সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বগুরু- The Real Pappu

 


প্যারাডাইস লস্ট এর করুণ নিদারুণ দৃশ্য আজকের ভক্তপিতার মাঝে দৃশ্যমান, যা শিক্ষনীয়। ক্ষমতা আঁকড়ে পড়ে থাকা এক ভীরু ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া লোলচর্ম পলিতকেশ বৃদ্ধ; এতটাই নির্লজ্জ ও মেধা-বুদ্ধিতে দীন যে, নিজেকে খোদ রাষ্ট্রের সমার্থক হিসেবে তুলে ধরতে তার বিন্দুমাত্র চক্ষুলজ্জা নেই। অথচ এই দেশ তাকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে, সেই দেশের ছাত্রসমাজের কাছেই উনি ভাঁট বকে মরিয়া হয়ে প্রশংসা পেতে চাইছেন- চরম শোচনীয় একটা পরিস্থিতিউনি ভুলে গিয়েছিলেন যে- ভাষনটা শিক্ষার্থীদের সামনে দিচ্ছেন, লীয় গোবরভক্ত কর্মীদের কাছে নয়।

গত ১৪ বছর ধরে পোষ্য মিডিয়া যে একখানা সুপারহিরো প্রতিমূর্তি বানিয়েছিলো, এবং উনি নিজেও নিজের নন বায়োলজিক্যাল ইমেজ তৈরি করেছিল- সেই কল্পিত ভ্রমের স্বর্গ থেকে নিজেই নিজেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে ফেলে রক্তমাংসের একজন কুৎসিত উদ্ভ্রান্ত বিকৃত মনস্ক স্থবির বৃদ্ধ মানুষ হিসেবে উন্মোচিত করে ফেলেছে- যাবতীয় ব্র্যান্ডিংয়ের ধরাচুড়ো আজসে গেছে। ২০০২ এর দাঙ্গাবাজ মোদী, ২০১৪ এর স্বপ্নফেরি করা মার্কেটিং গুরু মোদী আর ২০২৬ এর ব্যার্থ মোদী- কোনো ফারাক নেই বয়স ছাড়া; একটাই গু, আলাদা রঙে আলাদা নক্সায়। সবচেয়ে সংবেদনহীন এবং সহানুভূতি-বর্জিত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যখন দিল্লিতে বিল্ডিং ধসে পড়ার দরুন যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু শিক্ষার্থী আটকা পরেছে বা মারা গেছে, এ নিয়ে তার মুখে একটি কথাও নেই, অথচ ঠিক সেই সময় প্যারিসে মন্দির নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে তিনি উৎসব করছেন

শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে Centenary Celebrations of Shri Ram College of Commerce (SRCC) এর এক অনুষ্ঠানে মহামানব গিয়েছিলেন ভাষণ দিতে। নেহরু তার আমলে এই SRCC-তে ভাষণ দিতে এলে, তাঁর ভাষণটি কেবল বাণিজ্য শিক্ষার ওপরই নিবদ্ধ থাকত। রাজীব গান্ধী এসে ভারতের আধুনিকীকরণের কথা বলতেন। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনমোহন সিং এর পুরাতন ভিডিওর অর্কাইভ ভাষণ শুনে দেখবেন, মনে হবে যেন তারা কোনো বিশ্বায়ন শিক্ষার শ্রেণিকক্ষে বসে আছে। এমনকি বাজপেয়ীও আলোচনার মাধ্যমে কথোপকথনের শিল্প শেখাতেন। আজকে এই 'গুহামানব' এর বক্তিতা শুনুন, যেন বিজেপির কোনো নির্বাচনী জনসভায় বসে অন্ধভক্তদের সামনে গোবরের প্রবচন দিচ্ছেন।

নরেন্দ্র মোদী কোনোভাবেই দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন বর্তমানে, প্রধানমন্ত্রীর পদের গরিমা আর মর্যাদাকে ভাঙরির দড়ে বেচে দিয়েছেন ক্ষমতা করায়ত্ব করতে গিয়ে। পোষ্য মিডিয়া এতদিন পর্যন্ত বিদেশে গিয়ে ওনার নির্বোধের মত ‘হাসি-ঠাট্টার’ শব্দই মিউট করতো, এখন শিশুদের সাথে উনিজির কথাবার্তাও ANI-কে মিউট করতে হচ্ছে, অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে হ্যাটা করলেও উনি অন ক্যামেরা নির্বোধের মত খি-খি করে হাসেন। সেই তিনি, যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতে গিয়ে এখন Gen-Z প্রজন্মের ব্যবহৃত স্ল্যাং ভাষা ব্যবহার করে নিজেকে উপহাসের পাত্র বানিয়ে ফেলেছেন। আসল ব্যাপার হলো, মহাপুরুষ ও তার অন্ধ ভক্তরা 'জেন-জি'ও বোঝেনা, সভ্য সমাজের ব্যঙ্গ বা শ্লেষের মর্ম বোঝেনা।

৭৬ বছর বয়সী একজন গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী ছাত্রছাত্রীদের 'মানসিক নকশাল' (Dimagi Naxal) বলছে শুধুমাত্র প্রশ্ন করার অপরাধে। ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা কি! তারা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়, তারা চায় গণতন্ত্র টিকে থাকুক, পাশাপাশি জনগন দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের জবাবদিহিতার আওতায় আসুক। কিন্তু বিশ্বগুরুর সেই মুরোদ নেই যে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করেন, তিনি কেবল রেডিওতে নিজের পেটের মন্দ বায়ুর আওয়াজ শোনান ‘মন কি বাত অনুষ্ঠানে’, আর পোষ্য অভিনেতা-সাংবাদিকদের সামনে আম খাওয়ার গল্প শোনান।

দিশাহীন যুবসমাজ কোনো সন্ত্রাসী নয়, নকশাল কি জিনিস- খায় না গায়ে মাখে তাও জানেনা অধিকাংশ। চতুর্দিকে দুর্নীতির পাহাড়, লক্ষ কোটি টাকা লুন্ঠনের পাপে নিমজ্জিত একটা দল, এদিকে যুবসমাজের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এই সরকারেরই নীতি আয়োগের তথ্য বলছে দেশে NEET - Neither in Education, Employment nor Training এর সংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখ। ২৫ বছর বয়স অবধি স্নাতক যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০%মোট কর্মহীন যুবসমাজের প্রায় ৬৯% উচ্চমাধ্যমিক বা তার চেয়েও উচ্চশিক্ষিত ডিগ্রিধারী। এরা কাজ চাইছে, এরা জিজ্ঞাসা করছে প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হচ্ছে, গতানুগতিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ কি! এই বিষয়গুলোর উত্তর দেওয়ার বদলে- মহারাজ যুবকদের বিরুদ্ধে 'লেবেল' বা তকমা সেঁটে একটা অসম লড়াই লড়ছেন

SRCC এর ছাত্রছাত্রীরা আশা করেছিল তিনি চাকরি, শিক্ষা ও সংস্কারের বিষয়ে কথা বলবেন, অথচ ‘সাহেব’ 'দিমাগি নকশাল' আর 'নারাজ পিসেমশাই'-র মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হাজির করেছেন। আসলে তরুণদের জন্য কোনো অনুপ্রেরণা বা দূরদর্শী চিন্তার কথা বলার যোগ্য উনি কোনোদিনিই ছিলেননা। টেলিপম্পটার ম্যান কি আদৌ শিক্ষক দিবসের মর্যাদা বোঝেন? যিনি সারাক্ষণ দাঙ্গা, মুসলমান, গরু, পাকিস্তান নিয়ে পরে থাকেন, তাদের বক্তব্য ঠিক এতোটাই নিম্নমানের হ। শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার প্রবণতা এই Divider-in-Chief কে হীনম্মন্যতারই সবচেয়ে বিরক্তিকর বহিঃপ্রকাশে বাধ্য করেছেদেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দেশের তরুণদের সামনে তুলে ধরার মতো কোনো সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি বা অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা তার নেই, তিনি বিজেপির কর্মকর্তা হিসাবে বিরোধী পক্ষকে গালিগালাজ করার পথ বেছে নিলেন। চরম ব্যর্থ ফেকুজির কাছে এখন আর কোনো নতুন ভাবনা বা সারবত্তা অবশিষ্ট নেই এবং বলার মতো অর্থবহ কোনো কথাও ফুরিয়ে গিয়েছে

গুহামানব এখানেও ‘মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড’কে কপি করেছে। গত ২৮শে আগস্ট মার্কিন মুলুকের হিউস্টনে আয়োজিত Congressional Space Medal of Honor এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্পও হেগে ছড়িয়েছে। এই অনুষ্ঠানটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ অনুসন্ধান ক্ষেত্রে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রদানের মঞ্চ ছিল। সেখানে নাসার তাবড় বিজ্ঞানী এবং মহাকাশে নানান মিশনে যাওয়া এ্যাস্ট্রোনটেরা উপবিষ্ট ছিল। ট্রাম্প নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা দেরিতে পৌঁছায়, মোদীও যা অনুসরণ করেছে। এরপর তার প্রফেসর কাকা জন ট্রাম্পকে নিয়ে বক্তিতা দেয় যার সাথে মহাকাশ গবেষনার কোনো সম্পর্ক ছিলোনা। সকলকে আশ্চর্যকরে উন্নত জিনের কারনেই যে গবেষনার কাজে উন্নতি হয়, এই গল্পও নাসার বিজ্ঞানীদের সামনে বমি করেন। RSS ও তো উন্নত ব্রাহ্মন জিনের পক্ষেই সাওয়াল করে। এর পরেই মঞ্চটা মিডিটার্মের নির্বাচনের প্রচারসভায় পরিনত করে ফেলে- বাইডেন, ওবামা থেকে ইরান, রাশিয়া সকলকে আক্ষরিক অর্থে গালিগালাজ শুরু করে। ফ্রেন্ডের দেখানো পথেই হেঁটে মহামানব SRCC তে ছড়িয়েছেন।

অশিক্ষিত রাজনীতিবিদ ভারতের জন্য একটি বড় সমস্যা, বলাই বাহুল্য RSS-BJP এর প্রায় সকলেই অশিক্ষিত গাম্বাট। যারা খাতায় কলমে শিক্ষিত, তারা নিজ আখের গুছাতে এই দলে ভিড়ে রয়েছে। এরা কোন দিক থেকেও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষণ দেওয়া উপযুক্ত? যাবতীয় অবৈজ্ঞানিক ও ভিত্তিহীন গল্পগুজব প্রচার করে, ধর্মকে বরর্ম বানায়, যা একান্তই অপ্রাসঙ্গিক ও অবান্তর। বাকী সবটাই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা বিদ্বেষপূর্ণ, উগ্রবাদী ও প্ররোচনামূলক সাজানো-গোছানো রাজনৈতিক পরাকাষ্ঠা। আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ তথা সময়ক্রমকে যাচাই করে দেখার মত বোধবুদ্ধি ও সঙ্গতি টুকুও এদের অবশিষ্ট নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মানি যে, ইনি আমার প্রধানমন্ত্রী নন। একজন মর্যাদাহীন ও সস্তা মানসিকতার নির্লজ্জ কেউ আমার নেতা হতে পারেনা। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নি প্রতিবার এগুলোকেই তার রাজনৈতিক প্রোপ্যাগান্ডার মঞ্চ হিসাবে বেছে নিচ্ছেন। সাংবিধানিক পদের নিরপেক্ষতা এই লোকের থেকে কোনো সুস্থ মানুষ আর আশা করেনা।

ভারতীয় ব্যাঙ্ক গুলোর কর্মক্ষমতা বিষয়ে ভাষনের নামে দুর্গন্ধ ছড়ানো এই মস্তিষ্ক-কলুষিত মূর্খটা সংশ্লিষ্ট কলেজের শত বছরের ইতিহাসে প্রথম নন-পারফর্মিং হতাশা প্রদান করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বহু বড় বড় নামকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। উনি জানালেন ২০০৮ এর সঙ্কট নাকি ২০০০ সাল অবধি লুকিয়ে রেখেছিল মনমোহন সরকার, তা কাকা- সময়ের পিছনে যাওয়ার গাড়িটা কি আপনি চালাচ্ছিলেন সেই সময়? কতবড় নির্লজ্জ হলে এমন মিথ্যাচার কেউ করতে পারে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ৪৮৯টি বিমাভুক্ত ব্যাঙ্ক এবং সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ভারতের শেয়ার বাজার, রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এতে, কিন্তু আমাদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অক্ষত ছিল, একটিও ভারতীয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়নি। এটা তথকালীন RBI এবং ডঃ মনমোহন সিং সরকারের বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ সংকট ব্যবস্থাপনার ফসল ছিলগুহামানব নিজের কার্যকালে কি করেছেন?

২০১৯ সালের শুরুতেই এগারোটি সরকারি ব্যাঙ্ক এবং একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে RBI-এর ‘প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন’ কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছিল। সরকারকে ২.১ লক্ষ কোটি টাকার একটি পুনঃমূলধন প্যাকেজ ঘোষণা করতে হয়েছিল। ২০২০ সালে, RBI-এর বর্ণনা অনুযায়ী ইয়েস ব্যাংকের দ্রুত অবনতিশীল আর্থিক অবস্থা এবং গুরুতর প্রশাসনিক সমস্যা-র কারণে ব্যাঙ্কটিকে একটি মোরাটোরিয়ামের অধীনে রাখা হয়। এর জন্য SBI-এর নেতৃত্বে একটি পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছিল। লক্ষ্মী বিলাস ব্যাঙ্ককে একটি মোরাটোরিয়ামের অধীনে রাখা হয়েছিল এবং এটিকে DBS ব্যাঙ্কের সাথে একত্রীভূত করতে হয়েছিল। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম, ব্যর্থ অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং মিথ্যা প্রতিবেদন আবিষ্কার করার পর PMC ব্যাংকের আমানতকারীদের প্রাথমিকভাবে তাদের নিজেদের মাত্র ১,০০০ টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ব্যাঙ্কটিকে অবশেষে ইউনিটি স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকের সাথে একীভূত করা হয়।

তিনি দেশের সবচেয়ে নামকরা বাণিজ্য কলেজে ঢুকে, বিশ্ব আর্থিক সংকটের ইতিহাসের নামে আক্ষরিক অর্থে ‘হেগে’ ছড়ালেন। হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটিতে হয়তো এটাকে অর্থনীতি বলে চালিয়ে দেওয়া যায়, SRCC-তে এটা একটা অক্ষম মূর্খের ভাঁড়ামো বই কিছু নয়আসলে অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে তা ঋণের দিকে চেয়ে দেখুন। এই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাঙ্কের সবচেয়ে বড় ঋণ গ্রীহিতার নাম জানেন? ইয়েস, আত্মনির্ভর ভারত। দু’য়ে ইন্দোনেশিয়া, তিনে পাকিস্তান আর চারে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাঙ্কের ভারতীয় ঋণের অঙ্ক- ৩ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকা। আজকের দিনে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হিসাব মিলিয়ে প্রত্যেক ভারতীয়ের মাথাপিছু ঋনের পরিমান ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ২০১৪ সালে এটা ছিলো ৪৩০০০ টাকা। সাহেবের শাসনামলের ১২ বছরে তিন গুণ ঋণ বেড়েছে, আপনার আয় কি তিন গুণ বেড়েছে? ২০১৪ সালেও ভারত এক নাম্বারেই ছিলো বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণ নেওয়ার তালিকাতে, দ্বিতীয়ে ছিল চিন, তৃতীয় ব্রাজিল, পঞ্চমে মেক্সিকো, এরা সকলে প্রথম ১০ থেকে বেড়িয়ে গেছে। কেবল আমরা এই মহাদানবের রাজত্বে আরো ডুবে গেছি। এই হচ্ছে বিকশিত ২০৪৭ সালের গাঁজাগল্প।

গত ১২ বছরে গুহামানবের খাতায় শুধুই ব্যর্থতা আর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। সবার শীর্ষে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান সংকট। দুর্নীতির কথা কাগজে লিখতে গেলে সেই তালিকা চাঁদ অবধি পৌঁছে যাবে, ওটা অন্য দিন লেখা যাবে। ২০১৬ সালের নোটবন্দী  ক্ষুদ্র শিল্প ও অসংগঠিত ক্ষেত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কালোটাকা আর জাল নো ধ্বংসের গল্প দিয়েছিল, এখন তো ব্যাঙ্কের ভোল্টে কালো টাকার পাহাড়। ত্রুটিপূর্ণ ও জটিল GSTকে তড়িঘড়ি করে চালু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা মেরে দিয়েছে। বেকারত্বের প্রশ্ন আসতেই তো ‘দিমাগি নকশাল’ বানীর উৎপত্তি। মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ওনার মুকুটের কোহিনুর। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান বৃদ্ধি এবং আম্বানি আদানির মত কর্পোরেট মাফিয়াদের হাতে দেশের মূল পরিকাঠামো, যেমন ব্যাঙ্কে থাকা জনগনণের গচ্ছিত অর্থ, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর, অস্ত্র উৎপাদন সেক্টর, বিদেশনীতির থিঙ্কট্যাঙ্ক, আর্মি ইস্কুল, খনি, জঙ্গল সব তুলে দিয়েছে। এমনকি আমাদের গর্ব ISRO আর DRDO কেও বেচে দিয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে। বিতর্কিত কৃষি আইন, কৃষকদের আয় হ্রাস, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি না দেওয়া ওনার অনন্য কীর্তি বৈকি। আর সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের বিচারে উনি নোবেলের দাবীদার। CAA/NRC বিতর্ক, বিরোধী রাজনৈতিক দল, সমাজকর্মী ও সাংবাদিকদের দমনে ইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, মূলধারার গণমাধ্যমকে পোষ্য বানিয়ে আন্তর্জাতিক 'প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে' ভারতকে হাস্যস্পদ করে তোলা, চীন সীমান্ত সংকট এগুলো তো আছেই। সব কীর্তি ছাপিয়ে- মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড টাম্পের সামনে সারেন্ডার করাটা তার বিশেষ সিদ্ধিলাভ

এদিকে ভক্তদের নতুন ফাদারল্যান্ড দেওয়ার পরেও যখন বামাল সামলানো যায়নি, তখন বিনাশপুরুষ এই SRCC এর ভাষনে তার UPI আবিষ্কারের গল্প শোনালেন ও কৃতিত্ব নিলেন। আসলে উনি বুঝে গেছেন যে ওনার দাঁতক্যালানো থোবরা দেখিয়ে ভোট টানার মতো কোনো সাফল্য নেই, তাই তিনি UPI-এর কৃতিত্ব নিজের বলে মিথ্যা দাবি করছেন অত্যান্ত গর্বের সাথেবস্তুত, মনমোহন সিং সরকারের আমলেই ইউপিআই-এর পরিকল্পনা, প্রস্তাবনা, অনুমোদন, নকশা ও উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছিল এবং আরবিআই (RBI)-এর গভর্নর হিসেবে ড. রঘুরাম রাজনের কার্যকালেই এটি চালু করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া(NPCI) তৈরি হয়, ২০১০ সালে IMPS চালু করা হয়- যা কঙ্গনা রানাউতের মতে- ভারতের প্রকৃত স্বাধীনতার আগেই। অন্যের তৈরি করা কাঠামোর ওপর নিজের নাম বসিয়ে দিলেই ইতিহাস বদলে যায় না, ভাঁড় মহাশয়। যখন কারো ডিগ্রি হয় ‘এন্টার পলিটিক্যাল হিস্ট্রি’র ওপর, তখন এমনটাই ঘটে।

ভুয়া ডিগ্রির অধিকারী মহামানব নিজের অশ্লীল কর্মকাণ্ডকে হোমিওপ্যাথির সাথে তুলনা করে, মেটাফোরের মা-মাসি এক করে দিয়েছেন। বিশ্বের সমস্ত প্রধান চিকিৎসা-সংস্থা হোমিওপ্যাথিকেই ছদ্মবিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করে থাকে। নন-বায়োলজিক্যাল, তাঁর বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতার মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক কথা বলে ভেবেছেন- দারুন বাহাদুরির কাজ করে ফেলেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার এবং যৌক্তিক ও সমালোচনামূলক ভিন্নমতকে দমন করার জন্য, হাস্যকরভাবে হোমিওপ্যাথির কার্যপদ্ধতির উদাহরণটি- মগজে কার্ফিউ এবং জড়ভরত বৈশিষ্ট্য যুক্ত অক্ষম বুদ্ধিবৃত্তিক একজন উন্মাদের ঝাপসা দৃষ্টি। যিনি এক অযৌক্তিক চিন্তাধারা, অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাস এবং আত্মমুগ্ধতা-জনিত নিরাপত্তাহীনতা ও ভঙ্গুর আত্মমর্যাদাবোধে ভুগছেন। প্রকৃত শিক্ষার সাথে যাদের দূর দুরান্তেও সম্পরর্ক নেই, তারা এই ধরনের হীন মানবিক বৈশিষ্ট্য হয়। ইনি আক্ষরিক অর্থেই স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বড় ভাই। 

ছাত্রদের সামনে দেওয়া ভাষনেও মহাপুরুষ তার ইমেজ নিয়ে উদ্বিগ্ন, ওনার ওই সারবত্তাহীন বক্তৃতার ছোট ছোট অংশ নাকি ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। পরিহাসের বিষয় হলো, ২০১৪ সাল থেকে তিনি এবং তার দলদের আঁটিসেল- সমস্ত বিরোধী নেতা সহ রাহুল গান্ধীর ভিডিও এডিট করে সেগুলোকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নিকৃষ্ট উপস্থাপনা করেই সোস্যালমিডিয়াতে টিকে আছে ঘৃনা ছড়িয়েকিন্তু গুহামানবের ক্ষেত্রে ভিডিওর অংশগুলো মোটেও এডিটেড নয়। তিনি নিজেই কথা বলতে গিয়ে তোতলান ও ভুলভাল বকে, যার ফলে তার আসল রূপ বেরিয়ে মানুষ প্রকৃত বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক

শ্রীরাম কলেজে গুহামানবের ভাষণ উপলক্ষে ঠিক কি কি ধরণের সুরক্ষা নিয়েছিলো ওনার সুরক্ষাতে থাকা SPG? কালো জামা, কালো প্যান্ট, কালো বেল্ট, কালো টুপি, এমনকি কালো রুমাল অব্ধি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল- SRCC এর এই অনুষ্ঠানে। আগে মুসলমান চিনতে উনি কাপড় দেখতেন, এখন বিক্ষোভের আঁচ থেকে পালাতে, আক্ষরিক অর্থে কাপড় দিয়ে পরিচয় দিতে হচ্ছে ছাত্রদেরও। যে কারণে ওই ইন্সটিটিউটের ৪০০০ ছাত্রর মধ্যে মাত্র ৬০০ জনকে অনুমতি দিয়েছিল এই সভাতে দর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করার। প্রত্যেকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড, সেই ছাত্রের নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ, এই সমস্ত কিছু খুঁটিয়ে বিচার করে- তবেই এই ৬০০ জনকে অনুমতি দিয়ে ছিল। এই অনুষ্ঠান চলাকালীন দিল্লি ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন হোস্টেলে এবং যেখানে যেখানে ছাত্ররা জটলা করে বা আড্ডা দেয় নিজেদের মধ্যে, সেই প্রত্যেকটা স্থানে দিল্লি পুলিশ রীতিমতো নাকাবন্দি করে রেখেছিল, যাতে ভুল করে একজন কোনরকম বিরুদ্ধ মত তুলতে না পারে। ছাত্রদের মধ্যে যারা নেতৃত্ব স্থানীয়, তাদের প্রত্যেকের ফ্ল্যাটে পুলিশ পোস্টিং করে তাদের হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল।

গুহা মানব, আপনার খেলা শেষ হয়ে গেছে ফ্রান্ডস। দেশের জন্য আপনি লজ্জা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেন না।

 

 

 


রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিজেপির খাদ্য বিধান ও বাঙালি হিন্দু সমাজ

 


মিডিয়া খুললেই এখন সর্বত্র সনাতনী নিদান বা বিধানের রিলস বা লেখা চোখে পরছে, সদ্য গজানো বাবা বা সনাতনী  সদ্য গজানো ধর্মগুরুর দল রীতিমত দোকান খুলে বসেছে। আর নিশ্চিতভাবেই এই প্রতিটা ধর্মগুরুদের একটাই মূল সংগঠন, যার নাম RSS, এই আর.এস.এস পশ্চিমবঙ্গের সাড়ে ৬ কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ এর দীর্ঘদিনের আচার, সংস্কৃতি, পদ্ধতিগত ও আবহমান চিরায়ত কৃষ্টিগত রুচি বদলে যাক, যার সাথে বাকী ভারতের হিন্দুদের পার্থক্যটা বেশ মোটাদাগের। কোনো অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাস এবং সংস্কৃতি- নানান উপাদানের ভিত্তিতে ক্রম অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। মানুষ তার বেঁচে থাকার তাগিদে এবং চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিতেই এই অভ্যাসগুলো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তৈরি করে ফেলে।

সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্থান ও এলাকার জলবায়ু, আমাদের বাংলা নদীমাতৃক ও উর্বর পলিমাটির দেশ হওয়ায় প্রধান খাদ্য মাছ-ভাত, স্বভাবতই বঙ্গবাসী মানুষের ধর্মীয় অনুশাসন ও বিশ্বাস তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। দুর্গাপূজার মহোৎসব সেই খাদ্য সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালী হিন্দু সমাজে ব্রাহ্মণ ৪%, বৈশ্যও সম শতাংশের বা কিছু কম, বাকীরা ক্ষত্রিয় ও শুদ্র বা দলিত সম্প্রদায়ের, নাগপুরের ব্রাহ্মন্যবাদীদের ভাষায় ‘ছোটজাতের’, যারা মোট বাঙালী হিন্দু জনসংখ্যার ৯২%। এরা আমিষ খাবেনা তো কারা খাবে? বাঙালী ব্রাহ্মনদেরও আমিষ নিয়ে কোনো ছুৎমার্গ নেই আজও। নৃতত্ববিজ্ঞানকে আপনি কীভাবে উপেক্ষা করবেন বা ভুলিয়ে দেবেন নাগপুরি হিন্দুত্বের আরক গিলিয়ে?

হিন্দু ধর্মের যে মূল গ্রন্থ, চার বেদ, উপনিষদ, গীতা রামায়ণ, মহাভারত এবং সমস্ত স্মৃতি গ্রন্থের কোথাও বৈশ্য, ক্ষত্রিয় ও শুদ্রদের আমিষে মানা করা নেই। এমনকি RSS এর প্রস্তাবিত সংবিধান ‘মনুস্মৃতির’ ৫ম অধ্যায়ের ৩২ ও ৩৩ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, যজ্ঞের উদ্দেশ্যে কিংবা শাস্ত্রীয় বিধি মেনে মাংস খাওয়া কোনো অপরাধ নয়। এছাড়া যুদ্ধবিদ্যা বা শিকারের মাধ্যমে অর্জিত মাংস ভক্ষণ ক্ষত্রিয়দের পূণ্যের কাজ। শূদ্রদেরও কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ও কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকতে হতো, যার কারণে তাদের খাদ্যাভ্যাসে মাংসের ওপর কোনো কঠোর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়নি কোনো শাস্ত্রেই। দেবতার উদ্দেশ্যে যজ্ঞ মানেই তো ছিলো বলি, সেই মাংস কি ফেলে দিতো পুরাকালে?

এর পর আসে মানুষ জীবিকা। আমাদের কৃষিপ্রধান সমাজ, ফলত ঘরে ঘরে পশুপালনের চল রয়েছে। অতএব, আমাদের খাদ্যাভ্যাস্যে মাংস থাকাটা কোনো ইউরোপীয় বা আরবি সংস্কৃতি থেকে আসেনি। কঠোর পরিশ্রমী কৃষক বা শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট তথা পেটপুরে ভাত খাওয়াটাই থাকে, যা তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়। সুতরাং, এই সমাজে প্রতিটা লোকৎসব তা দুর্গোৎসব হোক বা অন্য উৎসব- সবই এই বঙ্গীয় খাদ্য সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে কালের পরিক্রমায়।

বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগেও বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো আধুনিক বাঙালি হিন্দু, শরীর সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর খাবার এড়িয়ে গেলেও, জলবায়ু তথা প্রকৃতিকে কীভাবে অস্বীকার করবে? বাঙালি কি গণহারে বার্গার, পিৎজা, সুসি কিম্বা থাই খাবারে অভ্যস্ত হতে পেরেছে আজও? বাংলার এই প্রকৃতিতে জন্ম নেওয়া কৃষ্টি সংস্কৃতিকে কীভাবে রাতারাতি ছুঁড়ে ফেলে দেবে? 

ইতিহাসের পরিভ্রমণে, অভিবাসন আর বিশ্বায়নের নানান পর্যায়ে মানুষ যখন অন্য দেশে প্রব্রাজন বা দেশান্তরী হয়েছে, কিম্বা অন্য দেশ বা অঞ্চল থেকে আমাদের ভূমিতে অন্যেরা এসে স্থায়ী হয়েছে- তখন ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি নিজেদের মিথস্ক্রিয়া ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে, একটা দীর্ঘ সময়ের আবর্তে বৈচিত্র ঘটিয়েছে। এভাবেই আমরা আলু, টমেটো, ও লঙ্কা খেতে শিখেছি, বিরিয়ানি, মোগলাই কিম্বা শুক্তো খেতে শিখেছি। বাঙালী মেয়েরা শাড়ির বদলে সালোয়ার, নাইটি, জিন্স; পুরুষেরা কামিজ ধুতির বদলে ট্রাউজার শর্টস আর শার্টে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আর এগুলোর কোনোটার ফতোয়া বা ধর্মীয় বিধানের ফাঁসজালে বেঁধে রেখে ঘটেনি।

বড়পুজোতে বাঙালি হিন্দুর নস্টালজিক আবহ ছিল নিতান্তই ঘরোয়া, আন্তরিক এবং মানবীয় অনুভূতির মেলবন্ধন। আজকের কর্পোরেট জাঁকজমক আর সোশ্যাল মিডিয়ার রিল বানানোর হুজুগও সেই আবেগ কেড়ে নিতে পারেনি। এই সময় ছুটি যেহেতু সার্বজনীনভাবেই পরে সরকারী ভাবে, স্বভাবতই বাঙালির ঘরগুলোতে উচ্ছাসে ভরা অদ্ভুত শান্ত, স্নিগ্ধ এবং আবেগে ভরা উৎসবমন্ডিত পরিবেশ থাকে। এই ছুটির আবহে জীবনকে শুষে নেয় প্রত্যেকে তার নিজের মত করে। কেউ পুজোবার্ষিকী ও নানান ধরণের গল্পের বই পড়ে ফেলে, কেউ এই অবসরে বেড়াতে যায়, নতুন জামার গন্ধ ও আলমারি বন্দি সুখ সারা শরীর ও মনে রোমাঞ্চ তৈরি করে আজও। পাড়ার বয়োঃজ্যেষ্ঠদের আড্ডা, সন্ধিপুজোতে পাঁঠাবলি ও যৌথ পাত পেড়ে খাওয়া, সব শেষে বিজয়ার শুভেচ্ছা। আজকের আমিষ ফতোয়ার ফরমানে এই টুকরো টুকরো মূল্যবান আবেগ গুলোকে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে ফেলা সম্ভব?

বিজেপির সাংস্কৃতিক ফরমান পুরো ভারতীয় ঐতিহ্যকে কলুষিত করছে এই ‘হিন্দি অগ্রাসন’ চাপিয়ে দিয়ে। বিজেপি তার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ে জবরদস্তি বেঁধে ফেলতে খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে। ভারতের মত সুবিশাল দেশের সংস্কৃতিতে বিবিধতা বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হাজার বছরের পরম্পরা; প্রতিটা সমাজ, অঞ্চল থাকা ভিন্ন ভিন্ন জাতি, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ, খাদ্যাভ্যাস ও ভিন্ন জীবনযাত্রার মানুষেরা স্বচ্ছন্দ্যে সহাবস্থান করে তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ধরে রেখেছে। এটাই জীবনের বহুরূপতা বা রকমারি ভাব। বিজেপি এখানে কোনো হিন্দি বলয়ের হিন্দুত্ববাদকে শ্রেষ্ঠ হিসাবে ধার্য করে, প্রতিটা দ্বিতীয় সংস্কৃতিকে গোবলয়ের হিন্দুত্ব সংস্কৃতির চেয়ে নিকৃষ্ট হিসাবে দাগিয়ে দিয়ে নির্দিষ্টভাবে RSS এর ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি জবরদস্তি করে চাপিয়ে দিচ্ছে। বিগত দুই বা তিন শতাব্দী ধরে বাঙালি হিন্দু যে সংস্কৃতিকে নিজস্ব রূপ, নিজের সম্মান ও নিজেদের মর্যাদা হিসাবে দেখে এসেছে, আজ তাকে শেখানো হচ্ছে তুমি পাপ করেছো। এতে বাঙালি জাতির নুন্যতম কোনো বৌদ্ধিক, সামাজিক কিম্বা অর্থনৈতিক উন্নতি হবে কি? যা হবে সেটা বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়ন। এটা ধর্ম নয়, এটা শাস্ত্রীয় বিধান নয়, এটা রাজনৈতিক ভণ্ডামি আর দ্বিচারিতা।

নিজ নিজ আচার-অনুষ্ঠান পালন, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মানুষের পোশাক ও খাবারের ভিন্নতা, ভিন্ন অঞ্চলের নাচ, গান, স্থাপত্য এবং লোকশিল্প, একটি বিশাল দেশে একঘেয়ে সংস্কৃতির মাঝে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। সমাজকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে মেলামেশা, মানুষকে উন্নত করে তোলে, মন উদার হয় এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে। বিজেপি-RSS এর লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটে জিতে ক্ষমতায় জেতা, তাই বৈচিত্র্যকে যেকোনো মূল্যে খুন না করলে বৈপরীত্য চলে আসবে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা পেতে অচলায়তন সৃষ্টি করা জরুরী বা প্রাথমিক লক্ষ্য। অচলায়তন-এর মূল ভিত্তিই হলো স্থবিরতা, অন্ধ সংস্কার, প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এক কৃত্রিম জগত যা পরিবর্তনকে রুখে দেয়। ক্ষমতা চলে যাবার প্রতি প্রতি চরম ভয় থেকে এই ধর্মীয় কুনাট্যের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে নাগপুর, যাতে বৈচিত্র্য এবং বৈপরীত্য পাশাপাশি অবস্থান না করতে পারে, যা জড়তাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। বিজেপি এই কারনে ধর্মকে হাতিয়ার করে সমাজ বদলে দিতে চাইছে একটা সমসত্ব ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে। ভুয়ো আদর্শিক রূপকল্প- ‘এক দেশ, এক আদর্শ’, ফাঁপা দেশপ্রেমের বুলি দিয়ে একটা মেকি দর্শন বানাতে চাইছে, যেখানে সমগ্র রাষ্ট্রকে একটা নির্দিষ্ট স্থান থেকে ‘একক কমান্ড’ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় খুব সহজে।

মহারাষ্ট্র ছত্রপতি শিবাজীর ভূমি, সেখানে নাগপঞ্চমী দিয়ে যে অশ্লীলতা শুরু হয়েছিল, এখন ‘দহি হান্ডি’র মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। গোবলয়ের কুরুচিকর ছামিয়া নাচের দৃশ্য আমরা সকলেই কাঁওয়ার যাত্রার সময় দেখেছি, এটাকেই নতুন হিন্দু সংস্কৃতির একক বানিয়ে দিয়েছে নাগপুরের RSS কর্তৃপক্ষ, উগ্র ধর্মীয় আচারের সাথে মদ গাঁজা, অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনা আর অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষমূলক ঘৃণাসূচক মন্তব্য- এটাই বিজেপির রাজনৈতিক হিন্দুত্বের প্রতীক। একটা সময় দূর্গাপুজো মানে ছিলো বাংলা আধুনিক গান, বিজেপি গোবলয়ের ঐ ছামিয়া নাচকেও বাংলাতে প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে দূর্গাপুজোতে, নাহলে সবাই কীভাবে লেজকাটা শেয়াল হবে!

আজকে পশ্চিমবাংলার পুরো মন্ত্রীসভা মধ্যপ্রদেশের হিন্দি বলয়ের ‘ভন্ড বাবা’ ধীরেন্দ্র গর্গকে নিয়ে এসে ‘মেদনীপুরী’ মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে দুর্গাপুজোর খাদ্যাভাস্যের নিয়ম ঠিক করে দিচ্ছে। যে বাংলা সন্ন্যাসী হিসাবে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ, ঋষি অরবিন্দ, স্বামী প্রণবানন্দ বা অভয়চরণ দে এর মত বিশ্বমানের মনীষীর জন্ম দিয়েছে, সেই বাঙলি হিন্দুর উপরে বিজেপির হিন্দি ও RSS এর হিন্দুত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে- একটা উদ্ধত, দাম্ভিক, বিনয়হীন দেড় পয়সার বাগাড়ম্বরকারী অসারবাগী কপট ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ী। এটা আজকের বাঙালী হিন্দু সমাজের জন্য লজ্জা আর কলঙ্কের দিন বৈকি। বাঙালী হিন্দুসমাজ যদি কাপুরুষ না হয়, অবশ্যই আসন্ন দুর্গাপুজোতে সমুচিত জবাব দেবে, মুখে নয়- কাজে।

উত্তরপ্রদেশে ভোট আসছে

 


✅ ভাষনে পাকিস্তান- চলে এসেছে

✅ মসজিদ ভাঙা- ৫ই সেপ্টেমর ভোরে শাহারানপুরে কমপ্লিট

🚩 মন্দিরে গোমাংস- লোডিং

⛔ দাঙ্গা- মন্দিরে মাংস ফেললেই অগ্নিসংযোগ ঘটতে পরবর্তী কয়েকঘন্টা যথেষ্ট। দেশ জুড়ে ভিন্ন ভিন্ন মুসলমান মহল্লাতে আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী সেনাদের তাণ্ডব এবং অসংখ্য লাশের ভিড়। তার সাথে হাজার হাজার মামলা। 

📛 দেশের মাটিতে জঙ্গি হামলা- উপরের ধাপ গুলো শেষ হলেই ওটা অটোমেটিক এ্যাক্টিং এ এসে যাবে। নাগপুর থেকে ডিরেকশন এসে গেলেই, শুটিং স্পটে কুশীলবেরা পৌঁছে যাবে।
⚠️ যুদ্ধ যুদ্ধ পরিমণ্ডল - জঙ্গি হামলা ঘটলেই,  সীমান্তে সেনা সমাবেশ,  পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি... বীর সেনার জয়গান...  তাদের ইজেরের মধ্যে ঢুকে পড়ে 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান এর তীব্র রাজনীতি করন

🕉️ কোন এক বিখ্যাত মন্দিরে গিয়ে বিশ্বগুরুর অধিষ্ঠান নেওয়া, এবং বিগ্রহকে সরিয়ে নিজেই উপাস্যের প্রতিমূর্তি হয়ে যাওয়া। 

🔊 মিডিয়া জুড়ে অষ্টপ্রহর বিশ্ব গুরুর নাম মহিমার সঙ্কীর্তন.....
খুব চেনা প্লট মনে হচ্ছে তাই না? গত ১৫ বছর ধরে এটাই তো হয়ে আসছে দেশে, ঠিক বলিউডি মসলা সিনেমার চিত্রনাট্যর মত টানটান জমজমাট রোমহর্ষক। কিন্তু বড্ড সেকেলে হয়ে গেছে, আমাদের মত আনাড়িগুলোও ধরে ফেলছে। 

হ্যাঁ, আপনিও ঠিক ঠিক ধরতে পেরেছেন। উত্তরপ্রদেশে ভোট আসছে......


শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১০ বছর ধরে লাগাতার ফ্লপ ফিল্ম করার পর একটা হিট রিল

 


এই মহিলা সত্যিই একটা হাসির খোরাক। আজ মান্ডিতে কঙ্গনা রানাউত দিশার (Disha) সাথে বৈঠক চলাকালীন মেজাজ বিগড়ে- আহা, সে কি ধমক চমক। এমপি তহবিল থেকে ১১ কোটি টাকা নিজেরাই খেয়ে ফেলেছে। ফলাফলঃ কাজের কাজ—শূন্য। 

কঙ্গনার ওই কেন্দ্রে মোট ৭৫ কোটি টাকা বিজেপির নেতারা আর সেখানকার আমলারা যোগসাজস করে সরকারী টাকা নিজেরা হজম করে ফেলেছে। ১১টা সড়ক প্রকল্পের ১টাও শুরু হয়নি বিগত ৩ বছরে, অথচ সেখানে ১ কোটি টাকা শুধু শিলান্যাস আর তার অনুষ্ঠানে খরচা করে ফেলেছে।

সিনেমার সংলাপ আওড়ে আর রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে যে নিজের চেয়ার বাঁচবেনা বুঝে গেছে। তবে এই নাটকীয়তা বা মেজাজ দেখানোর জুমলাও কি শেষমেষ কাজে দেবে? সরকারী টাকার হরির লুঠ যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।

বিজেপি মানেই চোর- সেটা এরা প্রকাশ্যে রোজ প্রমান করছে। তবে কঙ্গনার রাগের কারনটা পরিষ্কার নয়, যা বোঝা যাচ্ছে, লুঠের ভাগা পেয়ে গেলে এতটা হয়ত রাগতনা, তখন যাবতীয় দোষ রাহুল গান্ধী আর কংগ্রেসের উপরে চাপিয়ে দিত। ৭৫ কোটির ঘাপনা, আর তার ভাগে ঠনঠন গোপাল! এইস্যা ক্যাইসা চলেগা ভাই!

মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়

আচ্ছে দিন বলবেন নাকি অমৃতকাল?

 



উত্তরপ্রদেশে যোগীর পুলিশ সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের (IT Act) বেশ কয়েকটি ধারায় FIR করেছে।

কে এই সাংবাদিক অভিষেক? ইনিই প্রথম রাম মন্দিরের চাঁদা চুরির বিষয়টা জনগনণের সামনে আনেন।

উত্তরপ্রদেশের রাজ্য প্রশাসনের জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ নিয়ে ‘X’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে "যাদব রাজ বনাম ঠাকুর রাজ (অথবা সিং রাজ)" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের বিরুদ্ধে প্রতথম মামলা দায়ের করা হয়েছে।  BNS ধারা ৩৫৩(২) অনুযায়ী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো বা ঘৃণা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা। BNS ধারা ১৯৭(১)(C) অনুযায়ী জাতীয় সংহতি বা অখণ্ডতার ক্ষতিসাধন করতে পারে এমন বক্তব্য দেওয়া বা প্রচার করা।BNS ধারা ৩০২ অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে শব্দ উচ্চারণ বা মন্তব্য করা। BNS ধারা ৩৫৬(২) অনুযায়ী মানহানি বা মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের শাস্তি। তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ধারা ৬৬ ধারা অনুযায়ী কম্পিউটার বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আপত্তিকর বার্তা বা তথ্য ছড়ানো।

এতেও যখন প্রাণে তৃপ্তি আসেনি, তখন একটা রোড-রেজ বা পথ-বিবাদ সংক্রান্ত মামলা করা হয়,  এফআইআর নম্বর -৬৭৮/২০২৬) । মজা হলো, তাকে কাস্টাডিতে নিয়ে পুলিশ ব্যাপক মারধোর করে একটাই তথ্য জানতে চায়- কেন সে চাঁদা চুরির ভিডিও বাজারে ছেড়েছে আর কে তাকে এই গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলো। রামমন্দিরের চাঁদা চুরির তদন্তের সূত্র এবং তার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট (Digital Footprint) ঘেঁটে তার গোপন তথ্য ও সোর্সদের চেনার উদ্দেশ্যেই পুলিশ সর্বস্ব লাগিয়ে দিয়েছিল।

পুনের সন্তোষ পণ্ডিতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটে। সন্তোষ পণ্ডিত তার ইউটিউব চ্যানেলে পুনের কোথরুড এলাকার নাগরিক সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় মহারাষ্ট্রের উচ্চ ও প্রযুক্তি শিক্ষামন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাতিল এবং পুনে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (PMC) কাউন্সিলর মিতালি সালভেকারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছিলো।
আক্ষরিক অর্থেই আজ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়।


বিশ্বগুরু- The Real Pappu

  প্যারাডাইস লস্ট এর করুণ নিদারুণ দৃশ্য আজকের ভক্তপিতার মাঝে দৃশ্যমান, যা শিক্ষনীয়। ক্ষমতা আঁকড়ে পড়ে থাকা এক ভীরু ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া লোলচর...