কী কী হতে পারত, যা হয়নি
বিখ্যাত দার্শনিক ও সমাজ বিজ্ঞানী ‘নোয়াম চমস্কির’ একটা উক্তি আছে। “The general population doesn't know what's happening, and it doesn't even know that it doesn't know.”
বারে বারে ব্যর্থ নেতারাও চমস্কি পড়েন তাই বাণীটা জানেন, আর এটারই সফল প্রয়োগ করে একটা কল্পিত গোলকধাঁধার মাঝে সাধারণ কর্মী সমর্থকদের ভাবনাকে বিপথে চালিত করছেন। প্রায় সকল আম সমর্থকেরা সত্যিই জানে না অন্দরে কী ঘটছে, আর এটাও জানে না যে- তারা জানে না। তাই নেতা কিছু লিখেছে বা বলেছে মানেই সেটাকে ধ্রুব সত্য ভেবে, বিবিধ বিশেষণে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যান।
সমালোচনা ও আত্মসমালোচনা করার কথা নেতারা বলেন না তা নয়, এক্ষেত্রে আত্মসমালোচনার সংজ্ঞা হচ্ছে- ‘যাবতীয় সমালোচনা আত্মার মাঝেই সংরক্ষিত রইবে, আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ জানবে না’। আত্মসমালোচনার মুণ্ডুচ্ছেদে, আত্ম-হারা হয়ে ‘সমালোচনা’ দিনের আলো দেখলেই- দলবেঁধে রে রে করে তেড়ে নেমে পড়ে আগের পর্বে উল্লেখিত ‘খোঁজার’ দল। অথচ এনারা ভোট প্রচারের সময় এই দলবেঁধে একাত্ববোধটা দেখাননি, বিকল্পের কথাটা শুধু মুখেই বলেন, তার ফলিত প্রয়োগ নেই- মানুষ কী দেখে কেন আকৃষ্ট হবে? ফাঁপা বজ্রগর্ভ বুলি শুনে নাকি দুর্বোধ্য তাত্ত্বিক কচকচানি শুনে?
কী হবে সেই বিকল্প প্রচার কৌশল? সেটা আমি বা আমার মতো কোনো কলমচি ঠিক করে দেবে না বা দিতে পারে না, এটা কোনো একক কাজ নয়। এর জন্য আলাদা আলাদা ক্ষেত্র আছে, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্দিষ্টভাবে যোগ্যতা সম্পন্ন মেধা প্রয়োজন, যারা টিম হিসাবে কাজটা এগিয়ে নিয়ে যাবে, এবং মূল পার্টিকে পুষ্ট করবে- যেমন শাখা নদী মূল নদীকে জল যোগান দেয়। পার্টিতে মেধার কোনো ঘাটতি নেই, আর যদি না থাকে তাহলে বামমনস্ক শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের মধ্য হতে মেধা ‘হায়ার’ করতে হবে। কমরেড জ্যোতি বসু কি অশোক মিত্রকে আনেননি? পার্টি মেম্বার হওয়ার আগেই কি মন্ত্রীসভার জন্য কমরেড অসীম দাসগুপ্ত মনোনীত হননি? কাজে পেশাদারিত্ব চাইলে তো পেশাদার মানুষদের নিয়োগ দিতে হবে।
মোদ্দা কথা হলো- সফল হওয়ার বাসনা থাকতে হবে, তারপর তো সফলতা। দক্ষিণপন্থী দলগুলোর দ্বারা অত্যাচারিত নিপীড়িত মানুষ, ধরেবেঁধে আমাদের ক্ষমতার চেয়ারে বসিয়ে দেবে এমন ‘খেয়ালি পোলাও’ মার্কা ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে গেলেও- ভাবনাতে তাজা রক্ত চাই। প্রত্যয়ী আত্মবিশ্বাসের অভাব নিয়ে যুদ্ধ লড়া যায়নি, যাবেও না- জেতা তো দূর অস্ত।
এককালে বাংলার ঘরে ঘরে ‘মায়ের দয়া’ নামে ছোঁয়াচে রোগ হতো, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় জলবসন্ত বা চিকেন পক্স বলে। ‘ভেরিসলা জোস্টার’ নামের অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস এই রোগের জন্য দায়ী। পার্টির প্রচার মাধ্যম ‘বাপের দয়া’ নামের এক মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাল রোগে আক্রান্ত, ভাইরাসের নাম প্রায় সকলেই জানে তাই উল্লেখ করা বাহুল্যতা। আর এই ভাইরাসেরা, রোগ নির্মূলকারী ওষুধ প্রয়োগের আগেই- শুধু প্রেসক্রিপশন দেখেই ভয় খাবে না তো কারা খাবে? এখনও তো ভ্যাক্সিন আসেনি, আসলে এরা তুড়ুক নাচ নাচবে ছটপটিয়ে। অতএব, যতক্ষণ না এই ভাইরাসগুলোকে স্যানিটাইজেশন দ্বারা নিকেশ করে সেটিংপন্থী নেতাদের ভ্যাক্সিন দেওয়া যাবে, তদ্দিন পার্টির রোগ মুক্তি নেই।
অথচ আধুনিক প্রচার কোনো কোয়ান্টাম ফিজিক্স নয়, সিম্পল সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মেধার মিথষ্ক্রিয়া ঘটিয়ে, মানুষের চাহিদা বুঝে- তা সংবেদনশীলতার সাথে গোপনে সমাজে প্রয়োগ করার নাম সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এটা কোনো একক ব্যক্তির সর্বজ্ঞ সেজে আঁতলামো মারার বিষয় নয়। কেরালা সফল প্রয়োগ করেছে, ফলও পেয়েছে। গত লোকসভায় ১টা আসন জেতা দল, বিধানসভায় স্বমহিমায় ফিরেছে। এটা একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টার নাম, যেখানে মেধা, পড়াশোনা, তথ্য-নমুনা সংগ্রহ, সমীক্ষা, অনুশীলন, পর্যালোচনা ইত্যাদি গুলোর সমন্বয় ঘটাতে পারলে তবেই সিদ্ধান্তে আসা যায়, যেটা শ্রেণী সমাজের মনস্তাত্ত্বিক স্তরে ভীষণ ক্রিয়াশীল হয়।
এর জন্য বিশেষ কোনো খরচারও প্রয়োজন নেই, কারণ পার্টিতে দক্ষ কর্মীর অভাব নেই যারা বিনামূল্যে শ্রম দেবে, দরকার শুধু সিস্টেম্যাটিক পরিকল্পনা আর তার বিশ্বাসঘাতকতাহীন রূপায়ন। ২০২১ নির্বাচনের প্রচার কৌশলে কী কী ছিল না সেটা সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আর নেতৃত্বেরা জানেন, কিন্তু কী কী দরকার ছিল সেটা পাঠিয়ে দিয়েছি জায়গা মতো, যাদের পাঠানো দরকার।
যারা আইনসভায় নীতি নির্ধারণ করবে দলের পক্ষে, সেখানে একদল প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী থাকাটা বাধ্যতামূলক, আইন না জানলে সবই তো ফক্কা। দলের একমাত্র সাংসদ, বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য রয়েছেন, কিন্তু ২০২১ বিধানসভায় দলের স্টার ক্যাম্পেনার তালিকাতে তার নাম ছিল না, সেভাবে মিটিং মিছিলেও দেখা যায়নি রিয়ালিটি বা ভার্চুয়াল জগতে। ওনার মতো অভিজ্ঞ সুবক্তাকে দল পেল না, এটা অনভিপ্রেত।
দুটো প্রজন্ম আগের নেতাদের সকলেই টেকনোলোজিতে দুরস্ত আপডেট হবেন এটা ভাবাটা বোকামি, তারা রাজনীতিটা বুঝলেই হবে। দলের নেতারা দল চালাবেন, দলীয় নীতি-নিয়ম ঠিক করবেন, তারা রাজনীতি করবেন, সরকারের বিরোধিতা করবেন যুক্তি দিয়ে, ক্ষমতায় গেলে প্রশাসক হবেন। এই তো কাজ।
প্রচারের দল ব্যাক অফিসে কাজ করবে, নেতাকে মুহুর্মুহ অ্যাসিস্ট করবে, নিতান্ত প্রয়োজনে প্রকাশ্যে আসবে। ব্যাক অফিসের মূল কাজ- বিভিন্ন ডেটা সংশ্লেষ-বিশ্লেষণ করে নেতাদের কাছে নিয়মিত পরিপূর্ণ সত্য তথ্যের যোগান দিয়ে আপডেট রাখবে। নেতাদের বক্তব্য, দলের নীতি মানুষের কাছে সহজে সহজ ভাষায় পৌঁছে দেবে। সুতরাং এইগুলো মাথায় রেখেই প্রচার দলের ব্যাক অফিস সাজাবার দরকার ছিল।
