মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘৃণ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ, মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়

 


বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কি?


হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, কারন আগামী দশ বা বিশ বছরের মধ্যেই নাকি গোটা ভারত মোল্লাদের হাতে চলে যাবে, তারা সংখ্যাতে এতো বেশী বাড়ছে। অতএব বিজেপিকে ভোট দাও, RSS কে আর বেশী শক্তিশালী করো।

RSS এর সফট হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানকে অশিক্ষিত হাঙ্গামাবাজ দুধেলগাই বানাবার প্রধান মুখ- মমতা ব্যানার্জী। তোলামূলের আদর্শ বিজেপির ওই উগ্র হিন্দুত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমাকে ভোট দাও নাহলে বিজেপি চলে আসবে। বাইনারি সম্পূর্ণ।

RSS এর ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের নেতাগুলো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতা তো বটেই, পাশাপাশি মুচি চামার বাগদি সহ প্রতিটা অন্তজ্যদের নেতা, আদিবাসীদের নেতা, মুসলমানদের নেতাও তারাই। এর বাইরে নিম্ন বর্ণের কোনো হিন্দু, কোনো মুসলমান, কোনো খ্রীষ্টান যতক্ষণ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের লেঠেল ততক্ষণ সে ঠিক আছে; যদি তাদের কেউ নেতা হিসাবে উঠে আসে বা দাবী করে, এই সমগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী সিস্টেম তাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দাগিয়ে দেবে। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনই যথেষ্ট।

সমাজে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি একটা সম্প্রদায়, মানে যারা এই ব্রাহ্মণ্যবাদী তথাকথিত উচ্চবর্ণ সমাজ- এরা সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর এটাই সেকুলারের সংজ্ঞা, এটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, এটাই রাষ্ট্রবাদীতা। কিন্তু একজন মুসলমান বা একজন হরিজন কিম্বা কোনো খ্রীষ্টান যদি সেই দাবী করে, অমনি সে সাম্প্রদায়িক, সে মৌলবাদী। ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু হলে সে বাই ডিফল্ট সেকুলার। তারা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বা অগ্নিমিত্রা পালের মত প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলেও- রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন, মিডিয়া সেগুলোকে তুচ্ছ হিসাবেই গ্রহণ করে। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই ভিড়, স্বভাবতই তারা এ বিষয়ে অন্ধ।

এদিকে বামপন্থী সেলিম, হুমায়ূনের সাথে মিটিং করলে, ISF এর সিদ্দিকি ভায়েরা বক্তিতা দিলে, কিম্বা পূর্ব মেদিনীপুরের রুহুল আমিন নতুন JUP দল খুললেই, সে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। আর এর প্রচারণাটা কে বা কারা করে? ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তথা ব্রাহ্মণের ঔরসে ‘নিয়োগপ্রথাতে’ যাদের জন্ম, সেই বেজন্মা মিডয়া হাউজ- যেমন আনন্দবাজার, প্রতিদিন, বর্তমান, আজকাল, জি মিডিয়া, রিপাবলিক, এই সময়- এই জাতীয় মিডিয়ার পতিতারা প্রচারের দায়িত্বে থাকে। এর বাইরে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী অন্ত্যজ, যারা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পায়ের নিচে থাকাটাকে মোক্ষ মনে করে, তারাও এই প্রোপাাগান্ডার অংশ। এদের ন্যারেটিভ খুব স্পষ্ট- নেতা অবশ্যই ব্রাহ্মণ হতে হবে, নিদেনপক্ষে ক্ষত্রিয়; মুসলমান, বাগদি, আদিবাসী বা হরিজন তাদের স্বজাতির পক্ষে কথা বললেই সেটা সাম্প্রদায়িকতা, সেটাই মৌলবাদ। স্বজাতির মাঝেও তারা কেন নেতা হবে! নেতা শুধু ব্রাহ্মণবাদীদের মধ্য থেকে হবে।

শুরুটা যা দিয়ে করেছিলাম, আগামী সিকি শতকে ভারত নাকি মোল্লাদের দেশ হয়ে যাবে- তাই হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, এটাই তো বিজেপির একমাত্র ও আদি ইস্যু। তথ্য কী বলছে? জেনে ও শিখে রাখুন, আগামীতে আপনাদের পেশাজনিত কাজে লাগবে, যারা সাংবাদিকতা করে পেট চালান।

তথ্য মোতাবেক আজকের তারিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১৫ কোটিই হিন্দু, শতাংশের বিচারে যা ৭৯%। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫%, সংখ্যার বিচারে যা ২১.৮০ কোটির আশেপাশে। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় ৩% এর আশেপাশে, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০% এরও বেশী, যা ক্রমবর্ধনশীল। গোপন ধর্মান্তরের কারণে বিপুল পরিমান হিন্দু ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানে কনভার্ট হয়েছে, যেটা তথ্যে আসেনা। শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলো যথাক্রমে ১.৭%, ০.৭% এবং জৈনরা ০.৪%।

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৩০.৪০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৩৬.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ৬.৩০ কোটি। ১৯৭১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৫.৩০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ৮.৬০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা ৫৬.২০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১০.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ১২.৮০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা ৮২.৮০ কোটিতে পৌঁছায়, ১৩.৮০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন হিন্দু জনসংখ্যা ১১৫ কোটি ছোঁবে। এই সংখ্যা শুধু জন্মহারেই বেড়েছে এমনটা নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরনার্থী অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে।

তথ্যের সাদাকোলো হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যার ‘গ্রোথ রেট’ কী বলছে!

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে মুসলমান জনসংখ্যা ছিলো ৩.৫০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৪.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ১.২০ কোটি। ১৯৭১ সালে মোল্লা জনসংখ্যা ছিলো ৬.১০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ১.৪০ কোটি। ইসলাম জনসংখ্যা ৮.১০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ২.৬০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ১০.৭০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা ১৩.৮০ কোটিতে পৌঁছায় ৩.১০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক মুসলমান জনসংখ্যা ১৭.২০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন দেশে মুসলমানের সংখ্যা ২১.৮০ কোটি ছোঁবে।

শেষ ৭৫ বছরে ভারতে হিন্দু বৃদ্ধি পেয়েছে বছরে ১.৭৯% হারে। পাশাপাশি মুসলমানেরা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৪৭% বাৎসরিক হারে। অঙ্কের হিসাবে এইভাবেই যদি চলতে থাকে, ৩২৬ বছর পর দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যা সমান সমান হবে। ১৯৫১ সালের নিরিখে ৭৫ বছর ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে হিন্দু মুসলমান সমান সমান হতে আরো ২৫১ বছর সময় লাগবে, ২২৭৭ সাল নাগাদ। এই হিসাব আজকের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ধ্রুবক ধরে ভাবা হয়েছে, গাজার মত নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, আসামে বিশ্বশর্মা সরকারের তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ, মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গা বিতারণ, কিম্বা বাংলাদেশের মত হিন্দু অত্যাচার ও বিতারণ হলে হিসাব এলোমেলো যাবে।

২৫১ বছর আগের, মানে ১৭৭৫ সালের পৃথিবী কেমন ছিলো জানেন? স্বাধীন আমেরিকা তখনও জন্মায়নি, তখনকার ভারত ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শাসনের দিকে চলে যাচ্ছে, একেবারে রূপান্তরের মাঝখানে থাকা বহুভাগে বিভক্ত একটা ভূখন্ড। আজকের ভারতের কনসেপ্টই ছিলোনা তখন, না ছিলো গণতন্ত্র। ভারতজুড়ে নানান আঞ্চলিক শক্তি, মারাঠা সাম্রাজ্য, মহীশূরের হায়দার আলি, লক্ষৌ, হায়দরাবাদ, বাংলা ইত্যাদি অঞ্চল বিবিধ নবাবদের দখলে। গ্রামাঞ্চলে জোতদার জমিদারদের রমরমা। পুরোনো সাম্রাজ্য ভাঙছে, নতুন শাসন গড়ে উঠছে। দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্য ভাঙনের দোর গোঁড়ায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে দেশে, ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের ফলে, ১৭৭৫ নাগাদ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কার্যত কোম্পানির অধীনস্ত। না ছিল রেল, না বাস বা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি, না বিদ্যুৎ, না আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ চলাফেরা করত, ঘোড়া, হাতি, পালকি, গরুর গাড়ি, নৌকা আর পায়ে হেঁটে। শিক্ষা বলতে পাঠশালা, মাদ্রাসা আর টোল।

আগামী ২৫১ বছর পর, ২২৭৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সভ্যতা ও বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানিনা, কিন্তু সেই দিনটার ভয় দেখিয়ে আজকের শিক্ষা, আজকের স্বাস্থ্য, আজকের রোজগার, আজকের প্রয়োজনীয় সব দাবিদাওয়া ভুলিয়ে দিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ বীজমন্ত্র জপিয়ে উলঙ্গ ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি- ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। আর এই বিজেপিকে রুখতে আপনাকে তোলামূলের চোরগুলোকে ভোট দিতে হচ্ছে, যারা বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে ঘৃণা চাষের জন্য। নিজেকে চার অক্ষরের বোকা বলে মনে হয়না আপনার?

হ্যাঁ, মুসলমাদের এই বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর উচ্চবর্ণের নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে বৈকি। ১৯৫১ সালে তাদের জনসংখ্যা ছিলো ওই ৫% এর কাছাকাছি, আজ ২০২৬ সালে সংখ্যাটা কমে সাড়ে তিন শতাংশ হয়ে গেছে। আদতে সংখ্যালঘু হয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্রাহ্মন্যবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত শাঁসালো পদ দখল করে বসে আছে। তারাই সকলের নেতা হয়ে বসে আছে। এরাই জন্মগত সেকুলার, এরা রাষ্ট্রবাদী এবং এরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক। আপনি মুসলমান, নেতা হতে চাইলেই এই কায়েমি গোষ্ঠীটা আপনাকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সমাজবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেবে- আর এর জন্য কোনো প্রমাণ বা তথ্যের দরকার নেই, তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট।

বিজেপি শয়তান এতে সন্দেহই নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কি? দিনের শেষে তিনিও তো সেই RSS এরই নেত্রী। সাচার কমিটির রিপোর্ট ফেরি করে উনি মসিহা সেজে মুসলমানের ভোটে ক্ষমতার সিংহাসনে চড়েছিলেন, ওনার ১৫ বছরের রাজত্বে সরকারী চাকরিতে মুসলমানের সংখ্যা আরো আরো কমেছে। মুসলমানের মাথাপিছু রোজগার কমেছে, মুসলমানের ফ্যাক্টারি ও বড় ব্যবসা গুলো বন্ধ করিয়ে দিয়েছে, মুসলমানের সামাজিক সুরক্ষা কমেছে, OBC সংরক্ষণে মুসলমানদের পথে বসিয়েছে, ওয়াকফের বড় একটা সম্পত্তির অংশ ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছে।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সারাক্ষণ ভয়ের পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানের প্রশাসনিক হয়রানি বাড়িয়েছে। মুসলমান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার WBCS অফিসার বাড়লে তার ক্রেডিট আল-আমিন মিশন জাতীয় একান্ত ইসলামিক সংগঠন গুলোর সৌজন্যে, মমতা ব্যানার্জীর কোনো কৃতিত্ব নেই। ওনার কৃতিত্ব ওয়াকফের টাকায় ইমাম ভাতা দিয়ে, সেটার উল্টোপিঠে পুরোহিত ভাতা দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়। রেডরোডে ঈদের নামাজ হতো যেহেতু, পালটা হিসাবে সেখানে দুর্গা কার্নিভাল হওয়ানো। ট্যাক্সের টাকায় গুচ্ছের মন্দির বানানো, ক্লাবে ক্লাবে পুজোর জন্য টাকা উড়ানো। ওনার অবদান এটুকুই। মালদা মুর্শিদাবাদে একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অদধি করেনি, যাতে সম্প্রদায়টা একটু উন্নত হয়; অবশ্য উন্নত হলে তাদের মানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করবে কে!

কিছু সময় বাদ দিলে, গত ১৫টা বছর ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জী। তিনিই মুসলমানদের মসিহা সেজে সম্প্রদায়ের নাম দিয়েছে দুধেলগাই, আজকাল আবার ‘ওই ২৭%’ বলে তাচ্ছিল্যের ডাক ডাকেন উনি। তার বিধানসভায় বিজেপির অগ্নিমিত্রা মুসলমান সমাজকে ক্রিমিনাল বললেও তার মুখে সেলোটেপ বাঁধা থাকে, আসলে ২৯৩টা RSS এর সদস্যের একটা হাউজে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেবেন? এখানে দুজনেই RSS কর্মী, সহকর্মী নেত্রীর বিরুদ্ধে বললে নাগপুরে কৈফিয়ত দিতে পারবেন উনি? ব্রাহ্মণ স্পিকার বিমান ব্যানার্জী কী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য বিধানসভার কার্য বিবরণী থেকে বাদ দিতে পেরেছেন? সারাবছর তিনি RSS এর মন্দির রাজনীতির বাস্তবায়ন করেন, পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগান যাতে মুসলমান ভয়ে থাকে। আর ভোটের আগে মাথায় হিজাব বেঁধে ভড়ং সেজে, মুসলমানকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়, লুঠপাঠ মারামারি করে তোলামূলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে।

শেষ ১৫ বছরে যতগুলো রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মরেছে মুসলমান, পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মৃতের তালিকাতে নিম্ন বর্নের হিন্দু আছে, কিছু আদিবাসীর দেখাও মেলে; কিন্তু ১টা মৃত এমন দেখান, যিনি ব্রাহ্মণ। অথচ তোলামূলের মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় পদের দিকে তাকান, সেখানে মুসলমান প্রায় নেই, থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের মত- ‘গুড মুসলিম’। নেহাত SC, ST OBC সংরক্ষিত আসনগুলিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি ও রাজ্য জুড়ে ১১০টা মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত আসনে মুসলমানদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী দিতে হয় বাধ্য হয়ে, নতুবা উনি সেখানেও দক্ষিণ কোলকাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদেরই দাঁড় করাতেন, যিনি RSS এর প্রো-হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী।

রাজ্যে ২৭% মুসলমান, সেই হিসাবে ২০২১ সালের তোলামূলের ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জন মুসলমান হওয়া উচিৎ ছিলো, টিকিট পেয়েছিলো ৪২ জন। স্বভাবতই তোলামূলের ২২৩ জন MLA এর মধ্যে, ৬০ জন মুসলমান না থেকে, রয়েছে ৪১ জন। ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মুসলমান থাকার বদলে আছে তার অর্ধেক, মাত্র ৬ জন। এই হচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর মুখ ও মুখোশ।

বিজেপি আর তোলামূল আলাদা কেউ নয়, দুটোই RSS এর শাখা, একটা মুখ অন্যটা মুখোশ। তাই তোলামূলের বিকল্প কখনও যেমন বিজেপি হতে পারেনা, তেমনই বিজেপি আসুক বা না আসুক- উগ্র হিন্দুত্ববাদ তথা RSS নামের ক্যান্সারের এর বিস্তার থামবেনা তোলামূলের রাজত্বে। গত ১৫ বছরে অফিসিয়ালি ১৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে RSS এর নানান খোঁচর সংস্থা গুলো, যারা সমাজে বিষ ছড়াবার কাজ করে। আপনার ভিতরে সুখের অর্গাজম হচ্ছে, কারন CPM জিরো। এদিকে সেই জিরোর সুবিধা নিয়ে গোটা রাজ্যে RSS এর ১,৪৯২টি শাখা, ৮০০টি মিলন ইউনিট এবং ৩০০টি মণ্ডলী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। ব্লকের হিসাবে ৩৪১টির মধ্যে ২৬২টিতে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা বিজেপি ও তোলামূল উভয়ের জন্যই কাজ করে। এরা চুড়ান্ত ব্রাহ্মণ্যবাদী, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের লেলিয়ে দেয় মুসলমানের সাথে, কিম্বা নিজেদের মধ্যে মিথ্যা কারনে লড়াই করায়, যাতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ক্ষমতায় টিকে থাকে। কিন্তু আপনি জানেন CMP জিরো, আর সেই সুখেরই তো ঠিকানা নেই, বাকি কিছু ভাবার সময় কোথায়! 

আপনার নেতা কে হবে আপনি ঠিক করুন। উমা ভারতী, স্বাধ্বী প্রজ্ঞা বা যোগী আদিত্যনাথেরা যত গেরুয়া বস্ত্রের ভেক ধরে মূল ধারার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে, তারই উল্টো পিঠে মিমের আসাউদ্দিন ওয়েইসি, ISF এর নৌসাদ কিম্বা সদ্য গঠিত JUP এর রুহুল আমিনেরাও মাথায় ফেজ টুপি পরে মুসলমানদের নেতা হিসাবে আবির্ভুত হবেই। গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জীকেই তো নিজেদের নেতা মেনে এসেছিলো, তাতে উনি কী দিয়েছেন? ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছেন, মুসলমানের সন্তানকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছেন, গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়েছেন, গুন্ডা আর তোলাবাজ সিন্ডিকেটের লুঠেরা বাহিনী বানিয়েছেন, আর সর্বক্ষণ বিজেপির ভয় দেখিয়েছেন। আজ হুমায়ূন যদি বাবরি মসজিদের নামে নেতা হয়ে যায়, সেই দায় একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর।

মুসলমান সমাজ ওনাকে নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার সাথে সাথে, ঢেলে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাতে টিকিয়ে রেখেছিলো দেড় দশক। তাতে বিপুল চুরি চামারির শেষে মুসলমানদের জন্য কী করেছেন? বিজেপিকে তাড়াতে গেলে আগে তোলামূল তাড়ান, নতুবা আপনার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, আতঙ্কে, দাঙ্গায়, অশিক্ষায় আর দারিদ্রের সাথে পদদলিত হয়ে, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দাস হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।


সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মিথ্যা মামলাঃ ফ্যাসিস্ট শাসকের অস্ত্র

 


‘বাটন’ নামের ভিডিওটি যে বানিয়েছে সেই ছেলেটিকে চিনতামনা, না আগে তার রিল/ভিডিও দেখেছি। তাই এর চরিত্র ভাল মন্দের বিষয়েও কিছুই জানিনা। স্বভাবতই সে নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য থাকতে পারেনা, নেই ও। দেশে আইন আদালত রয়েছে, বিচার করাটা তাদের কাজ। তাই প্রাইমাফেসি দেখে, আমি যেমন ছেলেটিকে নির্দোষ বলতে পারিনা, দোষীও বলতে পারি কী? কোন এভিডেন্সের এগনেস্টে বলবো? অভিযোগকারিনী মেয়েটির মিডিয়া জবানবন্দির প্রমানে?

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর ডেটা অনুযায়ী, সমস্ত IPC/BNS মামলার প্রায় ২৩%ই মিথ্যা fabricated মামলা। এগুলো হয়রানির উদ্দেশ্যে বিদ্বেষপূর্ণভাবে দায়ের করা হয় পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে। প্রমানিত হওয়ার আগেই লকাপ বা জেলের ভিতরে ঢুকিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর মধ্যে ব্যাক্তিকে অত্যাচার করা হয়। ২০২০ সালের ডেটা অনুযায়ী, ৪৯৮এ পণপ্রথা সংক্রান্ত ১৪.৪% মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ সেগুলো মিথ্যা হিসাবে প্রমানিত হয়েছিলো। ধর্ষণ, মানে ৩৭৬ ধারার ১৭%ই মামলাই পুলিশের সাজানো মিথ্যা তথ্যের জুয়াচোরি

উদাহরণ হিসাবে, রাজস্থানের ৪১%-৪৫% পর্যন্ত মামলাই ভুয়ো হিসাবে প্রমাণ হয়েছে আদালতে। ২০২৩ সালের NCRB প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ ১৫ বছরে মিথ্যা অভিযোগের অনুসারে পুলিশের দাখিল করা মিথ্যা ও সাজানো ভুয়ো fabricated মামলা ২৬.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে গোটা দেশেএই হচ্ছে সমাজের আয়না, শাসক তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নিজের নাগরিককেই মামলার ফাঁদে ফেলে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে। ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে রচিত সাংবিধানিক আইনের ধারা, অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত করছে শাসক।


অভিযোগকারীনি মেয়েটির মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট কি আজ অবধি আদালত দেখেছে? মেয়েটি ক্যামেরার সামনে সেই রিপোর্ট দেখিয়েছে? না, দেখায়নি। মেয়েটিকে সারারাত বেঁধে রেখেছিলো, তার নাকি ফোন কেড়ে নিয়েছিলো, ইত্যাদি। স্বভাবতই তার বাড়ির লোকজন মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি, তারা কি সেই রাত্রে নিকটবর্তী থানায় নুন্যতম একটা ‘GD’ করেছে? দীর্ঘদিন কোর্টে যাতায়াত ও আইনজীবি বন্ধুদের থেকে জানার সুবাদে যেটুকু বুঝলাম, মেয়েটি তো ফার্স্টক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটকে গোপন জবানবন্দি দেবে, বিচার পাওয়ার জন্য এটাই নিয়ম। তা না করে শুরুতেই মিডিয়া ট্রায়ালের জন্য একটা জনমত তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে, যেটাকে ভিক্টিম কার্ড বলে। রেপ হয়ে থাকলে ভ্যাজাইনাল টেস্ট করতে হয় ৭২ ঘন্টার মধ্যে, যেটাকে ফরেনসিক পরীক্ষার ভাষাতে SATU বলা হয়। সেটা করা হয়েছে? যেহেতু মেয়েটি ও ছেলেটি উভয়েই পরিচিত, তাই TI প্যারেড বিষয়টাকে নাহয় বাদ দিলাম। আমার এতো কিছু গল্প করার উদ্দেশ্য- ছেলেটি দোষী হতেই পারে, কিন্তু মেয়েটি যে অসাধু উদ্দেশ্যে এই মিডিয়া ট্রায়াল করাচ্ছে, সেটাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

তবে হ্যাঁ, ছেলেটিকে এ্যারেস্ট না করলেই আশ্চর্য হতাম। মলেস্টের বিষয়টা যদিবা নাও আসতো, অন্য কিছুনা কিছু একটা আসতই, কারন শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, একে নমুনা হিসাবে শাস্তি না দিলে, কাল অন্য আরেকজন বলবে, পরশু আরেকজন। ক্ষমতা কখনও বিরোধীতা পছন্দ করেনা। স্বভাবতই, ওই মলেস্ট ইত্যাদির গল্প গাধার ওখানে না পাঠাতে পারলে, নিজেরটাতেও ভরে নিতে পারেন। হাগেন তো মুখ দিয়ে, আপনার ওটা কোন কাজেই বা লাগে!

কাল হয়ত আমি, পরশু আপনি, এভাবেই কাউকে গাঁজা কেসে, কাউকে মলেস্ট কেসে- ভরে দেবে। ওদিকে এই নপুংসক পুলিশের ক্ষমতা নেই ১৩ পাওয়া BDO, প্রশান্ত বর্মনের নাগাল পায়। ৫০ জন মানুষ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও এদের ক্ষমতা হয়না সেই WOW মালিকদের লোমের ডগা ছুঁতে। এটাই আজকের পুলিশ প্রশাসনের স্ট্যান্ডার্ড।

কটা দিন প্রতীক্ষা করুন, তোলামুলের প্রার্থী তালিকা ঘোষনা করলেই, কমপক্ষে ৮০ জন সিটিং বিধায়ক টিকিট পাবেনা আগামী নির্বাচনে, তার বাইরেও তোলাবাজদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কম কিছু নেই। পরিস্থিতি কী হবে সেটা জানে i-Pac, প্রতিটা পঞ্চায়েতে কুকুর কেত্তন শুরু হওয়া সময়ের অপেক্ষা, হ্যাঁ ভোটের আগেই। তখন দেখবেন এই পুলিশকেই কেমন ফেলে ক্যালান দিচ্ছে তোলাবাজদের নানান গোষ্ঠী।

তোলামুল ভয় পেয়েছে, চরম ভয় পেয়েছে, ক্ষমতা চলে যাওয়ার ভয়, হারামের সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়, জনগণের ক্যালানি খাওয়ার ভয়, পালিয়ে বেড়াবার ভয়, জনরোষের ভয়, তোলা সিন্ডিকেট ভেঙে পরার ভয়। আর তার জন্য এই পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে রুখতে আইন প্রণয়ন করলো রাজ্যসরকার। ২০২৬ জুলাইয়ের আগে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের কোথাও অনাস্থা আনা যাবে না।

প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদের ১০০%, পঞ্চায়েত সমিতির ৯২% ও গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০% তোলামূলের চোর বাহিনীর দখলে আছে।

তোলামুল ভয় পাচ্ছে, আরো ভয় পাবে, রোজ এই ভয় বাড়বে। সাহস করে শুধু বলতে হবে, মেরুদন্ডটা আরেকটু শক্ত করতে হবে, বিশ্বাস করুন এরা নুনের মত গলে যাবে, কারন এরা কাপুরুষের দল, দুর্নীতিগ্রস্থ পুলিশ আর প্রশাসন দিয়ে জঙ্গলের শাসন চলছে। চোরেদের বিরুদ্ধে আমার আপনার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের ভাষা যদি বিজেপি বা অন্য কারো সাথে মিলে যায়, মিলতে দিন। বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে কি আমি শ্বাসবায়ু হিসাবে ওজোন বা সালফাইড গ্যাস নেব, অক্সিজেনের বদলে? যুক্তির হিসাবে বিজেপিও অক্সিজেন নেয়, তাই আমি অক্সিজেনে যাবনা! এই প্রশ্নগুলোও শাসকের নানান ভাতাজীবী গোষ্ঠী, মিডিয়ার দালালেরা তুলবে, যাতে আমি আপনি আওয়াজ না তুলি।


আওয়াজ তুলুন, কতজনকে জেলে ভরবে?

 

 


বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এতো কূনাট্যের কারন কী?


 বাঁশ, তুঁষ, শুকনো পাতা, এমনকি শুকনো আবর্জনা বা ধানের ভুষি দিয়ে চুলো জ্বালাবার পরেও, আগুনকে বারবার খোঁচাতে হয়, নতুবা সেই আগুন ক্রমশ ছাই এর নিচে চাপা পরে নিভে যায়; এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই রয়েছে। ছাই চাপা আগুনের নিচে যে অবশিষ্ট কার্বন থাকে তা অক্সিজেনের সংস্পর্শ না পেলে নিভে যায়।

SIR ইস্যুতে তোলামূল বিভিন্নভাবে খোঁচাবার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে মুসলমান পাড়াতে। সেই ২০২১ এর মতই এটা NRC ই হতে চলছে, নামটা শুধু আলাদা। এই যে তোমার শুনানিতে তোমার ডাক পড়েছে - একবার উপস্থিত হও, তাহলেই বুঝতে পারবে যে আইবুড়ো ভাতের মত শেষ বার তুমি ভারতীয় হিসেবে ভাত খাচ্ছ, তারপর সোজা NRC ক্যাম্প। মানেটা দাঁড়ালো কী! তোলামূল ও তাদের মগজ i-Pac বারবার খোঁচাখুঁচি করে বাইরে থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই করার চেষ্টা করেছে ‘ভয়ের ভাটিতে’, কিন্তু মেটেরিয়াল এর মধ্যে উপযুক্ত পরিমাণ ‘কার্বন’ নেই বলে, হাজার অপচেষ্টা সত্বেও বাংলার বুকে অশান্তির আগুন জ্বালাতে পারেনি তোলামূল সুপ্রিমো।

গতকাল সুপ্রিমকোর্টে মান্নীয়া ও তাঁর দলবল, একগাদা মিথ্যার মাঝখানেও স্বীকার করে নিয়েছে- SIR এ তাদের কোন আপত্তি নেই, শুধু সেটা যেন ২০২৬ ভোটের পরে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য মান্নীয়া দিল্লী যায় নি, কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন- যেন ২০২৪ এর ভোটার লিস্ট ধরে ছাপ্পাটা মারা যায় এটা নিশ্চিত করতে।

মান্নীয়া নিজে দুর্নীতির গু এর ট্যাঙ্কে ডুবে রয়েছেন আপাদমস্তক। ওয়াকফ সম্পত্তির কেসে মাত্র পাঁচ দিন আগে সরকার থেকে নোটিশ দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি আপলোড করতে বলার দরুন, মুসলমান সম্প্রদায়ের বিপুল সম্পত্তি জেলাশাসকের নামে আপলোড হয়ে গেছে। OBC কে দু ভাগে ভাগ করে দিয়ে এবং বড় অংশের উচ্চবর্ণের হিন্দুকে এর সাথে জুড়ে দিয়ে রাজ্যজুড়ে মুসলমানের যেটুকু সুবিধা ছিল তাকে কেড়ে নেয়া গেছে। দুই ক্ষেত্রেই মুসলমানকে পথে বসাতে পেরেছেন RSS এর নেত্রী মান্নীয়া ব্যানার্জী। পাশাপাশি RSS এজেন্ডা রূপায়নে, দীঘার মন্দির সহ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মন্দিরের বন্যা বইয়ের দেবার একটা প্রকল্প চলছে, একই সাথে ইসকনকে বিপুল সরকারী জমি বিনামূল্যে দান করা হয়েছে, উপরের তিনটেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অংশ, যা RSS চায়। এর পরেও দুধেলগাই এর দল কিন্তু মান্নীয়াকে ভোট দেয়।

SIR এর খসড়া তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে, ইচ্ছাকৃত ভুলভাল করে তোলামূল BLA এর দল, মুসলমানকে রীতিমতো পথে বসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলো। ভুল হয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন ডাকতে বাধ্য হয়েছে, যদিও অধিকাংশ ষড়যন্ত্রের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে যা কিছু প্রচেষ্টা, তা মুসলমান সমাজ নিজের চেষ্টাতে করছে, যা আগে থাকতে প্রস্তুতি নেবার ফলাফল। এদেশীয় মুসলমানের নাম কাটার ক্ষেত্রে এক নম্বরে বিজেপি থাকলে, দু'নম্বরে অবশ্যই তোলামূল কংগ্রেস।

SIR শুরুর সময় থেকে মান্নীয়া রাস্তায় নেমে নাটক করেছিল, জনগণ ওনাকে গুন্তিতে নেয়নি, নাটক ফ্লপ হয়ে যায়। এরপর যেকোনো মৃত্যুকে SIR এর সাথে ম্যাপিং করার মরিয়া প্রচেষ্টাও জনগণ খায়নি। তোলামূলের ভাতাজীবী খোঁচর জিম নওয়াজ কোর্টে মামলা করেছিলো, কেউ জানেনা তার স্ট্যাটাস কি, মাননীয়াও সেই মামলার পার্টি হয়নি। সিদ্দিকুল্লার রাজভবন অভিযানের খবর পাড়ার নেড়িকুত্তা গুলোও টের পায়নি। পাঁচালীর গাড়ি থেকে ফেরি করা ভয়ে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে, অকেজো অস্ত্র। শুনানির প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে, যাকে ডেকেছে, তার ‘আপনা হাত জগন্নাথ’, নিজেকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হয়েছে, তোলামূলের কোনো প্রতিশ্রুতি কাজে আসেনি।

মরিয়া ভাইপোর নির্বাচন কমিশনের পায়ে ধরতে যাওয়াটাও এই ক্রনোলজিতেই পড়ে; বাইরে এসে হম্বিতম্বি না করলে তাকে কেউ পালোয়ান বলবে কেন! আসলে পিসির ফেউ হিসেবে নির্বাচন কমিশনারকে কোনভাবে ম্যানেজ করা যায় কিনা সেটা পরখ করতে গিয়েছিলো। পাশাপাশি ভাইপো ইম্মিডিয়েট ভোট ঘোষণা করে দেওয়ার দাবীও জানিয়েছিল, যাতে DA মামলার মুখোমুখি না হতে হয়। কিন্তু জ্ঞানেশ গুপ্তা আগেই বিজেপির হারেমের মক্ষীরানি, তোলামুলের ভাইপোর সাথে নষ্ট হতে সে রাজি হয়নি বাঁধাবাবু ছেড়ে। গুপ্তা মালও বাস্তুঘুঘু, SIR এ গোটা দেশের জন্য এক আইন আর পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা আইন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

এদিকে আইপ্যাক (i-Pac) বলে দিয়েছে ২০২৪ সালের ভুয়া ভোটার তালিকা ছাড়া তোলামূলকে কোনমতেই পাশ করানো যাবে না। এই কারনেই মান্নীয়া কোর্টের কাছে গিয়েছে যাতে নির্বাচনটা ২০২৪ সালে ভোটার লিষ্ট ধরে করা হয় সেই অপচেষ্টা করতে, কারন SIR এর ফলে অন্তত ৯৩টা এমন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বাদ যাওয়া ভোটারের চেয়ে তৃনমূলের জেতার মার্জিন কম। তাই ভুয়ো, মৃত, অবৈধ ও ভুতুরে ভোটার ছাড়া মান্নীয়ার চোরবাহিনী কোনোভাবেই ২৬শে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেনা। তাই তার প্রতিটা অস্ত্রকে রাস্তায় নামিয়ে ‘বিরোধী’ মোডে নিয়ে গেছে নিজেকে, যাতে পুরাতন ভোটার লিষ্ট বাতিল না হয়। পাশাপাশি খানিকটা কোরামিন দেওয়া যায় তোলামূলের তোলাবাহিনী কর্মী ও ভাতাজীবী গুলোকে। এই কারনেই মিডিয়াজুড়ে শুধু মান্নীয়ারই জয়জয়কার, যেন দিগ্বিজয় করে ফিরেছেন, এমন মিথ্যাবলয় তৈরি করা হয়েছে তাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাসের অভাব ঢাকতে, কারন দেওয়াল লিখন স্পষ্ট।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটা BLO, তোলামূলের BLA দের দ্বারা সত্যি সত্যি বীভৎস চাপের মধ্যে ছিলেন। শেষমেষ ভাবটা এমন যে, আমি কেন ঝামেলা পোয়াবো, আমাকে তো এদের সঙ্গেই থাকতে হবে সারাবছর। এই ছোট্ট নীতিতে অবলম্বন করে যার নাম যে অবস্থায় এসেছে, সেই অবস্থাতেই BLO আপলোড করে দিয়েছিলো। যারা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে কাজ করেছে, তারাও i-Pac এর কড়া নজরদারিতে তোলামূলের ইচ্ছানুযায়ী এই ভুলগুলো করেছে, যাতে গতকাল আদালতের ওই কূনাট্য মঞ্চস্থ করা যায়।

শেষ ১ মাস যাবত ধরে হওয়া হেয়ারিং এ ডাক পাওয়া মানুষের জিজ্ঞাসাবাদ করাটাকে, রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশে সবার আগে তোলামূল ‘হয়রানি’র নাম দিয়েছে। বিজেপির নাম ইচ্ছা করে নেওয়া হলো না, তার কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বলে কোন রাজনৈতিক দলই নেই, তাদের অস্তিত্ব শুধুমাত্র টিভি, অন্যান্য মিডিয়া ও হাওয়াতে। তাদের ভোটব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হয় তোলামূল তথা i-Pac দ্বারা যারা নাগপুরের সংবিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। আপাতত i-Pac, এই SIR শুনানি পর্বে বিজেপিকে গণশত্রুতে পরিণত করে দিয়ে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল তা খানিকটা ঘোলাটে করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এপস্টিন ফাইলে নাম উঠে যাবার পরও যে নির্লজ্জ ব্যক্তি পদ আঁকড়ে বসে থাকে, তার পক্ষে গোটা দেশের কোন দুর্নীতি বিরুদ্ধে বলা সম্ভব নয়।

হেয়ারিং পর্বের শুরুতে BLO কেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার জন্য, একটি বড় অংশের BLO অথবা তাদের নিয়ন্ত্রক i-Pac পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে, ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার পরিবর্তে শুধুমাত্র ডকুমেন্ট ভেরিফাই বা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে লিখে দেয়- যা মেশিন কোনোমতেই মানেনি। ফলত পাইকারি হারে শুনানিতে ডাক পড়েছে।

শুনানি থেকে ফেরত আসা প্রতিটা ব্যক্তি বুঝে গেছে যে, ওখানে কোন জুজু বুড়ি নেই। যতটা ডকুমেন্ট নিয়ে গেছে বিশেষ করে মুসলমান, তাতে তার মনে অন্তত এইটুকু বিশ্বাস জন্মেছে যে তার নাগরিকত্ব যাবেনা। ৩০ লাখ আন-ম্যাপিং ব্যক্তির মধ্যে যাদের নাম থাকবে না, তারা নিজেরাই বুঝে গেছে। একদম রঘু ডাকাত মালগুলো, যারা সংখ্যাতে প্রায় তিন লাখ, তারা নিজে থেকে আসেনি। যারা চুরি করে ম্যাপিং করেছিলো, তাদের মধ্যেও একটা বড় অংশ যে নাম রাখতে পারবে না সেটাও বুঝে গেছে। ১৩টা ডকুমেন্টের বদলে যারা উল্টোপাল্টা ডকুমেন্টস জমা করেছে হেয়ারিং এ, তাদের নামও ফাইনাল তালিকাতে থাকবেনা, লিখে নিন। পদবীর বানান ভুল, মধ্যম নাম থাকা বা না থাকা, আধার-ভোটার নামের মিসম্যাচ ও পিতা-পুত্রের নামের মিসম্যাচ- এই ক্যাটাগরি কটা ছাড়া বাকি যাদের ডাকা হয়েছে তারাও বেশিরভাগ নাম রাখতে পারবে না। মিসম্যাচ ক্যাটাগরিতে যে ৮৫ লাখকে ডাকা হয়েছে, তাদেরও কমপক্ষে ১০% এর নাম কাটা যাবেই, সেখানেও বিরাট একটা জুয়াচুরি রয়েছে ভুয়ো ভোটারদের।

তোলামূল সরকারের পে-রোলে থাকা তথাকথিত ‘ল্যে-ম্যান’, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ কিম্বা ‘অরাজনৈতিক কিন্তু দিদিকে ভালো লাগে’- এমন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারেরা শুনানিতে ডাক পাওয়া মাত্র প্রথমে রাউন্ডে ফুটেজ খেয়ে নিতে কসুর করেনি। সমাজ তাকে মেনে নিক বা না নিক, তোলামূল/I-Pac থেকে আসা ভাতা বন্ধ হয়ে যাবার ভয় ছিলো রিলমারানীদের। অতএব সবার আগে নিজের হেয়ারিং ডকুমেন্ট এর ছবি সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে খানিকটা হেগে ফেলো, ভাইপোদাকে ট্যাগ করে। বাইচান্স মিনি সেলিব্রিটি হয়ে গেলে লাইভে এসে নিজের বংশের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করার জন্য মেসোপটেমিয়া হরপ্পা মহেঞ্জোদারো যুগ থেকে বক্তব্য শুরু করে, যতটা পারা যায় ততটা লম্বা হ্যাজ নামানো। শেষ একমাসে চুম্বকে এটাই ছিলো রিলমারানীদের রোজনামচা।

মানুষের নাগরিকত্ব বিশাল বড় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, অতএব নির্বাচনকে শিয়রে রেখে এখনই এই কাজ করতে হবে, যাতে গত সরকারের পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি এবং তা রূপায়ন নিয়ে কোন কিছু প্রশ্ন করা বা আলোচনার অবকাশ না থাকে জনগণের কাছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমনই একটা পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো, এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে আজ। পাতি বাংলাতে, SIR কে সামনে রেখে জনগণকে আতঙ্কিত করে অতীতের যাবতীয় অপকর্ম চাপা দেওয়া এবং সেই ফাঁকতালে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লি বিজেপি।

নির্বাচন তালিকা পরিষ্কার হোক এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি সত্যি কারের জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসুক- এই দাবি সবার আগে তুলেছে বামেরা এবং তাদের এই দাবির সাথে সহমত পোষন করেছে রাজ্যের বেশিরভাগ সুস্থ মানুষ। একই সাথে, SIR এর নামে জনগণের হয়রানি, মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম যারা আদালতের দারস্থ হয়েছিলো, সেই মুস্তারি বানু ও তার আইনজীবি সব্যসাচী চ্যাটার্জির রাজনৈতিক পরিচয় যে হার্ডকোর সিপিএম- সেটা জৈষ্ঠের সূর্যের মতই প্রকাশিত।

তারপরেও তোলামূলের সুরে সুর মিলিয়ে বামেরা এরকম মিনমিনে দিশেহারা পরিস্থিতিতে পড়েছে কেন, ভাবলে অবাক হচ্ছি। দোষটা যে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি, তাদের নিয়ন্ত্রক নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের শাসক তোলামূল, তাদের বুদ্ধিদাতা সংস্থা i-Pac এর। এদের পরিচালিত একটা বড় অংশের সাদা খাতার BLO, তোলামূলের BLA আর তাদের নিয়ন্ত্রিত ডেটা সেন্টার- এই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এই নৈরাজ্যের পরিস্থিতি, এটা পরিষ্কার করে মানুষের সামনে বলতে অসুবিধাটা কোথায়? আলিমুদ্দিন এমন ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ রিংটোনে কথা বললে, রাজ্যের সভ্য ভদ্র শিক্ষিত ও গরিব মুসলমান- এইরকম দুঃসহ অবস্থাতে তোলামূলকে ছেড়ে যাবে কোথায়?

গতকাল মান্নীয়ার কোর্টেরুম সার্কাসের পর আজকে আলিমুদ্দিন স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ করতে চেয়েছে যে- আসল মামলাকারী আমাদেরই পার্টির মোস্তারি বানু। উদ্দেশ্য মহৎ সন্দেহ নেই, কিন্তু আজকের এই সভাতে মোস্তারি বানুকে আনা যেতোনা, ফোন কলের বদলে? ওনার যে বাস্তব সমস্যা, সেটার ‘রাজনৈতিক এ্যানক্যাশ করার চেষ্টায় আরেকটু যত্নবাণ হওয়া যেতো না কি? মন্দের ভালো এটাই যে- ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পেরেছেন, এটাও কম অগ্রগতি নয়।

তোলামূলের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদি সিদ্ধান্তহীনতার নামে আলিমুদ্দিনের আঁধার ঘনিয়ে থাকে; তোলামুলের থেকে ভাগাখোর মিডিয়া যদি এক হুমায়ূন অস্ত্রেই গোটা বাম শিবিরকে পক্ষাঘাত করিয়ে রেখে দেয়, এর চেয়ে বড় অপদার্থতায় আর কিছু হতে পারেনা। আমাদের খেলাটা আমাদের নিয়মেই হবে তো, আমরাই প্লেয়ার বাছব, আমরাই শুরু আর শেষের বাঁশি বাজাবো। এখানে কী হচ্ছে? তোলামূল ও তাদের পেটোয়া মিডিয়া, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা হুমায়ূনের সাথে মিটিং নৈতিকতা প্রশ্নেই আলিমুদ্দিনকে আবার কাছিমের মত খোলসের মাঝে নিজেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে, এভাবে মানুষ ভরষা করে ভোট দেবে শুধু গাল ভরা ফাঁপা বুলি শুনে?

প্রতিবারের মত এবারও ‘ভয়’ নামের কুমিরছানাকে দেখিয়ে যদি তোলামূল ভোটের বৈতরণী পার করে যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হবে না।



বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সিভিক আইনজীবী


নাহ, তিনি মামলার বাদী পক্ষও নন, তিনি গিমিক নেত্রী। যিনি নিজের দলের উদভ্রান্তদের আরো বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে এই সার্কাস করলেন।

মিথ্যাবাদী মহিলার নাম তালিকাতে নেই, কারন তার ডিগ্রী জালি। এই কারনেই এই মহিলাকে- প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় বলতে না দিয়ে, সিনিয়র আইনজীবীদের দিয়ে সাওয়াল করাতে বলেছেন। সপাটে ভদ্র থাপ্পর একেই বলে।

মুরোদ থাকলে Mamata Banerjee ওনার আইন পাশ করার সার্টিফিকেট দেখাক সাংবাদিক সম্মেলন করে, আরেকটা ইষ্ট জর্জিয়াই সই। নতুবা এতো ঢাকঢোল বাজিয়ে কালো কোর্ট পরে 'রাজাবাবু' সেজে গেলেও, অফিসিয়াল তালিকাতে নাম নেই কেন তার জবাব দিক?

একটু পরে ভেটারেন ভাতাজীবী তথা 'গুরু' বুদ্ধিবীচি Saikat Bandyopadhyay বাজারে হ্যাজ নামিয়ে ব্যাখ্যা দেবেন, কীভাবে জাতির কোন বৃহত্তর স্বার্থে- ঘুগনি কন্যা এই তালিকাতে নিজের নাম রাখেননি। আর এই গোটা বিষয়ে CPM এর চক্রান্তের বিষয়টাও উনিই ব্যাখ্যা করে দেবেন।

সারদার জেলখাটা চোরটাও সন্ধ্যায় ঘেউ ঘেউ করতে আসবে, তাতে অবশ্য মিথ্যাবাদী মহিলার আইনের ডিগ্রি জন্মাবেনা। ঘেউবাবু খানিক স্বমস্বরে চেঁচিয়ে, পালটা রাশি রাশি খিস্তি হজম করে, ঠ্যাং তুলে হালকা মুতে আবার ছাই গাদায় শুয়ে পড়বেন, ওনার ওই টুকুই কাজ।

কোর্টে বাঁদরামো চলেনা। দিল্লিতে বিজেপি/নির্বা্চন কমিসনের পা ধরতে গিয়েছিলো, যাতে চুরিচামারি করে বানানো ২০২৫ এর ভোটারলিস্ট ধরেই ভোট করানো হয়, নতুবা তোলামূলের ঘটি উল্টে যাবে SIR পরবর্তী ভোটার লিষ্ট ধরে ভোট হলে।

উকিল হিসেবে নিজের নাম নথিভুক্ত না থাকলে ওকালতি করা যায় না। উনি বড়সড় একটা ঢপ মেরে হিরোইন হওয়ার চেষ্টা করেছেন। আসলে তিহারের ভয় টা মাথায় চেপে রয়েছে। তাই ওনার সাহস হয়নি প্রেস ক্লাব, যন্তর মন্তর এ সাংবাদিক বৈঠক করার। কোর্টের ভিতরে ওনার সব ঢপ বাজী ধরা পড়ে যেতেই, বঙ্গ ভবনে সামিয়ানা খাটিয়ে একটা এলেবেলে সাংবাদিক বৈঠক করে ধামাচাপা দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন।

স্পষ্ট কথাটা স্পষ্ট ভাবেই বলুননা, আপনিও। চটিচাঁটা মিডিয়া ওনাকে গ্লোরিফাই করবেই, এরপরেও। রুটিরুজির সাওয়াল তাদের, ওনার দয়াতেই তাদের পেট চলে। আপনার কোন ধান্দা রয়েছে, আপনি অন্তত স্পষ্ট করে বলুন গলা ছেড়ে?

আর আপনারা, বিপ্লবী বাম্বাচ্চা গুলো এই নিয়ে প্রশ্ন করছেনা কেন? এখানে আইনের কচকচি মারাচ্ছেন! যে মহিলা আইনজীবিই নয়, তার জন্য কিসের আইন~ সাওয়াল জবাবে!?

কাল যে কেউ কালো কোট পড়ে সুপ্রিম কোর্টের ওখানে বসা যায়? ইনি কীভাবে কোন ক্ষমতায় বসলেন সেখানে? আমারও শখ রয়েছে এভাবে বসার, আমি কী বসতে পারব মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট?


Board of Peace, কি ও কেন?


 

Board of Peace, কি ও কেন?

 

মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এই কাউন্সিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তথা আমেরিকার নিজস্ব ও একান্ত উদ্যোগে। বর্তমানে সদস্য হিসেবে ২৬টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই হলো যুদ্ধবাজ আমেরিকার ‘শান্তি কমিটি’ স্থাপনের ইতিবৃত্ত, এ যেন মমতা ব্যানার্জীর উদ্যোগে ‘চোর ও কাটমানিখোর মুক্ত রাষ্ট্র’- এমন নামের সংগঠন তৈরি হওয়া।

পেট্রোডলারের সমাপ্তি, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশের ডি-ডলারাইজেশন এবং BRICS এর উত্থান গোটা আমেরিকার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে, ডোলান্ড ট্রাম্প সেই আতঙ্ক সূচকের নমুনা মাত্র। ‘সুপার পাওয়ার’ শব্দটা বিষয়ে আমাদের সকলের সুপার ইলিউশন রয়েছে, এর অন্যতম কারণ আমেরিকার প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি। গত ৭৫ বছরে ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা, তাদের শুরু করা প্রতিটা যুদ্ধ, হয় শেষ হওয়ার আগেই পালিয়েছে আফগানিস্তানের মতো, কিম্বা গোহারা হেরে মুখ লুকিয়ে মজন্তালি সরকারের মতো হাত উঁচিয়ে বলেছে জিতেছি- উদাহরণ ভিয়েতনাম। এপস্টিন ফাইলস পশ্চিমা ক্ষমতাধর ও বিত্তশালীদের তথাকথিত মানবতা, নারী ক্ষমতায়ন আর গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানোকে প্রহসনে পরিণত করে, একটা মিথ্যুক বেহায়া ন্যাংটা হিসাবে উন্মোচিত করে দিয়েছে। ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীদের কলমে, এই ন্যাংটারা তাদের নিজেদের সুমহান উন্নত ও সভ্য হিসাবে দেখিয়ে এসেছে, আমরা সেটাকেই অমৃত ভেবে চেটেপুটে খেয়ে চলেছি।

তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম, ছোটবেলায় খুব শুনতাম বামপন্থীদের মুখে। সেই ভিয়েতনাম আজকে আর বামপথে নেই, যুদ্ধ পরবর্তী ভিয়েতনাম ‘Doi-Moi’ বা যাকে বাংলাতে বলে সংস্কার, অর্থাৎ অর্থনীতিকে মার্কিনীদের পায়ে সঁপে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে চলে গিয়েছিল, যেমন ভাবে নব্বই এর দশকের শুরুতে গর্বাচেভের রাশিয়া ‘পেরেস্ত্রেইকা’ লাগু করেছিল। সুতরাং, আজকের ভিয়েতনাম আসলে মার্কিনীদের পোষা কুত্তার বেশি কিছু নয়, ফলত ২০ তম দেশ হিসাবে তারা ট্রাম্পের এই ‘এঁটো-কাঁটা’ কমিটিতে থাকবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়! ভিয়েতনামে আবার শেষে ফিরছি।

বাকি ২৫ টা দেশ কারা!  চলুন ম্যাপ অনুযায়ী একটু বোঝার চেষ্টা করি, কারণ বিশ্ব মানচিত্রে তাদের অবস্থানের তাৎপর্যই এখানে একমাত্র বিচার্য। নতুবা গাজার শান্তি নিয়ে প্যারাগুয়ে, মঙ্গোলিয়া, এল-সালভাদর, বেলারুশ বা কসভোর মতো দেশের কাজ কী? আজ ২ বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল, এ বিষয়ে এদের কোনো বক্তব্য ছিল বলে কেউ জানে? এদের সকলের মাথা ঘামানো, অনেকটা ওই ২১শে জুলাই কোলকাতায় ডিম্ভাত খেতে যাওয়ার মতো। আপনার যাওয়া বা না যাওয়া, কোনো কিছুর উপরেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে কারা থাকবে সেটা নির্ভর করে না। আপনি না বলতে পারবেন কেন ১৯৯৩ সালে ২১শে জুলাই সমাবেশ হয়েছিল, না উদ্যোক্তারা জানেন আপনার উপস্থিতির কথা। কিন্তু পাড়ার বদ্দা যেহেতু ডেকেছে, তাই আপনি যান, তেমনই এই দেশগুলো কমিটিতে আছে। মিছিলের পিছন থেকে জিন্দাবাদ বলার লোক তো চাই, এছাড়া এদের ফুটো পয়সার গুরুত্ব নেই এই এঁটোকাঁটা কমিটিতে, এরা কখনও বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ ৩০০ বছরে নূন্যতম  গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। 

 

১) চীনের উত্তর মাথায় স্থলবেষ্টিত চীন ও রাশিয়ার মধ্যেকার একমাত্র বিভাজক রাষ্ট্র মঙ্গোলিয়া।

২) কাস্পিয়ান সাগরের পূর্ব পাড়ের দুটি পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র- কাজাকস্তান ও তারও দক্ষিণে থাকা উজবেকিস্তান। চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে মধ্য এরাই এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। 

৩) কৃষ্ণসাগর আর কাস্পিয়ান সাগর এর মধ্যবর্তী ককেশীয় রাষ্ট্র, পূর্বতন সোভিয়েতের আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। 

৪) কৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরের সংযোগস্থলের বসফরাস প্রণালী তথা ইস্তানবুল প্রণালী এবং মারমারা সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগের রাস্তা দার্দানেলিস প্রণালীর নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- তুরস্ক। 

৫) কৃষ্ণসাগরের পশ্চিম পাড়ে পূর্বতন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত ইস্ট ব্লকের বুলগেরিয়া। তারই পশ্চিমে সার্বিয়ার দক্ষিণ মাথার বিতর্কিত অঞ্চলে তৈরি কোসোভো, ম্যাপে তার নিচে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত থাকা রাষ্ট্র আলবেনিয়া ও ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দু হাঙ্গেরি। 

৬) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীর ও গাল্ফ অফ আরবের পূর্ব পাড়, লোহিত সাগরের পূর্ব দিকে এশিয়া প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- সৌদি আরব।

৭) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রক সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। 

৮) গাল্ফ অফ আরবের এর পূর্ব পাড়ের নিয়ন্ত্রক দুই রাষ্ট্রের অন্যতম জর্ডান।

৯) আতলান্তিকের উত্তর পাড় ও ভূমধ্যসাগরে দক্ষিণ মাথায় জিব্রাল্টার প্রণালীর অন্যতম নিয়ন্ত্রক আফ্রিকান রাষ্ট্র- মরক্কো। 

১০) ভারত, চীন ও ইরানের মাঝে আমেরিকান পরমাণু বোমার চৌকিদার, আরব সাগরের উত্তর পাড়ের রাষ্ট্র- পাকিস্তান। 

১১) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- ইন্দোনেশিয়া।

১২) দক্ষিণ আতলান্তিকের পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র প্যারাগুয়ে। মেক্সিকোর লেজের নিচে থাকা এল-সলভাদর। 

১৩) দক্ষিণ চীন সাগরের পূর্ব মাথায় চীনের গা থেকে শুরু করে গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড অবধি বিস্তৃত- ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের আরেক পড়শি কম্বোডিয়া।

১৪) রাশিয়া আর ইউক্রেনের পড়শি স্থলবেষ্টিত বেলারুশ। 

১৫) আর এদের সকলের সাথে রয়েছে গাজার উপরে এই গণহত্যার নায়ক ইজরায়েল স্বয়ং।

 

ট্রাম্পের দাবী অনুযায়ী এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- ফিলিস্তিনের গাজায় সংগঠিত গণহত্যার প্রেক্ষিতে ‘শান্তি ও পুনর্গঠন’। এখানে ফিলিস্তিন শব্দের কোনো উল্লেখ বা বক্তব্য কিছুই নেই। পাশাপাশি এটার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়াও হলো যে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গোলান উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে; তাই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বগুরুর দায়িত্ব কেবল- ইসরাইলের শরীরের মধ্যে এক টুকরো খাঁজের ভিতর কোনোমতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এক ফালি কেকের মতো টুকরো ভূখন্ডিতে। গাজার সাইজ জানেন? লম্বায় ব্যারাকপুর থেকে জোকা, চওড়াতে বড়বাজার থেকে সল্টলেক, ব্যাস এতটুকুই মাত্র। এই লোকগুলোকে গুম খুন করে হাপিস করে না ফেললে, পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার একমাত্র জায়গা হচ্ছে মিশর, সেই মিশর কিন্তু এই কমিটিতে নেই। সুতরাং, একথা লেখার কোনো যুক্তি নেই যে গাজার নামে এই কমিটি বানালেও, এর উদ্দেশ্য কোনোভাবেই গাজা অন্তত নয়।

The UN chief has told states that the organization is at risk of “imminent financial collapse,” citing unpaid fees and a budget rule that forces the global body to return unspent money- এটা গত ৩০শে জানুয়ারি Times of Israel এ প্রকাশিত সংবাদ, গুগুলে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ জাতিসঙ্ঘ নামের সাদা হাতিটার ডেথ সার্টিফিকেট লেখাই আপাতত বাকি রয়েছে। অবশ্য তার মুরোদই বা কী ছিল!  গাজায় ১১২ বিলিয়ন ডলার লগ্নি হবে গাজাকে ‘লাক্সারি’ ভাবে পুনঃনির্মান করতে, যার আর্ধেক ৬০ বিলিয়ন দেবে আমেরিকা, বাকিটা সদস্য দেশ ও নানান লগ্নিকারী সংস্থা বিনিয়োগ করবে। 

এর অফিসয়াল নাম ‘প্রোজেক্ট সানরাইজ’, যার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের জামাই- জেরার্ড কুশনার। এই ‘রি-বিল্ড’ সময়কালে গাজার মানুষগুলোকে কোথায় সরিয়ে রাখবে? জবাব দেওয়ার কেউ নেই। পরবর্তীতে এই ‘লাক্সারি’ আল্ট্রা হাইটেক গাজা অদৌ সেখানকার অধিবাসীরা ফিরে পাবে? নাকি জেরুজালেম থেকে মাত্র ৬০/৭০ কিমি দূরের সমুদ্র সৈকত বিশিষ্ট গাজাকে একটা জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন তথা বিজনেস হাব বানানো হবে? এক লক্ষ হাউজিং, ৭৫টা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২০০ আন্তর্জাতিক মানের ইস্কুল, ১৮০টা ধর্মস্থান এগুলো গাজার হাভাতে যুদ্ধ পীড়িতদের জন্য বানানো হচ্ছে? এসব অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর জাতিসঙ্ঘ দেয়নি, ট্রাম্পের এঁটোকাঁটা কমিটিও দেবে না, মাঝখান থেকে গাজার মানুষগুলোকে উচ্ছেদ করে স্থায়ী উদবাস্তু বানিয়ে দেওয়া হবে।  

ট্রাম্পের এই এঁটোকাঁটা কমিটি শুরুর আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ, বিগত ১০০ বছর ধরে আমেরিকার প্রমাণিত বন্ধু দলের কেউ নেই, যেমন সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ বা কানাডা। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি রীতিমতো লিখিতভাবে এই কমিটিতে না থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প ভারত ও চীনকে ডাকলেও, আজকের দিন অবধি সেই আমন্ত্রণকে দুই দেশের কেউ নূন্যতম গুরুত্ব দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছে, ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আরেক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। 

অবশ্য জাতিসংঘ নামের সাদা হাতিটা কী কারণে রয়েছে নিয়ে প্রশ্ন তোলা বারণ। আরব বসন্তের নামে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানে সরকার ফেলে দিলেও এরা চোখ বন্ধ করে থাকে। ইরাক ও লিবিয়া নামের পেট্রোলিয়াম সম্পদে ভরপুর দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তাদের দেউলিয়া ভিখারি বানিয়ে দেওয়া যায়। অনায়াসে সুদান ইয়েমেনকে কেটে দু’টুকরো করে দেওয়া যায়, সিরিয়ার শাসক উৎখাত করা যায়, নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ বা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও- গান্ধীজীর বাঁদরের মতো চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে থাকা যায়। আর্মেনিয়া, আজারবাইজান কিংবা লাওস, কম্বোডিয়া যুদ্ধ- যখন ইচ্ছা শুরু ও বন্ধ করা যায়। 

ভারত পাকিস্তান সংঘাতের ব্যাপারে যত কম বলা যায় ততই সময় বাঁচে। গুচ্ছের উদাহরণ টেনে আলোচনাটা বড় না করে বরং ঘরের পাশের বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ইচ্ছামতো সরকার ফেলা বা ইচ্ছামতো অন্য দেশের নাগরিক এনে মন্ত্রীসভা তৈরি করে পৃথিবীর অন্যতম চলমান অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দেওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা জাতিসঙ্ঘ এটাই করে এসেছে শুরু থেকে, যা আমেরিকারই তৈরি ছিল। আজকের এই বহুমেরু পৃথিবীতে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের দাদাগিরির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের সভাতে প্রতিবাদ হচ্ছে রোজই, তাই নিজের তৈরি সংস্থাকেই বাইপাস করে আবার একটা নতুন ফাঁদ পেতেছে এই নতুন এঁটোকাঁটা কমিটির মাধ্যমে। 

ঠিক এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ৬৭ টি যুদ্ধ বা সংঘাত বা উত্তেজনা চালু থাকার পরও, যে সংস্থার মুখে সেলোটেপ মারা থাকে, তার মরে যাওয়াই ভালো। সদস্যদের কার ভেটো পাওয়ার আছে, কার নেই, কী তার উদ্দেশ্য- সেসব নিয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ লোকের আজ আর মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ঘরে ঢুকে, তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনে নিজের কারাগারে বন্দি করে দিলেও, গুটিকয় রাষ্ট্র ছাড়া বাকি সবাই যখন চুপ থাকে, তখন জাতিসঙ্ঘ আসলে আন্তর্জাতিক প্রহসনের সার্কাস হয়ে যায়। 

আধিপত্য টিকিয়ে রাখার নেশায়, বিশ্বজোড়া মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে পরিমাপ করতে আর অর্থনীতির উপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টায় নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বাসনা জন্মায় বটে। এহেন পরিস্থিতিতে আরেকটি আধিপত্যবাদী সমান্তরাল সংস্থার জন্ম হবে, এমন চিন্তার মেঘ উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ে অনেক আগেই দানা বেঁধে ছিল; তাই এই পিস ফোরাম এর ভূমিষ্ঠ হওয়াটা মোটেই আশ্চর্য হওয়ার নয়। তবে অন্য সমস্যাও আছে, এই এঁটোকাঁটা কমিটির স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে নগদ ১০০ কোটি ডলার দিতে, এটাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ অবধি এই টাকা কতজন দেশ দেবে তা নিয়েও ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয় বিশ্বের মোট এলপিজি গ্যাসের তিন ভাগের একভাগ আর কাঁচা তেলের ৩৫ শতাংশ। প্রতিবছর ৯৪ হাজার জাহাজ চলাচল করে এই পথে। এশিয়ার সঙ্গে উত্তর আতলান্তিকের তীরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলির জলপথ বাণিজ্যের একমাত্র পথ সুয়েজ ক্যানেল। বসফরাস প্রণালী রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কৃষি ও জ্বালানি বাণিজ্যের ভূমধ্যসাগরীয় একমাত্র সংযোগ পথ। সুতরাং, সমস্যা এখানেই বাঁধাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র থাবা।

বোর্ড অফ পিস ব্লকে সই করা রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে, আসলে কম্পিয়ান সাগর, আরল সাগর, কৃষ্ণসাগর, মারমরা সাগর, সর্বোপরি ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ার সবদিক থেকে ভূমধ্যসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কের্চ প্রণালী, বসফরাস প্রণালী, দার্দানেলিস প্রণালী, পার্শিয়ান গাল্ফ, গাল্ফ অফ এডেন, লোহিত সাগর, গাল্ফ অফ আরব, জিব্রাল্টার প্রণালী, আরব সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড, পূর্ব থেকে পশ্চিমের বাণিজ্য পথে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী, সর্বপরি দক্ষিণ আতলান্তিক মহাসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার কুনাট্য মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। 

দৃষ্টি আরেকটু পরিষ্কার করলেই দেখা যাচ্ছে BRICS নতুন মুদ্রা চালু হবার আগে বা BRICS বাণিজ্য জোট সম্পন্ন হওয়ার আগেই বর্তমানে BRICS-এর মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশ গুলির মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে ধরিয়ে BRICS-এর উপর থাবা মারার প্রয়াসের অংশ এটা। BRICS এর ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশের তালিকায় চোখ বুলালে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত। শান্তি চুক্তি জোটের নামে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের বাণিজ্য পথের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

চলুন আরেকবার ভিয়েতনামে ফিরি, Đổi Mi নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে, ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়েও, মুক্ত বাজার অর্থনীতিকেই সমাধানের একমাত্র পথ হিসাবে আঁকড়ে ধরে। পদক্ষেপ হিসাবেঃ- 

 

১) অবাধ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি

২) প্রতিটি বেসরকারি উদ্যোগে নানান ধরণের কর ছাড়

৩) রপ্তানিমুখী শিল্পের উপরে জোর দেওয়া। 


একই সাথে বিদেশ নীতির ১৮০ ডিগ্রী পরিবর্তন করে যুদ্ধের ২০ বছরের মাথায় পুঁজিবাদী আমেরিকার জন্য রেড কার্পেট পেতে দেয় ভিয়েতনাম। US–Vietnam কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ফলে ASEAN অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বাড়তে থাকে।

ধীরে ধীরে US–Vietnam Trade Agreement আর ভিয়েতনামের WTO সদস্য পদ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে, ভিয়েতনাম গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসাবে আমেরিকান কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, চিপ অ্যাসেম্বলি ইউনিট চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়ে আসে। কৌশলগত সহযোগিতার নামে মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা শুরু হয়, ভিয়েতনামের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার, US Navy র ভিয়েতনাম বন্দরে প্রবেশ, একই সাথে South China Sea এ তেল, গ্যাস, মৎস্য নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের বিরোধও শুরু হয়। রিমোট কন্ট্রোলে কলকাঠি নেড়ে চীনকে রুখে দিতে ভিয়েতনামের মাধ্যমে মার্কিন প্রয়াস চালু হয়। সুতরাং, এই আমেরিকাপন্থী অবস্থানের কারণেই, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা নিতান্ত সম্পর্কহীন, গাজা শান্তি চুক্তির বোর্ড অফ পিসে সই করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে ভিয়েতনামকে। বাকি ২৫টা দেশের ব্যাপারেও এভাবে ধরে ধরে বিশ্লেষণ করাই যায়, তাতে লেখনি লম্বা হবে মাত্র।

সাম্প্রতিককালে ইরানের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক, গাদ্দাফি কন্যার একটি চিঠি প্রকাশিত হয়। সেখানে উনি খোলা চিঠিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, কীভাবে মার্কিন ফাঁদে পা দিয়ে তার বাবা লিবিয়ার মতো একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির সর্বনাশ ডেকে এনে, নিজের জীবন দিয়ে শেষে সর্বস্বান্ত লিবিয়াকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছিল। হয়তো আগামী দিনে ভিয়েতনাম বা অন্য দেশ থেকেও থেকেও এরকম কোন চিঠি প্রকাশিত হবে, তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যাবে। প্রবাদ বাক্যে ন্যাড়া বেলতলা দিয়ে একবার যায়, কিন্তু বাস্তবের ভিয়েতনামেরা বারবার যায়।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিত মুরুব্বি রাষ্ট্রসঙ্ঘ, পরমাণু শক্তিধর সামরিক জোট ন্যাটো, বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, মোল্লা রাজাদের মধ্যপ্রাচ্য ও খোদ ইসরাইল অবধি, আজ প্রত্যেকেই হাড়ে হাড়ে অনুভব করছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আসলে কী এবং তা কতটা নির্মম ও স্বার্থান্ধ হতে পারে।

বামপন্থীরা বহু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। নীতি ও আদর্শের সামান্য বিচ্যুতিকেও অনেক সময় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলেই হয়তো পৃথিবীর বুকে যে মাত্রার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য তারা বিস্তার করতে পারত, তা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, দূরদর্শী বামপন্থীরা যে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কুশলতার পরিচয় দিয়েছে, তা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে সময়ের অনেক আগেই সঠিকভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। এই বোধ ও সতর্কতা পৃথিবীর অন্য কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা মতাদর্শ সেই সময়ে দেখাতে পারেনি। বরং তারা ভুল সিদ্ধান্ত ও ভ্রান্ত মূল্যায়নের ফাঁদে পড়ে সময়ের স্রোতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে।

 

রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তৃনমূল মানেই RSS মানেই তৃনমূল

 


RSS কে হারাতে গেলে তোলামুলকে হারাতে হবে।

এদের মাঝে কোনো সেটিং নেই, না বিজেমূল বলে কিছু অস্তিত্ব রয়েছে মহাবিশ্বে। যা রয়েছে তা হলো দুটো আলাদা আলাদা শোরুম। নাগপুরের গোয়ালঘর থেকে দুটো দোকান দেওয়া আছে, হিন্দুত্ববাদীদের জন্য বিজেপি নামের আউটলেট আর দুধেলগাই দের জন্য তোলামুল।

2019 সালে এই প্রত্যেকটি শব্দ বলেছি, বারেবারে বলে গেছি, আজ 2026 সাল। শুধু এই একটি বাক্যের উপর দাঁড়িয়ে দুধেলগাই মুসলমান ও সিপিএম সার্কেলে আমার বহু পরিচিতরা আমার সংসর্গ ত্যাগ করেছে, কাউকে আমি তাড়িয়েছি বিরক্ত হয়ে। প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেছি, অধিকাংশ পার্টি কর্মী সমর্থকদের সাথে ভক্তদের ফারাক অতি সামান্য- পার্টি ক্লাসের সময় সাদা কাগজটাকে কালো আর কালো কাগজটাকে সাদা বলে মগজের মধ্যে ঢোকানো হয়েছে। তাই চোখে যা খুশি দেখুক, ট্রেনিং এর জ্ঞানকে একমাত্র সত্য বিবেচনার দরুন, ওরা কোন অবস্থায় বাস্তবকে স্বীকার করতে পারবে না, যতক্ষণনা মৃত্যু আসছে কিম্বা উপর তলার কোনো ‘নেতা/নেত্রী’ এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

আজ শতরূপ স্পষ্ট ও পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে, RSS এর নেত্রী মমতা। বিজেপি আর তৃনমূল, এই ধরণের আলাদা করার কিচ্ছু নেই, যে ই থাক, সরকার RSS ই চালাবে। আশাকরি বিপ্লবী বন্ধুদের দল, যারা শেষ ১ দশক ধরে কল্পিত বিজেমূল আর সেটিং শব্দে গলায় রক্ত তুলে ফেলে ছিলেন, এবারে কিছুদিন বিশ্রাম নিন না হয়! কী বলেন! তোলামূলকে তাড়াতে আপনাকেও যে দরকার, তাই আপনার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা অতি জরুরী। মোদ্দা কথা, RSS কে তাড়াতে গেলে আগে তোলামুলকে তাড়াতে হবে।
ঠিকাছে?

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...