ভারতীয় চিংড়ি চাষীদের পাশে এ বার চিন।
মাই ফ্রেন্ড ‘দোনাল্ড টাম্পের’ ৫০ শতাংশ
শুল্ক ধাক্কা সামলাতে আমেরিকা ছেড়ে এ বার চিনের বাজার ধরায়
মন দিয়েছেন ভারতীয় চিংড়ি ব্যবসায়ীরা।
রাশিয়া থেকে আম্বানির সস্তার তেল কেনার কারণে ‘জরিমানা’ গুনছে আরো অনেক ব্যবসার মত আমাদের চিংড়ি চাষীরা। ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে ভারতের যে সকল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম সমুদ্রজাত খাদাপণ্য তথা সি-ফুডের বহুবিধ পণ্য রফতানির ব্যবসা। সস্তার রাশিয়ান তেলে আম্বানি দিনে দিনে ফুলেফেঁপে ঢোল হলেও, আশঙ্কাজনক ভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে পরেছে ভারতের অগনিত জেলে, মাঝি, সি-ফুড মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষী ও সি-ফুড রপ্তানিকারীরা।
বাংলা, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও গুজরাত জুড়ে বিস্তৃত বিশাল উপকূলরেখার কারণে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি, কাঁকড়া এবং নানান মাছ চাষের কেন্দ্রবিন্দু। বারবার ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠতে মানুষ বিকল্প খুঁজে নিয়েছিলো। এতদ অঞ্চলের লবণাক্ত জলাশয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনজীবনের জীবিকা নির্বাহের এটাই একমাত্র কার্যকর পেশা। ফলত, গত দুই দশক ধরে, লবণাক্ত জলের চিংড়ি কাঁকড়া চাষের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে দেশে।
বিগত কয়েক বছরে সি-ফুড রফতানির দিক থেকে ফুলেফেঁপে উঠেছিল ভারত। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে প্রায় ১৭ লক্ষ টন সি-ফুড রফতানি করেছে ভারত। এর মধ্যে শুধু চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। চিংড়ি ঠিক কতটা অর্থকরী ফসল, তার জন্য এই ডেটাটাই বোধহয় যথেষ্ট। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের চিংড়ি আমদানি করেছিল আমেরিকা।
ভারতে উৎপন্ন সি-ফুড যতটা না এ দেশে খাওয়া হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি রফতানি হয়, মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশেরও বেশি। পরিমাণের দিক থেকে এবং মূল্যের নিরিখে ভারতের সবচেয়ে বেশি রফতানি হওয়া পণ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হলো চিংড়ি, স্বাভাবিকভাবেই সি-ফুডের রফতানিতে চিংড়িই শীর্ষস্থানে যা সামগ্রিক সি-ফুডের দুই-তৃতীয়াংশ।
ভারতীয় সি-ফুড রফতানির ব্যবসায়িক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার। এই চিংড়ি-সহ রপ্তানি হওয়া সামগ্রিক সি-ফুডের ৩৫ শতাংশের বেশী একাই আমেরিকা নিয়ে নিতো। শুধুমাত্র চিংড়ি আর কাঁকড়া উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষ, ফলে ট্রাম্পের শুল্কবাণে এই ৬০ হাজার কোটির বাজারে হাহাকার উঠে গিয়েছিলো। ওদিকে বিশ্ববাজারে অন্য খেলোয়ারেরা বাজার দখলের জন্য ওৎ পেতে বসে আছে; ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইকুয়েডর দেশগুলির সি-ফুড খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিমাণ আমাদের থেকে বেশি।
ফলত আমেরিকার বিকল্প বাজার ধরতে মরিয়া মৎস্যচাষীরা। আমেরিকা ছাড়া সি-ফুডের চাহিদা রয়েছে এমন দেশ, যেমন রাশিয়া, ব্রিটেন, নরওয়ে, সুইৎজ়ারল্যান্ড, চিন, জাপান, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার ধরারও চেষ্টা করছে রফতানি কারকেরা। ভারতীয় চিংড়ি চাষীদের বিপদ থেকে রক্ষা করতে ‘দেবদূত’ হয়ে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ভারতের সি-ফুড রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১০২টি ভারতীয় সংস্থাকে রফতানির অনুমোদন দিয়েছে EU।
আমেরিকার পরে চিংড়ির দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক চিন। ফলত, আমেরিকার শুল্কাঘাত ভারতীয় চিংড়ি রফতানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ বলে প্রমাণিত হতেই পারে। চিনের বাজারই সবচেয়ে সম্ভাবনাময়, যারা ভারতীয় চিংড়ির শীর্ষ আমদানিকারক হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতে। ভারতীয় সি-ফুড রফতানিকারকদের আবেদনে চিনও সাড়া দিয়েছে। চিনা দেশীয় বাজারে সি-ফুড, বিশেষ করে চিংড়ির চাহিদা ব্যাপক। সেই কারণে ভারতীয় চিংড়ি তাদের প্লেটে নতুন স্বাদের জোয়ার আনতে পারে। দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হলে ভারতীয় সি-ফুডের জন্য চিন দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিণত হবেই। সি-ফুড, প্রক্রিয়াকরণ এবং পুনঃরফতানির জন্য ভারতীয় পণ্যে প্রাধান্য দিয়েছে চিন, ফলে বিগত কয়েক দিনে ভারত থেকে চিংড়ি আমদানির পরিমাণ বেড়েছে।
বিগত কিছু বছরে রপ্তানিতে লাভের মুখ দেখার কারনে সি-ফুড খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল দেশের অভ্যন্তরে। কৃত্রিম ভাবে ভেড়ি তৈরি করে চিংড়ির চাষ বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কবৃদ্ধির কারণে তাদের মাথায় হাত পরে যায়। আমাদের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিংড়ি চাষ হয় অন্ধ্রপ্রদেশে, সে রাজ্যের চাষীদের উপরই প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। চিংড়ি উৎপাদনে আমাদের রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে। বিস্তীর্ন সুন্দরবন অঞ্চল, দুই মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগণা জুড়ে চিংড়ি চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। রাজ্যের ভ্যানামেই চিংড়ি বিদেশের মার্কেটে দারুন চাহিদা রয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিংড়ি রপ্তানিকারক। মানসম্পন্ন চিংড়ি উৎপাদন, প্রজাতি বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানিমুখী প্রজাতির প্রচার, ব্র্যান্ডিং, মান ও সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফসল পরবর্তী পুকুরের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা প্রদানের জন্য ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PMMSY) স্কিমে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তার সুফল কৃষক স্তরে সামান্যই পৌঁছেছে, ফলস্বরূপ ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে অন্যান্য সি-ফুড খাদ্যপণ্যের রফতানি এক ধাক্কায় ২০ শতাংশের বেশী কমলেও, চিংড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে চাষীরা, লোকসান হওয়ায় কৃত্রিম ভাবে চিংড়ির চাষও বন্ধ হয়ে গেছে বহু জায়গায়।
তাই একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা সমবায় চিংড়ি চাষীদেরও হাতে হ্যারিকেন, বিশেষ করে আমাদের রাজ্যে। দুধেল গাইদের বিজেপি ভয় দেখাবার বাইরে মাননীয়ার সময় তো শুধু মন্দির বানাতে আর মেলা খেলায়। বর্ধিত উৎপাদন খরচ, প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কাজে লাগে এমন কোনো সরকারী কর্মশালা নেই, মাত্রাতিরিক্ত জল ও মাটি দূষণ, নিত্য নতুন রোগব্যাধি, পরিবেশগত নানান অবনতি, রিল প্রজন্মের কারনে অদক্ষ শ্রমিকের অভাব, অদক্ষ খামার ব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু সরাকারি নীতিমালার অভাব- বিশাল অংশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর বৃহত্তর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বৈদেশিক বাজারে শুল্ক আরোপে চাহিদা কমে যাওয়াতে নতুন করে ‘মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা’।
চিংড়ি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিদ্যুৎ, সমস্ত উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, চাষীদের জন্য টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ চাষীর কাছে অত্যাবশ্যকীয় কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য নেই, না আছে আধুনিক চাষ পদ্ধতির জ্ঞান যাতে খরচা কমে, যাবতীয় চ্যালেঞ্জ হয় নিজে মোকাবিলা করো, নতুবা পেশা পরিবর্তন করো। সরকার কর আদায় ছাড়া কিচ্ছুটি করবেনা। আজও রাজ্যের প্রান্তিক পর্যায়ে যথাযথ পরিবহণ, সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের নূন্যতম পরিষেবা করে উঠতে পারেনি সরকার।
যখন তখন বন্যা মাছচাষের জন্য মহামারী সমস্যা, এতে জলবাহিত রোগজীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দুষিত জলে সব চিংড়ি মরে যায়। বৈদেশিক মান ধরে রাখতে আজকাল চিংড়ি চাষে পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিক মান মেনে, যেখানে মূলত প্রোবায়োটিকই ভরষা, সেখানে বাণের জল আসলে চিংড়ি চাষীদের কপাল ফাটিয়ে দিয়ে চলে যায়। এছাড়া মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের প্রভাব বাড়ছে, বাড়ছে লবণাক্ততা। চিংড়ির উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি পরিবেশের স্বাস্থ্যকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে।
আমাদের রাজনীতি সর্বস্ব অর্ধশিক্ষিতের দেশে চাষীদের সমস্যার কোনো অভাব নেই, নিত্য কিছু না কিছু লেগেই আছে। বিভিন্ন নদী সঙ্গমের উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চলের শালি, সোনা বা ডাঙা জমি সহ জলাভূমিগুলির বিশাল জীববৈচিত্র্য রয়েছে, যা প্রকৃতির নিজশ্ব সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের অসৎ অংশ, স্থানীয় দুষ্কৃতী, দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আর কোলকাতার নেতাদের উদ্বৃত্ত অবৈধ পুঁজির কল্যাণে সেই সব অংশে চিংড়ি খামার তৈরি হচ্ছে, প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞ বিপর্যয় ডেকে আনার জন্য এগুলো যথেষ্ট। সরকারের উপরতলা ভাগা পেয়েই সন্তুষ্ট। সুন্দরবন অঞ্চলেও পরিকল্পনাহীন উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে চিংড়ি চাষের ভেড়ি তৈরি হচ্ছে সেই শাসক দলের দাদাদের অর্থায়ন ও মদতে। সমস্ত বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে মুনাফা কামিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকার জীবন জীবিকার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী
নানা গবেষণায় উপকূলীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত
করার জন্য ম্যানগ্রোভ-ভিত্তিক জলজ চাষকে একটি কার্যকর, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ একটি
প্রাথমিক জীবিকা। এই সমন্বিত পদ্ধতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং চিংড়ি চাষ উভয়ের সহাবস্থান নিশ্চিত করে- যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয়
সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী। ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলি জীবিকা
নির্বাহের পাশাপাশি অবনতিশীল উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য
ম্যানগ্রোভ-সমন্বিত চিংড়ি চাষে দারুন সফলতা লাভ করেছে। দেশে
কেরালা এই মডেলে সফলতা পেয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর কিছু জায়গায়, ছোট জেলেদের সাথে একই রকম পদ্ধতি গ্রহণ করে সফলতা পেয়েছে।
তাই বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি আরো নানা ভাবে চাষীকে বাঁচানো সম্ভব, ও তার পথ খুঁজতে হবে।
- পরিবেশগত নিয়মকানুনকে কাঁচকলা দেখিয়ে যারা উর্বর শালি ও ম্যানগ্রোভ এলাকায় দখলদার চিংড়ি খামার বাইয়ে বসে আছে, তাদের অপসারণের পদক্ষেপ নিলে- আসলে যারা চিংড়ি, কাঁকড়া তথা মৎস্য চাষী এবং শ্রমিক তাদের জীবিকা ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব। এতে সরবরাহ কমলে আসল চাষী, যাদের এটাই মূল জীবিকা তারা উপকৃত হবে।
- ঘূর্ণিঝড়
এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজের কোনো বিকল্প নেই-
সেই অনুর্বর জমি চিহ্নিত করে সেগুলোকেই চিংড়ি
ও কাঁকড়া চাষের জন্য সংরক্ষিত করা
হোক।
- সংরক্ষণ এবং
জীবিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব কমাতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে তাদের যুক্তি ও ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামোগত মডেল ও নীতি কাঠামো বানাতে
হবে, যা চিংড়ি চাষ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একসাথে একত্রীভূত করবে।
- জৈব জলজ চাষ হিসেবে চিংড়ি ও কাঁকড়াকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এ বিষয়ে এমএস স্বামীনাথন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এমএসএসআরএফ) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ‘আর রামাসুব্রামানিয়ান’ এর মত ব্যক্তিদের পরামর্শ মানতে হবে, তাদের মত ব্যাক্তিদের বেশী বেশী করে এই ধরণের প্রকল্পে নিয়োগ করতে হবে।
- সরকারের স্কিমের সুফলকে যথাসম্ভব দ্রুত প্রতিটি প্রান্তিক চাষীর কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
- লাইসেন্স
প্রদান বা তার নবায়নে আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব হ্রাস
করতে হবে।
- প্রতিটি রাজ্যের উপকূলীয় জলজ চাষ উপকূলীয় জলজ পালন কর্তৃপক্ষ (CAA) বিধি সংশোধনীর অধীনে এনে,
নতুন খামার নিবন্ধন এবং বিদ্যমান খামারগুলির জন্য সিস্টেমকে সহজ বানাতে হবে।
- আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উপরে ভর্তুকি ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
- প্রতি ত্রৈমাসিকে ফসলের রোগ ও তার প্রতিকার বিষয়ে গ্রামে গ্রামে কর্মসুচি করাতে হবে বিভিন্ন কৃষি বিজ্ঞানীদের দল গঠন করিয়ে।
- প্রতিটা অঞ্চলে পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে, প্রক্রিয়াজাতকরণ এর বন্দোবস্ত ও মজুদের জন্য হিমঘর স্থাপন আসু প্রয়োজন।
- পরিবহনের সময় রাস্তায় পুলিশি জুলুম, বাজারে তোলাবাজদের জুলুম, সরকারি অফিসে চাঁদা ও ঘুষের জুলুম থেকে চাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মুক্তি দিতে।
মোদ্দাকথা সদিচ্ছা থাকতে
হবে। যার জন্য একটা শিক্ষিত সরকার প্রয়োজন। একদিকে সর্বক্ষণ ধর্মের মেরুকরণ করা একদল
উন্মাদ, অন্যদিকে কোথা থেকে একটু চুরিচামারি করব, সারাদিন তার ফিকিরে ঘোরা একদল চোরের
দল সরকারে বসে আছে- কীভাবে চাষীকে উপসম দিতে পারে এরা! সরকার সার ভেবে নিয়ে মাসে ৫
কেজি চাল আর ৫০০-১০০০ টাকার ‘ভিক্ষা’ দিয়ে দায় সেরে ফেলছে। কিন্তু চাষী
না বাঁচলে সমাজ বাঁচবে তো? টাকা কী চিবিয়ে খাবেন?


