সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১

যারা আজকের তৃনমূল তারা প্রত্যেকেই আগামীর বিজেপি

 

আজকে মালদহে কার্যত গোটা তৃনমূল দলটাই বিজেপিতে রুপান্তরিত হয়ে গেল। আজ আরো একবার প্রমাণিত হয়ে গেল- যারা আজকের তৃনমূল তারা প্রত্যেকেই আগামীর বিজেপি।
তৃনমূল দলের জন্মলগ্ন থেকেই মমতা ব্যানার্জী বহু যত্ন করে কংগ্রেস ত্যাগী মমতাপন্থীদের বিজেপির ঝাণ্ডা ধরতে শিখিয়েছিলেন অনেক সময় নিয়ে। অগ্নিকন্যা, সততার প্রতীক, অনুপ্রেরণা, মা-মাটি-মানুষ, দিদিকে বলো ও শেষমেশ ‘বাংলার নিজের মেয়ে’- বিক্রিত মিডিয়ার প্রত্যক্ষ মদতে নিজেকে নানা ব্র্যান্ডে বিকোতে মমতার জুড়ি মেলা ভার; আর এতে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছিল RSS, যার জন্য তৃনমূলের ২০২১ প্রার্থী তালিকাতে ১৪ জন সঙ্ঘের নেতাকে রাখতে বাধ্য হয়েছে। এই সঙ্ঘ ঘনিষ্টতা আগেও ছিল, কিন্তু ‘দিদি’ আবেগের বিস্ফোরণে এগুলোকে কেউ দেখতেই চাইনি।
হুগলীর চাঁপদানি বিধানসভা থেকে ২০১১ সালে মুজাফফর খানকে MLA করে এনেছিল মমতা ব্যানার্জী। তারও আগে ২০০১ সালে বেহালা পুর্ব কেন্দ্র থেকে পরশ দত্তকে বিধানসভাতে স্থান দিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী, ২০১১ ও ২০১৬ সালে এই পরশ দত্তই তৃনমূলের টিকিটে জিতেছিল জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। এই দুজনের পরিচয় জানেন? এরা দুজনেই ঘোষিত RSS কর্মী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে করসেবকের দল বাবরি মসজিদ ভাঙ্গতে গিয়েছিল, সেই দলে এই দুজনেই ছিল ঘোষিত ভাবে। সুতরাং মমতা ব্যানার্জি অত্যন্ত সুক্ষ ভাবে দলের মাঝে গেরুয়া চাষ করেছিলেন। আজ রাতারাতি কেউ বিজেপিতে যাচ্ছেনা, এদের মাঝে গেরুয়ার বীজ বহু আগে থেকেই রোপন করেছিলেন ‘হিজাবধারী’ মমতা। খোদ শুভেন্দু বা দীনেশ ত্রিবেদীর আজকের স্বীকারোক্তি এ বিষয়ে প্রামাণ্য দৃষ্টান্ত স্বরূপ।
এভাবেই ক্রমে ক্রমে যারা তৃণমূলের নিচুস্থরের নেতা কর্মী ছিল তারা গেরুয়াতে নিজেকে আর অচ্ছুৎ মনে করেনি, এভাবেই গোটা তৃনমূলটাকে RSS আদর্শে দীক্ষিত করার কর্মসূচী চালিয়ে এসেছে বিগত দুটো দশক ধরে। আজকে যারা দেখছেন সকালে তৃনমূল আর বিকালে বিজেপি- আসলেই এরা RSS এর প্রোডাক্ট, মানুক বা না মানুক- সত্য বদলাবেনা। একারনেই বিজেপিতে যেতে তৃণমূল নেতাদের সামান্যতম চক্ষুলজ্জার প্রয়োজন হচ্ছেনা, নীতি আদর্শের মতো জটিল বিষয়ে নাইবা গেলেন। এই একটা বিষয়ে অতিবড় বাম সমর্থক বা বাম নেতাও মানবেন যে, এটা কেবলই তাঁর একান্ত অনুপ্রারণার ফসল। লাগাতার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটু একটু করে RSS এর চাষ করেছে, কোথাও শাখা খুলতে দিয়ে তো কথাও সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের নামে। মজা হল, গোটা তৃণমূল দলটাই আসলে আজকের বিজেপি আঁতুড়ঘর সেটা আজ প্রমাণিত। বিজেপিকে আজকে আর আলাদা করতে পারবেননা, প্রাক্তন তৃণমূলী বাদ দিলে বাংলাতে বিজেপি বলে কেউ নেই করেক পিস জোকার ছাড়া।
