করোনার নতুন ঢেউ নাকি আছড়ে পড়েছে দেশে, যদিও পুরনো ঢেউ কখন কীভাবে চলে গেছিল সে বিষয়ে কেউ কোনো ধারণা দিতে পারেনি। কেন গেছিল, কোথায় গেছিল তাও কেউ জানে না। নতুন ঢেউ কোথা থেকে এলো সে বিষয়েও কেউ খুব একটা বেশি জ্ঞান রেখেছে বলে এ পর্যায় পর্যন্ত মনে হয়নি। আসলে করোনা নিয়ে কে বলছে না, ডাক্তার বলছে, সরকার বলছে, নেতা-নেত্রী বলছে, WHO বলছে, আমার মতো ফেসবুকের জ্ঞানগর্ধবেরা বলছে, মাই চায়ের দোকানের বীর বিপ্লবী বিশ্লেষকরাও যেমন ভাবে পারছে বলছেন এবং নিজ নিজ মতবাদ রাখছেন বলিষ্ঠভাবে।
কিন্তু যাদের বলার দরকার সেই বায়োটেকনোলজিস্টরা কী বলছেন কেউ সে বিষয়ে জানতে ন্যূনতম আগ্রহী নই। তারাও যে কিছু বলতে চায়, বা বলতে দেওয়া উচিত কিংবা যেটা তারা বলেছেন সেটাকে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত- এ বিষয়টা আমাদের কারোর ধর্তব্যের মধ্যেই নেই। না সরকার তাদেরকে বলতে দিচ্ছে, না কোনো বেসরকারি সংগঠন - সুতরাং সেই না বলা সমাধানের আঁধারে যা ক্ষতি হওয়ার তাই হচ্ছে।
করোনা কতটা মানুষের রোগ তথা প্যান্ডেমিক আর কতটা দেউলিয়া পুঁজিবাদী অর্থনীতির মারণ রোগের জড়িবুটি এ বিষয়ে তর্ক চলতেই থাকবে, কারণ করোনাকালের লকডাউনে আমার আপনার হাত থেকে কাজটি চলে গিয়ে অভাবের বাটি ধরিয়ে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু আদানি-আম্বানি সহ গোটা বিশ্ব জুড়ে ধনীরা আরও আরও বেশি ধনী হয়েছে লকডাউনকে কেন্দ্র করে।
সুতরাং আপনার পবিত্র বিশ্বাসে আপনি করোনাকে দেব জ্ঞানে থুরি প্যান্ডেমিক জ্ঞানে পূজা করতেই পারেন, আমি করবো না। কারণ আমি পরিষ্কার উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম গত লকডাউনের কিছুদিনের মধ্যেই- যে করোনা একটা ষড়যন্ত্রের নাম, যে ষড়যন্ত্রে গরিব আরও গরিব হয়েছে, ধনী আরও ধনী হয়েছে মনোপলি লুঠ চালিয়ে।
করোনা যদি ছোঁয়াচেই হতো তাহলে ভোটকে কেন্দ্র করে এত এত মিটিং-মিছিলের পরে গোটা বাংলা জুড়ে কিংবা যে সমস্ত রাজ্যের ভোট হচ্ছে সেই সমস্ত রাজ্য জুড়ে মড়ক লাগত। যদিও সে সব কিছুই হয়নি, কিন্তু স্কুল বন্ধ আছে আজ ১ বছর। অনলাইনে পড়াশোনার নামে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী লুটেপুটে খাচ্ছে। একটা প্রজন্মের বাচ্চাদের পড়ার অভ্যাস, স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস সমস্ত কিছুকে নিপুণভাবে নষ্ট করে দিয়েছে।
তাহলে এবার লক্ষ্য কী? লক্ষ্য অবশ্যই ভ্যাক্সিন বেচা, কারণ যে পরিমাণ টাকা রোজগার করার সামর্থ্য ষড়যন্ত্রীদের ছিল, তারা যে স্বপ্ন দেখেছিল- ২০২০ এর পরিকল্পিত করোনা সন্ত্রাস সেই লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারেনি ভ্যাক্সিনের ব্যবসায়ীদের। তারা কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে মরিয়া, তাদের লগ্নি তুলতে হবে সুদসহ, তাই নতুন এক পদ্ধতিতে আগামী তিন থেকে চার মাসের জন্য এই করোনা-করোনা নতুন জিগিরটা বাজারে এনেছে। নতুন স্ট্রেন, নতুন আতঙ্ক। এরা এটাকে চালাবে, মিডিয়া এদের সাথ দেবে পয়সা খেয়ে- যাতে জনমানসে একটা তীব্র ভীতি সঞ্চার হয়। যতটা পারা যায় পাবলিকের টাকা লুটে নেওয়ার একটা ব্যর্থ প্রয়াস।
পুঁজিবাদী হাঙরেরা ভ্যাক্সিন বিক্রির জন্য ষড়যন্ত্র করবে সেটাতো খুব স্বাভাবিক কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের অপোগণ্ড রাষ্ট্রযন্ত্র তথা সরকার সহ আমলাদের একটা অংশ তারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ; আর এই যোগসাজশের প্রাতিষ্ঠানিক নাম হচ্ছে প্রোটোকল।
কেমন এই প্রোটোকল সিস্টেম!
১) একটা বছর কুড়ির তরুণী প্রথম বার মা হওয়ার জন্য একটা জেলা হাসপাতালে গেছে, তারপর সেখানে তার কিছু টেস্ট করা হলো, কেউ জানে না কেন সেই টেস্টটা করানো হলো, ব্যাস- তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো কোভিড রোগীদের জন্য স্পেশ্যাল হাসপাতালে। যেখানে প্রেগন্যান্সি বিষয়ক ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই, করোনাতে মরবে কিনা জানা না থাকলেও- লেবার পেইন উঠলে তাকে যে বাঁচানো দায় সেটা বলাই বাহুল্য।
২) একজন ছাত্র ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি ডায়ালাইসিস করার জন্য গেছেন একটি হাসপাতালে, সেখানে তার অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হলো এবং সাথে সাথে পাঠিয়ে দেওয়া হলো কোভিড স্পেশ্যাল হাসপাতাল- যেখানে ডায়ালিসিসের ড নেই। ২ দিন পর এ লোক এমনিতেই মরে যাবে।
৩) একজন অ্যাক্সিডেন্টে পায়ের হাড় ভাঙা নিয়ে গেছে হাসপাতালে হাড় ভাঙার চিকিৎসা করাতে। তাকে রেফার করে পাঠিয়ে দেয়া হলো কোভিড স্পেশ্যাল হসপিটালে। এরকম অসংখ্য ডায়রিয়া পেশেন্ট, কলেরার পেশেন্ট সহ নানা ধরনের স্বাভাবিক রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোভিড হাসপাতালে। মাত্র ৭ দিনে সমস্ত কোভিড স্পেশ্যাল হাসপাতালগুলোকে এভাবে ভরে ফেলা হয়েছে, কার নির্দেশে এগুলো হচ্ছে কেউ জানে না।
এরা যে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিল সেই চিকিৎসাই হচ্ছে না দিনের পর দিন, আর কোভিডের নাম করে তাদের আঁটকে রেখেছে। ছাড়া না পেলে এমনিতেই এরা মরে যাবে যে রোগে এসেছিল সেই রোগে- তখন সরকারের খাতায় নাম উঠবে নতুন করে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে এত জনের মৃত্যু অমুক কোভিড হাসপাতালে। ভাবুন তো আমার আপনার ঘরের কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেছে আর তাকে কোভিড হাসপাতালে রেফার করে দিল!!
এ ও কি এক ধরনের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প নয়? কার স্বার্থে রোগীর সাথে আলাপচারিতা না করে, সঠিক টেস্ট না করে অনুমানের ভিত্তিতে গরু ছাগলকে খোঁয়ারে পাঠাবার মতো করে সাধারণ রোগগ্রস্থ রোগীকে কোভিড হাসপাতালে ঠেলে দিচ্ছে! আমরা সচেতন হবো না? ডাক্তারেরা পর্যন্ত গণহারে পদত্যাগ করেছিল কোলকাতা সন্নিহিত এক শহরতলীর কোভিড হাসপাতালে, ভোটের প্রচারের ঢক্কানিনাদে সে খবর চার দেওয়ালের মধ্যেই হারিয়ে গেছে।
অতএব, ১ দিনে ১ লাখ সংক্রমণ কীভাবে হলো বুঝে নিন, বুঝে নিন - মৃত্যুর হিসাব কিভাবে হবে। যেটা বুঝতে পারবেননা সেটা হচ্ছে- ভ্যাক্সিন উৎসব করে কার লাভ? রাত্রে লকডাউন করে কোন পাহাড় ডিঙানো হবে। কখনও বুঝবেননা- মাস্ক পড়লে ২ গজের দুরত্ব কেন, দুগজের দুরত্ব সঠিক হলে ভ্যাক্সিন কেন, ভ্যাক্সিন সঠিক হলে আবার মাস্ক ও ২ গজের দুরত্ব কেন!! প্রশ্ন অনেক- উত্তর দেওয়ার কেউ নেই।
সতর্ক হোন, প্রতিবাদ করুন। সরকারের অসভ্যতামির বিরুদ্ধে যেমন ভাবে পারেন প্রতিবাদ করুন- কিন্তু করুন। যে করোনা রোগী তাকে নিয়ে যাক কোভিড স্পেশ্যাল হাসপাতালে- কিন্তু অন্যেরা কেন?
মানুষের মধ্যে যত আতঙ্ক ছড়াবে তত ভ্যাক্সিন বিক্রি হবে। কোন ভ্যাক্সিন? যে ভ্যাক্সিনের রিপোর্ট আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি সেই ভ্যাক্সিন। কেন আপনি নেবেন! কারণ সরকার আপনাকে নিতে বাধ্য করছে। আপনি বলবেন- পয়সা তো আর দিচ্ছি না, সরকার দিচ্ছে। আপনাকে শুধাই- সরকারের কি বাপের টাকশাল আছে? সরকার তো আমার আপনার ট্যাক্সের টাকাই ঘুরপথে ভ্যাক্সিন হাঙরদের গিফট করছে। বিনিময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিলে কাটমানি জমা হচ্ছে।
গোটা তৃতীয় বিশ্ব জুড়ে এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের খেলা চলছে। যারা ভ্যাক্সিন নিয়েছে তারাও সুরক্ষিত নয়, মাস্ক ও সামাজিক দুরত্ব তাদের জন্যও ম্যাণ্ডেটারি। তার মধ্যে এই নতুন স্ট্রেনের খেলা এসে উপস্থিত। আমরা তো মেতে রয়েছি ভোট নিয়ে, এরপর আইপিএল, তারপর আবার নতুন কিছু এসে যাবে- কবে আমাদের বোধ হবে কে জানে!
কিন্তু তত দিনে কত প্রসূতি মা, কত ডায়ালাইসিসের রোগী, কত আমাশা আন্ত্রিকের রোগী বিনা চিকিৎসায় মরে গিয়ে করোনায় মৃত্যুর লিস্টে উঠে বসে থাকবে তার হিসেব হবে না। হিসাব হবেনা কোভিড স্পেশাল হাসপাতালে কতজন সত্যিকারের কোভিডাক্রান্ত, আর কতজন প্রোটোকলের শিকার। লিস্ট যত লম্বা হবে, তত ভয় বাড়বে, যত ভয় বাড়বে তত ভ্যাক্সিন বিক্রি।
আসলে রাষ্ট্রযন্ত্র যখন দুর্বৃত্তদের সাথে হাত মিলিয়ে ফেলে জনগণ তখন খেলার পুতুল হয়ে যায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন