রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

অনুপ্রবেশের নেপথ্যে- ২

 


পর্ব~ ২

চলুন বিস্তারিতভাবে দেখে নিই কেন বাংলাদেশী বা নেপালিরা এদেশে ঢুকে আসে। 

১) ভারতের মতো “SC/OBC রিজার্ভেশন সিস্টেম” বাংলাদেশে/নেপালে কোথাও নেই। এই কোটা সিস্টেমে একবার ঢুকে যাওয়া মানেই দেশের ৬০% জনগণকে টুপি দিয়ে বঞ্চিত করে টপকে, নিজেদের আগামী প্রজন্মকে শিক্ষা, চাকরি সহ প্রায় সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে রেখে দেওয়া গেলো। এই কারনে শেষ ৩০ বছরে এদেশে আসা ৯৯% বাংলাদেশী ও নেপালী হিন্দুরা SC/OBC এই দুটোর একটাতে ঢুকে রয়েছে। শুধু আমাদের দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কাজের গুণগত মান এবং সংখ্যা সুযোগ বেশি বলে লোক আসছে না। ওই সার্টিফিকেটের লোভেও বহু লোক ঢুকেছে। নব্য বাঙাল আর সে জেনারেল কাস্ট- এমন উদাহরণ বিরল। এদেশে বাঙাল কেন আসবেনা?

২) বিনামূল্যে চিকিৎসাঃ নেপালে এমন কিছুই নেই। বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারদের জন্য সরকারী ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ফ্রি বা প্রায় ফ্রি চিকিৎসা দেওয়ার আলাদা সরকারি ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে নির্দিষ্ট কিছু সরকারী হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে আউটডোর টিকিট ও খুব অল্প ফি এর বিনিময়ে ডাক্তার দেখানোর পরিষেবা আছে, কিন্তু তার মান যে ঠিক কতটা নিকৃষ্ট, সেটা আমাদের কোলকাতার বাইপাসের ধারে বেসরকারী হাসপাতাল গুলোতে গেলেই বুঝে যাবেন বাংলাদেশী রোগীদের ভিড় দেখে। কোনো মৌলিক ওষুধ বা খুব সাধারণ ল্যাব টেস্টও বাংলাদেশে সরকারীভাবে দেওয়া হয়না, কোথাও কখনো শিবির করে পরিষেবা দিলেও তার যা মান, তাতে রোগ সারার বদলে বেড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সেভাবে কোনো সামগ্রিক টিকাকরণ কর্মসূচী নেই তাদের। এদিকে আমাদের ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামীণ, মহকুমা, জেলা সদর হাসপাতাল হয়ে কোলকাতার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সিস্টেমে নানান দুর্নীতির পরেও, বাংলাদেশের তুলনাতে ধ্বন্বন্তরী চিকিৎসা বলাই যায়। এর সাথে ভেলোর, পুত্তাপুত্তির মত দাতব্য হাসপাতাল গুলোতে পৌঁছে যেতে পারলে তো সান্ধ্য টিফিনের খরচাতে মহাব্যাধির চিকিৎসা হয়ে যায়। এদেশে নেপালি-বাঙাল অনুপ্রেবশকারী আসবেনা তো কোথায় যাবে?

৩) ফ্রি শিক্ষাঃ বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি ও বাধ্যতামূলক, কিন্তু বাস্তবে খরচ পুরোপুরি শূন্য থাকে না। সেখানে ভারতে উচ্চমাধ্যমিক অবধি সেই অর্থে কোনো টিউশন ফি’ই নেই সরকারি স্কুলে। সামান্য ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, ব্যাস। প্রাইমারিতে ইউনিফর্ম অবধি দেওয়া হয়, যাতায়াতের জন্য সাইকেল, বই, খাতা–কলম, সবই ফ্রি। এর পর আছে মিড-ডে মিল। দিনের সবচেয়ে বড় খাবারটা ইস্কুলেই মিটে যায় বাচ্চাদের, বাপমা এটুকু দুশ্চিন্তা মুক্ত যে, তাদের সন্তান ইস্কুলে গেলে অপুষ্টিতে ভুগে না খেতে পেয়ে মরবেনা। এরপর কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশোনার খরচা। সরকারি কলেজগুলোতে টিউশন ফি বাৎসরিক মোবাইল রিচার্যের চেয়েও কম, কিছু ক্ষেত্রে টিউশন ফি মকুব হয়ে যায় নানান বৃত্তিতে। ভারতীয় ইঞ্জিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করা ছেলেপুলেদের দাম বিশ্ব IT বাজারে বিপুল, বাংলাদেশী হলেই আর জাতে উঠবেনা। ভারতীয় পাসপোর্টও বাংলাদেশীদের চেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্য। তাই তাদের শিক্ষিত প্রজন্মের ধান্দাই হচ্ছে যেকোনো মূল্যে উচ্চশিক্ষার পড়াশোনাটা ভারতে এসে করা, এবং ভারতীয় পাসপোর্ট হাতানো। SC-OBC হলে তো রীতিমত জামাই আদর, কেন বাংলাদেশীরা এদেশে কাঁটাতার গলে ঢুকবেনা?

৪) ফ্রি রেশনঃ বাংলাদেশে দরিদ্র ও দুর্যোগ কবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের সরকারী প্রকল্প রয়েছে কাগজে কলমে। নতুবা এই খাতে বিদেশী অনুদান কীভাবে আসবে? এই কর্মসূচিগুলো Vulnerable Group Feeding এর আওতাধীন, যেখানে কেবলমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে চাল, গম বিতরণ করা হয়। বাস্তবে, দুটো ঈদের আগে ছাড়া এই সহায়তা কেউ পেয়েছে বলে এমন অভিযোগ নেই কারো। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সকলকে বিনামূল্যে ত্রাণটুকু পৌঁছে দিতে পারেনা বাংলাদেশ সরকার, আজও। সেখানে আমাদের রাজ্যে দুর্যোগের জন্য বরাদ্দ চাল আর ত্রিপল ঝেঁপে অট্টালিকা বানাবার লোভেই একটা গোটা রাজনৈতিক দল রমরমিয়ে চলছে। 

এদিকে ভারত সরকারের খাদ্য ও গণবন্টন বিভাগের প্রকল্পের অভাব নেই দেশের মানুষের মুখে প্রায় বিনামূল্যে, সারা বছর ধরে অন্ন তুলে দেওয়ার বন্দোবস্তে। অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (Antyodaya Anna Yojana - AAY), অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana - APY),  অগ্রাধিকার পরিবার প্রকল্প (Priority Household - PHH), প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY), সমন্বিত শিশু বিকাশ পরিষেবা (ICDS)-এর মতো অন্যান্য পুষ্টি-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলি রমরমিয়ে চলছে। এদেশে ঢঙের কিছু কাজ জুটুক বা না জুটুক, রেশনের চাল খেয়ে পেটের জ্বালাটা অন্তত মিটবেই মিটবে। কেন বাংলাদেশীরা এদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারি হবেনা?

৫) বাংলাদেশের আয় মূলত পোশাক শিল্প ও কামলাখাটা শ্রমিকদের পাঠানো প্রবাসী আয়ের (Remittances) উপর নিরর্ভরশীল। এর বাইরে কৃষি খাত, মৎসচাষ ও পশুপালন, এই সবগুলো দিয়ে গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্র্য হ্রাস করা যেতে পারে, উন্নত বৈচিত্র্যপূর্ণ ও কিছুটা বিলাসী জীবনযাপন করা যায়না। বাংলাদেশ থেকে ভারত আর মিয়ানমার ব্যাতিরেকে যেখানেই যাক, বিমানে যাতায়াত হয়, যা বিপুল খরচা সাপেক্ষ। সেখানে ভারতে আসার জন্য পকেটে ১০০ টাকা থাকলেই যথেষ্ট। আর কোলকাতা থেকে গোটা ভারত জুড়ে কাজ খুঁজে ফিরতে খুব বেশী খরচাকর নয়। বহু বাংলাদেশী রীতিমত শুক্রবার ওদেশে ফিরে ২ রাত কাটিয়ে আবার সোমবার সকালে কোলকাতায় নিজের কাজে ফেরে অফিস টাইমে। এরা অনুপ্রবেশ করবেনা তো কে বা কারা করবে?

