।

তুমি বলছো নেট ভরেছি সবে-
ঘরে কী তোর নেইকো ওয়াইফাই !
এক দিনও কী নেট প্যাক শেষ হলে
ফোন করে কি খবর নিতে নাই ?

আমিতো বেশ ভাবতে পারি মনে
পৌঁছে গেলাম কলকাতাতে শেষে -
হটসিনেমা করছি ডাউনলোড
চুপটি করে পার্কস্ট্রিটেতে বসে ।

আঁধার হলো মাদার চোখের তলা ,
কালি হয়ে ঝরছে চোখের জল -
সুন্দরীরা চ্যাট করেনা কেও
যতই কেন করি না ফ্রীকল !

মনে কর না জ্বলল সবুজ বাতি,
মনে কর না পিং করলি যেনো ,
আসল লোকের ফেক আইডি হলে
ফেক আইডি আসল হয়না কেন !

শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১১

পুরুষেরা দীর্ঘজীবি হউক

 


নারীশক্তির জাগরণ হউক, নারীরা বিভবে ও বৈভবে সমৃদ্ধিশালী হউক, ইহাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি নাই। কিন্তু এই যে নারীগণ বর্তমানে পুরুষজাতির নিন্দাবাদ করেন, তাহাদের বিনাশ কামনা করেন, তাহা আত্মহননের সমতুল নয় কি? পুরুষদল সমূলে বিনাশ হইলে নারীর স্তুতিগান কে গাহিবে? যুগ যুগান্তরের ধারাকে অক্ষুন্ন রাখিয়া নারীকে প্রেম নিবেদন কে করিবে? নারীর মস্তকে বরাভয় আশীষ ও নিরাপত্তার ছত্রচ্ছায়া কে প্রদান করিবে?

কালিদাস, জয়দেব, রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ হইতে শুরু করিয়া বর্তমানের কবিকুল কাহাদের রূপ বর্ণনায় কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, তাহা নারীগণ একবার ভাবিয়াছেন কি? অলঙ্কারে ব্যবহৃত হয় বলিয়াই স্বর্ণ এত মূল্যবান, নচেৎ উপযোগিতার বিচারে উহা লৌহ অপেক্ষাও শতগুণে নিকৃষ্ট। নারী পুরুষের অঙ্গভূষণ, তাই না নারী নিজেকে বহুবিধ প্রকারে সুসজ্জিত করিয়া, নানা বিহঙ্গে কবরী বন্ধন করিয়া, বহুবিধ চিত্রবিচিত্র পোশাক পরিধান করিয়া, নানা ভাব ভঙ্গিমার মাধ্যমে নিজেকে মেলিয়া ধরার প্রয়াস পায় চাতক পান করে বলিয়াই স্ফটিক জলের এত কদর, নয়তো ভূমিতে পতিত হইলে সে জল কর্দমে মিশিয়া মূল্যহীন হয়।

নারী পুরুষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ বিন্দু বলিয়াই যুগে যুগে নারীর এত কদর। নারীর রূপের প্রশংসা না করিলে সে রূপের কদর কোথায়? পুরুষে কবিত্ব করিয়া বলে মৃগনয়না, তাই না রমণী নয়নযুগল কজ্জ্বল শোভিত করিয়া পুরুষের মুগ্ধ দৃষ্টি প্রত্যাশা করে! পুরুষ মুগ্ধ হয় বলিয়াই না নারী ললাটে কুঙ্কুম বিন্দু, ওষ্ঠে ওষ্ঠরঞ্জনী, পদযুগলে অলক্তক ও কুন্তলে পুষ্পসুগন্ধী তৈল লেপন করে? জীবনানন্দ বলিয়াছেন বলিয়াই বনলতা সেনের চুল অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ শ্রাবস্তির কারুকার্য বলিয়া বন্দিত হয়। নচেৎ কোন মহিলা কবি প্রাণ বিয়োগের সম্ভাবনা থাকিলেও স্বেচ্ছায় বনলতা সেনকে ঐ প্রশংসায় ধন্য করিতেন না। বরঞ্চ অবকাশে পরনিন্দা ও পরচর্চার আসরে বিকৃত মুখভঙ্গী করিয়া কথ্য ভাষায় বলিতেন, “মাগীর মুখ না যেন রান্না ঘরের পাতিল, আর চুলগুলো যেন কালো পাটের ফেঁসো

আমার বক্তব্যে সন্দেহের অবকাশ মাত্র ঘটিলে নারীগণই প্রমাণ করুন, কোথায় এক রমণী অপর রমণীর প্রশংসা করিয়াছে? নারীই যে নারীর অশ্রদ্ধা ও লাঞ্ছনার কারণ এমন প্রমাণ কদাপি বিরল নহে

পুরুষের অকুন্ঠ ভালবাসা না পাইলে নারীজীবনের সার্থকতা কোথায়? পুরুষ পতঙ্গের ন্যায় নারীর রূপাগ্নিতে প্রজ্জ্বলিত হইয়া নারীর নিকটেই শীতলতা কামনা করে। তাই তো জয়দেব রচিত গীতগোবিন্দে দেখিতে পাই, লক্ষকোটি প্রেমিক পুরুষের প্রতিভু শ্রীকৃষ্ণ নিঃসঙ্কোচে রাধিকাকে আপন মান, অভিমান সর্বস্য বিসর্জনের গৌরবে বলিতে পারেনঃ

ত্বমসি মম ভূষণং ত্বমসি মম জীবনম্ ত্বমসি মম জলধিরত্নম্

ভবতু ভবতীহ ময়ি সততম অনুরোধিনী তত্র মম হৃদয়মতিযত্নম্।।

নীলনলিনাভমপি তন্বি তব লোচনম্ ধারয়তি কোকনদ রূপম্

কুসুমশর-বাণ-ভাবেন যদি রঞ্জয়সি কৃষ্ণমিদম এতদনুরূপম্।।

স্ফুরতু কুচকুম্ভয়োরুপরি মণিমঞ্জরী রঞ্জয়তু তব হৃদয়দেশম্

রসতু রসনাপি তব ঘন জঘনমণ্ডলে ঘোষয়তু মন্মথনিদেশম্।।

স্থলকমলগঞ্জনং মম হৃদয়রঞ্জনম্ জনিত-রতি-রঙ্গ-পরভাগম্

ভণ মসৃণ-বাণি করবাণি চরণদ্বয়ং সরস –লসদ অলক্তকরাগম।।

স্মর-গরল-খণ্ডনং মম শিরসি মণ্ডনমঃ দেহি পদ পল্লবম্ উদারম্

জ্বলতি ময়ি দারুণো মদনকদনানলো হরতু তদুপাহিত বিকারম।।

 

অর্থ্যাত তুমিই আমার অঙ্গের ভূষণ, তুমিই আমার জীবন, এই ভব সংসারে তুমিই আমার নিধিরত্ন। হে রাধে, তোমার প্রীতিলাভার্থে এই ভুবন মাঝে সতত কেবল তোমাকেই আমি হৃদয় ভরিয়া যত্ন করিতে সচেষ্ট। নীল নলিনী তুল্য তোমার নয়ন যুগল ক্রোধে ও অনুরাগে রক্তবর্ণের কমল তুল্য রূপ ধারণ করিয়াছে। যদি ঐ রক্ত আঁখি পল্লবে কৃষ্ণকে মুগ্ধ করিতে সক্ষম হও, তবেই কমলের সঙ্গে তুলনা সফল হয়। তোমার সুগোল কুম্ভের ন্যায় স্ফুরিত কুচ যুগলের উপরিভাগে শোভিত মণিখচিত মঞ্জরি তোমার হৃদয়দেশকে কি সুষমাতেই না রঞ্জিত করিয়াছে! তোমার ঘন জঘনমণ্ডলে মেখলার বারংবার নিনাদ যেন মদনদেবের কাম নির্দেশ ঘোষণা করিতেছে।  মধুর স্বরে শুধু একবার আদেশ দাও –‘স্থলকমলকেও গঞ্জনা দিতে সক্ষম, আমার হৃদয় রঞ্জনকারী তোমার ওই পদযুগলকে রতি রঙ্গে আমার হৃদয়ে ধারণ করতঃ আলতারাগে রঞ্জিত আমার শিরঃপীড়া নাশ করিয়া, কামযন্ত্রনার গরল নাশ করিয়া তোমার ঐ পদপল্লব কে মমতা ও উদারতায় প্রসারিত করো। মদনের দারুণ অনল জ্বালা নিবারণার্থে তোমার দেহবল্লরীতে সংযুক্ত হইয়া আমার সমস্ত বিকার নাশপূর্বক শীতল

