সোস্যাল মিডিয়াতে
একটা অদ্ভুত ট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছি। সমাজে যারা সংখ্যালঘু, নির্দিষ্টভাবে বললে রাজনৈতিকভাবে
যারা বাম মদাতর্শে বিশ্বাসী আর ধর্মীয় ভাবে যারা মুসলমান - এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে
এক অদ্ভুদ মানসিকতা কাজ করছে। এরা দৈনিক প্রায় জবদরদস্তী করে নিজেদের সোস্যাল মিডিয়া
প্রোফাইলে দেশপ্রেম, সেনা বন্দনা এবং শত্রু দেশকে গালিগালি করে পোষ্ট করছে বা অন্যের
পোষ্টের কমেন্টে মন্তব্য করছে। প্রশ্ন হতেই পারে, এতে অস্বাভাবিকত্বের কী রয়েছে, এটাই
তো স্বাভাবিক।
না, এটা স্বাভাবিক নয়। যে মানুষটা সারা বছর রাজনীতির সর্ব ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলে, যে আপন বাপন চৌকি চাপনের বাইরে কিচ্চছুটি করেনা, যারা ফুল পাতা ভ্রমণ গান আর কবিতার বাইরে কিছু দেখেনা, যারা দিনে চারবার DP চেঞ্জ করে ৩৬টা নিজের ছবি পোষ্ট করাকে সামাজিকতা মনে করে, যারা ইন্ডিয়ান আর্মি ছাড়াও ভারতীয় সেনাবাহিনীতে - নেভি, এয়ারফোর্স, বিএসএফ বা ওই জাতীয় বিভাগ আছে কিনা জানেনা, যারা জানেইনা কোথায় কার্গিল আর কোথায় পাঠানকোট আর কোথায় জামনগর- তারা সকাল বিকেল নিময়করে নূন্যতম একটা ‘টু লাইনার’ও পোষ্ট করছে দেশ ও সেনা নিয়ে- বিষয়টা শুধু তখন অস্বাভাবিক থাকেনা, অসুস্থতার লক্ষণ বলে প্রমানিত হয়। বিশেষ করে তথাকথিত ‘দুধেল গাই’ সম্প্রদায়, মানসিকভাবে জামাত পন্থী ও RSS মুসলমানরা ভয়ংকর আত্মবিশ্বাসের অভাবে অসুস্থতায় ভুগছে।
আসলে এরা
প্রমাণ মরিয়া হয়ে করতে চাইছে এদের দেশপ্রেম আছে বা সেনার প্রতি আস্থা আছে। কিন্তু এই
প্রমানটা কে চেয়েছে এদের কাছে? রাষ্ট্রের তরফে কী কোনো নির্দেশিকা বের হয়েছে যে- সোস্যাল
মিডিয়াতে প্রমাণ দাও তুমি দেশপ্রেমিক কিনা? নাকি ইন্ডিয়ান আর্মির রোজকার যে প্রেস ব্রিফিং
হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্র বা সেনার মনোবল বাড়াবার জন্য সোস্যাল মিডিয়াতে বেশী বেশী পোষ্ট
করতে বলেছে? আসলে যারা এই পোষ্ট করছে তারা নিজেদের টামললাইনে কিছু জন এমন ব্যাক্তিকে
বন্ধু হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে, যাদের কাছে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যোতা প্রমাণ করতে
হচ্ছে। গুটি কয়েক সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের (অবশ্যই ছুপা RSS) কেউ কেউ লিখছে “যারা সেনার
পাশে দাড়ায়নি তারা শুয়োরের বাচ্চা” ইত্যাদি জাতীয় শব্দ। তাদের বলি, ওরে বোকাচোন্দা
এটা মোবাইলের ফ্রিফায়ার গেম নয়, তোদের ২ লাইনের ন্যারেটিভ- সেনার অস্ত্রভান্ডার বা
যুদ্ধপরিকল্পনা পুষ্ট করছেনা, তোদের আর পাকিস্তানের একই পরিকল্পনা- দেশের সাম্প্রদায়িক
সুস্থতা ভঙ্গ করা। অন্ধকারে হিসি করতে গেলে যাদের বিচি কপালে উঠে যায় ভয়ে, তারা নাকি
সেনার বল বৃদ্ধি করছে সোস্যাল মিডিয়াতে ২ লাইনের পোষ্ট বা কমেন্ট বিপ্লবের হ্যাজ নামিয়ে।
আসলে এরা প্রমাণ মরিয়া হয়ে করতে চাইছে এদের দেশপ্রেম আছে বা সেনার প্রতি আস্থা আছে। কিন্তু এই প্রমানটা কে চেয়েছে এদের কাছে? রাষ্ট্রের তরফে কী কোনো নির্দেশিকা বের হয়েছে যে- সোস্যাল মিডিয়াতে প্রমাণ দাও তুমি দেশপ্রেমিক কিনা? নাকি ইন্ডিয়ান আর্মির রোজকার যে প্রেস ব্রিফিং হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্র বা সেনার মনোবল বাড়াবার জন্য সোস্যাল মিডিয়াতে বেশী বেশী পোষ্ট করতে বলেছে? আসলে যারা এই পোষ্ট করছে তারা নিজেদের টামললাইনে কিছু জন এমন ব্যাক্তিকে বন্ধু হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে, যাদের কাছে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যোতা প্রমাণ করতে হচ্ছে।
বিষয়টা হল,
যাদের সন্তুষ্ট করতে বা যাদের চোখে নিজেকে ভারতীয় প্রমানের দায়ে, দেশপ্রেমের বিজ্ঞাপন
করছেন, সেনাকে সাপোর্ট করি ইত্যাদি লেখার মাধ্যমে আসলে ‘নিজেকে’ প্রমানের দায়ে মরিয়া
হয়ে উঠেছেন। যাদের কাছে অকারনে প্রতিমুহুর্তে নিজেকে প্রমান করতে হয়, সে আপনার বন্ধু
নয়, হতে পারেনা।
মুসলমানের মৃত্যু হলে এই দেশের মাটিতে তার দাফন হবে অর্থাৎ শেষ রক্তবিন্দু নয়, মৃত্যুর পর অস্থিমজ্জা টুকুও এই দেশের মাটিতেই বিলীন হবে। এদেশের মুসলমানদের চৌদ্দপুরুষ নয়, চৌত্রিশ পুরুষ এই মাটিরই মাল। সংখ্যাগুরুদের সাথে
গায়ের রং, চোখ, নাক, মুখ, চুল, কান শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি জিনের গঠন অবধি প্রমাণ করে আমরা সকলেই ভারতীয় । ইতিহাস বেয়ে কয়েকশো বছর পেছিয়ে গেলেই দেখা যাবে মুসলমানেরা মূলত দ্রাবিড় বা শূদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যেই ছিল, পরবর্তীতে শুধু ধর্মান্তরিত হয়েছে।
সংখ্যাগুরু
সম্প্রদায়ের (নিশ্চিত এরা ছুপা RSS) কেউ কেউ লিখছে “যারা সেনার পাশে দাড়ায়নি তারা শুয়োরের
বাচ্চা” ইত্যাদি জাতীয় শব্দ। তাদের বলি, ওরে বোকাচোন্দা এটা মোবাইলের ফ্রিফায়ার গেম
নয়, তোদের ২ লাইনের ন্যারেটিভ- সেনার অস্ত্রভান্ডার বা যুদ্ধপরিকল্পনা পুষ্ট করছেনা,
তোদের আর পাকিস্তানের একই পরিকল্পনা- দেশের সাম্প্রদায়িক সুস্থতা ভঙ্গ করা। আর্মির
প্রেস ব্রিফিং এ ভারতীয় বিদেশ সচিব মাননীয় বিক্রম মিশরি পরিষ্কার বলেছেন, পাহেলগাওঁ
হামলার উদ্দেশ্যই হলো দেশের জনগণের মাঝে বিভেদ তৈরি করা। আর এটা শুধু যে পাকিস্তান
করছে তা নয়, যারা সারাবছর ভারতের মাটিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে - এই বার্তা তাদের
জন্যও বটে।
অন্ধকারে হিসি করতে গেলে যাদের বিচি খুঁজে পাওয়া যায়না ভয়ে, তারা নাকি সেনার বল বৃদ্ধি করছে সোস্যাল মিডিয়াতে ২ লাইনের পোষ্ট বা কমেন্ট বিপ্লবের হ্যাজ নামিয়ে। ভারতীয় সেনা নিজেই নিজের বলে বলিয়ান। তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য আমি আপনির মত নগন্যের কোনো মূল্য নেই।
ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, কাকে খুশি করতে বা কার কাছে আপনি প্রমাণ করতে যাচ্ছেন নিজেকে? আপনি যত মরিয়া প্রমানের চেষ্টা করবেন আপনাকে তারা ‘কাটার বাচ্চা’ ই বলবে যদি মুসলমান হন, আর বামপন্থী হলে আপনাকে চীনের দালাল দেশোদ্রোহীই বলবে। আপনার দেশপ্রেম, সেনাপ্রেম থাকলে সেটা আপনার জীবনের প্রতিটা দৈনন্দিন কাজে প্রতিফলিত হবে, আলাদা করে বিজ্ঞাপনের দরকার নেই। রাষ্ট্র যদি কখনও জানতে চায়, সেখানে প্রমাণ দেবেন। সোস্যালমিডিয়ার দু’পয়সার কটা কানকাটা চুতিয়াকে প্রমাণ দিতে হবেনা, তারা দেশপ্রেমের ঠিকে নিয়ে বসে নেই না তাদেরকে এই দায়িত্ব কেউ দিয়েছে। আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকে আপনি এটা করছেন, এর সাথে রাজনীতি বা ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। না আপনাকে কেউ বাধ্য করেছে আপনি দৈনিক সোস্যালমিডিয়াতে এসে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিন।
মানুষ চিনতে শিখুন, দুরত্ব তৈরি করুন তাদের সাথে যারা আপনাকে কাছে দেশপ্রেমের প্রমাণ চায় রোজ। যাকে আপনি দেশপ্রেমের প্রমাণ দেওয়ার জন্য মরিয়া- সে কী এই মুহুর্তে বর্ডারে রয়েছে বা কখনও ছিলো? তার পরিবারের কতজন সেনাতে আছে বা ছিলো? রাষ্ট্রের জন্য সে বা তারা নিজেরা কোন এমন মহৎ কাজটি করেছে যে, সে দেশপ্রেমিক আর আপনি সন্দেহভাজনের তালিকাতে? সে বা তারা সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের হয়তবা, এই জন্যই কুত্তার পালের মত ঘেউ ঘেউ করছে। এটা দেশপ্রেম নয়, এটা সাম্প্রদায়কতা। আপনি সংখ্যালঘু বলেই সে আপনাকে পরীক্ষা নেবার মাধ্যমে মনোরঞ্জন নিচ্ছে। নতুবা আপনিও দেশে থেকে খাওয়া, হাগা, বাতেলাবাজির বাইরে শুধু সেক্স করেছে, তারাও এই টুকুর বাইরে বেশী কিচ্ছুটি করেনি।
শান্ত থাকুন, রাষ্ট্রের তরফে জারি করা আপদকালীন সমস্ত আচরনবিধি মেনে চলুন। দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশপ্রেমের পরীক্ষা শুরু হয়নি। না কেউ সার্টিফিকেট বিলি করছে আধার কার্ডের মত, যে আপনি পোষ্ট না করলে সেই সার্টিফিকেট হাতছাড়া হয়ে যাবে। নিতান্তই আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করলে কিছু দিন বিরতি নিন, নিজেদের এভাবে খোরাক বানাবেননা। যাদের কাছে নিজেকে প্রমাণ দিতে হয় আপদকাল এলেই, তাদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুন, দেখবেন পৃথিবীটা সুন্দর। আপনার টাইমলাইনের বন্ধুটা আপনাকে সুরক্ষা দেয়না, সেই সুরক্ষা রাষ্ট্র দেয়। রাষ্ট্র যেদিন আপনার কাছে দেশপ্রেমের প্রমাণ চাইবে সেদিন নাহয় প্রাণাতিপাত করবেন রাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া গাইডডলাইন ফলো করে।
Patriotism,
Nationalism শব্দদুটো প্রায় সমার্থক হলেও এর মাঝে ফারাক আছে। এটা পড়ে নিলে আত্মবিশ্বাসের
অভাব কেটে যাবে অনেকটাই। মনে রাখবেন নিচের ভিডিওতে মাননীয় বিদেশ সচিব বিক্রম মিশরি
মহাশয়ের এই বক্তব্য পাকিস্তানের পাশাপাশি- RSS, Mythical RSS, Nurtured RSS, Supposed to BJP, Sponsored BJP, ও Converted
BJP এদের কেউই এই ব্রিফিং এ সন্তুষ্ট নয়, আবার বাজারী মিডিয়ার খবরেও ভরষা করতে পারছেনা।
অতএব, সাধু
সাবধান।