বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

সামাজিক বেশ্যাবৃত্তিঃ আন্না হাজারের আন্দোলন


সামাজিক বেশ্যা শুধু মহিলাই হয় না, পুরুষও হয়।


আচ্ছা, আন্না হাজারের কেউ খবর জানেন? মালটাকে করোনা এখনও গ্রাস করেছে নাকি অন্ধত্ব আর জরাগ্রস্ত হয়ে কয়েক শতাব্দী যন্ত্রণা ভোগের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সে! কংগ্রেস সরকারের আমলে দুর্নীতি ছাড়া কিছুই খুঁজে পায় নি সে, তাই #india_against_corruption ধুয়ো তুলে দেশপ্রেমিকদের সরকার চেয়েছিল। তা সে সরকার এলো ক্ষমতায়, যুগপুরুষ মোদীজির নের্তৃত্বে, এসেই মোদীজি বুঝলেন- আসলে দুর্নীতি তো সরকারি সম্পত্তিতে হয়, বেসরকারি হলে তার জন্য তো আর কেউ আন্দোলন করেনা, আন্না হাজারের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বর্তমান মোদী সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিই সব নিলামে উঠে গেছে বা যাচ্ছে, এর পর যদি কোনো বেসরকারি সরকারও আসে তাদের পক্ষে আর দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই রইল না, কারণ সরকারি বলেই যে আর কিছু থাকবে না; অসম্ভব দুরদর্শীতা সম্পন্ন সামাজিক বেশ্যা ছিলেন আন্না হাজারে, থুড়ি আছেন।

সরকারী দুর্নীতি, পুলিশ দুর্নীতি, বিচারক দুর্নীতি, কর্পোরেট দুর্নীতি, কেল্পটোক্রেশি, নির্বাচনী জালিয়াতি, রেড টেপ, রাজনীতিবিদদের সর্বত্র নাক গলানো, কালো টাকা সব ইস্যুই রাসভ গুহ্যপথে প্রবেশ করেছে, বর্তমানে দেশে একটাই মডেল- “হয় বিক্রি হও না হলে জাস্টিস লোয়া”। লোকপাল এখন তাপস পালের ছেলে হয়ে ঘরে ঢুকে গেছে নিশ্চিত, কিন্তু আন্নার সাথে থাকা প্রতিটি ধান্দাবাজ মালামাল হয়ে গেছে- কেজরীওয়াল দ্বিতীয় টার্মে মুখ্যমন্ত্রী মর্যাদাসীন হয়েই দিল্লি দাঙ্গা করে RSS এর নয়নের মণি, প্রশান্ত ভূষণ আবার বিপ্লবী- মূলত চরের ভূমিকাতে, রামদেব হাজার কোটির সাম্রাজ্যের বেতাজ ন্যাংটা, কিরণ বেদী রাজ্যপাল আর কিই বা চাই! বিজেপির হয়ে ক্ষেপ খেটে সকলেই প্রতিষ্ঠিত, আন্না হাজারেও তাই।

কেউ খোঁজ পেলে তাকে জানিয়ে দিয়েন-

মোদী সরকারের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ফলে আজ দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লক্ষ ছোঁবে দু'এক দিনেই, মৃত্যু ৪৫ হাজার পেরিয়ে দ্রুত হাজারের হাফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করবে; অথচ দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্লজ্জ হর্ষবর্ধন মুখবর্মের আড়ালে দাবী করছে “কোভিড সঙ্কটে দেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে”। কী আশ্চর্য! কোনো রকম অহঙ্কার ছাড়াই কেমন দাবী করে ভক্তদের খুশি করে দিচ্ছে, যদিও ভক্তপিতা মোদীর মতো কেউ সাংবাদিক সম্মেলন আর করে না, পাছে জবাবদিহি করতে গিয়ে পাকস্থলীর মল দেখা যায়।

এদিকে খোদ ‘ঠোকদো’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করোনার প্রভাবে, পরিষেবা ভাল তাই। আসলে নির্লজ্জতাই এদের অহঙ্কার, আর এদের ভক্তরা এই সুখেই রামরাজ্যের ছায়া খুঁজে পেয়েছে, তা পাক- যারা বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিল তাদের এটুকু আত্মত্যাগ তো করতেই হবে, রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েক লক্ষ প্রাণের বলি কি রামজী চাইতে পারেন না? আর সেই আহূতি অবশ্যই রামভক্তদের মাঝখান থেকেই হওয়া চাই, বাকিরা হয় মুসলমান, নাহলে কমিউনিস্ট না হয় আর্বান নক্সাল কিম্বা ঘোষিত দেশদ্রোহী। মোদীজির এটাই হলো দূরদর্শিতা, তিনি কেমন হিন্দুদেরকে আত্মবলিদানের সুযোগ করে দিলেন, এমন ঘটনা তো স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসের আস্তাকূড়ে। যেমন লেখা থাকবে নিজামুদ্দিনের জামাতিদের করোনা জিহাদ কেমন অযোধ্যার সেবায়েৎ বা তিরুমালার সেবায়েৎরা আপন দেহে ধারণ করেছেন। ভাবিজী পাঁপড়, করোনীল, গোমূত্র, গঙ্গাজল কি কেউ খেয়েছে? না খায় নি, কারণ তারাও তো আহূতি দেবেন বলেই শরীরে করোনা ধারণ করেছেন, রামনাম সত্যের বিষয়টা স্বয়ং রামজীর উপরে- তার দলা হলে ডেকে নেবেন নাহলে আবার এই মর্ত্যধামে থেকে যেতে হবে কিছু দিনের জন্য।

যদিও কিছু মুর্খ বলছে পার্সি-জৈন অমিত শাহ্ হিন্দু নয় বলে রাম মন্দির উদ্বোধনে ডাক না পেয়ে করোনার ভান করে মুখ লুকিয়েছে হাসপাতালে, সেটাই যেন হয় ঠাকুর (রীনা); কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনেক কাজ করতে হবে- দেশে যে এতো দেশদ্রোহী শুধু তাদের খুঁজে খুঁজে তাড়তে হবে তাই নয়, বিক্রির জন্য যে গোটা দেশটাই পরে আছে। তাছাড়া জয় শাহের বয়সটাই বা আর কত, ICC প্রেসিডেন্ট কি সে হবে না?

মোদী সরকার জাতীয় ব্যর্থতাকে রাজনৈতিকভাবে লাভের জন্য ব্যবহার করছে ভক্ত, গদি মিডিয়া, আটিসেলের মাধ্যমে নতুন হুজুক ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। ছদ্ম জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করার মিশন ফেল মেরে গেছে। প্রধান মিথ্যুক বলছে ‘চঙ্গা সি’, GDP ক্রমনিন্মমুখী থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতি নাকি দারুণ অবস্থায় রয়েছে, আসলে সবই তো রামরাজ্যের বিষয় তাই আধুনিক অর্থনীতিবিদ বা চিকিৎসকেরা এই “চঙ্গা সি” এর ব্যাখ্যা খুঁজে পাবে না এটা স্বাভাবিক। বিক্রি করার জন্য যতটুকু বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি মেহনতের যুক্তিই বা কি? রামমন্দিরের ধুনো দিয়েই ২১ সালের মাঝ পর্যন্ত টেনে দেওয়া যাবে, তারপর ইউনিভার্সাল সিভিল কোড আছে (মুসলমানের বাচ্চারা যে নিয়মে চাট্টে বিয়ে করে সেইটা), NRC তো আছেই; সাথে অমিতাভের করোনা বা একটা আধটা সুশান্ত মার্ডারের মতো কেস এলে জমে ক্ষীর। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের প্রশ্ন তোলার সময় কোথায়? অবশ্য দেশপ্রেমিকেরা উন্নত পরিষেবার জন্য সব বেচে দিয়ে আপনাকে একটা বাটি হাতে মন্দিরের সামনে বসিয়ে দেবে, সেটা আদানী কোম্পানির বাটি, দিনের শেষে ভিক্ষালব্ধ রোজগারের একটা অংশ বাটি ভাড়া বাবদ দিতে হবে।

রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভতার জন্য ১০১টি অস্ত্র আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ভক্তকূল গোদা বাঁদরের মতো টুইটার ফেসবুক চষে ফেলছে বার্নলের ছবি হাতে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সংস্থা হ্যাল এর পরিবর্তে রাফেল মেন্টেনেন্সের ৩০ হাজার কোটির দায়িত্ব দেউলিয়া অনিল আম্বানীকে দেওয়া, কাকে আত্মনির্ভর বানাবার জন্য এটা শুধালেই- আপনার খিস্তির স্টক রিনিউ করে নিতে পারবেন ভক্তদের থেকে, সাথে লাল আঁখ। যেটা চীনকে দেখাতে গিয়ে সেনার নথি গায়েব হয়ে মোদীর মুখের বাল মানে দাড়িটাই বেড়ে গেল মাঝখানে।

নতুন করে আর ধোকা খায় না সাধারণ জনগণ, কিন্তু ভক্তেরা তো মানুষ নয়- মানুষ রূপী নির্বোধ মর্কট; ধোকাই তাদের একমাত্র খাদ্য। ভক্ত হওয়ার জন্য নিরেট মূর্খ হলেই যথেষ্ট, বাকিটা হোয়াটসএ্যাপ ইউনিভার্সিটি থেকে শিখে যাবে।

জইস-ই-রাম (RSS এর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের স্বদেশী শাখা)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...