বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯

মেঘের ফেরিওয়ালা



মেঘের ফেরিওয়ালা

মেঘ নেবে মেঘ? এই গ্রীষ্মে ঠান্ডা শীতল ছায়া দেবে যে মেঘ, গৃহপালিত একরত্তি মেঘ। এর শুধু আদর চাই, অনেক অনেক আদর। আদরের এই কাঙালের চাই ভেজা আদর, গোপন সোগাহে মাখা সেই অনাবৃত আদর যা সারা গায়ে পুরোটা মেখে নেবে লোলুপ মেঘ। এই সোহাগের আস্কারাতেই ফুরফুরে হয়ে ভেসে বেড়াবে সে, তোমার আকাশ জুড়ে। যে আকাশে তোমার সুপ্ত কামনার নীলরং ছড়ানো, তোমার ব্যাক্তিত্বের লাল দ্বীপ্তি ছড়ানো সূর্যের সামনে নির্দ্বিধায় ভেসে বেড়াবে এই মেঘ, তোমারই প্রেষণে। যদি কখনো তোমার মনে হতাশার শূন্যস্থান বাসা বাঁধে, মেঘকে বোলো; সে নিন্মচাপের ঘূর্ণি দিয়ে উড়িয়ে নেবে সকল হতাশা। 

ভিনদেশ থেকে বয়ে আনা টাটকা বাতাস ভরে দেবে প্রানে, যা শীতলতার স্বাদ দেবে। এই শীতলতা মৃত্যুর মত শীতল নয়, আমার এই মেঘ মৃত্যুকে উপেক্ষা করেনা বরং তাচ্ছিল্য করে। “মৃত্যু তুমি সত্য বলে আমি মেঘ দমে যাব কেন! আমিও বাঁচব পুরোটা জীবন আত্মভূত করে- যাতে আমার দয়িত, স্বচ্ছন্দের আশ্রয় পাবে”- এটাই মন্ত্র মেঘে’টির। ক্লান্ত রাত্রে মেঘের বিছানাতে গা এলিয়ে যদি কখনো মনের কথা শোনাও তাকে, যেটা তোমার ভীষণ গোপন- জেনো মেঘে চুলে বিলি কেটে দেবে পরম মমত্বে; যাতে তুমি প্রবোধ শান্তিতে ঘুমাতে পারো, সকল কিছু ভুলে। জানো, সেই হাওয়ার চাদরের সাথে মেঘের খুবই মিতালী; যে চাদরে অজানা বুনো ফুলের সুগন্ধ মাখা, অজস্র তারার ফুলকারি নক্সা চাদরের আঁচল জুড়ে। 

এই চাদরে একটিবার নিজেকে মুড়ে নিলেই, সেই রামধুনু মাখা স্বপ্নের রাজ্যে যাবার ছাড়পত্র মেলে অনায়াসে। মেঘের পিঠে চড়েই যেখানে যাওয়া যায়; যেখানে গোলাপি হলুদ পাখিরা পরী’দের গান শোনায়, সেই পরীরা যাদের রূপের চ্ছটায় চাঁদে জ্যোৎস্না লাগে। ঐ পরীদের বিষাদে অমানিশাতে ডেকে উঠে কর্কশ রাতচড়া খেচরেরা। আচ্ছা তোমার কি বিষাদও আছে? থাকলে মেঘকেই বলে দিও, সে সবকিছু শুষে নেবে যাবতীয় কালিমা; তারপর হাউহাউ গর্জনে কেঁদে ঝরে পড়বে। 

যদি ক্রোধ থাকে সেটাও তাকেই বোলো, বিদ্যুতের ঝলকানি রূপে আছড়ে ফেলবে কোনো অজানা প্রান্তরের কোনো সুউচ্চ তরুদ্রুমে, অতঃপর সেই ভীষণ ক্রোধ জ্বলিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে যাবতীয় অশুভ। বড় গুণের কারুশিল্পী এ মেঘ জানো! সবই আছে জানো এ মেঘের, শুধু মানবীয় অনুভূতিটুকু নেই। খুনসুটিতে পারমীর নয় এ মেঘ, না পারে অনুরাগ আসঙ্গ দিতে। শুধু নেয়-

আচ্ছা আমি যদি মেঘ হই! আমিতো তোমার মতই সত্তা, আমাকে গ্রহণ করবে প্রিয়!

খেয়ালপত্র



খেয়ালপত্র

আতু তোমারে-

সেদিন বিষ্যুধবার বারবেলা, আকাশ জুড়ে চোখধাঁধানো রঙধনুরই মেলা। পেঁজা তুলো বারিদবরণে গোটা নীলাকাশ ছাওয়া, গুণগুণ সুরে তোমারে দেখিয়া হঠাৎ দুকলি গাওয়া। অনেক দিনের জমানো ব্যাথা হৃদিমাঝে অভিঘাত, শুষ্ক আঁখি শুকায়ে রুধির হারায়েছে যেন খাত।

প্রতীক্ষা আতু.... প্রতীক্ষা... আজও, অনাদি অনন্ত; সেদিন কি আর জানতেম আমি, স্থগনেতে এলি পান্থ।

আসিয়া দাঁড়ালে ভীরু ভীরু চাহি কম্পিত তনুকায়া, আলতা রাঙানো মুখেতে সহষা তমসা ঘনের ছায়া। চন্দ্র ললাটে স্বেদবিন্দু, শাসনের ভ্রূকুটি; মনের অতলে প্রেমঅধিকার, দ্বন্দ্ব উঠিছে ফুটি। আলতো করিয়া ঠোঁটের স্পর্শ, অতল জলের আহ্বান, ভরাট সমাজে লোকলাজ সব টুটিয়া খানখান। জড়তা মাখানো কন্ঠে তখন সোহাগের আখ্যান, এমনই দিবসে ছ-সন পূর্বে মিলিছিল দুই প্রাণ। কালের নিয়মে নিয়তির কোপে- ঘেরে বিচ্ছেদ সুর, স্বদেশ ছাড়ায়ে আপনা ভুলিতে পাড়ি দেওয়া বহুদূর। চিরঋণী করে কিভাবে নাজানি রহিয়াছো ধীরলয়ে, এতদিনে কি একটিবারও যায়নি চিত্ত বয়ে? আমাপানে!

কখনও যদি ভালোবাসা পায়, জেনে রেখো আমি আছি; উন্মাদ মাঝি- প্রেমের নোঙর, স্বপ্ন ডিঙার কাছি।

বেহায়ার মত জিতিয়াই গেলে, আমিও হারিনি নিত্য; তোমার বিজয়ে আমারও কুলায়, জেনো এ চির সত্য। অনুরক্তির চাদরে মুড়িয়া রাখিছিলে তুমি সদা, বাদল দিনের নির্জনতায় তুমিই প্রিয়ম্বদা। বন্ধু হইয়া আসিছিলে, সাজায়ে গেছো জীবন; ঠোঁটের কোনের লাজুক হাসি, স্বপ্নে সারাক্ষণ। বুকফাটানো আর্তনাদে কাঁদিতে চাই যে খুব, লক্ষ সংস্রবের ভিড়ে, তোমাতেই দেব ডুব। দূর আকাশে তোমার ডানায় ভাসব দেশান্তরে, তোমার রাজপুত্র হব পক্ষিরাজে চড়ে। আমার সকল কবিতাতে ছন্দ হয়ো তুমি; বৃষ্টি হয়ে ঝরার ছলে, আমায় যেও চুমি।

মনের অবচেতন জুড়িয়া ‘তুই’ ই যত্রতত্র; লুকায়ে খোঁজা সত্তা’রে মোর, তাইতো রচি পত্র।

~ইতি

-তোমার প্রেম

।অবসর বাটিকা, দেওঘর। ২৮শে বৈশাখ ১৪২৫ সন। অপ্রকাশিত 'হা-ঘরে' কাব্যগ্রন্থ হইতে। ২৩৫ শব্দ।

রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯

অকপটে সাহিত্য বাসর

 


"কস্য ফেসবুক পরগণাস্থিত গ্রুপ এস্টেটের রায়তস্থিতিবান অকপট তফসিলস্থ সাহিত্য বাসরং পত্রমিদং কার্যাঞ্চাগে মিদং"

সোপর্দ হইতেছে যে, কলমচি বাবুদের তরফে ছাত্রিক জীবনসম্বন্ধীয় রচনার স্মৃতিচারণ দলিল- খতিয়ানের উপযুক্ত দাগ, মৌজা উল্লেখ সহ অকপটস্থ কাছারির শামিয়ানাতে নায়েবদের নিকটে প্রেরণ করুন। রায়তলেখক গোষ্ঠীকুলশীলদের মধ্য হইতে তালুকদার, জায়গীরদার, জমিদার, ভূইঞা সহ সকল শ্রেনীর লেখকদের আহ্বান করা হইতেছে।

যেথা উপাখ্যানের পর্চাখানি রায়তবান কতৃক সর্বসমক্ষে উল্লেখিত হইবেনা, লিপিকার সরাসরি অকপটের খাজাঞ্চী মহাশয়ের নিকটে উহা তার মারফৎ প্রেরণ করিবেন। অকপট মুন্সি ও জমাদারেরা প্রত্যহ সান্ধ্যকালীন নির্দিষ্ট সময়ে একটি একটি করিয়া অকপটুদের সম্মুক্ষে অনাবৃত করিবে, মাসাধিকাল যাবৎ।

দপ্তরীবর্গ যদি কোনো প্রকারের দেওয়ানী বা ফৌজদারি অপরাধমূলক গতিবিধির প্রামাণ্য সংবাদ পান লস্করদের হইতে, সেক্ষেত্রে কোটাল কাছারির চৌকিতে সালিশি মাধ্যমে পরিস্থিতির পক্ষে/বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

অকপটুদের মধ্যিহতে মগ, ফিরিঙ্গি বা বর্গি হানাদারদের ন্যায় হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে, সেই ষড়যন্ত্রও কড়াহস্তে দমন করা হইবে। অকপটের নিজস্ব পাইক বরকন্দাজ সদা সতর্ক।
শ্রেষ্ঠ তিন কলমচাষাকে পুস্তক পরিতোষিক দিয়া সম্মান প্রদর্শন করার ব্যবস্থাপনাও রইয়াছে।

অতএব স্মৃতির কুলুঙ্গি ঘ্যাঁটিয়া, তোরঙ্গ তছনছ করিয়া, আপনি পরিবেশন শুরু করিয়া দিন।
বুভুক্ষু পাঠককুল আবেগের খঞ্চা, প্রশংসার নৌকা, সমালোচনার ডেকচি লইয়া প্রস্তুত রহিয়াছে।

মুসাবিদাঃ হকসাহেব

বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯

কিছু এলোমেলো ভাবনা



মনে আসা কথা গুলোকে জাষ্ট টুকে দিলাম

তৃণমূল রাস্তায়।
তৃণমূলী বিজেপি মুখী
বিজেপি রাস্তায়।
অত্যাচারী তৃণমূলকে উচিৎ শিক্ষা দিতে।
বিজেপি সরকারের প্রস্তুতিতে।

বামেরা এলিট
বামেরা ফেসবুকে
বামেরা খোরাক খুঁজছে
রোজ নতুন খোরাক চাই
মিমি-নুসরৎ কি পোষাক পরল!
মমতা ব্যানার্জী কি ইংরাজি ভুল বলল!
দিলীপ ঘোষ কোন বর্ণপরিচয় পড়ে!
মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যোতা কি!
বামেরা এই সকল গভীর বিপর্যয় নিয়ে ব্যাস্ত।

দেরিদা, ফুকো, চমস্কি, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, কানহাইয়া নিয়ে রঙিন স্বপ্নে বুঁদ, ক্ষমতা কি জিনিস? ২০১১ থেকেই নেই তে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া একটা দল। পার্টি কর্মীরা "হারলেও লাল জিতলেও লাল" তাত্ত্বিক বাম আতেঁলরা- 'বামপন্থার মৃত্যু হয়না' অতিবাম- 'বাম রাজনীতির লক্ষ্য ভোটে জেতা নয়, পথের লড়াই' তিন শ্রেনীই শেষ শ্রেনীকে অনুসরণ করে পার্টিকে পথে নামিয়ে এনেছে। ভোট বাক্স খুলে সব রাম। ঠান্ডা ঘড়ে বসে নেতারা পরবর্তী পলিটব্যুরোর প্রতীক্ষায়।

বামেরা এলিট, বামেরা ফেসবুকে।

মমতা বাংলা সমাজকে ছোট ছোট টুকরো করেছিল। অমুক পরিষদ, তমুক বোর্ড, কুর্মি উন্নয়ন, তামাং গোর্খা সবার আলাদা করে খাওয়ার কল। বিজেপি হিন্দুত্বের সংজ্ঞা দিয়ে বাংলাকে আবার জুড়ে দিয়েছে।

মুসলমান তোষন করেছে সংবাদে, মাদ্রাসা বোর্ডে নিয়োগ নেই সরকারি চাকরি ২%তে নেমেছে। ভোটের বলি যা হয় তার সিংহভাগ মানুষ মুসলমান সম্প্রদায়ের। মুসলমান লেঠেল। ভোটলুঠের ভাড়াটে সৈনিক।

রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, পঞ্চায়েত স্তরে রাজনীতি করলে ১০০ দিনের কাজ সহ নানান সরকারি প্রকল্প থেকে তোলার ভেগ আসবে। তাও সবাই তৃণমূল। যারা সুযোগ পাইনি তারা বিরোধী। আদর্শ? প্রাথমিকে আদর্শলিপি অচল। মমতা দরজা বন্ধ রেখে বেড়াল মারতে গেছিল, মনিরুল বিজেপিতে, বেড়ালের জন্য জানালা খোলা রেখেছে বিজেপি, ব্যাক্তি মনিরুলকে দরকার নেই বিজেপির, MLA পদটা দরকার। এই মুকুলই আবু আয়েশকে দিলে নিয়েছিল MP থাকা কালীন .আজ আবু আয়েশ হারিয়ে গেছে, মনিরুলও হারাবে, লাভপুরে বিজেপির ফুল পোঁতা হয়ে গেল।

আবেগ দিয়ে ভোটে জেতা যায়, সরকার গড়তে সংখ্যা লাগে। বিজেপি বেনিয়ার দল। ভোটে জেতা হয়ে গেছে, পাটিগনিত মেলাতে মনিরুল চাই। নতুবা গোয়া, বা মনিপুর বা মেঘালয়ের মত সরকার গঠন কিভাবে হবে?

বিজেপি ভয়ানক লিবারাল, যারা মনিরুলকে নিয়ে বা অন্য তৃণমূলী উচ্ছিট্ট নিয়ে উন্নাসিকতা দেখাচ্ছেন, তাদের জন্য -আসাম, ত্রিপুরা, সাবেক রাজস্থান, ঝাড়খন্ডের ইতিহাস ঘ্যেটে দেখে নিন। কারা আদি বিজেপি। এই বিজেপিই গোয়াতে বা উত্তরপূর্বে গোমাংস খায়, গোবলয়ে পিটিয়ে মারে গো-পরিবহনের দোষে। এই বিজেপিতে মনিরুল এক্কেবারে যোগ্য ব্যাক্তি, আরাবুল, কাইজার, অনুব্রতও। বিশুদ্ধবাদীরা ইসবগুলের ভুষি খেয়ে আদর্শ হেগে আসুন।

কর্মীরা দিনের পর দিন মার খেয়েছে, পার্টি নেতৃত্ব ব্যাস্ত বাৎসরিক পার্টি কংগ্রেস বা পলিটব্যুরোর প্রস্তুতিতে। পার্টি কর্মী ঘরছাড়া, নেতৃত্ব ব্রিগেডের ডাক দেয়। বাজার করব ঘরের দোরে, প্রেম করব অনেক দূরে। পার্টি কর্মিরা লাল ঝান্ডাকে ভালবাসে, প্রেম করে পার্টিকে। তাই বহুদুরে এসে ব্রিগেড ভরিয়ে তোলে, কিন্তু গ্রামে বেঁচে থাকার সাওয়াল, ভোটটা তাই তাকে দেয়- যে তৃণমূলকে পালটা মারতে পারবে। পার্টি দায়িত্ব নিয়ে মমি বানিয়ে দিচ্ছে। এই তেনৃত্ব আর টেনেটুনে বছর দশেক থাকলে, কলকাতা জাদুঘরের কপাল খুলবে। ইতিহাস হয়ে যাওয়া বামপন্থা ১০-২০ টাকার বিনিময়ে চাক্ষুষ করার সুযোগ পাবে মানুষ।

গোটা রাজ্যটা পচে গেছে। সেই পাঁকে পদ্মই ফুটবে। বাজারে জোর গুঞ্জন, তৃণমূলের লাশ তিনমাস টিকলে হয়। তৃণমূলে মমতার পরের নেতার নাম কি? নেই। হোৎকা পার্থ নিজেই একটা বোঝা। বাকিগুলোকে দেখলে ভাদ্রমাসের পুরুষ কুকুর বলে মনে হয়। টাকা টাকা টাকা করে ছুটছে। ফ্যাসিজমে অবশ্য এগুলোই স্বাভাবিক।

পশ্চিমবঙ্গ। এখানে নেতারা প্রকাশ্য ক্যামেরাতে দেখা গেছে ঘুষ নিতে। এরাই ভোটে জিতেছে। বাংলাতে নেতা নেই এই মুহুর্তে। কার জনভিত্তি আছে? দক্ষিণ কোলকাতার ৭ টা বিধানসভার বাইরে মমতা কাওকে নেতা করেনি, অরূপ, ববি, শোভন পাড়ার নেতা। কাউন্সিলার। ওরাই তৃণমূলের সব। তৃণমূলের মুসলমান নেতা নেই। সুলতান আহমেদ মৃত, দালাল সিদ্দিকুল্লা শেষ বয়সে তোলা তোলার সুযোগ পেয়েছে ফালতু রাজনীতি করতে গিয়ে রোজগার হাতছাড়া করবে কেন? জাভেদ খানকে সহ প্রতিটি মুসলমান নেতাকে মমতা ব্যানার্জী নির্দিষ্ট একটা গন্ডিতে বেঁধে রেখেছে। বাড়তে দিইনি।

বিজেপি একাই সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক করেনা। তৃণমূল বিজেপির চেয়েও বড় সাম্প্রদায়িক,  আরো বড় ক্ষতিকর। মুসলমানদের উচ্ছিষ্ট ভোজী করে দিয়েছে। মুসলমানেরা ভয়ে বিজেপিকে ভোট দিইনি এই ভোটে। এখন পাশের প্রতিটি আড়াই জনে একজন বিজেপি, অভ্যস্ত হচ্ছে, আগামীতে ভোটও দেবে।

অথর্ব বামেদের আদর্শ সম্ভবত জগন্নাথ দেব, ড্যাবড্যাব করে দেখছে, হাতপা নড়ছেনা। মুখে কথা নেই, ৭% যা আছে তাও থাকবেনা। নবীন প্রজন্ম এমনিতেই কম, তাত্ত্বিক বুলি মুটে মজদুরেরা বুঝছেনা, নেতারাও।

পাহাড় হাসছে, জঙ্গল হাসছে।
কারন তারা তৃণমূল মুক্ত।

তৃণমূলের মুকুল ফুটে জোড়া ফুল হয়নি
পদ্ম হয়ে ফুটেছে
বুলবুলি ধান খেয়েছে কিনা জানিনা
বাংলায় বর্গি এসেছে
কৈলাশ বিজয় বর্গি
বাংলার শিশুরা আজকে আর ভয় পায়না।
খাজনা দিতেই হবে।

শারদ পাওয়ার, মল্লিকার্জুন খার্গে, গেগং আপাং, জয়ন্ত চৌধুরী, অজিত সং, শত্রুঘ্ণ সিনহা, শারদ যাদব, লালুর ছেলে তেজশ্বী যাদব, এরা সকলে মমতার ব্রিগেডের মঞ্চে ছিল। সবাই ভোগে গেছে, অস্তিত্বের সঙ্কটে প্রত্যেকে। তবে চন্দ্রবাবু নাইডু বা কাজরীওয়ালের মত এভাবে পথে বসে যায়নি কেউ। কি অপয়া বিষাক্ত মানুষ- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আশার কথা- মুখ্যমন্ত্রী মমতার পদত্যাগ গ্রহন করেনি দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জী। ব্যাক্তি মমতার পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা, ইতিহাস এটাই বলছে।

অতঃএব তৃণমূল ছবি।

মমতা দল যাদের দিয়ে করিয়েছে তাদের ক্ষমতা দিইনি
MLA, MP করেছিল অভিনেতা, কবি, বুদ্ধীজীবীদের
তারা আজ পালাবে। অর্পিতা ঘোষ, বীরবাহা সোরেন, মহুয়া মৈত্রদের সংগঠনে এনেছে। বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ।
মাটির সাথে যারা ছিল তাদের মামলা দিয়েছে ক্ষমতাবান তৃণমূল গোষ্ঠী।
আরাবুল, কেষ্টা, রবীন্দ্রনাথ, শুভেন্দুও তৃণমূলে গেলে আশ্চর্য যবেনা বাংলা।
আগামীকাল ভোট হলে তৃণমূল ১ টা আসনও পাবেনা।
এটা রুখতেই মমতা পথে।

জার্সি বদলের খেলা চলবে, রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। সূর্য মধ্যগগনে যেমন সত্যি, সূর্য অস্তাচলের যাবে এটাও ধ্রুব সত্য। ৩ মাস আগেও মমতা ব্যানার্জী অপরাজেয় ছিল, আজ ওনার মত নির্ঘুম রাত আর কেউ কাটাচ্ছে কি?

তাই বিজেপি নিয়েও খুব বেশি ভেবে কি লাভ? এসেছে। বাংলাতে আরো আসুক। বিজেপির উপরে ভরষা করে যদি আদানী আম্বানী টাটা বিড়লারা কিছু লগ্নি করে শিল্প করে, তাতে বাংলারই লাভ। বাকি যেমন এসেছে, তেমনই চলে যাবে যদি অত্যাচারী হয়। বিজেপি RSS মুসলমান তাড়াবেনা, পুষে রেখে দেবে। ক্ষমিতায় ফিরতে ৮৩% সংখ্যাগুরুকে (সমস্ত অমুসলিম হিন্দু ধরে) ১৭% জুজু দেখিয়ে ভোট করিয়ে নেওয়ার এত বড় হাতিয়ার কোথায় পাবে? ওই বছরে ২-১০ টা কে পিটিয়ে পুড়িয়ে মারবে ভয় পাওয়াবার জন্য। এভাবেই বাঁচবে সংখ্যালঘু। দলিতেরা মানুষ হলে তাদের কথা লিখতাম।

রাজ্যেঃ চাকরি দিইনি, বেতন বেড়েনি, শিল্পে শ্মশান, কৃষিতে মান্ডি সিস্টেমে তৃণমূলের নেতাদের রোজগার যোজোনা। হাসপাতাল বিল্ডিং সর্বস্ব, সরকার চলেছে তৃনমূলের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে। পুলিশি তোলা, পুলিশি অত্যাচার দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ। ঝাড়খন্ড পেড়িয়ে বাংলা ঢুকেছি বোঝা যায় - পুলিশ যখন হাত বাড়িয়ে ড্রাইভারদের কাছে টাকা চায়। আইনশৃঙ্খলা ভগবান ভরষা, তৃণমূল রাজনৈতিক দল ছিলনা, চোর বাটপারেরা সংগঠিত হয়েছিল। ইতিহাসে এভাবেই মূল্যায়ন হবে নিশ্চিত।  সারদা নারদার পাপ ধুলেও যাবেনা, চাপ চাপ কান্না আর মৃতমানুষের লাশে জড়িয়ে আছে দল তৃণমূল। ভাইপোকে রাজা বানাতে গিয়ে, নিজেকে প্রধানমন্ত্রী করার স্বপ্নে ৬৫ বছরের বৃদ্ধা ভোটের সময় একাই গোটা বাংলা দাপিয়ে বেড়িয়েছে। মঞ্চে ৫০০ সভাসদ কাঠপুতলের মত বসে, দুঁদে আমলা সহ, তিনি ক্রুদ্ধ সার্কাসের সিংহের মত মঞ্চ জুড়ে ছটপটিয়ে গেছিলেন। আজ দিশেহারা ২২ টা সিট পেয়েও। শুধু একা মমতা জিতে যে ক্ষমতা ছিল আজ ২২শে সেই ক্ষমতা নেই।

আজকের দিনে যার কিছু হয়না, যে সকল ধরনের কাজের অযোগ্য, সে সাংবাদিক হয়। সেই সাংবাদিকের চোখে মমতা পৃথিবী দেখেছে। আমরা শুনছি গুজরাতেও মুসলমানেরা বেঁচে আছে বহাল তবিয়তে,  উত্তরপ্রদেশেই শাহারানপুর। তাই বাংলাতে ৩০% মুসলমান 'ভালই' থাকবে। এখানে দলিত কনসেপ্ট নেই, সৌজন্যে সেই বাম- যারা আজ ভাবনাতে জড়ভরত। আক্ষেপ- পার্টিটাকে কখনও ছাড়তে পারবনা এমন রামপাঁঠা আমি। আমার মত এমন অনেক আছে, আমাদের পাঁঠার দল।

বামেরা পলিট 'বুড়ো'
বুড়ো ঘোড়া দৌড়ায়না

ল্যান্ডফোন জামানার বিমান বাবুকে অযোগ্য বলা যাবেনা, সূর্যবাবু অস্ত গেছেন বললে পারলে ধোপানাপিত বন্ধ করে দেবে এক শ্রেনীর পার্টির ধামাধরার দল।
পার্টির কিছু হোলটাইমারেরা আপনাকে বিজেপি বা তৃণমূল বলে দেগে দেবে।
পৃথিবীর সব দলে বিপর্যয় এলে, দায় নিয়ে পদ ছেড়ে দেয়। বাম নেতৃত্ব এক্কেবারে দেহ ত্যাগ করে।

মমতা আজ অসহায়, সে একা। কাওকে বিশ্বাস করার জাইগা নেই। মমতা বিগত ৮ বছর জনবিচ্ছিন্ন, আমলা আর পুলিশ দিয়ে সরকার ও দল চালিয়েছে।

মমতা প্রাক্তন কংগ্রেসী, নরম হিন্দুত্বের পথই ভরষা। এটাই সুযোগ ছিল পথে নামার। বামেরা আরো অসহায়। বৃদ্ধাশ্রমের আশক্তদের মত আলিমুদ্দিন স্ট্রীট ধুঁকছে। জোয়ান মদ্দ ছেলে শুধু মহিলাদেরই পছং নয়-
ভাবনার ঘরেও কোলেস্টেরল,  বুকে জমা সবুজ কফ।
ভাবতে গেলে কাশি উঠে, তাই ডান কাতে কর্মীরা।
পথে প্রচুর রোদ, আপাতত বিশ্রামে।
কিভাবে কবে কখন কাদের নিয়ে আবার লড়াই শুরু?
বামেদের-
যেই ভাবনা টুকু ভাবার শক্তি নেই।

শূণ্য পাইয়া প্রমান করিল, তাহারা শূণ্য পাইবার যোগ্য।

মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯

রাষ্ট্র


 
রাষ্ট্র

প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র- কেমন আছো! শুভেচ্ছা নিও তুমি;
তোমার বুকেতে লালন করেছো, প্রণমী জন্মভূমি।
শিক্ষা দিয়েছো, দীক্ষা দিয়েছো, মান-বোধ-জ্ঞান-উন্মেষ;
তবু আজ দেখো তোমার শরীরে, ঘৃণা- জিঘাংসা- দ্বেষ।
কখনও নিজেকে শুধায়েছো! কীভাবে হল এমন
গণতন্ত্রে প্রশ্নরা আজ লুকাচ্ছে প্রাণপণ।
তোমার নেতারা পরিবৃত্ত, উমেদার চাটুকারে
মিথ্যা শকট সবেগেতে ধায়, কে আজ রুখিবে তারে!
রাষ্ট্র মানে কী? জনগণ! নাকি রাষ্ট্র-নেতার খেয়াল!
কায়েমি স্বার্থ চরিতার্থ, ভাবনার মাঝে দেওয়াল।
রাষ্ট্র তুমি পালনকর্তা, ইতিহাসে দায় তোমার;
আজ যে চালক, কাল সে হারাবে- করে দিয়ে ছারখার।
আজানে-ভজনে কলতান উঠে, ঐক্যের সুর বাতাসে-
জাতি বিদ্বেষী শ্বাপদের দল, আড়ালেতে কুট হাসে।
রোজগার নেই যুবক সমাজ, মাথা কুটে মরে ঘরে-
রাষ্ট্র মত্ত মিথ্যা প্রলাপে, অকালে মুকুল ঝরে।
প্রথমে নিলে মায়ের পয়সা, কোষাগার লোটে বণিকে;
দরিদ্রকে ভিখারি করেছো, রাজা বানিয়েছো ধনীকে।
প্রতিশ্রুতির মিথ্যা প্রচারে, প্ররোচনার হাতে ক্ষমতা
অর্থনীতি পাতালমুখী, দিশেহারা আজ জনতা।
রাষ্ট্র, আজ তুমি দুষ্টু ভীষন, ভাইয়ের ঘরে দিলে শোক;
তিন পুরুষের ভিটেয় তারা, হয়েছে আজ বিদেশী লোক।
রাষ্ট্র তোমার দলপতি শুধু, রাজনীতিটাই বোঝে;
মানুষে মানুষে লাগিয়ে দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার রাশ খোঁজে।
তুমি অসভ্য, তুমি কাপুরুষও বটে- সন্তানেরে দিলে বলি?
কেমন পিতা! পাষণ্ড পিশাচ- করো মায়ের কোল খালি।
তুমি ঠক, তুমি জোচ্চোর আজ, অহংকারীর শাসনে-
নিজের রক্তে আহুতি নিচ্ছ, অবিশ্বাস প্রতিজনে।
শোনো গো বধির ক্ষমতাওয়ালা, চেয়ে দেখো ওই দূরে-
ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে সমাজ, যাবে তুমি জ্বলে পুড়ে।
সংবিধান, আজ বাতিল কাগজ- তুমিই বানিয়েছো তারে,
ওহে মূর্খরা ইতিহাস দেখো, শাসক থাকবে আস্তাকুঁড়ে।
নিজের পাপেতে ডুবে যাবে কাল, বেঁচে নাও আজ সুখে;
স্বৈরাচারী-- তোমার বিচার হবেই, জনগণই দেবে রুখে।
পিছোতে পিছোতে দেওয়ালে পিঠ, ঠেকে গেছে জেনো মিথ্যুক;
বিস্ফোরণের প্রতীক্ষাতে, স্ফুলিঙ্গ ভরা কোটি বুক।।
সভ্যতার শিখরে উঠছি, তবু হৃদয়ে নোংরা গ্লানি;
বিনম্রতার মুখোশধারী, প্রজাপীড়ন হানাহানি।
অসহায়কে তাড়িয়ে তুমি, কী সুখ পাবে বলো-
মানব সকলে তোমার যন্ত্রে তৃণসম হারে দলো।
ধিক তোমার বিশালত্বে, যদি আর্তরে না দিলে ঠাঁই;
নির্যাতন আর জুলুমে ঠেসে- দেশপ্রেম খোঁজো তাই।
তুমি মৃত নাকি জীবিত- এটা জবাব দেওয়ার ক্ষণ
নতুবা তোমার প্রতিটি ইঞ্চি বুঝে নেবে জনগণ।
জনগণ দিয়ে তৈরি তুমি- নাকি ভূখন্ড দিয়ে ঘেরা!
পরিচয় দিতে বাধ্য, তোমায় আগামী করবে জেরা।
যুঝে নেবে তোমার মূর্খ রাজাকে, স্তাবক সপার্সদেরে-
রাজপথে তার হবে যে বিচার, ক্ষমতা লইবে কেড়ে।

বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৯

কামিকাজে



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান রীতিমতো সুইসাইড রেজিমেন্ট তৈরি করেছিল। যে রেজিমেন্টের পোষাকি নাম ছিল "কামিকাজে", যার বাংলা অর্থ স্বর্গীয় বাতাস। সুইসাইড বিমান, সুইসাইড ডুবুরি, সুইসাইড ট্যাঙ্ক ডেস্ট্রয়ার, সুইসাইড বম্বার ইত্যাদি। ইতিহাস সাক্ষী কোনোটাই জাপানের জন্য সফলতা আনেনি। খাতায় কলমে বিরাট বীর ছিলো এরা, যাদের মহিমাকীর্তন হতো বিশ্বজুড়ে। তথ্য বলছে এরা কামাকাজিরা জাপানেরই বেশী ক্ষতি করেছিল। নৈতিক এবং অর্থনৈতিক- দুই ভাবেই জাপানের নিকৃষ্ট রুপ বিশ্বের সামনে উপস্থাপিত হয়েছিল। আজও আমেরিকার পোষ্য ভৃত্ত হিয়ে সে পাপের মূল্য চোকাচ্ছে।

বাংলাতে একটা দল রয়েছে, এরাও একদল "কামিকাজে" তৈরি করেছে বা পুষেছে। লোকজন এদের বাম সমর্থক, ডানপন্থীরা মাকু, আর নিজেরা নিজেদের "সুশীল" বলে ডাকে।
এদের বৈজ্ঞানিক নাম "মাকাল", যা কোনো কাজের নয়। বাড়ির পাশের পার্টিঅফিসটা কোথায় না জানলেও, গলার শিরা ফুলিয়ে লাতিনের চে থেকে ইষ্ট ব্লকের রামধনু- গে, সর্ববিষয়ে জ্ঞান ধরে। ভোটের ময়িদানে এদের কেউ কখনও না দেখলেও বাৎসরিক ব্রিগেডে উৎসব করতে আসে। মারের ভয়ে নিজ পাড়ার সুবোধ সেজে, সোস্যালমিডিয়াতে সেই মানের বীর সাজে।
এরা জঙ্গিদের ধর্মে খুঁজে পায়, গিটার বাজিয়ে বিপ্লবের ভায়ের ভাই এর বাপ হয়, বছরে ৪টে সেলফি দেয় মিছিলে হাঁটার, ডেপুটেশনে গিয়ে শীতে গা গরম করে, কাব্য লিখে সরকারের খুঁটি নড়িয়ে দেয়। বাইচান্স কেউ সরকারী তোলা বাহিনী বা খুনে পুলিশ বাহিনীর হাতে ধরা পরে গেলে- বাকিরা তাদের চিনতে প্রত্যাখ্যান করে, সেক্রেটারির বয়ান না আসা অবধি। ইয়ে, সেক্রেটারির মূল কাজ নিন্দা করে বিবৃতি দেওয়া আর নির্দিষ্ট সময় অন্তর সর্বস্তরে সম্মেলনের সংস্কৃতি ও তার উত্তরাধিকারকে বাঁচিয়ে রেখে- যাতে আগামীতে আরো আরো কামিকাজি তৈরি করা যায়।
সত্যিই এরা "কামিকাজে।" না কামে আসে, না কাজে লাগে। না ডাইনে, না বামে। না মানুষ, না মুনিষ। টিভিতে দেবাংশু আর ফেসবুকে কুণাল মেরে বাঘমারি পালোয়ান সাজে, বোঝেনা যে- দেবাংশু তাদের সবাইকে নিজেদের মানে নামিয়ে আসতে সফল হয়েছে। বাকি অবসরে উপরতলার ঝিমুনি দাদাদের ঝুলন্ত ইয়েতে সুড়সুড়ি আর অর্গাজম দিয়ে, একদময় নিজেই কামিকাজি বানাবার শিক্ষক হয়ে উঠে….
এটা একটা চক্রাকার ও চিরন্ত্রণ প্রক্রিয়া। এর বেশী বললে, ওই- আত্মঘাতী বিষ্ফোরণে আপনার ইজের ফাটিয়ে দেবে। হ্যাঁ, ইজের অবধিই দৌড়

বুধবার, ১ মে, ২০১৯

উপন্যাস



উপন্যাস

কলেজের প্রথম বেঞ্চের মৃদুভাষী মেয়েটি যখন
রাজনীতিতে নাম লেখাতে, সবাই আশ্চর্য হল তখন।
সুন্দরী বিদুষী, উপরি পাওনা কলেজের টপার-
পুরুষের প্রাণে ঢেউ তুলে সে, করত যে ছারখার।

চোখ তুলে সে চাইলে পরে বর্ষা যেত ছুটে-
মন খারাপে, মেঘের দল জমত এসে ছুটে।
অমিত গুণের সমন্বয়ে, বিদুষী লগ্নজিতা-
ছাত্রনেতা দেবুর প্রেমে পড়ল সুচরিতা।
আকাশ বাতাস তুফান তুলে, করে দিয়ে আশ্চর্য;
গ্রুপ স্টাডিতে পড়ার বাহানা, আসলেতে সহচর্য।
দিন যায়, ঘনিষ্টতা বাড়ে। ওদের বন্ধু সুদীপ,
আরেক বন্ধু দত্তার পাড়ে, ভিড়িয়ে নিজের ছিপ।

অপেক্ষাতে ছিলনা যে তার, বর্ষা শীত বা গর্মি-
গ্রাম্য আসাদ শান্ত ভীষণ, নিপাট সখী উর্মি।
লাইব্রেরি পাঠ সিদ্ধ করে, কফি হাউজের ঠেকে-
গ্রন্থমেলায় আরো কাছাকাছি, জীবন যে যায় ডেকে।
রাজনীতিতে অশান্ত দেশ, বন্ধু বৃত্তে ঝড়
প্রশ্ন যখন আদর্শের, তখন- কে আপন কে পর!
বহুমাত্রিক জ্ঞান বিনিময়, ঋদ্ধ সকল জনে,
বিধাতার খেলা বোঝা বড় দায়, কী ছিল তার মনে।

দুটি প্রাণ বেয়ে ফল্গু নদী, কত স্রোতে অভিলাষা
কত অভিযান, আগামী নকশা- কল্পলোকে ভাসা।
পনেরো মাসের প্রণয় শেষে, ব্যত্যয় বিরহময়,
জেনে রেখো উপন্যাসে সে- ‘প্রবঞ্চক্ষণে প্রণয়’।

সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৯

।। ভোটের ডিউটি ।।



ভোটের ডিউটিতে যাবার আগে এটা করে যান, নতুবা হারিয়ে গেলে তার জন্য আপনিই দায়ী থাকবেন।

To whom it may concern

বিধিঃ পচাশৎ অর্থমূল্যমানের একটি রাষ্ট্রীয় মোহর মুদ্রাক্ষিত বিশিষ্ট পত্রে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে, অতঃপর দলিলপত্র হিসাবে সম্পাদনের কল্পে কারণিক হাকিমের দস্তখৎ আবশ্যক।   

উপক্রমণিকাঃ
কস্য সাধারণ আম-হলফনামা মিদং কার্যাঞ্জে, পরম করুণাময় (নিজ নিজ ঈশ্বরের নাম লিখিবেন, নাস্তিকেরা এড়াইয়া যান, শষ্প বংশীয়েরা লিখিবেন ‘তাঁহার অনুপ্রেরণায়’) নামে শপথ করিয়া ঘোষণা করিতেছি যে-

রাষ্ট্রীয় পরোয়ানা হেতু, রাষ্ট্রীয় অভিভাবক নির্বাচনের নিমিত্ত, আমি রাষ্ট্রীয় অঙ্গরাজ্যের সোপর্দ কতৃক কর্মবিশেষ দায়িত্ব সনদপত্র প্রাপ্ত করিয়াছি। তৎসুত্রীয় এই নিষ্কণ্টক কার্মিকেয়র অবতারণা।

অঙ্গীকারনামাঃ

১) আমি শ্রীযুক্ত ‘অমুক’, শ্রীযুক্ত ‘অমুকের’ ঔরসজাত সন্তান, সাকিন ‘তমুক’। চুরান্ত অনিহা স্বত্বেও, রাষ্ট্রীয় বলপূর্বক স্নায়ুচাপজনিত নানাবিধ আতঙ্ক, ত্রাস, ভীতি, আশঙ্কার অভ্যন্তরে, সর্বপরি সরকারী চাকুরীটি বাঁচাইবার লক্ষ্যে, আমি এই কার্যে আসিবার জন্য সম্মত হইয়াছি। অন্যথায় রাষ্ট্ররোষে কুপিত হইতে পারি।

২) আমার কোনো প্রকারের মানসিক দুর্বলতা ও অবসাদ নাই।

৩) আমার পারিবারিক অশান্তি নাই, থাকিলেও উহাকে প্রলম্বিত রাখিবার দায়ে আমার গৃহে প্রত্যাবর্তন জরুরী

৪) আমার উত্তমর্ণ দ্বারা বিপদগ্রস্থ নই, ভ্রান্তিবসত থাকিলেও উত্তমর্ণগণ আমার অবর্তমানে আমার অপত্য ও আস্থাস্থাপকের উপরে অধমর্ণহেতু গঞ্জনা বর্ষন করিলে উহা আমার নিকট মোটেই সুখকর বিষয় হইবেনা, সেইহেতু রাষ্ট্রীয় কর্ম সমাপ্তিতে আমার গৃহে প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫) বিশ্বসমাজের সৃষ্টিকর্তা, পুরুষ জাতিকে সৃষ্টিই করিয়াছেন বহুগামিতার সর্বপ্রকারের গুণ দিয়া। ইহার পরেও আমার, কহিবার মত সুস্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ অন্তরটান বিশিষ্ট পরকিয়া না, অতএব গৃহত্যাগী হইতে আমি অক্ষম। পড়শিতুতো সম্পর্কজালের দ্বারা সৃষ্ট অগ্রজজায়ার প্রতি কিঞ্চিৎ আকর্ষণ থাকিলেও সেক্ষেত্রে গৃহে পুনরাগমন আবশ্যিক।

৬) ই মধ্যবয়সে আসিয়া, দুর্মূল্যের দুর্বিপাকে কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানাত্ত্বে বিশ্বাসী নই, উহা মনে মনেআমার জন্য সঠিক, গুরুদেবের লেখনি সার্থকতাতে আমরা দায়বদ্ধ। নিরুদ্দেশ যাত্রা এমনিতেই জাতি বাঙালির গঠনতন্ত্রে অনুপস্থিত।

৭)  “কর্ণকুহরে সঞ্চালিত একাকী সঙ্গীত বাসর যন্ত্রে” উন্মত্তের মত গীতসুধা শুনিতে শুনিতে রেলপথ বা সড়কে পারাপার করিতে কোনোকালেই স্বচ্ছন্দ্য ছিলামনা বর্তমানেও নেই।

৮) আমি কোনো প্রকারের গুপ্ত ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত নই যে সামান্য পলায়নের সুযোগ আসিবা মাত্রই আমি উন্মত্তের মত সেই পথে ধাবিত হইব, সভ্য সমাজ ত্যাজিয়া।

৯) হিন্দিভাষ্যে নির্মিত চলচ্চিত্র মিস্টার ইন্ডিয়ার মত নীলিন হইবার মত ক্ষমতা করায়ত্ত করিতে পারিনাই।

১০) স্বল্পাহারী আমার এমন কোনো প্রকারের ক্ষুধা ব্যারাম না, যেখানে গোটা 'আমি' টাকেই উদরস্থ করিয়া সম্পূর্ণ পরিপাক করিয়া ফেলিব, সামান্যতম উচ্ছিট্ট ব্যাতিরেকে।

১১) এই সরকারী চাকুরিটির হেতু বড় কায়ক্লেশে করিয়া অমন একপিস নধর, তত্বাবধায়ক, নীতিশিক্ষক, বাক্যবাগীশ জীবনসঙ্গিনী, বিশ্বনিষ্কাষণ করিয়া অর্জন করিয়াছি। সেইহেতু, দ্বিতীয় কোনো প্রকারের  প্রেমজনিত কার্যকলাপের প্রতিশ্রুতি দিতে অক্ষম, যাহাতে চাঁদে চলিয়া যা বা কোনো নির্জন দ্বীপে যাইবার বাসনা জাগ্রত হইবে

১২) ইন্ট্রিগেশন ক্যালুলাস অনুশীলনের অভ্যাস নাই, কিন্ত ১৭ ঘরের নামতা যোগ করিয়া করিয়া মুখস্ত বলিতে পারি। আমি সুস্থ ও স্বাভাবিক তাহার একটি নমুনা ইহা।

১৩) সনাতন ধর্মের পূর্নজন্মের লোভ বা ইসলামে উল্লেখিত মৃত্যুর পর প্রাপ্ত ৭২ হুরের লোভে আমি লোভাতুর মোটেই নই, শাস্ত্রে আছে তাই পাঠ করি মাত্র। আমি বাঙালী পুরুষ, ঘরের দেবী ছিন্নমস্তা/রণচন্ডী স্ত্রীরূপী অভিভাবকই আমার উপরে সৌন্দর্য আরোপিত করিয়া থাকেন তাঁহার সুমিষ্ট আঁচলের তলেই আমার যাবতীয় সুখানুভূতি ও বিশ্ব ক্রীড়াক্ষেত্র।

১৪) মহার্ঘভাতার বৃদ্ধি সেই তিমিরে, পরিভৃতি অন্যন্য অঙ্গরাজ্য কিম্বা কেন্দ্রের তুলনাতে বিপুল বৈষম্যান্বিত। তাই ইলিশ মৎস, নপুংসক পুরুষ ছাগ মাংস, বিরিয়ানি, অসময়ে পক্ক অমৃতফল, সরভাজা, গলদা চিঙিড়ি খাবার মত সামর্থ্য নেই- যাহার দরুন অম্লশূল, ভেদবমি, শিথিলান্ত্র, আন্ত্রিক ইত্যাদির মত বিত্তশালী পীড়াহত হইয়া বনেবাদারে মরিবার মত সঙ্কুলান নাই, তথাপি আমি আমৃত্যু পরিবারের সহচর্যেই থাকিতে চাই।

১৫) জঙ্গি নাম শুনিবামাত্রই আমার পক্ষি সদৃশ্য স্বেতবর্ণের মলত্যাগ করি, অতএব জঙ্গিদলে নাম লেখাইবা হেতু আমি গৃহত্যাগে অক্ষম।

১৬) শত্রু প্রতিপালনের মত পরাক্রমতা আমার রক্তে কোনো কালেই ছিলনা। অবশিষ্ট যাহা কিছু তাহার নির্বীজকরন করিয়াই আমি আজ এই স্থানে পৌছাইয়াছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদর্শিত বীরত্ব অনুসারে আমাকে বিবেচনা করা অহেতুক, ওই পরিসরের শত্রুরাও বাগ্মী জগন্নাথ। বাস্তবে ওই পরিমন্ডলের আমরা নিতান্তই ছাপোষা। অতএব আমি অজাতশত্রু।

এদত মর্মে পুনরায় অঙ্গীকার পূর্বক স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে, পত্নী ও শ্বশ্রূমাতা প্ররোচনা ব্যাতিতই ঘোষণা করিতেছি; আমি একজন ভারত রাষ্ট্রের বিশ্ববাংলা অঙ্গরাজ্যে তাঁহার অনুপ্রেরণায় একজন আম নাগরিক।

ঘোষণাকারীর সাক্ষরঃ
তারিখঃ

মুসাবিদা কারকের নামঃ
সাক্ষরঃ

সনাক্ত কারকের নামঃ
সাক্ষরঃ


প্রামাণিক ইশাদীর নামঃ
সাক্ষরঃ
_______________________
রাষ্ট্রীয় আইনব্যবস্থায় স্বীকৃত হাকিম কতৃক নিশ্চয় রূপে জ্ঞাত করণের উদ্দেশ্যে প্রত্যায়িত করা হইল।




শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯

।। উপেক্ষা ।।



ফুলে গেলে আমার নাম উন্নয়ন
ভুলে (মূল্যবোধ) গেলে আমারই নাম চাড্ডি
খুলে গেলে (মুখোশ) ছা পোষা বাঙালি
ঝুলে (হৃদিয়ের কার্নিশে) গেলে প্রেমিক
গুলে (প্রাণের অন্দরে) গেলে বন্ধু
শুলে পরে (বিছানাতে) .... রঙধনু নই নিশ্চিত
ছুঁলে পরে (অঙ্গে)- শীতল
মুলে গেলে (নাক কান)- ফক্কা
রুলে গেলে (ইংরাজি আইন)- ভেঙে দিয়ে সুখী
শূলে দিলে (সমবেত বিচার) - মৃত্যু
হুলে বিঁধলে (মিথ্যা)- প্রত্যয়ী
কুলে গেলে (পরিচয়) প্রলেতারিয়েত
চুলে গেলে (শুধু মাথা) টাক
তুলে নিলে (কোলে) কোমরে ব্যাথা
ধুলে পরে (সর্বাঙ্গ) কয়লা
থুলে পরে (সাথে) কর্মের
ভুলে গেলে?
নতুন শুরু।

তাই সমমানের না হলে অহেতুক তর্ক করে লেভেল নষ্ট করার যুক্তি নেই। আমি জানি আমি কে ও কি! কতটা আমার যোগ্যোতা ও কতটা এক্তিয়ার। এমন কেউ যে- শিক্ষা, সামাজিক পরিচয়, ভাবনাগত মান, ভাব প্রকাশের ক্ষমতা সাদা কালোতে, অর্থনৈতিক স্ট্যাটাস, পেশাগত সম্মান ও অবস্থান ইত্যাদি.... সবেতেই সর্বত্র পিছিয়ে, সে বা তাদের সাথে লড়াই চলেনা। তাদের জন্য কেবলমাত্র একরাশ অবজ্ঞা, বেদনা মিশ্রিত হাহাকার আর চরম উপেক্ষা। খানিক ঘেউ ঘেউ করবে, হালে পানি না পেয়ে কেটে উঠবে। কুত্তা... কামড় ওই হাঁটুর নিচে। ছেই করলেই লেজ গুটিয়ে কুঁইকুঁই করে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজবে। করুণা করে এই পোষ্টটা আসলে বাড়তি।

সুখে থাকুন 
উল্লাস। 
যদিও উল্লাসে আর থাকা হয় কোথায়।
আপাতত ঠিকানা- ঢাকা ( খোলাও) 

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯

।। হে রাম ।।



"ধার্মিকেরা নিজ ধর্মের আচার পালনে মগ্ন থাকে, ধর্ম ব্যবসায়ীরা অন্য ধর্মের প্রতি আক্রমন করে ধর্মাচার্য পালন করে"। এটাই আপ্তবাক্য।
আজকের দিনে এই যে রামনবমী নামের একটা হাল উৎসব নিয়ে এতো অস্ত্রের মাতামাতি, ঝঙ্কার, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি, সমাজে অস্থিরতা, এর শিকড় কোথায়? কিইবা এর আসল ইতিহাস? চলুন একটু শাস্ত্র ঘ্যেটে দেখা যাক।
ঋগ্বেদে (১০-৯৩-১৮) সর্ব প্রথম ‘রাম’, নাম হিসাবে শব্দটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। সুতরাং রামায়ণের অনেক পূর্ব থেকেই রামনাম্নী অনেকের উল্লেখ রয়েছে শাস্ত্রে। যদিও তারা একই ব্যাক্তি বা আলাদা কিনা সবটা সুস্পষ্টভাবে জানা যায়না। শ্রী বিষ্ণুর অবতার ‘পরশুরাম’, বা মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের ভাই ‘বলরাম’ এবং দশরথ পুত্র রঘুবংশীয় ‘রাম’ এমন অনেক বিশিষ্ট রাম হিন্দু ধর্মে আরাধ্য।
সূর্যবংশীয় তথা রঘুনাম্নী রাজার নামানুসারে রঘুবংশীয় রাজা দশরথের জ্যাষ্ঠ পুত্র শ্রী রামচন্দ্র। আর্য রাজা, তৎকালীন দিনে আজকের মত পদবী গুরুত্ববাহী ছিলনা তাই শুধুই রাম। রাম কাহিনী সম্পর্কিত এক আধটা উপাখ্যান বাদ দিলে সবগুলোকেই রামায়ন নামে অবিহিত করা হয়েছে। রামায়ণ নিঃসন্দেহে মহাভারত আখ্যানের অনেক পূর্বে লিপিবদ্ধ হয়েছিল, কারন মহাভারতে রামায়ণের কথা উল্লেখ থাকলেও রামায়ণের কোথাও মহাভারতের ছিটেফোঁটা নেই। মহাভারত প্রায় সমস্তটাই নগরজীবনের কথা বলে, অনেক বেশি জটিল, এখানের সকল বড় চরিত্র গুলোই আর্য। সেদিক থেকে রামায়ণ অনেকটা অরণ্য কেন্দ্রিক, অনারম্বর, আর্য অনার্যের লড়াই।
পতঞ্জলি মুনির ‘ত্রিমুনিব্যকরণ’ অনুযায়ী ‘লৌকিক সংস্কৃত’ ভাষাতে, রাম শব্দের আক্ষরিক অর্থ সম্ভবত ‘শুরু’; অবশ্য আদি শঙ্করাচার্যের মতে রাম মানে হল- ঋষি বা তাপসেরা যার সাথে রমণ তথা ধ্যন করে সর্বোচ্চ তৃপ্তি লাভ করেন তিনিই রাম, শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার। সংস্কৃত ভাষায় রচিত আদি রামায়ণের রচয়িতা হিসাবে মহর্ষি বাল্মিকীর নাম আমরা সকলেই জানি, কিন্তু এই সংস্কৃত ভাষাতেই আরো বেশ কয়েকটি রামায়ণের সন্ধান মেলে; যেমন আধ্যত্ব রামায়ণ, আনন্দ রামায়ণ, যোগ রামায়ণ, ভুশন্ডি রামায়ণ ইত্যাদি।
যেহেতু সংস্কৃত ভাষার নির্দিষ্ট কোনো বর্ণমালা ছিলনা, (আজও নেই, নাগরী বা দেবনাগরীই বেশি ব্যবহৃত হয় সংস্কৃত লিখনে) তাই শ্রুতি পদ্ধতিতে সংরক্ষিত রামায়ণ মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে স্থান কাল পাত্র ভেদে, বারে বারে পরিবর্তিত হয়েছে। নানা যুগে নানা দেশে কবিরা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে, তাদের নিজস্ব কল্পনাতে রামকে এঁকেছেন। বাল্মীকির রামায়ণের রাম মহাশক্তিধর পরাক্রমশালী, তুলসীদাসী রামায়ণের রাম রক্তমাংসের মানুষ, যাকে চাইলেই ধরা যায় এতটাই সার্বজনীন। আবার কৃত্তিবাসী রাম নয়নাভিরাম সুন্দর পুরুষ, অপরিসীম করুণার ধারা, অলৌকিক শক্তিতে ভরপুর ও ভীষণ প্রজাবৎসল রাজা। রামায়ণের বিখ্যাত গবেষক কেমিল বাঙ্ক, 1950 সাথে প্রকাশিত “Three Hundreds Ramayana’s” নামক বইটিতে তিনি সারা বিশ্বে প্রায় ৩০০ টি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের রামায়ণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে বৌদ্ধ রামায়নে রাম-সীতা ভাইবোন, জৈন রামায়নে রাবন ভীষণ সৎ একজন রাজা, নেপালি কবি ভানু ভক্তের ‘নেপালি রামায়ণ’, কন্নর ভাষায় ‘তোরবেয় রামায়ণ’ এখানে সীতার পিতা রাবণ, যিনি হাঁচির মাধ্যমে জন্মগ্রহন করেছিলেন। অহমিয়া ভাষাতে ‘মাধব কণ্ডলীর’ রামায়ণ, তামিল কোম্বন ভাষাতে ‘ইরামবাতায়ম’, আর বাংলাতে কৃত্তিবাসী রামায়ণ ভীষণ প্রসিদ্ধ।
বিদেশের মাটিতে মানে এশিয়ার অন্যান্য দেশেও রামায়ণের হদিশ পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যাণ্ড, ফিলিপিন্স সহ অনেক দেশেই রামায়ণের অস্তিত্ব ও চর্চা আজও বিদ্যমান। মূল রামায়ণকে কেন্দ্র করে যেমন অনেক ভাষায় রামায়ণ লেখা হয়েছে, ঠিক তেমনই রামায়ণের অংশ নিয়ে প্রচুর গ্রন্থ লেখা হয়েছে। মনের রঙে মাধুরী মিশিয়ে রচিত হয়েছে নতুন নতুন কাহিনি। রঘুনন্দন গোস্বামী, রামানন্দ ঘোষ, জগৎরাম, রামপ্রসাদ প্রমুখ এরকম অনেকেই রামায়ণ অবলম্বনে কাব্য রচনা করে প্রভূত খ্যাতি লাভ করেছেন। কালিদসের ‘রঘুবংশম্’, ভাসের ‘প্রতিমা’ ও ‘অভিষেক’, ভবভূতির ‘মহাবীরচরিত’ ও ‘উত্তররামচরিত’, ভট্টির ‘রাবণবধ’, কুমারদাসের ‘জানকীহরণ’, মুরারির ‘অনর্ঘরাঘব’, ক্ষেমেন্দ্রর ‘রামায়ণমঞ্জরী’, রাজশেখরের ‘বালরামায়ণ’, জয়দেবের ‘প্রসন্নরাঘব’, ভোজের ‘চম্পূরামায়ণ’, ঈশ্বরচন্দ্রের ‘সীতার বনবাস’, রবীন্দ্রনাথের ‘বাল্মীকির প্রতিভা’, রামশঙ্করের ‘রামায়ণ’, দ্বিজলক্ষ্মণের ‘শিবরামের যুদ্ধ’, মাইকেল মধূসূদনের ‘মেঘনাদবধকাব্য’ ইত্যাদি গ্রন্থগুলি রামায়ণের অংশ নিয়েই রচিত হয়েছে এবং ভারতীয় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
কোথাও অস্ত্র সহযোগে মিছিলের বিবরণ নেই। এই মিছিল কি রামকে সন্তুষ্ট করার সাধনা? কোনো মুনিঋষিই এই তান্ডব সাধনা করেছেন বলে শাস্ত্রে নেই। ক্ষত্রিয়ের ধর্ম অস্ত্রচালনা, যেটা আজকের দিনে পুলিস বা সেনার কাজ, নাগরিকের নয়। যদি নাগরিকের হয় তাহলে রাজ্যের (পড়ুন দেশের প্রধানমন্ত্রী/মুখ্যমন্ত্রী) চুরান্ত অপদার্থ ও অযোগ্য। তাদের মুখোশ খুলে দিয়ে ওদের বদলে দিতে আবার শাস্ত্রে ফেরা যাক।
এতদ সকল কিছুকে ছাপিয়ে তুলসীদাসি রামায়ণ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এক বাঁদরের/কপির মুখে একটা দোঁহা শুনে শ্রীরামের প্রতি তীব্র অনুরাগ জন্মায়। যুবক তুলসীদাস গোস্বামী বারানসির কুটিরে প্রভু রামের নিমিত্ত একান্ত সাধনা করে চলেছেন, তার ইচ্ছা প্রভু রামের সাক্ষাৎ লাভের। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই ফলপ্রসু হচ্ছেনা, ঠিক এই সময় একদিন কাশীর উপবনে প্রাত্যঃকৃত করে অবশিষ্ট জলটুকু প্রতিদিনের ন্যায় একটি একটি নির্দিষ্ট গাছের গোঁড়ায় ঢালার সময় সেই গাছ থেকে নেমে আসে একটি প্রেতযোনি। সাধক তুলসীদাসের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে শ্রীরামের সাক্ষাতের উপায় বাতলে দেন সেই প্রেতযোনি।
দশাশ্বমেধ ঘাটের নিকট কর্ণঘন্টায় প্রতিদিন যে রামায়ণ পাঠ হয় সেখানে এক বৃদ্ধ সাধুর বেশে স্বয়ং অঞ্জনীপুত্র মহাবীর হনুমান আসেন। সেই মত সাধক তুলসীদাস মহাবীরের সাক্ষাৎ পেলেন, এবং হনুমান তুলসীদাসকে চিত্রকূটে যাবার পরামর্শ দিলেন। সেই মত চিত্রকূটে গিয়ে আরো দীর্ঘ তপস্যার পর মন্দাকিনীর তীরে, রাম-লক্ষণ জুটির সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তুলসীদাসের দাবী অনুযায়ী আরো দুইবার দেবসাক্ষাৎ এর সৌভাগ্য তার হয়েছিল। কখনই তাঁকে গদা আস্ফালন বা গলার শিরা ফুলিয়ে শিশুদের হাতে তরোয়াল দিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দিতে হয়নি। অবশ্য তাঁকে MLA বা MP হতেও হয়নি কখনো, বাসনা ছিল বলেও জানা যায়না।
এদিকে আমাদের সাধক শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনী থেকে জানা যায়, তিনিও বুঝেছিলেন তাদের কূলদেবতা রঘুবীরের দর্শন পেতে শুধু ‘মা’কে ধরলেই চলবেনা, তাই তিনি মহাবীর হনুমানের স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন। সে সময় হনুমানের আশির্বাদ লাভের জন্য, তার ধ্যনে বিভোর হয়ে মানবসত্তা পরিপূর্ণ রূপে লোপ পেয়ে গেছিল। সেই সময় তিনি বৃক্ষেই বসবাস করিতেন, ফলমূল খেতেন ও সেখানেই শুতেন। রঘুবীর-রঘুবীর বলে নিরন্তর গম্ভীর ভাবে শ্রীরামের অন্বেষণ করতেন। ঠাকুরের নিজের জবানিতে- “আমার মেরুদণ্ডের শেষভাগ প্রায় ইঞ্চিখানেক বৃদ্ধিও পাইয়াছিল, পরে যা কালের নিয়মে যবে মনের উপরে মহাবীরের ভাবের প্রভাব চলিয়া গেছিল, তবে পুনরায় উহা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া আসে”। সুতরাং ইনিও অস্ত্র মিছিল করেননি।
শ্রী চৈতন্য ও স্বামী বিবেকানন্দও রামভক্ত মহাবীর হনুমানের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধালু ছিলেন। স্বামীজির কথায়- “মহাবীরের চরিত্রকে তোমরা আদর্শ করে নাও। তার জীবন মৃত্যু সংক্রান্ত ভয়কে তিনি জয় করেছিলেন, নিজের বিচার বুদ্ধির উপরে ওনার সম্যক ধারণা ছিল ও সেটাকে কিভাবে সত্যের পথে চালনা করতে হয় সেটা তিনি জানতেন। গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি ও কঠোর ব্রহ্মচর্য তাঁর সাফল্যের কারন। তাই তোমরা তোমাদের জীবনকে তাঁর আদর্শে গড়ে তোলো, যাতে অন্যান্য আদর্শ ও ভালগুলো নিজ নিজ জীবনে নিশ্চিত হয়”। আমরা এগুলোর একটাও না মেনে শুধু গাড়লের মত কিছু নেতাদের অন্ধ ভক্ত হয়ে বসে আছি।
অলৌকিকতা, অপ্রার্থিবতা, জনসাধারনের কাছে রহস্যাবৃত আর কুহেলিকাময় কারনবসত অকারন যুদ্ধের কারনে, ‘রামায়ণ ও মহাভারত’ অতি উচ্চমানের রচনা- ধর্মীয়ভাবে পূজিত ও সমাদৃত হয়ে রইলেও, ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে মোটেই স্থান করে নিতে পারেনি। ধর্মীয় জাতিগত আবেগ ও বিশ্বাস দিয়ে ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করা যায়না। রামায়ণ বা মহাভারতের ইতিহাসের প্রতি দায় না থাকার কারনে সহজেই একে পরিবর্তন করে দেওয়া যায়, সনাতন ধর্মের উদারতার নামে। যুক্তিযুক্ত নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণ পৃথিবীর কোনো ধর্মই চাইনা। ধর্ম মানেই প্রশ্নহীন আনুগাত্য। ভোটের কারবারিরা এই ব্যাথার স্থানটাকেই ধরে ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার জন্য উদগ্রীব। এখানে শম্বুক বা বালির দোষ জানতে চাওয়া মানেই ধর্মের শত্রু। তাই এ লেখার ক্ষেত্রেও সংঘাতের সম্মুখীন হলে তা মোটেই আশ্চর্যের কিছু নয়।
ব্রাহ্মন্যবাদীদের অত্যাচারে অতিষ্ট ভারতীয় নিম্নবর্ণের হিন্দুরা যখন মুক্তির পথ খুঁজছে ঠিক তখনই উত্তর ভারতে এই তুলসীদাসি রামায়ণের আবির্ভাব। সময়টা ১৫০০ শতকের শুরুর দিকে, যখন এই বঙ্গ দেশেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদের মৌরিশপাট্টায় কুঠার হেনেছেন শ্রী বিশ্বম্ভর মিশ্র তথা শ্রীচৈতন্য (ফেসবুকের ভাষায় ফেক একাউন্ট) নামের যুগপুরুষ সমাজ সংস্কারক। তখন প্রতিনিয়ত মিথ ভেঙে তৈরি হচ্ছে নতুন সামাজিক ইতিহাস।
তুলসীদাস সেইসময়ের কথ্য ব্রজবুলি, পালি বা প্রাকিত ভাষাতে তাঁর রামকে বর্ণনা করতে যাননি, বরং সহজিয়া লৌকিক সংস্কৃতের ছন্দে তিনি রামকে শূদ্রের ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। তুলসীদাসের রাম মোটেই বাল্মিকীর রামের মত অতিপ্রাকৃত নয়। উচ্চবর্ণের হিন্দুর ঘরে যখন শিব, নারায়ণ, বিষ্ণু, কালী, চন্ডীতে একচেটিয়া আধিপত্য; হরেক ছুঁইছাতের মাঝে তুলসীদাসের রাম হয়ে উঠে সধারনের ঘরের ছেলে। দ্রুত নিম্ন বর্ণের হিন্দু সমাজের কাছে উচ্চবর্ণের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়ার প্রতীক হয়ে উঠে রাম। গননার শুরু থেকে বা পরস্পরের দেখা হলে, কিম্বা মৃতকে সৎকারে নিয়ে যাবার সময় , প্রায় প্রতিটি ‘ছোটলোকেদের’ নামের মাঝে রাম শব্দটি ভীষণ ভাবে জুড়ে যায়। আজও চামার বা দলিতদের মাঝে রাম নামের প্রচলন ব্যাপক অর্থে। এখানেই তুলসীদাসের কৃতিত্ব, এখান থেকেই রামের একচেটিয়া জনপ্রিয়তা গোটা উত্তরভারত জুড়ে। বাংলায় এই প্রভাব না পরার কথা আগেই বলেছি, কারন তখন বৈষ্ণব মতবাদীয় ধারা ঐ রামের কাজটাই এই অঞ্চলে করেছিল শ্রীচৈতন্যের দ্বারা।
গোস্বামী তুলসীদাস ৪ নারীকে দেবী লক্ষ্মীর অবতারস্বরূপা জ্ঞান করেছেন। এবং জানিয়েছেন, এই চার প্রকার নারীকে অবমাননা করলে পুরুষের সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী।
• পুত্রবধূ— পুত্রবধূ সংসারের শ্রীকে ধরে রাখেন। বংশকে গতি প্রদান করেন। সেই কারণে তিনি শ্রদ্ধেয়া। তাঁর প্রতি কোনও রকম অসম্মান প্রদর্শন সংসারকে ছারখার করে দিতে পারে।
• ভ্রাতৃজায়া— বড় ভাইয়ের স্ত্রীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন বস্তুত নিজের মা-কে অপমানেরই সামিল। আর কনিষ্ঠ ভ্রাতার স্ত্রী পূত্রবধূরই তুল্য। সে কারণে এঁদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন মহাপাপ।
• ভগিনী— ভগিনীকেও তুলসীদাস মাতৃসমা বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁকে অসম্মান করা মানে নিজের কুলকে অসম্মান করা।
• কন্যা— তুলসীদাস কর্তৃক প্রদত্ত তালিকার সব শেষে রয়েছে কন্যা। পিতা ও কন্যার সম্পর্ককে পবিত্রতম বলে মনে করছেন কবি তুলসীদাস। তাকে অবমাননা করার অর্থ নিজেকেই অবমাননা করা, এমনই মত গোস্বামীজির।

আমরা অস্ত্র মিছিল করি, কিন্তু ঘরে ঘরে এই সম্মান নারীদের দিই তো যারা রামকে মানেন ভগবান হিসাবে?
‘রামচরিতমানস’-এর মূল কাহিনি কাঠামোতেও বার বার উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গ। শ্রীরামচন্দ্রের জীবনকে সামনে রেখে গোস্বামী জানিয়েছেন নৈতিক বিধানগুলিকে। নারী তাঁর কাছে অতি পবিত্র। তাঁর রামকথা-তেও তাই সেই দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত।
চন্দ্রাবতী রামায়ণ বা সুকুমারী রামায়নে কোথাও রামজন্মের তিথি পালনে হিংসা বা শৌর্যের প্রকাশের উল্লেখ নেই। ডাঃ আম্বেদকরের ‘হিন্দুধর্মের হেঁয়ালি” গ্রন্থের একটা বঙ্গানুবাদ রয়েছে পয়ার ছন্দে, শ্রী সুধীর রঞ্জন হালদার মহাশয় অত্যন্ত নিপুণ ভাবে ‘রামচরিত কথা’ বর্ণনা করেছেন তীব্র শ্লেষের সাথে। শ্রী হালদার আরেক ব্রাহ্মণ শোষিত হিন্দু সমাজ মতুয়া সম্প্রদায়ের।
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজেও রামের দেখা পাননি, তবে সীতা মায়ের মাতৃরূপের দর্শন পেয়েছিলেন। সুতরাং প্রভু রামের সান্নিধ্য পেতে এই সকল মহাপুরুষেরা কঠিন ব্রহ্মচর্য থেকে আরো কঠিন সাধনার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছিল। ডিজে বাজিয়ে বাইকে চড়ে গদা নাচিয়ে নয়।
প্রশ্নটা এখানেই, শাস্ত্রে এই অস্ত্র প্রদর্শনের কথা কোথায় উল্লেখ রয়েছে? যদি না থাকে তাহলে পুনরায় রামায়ণ লিখিত হয়েছে আজকের সমাজের প্রয়োজন অনুসারে। সেই রামায়ণের লেখক কে? মাথায় ফেট্টী বেঁধে হাতে খোলা তরিবারি আসলে মহরমের সময় শিয়া মুসলমানদের করা নিকৃষ্ট আচারের অনুপন্থী, এটাই চুম্বকে আজকের এই রামনবমীর বিকৃত উল্লাস চিত্রের ধাত্রী।
এই রাম একান্তই RSS এর কল্পনাপ্রসূত। এই ‘বিভেদকামী রাম সংস্কৃতি’ বিজেপি নামের দলটি বাস্তবায়ন করেছে অর্ধেক দেশে। খোদ অয্যোধ্যা, ইলাহাবাদ সহ গোটা উত্তর ভারতে এমন উন্মত্ত রামনবনীর দেখা মেলেনা, যেটা আজকাল বাংলার রাস্তায় দেখা যাচ্ছে। অনেক স্থানে রামনবমী উপলক্ষে আবীর খেলা হয়। আসলে এটা তো ভগবানের জন্মদিন উৎসব পালন। শিয়া’রা হাসান হোসেনের মৃত্যু শোক যে উপায়ে পালনের সংস্কৃতি দেশে আমদানি করেছে, রামের জন্ম উপলক্ষে সেই একই সংস্কৃত হল আজকের রামনবমী। বাংলার আকাশ কলুষিত করেছে এই দুই দূষিত সংস্কৃতি।
খুব সুস্থ ভাবে ভাবুন, আমার আপনার বাড়িতে কেউ জন্মালে বা কারো মৃত্যু হলে আমরা লোকদেখানো তলোয়ার, গদা, আগ্নেয়ান্ত্র নিয়ে সদলবলে মিছিল করি? অন্য ধর্মের মানুষদের হুঁশিয়ারি দিই? দিইনা, তাহলে ঈশ্বরের নামে এই অনাচার কিসের স্বার্থে?
রাজ্যের শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস, আজ নিজেদের হিন্দু প্রমান করতে মরিয়া, তারাও সম উদ্যোমে RSS সংস্কৃতির অনুশীলন করছে বিজেপিরিই দেখানো পথে। কার মিছিল কতটা লম্বা, কে কত জোরে জয়-শ্রী-রাম নাদে হৃদকম্প তুলতে পারে তারই ঘৃণ্য কসরৎ চলছে রাজ্যজুড়ে। এদের স্যাঙাৎ হচ্ছে টেলিভিসন মিডিয়া। কোনটা ধর্ম আর কোনটা ধর্মের নামে ভাঁওতা বাজি সেটার ফারাক করার মত শক্তি একটা ফ্যাসিবাদি দলের কাছে থাকেনা। তার উপরে ভুকা মানুষগুলোর সামনে উৎসব আর রাষ্ট্রীয় শাস্তির চাবুক যারা ঝুলিয়ে রেখে শাসন করে, ধর্মের নামে এমন নেশাদ্রব্য কেউ কিভাবে ছেড়ে দেয়!
যারা নাকি বুদ্ধিজীবি, তারাও আজ প্রতিবাদ ভুলে রাষ্ট্রের গুডবুকে আছে, ঝঞ্ঝাটমুক্ত আগামীকালটা ভাল থাকার দায়ে। বড় অল্পে এনারা আজকাল বিকিয়ে যান, এটাই আজ বাংলার সংস্কৃতি।
নিকৃষ্ট দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ধর্মের মুখোস পরে। জাতি হিসাবে বাঙালী তরতর করে অবনমনের রাস্তায় ধাবমান। এবাংলা থেকে ওপাড় বাংলা, ফলাফল একই। এখানে RSS, ওখানে জামাত। নিচুতলার দুষ্কৃতীরা আজকের রাজনীতিকে তোলার/চাঁদার বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে অশিক্ষিত লুম্পেনরা ধর্মের জিগিরে পেশি আস্ফালন করে চলেছে। বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি আজ সঙ্কটে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কৌশলে হাসিল করার জন্য এক শ্রেনীর লোভী নিকৃষ্ট ‘হিন্দু’ নাম নিয়ে এই ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে প্রথমে ভীত করে দাও, যে ২০% মুসলমান তোমাদের ৮০%কে ভয়ানক বিপদের মাঝে রেখে দিয়েছে। অতএব অস্ত্র তুলে নাও। শুধু বললে কি আর কেউ অস্ত্র নেয়! অতএব শাস্ত্রের ষোড়শপাক রেঁধে তাঁর উচ্ছিষ্ট গুলো দিয়ে নিজেদের স্বার্থমত ধর্মগ্রন্থকে খোলনাচলে বদলে যেটাকে শাস্ত্র বলে চালানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে, তা ভয়াবহ। এটাই আজকের রামনবমী, হিন্দু ভোট BJP এর পক্ষে যাক, মুসলমানগুলো TMC এর দিকে ঝুঁকুক। বামেদের থেকে রক্ষা করার জন্য দেশদ্রোহী শব্দটাই যথেষ্ট।
আজ দেশীয় মুসলমানেরা ভাবুক, বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে তৃনমূল অদৌ বিশ্বাসযোগ্য? তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানেই পরোক্ষে RSS এর দুর্গার হাত শক্ত করা। দেশের জন্য বিপদের নাম RSS, এরাই আফগানিস্থানে তালিবান, সিরিয়াতে ISIS, অতীতে নাৎসি। দেশপ্রেমের নামে দেশে এক মারন বিচ্ছিন্নতাবাদের খেলা শুরু হয়েছে। রামনবমীর এই অস্ত্র মিছিল সেই খেলারই মুখরা বা অন্তরা।
আমরা তো আবার বামপন্থী, ধর্ম শব্দেই এলার্জি। আমরাও সেই ভক্তদের মত কপিপেষ্টের ভরষাতে থাকি, নিজেদের পড়াশোনার যে কৃষ্টি, সেটা জলাঞ্জলি দিয়ে ওদের লেভেলে নেমে আসি। ওদের ভাষাতে কথা বলে নিজেরা ভাবি জিতে যায়, মোটেই সেটা হয়না। বরং নিরপেক্ষ মানুষেরা খুঁজে পায়না বামপন্থীদের ব্যাবিহারিক ও আদর্শগত সৌন্দর্য। ভক্ত আর কড়া বামেদের মাঝে মৌলিক কিছু ফারাক খুঁজে পাওয়া যায়না দৃশ্যত। ওরা রামের নামে খিস্তি মারে, আমরা বামের নামে, সোশ্যাল মিডিয়া বাম-অবাম কৃষ্টির ফারাকটা অনেকটা ঘুচিয়েছে। আসলে কি জানেন, আমাদের নুন্যতম এই জ্ঞানের অভাবের জন্যই মানুষকে বোঝাতে পারিনা, যে এটা ধর্ম নয় যেটা বিজেপি-RSS-তৃনমূল রামধনু জোট বাংলার বুকে সর্বনাশের খেলাতে নেমেছে। এমনতো নয় যে ধার্মিক মানুষের ভোট বামেদের প্রয়োজন নেই। সুতরাং জেনে রাখলে লাভটা বামেদের, আর বামেরা জিতে গেলে সমাজ জিতে যাবে। ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর যদি না এদের রোখা যায়।
নিখুঁত প্রেক্ষাপট। কুশীলবেরাও দুর্দান্ত অভিনয় করে চলেছে। আমরা ঠূটো জগন্নাথ হয়ে রয়েছি। সামনেই ভোট, আপনি ঠিক করবেন আপনি কার পক্ষে? রামের পক্ষে না রামকে যারা কলুষিত করেছে তাদের পক্ষে?
না শাসক মানছে রামের আদর্শ, না পারিষদেরা মানছে মহাবীরের জীবনী ধারা। গোটা সমাজটাই আজ বোবা হয়ে রয়েছে। কোনো কিছুতেই আর এর বিবেক জাগ্রত হয়না, উৎসবাক্রান্ত শবের দল। ঐহিত্যপূর্ণ সনাতন ধর্ম আজ সত্যিই সঙ্কটে। গোঁড়া মুসলমানদের জন্য আজ গোটা জাতিকে পরিকল্পিতভাবে বদনাম করা হয়। সেই দিন খুব দূরে নয়, যখন হিন্দু জাতিকেও পৃথিবীর হিংস্র জাতি হিসবে তকমা লাগিয়ে দেবে। নাস্তিকেরা চিৎকার করে প্রতিবাদ করুন, ধার্মিকেরা ধর্মকে রক্ষা করুন এই ধর্মব্যাবসায়ীদের হাত থেকে, যারা গোমাতার পুজো করে ভোট ভিক্ষা করে আর দেশকে ১ নম্বারে নিয়ে যায় ওই গোমাংশ রপ্তানি করে।
ধিক এই মৃত সমাজকে।
তথ্যসুত্রঃ বাংলাপিডিয়া
উইকিপিডিয়া
ডেইলি হান্ট নিউজ
এবেলা
চরৈবেতি ব্লগ

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...