সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২

কি ঘটতে পারে অদূর ভবিষ্যতে?

 


পটভূমিকাঃ- দীর্ঘ মধ্যযুগীয় ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখা যাবে- ইউরোপীয় দেশগুলোর মাঝে যুদ্ধবিবাদ এ এক অতি স্বাভাবিক ঘটনা। তাইতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মাঝের সাতটা দশকে কোনোরকমে নিজেরা সুস্থ থাকার চেষ্টা করে যুদ্ধ, রক্তপাত আর হিংসার সবটা এশিয়া আর আফ্রিকাতে স্থানান্তর করেছিল।

➤ মরালঃ যুদ্ধবাজ শ্বাপদদের চরিত্র বদলায়না।

বর্তমান পরিস্থিতিঃ ক্রুসেডারদের সময় থেকেই তথাকথিত আধুনিক ইউরোপীয়দের যে সাম্প্রদায়িক চরিত্র প্রকাশ পেয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে টিভি গণমাধ্যম গুলোতে সেই ন্যাংটা বর্ণবাদী নিকৃষ্টপনার আবার স্বরূপ দেখা যাচ্ছে প্রতিটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রনেতাদের আচরণ কথাবার্তাতে। খোদ রাষ্ট্রপুঞ্জ তথা জাতিসংঘের প্রধান তথা সাবেক পর্তুগাল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তম মন্তব্যের নিরিখে ধরে নেওয়াই যায়- তিনি সাদা চামড়া, নীল চোখের খ্রীষ্টানদের প্রতিনিধি।
আমাদের দেশ কোথায়ঃ- নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর বিপক্ষে গিয়ে ভোটদানে বিরত থাকার কারনে- ভারতের উপরে পশ্চিমা অবরোধ আসতে পারে। কূটনৈতিক ভাবে আমাদের দেশের সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ এটা, শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা।

ভাঁড় দিয়ে ভাঁড়ামো চলে, রাষ্ট্র চলেনা। ইউক্রেনের জনগন জান-মাল দিয়ে আজ বুঝছে। আমরা অবশ্য সেই ২০১১/২০১৪ থেকেই রাজ্য-রাষ্ট্রগত ভাবে বুঝে চলেছি, মূল্যও দিচ্ছি।

ইতিহাস বলছে, পশ্চিমা শক্তি জোট ন্যাটো এবং বিশেষকরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটাও যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস নেই। বরং সর্বত্র লেজেগোবরে হয়ে পলায়নের ন্যাক্কারজনক অতীত 'গৌরব' রয়েছে। অতএব, দৃশ্যত রুশপন্থী হওয়াটা আমাদের মত কৃষিভিত্তিক দেশের জন্য সেরা পন্থা। সেক্ষেত্রে চীনের সাথে সম্পর্কের উন্নতি সাধন প্রয়োজন, যা ভাঁড় রাষ্ট্রনেতা দিয়ে হবেনা।

এটা মোটেই আশ্চর্যের নয় যে মধ্যপ্রাচ্যের তথা আরো স্পষ্ট করে বললে ইসলাম অধ্যুষিত দেশগুলো মার্কিনীদের বিপরীতে অবস্থান করে রাশিয়াকে সমর্থন করেছে। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া তো প্রকাশ্যে রাশিয়াকে সমর্থন দিয়েছে, তুরস্ক ও ইজরায়েল নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকলেও অবশ্যই রাশিয়া ঘেঁষা। সবচেয়ে আশ্চর্যের হলো- সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারিকে জাষ্ট পাত্তা না দিয়ে রাশিয়ার সাথে পেট্রোলিয়াম চুক্তি বহাল রেখেছে।

এতোটা দুরবস্থা এর আগে মার্কিনীদের শেষ সাত দশকে কখনও হয়নি। শুধু মৌখিক হম্বিতম্বির বাইরে আসল কাজ জাষ্ট শূণ্য।

ইউক্রেন আক্রমণের মধ্যেই ইজরায়েলী রাষ্ট্রনেতা নাফতালি বেনেটের মস্কো সফর- পশ্চিমাদের কপালে ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। এটাকে রাশিয়া এনক্যাশ করবেই।

ইজরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সাম্রাজ্যের দখল নিয়ে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা করবে, যেটা গত ছয় দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করে চলেছে। আর এটা হলেই মার্কিন ও তাদের মিত্রদের শুইয়ে দেওয়া যাবে। এটাই ঘটতে চলেছে সম্ভবত।

ইরাণকে বেশ কিছুটা তোল্লা দেবে পশ্চিমা শক্তি, সম্ভবত পরামানু গবেষণা বিষয়ে ছাড়পত্র দেবে। এতে ইজরায়েলকেও কড়া বার্তা দেওয়া হবে।

সৌদি আরবের সঙ্কট বাড়বে, আমেরিকা অধিক উৎপাদনের জন্য প্রেসার দেবে- ওদিকে ইজরায়েল ও চীনের মদতপুষ্ট রাশিয়াও উলটো চাপ দেবে। খুন হয়ে যেতে পারে সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদের বৃদ্ধ পিতা- কিং সালমান।

বিগত দেশ দশকে সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা ছিল। তেল বেচে প্রাপ্ত ডলারের বিনিময়ে আমেরিকা সৌদিকে বিপুল পরিমানে অস্ত্র কিনতে বাধ্য করেছে, যা গিত দেশ দশকে মোট বিক্রিত অস্ত্রের প্রায় 70%. এই বিপুল অস্ত্র হস্তগত বা দখল করতে এখন কে ঝাঁপায় সেটাই দেখার। তুরস্ক সবার আগে থাকবে, বাকি রইলো মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান সহ ইরাকি ও সিরিয়ান মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। মোদ্দাকথা পশ্চিমাদের পোষ্য কুত্তা সৌদি রাজের নিশ্চিন্ত ঘুমের দিন শেষের পর্যায়ে, নিরপরাধ ইয়েমেনীয় নাগরিকেরা যদি এবারে একটু শ্বাস নেওয়ার অধিকার পায়।

রাশিয়া থেকে বিপুল ক্রুড পেট্রোলিয়াম আমদানি করতো ভারত, আরো নির্দিষ্ট করে বললে ইন্ডিয়ান ওয়েল, সেটা সম্ভবত ইরাণ থেকে করবে বা করতেই হবে।

ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে চীনের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ- ইউরোপীয় বাজারের জন্য। তাই কৌশলগত কারনেই রাশিয়ার বিপক্ষে যাবেনা চীন, অন্তত ইউক্রেন প্রশ্নে। উলটে উত্তর কোরিয়ার পাগলাকে লেলিয়ে দিয়ে মার্কিন পুতুল সরকার যুক্ত দক্ষিন কোরিয়া ও জাপানকে অশান্ত রেখে দেবে।

অদূর ভবিষ্যতে NATO জোট ভেঙে যাবেই, কারন তুরষ্ক বেঁকে বসলো বলে- জাষ্ট সময়ের অপেক্ষা। তাছাড়া ইউরোপের তেল-গ্যাসের দাম রাতারাতি চতুর্গুণ বেড়ে আকাশ ছুঁয়েছে, স্বভাবতই মুদ্রাস্ফীতির কবলে পরবে গোটা ইউরোপ। কয়েকটা বড় অর্থনীতির দেশ কোনোমতে সামলালেও নর্ডিক, ইষ্টব্লক ও বাল্টিক দেশগুলোর অর্থনীতি তাসের ঘরের মত ভেঙে পরবে।

ফ্রান্স ও ইতালি আবার আফ্রিকাতে অত্যাচার চালাবে সম্পদ লুঠের জন্য, সুতরাং গোটা আফ্রিকা জুড়ে আবার গৃহযুদ্ধ ভয়াল আকার ধারন করবে। এই সুযোগে সেয়ানে লুন্ঠন করবে।
CIA জাষ্ট ফিনিস, তবে MI6 আবার নব কলেবরে প্রকাশ পাবে।

নেতৃত্বাধীন ইউরোপে সবাই মোড়ল- নিজেদের মাঝে খেয়োখেয়ি চরমে উঠবে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও বাক্যবাণের ফাঁপা বেলুন ফোলানো ছাড়া কারো কিচ্ছুটি করার মুরোদ নেই আক্ষরিক অর্থে। ভোগবাদী ন্যাংটা সমাজব্যবস্থার চরম দৈন পরিনতি দেখছে ও দেখবে তৃতীয় বিশ্ব।

রাশিয়ার ক্রিমিয়া বা ইউক্রেন দখল, চীনের তাইওয়ান দখল সহ নানা দেশের দখলনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে- তুরস্ক তাদের অটোমান আমলের মত মক্কা-মদিনার দখল নিতে চাইবেই, তাদের উপরে থাকা লুসার্ণ চুক্তি উঠে গেলে। ন্যাটো সহ পশ্চিমাদের উভয় সঙ্কট হলেও- যেহেতু দুটোই মুসলমান অধ্যুষিত দেশ- তাই তারা এটাকে অস্ত্রের বাজার হিসাবেই দেখবে।

ক্রমবর্ধমান ইজরায়েলি আগ্রাসনের ফলে ফিলিস্তিনের কতটুকু কি বাঁচবে বলা মুশকিল। তবে সৌদিতে পট পরিবর্তন হলে ইজরায়েল থামতে বাধ্য। এক্ষেত্রে ইরান-ইজরায়েল আজকের বৈরিতা সেদিন থাকবেনা, তারা মিত্র হয়ে উঠবে এলাকার দখলদারিত্ব করতে।

