‘ব্লাঁশে মনিয়ে’ তার শখের পুরুষকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো, কিন্তু ব্লাঁশে’র মা রাজি ছিল না।
হঠাৎ একদিন লাপাত্তা হয়ে গেলো ব্লাঁশে। আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শী, বন্ধুবান্ধব, সবাই বুঝে ফেললো— ওরা পালিয়ে কোথাও ঘর বেঁধেছে।
যাইহোক, এরপর ২৫ বছর কেটে গেছে। কেউ একজন পুলিশকে একটি গোপন তথ্য জানিয়ে দিলো। মনিয়ে’দের বাড়িতে পুলিশ এলো। কী আশ্চর্য, মনিয়েকে পাওয়া গেলো বাড়িতেই, বাড়ির চিলেকোঠার ভিতরে, শিকলে-বাঁধা, কঙ্কালসার, মৃত্যুপথযাত্রী। ব্লাঁশে’র মা-ই আঁটকে রেখেছিলো ২৫ বছর ধরে।
আজকের দিনেও অনেক ‘ব্লাঁশে’ আঁটকে রয়েছে অদৃশ্য শিকলে বন্দি হয়ে, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জন্মদাত্রী মা এই কাজটি করে। কখনও ঠুনকো সম্মানের দায়ে, কখনও অন্যকিছু। ব্লাঁশে যদি রোজগেরে হয়, তার নিশ্চিত অর্থের লোভে অনেক মা তার নিজ কন্যাকে বন্দি বানিয়ে রেখে দেয়, হরেক ফিকিরে। তাকে নিজের মত করে সংসার করতে দেয়না, যদি ব্লাঁশে তার সংসারে মগ্ন হয়ে যায় তাহলে প্রতিমাসে ব্লাঁশে’র রোজগারের অর্থ কীভাবে ভোগ করা যাবে নির্বিচারে!!
শিকল যে শুধু লোহার হয় কে বললো, শিকল অনেক সময় আবেগের হয়, মেকি অভিভাবকত্বের হয়। শিকল ঠুনকো জেদের হয়, ‘লোকে কী বলবে’ শিকল সবচেয়ে দুর্ভেদ্য।
সুতরাং, এই সমস্ত টক্সিক আত্মীয়দের যদি জীবন থেকে দূর না করে দেওয়া যায়, সেটা যত নিকটাত্মীয়ই হোকনা কেন, ব্লাঁশে কখনই সংসার সুখ পাবেনা, না পাবে নিজের মত করে মুক্ত বাতাসে বাঁচার শান্তি। অদৃশ্য শিকলে বন্দি হয়েই থাকবে, কোনো এক ২০ বছর পর একটা সকালে কঙ্কালসার অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করবে। আত্মীয়েরা কী কিছু হারিয়েছে জীবনে? প্রত্যেকে নিজের নিজের শখের নারী/পুরুষের সাথে জীবন কাটিয়েছে নিজের শর্তে। তারা পৃথিবীর সমস্ত রঙ রূপ আস্বাদন করেছে সুখ দুঃখের আবছায়াতে।
ব্লাঁশে কী পেয়েছে? অনাহারে, অর্ধনগ্ন, শিকলে বাঁধা আলোবাতাসহীন একটা বদ্ধ কুঠুরি ছাড়া?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন