রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

মরলে চাষা খাবি কি


#Say_No_to_farm_bill

হাথারাস গণধর্ষণ কিম্বা বাবরির ‘আত্মনির্ভর আত্মহত্যার’ রায়- পরিকল্পিত এই দুটো ঘটনা দিয়ে কৃষক বিদ্রোহের আঁচে অনেকটাই জল ঢেলে দেওয়া গেছে আপাতত। কিন্তু এটা জনগণের পাপী পেটের প্রশ্ন, তাই #মরলে_চাষা_খাবি_কি স্লোগান চালাতেই হবে অন্তিম শ্বাস পর্যন্ত।

গত কয়েক বছরে দেশে কৃষকবিদ্রোহ ৭০০% বেড়েছে, স্বভাবতই মিডিয়া জুড়ে কৃষক আর কৃষকের পক্ষে মোদীসেনারা স্তুতি করবে, এটাই ছিল তাদের স্ট্রাটেজি। সেটা ফেল মেরে যেতেই হাথারাসের মেয়েটিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে খুন করে দেশের মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়া হলো।

জীবনে যারা লাঙ্গল দেখেনি, বৃষ্টি ভেজা আলে হাঁটেনি, সেচের স জানেনা, ফসল কখন কীভাবে কাটে জানেনা, বাজারে গিয়ে সবজি বিক্রির গুঁতো বোঝেনি- তারা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে এখানে কৃষি বিল ও কৃষকের উন্নয়নের কথা বোঝাতে আসরে নেমেছে। স্নো-প্পাউডার-লিপস্টিক মেখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তৃতীয় শ্রেণীর ফিল্মি নায়িকা, জীবনের দ্বিতীয় পেশায় এসে এখন রাস্তায় নেমে ‘চাষির কিসে ভালো’ তা বোঝাতে নেমেছে। আমাদের সমাজও এমনই উচ্ছন্নে গেছে যে এদের বলার এক্তিয়ার দিচ্ছে অনেকে। যাদের জন্য এত ভালো ভালো সিদ্ধান্ত, তারা ছাড়াই যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় সেটা পৃথিবী দেখেছিল কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা রদের সময়, এখন চাষিরা দেখছে।

মোদী সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতিটিই ডাহা ভুল নয়, যা করেছে জ্ঞানত করেছে ও আম্বাদানির জন্য করেছে। খুব স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত জনহিতের বিপক্ষে গেছে। মোদী মন্ত্রী ও RSS এর ভক্তদের দাবী মতো-

1. নোট বন্দিঃ জনগণ ভুল বুঝেছে
2. জিএসটিঃ জনগণ ভুল বুঝেছে
3. অর্থনীতিঃ সারা বিশ্বের তাবড় পন্ডিতরা ভুল বুঝেছে
4. বেকারিঃ ৪৭ বছরে সর্বাধিক এটাও জনগণকে ভুল বোঝানো হয়েছে।
5. করোনাঃ _____________________________ চলছে-
6. পরিযায়ীঃ শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে হাজার মাইল হাঁটানো হয়েছে।
7. কৃষক বিলেও স্বাভাবিক ভাবেই চাষিকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।

সারা দেশের সবাই ভুল, শুধু মোদী ও তার ভক্তেরাই একমাত্র ঠিক। বর্তমান বিশ্বে যে কয়েকটি মহামূর্খ নিকৃষ্ট শাসকবর্গ রয়েছে- ইনি তাদের মধ্যে এক্কেবারে শিরোমণি লেভেলের। ভোটের আগে বলেছিল, ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মধ্যে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেবে, ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের GDP ডুব সাঁতার দিচ্ছে, রাজকোষ ঘাটতি ১০৯%। ধার করে দেশ চলছে, বাজারে গেলে ভক্ত চাড্ডীদেরও পাছা ফাটে মাল পত্র কিনতে, কিন্তু মুখে ‘মোদী মহান’ কারণ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়। LIC, রেল, এয়ারপোর্ট সহ দেশের সবই প্রায় বিক্রির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, সেই কাজকে সুগম করার জন্যই বাকি যাবতীয় সবকিছু।

মূর্খ, দাম্ভিক, আত্মকেন্দ্রিক, একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতার লোকজনেরা ক্ষমতা দখলের স্বার্থে বৈষম্য আর বিভাজনকে প্রশ্রয় দিয়ে, ধর্মীয় আবেগ উন্মাদনা সহযোগে ঘৃণার চাষ করে মুষ্টিমেয় কয়েকটি ঘুনপোকা গোটা দেশকে আম্বাদানির কাছে বেচে দিয়েছে।

সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতো কিছু অসফল গায়ক নায়ককে ভাড়ায় খাটিয়ে, মিডিয়াকে অর্থ ও ক্ষমতার দ্বারা দলদাস করে, আইন ব্যবস্থার মাথায় প্রস্রাব করে দিয়ে এমন একটা আবহাওয়া তৈরি করে রেখেছে যে মানুষ আজ দিশেহারা। কানের কাছে সারাক্ষণ সেই সানাইটা বেজে চলেছে যাতে জনগণের ব্যাথার আওয়াজ ঢাকা পরে যায়, মানুষ সেটাই কেবলমাত্র শুনবে যেটা মোদী সরকার শোনাতে চায়। দ্বিতীয় টার্মে এরা এমন সব বিল আনছে, জনগন ভয়েই অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরা জানে এসবের কি পরিণতি হবে, তাই বোঝানোর জন্য আলাদা কর্মসুচিও রাখছে। আগের ঘা না মিটতেই আবার এত বড় ঘা তৈরি করে দিচ্ছে যে আগের ঘা টাকে তখন কম বলে মনে হচ্ছে।

চাষির কিসে ভালো তা নিয়ে এরাই জ্ঞান দিতে আসবে চাষি সেজে, ঠিক যেভাবে বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর রাতারাতি অসংখ্য বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র ছাত্রী জন্মেছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। এবারে কিন্তু কোদাল চালানো কড়া পরা হাত, আতঙ্কবাদী স্বৈরাচারী সরকারের ভাড়াটে টাট্টুদের পেঁদিয়ে পঞ্চান্ন করে দেবে চাষির দল।

কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে, গরীব গ্রাম্য ফোড়ে-দালালদের রুজি কেড়ে, মহাজন ও পুঁজিপতিদের কাছে চাষের মাল বিক্রি করতে বাধ্য করার নামই নতুন কৃষি বিল। এখন পথে নেমে আন্দোলনই কৃষকদের বাঁচার একমাত্র পন্থা। এই সরকার গরীব মারা সরকার, এদের যারা স্যাঙাত আছে তারাও সানাই এর পোঁ। সিঙুরের মানুষ আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে মা-মাটি-মানুষের ধাপ্পা ‘জোর কা ঝটকা’ কেমন ‘ধীরে সে লাগা’। আজ পরিষ্কার, কারা ক্ষতিগ্রস্থ আর কারা লাভবান, গোটা বাংলা এর সাক্ষী। না হয়েছে শিল্প, না অন্য কোনো ব্যবসা, না হয়েছে কারোর চাকরী, না হচ্ছে কোনো চাষ- একবার তৃণমূলের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়ে ১০ বছর জলাঞ্জলি গেছে, আবার যদি বিজেপির ফাঁদে পড়ে- এবারে নিজের গু নিজেকেই খেতে হবে। আগের বার ঠকেছে, আবারও রাম ঠকান ঠকবে রামের নামেই।

যেসব চাড্ডি ও নাইটি সেলের ভাড়াটে টাট্টু সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে কৃষক মারা বিলের সমর্থনে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাদের বলছি বিলটি যদি কর্পোরেটের দালালির বদলে সত্যিই কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য আম্বাদানির চৌকিদার এনেছে- তাহলে বিলে লিখে দিক –

১) সরকারই একমাত্র MSP ঠিক করবে।
২) সরকার যেরকম হারে আজকের দিনে ফসল প্রোকিওর করে ও নিজস্ব ক্যাপাসিটিতে মজুত করে সেরকমই করবে আগামীতে । FCI কখনও উঠবেনা।
৩) ছোট হোক বা বড়, কোনো সংস্থাই MSP এর চেয়ে কমদামে ফসল কিনতে পারবে না।
৪) কৃষি ব্যবসার সাথে যুক্ত প্রতিটি কোম্পানিকে তবেই লাইসেন্স দেওয়া হবে যে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই MSP এর চেয়ে কম দামে কিনবেনা’। এই মর্মে মুচলেকা দিক কোম্পানি গুলো, এবং দুর্নীতি প্রমাণে ফৌজদারি মামলার রাস্তা খোলা থাকুক।
৫) চুক্তি চাষে কর্পোরেটের তরফে প্রতারণা করলে চাষি আইন-আদালতের সহায়তা পাবে।
৬) আগামী দিনে কোনো পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রীয় খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবেনা। দেশের প্রতিটি পেট যেন দুমুঠো ভাত/রুটির নিশ্চয়তা পায় রাষ্ট্রের তরফে।

আমাদের দেশের মিডিয়া বিকৃত ও বিক্রিত না হলে তারা যে প্রশ্ন গুলো হয়তো করতো-

১) বেসরকারি সংস্থা কেন খাদ্য মজুত করবে?
২) আগামীতে ফসলে কালোবাজারি হবে না তার গ্যারান্টি কে নেবে?
৩) কালোবাজারি থেকে চাষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাঁচানোর জন্য বিকল্প ভাবনা কি রয়েছে?
৪) ফসলের কৃত্রিম শূন্যতা সৃষ্টি করে জনগণের পকেট কাটবেনা তার নজরদারি কে করবে ও কোন দপ্তর?
৫) রাজ্যে রাজ্যে FSD দপ্তর গুলোর ভবিষ্যৎ কি?
৬) এসেনসিয়াল কমোডিটির সংজ্ঞা কি?
৭) সরকার কার স্বার্থে কাজ করছে, জনগণ না আম্বাদানি?
৮) কৃষিক্ষেত্রের উৎপাদনে প্রত্যক্ষ করের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কি?

আজকাল আর কিছু বলতে সাংবাদিক সম্মেলন করতে হয়না, টুইটারেই দু’লাইনে মিটে যায়। তার পরেও মোদী ৬ বছরের রাজত্বকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনা করার মুরোদ জন্মা দিতে পারেনি। দেশজোড়া বিরোধের মুখে নাগপুরের কয়েকজন বলদপিতা টুইটে বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি নরম করার চেষ্টা করেছে, শিরোমণি আকালির হরসিমরত কৌরের প্রি-প্ল্যানড নাটকীয় পদত্যাগের যাত্রাপালা ফাঁস হয়ে যেতে। সুতরাং, এখন কিছুই আর মুখের কথায় হবে না, প্রস্তাবিত বিল ‘রাবার স্ট্যাম্প রাষ্ট্রপতি’র টিপসইও হয়ে গেছে, শুধু গেজেটে প্রকাশ বাকি। দাবী উঠুক, প্রতিটি আপত্তির বিষয়ে স্পষ্ট দিশা নির্দেশ বিলে লিখে দিক এমেন্ডমেন্ড করে, অথবা সম্পূর্ন বিল প্রত্যাহার করুক।

এই মোদীই বলেছিলো- “৫০ দিন সময় দিন, কালো টাকা ফেরত না এলে রাস্তার মোড়ে যেখানে পারবেন ঝুলিয়ে-জ্বালিয়ে দেবেন”। শুধু হিসেব দিক কালো টাকা কত ফেরত এসেছে, ওনাকে জ্বালাবার বা টাঙাবার কারো কোনো শখ নেই। জ্বালানো তার শখ, গোধরা-গুজরাত জ্বালিয়ে এখন প্রতিটি নাগরিকের ঘরে আগুন পৌঁছে দিয়েছেন সযত্নে। অবশ্য প্রতিটি ফ্যাসিবাদিদেরই শেষটা ওই ঝুলিয়ে-জ্বালিয়েই শেষ হয়েছে মুসোলিনির মতো- তাই এনারা নিজেদের ভবিতব্য জেনেই হয়তো এতোটা কনফিডেন্সের সাথে জ্বালিয়ে ঝুলিয়ে দেবার কথা বলতে পারে।

বাতেলাবাজিতে জনগণ আর কেউ আশ্চর্য হয়না, ‘প্রভুজি’ কামকি বাতের বদলে রেডিওর আড়ালে ‘লোমকি বাত’ এর ভাঁড়ামো করে, আগে পাবলিক রাগ করতো, এখন খিস্তিখাস্তা করে অবিরত। ফাঁকা টানেলে হাত নেড়ে, পান্ডববর্জিত স্থানে গাড়ির ভিতরে নিজের মাথায় নিজেই আলো ফেলে নিজেকে কার্টুন নেটওয়ার্কের জনপ্রিয় জোকার চরিত্রে নিজেকে উন্নিত করেছে। সেই নোট বন্দি থেকে শুরু করে, এরাই সম্মিলিতভাবে বুঝিয়েছিল ২০০০ টাকার নোটে ন্যানো চিপ আছে। জিএসটি, ৩৭০ ধারা লোপ, করোনাকালের শুরুতে থালা-ঘন্টা বাজানো, মোমবাতি জ্বালানো, ফুল ছড়ানো ইত্যাদি নিয়ে খেয়ালী আঁতলামো-মাতলামো কম হয়নি। ২১ দিনে করোনা ‘আল-গায়েব’ হওয়ার চার ফেলেছিল, সে চারও ডুবেছে। বৃষরাজ, ভক্তদের মূর্খ বানিয়ে রেখেছে আর মূর্খদের ভক্ত।

কাজের কাজ কি হয়েছে- প্রতিটা মানুষই নিজের জীবনের দুর্বিষহ সময়গুলো দিয়ে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সয়ে বুঝেছে। স্বৈরাচারী সরকারের এটাই চরিত্র হয়, তারাই একমাত্র ঠিক আর বাকিরা ভুল- রাজ্যসভাতে মাইক বন্ধ সেটাকেই প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। ‘ইন্টারন্যাশানাল এ্যামেনেষ্টি’ সরকারের অত্যাচারে দেশ ছেড়েছে, সুতরাং সরকারের দিশা কোন পথে তা ভক্ত ছাড়া সকলেই হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে। এরা আর বুঝতে পারছেনা যে জনগণ আর এদের মানতে চাইছে না, এদের ধাষ্টামো ধরে ফেলেছে। পরিকল্পিত ধর্ষনের পর আমাদের ঘরের মেয়েদের চিতায় তুলে প্রমাণের অবশেষটুকুকে এরা মিটিয়ে দিতে চায়, পুলওয়ামার কণভয়ে হামলা হয় সুরক্ষার অভাবে আর হাথারাসের রাস্তায় হাজার পুলিসের নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরি হয় বিরোধী আঁটকাতে- এটাই এরা পারে। তবে এদেরও বোধোদয় হবে, অবশ্য তদ্দিন এদের রাজনৈতিক স্বত্তা ওভাবেই রাতের আঁধারে চিতাতেই যে জ্বলবে তা বলাই বাহুল্য, কারণ এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।

অপরিকল্পিতভাবে লকডাউনে অধিকাংশ ব্যক্তিই নিজেকে সুনিশ্চিত ভাবে নিজেকে কর্মহীন করতে পেরেছে, এই সরকারের কাছে লকডাউনের ক্ষয়ক্ষতি তো দুরস্থান- কত MSME কারখানা বন্ধ হয়েছে, কতো পরিযায়ী শ্রমিক মরেছে, দেশে বেকারত্বের হার কতো এ সব বিষয়ে কোনো তথ্যই নেই। তথাপি নির্লজ্জের মতো এগুলো স্বীকার করতেও ইজ্জতে বাঁধেনা এদের। সরকারের উমেদার- গাঁজাখোর সফট পর্ন নায়িকাকে জেড-প্লাস সিকিউরিটি দেওয়া আর সরকারের মানুষ বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে হ্যারেজমেন্ট করার বাইরে এদের কোন তৃতীয় এজেন্ডা নেই।

‘এ কেমন রাষ্ট্রপিতা’ প্রশ্ন তোলার দিন শেষ, এখন গণবিদ্রোহের মধ্য দিয়ে এদের ক্ষমতাচুত্য করাই হোক এক ও অদ্বিতীয় লক্ষ্য।

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০

ব্ল্যাকআউটের ভ্রূকুটি

 



চতুর্দিকে নানান গবেষণামূলক প্রবন্ধ পড়ে একটা জিনিস বুঝতে পারছি যে, খুব শিগগিরই আমাদের দেশ সহ গোটা পৃথিবী জুড়েই একটা ব্ল্যাকআউটের থাবা গ্রাস করতে চলেছে সম্ভবত। হতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে হ্যাকিং করবে অবশিষ্ট সমস্ত সিস্টেমকে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ধসে পড়া, নেভিগেশন সিস্টেমের বিকল হয়ে যাওয়া, মোবাইল টেকনোলোজির স্তব্ধ হয়ে যাওয়া থেকে আমাদের ভাবনার অতীত এমন সব দুর্যোগ আসতে পারে। মোবাইল টেকনোলজিই যখন থাকবেনা তখন ইন্টারনেট দ্বারা আজকের এই ‘জ্ঞান ও যোগাযোগের’ যে আদানপ্রদান এ সবই সেদিন স্তব্ধ হয়ে যাবে, কোন কিছুই কাজ করবেনা।

যদিও বিগত দু’দশক ধরে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ক্রমাগত সাইবার হামলার এমন আশঙ্কাকে বাজারি খবরে নিয়মিত জিইয়ে রেখে দেওয়ার দরুন এ বিষয়ে জনগণ আর সেভাবে ভয় পায়না আজকাল। অনেক সময় নিয়ে এই উদাসীনতা তৈরি করা গেছে জনমানসে। পুঁজিবাদিরা যে ধ্বংসের মাঝেও নিজেদের মুনাফা খুঁজে নেয়, করোনাকালে তা আমরা দেখেছি, তার জন্যই এই প্রস্তুতি। ডলারের পতন আসন্ন এটা নিশ্চিত, পেট্রো ডলারের অর্থনীতি তার ‘ডেট অফ এক্সপেয়ারি’ অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়ে এখন বোনাসে চলছে, এই অবস্থায় একটা চরম ঝাঁকুনি দিয়ে নতুন অর্থব্যবস্থার প্রবর্তনা না হলে দেউলিয়া সুদী অর্থনীতি নিজেকে বিস্তার করতে পারবেনা। সুতরাং নতুন অর্থনীতি ব্যবস্থার জন্যই একটা থেমে আবার শুরুর জন্য ‘ব্ল্যাকআউট’ ভীষণ জরুরী, কারণ ধ্বংসের মাঝেই সৃষ্টির বীজ থাকে।

বর্তমানে আবার ‘নিম্ন সৌর’ বৎসরকাল চলছে, হতেই পারে কোনো উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মহাজাগতিক রশ্মি দিয়ে কিছু একটা করে বসবে ক্ষমতাধরেরা; কিম্বা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের গল্প ফেঁদে আসলে এমন কিছু একটা করা যাতে পৃথিবীর অবাঞ্ছিত গরীব সম্প্রদায়কে অনেকটাই কমিয়ে ফেলা যায় ধর্ম বর্ণ রাষ্ট্র নির্বিশেষে। মোদ্দাকথা ‘ইলুমিনাতি-মেসনস-রেড ল্যান্টার্ন্স-ব্ল্যাক ড্রাগনস-ক্রোকোডাইল-আইরিশ ব্রাদারহুড-অর্ডার অফ স্টার- রসিক্রিয়ানিজম- ব্ল্যাক হ্যান্ড-ডেবিউন্টে’ ইত্যাদিদের মতো সিক্রেট সংগঠন গুলো ভিসন-২১ নামের যে মারণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তাতে কমপক্ষে কয়েকশো কোটি মানুষ এর শিকার হতে পারে।

করোনা আরও শক্তিশালী মারণ ক্ষমতা নিয়ে ফিরে আসাটাও এই পরিকল্পনারই অংশ, এক্ষেত্রে মর্টালিটি রেট ২০% এর আশেপাশে রাখাটাই লক্ষ্য। কোনো মাস্ক, ভ্যাকসিনই এর থেকে মুক্তি দেবেনা। ইতি মধ্যেই বিল গেটসের সহযোগী এদেশের সিরাম ইন্সটিটিউটের ‘পুনাওয়ালা’ সরকারের কাছে ৮০ হাজার কোটি মজুদ রাখতে বলেছে ভ্যাকসিনের জন্য, সুতরাং লগ্নিকারীরা যথেষ্ট মুনাফা না কামানো পর্যন্ত এই মহামারী যাবেনা। অতএব, ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২১ এর শেষ পর্যন্ত ভিসন টুয়েন্টি ওয়ান পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মধ্যেই ইলুমিনাতিরা এই দুর্যোগ ঘটাতে চলেছে বিশ্বজুড়ে। কিছুদিন আগের একটা নিবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম বিশ্ব যুদ্ধের, সেটার মধ্যেই হয়তো বাকিগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দিয়ে শুভ মহরৎ অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে, পরবর্তীতে তুরস্ক-গ্রিস। এদিকে এলিটরা সেই মতো তাদের নিজেদের জন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে বলেই কন্সপিরেসি থিয়োরিস্টদের দাবি আছে তথ্যপ্রমাণ সহ।

কারা এই সোসাইটির সদস্য! মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA এর একটি রিপোর্ট “Bloodlines of the Illuminati” নামের একটা pdf মতে ১৩টি পরিবারের নাম পাওয়া যায়, যারা বিশ্ব শাসন করছে। প্রসঙ্গত এরা সকলেই ইহুদী জায়নবাদি। প্রত্যেকেই শক্তিশালী পরিবার, একতাই এদের মূল শক্তি। মেলনস ফ্যামিলি, কার্নেগিজ ফ্যামিলি, রথচাইল্ডস ফ্যামিলি, রকফিলার্স ফ্যামিলি, ডিউকস ফ্যামিলি, অ্যাস্টার্স ফ্যামিলি, ডরানসেস ফ্যামিলি, রেনল্ডেস ফ্যামিলি, স্টিলিমানস ফ্যামিলি, বেকারস ফ্যামিলি, পাইনেস ফ্যামিলি, কুইলম্যানস ফ্যামিলি, ওয়াটসনস ফ্যামিলি হলো এই তেরোর মাঝে, এরাই সমস্ত গোপন সমিতি গুলোর কর্ণধার। নতুন শতকে প্যান ইউরোপ ও মার্কিন মুলুকের টুকস ফ্যামিলি, ক্লেইনওয়ার্টস, ডুপন্টস, ওয়ারবার্গস, ফিপ্পিস, গ্রেসস, গুগেনহেমস, মিলার্স, ড্রেক্সেলস, উইনথ্রপস, ভ্যানডারবিল্টস, হুইটনিস, হার্কিনিস দের মতো কয়েকটি অতি ধনী পরিবার এই গোপন সমিতি গুলোর সদস্য হিসাবে যোগ দিয়েছে। এদের অধীনেই বিশ্বজোড়া প্রতিটি সেক্টরে নানান সফল পেশাদারেরা এদের দ্বারা সরাসরি পোষিত হয়ে এদের পক্ষে কর্মসম্পাদন করে থাকে।

কথিত আছে পৃথিবীর মোট অস্থাবর সম্পদের ৯১ ভাগের মালিক এরাই। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ফেডারাল রিজার্ভ সব বিশ্ব ব্যাঙ্কিং সিস্টেম, বিশ্ব মিডিয়া ও সিনেমা-টিভির মালিকানা, বিশ্বের অধিকাংশ মাল্টিন্যাশানাল FMCG কোম্পানির ৯৯% এরাই কুক্ষিগত করে রেখেছে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ব্যাতিরেকে। উপরের এই পরিবারগুলোকে কখনও কোনো ধনীর তালিকাতে দেখবেননা, ফোর্বস ম্যাগাজিন হোক বা ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ কোথাও এদের সম্বন্ধে কোনো তথ্য পাওয়া যাবেনা। কিন্তু এরাই মূলত বিশ্বের চালিকাশক্তি।

