রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

অনুপ্রবেশের নেপথ্যে- ২

 


পর্ব~ ২

চলুন বিস্তারিতভাবে দেখে নিই কেন বাংলাদেশী বা নেপালিরা এদেশে ঢুকে আসে। 

১) ভারতের মতো “SC/OBC রিজার্ভেশন সিস্টেম” বাংলাদেশে/নেপালে কোথাও নেই। এই কোটা সিস্টেমে একবার ঢুকে যাওয়া মানেই দেশের ৬০% জনগণকে টুপি দিয়ে বঞ্চিত করে টপকে, নিজেদের আগামী প্রজন্মকে শিক্ষা, চাকরি সহ প্রায় সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে রেখে দেওয়া গেলো। এই কারনে শেষ ৩০ বছরে এদেশে আসা ৯৯% বাংলাদেশী ও নেপালী হিন্দুরা SC/OBC এই দুটোর একটাতে ঢুকে রয়েছে। শুধু আমাদের দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কাজের গুণগত মান এবং সংখ্যা সুযোগ বেশি বলে লোক আসছে না। ওই সার্টিফিকেটের লোভেও বহু লোক ঢুকেছে। নব্য বাঙাল আর সে জেনারেল কাস্ট- এমন উদাহরণ বিরল। এদেশে বাঙাল কেন আসবেনা?

২) বিনামূল্যে চিকিৎসাঃ নেপালে এমন কিছুই নেই। বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারদের জন্য সরকারী ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ফ্রি বা প্রায় ফ্রি চিকিৎসা দেওয়ার আলাদা সরকারি ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে নির্দিষ্ট কিছু সরকারী হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে আউটডোর টিকিট ও খুব অল্প ফি এর বিনিময়ে ডাক্তার দেখানোর পরিষেবা আছে, কিন্তু তার মান যে ঠিক কতটা নিকৃষ্ট, সেটা আমাদের কোলকাতার বাইপাসের ধারে বেসরকারী হাসপাতাল গুলোতে গেলেই বুঝে যাবেন বাংলাদেশী রোগীদের ভিড় দেখে। কোনো মৌলিক ওষুধ বা খুব সাধারণ ল্যাব টেস্টও বাংলাদেশে সরকারীভাবে দেওয়া হয়না, কোথাও কখনো শিবির করে পরিষেবা দিলেও তার যা মান, তাতে রোগ সারার বদলে বেড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সেভাবে কোনো সামগ্রিক টিকাকরণ কর্মসূচী নেই তাদের। এদিকে আমাদের ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামীণ, মহকুমা, জেলা সদর হাসপাতাল হয়ে কোলকাতার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সিস্টেমে নানান দুর্নীতির পরেও, বাংলাদেশের তুলনাতে ধ্বন্বন্তরী চিকিৎসা বলাই যায়। এর সাথে ভেলোর, পুত্তাপুত্তির মত দাতব্য হাসপাতাল গুলোতে পৌঁছে যেতে পারলে তো সান্ধ্য টিফিনের খরচাতে মহাব্যাধির চিকিৎসা হয়ে যায়। এদেশে নেপালি-বাঙাল অনুপ্রেবশকারী আসবেনা তো কোথায় যাবে?

৩) ফ্রি শিক্ষাঃ বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি ও বাধ্যতামূলক, কিন্তু বাস্তবে খরচ পুরোপুরি শূন্য থাকে না। সেখানে ভারতে উচ্চমাধ্যমিক অবধি সেই অর্থে কোনো টিউশন ফি’ই নেই সরকারি স্কুলে। সামান্য ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, ব্যাস। প্রাইমারিতে ইউনিফর্ম অবধি দেওয়া হয়, যাতায়াতের জন্য সাইকেল, বই, খাতা–কলম, সবই ফ্রি। এর পর আছে মিড-ডে মিল। দিনের সবচেয়ে বড় খাবারটা ইস্কুলেই মিটে যায় বাচ্চাদের, বাপমা এটুকু দুশ্চিন্তা মুক্ত যে, তাদের সন্তান ইস্কুলে গেলে অপুষ্টিতে ভুগে না খেতে পেয়ে মরবেনা। এরপর কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশোনার খরচা। সরকারি কলেজগুলোতে টিউশন ফি বাৎসরিক মোবাইল রিচার্যের চেয়েও কম, কিছু ক্ষেত্রে টিউশন ফি মকুব হয়ে যায় নানান বৃত্তিতে। ভারতীয় ইঞ্জিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করা ছেলেপুলেদের দাম বিশ্ব IT বাজারে বিপুল, বাংলাদেশী হলেই আর জাতে উঠবেনা। ভারতীয় পাসপোর্টও বাংলাদেশীদের চেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্য। তাই তাদের শিক্ষিত প্রজন্মের ধান্দাই হচ্ছে যেকোনো মূল্যে উচ্চশিক্ষার পড়াশোনাটা ভারতে এসে করা, এবং ভারতীয় পাসপোর্ট হাতানো। SC-OBC হলে তো রীতিমত জামাই আদর, কেন বাংলাদেশীরা এদেশে কাঁটাতার গলে ঢুকবেনা?

৪) ফ্রি রেশনঃ বাংলাদেশে দরিদ্র ও দুর্যোগ কবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের সরকারী প্রকল্প রয়েছে কাগজে কলমে। নতুবা এই খাতে বিদেশী অনুদান কীভাবে আসবে? এই কর্মসূচিগুলো Vulnerable Group Feeding এর আওতাধীন, যেখানে কেবলমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে চাল, গম বিতরণ করা হয়। বাস্তবে, দুটো ঈদের আগে ছাড়া এই সহায়তা কেউ পেয়েছে বলে এমন অভিযোগ নেই কারো। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সকলকে বিনামূল্যে ত্রাণটুকু পৌঁছে দিতে পারেনা বাংলাদেশ সরকার, আজও। সেখানে আমাদের রাজ্যে দুর্যোগের জন্য বরাদ্দ চাল আর ত্রিপল ঝেঁপে অট্টালিকা বানাবার লোভেই একটা গোটা রাজনৈতিক দল রমরমিয়ে চলছে। 

এদিকে ভারত সরকারের খাদ্য ও গণবন্টন বিভাগের প্রকল্পের অভাব নেই দেশের মানুষের মুখে প্রায় বিনামূল্যে, সারা বছর ধরে অন্ন তুলে দেওয়ার বন্দোবস্তে। অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (Antyodaya Anna Yojana - AAY), অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana - APY),  অগ্রাধিকার পরিবার প্রকল্প (Priority Household - PHH), প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY), সমন্বিত শিশু বিকাশ পরিষেবা (ICDS)-এর মতো অন্যান্য পুষ্টি-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলি রমরমিয়ে চলছে। এদেশে ঢঙের কিছু কাজ জুটুক বা না জুটুক, রেশনের চাল খেয়ে পেটের জ্বালাটা অন্তত মিটবেই মিটবে। কেন বাংলাদেশীরা এদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারি হবেনা?

৫) বাংলাদেশের আয় মূলত পোশাক শিল্প ও কামলাখাটা শ্রমিকদের পাঠানো প্রবাসী আয়ের (Remittances) উপর নিরর্ভরশীল। এর বাইরে কৃষি খাত, মৎসচাষ ও পশুপালন, এই সবগুলো দিয়ে গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্র্য হ্রাস করা যেতে পারে, উন্নত বৈচিত্র্যপূর্ণ ও কিছুটা বিলাসী জীবনযাপন করা যায়না। বাংলাদেশ থেকে ভারত আর মিয়ানমার ব্যাতিরেকে যেখানেই যাক, বিমানে যাতায়াত হয়, যা বিপুল খরচা সাপেক্ষ। সেখানে ভারতে আসার জন্য পকেটে ১০০ টাকা থাকলেই যথেষ্ট। আর কোলকাতা থেকে গোটা ভারত জুড়ে কাজ খুঁজে ফিরতে খুব বেশী খরচাকর নয়। বহু বাংলাদেশী রীতিমত শুক্রবার ওদেশে ফিরে ২ রাত কাটিয়ে আবার সোমবার সকালে কোলকাতায় নিজের কাজে ফেরে অফিস টাইমে। এরা অনুপ্রবেশ করবেনা তো কে বা কারা করবে?

৬) ভারতের উন্নত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র বাংলাদেশের চেয়ে যোজন কিলোমিটার এগিয়ে। সহজলভ্য ইন্টারনেট পরিষেবা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্ক ভয়াবহ লোভনীয়। স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্সের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মোবাইল ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গড় গতি বাংলাদেশের চেয়ে ঢের বেশি। ২০২৫ সালে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০ কোটি বা ৬২%, সেখানে প্রতি তিনমাসে একবার রিচার্যের হিসাবে মাত্র ২৭% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে। ১ জিবি ডেটার দাম ভারতে গড়ে ৯ টাকা, সেটাই বাংলাদেশে ৩২ টাকা গড়ে। তাই ওই দেশের ওদের শিক্ষিত প্রজন্ম একবার ঢুকলে আর বার হতে চায় না।

৭) পরিকাঠামো ও সুযোগঃ বাংলাদেশের আয়তন ১৪৮০০০ বর্গ কিমি, সেখানে ভারতের আয়তন ৩২ লক্ষ ৮৭ হাজার বর্গ কিমি, মানে ২২ গুনের চেয়েও বেশী বড় দেশ। গোটা ইউরোপের চেয়ে ৩ গুন বড় আয়তনের দেশ আমাদের ভারত। ইউরোপ মানে অনেকগুলো দেশের সমষ্টি, ভারতের প্রত্যেকটা রাজ্যকে একটা দেশ ধরে নিলে- কতগুলো দেশ হয়? আমাদের বিপুল জনসংখ্যা আন্তঃদেশীয় ভাবেই বিপুল বাজার সৃষ্টি করেছে। দেশে বিপুল মাত্রার নানা মাপের শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এ প্রান্তে কাজ না জুটলে আরেক প্রান্তে চলে যেতে রেলপথে মাত্র কয়েকশো টাকাতে বিনা ভিসা, বিনা প্রশ্নে চলে যাওয়া যায়, যা গোটা পৃথিবীতে কোথাও সম্ভব নয়। উপরন্তু ভারতের একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর আছে, সেই সুবিধার লোভে এখানে অনুপ্রবেশ ঘটে চলেছে।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো পরিবহন ব্যবস্থা, যা পণ্য ও মানুষের চলাচল সহজ করে। মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট বা সেতু, উন্নত গ্রামীণ রাস্তাঘাট। দেশজোড়া বিস্তৃত রেললাইন, আধুনিক রেলস্টেশন, উন্নত ট্রেন পরিষেবা। বন্দর, জেটি, ফেরিঘাট, নৌ-চলাচল উপযোগী নদীপথ। পর্যাপ্ত বিমানবন্দর, নিয়মিত সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ হলো আধুনিক ভারতের প্রাণশক্তি। ভারতীয় রেলকে দেশের ‘লাইফলাইন’ বলা হয়। বার্ষিক যাত্রী ধারন সংখ্যা, গুণগত রেলপথ ও দেশ জুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এর নিরিখে ভারতের স্থান গোটা বিশ্বে দ্বিতীয়, সেখানে বাংলাদেশ তালিকার প্রথম ১০০ এর মধ্যেও আসেনা। বাংলাদেশে সড়ক যোগাযোগ ভালো, কিন্তু সেটা ভারতের তুলনাতে নেহাতই বালখিল্য। আজও নদী পরিবেষ্টিত বাংলাদেশের বিবিধ স্থানে নদীপথই একমাত্র বিকল্প, কোনো ব্রিজ বা পাকা সড়ক নেই। বাংলাদেশে বেসরকারী পরিবহণনই মূল ভরষা, কারন অনুন্নত সরকারী বাস পরিষেবা, যার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সময়ানুবর্তিতা রক্ষিত হয়না, ফলে সাধারণ মানুষ সরকারী পরিষেবা এড়িয়েই চলে। গণ পরিবহণ ব্যবস্থাতে ভারত অবশ্যই ইউরোপের তুলনাতে অনেক পিছিয়ে, কিন্তু বাংলাদেশের তুলনাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারত অন্তত ৫০ বছর এগিয়ে। 

এর সাথে  বিদ্যুৎ ও শক্তি খাত হলো- শিল্পায়ন এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। সেখানে বাংলাদেশের তুলনাতে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রায় প্রতিক্ষেত্রেই। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেমন কয়লা, গ্যাস, জলবিদ্যুৎ, পারমাণবিক এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে একপ্রকার স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর সাথে সরবরাহ ব্যবস্থাতেও অনেক অনেক এগিয়ে,  ট্রান্সমিশন লাইন এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপনে এতো বিশাল বড় দেশে একটা নজির। এরপর রয়েছে পরিশুদ্ধ জল সরবরাহ, স্যানিটেশন, কৃষিতে পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা, উন্নত মানের সার ও আধুনিক কৃষিজ যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা। এ সবের লাভ তো কেবল ভারতীয়েরাই পায়। কেন কেউ অবৈধ ভাবে ভারতীয় হতে চাইবেনা?

৮) মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অনুভূতি এবং চুরি বা হামলার ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া জননিরাপত্তা সূচকে ভারত অনেক এগিয়ে। অপরাধ, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত আইন শৃঙ্খলার নিজস্ব সমস্যা দুই দেশেই রয়েছে। নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক বিশ্লেষণ সংস্থা গ্যালপ (Gallup) দ্বারা প্রকাশিত 'ল অ্যান্ড অর্ডার ইনডেক্স' (Law and Order Index) অনুযায়ী, ভারতীয়েরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদেরকে বাংলাদেশীদের চেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করে।
 
৯) আর্থিক বৈষম্য আরো একটা বড় কারন এই অনুপ্রবেশের। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে চরম দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশেরও কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ সালে ভারতে চরম দারিদ্র্যের হার- প্রতিদিন ২.১৫ মার্কিন ডলারের কম আয় কমে ২.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সর্বশেষ গৃহস্থালী আয় ও ব্যয় জরিপ (HIES) ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৮.৭ শতাংশ। এর মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার হলো ৫.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত ২০%, সেখানে ভারতে ৩১% এরও বেশী। ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) বিবেচনা করলে, ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এর ফলে ভারতীয় মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। ভারতের বিশাল শিল্প ও পরিষেবা খাত, বিশেষ করে আইটি সেক্টর শহরাঞ্চলে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করে, যা মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার প্রতি বেশি আগ্রহী, যা ভারতের বড় অর্থনীতির কারণে সহজলভ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত মূলত মৌলিক চাহিদা পূরণের পর সঞ্চয়ের দিকে নজর দেয়। ফলত, ঢাকা ও মুম্বাইয়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়া, মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার খচরে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে মধ্যবিত্তের সংখ্যা কমার পাশাপাশি গরিবের সংখ্যা বেড়েছে, তবুও ভারতের বহু অংশের গরিব এখনো বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের সঙ্গে তুল্যমূল্য বিচারে লড়াই দিতে পারে।

মালদা মুর্শিদাবাদের নদী ভাঙ্গনের বিপর্যস্ত মানুষের কথা আগে চিন্তা করা হবে, নাকি হিন্দুত্ত্বের দোহায় দিয়ে এসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কথা চিন্তা করা হবে- রোহিত শর্মা চুর, আর সূর্যকুমার যাদবের পা বাউন্ডারির বাইরে খুঁজতে প্রানাতিপাত করে দেয়, তাদের? যে দেশে কামলা খাটতে যাওয়াটা সমাজের মূল ধারার সবচেয়ে বড় পেশা, সেখানে এগুলো কী যথেষ্ট কারন নয় এই গণহারে অনুপ্রবেশের? 

