পেহেলগাঁও কাণ্ডের পর ১২ দিন অতিক্রান্ত।
বিজেপি নেতাদের ফাঁপা ডায়লোগবাজি ছাড়া নিট ফল শূণ্য বদলা নেওয়ার বিষয়ে। অবশ্য ১২টা পাকিস্তানি ইউটিউব চ্যানেল সহ দেশীয় ২টো ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক।
অবশ্য পাকিস্তানিরা যে হারে নিজেদের নিয়ে খিল্লি মিম ছাড়ছে সোস্যাল মিডিয়াতে, পারলে ওরাই নিজেদের দেশে যুদ্ধ বাঁধিয়ে না দেয়- ইন্ডিয়ার অধীনে আসার জন্য। এটা ফ্যাক্ট, ওদের দেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি সরকারের থেকে মুক্তি চেয়ে ইন্ডিয়ার সাথে জুড়ে যেতে চাইছে। এই পাকিস্তানি মিম যুদ্ধ আমাদের গোদি মিডিয়াকে পথে বসিয়ে দিয়েছে- যারা প্রতি ৪৮ ঘন্টায় " বড়া কুছ হোনে যা রাহা হ্যায়" বলে দৈনিক একই কমেডি সার্কাস করে যাচ্ছিলো, তারা এখন পাকিস্তানি মিমারদের সাথে লড়ে যাচ্ছে, কারা বেশী হাস্যকর! প্রাপ্তি শুধু আদানির, কেরলের সমুদ্রবন্দর, আর জাতিগণনার ঘোষনাতে রাহুল গান্ধীর আত্মতৃপ্তি। ভারতীয় মিডিয়াকুলের সার্কাস নিজেরাই সহ্য করতে পারছেনা, আজতক আজ পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছে, কারন TRP যে আর উঠছেনা মোদীস্তুতিতে।। শহীদদের ঘা এখনও দগদগে, মোদীর মন্ত্রীসভার পীযুষ গয়ালের দাবী ১৪০ কোটি জনগনের মাঝে রাষ্ট্রবাদীতার অভাব। অর্থাৎ জঙ্গীবাদের মাস্টারমাইন্ড খুঁজে পেয়েছে- ১৪০ কোটি জনগন।
প্রশ্ন অন্যত্র। সর্বদল বৈঠকে মোদী উপস্থিত ছিলোনা, বিহারের নির্বাচনী বৈঠকে উপস্থিত ছিল। মোদীকে কী তবে তারই মন্ত্রীসভা দুধে-ভাতে আব্বুলিস করে রেখে দিয়েছে কাগুজে বাঘ সাজিয়ে? সমস্ত মিটিং করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্য কেউ। মার্কিন উপরাষ্ট্রপতির সাথেও কোন সাক্ষাৎ ছিলোনা। মোদী তারমানে BJP দলে বোঝা বা অচল পয়সা আজকের দিনে?
কিন্তু মোদী নামের ওজন তো বিপুল, সেটাকে কীভাবে সামলাবে RSS-BJP নেতৃত্ব? প্রায় ২ দশক ধরে মোদী নামের ব্যক্তিটাকে Super Human পর্যায়ের যুগপুরুষ অবতারে নিয়ে গিয়েছে প্রচারমাধ্যমের দৌলতে। তাকে রাতারাতি ঝেড়ে ফেলা সম্ভব ওদের পক্ষে, যেখানে সরকার তাদেরই। জোড়াতালি দিয়ে হলেও অন্তত আগামী ৪ বছর তো বটেই।
যদি খুব ভুল অনুমান না হয়, আগামী আধা-এক বছরের মধ্যে মোদীর বাণপ্রস্থে যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত। তারপর তিনি অন্তর্ধানে চলে যেতে পারেন, আদবানীর কলিগ হয়ে মার্গদর্শক মণ্ডলীর 'কারিয়াকর্তা' হতে পারেন কিম্বা দৌপদী মূর্মূর স্থলাভিষিক্ত। যাখুশি হোক- নরেন্দ্র 'নন বায়োলজিক্যাল' মোদীর অবসরে যাওয়া একপ্রকারের নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে ঘটনাক্রম মানে ক্রনোলজি অনুযায়ী। তবেই তাকে দেবত্বে উন্নিত করা যাবে।
বিজেপির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মুখ কে? অমিত শাহ? গদকরি? নাড্ডা? চৌহান? নাগপুরী ফড়নবিস? নাকি গেরুয়া রাজনীতির পোষ্টার বয় যোগী?
পুঞ্চ, রাজৌরি সহ POK বরাবর কাশ্মীরে অন্তত ১০ জন নিহত আর অগুন্তি গুরুতর আহত হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য
পাক সীমান্তবর্তী জেলার এলাকাতেও বেশ কিছু সাধারন নিরপরাধ মানুষ না-পাক আর্মির দ্বারা খুন হয়েছে।
"অপারেশন সিঁদুর" এর আবেগে বিগলিত যমুনা হতে কারো মানা নেই, কিন্তু যারা কাশ্মীরে মারা গেলেন তারা ভারতীয় নাকি শুধুই কাশ্মিরী?
না মানে, টিভি মিডিয়া সহ সোস্যালমিডিয়াতে এ বিষয়ে ১%ও কোনো লেখাজোখা তথা তাপউত্তাপ শোকসন্তাপ নেই। ভাবটা যেন, আরে ওরা কাশ্মীরি তো- তার উপরে মুসলমান। পাঞ্জাব, হরিয়ানা বা গুজরাত রাজস্থানে তো আর কেউ মরেনি। শিখ বা হিন্দু হলেও একটা ফুটেজ হতো, এটা বাতিল সাবজেক্ট। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়।
এর পরে আমরা কাশ্মীর ভ্রমণ থেকে ফিরে এসে রসিয়ে রসিয়ে সোস্যালমিডিয়াতে লিখব, ইউটিউবে ভিডিও বানাবো-" জানেন মোহাই, কাশ্মীরিগুলো সব্বাই হাইলি সাসপিসাস জঙ্গি। নিজেদের ভারতীয় ভাবতেই চায়না"। হুলিয়ে লাইক শেয়ার আর বিশেষজ্ঞের কমেন্ট হবে।
কাশ্মীর অবিচ্ছেদ্য অংশ, কিন্তু আপনি কাশ্মীরিদের অন্তর থেকে ভারতীয় ভাবেন?
২৬+১০= মোট ৩৬ জন খুন হলো পেহেলগাঁও কান্ডে। এটাই সত্য। আপনি উল্লাসে মেতে থাকুন পাকিস্থানের ৭ জন মরেছে বলে, তাদের ৭০০ মারতে হবে, তবে উল্লাস আসবে অন্তর থেকে।
কে দ্যায় আপনাদের?
এমনও তো হতে পারে- সাইরেন বাজলো, সবাই মিলে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। আলোও নিভিয়ে দিলাম। বাইরে তুমুল হট্টগোল, এলোমেলো আওয়াজ। এই সুযোগে গোয়ালের গরু, রান্নাঘরের মজুত চাল, ঘটিবাটি, উঠোনের ত্রিপল, সাইকেল, মোটরবাইক ইত্যাদি নিয়ে চম্পট দিলো আপনাদের তোলামূল বাহিনী। আপনারা তো এমনই আপদকালীন সুযোগের তালে থাকেন, তাই না!
জঙ্গিগোষ্ঠী, পাকিস্তান, যুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে গোটা ভারতের নাগরিকের একরকম ভাবনা। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের অতিরিক্ত কিছু আউন্স আতঙ্ক- নাম তৃণমূল। সবই ওনার অনুপ্রেরণা
লাইট বন্ধ করে ঘরে না গেলে রাষ্ট্রদ্রোহের বিষয়টা আছে, গেলে চালে-ত্রিপলে নির্বংশের ভয়। কী জ্বালা বলুন তো!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন