সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

অকপট সম্পর্ক

 


একটি পরিবার কিম্বা সমাজ কতটা সুস্থ তা নির্ধারণ করা যায় সেই পরিবার তথা সমাজের আভ্যন্তরীণ পারস্পারিক সম্পর্কগুলোকে বিচার করে। এই সম্পর্কের সূচকগুলো যতটা গভীর, সেখানে সুখের পারদ ততটা উঁচুতে বিচরণ করে। তাই প্রতিটি সম্পর্কের প্রতি আমাদের মূল্যবোধ এবং দায়বদ্ধতা রয়ে যায়, যেখানে এগুলোর অনুশীলন সর্বোচ্চ - সেখানে সুসম্পর্ক বিরাজ করে। ক্রমে ক্রমে এই মূল্যবোধ বা দায়বদ্ধতা- শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, অধিকারে পর্যবসিত হয়। এই পর্যায়ে প্রতিটি ক্ষুদ্র শিষ্টাচার, বাহ্য লৌকিকতা, শাস্ত্রীয় ক্রিয়াদি বা সম্মানজ্ঞাপক প্রবর্তনা একটা পরম আঙ্গিকে প্রকাশ পায়, তা যদি প্রেম হয় তখন তার রূপ চরমাকার ধারণ করে।
সম্পর্ক মানে কী?
শুধুই কী লেনদেন, দেনা পাওনা- যা বস্তুগত মাধ্যমের মাঝে সীমাবদ্ধ! সম্পর্ক আসলে তা নয়, কিছু জিনিস যা চোখে দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়, উপলব্ধি করতে হয়, আত্মস্থ করতে হয়- সেটাই হলো সম্পর্ক।
সম্পর্কের কোনো প্রথাগত সংজ্ঞা হয় না, রক্তের আত্মীয়তার সীমানা ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান মানবিক বোধ। সম্পর্ক হলো একটা অভ্যাস, যাকে লালন করতে হয় যত্নে; যেখানে নিয়মিত মানবিক আবেগের লেনদেন হয়, কখনও তা আলাপে, কখনও বিলাপে, কখনও জ্ঞানের বিনিময়ে, কখনও শিক্ষার্থী হয়ে, কখনও দাদা, ভাই, বোন সম্পর্কের নাম নিয়ে তো কখনও নামহীন হয়ে। সম্পর্ক মানে শুধুই প্রেম নয়, ভালোবাসা নয়, ঘৃণা বা নিত্য যোগাযোগ নয় বরং এ সবকিছুর ঊর্ধ্বে একটা পরিস্থিতির নাম সম্পর্ক- যেটা দুটো বস্তুকে বেঁধে রাখে।
অতীতকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা মানুষ একাকীত্বের শামিয়ানাতে ঢাকা পড়ে যায়। অবিরাম আশেপাশে ঘটতে থাকা ঘটনাক্রমগুলোকে ভাগ করে নেওয়ার জন্য কিছু জীবন্ত প্রাণের প্রয়োজন হয়, যারা অনুভূতিতে প্রতিক্রিয়াশীল হয়। এমতাবস্থায় অধিকাংশ মানুষ - অন্য একটি বা একাধিক মানুষকে বেছে নেয়, অবলম্বন করে, দুঃখ-সুখের সাথী হয়- ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতি সহ রিপুগত বিভিন্ন কার্যকলাপের ভাগীদার করতে। একেই বলে সম্পর্ক। সততা, ক্ষমা, বোঝাপড়া, বিশ্বাস, বন্ধুত্ব, ধৈর্য, ভালোবাসা, অধিকারবোধ, ঈর্ষা, ঘৃণা ইত্যাদি সবটা নিয়েই সম্পর্কের বুনন।
আমরা তো সজীব, আমাদের মাঝে ইন্দ্রিয় আছে, তাই সম্পর্ককে আমরা অনুভব করতে পারি, যারা একটু বেশি প্রতিক্রিয়াশীল তারা প্রতিপালন করি এই সম্পর্কগুলোকে। প্রতিটি বন্ধন- বিশ্বাস, সম্মান ও যত্নের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। কিছু মনোমালিন্য, খুচরো দ্বন্দ্ব-বিবাদ, মান-অভিমান সম্পর্কের শিকড়কে দৃঢ়তা প্রদান করে।
আমরা প্রতিনিয়ত হরেক ধরনের সম্পর্কের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে চলেছি, কখনও বুঝে কখনও না বুঝে, কখনও প্রয়োজনে কখনও নিরর্থক। সম্পর্কের সৃষ্টি হয়ে চলেছে অবিরাম ও নিরবচ্ছিন্ন ধারাতে। অনেক সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে সুন্দর কিন্তু নষ্ট হয়ে যায়, কিছু সম্পর্ক আপাত রুক্ষ যদিও তার শিকড় অনেক গভীরে। কিছু সম্পর্ককে শিকল দিয়েও ধরে রাখা যায় না, কিছু সম্পর্ক ছিন্ন করা দুষ্কর। সম্পর্কের ভুলভুলাইয়াতে কে যে কখন কাছে আসে আর কে যে কখন দূরে যায় তার নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম নেই, কিন্তু এই সকল কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে কিছু মানুষ রয়ে যায় ছায়ার মতো- সম্পর্ক তখন আর শুধুই সম্পর্ক নয় বরং সেখানে স্পেশাল কিছু উপাদান থাকে যা বাকি অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র।
আমাদের অনেকেরই জীবন এখন ভার্চুয়াল আর বস্তু জগতের একটা ককটেল। এখানে সম্পর্কগুলো কি-প্যাডে তৈরি হয়, বিচ্ছেদও। টেলি যোগাযোগ, অন্তর্জাল ও সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ঘরে বসেই অনেক সভার সভ্য হয়ে ওঠা যায়, সম্পর্ক তৈরি হয়। তেমনই আমার ‘অকপট’ পরিবার, আমার টাইমলাইনের একটা ক্ষুদ্র অংশের সাথে নিত্য ভাবের লেনদেন। তাদের সাথে অনুদিন মানসিক বেসাতি। সেই পরিসর থেকে যখন প্রামাণিক এজহারের শংসাপত্রের প্রাপ্তি ঘটে, যা শব্দের অভিঘাতে পুষ্ট, মননে প্রশান্তির কারক- তখন সার্থক হয় এই সৌহার্দময় সন্নিধান।
আমার সকল ভাই, দাদা, বন্ধু, গুরুজন, অভিভাবক সহ সকল আপনজনকে জানাই অকপট শুভকামনা।
একটি সামান্য দিন তোমাদের/আপনাদের শুভেচ্ছা, শুভকামনা, আর্শীবাদ, আদরে- অসামান্য একটা দিনে পর্যবাসিত হয়েছে। এ পরম সৌভাগ্যের, যা স্নেহ সোহাগের রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে আন্তরিকতার লালচে ছোঁয়াতে।

সকলকে আমার তরফ থেকে আবার অনেক শুভেচ্ছা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...