আমরা সেই ক্ষণজন্মা প্রজন্ম যারা যুগ সন্ধিক্ষণে জন্মেছি। শেয়াল ডাকা বাঁশবনের ধারে গা ছমছমে সন্ধ্যায় হ্যারিকেনের বাতি জেলে পড়া শুরু করে এখন কিন্ডেলে সদ্যপ্রকাশিত উপন্যাস দেখি। অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহের টং এর ঘর থেকে ফেলা আলোয় রুপোলি পর্দা বদলে গিয়ে এখন OTT প্ল্যাটফর্মে হাতেগরম সরবরাহ, মাঝখানে এই আমরাই দেখেছি টিভির দাপাদাপি। এই আমরাই সাইকেল চলার অনুপযুক্ত মোরামের রাস্তাকে বদলে যেতে দেখলাম এসফল্টের পরত দেওয়া খেলনা গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতার ট্র্যাকে। পাড়ার সাপ্তাহিক হাট-বাজারও আজ একটা ক্লিকের অপেক্ষায় দুয়ারে এসে দাঁড় করিয়ে দেবে ‘ডেলিভারি বয়’ নামক রানারদের। হাতের মুঠোয় সবকিছুই প্রায় হাজির। জীবনটা এতটা দ্রুত বদলে গেল যে, কবে ক্যাসেট ফুরিয়ে সিডি এল, ডিভিডি এল, আর কবেই বা মাইক্রো চিপস এল- তার গ্রাফটাই এঁকে উঠতে পারলাম না।
এরই মাঝে আরেক ক্রান্তিকাল, গরিব ও মধ্যবিত্তের চরম বিভীষিকাময় অধ্যায়- করোনাকাল। করোনাকাল জীবনের বহু গতানুগতিক রীতিনীতিই বদলে দিয়েছে, শিক্ষাও যার ব্যতিক্রম নয়। স্বভাবতই গত এক শিক্ষা বছরে গতানুগতিক শিক্ষা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকেরা নানান তথ্য-তত্ত্ব দিয়ে গোটা বিষয়টার পিছনে কোনো অসাধু উদ্দেশ্যকে চিহ্নিত করতেই পারেন, কিন্তু তাতে আম মানুষের রোজনামচাতে কোনও পরিবর্তন ঘটবে না। যা পরিবর্তন ঘটার ছিল সেটা ঘটে গেছে, এখান ভাল হোক বা মন্দ- সেটাকে সাথে করে নিয়েই আগামীর পথ চলতে হবে। আমরা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছি- অনলাইন শিক্ষা যুগে। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেন্টেনের যুগে ক্লাসরুমে শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে শিক্ষালাভই একমাত্র উপায় নয়- পঞ্চম প্রজন্মের গতিময় ইন্টারনেট এবং তার সাথে সঙ্গত রেখে নিত্য প্রযুক্তির বিকাশ ও উত্থানের এই সমাজব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে হবে বিকল্পতে। প্রয়োজন শুধু নিজস্ব ইচ্ছা সাথে কিছুটা অর্থনৈতিক সামর্থ্য, আর পরিকাঠামোর সহযোগিতা- এই ত্রিবেণী সঙ্গমে আপনি যখন যেখানে চান, একটি মানসম্মত শিক্ষার প্রবেশদ্বার পেয়ে যাবেন।
ইন্টারনেট মাধ্যমে শিক্ষাকে ঘিরে সংশয় নিয়ে আমার এই প্রবন্ধ নয়, সব কিছুরই ভাল ও মন্দ দুটো দিক থাকে। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষার নামে যা শুরু হয়েছে তা একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। এর ব্যাপ্তিও বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল, আর হাতেগোনা একআধটা সরকারি স্কুল ছাড়া সেভাবে উপলব্ধ নেই। সেটাও কতটা কার্যকরী তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে, কারণ অনলাইনে মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী আদপে কতটা শিখছে সেটার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। এর মূল কারণ দুটো- প্রথমত, আমাদের গতানুগতিক মানসিকতা, দুই- অনলাইন শিক্ষার পরিকাঠামো। এই পরিকাঠামো তৈরি হলেই- বাচ্চা আদৌ শিখছে কিনা তার পর্যবেক্ষণের নিয়ম এসে যাবে।
শত সহস্র বছর ধরে প্রচলিত ক্লাসরুম ভাবনাকে এক লহমায় কয়েক মাসের মধ্যে ভুলে যাওয়া যাবে- এই ধারণাটি ভাবনাতে আনাও অপরাধ। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠিন হলেও অসাধ্য নয়, কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ধরতে পারা পৃথিবীর ব্যাপ্তিটা ক্লাসরুমের চেয়ে ঠিক কতটা বিশাল- সেটা আমরা কল্পনাতেও আনতে পারি না। আজ করোনা পরিস্থিতি আমাদের ইন্টারনেটের মুখোমুখি দাঁড় না করালেও মুখাপেক্ষি করে তুলেছে।
