রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

অনুপ্রবেশের নেপথ্যে- ১


পর্ব~১

ডাঙ্কি সিনেমাটা দেখে ছিলেন?


আপনি যদি অবৈধ পথে পৌঁছে আমেরিকাতে নাগরিকত্ব চান, সেখানকার আইন অনুযায়ী- একজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি হিসাবেই রাজনৈতিক আশ্রয় দাবি করতে হবে মার্কিন ফেডারাল সরকারের কাছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে আদালতে প্রমাণ করতে হয় যে, তার নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কিম্বা প্রাণনাশের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। 

কীভাবে এসব প্রমাণ যোগার হয়? সব বন্দোবস্ত আছে, শুধু ফেলো কড়ি মাখো তেল সিস্টেম। ২০২৪ সালে ৮৯২,৯০৪টি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছিলো মার্কিন আদালত গুলিতে, যেখানে ৭০% এর বেশী আবেদনকারী নাগরিকত্ব পেয়েছে নানান শর্তের বিনিময়ে। ওবামা, ট্রাম্পের প্রথম দফা ও বাইডেনের আমল মিলিয়ে শেষ ১২ বছরে ৭৬% আবেদনকারী নাগরিকত্ব পেয়েছে, ট্রাম্পের আমলে এটা কমলেও সেটা ২০২৫ এ ইতিমধ্যেই ৪৭% পাড় করে ফেলেছে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশেও এই একই আইন কিছু রকম ফেরে।

২০২৪ সালে ৪৯,৭০০ জন ভারতীয় মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছে এই ভাবে, যাদের মধ্যে মাত্র ২৮২ জন অ-হিন্দু। এবারে আপনি বলুন, হিন্দু হৃদয় সম্রাট মোদি শোভিত RSS শাসিত ভারত রাষ্ট্রে এরা কোন ধর্মীয়/রাজনৈতিক অত্যাচারের শিকার হয়েছিলো? এদের জীবন কোথায় কীভাবে গুরুতর ঝুঁকিতে ছিলো? আপনি জানেন সবটা মিথ্যা, আপনি জানেন উন্নত জীবনের খোঁজে তারা জালি কাগজ বানিয়ে সে দেশের আদালতকে বোকা বানিয়েছে। কিন্তু খাতায় কলমে ওরা সকলেই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক হিংসার শিকার, দস্তুর মত ‘খাঁটি’ প্রমাণ পেয়েছে বলেই আদালত তাদেরকে নাগরিকত্ব মঞ্জুর করতে কসুর করেনি। এটা শুধু আমেরিকার তথ্য দিলাম, এমন করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ সর্বত্র দলে দলে ভারতীয় হিন্দুরা পাড়ি জমাচ্ছে একই উদ্দেশ্যে, একই অজুহাত খাঁড়া করে। 

২০১৪ থেকে এদেশে অত্যাচারের শিকার মুসলমান আর দলিতেরা, তাদের কতজন এই অজুহাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে? ২০২০ এর দিল্লি দাঙ্গায় কতজন মুসলমান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে? নব্য আমেরিকান ৪৯৭০০ জন ভারতীয়র মধ্যে সবচেয়ে বেশী মানুষ গুজরাত থেকে গেছে, দ্বিতীয় পাঞ্জাব থেকে, তৃতীয় মহারাষ্ট্র থেকে। গুজরাত মডেল, RSS এর আরেক ছানা APP ও মহারাষ্ট্রের ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্য গণতান্ত্রিক কাঠামোটা পরখ করে নিতে পারবেন এখানে। মোল্লা শাসিত গণতন্ত্রহীন মধ্যপ্রাচ্যে ভারতে অসুরক্ষিত ‘অত্যাচারিত’ হিন্দুরা কিসের আশায় আশ্রয় নিতে গেছে? এই ব্যাখ্যাটা যদি নাগপুর করে দেয় তো বড় ভালো হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কোনো হিন্দু চুরির পথে এদেশে এলে, সে সত্যিকারের ‘মোল্লাদের অত্যাচারের’ শিকার হয়ে যায়। তার আর কোনো ধান্দা আছে কল্পনা করাও যেন মহাপাপ। যুধিষ্টিরের পর সত্যবাদীতাতে একমাত্র মানদণ্ড হচ্ছে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী অবৈধ হিন্দুটি। এদের হয়ে রুদালি গাইতে ডান, বাম, রাম সব দলের একই নীতি, বিশেষ করে ব্যাক্তিটি যদি পঞ্চম প্রজন্মেরও বাঙাল হয়, সে ও ফুঁপিয়ে উঠছে রীতিমত। বস্তুত, যে ১৯৪৭ সালে এসেছে এবং যে ২০২৪ সালে এসেছে উভয়ের মধ্যে বক্তব্যের কোন পার্থক্য নেই। ধর্মীয়ভাবে হিন্দুর ক্ষেত্রে- আমি একবার ঢুকে পড়েছি অতএব এই দেশ আমার বাপের দেশ, আমি ফিরে যাব না। বাঙালদের পূর্ববর্তী, বর্তমান বা পরবর্তী প্রজন্মের ৯৯%কে দেখবেননা তারা দেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত হতে চেয়েছে বা চাইছে। দু একটা ব্যাতিক্রম ছাড়া কেউ ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিএসএফ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হয়ে কাজ করেনা।

কদিন আগেও একটা প্রতিবেদন লিখেছিলাম এই বিষয়ে- কেন বাংলাদেশীরা এদেশে আসে! আচ্ছা, ধর্মীয় অত্যাচারের কারনে পালিয়ে এসেছে বলে যারা দাবী করে, তাদেরই বাবা, মা, বোন, মাসি, পিসি, মামা, কাকা, জ্যাঠা সহ অধিকাংশ আত্মীয়স্বজন গুলোকে কোন মোল্লার ভরষাতে ও দেশে রেখে আসে? কীভাবে তাদের পেট চলে বছরের পর বছর? কোন ইউনিয়নের কোন থানাতে গিয়ে তাদের উপরে হওয়া অত্যাচারের বর্ননা নথিবদ্ধ করে আসে? এদেশে একবার স্থায়ী হয়ে গেলেই, প্রতি বছর যে নিত্য দু-দেশের মাঝে যাতায়াত, সেখানে কেন কোনও সমস্যা হয়না ধর্ম নিয়ে? এত শয়ে শয়ে অবৈধ মুসলমান অনুপ্রবেশকারী দেখা যাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগণার হাকিমপুর, নদীয়ার হাঁসখালি, সুন্দরবনের ফ্রেজারগঞ্জ সহ নানান বর্ডারে, এদের উপরে কোন ধর্মীয় অত্যাচার হয়েছিলো? 


আসলে ধর্মীয় মোড়ক হলো বুজরুকি, ভণ্ডামি, এবং ৯৯% মিথ্যাচার। ধর্মকে হাতিয়ার এদেশে ঢুকে পরাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য, যেমন ইউরোপ আমেরিকায় করে। আমেরিকা যেতে গেলে লক্ষ কোটির গল্প, ভাষার সমস্যা, চামড়ার রঙের সমস্যা। ভারতে সে সব বালাই নেই, উপরন্তু ২০০ টাকার খরচাতে ঢুকে পরা যায়। এই কারনে এরা ভারতে এসেছে, এর মধ্যে কোনো হিন্দু প্রেম নেই, কোনো হিন্দুরাষ্ট্রের গল্প নেই। একবার নিজের পা জমে গেলে তখন একে একে আত্মীয় পরিজনকে নিয়ে এসে স্থায়ী হয়। এদিকে ১৯৯৭ সালে কলকাতার পিজি হসপিটালে জন্মেছিল যে বাবুটি, যে জীবনে বাংলাদেশের বর্ডার চোখে দেখেনি, সে অবধি ফেসবুকে আড়াই লাইনের হ্যাজ লিখছে- মোল্লাদের অত্যাচারে ও দেশের লোক ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

মেদিনীপুর শহরের একটা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটা প্রান্তে পুরো একটা ছোটখাটো গ্রাম গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের ভোলা জেলার মানুষদের দিয়ে। তাদের দাবী, আমফান ঝড়ে সর্বহারা হয়ে এদেশে চলে এসেছে। আইতে শাল যাইতে শাল, তার নাম বরিশাল; এই দেশে এসে গল্প শোনানো সেই লড়াকু বরিশালীদের ভোলার বুকে শুধু আইলা আমফান ঝড় আছড়ে পড়েনি, আমাদের দেশের অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা, পূর্ব মেদিনীপুর কিম্বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষেরা দগদগে ঘা নিয়ে নিয়মিত লড়াই করে টিকে আছে। নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো মালদা মুর্শিদাবাদের মোল্লারা কেউ আরব দুনিয়ায় ‘ভীর’ সেজে ছুটে পালিয়ে যায়নি। শুধুই মেদিনীপুর শহর নয়, হুগলি জেলার ডানকুনি, গোবরা, রিড়ষা, বাঁশবেড়িয়া, হাওড়া জেলার বাঁকড়া, রামরাজাতলা, বালি, বেলুড়, উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, নিউটাউন, গোপালপুর, সেক্টর ফাইভ সমেত বেশিরভাগ অঞ্চলে যা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে তার সবগুলোই মূলত অবৈধ বাংলাদেশীদের দ্বারা গঠিত হিন্দু বস্তি।

বনগাঁ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমানের কথা আলাদা করে বললামনা, এখানে ঠগ বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাবে। মেদিনীপুরের এই বাংলাদেশী লোকগুলো অবলীলায় বলছে আমাদের কার্ড থাকুক না থাকুক আমরা এদেশেই থাকবো, অর্থাৎ মধুটা ধর্মে নয়- কাজের সুযোগের গল্পে এমন মরিয়া হয়ে উঠেছে এদেশে থেকে যেতে। সুতরাং, মুখে স্বীকার করুক বা না করুক, তারা মোল্লার অত্যাচারে নয়, পাতি না খেতে পেয়ে চোরের মত রাতের আঁধারে দালাল ধরে সীমান্ত টপকে এসে এখন ‘হিন্দু’ সাজছে। এদেশে একবার পা জমে গেলেই এরা আমাকে আপনাকে দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেবে আর আরএসএস শিবিরে নাম লিখিয়ে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তির ইতিহাসে নাম লিখে অমর হয়ে যাবে।

২০১৬ পরবর্তী এ রাজ্যের যেকোনো সাল থেকে যেকোনো নির্বাচন মিলিয়ে দেখলে বুঝবেন, উদ্বাস্তু কলোনী গুলিতে সিপিআইএম তথা বামফ্রন্টের ভোট - তৃণমূল বা বিজেপির পেছনে তৃতীয় স্থানে দাঁড়িয়ে আছে। কোথায় গেল সেইসব বাঁশবেড়িয়া, কাটোয়া, দমদম, টিটাগড়, নোয়াপাড়া, বিজয়গড়, যাদবপুর, বেহালার লেলিন কলোনির আন্দোলনের ইতিহাস? পাথরের মত জমাট বাঁধা ভোট? ইতিহাসের কোন গহ্বরে লুকিয়ে গেল প্রশান্ত শূর জামানার পরবর্তী প্রজন্ম !

সেইকালে এরা সিপিএমকে ব্যবহার করেছিলো, রক্তে বেইমানি, তাই সিপিএমকে ল্যাঙ মেরে এদের উত্তর পুরুষেরাই আজ বলে কমিউনিস্ট মানেই দেশের শত্রু। স্বাভাবিকভাবেই আজকে যারা সদ্য সদ্য ভিখারিপনা করে এখন এদেশের নাগরিকত্ব দাবী নিয়ে হাহাকার করছে, পা জমে গেলেই এরা আমাকে আপনাকে দেশদ্রোহী হিসাবে দাগিয়ে দেবে, এদের জিনে রয়েছে হারামিপনা, বেইমানি, পলায়নপর ধান্দাবাজি।