এদিকে আফগানিস্তান আবার তালিবানের মুক্তাঞ্চল, যাদের কাছে বিপুল পরিমানে মার্কিন অস্ত্র রয়েছে যেগুলো তারা ইচ্ছাকৃত ফেলে রেখে গিয়েছে। এগুলোর অপব্যবহার কিন্তু পশ্চিমা সভ্যতার বিরুদ্ধেই হবে। হতেই পারে এই লাভ ফিলিস্তিন পাবে- আর সাজা পাবে সৌদি।

মার্কিন ডলারের বিপক্ষে বিশ্ব মুদ্রা হিসাবে 'Yuan' কে তুলে ধরার প্রচেষ্টা হবে যতদিন না ইজরায়েল তাদের One Order World এর অংশ হিসাবে কোনো বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে নিয়ে আসছে।

বিশ্বযুদ্ধ বা পরমানুযুদ্ধ কোনোটাই হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে- অন্তত দুটো খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী দেশের মাঝে। একটা মুসলমান অধ্যুষিত দেশ না থাকা কালীন বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা সেভাবে নেই। তুরস্কের বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধ ঘটতে পারে।

ভূমধ্যসাগরের কতৃত্বপূর্ণ দখলদারিত্ব নিয়ে তুরস্কের সাথে ন্যাটো ও রাশিয়ার সাথে একযোগে বিবাদ লাগবে। এবং তুরস্ক এই দুই এর হামলার স্বীকার হয়ে ছাড় খার হয়ে যেতে পারে- যার প্রভাব ভীষণভাবে পরবে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

অদূর ভবিষ্যতে হয় রাশিয়া নিশ্চিহ্ন হবে ইউরোপের মানচিত্র থেকে যেমন সোভিয়েত নিশ্চিহ্ন হয়ে 15টা আলাদা মানচিত্র জন্মেছিল। অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেঙে 50টা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হবে। এক্ষেত্রেও ইউরোপের মানচিত্র বদলে যাবে, রাশিয়া সাবেক সোভিয়েতের অংশগুলোকে দখল করবে।
➤বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে দ্বিতীয়টার সম্ভাবনা 95%

ভারত তথা সাবেক কমনওয়েলথ রাষ্ট্রগুলোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেম এক্ষেত্রে ভেঙে পরবে। যেহেতু এই দেশগুলোর সেন্ট্রাল রিজার্ভ- পেট্রোডলার, তাই মুদ্রার মান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে না যাওয়াটাই আশ্চর্যের।

➤ এক্ষেত্রে চাষী, শ্রমিক, মুটে মজদুরদের তেমন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা না হলেও, যারা অর্থ মজুদ রেখেছে ব্যাঙ্কে ব্যাঙ্কে- সেই অর্থগুলো শুধু সংখ্যা হয়ে যাবে।
এগুলো সবই সম্ভাবনা ও ব্যক্তিগত মতামত মাত্র।

মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২

সাধারণ ইউক্রেনীয় জনগণের হাতে অস্ত্র

 


ইউক্রেন বাসী স্বদেশ রক্ষায় অস্ত্র তুলে নিচ্ছে হাতে, গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যম ইউক্রেনীয় 'ভাঁড়' জেলেনুক্সিকে ধন্য ধন্য করছে। তবে আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাক কিম্বা ফিলিস্তিনিরা স্বদেশ, প্রাণ ও অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিলেই তারা জ'ঙ্গী। এটা মাথায় আছে...
কারন সন্ত্রা'সবাদের কোনো ধর্ম হয়না- ইসলাম ছাড়া।
ভাগ্যিস পুতিন অর্থোডক্স খ্রীষ্টান- ইউক্রেনও, ন্যাটো বা ঘ্যেটোও।
ইয়ে, এই তালে কী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজ দামড়া সৌদি রাজাকে ভোগে পাঠাবে- জায়োনিষ্টরা! নাকি আগে বাইডেন তারপর আল-হাবিবি-সৌদ?
কমপ্লিট প্যাকেজ-

শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মার্কিন ও ন্যাটো জোট অবিনশ্বর?



যারা ভাবেন মার্কিন ও ন্যাটো জোট অবিনশ্বর, অজেয় ও একমাত্র সত্য, তাদের জন্য কিছু তথ্য-

🔸 জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুন হলেও ইউরোপের বাজারে তা ৭-৮ গুন বেড়ে গেছে। গ্যাসের অবস্থাও তথৈবচ।
🔸দু বছর আগে মার্কিনী প্রেসিডেন্ট থেকে তাদের বাঘা কর্মকর্তারা যে ভেনেজুয়েলা দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে দেবার কথা বলতো- আজ তাদেরই হাতে পায়ে ধরতে গেছে মার্কিন কংগ্রেসের বিশেষ টিম।
🔸রানের উপরেও কম কিছু নিষেধাজ্ঞা ছিলনা পশ্চিমাদের- তাদেরও হাতেপায়ে পরতে হবে অচিরেই।
🔸এদিকে ন্যাটো ভুক্ত দেশ হয়েও মার্কিন ও ন্যাটোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে পোল্যান্ড নিজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ও ন্যাটোর দাবীকে অস্বীকার করে।
🔸মার্কিনীদের দাবী ছিল, সাবেক সোভিয়েতের মিগ বিমানগুলো ইউক্রেনকে দিয়ে দিতে, বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পোল্যান্ডকে F-16 এর মত সমসংখ্যক অত্যাধুনিক বিমান দেবে। এছাড়া সাবেক সোভিয়েত আমলের ট্যাঙ্কবহর ইউক্রেনকে দিতে।
🔸এর পরেই পুতিন পরিষ্কার জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিপক্ষে অস্ত্র দেওয়া, অবরোধ দেওয়া, সীমানা ব্যবহার বা যেকোনো ধরনের সামরিক সহযোগিতা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে বলেই ধরে নেবে রাশিয়া।
🔸 ব্যাস, পোল্যান্ড সাফ জানিয়েছে, রাশিয়া সর্বশক্তিতে পোল্যান্ডে আক্রমণ শুরু করলে- ন্যাটো ও মার্কিনী সাহায্য পৌঁছাবার আগেই দেশটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হবে। বস্তুত্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুই হয়েছিল জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে।
🔸 সুতরাং ন্যাটো জোটের মধ্যে ফাটল চুড়ান্ত ও প্রকাশ্যে। ন্যাটোর প্রতি পোলান্ডের আস্থা থাকলে তারা রাশিয়ার বিপক্ষে চলে যেতো, কিন্তু যায়নি। উলটে তারা এখন রাশিয়ার ভয়ে জুজু দেখছে।
🔸এতোদিন পোল্যান্ড সীমান্ত দিয়েই ন্যাটো অস্ত্র পাঠাচ্ছিল ইউক্রেনে। ৭ই মার্চের এক বিবৃতিতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছে- আর তারা কাউকে নিজেদের সীমান্ত ব্যবহার করতে দেবেনা ইউক্রেন যুদ্ধে। এমনকি পোল্যান্ডের কোনো বিমানবন্দর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কার্যকলাপও চলবেনা।
🔸মার্কিন ভরষার চেয়ে রাশিয়া ভীতি অনেক বেশ কাজ করছে ইউরোপে।
🔸 বিশ্ব দেখছে, নিজেদের বিশ্বপরাশক্তি হিসাবে দাবী করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- নিজের থুতুই নিজে চাঁটছে। ভেনেজুয়েলা বা ইরাণের সামনে হাঁটু গেঁড়ে দিয়েছে। কারন যাই হোক-
🔸 এমনিতেই আভ্যন্তরীণ মার্কিন সমাজে দ্বন্দের মসলা কম কিছু মজুদ নেই, তীব্র বেকারত্ব, উচ্চ সুদের হার, বিপুল ঋণ, বর্ণবিদ্বেষ, একে অন্যের প্রতি অবিশ্বাস, আর করোনাতে শুয়ে যাওয়া অর্থনীতি- ভেনেজুয়েলার পায়ে ধরা মার্কিন রাষ্ট্রনেতাদের দেশের মানুষই বা কেন মেনে নেবে? ওদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ বেঁধে না যাওয়াটাই আশ্চর্যের।
🔸আগামীতে বাল্টিক, নর্ডিক, স্লাভিক, স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ও সাবেক যুগোস্লোভিয়া ভুক্ত দেশগুলোর মাঝে চুড়ান্ত অনৈক্য দেখা দেওয়া কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা, কারন প্রত্যেকের মাঝে ভয় ঢুকেছে রাশিয়ার। ফিনল্যান্ড আর সুইডেনের মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে তারাই রাশিয়ার পরবর্তী লক্ষ্য।
🔸পাশাপাশি আরও বিশ্বাস জন্মাচ্ছে- বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষক ন্যাটো আসলেই কাগুজে বাঘ, যারা নিরস্ত্র সিরিয়ান, লিবিয়ান ও ইরাকি সাধারন মানুষকে জঙ্গি নাম দিয়ে খুন করলেও- রাশিয়ার সামনে আসলেই নপুংশক নির্বীজ খোঁজা।
🔸ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেনের সাথে কেবলমাত্র যুক্তরাজ্যই ন্যাটোতে থাকবে সম্ভবত- কে মোঁড়ল হবে এই নিয়েই কুকুরকেত্তন বাঁধবে। কারন দিনের শেষে তেল গ্যাস কিনতে নিঃশ্ব হওয়ার চেয়ে রাশিয়া অনেক ভালো, যেটা জার্মানি হাড়ে হাড়ে বুঝছে মাত্র ১২ দিনে। সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।
🔸শেষ হাজার বছরের অতীত ইতিহাস বলছে- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন বা পর্তুগালের মধ্যে আন্তঃখেয়োখেয়ি তাদের বন্ধুত্বের ইতিহাসের চেয়ে ১০ গুন বেশি নৃশংস। সুতরাং ন্যাটোর ঘ্যোঁটের ভবিষ্যৎ কাকের পালকের মত ঝকঝকে ও পরিষ্কার।
🔸এদিকে চীনা বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছে, রাশিয়ার সাথে তাদের সম্পর্ক পাথরের মত মজবুত। এই বন্ধুত্বকে অক্ষুন্ন রাখতে তারা সবধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
🔸বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেনের অন্যতম মাধ্যম SWIFT এর বিপরীতে চীনা UnionPay বাজারে হাজির করেছে। চীনা সফটলোনে ডুবে থাকা দেশগুলো থেকে এভাবেই পশ্চিমা swift হারাকিরি দিয়ে দিল। রাশিয়ার সাথে ব্যবসা করতে হলে এখন UnionPay দিয়ে করো- যা পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
🔸বিশ্বের একতৃতীয়াংশ দেশ মার্কিনী তথা পশ্চিমাদের দেওয়া নানান অবরোধের শিকার, ইরাণ যাদের অন্যতম। তারা swift এর ব্যবহার নিজেরাই ছেড়েছে। তারাও চীনা UnionPay কে উচ্ছাসের সাথে স্বাগত জানিয়েছে। এমনকি তারা ডলারে ব্যবসা করবেনা বলেও ঘোষনা দিয়েছে ১৯৯৯ এর পর আবার ২০২২ এর ৭ই মার্চ।
🔸পেট্রোডলারের খেল খতমের এটা প্রাথমিক সিঁড়ি।
🔸
আমেরিকা ক্ষ্যাপা কুত্তার মত আজ ভেনেজুয়েলার পা ধরিতে গেছে, কাল ইরানকে বাপ বলে ডেকে তাকেও লোভ দেখাবে, শেষ পা ধরবে। সৌদির সামনেও সাষ্টাঙ্গসিজদা করা সময়ের অপেক্ষা।
🔸ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া ও ইরাক থেকে কুর্দিশ সৈন্যরা রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে চলেছে। বস্তুত, ভাড়াটে সৈন্য হিসাবে কুর্দিদের কয়েক হাজার বছরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। এটা ন্যাটোর কাছে যে কতটা ভীতিকর তা গত ১০ বছরে শিরায় শিরায় টের পেয়েছে।
🔸বর্তমানে রাশিয়ার সৌজন্যে ইউরোপের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে চলমান পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে এনে ফেলার মাঝে কি যে বিরাট নৈতিক জয় রয়েছে, তা জনান্তিক মাত্রই জানে। এটাই রাশিয়ার সাফল্য।
🔸গত ২০২২ জানুয়ারিতে কাজাখস্তানে মার্কিন ও ন্যাটোর ষড়যন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে একটা অভ্যুত্থান ঘটে, সেটাকে চীন ও রাশিয়ার সহযোগে কঠোরভাবে ফমন করে কাজাখস্তান। ঠিক যেমন তুরস্কে অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচীব বাইডেনের নেতৃত্বে।
🔸ন্যাটোর অবস্থা- শ্যাম রাখি না কুল রাখি! এগোলে সর্বনাশ আর পিছোলে নির্বংশ। চীনের মদতপুষ্ট রাশিয়ার পুতিন এখন আক্ষরিকভাবেই শাঁখের করাত।

🟢 সব শেষে পুতিনকে ধন্যবাদ- তার কল্যানে আজ ১৩ দিন বাজার থেকে করোনা গায়েব হয়ে গেছে। মিডিয়া আজকাল যুদ্ধ নিয়ে ব্যাস্ত, করোনার ছানাপোনারাও টিভির সামনে বসে যুদ্ধের আপডেট নিতে ব্যস্ত।
বস্তুত- করোনাও যে ৮০% পশ্চিমা মিডিয়াশক্তির দ্বারা পরিচালিত একটা চক্রান্ত তা আজ দিনের মত পরিষ্কার। করোনা পুঁজিবাদী বিশ্বের অর্থনৈতিক রোগ, গরীব খেটে খাওয়া মানুষের কখনই করোনা ছিলনা, আজও নেই। আর যুদ্ধের বাজারে প্ল্যানডেমিক বিষয়টাই অপ্রাসঙ্গিক ও হাস্যকর হয়ে গেছে।
তাহলে- নজর থাকুক চলমান ঘটনাপ্রবাহের উপর।

মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সব দায় সরকারের, শিক্ষকরা ধোয়া তুলসিপাতা?

 


ইস্কুল বিক্রির বিরুদ্ধে লড়াইটা শুধুই 'পিসি' সরকারের বিরুদ্ধে নাকি শিক্ষকদেরও বিরুদ্ধে?
সামনের সপ্তাহেই বেশ কিছু পুরসভায় ভোট। পুরসভা অঞ্চলেই মূলত চাকুরীজীবিরা বসবাস করেন।
ভোটকর্মীদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরাই হলেন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী। এনারা মূলত পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দেন, এই পুরসভা ভোটেও তেমনই দেবেন। পোষ্টাল ব্যালটের ভোটে কারচুপির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে, ছাপ্পা, জালিয়াতি বা রিগিং করার তেমন সুযোগ থাকেনা বা হয়না এই মাৎসন্যায় এর যুগেও।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে ভার্চুয়ালি বা পথে নেমে, এই RSS পরিচালিত তৃণমূল সরকারের বিরোধিতার কেমন লাইন হবে- সেই সিদ্ধান্ত ঐ - পোস্টাল ব্যলটে প্রদত্ত ভোটের শতাংশ বিচার করেই নেব বা নিতে বলব শুভচিন্তাধর মানুষদের।
কারন বিষয়টা সরাসরি যাদের পেটের সাথে যুক্ত, তারা যদি ফুলের মধুর উপরে বিশ্বাস রাখে আজও বা নপুংসক হয়ে- অন্যের ঔরসে জন্মানো সন্তান সুখে বাৎসল্যের সোহাগ পাবার আশায় দিন গোনে-
আন্দোলনের রূপরেখা বদলাতে হবে বৈকি। কারন তখন আন্দোলনটা এই স্বার্থপর শিক্ষক সমাজের বিরুদ্ধেও হবে। সরকারের পাশাপাশি এই অপদার্থ ধান্দাবাজ (অ)শিক্ষকদের হাত থেকেও প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে হবে।
বাংলা একসময় শিক্ষায় উৎকৃষ্ট ছিল, সেইসময় উচ্চমেধার চাষ ছিল। এখন মধ্যমেধাও অতীত, গোটা সমাজেই নিম্নমেধা ছত্রাকের মতো ছেয়ে গেছে। ফলত আত্মসম্মান বোধটুকু হারিয়ে তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ। শিক্ষকেরাও এর বাইরে নয়- তারা অধিকাংশই ১০টা-৫টার পেশাদার 'টিচার', এনারা শিক্ষক ছিলেন বা আছেন কিনা এটার মূল্যায়ন জরুরী।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর সেই শিক্ষা প্রদানটা অমেরুদণ্ডী চটিচাঁটা ক্লীবদের দ্বারা হয়না- সিদ্ধান্ত নেব আগামী পুরোভোটের পোস্টাল ব্যালটের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী শতাংশের হিসাব মিলিয়ে- তারা কোন দিকে আছে!

মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অর্থনীতি বাঁচাতে যুদ্ধ একটা ভীষণ প্রয়োজন

 


রাশিয়া নিজেদের দেশে সৈন্য মহড়া করে, তাই সে যুদ্ধবাজ।

কিন্তু এই অজুহাতে আমেরিকা মাতব্বরি করে অন্য দেশে 8500 সৈন্য পাঠিয়ে দিয়ে- সে মানবতার পক্ষে দন্ডায়মান।


 
ইউক্রেন নিজেই জানেনা তারা আক্রান্ত হতে চলেছে, সেভাবে কোথাও মড়াকান্না কাঁদেনি- অথচ তাদের দেশ থেকে কূটনীতিক অফিসিয়াল দের তুলে নিয়ে এসে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে ইউক্রেনের অর্থনীতি ধসিয়ে দিয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটো জোট। অস্ত্র কিনতে বাধ্য করছে ইউক্রেনকে। এটা খোদ ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ‘ভলোদিমির জেলেন্সকি’ ও প্রধানমন্ত্রী ‘ড্যেনিস স্মিহ্যাল’ এ কথা জানিয়েছে সাংবাদিক সম্মেলন করে।

❎
 ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই- আমেরিকার মাতব্বরি ও অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি, সাথে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রেসার সৃষ্টি করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের জন্য নিন্দা প্রস্তাব এনেছে।

✅
 কিন্তু, যুদ্ধ একটা না লাগালে আমেরিকার যে আর হাঁড়ি চলেনা, অস্ত্র বিক্রি নেই বা থাকলেও তলানিতে। ‘সফটলোনের’ ছিপে উঠা দেশগুলোর কাছে চীনা পটকা বিনে আর গতি নেই, সেই সব দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে ‘কমিউনিস্ট’ লাল চীন। সস্তার অস্ত্রে অস্ত্রবাজারের একটা বেশ বড় অংশে জাঁকিয়ে বসে বাজিমাৎ করছে চীন। ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্ক আর ইজরায়েল সর্বাগ্রে। দামী ট্যাঙ্ক বা অন্যান্য মিশাইল জাতীয় সমরাস্ত্রে রাশিয়া তো মার্কিনীদের মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। এদিকে ব্রিটেন, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ইত্যাদির মত দেশগুলো তাদের এককালের উপনিবেশ গুলোতে এখনও অস্ত্রশস্ত্র বিক্রির একটা বাজার ধরে রেখেছে। বাকি ছিল মধ্যপ্রাচ্য, তাদের মাঝেও সেভাবে বড় কোনো যুদ্ধ নেই এক দশকে- উপরন্তু সকলের গুদামেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত মারণাস্ত্র জং ধরে নষ্ট হচ্ছে বা উৎসবে হাউই-তুবরির মত করে মিশাইল ছুড়ছে শূন্যে। তার উপরে গত এক দশকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বহীন করে প্রায় গায়েব করে দিয়েছে তুরস্ক-রাশিয়া জোট। গত আর্মেনিয়া যুদ্ধেও মার্কিনী গন্ধ টুকু ছিলনা, এমনকি কাজাকিস্তান যুদ্ধেও আমেরিকা অন্তত কোথাও নেই।

যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা বদ- তার মানে কি রাশিয়া দুধে ধোয়া পূত পবিত্র! মোটেও তা নয়, কয়েক বছর আগেই ক্রিমিয়া জবর দখল করেছিল- আজব উপসাগরের কের্চ প্রনালির উপরে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে। ইতিহাস ঘাঁটলে শেষ ৫০০ বছরে এই ক্রিমিয়া অঞ্চলের কের্চ প্রনালির দখলকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫টা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখেছে বিশ্ব। কারন রাশিয়া ভূখণ্ডের মোট ব্যবসার ৬৮%ই সমুদ্রপথের উপরে নির্ভরশীল, আর রাশিয়ার মূল বন্দর কৃষ্ণসাগরের নভোরোসিয়স্ক বন্দর- কারন বছরের অর্ধেক সময় অগভীর আজব সাগর বরফ জমে থাকে, বাকি বন্দরগুলো দিয়ে আফ্রিকা বা এশিয়ার বাজার ধরা ভীষণ ব্যায় সাপেক্ষ। সুতরাং ইউক্রেনের দু-একটা সমুদ্র বন্দর যুক্ত অংশকে দখল করে নিলেই যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেকটাই উন্নতি হবে- সুতরাং রাশিয়াও ‘জোর যার মুলুক তার’ সাম্রাজ্যবাদী নীতিতেই চলছে।

কিন্তু এই যুদ্ধ হবো হবো করেও হয়না বা হচ্ছেনাটা কেন? এর কারন বিশ্লেষণ করে আরেকটা গোটা প্রবন্ধ লিখব এরই ধারাবাহিকতায়।

রাশিয়াকে টাইট দিতে গেলে কৃষ্ণসাগরে মার্কিনী নৌবহর ঢোকাতেই হবে, সেটা করতে গেলে তুরস্কের থেকে ১৫ দিন অন্তর অন্তর অনুমতি নবায়ন হবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে বেড়িয়ে এসে ১০ দিন ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে থেকে তারপর- আজব শর্তের কল।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জ্বালানী- বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য কেউ কেউ ১০০% রাশিয়ার উপরে নির্ভরশীল, যেমন জার্মানি। সুতরাং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেরও অলআউট আক্রমণের সুযোগ নেই- তাই ন্যাটোও ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ নীতি নিয়ে চলে রাশিয়া প্রসঙ্গে।

ওদিকে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে মার্কিনীরা এমন সেঁকে রয়েছে যে তাইওয়ানের আকাশে চীন ফাইটার জেট পাঠালেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে তাইওয়ানের সামরিক অংশীদার আমেরিকা। বুক ফাটলেও মুখ ফাটছেনা চীন জুজুতে। এদিকে চীনা সস্তা পণ্য ইউরোপের বাজারজাত করতে ‘ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলের’ বিকল্প নেই, তাই চীন ব্যবসায়িক কৌশলগত ভাবে রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে রয়েছে- ফলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার একঘরে হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

আচ্ছা গত ৩ দশকে আমেরিকার হয়ে পাড়ায় পাড়ায় যুদ্ধ লাগিয়ে মোড়ল সেজে যে ব্যক্তি গুলো দৈনিক আলোচনার টেবিলে থাকত- তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছাড়াও আরেকটা নাম সংবাদের শিরোনামে থাকত- সেটা ‘সেক্রেটারি ওফ স্টেট’ পদাধিকারী। হেনরি কিসিঞ্জারের মত সেলিব্রিটিকে বাদ দিলেও- ওয়ারেন ক্রিস্টোফার, কলিন পাওয়েল, কন্ডোলিজা রাইস, হিলারি ক্লিন্টন, জন কেরি থেকে ট্রাম্প জামানার মাইক পম্পেও কেও গোটা বিশ্বজুড়ে মোড়লগিরি করতে দেখা গেছে। এরাই অশান্ত দেশগুলোতে গিয়ে অস্ত্র বেচে বেড়াতো, আর লম্বা চওড়া ভাষণ দিতো।

আজকের এই বাইডেন জামানার সেক্রেটারি অফ স্টেট এর নামটুকু আপনি জানেননা গ্যারান্টি, গুগুল করে তবে বলতে পারবেন- ‘এ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন’ বলে কেউ একজন আছে এই পদে, যার কাজ ছিল দেশে দেশে অশান্তি লাগিয়ে বেড়ানো- কিন্তু সে সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ। মোদ্দাকথা, ‘ব্লিঙ্কেন-বাইডেন’ জুটি চরম ভাবে ফ্লপ অস্ত্র বিক্রির বাজার তৈরি করতে। ট্রাম্প তার চার বছরে যুদ্ধ না লাগালেও অস্ত্র বিক্রিতে বেশ দড়ের ছিল। বাইডেন ঠনঠন গোপাল-

এখনও তিন বছর যদি আমেরিকায় এই বাইডেন থাকে, ‘ইউনাইটেড স্টেট’ আর কতদিন ‘ইউনাইটেড’ থাকবে সেটা যথেষ্ট গবেষণার বিষয়।

৮০ বছরে অতিবৃদ্ধ বাইডেনকে কি ক্ষমতায় রাখবে পুঁজিবাদী অস্ত্র ব্যবসায়ী জায়োনিষ্টরা? নাকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ইহুদী কমলা হ্যারিসকে পুতুল সরকার বানিয়ে একটা মরিয়া চেষ্টা চালাবে এই অস্ত্র ব্যবসায়ীর দল?

উত্তর অবশ্যই সময়ের গর্ভে, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ সাত দশকে আমেরিকা কখনও এতটা গুরুত্বহীন, পঙ্গু তথা অবাঞ্ছিত হয়ে যায়নি। বস্তুত মার্কিন পেট্রো-ডলার অর্থনীতি না থাকলে আমেরিকার নুন্যতম গুরুত্ব নেই আজকের 'সফট লোন সাম্রাজ্যবাদী' চৈনিক দুনিয়াতে।

তাহলে কি অচিরেই পেট্রো ডলারের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে?
পেপার কারেন্সি আবার সেই নব্বই এর দশকের ‘সোভিয়েতের রুবেলের’ মত কেজি দড়ে বিকোবে?
ব্যাঙ্কের জমা পুঁজি রাতারাতি ‘নেই’ হয়ে যাবে?
এর জন্যই কি আমাদের কেন্দ্র রাতারাতি বিল আনছে- ‘ব্যাঙ্ক দেউলিয়া’ হলে গ্রাহক কত পাবে?
কাকে বাঁচাতে করোনা ভাইরাসের আড়ালে ধনীদের সুদি পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে গরীব মেরে?

২০২২ উত্তর না দিলেও ২০২৩ কিন্তু অনেক কিছুর জবাব দিয়ে যাবে। কারন লুসার্ণ চুক্তি উত্তর তুরস্ককে রুখতে ইজরায়েল মরণ কামড় দেবেই- আর সেটা সুপার পাওয়ার হওয়ার লক্ষে।

বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য....
সময় জবাব দেবে।

তবে ‘ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকাকে’ বাঁচতে গেলে একটা বড় যুদ্ধ খুব প্রয়োজন, ইজরায়েলকেও সুপার পাওয়ার হতে গেলে ঠিক ততটাই যুদ্ধ প্রয়োজন- যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুপার পাওয়ার ব্রিটেনের থেকে নিঃশব্দে মার্কিনীদের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছিল।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে, আমরা যুগ সন্ধিক্ষণে। অবশ্য ফেসবুকে বুঁদ ও xhamster বা ইউটিউব শর্টস সর্বস্ব প্রজন্মের কাছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে পড়া বা ভাবার সময় কোথায়!

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...