কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫
অসামাজিক - শেষ পর্ব
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৫
অসামাজিক- প্রথম পর্ব
*******************
অসামাজিক
~~~~~~~~~
(উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসারে)
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০১৫
অনুসারী - ৩
একটা অসার জল্পন, অবশ্যই উন্মাদীয়
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
জানি, এ সবই পাগলামি,
কিন্তু তার দায় কি তোমার নয়??
এতো ভালোবাসা ও বাসা যায়!!
মহুয়াদি বলছিলো, শাড়িটা
রজকের বাড়ি পাঠাতে, সে কি সম্ভব!!
আমার কম্পিত শুষ্ক ওষ্ঠে যখন...
আহ...
আমি তো রজস্নাত হয়েছিলাম,
তোমায় বলা হয়নি, সে কথা, লজ্জায়...
যার ছোপে ছাপানো...
ওই লাল শড়িটা।
রজক! সে তো শাড়ি টা ধুয়ে দেবে,
তাতে আবার নতুন ভাঁজও পড়বে,
আমার???
আমার যে আর কোন কিছুতেই
ভাঁজ পরবে না এ হৃদয়ে...
তপ্ত বালুর মত দৌড়েছিলাম
এই মরীচিকার পিছনে, আজ পেয়েও
অধরা...
তীব্র কামনার পিপাসাতে
আমি তৃষ্ণার্ত
আমার দুদণ্ডের সুখ বলতে তো
এখন শুধু মাত্র...
ওই লাল শড়িটা।
তাহলে কি আমি, শুভ্রকে ওতটা
ভালোবাসতে পরিনি!
মহুয়া দি গো, শাড়িটা ই দেখলে!
অগোছালো হয়ে পরে আছে!
আর আমি? তোমার অনু...
তোমার নজর এরিয়ে গেল দিদি?
আমিও তো ওই ভাবেই
কুঁচকে জড়সড় হয়ে পরে আছি,
একরাশ তৃষ্ণা বুকে রেখে...
একা,
আর সেই লাল শাড়িটা।
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০১৫
কোরানের অপব্যাখ্যা
আজকাল কোরানকে অপব্যাখ্যা করে পোষ্ট করাটা ভক্তদের কাছে ফ্যাশন হয়ে উঠেছে, ভক্তগ্রুপে জাতে উঠার মই। প্রশ্ন হল, নাথুরাম গড়সে কি কোরান পড়তেন? মানব বোমার আধুনিক জনক LTT দেশপ্রেমিকরা কি কোরান মেনে চলতেন? ক্রুসেড, দুটো বিশ্বযুদ্ধ, আমেরিকাতে ইউরোপীয়দের রাজত্ব স্থাপন করতে গিয়ে জেনোসাইড, পৌরাণিক রামায়ন মহাভারত ট্রয়ের যুদ্ধ, আধুনিক হিটলার এরা কোরাণ পড়েছিলো? গু সকলের পিছনেই আছে, সুতরাং অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেকে দেখা উচিৎ, নাহলে চারটে আঙুল আপনার দিকেই তাক করে আছে।
চেঙ্গিস খান সাড়ে তিন কোটি মানুষ হত্যা করেছিলও, তার উত্তরসুরীরা আরো ৪ কোটি গণ হত্যা করেছিলো। এর পরেও গোটা মানব ইতিহাসে যত মানুষ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে তার ৭৮ শতাংশই ছিল বিগত সাড়ে পাঁচশ বছরে। বস্তুত এই যুদ্ধগুলো আমেরিকা, ইউরোপ ও পশ্চিমাবিশ্ব নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই বাঁধিয়েছিল। এরাই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা, পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে। আমেরিকায় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের নামে ৫০ বছরে ১০ কোটির বেশি রেড ইন্ডিয়ানকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন বিপ্লবেও ৮ কোটির বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকায় বিপ্লব সৃষ্টির জন্য ২ কোটি মানুষ নিহত হয়।
১৭৭৬ সাল
থেকে আজ পর্যন্ত আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী ২৭৭ বার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জাতির
বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। মাত্র ২৩৯ বছরে ২৭০-এর বেশি সংঘর্ষের এই হার যে কোনো
দেশের তুলনায় অনেক বেশি। জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলে পাশবিকতা ও বর্বরতায়
বিশ্বের শীর্ষস্থানটিও আমেরিকারই দখলে। আফ্রিকাতে ৬ কোটি, ভিয়েতনামী ১০ কোটি, ইরাকী ৩০ লাখ, ৫ লাখ আফগানী।
আমেরিকার রাষ্ট্রীয় গ্রন্থের নাম কোরান নাকি তারা ইসলামের অনুসারী?
একসময়
মঙ্গোলরা বলতো পৃথিবীতে একমাত্র কর্তৃত্ব করার অধিকার শুধু তাদের। ১৯৪৫ সাল থেকে জার্মানির একই দাবি ছিল। ১৯৫০
সালের পর রাশিয়া এল এই অবস্থানে। ১৯৯০ এর পর আমেরিকা সেই ভাবনার পথিক। আর আজকের
ইজরায়েল আমেরিকাকে টপকে সকলের বাপ হতে চায়, তাদের ধর্মগ্রন্থ মতে ইহুদি ছাড়া বাকি কেউ বেঁচে থাকার অধিকারই রাখেনা। এরা
কেউ কোরাণ পড়েনি।
ভক্তেরা এসব
প্রেক্ষাপট বিচার বিশ্লেষণ করার অউকাত রাখেনা, তাদের দৌড় হোয়াটস্যাপে পাওয়া ৪ লাইনের শেয়ার জ্ঞান, যা বিজেপির দু পয়সার ভাড়াটে আঁটি সেল লিখে দেয়।
আমি আগে মানুষ, তার পরে ভারতীয়, তারপর বাঙালী ও
সবশেষে মুসলমান। কোরান আমার মননে, আমার পরিচয় ও অস্তিত্বের একমাত্র কারন। তার অপব্যাখ্যা বা মিথ্যা সমালোচোনা করলে নিঃসঙ্কোচে আমার থেকে দুরত্ব বজায় রাখুন। কারন আমি বা আপনি কেও কারো যোগ্য নই, আমি উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যা কারীকে ঘৃনা করি।
আমি সাম্প্রদায়িক নই যে উগ্রতা চাষের জন্য এক
জাতীয় বানোয়াট ইসলামকে সমর্থন করি, যারা করে তাদের জন্যও একরাশ ঘৃনা। ধর্মকে
হাতিয়ার করে যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করে বা অত্যাচার
করে, তারা যে ধর্মেরই হোক- তারা নরকের কীটের অধম, ক্লীব হিজরে। আমি নাস্তিকও নই, অন্য সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করি, তাদের আচারকে সম্মান করি, তার মানে এই নয় যে তাদের বিশ্বাসে আমাকেও বিশ্বাসী হতে হবে। চোরের জাতে ৭০ % মুসলিমান
হলে যদি কেও সমগ্র জাতিকে গালি দেয়, তাহলে তথ্য দিয়ে সামাজিক পরিস্থিতি
বিশ্লেষণ করে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে, কেন সে চোর? মুখ বুজে ভাঁটের
গল্প শুনবনা। পশ্চিমবাংলাতে ২৭% মুসলমান, সরকারি চাকরিতে ১% এরও কম। মুসলমান সম্প্রদায়ের
হকের চাকরিগুলো যারা খেয়েছে তারা সংখ্যাগুরু, শিক্ষিত ও ক্ষমতাবান বলে চোরের হিসাবে
আসেনি।
তথ্য উপাত্তকে দূরে রেখে হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির জ্ঞান নিয়ে কেউ যদি কোরান ব্যাখ্যা করতে আসে, কিম্বা সেটাকে সাইকোর মত সমর্থন করেন, নিশ্চিন্তে আমাকে আপনি উন্মাদ মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক। আপনি সমাজের পক্ষে বিষাক্ত ছত্রাক সন্দেহ নেই।
বিধবাদের পুড়িয়ে মারা কোন অহিংসার শিক্ষা দেয়? নারীকে পরিকল্পিত খুন করে কার ধর্মকে রক্ষা করা হতো বলতে পারেন? কৃষ্ণ যখন অর্জুনকে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন মহাভারতের যুদ্ধের ময়দানে, অর্জুন জানতেননা যে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য তাকে তার বিরুদ্ধে থাকা পুরো বংশকে হত্যা করতে হবে। ভগবান কৃষ্ণ কি মানা করেছিলেন নাকি উৎসাহ দিয়েছেন? অর্জুনকে দেওয়া বক্তৃতাই তো ভগবৎ গীতা।
পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মে হত্যার অনুমতি রয়েছে। আব্রাহামীয় সকল ধর্মেই
হত্যার জন্য সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। অহিংসাবাদী বুদ্ধ নিজে শুকরের পচা মাংস খেয়ে বিষক্রিয়াতে
মারা গিয়েছিলেন, সেই শুকরকে কী হত্যা করা হয়নি? জৈন ধর্মকে অহিংসার পরাকাষ্ঠা হিসাবে বিবেচনা করা হয়, অথচ বৃদ্ধ বয়সে
নিজেরাই আত্মহত্যা করে। অহিংসা নাকি সনাতন
ধর্মের প্রধান নীতি। অতথচ বেদ বা পুরাণ সে কথা বলেনা। এটা
আজকের হিন্দুধর্মের কারবারিদের নতুন আবিষ্কার- নিরামিশাষী, অথচ
তাদের মূল উপাস্য শ্রী রামচন্দ্র নিজে ক্ষত্রিয় ছিলেন, তথায় মাংস খেতেন।
বিষ্ণু নাকি নিরামিষাশী
ছিলেন, তাহলে মৎস্য, কূর্ম, নৃসিংহ, রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ এনারা কী ঘাস পাতা খেয়ে বেঁচে ছিলেন? ভারতচন্দ্রের
অন্নদামঙ্গলের হিসাবে শিবঠাকুর আমিষাশী, সে সময় কী তার জাত গেলো বলে কেউ রব তুলেছিলো?
“কচি ছাগ মৃগ মাংসে ঝাল ঝোল রসা।
কালিয়া দোলমা বাগা সেকচী সমসা।।
অন্ন মাংস সীকভাজা কাবাব করিয়া।
রান্ধিলেন মুড়া আগে মসলা পুরিয়া।।”
মা কালীর প্রশ্ন উঠলে সেখানে আমিষ ছাড়া সেভাবে কিছুই নেই। ছাগল, ভেড়া বা মহিষ বলি ছেড়েই দিন, নরবলির ইতিহাস ভুলে গেলেন? শাস্ত্রে আমিষ, নিরামিষ বলতে কোন কথাই উল্লেখিত নেই।
যেট আছে তা হলো- সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক আহারের কথা। গীতায় স্পষ্ট স্লোক রয়েছে-
- "যে আহার আয়ু, সত্ত্ব, বল, আরোগ্য, সুখ ও প্রীতি বর্ধনকারী এবং রসযুক্ত, স্নিগ্ধ, স্থায়ী ও মনোরম, সেগুলো সাত্ত্বিক আহার হিসেবে সর্বদা বিবেচ্য হয়ে থাকে" (গীতা, ১৭/৮)
- "যে আহার অতি তিক্ত, অতি অম্ল, অতি লবনাক্ত, অতি উষ্ণ, অতি তীক্ষ্ণ, অতি শুষ্ক, অতি প্রদাহকর এবং দুঃখ, শোক ও রোগপ্রদ সেগুলো রাজসিক আহার হিসেবে বিবেচ্য" (গীতা, ১৭/৯)
- "যে আহার অনেক পূর্বে রাঁধিত, যা নীরস, দুর্গন্ধযুক্ত, বাসী, পচা, যার ঘ্রান গ্রহনে নাসিকা সরে আসে এবং অপরের উচ্ছিষ্ট দ্রব্য ও অমেধ্য দ্রব্য, সেই সমস্ত তামসিক হিসেবে বিবেচ্য" (গীতা, ১৭/১০)
বেদের শান্তিময় বাণী শুনুন- ছত্রে ছত্রে অবিশ্বাসীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য ক্ষত্রিয়দের
আহ্বান জানানো হয়েছে। সত্য প্রকাশ সরস্বতী, সত্যকাম বিদ্যালঙ্কার, দেবী চাঁদ, বৈদ্যনাথ শাস্ত্রী, ক্ষেমকরন্দ দাস ত্রিবেদী, স্বামী দয়ানন্দ
সরস্বতী,
শ্রীপাদ দামোদর সাতভালেকরের আর্য সমাজী অনুবাদ, স্বামী কার্পাত্রী এবং শ্রী রাম শর্মা আচার্য (গায়ত্রী
পরিবার) এর অর্থোডক্স অনুবাদ পড়ুন। গ্রিফিথের অনুবাদ পড়ুন,
সেখানে অ-হিন্দুদের বোঝাতে কাদের নির্দেশ করা হয়েছে। আদিদেব, আদিদেব্যু যার অর্থ
ঈশ্বরহীন,
অনিন্দ্র যার অর্থ ইন্দ্রের বিরুদ্ধে, আয়জ্যু, আয়জওয়ান যার অর্থ
ত্যাগহীন,
অব্রাহ্মণ, অন্যব্রত যার অর্থ
অন্যান্য দেবতাদের অনুসারী, অপভ্রত, আভ্রত যার অর্থ নিষ্ঠাহীন, দেবানিদ যার অর্থ দেবতাদের বিদ্বেষী, ব্রহ্মদ্বিষ যার অর্থ ভক্তির বিদ্বেষী এবং যারা বেদকে নিন্দা করে তাদের সকলকে হত্যার বিধান দেওয়া রয়েছে।
অনুবাদঃ দেবী চাঁদ, আর্য সমাজ।
স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে সরাসরি অনুবাদ।
অনুবাদঃ দেবী চাঁদ, আর্য সমাজ।
স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে অনুবাদিত।
-
এরপর তাদের
জায়গা জমি এবং রান্নাঘর ধংস কর, যজুর্বেদ ১৩/১৩,
শুধু শত্রুদের ধংস করেই ক্ষান্ত নয়, বরং তাদের পরিবারের সদস্যাদেরকেও হত্যা করতে বলছে বেদ,
- “সেনাপ্রধান হিংস্র ও নির্দয়ভাবে শত্রুদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যুদ্ধ করবে।” যজুর্বেদ ১৭/৩৯,
- - শত্রুদের পরিবারকে হত্যা কর, তাদের জমি ধংস কর। যজুর্বেদ ১৭/৩৮
শান্তিময় বেদের এটাও তো একটা রূপ, এইসব যুদ্ধের মুল প্রেরনা কি? মূল প্রেরনা হচ্ছে শত্রুদের লুট করে ধনসম্পদ বৃদ্ধি। বেদের স্পষ্ট বানী,
- “যুদ্ধই তোমাদের উন্নতির উৎস, এজন্যই তোমাদেরকে আমি যুদ্ধে প্রেরন করি” যজুর্বেদ ৭/৩৮,
- “হে সেনাপ্রধান, আমাদের আশা পুর্ণ করো। হে ধনসম্পদের বাদশা, তোমার সহায়তায় আমরা যেন সম্পদশালী হতে পারি এবং যুদ্ধে জয় লাভ করে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হতে পারি।” যজুর্বেদ ১৮/৭৪,
অর্থাৎ শত্রু পরিবারের নারীরাও যাবে দখলকারীর ভোগের জন্য। ধনসম্পদ লুট খুনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব দখল করতে বলছে। একই সাথে এই মন্ত্রে স্পষ্টভাবে কোন আত্মরক্ষার্থে নয় বরং যারা শান্তিপ্রিয় তাদেরকে আক্রমন করে দখল করতে বলছে,
- “আমরা যেন সামরিক অস্ত্রের মাধ্যমে বিশ্ব দখল করতে পারি, আমরা যেন শান্তিপ্রিয় বা আরামপ্রিয় শত্রুদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করতে পারি। অস্ত্র দিয়েই আমরা যেন সারা বিশ্বের সকল অঞ্চলকে বশ্যতা স্বীকার করাতে পারি।” যজুর্বেদ ২৯/৩৯ এ,
অর্থাৎ জ্ঞান বা ভালবাসা দিয়ে নয়, বরং অস্ত্র দিয়ে, শান্তিপ্রিয়
মানুষদের হত্যা করে ও তাদের এলাকা দখল করে সমগ্র বিশ্ব দখল করতে নির্দেশ দিচ্ছে বেদ।
“তার প্রতি শ্রদ্ধা, যার রয়েছে তলোয়ার, তীর। তার প্রতি সন্মান, যার রয়েছে ধারালো অস্ত্র। তার প্রতি খাদ্য নিবেদন, যার রয়েছে ভাল অস্ত্র। যজুর্বেদ ১৬/৩৬,
এভাবে যদি বেদের বাণী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়, দুনিয়ার অবস্থা কেমন হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বেদের অজস্র হিংসাত্মক মন্ত্র হতে শুধু অল্প কয়েকটি উল্লেখ করলাম। এবারে বলুন, এটা কোন সর্বশক্তিমান সৃষ্টার সৃষ্টি? এটা তো যুদ্ধবাজ, ধংসপ্রিয় ও লুঠেরা আর্যজাতীর বাণী তা সহজেই বোধগম্য।
যজুর্বেদের কথা সংহিতা, শাণ্ডিল্য উপনিষদে অন্য সত্তাকে অকারন আঘাত করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু সহিংসতার বিপরীতে আক্রমণকারীর উপর সহিংসতা ফিরিয়ে না দিলে কর্মফল হিসাবে নরকপ্রাপ্তি ঘটবে। মানে হত্যা করার অনুমতি রয়েছে। ছান্দোগ্য উপনিষদ অনুযায়ী- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধার্মিকদের রক্ষা করার জন্য কেবল হত্যা করাই একমাত্র নিতী হিসাবে উল্লেখ রয়েছে। একখন এখানে ধর্মের মাত্রা কে নির্দধারণ করবে, আর ন্যায়টা কার প্রতি রাখা হবে? হিন্দুধর্ম ঐতিহ্যগতভাবে মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে। আসলে হিন্দু ধর্মে হত্যা সম্পূর্ণরূপে অনুমোদিত, বিশষেশষকরে তারা যদি অব্রাহ্মণ হয়।
পিতার শ্রাদ্ধের জন্য পরশুরাম ক্ষত্রিয় রাজা সহস্রার্জুন কর্তৃক তার পিতা জমদগ্নির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ক্ষত্রিয়দের গণহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। মহাভারত, আদি ২.৫-৭, ৬৬-৬৯ অধ্যায়।
মনুসংহিতার দিকে ভুলেও তাকাবেননা, ব্রাহ্মণ
না হলে সহ্য করতে পারবেননা, মনে হবে আন্ত্রিকগ্রস্থ নরগোবর খেয়ে হেগে হেগে আত্মহত্যা
করি। সেখানে ছত্রে ছত্রে কীভাবে নিম্নবর্ণের মানুষ আর মহিলাকে শোষণ, লুন্ঠন ও ধর্ষণ করতে হবে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা
দেওয়া রয়েছে।
-“গাড়ি, ঘোড়া, হাতি, অর্থ, শস্য, গবাদিপশু ও নারী তার দখলে যে যুদ্ধের মাধ্যমে তা জয় করে।” মনুসংহিতা ৭/৯৬,
আপনারা করতে আসেন কোরানের বিচার? আগে নিজের ধর্মকে অন্বেষণ করুন, পড়াশোনা করুন। বহু ভালো ভালো জিনিস রয়েছে আপনাদের বেদ, উপনিষদ, পুরাণে, সেগুলোকে নিজের জীবনে অভ্যাস করুন, দেখবেন পৃথিবীটা সুন্দর হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০১৫
অনুসারী - ২
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
তুমিই তো সেদিন ডেকেছিলে...
‘বকুল বনের ছাওয়ায়, একবার
আসিস তো অনু, তোকে একবার
বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছে,’
আমি নিষিদ্ধ শিহরনে, অজানা আবেশে...
বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম,
এভাবে কেন আগে কেউ ডাকেনি আমায়!
আমার মনে হচ্ছিলো, আমি
তক্ষুনি চলে যায় তোমার বাহুডোরে...
বেহায়া ফড়িঙটা , মিছিমিছি কটা দিন
নষ্ট করালো, নাহলে আমি... আমি...
কবেই পড়ে নিতাম...
ওই লাল শড়িটা।
জানো, সেদিন আমি চোখে কাজল
দিয়েছিলাম, যেমনটি তুমি পছন্দ করো...
তুমি তো তাকিয়েই দেখলে না,
তুমিও তাহলে লজ্জা পাও??
হা হা হা,
আচ্ছা আমার এই সুখ আমি
কাকে বলবো শুভ্র?
ষোড়শীর প্রেম??
সবাই যে মন্দ বলবে আমায়,
পারবে?
পারবে তুমি সইতে!!
জানো সেদিন বোধহয় সাদা শাড়িই
পড়েছিলাম, তোমায় স্পর্শে যেই
রাঙা হলাম লাজে, আর রাঙিয়ে গেল...
ওই লাল শড়িটা।
আমি তোমার বুকে মুখ গুজে,
খুব করে ঘাম মেখেছিলাম,
তোমারই, চুপিসারে...
এই সুখ কে কি নামে ডাকে শুভ্র!
বলো...... আমায় বলো......
ওই, চুপটি করে কেন?
ভাবছো বুঝি? জানো, আমিও আগে
ভাবতাম, এখন আর ভাবি না
তাছারা, এখন আমার ভাবনার
নামই তুমি, সব ভাবনাই তো তোমাকে নিয়ে।
জানো ওই শাড়ি টা আমি ছুঁতে পারিনি
আজও, সেদিন থেকে...
ওটাতে আষ্টেপৃষ্ঠে তুমি লেপ্টে আছো,
যেমনটি আমায় লেপ্টেছিলে তোমার বাহুডোরে,
শাড়িটাতে তাই শুধু তোমার ই গন্ধ...
কি করে ছোঁবো!!!!
ওই লাল শড়িটা।
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫
উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ ~ ১১
আবার সে যায় পাটে,
নিস্তরঙ্গ তারার জীবনে
এভাবেই দিন কাটে।
না... সে বোঝে প্রেমের বুলি
না নয়নের ভাষা,
ছকে বাঁধা তার কর্ম জীবন
কজেই কাঁদা হাসা।
হালকা সাদা মেঘের সাথে
করতো একা খেলা,
সন্ধ্যে হলেই জ্বলতো একা
হাজার তারার মেলা।
তখন একটু লাগতো ব্যাথা
একাই পেত কষ্ট,
হাস্য মুখের যুবক তারা
ব্যাক্ত করেনি স্পষ্ট।
.........ক্রমশ
রবিবার, ২৮ জুন, ২০১৫
অনুসারী- ১
একটা অসার জল্পন, অবশ্যই উন্মাদীয়
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
দরজার ফাঁকে অগোছালো হয়ে
পরেছিলো, অত্যান্ত অগোছালো ভাবে...
মহুয়া দি, বারকয়েক বলেছিল
অনু- ওটা গুছিয়ে রাখিস নি কেন!!
ওই লাল শাড়িটা।
কোন জবাব দিতে পারিনি,
আমি,
আম নিজেই যে অগোছালো হয়ে আছি,
মহুয়াদিটা ও না... সব প্রশ্নের কি
উত্তর হয়? না দিতে আছে?
ও যদি জানতো নিশ্চই শুধাতো না,
কেন পড়ে আছে...
ওই লাল শড়িটা।
এই তো সেদিন,
যেদিন সুর্যের সাথে কালো মেঘেরা
লুকোচুরি খেলছিল,
খুব গুমোট ছিলো আবহাওয়াটা,
আর মনটাও, খুব ঘেমেছিলাম সেদিন,
সে সবই তো ওই শাড়িটাতেই জমা আছে...
কালো সানগ্লাসে চোখ ঢেকে
আর পরনে...
ওই লাল শড়িটা।
ক্রমশ...
উন্মাদ হার্মাদ
৮ই আষাঢ়, ১৪২২
"ই" তি বৃত্ত
#ইতিবৃত্ত
ইন্তেহা… হো গ্যায়ি। ইন্তেজার কি…
অন্নপ্রাশনের সময়ই হবে, কেও একজন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসারগ প্রনীত বর্ণপরিচয় আমাকে উপহার স্বরূপ দিয়েছিলেন, তো সেখান থেকেই আমার প্রেমের শুরু।
“ই” কে…
কারন ‘অ’ বা ‘আ’ কে এক অক্ষরে টুক করে উচ্চারন করা যায়, কিন্তু হস-সই দিয়ে ‘ই’ এর উচ্চারন করতে হয়। স্বরবর্নের এ এক মহান জ্বালা। কোনো কারন ছারাই। পরে ঈ, উ,ঊ, ও লি ও এসেছিল। কিন্তু ওই লাভ এট ফার্ষ্ট লুক। ‘ই’ আমার ঠিক তাই।
সেই থেকেই প্রেয়সীর উপরে যেমন নজর থাকে, আমার ও ‘ই’ এর উপর তেমন ই নজর থাকতো। অনেক সময় যমজ সমস্যার মত , জ্ঞানের অন্ধকারে ঈ কে ই ভেবে আপন করতে গিয়ে দেখি নিচে একটা অতিরিক্ত অঙ্গ, আমাকে ঠিক অকুস্থল জাইগা মতই খোচাচ্ছে, ঝটপট ছেরে দিয়ে কোন মতে প্রানে বাঁচা, এবং সেটা বারে বারে।
যখন জন্মালাম, দেশের দায়িত্বে ‘ই’ন্দিরা গান্ধী। স্ট্রং লেডি। মানে ই এর রাজত্বেই তো জন্ম। আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠতে লাগলাম। ক্রমে সেই বর্নপরিচয় টা হাতে পেলাম, যদিও ওটাকে দিন দুয়েকের মধ্যেই উদরস্ত করেছিলাম, আক্ষরিক অর্থেই। গোটা পাঁচেক বর্ণপরিচয় শহীদ হয়ে অবশেষে অ আ টপকে ই এ পৌছালাম। এর পর ভয় পাওয়া ইঁদুর ছানা কেও দেখলাম। রান্না ঘরে, বাবার দোকানে আক্ষরিক ইঁদুর ও দেখলাম। শিখলাম ‘ই’য়ার মানে নাকি কান হয়। ‘ই’উ মানে তুমি রা ‘ই’য়োর মানে তোমার, ‘ই’য়লো মানে হলুদ... ‘ই’ত্যাদি ‘ই’ত্যাদি...
এছারাও, বেশকিছু শব্দ যেগুলো জাতে ইংরাজি, আসলে কিন্তু ভারতীর রেশন কার্ড পেয়ে গেছে। মানে যাকে বলে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান আর কি। যেমন, ইন, ইন্টারন্যাশ্যানাল, ইন্টারপোল, ইনেকটিভ, ইমপ্লান্ট, ইমপর্টেন্ট, ইমপোজ, ইমিডিয়েট, ইনকমপ্লিট, ইনোসেন্স, ইনসিস্ট, ইরেকসন, ইনক্রেডিবেল, ইনডিড, ইনডেক্স, ইনসাইড, ইনপুট, ইনফ্যান্ট, ইনফিনিটি, ইমিগ্রেসন, ইকুইটি, ইন্সট্যান্ট, ইন্টারেষ্ট, সহ এমন শত সহস্র শব্দবন্ধের সাথে পরিচিত হলাম।
পড়া শোনা জোর কদমে শুরুহলো, ‘ইংরাজি ভাষায় নাকি কথা বলতে শিখতে হবে, কারন দেশে ওটাই প্রধান অফিসিয়াল মাধ্যম। এটা ইংরেজরদের বহুদিন দেশ শাষন করার ফল, যদিও তখন স্বাধীনতা-পরাধীনতার মানে নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। মজা হল ‘ই’ না থাকলে “অফসয়াল” হয়ে যেত। হল না, আর হবেও না। ওই ইংরাজীর চক্করেই জানলাম যে আমাদের দেশের ভালো নাম ও একটা আছে ‘ই’ন্ডিয়া। পরে জেনেছিলাম ওটাই দেশের আসল আই ডি, ক্রিকেটের মাঠে। বাকি গুলো, মানে ভারত বা হিন্দুস্থান ইত্যাদি গুলোও দেশের ই নাম, কিন্তু আমারই মত ফেক আইডি। পরিচিত মন্ডলের বাইরে ফেক আইডি। এখন ;ই; এর মহিমা না থাকলে ন্ডিয়া ক্রকেট খেলতো, সেটা বলাই বাহুল্য। যদিও আমি ‘ই’কিরমিকির চামচিকি... এই সবই খেলতাম।
আরেকটু বড় হতেই তৎকালীন এক যন্ত্রনাময় ‘ই’... ইস্কুল। জীবনের এক নতুন অধ্যয় শুরু হলো। এখানে আ-কারের সাথে সাথে ‘ই; কারের ও দুর্দান্ত ভাবে পরিচয় ঘটলো। মন আর মিনির মাঝে ফারাক করতে শিখলাম। ইস্কুলের সময় দীর্ঘায়িত হবার সাথে সাথেই, বাংলা ‘ইং’রাজীর পাশাপাশি আরেক মূর্তিমান বিভীষিকা ‘ই’তিহাস হাজির হলো। যদিও এটা আমার বা আমার সমগোত্রীয়দের জন্যই প্রযোজ্য। যদিও তাঁর অনেক আগেই শাকের আঁটির মত ‘গন-ইত’ (গনিত) জীবনের রস অনেকটা তেতো হয়েই গেছে। যদি ‘ই’ না থাকতো গনিত টাই তো গনৎ হয়ে গেলো। তবুও ‘ই’ প্রেম অটুট রইলো। ততদিনে ভূগোলের পাঠ আসতে শুরু করেছে, ‘ই’উরোপের নাম ও শুনে ফেলেছি। আর বৃহত্তর অর্থে সাহেবদের দেশ ‘ইং’ল্যান্ডের। এদিকে পাড়ায় মহল্লায় তখন একটাই ধ্বনি ‘ই’নক্লাব জিন্দাবাদ।
তখন টিভির এতো রমরমা যুগ ছিলো না, মানে এখনকার মত। বিকালে মাঠে খেলতে যেতাম, ছুটির দিনে সার্কাস মেলা ‘ই’ত্যাদি ‘ই’ত্যাদি...... তাঁর মধ্যে জাদুখেলার টান ছিল অমোঘ, এখানেও ‘ই’ এর মাহাত্ব। মানে ইন্দ্রজাল। যাতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকতাম পুরো বাল্যকাল ও কৈশরের মধ্যভাগাবধি। জানলাম ‘ই’ন্দ্র দেবের কথা, ঐরাবত যার বাহন, এবং বজ্রচালনা করে থাকেন, বাল্যকালে এইসকলই পূরাণ তথা রুপকথার রাজ্যে পাড়ি লাগাতাম, ওই ইন্দ্রধনুষে ভর দিয়ে, মানে যাকে আমরা রামধনু হিসাবে জানি।
কল্পনারা তো আর বাঁধ মানে না, বেশ জাকিয়ে তাঁরা রাজ্যপাট করে আমার মনের রাজত্বে। সেখানে ‘ই’চ্ছা শক্তির বারবার সংঘাত চলতো, ওই কল্পনাদের সাথে। আলপটকা মন্তব্যও হয়তো করে ফেলতাম, যার জন্য ইঁচড়ে পাকা উপাধীও লাভ করেছিলাম, খুব অল্প পরিশ্রমেই। দু চার জন ব্যাতিক্রম বাদের প্রায় সকলেই বোধহয় আমার মতই বড় হয়ে উঠেছেন, এই কল্পনা-ইচ্ছা-রামধনুদের ইট সাজিয়ে সাজিয়ে।
তখন নলকূপের চল এই গ্রামবাংলার দিকে ততটা ছিলনা, পুকুর দিঘী বা নদীর জলই ভরষা।তবে কিছু কিছু স্থানে ইঁদারা বা কুয়ো দেখা যেতো। যেগুলো নিয়েও প্রচুর সাহিত্য আছে। সেই সব শান বাধানো ইঁদারার পাড়ে বসে কাঠফাটা জৈষ্ঠের রোদে, নিবিষ্ট মনে কাঁচা আম, সামান্য নুন লঙ্কা সহযোগে, চেটে ও চুষে সহ আর কত ভাবে, রেখে রেখে খাওয়ার প্রণালি যে ছিল, মানে যাতে দ্রুত শেষ না হয়ে যায় ওই যখের ধনটি, তার আর ‘ই’য়াত্তা নে‘ই’। এর থেকে ভালো সময় জীবনে কি আর কখনো এসেছে! না ওতটা মনযোগ দিয়ে আর কতগুলো কাজ করেছি! খুব হিংসে হয় সেদিনের আমিকে।
ই না থাকলে তো জীবনে মিষ্টতা বলে কোন বস্তুই থাকতো না। গুড় বলুন বা চিনি, ইক্ষু ছারা সেটার উৎস কি! হ্যাঁ আপনি বলতেই পারেন আঁখ, বা আজকাল সিন্থেটিক চিনি কি বাজারে নেই? নিশ্চই আছে, আমি আমি ই এর প্রেমিক, তাই আমি তো ইক্ষু ই বলবো। ছোট বেলায় মায়ের হাতের ইক্ষুপেটা, মানে লাঠিপেটার বদলে আর কি, আমাদের দুই ভাইবোন কেই ইক্ষুর ঠ্যাঙান হজম করতে হয়েছিল, যদিও সেটা মোটেই মিষ্ট স্বাদের ছিলনা। কতদিনিই এমন হয়েছে, ইক্ষুর ছাল ছারাতে গিয়ে ঠোঁট ও জিভের ছাল ছারিয়ে ফেলেছি তারও লেখাজোখা নেই। তবে সেটা বেশ উপভোগ্যই ছিল।
ইগল নিয়ে মতভেদ থাকবে, ওটা ই না ঈ, আমি ই বিলাসী, তাই কটু গঞ্জনাতে প্রেমের ঘাটতি হতে দিই কি করে! এই বিলাসের কথাতে রসনা লকলক করে উঠে, তার জন্য ঘটি বাঙাল ভেদাভেদ খুব কম।
ইলিশ..................
নামটা উচ্চারনের সাথেসাথেই মুখ লালাঝোলে ভর্তি, চারপাসে সর্সে বাঁটার একটা ঝাঁঝালো সুগন্ধে গরে উঠে আশপাশ, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতই। ইলিস ‘ই’ ছারা অন্য কিছু দিয়ে শুরু হচ্ছে, এটা তো দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করা যায় না। ধরুন কষ্ট কল্পনা করেও নিলেন, তবে সেটা আর ওই রসনাতৃপ্তি দেবে বলে মনে হয় না। সেটা নরম বালিস হতে পারে, ময়দাতে জলিস হতে পারে, বা মগজে পালিস... মালিস ও হতেপারে, ইলিশ হবেনা ভায়া। এটাই ই এর মহিমা। এতো শুধু ইলিশ। আর কবিরা! বা প্রেমিক-প্রেমিকারা! ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিই তো তাদের মনজানলাতে দখিনা বাতাস বয়ে আনে। সবই ই এর কৃপা...
ই এর কৃপা জানেন না?? ভগা দা মানে আমাদের ইশ্বর(ঈ ও মতান্বরে) ... তিনি সর্বাসের্বা হয়েও ই এর মোহ ত্যাগ করতে পারেন নি, আমি আপনি তো কোন ছার।
তবে বলতেই পারেন আমি গরীব, ইলিশ সুখ আমাদের দেখতে নেই, না দেখুন ক্ষতি নেই, ইচে আছে তো। আপনি বাঙালী তো? তাহলেই ই এর উত্তেজনা আপনার জীবনে ঠিকিই আছে। ফুটবল। হয় আপনি মোহনবাগানের সমর্থক বা অন্য দলের... তাহলে কি সেই দল!! বলুন বলুন!! ইস্টবেঙ্গল......... মাইরি কেটে বলুন তো ই না থাকলে ইষ্টবেঙ্গল কোথায় পেতেন! পেতেন ৪-০ এর সুখ! আর মোহনবাগানীরা কাকে হারিয়ে এতো উল্লাস করতো, বা কার কাছে হেরে এতো মুষড়ে পড়তো!! ভাবুন কোথায় খরচ করতো বাঙালী তার এই আবেগ! নিরামিষ হয়ে যেত জীবন ই না থাকলে।
বসন্ত এসে গেছে, মানে সবে যৌবনের নীল দরজা দক্ষিনাকাশের দিগন্তে ভাষা ভাষা দেখা দিয়েছে, বুঝলাম ‘ই’জ্জত নামের একটা বস্তু ও ধরাধামে আছে। পরে পরে বুঝেছি ওইটা আসলে দুর্মূল্যই। বহু কিছুই ওটার জন্য ত্যাগ করা যায়। যৌবনের দোরে পা রাখতেই ‘ই’ঙ্গিত বিদ্যারা কেমন যেন স্বাবলীল হয়ে গেলো, বহু কিছুই ওই মাধ্যমে সম্পন্ন হতো, তখন ও দেশে ফোন আসেনি কি না, তাই... ইমোটির কাজ গুলো নিজের ইন্দ্রিয় দিয়েই আকারে ইঙ্গিতে করতে হতো। ‘ই’মোটির কথায় আবার ‘ই’মোশন চলে আসে। এখন বাংলিশের যুগে অনুভুতিগুলো সব ইমোশন আকারেই তো প্রকাশ পায়। ইতঃপূর্বে অনুভুতিরা এখন রাগ ঝাল দুঃখ আনন্দ বেদনা খুশী সবই এখন ইমোটির জাঁতাকলে, আর টুক করে বোঝানোও যায়।
এর পর উচ্চমাধ্যমিক তো কোনক্রমে পাশ করলাম, বাড়িথেকে ‘ই’ঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ও চাপ দুইই রইলো। যদিও সেই মেধা বা ভালোলাগা কোনকালেই ছিলাম না, তাই টুক করে অল্পদিনের মধ্যেই কেমন যেন ‘ই’তর সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করলাম। মানে বাকি সকলের ব্যাবহারের ধরন দেখে। আমার ‘ই’ঞ্জিনের ক্যাপাসিটি না দেখেই লোড চাপানোর প্রচেষ্টা সমুলেই উৎপাটটিত হল সে যাত্রায়। সেই থেকেই জীবন নিয়ে কিছুটা ‘ই’তঃস্তত বোধের মধ্যে ছিলাম। নিজের সিদ্ধানে অবিচল থেকে নিজের কাছে নিজের ‘ই’জ্জত রক্ষা হলেও, বাপ মায়ের ইচ্ছানুরুপ না গিয়ে তাঁদের ইজ্জত কথাঞ্জলী দিলাম।
ইত্যাবসরে ইউনিভার্সিটি নামক নতুন ই এর জগতে প্রবেশ করলাম। অচিরেই দুটো হালকা ফুরুফুরে ইচ্ছেডানার উদ্গম হলো। রোজনামচাতে ‘ই’স্ত্রি করা পোষাকের ঘনঘটা বৃদ্ধিপেল। প্রেমান্দ্রিয় সজাগ হতে বেশি দেরি হল না। ললনা দেখলেই ‘ই’দের চাঁদের মত, এটাই বোধহয় আমার জন্য সৃষ্টি বলে ঝাপাতাম, যথারীতি ফেলিওর হয়ে তার চরিত্রের নানা অ-গুন গুলো বিশ্লেষনের মাধ্যমে মনকে শান্তনা দিয়ে, পরবর্তীর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতাম। অনেক সময় ‘ই’জের ফাটিয়েও ‘ই’জারা দিতে হয়েছে, প্রেমসঙ্কুল ওই দিন গুলোতে। এর জন্য বন্ধু মহলে কম ‘ই’য়ার্কি হয় নি। কিন্তু সেগুলো আমি কখনই ‘ই’য়াদ রাখিনি। আমি সেই পুর্ন ‘ই’ন্দুর অপেক্ষার কালাতিপাত করতে লাগলাম।
‘ই’নাম যদিও তেমন কিছু পাইনি, তবে ওই যে বলে না... ব্যার্থতা মানুষকে শিক্ষাদান করে। আমার ওই প্রভুত ব্যার্থতা তথা শিক্ষার চোটে প্রায় সেমি বুদ্ধিজীবিতে পরিনত হয়ে গেলাম। যাই হোক ভবঘুরে জীবনে আদপে পিছিয়েই পড়েছিলাম, কিন্তু একটা বিয়য়ে উন্নাসিক ছিলাম, যে বাকিদের মত ‘ই’দুর দৌড়ে আমি সামিল হইনি। এছারা নিজেকে সান্তনা দেবার শর্টকার্ট আর হয় না বোধহয়। সে এক আশ্চর্য ‘ই’ন্দ্রাগার পরিস্থিতি।
দুচোখ বুজলেই ‘ই’ন্দ্রগোপের সন্ধান, চোখ খুললেই ফরসা। সকলসময় এক ধরনের ‘ই’লিউসন, ঘিরে থাকতো। অনেকেই বললেন ‘ই’ন্দ্রমনি ধারন করলে নাকি, জীবনে উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। জ্যোতিষি ভবিষ্যৎবানী করলেন, যে আমার ভি আচ্ছেদিন আয়েগা, উনি দেখতেও পাচ্ছেন, কারন ওটা ‘ই’নামেলের মত চকচক করছিল নাকি। শুধু কিছু জড়িবুটি আর মন্ত্রতন্ত্রের ‘ই’ন্ধন প্রয়োজন। কিন্তু আমি বললুম , আমার ট্রেন কোন এক ‘ই’ষ্টিশনে বেশিক্ষন দাড়াতেই পারেনা। ঠাকুর বললেন, সেই লাগাম ই লাগাবো রে পাগলা। বেশ চিন্তায় পরে ডবল শিওর হবার জন্য এক ‘ই’মাম সাহেবের কাছে গেলাম। উনিও প্রায় একই দাওয়াই দিলেন, শুধু বাড়তি বললেন- বেটা ‘ইমানদার হয়ে খোদার ‘ই’বাদৎ কর সব ঠিক হয়ে যাবে।
মেসেই থাকি, কোলকাতায় ‘ই’য়ার দোস্তদের সাথে মিলেমিশে, ‘ই’জের বাদে প্রায় সকল দ্রব্যই একে অপরের ‘ই’স্তেমাল করি। দিন সারা এফএম রেডিও আর বাকি সময়ে কলব্রিজ বা টয়েন্টি নাইন, বা বিবি পাসানো, যদিও ‘ই’স্কাবনের বিবির প্রতি টান ষোলআনাই ছিল। ‘ই’য়ে দোস্তি হাম নেহি তোরেঙ্গে, এটাই তখনকার মূল মন্ত্র। মেসের প্রথমিক বা ‘ই’নিশিয়াল দিনগুলো পূর্বের মতই ‘ই’ল্লতপনা করে কাটছিল। আসলে বয়সটাই বেড়েছিল, আদপে ‘ই’মম্যাচিওর ই ছিলাম। ‘ই’মব্যালান্স লাইফস্টাইল হলে যা হয় আর কি। ‘ই’মিটেট করার মত সামনে কেউ তেমন ছিলো ও না। জীবনটাই একটা ‘ই’মমেটিরিয়ালে পরিনত হয়েগেছিলো, ‘ই’নফ্যাকচুয়েসনের কারখানা। তবে ‘ই’ম্পিরিয়াল ব্লু বা তার স্বজাতীয়রা মাঝে মাঝে কিছুমুহুর্তের জন্য জীবন রঙিন করে তুলতো।
ফ্যামিলির সাথে ‘ই’লাস্টিসিটি টা ই কেমন যেন নষ্ট হয়ে গেছিলো। তখনও গ্রামের বাড়িতে ‘ই’লেকট্রিক আসেনি। সন্ধ্যায় ‘ই’মনকল্যান রাগ, ভোরে ভৈরবী। সন্ধ্যা নামলেই পৈতৃক ‘ই’মারত হানাবাড়ির মত ‘ই’ন্দ্রালোকে থমথম করে। আধবুড়ো বাপ-মা ছারা আর কেও থাকতো না যে। বাড়ি থেকে কেও খোঁজও নিত না, ‘ই’য়াদ ছিলো কিনা তাই বা কে বলতে পারে! তবে সেই নজরুলগীতির ‘ই’রানীর বালিকার খোঁজ কিন্তু অব্যাহত ছিল, ‘ই’শক এর মায়াজালে কোন ইশানী বা ইশিকা ধরা দেয় তারই অনন্ত প্রতীক্ষায়। ‘ই’তিমধ্যে জঙ্গীব্যাবসা ফুলেফেপে উঠেছে, সন্ত্রাসী, ‘ই’সলাম, ‘ই’হুদী, খ্রিষ্টান হিন্দুত্বের চরম ধ্বজা পৎপৎ করে উড়ে চলেছে, নিচে উলুখাগড়ার দল পিষে মরছে। ‘ই’রাক থেকে ‘ই’উএসএ হরেক ই দের দাপাদাপি শুরু হলো। মুক্তমনা হয়ে বলিতে গেলেই ‘ই’বলিসের খাতায় নাম উঠে যাওয়ার ভয়। সাহষ না থাক, ‘ই’ডিওলজি তো ছিলো। তাই এ সব দেখে সকলসময় ই মনটা ‘ই’ষদুষ্ণ থাকতো, আর ভারাক্রান্তও, সোশ্যাল ‘ই’লনেস যাকে বলে আর কি।
মান্ধের জোরে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করে, পড়াশোনার পাঠ সেই যাত্রায় শেষ হল, এবার রুজীর ধান্দা... করতেই হতো। অগতির গতি সেই ব্যাওসা... এখানে জানলাম হ্যাপ্পি নিউ ‘ই’য়ার এর আগের দিনই শুধু ‘ই’য়ার এণ্ডিং হয় না, মাঝপথে বা ৩১শে মার্চ ও ওটা হয়। নগদ আমদানির সাথে সাথেই জীবনের মোড় ঘুরে গেলো, আগামির জন্য এই প্রথম একটা ‘ই’স্তিহার বানালাম। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার। সেই প্রথম প্রতি ‘ই’ঞ্চির মাপ নেওয়া শুরু করলাম। প্রেমে ব্যার্থতার পুরাতন ‘ই’য়াদে কিছু রিনরিনে ব্যাথাটা জারি রেখেছিল।
নতুন ‘ই’ষ্টমন্ত্রে দীক্ষিত হলাম। ইহলোকে শুধু সেই স্বপ্নচারিনীর খোঁজ জারি থাকলো। কালক্রমে ভুল হলো, সেখান থেকে মামলা, পুলিস, ‘ই’ন্সপেক্টরের আনাগোনা বাড়লো জীবনে। কিছুকাল পরেই ‘ই’প্সিত কন্যের খোঁজ পেলাম, সুদুর কল-‘ই’ঙ্গে, ‘ই’গলু বানাবার সাধ পেয়ে বসলো। শুরুহলো মেলামেশা, অনেকেই ‘ই’র্ষান্বিত হলো। তবে ‘ই’তনি খুশী আজ তক মজে নেহি মিলা গোছের ভাব, পার্টনারের গোবিন্দার মত পোঁটা মুছে। ইহজগতের বাকি সকলকিছুকেই ‘ই’গনোর করা শুরু হলো।
এর পর সেই সামাজিক বিপ্লবের ছোঁয়া আমাদের দেশেও এলো, মানে ছিলোই সেটা, আরো সহজলভ্য হলো। দৈনন্দিন জীবনে ‘ই’ন্টারনেটের আগমন ঘটলো কিছুকালের মধ্যেই জীবন সম্পূর্ন অন্যখাতে বইতে শুরু হলো।
এটা শুধু মাত্র আমার লা’ই’ফের ঘটনা নয়, সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে নিলেই দেখাযাবে প্রায় সকলেরই একই রকম। তাছারা সকলেই এখন ই এই বুঁদ... সেটা ই-টেন্ডার থেকে ই-লার্নিং, ই-গভর্নেন্স থেকে মাট-ই উৎসব, সে ইডি হোক বা ইবোলা, ইয়াকুব মেমন থেকে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, ইসলামিক স্টেট ইরাক থেকে ইন্দ্রানী বরা। গোটা জীবনটাই ই ময় হয়ে গেছে। এখন সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে ইন্টারনেট...
এই আপাতত ই নামা।
~ইতি
ইন্মাদ হার্মাদ
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫
একটা বর্ষাকালীন ছ্যাঁচোর...
সেদিন, যখন আকাশ ভেঙ্গে বর্ষারা এসেছিলো
তুমি তো তোমার সমস্ত আগল উন্মুক্ত করে;
একা একাই ভিজেছিলে, উন্মাদিনীর মত...
অনাবৃত বেহায়ার মত, শিক্ত তনুপট ভরে।
আজি, পরিমন্ডলে অসিত নীরদ, ঘনঘরঘটা
কুজ্ঝটিকা পরিপূর্ন, দূর সীমান্তে দুযতির রেখা,
অঁজিষ্ণু আজি বড় অসহায়, লজ্জাতে মুখ ঢেকে,
এর দায় কি তুমি নেবে না আজ!! নিয়তির লেখা?
কল্পলোকের অধিবাসীনি তুমি, অনুভুতির অস্থিপিঞ্জর
ব্যাক্ততাতেই কি প্রেমসম্পাত? নির্ঝরের আবেগ...
নিস্বনতার স্বরসঙ্ঘাতে আমি অসন্ধিত-উৎপাটিত-বিভক্ত
কতটা আমাকে সহ্য করিতে পারো? সরায়ে অস্মিতার মেঘ।
23/06/2015
ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন
ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...







