কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
মুজরা সম্রাটের মনিপুর ভ্রমণ
শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
দেবত্ব
দেবত্ব কাকে বলে জানেন!
বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছাত্র রাজনীতি ও প্রাসঙ্গিকতা
রাজনীতি, আমাদের জীবন ও মৃত্যুর মাঝে যা কিছু আছে সেই সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটা শেখার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পাঠশালা না থাকলেও, কলেজ জীবনের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলই আগামী প্রজন্মের মনে সুপ্ত রাজনীতির অঙ্কুরকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। পরবর্তীতে যখন এই প্রজন্ম প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসে, দলমত নির্বিশেষে গোটা সমাজ একটা শিক্ষিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব পায়।
গুরুকুল ভারতীয় উপমহাদেশের আদি শিক্ষাব্যবস্থা। পুরাকালে বেদবিদ্যার সাথে জড়িত ব্রাহ্মণরা- বৈদিক শিক্ষা বিতরণের জন্য গুরুকুল পরিচালনা করতেন। এই ঐতিহ্য তৎকালীন বেশিরভাগ শাসকই অব্যাহত রেখেছিলেন এবং প্রাচীন ভারতের প্রায় সর্বত্র এমন গুরুকুল পরিচালিত হওয়ার বহু শিলালিপি পাওয়া যায় প্রামান্য হিসাবে। এই ধরনের গুরুকুলের উন্নত রূপগুলি ছিল তক্ষশীলা, নালন্দা, বিক্রমশীলা এবং ভাল্বী বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। ধর্মীয়, সামাজিকতা, জ্ঞান, বিজ্ঞানের সাথে সাথে রাজনৈতিক শিক্ষা প্রদানের জন্য গুরুকুলই ছিলো বৈদিক যুগের একমাত্র ঐতিহ্য, যার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হত রাজপুত্রকেও। ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ এবং মহাভারতে উল্লিখিত কিছু বিখ্যাত ঋষি বা গুরুও গুরুকুল পরিচালনা করতেন। রাম এবং কৃষ্ণ যথাক্রমে বশিষ্ঠ এবং সন্দীপনীর কাছে গুরুকুলে শিক্ষালাভ করেছিলেন। এখানেই তারা রাজনীতির পাঠও শিখেছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী যুগের
একদম শুরুতে- ব্রিটিশ ও মার্কিন রাজনৈতিক আদলে গড়ার প্রচেষ্টা ছিলো আমাদের খিচুড়ি রাজনৈতিক
সমাজকে। কিন্তু যে দেশে প্রতি ৫০ কিমিতে ভাষা বদলে যায়, খাদ্য সংস্কৃতি বদলে যায়, জাতপাতের
অঙ্কে সমস্যার মূল ইশ্যু বদলে যায়, সেখানে আঞ্চলিক বাধ্যবাধকতা এসেই যায়। তখন আর একে
নির্দিষ্ট কোনো কপিবুক স্টাইলে ব্যাখ্যা করা যায়না, নিজশ্ব পরিভাষা তৈরি হয়ে যায়। এই
আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বুঝতে গেলে সেখানকার মানুষের সাথে একাত্ম হতে হয়।
সবচেয়ে ভালো হয় স্থানীয় হাতে রাজনীতির ভারটা সমর্পিত হলে, বাইরে থেকে কাউকে এনে রাতারাতি নেতা বানিয়ে দেওয়া যায়না। পুঁথিগত ভাবে তথাকতথিত অশিক্ষিত মানুষও রাজনীতি করতেই পারেন, কিন্তু একটা সীমানা অবধিই তার দৌড় সীমাবদ্ধ। আর এখানেই রাজনীতিতে শিক্ষার দাবী জোড়ালো ভাবে প্রকট হয়ে উঠে। শিক্ষিত আর অশিক্ষিত মূর্খের মাঝে একটা মোটা দাগের জ্ঞানগত বিবেচনা, দুরদৃষ্টিতা আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বার্থানেষী গোষ্ঠীকে উপেক্ষা করার মত কাঠিন্য দেখানোর ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েই যায়। মোদীজির চেয়ে বড় অশিক্ষিতের জ্যান্ত উদাহরন আর কী হতে হতে পারে শিক্ষিত ভারতীয়দের সামনে!
চলে আসুন ২০২৫ সালের পশ্চিমবঙ্গে। ছাত্র রাজনীতি প্রায় নেই হয়ে গেছে বা নেই করে দিতে সক্ষম হয়েছে মমতা ব্যানার্জী। কারন তার যে দল, তাকে চালাবার জন্য প্রথম শর্তই হচ্ছে অশিক্ষা, মুর্খামি আর অসৎ মানসিকতা। তৃনমূল দলের মূল বিপদ হচ্ছে শিক্ষা আর বিবেক। সুতরাং, খুব স্বাভাবিক কারনেই তিনি ছাত্র রাজনীতির শিকড়ে আঘাত করেছিলেন। শুরুতে নিজের দলের ছেলেপুলেদের দিয়ে ক্লিনিক্যালি ছাত্র রাজনীতিকে আতঙ্কে রুপান্তরিত করেছিল, যা অত্যন্ত দুরদর্শী ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত ছিল। সংবাদপত্র খুললেই ছাত্র সংগঠনের দাদাগিরির রগরগে কেচ্ছা, ছাত্রনেতা নাম শুনলেই কেমন যেন হিংস্র শ্বাপদের মত শোনাতো। অভিভাবকেরা শঙ্কিত হয়ে উঠলো, সাথে সাথে ছেলেপুলেরাও। যৌনতা বা গরু-শুয়োর এর ট্যাঁবুর চেয়েও ‘ছাত্র রাজনীতি’ শব্দটাকে প্রবল নিষিদ্ধ ও পাপগ্রস্থ বানিয়ে তুলতে সফল হলো।
রাজনীতি আসলে ‘ইজম’ ভিত্তিম একটা নান্দনিক শিল্প, যেখানে যুক্তি তর্কের ধারালো ফলা এফোঁড়ওফোঁড় করে দেয় যাবতীয় ভণ্ডামি। রাজনীতি হলো দর্শন, শিল্পকলা, রুজি কেন্দ্রিক সামাজিক আন্দোলন। যা নমনীয়তার সাথে সমালোচনা করতে শেখায়, কূটনৈতিক বর্ম ব্যবহার করে সমালোচনা সইতে শেখায়। অশিক্ষা না এলে সেই সমাজে চুরিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যাবেনা বৈধতার সাথে। আদর্শ ভিত্তিক ইজমের শিক্ষা থাকলে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বর্বরতা, ভন্ডামি, গুন্ডামি আর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা যাবেনা, যেখানে সরকারের সমালোচনা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রশ্ন করা মানেই প্রকাশ্য গণশত্রুতে রুপান্তরিত হওয়া। এদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে মধ্যযুগীয় সামন্ততন্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ নৈরাজ্য তৈরি করা, যেখানে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যই তৃণমূলীয় যোগ্যোতার একমাত্র মাপকাঠি। অতএব, শিক্ষিত রাজীনীতির সূতিকা গৃহই বন্ধ করে দাও। কলেজ বা ইউনিভার্সিটি থেকে কেবল নেকুপুষু ছেলেমেয়েই বের হবে, যারা আজীবন দয়াভিক্ষার উপরে স্থানীয় মস্তান রাজনৈতিক নেতাদের পা ধরে করুণার পাত্র হিসাবে বেঁচে থাকবে
অত্যন্ত মোটাভাবে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হলো রাজনীতি মানেই অস্পৃশ্য, অবৈধ, এটা কোনো সভ্য ভদ্র লোকেদের ছেলেমেয়েদের কাজ নয়। সংবাদ মাধ্যম ছিলো এই অপরাধের প্রত্যক্ষ দোসর, বিজ্ঞাপনে আরাবুল, অনুব্রতরা তখন সংবাদ পত্রের কোহিনূর। রাজনীতির ময়দানকে হিংস্র পশুর চারণভূমির সাথে তুলনা শুরু হয়ে গিয়েছিলো, অতএব ছাত্র রাজনীতির আঁতুড় ঘরকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো মানে হয়! ক্রমশ ‘ভালো ছেলে’ রাজনীতি করেনা, শিক্ষিতেরা ইউনিয়নবাজি করেনা জাতীয় গায়েত্রী মন্ত্রের জপ করানো হলো সমস্বরে, কর্পোরেট হাঙরদের সুবিধে করে দিতে। ফলে ক্রমশ মূল ধারার রাজনীতির কারবারিরা, যারা দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত- তারাই ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করল, ইস্কুল কলেজের সরকারি ফান্ড আত্মসাৎ করতে। ছাত্র রাজনীতির ধাত্রী ভূমি হওয়ার বদলে কলেজগুলো চোখের সামনে দুর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে উঠলো
এটাও সত্য যে, কংগ্রেসী ঘরানার ছাত্র রাজনীতি মানেই পার্টির ক্ষমতা মজবুত করা, বাম আমলেও তার ব্যতিক্রমী ছিলো না। ২০০৬ পরবর্তী বাংলাতে মমতা ব্যানার্জী এটার ন্যাংটা রূপ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলো। ছাত্র রাজনীতি মানেই পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। ছাত্র রাজনীতি মানেই চরদখলের মতো ‘হল’ দখলের মহড়া। ছাত্র রাজনীতি মানেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের লেজুরবৃত্তি, একে অন্যের পা চাঁটা। ছাত্র রাজনীতি মানেই ছাত্রীদের নিয়ে দখলদারি, কে কাকে ভোগ করবে তার প্রতিযোগিতা। ছাত্র রাজনীতি মানেই অপমান করে ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষা রোধ করে দেয়া। বোমাবাজি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দলবদ্ধ হয়ে গাড়ি ভাংচুর। সাধারন মেধাবী ছাত্ররা কেন রাজনীতিতে জড়াবে বলুন তো!
আর এই ফাঁকেই জন্ম নিলো- ‘অরাজনৈতিক’ কাঁঠালের আমসত্বের। যা রামধনু যৌনতার মত বিকৃত কামের মজা দেয়, আবার প্রাণঘাতী যৌন রোগও তৈরি করে- নতুন কিছু জন্ম না দিয়েই। এই নপুংসক প্রজাতিটাকে তৈরি করা হয়েছিলো অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে, মমতা ব্যানার্জী যখনই নিজে কোনো মুশকিল ফাঁদে জড়িয়ে গেছে বা যাচ্ছে, এই খোদার খাসির দল সামনে চলে গিয়ে একটা মিথ্যা প্রতিবাদের পর্দা টাঙিয়ে দেয়। যারা Shock absorber হয়ে গণবিদ্রোহের আগুনের লেলিহান শিখাটাকে স্তিমিত ও সহনীয় করে দেয়, এবং বেশ কিছুটা সময় পাইয়ে দেয় মমতা ব্যানার্জীকে। যেখানে রাজনৈতিক আদর্শ নেই, সেই আন্দোলন শুধুই ক্ষমতা দখলের খেলা।
এই অরাজনৈতিক বুদ্ধিজীবী সমাজটাই প্রচার করলো- ছাত্রদের কাজ শুধুই পড়াশোনা করা। তোতাকাহিনীর জনৈকের মত মমতা ব্যানার্জীও নিশ্চই অলক্ষ্যে বলেছিল- “শিক্ষা যদি নাও হয়, খাঁচা তো হইল। পাখির কী কপাল।” পড়তে গিয়ে দলবাজি করা অপরাধ অন্যায়, যা সভ্যতার পরিপন্থী। শাঁখ ঘণ্টা ঢাক ঢোল কাড়া নাকাড়া তুরী ভেরি দামামা কাঁসি বাঁশি কাঁসর খোল করতাল মৃদঙ্গ জগঝম্প করে রাবীন্দ্রিক অনুষঙ্গে, রোজ সন্ধ্যার টিভি খেউড়ে অভিভাবকদের টার্গেট করে খাপ পঞ্চায়েত বসালো আনন্দ টিভি ও বিজন দেবনারায়ণের মত ‘অরাজনৈতিক’ মাষ্টারেরা। প্রশ্ন তুলে দিলো আমাদের দেশে ছাত্ররাজনীতি জিইয়ে রাখা কি খুবই জরুরী! স্বাধীন সার্বভৌম গনতান্ত্রিক শাসন-ব্যবস্থার দেশে ছাত্রদের কেনো পড়াশোনার পরিবর্তে রাজনীতি করতে হবে। এভাবেই ক্রমশ ছাত্রদের রাজনীতি থেকে সরাতে সরাতে, রাজনীতি থেকেই শিক্ষিত সমাজকে সাবাড় করে দিলো।
অথচ সোনালী প্রজন্মের বরেণ্য নেতাদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল নেহেরু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর এমনকি জ্যোতি বসু পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির কোষ্ঠীপাথরে নিজেদের ঘসামাজা করে নিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলো সোসালিস্ট পার্টির জয়প্রকাশ নারায়ন। সেই আন্দোলনের সর্বাগ্রভাগে ছিল লালু প্রসাদ যাদব, সুশীল মোদী, নীতিশ কুমার, রামবিলাস পাশওয়ান এর মত ছাত্র নেতারাই। সোসালিস্ট এবং দক্ষিণপন্থী রাজনীতির অন্যতম বীজতলা বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি, যার সেরা ফসল দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর।
ভারতের
ছাত্র রাজনীতি এবং ক্লাসিক্যাল ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সর্বাজ্ঞে
চলে আসবে বামপন্থীরা. বর্তমানে দেশের যে কটা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি চালু আছে, তার মধ্যে JNU
অন্যতম। আজকের কেন্দ্রীয় রাজনীতির মঞ্চে যে কয়েকজন ছেলেমেয়ে সন্ধ্যার টিভির খেউর বা
সোস্যাল মিডিয়াতে বিরোধী স্বর হিসাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তারা প্রায় প্রত্যেকেই phd
ডিগ্রীধারি শিক্ষিত ও অধিকাংশই JNU থেকে এসেছে। এই JNU থেকেই অমিতাভ নন্দী, ডি রাজা,
শেহেলা রশিদ, ওমর খালিদেরা বেরিয়ে এসেছে।
অর্থাৎ রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী একটা পরিমণ্ডলে এরা প্রত্যেকে জন্মেছে ও লালিত হয়েছে, পুঁথিগত শিক্ষার সাথে সাথে রাজনৈতিক শিক্ষাতেও শিক্ষিত হতে পেরেছে বলেই, আজ তারা ক্ষমতার চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করতে শিখেছে নিয়মিত অনুশীলনে। আজ গোদি মিডিয়ার মত একনায়কতান্ত্রিক একটা পুঁজিবাদী সমষ্টির বিরুদ্ধে গিয়ে- নিজের ইজমের কথা রাখতে পারছে, যুক্তি ও তথ্য দিয়ে মাত করে দিতে পারছে RSS এর মিথ্যার বেসাতিকে, ধর্ম আর জাতপাতের ভুয়ো ন্যারেটিভকে ছিঁড়ে খানখান করে দিতে পারছে আত্মবিশ্বাসের সাথে।
তত্ত্বগত ভাবে শ্রমিক কৃষকের মিলিত শক্তির উত্থানে প্রোলেতারিয়েত পরিবার থেকে উঠে আসবে বামপন্থীদের নেতা। সেই নেতারা ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে, গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেও বৈপ্লবিক যুগান্তকারী কোন সিদ্ধান্ত নেবে- এমনই প্রত্যাশা থাকে বামপন্থী সমর্থকদের । কিন্তু বাস্তবটা হচ্ছে মূল কাঠামোর সর্বোচ্চ শিখর অর্থাৎ প্যালিটব্যুরো নিয়ে যদি আলোচনা করা যায়, দেখা যাবে আজ অবধি সিংহভাগ নেতাই এসেছে ছাত্র রাজনীতির অন্দরমহল থেকে। দিল্লির JNU যদি ছাত্র রাজনীতিতে বামপন্থীদের আঁতুড় ঘর হয়, তবে দিল্লী ইউনিভার্সিটি অবশ্যই দক্ষিণপন্থীদের ধাত্রীভূমি। অরুন জেটলি, বিজয় কুমার মালহোত্রা, বিজয় গোয়েল, অনুরাগ ঠাকুর, অজয় মাকেন, অলোক শর্মা, অরবিন্দ সিং লাভলী প্রমুখ, নাম শেষ হবেনা বলতে থাকলে।
আজকের বিজেপির পিতা জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির রাজনৈতিক জন্মও, কোলকাতা বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র রাজনীতির হাত ধরেই। সঙ্ঘচালক মোহন ভগবত, কে সুদর্শন, বিজেপির মুরলী মনোহর জোশি, সুব্রহ্মণ্যম স্বামী, অশ্বিনী কুমার চৌবে, গিরি রাজ সিং এর মত বিষাক্ত মালেরাও ছাত্র রাজনীতির গলি থেকে এসেছিলো। আজকের উপরাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, রাজনাথ সিং, নিতিন গডকড়ি, প্রকাশ জাভড়েকর, ধর্মেন্দ্র প্রধান, রাধা মোহন সিং এনারা তো আছেই। প্রাক্তনদের মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, রাম জেঠমালানি, প্রমোদ মহাজন, ভেঙ্কাইয়া নাইডু, কমলাপতি ত্রিপাটি, হেমবতী নন্দন বহুগুনা তথা RSS এর মূল পাইপলাইন- ছাত্র রাজনীতির মন্থন থেকেই উঠে এসেছে।
বামপন্থী রাজনীতির নেতৃত্ব স্থানীয় ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা প্রশ্নহীন। প্রকাশ করাত, সীতারাম ইয়েচুরি, বৃন্দা কারাত, বিমান বসু, শ্যামল চক্রবর্তী, সুভাষ চক্রবর্তী, অনিল বিশ্বাস, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মোহাম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, গণশক্তি সম্পাদক শমিক লাহিড়ী, মইনুল হাসান বা সেদিনের বামনেতা তথা আজকের বিজেপির দিল্লি অফিস সামাল দেওয়া ব্রতীন সেনগুপ্ত হয়ে আজকের মীনাক্ষী, শতরূপ, দীপ্সীতা, ঐশী কিম্বা তোলামূলের ঋতব্রত, দশটা বছর শুধু বসে বসে কাটিয়ে দেওয়া ব্যার্থ ছাত্র নেতৃত্বের প্রতীক- সৃজন ও প্রতীকুরও এসেছে এই ছাত্র রাজনীতির সাপ্লাই লাইন থেকে। দেশজুড়ে হাজার হাজার এমন নাম রয়েছে।
দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে প্রিয়রঞ্জন, সুব্রত, তাপস রায় থেকে অরূপ বিশ্বাস, এমনকি সোনালী গুহ পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির ফসল। কেন্দ্রীয় ভাবে পুরো অতিবাম ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা আজকের দীপঙ্কর ভট্টাচার্য নিজেও ছাত্র রাজনীতির ফসল। দেশ উত্তাল করে দেওয়া বাম ছাত্র সংগঠনের হয়ে ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া, সদ্য কংগ্রেসী কানাইয়া কুমারকে আমরা কে ভুলতে পারি! বাঙালি খেদাও আন্দোলনের নামে গুয়াহাটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস থেকেই প্রফুল্ল মহন্ত, ভূগু ফুকানেরা আবিষ্কৃত হয়েচছিল। সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্যের মত নাম, যারা আসাম রাজ্যের ভীত নড়িয়ে দিয়েছিল, তারাও ছাত্র রাজনীতি জাত সন্তান। শাহবানু মামলা খ্যাত আরিফ মোহাম্মদ খান, রাজস্থানের অশোক গেহলত, এমন কত নাম বলব!
শুধু উত্তর ভারত নয়, দক্ষিণ ভারতীয় রাজনীতি যারা নিয়ন্ত্রণ করতেন একসময়, তাদের বড় অংশের উত্থান ছাত্রনেতা হিসেবেই। কারুনানিধি, চন্দ্রবাবু নাইডু, চন্দ্রশেখর রাও, দেবগৌড়া, সিদ্দেমাইয়া, অনন্ত কুমার হেগড়ে প্রমুখ। সুপ্রিম কোর্টের বিখ্যাত আইনজীবীদের তালিকায় যদি চোখ বুলানো যায়, দেখা যাবে কপিল সিবাল, অভিষেক মনু সিংভি, পি চিদাম্বরম, কিরণ রিজিজু, প্রশান্ত ভূষণ, ইন্দিরা জয়সিং, রবিশঙ্কর প্রসাদ এমনকি দেশের চিফ জাস্টিস রামান্না, জাস্টিস অরবিন্দ কুমার এর মত মানুষেরাও স্বমহিমাতে ছাত্র রাজনীতি করেও নিজ নিজ পেশাতে সফল। অভিনয় জগতে সাই পল্লবী বা সুশান্ত সিং রাজপুতের নাম অনেকেই জানে সফল ছাত্রনেতা/নেত্রী হিসাবে, এটাও জেনে রাখুন- শাহরুখ খানও নিজ কলেজ জীবনে চুটিয়ে ক্যাম্পাস পলিটিক্স করেছেন।
পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশের একটি অঙ্গরাজ্যে ছাত্র রাজনীতি বলে আজ কিছুই সেভাবে অবশিষ্ট নেই। এক কথায় বলা যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রনীতির ধারাটি আক্ষরিক
অর্থে ‘খুন’ করে, আগামী প্রজন্মের জন্য
একটি বন্ধ্যা, মূর্খ, মেরুদণ্ডহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত, চলশক্তিহীন নেতৃত্বের পথ সুগম করে
দিয়েছে মমতা ব্যানার্জি। অথচ স্বাধীনতা আন্দোলনে এই বাংলার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়
গুলোই সবচেয়ে বেশী স্বাধীনতা সংগ্রামী দিয়েছিলো দেশমাতৃকাকে। বর্তমান
উচ্চ শিক্ষাঙ্গন গুলো ক্রমশ শাসক দলের ছত্রছায়ায় পালিত, ছাত্র
নামধারী কিছু সন্ত্রাসীর অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। চুরি
এদের মূল ভিত্তি হলেও খুন, ধর্ষন থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ নেই, যা এই সন্ত্রাসীরা করে না।
শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করতে গিয়ে আজ ছাত্ররাই সমাজচ্যুত একঘরে হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করা এই বীর পুঙ্গবেরা যখন চাকরি বা কর্মংস্থানের দিকে তাকাচ্ছে, সেখানে ধু ধু মরুভূমি। তাদের ন্যায্য চাকরি লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দলদাস অযোগ্যদের কাছে, কর্মফল কাউকে ক্ষমা করেনা। এই প্রজন্মের সকল শিক্ষিত ‘অরাজনৈতিক’ আবেদন-নিবেদন, আহাজারি নিষ্ফল হয়ে যাচ্ছে শাসকের পোশাকধারী রাষ্ট্রশক্তির নৃশংসতা, আক্রমণকারীদের বর্বরতার মুখে। শাসক তার সর্বশক্তি দিয়ে রাজনৈতিকভাবে অশিক্ষিতদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরলে, তারা দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে অনভিজ্ঞতার কারনে। কর্পোরেট হাঙরেরা আজ শ্রমকোড লঙ্ঘন করে ১২ ঘন্টার গাধার খাটুনি খাটিয়ে নিচ্ছে দাসত্বের টাই বেঁধে দিয়ে। অরাজনৈতিক বাপ-মা আক্ষেপ করে বলছে “রাজনীতি বড়ই নোংরা, সৎ মানুষেরা দূরে সরে গেছে, আর দুর্নীতিবাজরা জায়গা করে নিয়েছে।” তাদের বলি- আপনার ছেলেটিকে রাজনৈতিক শিক্ষা দিয়েছিলেন তার শিক্ষানবীশ কালে!
রাজনৈতিক বোধহীন এই
যুবসমাজ রাজ্যের দুর্নীতিবাজ আইনরক্ষক, চোরের সরকার ও তার পুলিশ প্রশাসনের সামনে
কীভাবে দাঁড়াবে! কোন ভাষাতে রাষ্ট্রের কাছে
জবাব চাইবে, সেটাই তো জানেনা। ছাত্রদের হাতে শুধুই বই আর কলম রয়ে গেছে, সেগুলোকে কিভাবে অস্ত্র
হিসাবে ব্যবহার করতে হয় তা তারা কখনও শেখেনি। যুক্তি আর তর্ক
যে আগ্নেয়াস্ত্রর চেয়েও শক্তিশালী, সেই
প্রকৌশল কীভাবে আর কোথায় শিখবে? পঞ্চাশ বা ষাটের দশকে কেউ ছাত্র রাজনীতি করেছে
শুনলেই মনে ভেসে উঠে একজন মেধাবীর মুখ। বিজ্ঞান,
গনিত, ইতিহাস,
অর্থনীতি, সমাজবিদ্যা, আইন বিষয়ে
জ্ঞানবান, সচেতন, নিষ্ঠাবান কটা তরুণ বা তরুণী ছবি আজকে
বাংলার যুব রাজনীতিতে রয়েছে বলতে পারেন? আজকে যুব দলের কেউ মানেই-
সে নির্ঘাত গরু, শুয়োর, মন্দির মসজিদ এর পক্ষে বা বিপক্ষে বলে
জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যার গোটা অবয়ব জুড়ে মেধাহীনতা,
পাঠশূন্যতা, তোলাবাজের সাথে আপস করার চেহারা।
নিজের মতো করে জীবিকা খুঁজে নিতে গেলেও রাজনৈতিক বোধ প্রয়োজন। যেহেতু ছাত্রাবস্থায় নৈতিকতা শিখছেনা, তাই আয় বাড়াতে, সংসার বাঁচাতে, সস্তার চুরি বিদ্যা শিখে নিচ্ছে দ্রুত। সুস্থতার স্বপ্নকে হত্যা করেছে জটিল, কুটিল ও নিষ্ঠুর শাসক দলের বর্তমান অনাদর্শের পাঁকে- চোর হলে তোমার সব কিছু মাফ। ছাত্ররাজনীতির বদলে এই দিশাহীন আদর্শহীনতা, সমাজকে ফোকলা বানিয়ে দিয়েছে ভিতর থেকে, প্রতিবাদের ভাষাকেই নেই করে দিয়েছে।
বর্তমান বিরোধী দলগুলোও কম দায়ী নয়, তাদের যারা শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই ছাত্র রাজনীতির ফসল। অথচ এই স্লো পয়জনিংটাকে সেভাবে ধরতেই পারেনি, তাই গুরুত্বও দেয়নি। এটা চরম ব্যার্থতা, যার ফলে বিরোধী রাজনীতির পরিসর একটা বন্ধ্যা সমাজে পরিনত হয়েছে। যেখানে আধুনিক বিজ্ঞান, গনিত, অর্থনীতি, আইনজ্ঞ সহ বিবিধ ধারায় শিক্ষিত নব প্রজন্মের স্রোত নেই। শাসক ক্ষমতার গদিতে টিকে থাকতে সকল ধরণের অপচেষ্টা করবেই, বিশেষ করে ডানপন্থী ভাবধারার সেই রাজনৈতিক দল- যারা ধর্মীয় বিভেদের মাঝে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করে। তাই, অভিভাবকদের পাশাপাশি বিরোধীরাও সমানভাবে দোষী আজকের পরিস্থিতির জন্য।
এই শাসক দলেরও একদিন পতন হবে। সেদিন এদের হয়ে পতাকা ধরার কেউ থাকবেনা, কারন পরবর্তী শিক্ষিত রাজনৈতিক প্রজন্মের যে আতুঁড়ঘর, যেখানে মমতা ব্যানার্জী নিজে জন্মেছিল- সেই কলেজ রাজনীতিকে নিজে হাতে শেষ করে দিয়েছে একদা ছাত্র রাজনীতির পরিপুষ্ট ফসল।
যতদিননা আবার নতুন করে রাজনীতির ধাত্রীভূমিকে সংস্কার করে আবার একটা সুস্থ পরিমণ্ডল ফিরিয়ে দেওয়া যাবে, ততদিন অশিক্ষিত চোরেদের অধীনেই শাসিত হতে হবে। ততদিন হবু শিক্ষকেরা রাস্তায় শুয়ে থাকবে, ততদিন বর্তমান চাকুরিজীবীরা অমেরুদন্ডীদের মত চার হাতপায়ে হেঁটে DA এর জন্য মিনমিন করে ভিক্ষা চাইবে, আর পুলিশের হাতে মার খাবে। ততদিন একটা হিংসার ঘটনা চাপা দিতে নতুন হিংসার জন্ম দেবে। আরো একটা বড় ঘৃণা দিয়ে পুরাতন ঘৃণার পাপকে ধামাচাপা দেবে। দুর্নীতি আর অশিক্ষার পাঁকে জন্মানো রাজনীতির প্রজন্ম- ঘৃণার চাষ ছাড়া আর করবেই বা কী! কু-যুক্তিই অবোধের হাতিয়ার।
আন্দোলন একটা ধারাবাহিক অভ্যাস, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবী তারই অঙ্গ। কলেজ রাজনীতিই প্রথম মিছিলে হাঁটতে শেখায়, স্লোগান দিতে শেখায়। বর্তমান প্রজন্মের প্রায় কেউই তাই রাস্তায় নামাতে জানেনা। লক্ষ লক্ষ জ্বলন্ত ইস্যু থাকা সত্বেও বিরোধীরা পঞ্জিকা দেখে তিথি নক্ষত্র মিলিয়ে রাস্তায় নামে। শাসক দলের নেত্রী ‘আমরা সবাই চোর’ প্ল্যাকার্ড লাগালে যুব অনুগামীরা সেটাই অন্ধের মত প্রশ্নহীন অনুসরন করে, বিজেপির ছাত্ররা ‘চেঁচায় মাতা’ স্লোগান তোলে, IT সেলের লিখে দেওয়া দু লাইনে- সবাই বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র হয়ে যায়। এটাই তো দৈন্যতা, শিক্ষাহীন রাজনীতির দুরবস্থা। বেঁচে থাকার নাম গণতন্ত্র নয়, মানবাধিকার রক্ষার পদ্ধতিটা অবিচ্ছিন্ন একটা অভ্যাস।
দিশাহীন GenZ আর ছাত্র রাজনীতির মন্থনে জন্মানো কোনো ব্যাক্তি এক নয়। চেয়ার, হাঁস, ব্রা কিম্বা বন্দুক হাতে সংসদে ঢুকে যাওয়াটা গণতন্ত্রের ছবি নয়, এটাই আজকের তথাকতথিত GenZ আর ছাত্রনেতাদের মাঝের ফারাক। মুজরা আর শাস্ত্রীয় নৃত্যর মাঝে দৃশ্যত ফারাক থাকবেই।
যেদিন
রাজ্যে ছাত্র রাজনীতি স্বমহিমাতে ফিরবে, সেদিন রাজপথের অবরোধ আন্দোলন নতুন
পরিচয় পাবে। গত এক দশক ধরে লাখ লাখ অরাজনৈতিক শিক্ষিত ছাত্র বেরিয়েছে কলেজ ইউনিভার্সিটি
থেকে, তাতে জাতির কোন লাভটা হয়েছে? কেউ পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে পরে আছে, বাকিরা
কেউ ডেলিভারি বয়, কেউ টিউশুনি খুঁজছে, আর কেউ ঘরে বসে বেকারত্ব উপভোগ করছে সোস্যালমিডিয়াতে। ইতিহাস সাক্ষী, শান্তি মিছিল কখনও শান্তি ফেরায়নি। ছাত্রদের
জঙ্গি আন্দোলন শাসকের ঘুম হারাম করে দেয়। তাই সে ছাত্র রাজনীতিকে সে ঘৃণা করে, উচ্ছেদ
করতে চায়। ছাত্রকে সত্যিই জাতির মেরুদন্ড হতে গেলে কলেজে কলেজে রাজনীতির পাঠ ফেরাতেই হবে। রাজনীতিকে
শিক্ষিত করতে হবে, নতুবা ধুর্ত শাসকের দয়ার পাত্র হয়ে আজীবন ভিক্ষাই করতে হবে।
সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
আপনিই তো এটা চেয়েছিলেন
➤আপনার ছেলেটা চাকরি পাচ্ছে না?
বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
Punjab Flood
বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
বুদ্ধের দেশ ভারত
তৃনমূল নামের রাজনৈতিক দলটির কল্যাণে আমাদের পশ্চিমবাংলার জনসমাজ চুরিকে নিও-নর্মালাইজ করে ফেলেছে। সততার ছদ্মবেশে রাজক্ষমতা হাসিল করার পর, চুরির ডিজাইনকে আরও কার্যকরী এবং সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে একটা ব্যাপ্তিময় সমবায় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দল তৃনমূল। একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি হ্রাস করে, আমলা ও প্রশাসন তন্ত্রকে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে ব্যবহার করে গত ১৫ বছরে নিশ্চিত ভাবে চুরিকে শিল্পের মর্যাদায় উন্নত করেছে।
শিল্পের নৈপুণ্য নির্ভর করে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন উচ্চমানের শিক্ষকের উপরে। মুকুল রায় থেকে শোভনদেব চ্যাটার্জি বা মদন মিত্র কিম্বা জল শোভন, এদের মত প্রতিভাধর ওস্তাদ আচার্য্যরা রিটায়ার্ড করার আগে পরবর্তী বাটপার প্রজন্ম তৈরি করে দিয়ে গেছে। পার্থ চ্যাটার্জি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডলদের ইতিহাস কীভাবে মনে রাখবে তা জানিনা, তবে সততার অনুপ্রেরণায় দীক্ষিত এই শিল্পীরা ফলিত চৌর্যবিদ্যার যুগপুরুষ হিসাবে রয়ে যাবে। ফলত জোচ্চুরি, প্রতারণা, ঘুষ ও কাটমানি শিল্পের পরম্পরা অখণ্ড ভাবে রক্ষা হয়ে চলেছে সাফল্যের সাথে।
প্রত্যেকটা দুর্নীতির ক্ষেত্র আপোষে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়া থাকে এদের। কালীঘাটের বৃহত্তর কালেকশন এজেন্ট, ব্যাক্তির ক্ষমতা বুঝে সকলকে নিয়োগ করে। যেমন চিটফান্ডে মুকুল, শিক্ষায় পার্থ ও ব্রাত্য, খাদ্যে জ্যোতিপ্রিয়, সমবায়ে অরূপ, পঞ্চায়েতের সুব্রত, দমকলে শোভন ও জাভেদ। ওয়াকফ, রাস্তা-সেতু ও কর্পোরেশনের ববি। লাইব্রেরী যে দুর্নীতির আখড়া হতে পারে তা কোন মানুষের চোদ্দ পুরুষের সঞ্চয়িত জ্ঞানের মধ্যে ছিলোনা, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে খুঁজে এনে মন্ত্রী না বানালে জাতি জানতেই পারতনা। তবে ওয়াকফের জমি মারার জন্য একমাত্র মুসলমান সিদ্দিকুল্লা, ববি বা জাভেদকে দায়ী করে দুর্নাম দেয়া যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে এদের কোথাও না কোথাও হিন্দু সাগরেদ আছেই।
গুন্ডামির মাধ্যমে এলাকা দখলের নামে আসলে আঞ্চলিক অর্থনীতি দখল হয়, এভাবেই রাজ্য অর্থনীতির বৃহত্তর অংশের নিয়ন্ত্রক হয়ে গেছে তৃনমূলের এই ‘তোলা’ সাম্রাজ্য। ভাঙরের আরাবুল পথ দেখালেও ধীরে ধীরে সন্দেশখালির জাহাঙ্গীর, ফলতার শাজাহান, বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলরা বুঝতে পারে এটাই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। এদের দেখানো পথেই রঙ পাল্টানো ক্যানিং এর শওকত মোল্লা, দিনহাটার উদয়ন গুহ বা চোপড়ার হামিদুর রহমান দু-একটা হাতে গোনা উদাহরণ মাত্র। চলন্ত সিড়ি চড়ে আত্মপ্রকাশ করা সততার প্রতীকের ঝাড়বাতি ভাইপো, সমস্ত তোলাবাজদের নিয়ন্ত্রক হয়ে যায় কালের নিয়মে।
রাজ্যের এ মাথা থেকে ও মাথা কালেকশনের জাল বিছিয়ে ফেলা আজকের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বাদ দিয়ে তৃনমূলের দুর্নীতি উপাখ্যানের প্রথম পৃষ্ঠাই উল্টানো যাবে না।
একসময় মহকুমা শহর গুলোতে ‘employment exchange’ নামের একটা দপ্তর থাকত, সেখানে বেকার যুবকেরা নাম লেখাতো। এখন তৃনমূলের পার্টি অফিসে নাম লেখালেই হাতেকলমে চুরির শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজ্যে কোনো শিল্প নেই, বরং যেগুলো ছিলো- তোলাবাজির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তারা রাজ্য ছেড়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য মতে জুন ২০২৫ সাল অবধি ৬৬৮৮টি কোম্পানি বাংলা ছেড়েছে। স্বভাবতই কর্মস্থান নেই, হয় পরিযায়ী হও অথবা তৃণমূল করো। এই দুটোই স্থায়ী রোজগারের পথ, সাহসীরা পরিযায়ী হচ্ছে, বাকিরা তৃণমূল। কেউ কেউ বিরোধী দলের মুখোশ পরে দালালি করে লুকিয়ে কাটমানি খাচ্ছে। তৃনমূল দলে চুরি শিল্পে যে যত বেশী মেধাবী, যত বেশী দক্ষতা দেখাতে পারবে, দলীয় পদের উন্নতি সাধন হতে হতে একসময় উন্নয়নের মন্ত্রীসভায় দপ্তর পাওয়ার সুযোগ এসে যায় তার। তাই এরা শুধু অধ্যাবসায় দিয়ে চুরিটা করে যায়।
মার্কসের তত্ত্বকে লেনিন হাতে-কলমে করে দেখিয়েছিল, তেমনি গান্ধীজীর পঞ্চায়েত রাজ স্বপ্নের বাস্তব কারিগর ছিল বামফ্রন্ট সরকার। কিন্তু রাজীব গান্ধী একটা অমোঘ সত্য উপলব্ধি করেছিলেন পঞ্চায়েত সিস্টেম সম্বন্ধে। তার বিখ্যাত উক্তি- ‘দিল্লি থেকে যদি একশ টাকা পাঠায়, মানুষের হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেটা ১৫ টাকায় পরিনত হয়”। তৃণমূল এই ১৫ টাকা টাকেও রাখেনি, সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর ফাঁক ফোকর খুঁজে- সরকারী ঋণ করে সেই টাকাও লুটে খেয়েছে।
গণতন্ত্রকে উপজুপোরি ধর্ষণ করার জন্য পেশাদার হিসাবে বিধানসভার স্পিকার আসনে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্ষকশ্রী উপাধির দাবীদার। প্রত্যেকটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিগ্রস্থর তালিকাতে রয়েছে পঞ্চায়েত মেম্বার, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সিভিক ভলেন্টিয়ার, এসপি, ডিএম এবং বিপুল IAS অফিসারের এক কর্মীবাহিনী। এদের সকলের মাথার উপরে ছাতা হয়ে বসে আছে সস্ত্রীক কয়লা কুমার। এটাই তোলামুল দলের ইকোসিস্টেম।
রাজ্যে তৃণমূল দলটা দলীয় লোকজন দিয়ে চলেনা, তারা শুধু চুরি-চামারি করে তোলা তোলে। দিদির ভাইয়েরা বোমা মারে, নিচুতলার পুলিশ আর সরকারী কর্মীদের যখন খুশি চাবকায়, ভোটের সময় বুথ দখল করে। গোটাটা নিখুঁত মাফিয়া কার্টেল, যাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মমতা ব্যানার্জীর নিজেরও অসাধ্য। তাই i-PAC এর মত পেশাদার রেখে দিয়েছে, যারা মূলত অডিটারের কাজ করে, তোলাবাজির টাকা সময়মত হিসাব কষে কালীঘাটের ভাগা পৌঁছে দেওয়ানো করায়।
মমতা ব্যানার্জী দলটা চলছে প্রশাসনের লোকজন দিয়ে, কিছু জনকে ভয় দেখিয়ে বাধ্য করে, আর বাকীটা অসৎ লোকেদের খুঁজে খুঁজে এনে। ব্লক স্তরের প্রতিটা উচ্চ পদে এদেরই পোষ্টিং করেছে বিগত ১০ বছর ধরে। সরকারী অফিসারদের যেহেতু সাসপেন্ড করা যায়, চাকরি খাওয়া যায়, তাই এদের দিয়েই গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মমতা আসল সংগঠনটা চালাচ্ছে। এলাকার BDO গুলোকে বকলমে দলের সভাপতি বানিয়েছে, লোকাল থানার ওসি হলেন পার্টির সম্পাদক, তিনিই মূলত পঞ্চায়েত গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেন। সৎ অফিসারদের হয় ওয়েটিং এ বসিয়ে রাখে অথবা গুরুত্বহীন পদে গ্যারেজ করে দেয়।
বাকি সরকারী কর্মীরা DA না পেলেও, BDO নামের অফিসারেরা cash compensation নামের অতিরিক্ত অর্থ পায় সরকারীভাবে, যাতে তাদের পুষিয়ে যায়। থানার OC/IC দের মান্নীয়া কীভাবে compensation দেন সেটা গুপ্তবিদ্যা। উপরি কামাই যা আছে সে তো তোলামূলের শিল্পেরই অঙ্গ, কালীঘাটে ভাগা পৌঁছে দিলেই সব বৈধ। এই লেখার দোষে কাল আমার ঘরে যে উন্নয়নের পুলিশ আসবেনা তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাবেনা। পুলিশ আসুক বা না আসুক, বর্তমান তোলামূলের দলীয় গঠনতন্ত্রের এই সত্যতা- রাজ্যের প্রতিটি সুস্থ মানুষই জানে।
স্বভাবতই, চোর পরিচয় ছাড়া এদের কোনো দ্বিতীয় পরিচয় নেই। বেশ্যা পাড়ায় যে মহিলারা থাকেন, তারাও সন্তান জন্ম দেন, অধিকাংরই পরিবার থাকে, তারা কী কেউ লজ্জা পায় নিজের মাকে, স্ত্রীকে, বোন বা মেয়েকে রোজ রাত্রে আলাদা পুরুষের সাথে দরজাতে খিল দিতে দেখলে? বরং এটাই পতিতাপল্লীর জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। তোলামুলেরও তাই চোর শব্দে আজ সম্মান হানি হয়না, বরং চোর না বললে তাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়।
সারদা নারদা নাহয় বিস্মৃতির আঁধারে তলিয়ে গেছে। ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি, কয়লা, বালি, রেশন, মইদুল মিদ্যা, আনিশ খান এসব ঘটনা আলঝাইমার রোগীর মত আবছা হতে শুরু করেছে। আরজিকর, ২৬ হাজার চাকরি নেই হয়ে যাওয়া, মুর্শিদাবাদ দাঙ্গা, চন্দন দাস, তামান্না, ধুলিয়ান, মহেশতলার ঘটনা গুলোকেও আমরা ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মত এড়িয়ে যাচ্ছি সাফল্যের সাথে। শরীরের অবাঞ্ছিত লোম অযত্নে বেড়ে উঠেই অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখে, সেখানে আমরা মাকুন্দ। ঘৃণা বা প্রতিবাদের গুপ্ত লোমও আজকাল আর গজায়না। “অতীতে বাস করো না, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখো না’ এই বানীকে আঁকড়ে ধরে রয়েছি, ভারত যে বুদ্ধের দেশ।
বিগত ১২-১৩ বছর ধরে তৃনমূলের চুরির ঘটনা শুনে শুনে জনগনের কান পচে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। মেথরের কাজ করা শ্রমিকের যেমন গু'য়ে গন্ধ লাগেনা, পার্কসার্কাস বা রাজাবাজারের বাসিন্দারা পচা চামড়ার গন্ধ আলাদা করে ফারাক করতে পারেনা কিম্বা ঘাটালের মানুষের কাছে জন্ম মৃত্যুর মতই বন্যা স্বাভাবিক- আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সাধারন জনগণও তেমনি একখানা আটপৌরে সহাবস্থান গড়ে নিয়েছে তোলামূলের চুরির সাথে। তাই নতুন কোনো চুরি, রাহাজানি বা খুনের ঘটনা ঘটলে- অভ্যস্ত ইন্দ্রিয়ে কোনো হেলদোল হয়না গড়পরতা জীবনে। বুদ্ধ বলে গেছেন- “সবকিছুর মধ্যে ভালো কিছু দেখার জন্য তোমার মনকে প্রশিক্ষণ দাও”। ভারত বুদ্ধের দেশ, তাই আমরা তৃনমূলের মাঝে খারাপ দেখতে নারাজ।
রাজ্যে বিরোধী বলে তেমন কিছু অস্তিত্ব নেই, ব্যতিক্রমী সাজানো আন্দোলন মঞ্চস্থ করে এরা। যাতে গণতন্ত্রের ‘ধরাচূড়া’ খসে না যায় জনগণের চোখে। পাঁজি এবং তিথি নক্ষত্র দেখে এরা রাস্তায় নামে। সরকার পোষিত ‘বাপুরাম সাপুড়ের’ সেই বিখ্যাত সাপ এরা, যে সাপের চোখ নেই, যাদের শিং নেই, নখ নেই, ছোটে না, হাঁটে না, কাউকে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্ফাঁস্, মারে নাকো ঢুঁশঢাঁশ, নেই কোন উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত। হুম, দুধ ভাত খায়। যেকোনো সরকারের জন্য- রাশিচক্রের লগ্ন মিলিয়ে রাজজোটক বিরোধীপক্ষ। “দুঃখের মূল হলো আসক্তি”- ভারত শাক্যমুনির দেশ, তাই বিরোধীরা ‘শূন্য’, রাজনৈতিক আসক্তিতে ।
এই কারনেই মমতা ব্যানার্জী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ঘোষণা করতে পারে- তিনি না চাইলে তাকে ক্ষমতা থেকে কেউ উৎখাত করতে পারবে না। কারন উনি বিরোধী স্বত্তারই অবশেষ রাখেনি। একই সাথে গত ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও বিরোধী ইজম গুলোর প্রতি তীব্র ঘৃণা জিইয়ে রেখেছেন তার সমর্থকদের মাঝে। বিকিয়ে যাওয়া বিরোধী সত্তা গণতন্ত্রকে ফ্যাসিজমের দিকে ঠেলে দেয়। এই কারনে উনি হিটলার থেকে ক্রমশ মুসোলিনি হয়ে উঠেছেন। মার খাওয়া জনগণ একসময় ভুলে যায়- বেঁচে থাকাটা তার অধিকার, দয়া নয়। আমরা পশ্চিমবাংলা বাসীরা যেন পরের দিন সকালবেলা বেঁচে উঠলেই নিজেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। “জীবনে ব্যাথা থাকবেই, কিন্তু কষ্টকেই ভালোবাসতে শেখো”। আমরা কষ্টকে ভালবেসে ফেলেছি, ভারত যে বুদ্ধের দেশ।
চাকরি চোর সরকারের শিক্ষা দপ্তর থেকে লিখিতভাবে নোটিফিকেশন বের হচ্ছে- আমরা এতজনকে ঘুষ দেয়ার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছি। একটা স্বাধীন দেশে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজ্য সরকার এটা করছে, প্রকাশ্যে। জানিনা গণতন্ত্রের ইতিহাসে এর দ্বিতীয় কোনো নজির আছে কিনা! আজ SSC এর অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের চতুর্থ দিন, রাজ্যের কোনো রাস্তায় কোনো জঙ্গি আন্দোলন হয়েছে? কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দল জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখেছে?