আপনি এদের জন্য আহা ভেবে আকুল হয়ে যাচ্ছেন, প্রতিটা দলের আঁটি সেলের হ্যাজ আর ফরোয়ার্ডেড হোয়াটস্যাপ মেসেজের ভিড়ে আবেগের সিকনিতে বুক ভিজিয়ে ফেলছেন। কতগুলো ধান্দাবাজ, চিটিংবাজ, মিথ্যেবাদী, পলায়নপর মানসিকতা যুক্ত লোকের জন্য দরদ উথলে পড়লে বুঝে নিতে হবে, আপনার শরীরেও দিনের শেষে সেই একই জিন দৌড়াচ্ছে।। আবেগটা শুধু মাত্র সঠিক ব্যাক্তিদের জন্যই নাহয় সংরক্ষিত থাকুক, যারা সত্যি সত্যি বাধ্য হয়েছেন ছিন্নমূল হয়ে। প্রতিটি অবকাঠামোগত বিষয়ে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, খাদ্য, প্রযুক্তি, রেলপথ, সড়কপথ এবং বিমান পরিবহণে ভারত- বাংলাদেশ বা নেপালের তুলনায় বিপুল বড় এবং উন্নত নেটওয়ার্ক যুক্ত। ভারতের বিশাল অর্থনীতি এবং শিল্পায়নের কারণে এখানে উন্নত জীবনযাত্রা জনিত সুযোগ-সুবিধা ও বিলাসবহুল পণ্যের সহজলভ্যতা বেশি। উচ্চতর মাথাপিছু অর্থনৈতিক সক্ষমতার মাধ্যমে জীবনযাত্রার উন্নত মান বজায় রাখা ভারতে তুলনামূলক সহজ। আর এটাই এই অনুপ্রবেশের একমাত্র কারন, এখানে ধর্মের ভাঁওতাবাজি স্রেফ মুখোশ।

একটা মিম বাজারে ঘুরছে, ‘বিবাহিত মহিলারা সাবধান হয়ে যাও। বহু পীড়িত স্বামী নাকি ইচ্ছাকৃত ভুলভাল SIR ফর্ম ফিলাপ করে দজ্জাল বৌকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে চাইছে ভায়া ডিটেনশন ক্যাম্প”। সন্দেহ নেই, বিষয়টা নিছক মজার জন্য বানানো, কিন্তু সত্যিই যাদের বাংলাদেশ বা ডিটেনশন ক্যাম্পে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের মাঝে ঠিক কতটা আতঙ্ক কাজ করছে তা আমরা কল্পনা করতে পারবনা কোনোভাবেই। ধান্দাবাজদের অবশ্য ততটা সমস্যা নেই, ওপাড় বাংলাতে তাদের সকলের বাবা, মা, আত্মীয় স্বজনেরা আছে। ছিন্নমূলদের পাশাপাশি সমস্যা হচ্ছে সেয়ানাদের, যারা উত্তরবঙ্গের সিতাই, হেমকুমারী, দক্ষিণবঙ্গের সন্দেশখালি, ধামাখালি, বয়রা, ঘোজাডাঙ্গা ও বনগাঁর আশপাশ দিয়ে দালাল ধরে রাতের আঁধারে এ দেশে ঢুকে ভেবে নিয়েছিলো- এটাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, মোক্ষ লাভ হয়ে গেছে। ওপাড়ের সব ধীরে সুস্থে বেচে দিয়ে এপাড়ে এসে ‘ভিরাট’ হিন্দুবীর হয়ে বসে গেছেন- সমস্যা মূলত এনাদের।

সমস্যা আরেকটা গোষ্ঠীর আছে। গতবছর বাংলাদেশের পালাবদলের পর আওয়ামী লীগের বড় অংশের লোক ভারতে ঢুকে পড়েছিলো। এদেরকে হয়তবা খানিকটা ছাড় দিয়েই বর্ডার পেরোতে সাহায্য করেছিলো ভারত সরকার, সেই ফাঁকে আওয়ামীলীগের ছদ্মবেশে বহু ধান্দাবাজও ঢুকে পরেছিলো। তাই এখন, এমন মুসলমানও ধরা পড়বে, যারা আদব কায়দাতে একটু ভদ্রলোকও বটে, এরা কেউ কিন্তু স্থায়ীভাবে থাকতে আসেনি, প্রাণের ভয়ে পালিয়ে এসেছিলো। এতোদিন উভয়েই বেশ সানন্দ্যে ও সাচ্ছন্দ্যেই ছিলো, এখন মুসলমান গুলো ফিরে যাচ্ছে। ফলত, যাদের বর্ডারে দেখা যাচ্ছে এরা প্রায় সকলেই মুসলমান, কিন্তু যেগুলো হিন্দু আওয়ামিলীগ, তারা কিন্তু কোনোমতেই এ দেশ থেকে আর যেতে চাইছে না। 

সীমান্তের বিভিন্ন ভিডিওতে স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশী মুসলমান মূলত কর্মসূত্রে এদেশে এসেছিল অবৈধ উপায়ে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তারা ওই দেশের কোন জেলা, কোন ইউনিয়নে বাড়ি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি ও গন্ডগোলের কারনে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে মনে কোন দ্বিধা দুঃখ নেই। কিন্তু হিন্দুরা কোনো শর্তে যেতে রাজি নয়। দালালের মাধ্যমে ভারতে ঢুকে এসে, তিন দিন পরে এরাই বলবে রক্ত দিয়ে কেনামাটি, ইত্যাদি। সুতরাং, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী হিন্দু মানেই সে মুসলমানের অত্যাচারের শিকার ব্যাপারটা তেমন নয়। এতদিন এদেশের জলহাওয়া খেয়ে, বিজেপি-RSS এর সাথে থাকতে থাকতে একটা বুলি শিখে গেছে- আমাকে মোল্লারা মেরছে। এটাই তার কাছে এদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার গায়েত্রী মন্ত্র।


এই মুহুর্তে আমাদের সমাজের মূল সমস্যা তিনটে। প্রথম হচ্ছে বেকারত্ব, মানুষের হাতে কাজ নেই। দ্বিতীয়ত, ঘরে একটা গৃহসহায়ক, ড্রাইভার, মালি কিম্বা ভালো একটা কর্মচারীর সন্ধান করুন, দেখবেন লোক খুঁজে পাবেননা। অর্থাৎ কাজের মানুষ নেই। তৃতীয়, আমাদের আশেপাশে যে সকল লোকজন কাজ করছে, তাদের দিকে চেয়ে দেখুন; সেটা আমার আপনার ঘরে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হোক, সর্বত্র একটাই সমস্যা- এরা কোনো কাজের নয়, পুরো বেকার লোকজন। বিশেষ করে সরকারী দপ্তরগুলোতে, দুটো লোকও সঠিক কাজের কাজী এমন পাবেননা খুঁজে। এটাই হচ্ছে দেশের মূল সমস্যা। সুলভ হলো শুধু সময়, সকলের হাতে বিপুল সময়। সুতরাং, জনগণ হুলিয়ে সারা সারা দিনরাত কূটকচালি, কলতলার ঝগড়া, খাপ বসানো, বিশেষজ্ঞ, আঁতেলপনা, ফুট কাটা ফুটো মস্তান, নীরব দর্শক, বিপ্লবী ইত্যাদির সাথে অকারন নিন্দাচর্চার জন্য সময়ই সময়। সোস্যাল মিডিয়াই আজকের মনোরঞ্জনের মূখ্য মাধ্যম, তাই SIR কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ‘টপিক’ এর ঘাটতি নেই দেশে।

এপার ওপার বলে কিছু হয় না, হিন্দু মুসলমান বলেও নেই। দেশ ভাগ বাঙালির বুকে একটা দগদগে ঘা। কিন্তু দেশভাগের ছিন্নমূল হওয়ার ইতিহাস আর ধান্দাবাজির পলায়ন বৃত্তি দুটোকে এক সুতো দিয়ে বাঁধা যাবে না।


...ক্রমশ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...