৬) ভারতের উন্নত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র বাংলাদেশের চেয়ে যোজন কিলোমিটার এগিয়ে। সহজলভ্য ইন্টারনেট পরিষেবা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্ক ভয়াবহ লোভনীয়। স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্সের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মোবাইল ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গড় গতি বাংলাদেশের চেয়ে ঢের বেশি। ২০২৫ সালে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০ কোটি বা ৬২%, সেখানে প্রতি তিনমাসে একবার রিচার্যের হিসাবে মাত্র ২৭% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে। ১ জিবি ডেটার দাম ভারতে গড়ে ৯ টাকা, সেটাই বাংলাদেশে ৩২ টাকা গড়ে। তাই ওই দেশের ওদের শিক্ষিত প্রজন্ম একবার ঢুকলে আর বার হতে চায় না।

৭) পরিকাঠামো ও সুযোগঃ বাংলাদেশের আয়তন ১৪৮০০০ বর্গ কিমি, সেখানে ভারতের আয়তন ৩২ লক্ষ ৮৭ হাজার বর্গ কিমি, মানে ২২ গুনের চেয়েও বেশী বড় দেশ। গোটা ইউরোপের চেয়ে ৩ গুন বড় আয়তনের দেশ আমাদের ভারত। ইউরোপ মানে অনেকগুলো দেশের সমষ্টি, ভারতের প্রত্যেকটা রাজ্যকে একটা দেশ ধরে নিলে- কতগুলো দেশ হয়? আমাদের বিপুল জনসংখ্যা আন্তঃদেশীয় ভাবেই বিপুল বাজার সৃষ্টি করেছে। দেশে বিপুল মাত্রার নানা মাপের শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এ প্রান্তে কাজ না জুটলে আরেক প্রান্তে চলে যেতে রেলপথে মাত্র কয়েকশো টাকাতে বিনা ভিসা, বিনা প্রশ্নে চলে যাওয়া যায়, যা গোটা পৃথিবীতে কোথাও সম্ভব নয়। উপরন্তু ভারতের একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর আছে, সেই সুবিধার লোভে এখানে অনুপ্রবেশ ঘটে চলেছে।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো পরিবহন ব্যবস্থা, যা পণ্য ও মানুষের চলাচল সহজ করে। মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট বা সেতু, উন্নত গ্রামীণ রাস্তাঘাট। দেশজোড়া বিস্তৃত রেললাইন, আধুনিক রেলস্টেশন, উন্নত ট্রেন পরিষেবা। বন্দর, জেটি, ফেরিঘাট, নৌ-চলাচল উপযোগী নদীপথ। পর্যাপ্ত বিমানবন্দর, নিয়মিত সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ হলো আধুনিক ভারতের প্রাণশক্তি। ভারতীয় রেলকে দেশের ‘লাইফলাইন’ বলা হয়। বার্ষিক যাত্রী ধারন সংখ্যা, গুণগত রেলপথ ও দেশ জুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এর নিরিখে ভারতের স্থান গোটা বিশ্বে দ্বিতীয়, সেখানে বাংলাদেশ তালিকার প্রথম ১০০ এর মধ্যেও আসেনা। বাংলাদেশে সড়ক যোগাযোগ ভালো, কিন্তু সেটা ভারতের তুলনাতে নেহাতই বালখিল্য। আজও নদী পরিবেষ্টিত বাংলাদেশের বিবিধ স্থানে নদীপথই একমাত্র বিকল্প, কোনো ব্রিজ বা পাকা সড়ক নেই। বাংলাদেশে বেসরকারী পরিবহণনই মূল ভরষা, কারন অনুন্নত সরকারী বাস পরিষেবা, যার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সময়ানুবর্তিতা রক্ষিত হয়না, ফলে সাধারণ মানুষ সরকারী পরিষেবা এড়িয়েই চলে। গণ পরিবহণ ব্যবস্থাতে ভারত অবশ্যই ইউরোপের তুলনাতে অনেক পিছিয়ে, কিন্তু বাংলাদেশের তুলনাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারত অন্তত ৫০ বছর এগিয়ে। 

এর সাথে  বিদ্যুৎ ও শক্তি খাত হলো- শিল্পায়ন এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। সেখানে বাংলাদেশের তুলনাতে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রায় প্রতিক্ষেত্রেই। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেমন কয়লা, গ্যাস, জলবিদ্যুৎ, পারমাণবিক এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে একপ্রকার স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর সাথে সরবরাহ ব্যবস্থাতেও অনেক অনেক এগিয়ে,  ট্রান্সমিশন লাইন এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপনে এতো বিশাল বড় দেশে একটা নজির। এরপর রয়েছে পরিশুদ্ধ জল সরবরাহ, স্যানিটেশন, কৃষিতে পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা, উন্নত মানের সার ও আধুনিক কৃষিজ যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা। এ সবের লাভ তো কেবল ভারতীয়েরাই পায়। কেন কেউ অবৈধ ভাবে ভারতীয় হতে চাইবেনা?

৮) মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অনুভূতি এবং চুরি বা হামলার ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া জননিরাপত্তা সূচকে ভারত অনেক এগিয়ে। অপরাধ, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত আইন শৃঙ্খলার নিজস্ব সমস্যা দুই দেশেই রয়েছে। নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক বিশ্লেষণ সংস্থা গ্যালপ (Gallup) দ্বারা প্রকাশিত 'ল অ্যান্ড অর্ডার ইনডেক্স' (Law and Order Index) অনুযায়ী, ভারতীয়েরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদেরকে বাংলাদেশীদের চেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করে।
 
৯) আর্থিক বৈষম্য আরো একটা বড় কারন এই অনুপ্রবেশের। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে চরম দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশেরও কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ সালে ভারতে চরম দারিদ্র্যের হার- প্রতিদিন ২.১৫ মার্কিন ডলারের কম আয় কমে ২.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সর্বশেষ গৃহস্থালী আয় ও ব্যয় জরিপ (HIES) ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৮.৭ শতাংশ। এর মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার হলো ৫.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত ২০%, সেখানে ভারতে ৩১% এরও বেশী। ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) বিবেচনা করলে, ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এর ফলে ভারতীয় মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। ভারতের বিশাল শিল্প ও পরিষেবা খাত, বিশেষ করে আইটি সেক্টর শহরাঞ্চলে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করে, যা মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার প্রতি বেশি আগ্রহী, যা ভারতের বড় অর্থনীতির কারণে সহজলভ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত মূলত মৌলিক চাহিদা পূরণের পর সঞ্চয়ের দিকে নজর দেয়। ফলত, ঢাকা ও মুম্বাইয়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়া, মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার খচরে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে মধ্যবিত্তের সংখ্যা কমার পাশাপাশি গরিবের সংখ্যা বেড়েছে, তবুও ভারতের বহু অংশের গরিব এখনো বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের সঙ্গে তুল্যমূল্য বিচারে লড়াই দিতে পারে।

মালদা মুর্শিদাবাদের নদী ভাঙ্গনের বিপর্যস্ত মানুষের কথা আগে চিন্তা করা হবে, নাকি হিন্দুত্ত্বের দোহায় দিয়ে এসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কথা চিন্তা করা হবে- রোহিত শর্মা চুর, আর সূর্যকুমার যাদবের পা বাউন্ডারির বাইরে খুঁজতে প্রানাতিপাত করে দেয়, তাদের? যে দেশে কামলা খাটতে যাওয়াটা সমাজের মূল ধারার সবচেয়ে বড় পেশা, সেখানে এগুলো কী যথেষ্ট কারন নয় এই গণহারে অনুপ্রবেশের? 

সুতরাং, কৃত্রিম ভেকধারী উদবাস্তু মানেই আমার ভাই, বাংলাদেশী হিন্দু মানেই ছিন্নমূল, বাংলাদেশী হিন্দু মানেই সে মোল্লাদের দ্বারা অত্যাচারিত, এই সব গণহারে খেয়ালি পোলাও পাকাবার আগে উপরের তথ্য গুলো মিলিয়ে নেবেন আশাকরি। হয় আমি অনুপ্রবেশকে সমর্থন করব, বা বিপক্ষে থাকব। এখানে আমি যদি তোলামুল হই, আমার ধান্দাবাজ হতে সমস্যা নেই, এটাই আমার রুটিরুজি। আমি বিজেপি হলে মুসলমাদের প্রতি ঘৃনা ও হিন্দুত্বই আমার একমাত্র হাতিয়ার। কিন্তু যখন আমি বাম, আমি কেন জাতের বিচার করব? আমি তো গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে বঞ্চনা হচ্ছে, যাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে, আমি তাদের পক্ষে। মুসলমান বাংলাদেশী হলে সে রোহিঙ্গা, সে অবৈধ, আর হিন্দু বাংলাদেশী হলে এদেশের নাগরিকত্ব নাকি তার প্রাপ্য অধিকার? দেয় কে আপনাদের? আপনার সাথে RSS এর ভাষার ফারাক কোথায়? এমনি এমনি দলটা শূন্যে পৌঁছে যায়নি, আপনি ও আপনার মত ভন্ড মানুষদের মেহেনতে এটা সম্ভব হয়েছে। 


আপনি কী ভাবে দেখেন এই গণহারে অনুপ্রবেশকে?


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...