বিজেপিকে ছেড়ে দিন, ওদের নিজশ্ব ভোটব্যাঙ্ক থাকলেও, নিজশ্ব কোনো নেতৃত্ব নেই। শুরুতে কিছুজনকে বিক্ষুব্ধ তৃনমূল সাজিয়েছে, পরে সেগুলোকেই কেশব ভবনে পোষ্টিং করেছে মমতা ব্যানার্জী, নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কাছের লোকগুলোকে। বঙ্গ বিজেপি মুরুলীধর স্ট্রিট থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে যারা ভাবে, তারা আবার নতুন করে হাগিস পরতেই পারেন, আপনাদের নাবালকত্ব এখনও ঘোঁচেনি। নাগপুরের গোয়ালঘরে জন্মানো দুটো দলেরই রাজনৈতিক কার্যকরী দপ্তর কালীঘাটের টালির চাল। রাজ্য বিজেপির বিরোধীতার ব্যাঞ্জনে কতটা লবন থাকবে, কতটা লঙ্কার ঝাঁঝ থাকবে, সেটা মাস্টার সেফ মমতা ব্যানার্জী নিজে পরিমাপ করে দেন।
ভারত সত্যই নৈতিকতার দেশ, এখানেই পঞ্চতন্ত্রের গল্প লেখা হয়েছিল, জাতকের গল্প লেখা হয়েছিলো, গ্রীক ইশপের গল্প জনপ্রিয় হয়। এখানে সরকার চলে আদালতের পদাঘাত খেয়ে। বুদ্ধ বলে গেছেন- “সুখের জন্ম হয় মনের গভীরে। এটি কখনও বাইরের কোনো উৎস থেকে আসে না”। তাই বিরোধী শীর্ষ নেতৃত্ব সেভাবে ঘরের বাইরে বের হয়না তিথি নক্ষত্র বিচার না করে। স্বাভাবতই আমাদের রাজ্যের বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের কারো বিরুদ্ধে তেমন কোন মামলা নেই, যেটাকে তারা উদযাপন করে সফলতা হিসাবে। মীনাক্ষী হোক বা নৌশাদ- এদের মত মুষ্টিমেয় যে কজন রাস্তায় নামে, মমতাকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, তাদের নামে মামলার শেষ নেই।
ভারত গৌতম বুদ্ধের দেশ। আর পশ্চিমবঙ্গে বাম ধারার রাজনীতিতে এখন ‘মহাসঙ্গীতি কাল’ চলছে। আলিমুদ্দিন যেন ‘মহাবোধি মন্দির’ এর মুর্ত রূপ। মহাপরিনির্বাণের আগে অবলোকিতেশ্বর ও মৈত্রেয় দের জন্য এখান থেকে নতুন ‘জাতকের গল্প’ রচিত হচ্ছে বৌদ্ধিক আর্য্য সত্য মেনে। যেটা শুধুই দুঃখময়। এখানে কোনো সেলিম নেই, বিমান, সুজন, সৃজন, শতরূপ কেউ নেই। কেউ শ্রেষ্ঠী, কেউ ভদ্রবর্ণীয়, কেউ বুদ্ধবোধি, গঙ্গাপাল, ক্ষান্তি, কাল্মষ, মৈত্রীবল, মৎস্যমৃগ… গোটা দলটাই যেন জাতকের চরিত্র। এখানে রাজনীতি নয়, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবতা, সৌহার্দ্যের মতো সম্পর্কগুলো গড়ে তুলেতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তেমনি তৃণমূলকে দয়াবান, সৎ, আদর্শবান ও নীতিবোধসম্পন্ন হয়ে ওঠার মতো নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। নিজেরা পরমতসহিষ্ণু ও পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অষ্টশীল ভিত্তিকে রক্ষা করে।
যেখানে কলকাতা মহানগরের অবস্থান, সেই হুগলী নদীর পূর্বদিকে- বৃহত্তর কলকাতা এবং দুই ২৪ পরগনা মিলিয়ে ৭৫ টি বিধানসভা আসন। রাজ্যের ভোট আসনের ২৫% আর GDP র প্রায় ২৯%। শিয়রে ভোট, এই অঞ্চলের তথাকথিত নেতারা দৈনিক সন্ধ্যেবেলা বাতানুকুল স্টুডিওতে বসে, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে কফি খেতে খেতে- শুধুমাত্র সর্বজ্ঞ সেজে বক্তব্য দিয়ে মাছিমারা পালোয়ান সাজে। মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব এর মতন মাসে ২-৩ দিন আলিমুদ্দিনের প্রেস কনফারেন্স ছাড়া, সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিকভাবে এক সময়ের শাসক পার্টিটা চোখের সামনে উঠে গেলো।
যার যোগ্যতা যত কম, তার অহংকার ঠিক ততটাই বেশি। স্বভাবতই খুচরো বাম্বাচ্চা গুলো সমালোচনাকারী দেখলেই ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসাবে চিহ্নিত করে দেয়। সমালোচনাকারীও যে একজন বিশুদ্ধ সমর্থক ও পরামর্শক হতে পারে, সেই বোধ বা শিক্ষা এদের নেই। আসলে সমালোচিত হতে যোগ্যতা লাগে, যা ক্রমশ এরা হারিয়ে ফেলছে।
কংগ্রেস বা বাকি অপগন্ডদের বিরোধী হিসাবে আলোচনা করলে, রঞ্জু ঘোষের আত্মা ডাঙ্গসপেটা করবে মাঝরাত্রে একা পেলে।
ED /CBI এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিরা দুর্নীতি বিষয়ে চোর গুলোকে ধাওয়া করবে, আর আদালতের বিচারকেরা মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরালে তবে বিরোধী দল ক্ষমতার মসনদে বসবে। বিরোধীরা শুধু মমতা ব্যানার্জির কাছেই ন্যায় এবং বিচার চাইবে। নতুন করে চাকরি চাইবে, স্বচ্ছতা চাইবে, গণতন্ত্র চাইবে, সবকিছু মমতা ব্যানার্জির কাছেই চাইবে। নিজেরা যাত্রাদলের বিবেক সেজে রইবে। একটা নির্দিষ্ট বিরামে- মঞ্চের পিছন থেকে দর্শকের মনে ন্যায়বোধ জাগ্রত করতে, পথহারা মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে এবং অত্যাচারীদের সতর্ক করতে মমতা ব্যানার্জীকেই অনুরোধ করবে।
“জীবনে হাজার লড়াই জেতার থেকে ভাল, তুমি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে ফেল। তখন সর্বদা তোমারই জয় হবে”। আমাদের রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলেই এটাই ইষ্ট মন্ত্র, কোনো লড়াই না করেই নিজেদের উন্নত ঘোষণা করে দিয়েছে; ভারত যে বুদ্ধের দেশ।
আপনি ভাবছেন, এই বর্তমানের বিরোধীরা- যারা তৃনমূলের কলকেতে তামাক খাচ্ছে, তারা তৃনমূলেরই বিরুদ্ধে আপনার হকের হয়ে লড়াই করবে? যারা নিজেরা মরার আগে চেয়ার ছাড়বেনা, তারা নাকি গণতন্ত্র রক্ষা করবে? মহাস্থবিরেরা এখন অস্তাচলের পথে, বুদ্ধের ভাষায় এনাদের ‘গামিনী প্রতিপদে’ প্রেরণ না করা অবধি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশু মুক্তি নেই।
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...