আমরা ২০১৩ থেকে জানি বিজেপির IT Cell রয়েছে, ২০১৯ এ রাজ্যে PK এর i-pac রাজ্যে এসেছিল ঢাকঢোল পিটিয়ে, তৃণমূলের পক্ষে। এরা তো কোনো ব্যক্তি নয়, এরা তো বিশাল একটা সংগঠিত টিম। পার্টি তো জানত- প্রচার দলকে লড়তে হবে এই দুই অসম পুঁজিবাদী ভাড়াটে কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে। রাজ্য তথা দেশজুড়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্যা পার্টিকর্মী ও সমর্থকদের উন্নততর মেধাগুলির সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকল্প কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরা বা বিকল্প কোনো পরিকল্পনা নিয়ে PK ও অমিত মালব্যের টিমকে প্রতিহত করার কোনো সদিচ্ছা ছিল না রাজ্য সিপিএম ডিজিটালের। অথচ এটা কেরল ডিজিটাল করে দেখিয়ে বিজেপিকে শূন্য করে ছেড়েছে। আমাদের রাজ্যের ডিজিটালের এই অনিচ্ছাটাকেই পার্টি দরদী মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছে৷
PK মাত্র ২ বছর আগে দায়িত্ব পেয়ে তার সাফল্য দেখিয়ে গেল, যে এর আগে বাংলার নাড়ি-নক্ষত্রের কিছুই জানত না। সে অবশ্যই বিপুল টাকা নিয়ে তার কায়দায়ে খেলে গেল, আর আমাদের নারায়ণী সেনা শুধু লবিবাজি করে, কাঠি করে, নজরদারি করে, দাদাগিরি করে- যোগ্য লোকেদের তাড়িয়ে একটা ক্ষুদ্র বৃত্তের মাঝে নিজেদের ঢুকিয়ে, একে অন্যের পিঠ চুলকে তুরীয় সুখলাভ করল- এটাও প্রতিভা বৈকি।
PK আমাদের দলের বহু তৎকালীন MLA, অভিজ্ঞ সংগঠকের কাছে ঘুষের ঝোলা নিয়ে গেছিল দল পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু সেই আদর্শবাদী কমরেডরা সব নামধাম ফাঁস করে দিয়েছিল। এগুলো আনন্দবাজার ও তাদের এবিপি সহ সকল প্রথম শ্রেণীর মিডিয়াতে, সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ পেলেও- কিন্তু রাজ্য ডিজিটালের পক্ষ থেকে এই MLA বা সংগঠক কমরেডদের কারও সাক্ষাৎকার নিয়ে বাকিদের সাবধান করেনি। PK এর modus operandi কাউকে অবহিত করেনি রাজ্য ডিজিটাল টিম। কেন? কাকে সুবিধা দিতে? কী লুকাতে?
রাজ্য ডিজিটালের কর্তাব্যক্তিরা এই ভোটে ‘হিন্দু-মুসলমান’ বাইনারির গল্প ফেঁদে ব্যর্থতা লুকাবার চেষ্টা করছেন, অথচ আমাদের রাজ্যে যদি ২৭% মুসলমানের বাস হয়, কেরলেও ২৬.৫৬% মুসলমানের বাস ২০১১ জনগণনা অনুসারে। সেই রাজ্যেও বিজেপি কোটি কোটি টাকা ঢেলেছিল প্রচারে, অন্য দল কংগ্রেসও তাই। মাত্র ২ বছর আগেই কংগ্রেস ১৫টি আসন পেয়েছিল। কিন্তু ২ তারিখের ফলাফলে দেখা গেল- কেরলে বিজেপি খাতা খুলতে পারেনি আর পশ্চিমবঙ্গে আমরা খাতা খুলতে পারিনি। দল তো একটা, পলিটব্যুরোও একটা, কেন্দ্রীয় ডিজিটালের পলিসিও একটাই, তাহলে তারা সেম ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে সফল হলো, আর আমাদের বঙ্গীয় রিংটালের দল- কেউ প্রশ্ন যাতে তুলতে না পারে তার জন্য দল, উপদল, তস্য দল পাকিয়ে গাব জ্বাল দিচ্ছে।
বিপক্ষের কী কী ছিল তা আমরা সব জানতাম, তাহলে আমাদের যা যা নেই সেগুলো নিয়ে ডিজিটালের কে কী পরিকল্পনা করেছিল? কোন অত্যাধুনিক মিডিয়া দল তৈরি করেছিল? আর সেটা তৈরি করে থাকলে তারা কী কী কাজ করেছিল? কোন কোন সেক্টারে করেছিল? কী তাদের পদ্ধতি ছিল? তারা যারা কর্মকর্তারা ছিল, তারা কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে চেয়ারে বসেছিল?
বিধানসভা ভোটের নিরিখে যে প্রশ্নগুলো আগামী পার্টি সম্মেলনে উঠবেই-
১) নবীন বা প্রবীন কোনো প্রার্থীদের নিয়ে কোনো কেন্দ্রীয় ওয়ার্কশপ হয়নি কেন?
২) পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা নেতাদের প্রায় সকলেই, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত গুটিকয়েক কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও যায়নি, কার স্বার্থে যাননি?
৩) আমরা জানতাম আমাদের অর্থ নেই, অথচ প্রথম দফার ৩০ প্রার্থীর এক জনের জন্যও ক্রাউড ফান্ডিং এর আবেদন করা হয়নি। এটা শুরু হয় দ্বিতীয় দফায়- ১৭ই মার্চ গভীর রাত্রে রাজ্য সম্পাদকের পেজ থেকে জানা যায়। মাত্র ১২ দিন সময় পেয়েছিল দ্বিতীয় দফার প্রার্থীরা। শুধু তাই নয় সব প্রার্থীরা এই সুযোগ পায়নি, কারণ তারা কেউ আবেদনও করেনি। কেন এই বেসিক ব্যাপারে দু’মাস আগে থেকে এসবের প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি? কার স্বার্থে?
৪) বহু প্রার্থীর ‘ভোট একাউন্ট’ খোলা হয়েছিল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে, যার IFS কোডের মাথামুণ্ডু নেই, বহু মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরে ঘুরেও টাকাই দিতে পারেনি। কারও কোনো গুগুল পে বা ভার্চুয়াল পেমেন্ট সিস্টেম ছিল না ২৪শে মার্চ অবধি। কোথায় দলের তরফে ‘ডিজিটাল’ এগুলো রেডি করে পাঠিয়ে দেবে, তার বদলে, এ বিষয়ে দলের অনুমতি সংগ্রহ করতেই কালঘাম ছুটেছিল প্রার্থী বা তার এজেন্টদের। ডিজিটাল কি চারটে পোস্টার বানিয়ে ফেসবুকে ‘গ্রুপ গ্রুপ’ খেলার জন্য ছিল? কেন এগুলো করা হয়নি?
৫) বহু কেন্দ্র ছিল সন্ত্রাসকবলিত ভয়ানক উত্তেজনাপ্রবণ। নির্দিষ্ট বিধানসভার প্রতিটা বুথই উত্তেজনাপ্রবণ হয় না, কিন্তু কোন বুথ উত্তেজনাপ্রবণ, কোন বুথ অধিক উত্তেজনাপ্রবণ- তার তথ্য সহ বুথের চরিত্রের তালিকা নতুন প্রার্থীদের কাছে ছিল না। খুব অভিজ্ঞ প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশ এরিয়া কমিটি বা প্রার্থী নিজে, ভোটের ৪ দিন আগে এ সংক্রান্ত তথ্য জানত না। অথচ রাজ্য ডিজিটাল এই তথ্য শুরু থেকেই পাঠিয়ে দিতে পারত, সেই মতো স্থানীয় স্তরে বুথ ধরে ধরে প্রচার কৌশল সাজানো যেত, যা করা যায়নি।
৬) কীভাবে ‘সুবিধা অ্যাপ’ থেকে পার্মিশন নিতে হয়, ভোটের ১০ দিন আগেও অনেক এরিয়া কমিটির প্রবীন সদস্যেরা জানতেন না। তাদের পক্ষে আধুনিক প্রযুক্তি জানাও সম্ভব নয়। নতুন প্রার্থীদের অনেকেই জানত না আদৌ এভাবে পার্মিশন নিতে হয় নির্বাচন কমিশন থেকে। কোনো তরুণ কম্পিউটার জানা ছেলেকেও দায়িত্ব দিয়ে পাঠায়নি ডিজিটাল, এমনকি তাদের কোনো লিখিত নির্দেশিকা বা গাইডলাইন পর্যন্ত ছিল না যে, সুবিধা অ্যাপ কী ও কীভাবে এর ব্যবহার করতে হয়! ফলত বহু ক্ষেত্রে সময়ে সভা-মিছিলের পার্মিশন পাওয়া যায়নি। যে বিধানসভা ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, বিশেষ করে গ্রাম বাংলার বিধানসভার কেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীরা নিজের প্রচেষ্টাতে উপযুক্ত লোকজন যোগাড় করে ঠেকা দেওয়া কাজ চালিয়েছে, ঠকে শিখে।
৭) প্রচারের প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে কমিশনের এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভারের যে সম্পর্ক আছে সেটাই জানত না অধিকাংশ জন নতুন প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট। কারণ প্রচারের দায়িত্বে থাকা ডিজিটালই রিংটাল হয়ে বসেছিল।
৮) কীভাবে নির্বাচন কমিশনে কমপ্লেন করতে হয় সেটা অতি অভিজ্ঞ প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশই জানত না। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া জুড়ে যে ভুরি ভুরি অভিযোগ ছিল, তার অধিকাংশ সঠিকভাবে জমাই হয়নি কমিশনে- নিষ্পত্তি তো দূরস্থান। কতগুলো কমপ্লেন সিপিএম পার্টির তরফে আদতে হয়েছিল সে তো কমিশনের সাইটে গেলে এখনই খুঁজে পাওয়া যাবে। রাজ্য ডিজিটাল কোনো ধরনের সহযোগিতা পাঠায়নি বিধানসভাগুলোতে, সবই স্থানীয় লেভেলে দায়ে পড়ে শিখে ম্যানেজ করেছিল।
৯) কীভাবে মাইক ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে গাড়ির পার্মিশন করাতে হয়, কোথায় হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করা যায়, নির্বাচনী কেন্দ্রের সবচেয়ে এফেক্টিভ ইম্পর্টেন্ট পয়েন্ট, যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে ছোঁয়া যায়- তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না ডিজিটালের। কোথায় হেঁটে মিছিল, কোথায় বাইক মিছিল, কোথায় সাইকেল মিছিল, কোথায় বড় রোড শো, কোথায় পথসভা কোথায় জনসভা- এসব নিয়ে বিধানসভা ধরে ধরে সংগঠকদের সাথে কোনো মিটিং করেনি ডিজিটাল। এরা বিধানসভাগুলোর ম্যাপটুকুই জানত কিনা সন্দেহ।
১০) প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের চরিত্র আলাদা, সেইমতো প্রচারও আলাদা হবে। ৮ দফার ম্যারাথন নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিল, ক্রমাগত ইস্যু বদলেছে। বিরোধীদের কৌশল বদলেছে। আমাদেরকেও সেইভাবে বদলাতে হতো। ব্রাঞ্চ কমিটি, এরিয়া কমিটি বা জেলা কমিটিকে এই বিষয়ে ডিজিটাল কোনো অফিশিয়ালি ডেটা দেয়নি। এমনকি প্রার্থীদের বক্তব্যের জন্য এক লাইনও নোটস পাঠায়নি ডিজিটাল। পরিকল্পনা করে সময় নষ্ট করেছিল রাজ্য ডিজিটাল।
১১) এই ভোটে দুটো ইস্যু ছিল, এক দল ভোটারের মনোভাব ছিল- তৃণমূলকে বামেরা ঠেকাতে পারবে না, তাই বিজেপিকে চাই। অন্য দলটার মনোভাব ছিল- বিজেপি চলে এলে রাজ্যের সর্বনাশ, বামেরা পারবে না, তাই তৃণমূলকেই রাখতে হবে। এই ইস্যুকে প্রকট করার জন্য PK দায়িত্বে এসেই- বিরোধী দলের ব্রাঞ্চ কমিটি অবধি পৌঁছে যাওয়ার অপচেষ্টা করেছিল।
এই ঘোষিত বাইনারি ভাঙতে রাজ্য নেতৃত্বের হাতে কী কী বিকল্প পরিকল্পনা তুলে দিয়েছিল রাজ্য ডিজিটাল? কী কী প্রচার কৌশল নেওয়া হয়েছিল তাদের তরফে? তার কোথায় কতটা রূপায়ন হয়েছিল? এটাই তো ছিল প্রচার দলের মূল কাজ। প্যারালাল উপদল তৈরি করে কিছু চাটুকার জন্ম দেওয়া ছাড়া, ডিজিটাল কিচ্ছু করেনি।
১২) যে বুথে এজেন্ট এর অভাব সেখানে বুথ ও অক্সিলিয়ারি বুথ দুটোকে কেমন ভাবে সামাল দেওয়া যায় সেই ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
১৩) ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন পোলিং এজেন্ট নিয়ে নতুন নিয়ম আসে কমিশনের তরফে। একই বিধানসভার যেকোনো অংশের ভোটার যেকোনো বুথে বসতে পারত। অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকায় এই নিয়ম সম্বন্ধে কোনো আপডেট দেয়নি প্রচারের দায়িত্বে থাকা ডিজিটাল। হাতে লড়াকু কর্মী থাকা স্বত্ত্বেও বহু বুথ ফাঁকা রয়ে গেছিল।
১৪) উপদ্রুত অঞ্চলের প্রার্থী অতিরিক্ত সিকিউরিটি কীভাবে পাবে, নির্বাচনের ২ দিন আগে কেউ কোথাও সহায়তা পায়নি ডিজিটাল পক্ষ থেকে।
১৫) বুথে বুথে কত জন বয়স্ক মানুষ, যারা ঘরে বসে ভোট দেবে কোন প্রার্থী জানত? এটা তো অফিসে বসে কমিশনের সাইট থেকেই জেনে নিয়ে প্রার্থীকে বলে দেওয়া যেত। কেন করেনি?
১৬) কেউ কি ভোটার লিস্ট নিয়ে- সেন্ট্রালি কন্ট্রোলাইজড অ্যানালিসিস করেছিল বিধানসভা ধরে ধরে? আমি তো ঘরে বসে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ২৫১ নং তালডাংড়া বিধানসভার ৯৮ নং বুথে বিজেপি ৩৬৭টা ভোট পেয়ে লিড করছে। ১৮৪ ডোমজুড় বিধানসভার ১৭৮ নং বুথে সিপিএম ৯৫টা ভোট পেয়েছে, ১৪৯ কসবা বিধানসভার ১২৩ নং বুথে সিপিএম ১১০টা ভোট পেয়েছে, ৭২ বহরমপুর বিধানসভার ২২ নং বুথে বিজেপি ৩১০ ভোটে লিড করছে, ১৯৫ জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার ৯২ নং বুথে বিজেপি ১৬০টা ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ চাইলেই করা যায়। তাহলে গত বিধানসভার বুথ ধরে ধরে প্রার্থীদের কাছে ‘ছাত্রবন্ধু’ সাপ্লাই দেয়নি কেন ডিজিটাল?
১৭) নির্বাচনের আগের দিন রাতে থেকে ভয় দেখানো, টাকা-মদ-মাংস বিলানো চলবে এটা জানা কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা করবে সেটাও জানা কথা। এসবের বিরুদ্ধে লড়ে জয় আনতে কীভাবে- কুইক রেসপন্স টিমকে কেমন করে ব্যবহার করতে হয় তা নিয়ে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত অধিকাংশ জনকে জানায়নি রাজ্য ডিজিটাল। না কোনও প্রশিক্ষিত কর্মীকে বিধানসভা ধরে ধরে স্থানীয় এরিয়া কমিটির কাউকে প্রশিক্ষণ দিতে পাঠিয়েছিল। ভোটের দিন বুথ জ্যাম, ভয় দেখানো ইত্যাদি দেখলে কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেমন করে ব্যবহার করতে হয় সে ব্যাপারে কোনো গাইডলাইন ছিল না। সিংহভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী ওয়ার রুমটুকু ছিল না, যাদের ছিল সেটা প্রার্থীর নিজের বা এরিয়া কমিটির ক্যারিস্মাতে। ডিজিটালের কিছু ছিল না। আসলে দু’কান কাটাদের লজ্জা নেই তারা গাঁয়ের মাঝখান দিয়ে যায়। স্বভাবতই, এরা আজও FM, হোর্ডিং, ইতিহাস আর পার্টির শৃঙ্খলার নামে গালগল্প শোনাচ্ছে বুক ফুলিয়ে।
১৮) লড়াই এর ময়দানে কোন অস্ত্রগুলো ছিল যা রাজ্য ডিজিটালের তরফে প্রার্থীরা পেয়েছিল?
১৯) একটা প্রার্থীরও পেজ বানিয়ে সেটাকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হয়নি। মহঃ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীর মতো বড় নেতাদের নিজেদেরই পেজ আছে যেগুলো ডিজিটাল মেনটেন করে না। শতরূপ ঘোষের মতো তরুণ নেতারা নিজের প্রচার নিজেরাই করে। বাকি মীনাক্ষী বা দীপ্সিতার নামে যে পেজগুলো জনপ্রিয় সেগুলোর একটার পিছনেও ডিজিটালের ন্যুনতম অবদান নেই। অথচ ডিজিটাল হাঁসজারু নাম দিয়ে যে ফেসবুক পেজগুলো বানিয়েছিল, সেগুলোর দুরাবস্থা নিজেরাই দেখে নিন- পেজগুলো সব আছে।
নতুবা কান্তি গাঙ্গুলীর মতো প্রবীন নেতাকে নির্বাচন চলাকালীন নিজের ফেসবুক আইডি থেকে- তার ও দলের হয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের জন্য আবেদন করতে হয় জনগণের উদ্দেশ্যে? বুঝে দেখুন এই অপদার্থরা ডিজিটাল না রিংটাল ছিল! কান্তি বাবু আপনি সম্মেলনে শুধাবেন না?
২০) প্রার্থী ও প্রার্থীর এজেন্ট সারাদিন মাটিতে চষে বেড়ায়, আধুনিক প্রচারে প্রতিটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোট ম্যানেজার থাকে, যারা ভোটটা করান অফিসে বসে- কারা ছিল ডিজিটালের তরফে?
২১) স্ক্রুটিনি রিপোর্টে পার্টির কাছে কী তথ্য ছিল? এর অনেকগুলো ধাপ ছিল, ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড ইত্যাদি। একসময় নেতারা এই রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করেই তো পলিসি ও প্রচার কৌশল ঠিক করতেন। স্ক্রুটিনি সিস্টেম আছে নাকি উঠে গেছে? থাকলেও যারা স্ক্রুটিনি করেছিল তারা ভুলভাল মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছিল কেন, তারা কি এই ডিজিটালের অংশ?
২২) যেসব তরুণ-তরুণী কমরেডরা বুথে এজেন্ট হিসেবে বসেছিলেন তারা অনেকেই অনভিজ্ঞ। অনেকেই প্রথমবার বুথ এজেন্ট হয়েছিল। ভোটের নিয়মকানুন সম্পর্কে রাজ্য থেকে কোনো নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল কাগজে বা হোয়াটসএ্যাপে? চ্যালেঞ্জ ভোট কি জানত? কখন চ্যালেঞ্জ করতে হয়? কখন টেন্ডার ভোট করাতে বলতে হয় এসব বুঝিয়েছিলেন কেউ? বহু বুথে তৃণমূলের ফলস ভোটার বুঝতে পেরেও তারা নিয়মগুলি না জানার জন্য এলোমেলো প্রতিবাদ করেও লাভ তুলতে পারেনি। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি আমাদের বর্ধমান শহরের বহু বুথে শাসক দলের বহু ‘হুব্বা’ আঙুলে ‘বোরোলিন’ লাগিয়ে তার উপরে লাগানো ভোটের কালি মুছে একাধিক বার ভোট দিয়েছে।
এমন অনেক অনেক জ্বলন্ত সমস্যা ছিল। যেগুলো চাইলেই মিটিয়ে একটা কমপ্যক্ট লড়াই দেওয়া যেত, হারজিতের ব্যাপার তো লেগেই থাকত।
উপরের ২২ দফা অতীব প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কোন ইউটিউব লাগত? কোন FM লাগত? কোন হোর্ডিং লাগত? কোন চাটার্ড ফ্লাইট লাগত? কোন টিভি মিডিয়া বা প্রিন্ট মিডিয়া লাগত? লাগত ইলেক্টোরাল বণ্ড বা গরু পাচারের অবৈধ টাকা? উপরোক্ত ২২ দফাতে কোথায় লক্ষ কোটি খরচের স্কোপ আছে? তৃণমূল বিজেপি টাকা খরচা করেছে সত্য, সাথে সাথে এগুলও যে তারা করেছিল সেই খবরটা জনগণের থেকে চেপে গেছে সাবালকত্বের ডিগ্রীধারীরা। যারা ‘অ্যাপোলোজেটিক, শুষ্ক সিম্প্যাথি’শব্দবন্ধ দিয়ে নিজেদের ইচ্ছাকৃত ব্যার্থতাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে, তারা অযোগ্যতম, কারন তারা নিকৃষ্ট স্বজনপোষণের ফসল।
যতই সিপিএম-এর দুর্বলতা থাকুক, সাংগঠনিক ত্রুটি থাকুক- এগুলো করার জন্য যা আছে সেটাই যথেষ্ট ছিল। এগুলোর জন্য ইতিহাস নয়, যোগ্যতা লাগত। পরিকল্পনা লাগত। লাগত বিশ্বাসঘাতাহীন রূপায়ন।
আসলে প্রতিপক্ষ আমাদেরকে প্রচার পরিকল্পনাতেই নক আউট করে দিয়েছিল, ২রা মে’র রেজাল্টে নতুন কীই বা হতে পারত। রাজ্য ডিজিটাল একদম পরিকল্পনা করে দলকে ডুবিয়েছে, তাদের পরিকল্পনাহীনতার জন্য। অনভিজ্ঞ প্রার্থীরা জানলই না কীভাবে নির্বাচন লড়তে হয়।
অথচ, আমাদের পূর্বতন শ্রদ্ধেয় নেতা কমরেড কাকাবাবু ১৯৬৭ বিকল্প মিডিয়ার কথা ভেবেছিলেন, গণশক্তি নামের পাক্ষিক সংবাদপত্রের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে কমরেড সরোজ মুখার্জীর নেতৃত্বে গণশক্তির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একে দৈনিক সংবাদপত্রে রুপান্তরিত করা হয়েছিল যেটা তৎকালীন দেশে আর কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ছিল না, কমরেড অনিল বিশ্বাস তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী ছিলেন। তখন পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিনামূল্যে বোর্ডে টাঙিয়ে গণশক্তি পড়াবার ব্যবস্থা করেছিল তৎকালীন নেতৃত্ব।
চল্লিশের দশক থেকে IPTA ছিল, এদের শাখা হিসাবে গণনাট্য সঙ্ঘ, গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘ, গণসঙ্গীত দল ইত্যাদি সামাজিক সাংস্কৃতিক শাখাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো গেছিল। গত ১০ বছরে পলিসিগতভাবে নতুন কী তৈরি করেছি আমরা? রাজ্য ডিজিটালই বা কোন নতুন ভাবনা এনেছে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, যার দ্বারা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি হরেক আঙ্গিকে !
সমকালীন সময়ে প্রচারে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল আমাদের দল, নেতৃত্ব যুবফ্রন্ট খুলে ফেলেছিলো সেই কালেই, তবে না তারা ক্ষমতায় এসেছিল ও ৩৪ বছর টিকে ছিল।
ফেসপ্যাক মুখের কলঙ্ক ঢেকে দেয়, i-pac কলঙ্ক কীসে ঢাকবে?
সুতরাং, পার্টির আজকের এই লাগাতার দুর্দশার মূল কারণ শুধুই নেতৃত্বের ব্যর্থতা নয়, না অর্থাভাব। মূল অভাব ছিল মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে পরিকল্পনামাফিক বিকল্প প্রচার কৌশলের অভাব। কেরালা বা ত্রিপুরা যা পারে আমরা তার সিকিভাগ পারিনি।
যে কর্মীরা মিছিলে হেঁটেছে, যে কর্মীরা বিরোধীদের অত্যাচারে লড়াই করে টিকে আছে, যে কর্মীরা সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সারাবছর সংগঠন করে, যে কর্মীটি মার খেয়ে দীর্ঘদিন পর হাসপাতালে ছাড়া পেয়েই লাল ঝান্ডাটা নিয়ে পাড়ার ভিতর দিয়ে বাড়ি ফেরে, যে কর্মীটি মুছে দেওয়া দেওয়াল পুনরুদ্ধার করে, যে কর্মীটি ছিঁড়ে দেওয়া ফ্ল্যাগ ফেস্টুন পরম মমতায় তুলে আবার লাগিয়ে দেয়, যে কর্মীরা পার্টির অফিস পুনরুদ্ধার করেছে, যে কর্মীরা জানপ্রাণ দিয়ে বুথ রক্ষা করেছে, যে কর্মীরা শত চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেও কাউন্টিং হলে শেষ অবধি টিকে ছিল, এ পরাজয়ের দায় তাদের নয়।
যে সমর্থকদের দল কিছু পাব না জেনেও শুধু লাল ঝান্ডাকে ভালোবেসে, আদর্শের টানে মিছিলে হাঁটে, ব্রিগেডে আসে, ফেসবুকে সগর্বে নিজেকে বামপন্থী বলে পরিচয় দেয়, বিরোধীদের সাথে নীতির প্রশ্নে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমানে সমানে টক্কর দেয়, এ পরাজয়ের দায় তাদের নয়।
এ দায় প্রচারের দায়িত্বে থাকা রাজ্য ডিজিটালের রিংটাল হত্তাকর্তাদের।