হে স্বভাবমুখরা রমণী কুল, একবার আপন হৃদয়োপরি আপন হস্ত স্থাপন করিয়া সত্য কহ– ‘পুরুষের এমন আকুতি, এমন প্রেম নিবেদন, এমন সমর্পণের পরেও কোন নারী স্থির থাকিতে পারে কি? যদি কেহ পারে, তবে সে রমণী প্রস্তরবৎ নীরস বলিয়াই জানিবে। তাহার সংস্পর্শ ত্যাগ না করিলে পদার্থের পার্শ্বটানের ধর্মানুযায়ী তোমার হৃদয় রসকেও সেই শুষ্ক প্রস্তর শুষিয়া লইবে

নারী দ্বিবিধ উপায়ে পুরুষের নিকট সম্পুর্ণ বশীভূত হয়। যথা-

) উদ্যত তরবারির সন্মুখে  

) পুরুষের অকপট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে।

প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু যুদ্ধপ্রিয় জাতি তরবারির সন্মুখে বহু নারীকে বশীভূত করিয়াছেন। কিন্তু ইহাতে বংশ বৃদ্ধি ঘটিলেও কোন গৌরব বৃদ্ধি ঘটে নাই। কারণ পরাজিতের ভীতিজনিত বশ্যতা স্বীকারে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের গৌরব বিলুপ্ত হয়। সেখানে পরাজিতের সন্মান হননপূর্বক বিজয়ীর মিথ্যা ইতিহাস রচিত হয় বলিয়া সুললিত কাব্যের সৃষ্টি হয় না। যে প্রেমে অনুরাগ নাই, উভয়ের চরম আত্মসমর্পণ নাই, সেই প্রেম পশুর পাশবিক শরীর সুখের সঙ্গেই তুলনীয়। আত্মসমর্পণে শতকরার হার হিসাব করার অর্থই বাকি শতকরার অংশ সেখানে ভেজাল। আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি, যদি কবি জয়দেবের মতো এমন কাব্য সৃষ্টির সুযোগ পাই, তবে বারংবার জন্মগ্রহণের কষ্ট স্বীকারে প্রস্তুত আছি

অতএব হে রমণী কুল, এখন ও কি বলিবে– পুরুষ জাতির বিনাশ চাই? পশুর স্বভাব বিশিষ্ট যে কাপুরুষ অসহায় রমণীকে ধর্ষণ করে, ধন জনের শক্তিতে ক্ষমতাশালী যে নির্দয় পুরুষ নারী জাতির উপর নানা অত্যাচার করে, সুযোগ সন্ধানী যে কামাতুর পুরুষ আপন স্ত্রীকে অন্যায় পথে পরিত্যাগ করে, সেই অশুভ শক্তিরূপ অসুরের বিনাশ তো স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই চাহে। তাহাদের কারণে কেন তোমাদের জীবনের একান্ত কামনার ধন মহাপুরুষদের বর্জন করিবে?

তাই বলি, হে গান্ধারীর মত কৃষ্ণবস্ত্রে নয়ন আচ্ছাদনকারী অবলা নারীকুল, সময় থাকিতে সতর্ক হও। বৃক্ষের অবলম্বন ব্যতীত লতিকা সকল উর্ধগামী আলোকের সাক্ষাত পায় না। যে অহঙ্কারী লতিকা অহঙ্কার বলে বৃক্ষের সহায়তা গ্রহণ করে না, সেই লতিকা অবাঞ্ছিত জঙ্গল পরিবেষ্টিত অবস্থায় অন্ধকারে পশুদিগের পদ দলন সহ্য করিতে বাধ্য হয়। তোমরাও আপনার বাঞ্ছিত পুরূষের সন্ধানে সচেষ্ট হও। নূতন নুতন কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীর প্রেরণার উৎস হও। আইস, তোমাদের লইয়া আমরাও কালিদাস, জয়দেব, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ ও অন্যান্য প্রথিতযশা কবি সকলের মতো কাব্য রচনা করি। তোমরা একবার বলো, পুরুষের ভালবাসার তুল্য ভালবাসা নাই।

বারংবার বলো পুরুষেরা দীর্ঘজীবি হউক।

 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...