বিকল্পকে সকল সময় স্বাগত জানাতে হয়, বিকল্প শক্তির পরিচায়কও বটে। এদেশের শিক্ষার্থীরা ডিসট্যান্স এডুকেশন বিষয়টার সাথে পরিচিত থাকলেও, সেটার অনলাইন মাধ্যমের সাথে পরিচিতই নই। ওদিকে পশ্চিমা দেশগুলোতে শিক্ষার্থীরা বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে হাতেকলমে শিখছে, আর একাডেমিক শিক্ষা শিখছে অনলাইনে ডিসট্যান্স কোর্সে। বিকল্পের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তারা পরিকাঠামোগত বাধা সরিয়ে ভাল দিকটা গ্রহণ করেছে, তাই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হলে অনলাইন শিক্ষা সবসময় একটি বুদ্ধিদ্বীপ্ত বিকল্প। একটি কঠিন বিষয়ে দক্ষতাকে তীক্ষ্ণ করার জন্য অথবা নতুন দক্ষতা রপ্ত করার জন্য একজন ছাত্রের কাছে অনলাইন শিক্ষা অতি কার্যকরী বিকল্প। কিন্তু শিশু ও কিশোরদের জন্য বিষয়টি এখনও পরীক্ষিত নয়, এটাই এই মাধ্যমের মূল সমস্যা।
অনলাইন শিক্ষা সহজবশ্য। শিক্ষক এবং ছাত্রকে তাদের নিজস্ব সময়সূচি নির্ধারণের অতিরিক্ত নমনীয়তা রয়েছে যা প্রত্যেকের কর্মসূচির সাথে খাপ খায়। চলতি কিছু না ছেড়েই অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পেশা ও পড়াশোনার একটি ভাল ভারসাম্য তৈরি করা যায়। অনলাইন অধ্যয়ন সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা শেখায়, যা জীবনে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। এই মাধ্যমের যৌথ কর্মসূচি উভয় পক্ষকেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।
ইন্টারনেটের মতো বিস্তৃত স্থানে শেখানোর এবং শেখার জন্য অসীম দক্ষতা এবং বিস্তৃত বৈষয়িক পরিসর রয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সমসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা স্কুল সেভাবে তৈরি হয়নি আমাদের দেশে। অনলাইন সংস্করণ শিক্ষায় সংগীত শিক্ষা থেকে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান, সব ধরনের শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক বিকল্প রয়েছে। ক্যাম্পাসে পা না রেখেও অফিসিয়াল সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি পাওয়ার জন্য অনলাইন শিক্ষা দুর্দান্ত বিকল্প। বস্তুত বলতে গেলে আমরা গৃহিণীরা আজকাল ইউটিউব দেখে রান্না করি, এটাও তো এক ধরনের অনলাইন শিক্ষাই। আসলে শিক্ষাকে যদি এন্টারটেনমেন্টের পর্যায়ে উন্নীত করা যায়, তাহলেই শিক্ষা সহজ হয়ে যায়।
এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত না করেই অনলাইন মাধ্যম বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে শিক্ষা দিতে সক্ষম করে। এতে কেবল সময়ই বাঁচে তাই নয়, অর্থ সঞ্চয়ও হয়, যা অন্যান্য অগ্রাধিকারগুলিতে ব্যয় করা যেতে পারে। ভ্রমণে থাকাকালীনও ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের সুবিধা নেওয়া যায়। ব্যক্তিগত শিক্ষা পদ্ধতির বিপরীতে, অনলাইন শিক্ষা সাশ্রয়ী হতে পারে। আপনি যাতায়াত এবং শ্রেণীর উপকরণ থেকেও ভালো অর্থ সাশ্রয় করতে পারেন। শিক্ষককেও আর্থিক বিনিয়োগ কম করতে হয়।
অনলাইন শিক্ষার নমনীয়তা অধ্যয়নের গতি নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতার স্তরের জন্যও এই মাধ্যম যথেষ্ট নমনীয়। প্রথাগত ক্লাসরুম শিক্ষার চেয়ে অনলাইন ক্লাসগুলি আকারে-আয়তনে চেয়ে ছোট হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্ত্রীর মধ্যে অধিক মিথস্ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ এনে দেয়। ভিডিও, ফোটো এবং ইবুকের মতো খুব বৈচিত্র্যময় সামগ্রী অনলাইনে অতিসহজেই অ্যাক্সেস করা যায়, যা আগেকার দিনের ছাত্রবন্ধু কিংবা পাঠাগারের বিকল্প। পাঠ উন্নত করতে ফোরাম বা আলোচনার মতো বিবিধ ফর্ম্যাটগুলিকে অনলাইন শিক্ষা সংহত করতে পারে সহজেই। এই অতিরিক্ত বিকল্প বাস্তবে কোনো একটি মুহূর্তে একটি স্থানে পাওয়া অসম্ভব, ফলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ভীষণ গতিশীল করে তোলে।
আমাদের প্রত্যেককে অবশ্যই অনন্য পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে হয় এবং সময়ের চাহিদা ও লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রথাগত শিক্ষার পরিবর্তে এই বিকল্প আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সবার জন্য নয়, এই বাস্তব পরিস্থিতিতে যাকে উপেক্ষা করতে পারি না আমরা। অবশ্যই এটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প যা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য অনুকল্প- কিন্তু সেই আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য যে মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করতে হয় আমাদের পরিকাঠামো তার শুরুটাই করে উঠতে পারেনি, অথচ অনলাইনে পঠনপাঠন শুরু করে দিয়েছে।
স্বভাবতই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিশু ও কিশোর ছাত্রছাত্রীরা এই লকডাউনে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেছে বিনা দোষে, সমাজের মাঝে শিক্ষায় স্পষ্টত দুটো বিভেদ তৈরি হয়েছে অভিভাবকের অর্থ আর ডেমোগ্রাফিক লোকেশনের উপরে ভিত্তি করে। গুটিকতক ছাত্রছাত্রী যেখানে ২ বছর এগিয়ে গেলো সেখানে অবশিষ্ট গোটা ছাত্রসমাজ স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই ২০২০ সালের মার্চ মাসেই, কে জানে কতজন পড়াশোনার অভ্যাসটাই ভুলে গেছে। কিম্বা পেটের জ্বালা মেটাতে কতজন কতজন সস্তার শ্রমিক হয়ে গেছে, কত বালিকা বাল্য বিবাহের অভিশাপে পাতিত হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে অনলাইন শিক্ষার বিকল্পকেই গ্রহণ করতে হবে। যাতে শ্রমিক তথা বালিকাবধুটি যেন শিক্ষাটা পায় তার বর্তমান অবস্থাতেও।
অনলাইন কোর্সের কিছু অসুবিধা~
- অনলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য যে পরিকাঠামোর দরকার হয় আমাদের দেশের তার ন্যূনতম অবকাঠামো নেই। দেশের ৪২% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যার মধ্যে ৮৪ শতাংশ আর্বান নাগরিক। তাছাড়া ১৩৯ কোটি জনসংখ্যার ১০৫ কোটি মানুষ জানেইনা স্মার্টফোনটা খায় না গায়ে মাখে। যে দেশে প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বা আশেপাশে বসবাস করে সেখানে অনলাইন শিক্ষা সোনার পাথরবাটির বাইরে কিছু নয়।
- অনলাইন ক্লাস ক্যাম্পাস ক্লাসের চেয়ে বেশি সময় নেয়। প্রথাগত শিক্ষার সময়সীমার মতো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। উদাহরণস্বরূপ কোনো এক ইংলিশ মিডিয়ামের ছোট বাচ্চাকে সন্ধ্যে সাতটাতেও অনলাইন ক্লাস করতে হচ্ছে।
- অনলাইন শিক্ষাতে যেহেতু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে শারীরিক দূরত্ব থাকে, তাই প্রথাগত শিক্ষার মতো তাদের মাঝে আত্মিক যোগাযোগ গড়ে উঠে না। প্রত্যক্ষ সংযোগের অভাব পঠনপাঠনে একটা সময়ের পর অমনোযোগিতা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে টেকনোলজির অপব্যবহারে শুধুমাত্র উপস্থিতি জানান দিয়ে ক্লাসে মানসিক ভাবে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বাড়তে থাকে। বাচ্চারা ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, সারাক্ষণ ইউটিউব সহ নানান মাধ্যমে বুঁদ হয়ে থাকছে, বস্তু জগতের সাথে একপ্রকার কোনও সম্পর্কই থাকছেনা।
- প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ একসাথে পাশাপাশি বসে ছোট থেকে তারা বড় হয়। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্ক শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। শিক্ষার্থীরা মানবিক গুণাবলী রপ্ত করে প্রাকৃতিক ভাবেই। এসব যান্ত্রিক অনলাইন শিক্ষায় সম্ভব হয় না।
- শিক্ষার্থীদের বেড়ে ওঠার বয়সে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনলাইন ক্লাসের বিপুল চাপে খেলার অবসর হারিয়ে যাচ্ছে। মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
- অনলাইন ক্লাস বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি করে, কারণ এখানে পেশাদারিত্বই শিক্ষকের কাছে শেষ কথা।
- অনলাইন ক্লাস মাত্রাছাড়া বেয়াড়া স্বাধীনতা দেয়, অধিকাংশ সময়েই যা ছাত্রের চরিত্র গঠনের পরিপন্থী।
- অনলাইন ক্লাসে জন্য আপনাকে একজন সক্রিয় শিক্ষার্থী হতেই হবে। কিছু এড়িয়ে গেলে তা ছাত্রেরই যাবে, রিপিটের তেমন সুযোগ নেই। এটা কিছুটা কলেজের প্রফেসরদের লেকচারের মত।
- অনলাইন কোর্সে কোন প্রশিক্ষক থাকে না যিনি নির্দিষ্ট ছাত্রের জন্যই লেগে থাকে।
- অনলাইন ক্লাস একটি ছাত্রকে অনেক বেশি চাপ প্রদান করে যতটা সে সামলাতে পারেন তার চেয়ে অনেক বেশি!
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা :
করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ অচলাবস্থা চলতেই থাকছে। তার দরুন বেশ কয়েক মাস আমার কর্মক্ষত্রের সহকর্মীরা মিলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি, যা এখনো চলছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটা বড় অংশ আর্থিক দিক থেকে নিম্নমানের। তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে এই কর্মসূচিতে। অনলাইন শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার মাধ্যম, যার দ্বারা শিক্ষা বাড়ি বসে পৌঁছানো হয়। আর্থ-সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শয়ে শয়ে পরিবারের মধ্যে হাতেগোনা কিছু পরিবারের কাছে এই মাধ্যম, অর্থাৎ ন্যূনতম একটা স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা উপলব্ধ। ফলত এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে বা হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়।
শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিক ভাবে ব্যক্তিগত স্তরে নতুন ব্যবস্থার জড়তা আমাদের মধ্যেও ছিল। তা কাটিয়ে উঠে অপর দিকের শিক্ষার্থীদের দিকে হাত বাড়ালেই যে তারা খুব সহজে তা ধরে নেবে তা কিন্তু নয়। কারণ প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার মূল অনেক গভীরে। হঠাৎ করে তা উপড়ে একশ শতাংশ পরিকাঠামো থাকলেও অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার মূল অত গভীরে যাবে না সহজে। যার উপলব্ধি প্রত্যক্ষভাবে লাভ করেছি।
পরিশেষে আশা করি, এই করোনাকালকে হারিয়ে ফিরে আসুক প্রথাগত শিক্ষার পুরাতন ব্যবস্থা নতুন আঙ্গিকে। অনলাইন শিক্ষাও বিস্তার লাভ করুক সময় নিয়ে। একটি চারাগাছকে মহীরুহ হতে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সবদিক থেকে শৃঙ্খলাপরায়ন হতে হয়, যা প্রথাগত শিক্ষার অন্যতম সুফল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন