সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

করোনাকালের যাকাতঃ কমিউনিটি কিচেন ও পরিযায়ী শ্রমিক



ইসলামিক নিয়ম ঘ্যেটে দেখা গেলো, যাকাতের প্রকৃত পাওনাদারের মধ্যে অনাথ, সম্বলহীন, ভিক্ষুক, অসহায় ও পথিকশ্রনীর মানুষ শীর্ষস্থানীয়। অন্যান্য বছরগুলোতে যাকাতের বেশিরভাগ অংশটি হয়ত মাদ্রাসাতে থাকা ছাত্রদের জন্যই ব্যায় করতেন আপনি, কারন মাদ্রাসাতে মূলত যারা পড়ে তাদের সিংহভাগই উপরোক্ত শ্রেনীর, যেগুলো আমার-আপনার কাছ থেকে কিছু বেকার ছেলে সংগ্রহ করে নিয়ে আসত গোটা পৃথিবী জুড়ে, যাদের যাকাত আদায়কারী বলায় হয়।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব মাদ্রাসাই বন্ধ লকডাউনে, বাচ্চারা যে যার যার বাড়িতে অর্থাৎ মাদ্রাসাতে এই মুহুর্তে খরচা প্রায় নেই বললেই চলে, তদুপরি আদায়কারিরাও আপনার কাছে যেতে পারেনি পরিবহন ব্যবস্থার কারনে। এমনকি এবছর লকডাউনের প্রকোপে গরীবরাও অনেকে যেতে পারবেনা আপনার দুয়ারে। এদিকে সঠিক স্থানে যাকাত পৌঁছে দিতে আপনি বাধ্য; তাহলে আপনি যাকাত কাকে বা কোথায় দেবেন?
নিশ্চই আপনি আপনার প্রতিবেশী গরীবদের মাঝে দিন, আপনার দানে তাদের হক সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এবারে আরো অন্তত ৩টে প্রজাতি রাষ্ট্রের কল্যাণে আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে, যাদের অন্য অনেক সময় একত্রে এভাবে পাওয়া যায়না। “মুসাফির, সহায় সম্বলহীন ও অভাবগ্রস্থ”, এই তিনটে শব্দকে একটা বন্ধনীতে জুড়লে যে প্রতিশব্দটা দাঁড়ায় তার নাম হল “পরিযায়ি শ্রমিক”।
মাত্র ৪ ঘন্টার নোটিশে জারি হওয়া অপরিকল্পিত লকডাউনের অভিশাপে, বিদেশ বিভূঁইতে থাকা শ্রমিকশ্রেণীর মানুষগুলোর বর্তমানে রোজগার নেই- মানে তারা ‘অভাবগ্রস্থ’; রাষ্ট্র বা কর্পরেটের কেউ তাদের দেখার নেই- মানে ‘সহায়সম্বলহীন’, বালবাচ্চা নিয়ে পথে পথে হেঁটে চলছে হাজার হাজার কিমি- মানে তারা ‘মুসাফির’। দান বিষয়ে ইসলামের এমন ‘কপিবুক’ স্টাইলের সুযোগ কিন্তু বারে বারে আসবেনা আপনার কাছে। অতএব অনুরোধ, যদি পারেন নিজে ওই শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দিন আপনার দান। যদি সেই ক্ষমতা না থাকে তাহলে যারা বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে ‘কমিউনিটি’ সাহায্য বিলোচ্ছেন, সেই মানুষগুলোর মাধ্যমে আপনার দান পৌঁছে দিন। ইসলাম ধর্মমতে আপনার আল্লাহকে সন্তুষ্ট করাবার বা তাঁকে উত্তম ঋণ দিয়ে (কোরানের ভাষ্যে) পুণ্যি কামবার এমন সুযোগ কিন্তু বারে বারে আসেনা।
তাই আমার তরফে অনুরোধ, আপনার যাকাতের একটা অংশ এই কমিউনিটি কিচেন গুলোর জন্য বরাদ্দ করুন। আপনার ধর্মে কোথাও বলা নেই, স্বধর্মের গরীব, মিসকিন বেছে বেছে দান করুন, তাই জাত ধর্ম না দেখে অভাবী মানুষকে দিন, যার খিদে আছে পেটে। আপনি নেকি বা পূন্যি অর্জন করুন, আর অসহায় গুলো আপনার ধর্ম বিশ্বাসের সুফল ভগ করুক সরাসরি, এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে?
আপনার প্রতীক্ষাতে রইল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো, যারা পরিযায়ী শ্রমিক বা কমিউনিটি কিচেনের সাথে যুক্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি

পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে...