সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

এক ফোনেই ফুস.........



এক ফোনেই ফুস.........

আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেবেন মাননীয় সারেন্ডার মোদী।
কটা সাধারণ প্রশ্ন রইল-
১) যে ৫ জন জঙ্গী সন্ত্রাস চালালো, তারা কী ধরা পরেছে?
২) তাদের খতম করা হয়ে গিয়েছে?
৩) রাষ্ট্র কী পেলো মিডিয়ার মিথ্যার ফুলঝরি ছাড়া?
৪) ইন্টেলিজেনন্স ফেলিওর এর দায় কে নিয়েছে?
৫) আমরা যদি সার্বভৌম রাষ্ট্র হই, ট্রাম্প কীভাবে সবার আগে ঘোষনা করে?
৬) POK ফেরানোর কী হলো?
৭) কতগুলো জঙ্গীকে খতম করা গেছে?
৮) কারা প্রথমে আমেরিকার পায়ে ধরেছিল মধ্যস্থতার সাহায্য চেয়ে?
জানি ভক্তহৃদয় সম্রাট- মিসেস সরি, মিস্টার "সাইরেন লেডি" এসব প্রশ্নের আশপাস দিয়ে যাবেননা। যা কিছু সাফল্য সেটা সেনাবাহিনীর হোক বা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের- সব কৃতিত্ব 'স্যারেন্ডার' সাহেবের, যা কিছু ব্যর্থতা সব নেহেরুর কিম্বা ঔরঙ্গজেবের।
যার সাংবাদিকদের সামনাসামনি করার মুরোদ নেই, যিনি মূলত প্রধানমন্ত্রীর ভুমিকাতে অভিনয় করছেন, আসল সরকারি সিদ্ধান্ত যা কিছু আমেরিকা নিচ্ছে, সেটা পাকিস্তানের সাথে বদলা হোক বা শুল্কনীতি। দেশের মাঝে সর্বদল বৈঠক করছে অমিত শাহ, পাকিস্তানের মত জঙ্গি রাষ্ট্রের মোকাবিলা করছে আমাদের সেনাবাহিনী- আর ১৪০ কোটি দেশ, তার গরিমা লুন্ঠিত হচ্ছে- একটা অযোগ্য সরকার আর তার দূুর্বল প্রধানমন্ত্রীয় দায়ে। বিশ্বজুড়ে খোরাক হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে।
১৫ বছর ধরে প্রোপাগাণ্ডা মেসিনারি মোদীকে বাঘের পোশাক পরিয়ে একটা হারকিউলিস সম ফিগার বানিয়ে দিয়েছিল। লাগাতার প্রচারে ভক্ত সমাজ তৈরি হয়েছিল, যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, মোদী মানেই সব কিছুর সমাধান। এদিকে এক ফোনেই ফুস হয়ে যাবিতীয় গ্যাস বেরিয়ে ছালটুকু পরে রয়েছে। ওদিকে মিথ্যুক পাকিস্তানের "যুদ্ধ জয়ের" নিলজ্জ উল্লাস সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়াছড়ি। চুড়ান্ত খিল্লি হচ্ছে আঁটিসেলের ৫ টাকার সেনাদল। এদিকে দেশের সেনাকর্তাদের শান্ত, মার্জিত, পরিসীলিত অফিসিয়াল সাংবাদিক বৈঠকের বয়ানে ভক্তদের অর্গাজম হচ্ছেনা, ফলত তারা দিশেহারা হয়ে গেছে।
ভক্ত নামের আঁটি সেলের 'জম্বি' ক্ষ্যাপা কুত্তাগুলো দিকভ্রান্ত হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকেই কামরাতে লেগেছে, তাদের জন্য কিছুটা এঁটোকাঁটা ছুড়ে দিতে হবে যে, তাই হয়ত জাতির উদ্দেশ্যে বাতেলাবাজি করতে আসছেন। সোস্যালমিডিয়াতে understanding versus agreement টুলকিট গতকাল গাধার ইয়েতে ঢুকে গেছে। গোদি মিডিয়া নিয়েই নিজের পশ্চাদ মেহন করে বিশ্বাসযোগ্যোতা মাইনাসে রান করাচ্ছে। ভক্তরাও বিশ্বাস করছেনা মিডিয়াকে, অতএব স্বয়ং ভক্তপিতাকেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামিয়ে দিয়েছে নাগপুর।
সরকারের বিদেশনীতি ফেইল মেরেছে, বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারি দেশের সাফল্যের কথা না বলে কেবল ব্যর্থ ভক্তপিতার ভাবমূর্তি উদ্ধারে ব্যস্ত। অর্ণবের মত বিজেপির অফিসিয়াল স্পোকপার্সনের তারকাটা মন্তব্য আসছে। সামনে বিহার নির্বাচন, ওয়াকফ বিল আর শরিয়া আইন বাতিলের মাস্টারস্ট্রোকের বাইরে এদের হাতে কিইবা রয়েছে ভোটের রাজনীতির জন্য?
স্বাধীনতার ৭৮ বছরে, কাশ্মীর নিয়ে প্রথমবারের জন্য তৃতীয় পক্ষ হাজির করে ফেলেছেন ৫৬ ইঞ্চির বামন পালোয়ান, পাকিস্তান নিয়েও যা বলার ট্রাম্প বলছে, উনিজি নতুন কী বলবেন আজ?
দেশের দলিত, বামপন্থী, প্রশ্ন করা বিরোধীপক্ষ, স্পষ্টবক্তা সাংবাদিক, সর্বোপরি মুসলমানদের উপরে অত্যাচার করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে জেতা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নয়।
আমাদের রাষ্ট্র কার ইশারাতে চলছে? দেশের মানুষ যাকে দেশ চালাবার দায়িত্ব দিয়েছিল 'ফায়ার' ভেবে, তিনি তার মার্কিন 'মালিকের'' আদেশে নতজানু হয়ে 'সিজফায়ার' অবতারে প্রকট হয়েছেন।
একদা "চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান" বলে বামেদের যারা কটাক্ষ করতো, তারা আজ "আমেরিকার রাষ্ট্রপিতাই আমাদের রাষ্ট্র পিতা" মেনে নিয়েও- মুখ ফুটে বলতে পারছে না।
যেখানে আমাদের সেনা সর্বদিক থেকে এডভান্টেজে ছিল জলে-স্থলে-আকাশে, পাকিস্তানের একজন সাংসদ কাঁদছে, তাদের নিউজ এ্যঙ্কর কাঁদছে- এগুলো সব আমরা দেখেছি। আমাদের বীর নৌসেনার তরফে অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে যে 'বিক্রান্ত' সেই রাত্রে এ্যাটাকের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল, তাহলে কার ইশারাতে, কার স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পাকিস্তানকে আবার 'সুযোগ' দেওয়া হলো?
এই মুহুর্তে বিজেপি দল ও বিজেপি পরিচালিত সরকারের তরফে যা কিছু প্রচার, সবটাই ফেকুবাবুর ছবি সহ অপারেশন সিন্দুরের ক্রেডিটে নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারের জন্য। দেশ নয় ব্যাক্তিই এখানে প্রধান, কারন ভোটে জেতার জন্য এই মুখটাকেই গত ১৫ বছর ধরে ব্যবহার করেছে RSS- BJP.
রাষ্ট্র আর সরকার এক নয়। রাষ্ট্রকে সরকার পরিচালনা করে, আর এই সরকার মিথ্যা সর্বস্ব, ভীতু ও দুর্বল, যারা দেশের মধ্যে জাতিদাঙ্গা লাগাতে পারে, যুদ্ধের ময়দানে সেনাকে প্রয়োজনীয় বদলার নির্দেশ না দিয়ে 'সিজফায়ারের' কাপুরুষতা মেনে নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়ে যায়?
২০১৬ সাল থেকে কূলভূষণ পাক জেলে বন্দি, দিন দশেক আগে পূর্ণম সাউ বন্দি হয়েছেন- তাদের বিনা শর্তে ছাড়িয়ে না এনেই আলোচনায় বসছে পাকিস্তানের সাথে, কেন এই ভীরুতা? কিসের ভয়?
আসলে আত্মবিশ্বাসের অভাব, যা মূর্খদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। সেনা নিয়ে এরা রাজনীতি করে, কিন্তু দেশের সেনার প্রতি বিজেপি পরিচালিত সরকার, দল বিজেপি ও সঙ্ঘ নেতাদেরই ভরষা নেই। নতুবা নতজানু হয়ে মার্কিন প্রভুর নির্দেশে বাধ্য ছেলের মত আলোচনাতে বসতনা।
কাগুজে বাঘ আজ সন্ধ্যায় নতুন কোন ভাঁড়ামো করতে আসে সেটাই দেখার।
আপনার কী মনে হয়?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...