আজকের দিনে দাড়িয়েও যে সকল চটিচাঁটা গাম্বাট ‘আদর্শ-নীতি’ ইত্যাদির বুলি কপচায়, তাদের মুখে অনুপ্রেরণার চটি ছুঁড়ে মারুন, আর প্রশ্ন করুন- গান্ধীবাদী দলের ভেকধারী তৃণমূল নেতা মন্ত্রী সান্ত্রীরা কোন আদর্শে দীক্ষিত হয়ে- টিকিট পেয়ে অথবা না পেয়ে এই ভোটের মুখে গান্ধীর খুনী গডসের দলে নাম লেখায়?
আপনার ভোটটি নিশ্চিত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি বিজেপি সমর্থক হতেই পারেন, ভারতীয় সংবিধানে আপনি রাষ্ট্র স্বীকৃত দল বুক ফুলিয়ে করুন। কিন্তু যারা নাকি বিজেপির বিরুদ্ধে, কিন্তু বিশ্বাস করেন ‘বিজেপিকে’ রুখতে তৃণমূলকেই ভোট দেবেন- জেনে নিন, আপনি নিজেও একজন বিশুদ্ধ প্রো বিজেপি। কারন আপনার ভোট পাওয়া তৃণমূল জনপ্রতিনিধিটা কালকেই যখন বিজেপিতে চলে যাবে- তখন আপনার সন্তানকে ১০০০ টাকা সিলিন্ডার রান্নার গ্যাস আর ১০০ টাকা লিটার পেট্রলের দামের জবাবদিহি করতে হবে। লক্ষবার জয় শ্রী রাম বললেও- এসবের দাম কমবেনা বা আপনার আয় বাড়বেনা। আপনাকেই জবাবদিহি করতে হবে- কোন কারনে নোটবন্দি করে দেশকে খাদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল? কেন প্রতিদিন দেশের সম্পত্তি বেনিয়াদের কাছে বেচে দেওয়া হচ্ছে, কেন পরিযায়ীরা হেঁটে ফিরেছিল? পাকিস্তান জুজু, মুসলমান জুজু আর রামনামে আপনার কি লাভ হয়েছে?
আপনাকেই জবাব দিতে হবে, কেন মেলা খেলার নামে রাজ্যের দেনা আজ এই পরিমাণে, কেন আজ চতুর্দিকে চালচর আর কাটমানি খোরেদের মেলা? কেন আজ রাজ্যে শিল্প নেই, কেন আজ রাজ্যে পুলিস দলদাস, কেন রাজ্যে চাকরি নেই, কেন রাজ্যের শ্রমিকেরা পরিযায়ী হয়ে অন্য রাজ্যে যায়?
পারবেন আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জবাব দিতে? পারলে তৃণমূল কেন- সরাসরি বিজেপিকেই ভোট দিন, ঘোমটার আড়ালে খ্যামটা না নেচে হিম্মৎ জুটিয়ে বিজেপির ঝাণ্ডা ধরুন। ডবল ইঞ্জিন সরকার ত্রিপুরাতেও এসেছিল- ফলাফল নেট ঘেঁটে দেখে নিন। আসামের ডিটেনশন ক্যাম্পে হিন্দুরাই বেশি সংখ্যাতে ছিল, দেশের বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলোতে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার গরীব হিন্দুরাই। আপনি দেশপ্রেমের কাজল পরে স্বপ্নে রয়েছেন, কাল স্বপ্নদোষ হবেই- আর তখন নিজের পরিবারেই মুখ দেখাতে পারবেননা, লিখে নিন।
আর আপনি যদি মুসলমান হন তাহলে তো সোনায় সোহাগা। NRC ক্যাম্পে বসে ভাবার অনেক সুযোগ পাবেন। প্রসঙ্গত, মান্নীয়াই সংসদে বাংলাতে সর্বপ্রথম NRC এর দাবী উত্থাপন করেছিলেন। এখানেও RSS এর এজ্যেন্ডার সফল প্রয়োগ হয়েছিল, আপনি মুসলমানের ত্রাতা ভেবেছিলেন মমতাকে, আজ আপনি ভুগবেননা তো কে ভুগবে? হাজার হোক আপনার একটা গালভরা পরিচয় যে আছে- ‘দুধেল গাই’। আর কিছু না হোক, বিজেপির ষাঁড় আপনাকে পাল দিয়ে যাবে গোয়ালে নিয়ে গিয়ে। এটাই আপনার প্রাপ্তি।
তাই আজকেই ভাবুন, এখনি, এই মুহুর্তে- আপনি সত্যিই কি বিজেপি বিরোধী?
যদি তাই ই হয়, তাহলে আপনি ও আপনার পরিবার এবার জোটে ভোট দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিন। জোটই অন্ন-বস্ত্র-কর্মসংস্থান ও সুপ্রশাসনের জন্য আপনার হয়ে লড়াই এর জন্য দায়বদ্ধ।

প্রতিবারের ভুলের ক্ষমা হয়না, এবারে কাঠ খেলে আপনাকেই ফার্নিচার হাগতে হবে- এটা মাথায় রাখবেন, ব্যাস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...