একটা ট্রেন্ড খেয়াল করছেন কি, SIR ও এই সংক্রান্ত যাবতীয় খবরের শিরোনামে তৃনমূল দলের হয়ে কিন্তু মমতা ব্যানার্জী সেই অর্থে আর নেই, গায়েব হয়ে গেছে। উনি কেবল পুজো উদ্বোধন করছেন। আনন্দবাজার, এই সময়, সংবাদ প্রতিদিন, আজকাল, বর্তমান সর্বত্র শুধুই ভাইপো ব্যানার্জি। হাগো বাংলা বা খবর ৩৬৫ কে হিসাবে ধরলামনা, এগুলো বাড়ির ছোট বাচ্চাকে কাগজে বসিয়ে হাগাবার কাজেই লাগে, তোলামুলের সরকার থেকে এরা রসদ পায় বলে টিকে আছে, নাহলে এদের গণেশ কবেই উলটে যেতো। কোলকাতার টিভি চ্যানেলগুলো, ইংরেজি প্রিন্ট মিডিয়া, ইউটিউব চ্যানেল, তথাকথিত স্বাধীন মিডিয়া, সোস্যাল মিডিয়ার ফেসবুক, টুইটার, রেডিও- এমন প্রতিটি গণমাধ্যমে শুধুই ভাইপো ব্যানার্জি।
নিত্যদিন ভাট বকা কাঁথির মেজো খোকা অস্তিত্বের সংকটে, আরেক বাতেলা বাজ দিলীপ ঘোষের গণেশ উল্টেছে। দেবাংশু নিজের দলেই খোরাক, কুনালের খিস্তি হজম করা ছাড়া কাজ নেই, বর্তমান পদ্মপাল বাজারে হিট হয়নি। টিকে থাকা সুকান্ত, শমীক কিংবা শিয়ালদার ওয়েটিং রুম থেকে মুক্তি পাওয়া জগন্নাথ অথবা দিশেহারা অসীম বা সুব্রত বা উন্মোচিত হয়ে যাওয়া পলাশ কিম্বা দীপ্সিতা সবাইকে ছাপিয়ে গিয়ে, SIR রঙ্গমঞ্চে মিডিয়া বৃত্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা গত চার দশক ধরে, রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব মমতা ব্যানার্জিকে কয়েক ক্রোশ পেছনে ঠুসে দিয়ে, ব্যানার্জি মিডিয়ার চটিচাটা আলোকে উদ্ভাসিত ভাইপোর নতুন অভিষেক।
ভাইপো ইন, পিসি আউট।
চুম্বকে এটাই বঙ্গীয় রাজনীতির তোলামুলি দর্পন। আপনি বলতেই পারেন, ইন আর আউটের খেলা তো তোলামুলের আভ্যন্তরীন বিষয়। আজ্ঞে না, যেহেতু এই দলটাই আজ অবধি ক্ষমতায় ও আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ফল বের হওয়া অবধি এরাই থাকবে, তাই ততদিন এটা- আমার আপনার সহ প্রতিটা বাংলাবাসীর জন্য গুরুত্ব দিয়ে ভাবার মত আখ্যান। আপনি মিডিয়ার বাইনারি দেখুন, BLO কে ম্যান মার্কিং করুন গল্প ফাঁদা থেকে পানিহাটিতে আত্মহত্যা করা বৃদ্ধের বাড়ি যাওয়া- সবেতেই ভাইপো ব্যানার্জি। তৃনমূল দলের নতুন যে রাজ্যকমিটি তৈরি হয়েছে তাতেও চিত্র খুব পরিষ্কার, কয়েকজন চটিপন্থী সেখানে রয়ে গেলেও, ফাইনাল রেসে তারা ছিটকে যাবেই।
কিছুদিন আগেই দীপাবলির সময় বাংলার প্রায় সকল ‘চাঁটা’ মিডিয়াকে ডেকেছিলো ভাইপো, ধমকাতে চমকাতে নাকি ডোল উৎকোচ দিতে সেটা তারাই বদলতে পারবে, যারা উপস্থিত ছিলো। কিন্তু সেখানে কী হয়েছে না জানলেও একটা বিষয় পরিষ্কার, চাঁটার দলকে ‘চোষা’তে মাইগ্রেট করার পাঠ পড়ানো হয়েছিলো। বরুণ সেনগুপ্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, হলধর পটল বা রন্তিদেব অথবা হাল আমলের পল্টুরাম অশোক দাশগুপ্ত কিংবা ২৪ ঘন্টা অথবা কেস খেয়ে ফেরত আসা ঘন্টাখানেক, 'যা গেছে তা গেছে' এর দৈববানীর টাকায় তৈরি অগুন্তি বাংলা চ্যানেল কিংবা তাদের ডালপালা চ্যানেলগুলো দীর্ঘ তিন দশকের 'রোদ জল বর্ষা মমতায় ভরসা', বন্দনা ভুলে, নাঙ এর নতুন বাবু ধরার প্রজেক্ট লঞ্চ করে, তখন ব্যাপারটা সিরিয়াসলি চিন্তাভাবনা করতেই হয়। স্বভাবতই, মিডিয়ার সৌজন্যে পাব্লিককে আপাতত উদয়াস্ত ভাইপোকেই হজম করতে হবে নতুন সরকার আসা অবধি।
আসলে প্রত্যেকটা শুরুর একটা শুরু থাকে, একটু পিছন ফিরে দেখি। আপনি যদি সিঙ্গুর গিয়ে থাকেন, তাহলে সেখানে যে দিকটায় টাটা জমি অধিগ্রহণ করেছিল, ঠিক তার উল্টোদিকে একটা বড় ফ্যাক্টরি আছে যেটার নাম হিমাদ্রি কেমিক্যাল। বর্তমানে হিমাদ্রি কেমিক্যালসের কমান্ডিং ডিরেক্টর (CMD) অনুরাগ চৌধুরী। 'এই সময়' নামের পত্রিকার মালিকানা এখন সঞ্জয় বসু এবং অনুরাগ চৌধুরীর মালিকানাধীন 'টাইডিংস মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস প্রাইভেট লিমিটেডের’, পূর্বের মালিক: বেনেট কোলম্যান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (টাইমস গ্রুপ)। সঞ্জয় বসু কে, তার টাকার উৎস কী? সঞ্জয় বসু ভাইপোর আইনজীবী, আর পরিচয় দরকার আছে কি? সবার অলক্ষে ২৪ ঘন্টা কিংবা আজকাল অথবা এনডিটিভি অস্তিত্ব বিপন্ন হবার পরিস্থিতি তৈরি হতেই বশ্যতা স্বীকার করেছিল।
২০১১ তে তোলামুল সরকার আসার পর, শুরু থেকেই পুলিশ-প্রশাসন দপ্তরটা মূলত মুকুল রায় দেখতো, মমতার বিশ্বস্ত হনুমান হয়ে। এরপর ঢালাও চুরিচামারিতে মন দিয়ে মুকুলের বিপুল হারামের অর্থ কামায় হয়, সেই বেহিসেবি বিপুল টাকা ও প্রফেশনাল মাতাল ছেলে হাঁপনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ‘আনন্দ বাজারের চাণক্য’ মুকুলের বিজেপির জামা পড়ে নেওয়া। আরো পরে মুকুল পাগলের অভিনয়ে ঢুকে যায়। ফলত, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন চালকের আসন খালি হয়ে যায় ২০১৭ এর নভেম্বররের শুরুতে। এর পর কিছুদিন মমতা নিজেই সামলায় দপ্তরটা। মজা হলো এই সময় কাঁথির মেজো খোকা এই দপ্তর চেয়ে বসে ও অশান্তির মুষল পর্ব শুরু হয়। ততদিনে পিসির স্নেহ ও ছত্রছায়ায় সোনা পাচার, বালি, কয়লা, গরু, কাটমানি, চাকরি ইত্যাদি, এমন নানান ধরণের চুরি শিল্পকলাতে উস্তাদ হয়ে উঠেছে দুই খোকাই। দুজনেই তোলামুলী চৌর্য সাম্রাজ্যের পরবর্তী রাজাধিরাজ হওয়ার দৌড়ে সামিল। ক্ষমতার অলিন্দে বড় হওয়া ভাইপো ততদিনে বুঝে গেছে ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নলে, অতএব সে কেন ছাড়বে পুলিশ প্রশাসনের ক্ষমতা, তারই তো উত্তরাধিকার! ব্যাস আর কি, মেজো খোকা বেঁকে বসে, অবশেষে খাকি হাফ প্যান্টুলুনটা প্রকাশ্যে পরে নিয়ে ২০২০ এর ডিসেম্বরে গোয়ালঘরে আশ্রয় নিয়ে নেয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন