রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪

ভয়নগর



আমি নিজে এই ভয়নগরের একজন ক্লীব কাপুরুষ।


আমি ও ১০ কোটি বাঙালীর প্রতিটা 'আমি' ভীষণ স্বার্থপর, ভীতু কেন্নোর মত, নপুংশক কুৎসিত মানসিকতার। আমি ও এই কোটি কোটি আমির দল পচিয়ে ফেলেছি সমাজটাকে, আজকে নিন্মাঙ্গের বস্ত্র দিয়ে আদুর উর্ধাঙ্গ আবরনের ব্যার্থ নির্লজ্জ চেষ্টা করছি মিথ্যা বাজারি প্রতিবাদের নামে। বিকিয়ে যাওয়া বিবেকে হঠাৎ কখনও স্ফুলিঙ্গের মত মনুষ্যত্ব জেগে উঠলে একটা আন্দোলনের মেজাজ তৈরি করছি, বাকিটা সেই নিজের 'কমফোর্ট জোনে' সেধিয়ে থাকা। "আমার কী, আমার কী ক্ষতি হয়েছে! সে হলে দেখা যাবে ক্ষণ"- এটাই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত।

আমি আসলে মৃত, নীতিবোধহীন লাশ। বেঁচে থাকার নাটকে একটা মহাপর্ব পার করছি নির্লজ্জ বেহায়ার মত।

ছিঃ

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪

আমরা কি আমাদের পরাজয় টের পাচ্ছি?

 



আমাদের পূর্বপুরুষরা কৃষক ছিলেন, শ্রমিক ছিলেন। থাকতেন মাটির কাঁচা ঘরে। অর্থাভাবে-অন্নাভাবে কখনও-সখনও উপোসও করতেন এক আধা বেলা। পরতেন মলিন পোশাকপরিচ্ছদ। আমাদের বাবারা চাইলেন আমরাও যেন পূর্বসূরিদের মতো শ্রমিক না হই, আমাদেরকেও যেন মাটির ঘরে থাকতে না হয়, আমরা যেন পাকা ঘরে থাকি, যেন পেট পুরে তিনবেলা খেতে পাই। বাবারা আমাদেরকে নিয়ে বাসে-ট্রেনে-লঞ্চে করে গ্রাম ছাড়লেন, মফস্বলে এনে পড়াশোনা করালেন, টিনশেড ঘরে রাখলেন।

আমরা পড়াশোনা করলাম, মফস্বল ছাড়লাম, উচ্চশিক্ষার্থে মহানগরে এলাম, স্নাতক হলাম, স্নাতকোত্তর হলাম; পূর্বপুরুষদের বিশাল বাড়ি ছেড়ে অ্যাপার্টমেন্ট নামক কংক্রিটের বস্তিতে উঠলাম, কায়িক পরিশ্রম থেকে মুক্ত হলাম, বুদ্ধিবৃত্তিক কাজকর্ম (আসলে কেরানিগিরি) করে জীবিকা নির্বাহ করা শুরু করলাম, পোশাকে-আশাকে ফিরিঙ্গিদের মতো ফিটফাট হলাম, শরীরে-মনে আভিজাত্য এল।

আমাদের পা আক্ষরিক অর্থেই আর মাটিতে পড়ল না, গা আর বৃষ্টিতে ভিজল না। আমরা মাটির ঊর্ধ্বে উঠে গেলাম, বৃষ্টির ঊর্ধ্বে চলে গেলাম। সর্বোচ্চ স্মৃতিশক্তি প্রয়োগ করেও আমরা মনে করতে পারি না— আমরা সর্বশেষ কবে মাটিতে হেঁটেছিলাম, বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম বা ঘাসের ছোঁয়া পেয়েছিলাম। এমনকি, নিজের কেনা অ্যাপার্টমেন্টের ছাদের চাবিও আমাদের কাছে থাকছে না, আমাদের মিলছে না নিজের মালিকানাধীন ভবনেরও ছাদে যাওয়ার অবাধ সুযোগ। অন্য দেশে মানুষ চাঁদে যাচ্ছে, আমরা সামান্য ছাদে যাবার জন্য আকুল।

আমাদের দাদুরা ছিলেন আব্দুল খাঁন, রমজান আলি কিংবা মৈনুদ্দিন। আমরা হলাম ফাহাদ ফারাজ অনন্য, ইফতেখার ইশমাম ইশতি কিংবা আহনাফ মুনতাসির উচ্ছ্বাস। আমাদের ঠাকুমারা ছিলেন ফতেমা বিবি, কিসমত বেওয়া কিংবা মাহফুজা খাতুন। আমরা হয়েছি আনিকা আজিজ অর্নি, মালিহা তাবাসসুম অবন্তী কিংবা শাগুফতা শেহরিন মাহিয়া। আমাদের কারো-কারো নামের আগে-পিছে-মাঝে যুক্ত হতে লাগল এসএম, কেএম, এবিএম, আ ক ম, আ ন ম, আ আ ম স।

আমাদের নাম ক্রমশ শক্ত হতে লাগল, কাটখোট্টা হতে লাগল, দুর্বোধ্য হতে লাগল। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষরা সোজাসাপটা নাম ধারণ করেই একটা বর্ণময় জীবন কাটিয়ে দিয়ে গেছেন, তাতে তাদের বেঁচে থাকতে সবিশেষ অসুবিধে হয়নি। আমরা আলুভর্তার নাম দিয়েছি ম্যাশড পটেটো উইথ গ্রিন চিলি, পুদিনা পাতা দেওয়া লেবুর শরবতের নাম দিয়েছি মিন্ট লেমনেড, ভাতের মাড়ে সিদ্ধ মুরগির ছেঁড়া টুকরো ফেলে তার নাম দিয়েছি চিকেন থাই সুপ। নতুন নামের খাদ্যের দাম শতগুণ হলেও পুরোনো সেই স্বাদ আমরা আর পাচ্ছি না।

আমরা গায়ে হলুদকে বানিয়েছি মাহেন্দি নাইট, কনে নাওয়ানোর নাম দিয়েছি ব্রাইডাল শাওয়ার, বউভাতকে বিদায় করে আমদানি করেছি রিসিপশন। আমাদের নামাজ, রোজা, রমজান, সেহরি, জিলাপি হয়ে গেছে যথাক্রমে সালাত, সাওম, রামাদান, সুহুর, জালেবি; কিন্তু হারিয়ে গেছে আমাদের ভাবগাম্ভীর্য, হারিয়েছে আধ্যাত্মিকতা, হারিয়েছে সহজিয়া জীবনবোধ; বিনিময়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে জেঁকে বসেছে উত্তুঙ্গ উগ্রবাদ (জাতীয় ও ধর্মীয় দুটোই) আর পৌনঃপুনিক প্রদর্শনবাদ।

কায়িক পরিশ্রম না-করতে করতে আমাদের দেহে পুরু চর্বি জমল, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েডের মত সার্বক্ষণিক রোগবালাই হানা দিলো এবং বাসা বাঁধল। চিকিৎসকরা আমাদের খাবারের পরিমাণ বেঁধে দিলেন- দিনে চার কাপ ভাত, চারটা রুটি, তিন কাপ শবজি, একটা শশা, দেড়টা গাজর, আড়াইটা আঙুর। চিকিৎসকরা আমাদেরকে প্রতিদিন দৌড়াতে বলে দিলেন। আমরা স্টপওয়াচ চালু করে হাফপ্যান্ট পরে ভুঁড়ি নাচিয়ে রাজপথে দৌড়াতে লাগলাম, জিমে গিয়ে বাঁদরের মতো এ-ডাল ও-ডাল ঝুলতে লাগলাম, বুকডনের নামে নাকে খত দিতে লাগলাম; আমরা সে সবের গালভরা নাম দিলাম— ‘ওয়ার্ক আউট’, ‘ক্যালরি বার্ন’।

শহরে থাকতে-থাকতে ক্লান্ত হয়ে আমরা দু-তিন মাস পরপর ছুটতে লাগলাম রিসর্টে। একটু গাছপালা আছে, ডোবার মতো একটা হাজামজা পুকুর বা পচা-গলা সুইমিংপুল আছে, ছাদ বা বেড়া খড়কুটোর তৈরি যাতে ফড়িং বসে, সন্ধ্যার পর গোটা দশেক জোনাকির দেখা পাওয়া যায়, বৃষ্টি হলে চার-পাঁচটা ব্যাঙ ডাকে— বেছে-বেছে আমরা এমন রিসোর্টে যাওয়া শুরু করলাম, ভাড়া গুনতে লাগলাম রাতপ্রতি পাঁচ-দশ হাজার টাকা। রিসর্টে লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক দিয়ে ভাত খেয়ে বিল দেওয়া শুরু করলাম বেলাপ্রতি মাথাপিছু পাঁচশো-হাজার; বারবিকিউ নামক মাংসপোড়ার পেছনে ঢালতে লাগলাম আরো হাজার-হাজার।

বারবিকিউর সাথে আমরা খাই তেল-ছাড়া পরোটা, অথচ আমাদের পূর্বপুরুষদের স্বপ্ন ছিল বড়লোক হয়ে একদিন তারা তরকারিতে ইচ্ছেমতো তেল খাবেন। আমরা উত্তরসূরিরা তরকারিতে তেল খাওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেছি, কিন্তু পাকস্থলী মোটেও তেল সইতে পারে না। খাওয়ার জন্য আমরা বড়লোক হলাম, বড়লোক হওয়ার পর আমাদের কারো-কারো ক্ষুধাই লাগছে না, ক্ষুধা লাগানোর জন্য চিকিৎসকদের পেছনে আমরা ঢালছি কাঁড়ি-কাঁড়ি টাকা।

যে-পেট পুরে খাওয়ার জন্য আমরা শহরে এসেছিলাম বা বড়লোক হয়েছিলাম, আমাদের সেই পেটে এখন আর সবরকমের খাবারই সয় না। প্রকৃতি আমাদের জিহ্বার স্বাদ কেড়ে নিয়েছে, মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিয়েছে, এখন খাবার আমাদের খেতে হয় কাপ মেপে। আমাদের বাবা-মায়েদের পাতে মাংস জুটত না, বড়জোর সপ্তাহান্তে রোববার বাজার থেকে একখামচি পিলে মুরগি বা এক পোয়া রেডমিট কিনে এনে এক কেজি আলু মিশিয়ে রেঁধে দশ সদস্যের পুরো পরিবার একবেলা মেতে উঠতাম মাংস-উৎসবে। এখন আমরা মাংস খেতে পারি না, বহু সময় রেফ্রিজারেটরেই পচে যায়, হাই কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, পাত জুড়ে শুধু হার্ট অ্যাটাকের আতঙ্ক।

আমরা শারীরিক পরিশ্রম থেকে বাঁচার জন্য পড়াশোনা করেছিলাম; কিন্তু প্রকৃতি আমাদেরকে বাধ্য করছে কুকুরের মতো জিভ বের করে নোংরা রাস্তায় দৌড়াতে, জিমনেশিয়ামে ঝুলতে, বাটখারা তুলতে, বস্তা কিলাতে। কুলিরা চাউলের আড়তে যা যা করেন; জিমনেশিয়ামে আমরা তা-ই করছি, করে গর্বের সঙ্গে সেসবের ভিডিও দিয়ে রিল বানাচ্ছি, বানিয়ে দেখাচ্ছি- আমরা কে কত স্বাস্থ্যসচেতন, কে কত অভিজাত, কে কত আলাদা। যার জিমের মাসিক চাঁদা যত বেশি, সে তত বেশি অভিজাত। শ্রমিকদের মতো দৌড়াব না বলে আমরা সুট-বুট পরে দালানে ঢুকেছিলাম, আমরা এখন ট্রেডমিল কিনে সেই একই দালানের ভেতরই দৌড়াচ্ছি। আমরা দৌড় ছাড়তে চেয়েছিলাম, দৌড় আমাদেরকে ছাড়েনি, দৌড় আমাদেরকে দৌড়ানি করাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কুঁড়েঘরে থাকব না বিধায় আমরা গ্রাম ছেড়েছিলাম, এখন আমরা কিছুদিন পরপরই পর্যটনকেন্দ্রের গলা-কাটা কৃত্রিম কুঁড়েঘরে যাই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে। কাচঘেরা বায়ুরোধী ভবন বানিয়ে শ্বাসকষ্ট বাঁধিয়ে, বুকভরা বাতাস নিতে লাখ টাকা খরচ করে আমরা পাহাড়ে যাচ্ছি, সমুদ্রসৈকতে ছুটছি। গায়ে মাটি লাগাব না বলে আমরা গ্রাম ছেড়েছিলাম, একটু মাটির স্পর্শের আশায় এখন আমরা পার্কে-পার্কে ছুটছি কিংবা ছাদবাগান করছি। ‘চাষাভুষা’ শব্দটাকে আমরা গালি বানিয়েছিলাম, এখন ছাদবাগানে এক ডজন টমেটো ফলাতে পারলে গর্বিত ‘নগরচাষি’ হিসাবে বুক ফুলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার করছি।

মাছধরা মানুষদের জেলে বলে তাচ্ছিল্য করা আমরাই লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে বড়শি পেতে বসে থাকছি সরকারি দিঘিতে সেই মাছই ধরার জন্য। শব্জি খাব না বলে আমরা বড়লোক হয়েছিলাম; এখন বাজারে শবজির দামই সবচেয়ে বেশি, রেস্টুরেন্টে অধিক দামে সব্জিই খাই, এটাই এখন বড়লোকদেরই খাবার স্ট্যাটাস। পূর্বপুরুষরা যে শব্জি খেতেনই না, যে শব্জি বেড়ে উঠত বাড়ির পেছনের ঝোপঝাড়ে অনাদরে-অবহেলায়; শহরে আমরা এখন সেই অনাহুত শবজিই কিনে খাচ্ছি কেজিপ্রতি শত-শত টাকা খরচ করে।

আমাদের পূর্বপুরুষরা ছেঁড়া কাপড় পরতেন অর্থাভাবে, এখন আমরা চড়া দামে ছেঁড়া-ফাটা জিন্স কিনে পরি। তারা পান্তাভাত খেতেন তিনবেলা রান্নার মতো জ্বালানি ছিল না বলে; আজ আমরা সেই পান্তাভাতই খাই হুজুকে মেতে। গরম ভাতে জোরপূর্বক জল ঢেলে, হাজার-হাজার টাকার শ্রাদ্ধ করে। মহানগরের সেসব রেস্টুরেন্টের খাবারের দামই এখন সবচেয়ে বেশি; যেসব প্রতিটা রেস্টুরেন্টের সাজগোজ গ্রামের থিম কেন্দ্রিক, যেসব রেস্টুরেন্টে মেঝেতে বিছানো জাজিমে বসে খেতে হয়, যেসব রেস্টুরেন্টের আবহসংগীত হিসাবে বাজে গাঁও-গেরামের গান। আমরা বাসায় রাঁধি না সময় বাঁচানোর জন্য, অনলাইনে অর্ডার করে রেস্টুরেন্টের খাবার বাসায় আনিয়ে খেয়ে দিনাতিপাত করি, সেই বেঁচে যাওয়া সময়ে আমরা পয়সা উপার্জন করি; এর পর আমরা লিভার সিরোরিস বাঁধাই, শেষে সেই পয়সা খরচ করি লিভার সিরোসিসের চিকিৎসায়।

আমরা পরিবারের সবাই মিলে চাকরি নিয়েছিলাম স্বাবলম্বী হব বলে; স্বাবলম্বী আমরা হয়েছি, স্বাবলম্বী হতে-হতে কেউ বা ধনকুবেরও হয়েছি, কিন্তু আমাদের সন্তানরা বড় হচ্ছে গৃহকর্মীদের হাতে। আমরা এতটাই স্বাবলম্বী হয়েছি যে, আমাদের সন্তানরা জাগ্রত অবস্থায় দেখছে আমরা ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছি, ঘুম থেকে জেগে দেখছে আমরা অফিসে চলে গেছি। স্বাবলম্বনের দাপটে আমাদের মা-বাবারা বার্ধক্য কাটাচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে, সন্তানরা শৈশব কাটাচ্ছে চাইল্ড কেয়ারে, আমরা যৌবন কাটাচ্ছি ডেস্কটপে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিয়ে করব না ভেবে আমরা কেউ-কেউ পঁয়ত্রিশেও বিয়ে করছি না, চল্লিশেও বিয়ে করছি না; করছি এরও পরে অথবা করছিই না। অথচ পূর্বপুরুষরা শেষ চল্লিশে দিব্বি নাতি-নাতনির মুখ দেখতেন। কিসের জন্য যেন অপেক্ষা করতে-করতে আমরা যৌবনেই বুড়িয়ে যাচ্ছি, আর বুড়ো বয়সে যুবকের ভূমিকায় অভিনয় করছি জোর করে। কোনোকিছুই শুরু বা শেষ করছি না তার সঠিক সময়ে, ফলত অবদমিরত যৌনাচারের তাড়নাতে সুগার ড্যাডি বা সুগার মম হচ্ছি।

সূর্যের আলো গায়ে লাগিয়ে ক্ষেতখামারে কাজ করব না বলে আমরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রাসাদে ঢুকেছিলাম। ঢুকে দেখলাম- শরীরে সূর্যের আলোর অভাবে আমাদের ঘুম আসে না। রাতের ঘুম ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ওষুধ খাওয়া শুরু করলাম, তাতেও কাজ না হওয়ায় সূর্যের আলো গায়ে লাগানোর জন্য আমরা ‘ওয়াক’ শুরু করলাম। শীতাতপনিয়ন্ত্রক যন্ত্র ওদিকে আমাদের শরীরে ডেকে আনল নিউমোনিয়া-অ্যাজমা-হুপিংকাশি। প্রযুক্তি আমাদের চোখ খেল, কান খেল, নাক খেল; আমাদের চোখে ধরিয়ে দিল চশমা, কানে বসিয়ে দিল হিয়ারিং এইড, নাকে নেবুলাইজার। পূর্বপুরুষদের যা যা আমরা করতে চাইনি, আমরা- উত্তরপুরুষরা এর সবকিছু করতে বাধ্য হচ্ছি। বড়লোক হতে-হতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। টাকা খেয়ে আমরা কুলাতে পারছি না। টাকা রাখারও জায়গা হচ্ছে না আমাদের। টাকা ব্যাংকে রাখলে ক'দিন পরে ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে শেয়ারবাজার লুট হয়ে যায়। এখন আমাদের গরিব হতে ইচ্ছে করে, কিন্তু পারি না। গরিবরা বড়লোক হতে পারে, কিন্তু বড়লোকরা একবার বড়লোক হয়ে যাওয়ার পর আর গরিব হতে পারে না।

আমরা পাঠ্যবহির্ভূত বই পড়তাম। খবরের কাগজ পড়তাম। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখতাম, টিভিতে শিশুতোষ সিরিয়ালের মেলা বসত তখন। রবিবার দেখতাম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি। এর মধ্যে খবরের কাগজ বাদে বাকি সবগুলোকেই আমাদের পূর্বসূরিরা অন্যায় বলে মনে করতেন। পাঠ্যবইয়ের ভাঁজে কমিকের বই পেলে প্রহার করতেন, প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার খবর পেলে প্রহার করতেন, প্রহার করতেন এমনকি প্রতিবেশীদের বাড়িতে শুক্রবারের ছায়াছবিটিও দেখতে গেলে। আমরা ভাবতাম বড় হয়ে বড়লোক হলে আমাদেরকে কেউ ঠেকাতে পারবে না- আমরা ইচ্ছেমতো বই পড়ব, চলচ্চিত্র দেখব, গান শুনব।

আমরা বড় হলাম, বড়লোকও হলাম। ততদিনে দেশ থেকে প্রেক্ষাগৃহ উধাও হয়ে গেছে, চলচ্চিত্র জগৎই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে, চলে গেছে আমাদের পাঠাভ্যাস। আমাদের ফোনে এখন হাজার-হাজার বইয়ের পিডিএফ, ওটিটি-ইউটিউবে অগণিত চলচ্চিত্র। বই পড়ার জন্য এখন গ্রন্থাগারে যেতে হয় না, চলচ্চিত্র দেখার জন্য প্রেক্ষাগৃহে যেতে হয় না, গান শোনার জন্য কিনতে বা ভাড়া করতে হয় না ক্যাসেট-সিডি-ডিভিডি। কিন্তু আমাদের এখন কিছুই দেখা হয় না, কিছুই শোনা হয় না, কিছুই পড়া হয় না। আমাদের সবকিছু জমা হয়ে আছে, আমাদের সবকিছু জমে গেছে- উত্তর মেরুর বরফের মতো। সবকিছু হাতের মুঠোয় চলে আসায় আমরা এখন আর কিছুই দেখি না, শুনি না, পড়ি না। আমাদের ভেতরকার পাঠকের মৃত্যু হয়েছে, শ্রোতার মৃত্যু হয়েছে, দর্শকের মৃত্যু হয়েছে।

আমাদের পূর্বসূরিরা ভ্রমণকাহিনী পড়তেন, পড়ে কল্পনায় ওসব জায়গা দেখে নিতেন, পরে পয়সা জমলে সেসব জায়গায় ভ্রমণে যেতেন। এখন আমরা ভিডিওতেই সব দেখে ফেলছি, আমাদের আর কল্পনা করতে হচ্ছে না, ফলে আমাদের কল্পনাশক্তিও ‘নেই’ হয়ে গেছে। ফলত আমরা এখন আর কল্পনা করি না। কোথাও বেড়াতে গেলে সেই জায়গাটা দেখি না, শুধু ভিডিও করি, জায়গাটাকে ব্যাকগ্রাউন্ড বানিয়ে সহস্র ছবি তুলি; পরবর্তীকালে সেসব ছবি আমরা আর একবারও খুলে দেখি না। ফলে মরে গেছে আমাদের দর্শনেন্দ্রিয়ও। আমাদের সর্বাঙ্গে মরিচা ধরেছে, সব ইন্দ্রিয়ে জং ধরেছে। যখন সবকিছু দুর্লভ ছিল, তখন ঠিকই আমরা মূল্যবান বস্তুর মূল্য দিতাম।

সময় বাঁচানোর জন্য আমরা ফোন কিনেছিলাম। পরে, দেখলাম- ফোনই আমাদের জীবনের সিংহভাগ সময় খেয়ে ফেলেছে। যখন দু-টাকার খামে করে চিঠি লিখে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হতো এক মাস, তখনও আমরা নিঃসঙ্গ ছিলাম না। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের অযুত-নিযুত অনুসারী, মেসেঞ্জারে কড়া নাড়লে এখন উত্তর পাওয়া যায় সেকেন্ডের মধ্যে, কথা বলার জন্য এখন সবুজ বাতি জ্বালিয়ে রাখে শত-সহস্র অনুরাগী; কিন্তু মন খুলে কথা বলার মতো এখন আমরা কাউকেই খুঁজে পাই না, মানুষ খুঁজে পেলেও কথা খুঁজে পাই না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা আমাদের প্রাত্যহিক গল্প এত বেশি বলে ফেলি এবং দৈনন্দিন জীবনের ছবি-ভিডিও এত বেশি দেখিয়ে ফেলি যে, এখন আমরা সবার সবকিছু জানি, মুখোমুখি সাক্ষাতে বলার মতো কোনো গল্পই এখন আর আমাদের অবশিষ্ট থাকে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলতে-বলতে আমরা আমাদের সব গল্প শেষ করে ফেলেছি, দেখিয়ে শেষ করে ফেলেছি সমস্ত ছবি। দু-টাকার হলুদ খামের যুগেও আমরা নিঃসঙ্গ ছিলাম না, কিন্তু দু-সেকেন্ডের সবুজ মেসেঞ্জারের যুগে আমরা নিঃসঙ্গ। এখন আমরা নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ এবং গল্পশূন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত গল্পগুলো আমরা এমন ব্যক্তিদেরকে বলে ফেলেছি, ব্যক্তিগত ছবিগুলো এমন ব্যক্তিদেরকে দেখিয়ে ফেলেছি; যারা আমাদের ব্যক্তিজীবনের অংশই না, যাদের সাথে কখনোই দেখা বা কথা হবে না। ভূগর্ভস্থ জল বেশি তুলে ফেললে নলকূপ আর জল দেয় না, জীবনের গল্প বেশি বলে ফেললে জীবনও নলকূপের মতো আচরণ করে। আমরা প্রত্যেকে একেকজন পরিত্যক্ত নলকূপ।

আমাদের পূর্বপুরুষদের বাড়িতে ছিল বিশাল পুকুর, সারি-সারি ফলগাছ, শব্জির ক্ষেত, গোয়ালঘর। বড়লোক হয়ে আমরা পুকুরের পরিবর্তে দেড় হাত চওড়া বাথটাব বানিয়েছি, ছাদে গাছ নাম নামক কিছু প্রহসন লাগিয়েছি, খাঁচায় পালছি কুকুর-বেড়াল-খরগোশ। গাঁয়ের বিঘা-বিঘা জমি বেচে শহরে এসে আমরা ফ্ল্যাট নামক সাড়ে সাতশো বর্গফুটের খোপ কিনছি। খোপের ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখছি বনসাই। একেকটা বনসাইয়ের দাম মূল গাছের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। আমরা স্বপ্ন দেখি- শহরে কামানো টাকা দিয়ে শেষ বয়সে গ্রামে গিয়ে বাগানবাড়ি করব। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষরা বাগানবাড়িতেই জন্মেছেন, বাগানবাড়িতেই দিনাতিপাত করেছেন, বাগানবাড়িতেই মরেছেন। অর্থাৎ শেষ বয়সে যে জীবন যাপন করব বলে শহরে বসে আমরা খেটে মরছি বা স্বপ্ন দেখছি, প্রাচীন আমলের অশিক্ষিত লোকজন বিনা আধুনিক পড়াশোনায়ই সেই জীবন আজীবন যাপন করে গিয়েছেন।

শিক্ষিত বড়লোক হয়ে শহরে বসে আমরা যা যা করছি বা করার চেষ্টা করছি, আমাদের অশিক্ষিত গরিব পূর্বপুরুষরা ওগুলোই করতেন। রাত আটটার মধ্যে তারা ঘুমিয়ে পড়তে পারতেন, তাদের চোখে ঘুম ছিল। এদিকে আমাদের ঘুমের ওষুধ খেয়ে রাত তিনটেতেও ঘুম আসে না। পূর্বপুরুষদের যা যা আমরা এড়াতে চেয়েছিলাম, এর সবকিছু আমরা উচ্চমূল্যে করতে বাধ্য হচ্ছি। বরং তাদের বাড়ি ছিল আমাদের ফ্ল্যাটের চেয়ে বহুগুণ বড়, তাদের খাবার ছিল বিশুদ্ধ, তাদের শরীর ছিল সুঠাম। অথচ আমরা ভেবে বসে আছি শিক্ষিত ও বড়লোক হয়ে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের চেয়ে ভালো আছি।

তা হলে? আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের চেয়ে কতটুকু এগোলাম? তাদের চেয়ে আমরা কতটা ভালো আছি? প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা কি বিজয়ী হয়েছি? নাকি গো-হারা হেরে বসে আছি? আমরা কি আমাদের পরাজয় টের পাচ্ছি?

______________________________
মূল রচনা- আখতারুজ্জামান আজাদ

সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

আদর্শ ভক্ত



ইন্ডিয়াতে সামান্য ১%ও আদর্শ ভক্ত নেই। কাজকর্ম নেই, তার উপরে অশিক্ষা, যাবে কোথায়! তাই বিজেপি নেতাদের ভক্তগিরি করে।


তৃণমূল চোর, কিন্তু তারা নিজেরাও সেটা জানে ও মানে। পেটের দায়ে, অনায়াস নিশ্চিত ও হারামের রোজগার এর জন্য তৃণমূল দল করে।

পার্থ চ্যাটার্জি বলেছিল মাস্টারদের মাইনে আমি দিই। মমতা ও তার চামচারা বলছে সরকারী টাকা নিলে ছবি টাঙ্গাতে হবে মণ্ডপে। ভাতা নেওয়া ইমামের বাড়িতেও মমতার ছবি টাঙাতে হবে দাবীও সঠিক। তাই প্রতিটা দাবীর সাথে পূর্ণ সহমত পোষণ করি।

সহমত পোষণের মধ্যেই ইমানের পরিচয়।

যেমন, বাংলাদেশীরা রীতিমতো বিশ্বাস করে- তারাই বিশ্বের একমাত্র শ্রেষ্ঠ। স্বভাবতই, তাদের ক্রিকেট বিশ্বসেরা, ইন্ডিয়ার চোর্টামির কারনে তারা অবহেলিত।

আজ তাদের এক বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমেরিকার চেয়েও উন্নত। তাদের সমস্ত কিছু বিশ্বমানের কিন্তু বাকি দুনিয়া চক্রান্ত করে সেই শ্রেষ্ঠত্বকে দাবায়ে রাখে।

এটা কোন মজাকি নয়, একটা বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশী এটা অন্তর থেকে বিশ্বাস করে। তাই তো তাদের রাষ্ট্রপ্রধান, সংবাদমাধ্যম এগুলো বলে ও প্রচার করে।

নতুবা যক্ষা রোগী, সস্তার যাত্রাশিল্পী 'টাইগার রবি'র অন্যতম স্পনসর, বাংলাদেশের প্রবাদপ্রতিম মহানায়ক মুশফিকুর "নাগিন" রহিম না হয়ে যায়? মিলতেই হবে, মিলতেই হবে।

যেমন, শূন্য পেলেও একদল রাজনৈতিক কর্মী নিজেদের সবচেয়ে বুদ্ধিমান এবং মান মর্যাদা যুক্ত ভাবে। এটাও কিন্তু গভীর বিশ্বাসের ব্যাপার।

সবই বিশ্বাস। আর বিশ্বাসে মিলায় বস্তু।

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বাংলাদেশঃ আধুনিক বিশ্বের নবতম ব্ল্যাক হোল

 

ব্ল্যাক হোল কী বা কাকে বলে?
একটি নক্ষত্র মৃত্যুর মাধ্যমে নিঃশেষিত হয়ে গেলে, অস্থির কেন্দ্রীয় অংশ নিজের ভিতরের দিকেই ধসে যায় এবং এমন সর্বগ্রাসী হয়ে উঠে, যেখান থেকে আলোরও সাধ্য নেই বাইরে পালাবার।
হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশ রাষ্ট্র বর্তমানে ঐ ব্ল্যাকহোলেই পরিনত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই নিঃশেষ সংগঠিত করার বিষয়টার একমাত্র কৃতিত্ব সেখ হাসিনা ও তার ১৬ বছর ধরে চলা সরকারের। সরকারী সম্পদকে কীভাবে কুক্ষিগত ও আত্মসাৎ করে নিজের ও পারিষদদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিনত করে বিদেশে পাচার করা যায় তার একটা বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রেখেছে। এর সাথে সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপপ্রয়োগ করে বিরোধীদের যেকোনো মর্মে দমন উৎপীড়ন করেছে, কর্মহীন যুবসমাজকে লাগাতার মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে ফাঁসিয়ে রাখাটাও শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
ফলত বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অরাজকতা আর অপশাসনের চাপে নুজ্ঝ একটা সমাজ মুক্তি চাইলো। এটা রাতারাতি কোনো দাবী ছিলোনা, কিন্তু বাংলাদেশের শেষ ‘জাতীয় নির্বাচন’টা পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতই, প্রকাশ্য প্রহসনের পর সম্পূর্ণ বিষয়টা আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, গোটা রাষ্ট্রটা একটা বারুদের স্তুপে পরিনত হয়ে যায়। প্রতিটা স্বৈরাচারীই এই স্তুপকে গ্রাহ্য করেনা ক্ষমতার দম্ভে, হাসিনা ও তার উপদেষ্টারাও সেটা করেনি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায়। কোটা আন্দোলন এই বারুদের স্তুপে স্ফুলিঙ্গের কাজটি করেছিল মাত্র। বাকিটা সকলের জানা।
দীর্ঘদিনের পুষে রাখা রাগকে কেন্দ্রীভূত করানোটা সবসময় সমস্যাকর, কোটা আন্দোলনকে তাই কুলোর বাতাস দিতে শুরু করে স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল। আজকের বিকারগ্রস্থ বাংলাদেশী যুবসমাজ যেভাবে ভারত বিদ্বেষের স্রোতে ডিঙা ভাসিয়েছে, তার কারন ভারতের সাথে কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্তরে অতি ভালো সুসম্পর্ক। ৪০৯৬ কিলোমিটারের বিশাল দৈঘ্যের সীমান্ত এলাকা ভারতের সাথেই, যা তাদের সর্বমোট আন্তর্জাতিক সীমান্তের প্রায় ৯৪ শতাংশ। সুতরাং, ভারতে ঘেরা একটা দেশকে সেই বৃহৎ প্রতিবেশীর সাথে যে সুসম্পর্ক রাখতেই হবে, এটা কোনো জটিল মহাকাশ বিদ্যা নয়। স্বাভাবিকভাবেই সেদেশের অফিসিয়ালি আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ব্যবসায়িক অংশীদার ভারত, চীনের ঠিক পরেই। আন-অফিসিয়ালি হিসাবটা এটা এর দ্বিগুন হুন্ডি পথে। প্রসঙ্গত এই হুন্ডি লেনদেনের পথিকৃৎ কিন্তু আমাদের ভারতই, এবং ভারতীয়রাই এই হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে বিশ্বজুড়ে।
বাংলাদেশে নিজেদের পণ্যের বাজার দখলের পাশাপাশি, ভারতের বগলের মধ্যে নিজেদের সেনা উপস্থিতি রেখে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে আমেরিকার ভীষণ দরকার বাংলাদেশ নামের এই ভূমিটা। প্রসঙ্গত বাংলাদেশের রপ্তানি বানিজ্যে সর্ববৃহৎ অংশীদার কিন্তু এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই। সুতরাং, ছাত্র আন্দোলনের আগুনে যথারীতি মদত দেয় মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা CIA, সহযোগী ছিল পাকিস্থানি ISI, ঠিকিই শুনছেন ISI, আর দেশজভাবে সাথ দিয়েছিল জামাত শিবির, যারা ঘোষিতভাবে পাকিস্তানপন্থী। আজকের দিনে ছাত্রসমাজের বহু সমন্বায়ক সরাসরি জামাতের ছাত্র শিবির থেকে এসেচছে, তা তাদের স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট।
হাসিনা কার কাছে পদত্যাগ জমা করেছিল, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন প্রফেসর ইউনুসই কেন? ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাষনের মতন করে মার্কিনিরা উপনিবেশ স্থাপন করেনা, তারা অস্ত্রবহরে সজ্জিত নিজেদের সেনাসম্ভার রাখে। চেয়ারে বসায় নিজেদের বিশেষ শিক্ষায় শিক্ষিত একটা জড়ভরত বা সাক্ষীগোপাল ঠুঁটো পুতুল, যার কাজ প্রভুর নির্দেশাবলী যথাযথ প্রয়োগ করা। ইউনুস সাহেব এই ঠুঁটোর একটা কপিবুক ‘নোবেল’ সংস্করণ। ওনার অধীনে যারা সমন্বায়ক হয়েছেন, তারা আসলে সিনেমার নায়িকার মৃত বাবার ভূমিকাতে আছেন – শুধু দায় নেওয়ার জন্য একটা ছবি হয়ে। মূল সিনেমাতে যার ১ সেকেন্ডেরও অভিনয় দৃশ্য নেই।
ক্রীড়াকে হাতিয়ার বানিয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে রাখাটা মানব সভ্যতার মতই সুপ্রাচীন। দেশজুড়ে উত্তাল সময়ে যখন সদ্য ‘স্বাধীন’ দেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ সমন্বায়কের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় সব ক্ষেত্রে নিজেদের মতামত রাখছে ও শরিকানা দাবী করেছে, সেই সময় আহাম্মক যুবসমাজকে অন্যদিকে ভুলিয়ে দেওয়া ভীষণ জরুরী ছিল। পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ ও তার ফলাফল এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর আগামী ২০ বছর ধরে তপস্যা করলেও, বাংলাদেশ আর একটিও টেষ্ট ম্যাচ জয়ের আশেপাশেও পৌঁছাবেনা পাকিস্তানের বিপক্ষে। কিন্তু জনগণ পাতানো ম্যাচ জয়ের উৎসবে ভেসে গেলো, পরবর্তীতে ভারতের সাথে প্রথম ম্যাচে হেরে আবার প্রবল সমালোচনায় ধুইয়ে দিলেও, ফোকাসটা কিন্তু ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যতই পিটিয়ে মানুষ খুন করুক ছাত্রদল কিম্বা ত্রাণের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠুক নাবালক সমন্বায়কদের বিরুদ্ধে। সেদেশের সাধারণ মানুষের তাতে এই মুহুর্তে তত আগ্রহ নেই যতটা ক্রিকেট নিয়ে রয়েছে। আর এই আগ্রহ ফেরাতে ISI এর অঙ্গুলীহেলনে চলা পাকিস্তান ছাড়া সম্ভব ছিল কী?
জাতীয় সঙ্গীত বদল নিয়ে আলাপ অনেক বেশী জরুরী, কারন বিল্পব বিপ্লব আবহাওয়াটা জিইয়ে রাখাটা জরুরী। সাধারণ মানুষ যেন মনে করে তারাই এই মুহুর্তে দেশ চালাচ্ছে বা তাদের সরকার চলছে, যাতে তৃতীয়পক্ষে আরো সুসজ্জিত হয়ে ময়দানে নামতে পারে। কারা এই তৃতীয় পক্ষ? যারা ইতিমধ্যে জিন্নাকে জাতির পিতা হিসাবে দাবী করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের এক স্মারক অনুষ্ঠানে, প্রকাশ্যে- তারা? এদের যুক্তি, জিন্না না থাকলে পাকিস্তান হয়না, পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতোনা। অতএব, দুয়ে দুয়ে চার।
মার্কিনিদের অঙ্ক হলো- এলোমেলো করে দে মা, লুটেপুটে খায়। আরব বসন্তের নামে ‘বিল্পব’ ঘটানো প্রতিটি দেশ সহ ইরাক ও আফগানিস্তানে এটাই করেছে আমেরিকা। প্রত্যেকটা দেশকে নির্মমভাবে ব্ল্যাকহোলে রূপান্তরিত করে ছেড়েছে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, যত দুর্বল বাংলাদেশ, তত বেশি বেশি লোন ভিক্ষা। তত বেশী মহান দাতা হিসাবে কিছু ছাপানো ডলার ছড়িয়ে দিয়ে দেশটাকে কুক্ষিগত করবে। নতুবা বাংলাদেশের সেনা কীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা পায়? এখানেই আবির্ভুত হবে তৃতীয় পক্ষ, তাহলে এরা কারা?
যে দেশের ৯২% জনগনই মুসলমান, সেখানে মসজিদের খতিব, মাদ্রাসার শিক্ষক সমাজ ও মিলাদ-মেহফিল করা হুজুরদের উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা অসম্ভব, তাদের সমাজ ব্যবস্থা, রাজনীতি ও অর্থনীতিকেও বোঝা যাবেনা এদের উপেক্ষা করলে। হাসিনা সরকার শেষ ৭ বছরে এই সম্প্রদায়টিকে চরমভাবে অবহেলা করে রীতিমত দমনপীড়ণ নামিয়ে এনেছিল। সারা বিশ্বে সুন্নি ধারার ইসলামিক জনসমাজে ভারতের দেওবন্দী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব সবচেয়ে ব্যাপক। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশেও যার ব্যতিক্রম নেই, এমনকি ইসলামের মূল পীঠস্থান সৌদি ও গোটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে আসে ইসলামিক পড়াশোনা করতে। কিন্তু, বাংলাদেশের মুসলমান সমাজে পীরেদের উপস্থিতি ভয়ানক ও ভয়ঙ্করভাবে, কোটি কোটি এদের অনুগামী সংখ্যা, আর এরা অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের তথা নির্দিষ্টভাবে সৌদি সরকার নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক মতাদর্শ দ্বারা পরোক্ষে পরিচালিত, কারন অবশ্যই পয়সা ও দ্বিতীয় হলো সরাসরি ‘আরবের স্বীকৃতি’ দেখিয়ে মুসলমান সমাজে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি। কামলা খাটতে যাওয়া শ্রমিক দলের মাধ্যমেই যে এই অনুপ্রবেশ, তা বলাই বাহুল্য।
তৃতীয় দলটা হলো দেওবন্দ ও আরবি যোগ ব্যাতিত এক পৃথক সম্প্রদায়, যাদের জন্ম মূলত এই দুই গোষ্ঠী থেকে আসা মানুষজনদের নিয়েই। হাসিনা শাসনামলে এরা অরাজনৈতিকতার মোড়কে নিজেদের শক্তিসঞ্চয় করে সুযোগের অপেক্ষাতে ছিল। হাসিনার পলায়ন, ইউনুসের সিংহাসন আরোহন, দেশে আইনশৃঙ্খলার অরাজকতা, মুদ্রাস্ফিতি, ব্যাঙ্কের পতনের পর খুব শীঘ্রই এই গোষ্ঠী ক্ষমতা অধিগ্রহণ করলো বলে, শুধু সময়ের অপেক্ষা। অর্থাৎ বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে ইসলামিক মৌলবাদীদের করায়ত্তে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হবে, সে দেশের সেনার সহায়তায়। সাম্প্রতিক বন্যাতে সরকারী সাহায্যের চেয়ে এই সংগঠনের তরফে ত্রাণসামগ্রী ও তৎপরতা অনেক বেশী ছিল। সমন্বায়ক প্রফেসর ইউনুস পর্ব একটা সার্কাস পর্ব মাত্র, যার মেয়াদ খুব বেশী নয়। এই তৃতীয় পক্ষের মুখটা শুধু দেখা যাচ্ছে, এদের বাকি শরীরটা অপ্রকাশ্য এখনও। এদের পিছনে কোন কোন শক্তি আছে সেটাও অতি শীঘ্রই প্রকাশ পাবে নিশ্চিত।
বর্তমানে কী অবস্থা বাংলাদেশে?
☞চাল ডাল পিঁয়াজ ডিম আলু সমেত প্রায় সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যথেষ্ট পরিমাণ বেড়েছে।
☞৫৪ টা ব্যাংকের মধ্যে মাত্র সাতটা ব্যাংক মোটামুটি টিকে আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বীকার করে নিয়েছে বাংলাদেশ যেকোনো সময় শ্রীলঙ্কা হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ ব্যাঙ্ক গণেশ উল্টিয়ে শুয়ে আছে, আর সেই ভিডিও বাইরে প্রকাশ হয়েছে অতএব এটা আর সেটা অস্বীকার করার পরিস্থিতিতে নেই।
☞অধিকাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ, প্রায় ১১৪টা। সংশ্লিষ্ট শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৮০% মানুষ গত দুই মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেনি। উল্টে তারা সবাই বেতন বৃদ্ধি আন্দোলনে নেমে পরেছে। বিদ্যুতের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ফলে পোশাক শিল্পের কারখানা গুলো বিদ্যুতের অভাবে এরপর নতুন করে ভুগবে।
☞ডলারের মজুদ তলানিতে, দেশের ক্যাপিটাল রির্জাভ হু হু করে কমে গেছে। নতুন ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন ইউনুস সাহেব। বকেয়া পরিশোধ না করলে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। ভারত ডিজেল পাইপ লাইন প্রজেক্ট সম্প্রসারণ বন্ধ রেখেছে।
☞বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ কামলাখাটা শ্রমিক থাকলেও, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে কমে গেছে, নতুন করে বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার পরিসর ছোট হয়ে এসেছে। মেডিকেল আর স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়া ভারত সব ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের সাথে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা ভারত বন্ধ করে দিয়েছে।
☞মাজারে হামলা হচ্ছে, কারন সম্পদ লুঠ। মসজিদের কোনো সম্পত্তি নেই, কিন্তু মাজারের রয়েছে। লোকে মাজারে মানত করে, রীতিমতো টাকা পয়সা সোনা দানা দেয়। যারা এই দান দেয়, তারা ধর্মস্থান মনে করে দেয়, পূণ্যার্জনের জন্য। যে লুঠছে- সে অর্থ সম্পদের লোভে লুঠছে, ধর্মস্থানের জন্য নয়।
☞ভারত এবং রাশিয়া বিভিন্ন খাতে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চেয়েছে তার মধ্যে রাশিয়া আবার সুদ সমেত চেয়েছে।
☞ইন্ডিয়ার সেভেন সিস্টার্স দখল করতে গিয়ে, নিজেদের পার্বত্য চট্টগ্রাম তিন তালাকের হুমকি দেওয়াতে হাতছাড়া হওয়ার মুখে।
☞ক্রীড়া ক্ষেত্রে থেকে বাংলাদেশ মোটামুটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পথে।
☞তাদের ইনসাফ বাহিনী গণ্ডগোল শুরু করেছে।
এমন বেগতিক পরিস্থিতিতে জামাত শিবির বাধ্য হয়ে ভারতের প্রতি নরম হয়ে গেছে, যদি তাতে ওদের ভাগ্যে ক্ষমতার শিকে ছেঁড়ে। মোদ্দা কথা ওরা না ধর্মান্ধ মুসলমান হতে পারছে না সেকুলার হতে পারছে না নাস্তিক।
ইন্ডিয়া কিন্তু বাংলাদেশের বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে আফগানিস্তানে, যা ডেভলপড হতে সময় লাগলেও, অল্পদিনের মধ্যেই রপ্তানি বানিজ্য ঘাটতি পুষিয়ে নেবে। ইতিমধ্যেই কাবুলে ইন্ডিয়ান এম্বাসি খুলে দিয়েছে। কাবুলও ইন্ডিয়ানদের জন্য আলাদা অঞ্চল সংরক্ষিত করে দিয়েছে এবং আমাদের অবাধ ও মুক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে যদি কোন সমস্যা উদ্ভুত হয়, সেক্ষেত্রে তালিবান সরকার স্পষ্টভাবে বয়ান দিয়েছে “আমরা সেসব বুঝে নেব” ।
আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশ যেমন বুঝতেই পারবনা – পশ্চিমা সভ্যতাতে ব্যাক্তিস্বাধীনতার বিষয়টা ঠিক কোন পর্যায়ে, তাদের নির্বাচনে ভোটলুঠ বা রিগিং নামের শব্দই নেই, তাদের গণতন্ত্র আর আমাদের ভারতীয় গণতন্ত্র- দুই এর প্রাক্টিসে আলোকবর্ষের ফারাক। তেমনই লাঠিসোটা নেওয়া বাংলাদেশী 'মেধাবী'দের সাথে যে কোনো সভ্য ভদ্র গণতান্ত্রিক দেশের আচার ব্যবহারের ফারাক সুবিপুল। আন্দোলনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দিশাহীন অশিক্ষিত যুবসমাজের সাথে গণতান্ত্রিক জাতির ফারাক যে আচরণে, সেটা গণভবন লুঠের দৃশ্যে বিশ্ববাসী চাক্ষুষ করে নিয়েছে।
প্রচণ্ড বেগে ছুটে চলা পৃথিবীতে বাস করে যেমন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি টের পাওয়া যায়না, তেমনই বাংলাদেশে বাস করে নিজেদের নিকৃষ্টতর, কুৎসিত, পাশবিক, অশিক্ষাময় যুব চরিত্রকেও ধরা যায়না। পাশাপাশি ইন্ডিয়া বা এই ধরনের যে সকল দেশে গণতন্ত্রের কালচার এখনও টিকে আছে, সেগুলোকেও ঠিক কেমন দেখতে, তার একটা বাস্তবসম্মত অবয়বের কল্পনাও কঠিন বর্তমান বাংলাদেশ যুব প্রজন্মের কাছে, নতুবা হাসিনার পলায়ন তাদের কাছে স্বাধীনতা হিসাবে গ্রাহ্য হতনা। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ঠিক কীভাবে কাজ করে, এটা বুঝতে গেলে যে শিক্ষা, পরিবেশ আর দর্শন লাগে- সেসব থেকে বর্তমান বাংলাদেশী যুবসমাজের দুরত্ব কয়েক আলোকবর্ষের।
ভারতের মেধাবীরা যেখানে বিশ্বের ৫০%বড় কোম্পানির শীর্ষকর্তা, সেখানে বাংলাদেশের মেধাবীরা হয় রাস্তার ট্রাফিক সামলাচ্ছে, কিম্বা বিদেশে গিয়ে কাজের কামলা খাটছে। কামলা খাটা শ্রমিকের রক্ত জল করে পাঠানো ডলার রেমিটেন্সের টাকায় দেশে রয়ে যাওয়া বেকার যুবসমাজ ফুটানি মেরে সোস্যালমিডিয়াতে বয়কট ইন্ডিয়ার হ্যাজ নামাচ্ছে। স্বাধীনতাকামী সাধারণ বাংলাদেশী জণগণ বুঝে গেছে, তারা চরম ঠকে গিয়েছে।
মুসকিল হচ্ছে পড়শি অস্থিতিশীল হলে তার আঁচ আমাদের ভারতে লাগতে বাধ্য। রুমমেটের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর হলে, সাথের জনের নাক সড়সড় করার মত অস্বস্তি তৈরি হবেই। আগষ্ট বিপ্লব পরবর্তী অস্থিরতার কারনে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর বাংলাদেশকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে, ইচ্ছাকৃত ও জবরদস্তি করে, যাতে আরো দুর্বল হয় সে দেশের ভাবমুর্তি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আমেরিকাকে ফলো করাটাকেই দায়িত্ব হিসাবে নেয়, মানে সেখানেও একই নিয়ম লাগু। আগামীতে উল্লেখিত দেশগুলো সহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ বাংলাদেশীদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করে দেবে চলমান অস্থিরতার কারন দর্শিয়ে, কেউ কেউ ইতিমধ্যেই সেই কাজ করে ফেলেছে। ফলত দেশের জনগণের কাছে অগাধ সময়, আর সময়গুলো ব্যায় করবে, শিলিগুড়ি করিডরকে কব্জা করে সেভেন সিস্টার্স দখল করে, কোলকাতার ৫০০০ টাকা ইলিশের দাম আবিষ্কারে, ঠাকুরগাঁও তে বিমানবন্দর তৈরি করে, ২৬ লক্ষ ভারতীয়কে তাড়াতে পরিকল্পনা করে যারা বাংলাদেশে কাজ করে কিম্বা ফারাক্কার অদূরে ৩০০ ফুট উঁচু বাঁধ নির্মান করে, ফেসবুক ও ইউটিউবে।
এগুলো আমাদের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের কাছে এলোমেলো পর্যায়ের বিনোদনের যোগান দিলেও, এতে পেটের খিদে ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যোগান দেবেনা বাংলাদেশী আমজনতাকে। খিদে অপরাধের আঁতুড়ঘর, এখন এত বিপুল সংখ্যক আবাল যদি আমাদের এদিকে চলে আসে বা আসার চেষ্টা করে তখন কী হবে? ওদের ৯৪% বর্ডার তো আমাদের সাথেই। সমস্যা এখানেই। ওরা ব্ল্যাকহোলে তলিয়ে গেলে, আমাদেরও সেই আলোকহীন মলিনতাকে স্পর্শ করতে হবে, বিশেষত আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের। এরা তো আর কেউ মায়ানমার যাবে না, না যাবে নাগাল্যান্ড, মনিপুর বা অরুণাচলে।
পাকিস্তানের লোকেরা আফগানিস্তান ইরান ইরাক মধ্যপ্রাচ্য মধ্য এশিয়া এইসব অঞ্চলের ডাঙ্কি রুটে ইউরোপে পৌঁছে যায় ও পরবর্তীতে ঠিক ইউরোপ ও আমেরিকার বড় শহরে সিফট করে যায়। এই মহামূর্খ বাংলাদেশী গুলো যাবে কোথায়, যারা বয়কট ইন্ডিয়া স্লোগানে আর্তনাদ করছে? খুব শিজ্ঞিরি এরা ইন্ডিয়াতে আসার জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি হয়ে যাবে একই উগ্রতার সাথে, যেকোনো মূল্যে। এটা কবে হবে নির্দিষ্ট তারিখ বলা না গেলেও, সময় যে একদম শিয়রে- তা বলাই বাহুল্য।
আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাননীয় রাজনাথ সিং দেশের সেনাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। বাংলাদেশের উদভ্রান্ত জনগণ ভাবছে এটা যুদ্ধের প্রস্তুতি। আজ্ঞে না, এটা আপনাদের ওই আবালদের ঠেকানোর প্রস্তুতি, যারা তারকাঁটা ডিঙিয়ে ফাঁকিদিয়ে এদেশে ঢুকে পরার তাল করছে। পাতি অনুপ্রবেশ আঁটকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত, যাতে পিটিয়ে গরুখেদানি দিয়ে সীমান্ত চোরা বন্ধ করা যায়।
অতি দুঃস্বপ্নে, বাংলাদেশের সঙ্গে যদি দুর্ভাগ্যবশতঃ ভারতের কোনদিন যুদ্ধ লাগে তাহলে- ভারতের গ্রাম চৌকিদার, স্কাউট, NCC, পশ্চিমবঙ্গের সিভিক পুলিশ ও হোম গার্ড, কোলকাতা শহরের ট্রাফিক পুলিশ, সীমান্তবর্তী ভারতীয় জেলা গুলোর ATM ও ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড জাতীয় ব্যক্তিদের, কোনো একদিন টিফিন টাইমে ১৫ মিনিটের জন্য পাঠাবে। এটাই বর্তমান বাংলাদেশ আর্মিদের সম্মানজনক পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট।
সুতরাং, অতি দুর্বল বাংলাদেশ আমাদের ভারতের জন্য ভীতিকর সমস্যাদায়ক। তাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে ব্যবসায়িক পর্যায়ে। শিক্ষাক্ষেত্রগুলোকে পঠনপাঠনের উপযোগী গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে। ওদের যুব সমাজকে বোঝাতে হবে, খেয়ালি ভারত বিরোধিতা দিয়ে ওদের পেট ভরবেনা, যেমন পাকিস্তানি পেঁয়াজ বা ডিমে বাজারের মূল্য কমেনি, ইন্ডিয়ার পণ্যই সেই কাজ করেছে। যেমন ডলারের জন্য ইলিশ পাঠাতে বাধ্য হয়েছে উপায়ন্তর না থাকার কারনে। নির্মান শিল্পের স্টোনচিপস, সিমেন্ট সিল্পের ইন্ড্রাস্টিয়াল ছাই বা ডলোমাইট ইন্ডিয়া থেকেই যায় বা ইন্ডিয়ার ভূমি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসার জন্য অর্ধলক্ষ টাকার বিমান ভাড়া গচ্চা দিয়ে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া যাওয়ার চেয়ে, ৩০০ টাকায় কোলকাতা যাওয়াটা যে ঢের সুবিধার। উপরন্তু ডাক্তারকে ও পথেঘাটে বাংলাতে কথা বলতে পারার সুবিধা যে পরে-পাওয়া চোদ্দআনা- সেটা নিশ্চই বলার অপেক্ষা রাখেনা। প্রোপ্যাগান্ডা দিয়ে শিক্ষিত হওয়া যায়না। ধর্ম আর ধর্মান্ধতার মাঝের ফারাকটা ধরিয়ে দিতে হবে।
মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে সে দেশের জান্তা সরকার একপ্রকার পালিয়ে গেছে রাখাইন আর্মির দাপটে। রোহিঙ্গাদের দেশ স্বাধীন হবার পথে একপ্রকার। সুতরাং, বাংলাদেশে থাকা প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে এবারে তাদের স্বদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে ইউনুস সরকারকে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘটে চলা অরাজকতা নিয়ে দিল্লিকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতেই হবে কূটনৈতিক স্তরে, বিবিধ বৃত্তকলায়। নতুবা আমরা যারা আসাম বা পশ্চিমবঙ্গবাসী, তাদের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠবে।

আরো কিছু যদি গঠনমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্র থাকে, আপনি কমেন্টে তার উল্লেখ করতেই পারেন।

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

শক্তিশালী মেধাবী প্রতিবেশী




অবিলম্বে ইনিংস ডিক্লেয়ার করা উচিত রোহিত শর্মার। নতুবা শক্তিশালী মেধাবী প্রতিবেশী দেশের সাথে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থামানোর ক্ষমতা ধরাধামে কারো নেই। ফেসবুকে।

মেধাবী ও তাদের সমন্বায়কদের নিয়ে গড়া সদ্য স্বাধীন পড়শী দেশ- ইলিশ না পাঠিয়ে শুকিয়ে মেরে দেবে, ফারাক্কার অদূরে বাঁধ গড়ে উচিৎ শিক্ষা দিয়ে দেবে মালাউন গঙ্গাকে, চিকেন নেক কেটে দেবে যখন তখন, ঠাকুরগাঁও এ বিমানবন্দর তৈরি করে দেবে, সেভেন সিস্টার্স দখল করে নেবে, এই পোড়ার দেশে পর্যটক না পাঠিয়ে দার্জিলিং ও সিকিমকে থর মরভূমি বানিয়ে দেবে আর কোলকাতাকে জনহীন আদিম অরণ্যে, ইন্ডিয়ান পন্য বয়কট করে সকল ইন্ডিয়ানকে কামলা খাটতে পাঠিয়ে দেবে আমাজনের গহিনে....
সবটাই যদিও ফেসবুকে,
তবুও টাইমলাইন স্ক্রল করলেই মেধাবীদের এমন শত শত পোষ্টে ভরে থাকে, আতঙ্কে ফেসবুকে ঢুকতেই পারিনা। এই বোধহয় ভারতকে প্যাকেট করে আরব্য রজনীর জিনের মত করে কোনো 'মেড ইন পাকিস্তান' প্রদীপে ভরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিচে তলিয়ে দেবে।
এতেকরে হেঁচকি, হাঁচি ও বাতকর্ম একসাথে এসে যাচ্ছে শরীরে, শরীর ভাইব্রেশন মোডে চলে যাচ্ছে পশ্চাদদেশের সিগনেচার রিংটোন সহ, ঘামের স্রোত বইছে দুই পাছার মধ্যবর্তী অঞ্চলে, নোনা জল পেয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পদ্মা ফেরৎ মেধাবী ইলিশের দল কিলবিল করছে ওই অকুস্থলে, অদূরে মৎসজীবীদের সমন্বায়ক দল ট্রলার নিয়ে তৈরি হচ্ছে। বাইচান্স সুড়সিড়ি দিয়ে যদি লাইটহাউজ ধরে টানা হ্যাঁচড়া করে- ফুল এয়ারপ্লেন মোডে চলে যাবো নভো এয়ারের মত।
মাক্কালির কসম, আতঙ্কের মাঝে শুধু দুটো শব্দ- এ্যাই এ্যাই, ইটস মাই টার্ন মুরুব্বি, এই শব্দব্রহ্ম দিয়ে ঘুম অবধি হারাম করে দিয়েছে। তার উপরে হিরো আলমের নতুন জাতীয়সঙ্গীতের গুঁতোতে আমার মগজে অবধি পাইলস হয়ে গেছে।
এরপর যদি ইনিংসে হারে-
ইয়া আল্লাহ, আর ভাবতেই পারছিনা।

পুলিশ, আজকে


কিছু পুলিশ যখন শাষকদলের সম্মিলিত যাবতীয় অপকর্মের প্রকাশ্য অংশীদার হয়ে চোরেদের সাথে মিলে লুন্ঠনে সরাসরি অংশগ্রহন করে, অপরাধের প্রমাণ লোপাট করে দায়িত্ব নিয়ে, রাজ্যকে সবুজ অপরাধীদের মুক্তাঞ্চল গড়ে তোলে, নিয়মিতভাবে শাসকের পক্ষ নিয়ে সরকারী প্রচারণা যন্ত্র কাজে লাগিয়ে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালায়, শাষকের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বললেই তাকে সাজানো মামলাতে ফাঁসিয়ে দেয়, তার পরিবারের উপরে অন্যায় জুলুম নামিয়ে আনে, বিরোধী রাজনীতিকে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে, এবং এসবের বিনিময়ে পদ অনুযায়ী হারামের কামাই দিয়ে অবৈধ সম্পদের ভান্ডার গড়ে তোলে- তখন মানুষ আইন হাতে তুলে নেয়, আর আক্রান্ত হয় একদম নিচুতলার পুলিশকর্মীরা, যারা একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর আজ্ঞাবহ পদাতিক কর্মী মাত্র।
প্রশাসন মানে আমলা ও পুলিশের নাম রাষ্ট্র নয়। সাধারণ মানুষের নাম রাষ্ট্র।
গোটা পুলিশ সমাজের উপরে এভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত গণ ক্ষোভ আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস মাত্র। এই নিন্দনীয় ঘটনাকে আমাদের সাংবিধানিক সিস্টেম ও সভ্যসমাজ মান্যতা দেয়না। কিন্তু সরকার ও তার দ্বারা চালিত প্রশাসন যেখানে রাষ্ট্রধর্মপ্রতিষ্ঠার নামে চুরিচামারি ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ব্যস্ত, সেখানে জনগনের উপায় কী? রাজ্য তো চালাচ্ছে আদালত, সরকার ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরিচামারিতে।
আগের একটা ভিডিওতে বলেছিলাম- এই সরকার ভেন্টিলেশনে চলে গেছে, শিক্ষা ও খাদ্য জেলে, স্বাস্থ্য আর প্রশাসন- কাঠগড়ায়, যেকোনো মুহুর্তে জেলে গেলো বলে। মমতা ব্যানার্জী খোদ নিজে এই পুলিশ ও গ্রামস্তরের আমলাদের কাজে লাগিয়ে তোলা আদায়ের একটা মাফিয়া শৃঙ্খলা বানিয়ে তুলেছে গোটা রাজ্যজুড়ে, অধিকাংশ থানার ওসি/আইসি রা এই তোলাবাজদের শীর্ষে বসে আছে- তাদের মাথায় রাজীব কুমারের মত হিরেরা, সবার মাথায় চটি।
সুতরাং, শুধু পুলিশ নয়, বিডিও, এসডিও থেকে শুরু করে সমস্ত দপ্তরের দুর্নীতিবাজ আমলারা রাস্তায় ভিক্টিম জনগনের শিকার হবে, কারন আদালত অবধি যেতেই পারেনা সাধারণ মানুষ, দুর্নীতিবাজ পুলিশ তৃণমূলের নামে মামলাই নেয়না, কোর্টে পৌঁছে গেলেও দীর্ঘসুত্রতার কারনে বিচার নিজেই কারাবন্দী হয়ে যায় ফাইলের স্তুপে।
ভেন্টিলেশনে থাকা সরকারকে সিলিন্ডারের অক্সিজেন দিচ্ছেন যারা, সেই তারা একটু নিরক্ষেপ হলেই তাসের ঘরের ভেঙে পরবে- চটি, চটিচাঁটা থুতু আর নীলসাদা রঙের এই স্বৈরাচারী চৌর্যসাম্রাজ্য।

 

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সিভিক ভলেন্টিয়ারঃ বিধি বাম

 



সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ১০১% তৃণমূলের অশিক্ষিত লুম্পেন ক্যাডার। আজকে সুপ্রিম কোর্টের সাওয়াল দেখার পর আমার প্রশ্ন- বামেরা কেন ভালো আইনজীবী দিয়ে, এই অপ্রশিক্ষিত রাজনৈতিক ক্যাডার বাহিনী দিয়ে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর বিরুদ্ধে রিট ফাইল করবেনা? কেন এই সিভিক ভলেন্টিয়ার নামের বকচ্ছপ প্রজাতির বিলুপ্তিকরণ ঘটিয়ে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবী তুলবেনা?
শুধুমাত্র সাংগঠনিক শক্তির জোরে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের এই লড়াই ডাক্তাররা প্রশাসনকে বাধ্য করেছে তাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিতে। এই আন্দোলনের অন্তিম ফলাফল সময়ের গর্ভে, জনগণ রাস্তায় আছে, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাস্তায় আছে। তবে, শেষ কবে মমতা ব্যানার্জী এমনটা করেছেন, কেউ একটা প্রমান দেখাতে পারবেন? কোন রাজনৈতিক দল, আন্দোলন করে এইভাবে মমতা ব্যানার্জীকে "বাধ্য করেছেন"?
এখানে একটা বিষয়ই সত্য, সেটা হল সংগঠন। এর জন্য লাগে যোগ্য নেতৃত্ব, আধুনিকমনস্ক ও ট্যেকস্যাভি একটা উইং, আইনজীবীদের একটা টিম। আর ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রিম থেকে লড়াই এর মাধ্যমে উঠে আসা লড়াকু মেধাজীবীদের নিয়ে গড়া একটা যুব টিম। এবং এই সবগুলোর মাঝে একটা সমন্বয়। উচ্চ নেতৃত্বের তরফে আস্থা দেওয়া, সকলের কথা সহানুভূতি ও গুরুত্বের শোনার মানসিকতা, সর্বশেষে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীর দিশা দেখানো।
তৃণমূল, রীতিমতো কি-ওয়ার্ড বিন্যাস করে সোস্যাল মিডিয়াতে আন্দোলনের বিপক্ষে পালটা পোষ্ট যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে, হরেক ফিকির হরেক ফালতু বিষয় সৃষ্টি করে, যেটা বিজেপি সফলভাবে করে। সেখানে বামেদের রাস্তার আন্দোলন টুকু পাবলিকের কাছে তুলে ধরার কোনো যন্ত্র নেই। ছাগল দিয়ে হাল চষতে চষতে বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ফারাক ক্রমশ আলোকবর্ষে পৌঁছে গেছে এদের।
যা কিছু করার সেটা- জনগণ করবে, পুলিশ করবে, আমলারা করবে, ED করবে, CBI করবে, হাইকোর্ট করবে, সুপ্রিম কোর্ট করবে, কংগ্রেস করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে বাম নেতৃত্ব কী করবে? কেন- সেটিং আর বিজেমূল তত্ত্বের প্রতি গভীর আস্থা ও ভরষা সহ প্রচারণা করবে।
বামেদের সবটাই আছে, সংগঠন ছাড়া। তার বদলে রয়েছে অজুহাত..... অনন্ত অজুহাত। যেটার অভাব নেই সেটা হলো, সর্বজ্ঞ মনোভাব, আত্মঅহংকার, নিজেদের মাঝে অকারন লেঙ্গি, আর লক্ষ্য। লক্ষ্যহীন, সংগঠন হীন, যোগ্য নেতৃত্বহীন একটা দল চোখের সামনে রোজ একটু একটু করে ডোডোপাখি হয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্র যেমন সংরক্ষিত জঙ্গলে বাঘ, গন্ডারদের সংরক্ষণের জন্য রিজার্ভ ফরেষ্ট করে রাখে, অদূর ভবিষ্যতে আলিমুদ্দিনকেও তেমনই বিলুপ্তপ্রায় বাম রাজনীতির সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষনা করে তাদের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ ঘোষনা করলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। কৃষকসভা, শ্রমিক সংগঠন, মহিলা সমিতি, শিক্ষক সংগঠন- আছে খাতায় কলমে, দু একটা পাড়ায়। ব্যাস। নতুবা কলতান কান্ডে এক শতরূপ ছাড়া আর কেউ দেখলামনা গলার শিরা ফুলিয়ে সত্যটা বললো চিৎকার করে, তারপর সব স্তিমিত। কোনো ধারাবাহিকতা নেই।
বাকি প্রগতিশীল বাম কর্মী সকর্থকেরা-
৩৬৪ দিন ফেসবুকে।
১ দিন ব্রিগেডে।
সাথে আছে অর্গাজমের স্লোগান- "শূন্য হলেও আমরা ..... "
কারো কারো এই পোষ্ট পড়ে জ্বালা ধরবে, আসলে এই জ্বলাটুকুর বাইরে আপনার অউকাতই বা কী? আপনার কথা শুনছেনা কে? যারা উপরে বসে, তারা সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং ত্রিকালজ্ঞ পন্ডিত। বেঁচে আছি প্রমাণের জন্য পাক্ষিকভাবে ১টা সাংবাদিক সম্মেলন কর, আবার শ্রীবিষ্ণুর মত চক্ষু মুদিয়া অনন্ত শয্যায় শুয়ে নবম বামফ্রণ্ট সরকারে কাকে কাকে কোথায় রাখা হবে তার জটিল হিসাবনিকাশ করতেই ব্যস্ত- দিবাস্বপ্নে।
বিপ্লবের জন্য আর কীইবা চায়?
এই রাজ্যে মমতার চেয়ে ভালো প্রশাসক এই মুহুর্তে আর কেউ কী ডিজার্ভ করে? প্রত্যেকেই তো তার যোগ্যতা অনুযায়ীই পায়।

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

তিলোত্তমার বিরুদ্ধে আদালতে আইনজীবির খরচা কে দিচ্ছে?



টালা থানার ওসি ও RG Kar মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ, দুজনেই সরকারী কর্মচারী ও দুজনেই CBI কাস্টাডিতে রয়েছে।

তিলোত্তমা নিজেও ছিলেন একজন সরকারী কর্মী। যিনি ডিউটিতে থাকাকালীন কর্মক্ষেত্রে খুন হয়েছেন। এখানে তার বিচার চেয়ে আদালতে আর্জি করা উকিল বাবুদের পেমেন্ট কী রাজ্য সরকার করছে? না করলে কেন করছেনা?

যারা আইন বোঝেন তাদের কাছে প্রশ্ন- সরকারী কর্মী জেলে থাকলে, প্রশাসন কতদিনের মধ্যে সাসপেন্ড করতে বাধ্য?
এখন এই সাসপেন্ডেড সরকারী কর্মীদের উকিলের খরচা কে বহন করবে? আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পালিত সরকারের আইনজীবী নাকি সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি নিজে?

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

Kunal Ghosh সমীপেষু



Kunal Ghosh বাবু, গ্রাম বাংলাতে নেটো নামের এক ধরনের যাত্রাপালা হয়, যেখানে অশালীন ভাষা , পোশাক ও অঙ্গভঙ্গী ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এখানে নায়কের বন্ধুকে ছিনাল নামে ডাকা হয়, যেটা আপনার সাথে এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে যায়।


আপনি সেই নেটোর ছিনাল এর ভূমিকাতে অবতীর্ণ চোরের স্যাঙাৎ হিসাবে। নিজের লাজলজ্জা সম্ভ্রম কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি, সেটা আপনার নিজশ্ব চয়েস। ১ ফোনে এক লাখ- সারদা , নারদা ইত্যাদির হারাম মালগুলো হজম করতে গেলে চটি চাঁটা ছাড়া উপায় নেই। অবশ্য তৃণমূল দল করলে, চোখের চামড়া থাকতে নেই। শিক্ষা জেলে, খাদ্য জেলে- স্বাস্থ্য ও প্রশাসন.... লোডিং।

ডিভাইড এন্ড রুলস- ইংরেজ আমল থেকেই বাঙালী সুপরিচিত। তাই আপনার এই "ভয়েস কল রেকর্ডিং" এর গল্প দিয়ে মানুষকে চদু বানাবার ভাবনা ভুলে যান। এটা তৃণমূলের পার্টি অফিস নয়, যে সকলকে গান্ডু ভাববেন, আর সকলে অশিক্ষিত চোর ছ্যাচোঁর।

প্রশাসন তো আপনাদেরই হাতে, রেকর্ডিং যখন এসেছে, কোন কোন নাম্বার থেকে সেই কথোপকথন হয়েছে, কী তাদের টাওয়ার লোকেশন- এ সব বের করতে আমাদের মত ২ পয়সার নন-ট্যেকনিক্যাল প্রান্তিক মানুষেরাও পারে। সেখানে রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ২ মিনিটে বেড় করে দেবে এটা কাদের কীর্তি।

তা না করে, ফালতু বালবাজারি ভাঁট আলবাল বকে হাওয়া গরম করতে এসেছেন। সত্যি কিছু হলে আপনার দাবী মত সেই অতিবাম নেতা বা বিজেপির যুবনেতাদের এ্যারেষ্ট করে কোর্টে তুলতেন।২০১১ এর আগে যেমন আপনাদের মিথ্যুক নেত্রীর রোজ জীবন সংশয় হতো- এসব অতি পুরাতন নাটক, মমতা ব্যানার্জী এবং তার চামচাদের।

নাই, নেটোর ছিনাল সেজে মুখ দিয়ে না পেঁদে, পারলে অপরাধীদের এ্যারেষ্ট করে কোর্টে তুলে মুরোদ দেখাও চাঁদু। কোর্টে প্রমান করুন সে অপরাধী। অবশ্য সবাই জানে, এটা তিনু আঁটিসেলের অতি অতি দুর্বল চিত্রনাট্য।

না'ঙ করে পেট ভরবেনা বাছা, অন্য পথ খোঁজো।

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

উৎ শবে ফিরুন


 

আন্দোলনরত ডাক্তারদের কাজে ফিরতে ধমকি দেওয়া ছাড়া, আজ সুপ্রিম কোর্ট কোন রায় দিলো?
কাল থেকে যদি ডাক্তারেরা গণ ইস্তফাতে যায়, সেক্ষেত্রে কোর্ট কাদের দিয়ে হাসপাতাল চালাবেন?
শিক্ষকদের জোর করে আইন করে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ রাখতে পারে রাষ্ট্র, ডাক্তারদের প্রাইভেট প্রাক্টিসের জন্য সরকার স্বীকৃত উৎকোচ দেওয়া হয়।

ডাক্তারেরা তো অতি খারাপ সময়েও মাসে লক্ষাধিক টাকা রোজগার করেই নেবেন, ধনী বা যারা বাধ্য, তারা বেসরকারী হাসপাতালে যেতে বাধ্য হবে বা বেছে নেবে।

কেউ কেউ মালদ্বীপ চলে যাবে প্রমোদভ্রমণ এর জন্য থুরি মানসিক চিকিৎসার জন্য (এ্যারেষ্ট করবেননা প্লিজ)।
সরকারি চিকিৎসার জন্য সমাজের যে গরীব গুর্বোগুলো নির্ভরশীল, তারা কোথায় যাবেন?

১ মাস ধরে বিচারের নামে যে প্রহসন চলছে, তার দিশা কে দেখাবে?

এই যে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ রাস্তায় আছে, তাদের কাছে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কী বার্তা যাবে? কে এর দায় নেবে?
এদিকে চটির আব্দার- উৎসবে ফিরুন।

ছিঃ, নির্লজ্জ, বেহায়া, দু-কান কাটা।

বিষয়ের বাইরে গিয়ে একটা প্রশ্ন- সুপ্রিম কোর্ট কবে কবে কোন কোন ক্ষেত্রে সুয়োমোটো মামলা নেয়?
না মানে, হরিয়ানাতে ২জন খুন হয়েছে গো-রক্ষক নামের জঙ্গি দলের হাতে, একজন মুসলমান অন্যজন ভুলকরে ব্রাহ্মণ। নাকি এতোবড় একটা রাজ্যে ভোট পুজোতে এটুকু নরবলি সাংবিধানিক ন্যায়ের মধ্যেই পরে। এই খুনি বর্বর জঙ্গিদলটা কেন অন্যান্য মৌলবাদী জঙ্গিসংগঠনের মত নিষিদ্ধ হবেনা?

কোন আদালত এই বিচার করবে?


প্রতিটি প্রশ্ন সঙ্গত, যেগুলো নাগরিক সমাজ তুলছে। কিন্তু শুনছেটা কে?

অধিকাংশ আন্দোলনেই পোষিত চটিচাঁটা ভাড়াটে বিবেকের দল মিছিলের সামনে এসে উদ্দেশ্য ঘুরিয়ে দিচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক দল, জনবিচ্ছিন্নিতা থেকে বাঁচার খড়কুটো হিসাবে ও নিজেদের গাঁড়ল ভক্তদের কাছে কোরামিন দিতে, মিছিলের শেষে বা মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সেগুলো দিয়ে সমাজমাধ্যমে ছেড়ে, ঘরে বসে গলার শিরা ফোলাচ্ছে।
আসলে সেই স্বঘোষিত গুন্ডা কন্ট্রোলার নিজেই এই গুলো করাচ্ছেন, যাতে তার নিজশ্ব দুটো দপ্তর- স্বাস্থ্য ও পুলিশ- দুটোর পাহাড় প্রমাণ ডাকাতি, দুর্নীতি ও ব্যর্থতা ঢাকতে যত রকমের চক্রান্ত- সবটাই করছে। তাতেও সুবিধা না হতে এখন উৎসবে ফেরাতে চাইছে।

অপদার্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রী কেন জবাব দেবেনা?

মুখ্যমন্ত্রী কী বেঁচে আছে এই রাজ্যে?

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...