সুতরাং, কৃত্রিম ভেকধারী উদবাস্তু মানেই আমার ভাই, বাংলাদেশী হিন্দু মানেই ছিন্নমূল, বাংলাদেশী হিন্দু মানেই সে মোল্লাদের দ্বারা অত্যাচারিত, এই সব গণহারে খেয়ালি পোলাও পাকাবার আগে উপরের তথ্য গুলো মিলিয়ে নেবেন আশাকরি। হয় আমি অনুপ্রবেশকে সমর্থন করব, বা বিপক্ষে থাকব। এখানে আমি যদি তোলামুল হই, আমার ধান্দাবাজ হতে সমস্যা নেই, এটাই আমার রুটিরুজি। আমি বিজেপি হলে মুসলমাদের প্রতি ঘৃনা ও হিন্দুত্বই আমার একমাত্র হাতিয়ার। কিন্তু যখন আমি বাম, আমি কেন জাতের বিচার করব? আমি তো গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে বঞ্চনা হচ্ছে, যাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে, আমি তাদের পক্ষে। মুসলমান বাংলাদেশী হলে সে রোহিঙ্গা, সে অবৈধ, আর হিন্দু বাংলাদেশী হলে এদেশের নাগরিকত্ব নাকি তার প্রাপ্য অধিকার? দেয় কে আপনাদের? আপনার সাথে RSS এর ভাষার ফারাক কোথায়? এমনি এমনি দলটা শূন্যে পৌঁছে যায়নি, আপনি ও আপনার মত ভন্ড মানুষদের মেহেনতে এটা সম্ভব হয়েছে। 


আপনি কী ভাবে দেখেন এই গণহারে অনুপ্রবেশকে?


অনুপ্রবেশের নেপথ্যে- ১


পর্ব~১

ডাঙ্কি সিনেমাটা দেখে ছিলেন?


আপনি যদি অবৈধ পথে পৌঁছে আমেরিকাতে নাগরিকত্ব চান, সেখানকার আইন অনুযায়ী- একজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি হিসাবেই রাজনৈতিক আশ্রয় দাবি করতে হবে মার্কিন ফেডারাল সরকারের কাছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে আদালতে প্রমাণ করতে হয় যে, তার নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কিম্বা প্রাণনাশের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। 

কীভাবে এসব প্রমাণ যোগার হয়? সব বন্দোবস্ত আছে, শুধু ফেলো কড়ি মাখো তেল সিস্টেম। ২০২৪ সালে ৮৯২,৯০৪টি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছিলো মার্কিন আদালত গুলিতে, যেখানে ৭০% এর বেশী আবেদনকারী নাগরিকত্ব পেয়েছে নানান শর্তের বিনিময়ে। ওবামা, ট্রাম্পের প্রথম দফা ও বাইডেনের আমল মিলিয়ে শেষ ১২ বছরে ৭৬% আবেদনকারী নাগরিকত্ব পেয়েছে, ট্রাম্পের আমলে এটা কমলেও সেটা ২০২৫ এ ইতিমধ্যেই ৪৭% পাড় করে ফেলেছে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশেও এই একই আইন কিছু রকম ফেরে।

২০২৪ সালে ৪৯,৭০০ জন ভারতীয় মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছে এই ভাবে, যাদের মধ্যে মাত্র ২৮২ জন অ-হিন্দু। এবারে আপনি বলুন, হিন্দু হৃদয় সম্রাট মোদি শোভিত RSS শাসিত ভারত রাষ্ট্রে এরা কোন ধর্মীয়/রাজনৈতিক অত্যাচারের শিকার হয়েছিলো? এদের জীবন কোথায় কীভাবে গুরুতর ঝুঁকিতে ছিলো? আপনি জানেন সবটা মিথ্যা, আপনি জানেন উন্নত জীবনের খোঁজে তারা জালি কাগজ বানিয়ে সে দেশের আদালতকে বোকা বানিয়েছে। কিন্তু খাতায় কলমে ওরা সকলেই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক হিংসার শিকার, দস্তুর মত ‘খাঁটি’ প্রমাণ পেয়েছে বলেই আদালত তাদেরকে নাগরিকত্ব মঞ্জুর করতে কসুর করেনি। এটা শুধু আমেরিকার তথ্য দিলাম, এমন করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ সর্বত্র দলে দলে ভারতীয় হিন্দুরা পাড়ি জমাচ্ছে একই উদ্দেশ্যে, একই অজুহাত খাঁড়া করে। 

২০১৪ থেকে এদেশে অত্যাচারের শিকার মুসলমান আর দলিতেরা, তাদের কতজন এই অজুহাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে? ২০২০ এর দিল্লি দাঙ্গায় কতজন মুসলমান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে? নব্য আমেরিকান ৪৯৭০০ জন ভারতীয়র মধ্যে সবচেয়ে বেশী মানুষ গুজরাত থেকে গেছে, দ্বিতীয় পাঞ্জাব থেকে, তৃতীয় মহারাষ্ট্র থেকে। গুজরাত মডেল, RSS এর আরেক ছানা APP ও মহারাষ্ট্রের ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্য গণতান্ত্রিক কাঠামোটা পরখ করে নিতে পারবেন এখানে। মোল্লা শাসিত গণতন্ত্রহীন মধ্যপ্রাচ্যে ভারতে অসুরক্ষিত ‘অত্যাচারিত’ হিন্দুরা কিসের আশায় আশ্রয় নিতে গেছে? এই ব্যাখ্যাটা যদি নাগপুর করে দেয় তো বড় ভালো হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কোনো হিন্দু চুরির পথে এদেশে এলে, সে সত্যিকারের ‘মোল্লাদের অত্যাচারের’ শিকার হয়ে যায়। তার আর কোনো ধান্দা আছে কল্পনা করাও যেন মহাপাপ। যুধিষ্টিরের পর সত্যবাদীতাতে একমাত্র মানদণ্ড হচ্ছে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী অবৈধ হিন্দুটি। এদের হয়ে রুদালি গাইতে ডান, বাম, রাম সব দলের একই নীতি, বিশেষ করে ব্যাক্তিটি যদি পঞ্চম প্রজন্মেরও বাঙাল হয়, সে ও ফুঁপিয়ে উঠছে রীতিমত। বস্তুত, যে ১৯৪৭ সালে এসেছে এবং যে ২০২৪ সালে এসেছে উভয়ের মধ্যে বক্তব্যের কোন পার্থক্য নেই। ধর্মীয়ভাবে হিন্দুর ক্ষেত্রে- আমি একবার ঢুকে পড়েছি অতএব এই দেশ আমার বাপের দেশ, আমি ফিরে যাব না। বাঙালদের পূর্ববর্তী, বর্তমান বা পরবর্তী প্রজন্মের ৯৯%কে দেখবেননা তারা দেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত হতে চেয়েছে বা চাইছে। দু একটা ব্যাতিক্রম ছাড়া কেউ ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিএসএফ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হয়ে কাজ করেনা।

কদিন আগেও একটা প্রতিবেদন লিখেছিলাম এই বিষয়ে- কেন বাংলাদেশীরা এদেশে আসে! আচ্ছা, ধর্মীয় অত্যাচারের কারনে পালিয়ে এসেছে বলে যারা দাবী করে, তাদেরই বাবা, মা, বোন, মাসি, পিসি, মামা, কাকা, জ্যাঠা সহ অধিকাংশ আত্মীয়স্বজন গুলোকে কোন মোল্লার ভরষাতে ও দেশে রেখে আসে? কীভাবে তাদের পেট চলে বছরের পর বছর? কোন ইউনিয়নের কোন থানাতে গিয়ে তাদের উপরে হওয়া অত্যাচারের বর্ননা নথিবদ্ধ করে আসে? এদেশে একবার স্থায়ী হয়ে গেলেই, প্রতি বছর যে নিত্য দু-দেশের মাঝে যাতায়াত, সেখানে কেন কোনও সমস্যা হয়না ধর্ম নিয়ে? এত শয়ে শয়ে অবৈধ মুসলমান অনুপ্রবেশকারী দেখা যাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগণার হাকিমপুর, নদীয়ার হাঁসখালি, সুন্দরবনের ফ্রেজারগঞ্জ সহ নানান বর্ডারে, এদের উপরে কোন ধর্মীয় অত্যাচার হয়েছিলো? 


আসলে ধর্মীয় মোড়ক হলো বুজরুকি, ভণ্ডামি, এবং ৯৯% মিথ্যাচার। ধর্মকে হাতিয়ার এদেশে ঢুকে পরাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য, যেমন ইউরোপ আমেরিকায় করে। আমেরিকা যেতে গেলে লক্ষ কোটির গল্প, ভাষার সমস্যা, চামড়ার রঙের সমস্যা। ভারতে সে সব বালাই নেই, উপরন্তু ২০০ টাকার খরচাতে ঢুকে পরা যায়। এই কারনে এরা ভারতে এসেছে, এর মধ্যে কোনো হিন্দু প্রেম নেই, কোনো হিন্দুরাষ্ট্রের গল্প নেই। একবার নিজের পা জমে গেলে তখন একে একে আত্মীয় পরিজনকে নিয়ে এসে স্থায়ী হয়। এদিকে ১৯৯৭ সালে কলকাতার পিজি হসপিটালে জন্মেছিল যে বাবুটি, যে জীবনে বাংলাদেশের বর্ডার চোখে দেখেনি, সে অবধি ফেসবুকে আড়াই লাইনের হ্যাজ লিখছে- মোল্লাদের অত্যাচারে ও দেশের লোক ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

মেদিনীপুর শহরের একটা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটা প্রান্তে পুরো একটা ছোটখাটো গ্রাম গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের ভোলা জেলার মানুষদের দিয়ে। তাদের দাবী, আমফান ঝড়ে সর্বহারা হয়ে এদেশে চলে এসেছে। আইতে শাল যাইতে শাল, তার নাম বরিশাল; এই দেশে এসে গল্প শোনানো সেই লড়াকু বরিশালীদের ভোলার বুকে শুধু আইলা আমফান ঝড় আছড়ে পড়েনি, আমাদের দেশের অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা, পূর্ব মেদিনীপুর কিম্বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষেরা দগদগে ঘা নিয়ে নিয়মিত লড়াই করে টিকে আছে। নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো মালদা মুর্শিদাবাদের মোল্লারা কেউ আরব দুনিয়ায় ‘ভীর’ সেজে ছুটে পালিয়ে যায়নি। শুধুই মেদিনীপুর শহর নয়, হুগলি জেলার ডানকুনি, গোবরা, রিড়ষা, বাঁশবেড়িয়া, হাওড়া জেলার বাঁকড়া, রামরাজাতলা, বালি, বেলুড়, উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, নিউটাউন, গোপালপুর, সেক্টর ফাইভ সমেত বেশিরভাগ অঞ্চলে যা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে তার সবগুলোই মূলত অবৈধ বাংলাদেশীদের দ্বারা গঠিত হিন্দু বস্তি।

বনগাঁ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমানের কথা আলাদা করে বললামনা, এখানে ঠগ বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাবে। মেদিনীপুরের এই বাংলাদেশী লোকগুলো অবলীলায় বলছে আমাদের কার্ড থাকুক না থাকুক আমরা এদেশেই থাকবো, অর্থাৎ মধুটা ধর্মে নয়- কাজের সুযোগের গল্পে এমন মরিয়া হয়ে উঠেছে এদেশে থেকে যেতে। সুতরাং, মুখে স্বীকার করুক বা না করুক, তারা মোল্লার অত্যাচারে নয়, পাতি না খেতে পেয়ে চোরের মত রাতের আঁধারে দালাল ধরে সীমান্ত টপকে এসে এখন ‘হিন্দু’ সাজছে। এদেশে একবার পা জমে গেলেই এরা আমাকে আপনাকে দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেবে আর আরএসএস শিবিরে নাম লিখিয়ে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তির ইতিহাসে নাম লিখে অমর হয়ে যাবে।

২০১৬ পরবর্তী এ রাজ্যের যেকোনো সাল থেকে যেকোনো নির্বাচন মিলিয়ে দেখলে বুঝবেন, উদ্বাস্তু কলোনী গুলিতে সিপিআইএম তথা বামফ্রন্টের ভোট - তৃণমূল বা বিজেপির পেছনে তৃতীয় স্থানে দাঁড়িয়ে আছে। কোথায় গেল সেইসব বাঁশবেড়িয়া, কাটোয়া, দমদম, টিটাগড়, নোয়াপাড়া, বিজয়গড়, যাদবপুর, বেহালার লেলিন কলোনির আন্দোলনের ইতিহাস? পাথরের মত জমাট বাঁধা ভোট? ইতিহাসের কোন গহ্বরে লুকিয়ে গেল প্রশান্ত শূর জামানার পরবর্তী প্রজন্ম !

সেইকালে এরা সিপিএমকে ব্যবহার করেছিলো, রক্তে বেইমানি, তাই সিপিএমকে ল্যাঙ মেরে এদের উত্তর পুরুষেরাই আজ বলে কমিউনিস্ট মানেই দেশের শত্রু। স্বাভাবিকভাবেই আজকে যারা সদ্য সদ্য ভিখারিপনা করে এখন এদেশের নাগরিকত্ব দাবী নিয়ে হাহাকার করছে, পা জমে গেলেই এরা আমাকে আপনাকে দেশদ্রোহী হিসাবে দাগিয়ে দেবে, এদের জিনে রয়েছে হারামিপনা, বেইমানি, পলায়নপর ধান্দাবাজি।


আপনি এদের জন্য আহা ভেবে আকুল হয়ে যাচ্ছেন, প্রতিটা দলের আঁটি সেলের হ্যাজ আর ফরোয়ার্ডেড হোয়াটস্যাপ মেসেজের ভিড়ে আবেগের সিকনিতে বুক ভিজিয়ে ফেলছেন। কতগুলো ধান্দাবাজ, চিটিংবাজ, মিথ্যেবাদী, পলায়নপর মানসিকতা যুক্ত লোকের জন্য দরদ উথলে পড়লে বুঝে নিতে হবে, আপনার শরীরেও দিনের শেষে সেই একই জিন দৌড়াচ্ছে।। আবেগটা শুধু মাত্র সঠিক ব্যাক্তিদের জন্যই নাহয় সংরক্ষিত থাকুক, যারা সত্যি সত্যি বাধ্য হয়েছেন ছিন্নমূল হয়ে। প্রতিটি অবকাঠামোগত বিষয়ে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, খাদ্য, প্রযুক্তি, রেলপথ, সড়কপথ এবং বিমান পরিবহণে ভারত- বাংলাদেশ বা নেপালের তুলনায় বিপুল বড় এবং উন্নত নেটওয়ার্ক যুক্ত। ভারতের বিশাল অর্থনীতি এবং শিল্পায়নের কারণে এখানে উন্নত জীবনযাত্রা জনিত সুযোগ-সুবিধা ও বিলাসবহুল পণ্যের সহজলভ্যতা বেশি। উচ্চতর মাথাপিছু অর্থনৈতিক সক্ষমতার মাধ্যমে জীবনযাত্রার উন্নত মান বজায় রাখা ভারতে তুলনামূলক সহজ। আর এটাই এই অনুপ্রবেশের একমাত্র কারন, এখানে ধর্মের ভাঁওতাবাজি স্রেফ মুখোশ।

একটা মিম বাজারে ঘুরছে, ‘বিবাহিত মহিলারা সাবধান হয়ে যাও। বহু পীড়িত স্বামী নাকি ইচ্ছাকৃত ভুলভাল SIR ফর্ম ফিলাপ করে দজ্জাল বৌকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে চাইছে ভায়া ডিটেনশন ক্যাম্প”। সন্দেহ নেই, বিষয়টা নিছক মজার জন্য বানানো, কিন্তু সত্যিই যাদের বাংলাদেশ বা ডিটেনশন ক্যাম্পে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের মাঝে ঠিক কতটা আতঙ্ক কাজ করছে তা আমরা কল্পনা করতে পারবনা কোনোভাবেই। ধান্দাবাজদের অবশ্য ততটা সমস্যা নেই, ওপাড় বাংলাতে তাদের সকলের বাবা, মা, আত্মীয় স্বজনেরা আছে। ছিন্নমূলদের পাশাপাশি সমস্যা হচ্ছে সেয়ানাদের, যারা উত্তরবঙ্গের সিতাই, হেমকুমারী, দক্ষিণবঙ্গের সন্দেশখালি, ধামাখালি, বয়রা, ঘোজাডাঙ্গা ও বনগাঁর আশপাশ দিয়ে দালাল ধরে রাতের আঁধারে এ দেশে ঢুকে ভেবে নিয়েছিলো- এটাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, মোক্ষ লাভ হয়ে গেছে। ওপাড়ের সব ধীরে সুস্থে বেচে দিয়ে এপাড়ে এসে ‘ভিরাট’ হিন্দুবীর হয়ে বসে গেছেন- সমস্যা মূলত এনাদের।

সমস্যা আরেকটা গোষ্ঠীর আছে। গতবছর বাংলাদেশের পালাবদলের পর আওয়ামী লীগের বড় অংশের লোক ভারতে ঢুকে পড়েছিলো। এদেরকে হয়তবা খানিকটা ছাড় দিয়েই বর্ডার পেরোতে সাহায্য করেছিলো ভারত সরকার, সেই ফাঁকে আওয়ামীলীগের ছদ্মবেশে বহু ধান্দাবাজও ঢুকে পরেছিলো। তাই এখন, এমন মুসলমানও ধরা পড়বে, যারা আদব কায়দাতে একটু ভদ্রলোকও বটে, এরা কেউ কিন্তু স্থায়ীভাবে থাকতে আসেনি, প্রাণের ভয়ে পালিয়ে এসেছিলো। এতোদিন উভয়েই বেশ সানন্দ্যে ও সাচ্ছন্দ্যেই ছিলো, এখন মুসলমান গুলো ফিরে যাচ্ছে। ফলত, যাদের বর্ডারে দেখা যাচ্ছে এরা প্রায় সকলেই মুসলমান, কিন্তু যেগুলো হিন্দু আওয়ামিলীগ, তারা কিন্তু কোনোমতেই এ দেশ থেকে আর যেতে চাইছে না। 

সীমান্তের বিভিন্ন ভিডিওতে স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশী মুসলমান মূলত কর্মসূত্রে এদেশে এসেছিল অবৈধ উপায়ে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তারা ওই দেশের কোন জেলা, কোন ইউনিয়নে বাড়ি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি ও গন্ডগোলের কারনে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে মনে কোন দ্বিধা দুঃখ নেই। কিন্তু হিন্দুরা কোনো শর্তে যেতে রাজি নয়। দালালের মাধ্যমে ভারতে ঢুকে এসে, তিন দিন পরে এরাই বলবে রক্ত দিয়ে কেনামাটি, ইত্যাদি। সুতরাং, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী হিন্দু মানেই সে মুসলমানের অত্যাচারের শিকার ব্যাপারটা তেমন নয়। এতদিন এদেশের জলহাওয়া খেয়ে, বিজেপি-RSS এর সাথে থাকতে থাকতে একটা বুলি শিখে গেছে- আমাকে মোল্লারা মেরছে। এটাই তার কাছে এদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার গায়েত্রী মন্ত্র।


এই মুহুর্তে আমাদের সমাজের মূল সমস্যা তিনটে। প্রথম হচ্ছে বেকারত্ব, মানুষের হাতে কাজ নেই। দ্বিতীয়ত, ঘরে একটা গৃহসহায়ক, ড্রাইভার, মালি কিম্বা ভালো একটা কর্মচারীর সন্ধান করুন, দেখবেন লোক খুঁজে পাবেননা। অর্থাৎ কাজের মানুষ নেই। তৃতীয়, আমাদের আশেপাশে যে সকল লোকজন কাজ করছে, তাদের দিকে চেয়ে দেখুন; সেটা আমার আপনার ঘরে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হোক, সর্বত্র একটাই সমস্যা- এরা কোনো কাজের নয়, পুরো বেকার লোকজন। বিশেষ করে সরকারী দপ্তরগুলোতে, দুটো লোকও সঠিক কাজের কাজী এমন পাবেননা খুঁজে। এটাই হচ্ছে দেশের মূল সমস্যা। সুলভ হলো শুধু সময়, সকলের হাতে বিপুল সময়। সুতরাং, জনগণ হুলিয়ে সারা সারা দিনরাত কূটকচালি, কলতলার ঝগড়া, খাপ বসানো, বিশেষজ্ঞ, আঁতেলপনা, ফুট কাটা ফুটো মস্তান, নীরব দর্শক, বিপ্লবী ইত্যাদির সাথে অকারন নিন্দাচর্চার জন্য সময়ই সময়। সোস্যাল মিডিয়াই আজকের মনোরঞ্জনের মূখ্য মাধ্যম, তাই SIR কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ‘টপিক’ এর ঘাটতি নেই দেশে।

এপার ওপার বলে কিছু হয় না, হিন্দু মুসলমান বলেও নেই। দেশ ভাগ বাঙালির বুকে একটা দগদগে ঘা। কিন্তু দেশভাগের ছিন্নমূল হওয়ার ইতিহাস আর ধান্দাবাজির পলায়ন বৃত্তি দুটোকে এক সুতো দিয়ে বাঁধা যাবে না।


...ক্রমশ

শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫

SIR- একটি মানবিক বিপর্যয়


বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের যাবতীয় সমস্যার প্রায় গোটাটাই হচ্ছে SIR এর কারনে, অন্তত রাজ্যের শাসক শিবিরের মতে সেটাই। প্রায় লক্ষাধিক BLO গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কাজ করছেন নৈপুন্যতার সাথেই; তবে, প্রত্যেকের অতীতে শারীরিক অসুস্থতা হয়েছিলো, আগামীতেও হবে। কিন্তু এই মুহুর্তে অসুস্থ হওয়া মানেই সেটা ‘কাজের প্রেসার’। আচ্ছা, এই SIR এর সাথে যুক্ত না হলে এই ১ লক্ষ মানুষের কারো কোনো রোগজ্বালা হতোনা এই সমসাময়িক কালে? হাঁচি, কাশি, গ্যাস, অম্বল, আমাশা, মাথাব্যাথা, দাম্পত্য কলহ, পথ দুর্ঘটনা- যে কারো যখন খুশি মৃত্যুও তো হতেই পারত বা পারে! কিন্তু না, যেহেতু কালিঘাট অফিসিয়ালি SIR এর বিরোধী, তাই সব দোষ একা SIR এর।

SIR বিষয়টা ঠিক না ভুল, প্রসেসটা সঠিক নাকি বেঠিক, উদ্দেশ্য সাধু না অসাধু তা আলাদা ও বিষদ আলোচনার বিষয়, আজ আমরা সেখানে ঢুকবোনা। আজ একটু অন্য দিকটা দেখি।

একটা পোলিং বুথ মানে এলাকাটা একটা পাড়ার একটু বেশী। আজকাল একটা বুথে সর্বোচ্চ ভোটার সংখ্যা ১০০০ এর নিচে, ব্যাতিক্রমী ছাড়া, কমবেশী ২৫০টি পরিবার। ৮ ঘন্টা কর্ম দিবসের মধ্যে ৬ ঘন্টা করেও যদি ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার প্রসেস চলে, সব মিলিয়ে সেটা ১৪ দিনও লাগেনা। ফর্ম ফিলাপের দায় BLO এর নয়, না সেখানে ভুল আছে কিনা তা অরিজিনাল নথির সাথে মিলিয়ে দেখার দায় রয়েছে। এরপর রইল এই ১০০০ ফর্ম অনলাইনে তুলে দেওয়া ঘরে বসে। আমাদের মত যাদের কোনও এ্যাকাডেমিক ডিগ্রি নেই কম্পিউটার বিষয়ে বা ডেটা এন্ট্রিতে, তারাও দিনে ৮০/১০০টা ফর্ম আপলোড করেই দেবো সারাদিনে- যখন এটাই আমার একমাত্র পেশাজনিত ডিউটি। এই কাজের মধ্যে সেই মহামারী ‘প্রেসার’টা কোথায়?

আমরা যারা ব্যবসা করি তারা সকাল ৭টার আশেপাশে দোকান খুলি, কেউ দুপুরে বন্ধ করি, কেউ করিনা। আবার রাত ৯টা অদধি ঝাঁপ খুলে প্রতীক্ষা করতে থাকি খরিদ্দারের। যারা গতরে খাটি, তাদেরও সামান্য অবসর বাদে বাকি কর্মদিবসের সময়টা শরীরের ঘাম রক্ত নিংড়ে নেয়। আমার নিজের বর্তমান পেশা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের, হোটেলে থাকলে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা অবধি সমানে টহল মারতে হয় যখন যে লোকেশনে থাকি। এর সাথে মার্কেটিং এর জন্য ৩টে ফোনে ৫টা সিম, একটা ট্যাব একটা ল্যাপটপে সমানে কল-মেসেজের জবাব, রেট দেওয়া, বার্গেনিং, আইটিনিনারি বানানো সবটাই একপ্রকার নিজেকে করতে হয়। যতই ম্যানেজারেরা থাকুক, রানিং টুরিষ্টদের নানান সুবিধা অসুবিধার একটা অংশ আমাকেই সামলাতে হয়।

তাতে রাত ১২টা না ভোর ৫টা বাজে সেই গণনা করার সুযোগই নেই! কাস্টমারকে রেট/আইটিনিনারি দিতে লেট করলে সে অন্যত্র পালাবে, আমার ভাগে ফক্কা। ভোটের ট্রেনে নেমে ড্রাইভারকে খুঁজে না পেলে ফোনটা আমাকেই রিসিভ করতে হয়। এরপর যেদিন যে কর্মচারী আসেনি, নিজেকে সেই পদে বহাল হতে হয়। ধোপা, কুক, হাউজ কিপিং, সুইপার, রিসেপসনিষ্ট, ক্যাশিয়ার, বাজার সরকার, দারোয়ান সব পদে স্বনিয়োজিত হতে হয়, কারন আমি জানি আমি গাফিলতি করলে লোকসান একমাত্র আমার। লোকের অভাবে পরিষেবায় ঘাটতি হলে টুরিস্ট সেটা বুঝবেনা, গুগুলে নেগেটিভ রিভিউ খেলে আমারই ব্যবসা ঝাড় খাবে। এরপর ব্যাঙ্ক, GST সহ অন্যান্য সরকারী অফিসিয়াল কাজ রয়েছে, সব কাজ এক সমান্তরালে চলতে থাকে, এবং বিষয়টাকে দারুন এঞ্জয়ও করি। অভিযোগ কিছু থাকলেও শুনছেটা কে?

আমি আমার তথ্যটা দিলাম, প্রতিটা বেসরকারি চাকুরে, ক্ষুদ্র বা মাঝারি ব্যবসাদার, শ্রমিক, কৃষকের একই হাল। প্রত্যেককে একই সাথে একাধিক ঝক্কি এক সমান্তরালে পোয়াতে হয়, এটাই জীবন, জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ জানতে বাধ্য হতে হয়। যেহেতু আমাদের মাসিক মাইনের সুরক্ষা নেই, PF নেই, DA নেই, গ্রাচুইটি নেই, পেনশান নেই- তাই আমাদের কখনই প্রচণ্ড ‘প্রেসার’ সেভাবে অনুভূত হয়না জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে। আসলে BLO লেভেলের কর্মীদের ‘আসল’ কাজের দায়িত্ব কতটুকু থাকে? হয় তাঁরা প্রাথমিক শিক্ষক/শিক্ষিকা বা গ্রুপ ডি কর্মী। তাদের কাজকে সম্মান জানিয়েই বলছি, তাদের চেয়ে একজন প্রাইভেট টিউটরকে অনেক বেশী শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়, অনেক বেশী দায়িত্ব আর অনেক বেশী জবাবদিহিতা করতে হয়, আর এটা রোজকার বিষয়। অনেক বেশী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত হয় যেকোনো বেসরকারী কর্মী বা ব্যবসায়ীদের। তাই SIR এর ১ মাসের প্রেসারে যে কর্মীরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, তাদের সরকারী চাকরি থেকেও অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা হোক। শরীরের সমস্ত ব্যাথা বেদনা পর মুহুর্তে গায়েব হয়ে গিয়ে আরবি ঘোড়ার মত মাঝরাত্রেও দেখবেন দৌড়াবে। এনারা বাস্তবিকিই আনফিট অকর্মন্য। ভাবুন একজন যেকোনো পদের আমলা, একজন পুলিশকর্মী, একজন ডাক্তার তাহলে কী পরিমান প্রেশার নেন রোজ!

কখনও ভেবে দেখেছেন যারা দিনমজুর, যারা পরিযায়ী তাদের কথা? যারা বৈধ হয়েও SIR এর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তাদের কথা? যারা তথাকথিত ‘অবৈধ’- এদের না আছে কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, না আছে কোন সেভিংস, না আছে কোন পিছুটান। মরলে কোথায় কি নামে পোড়ানো হবে, নাকি কবর দেওয়া হবে কেউ কিছু জানে না। এবেলা কামিয়ে না আনলে ওবেলা কি খাবে তার কোন হিসাব নেই। সেখানে পরের দিন কি খাবে সেই ভাবনা তো বাহুল্যতা। তবুও স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আগলে রাখে, তাদের সন্তানকে আগলে রাখে। যাদের বাবা-মা আছে, তাদেরকেও নিজেদের পাশে পাশে রাখে।

গরীব যে সকল মানুষ সামনের মাসে ‘অবৈধ নাগরিক’ হয়ে যাবে, সেই লোকটা কোথায় জন্মেছিল তার কোন ঠিক ঠিকানা রইবেনা। কোথায় কার সাথে কি ভাবে বিয়ে হইয়েছি তার কোন লেখাজোখা নেই, আদৌ কে তার নাম রেখেছিল, কি কারণে নাম রেখেছিল, কি ধর্ম, কি করেই বা তার ধর্ম ঠিক হয়েছিল তার কোন হদিশ পাওয়া যাবে না। কার সন্তান কার গর্ভে কবে জন্মগ্রহণ করছে, কি তাদের বয়স, কোথায় শিক্ষা হবে, কিভাবে শিক্ষা হবে, কি তাদের মাতৃভাষা হবে, কি তাদের শিক্ষার মাধ্যম হবে- কারোর কাছে কোন কিছুর হদিস থাকবে কী? পুঁজিবাদের কাছে শুধু এদের একটাই পরিচয়- কম পয়সায় লেবার। এদের কতজনের স্ট্রোক হয়েছে? কতজনের ‘প্রচন্ড প্রেসার’ নিয়ে মিডিয়া সরগরম হয়েছে? কেউ কি তার খবর রেখেছে?

কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যখন নাৎসিরা ইহুদিদের ধরে এনেছিল তখনও তাদের একটা নাম ছিল, সংখ্যা ছিল, একটা অস্তিত্ব ছিল, আজকে যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বর্ডারের ধারে ভিড় জমিয়েছে তাদের অধিকাংশের সেটুকুও নেই। আপনি হয়ত মিডিয়ার পড়ানো চসমাতে দেখে ওদের মুসলমান বা হিন্দু হিসাবে দেখছেন, আসলে তো তারা আমার আপনার মত রক্তমাংসের মত মানুষ। অথচ কী নির্লিপ্ত। একজন অবলীলায় বলে চলেছে- আমাকে আবার মায়ানমারের ওই রিফিউজি ক্যাম্পে ফেরত যেতে হবে। সাথের মহিলাটা অনেক বেশি সজাগ, সে বলছে- ওখানে যাওয়া যাবে কিনা সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পৃথিবীর ইতিহাসে যারা ঘোষিত যাযাবর জাতি তাদেরও একটা চলার ছন্দ ছিলো বা আছে, এদের ক্ষেত্রে সেটুকু খুঁজে পাওয়া গেল না, এটাই চরম আফসোস।

আগামীতে SIR কেন্দ্রিক শয়ে শয়ে মহাকাব্য লিখবেন সাহিত্যিকেরা, কিন্তু আমরা চোখের সামনে যেগুলো দেখছি দু-একটা, যদি সেখান থেকে কিছু তুলে রাখা যেত আগামী প্রজন্মের জন্য, তাহলে তারা সিনেমা উপন্যাস কিংবা অন্য কোন মাধ্যমের কাছে আদান-প্রদানের জন্য গবেষণার কাজে ব্যবহার করতে পারত। এই ‘নেই’ মানুষদের মধ্যে যৌন উত্তেজনা স্বাভাবিক, শুধু সেই কামনার বসেই হয়তো অনেক মানুষের জন্ম হয়ে গেছে- সেই দোষের দোষী এই নব প্রজন্মটা, সে জানেইনা কোন দোষে তার কোনো দেশ নেই। পাল ছিঁড়ে যাওয়া নৌকাটা কোনদিকে যাবে সে জানেনা, কিন্তু এটুকু অন্তত জানে যে আমি নদীর বাইরে যাব না। এর ক্ষেত্রে সেইটুকু নিশ্চয়তাও নেই।

আমাদের মত স্থায়ী বাসিন্দা হবার সৌভাগ্য যাদের জুটেছে, তাদের সবচেয়ে গরিব যে মানুষটা দিন আনে দিন খায়- তারও কিন্তু একটা নিজের ঠিকানা রয়েছে। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার হয়ত শরীর চলছে না, হয়তো ব্যবসা বা পেশা আপনাকে সেভাবে সহায়তা করছে না, কিন্তু আপনি জানেন যে আমার একফালি জমি আছে গাঁয়ে, যেখান থেকে ফসল ফলিয়ে অন্তত বেঁচে যাব, কিম্বা দিনমজুরি করে খাবো। দুর্ঘটনাতে বা অপঘাতে মৃত্যু হলেও শব যাত্রায় অন্তত চারটে লোক যাবেই, যদিনা দূর বিদেশ বিভূঁইতে বেওয়ারিস হয়ে মারা যায়। এখানে যারা ‘অবৈধ’, তার জাত যা খুশি হোক, সেই লোকটা মরলে তার হয়ে কাঁদার মত কেউ থাকছে না। একটা দল এগিয়ে চলেছে অজানার দিকে, এতদিনের চেনা পরিচিত পরিবেশ, পাশের লোককে ফেলে দিয়ে। তার জন্য অনুশোচনা করার সময়টুকু অবধি কারো নেই। ছিন্নমূল শব্দটা শুনেছিলাম, এভাবে চোখে দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলামনা মোটেও।

কটাদিন ধরে আমি কিছুই লিখতে পারছি না, মানে কিরকম একটা করছে শরীরের ভেতরটা। পলায়নরত মানুষের ইন্টারভিউ গুলো দেখছি আর শুনছি, ভাবলেশহীন শূন্য চোখ গুলো দেখে বুকের ভেতরটা কি রকম কেঁপে কেঁপে উঠছে। এই পরিবেশ পরিস্থিতিতে কে তৃণমূল কে বিজেপি কে সিপিএম, এই সব ছাপিয়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টা বড় হয়ে উঠেছে। ৩০ বছর পর যারা আজকের দিনকে পিছন ফিরে দেখবে, তারা আজকের এই অসহায় পরিস্থিতি নিয়ে, মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করবে। তৃণমূল বা বিজেপি কেউ কোথাও থাকবেনা সেদিন। তৃণমূল নামটারই অস্তিত্বই হয়ত মুছে যাবে। সেদিন আলোচনার বিষয়বস্তু থাকবে শুধু কম পয়সার লেবার, অর্থনীতি, মানবিক বিপর্যয় এবং মানুষের অসহায়ত্ব।


হিন্দু, মুসলমান, বিজেপি, তৃনমূলের বাইরে গিয়ে আপনি কীভাবে দেখছেন গোটা প্রক্রিয়াটাকে?

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

দাম্পত্য কলহঃ নেপথ্যে

 

কলহ

আমদের ব্যাক্তি জীবনে প্রত্যেকের নিজ নিজ নীতি ও আদর্শ রয়েছে। সৎ মানুষের সৎ নীতি, সৎ আদর্শ; অসৎ এর তার নিজের মত করে, নীতিহীনের আদর্শ দুর্নীতি- ক্ষ্যাপা ছাড়া প্রত্যেকে আমরা আদর্শের উপরে মোটামুটি অটল থাকি। এরপর রোজ জীবনে বহু ঝড়ঝাপটা আসে, রোজকার লড়াই নিজের নিজের মত করে নিজ নিজ পরিসরে লড়তে হয়। বহু ভাবে আমরা আদর্শচ্যুত হই রোজ, আপস করি, দ্বন্দে ও ধন্দে পরে নিজেকে দুমড়ে মুচরে নিত্য ভাঙাগড়া করে নিই- বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। জীবন খরস্রোতা নদীর মত, পরিকল্পনার ধার ধারে না। তাই দৈনিক কিছু সমস্যা অযাচিতভাবে উদয় হয়। তবে মনের অন্দরে ‘আমি একলা’ অনুভূতি ঢুকে গেলে, যাবতীয় সম্পর্কের চেনা পরিসরটাও অচেনা লাগা শুরু হয়। ক্রমশ চির চেনা ‘আমি’র সাথেই দুরত্ব বাড়তে থাকে

বাচ্চা বয়সে যত দ্রুত শিখি আমরা, ভুলেও যায় তত দ্রুতই। সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মত কিছু অভ্যাস ব্যাতিরেকে বাকি সমস্ত শিক্ষাকে নিয়মিত অনুশীলন না করলে ভুলতে বেশী সময় নেয়না আমাদের মস্তিষ্ক। সামাজিক ও সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলো উন্মত্ত যৌবনে আমাদের মাথার উপর দিয়ে বয়ে যায়, কিন্তু আমাদের এই চল্লিশের কোটার বয়সটা বড্ড দুর্বোধ্য, কে ঠকাচ্ছে, কোনটা রহস্যময়, কোনটা ছলনা, কোনটা অস্পষ্ট, কোনটা ইচ্ছাকৃত পর্দাটানা হয়েছে, এই সকল নিগূঢ় বিষয় গুলো মস্তিষ্ক ধরে ফেলে। ধরে ফেলার পর বিশ্লেষণ করে একটা সিদ্ধান্তেও এসে পৌঁছে যায়, সমস্যা হলো স্পষ্টভাবে মনের সেই ভাবকে প্রকাশ করতে পারিনা। একটা সামাজিক সংশয়, চক্ষুলজ্জা জনিত কুন্ঠা, সম্ভাব্য অস্থিরসঙ্কল্পতা, মানসিক অনিশ্চয়তা- স্পষ্টবাদী হতে নিবৃত্ত করে আমাদের।

তাই চোখের সামনে গোটাগোটা মিথ্যাচার, মোটাদাগের ছলনাময় মৈত্রী বা অনুরক্তি, কৌশলগত কথোপকথন, এর সাথে নির্লজ্জ ও বেহায়ার মত একটা ব্যবধানের সীমারেখা টেনে নেওয়াকে আমরা কেবল সহ্য করে নিই। অসহনীয় হয়েছো মানেই ধরণী পপাত চ। সমস্যা তার বেশী হয়, যে নিজে থেকে আগ্রহী হয়ে সম্পর্কের ছিঁড়ে যাওয়া তন্ত্রীটিকে আবার গিঁট বেঁধেছিল। সে না পারে কইতে, না পারে সইতে। এক দমবন্ধ প্রেসারকুকার পরিস্থিতি জীবনের স্বাভাবিক স্বস্তি কেড়ে নেয়

কেন হয় এই অশান্তি?

মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলে, প্রায় ৭০% দাম্পত্য কলহের পেছনে সরাসরি দায়ী ভুল যোগাযোগ বা যোগাযোগের অভাব। কী বলছি, কী বলতে চাইছি তার মধ্যে আকাশ পাতালের ফারাক। মন দিয়ে শুনতেই চায়না কে কী বলছে, ফলত অধিকাংশটাই অনুমান করে নিতে হয়। বহু দাম্পত্যে যখন তারা একত্রে বসার সময় ও সুযোগ পায় পৃথিবীর সমস্ত কাজ ও দায় মিটিয়ে, তখন সেই মুহুর্তেও কেউ অফিসের কাজে, ফোন ঘাঁটতে বা বই পড়তে ব্যস্ত হয়ে যায়, কেউ কেউ আবার ঘুমিয়ে যায় অদ্ভুতভাবে। এরপর যখন সোহাগ ভালবাসার প্রশ্ন আসে, কথা মন দিয়ে শোনা তো অনেক দূর- সম্ভাষণেই রাগে ফেটে পড়ি। সামান্য ভুলগুলো, যেগুলো আসলেই পাতি গুরুত্বহীন, সেই বিষয় গুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে দিন রাত ঝগড়া অশান্তি নিত্যকার চিত্র হয়ে উঠে। আমাদের দম্ভ, জেদ, অহংকার ভুলিয়ে দেয় যে- স্পষ্ট, সরল ও সময়োপযোগী যোগাযোগই ভুল বোঝাবুঝির প্রাথমিক প্রতিষেধক

এর সাথে থাকে অতীতের আঘাত ও অবিশ্বাস, যে ক্ষত পুরোপুরি শুকায় না, ফলত বারবার ফিরে আসে। নতুন প্রতিটি ঘটনাকে পুরাতন চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়, সামান্য নির্বিরোধী নির্দোষ আচরণও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। অবিশ্বাসের পরিবেশে অশান্তির ছত্রাক নিজের স্বাধীনতায় কলেবরে বৃদ্ধি পায়। এই দুরত্ব ক্রমশ একে অপরের কাছে অভিব্যক্তি প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করে, কিম্বা প্রকাশ করলেও সেটা ভুল পদ্ধতিতেই করে। ফলত নিজের কষ্ট, অভিমান, চাহিদাগুলো জমতে জমতে হঠাৎ কোনও তুচ্ছ ঘটনার মাধ্যমে বিস্ফোরিত হয়। এই রাগ বা কষ্ট প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে চিৎকার, খিস্তিখেউর জন্ম দেয়

বাজারে সামান্য বেগুন কিনতে গেলে টিপেটাপে দেখে বুঝে কিনি, কিন্তু যখন প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা জীবন সঙ্গী নির্বাচন করি, যার সাথে গোটা জীবন কাটায় আমরা- সেখানে তেমন বাছবিচার করিইনা একপ্রকার। অথচ জীবনের সবচেয়ে কাঠিন ও জটিল এই অধ্যায়ে প্রবেশ করার জন্য ভাবা উচিৎ ছিলো। বরং বলতে পারা যায় যে আমরা ঝাঁপ দিই- কিছু না শিখে, না জেনে এবং না বুঝে একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায়। ফলত, সর্বপ্রথম মন ভেঙে যায়, এই পথ বেয়ে অর্ধেকের ঘর ভেঙ্গে যায়, বাকিদের ঘর হয়ত টিকে যায়, কিন্তু শান্তি নেই হয়ে যায়। এই কারণেই সংসারে থেকেও অনেকেই একাকিত্বে ভুগতে থাকেন। এটা এমন একটা সমস্যার ফাঁদ, না কাউকে বলা যায় আবার সহ্যও করা যায়না

জীবন রুটিন মেনে চলেনা, সে তার নিজস্ব ছন্দে চলে। যেখানে দুটো আলাদা আলাদা মানুষকে উভয়ের সাথে তাল মিলিয়ে একটা ‘কমন’ ছন্দ বানাতে হয়, সেখানে উভয়কেই কিছু ছাড়তে হয়, কিছু ধরতে হয়। পরিস্থিতি কখনো কখনো এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, এই সম্পর্কের কুম্ভীপাকে আর সব বাস্তবতাই মনে হয় তুচ্ছ। সর্বক্ষণ এক অদৃশ্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মোকাবিলা করাই তখন জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে উত্তরপত্রে নির্দিষ্ট জবাব লিখলে সফলতা মেলেনা, লিখতে লিখতে বারবার সময়ের পাতা উল্টে অতীতের সাথে বর্তমানকে মিলিয়ে, ভবিষ্যৎ কল্পনা করে করে উত্তর লিখে যেতে হয়। সময় প্রতি মুহুর্তে বদলে যাচ্ছে, তার সাথে বদলাচ্ছে বাস্তবতা, সেই মত একই প্রশ্নের শত সহস্র উত্তর তৈরি হয়ে যাচ্ছে। সেই জবাবকে সময়মত ধরতে না পারলেই ব্যর্থতা চিরসঙ্গী। এভাবেই একসময় সময় পেরিয়ে যায়, সব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা সত্ত্বেও ঠিকভাবে লিখতে না পারার ব্যার্থতা- জীবনকে কঠিন করে তোলে

আসলে আমরা সুস্থ থাকার লোভের ফাঁদে পরে, স্থিতিশীল জীবনকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলি। একা থাকার নানা অসুবিধা আছে, কিন্তু সুবিধা হচ্ছে দায় নিতে হয়না, জবাবদিহি নেই, বাধ্যবাধকতা নেই। এখানে এসেই স্বেচ্ছাচার আর স্বাধীনতার সুক্ষ ফারাক টুকু ঘুঁচে যায়। ভেতরে জমে রয়ে যায় কঠিন নীরবতা। ছোট্ট একটি কথার জের, কাজের বাহানাতে উপেক্ষা করা একটি ফোনকল বা মেসেজ, অজান্তে বা অনিচ্ছাকৃত করা কোনও মন্তব্য– এগুলোই সমস্যা তৈরি করে দুজনের মাঝখানে। প্রতিটি জীবনের নিজস্ব গতির ছন্দ রয়েছে, কিন্তু একটা নিভৃত পরিবারেরও রয়েছে নানা প্রত্যাশার চাহিদা। এই তাল মেলাতে গিয়েই অশান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী। এতে সম্পর্কের ভিতটা যেমন টলমল হয়ে যায়, তেমনই উষ্ণতাও ক্রমশ মিইয়ে যায়। তখন পরে থাকে কিছু তাত্ত্বিক কচকচি, আর বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অনুপযোগী কিছু হারানো স্নিগ্ধতা

জীবনের এই বাঁকে এসে দাম্পত্য বিষয়টি সমস্যার পর্যায়ে চলে যায়, অকারনে আমাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা এবং হতাশার উপসর্গ দেখা দেয়। অস্থিরতা বোধ নিত্য সঙ্গী হয়ে যায়, দুশ্চিন্তার মুহূর্তে হাত-পা ঘামতে থাকা, বুক ধড়ফড় করা আমাদের ভয়াবহ হতাশায় ডুবিয়ে দিয়ে বিষণ্ন করে তোলে। আমাদের খাবারে রুচি কমে যায়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, বহুলাংশে নিজেকে বন্দি বানিয়ে ফেলি, অসামাজিক হয়ে যায়, ফলত নানা ধরণের ক্রনিক অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। যা সত্যিকারের অসুস্থ করে তোলে

এক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী আদর্শলিপি মানা সমাধান নেই। হয় ভোগ করে যেতে হবে, মন্থনে একদিন অমৃত উঠবে- এই আশাতে নীলকণ্ঠ হয়ে অবেগ অনুভূতি বিসর্জন দিয়ে পদ্মপাতার মত পাঁকে থেকেও জলস্পর্শ না করে টিকে থাকতে হয়। অথবা সর্বত্যাগী হয়ে একা-বোকা ঋষি সুলভ সন্ন্যাস জীবনে জ্ঞানার্জনের পিছনে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। দুটোই কঠিন, কিন্তু তৃতীয় কোনো উইন-উইন সমাধান কিছু নেই

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫

কেন এতো নিরাপত্তা গাফিলতি?

 


নিচের প্রতিটি শব্দ সরকারি তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। পড়ে নিতেই পারেন।

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর ধ্রুব সাক্সেনা কে?
উত্তর: বিজেপি কর্মী

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর চমন লাল কে?
উত্তর: আরএসএস কর্মী

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর অচ্যুতানন্দ মিশ্র কে?
উত্তর: আরএসএস সদস্য

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর বিকাশ পান্ডে কে?
উত্তর: বিজেপি বুথ সভাপতি

প্রশ্ন: সন্ত্রাসী প্রজ্ঞা ঠাকুর কে?
উত্তর: বিজেপি সাংসদ

প্রশ্ন: সন্ত্রাসী অসীমানন্দ কে?
উত্তর: আরএসএস কর্মী

প্রশ্ন: সন্ত্রাসী সংগঠন অভিনব ভারত কাকে সমর্থন করে?
উত্তর: আরএসএস এবং বিজেপি।

প্রশ্ন: ব্রহ্মোস সম্পর্কে গোপন তথ্য চীনকে কে দিয়েছে?
উত্তর: আরএসএস কর্মী সন্দীপ মিশ্র

প্রশ্ন: অমরনাথ যাত্রা বাসে হামলার পরিকল্পনা কে করেছিল?
উত্তর: বিজেপি কর্মী সন্দীপ শর্মা

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর পঙ্কজ মিশ্র কে?
উত্তর: বিজেপি কর্মী

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর দীপক ত্রিবেদী কে?
উত্তর: বিজেপি কর্মী

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর পঙ্কজ আইয়ার কে?
উত্তর: বিজেপি কর্মী

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর সঞ্জিত কুমার, সঞ্জয় ত্রিপাঠী, বাবলু সিং, বিকাশ কুমার, রাহুল সিং, সঞ্জয় রাওয়াত, দেবশরণ গুপ্ত, রিঙ্কু ত্যাগী, ঋষি মিশ্র, বেদরাম কারা?

উত্তর: বিজেপি কর্মী, আরএসএস সদস্য

প্রশ্ন: পাকিস্তানি গুপ্তচর মণীশ কে?
উত্তর: বিজেপি কর্মী

প্রশ্ন: মোহিত শর্মা কে?
উত্তর: বিজেপি কর্মী

এছাড়াও, আরও হাজার হাজার নাম আছে যারা পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতে ও দেশের মধ্যে জঙ্গিহানার সাথে যুক্ত থেকে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। বিজেপির প্রতিটি বক্তৃতা পাকিস্তান দিয়ে শুরু এবং শেষ হয়!! এর সাথে রয়েছে দেশের মূল সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় এর গোটাটাকে দেগে দেওয়া হয় মোটা দাগে।

অবশ্যই দেশের একটা সম্প্রদায়ের মুসলমান আছে যারা মনেপ্রাণে পাকিস্তানপন্থী, বাংলাদেশ পন্থী, বা আরো পরিষ্কারভাবে ভারতে থেকে খেয়ে ভারত বিরোধী। কিন্তু আজকালকার এই ট্যেক স্যাভি যুগে সন্দেহভাজনকে ট্রাক করা কী খুব কঠিন? নাকি ইচ্ছাকৃত করেনা! এগুলো কোন পাড়ার মস্তান, যেমন হাত কাটা কালু, কানকাটা পাঁচু বা পেটো জামালের কাজ নয়, এগুলোর জন্য প্রশিক্ষিত লোক লস্কর লাগে। ১৪০ কোটি থিকথিকে জনসংখ্যার দেশে কেউ জানতে পারেনা এই সব পরিকল্পনার কথা?

আসলে রাজনৈতিক লাভ হাসিলের জন্য বিজেপি RSS জ্ঞানত অমুসলিম জঙ্গিদের নাম উচ্চারন করেনা, আর মুসলমান জঙ্গিদের একপ্রকার পুষে রাখে, যাতে দরকার মত তাদের ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে নিতে পারে। পাশাপাশি গোটা মুসলমান সমাজকে দেগে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মেরুকরণ করে ভোট বাক্সে ফায়দা নেয়। সুতরাং, বিজেপির কাছে দেশের আগে ক্ষমতা ও ভোট, তাতে বছরে জঙ্গি হামলার কারনে হাজার দু হাজার পাব্লিক মরে গেলে কীইবা যায় আসে, এতবড় দেশের ক্ষমতায় থাকতে এইটুকু মনুষ্যমেধ যজ্ঞের আয়োজন করা কী অন্যায়?

👉৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে মোহরা সেনা ক্যাম্পে হামলা।
👉২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে চার্চ স্ট্রিটে বোমা হামলা।
👉৪ জুন, ২০১৫ মণিপুরে সামরিক কনভয়ে জঙ্গি হামলা ১৮ জন নিরাপত্তা কর্মী অজ্ঞাত জঙ্গি।
👉২০ মার্চ, ২০১৫ কাঠুয়া, জম্মু ও কাশ্মীরের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা ৬ জন নিহত।
👉২ জানুয়ারী, ২০১৬ পাঠানকোট বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে হামলা পাঠানকোট।
👉১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ উরি সেনা ক্যাম্পে হামলা।
👉২৯ নভেম্বর, ২০১৬ জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরোটা সামরিক ক্যাম্পে হামলা।
👉২৪ এপ্রিল, ২০১৭ মাওবাদী হামলা সুকমা, ছত্তিশগড়ের সুকমায় ২৫ জন সিআরপিএফ সদস্য শহীদ।
👉১৩ মার্চ, ২০১৮ সুকমায় আইইডি বিস্ফোরণ সুকমা, ছত্তিশগড়ের ৯ জন সিআরপিএফ শহীদ।
👉১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ পুলওয়ামা হামলা (আত্মঘাতী গাড়ি বোমা)।
👉২২ এপ্রিল, ২০২৫ জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি গ্রামে হামলা।
👉১১-১২ নভেম্বর, ২০২৫ গাড়ি বোমা সহ সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ নতুন দিল্লিতে।

কোথাও কোনো জঙ্গি ধরা পরেনি, কেউ দায় স্বীকার করেনি। বিস্ফোরণ হওয়া ঠিক আগের মুহূর্ত অব্দি কেউ কিচ্ছু জানতো না কিন্ডারগার্টেন এর অবোধ শিশুর মত- এই সহজ সরল কোমলমতি অমিত শাহ আর অজিত ডোভালের 'ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম', কিন্তু পরবর্তী পাঁচ মিনিটে ঠিক ঠিক ভাবে জঙ্গিগোষ্ঠীর নামটা বলে দেয় গোদী মিডিয়া।

এই নিখুঁত গণনা কোন সূত্র মেনে এনারা বলেন, কেউ কী ফোন করে জানিয়ে দেয়? ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপ, নাকি পাতি লাভ লেটার রেখে যায়?

দেশের মাসুম গোয়েন্দারা আগে বুঝতে পারেনা। ইমানদন্ড দুলিয়ে ডাজন খানেক জঙ্গি আসে পড়শি দেশ থেকে, শিল্পীর মত তারা কাজ সারে। এর মাঝে নিহারি পায়া খায়, লালকেল্লা তাজমহল ভ্রমণ করে, এরই ফাঁকে দু একটা শাদী বিয়েও করে, শেষে মূল কাজ মানে জঙ্গি হামলা করে চলেও যায়। এতো কিছুর পর তবে আমাদের ঝাঁটের লোম ইন্টেলিজেন্স নাকি 'দায়ী গোষ্ঠী' খুঁজে পায়। অথচ তারা জানে এই ৩, ৪ বা ৫টা জঙ্গি গ্রুপই এগুলো করে, তাহলে তাদের উপরে সারাবছর নজরদারি করেনা, কাকে বাঁচাতে?

বিস্ফোরণের পর এই আইডেন্টিটি বিষয়টা কার জন্য জঙ্গি গুলো রেখে যায়?
১) আপনাকে বা আমাকে চমকানোর জন্য?
২) দিল্লির নিউজ চ্যানেলের জন্য যাতে তারা টিআরপি বাড়াতে পারে।
৩) অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জন্য। যাতে চানক্যকে দায় না নিয়ে পদত্যাগ না করতে হয়
৪) ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির জন্য, যাতে 'ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড' অজিত ডোভালকে জবাব না দিতে হয় জনগণকে।
৫) পাকিস্তানের জনগণকে দেখানোর জন্য যে দেখো আমরা হিন্দুস্থানের এতগুলো মানুষ মেরে এসেছি, যাতে পাকিস্তানীদের অর্গাজম হয়।

ছ মাস কিম্বা এক বছর ধরে তারা যখন ফাঁদ পাতে, তখন কেউ ধরতে পারে না। অথচ বিস্ফোরণের ৬ মিনিটের মাথায় কমবেশি প্রত্যেকের নাম জেনে যায়, সিকিউরিটি এজেন্সি, মিডিয়া এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তর প্রত্যেকে । সেই সূত্রে আমরাও জেনে যায়। প্রতিবার একই কেস, কি অদ্ভুত বিষয় তাই না।

আসল সমস্যা অন্য, আমাদের দেশে যারা বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি করেন, তাদের সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা, যারা প্রত্যেকে বেসরকারি ভাবে ‘ঠিকে কাজের’ বরাতে তারা নিযুক্ত হয়। প্রতিটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে এমন বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা অঙ্গাঙ্গীক ভাবে যুক্ত। এইসব বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা সরকারী চাকুরেদের থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেশি, কারণ তাদের বিভিন্নভাবে রিনিউয়াল বা আপডেট করতে হয় নিজেদের, যে দায় সরকারী চাকুরেদের নেই বা থাকেনা। ঠিকঠাক যোগ্যতা না দেখাতে পারলে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ চলে যায়, তখন সেই বেসরকারী কোম্পানিটি কর্মচারীদের কোনমতে ছাড়ে না।

রাইসিনা হিলস থেকে পাড়ার পঞ্চায়েত অফিস, সর্বত্র এক এক সিস্টেম চলছে। অর্থমন্ত্রক, গোয়েন্দা দপ্তর, সীমান্ত সুরক্ষা থেকে প্রশাসন, এমনকি গোয়েন্দা দপ্তরের ক্ষেত্রেও এই বেসরকারী ক্ষেত্রের সহযোগিতা সমানভাবে প্রযোজ্য, যা বিজেপির আমলে লক্ষ্যনীয়ভাবে বেড়েছে। স্বাধীন ভারতে প্রথমে শুধু একটা IB ছিল, তারপর IB ভেঙে RAW হলো, তারপর তাদের সহযোগিতা করার জন্য NIA গঠিত হলো। শুধু আসল সমস্যা এখানে হলো না। আমাদের সাথে রাশিয়া বা সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগী সংস্থা হিসেবে KGB দীর্ঘদিন আমাদের সাথে কাজ করেছে। শুধু প্রথমবার চিন যুদ্ধে আমরা ভালো করে মোকাবেলা করতে পারিনি, কিন্তু ধীরে ধীরে মহাকাশ পরিকল্পনা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, পরমাণু বোমা এবং দেশের অভ্যন্তরে কবে কি সামরিক অস্ত্র তৈরি হচ্ছে সবকিছুই একটা চাদরের নিচে চাপা দিয়ে রাখতে সক্ষম চছিলো ভারত সরকার।

মোদী বর্তমানে ইজরায়েলের পিছন চাঁটতে ব্যস্ত। MOSSAD কে সর্বশক্তিমান মেনে মূলত তাদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে কাজ করে আমাদের ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম। মোসাদের যে কি যোগ্যতা সেটা ইরান পৃথিবীর সামনে ন্যাংটা করে খুলে দেখিয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার FSB, SVR, GRU কিম্বা চীনের MSS, MID এবং দু একটি ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানি ইন্টারনেট দিয়ে সহযোগিতা করাতে আর ভারতীয় কিছু প্রযুক্তিবিদ এবং তাদের সাথে হয়তো তাদের মত কিছু ব্যক্তি পাশে দাঁড়াতে মোটামুটি ইসরাইলের নাম ম্যাপ থেকে মুছে যেতে বসেছিল, যদি না ওরা হাঁটু মুড়ে বসে তখন প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে না নিতো। এরকম কোণঠাসা পরিস্থিতিতে ইজরাইলকে মুঠোতে পেয়ে ছেড়ে আসার জন্য আগামী দিনের অনেক মূল্য দেবে মধ্যপ্রাচ্য, এটাও আজ লিখিতভাবে বলে দিলাম।

সে যাই হোক, আমরা যখন থেকে কেজিবির পরিবর্তে মোসাদ বা বকলমে CIA আমাদের সাথে কাজ শুরু করেছি, তারপর থেকেই নিরাপত্তা গাফিলতি সংক্রান্ত এই সমস্যাগুলি প্রকট হয়েছে আমাদের দেশে। আমেরিকা গোটা বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ শুরু করেছে, কোথাও শেষ করতে পারেনি, লেজেগোবরে হয়ে পালিয়ে বেঁচেছে প্রতিটা ক্ষেত্র থেকে। এই হচ্ছে CIA এর অউকাত। RSS এর বিশ্বাসঘাতকতার পাশাপাশি গোয়েন্দাক্ষেত্রে ব্যর্থতার একটা বড় কারন- রাশিয়ার মত প্রমানিত বন্ধু পাশে না থাকা।

১৯৯৮ সালে অটল বিহারী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় আমরা পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ করেছিলাম। কিন্তু বিজেপি তখন পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা তো দূরের কথা, একটা অস্তগামী সরকার ছিল। তারপরই RSS সিদ্ধান্ত নেয়, যে কোন মূল্যে পূর্ণাঙ্গভাবে ক্ষমতায় আসতেই হবে তার জন্য প্রথমে একবার অন্তত একটা ফুল টার্ম প্রধানমন্ত্রী চেয়ার চাই। ২০০৪ সালে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কিনা জানিনা, ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার বিলগ্নীকরণ বলে একটি দপ্তর তৈরি হয়েছিল এবং তার একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হয়েছিল তার নাম ছিল- অরুণ শৌরি। বিলগ্নীকরণ দপ্তরের কাজ কি ছিল ? বিক্রি করা। আদানির জন্ম ও ভবিষ্যৎ ওই গর্ভে নিহিত ছিলো। আজকের যে কথাগুলি বাজারে চালু রয়েছে, ব্যবসা করা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। সরকার ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করে দেবে, ব্যবসায়ী ব্যবসা করবে; এগুলো ওই সময় থেকে বলা শুরু। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এই দপ্তর কোনদিন ছিলনা। RSS এর শাসনাধীন ভারতবর্ষ এক্ষেত্রে পাইওনিয়ার। আদানির মাধ্যমে আসলে এই সব সম্পদ অন্য কারো হাতে, মানে RSS কুক্ষিগত করছেনা তো? সেই RSS যাদের কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই, না ব্যাঙ্ক একাউন্ট না আর্থিক লেনদেনের কোনো হিসাব।

দেশের মূল সমস্যা RSS, ওটা সরে গেলেই আবার দেশ ঠিক নিজের সেপে চলে আসবে। বিজেপি বা RSS না হলে আমি আপনি দেশপ্রেমিক হবোনা, এটা আজ আমরা সকলেই জানি ও বুঝি। কিন্তু ৪-৬% হিন্দুত্ববাদী RSS এর জঙ্গিগুলো আজ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, মূল সমস্যা এখানে।

এখানে কোনও কিছুই অলৌকিক নয়। প্রতিটা অঙ্কের নিয়মে সিদ্ধ, প্রতিটা জঙ্গিহানা একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ণ মেনেই হচ্ছে, প্রতি ফেলিওরেরও প্যাটার্ণ সেই সেম। গত ১১ বছর ধরে ব্যাক্তিগুলোও সেম, কার কোনো দায়িত্ব নেই, কার কোনো দায় নেই।

যত দ্রুত এই RSS এর সরকারকে বোতলে ভরে সমুদ্রে ফেলে না দেওয়া যাচ্ছে, সমস্যার কোনও আশু সমাধান নেই।

#হককথন
#BanRSS

বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাবাদী



বিরিঞ্চিবাবা কহিলেন—’একবার মহপ্রলয়ের পর বৈবস্বত আমায় বললে—নীল—লোহিত কল্পে কি? না, শ্বেতবরাহ কল্প তখন সবে শুরু হয়েছে। বৈবস্বত বললে—মানুষ তো সৃষ্টি করলুম, কিন্তু ব্যাটারা দাঁড়াবে কোথা, খাবে কি? —চারিদিকে জল থই থই করছে। আমি বললুম—ভয় কি বিবু, আমি আছি, সূর্যবিজ্ঞান আমার মুঠোর মধ্যে। সূর্যের তেজ বাড়িয়ে দিলুম, চোঁ ক’রে জল শুকিয়ে গেল, বসুন্ধরা ধনধান্যে ভরে উঠল। চন্দ্র—সূর্য চালাবার ভার আমারই ওপর কিনা।’

এই হচ্ছে প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাবাদী।

প্যাথলজিক্যাল লায়ার যা ইচ্ছা বলতে পারে, এতে কার কি এসে যায়! এই তো কদিন আগে, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এসে বলে দিল- কোন চিন্তা নেই সবার চাকরি থাকছে। তারপর বৈধ ছেলেমেয়ে গুলোর চাকরিও চলে গেল। আবার ৬০ হাজার লোকের চাকরি যাব যাব করছে। ওনার ভাষায়, যা গেছে তা গেছে।

গল্প হচ্ছে, ২০০২ এর ভোটার লিস্টে যার বা যাদের বাপ/মায়ের নাম নেই, টুক করে তার নামটি কেটে যাবে, D-Voter হয়ে যাবেই। সেন্ট্রাল ডেটাবেসে মেসিন তো চেক করবে, সেখানে মানুষের কতটা কী করার রয়েছে অদৌ? আমার জ্ঞান খুব বেশী নয় এ বিষয়ে, বিশেষজ্ঞরা ভালো বলতে পারবেন।

ইনি ২৬ হাজারের চাকরি রেখে দিতে পারেননি, ২০০২ সালের ভোটার লিষ্টে বাবা মায়ের নাম কী বিরিঞ্চিবাবার মত কোন 'সাধনার মার্গ' থেকে বাপ-মা এনে নামাবেন? চন্দ্র সূর্য চালাবার ভার ওনার আছে কিনা জানিনা, ECI এর সেন্ট্রাল ডেটাবেস চালাবার ভার কী ওনার উপরেই অর্পিত রয়েছে? SIR বিজ্ঞানও কী ওনার হাতের মুঠোয়? 

মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫

অকপট চড়ুইভাতি ২০২৫


 ১৬শ শতাব্দীর শেষভাগ, দিল্লির মসনদে তখন প্রতাপশালী মুঘল- সম্রাট আকবর। 


দিল্লীশ্বর, বাংলা-বিহারের শাসনকর্তা হিসেবে উড়িষ্যা দখল করতে নির্দেশ দিলেন অম্বররাজ মানসিংহকে। মহারাজ মানসিংহ তার সুপুত্র জগৎসিংহকে এই কাজে নিয়োজিত করেন। সুদক্ষ যোদ্ধা রাজপুতবীর জগৎসিংহ বার বার সামরিক আক্রমণ করে পাঠানদের অতিষ্ট করে তোলে। এরকম সময়েই একদিন জগৎসিংহের সাথে স্থানীয় ভূস্বামী বিরেন্দ্র সিংহের একমাত্র ষোড়শী কন্যা, সুন্দরী তিলোত্তমার সাক্ষাৎ হয় শৈলেশ্বরের মন্দিরে। নিজের অজান্তেই উভয়ে একে অপরের প্রেমে পড়েন। উড়িষ্যা-অধিকারী পাঠানেরা মান্দারণ অঞ্চলের জমিদার বাড়ি লুট করতে এসে সস্ত্রীক জমিদার ও তার কন্যাকে বন্দী করে নিয়ে যায়। রাজপুতবীর কুমার জয়সিংহ তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে পাঠানদের হাতে বন্দী হলেন।

চেনা গল্প তো! ঠিকিই ধরেছেন, এটা বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের পটভূমি। বাংলা সাহিত্যের জয়ঢাক বাজিয়ে জন্ম নেওয়া ‘দুর্গেশনন্দিনী’ মুঘল-পাঠান দ্বন্দ্বকে ভিত্তি করে, ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম বাংলা উপন্যাস, মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৮৬৫ সালে এটি প্রকাশিত হতেই, বাংলা গদ্য সাহিত্যে বিপ্লব ঘটায়। ব্যক্তি-আগ্রাসী সামন্তসমাজ, ব্যক্তি হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা ও ক্রন্দন, আবিষ্কারের ঐকান্তিকতা, বাংলা উপন্যাসের বৃহত্তর জীবনমুখী পটভূমিকে চিনতে বা জানতে ইচ্ছা যায়না? রোম্যান্সমধুর রহস্যলোক, ইতিহাসের স্বপ্নাবেশ আর আদর্শায়িত ব্যক্তি ও সমাজকেন্দ্রিকতা যে মাটিকে আবর্ত করে গড়ে উঠেছিলো, তাকে ছুঁয়ে দেখায় বাসনা যায়না? 

বাংলার আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক আবর্ত-সংঘাতে ঘূর্ণমান ও বিচূর্ণ-ভগ্ন মূল্যবোধ রূপায়ণের ঐকান্তিকতা এবং সমসাময়িক জীবনের চলমান বহির্বাস্তবতা অঙ্কনের অলক্ষ্য স্থান, আজ তার কিছুই রক্ষা করতে পারেনি কিছু ভাঙা ইট পাথর ব্যাতিত। ২০১৬ তে আমরা শরৎচন্দ্রের পানিত্রাসের ভিটেকে ছুঁতে পাওয়ার সৌভাগ্য পেয়েছিলাম অকপট চড়ুইভাতির সৌজন্যে, সেখানে বঙ্কিমের সৃষ্টি সুখের গড়কে ছুঁয়ে দেখার একটা সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়! অনিশ্চয়তার এই তো জীবন, আজ আছি কাল নেই। অকপটেই বা সেই ২০১৬ এর কতজন টিকে আছি আজ ১০ বছর পর ২০২৫ এ এসে, জীবন নদীতে সময়ের স্রোত বয়েই চলেছে, নতুন জলের ধারায় কতজন হারিয়ে গেছে, আবার কত নতুন প্রাণেরা এসে ধরা দিয়েছে, এটাই জীবনের নিয়তি। তার আগে যেটুকু সুযোগ আসে, দেখে যায় প্রাণ ভরে।

বঙ্কিমের ‘দুর্গেশনন্দিনী’র সৃষ্টি সুখের গড়, সত্যিকারের গড়, নাম- গড় মন্দারণ। হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার, গোঘাট ব্লকে অবস্থিত এই গড় মন্দারণ। দ্বারকেশ্বর নদ ও শিলাবতী নদীর মধ্যবর্তী তরঙ্গায়িত পললমাটির ওপর মন্দারণ দূর্গটি আজ আর নেই, সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে, রয়ে গেছে ইতিহাস। আজও মাটি খুঁড়লে সেই আমলের অস্তিত্ব মেলে যত্রতত্র। কে জানে কোন পথে ঘোড়া হাঁটিয়ে ছিলো দুর্গাধিপতি জয়ধর সিংহ, কোথায় রয়েছে রূপসী তিলোত্তমার হাতের ছোঁয়া, কোথায় ই বা সেই শৈলেশ্বর মহাদেবের মন্দির- কে জানে! নবাবজাদী আয়েষার অতৃপ্ত আত্মা হয়ত আজও খুঁজে ফেরে কুমার জগৎ সিংহকে।

গড় মান্দারণের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অসাধারণ, কাছেই বয়ে চলেছে আমোদর নদ। হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সীমানায় এই গড় মান্দারন, হুগলির অন্যতম বনাঞ্চল চাঁদুর ফরেস্ট এখানেই অবস্থিত। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্মভূমি কামারপুকুর থেকে গড় মান্দারণে দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। নির্জনতা যাঁদের ভাল লাগে, এই জায়গা তাঁদের ভারি পছন্দ হওয়ার কথা। নিরিবিলি, শান্ত পরিবেশে মাঝেমাঝে বয়ে চলা বাতাসের শন শন শব্দ আপনার শহুরে ক্লান্তি দূর করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে প্রায় ২০০ একর জমির উপরে গড়ে উঠেছে গড় মান্দারণ পর্যটন কেন্দ্র। কথিত রয়েছে গৌড়ের অধিপতি হুসেন শাহের সেনাপতির সমাধি রয়েছে এখানে, যা দরগা নামে পরিচিত। চুড়ুইভাতিতে আসার নামে শ্রীরামকৃষ্ণের ভিটেকে চোখে দেখা বোনাস প্রাপ্তির মতই সুখকর।

শাল, শিমুল, পিয়াল, সেগুন দিয়ে ঘেরা গড় মান্দারণের জঙ্গলে একটা দিন হৈহৈ করে জীবনকে উদযাপন করতে আসবেন নাকি! বাকি সব কিছু ভুলে যান, গড় মান্দারণের প্রকৃতি এখানে জীবন্ত ইজেল, রং-তুলি দিয়ে ক্যানভাসে আঁকা ছবি। অদ্ভুত শান্তি মিশে রয়েছে এখানকার বাতাসে, পাখির কলতান, গাছেদের ফিসফাস আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে মিশে থাকা মাদকতায়। চড়ুইভাতি সেরে কামারপুকুর বা জয়রামবাটীতে একটা রাত থেকে যেতেই পারেন, শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদাময়ীয় স্মৃতি বিজড়িত স্থানের আধ্যাত্মিকতা ও ইতিহাস ছাড়াও এখানে গ্রামের সবুজ পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। মঠ ও মিশনের শান্ত–সুন্দর পল্লী পরিবেশে অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার গ্রামের ইতিহাসের উপাদানগুলির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া একটা উপরি পাওনা বৈকি।

হাওড়া থেকে গোঘাট বা আরামবাগ গামী লোকাল ট্রেন ধরে খুব সহজে পৌঁছে যাওয়া যায় গড় মন্দারণ। সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে ৭টা ২৫ এর গোঘাট লোকালটা বেস্ট। এছাড়া শ্যাওড়াফুলি থেকে ট্রেনে তারকেশ্বর-আরামবাগ হয়ে ভায়া কামারপুকুর, গড় মন্দারণ যাবার বিবিধ উপায় রয়েছে। কেউ যদি উত্তরের দূরবর্তী জেলা থেকে আসেন, কামরূপ এক্সপ্রেসে চড়ে পড়াটা বেষ্ট। মধ্যবঙ্গ থেকে এলে হাটেবাজারে এক্সপ্রেসে রাত ১২টার আশেপাশে চড়ে বসলে সকাল ৫টার আগেই হাওড়া পৌঁছে যাবেন। উত্তর চব্বিশ পরগণা বা নদীয়া থেকে এলে ব্যারাকপুর ফেরিতে মাত্র ৬ টাকায় গঙ্গা পার হয়ে শ্যাওড়াফুলি ঘাট, সেখান থেকে ২ মিনিটে শ্যাওড়াফুলি রেল স্টেশন। বাসে কিম্বা গাড়িতে চড়ে কামারপুকুর হয়ে পৌঁছে যাওয়াটা কোনো ব্যাপারই নয়। মেদিনীপুর শহর, খড়্গপুর, পাশকুড়া, চন্দ্রকোণা রোড, উলুবেড়িয়া, বাগনান, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, বর্ধমান, মেমারি, নবদ্বীপ থেকে প্রচুর বাস রয়েছে ঘন্টায় ঘন্টায়, যাগুলো সরাসরি কামারপুকুরে পৌঁছে দেবে আপনাকে। সেখান থেকে অহরহ টোটো পাওয়া যায় পিকনিক স্পটে পৌঁছাবার জন্য। 

সকালে পাকোড়া আর চা/কপি, ব্যাস। এর বেশী খেলে মধ্যহ্নভোজে, পাকস্থলী আহত হতে পারে খাসির মাংসকে যথাযথ স্থান না দিতে পেরে। এরপর তুমুল আড্ডার ফাঁকে ততক্ষণে সাদা ভাত, সোনা মুগের ডাল, ঝুড়ি আলুভাজা, বাঁধাকপি দিয়ে মটরশুটির ঘন্ট, চাটনি, পাঁপড় আর রাজভোগ- পাতের সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য এগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে কষা কষা ঝাল ঝাল খাসির মাংসের সাথে। পার্কের এ্যান্ট্রি ফি, পিকনিক স্পটের ভাড়া, হাঁড়িকুড়ি ভাড়া, খাওয়ার প্লেট গ্লাস, রান্নার গ্যাস, বোতল বন্দি পানীয় জল, মাংস, মসলা, চাল সবজি, ঠাকুর চাকর, ইত্যাদি সব মিলিয়ে মাথাপিছু মাত্র ৬০০ টাকা করে চাঁদা ধার্য্য করেছি। ১০ বছরের নিচের বাচ্চা কমপ্লিমেন্টারি, তার উপরে আমরা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। এই হলো দেনাপাওনার গল্প।

আমাদের আয়োজন ৫০ জনের অধিক নয়, ৪০ এর আশেপাশে হলে সবথেকে ভালো। অধিক ভিড়ে আলাপের মাদকতা নষ্ট হয়, তাছাড়া আয়োজনেও কিছুটা অপারগতা রয়েছে। তাই আপনাকে নিয়েই যদি সংখ্যাটা পূরণ হয়ে যায়, তার চেয়ে ভালো আর কিচ্ছুটি হয়না। তাহলে, আসছেন নাকি আগামী ২১শে ডিসেম্বর ২০২৫ এর দুপুরে গড় মন্দারণে? কিছুটা ইতিহাস, কিছুটা আধ্যাত্মিকতা, কিছুটা সাহিত্যের গন্ধ গায়ে মেখে, অকপট চড়ুইভাতির নামে আসবেন নাকি একটা দিনের অবসরে?


সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫

হ্যাজের দুনিয়া

 

এই বাঁধভাঙা উচ্ছাস, আবেগের মেয়াদ সর্বোচ্চ আজ সন্ধ্যা বা রাত অবধি। তার চেয়েও বড় হচ্ছে ১১ জন মেয়ের মধ্যে ৭/৮ জনেরই নাম না জানা, ফেকুটিও স্বগর্বে বলছে- আজ স্বপ্ন সত্যির রাত! ভাই কভার আর এক্সট্রা কভারের ফারাক টুকুও বুঝিসনা, কখন কটা ফিল্ডার ৩০ গজ বৃত্তের ভিতরে আর বাইরে থাকবে তা জানিসনা, ফাইন লেগ মানে ওটা ক্রিকেট মাঠের একটা অংশের নাম, দীপিকা পাড়ুকোনের পা নয়- এটা যাদের বুঝিয়ে দিতে হয়, তাদেরও আজ 'নারীশক্তির' জয়ে আপ্লুত হওয়ার দিন বৈকি।

ওরে বঞ্চিতের দল, তোদের রাত মানে স্বপ্নদোষের, স্বপ্ন পূরণের নয়। আসলে সকলেই একটা ইভেন্ট চায়, সেটা যা খুশি হোক, যেমন এখন SIR এর মরসুম, তার মাঝে মহিলা বিশ্বকাপ জয় ১ দিনের ফুরফুরে অন্যস্বাদের পদ, আজ রাত থেকে না হলেও আগামীকাল সকালে আবার সেই মতুয়া, বিজেপি আর প্রদীপ করের আঙুলহীন বিদেহী আত্মার গল্প। কার্বলিক এ্যাসিড ঢালা বঙ্গ রাজনীতিতে সেই আদি অকৃত্রিম হেলে আর কেউটের পালাগান তরজা।

অমল মজুমদার না ওমোল মুজুমদার এ নিয়ে রীতিমতো সে কী তর্কাতর্কি আর খাপ পঞ্চায়েত, বাপ্রে। এর ফায়সালা না হলে বাবা ভাঙ্গার অভিশাপে দুনিয়া রসাতলে যাবে। অর্শের নাড়ি যেন পুনরায় পায়ুপথে রিটার্ণ করবেইনা না, মিতালি রাজ কে ট্রফি তুলতে না দেখলে। কে মিতালি রাজ? আরে  করোনার পর 'ট্যাপসি' পান্নু একটা সিনেমা এনেছিলোনা, সেটার আসল নায়িকাটা। তাও ভালো, কাউয়া বিরিয়ানির বিজয় রাজের বোনের মেয়ে বলেনি এই ভাগ্য। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি- হারলিন, সানি দেওয়লের কেউ হয়না, শার্দুল ঠাকুরের পরিবারের কোনো মহিলা ক্রিকেট খেলেনা। ঘোষ পদবী মানেই রঞ্জিত ঘোষের কেউ হতে হবে কেন? স্মৃতি মান্দানা রশ্মিকার "খালাতো বোইন" নয়। রাধা যাদব RJD কোটার খেলোয়ার নয়। এই রেনুকা সিং ছত্রিশ গড়ের বিজেপির MLA নয়। সাই কিশোর আর শ্রী চড়নী আত্মীয় নয়, যতই মাথার চুলে আঁটা ব্যান্ড একই রকম দেখতে লাগুক। আপনি বরং সৌরভ গাঙ্গুলির কবেকার করা কটাক্ষ নিয়ে সারগর্তের বুদ্বুদের মত উপরে চড়ে বসুন, ওটাতে মিষ্টতা পাবেন।

একজন দার্শনিকের প্রশ্ন- মাঠে আজ ৩০ টা মেয়ে খেলছে দু'দল মিলিয়ে, ৩ জন অনফিল্ড আম্পায়ার। এদের কী কারো পিরিয়ড হয়নি? কত কষ্ট নিয়ে দৌড়ায়। কমেন্ট একজন পুরুষ দরদী লিখেছে- ছেলেদের ঝুলন্ত বিচি সহ এ্যাবডোমেইন গার্ড নিয়ে দৌড়াবার যন্ত্রণা মেয়েরা বোঝে? আরেকজনের প্রশ্ন- আচ্ছা, বোলারের পিরিডয় হলে বল বেশী সুইং করে না মুড? আরো কিছু প্রশ্নমালা- আচ্ছা হরমনপ্রীত,স্মৃতি মান্ধানা, জেমিমা রদ্রিগেজ এনারা কী অপারেশন করে বুকের চর্বি বাদ দিয়েছে? কিম্বা হট প্রেসিং ট্রিটমেন্ট নিয়েছে? আচ্ছা এই মেয়ে গুলো স্বামীকে মানবে বিয়ের পর? কিরকম সব ব্যাটাছেলে মার্কা হাড়কাঠ বেড় করা দেখতে। দু একটা বাদে সবকটা কাজের মাসি মার্কা খেঁদি পেঁচি, কোনো লাবণ্য নেই। বাপ্রে বাপ, ওই থাই পাছা নিয়ে দৌড়ুচ্ছে দেখো!!  এই অবধি পড়া শোনার পর আর দেখার সাহস হয়নি দার্শনিকদের ওয়াল গুলো।

এরপর আছে কবির দল। ওষ্ঠো, অধর, স্তন, নিতম্ব, নাভী, যোনী, জরায়ু, চোখ, কাজল এর সাথে কয়েকটা ক্রিকেটীয় শব্দ, আর শ্রী চড়ণী, স্মৃতি, শেফালি এমন কিছু শব্দ জুড়ে সে কী সব কবিতার রক্ত আমাসা, টাইমলাইনে ঢুকলেই পিছলে যাচ্ছি সেই থকথকে স্রোতে। 

এর পর হ্যাজারের দল। রিচা ঘোষের মেসোমশাই এর ছোট শালার কাকাতো ভাই এর প্রমিকা লিখছে- রিচা দই খেতে ভালোবাসে। ব্যাস আরেক শিলিগুড়িয়ান চে এর ট্যাটু করা টঙ্কার ঘোষ বলছে, আমরা ২৬শে ক্ষমতায় এলে CAB এর নাম GAB করে দেব। কে জানে G ফর ঘোষ ভেবে দিলুদা মুকচি হাসলেও কুণাল শতরূপ হালকা কাশি সহযোগে সম্মতি দিয়েছে বলে 'ঘন্টাখানেক' ব্রেকিং নিউজ। এর পর স্মৃতি মান্ধানার চিকনা বয়ফ্রেন্ড, ক্রান্তি গৌড় এর পুলিশ পিতার চাকরি চলে যাওয়া, জেমাইমকে হিন্দুত্ববাদীদের ট্রোল, শেফালির উপরে ১ সপ্তাহ জুড়ে হনুমানের গদা ট্যাটুর কৃপায় ম্যাজিক পার্ফর্মেন্স ঢুকে যাওয়া। হর্ষিতের রানা পদবীর দায়ে স্নেহ রানার বাদ পরা, উমা ও শাশা দুই ছেত্রীর মধ্যে কে বেশী প্রতিভাবান! ঝুলনের কীসের এতো তাড়া ছিলো অবসর নেওয়ার! যা, বুঝলাম- দেশে হ্যাজ এর সাবজেক্টের অভাব পরেনি। এমনকি বাংলাদেশ থেকেও নাস্তিক নারীবাদীর হাহাকার ঝরে পরছে- কেন আমি ভারতীয় নই! এতো দুক্ষু রাখি কোথায়!

এর পর আসল খেলা, মোদী ম্যাজিক। দেশের তাবড় জনসংখ্যা জেনে গেছে- এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান মোদীজির। তিনি এমনই অনামুখো যে, অতীতে যেখানে যেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন- সেটা চন্দ্রযান হোক বা পুরুষ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ, নিশ্চিত ভরাডুবি করিয়ে এলাকা ছেড়েছেন। গতকাল DY Patil স্টেডিয়ামে এ উপস্থিত না থেকে যে এভাবে জেতানো যায়, সেটা বিরল প্রতিভা। মোদি হ্যায়, তো মুমকিন হ্যায়। 

যাবার বেলায়, ট্রল বাহিনী মমতাকে ট্রল করে সে কী অর্গাজম। দেখো তারা রাত ১২টার পর জিতেছে- বলে সে কী উল্লাস। তাদের বলি, ২০০০ পুলিশ, প্রায় ৫০ হাজার ছুঁইছুঁই জনগন আর লক্ষ ওয়াটের আলো সরিয়ে নিলে, ঝুলন্ত বিচিওয়ালা ৫৫ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা পুরুষ পুঙ্গবটি রাত্রের আঁধারে নিজে সেফ তো? সেখানে রাত বারোটার সময় হাতে দুটো ব্যাট, ৬টা উইকেট আর ১টা বল ধরিয়ে এই ২২টি মেয়েকে রাস্তায় ছেড়ে দিলে আমাদের দেশের কোন শহর বা গ্রাম সেফ? আপনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত? কোনো ঋজুদার দরকার নেই- you are looking good in Sharee বলার জন্য, সামান্য সুযোগ পেলে আপনিই হয়তবা - চলতি ক্যায়া বলে, রেট শুধাবেন।

তবে ছেলেদের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেটের জয় অপারেশন সিঁদুরের অংশ হলেও হলে মেয়েদের জয় শুধুই জয়। এখানে না হ্যান্ডসেক তরজা না তৃতীয় কোনো ভ্যেনুতে খেলার জন্য কোঁদল। তবে কাপটা জিতে গিয়ে জয়টা ক্রীড়ার জয় নয়, নারীবাদীদের হয়। মা দুর্গার জয়। ভারত মাতার জয়। মেয়েদের জয়টা নিয়ে দেশপ্রেমের আবেগ লক্ষ্যনীয় ভাবে অনুপস্থিত। আর দীপ্তি শর্মার টিপ নিয়ে কোনো হ্যাজ এই অবধি নামেনি। আমাদের ভারতীয় পুরুষতান্ত্রিক আধা রক্ষণশীল মাইন্ডসেটে এর চেয়ে বেশী ভালো হওয়া সম্ভব নয়, সে আপনি আমি নিজেকে যতই উদার আধুনিক মক্তমনা বলে দাবী করিনা কেন! তবে আশা করতেই পারি, গতকালের এই জয় আগামীতে অনেক কিছুই বদলে দেবে। অনেকে আকৃষ্ট হবে। আশা টুকুই সম্বল।

ক্যাপিটার মার্কেট মুনাফা বোঝে, তাই পুরুষের অন্তর্বাসের বিজ্ঞাপনেও নারী মুখ ছাড়া চলেনা। খেলাতে দর্শন টানতে গেলে যে পারফর্মেন্স দরকার, পুরুষ ক্রিকেটের নিরিখে। সেটা নেই মহিলা ক্রিকেটে, তাই অর্থ নেই- এটা যুক্তি হতে পারে। কিন্তু পারফরম্যান্স দেখাতে গেলে যে পরিমাণ পরিবেশ দরকার, প্রস্তুতি দরকার এবং পরিকাঠামো দরকার সেগুলো কী করে উঠতে পেরেছে ক্রিকেট বোর্ড বা সরকারের ক্রীড়া দপ্তর করতে পেরেছে যারা সবেতে কর বসিয়ে রোজগার করে? মহিলা ক্রিকেট ছেড়েই দিন, পুরুষ ক্রিকেট ছাড়া দেশের বাকি কোনো স্পোর্টসে সেই অর্থ আধুনিক পরিকাঠামো রয়েছে যাকে বিপননের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতারা আয় করতে পারে? সবটাই দিনের শেষে বিজ্ঞাপনী চমক। বাজারই তৈরি করে দেয় কে থাকবে আর কে থাকবেনা। বাজার বিরাট কোহলি যেতে না যেতেই শুভমন গিলের উপরে লগ্নি করে বসে আছে, তাই যতই যে শেষ ১৫টা ODI/T20 তে ১৩ গড়ে রান করুন, তাকে সহজে বাদ দেওয়া যাবেনা। এই কারনেই বুড়ো ধোনী আজও IPL খেলে, কারন স্পনসরদের লগ্নি রয়েছে তাদের উপরে। 

এবারে মহিলা ক্রিকেটে প্রচুর টাকা আসবে, সফল ও সুন্দরী মহিলা ক্রিকেটারদের প্রচুর ভাবে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হবে। তারা কোটিতে রোজগার করবে, মধ্যবিত্ত অসংখ্য বাবা মা তাদের বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে ক্রিকেট একাডেমিতে দৌড়াবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ফিল্ডিং অনেক উঁচু জায়গায় চলে যাবে। ক্রিকেটীয় বিচারে, সেই লেগে টেনে টেনে মারে রাণ করছে অধিকাংস দল, দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরাও তাই। সে তুলনাতে আমাদের দেশের ব্যাটারটা অনেক বেশী উন্নত। তবে মেয়েদের বোলিং এর হাল অতি বাজে।  এদের ইয়র্কর হয়না সেভাবে, তার জন্য যে গতি লাগে সেটা এরা এ্যাচিভ করতে পারেনা। লেগস্পিনার একটাও নেই, বাকিদের বলও স্পিন হচ্ছে কই! সব ওই স্লো মিডিয়াম, ফ্লাইটেড ডেলিভারি। বোলিং এ বৈচিত্র্য খুবই কম মেয়েদের ক্রিকেটে। আগামীতে বেশ কয়েকটা পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজে পাওয়া যাবে। অন্তত ৫ ফুট ১০/১১ ইঞ্চি বোলারদের বলের গতি ১৩০ এর বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে। অনেক প্রাক্তন মহিলা খেলোয়াড় আম্পায়ার হবার জন্য হাজির হয়ে যাবে। 


ইয়ে, আমারটা এইটাও হ্যাজ, আগামীকাল আর এটার তেমন মার্কেট ভ্যালু রইবেনা, বাসি হয়ে যাবে। তাই টাটকা হ্যাজ নামিয়ে নিলাম আরকি। আপনি এমন কোন হ্যাজ দেখে হেজিয়ে গেলেন, করবেন নাকি আপনার অভিজ্ঞতার শেয়ার!!


#হককথন

রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

শিন্ডলার এফেক্ট ও মার্ক্স


অস্কার শিন্ডলারকে চেনেন?

না চেনাই স্বাভাবিক, ইনি একজন জার্মান শিল্পপতি ও ফিকশনাল চরিত্র। বিশ্বখ্যাত সিনেমা পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ এর বানানো ১৯৯৩ সালের একটি সিনেমা শিন্ডলার্স লিস্ট Schindler's List- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকাতে নাৎসিদের হাত থেকে এক হাজারেরও বেশি ইহুদিকে ‘রক্ষা করা’ জার্মান শিল্পপতি অস্কার শিন্ডলারের গল্প নিয়ে তৈরি। সময় সুযোগ হলে একবার সিনেমাটা দেখে নেবেন, আমাজন প্রাইমে পেয়ে যাবেন।

বন্ধু কিংশুক তা আমাদের একটা ক্লোজ গ্রুপে প্রশ্ন করেছিলো, সত্যিই যদি কয়েক কোটি মানুষ বাদ পরে যায় SIR এ, তারা যাবে কোথায়! ওকে বলেছিলাম, আসামে D-Voter হওয়া ১৯ লক্ষ ভোটার কোথায় গেছে? সে উত্তর দিতে পারেনি। আপনার আমার কাছেও বিশদে এর জবাব নেই। যারা NRC করেছে, তাদের কাছেও জবাব নেই।

আচ্ছা রাষ্ট্র কি? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব মতে, গুগুল জবাব দিলো- রাষ্ট্র হলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের জনগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার একটি সরকার আছে এবং এটি নিজস্ব আইন ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে। রাষ্ট্রের চারটি মূল উপাদান হলো—জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতা। অনেকে জাতির সাথে রাষ্ট্রকে গুলিয়ে ফেলে। জাতি তৈরি হয় একটা সার্বজনীন ভাষা, যৌথ ইতিহাস, যৌথ সংস্কৃতি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্নিহিত ভৌগলিক অঞ্চলের জনগণ দ্বারা তৈরি একটি গোষ্ঠী দ্বারা। এক জাতি হওয়ার জন্য সীমানা লাগেনা, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকেনা, স্বভাবতই সার্বভৌমতার কোনো বিষয় থাকেনা সমজাতি হওয়ার জন্য। 

অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকার নির্দিষ্ট মানুষ তথা জনগণ তাদের সরকার চয়ন করবে, যারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্বভৌম ক্ষমতা পাবে রাষ্ট্র পরিচালনার। সুতরাং, বিদেশী কোনো অনুপ্রবেশকারী, আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার চয়নের প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহন করতে পারেনা, করলে সেটা অবৈধ ও বাতিল হিসাবের গন্য হবে। বাঙালি হিসাবে বাংলাদেশীদের প্রতি, তামিল হিসাবে শ্রীলঙ্কানদের প্রতি, বৌদ্ধ হিসাবে নেপালীদের প্রতি কিম্বা সিন্ধি বা পাঞ্জাবি হিসাবে পাকিস্তানীদের প্রতি আপনার দুর্বলতা তথা সহমর্মিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের দেশের সরকার গঠনের প্রক্রিয়াতে অংশ নেবে অবৈধ ভাবে- আর আপনি বা আমি আমাদের রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সেই অবৈধতাকে সাপোর্ট করব, এটাও অপরাধ। এই পয়েন্টে এসে SIR মান্যতা পেয়ে যায় যে, ভারত রাষ্ট্রের ভোটাধিকার প্রক্রিয়াতে শুধু মাত্র ভারতীয়েরাই অংশগ্রহন করবে, বিদেশী কোনো অনুপ্রেবেশকারী নয়। রাষ্ট্রের সংজ্ঞাতে ভৌগলিক সীমানা যেমন গুরুত্বপূর্ন, তেমনই সীমানার গণ্ডিতে থাকা মানুষের পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট। যে কেউ যখন খুশি তার ইচ্ছামত, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমি অমুক দেশের ‘নাগরিক’ দাবী করতে পারেনা।

সমস্যাটা কোথায়! সমস্যা প্রক্রিয়াতে নয়, প্রক্রিয়া সাধনের গূঢ় উদ্দেশ্য ও পদ্ধতিতে। সমস্যা প্রপাগান্ডায়। কারন কেন্দ্রে RSS পরিচালিত যে বিজেপি সরকার রয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ই হলো- মুসলমান, দলিতকে অত্যাচার করার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণ করে সেখান থেকে রাজনৈতিক লাভ নেওয়া। মনুবাদকে সংবিধান মেনে মানুষের খাওয়া, পরার মত মৌলিক বিষয়গুলোকে অনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সর্বক্ষণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হিন্দু মুসলমান অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব, মসজিদ মন্দির, গরু শুয়োরের বৃত্তে সাধারণ মানুষকে আঁটকে রেখে দেওয়া, যাতে পুঁজিবাদী শোষক গোষ্ঠী সেই অকারন অশান্তির আড়ালে ফাঁকতালে রাষ্ট্রের সম্পত্তি বেহিসাবি লুঠ করতে পারে। 

২০১৫ সালে এই বিজেপি NRC করার নামে দেশের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলো। ১৪% মুসলমানের জন্য নাকি দেশের ৮০% হিন্দু ‘খতরেমে’। ভোটের হিসাবে অন্তত ৩৭% মানুষ এটাকে বিশ্বাসও করেছে বলে আরো দুটো টার্মে মোদী সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে, ভোট চুরিকে আমি উহ্যই রাখলাম। দেশের ৪৬% হিন্দু RSS এর বিপক্ষে, এনাদের চাপ সহ মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বামপন্থীদের লাগাতার আন্দোলনে সেই যাত্রাই NRC/CAA থেকে পিছু হাঁটলেও, ওরা ভুলে যায়নি। দৃশ্যত এদের উদ্দেশ্য, দেশ থেকে কিছু মুসলমানকে তড়ানো, আর বাকিদের উপরে হেনস্থা আর অত্যাচার করা- যাতে মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীটার কাছে একটা অর্গাজমের বার্তা পৌঁছায়, ঘৃণার আবহে ভোট কুক্ষিগত করা যায়। 


আসামের NRC এর রেজাল্ট ২০২৫ এর শেষে এসে কোন স্থানে দাঁড়িয়ে? ১৯ লক্ষের বেশী মানুষ অবৈধ ঘোষিত হয়েছিলো, যাদের মধ্যে সাড়ে ৯ লক্ষ হিন্দু রয়েছে, এবং বাকিরা মুসলমান বলে শুরুতে ঘোষণা করেছিলো আসাম সরকার। পরে দেখা যায় তার মধ্যে এক লক্ষ নেপালী গোর্খা, সাড়ে পাঁচ লক্ষ বাঙালী হিন্দু- যাদের মধ্যে কোচ, রাজবংশীই বেশী। ১৯ লাখের বাকি থাকে সাড়ে তিন লাখ, এদের মধ্যে বড়জোর দেড় লাখ মুসলমান। যাদের অধিকাংশকে জবরদস্তি ডিটেনশনে রেখে এসেছিলো বিজেপি সরকার, মামলা লড়ে বহু মুসলমান নাগরিক তার নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছে। অতএব বাকিরাও হিন্দু বা অন্যান্য উপজাতী সম্প্রদায়ের, যাদের পরিচয়পত্র নেই। CAA এর মাধ্যমে যারা নাগরিকত্ব ফিরে পায়নি। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। বিহারে রোহিঙ্গা তাড়াবার নামে SIR হলো হৈ হৈ রবে, সেখানে বাদ যাওয়া ৬৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ২১ লাখ মৃত ও স্থায়ী পরিযায়ী। অবশিষ্ট ৪৪ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় সকলেই হিন্দু। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে গরীব মানুষ কিছুটা বিভ্রান্তিতে থাকলেও, যে মুসলমানকে লক্ষ্য করে এত আয়োজন, তারাই একমাত্র নিশ্চিন্ত, প্রায় সকলেই কাগজ রেডি করে রেখেছে। কিন্ত অর্ধেকের বেশী হিন্দু সমাজ আতঙ্কিত, সেটা মতুয়া হোক বা নমঃশূদ্র। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। 

মুহাম্মদ বিন কাশিম থেকে শেষ মুঘল বাহাদুর শাহ জাফর অবধি দীর্ঘ ১০০০ বছরের মুসলমান শাসনে হিন্দুরা ‘খতরেমে’ ছিলনা, ২০০ বছরের ইংরেজ উপনিবেশিক শাসনামলেও হিন্দুরা বহাল তবিয়তে ছিলো। কংগ্রেস ও অন্যান্য জোট সরকার পরিচালিত স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভারতের প্রথম ৬৭ বছরের ইতিহাসে হিন্দুরা অসুরক্ষিত ছিলোনা, কিন্তু ২০১৪ পরবর্তী RSS এর রাজত্বে সত্যিই হিন্দু খতরেমে। মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বে কোটি কোটি হিন্দু ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ভিখারি হয়ে যাবার পথে। মোদী শুরু থেকেই জানত তাদের এ্যাজেন্ডা, তাই কোনো ভনিতা না করে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যায়’ মন্ত্রে হিন্দুকে অভ্যস্ত করে দিয়েছিলো। কিন্তু এটা বলেনি- এই খতরাটা RSS এর নির্দেশে ‘বিকাশ পুরুষই’ লাগু করবে। মুসলমানকে জব্দ করা যাবে এই আনন্দে বিভোর হয়ে হিন্দুত্ববাদী ভক্ত পাবলিক তুড়ীয় মেজাজে সপ্তমে চড়ে ছিলো, আজ দেখছে মগডালে তুলে দিয়ে হিন্দু হৃদয় সম্রাট নিজেই মই কেড়ে নিয়েছে। তাই জগন্নাথকে ‘বর্ডার তুলে দেব’র মত আজগুবি গল্প বলতে হচ্ছে, মমতাবালাকে অনশনের নাটক করতে হচ্ছে।

শুধু মুসলমানকে তাড়াবার উদ্দেশ্য হলে, বেছে বেছে মুসলমানদের SIR/NRC করলেই ল্যাঠা চুকে যেতো। সমস্ত মতুয়া, নমঃশূদ্র হিন্দুদের যদি CAA তে এ্যাপ্লিকেশন করলেই নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে, সেক্ষেত্রে সরাসরি দিলেই তো হয়ে যেতো, তাদের SIR প্রক্রিয়াতে আনার প্রয়োজনীয়তাই ছিলোনা। এই খানেই ধাপ্পাবাজিটা লুকিয়ে। আসামে আজ ৮ বছরের কতজন হিন্দুকে CAA এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান নাগরিকত্ব দিয়েছে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার? তারা নাকি বাংলাতে SIR এর মাধ্যমে D-Voter হয়ে যাওয়া পাব্লিককে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবে, এটা আপনি বিশ্বাস করলে আপনি একজন ফুটফুটে চুতিয়া, আপনি নিজেই ‘আত্মলিণঙ্গম পশ্চাদপূরম’ করে বসে আছে, আপনার পায়ুমর্দন অন্য কেউ করবে সেই সুযোগ কোথায়! 

আপনি ছোট জাতের হিন্দু, তাই আপনার ক্ষয়ক্ষতিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী মনুবাদীদের কিচ্ছু যায় আসেনা। RSS ব্রাহ্মণ্যবাদী দল, একটা মুসলমানের সাথে একটা দলিত, একটা মতুয়া বা একটা নমঃশূদ্রের কোনোর পার্থক্য নেই। সবকটাই তাদের কাছে অস্পৃশ্য, অশুচি, ম্লেচ্ছ মনুষ্যেতর ইতর জীব, যাদের জন্মের একমাত্র উদ্দেশ্য ব্রাহ্মণদের সেবা করা। কিন্তু মেকি হিন্দুপ্রেমী সেজে মধু ঝরায় আপনার ভোটটা নেওয়ার জন্য। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমানাধিকারের ধারাতে এই কারনে RSS এর এতো গাত্রদাহ। এই কারনেই সংবিধান সংশোধন করতে চায়, যাতে মনুবাদকে লাগু করতে পারে।

কিংশুকের প্রশ্নে ফিরে আসি, কেন RSS এই SIR করাচ্ছে? কোথায় যাবে এত বিপুল সংখ্যার মানুষ? কী হবে এদের ভবিষ্যৎ? খুব সহজ, কোনো এক মহান অস্কার শিন্ডলার এসে এদের কর্মসংস্থান দিয়ে ঈশ্বর হয়ে যাবে। এই শিন্ডলারের এর ভারতীয় পদবী আম্বানি হতে পারে, আদানি, টাটা, বিড়লা, নারায়নমূর্তি, হক, খান, মন্ডল, ব্যানার্জি, প্যাটেল, শর্মা যা খুশি হতে পারে। শিন্ডলারেরা অতি সস্তার লেবার খুঁজে নেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ দের পুনর্বাসন দেবে। এতদিন ভারত থেকে চাল, পাথর পেঁয়াজ, গোমাংস রপ্তানি হয়েছে অফিসিয়ালি, এরপর জ্যান্ত মানুষ রপ্তানি হবে। D-Voter মানুষ, যার দেশ নেই, যার পরিচয় নেই, যার রাষ্ট্র নেই। কিন্তু পেট আছে, বেঁচে থাকার আকাঙ্খা আছে, তাই সে যা খুশি কাজ করতে রাজি হয়ে যাবে- যে কোনো মূল্যে। দাসপ্রথা নতুন পোশাকে এসে হাাজির হবে সামনের দশকে।

কি হয় যখন কেউ D-Voter হয়ে যায়?

প্রথমত তার পরিচয় পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর সে একটা ফোনের সিম অবধি কিনতে পারবেনা। ট্রেনে ও বিমানে যাতায়াত করতে পারবেনা যেখানে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। যতই অত্যাচারিত হোক, আইন আদালতে যেতে পারবেনা, কারন সেখানেও পরিচয়পত্র লাগে। বাচ্চাদের ইস্কুলে ভর্তি করতে পারবেনা, বীমা পাবেনা, রেশন পাবেনা, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা পাবেনা, কোনো কাজে গিয়ে হোটেলে থাকার ঘর পাবেনা। সরকারী বা বেসরকারি কোনো ক্ষেত্রেই চাকরি করতে পারবেনা। একমাত্র কাজ, যে এলাকাতে থাকবে সেই অতি সংক্ষিপ্ত এলাকাতে দম বন্ধ পরিস্থিতিতে গতরে খাটা কাজ, যারা নগদে মজুরী পেমেন্ট করে, সেই কাজ করতে বাধ্য হওয়া। এখানেই পুঁজিবাদ সস্তার শ্রমকে গ্রাস করতে আস্কার শিন্ডলার সেজে, ত্রাতা হয়ে দাঁড়াবে বুভুক্ষু আতঙ্কিত মানুষগুলোর সামনে। 

"Capital is dead labour, which, vampire-like, lives only by sucking living labour, and lives the more, the more labour it sucks."

এখানেই মহামতী মার্ক্স অমর হয়ে রয়ে গেছেন। আপনারা পালাবার পথ নেই। হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ কিম্বা ফয়ারবাখের বস্তুবাদী দর্শনের সমন্বয় জটিল তাত্বিক বিষয়, যা সকলের বোঝার বিষয় নয়। মার্ক্স ঈশ্বর নন, না প্রফেট না কোনো স্বঘোষিত গুরু কিম্বা পাদ্রী, উনি চিরন্তন হয়ে রয়েছেন “শ্রমশক্তি, মূল্যের শ্রম তত্ত্ব এবং শ্রমের বিভাজন” এই শ্রমের মন্ত্রের উপরে। SIR ও তার ফলাফল আবার চোখে আঙুল দিয়ে মানুষকে বাধ্য করছে মার্ক্সের প্রাথমিক পাঠে ফিরে যেতে। পুঁজিবাদী সমাজে- শ্রমের বিভাজন শ্রমিককে তার শ্রমের পণ্য এবং নিজের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে, যা শ্রমিককে শোষিত করে এবং এতে মুনাফা বৃদ্ধি পায়। SIR দ্বারা সৃষ্ট অদক্ষ ও অসংগঠিত শ্রমিকের শ্রমকে বিনামূল্যে, পেটেভাতে কিম্বা অতি স্বল্পমূল্যে কিনে নেবার জন্য এই বৃহত্তর আয়োজন। যে কোনো মূল্যে সস্তার লেবার ‘শ্রেনী’ তৈরি করা যাতে মুনাফা কামানো যায়। মার্ক্সের ‘সারপ্লাস ভ্যালু থিওরি’ অনুসারে শ্রমিকের শ্রমের একটি অংশ বিনা পারিশ্রমিকে দখল করা হয় এটাই শ্রমের 'মূল্য চুরি'। NRC-SIR এর গোপন ও মূল উদ্দেশ্য এটাই।

"The worker becomes an even poorer commodity the more wealth he produces; the more that his production increases in power and amount, the more orphaned he becomes of his own product and the more he is determined by the capitalist."

পশ্চিমা দেশগুলোতে সাধারণ মধ্যবিত্তরাও আমাদের টাকার নিরিখে মাসে ১০-২০ লাখ টাকা রোজগার করে, কিন্তু সে দেশের আইনের গেরোতে একটা গৃহ সহায়িকা, পরিচারিকা, ড্রাইভার বা মালি রাখার অউকাত থাকেনা। কারন একজনের সভ্যভদ্র ভাবে থাকা খাওয়া, বেতন ও অন্যান্য জরুরী নুন্যতম সুযোগ সুবিধা দিতে গেলে, ওই মাসিক ১০-২০ লাখও কম পরবে, অগত্যা জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবটাই নিজেকে করতে হয়। আগামীতে এই D-Voter ও তাদের সন্তানাদির দল, দলে দলে পশ্চিমা বিশ্বে শুধু পেটে খেতে পাবে এই শর্তেই যেতে রাজি হয়ে যাবে। মা ও মেয়ে একই সাথে মালিকের যৌন লালসা তৃপ্ত করবে। মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় আছে কী? 

তাদের তথাকথিত উন্নত বিশ্বের আইন? আইন তো মানুষের জন্য, দেশের নাগরিকদের জন্য, সেটা যে দেশেরই হোকনা কেন! D-Voter দের দেশ কোথায় যে তাদের উপরে শ্রম আইন লাগু হবে? বিনা মুল্যে শ্রমের অফুরান উৎস, মার্ক্স এই কারনেই পুঁজিবাদকে ঘেন্না করার সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নিদান দিয়ে গেছেন। 

"The philosophers have only interpreted the world, in various ways. The point, however, is to change it."

সুতরাং, এখানে কেউ ততটা হিন্দুপ্রেমী নেই, কেউ ততটা মুসলমান বিদ্বেষীও নেই, যতটা তারা পুঁজি বাদীদের দাস। RSS জন্মলগ্ন থেকে উপনিবেশিক শোষক ইংরেজ প্রভুদের হয়ে গোলামি করে এসেছে, তাদের লুন্ঠন, অত্যাচার ও বঞ্চিতদের উপরে শোষনকে সমর্থন করে এসেছে। তাদের রক্তে, তাদের জিনে রয়েছে শ্রেনীকে শোষণ করা। ২০১৪ এর পর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেতেই RSS পুঁজিবাদীদের এ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়িত করছে মাত্র, ধর্মের মোড়কে। আজ আদানি, আম্বানিকে দেশ বেচছে, কাল ভালো দাম পেলে পশ্চিমা হোক, চীন কিম্বা রাশিয়া, অথবা আরবী শেখ- যাকে খুশি বেচে দেবে যে বেশী দাম দেবে।

অস্কার শিন্ডলার এর গল্পে, নাৎসি বাহিনীর সমর্থক হিসেবে শিন্ডলার মেটাল, গ্লাস, সেরামিকের ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে ওঠেন। যুদ্ধের কালোবাজারি মরশুমে লাভের অঙ্ক আরও স্ফীত করবার জন্য ইহুদী ব্যবসায়ী, নাৎসি বাহিনীর উঁচু পদে থাকা অফিসারদের সাথে সম্পর্ক ভাল করে, এর ফলে ব্যবসা আরও বড় হয়ে যায়। এই ব্যবসার জন্য প্রচুর কর্মীর দরকার হয়। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প ইহুদী বন্দীদের কাজে লাগানোর জন্য নাৎসি অফিসারদের সাথে আর্থিক লেনদেনের কথা শুরু হয়। এই যুদ্ধবন্দীরা জানত মৃত্যুই ছিল ভবিতব্য, তবুও নিয়তির মুচকি হাসি বেঁচে থাকবার আশা জিইয়ে রেখেছিলো। সামান্য অঙ্কের বিনিময়ে একেকজন বন্দীর জীবন রক্ষা করার নামে তালিকাভুক্ত বন্দিদের ওনার ফ্যাক্টরিতে পেটেভাতের শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছিলো।

RSS এভাবেই ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট অধ্যয়গুলোকে জীবন্ত করছে, ভারতীয় সংস্কৃতির ধাঁচে ফেলে অনুশীলন করছে, এবং সুক্ষ প্রয়োগ করছে হিন্দুত্বের মোড়ক লাগিয়ে।

মধ্যযুগে বর্বর ইউরোপীয়েরা দেশ আবিষ্কার আর বানিজ্যের নামে এশিয়া আফ্রিকা আর লাতিন দেশ থেকে অবাধে লুন্ঠনের সাথে ‘মানুষ’ বেঁধে আনত খাঁচায় করে। সেই হতভাগাদের ইউরোপীয় শ্রমের বাজারে উচ্চমুল্যে বিক্রি করত- অতি সামান্য দৈনিক খাদ্য আর অকথ্য শারীরিক অত্যাচারের বিনিময়ে। সামান্য ২০০-৫০০ জন ইউরোপিয়ান কি আর নিজেদের শক্তি বলে সেই সব ভিনদেশি মানুষদের বন্দি বানাত? স্থানীয় অধিবাসীদের একটা অংশ, সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানদের দালাল হয়ে কাউকে লোভে ফেলে, কাউকে ফাঁদে ফেলে, কাউকে জবরদস্তি বন্দি বানিয়ে ইউরোপ গামী জাহাজে তুলে দিতো। SIR/NRC এর মাধ্যমে দালাল বিজেপি RSS এটাই করছে আদানি, আম্বানির হয়ে। 

তৃণমূল এই পুঁজিবাদেরই অংশ, RSS এর নানান ব্রান্ডের মধ্যে একটা মেকী গান্ধিবাদী দোকান। তারা কাড়া-নাকাড়া বাজিয়ে মানুষকে মূল সমস্যা থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে। নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে আপনার যন্ত্রণার আওয়াজকে ঢেকে দিচ্ছে, কারন তাকেও দিনের শেষে পুঁজিকেই তুষ্ট করতে হবে। কোনো গান্ধীবাদ, কোনো মনুবাদ, কোনো মোদী ম্যাজিক, কোনো বড়মার ঠাকুরবাড়ি আপনাকে রক্ষা করবেনা। বুঝে হোক বা না বুঝে, মার্ক্সের স্মরণে আসা ছাড়া আপনার মুক্তি নেই। স্পিলবার্গের অস্কার শিন্ডলার কোনো ইশ্বর ছিলোনা, সে ছিলো শ্রমিকের রক্ত চুষে খাওয়া মুনাফাখোর পুঁজিবাদী শয়তান। RSS ও তাই, হিন্দুত্বের ত্রাতা মুখোশ পরে রক্তচোষা মুর্তিমান শয়তান।

সামনে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা ভোট, সিদ্ধান্ত নিন- পুঁজিবাদীদের দালাল RSS এর দুই ফুলের ‘ধর্মের নামে’ মেকি লড়ায়ের মাঝে আতঙ্কে বাঁচবেন, নাকি পুরাতন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে, মার্ক্সবাদীদের হাত শক্ত করবেন, নিজের বেঁচে থাকার স্বার্থে। অপসন একটাই, সিদ্ধান্ত আপনার। 


#হককথন

#BanRSS

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...