শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০

বিহার নির্বাচনঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ১১


একাদশ পর্ব


ভারতীয় সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ, সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে প্রতিটি ভারতবাসী নিজ ধর্ম ও তার রীতিনীতি বিনা বাঁধায় পালন ও অনুসরণ করতে পারবে। এদেশে সংখ্যালঘু বলতে শুধু মুসলমান নয়, শিখ, জৈন, পার্শি, বৈষ্ণব, খ্রিষ্টান প্রমুখ ধর্মানুশরনকারীদেরও বোঝায়। তা সত্বেও একক সংখ্যার দিক থেকে ভারতবাসীর মধ্যে তথাকথিত জাত ও শ্রেনীতে বিভক্ত হিন্দুর পরেই মুসলমানের স্থান এটা আমরা পরিসংখ্যনে দেখেছি। ভারতে বসবাসকারি অগ্রসর শ্রেণী যেমন ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যরা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কোহিমা থেকে কচ্ছ অবধি বিস্তৃত, তেমনই ভারতের প্রতিটি রাজ্যেই কংগ্রেসী ভোটারের মত মুসলমানেরও দেখা মেলে কম হোক বা বেশি। এরই সাথে সংগতকারনেই ধর্মের কিছুটা নির্দিষ্ট বাঁধাবন্ধকতা থাকার জন্য মুসলমান সহজেই চিহ্নিত হয়ে যায়। সংখ্যাগুরু ভারতবাসীদের মধ্যে তথাকথিত হিন্দু ধর্মাবলম্বনকারী, অগ্রজ বা পশ্চাদপদ যে কোনো ভারতবাসীর ন্যায় সঙ্গত উপায়ে সংবিধান মেনে চলার অধিকার প্রাপ্ত, শিক্ষাদীক্ষা ও রুচি অনুসারে যেকোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী থেকে কর্মকর্তা বা মতাদর্শকারী হতে কোনও বাঁধা নেই।

যদিও সংবিধানে স্পষ্ট করে লেখা আছে ধর্ম কখনও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা তবুও দিনের আলোতে ভারতীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন RSS তথা বজরং দল, দূর্গা বাহিনী, বিশ্বহিন্দু পরিষদ ও সমাদর্শগত আঞ্চলিক দল বা এই দলগুলোর আড়ালে ও পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা দলগুলো। এবার নিশ্চিত ভাবে আলোচনা করা যেতেই পারে ভারতীয় সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন এই দলগুলিকে ‘ছদ্মবেশে’ গণতান্ত্রিক মতামত দেওয়ার বা নেওয়ার অধিকার দিয়েছে কেন? বজরঙ দলের বিনয় কাটিয়ার, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ তোগাড়িয়া, উমা ভারতী, স্বাধ্বী রীতম্ভরা, মালেগাও বিস্ফোরনে অভিযুক্ত স্বাধ্বী প্রজ্ঞা, মিমের ওয়াইসি, বরাকের বদরুদ্দিন আজমল, জমিয়তের সিদ্দিকুল্লা, পীর পন্থীদের দালাল ‘করে খাও’ গোষ্ঠী, শিখদের আকালী, মারাঠি শিবসেনা- নবনির্মানসেনার মত উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো কীভাবে মূলধারার ভারতীয় রাজনীতিতে দেশপ্রেমিক হিসাবে বিরাজমান হতে পারে সংবিধানের মূল ধর্ম নিরপেক্ষ অনুচ্ছেদকে কাঁচকলা দেখিয়ে

তাহলে একজন স্বল্প শিক্ষিত, জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পরাজিত, ক্ষুদ্র গণ্ডিতে বেঁচে থাকার লড়াই করা ইসলাম ধর্ম অনুশরনকারী ব্যাক্তিটি উপরে বর্নিত ব্যাক্তিগুলো মত একই ভাবে নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত কোনো তথাকথিত ‘মুসলিম প্রাধান্য’ রাজনৈতিক দলের সভ্য, সমর্থক বা প্রকাশ্য অনুশরনকারী হয়ে গেলে তাকে প্রতি পদে পদে দেশপ্রেমের আলাদা করে প্রমাণ দিতে হয় কেন?

ভারতে বাসকরা একজন সংখ্যালঘু মুসলমানের সাথে জাত বা ধর্মের মিল থাকা বাংলাদেশী সাকিব আল হাসান বা পাকিস্তানী ইমরান খান - ওয়াসিম আক্রমকে পছন্দ হওয়া অপরাধ হলে; শ্রীলঙ্কান জয়সুর্য বা মালিঙ্গা, লাতিন আমেরিকান মারাদোনা, পেলে, মেসি, ইউরোপিয়ান রোনাল্ডো, বা মার্কিনি ট্রাম্পকে এক্কেবারে অন্তর দিয়ে ভালবাসলে সেখানে তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন উঠা কি উচিৎ নয়?
আসলে যেখানে যা ই হোক, একজন মুসলমান দিনের শেষে সেই মুসলমানই রয়ে যায় রাষ্ট্রের চোখে, তথাপি একজন তথাকথিত হিন্দুও কিন্তু দিনের শেষে মুক্তমনা হয়ে থাকেনা, উল্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরশ্রীকাতর এবং পরনিন্দা পরচর্চায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখে ছিদ্রান্বেষণ করতে ব্যস্ত থাকে।

বিগত ৭৪ বছর ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানেরা সেকুলার রাজনীতিই করে এসেছে, কিন্তু তার পর! RSS রোজই চেপে ধরছে একটু একটু করে। সকল হিন্দুই হয়ত RSS নয়, কিন্তু যারা নয় তারা মুসলমানকে ঘৃণা প্রদর্শন না করলেও RSS এর বিরোধিতা করেনা। বামপন্থীরা আর লালুপ্রসাদ ছাড়া কেউ ঘোষিত RSS বিরোধী নেই এ দেশে। সুতরাং দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে পিছিয়ে যাবার স্থান না রইলে কিন্তু সংখ্যাগুরু মনুবাদীদের দেখানো রাজনীতির পথেই চলে যাবে- উগ্র ধর্মান্ধতাকেন্দ্রিক। এই মিমের উত্থানে সেই ভয়ঙ্কর সময়ের পদধ্বনিই শোনা যাচ্ছে।

এই সব প্রশ্নের উত্তর কেবলমাত্র আগামীই দিতে পারে, আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তারা প্রতিটি ভোটের ফলাফল দেখা আর মানুষের শুভবুদ্ধি উদয় হবে এই প্রতীক্ষা ছাড়া উপায় নেই। তবে আসন্ন সময়ে সবচেয়ে বেশি মিমকে নিয়ে যারা ভীত ও অপপ্রচার করবে সে যে মমতাপন্থী তৃণমূলই হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, তাতে সে যে মুখোশ পরেই থাকুক না কেন। তারাই আপনাকে নানা ভাবে সন্ত্রস্ত করবে মিমের নামে।

পুনশ্চঃ- সিতাই, নাটাবাড়ি, তুফানগঞ্জ, ইসলামপুর, চোপরা, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, কুমারগঞ্জ, হরিরামপুর, রতুয়া, মাণিকচক, মালদহ, বৈষ্ণবনগর, চাচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতিপুর, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, ভরতপুর, নওদা, ফারাক্কা, জঙ্গিপুর, সুতি, সামসেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, লালগোলা, ভগবানগোলা, রানীনগর, রেজিনগর, বেলডাঙ্গা, হরিহরপাড়া, ডোমকল, জলঙ্গী, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, চাপরা, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, বজবজ, ভবানীপুর, রাজাবাজার, এন্টালি, চৌরঙ্গী, বাদুড়িয়া, আমডাঙা, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব, ভাঙড়, সোনারপুর উত্তর, কসবা, মেটিয়াব্রুজ, কোলকাতা পোর্ট, হাওড়া মধ্য, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, আমতা, জগতবল্লবপুর, ডোমজুড়, পাঁচলা, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, চাপদানি, চণ্ডীতলা, জাঙ্গিপাড়া, তারকেশ্বর, আরামবাগ, খানাকুল, পুরসুড়া, পাণ্ডুয়া, তমলুক, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল, নন্দীগ্রাম, ভগবানপুর, খেজুরি, খড়গপুর সদর, সবং, পিংলা, খড়গপুর গ্রামীণ, ডেবরা, মেদিনীপুর, গড়বেতা, পাঁশকুড়া, খণ্ডঘোষ, বর্ধমান দক্ষিণ, রায়না, জামালপুর, মন্তেশ্বর, কালনা, মেমারি, ভাতার, পূর্বস্থলী উত্তর, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, আউসগ্রাম, জামুরিয়া, আসানসোল উত্তর, সিউড়ি, বোলপুর, নানুর, লাবপুর, রামপুরহাট, হাসান, নলহাটি ও মুরারই- এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলোর উপরে নজর থাকুক বিশেষভাবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...