শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

লন্ডলে পিসি


 

পিসি কোলকাতাকে লন্ডন বানিয়েছেন।

লন্ডন কি পিসিকে রানী বানাতে পারেনা, কি কমতি আছে পিসির মধ্যে? দরকারে আমরা দেবাংশুকে বাকিংহাম প্যালেসের সামনের গেটে শুয়ে দেব‘কিং অফ আর্মস’ কুণালদা মুখপাত্র আর ডি জুরে গ্রিমাল্ডি পাত্তোতা - না, পাত্তোদা খারাপ লোক।

আজ বাংলার যুবরাজ কাল ব্রিটেনের যুবরাজ, রয়্যাল হাইনেস দ্য প্রিন্স, মহামহিমসোনাবৌদির নামের আগে "ডয়েচ অফ কর্ণওয়েল এন্ড কেমব্রিজ"। আহা, রঞ্জু পিসে বেঁচে থাকলে রাজা হতেন, ভাবলেই শিহরিত হচ্ছিডিউক অফ ওয়েলিংটনের হাউস অফ লর্ডস, ব্যারন সৌকত রথসচাইল্ড মোল্লা। লর্ড বালু, মার্কেস মদনা, নাইট কেষ্টা, কাউন্ট ববি, আর্ল অরুপ সকলেই Royal Family র সদস্য, স্যার উপাধি পেয়ে- একেকজন এক একেকটা কমনওয়েলথ রাষ্ট্রের তোলাধিপতি।

নতুন ইতিহাসে জানবো টাইটানিকের প্রথম যাত্রী ছিলেন মিস পিসি ব্যানার্জী, যাকে দেখে রবার্ট ব্রুশ অনুপ্রেরণা পেয়েছিল। এটাও জানবেন, নিউটনকে কে আপেল গাছের নিচে ঠিক ঐ দিন পাঠিয়েছিল ও কেন!

ডারউইন থেকে হকিং, লেনন থেকে ফ্যারাডে হয়ে চার্চিল- সকলকেই তিনি মঞ্চের উপরে প্যারেড করিয়ে লণ্ডবিভুষণ দেবেন, লণ্ডশ্রী দেবেন, সাথে একটা করে সবুজ সাথীর সাইকেল

ভাবুন দেখি, এমন সব কি হতে পারেনা?

🔷 ম্যাঞ্চেস্টারের চপ শিল্প। ‘ফিস এন্ড চিপস’ এ হ্যাডক মাছের চপ।

🔷 লর্ডসের মাঠে পাত পেরে ডিম্ভাত সহ ২১শে জুলাই উদযাপন। একটা টার্কির ডিমে ১০ জন তোলামূলের বরাদ্দ।

🔷 অক্সফোর্ডের চ্যান্সেলর পদে বৈশাখী। পুরো পুদিচ্চেরী।

🔷 MI6 এর শীর্ষে রাজীব কুমার

🔷 দেব্দা 007 এর ভূমিকাতে

🔷 বাফটার চেয়ারম্যান রাজ চক্কোত্তি

🔷 ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মাথায় কাকপ্রশন্ন

🔷 ব্রিটিশদের দুয়ারে সরকার

🔷 মেম সাহেবদের মাসে ৫০০ স্টারলিং

সবচেয়ে বড় কথা- পেঙ্গুইন ও হার্পার কলিন্স বেচবে পিসির লেখা - Julies Mukul, Gublet, K'Khelo! Merchants of the Birbhum, A Kalighat'D Dreams, Joshio & Nusrothet এর মত কালজয়ী নাটক উপন্যাস। নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছি মাইরি। সদবি আর ক্রিষ্টির মাঝে অশান্তি বাঁধবে পিসির আঁকা ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্রের মত ধুতরো থুরি কুমড়ো, ধুর - ধুমরো ফুলের স্বত্ত্ব আসলে কার!

স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ভর্তি সিভিক ভলেন্টিয়ারনীলসাদা স্কারলেট টিউনিক পরিহিত রয়্যাল সিভিক গার্ডেরা ডাম্পারে চড়ে গার্ডও অনার দেবে পিসিকে পিসির পরনে তখন ব্যারিষ্টারের কালো গাউন, আহারয়্যাল সোস্যাইটির প্রফেসারেরা মিডডে মিল দেবেকেমব্রিজের পরিচালন সমিতির মাথায় আরাবুল

ব্রিটিশ চ্যানেলের নাম বদলে হবে উন্নয়ন চ্যানেল, এখান দিয়েই অর্জুন, বাবুলরা নিয়মিত যাতায়াত করবেএদিকে নাগপুর হেব্বি খুশি, তাদের পিতৃপুরুষের ভিটেতে তাদেরই প্রোডাক্ট অধিষ্ঠান করছে। ‘মুচলেকার রক্ত, হয়নিকো ব্যর্থ- স্লোগানে ভরে উঠবে ক্রানবেরী স্ট্রিট, ব্রিক লেন, ডাউনিং স্ট্রিটে

বেকার স্ট্রিটের নাম বদলে হবে কোনান ডয়েল ধরনী

ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবার পুনর্জীবন লাভ করবে, ব্রিটিশরা উপনিবেশিক উপমহাদেশের রাজধানী করেছিল কোলকাতাকে, আর কোলকাতার চটিপিসি ওয়েষ্টমিনিস্টারকে ভবন বানিয়ে চরম 'পোতিসোদ' নেবে। ‘ লোগো দিয়ে ব্রিটিশ এম্পায়ার বোঝানো হবে, ইউনিয়ন জ্যাকে রেড ক্রশের বদলে ব আঁকা থাকবে।

ব্রিটিশ ভূমে MSN (মাইক্রোসফট নয়), Mom, Soil & Neanderthal গরমেন্ট রচিত হবে। হ্যাঁ, খাঁটি সায়েব সুবোরাও ব্যাগপাইপের সুরে সুরে ছন্দ মিলিয়ে গাইবে- "বোণ্ডু এবা কেলা ওবে"

হাইগেট সিমেন্ট্রিতে মার্ক্সের সমাধী, অর্থাৎ লণ্ডনে 'সিপিএন' আচে। খেলা হবেই।

ইয়ে, কিছু বাদ গেলে বা জুড়তে হলে কমেন্টে লিখে দিও। ভাটাঙশু পড়ে নিয়ে পিসিকে শুনিয়ে দেবে

 


রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

KiD- BabY- ChilD নিয়ে চাইল্ডিস অভিজ্ঞতা


 

বিধিসম্মত সতর্কীকরণঃ এটা সমাজের একটা অংশের বিরুদ্ধে খাপ বসানো, যাতে সন্দেহের অবকাশ নেই 

মাঝে মাঝে বড্ড আত্মশ্লাঘায় ভুগি আমাদের এই জাতিটার জন্য, হলোটা কি আমাদের!

ভ্রমণ শিল্পের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে ভারতের প্রায় প্রতিটা প্রদেশের মানুষেরই সাথেই প্রতক্ষ্যভাবে যোগাযোগের সুযোগ নিয়মিতভাবে ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, এবং ইংল্যান্ড সহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের নাগরিকদের সাথেও আলাপচারিতা হয় নিয়মিত অবসরে

হলফ করে বলতে পারি- ধাপ্পাবাজি করা, কীভাবে ফাঁকি দিয়ে আর্থিক লাভবান হবো, কীভাবে তথ্য গোপন করে ‘বিনা মাশুল’ এর অনৈতিক মুনাফা নেবো- এই মানসিকতা সবচেয়ে বেশী ভারতীয় বাঙালীদের মধ্যে, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে- গোটা মধ্যবিত্ত সমাজের মহিলাদের মধ্যে। অবশ্য এটার জন্য আমার এই পোষ্ট দিয়ে সেটা প্রমান করার কিছু নেই- ৫০০ টাকার লক্ষীর ভান্ডারের জন্য যে জাতি হত্যে দিয়ে লাইনে পরে থাকাতে পারে, তারা এই চিটিংবাজি করবেনা তো কারা করবে। বিনামূল্যে পাওয়াটা তো জন্মগত অধিকার ভেবে নিয়েছেন অনেকেই

সস্তার জন্য দর কষাকষি করাটা অন্যায় নয় বরং এটা উপভোক্তার অধিকার। বাজেট অনুযায়ী গোটা ভ্রমণকে একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনা দিতে- দামদস্তুর করাটা অতি স্বাভাবিক বিষয়। আমরা সারাদিনে যে পরিমান ফোন বা মেসেজ পায়- তার ৩০%ও যদি ফাইনাল হয়, আমাদের রেভিনিউ তাজ হোটেল গোষ্ঠীকেও ছাপিয়ে যাবে, আমাদের সাফল্যের হার মাত্র ৩-৪ % কখনও একটু বেশী, অত্যন্ত সফল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সেটা কখনই ১০% এর উপরে নয়। আর এটাই স্বাভাবিক।

গ্রাহক দামদড় জিজ্ঞাসাবাদ করবেই, তার পোষালে বা পছন্দ হলে, ভরসা পেলে তিনি নেবে না হলে নেবেনা। আমি দোকান খুলে বসে আছি মানে দাম বলতে বাধ্য, এটাই ন্যায্য অনুশীলন। এখানে বিরক্তি বা অধৈর্য্যের নুন্যতম জাইগা নেই। তাবলে কেউ চালাকি করে অন্যায্য লাভ পেতে গেলে তাকে সমুচিত জবাব দেওয়াও ন্যায্য অনুশীলনেরই অঙ্গ বলে আমি বিশ্বাস করি

সম্প্রতি এক ভদ্রমহিলা নিজেকে একটা স্কুলের শিক্ষিকা হিসাবে পরিচয় দিয়ে- শুরু থেকেই ফোনে হিন্দিতে কথা বলছিলেন, যদিও আমি বাংলাতেই কথোপকথন চালিয়ে গেছি, উনার হিন্দি কষ্ট করে উচ্চারিত বাংলা উচ্চারণশৈলী যুক্ত, তবুও হিন্দিতেই চালিয়েই গেলেআত্মবিশ্বাসের সাথে। মেসেজেও প্রথমে হিন্দি ও পরে ইংরেজি ও তারও পরে রোমান হরফে বাংরেজিতে আলাপচারিতা চালিয়ে গেলেন।

ওনারা মোট কতজন আছে উনি কিছুতেই বলবেননা, শুধু ওনার ডাবল এ্যাকোমোডেশন বেডরুম হলেই হবে সেটাই জানালেন ফোনে বা মেসেজে লিখিত

সমস্যা হয়- বাচ্চাদের বয়স না জানলে খাটে হবে কিনা সেটা নিয়ে; শীতের দেশ- এক্সট্রা বালিশ - কুইল্টের বিষয় আছে। খাবার দাবারের পরিমানের বিষয় আছে। পাহাড়ে জল কেনা, তার খরচা আছে। সুতরাং সাথে বাচ্চা আছে কিনা বা থাকলে কত বছর বয়সের সেটা জানা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক

বড়দের থেকে বাচ্চাদের নিয়ে ঝামেলা সবচেয়ে বেশী, এটা আমাদের মত হোটেলিয়ার বা ট্রাভেল কোম্পানি চালানো মানুষেরা কমবেশী সকলেই জানি। বাচ্চা বলে তো আর তাকে ডিম বা মাছের পিস কেটে আর্ধেক দেওয়া যানা, মাংসও ১ পিস দেওয়া যাবেনা। বাচ্চা খায় কম নষ্ট করে বেশী, প্রসঙ্গত- আজকালকার বাবা মায়েরা কখনও আক্ষেপ করেনা বাচ্চার দরুন নষ্ট হওয়া খাবারের জন্য।

প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বাচ্চাদের পরিষেবা বেশী দিতে হয়। গরম জল দাও বারে বারে, প্রেসারকুকারে গলানো খাবার দাও, ঝাল ছাড়া তরকারী দাও ইত্যাদি সহ নানান গল্পকাহিনী থাকে। এগুলো করতে তো খরচা লাগে, কিন্তু অধিকাংশ বাঙলী বাবা মা বাচ্চার খাবারকে হিসাবেই ধরেনা- ও তো আমাদের পাতেই খেয়ে নেবে। আমরা পালটা শুধাতে পারিনা- ঐ পাতে খেয়ে নেবার খাবারের দামটা তাহলে দেবেননা? কিম্বা বাচ্চার জন্য গাড়িতে সিট দরকার, কোলে কেউ আনেনা বা সেটা সম্ভবও নয়- কিন্তু তার জন্য অর্থব্যয় করতে নারাজ

এছাড়াও, রুমের বিছানায় খাবার ফেলে বিছানা বালিস কম্বল নষ্ট করা, অর্ধেক সময় যা আর ব্যবহারের যোগ্য থাকেনা, হলুদের ছোপ পরে যায়। বমি বা পায়খানা করা, রুমে দেওয়ালে আঁকিবুঁকি, পর্দা ছেঁড়া, বাথরুমের কল নষ্ট করা, বেসিনে বমি করে নালি বন্ধ করা, কমোডে ন্যাপকিন ফেলে পয়ঃপ্রনালী জ্যাম করা নিত্য দিনের ঘটনা। টিভি বা ইলেকট্রনিক গেজেট নষ্ট এগুলো আছেই

তাবলে কী বাচ্চা আসবেনা? অবশ্যই আসবে, সবটা নিয়েই তো একটা ফ্যামিলি। বাচ্চা আমার আপনার প্রতিজনের ঘরেই আছে। বাচ্চার জন্য পরিষেবা সবটা নেবো, শুধু তার জন্য কোনো অর্থ খরচা করবোনা- এটা নিকৃষ্ট ধরণের নোংরামি। আমার বাচ্চা ক্ষয়ক্ষতি করলে সেটা আমাকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, আমার বাচ্চা কেন হোটেলওয়ালার টাকায় খাবে?

অথচ এই টুরিষ্টরা রেলকে বা বিমান কোম্পানিকে কেউ শুধায়না ১ বছরের বাচ্চার জন্য কেন টিকিট নেবেন? চকোলেটের দোকানে বা দুধের দোকানে কেউ বাহানা জোড়েনা- এ তো বাচ্চা খাবে, কেন দাম নেবেন! বাচ্চা বাড়িতে বাবামায়ের পাতে যে খাবারটা খায়, সেই চাল, ডাল, আটা, সব্জি বা মাংসটা কী দোকানদার ফ্রিতে দিয়েছিলো বাচ্চার জন্য? স্কুলবাসের সিটের জন্য কিন্তু এনারাই পুরো পয়সা দেয়, সেখানে বলেনা- বাচ্চার বসার জাইগার জন্য আবার পয়সা নেবেন? বাচ্চার জামাকাপর কী কেউ ফ্রিতে দেয় বাচ্চার বাপমায়ের কাপ কিনলে?

এরাই ঘুরতে এলে যেনতেন প্রকারে বাচ্চাটার ভ্রমণের জন্য পয়সা না দেবার- সব ধরনের অপচেষ্টা করবেই, সেটা যত নিকৃষ্টই হোকনা কেন; কিছু সফল হয়, অধিকাংশ হয়না। কিন্তু চেষ্টার ঘাটতি থাকেনা মধ্যবিত্ত বাঙালী মায়ের। ভাবখানা এমন- যেন বাচ্চাটার যাবতীয় আর্থিক দায়ভার হোটেলের বা ট্রাভেল এজেন্সিরকিম্বা আমরা বেড়াতে এসে হোটেলিয়ার বা ট্রাভেল এজেন্সির উপরে দয়া করেছি, তাই বাচ্চার কোনো দায়িত্ব আর অভিভাবকের নয়।

কিছুজন অসাধারণ নির্লিপ্ততা সহ আশ্চর্যের সপ্তমাকাশে চড়ে বিহ্বল হয়ে শুধান- বাচ্চার খরচাও লাগবে? আচ্ছা, আমাকে বলুন- বাচ্চাটাকে দুনিয়াতে আনা ইস্তক আপনার ব্যয় রোজই বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। দৈনন্দিন জীবনে কোনটা ফ্রিতে পান বাচ্চার অজুহাতে? কোথায় তার জন্য খরচা লাগেনা, যে ভ্রমণে গেলে ট্রাভেল এজেন্ট বা হোটেলওয়ালা বাচ্চার খরচের কথা বললে- আকাশ থেকে পরেন? অবশ্য হাতে বাটি নিয়ে অনেকেই বাচ্চার অজুহাতে মাধুকরীবৃত্তি করে- সেটা হলে আলাদা

সত্য বলতে ৯৯% হোটেলিয়ার ৪-৫ বছরের বাচ্চার কোনো খরচা নেয়না, কিন্তু ৬ বছরের উপরে গেলে খাবারের দরুন একটা খরচা যোগ করে যেটা একটা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অর্ধেক খরচা বা তারও কম। তবে ৯-১০ বছরের বা তার বেশী হলে খাবারের খরচা পুরোটাই লাগে, ১২ বছরের বাচ্চার জন্য লজিং এর খরচাও লাগে বৈকি।

উপরোক্ত ভদ্রমহিলা মোনোভাবেই বলবেননা কতজন আছেন। শেষে আমি আর এন্টারটেইন না করাতে উনি বললেন হাজব্যান্ড ওয়াইফ এন্ড কিড। কজন কিড আর কতবছরের কিড সেটাও বলবেননা- প্রায় ৭ দিন পর জানালেন। ১৫ বছরের কিড। মেসেজ করতেই পুরো সত্যটা জানা গেল, ৩টে বাচ্চার মধ্যে ১টি পূর্ণ এডাল্ট ও ২ জনের জন্য আধা-আধা করে একজন পূর্ণ বয়সের খরচা যুক্ত হবে। অর্থাৎ ২ জনের ৫-৬ দিনের খরচা মোটামুটি ১-২০ হাজারের কমে হবেনা কোনোভাবেই। সেটাকেই ইনি চেপে গিয়ে বুকিং করতে চেষ্ট ছিলেন।

বাইচান্স এমন নোংরা গেষ্ট চলে এলে কী হয়? এনারা আসা ইস্তক সপ্তম মুডে থাকে, মানে অফেন্স ইজ দ্য বেষ্ট ডিফেন্স। হোটেলিয়ার কিছু বলবে কি, গেষ্ট শুরুটাই এমন রেঞ্জে করে- যেন মধ্যযুগীয় ক্রীতদাসদের উপরে জমিদারের আচরণ। মোদ্দা কথা- বাচ্চাদের লুকিয়ে যাওয়াটা যেন কথোপকথনের মধ্যেই না আসে চেক-আউটের আগে অবধি

হোটেল ওয়ালারাও বদমায়েশি শুরু করে, নিম্নমানের রুম দেয়, খাবারের মান কমিয়ে দেয়। মানে টুরিস্ট ৪ জনের হিসাবে পেমেন্ট করেছেন বা করবেন, কিন্তু ৪ জনের বদলে ৬ জনে খাবে। স্বভাবতই ৪ জনের জন্য প্রদেয় অর্থতেই ৬ জনের জন্য বানিয়ে দেওয়া হয়, তাতে যেমনটা হওয়া উচিৎ তেমনই হবে পরিমান ও মানের নিরিখে

আর তখনই আসে- আমি কেন ছবিতে দেখানো রুম পেলামনা? কেন প্রতিশ্রুতি মত পরিষেবা পেলামনা! অথচ এরা কোথাও উল্লেখ করবেনা, ৬ জন বলে আন্ডা বাচ্চা সহ ১১ জন হাজির হয়েছি। অনেকে আবার পার্সোনাল ড্রাইভার বা বাচ্চাধরার জন্য maid নিয়ে আসেন, যাদের উপস্থিতি একমাত্র জানা যায়- এসে পৌছাবার পর। এদের জন্যও গেষ্ট কোনো ধরনের অর্থ দিতে রাজী থাকেনা সিংহভাগ ক্ষেত্রে

সুতরাং, অবধারিত একটা ক্যাঁচালময় পরিস্থিতি উদ্ভুত হয়। হোলেটিয়ার কেন সে থাকা খাওয়ার দাম ছাড়বে ২ জনের, এরাও দেবেনা। অনেক ক্ষেত্রেই থানা পুলিশে দৌড়ায়

এবারে এনারা ঘরে ফিরে, সোস্যালমিডিয়াতে ইয়া লম্বা লম্বা পোষ্ট দিয়ে হোটেল, গাড়ি বা ট্রাভেল এজেন্টের নামে খাপ বসিয়ে বিকৃতকাম মস্তিষ্ককে আরেকটু পুষ্টি দেয়

আবারও বলি, বাঙালী ছাড়া এই রোগ অন্য প্রদেশের গরীবস্য গরীবদের মাঝে যেটা দেখা যায়, সেটা শতাংশের বিচারে ১ অঙ্কেই থাকে

আফশোস হয়- পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীর এই অংশটার জন্য

 

মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

চে


উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা।


এক জীবন থেকে অন্য জীবনে অথবা এক জীবনেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে। যে সমাজে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নেই, সে সমাজ স্থবির, বদ্ধ ডোবার মতো। তাই বিপ্লবীর প্রথম কাজই হলো জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলা। তারপর তাঁদের শিক্ষিত করে তোলা আর শিক্ষার প্রথম সোপান হলো স্বাধিকারচেতনা। তাঁদের শেখাতে হবে শ্রম, পুঁজি, কারখানা, যন্ত্র, মেশিন, বাজার, সমাজ, রাষ্ট্র ইত্যাদি সব। কার্ল মার্ক্সের ভাষায়, শেখাতে হবে, পুঁজি হলো ঘনীভূত শ্রম। অতএব, উদ্বৃত্ত মূল্যে কার কী অবদান, বোঝাতে হবে সেই রহস্য। ব্যক্তিমালিকানায় শ্রমিক মালিক কর্তৃক কীভাবে শোষণের শিকার হন, শেখাতে হবে এ তত্ত্ব। এ তত্ত্ব, এ জ্ঞান হলো স্বাধিকারচেতনার ভিত্তি।

এ পৃথিবীতে দেশে দেশে একদা বিপ্লব হয়েছিল। রাশিয়া থেকে শুরু করে কিউবা, পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ, চীন, পূর্ব জার্মানি, উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা ইত্যাদি অনেক দেশ ছিল এ বিপ্লবের তালিকায়। কিন্তু আজ আর তেমন অবশিষ্ট নেই। কোথাও পুরোপুরি বিদায়, কোথাওবা টিকে আছে বিকৃতরূপে। কেন অবশিষ্ট নেই, এর জবাব আমরা কীভাবে দেব? বিপ্লবের অর্থ যদি হয় মনোজাগতিক পরিবর্তন, তাহলে এই মনোজাগতিক পরিবর্তনই ঘটেনি কোথাও। এই হলো সারসংক্ষেপ, এই হলো উপসংহার।

একজন বিপ্লবীর প্রতিকৃতি যদি আমরা স্মরণ করার চেষ্টা করি, তাহলে প্রথম কমিউনিস্ট দেশ রাশিয়ার বিপ্লবের মহান নায়ক লেনিনের চেয়েও যে নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন চে গুয়েভারা; যিনি রোমান্টিক বিপ্লবী হিসেবে খ্যাত। কারণ, দেশে দেশে চে গুয়েভারার ছবিখচিত টুপি আর টি-শার্ট পরে তরুণেরা আজও ঘুরে বেড়ান, ঘরের মধ্যে আজও তাঁরা চের ছবি টাঙান। একটা কথা প্রায়ই বলা হয়: যৌবনে অন্তত একবার চে গুয়েভারা হতে চাননি, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, যৌবন হলো সেই কাল, যখন মানুষ সাম্যের চেতনায় উজ্জীবিত, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না, যুদ্ধে যান, বিপ্লব নিয়ে ঘরে ফেরেন।

চের জন্ম আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ১৯২৮ সালের ১৪ জুন। বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল সায়েন্সে পাস করার পরপরই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন চে, প্রথমে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায়, তারপর পাশের দেশ বলিভিয়া ও গুয়াতেমালায়। ১৯৫৫ সালের কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে মেক্সিকোতে দেখা হয়ে যায় ফিদেল কাস্ত্রো আর তাঁর ভাই রাউলের সঙ্গে। চে যুক্ত হয়ে যান কিউবার স্বৈরশাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে সংঘটিত ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সর্বাত্মক যুদ্ধ ও সংগ্রামে। তিনি কাস্ত্রোর সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন ও গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লব সফল হলে কাস্ত্রোর সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন চে। কিউবার ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জায়গায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

১৯৬১ সালের ৮ আগস্ট উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত ইন্টার-আমেরিকান ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের মিনিস্টেরিয়াল অধিবেশনে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন চে। সেখানে তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দেশে দেশে কীভাবে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করেছে, তার একটি দীর্ঘ বিবরণ পেশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে তিনটি পথ খোলা আছে: আমরা যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি; সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি সর্বাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে পারি অথবা নিজ নিজ দেশে জেঁকে বসা কায়েমি শত্রুর বিরুদ্ধে তাদের হাতিয়ার কেড়ে নিয়ে শোষণযন্ত্র গুঁড়িয়ে দিতে পারি, কিউবা যে পথ একবার বেছে নিয়েছিল।’

১৯৬৪ সালের ১১ ডিসেম্বর চে গুয়েভারা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এ ভাষণেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে দেশের আকৃতি, রাষ্ট্রের শক্তি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থানির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অসম্ভব করে তুলছে। তিনি বলেন, শান্তি শুধু শক্তিধর রাষ্ট্রেরই প্রাপ্য নয়, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ জীবন সব দেশের, সব নাগরিকেরই প্রাপ্য। তিনি পরিষ্কার জানান, ‘আমরা মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট আদর্শের আলোকে সমাজতন্ত্র নির্মাণ করতে চাই, কিন্তু একই সঙ্গে আমরা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে শামিল।

কারণ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আমরা শান্তি চাই, জনগণের জন্য উন্নত জীবন চাই। মার্কিনরা চায় আমরা তাদের উসকানিতে পা দিই, যাতে আমাদের শান্তির জন্য অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়। আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে এই মূল্য আত্মমর্যাদার সীমা অতিক্রম করতে পারে না।’ গুয়েভারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিজ ভূখণ্ডে সমরাস্ত্র সংররক্ষণ করার অধিকার কিউবার আছে এবং নিজের ভূখণ্ড, জল-স্থল ও আকাশ রক্ষা করতে কোনো শক্তির কাছে কিউবা নতিস্বীকার করবে না, তা সে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন।’

কিউবাতে অনেক সম্মানের সঙ্গে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে একটি নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপন করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন চে। কিন্তু মানুষের মুক্তির জন্য পৃথিবীব্যাপী একটি অখণ্ড কমিউনিস্ট ব্যবস্থা নির্মাণের ডাক শুনতে পেয়েছিলেন এই মহান বিপ্লবী। লেনিনবাদ তাঁকে শিখিয়েছে, কমিউনিস্ট ব্যবস্থা যদি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত না হয়, এ ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। বিপ্লব সংগঠিত করার জন্য কিউবা থেকে তাই তিনি চলে যান মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো, তারপর বলিভিয়া। কিউবাতে রেখে যান স্ত্রী হিল্ডা ও পাঁচ সন্তানকে। বলিভিয়ার গহীন অরণ্যে তিনি আস্তানা গাড়েন সহযোদ্ধাদের নিয়ে, সিআইএর মদদপুষ্ট বলিভিয়ান সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে।

কিন্তু একসময় ধরা পড়ে যান চে বলিভিয়ান আর্মির কাছে। গুলি করতে উদ্যত সৈনিককে চিৎকার করে চে বলেন, ‘আমি চে গুয়েভারা। দাঁড়াও! গুলি কোরো না! মৃত চের চেয়ে জীবিত চে অনেক বেশি মূল্যবান তোমাদের কাছে।’ মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে এক সৈনিক যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি তোমার অমরত্বের কথা ভাবছ?’ উত্তরে চে বললেন, ‘না। আমি বিপ্লবের অমরত্বের কথা ভাবছি।’ এখানেই চের বিশেষত্ব। চে মনে করতেন, বিপ্লবীকে হত্যা করা যায়, কিন্তু বিপ্লবকে কখনো নয়। বিপ্লবীকে হত্যা করলেও বিপ্লবের সুফল ঠিকই থেকে যায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ৯ অক্টোবর এই মহান বিপ্লবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে মানবতার শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসররা। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে অবসান ঘটে চে গুয়েভারার বর্ণাঢ্য জীবনের!

চে গুয়েভারা চেয়েছিলেন একটি বহুমাত্রিক পরিপূর্ণ জীবন। জীবনকে পূর্ণ করার কী বিস্ময়কর আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর! চে গুয়েভারাকে হত্যার প্রায় ৩০ বছর পর যখন বলিভিয়ার জঙ্গলে তাঁর মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেল, দেখা গেল, তাঁর জামার এক পকেটে পাবলো নেরুদার কবিতার বই, আরেক পকেটে ‘প্রবলেমস অব ম্যাথমেটিকস’ বইটি।

কত যে গান, কবিতা, নাটক, সিনেমা নির্মিত হয়েছে চের জীবন নিয়ে, তার ইয়ত্তা নেই। বাঙালি কবি সুনীল গঙ্গোপাধায় লিখেছেন, ‘চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।’ চে নিজেও কবিতা লিখতেন। ফিদেল কাস্ত্রোকে নিয়ে লেখা কবিতাটিই সম্ভবত চের সেরা কবিতা, যে কবিতা শুধুই স্বপ্নের কথা বলে, জীবনের জয়গান করে, এই মাটির পৃথিবীতে সবার জন্য একটি দারিদ্র্যহীন, ক্ষুধাহীন জীবন ও অপার সম্ভাবনার ডাক দেয়:

‘ফিদেল, তুমি বলেছিলে সূর্যোদয় হবে।’

আর আমরা আজ একবিংশে দাঁড়িয়ে বলি: কিন্তু কোথায় সূর্য? হতাশা আমাদের ঘিরে ধরে, অন্ধকার ধেয়ে আসে। তারপরও বেঁচে থাকার প্রেরণাটা আমরা বিপ্লবের চেতনা ও বিপ্লবীর জীবন থেকেই পাই। আবার স্বপ্ন দেখি। চে–ও এভাবে বেঁচে থাকেন আমাদের সেই স্বপ্নে, গল্পে, গানে, কবিতায়...।

লেখকদ্বয়ঃ

ড. এন এন তরুণঃ - রাশিয়ার সাইবেরিয়ান ফেডারেল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির ভিজিটিং প্রফেসর।

ড. শুভ বসুঃ- কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতে সাউথ এশিয়ান হিস্ট্রির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২

হাঁসখালি



মাতৃত্বের মর্ম উপলব্ধি করতে হলে 'মা' হতে হয়, যাত্রা পার্টির সং সাজা হিংস্র বর্বর চোর-খুনি-ধর্ষকদের দিয়ে তৈরি মামা-টিমা-নুষ নয়।


একটিই প্রশ্ন- আমার আপনার মেয়েরা সুরক্ষিত তো এই বাঁ'জা সর্বখাকীর রাজত্বে!

প্রতিটি বেশ্যালয়ে একটা একটা মাসি থাকে যে নতুন আসা বা 'শিকার' মেয়েদের জবরদস্তি ট্রেনিং দেয়। সুতরাং মহিলার হাতেই মহিলারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের রাজ্যটার অবস্থাও তাই। ওখানে মাসী নামের এক দালাল থাকে, রাজ্যের সমস্ত মাতাল লম্পট খুনী চোর ডাকাত ছ্যাচোর ছিনতাইকারী ধর্ষক গুণ্ডা পোষা থাকে সে মাসীর অন্ধকারের 'বেশ্যালয়' ব্যবসা চালাতে- আমাদের রাজ্যে পিসি নাম নিয়ে আছে সেই 'মাসী'।

আসলে সুশীল সমাজ বলে আর কিছু নেই, কিছু চামচা শ্রেনীর নির্কষ্মা অসভ্য নিকৃষ্ট ধান্দাবাজ ইতরকে 'ভাড়াটে' বুদ্ধিজীবী সাজিয়ে রেখেছে 'পতিতা' সংবাদমাধ্যম।

আমাদের নিজেদেরই চামড়া মোটা হয়ে গেছে, কোনো তাপউত্তাপ আর ভিতরে পৌঁছায়না, কান থাকতেও শুনিনা, চোখ থাকতেও দেখিনা, বোধ বুদ্ধি সব গাধার গাঁ'ড়ে চলে গেছে। খাচ্ছি, হাগছি, পেলে লাগাচ্ছি, না পেলে জোর করে ধর্ষণ করছি, আর সবাই 'তিনোমুল' করে পেট চালাচ্ছি।

সকালে উঠে হাগা মোতার মতই চুরি-ধর্ষণ-খুন-রাহাজানি-দুর্নীতি অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে, আমরা দারুনভাবে এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি বলেই আমরা মনুষ্যতর ইতর জানোয়ারে রুপান্তরিত হচ্ছি ক্রমশ।

এই সমাজের উপরে অভিশাপ আসুক

ছিঃ 

শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২

বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতার পতন ও উত্থান

 



বর্তমান বিশ্বের চলমান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে যেটা মনে হচ্ছে- গণতন্ত্রের নামে বর্তমানে দেশে দেশে যে প্রহসন চলছে, তার এক মর্মান্তিক অবসান হতে চলেছে অতিশীঘ্র

যারা ইতিহাস জানেনা বা বিস্মৃত- তারা আমাকে পাগল বলতেই পারেন, কিন্তু সত্যটা হলো আধুনিক গণতন্ত্র কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী একটা শাসনব্যবস্থা, যার বয়স মেরেকেটে সর্বোচ্চ ৮০ বছর। এর মাঝে আমরা যাকে গণতন্ত্রের ধ্রুবক হিসাবে মানি সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টা রাজ্যের মধ্যে গত ১০০ বছরে সরকার পরিবর্তন হয়নি এমন রাজ্যের সংখ্যা ৩৬, বুঝে যান কেমন গণতন্ত্রের চাষ হয় সেখানে। এর পর গোটা বিশ্বজুড়ে সামরিক অভ্যুত্থান লেগেই আছে দেশে দেশে

মজা হলো, বিশ্ব পরাশক্তিদের আজ্ঞাবহ দাসানুদাস না হলে আপনি যতই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননা কেন- আপনার সরকারকে ফেলে দেবেই দেবে। এর উদাহরণ নিষ্প্রোয়োজন। আমরা যে সভ্যতার ধ্বজা উড়িয়ে চলছি- সেই ব্রিটেনে আজও রাজতন্ত্র স্বমহিমায় বিরাজমান। তথাকথিত কমিউনিস্ট শাসিত দেশ গুলোতে অন্তত "গণতন্ত্র" ছিল বলে কেউ অন্তত বদনাম দেবেনা, এখানে পলিটব্যুরো তন্ত্র চলে

ইতিহাসে উল্লেখিত প্রাচীন গ্রীক বা রোমে যে গণতন্ত্র ছিল, তার সাথে আজকের দিনে যে সব গণতন্ত্রের প্রাক্টিস হচ্ছে তার সাথে কোনো মিল নেই। এথেনিয়ান গণতন্ত্রের জনক 'ক্লিসথেনিস' এর যে ফান্ডা ছিল তার সাথে আধুনা পশ্চিমা সভ্যতার সৃষ্ট এই গণতন্ত্র আসলে একটা মস্ত বড় ধোঁকা- যা আজকে দেশে দেশে প্রমানিত।

বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতার যে দর্শন, তার জনক এ্যারিস্টটলের "পলিটক্সে" বর্ণিত গণতন্ত্র সম্বন্ধে ধারনা, কিম্বা তাঁর গুরুদ্বয়- প্লেটো ও সক্রেটিস, কিম্বা তারও আগে মেটাফিজিক্স এর জনক ডেমোক্রেটাস- এদের কারোর কথিত গণতন্ত্রের চর্চা আজ কোথাও হয়না।

প্রসঙ্গত বলে রাখি- এই মেটাফিজিক্সের 'মেটা' কে ইউনিভার্সের সাথে জুড়েছিলেন উপন্যাসিক নীল স্টিফেনসন তার কল্পবিজ্ঞান বই "স্নো ক্রাশ" উপন্যাসে। আর আজকের ফেসবুক কর্তা সেখান থেকেই মেটা শব্দটিকে নিয়ে তাদের কোম্পানির নাম রেখেছে। যাই হোক, প্রসঙ্গে ফিরি...

গণতন্ত্রের নামে আজ আমাদের পড়শী দেশ গুলোর হালত দেখুন, শ্রীলঙ্কায় রাজাপক্ষেতন্ত্র, বাংলাদেশে বিরোধী বল্লেই কল্লা কেটে যাবে, পাকিস্তানের মত টয়লেটের কথা নাইবা বললাম। নেপাল তথৈবচ, আফগানিস্তানে তালিবান

আমাদের দেশে?

তীব্র ধর্মীয় মেরুকরন আর লুটেপুটে খাওয়া। বাকিটা বললে দেশদ্রোহী তকমা জুটতে সময় নেবেনা, পদবী দেখে গন্ধবিচার চলছে যখন, বালবাচ্চা আছে ঘরে

রাজ্যে- জনগণ কোথায়! কিছু চোর চাট্টা আর গায়ক নায়ক তাদের বিকল্প কিন্তু নিশ্চিত রোজগারের প্রকল্পে লুঠতরাজ চালাচ্ছে গণতন্ত্রের নামে

গণতন্ত্রের যে মূল পিলার- সেগুলোর প্রতিটা আজ দেশে দেশে ধর্ষিত

১) ফ্রিডম অফ অ্যাসেম্বলি- আপনার ক্ষমতা নেই ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে গিয়ে খুব বেশি সভাসমাবেশ করার। লোক দেখানি কিছু অনুমতি দিলেও সেটাও থাকে কঠোর নজরদারির মধ্যে

২) বাকস্বাধীনতা- সত্য বললেই জেলে চালান ও বিনা বিচারে জীবন শেষ। চাটুকার হও, রাষ্ট্রীয় জামাই সেজে মন্ডা খাও

৩) ভোটের অধিকার- ভোটের নামে যে কি হয়, তা আমাদের পশ্চিমবঙ্গ বাসীর চেয়ে এই তামাশার মর্ম আর কে বেশি জানে

৪) নাগরিকত্ব- সংখ্যালঘু মানেই তাদের খেদাও, এটাই বিশ্বজুড়ে চলছে প্রতিটা গণতান্ত্রিক দেশে, সেটা ভারতে NRC নামে হোক বা বাংলাদেশে মালাউন হত্যা কিম্বা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা- সীমানা বদলালেও অত্যাচারের ভাষা বদল হয়না

৬) সংবাদ মাধ্যম- বিষয়টাই এতোটা হাস্যকর যে এ নিয়ে আর একটা শব্দও যদি লিখি- লেখাটারই গুরুত্ব হারিয়ে যাবে যদি সামান্যতম গুরুত্বও থেকে থাকে

তাহলে ভবিষ্যৎ কি?

ডেমোক্রাটাস, পিথাগোরাস সহ অনেকেই সেকালে নতুন আমদানী "ডেমোক্রেসি" কে একটা মেটা বা কল্পনা বলে বর্ননা করেছিলেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মনে হয়না তারা খুব ভুল ছিলেন। ইয়ে, সেই পিথাগোরাসই, যার উপপাদ্য করেছিলাম। আসল গণতন্ত্র সত্যিই একটা সোনার পাথরবাটি- যাকে নিঃসন্দেহে মেটা বলাই যায়। গণতন্ত্রের নামে দুর্নীতি আর জনগণকে ধোকা দিয়ে শোষণের একটা নতুন পন্থা চলছে সমাজে

আমার মতে ইউক্রেন যুদ্ধর ফলাফল- সভ্যতার এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। যদি ন্যাটো-মার্কিন জোট টিকে যায় তাহলে গণতন্ত্র নাম নিয়ে থাকলেও "ডেমোক্রেসি" শব্দটা আরো কয়েকদশক টিকে থাকবে। কারন মার্কিন সভ্যতার এটাই অন্যতম হাতিয়ার।

আর যদি রাশিয়া জেতে, দীর্ঘমেয়াদি কাল হলেও- সেক্ষেত্রে অটোক্রেসি খুব দ্রুত বিশ্বকে গ্রাস করবে। একদিকে পুতিন অন্য দিকে জিংপিং। এর মাঝে মোদী-মমতারাবতো আছেই যারা একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে গণতন্ত্রের চাদর গায়ে। এর মাঝে প্রযুক্তিগত ভাবে শীর্ষে থাকা ইজরায়েলের লক্ষ্যই "One world order" নামে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।

আমাদের এই তথাকথিত যে ভার্চুয়াল দুনিয়া, এটাও রাতারাতি বদলে যাবে যদি ন্যাটো ভেঙে যায়। মার্কিন আধিপত্যে থাকা সেন্ট্রালাইজড ডাটাবেস যুক্ত ইন্টারনেট পরিসেবার রাতারাতি বিলুপ্তি ঘটবে। ঠিকিই পড়ছেন, আজকের এই গুগুল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট সহ সব বিগ বুল কোম্পানি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে- আর এটা আগামী ৫ বছরের মধ্যেই হয়তবা হতে পারে। তার বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত ওপেনসোর্স ডিসেন্ট্রালাইজড ব্লকচেইন সিস্টেম ইন্টারনেট এর সূচনা হবে

হ্যাঁ সেই ব্লকচেইন- যা দিয়ে ক্রিপ্টোপারেন্সি তৈরি হয়

আসলে কিছুই কাকতালীয় বা সমাপতন নয়, সবটাই একটা বৈশ্বিক প্রোগ্রামিং এর ফসল

তাহলে কি দাঁড়ালো!

খাদের কিনারাতে- ডেমোক্রাসি, সেন্ট্রালাইজড ডেটাসেন্টার যুক্ত ইন্টারনেট যুগ, ডলার ও পশ্চিমা সভ্যতা, সাদা চামড়ার প্রভুত্ব

আগামী পৃথিবী = অটোক্রেসি বা ব্যুরোক্রেসি, AI নির্ভর ব্লকচেইন ওপেনসোর্স ইন্টারনেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও এশিয়ান দাদাগিরি

আপনি কি মনে করেন?


 


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...