ষড়যন্ত্রের যে জাল তৈরি করেছে এরা, তা আসলে অনেক পুরাতন একটা এজেন্ডা। ওয়ান অর্ডার ওয়ার্ল্ড। কোয়ান্টাম কম্পিউটার সমৃদ্ধ তথা বেশকিছু উপগ্রহ সিস্টেম মহাকাশে ঘুরছে, যেগুলোর ঘোষিত মালিক চিন। আমেরিকা তথা নাসা কোনো কোয়ান্টাম কম্পিউটার চালিত স্যাটেলাইট পাঠাতে সক্ষম হয়েছে কিনা তার কোনো পরিষ্কার তথ্য নেই, অফিশিয়ালি জানায়নি আজও। বাইনারি কম্পিউটারের এলগরিদম দিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে হ্যাক করা যায়না, কিন্তু একটা কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাইনারির যাবতীয় সুরক্ষা কবজ খেয়ে ফেলতে পারে মূহুর্তে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এমন একটা ঘটনা সত্যিই যদি ঘটে, বিশ্বে মানচিত্র যে আবার নতুন করে লেখা হবে তা বলাই বাহুল্য। হাইব্রিড গণতন্ত্রের যে চাষ গত শতকে শুরু হয়েছিল, তা আবার নতুন ক্ষমতাধরেদের গোমস্তাতে পরিণত হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। নতুন পোশাকে উপনিবেশবাদের চাষ হবে।

সুতরাং রাশিয়া, চীন বা আমেরিকা যাদের তরফ থেকেই আক্রমণ/অভিযোগ হোক- একটা যে ব্ল্যাকআউট আসতে চলেছে এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন; যার ফল ভুগবো আমরা। যদি আপনি চীনা নাগরিক হন, সম্ভবত তাহলে আপনার ভয় বাকিদের চেয়ে অনেকটাই কম। সুতরাং সিট বেল্ট বেঁধে নিন আর মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন এমন একটা পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য। খাদ্যদ্রব্য, সুরক্ষা বস্তু, নগদ অর্থ, প্রিসিয়াস মেটাল, ওষুধপত্র, জ্বালানী ইত্যাদি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরী সামগ্রী যতটা সম্ভব অন্তত ছয় মাসের জন্য একটা মজুদ ব্যবস্থা গড়ে রাখাটাই বোধহয় উত্তম।

আর হ্যাঁ, অনলাইনে বা ক্লাউড স্টোরে আপনার যে সকল- স্মৃতি, ছবি, ডকুমেন্টস রয়েছে সেগুলোর মাঝে গুরুত্বপুর্ন গুলো হার্ড কপিতে ট্রান্সফার করে নিতে ভুলবেননা।

এ বিষয়ে আপনি কিছু জেনে থাকলে, কিম্বা আমার কোনো বোঝার ভুল হলে সেই বিষয়টা শেয়ার করতে পারেন কমেন্টে। 

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

কৃষি বিল প্রত্যাহার



কৃষি বিল প্রত্যাহারের প্রতিবাদ, অজয় সিং বিস্তের অন্ধকার-রাজ্যে দলিত কন্যা ধর্ষণ-মৃত্যু ও প্রমান লোপের জন্য প্রতিবাদ, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রসহন ও হাস্যকর রায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজের পাশাপাশি যে আওয়াজটা সরকার চেপে দিতে চেইবে সেটার দিকেও একটু নজর দিন। আম্বাদানির দালাল মাঙ্কি-বাত ও পোষ্য মিডিয়া দিয়ে পাব্লিককে লোমের গল্প শুনিয়ে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টার ত্রুটি রাখবেনা, কিন্তু দেশের অর্থনীতির সাথে আমাদের প্রত্যেকের রুটিরুজি, দেশের অখন্ডতা ও বাকি সকল কিছু নির্ভরশীল।


শেষ ছ'মাসে কেন্দ্রীয় রাজকোষ ঘাটতি পৌঁছেছে বাজেটের ১০৯% তে। CAG এর একটি রিপোর্টে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ষাণ্মাসিক হিসাব এটা। এই সময়ে সরকারের ব্যায় হয়েছে ১২.৪৮ লক্ষ কোটি টাকা, কিন্তু আমদানি হয়েছে মাত্র ৩.৭১ লক্ষ কোটি টাকা। আয় ও ব্যায়ের মাঝে এই মুহুর্তে ফারাক হচ্ছে ৮ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি। অপ্রত্যক্ষ কর আদায় কমেছে ২৪% আর প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি ৮৬% প্রায়। কর্পোরেট ট্যাক্স কমেছে ৪২% হারে। বাজারের যা গতি তাতে এই পতনের ধারা অব্যহতই থাকবে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞেরা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কর মোদী দরকার আদায় করছে, লিটারে ৩২ টাকারও বেশি। এটাই কংগ্রেসের আমলে ছিল পেট্রোলে ১০ টাকা ও ডিজেলে ৪ টাকার একটু বেশি। তাতেও দেশের GDP ১০% এর আশেপাশেই ছিল। গোসন্তানদের সরকারের হাতে দেশের গনধর্ষন এমন হারে হয়েছে যে নিরব মোদী-বিজয় মালিয়ার মতো ফেকু মোদী-অমিত শাহ জুটি না শেষে বিদেশে পালিয়ে যায়- আম্বাদানিকে দেশের সরকার বেচে দিয়ে।

অপরিকল্পিত লকডাউনে ধর্মের জিগিরে বাঁচা, মূর্খ মিথ্যুকের হাতে দেশের শাসন ভার থাকলে যা হওয়ার ছিল, সেটাই হয়েছে। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত এই নিম্নমুখীতা কোথায় গিয়ে পৌছাবে তা কেবল ভগবানই জানে, কারন এটাও Act of God হিসাবেই বিবৃতি আসবে মোদী-সীতা জুটির থেকে।

আপনাকে আড়াই গ্রাম গাঁজার জন্য এরেস্ট হওয়া অসফল নায়িকার গল্পে বুঁদ করে রাখা তো এই জন্যই, সফট পর্ণ নায়িকাকে Y+ সিকিউরিটি দিয়ে রোজ চ্যাঁটের গল্প ফেঁদে আপনাকে আমাকে ওদের প্রতিই আঁটকে রেখে দেবে স্ক্রিপ্টেড যাত্রাপালায়। শিঘ্রই সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারের GDP রিপোর্টও আসবে, যা শেষ জুনের হিসাবে ২৩.৯% মাইনাসে ছিল, তা যে আরো ডুববে সেটা বলাই বাহুল্য। কতো ডুববে এখন সেটাই দেখার।

এর মাঝে ভক্তদের জন্য আনন্দের খবর হচ্ছে, ঠিক শেষ ছ'মাসে আম্বানির সম্পত্তি বেড়েছে ঘন্টায় ৯০ কোটি টাকা হিসাবে মোট সম্পদের ৭৩%। বর্তমানে আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত। দেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি।

আচ্ছে দিনের বিকাশের এটাই গণিত।

বাঁচতে চাইলে বাস্তিল দূর্গের পতন যেভাবে হয়েছিল, আগামীতে নাগপুরের গোয়ালের অবস্থা তার চেয়েও সঙ্গীন না করতে পারলে ভবিষ্যৎকে আমরা সুরক্ষিত করতে পারবোনা। বাংলাদেশে জামাতি-রাজাকারদের যেভাবে ধরে ধরে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল বিচারের প্রক্রিয়ায়- মোদী গ্যাং এরও প্রত্যেকের জন্য তেমনই কিছু তোলা রয়েছে হয়তো দেশ বিক্রির ঘৃণ্য অপরাধে- যেটা Act of God এর আওতাতেই গণ্য হবে ইতিহাসে।

নতুবা, আমরা তো এদের সয়ে নিচ্ছি, কিন্তু এর পর?

ছবিটা নেট থেকে ডাউনলোড করা, শুধুমাত্র আপনার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। লেখার সাথে ছবির সামান্যতম যোগ নেই

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কাউসার বাই


 

কাউসার বাই, ২০০৫ সালে, রাতের গভীরে তাকেও নদীর তীরে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। আপনি নিশ্চই ভুলে গেছেন তাকে কে জ্বালিয়েছে এবং কেন? কি দোষ ছিল কাউসার বাই এর? কেউ অভিযুক্ত হয়নি সেদিন, কেউ শাস্তি পায়নি।


কে ছিলো কাউসার বাই? হয় জানেননা, নতুবা ভুলে গেছেন। গুগুলে সার্চ করে জেনে নিন বা স্মৃতি ঝালিয়ে নিন। আজকের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বিচার ব্যবস্থার মৃত্যু, শ্রমিক-চাষি-কর্মীদের দুরবস্থা, মিথ্যাচার, মিডিয়ার দলদাস গিরি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রের ধর্ষণ- এই সবের জন্য যে দায়ী আপনিই, সেটাও আয়নার মতই দেখতে পাবেন, নিজেকে উপলব্ধি করতে পারবেন।

কারন আপনারাই সেই গুজরাতকে 'মডেল' বলেছিলেন।

এখন আপনি পুড়ছেন, তাই হয়ত অনুতপ্ত। আপনার দীর্ঘ অনুশোচনা আপনাকে কুড়ে কুড়ে শেষ করবে। কাউসার বাই এর চিতা আজও জ্বলছে- এবং অনন্তকাল ধরে জ্বলবে।


সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তৃণমূলী মুসলমান



বিজেপিকে আঁটকাতে তৃণমূলকে ভোটটি দেবেন, নতুবা "বিজেপি চলে আসবে"। এটাই তিনু নেতাদের ভাষণ- বিজেপিকে আঁটকানোর দায় কেবল মুসলমানেদের, বাকিরা বিজেপিতে যাতায়াত করবে ফুটবল মাঠের উইঙ্গারের মতো।

এদিকে তৃনমূল সরকার জণগণের ট্যাক্সের টাকায় পুরোহিত ভাতা হোক বা দুর্গাপূজায় ৫০ হাজার দিয়ে RSS তোষণ করে যাবে। অবশ্য তোষণ শব্দটা শুধুই মুসলমানেদের জন্য, বাকিদের জন্য তো খয়রাতি শব্দ ব্যবহৃত হয়। একটা সময় মেলা-খেলা-ক্লাবের নামে টাকা দান করতো, এখন চক্ষুলজ্জার শেষ পটিটা ছিঁড়ে সরাসরি RSS তোষণ।

বিজেপি শাসিত রাজ্যেও এতোটা নির্লজ্জতার সাথে এটা করতে পারেনি- কারন পরকিয়া সম্পর্কের টান অনেক বেশি হয়- যেমনটা তৃণমূল-RSS সম্পর্ক। আজকে যারা বিজেপি, গতকাল তারাই তো তৃণমূল ছিল। আজ পোশাক বদলে বিজেপি হয়েছে, কাল আবার বিপ্লব মিত্রের মতো কেউ কেউ ফিরে আসবে। রাজ্যে তৃণমূল থাকলে RSS এর বিজেপিকে প্রয়োজন কোথায়?

মুকুল বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক হয়েছে, কাল হয়তো রাহুল সিনহা তৃণমূলে এসে বড় পদ বাগাবে। এতো হামেসাই ঘটবে। শুধু মুসলমান নামধারী তৃণমূল গুলো উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে রইবে। একটা তৈরি সিদ্দিকুল্লাকে হারিয়ে দেবে, একটা ত্বহা সিদ্দিকী, একটা ইমাম বরকতী, একটা সুলতান আহমেদকে লোভের কাছে বিকিয়ে দেবে। দিনের শেষে মমতাই সংখ্যালঘু মন্ত্রী, RSS এর দুর্গাই মুসলমানেদের ত্রাতা- যে RSS দেশ থেকে মুসলমান তাড়াতে NRC করেছে। প্রসঙ্গত বাংলায় NRC এর প্রথম প্রস্তাব মমতারই ছিল।

আসলে বিজেপি, শিবসেনা, বজরং দল, তৃণমূল এদের বাপ তো একটাই- RSS

আজও এ রাজ্যে বিজেপি বলে আসলে কিছু নেই। কিছু ধান্দাবাজ রঙ পাল্টানো বাম নেতা, সাথে তৃণমূল থেকে লোনে যাওয়া কিছু রাজনৈতিক খেলোয়ার দিয়ে দল সাজিয়েছে RSS, মাথায় বসে আছে দিলীপ ঘোষের মতো গাম্বাট, যে RSS থেকেই এসেছে।

রাজ্যের ১৮টা আসন বিজেপি পেয়েছে এটা খাতায় সত্য, আসল ঘটনাটা আপনি আমি সবাই জানি যে এটা তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন। বিজেপি জেতেনি, বরং তৃণমূল হেরেছে। আর এ জন্যই মুসলমানেদের মগজধোলাই চলছে- বিজেপি এসে যাবে জুজু দেখিয়ে। আমার প্রশ্ন- যে রাজ্যে বিজেপি আছে তারা এ রাজ্যের চেয়ে কতটা খারাপ আছে?

তৃণমূল মুসলমানেদের জন্য করেছেটা কি ১০ বছরে? সাচার কমিটির রিপোর্ট তো আমরা জানি বামেরা কি দশা করেছিল তাদের ৩৪ বছরে, তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তৃনমূলকে আনলেন। কিন্তু তৃনমূলের ১০ বছরের রাজত্বে মুসলমানকে এমন কবরে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে দাবীর আওয়াজ টুকুও তুলতে ভুলে গেছে।

তাই তৃণমূলপন্থী মুসলমান বলদগুলোকে বলি, "সাঁইবাড়ির হত্যাকান্ড, মরিচঝাঁপি, নন্দীগ্রামে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার উপকথা শুনতে শুনতেই" আপনারা সরাসরিই RSS করুন এবারে- শাহনওয়াজ হুসেন বা মুক্তার আব্বাস নকভির মতোন। ঘোমটার আড়ালে খ্যামটা নেচে লাভ কি? সরাসরি RSS করলে আপনাদের ক্লাবেও পূজোর নামে ৫০ হাজার তো আসবে। লম্বা দাড়ি রেখে মাথায় ফেজ পড়ে তৃণমূলের খয়রাতি দুর্গা পুজোতে প্রসাদ খেতে অন্তত ধর্মে বাঁধেনা আপনাদের। সর্বধর্ম সমন্বয়ের ব্রাণ্ডেম্বাসেডর হয়ে যাবেন পাড়ায় পাড়ায়।

চালচোরের দল করে যারা, ১০০ দিনের কাজের হারামের কামাই তে তাদের বংশের মর্যাদা বাড়বে তো বটেই। ভাইপো বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছে ১০ বছরে, সে ব্যাঙ্কক সিঙ্গাপুরে পালাবে। আপনি কি পেয়েছেন? আপনি কোথায় পালাবেন?

তাই গরু খেকো নামধারী মুসলমান সেজে চটি চেঁটে RSS করার পন্থা ছেড়ে সরাসরি গোমুত্র খেয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদকে স্বীকৃতি দিয়ে নিজের স্ত্রী কণ্যাদের উৎসর্গ করুন উঁচু জাতের নেতাদের প্রতি।

শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে মুক্তি। যাদের চেতনা চটির নীচে, অন্ধকারেই যে তাদের মুক্তি তা বলাই বাহুল্য।

তৃণমূল সেজে যতই RSS করুন, না ঘরের হবেন না ঘাটের। ধোপার কুত্তার মতো অজাত হয়েই রয়ে যাবেন শেষে। NRC হলে আপনিই সবাই আগে বলি হবেন, NIA জঙ্গি নাম দিয়ে যাকে খুশি তুলে নিয়ে গেলে তৃণমূল কিছু বলবেনা, কারন তাদের কিছু যায় আসেনা।

রাজীব কুমারের জন্য ধর্মতলায় ধর্ণা হয়, ভাইদের ছাড়াতে ভবানীপুর থানায় পৌছে যেতে পারেন মমতা ব্যানার্জী। কিন্তু পায়খানার চেম্বারকে সুড়ঙ্গপথ নাম দিয়ে কতগুলো গরীব মুসলমান গ্রেপ্তার হলে মমতা কী দারুন নির্লিপ্ত থাকে। মমতার পোষ্য মুসলমানগুলোও তখন বৌ এর সায়ার তলায় নিজের মুখ লুকায়। আসলে 'মুসলমানের মুরগি পোষা' নামের একটা বাগধারা আছে যেমন, তেমনই তৃণমূলের মুসলমান প্রীতি। ভোটের সময় 'ওগো তুমি আমার' ভোট গেলেই 'দুধেলগাই'।

কোথাও একটা পড়েছিলাম- পাকিস্তান জন্মাবার পর রেলে করে জিন্নাহ একবার করাচি থেকে লাহোর যাচ্ছিলেন, মধ্যের কোনো একটা স্টেশনে উৎসাহী ভক্তের দল জিন্নার দর্শন পেতে নির্দিষ্ট বগির জানালার কাছে এসে হল্লা করছিল। ভীষণ বিরক্ত জিন্না নাকি জানালা না খুলেই বলেছিলেন " বেশ্যার বাচ্চারা একটু ঘুমাতেও দেবেনা?" এই কথা শুনেই উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পরেছিল, যে - হুজুর আমাদেরকে সম্বোধন করেছেন। কি বলে সম্বোধন করেছে সেটা কোনো বিষয়ই নয়, সম্বোধন করেছে সেটাই বড় কথা। বর্তমানে মমতা ব্যানার্জী আর তৃণমুলের মুসলমানদের অবস্থা একই। নাহলে দুধেল গাই বলার পরও কেউ কিভাবে তৃণমূল করতে পারে?

অমুসলিম তৃনমূল নেতা-কাঁথা হলে তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা, আপনাকে তারা দলে নেবেনা- মনিরুল সাক্ষী। বিজেপির সাবান মাখলেই সব পাপ মাফ, কিন্তু আপনি যখন জেলে বা খুন হয়ে গেছেন তখন- আপনার মেয়ে বৌ এর জন্য ভিক্ষাপাত্রই জুটবে। বেশ্যাখানা অবশ্য খোলা আছে। বেশ্যাখানায় কেউ জাত শুধায়না, এটা একটা ভাল দিক। যে নিজের ভালো বোঝেনা তার জন্য ধ্বংসই একমাত্র ভবিতব্য।

কুত্তার বাচ্চাদেরও ১০ দিনে চোখ ফুটে যায়, চটিপন্থী মুসলমানেদের ১০ বছরেও চোখ ফোটেনি। আপনারা কবে বুঝবেন যে মমতা আসলে আপনাকে RSS বানিয়ে দিয়েছে। আপনার ইমানকে প্রশ্ন করুন- আপনি অদৌ মুসলিম না মুনাফেক?

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বলিউড


এই ছবিটি বলিউডের পাশাপাশি প্রতিটি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের জন্য একটি শিক্ষা বিশেষ। কোনও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সামনে যখনই মাথা ঝুঁকিয়ে ফেলবে, এর পর আর কোনো সাফল্য অর্জনই আপনাকে সম্মানের সাথে বাঁচাতে দেবেনা।

তোষামোদি একবার শুরু করলে তা বারংবার করেই যেতে হবে যতই বিরক্ত লাগুক না কেন, যতি পরলেই 'ডিভাইড এন্ড রুল' মেনে আপনাদের মাঝেই ফাটল সৃষ্টি করে আপনাদের খ্যাতিকে কলুষিত করে তার আড়ালে নিজেদের কুকীর্তি লুকাবে।
গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে আপনারা 'হিরো' 'হিরোইন'রা নিশ্চুপ থেকেছেন সমাজের বিপদের দিনে, উপরন্তু দাঁত বেড় করে 'ফিল গুড' বিজ্ঞাপন করেছেন অত্যাচারীদের হয়েই। আপনাদের সেই নিরবতা ও সুবিধাবাদী, পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার মানসিকতাই আজ মূল্য দাবি করেছে, আপনাদের নীরবতাই আজ আপনাদের জীবন ও পেশাকে জটিল করে তুলেছে।
গুটি কয়েক হাতেগোনা ব্যাক্তি ছাড়া গোটা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির সকলকেই আজ প্রায় ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় শ্রেনীর অযোগ্যকে নায়কের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। দেশে যত সমস্যা সবই আপনাদের শো-বিজনেসের পাঁক লেপে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে- যাদের সাথে আপনারা গলাগলি করে ছবি তুলতে গেছিলেন, তারাই আপনাদের ব্যবহার করছে। যাবতীয় মান সম্মান আজ কোথায় আপনাদের?
বিকৃত মিডিয়ার শিকার আজ আপনারা নিজেই, অথচ এই মিডিয়াই যখন সমাজের মাঝে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ রচনা করেছিল- তখন আপনারা চুড়ান্ত উদাসীন ছিলেন, আজ মুল্য চোকাতে হবে বৈকি।
কিন্তু এর পরেও তো বাঁচতে হবে, তাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিন। সমাজের প্রতিটি স্তরই আজ ফ্যাসিবাদী মূর্খদের দ্বারা চরমভাবে নির্যাতিত। লাভ কেবল মুষ্টিমেয় সাংবাদিন নামধারী বেশ্যার আর কিছু পুঁজি পতিদের।
আজ এখনও আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়নি, এখনই এই বর্বর কর্তৃত্ববাদবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার না হন, আগামীতে এদের লাললা আপনাদের সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেবে।

মোদিজী ও তার প্রচারযন্ত্র


এই ছবিটি বলিউডের পাশাপাশি প্রতিটি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের জন্য একটি শিক্ষা বিশেষ। কোনও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সামনে যখনই মাথা ঝুঁকিয়ে ফেলবে, এর পর আর কোনো সাফল্য অর্জনই আপনাকে সম্মানের সাথে বাঁচাতে দেবেনা।

তোষামোদি একবার শুরু করলে তা বারংবার করেই যেতে হবে যতই বিরক্ত লাগুক না কেন, যতি পরলেই 'ডিভাইড এন্ড রুল' মেনে আপনাদের মাঝেই ফাটল সৃষ্টি করে আপনাদের খ্যাতিকে কলুষিত করে তার আড়ালে নিজেদের কুকীর্তি লুকাবে।

গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে আপনারা 'হিরো' 'হিরোইন'রা নিশ্চুপ থেকেছেন সমাজের বিপদের দিনে, উপরন্তু দাঁত বেড় করে 'ফিল গুড' বিজ্ঞাপন করেছেন অত্যাচারীদের হয়েই। আপনাদের সেই নিরবতা ও সুবিধাবাদী, পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার মানসিকতাই আজ মূল্য দাবি করেছে, আপনাদের নীরবতাই আজ আপনাদের জীবন ও পেশাকে জটিল করে তুলেছে।

গুটি কয়েক হাতেগোনা ব্যাক্তি ছাড়া গোটা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির সকলকেই আজ প্রায় ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় শ্রেনীর অযোগ্যকে নায়কের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। দেশে যত সমস্যা সবই আপনাদের শো-বিজনেসের পাঁক লেপে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে- যাদের সাথে আপনারা গলাগলি করে ছবি তুলতে গেছিলেন, তারাই আপনাদের ব্যবহার করছে। যাবতীয় মান সম্মান আজ কোথায় আপনাদের?

বিকৃত মিডিয়ার শিকার আজ আপনারা নিজেই, অথচ এই মিডিয়াই যখন সমাজের মাঝে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ রচনা করেছিল- তখন আপনারা চুড়ান্ত উদাসীন ছিলেন, আজ মুল্য চোকাতে হবে বৈকি।

কিন্তু এর পরেও তো বাঁচতে হবে, তাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিন। সমাজের প্রতিটি স্তরই আজ ফ্যাসিবাদী মূর্খদের দ্বারা চরমভাবে নির্যাতিত। লাভ কেবল মুষ্টিমেয় সাংবাদিন নামধারী বেশ্যার আর কিছু পুঁজি পতিদের।

আজ এখনও আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়নি, এখনই এই বর্বর কর্তৃত্ববাদবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার না হন, আগামীতে এদের লাললা আপনাদের সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেবে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মূর্খ নির্লজ্জ হলে সাংবাদিক হয়



এটা একটা জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল এর খবর।


সাংবাদিকেরা কতবড় মূর্খ নির্লজ্জ হলে অবলীলায় এমনটা লিখতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য সিঙ্গুরের সঞ্জীব বাবু তিনি কয়েক বিঘা জমির মালিক কিন্তু এই মুহূর্তেও তার কাছে 10 টন ধান মজুদ রয়েছে, মানে কথার প্রসঙ্গে ধরেই নেয়া যায় আগেও তার আরো ধান ছিল।

এক্ষেত্রে সিঙ্গুরের মাটিতে ধানের ফলন বিঘাপ্রতি ৫-৬ কুইন্টালের বেশি হওয়া সম্ভব নয় সেখানে ১০ টন ধান হতেও কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমি প্রয়োজন। কয়েক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ২ টন ধান হওয়া সম্ভব তার বেশি হয়। আর যার ২৫-৩০ বিঘা জমি আছে তাকে কয়েক বিঘা বলা যায়?

তাছাড়া সঞ্জীব বাবু, এতোদিন আপনার ধান কে বেশি দামে বাইরে বেচতে মানা করেছিল? আমরা তো ছত্রিশগড়ের চাষীর থেকেও মাল কিনে এনেছি আমাদের ফ্যাক্টারির জন্য, চাষীর নিজের উৎপাদিত শস্য আগে গোটা দেশে বা দেশের বাইরে বেচতে অসুবিধা কোথায় ছিল? আর বাকি রইলো MSP, মমতার জামানাতেও বিগত ১০ বছর ধরে ও তার আগেও বাম জামানায় বেনফেড, নাফেড, ECSC ইত্যাদি সমবায় গুলো গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সারা বাংলা জুড়েই ধান সংগ্রহ করেছে। মমতা তো চেকে পেমেন্টও করেছে, তার পরেও প্রতি বছর ধানের দাম আকাশ ছুঁয়েছে যা MSP এর চেয়ে অনেকটাই বেশি। আপনি বা আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে কি MSP এর থেকে কমে মাল বিক্রির কোনো নথি আছে?

আদারে নোংরা মানসিকতার চাষী হলে অপরিপক্ষ নরম ভিজে ধান মেসিনে একদিনে কেটে এবারে যদি রাইসমিলারকে MSP তে কিনতে চাপ দেওয়া হয় তা কে নেবে? নর্মাল ধানে ১৬% ময়শ্চার স্বাভাবিক যাকে FAQ মান বলা হয়। এখনকার অধিকাংশ চাষীই অপরিপক্ক ভিজে ধান কেটে নেয়, যাতে কমপক্ষে ২৫% ময়শ্চার থাকে উর্ধে ৩৫% পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই ১৬ এর অধিক ময়শ্চার বিজ্ঞানের নিয়মে ওজন হিসাবে বাদ যাবেই। এই ধান ২৪ ঘন্টা মজুদ রাখা যায়না, গাদা করে রাখলে তলায় আগুন ধরে যাবে এমন অবস্থা হয়, সাথে পচে গিয়ে বিচ্ছিরি গন্ধ হয়ে তা থেকে আর গোটা চাল না হয়ে খুদ তৈরি হয়। সুতরাং MSP না পাওয়ার দায় সরকার বা অন্য কারোর নয়, ফসলের মান FAQ কিনা সেটা তো চাষীকেই নির্ধারন করতে হবে।

নতুন বিলে আগামীতে যে আর MSP টাই থাকলোনা, কারন EC এ্যাক্ট ধানে প্রযোজ্য নয়, যে কোনো সময় MSP বিলুপ্ত হতে পারে বিনা নোটিসে, তখন কি করবেন?

যত্তোসব ভুঁয়ো ফালতু গুল-গল্পের ভাঁওতাবাজি-

আসলে ঘরে বসে নেট ঘেঁটে কনটেন্ট রাইটার হয়ে গোদী মিডিয়া বা নাইটি সেলের ভাড়াটে সৈনিক হলে যা হয় আরকি-

ছ্যাঃ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কেন্দ্র সরকারের ঋণ

 


জুন ২০১৪ এ ভারতের মোট ঋণ ছিলো-

₹ 54,90,763 কোটি
জুন 2019 এ ভারতের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছিলঃ-
₹ 88,18,076 কোটি
2020 সালের জুন মাসে ভারতের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছেঃ-
₹ 101,30,000 cr
বিগত ৬ বছরে মোদী ভারতের মোট ঋণের বোঝা দ্বিগুণ করেছে এবং GDP কে তলিয়ে দিয়েছে।
গড়ে প্রতিটা ভারতীয়ের মাথায় ৭৫ হাজার টাকার ঋণের বোঝা, যে বাচ্চাটি আজ জন্ম নিচ্ছে সে ও ৭৫ হাজার টাকার ঋণ নিয়েই জন্মাচ্ছে। বলাই বাহুল্য আগামী ৪ বছরে এই অঙ্ক কোথায় পৌছাবে কেউ জানিনা। আর এর পরেই দেশ বিক্রি করে দিতে হবে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে, ঋণের দায়ে। গোলামির ফাঁসে জড়িয়ে যাবে রাষ্ট্র ও সমাজ।
প্রসঙ্গত কংগ্রেস ৭০ বছরে যা করেছিল মোদী ৬ বছরে সেটাই করেছে এটা প্রমানিত।
তবে হ্যাঁ, সবাই ক্ষতিগ্রস্থের তালিকাতে নেই। যেমন আম্বানি। গত মাসে আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ নিজেদের debt শূণ্য সংস্থা মানে ঋণমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঘোষণা করেছে!
অর্থাৎ আমার আপনার সন্তান ঋণের ভারে জর্জরিত হয়েছে মোদীর কল্যানে, তাতে আপনি মুসলমান হোন বা দলিত বা ভক্ত। কিন্তু আম্বানির ছেলে ঋণমুক্ত হয়ে লক্ষ কোটির সম্পদ বানিয়েছে।
এটাই মোদীর আচ্ছে দিন।
চলুন রিয়া চক্রবর্তীর গাঁজা বা করিণার পেট কমাসের হলো বা IPL এ কে জিতবে সেটা নিয়েই চর্চা চলুক, কারন আম্বানীরা সেটাই চায়।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজু বিস্ত ও বাংলা ভাগের প্রস্তাব



বাংলাভাগ মানছিনা মানবো না। একজন বাঙালি হয়ে এ অপমানের আঁচ যদি আপনার গায়ে না লাগে তাহলে আপনি আপনার বাঙালিয়ানা জন্ম নিয়ে জিন পরিক্ষা করান, কারন অবৈধ বীর্যে গুজরাতিরা শীর্ষে আছে- কে বলতে পারে আপনি সেই বীর্যে বলিয়ান কিনা।

গতকাল রাজু বিস্ত সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাকে ভাগ করে গোর্খাল্যান্ড তৈরির দাবি জানায় এবং ঠিক পেছনে বসে বিজেপির জোকার তথা রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ সহ বাংলার বাকি বিজেপি সাংসদরা টেবিল চাপড়ে সেই দাবিকে সমর্থন জানায়। অবশ্য বিজেপি এটাই পারে, দেশের ও দেশের বাইরে সকল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে গভীর যোগাযোগ রেখে চলে।

এদের হাতে কি আপনারা ২০২১ সালে ক্ষমতা তুলে দেবেন বলে আপনারা অনেকেই বুক বেঁধেছেন, তা বাঁধুন- যা হয় হোক, মুসলমানকে শিক্ষা দিতে হবে। আজ এরা বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে, কাল মুসলমান-কমিউনিষ্টদের দোহায় দিয়ে আবার দেশ ভাগ করে আপনাকে হাতে বাটি ধরিয়ে দেবে সেদিনের আগের আপনাদের চোখ ফুটবেনা। কুকুরের বাচ্চারও ৬ দিনে চোখ ফোটে, আপনারা কুত্তারও অধম তাই ৬ বছরেও চোখ ফোটেনি, আগামীতে ফুটবে সে আশঙ্কাও নেই।

তাই সিটবেল্ট কষে নিন, শ্রমিক গেছে, ছোট ব্যবসায়ী মরেছে, চাকরি নেই, এখন কৃষকও সেই পথেরই পথিক। তবে আম্বানী চতুর্থ ধনী হয়েছে। এর পর লক্ষ্য আপনি।

এভাবেই বিজেপি একদিন বাংলাকে ভাগ করবে, তারপর দেশ। সেদিন আবার এমনই কিছু খেদবমি করবো যদিনা মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে আওয়াজ বন্ধ করে দেয়।

তবে দেশ ভাগের আগে দেশের প্রায় যা কিছু বিক্রয়যোগ্য সবই গুজরাতীদের কাছে বেচে দেবে বা দান করে দেবে বা লুঠ করতে সহযোগিতা করবে বিজেপি-RSS সরকার। পরবর্তীতে গুজরাত রাষ্ট্রে তারা স্বমহিমায় ফিরে আসবে।

কারন মোদীকেও যে নোবেল পেতেই হবে।

মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খোলাচিঠিঃ শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শিক্ষিকাগণ

 




মোদী সরকার যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে চলছে তাতে স্কুল শিক্ষকেরা মানে আপনারা আর কে কতদিন চাকরি করতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে আমার ব্যক্তিগতভাবে। আমাদের রাজ্য সরকার তৃণমূলও ওই পথেরই পথিক মানে বিজেপিরই সহোদর, এরা সকলেই RSS এর শাখা সংগঠন, কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করে কেউ গোপন রাখে রাজনৈতিক স্বার্থে। দিনের শেষে এদের শিকড় আসলে একটাই।

আজকের দিনে দেশের সর্বত্র সকল কিছুই খুলে গেছে প্রায়, সকলে সকল স্থানে যাতায়াত করছে। মেলা-খেলা-ধর্ম-বিয়ে-শ্রাদ্ধ-ভ্রমণ সবই হচ্ছে লেখাপড়া ছাড়া। যারা ধনী ও বেসরকারি ইস্কুলে পড়ে তাদের জন্য অবশ্য গালভরা নাম দিয়ে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে, কিন্তু সেটা কতো শতাংশ মোট পড়ুয়া জনসংখ্যার? আজকের দিনে প্রতিদিন যারা করোনাতে আক্রান্ত হিসাবে ধরা পড়ছেন সেটা বেশি মাত্রায় টেষ্ট হওয়ার কারণে, গত এপ্রিলে এই মাত্রায় টেষ্ট হলে এটা তখনই ধরা পড়তো। তাছাড়া বিগফার্মা ও বিল গেটস দের মতো চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের ভ্যাকসিনের বাজার তৈরি ও তাদের আগামীর পরিকল্পনার কথা নাহয় বাদই রাখলাম এই পর্বে।

ট্রেনটা খুলছেনা কারণ সেটা বিক্রিবাটা করে কতটুকু সরকারের ভাগে থাকবে সেটা স্থির করে নিয়ে তবে চালাবে এটা তো মোদী সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত। কিন্তু স্কুল খুলছেনা কেন? গোটা বিশ্বেই তো স্কুল কলেজ প্রায় সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাও মাস তিনেকের কাছাকাছি হয়ে গেলো। যদিও অনেক দেশে স্কুল কলেজ বন্ধই করেনি, সে দেশ করোনার তালিকাতে আমাদের দেশের চেয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে সংখ্যাতে।

বিষয়টা কি দাঁড়ালো তাহলে! এখানেও কি তাহলে কোনো গোপন এজেন্ডা আছে সরকারের? ঠিক যেভাবে অন্য পেশার কয়েক কোটি মানুষজনের চাকরি খেয়ে তাদের পথে দাঁড় করিয়েছে তথাকথিত মোদীর মাস্টারস্ট্রোকের দাপটে।

শিক্ষক মানেই স্কুল তথা একটা প্রতিষ্ঠান দরকার, আর স্কুল থাকলেই সমাজ শিক্ষিত হবে, যাদের ধর্মের গাঁজা খাইয়ে বুঁদ রাখা যাবেনা সহজে। শিক্ষিত মানুষ ধর্মচারণ আর ধর্মোন্মাদের ফারাক বোঝে, তাই একজন অশিক্ষিত গাম্বাটকে আল্লাহু আকবর বা জয় শ্রীরাম বলিয়ে যত সহজে অন্যের মাথায় বারি দেওয়া সম্ভব, শিক্ষিতদের দিয়ে যেটা সহজ নয়। শিক্ষিত সম্প্রদায় মানেই প্রশ্ন করবে আধিকারিককে, অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

রাজ্যের তৃণমুল সরকার তো শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করাকে শিল্পের পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে এই লকডাউনের দীর্ঘসূত্রতার বাহানাতে- কেন্দ্র ও রাজ্য সম্মিলিতভাবে govt স্কুল বন্ধ রেখে শেষে অনলাইন শিক্ষা সমৃদ্ধ প্রাইভেট স্কুল খোলার বিল নিয়ে আসবে হয়তো।
ব্যস, তাহলে আর এতো শিক্ষকের কি দরকার? ইচ্ছামতো ছাঁটাই করে দেবে আপনাদের মধ্যে, যাকে খুশি। কি সুন্দর বসে বসে প্রতি মাসের ২৮ তারিখে বেতনটি ঢুকে যাচ্ছে অ্যাকাউন্টে, এমন সুখের সময় আর কার জীবনেই-বা এসেছে।

প্রতিটি বেসরকারি বা সরকারি অফিস কাছারি অর্ধেক কর্মচারী দিয়ে দিয়ে কাজ চালিয়ে নিয়েছে এই করোনাকালে, এবং কাজ চলেও গেছে বা যাচ্ছে। স্বভাবতই 'উন্নয়ন' ও 'আচ্ছেদিন' সরকারদ্বয় যদি এর পর অর্থনৈতিক মন্দার দোহাই দেখিয়ে কর্মী সঙ্কোচন করে, কিম্বা যদ্দিন কাজ তদ্দিনের বেতন, কিম্বা ছাত্রেরা টিউশন ফি দিলে তবেই বেতন হবে অথবা আপনাকে বর্তমান বেতনের অর্ধেক বা তারচেয়েও কম দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করে- তাতে মোটেও আশ্চর্য হবেননা। মজার কথা হলো তাতেও আপনারা কাজ করবেন, কারণ প্রতিবাদের ভাষা আপনি ভুলে গেছেন স্যার/ম্যাডাম। Boiling frog syndrome এর শিকার আপনারা, সমষ্টিগত ভাবে। আত্মকেন্দ্রিকতার আদর্শ নমুনা আপনাদের এই সমাজটি।

শ্রমিকেরা ভুগেছে, শিক্ষকেরা মানে আপনারা সংগঠিতভাবে নীরব ছিলেন এক আধজন ব্যতিক্রমী ব্যাক্তি ছাড়া। পরিযায়ীরা পথে পথে মরে বেওয়ারিস লাস হয়েছে, আপনারা কানেও শোনেননি চোখেও দেখেননি। না আপনাদের কোনো সংগঠন কোনও প্রকারের ত্রান নিয়ে তাদের জন্য কোথাও হাজির হয়েছিল। ছোট ব্যবসায়ী ভুগেছে, আপনারা শিক্ষকেরা সম্প্রদায় হিসাবে নিশ্চুপ ছিলেন। দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হয়েছে- আপনাদের সমাজ চেয়ে চেয়ে দেখেছে আর সংবাদ চ্যানেল দেখতে দেখতে অস্বস্তির জাবড় কেটেছেন। কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছেন, 'আমরা তোমাদের পাশে আছি' বার্তা নিয়ে কোনো শিক্ষক সমিতি দাবি করেছে বলে কেউ বদনাম দিতে পারবেনা। আজ কৃষকের উপরে স্টিম রোলার চলছে- আপনাদের শিক্ষক সংগঠনের তরফে শ্মশানের নিরবতা দেখা যাচ্ছে। বরং অনেকেই আপনারা বিজেপি তথা মোদীর ভক্ত কিম্বা নীলসাদা চটি চেটে নেই নেশাতেই বুঁদ হয়ে রয়েছেন, গত নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটের এটাই হিসাব ছিলো। কেউ কেউ ব্যাক্তিগত স্তরে মানবিক হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু একার শক্তি আর কততুকু?

প্রতি সপ্তাহে, খবরে যখন দেখাচ্ছে- আগামী ১৫ দিন স্কুল-কলেজ আরও বন্ধ থাকবে; আপনারা হয়তো উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। আসন্ন পুজোতে কি স্বাভাবিক ছুটি দেবে না কি করোনার ছুটি কেটে নেবে এই ভাবনায় আপনারা ঘুমাতে পারছেননা অনেকে। আপনারা পরিবার নিয়ে পুজোর ভ্রমণের প্লানিং করতে ব্যস্ত, কিম্বা ফিমেল গ্রুপে কেনাকাটা বা উইন্ডো শপিং তে next Pp ইত্যাদি করে যাচ্ছেন মনের সুখে। কেউ কেউ সাহিত্য গ্রুপ গুলোর কোহিনুর হয়ে রোজ কাব্যের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন নিজেরাই নিজেদের গা চাটাচাটি করে। অন্তত ফেসবুকের গ্রুপ গুলোতে এটাই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে।

এমনিতে যারা ঈদে মাথায় টুপি পড়ে ছবি দেন, পুজোয় নতুন জামা পরে পোজ দেন- তারাই আবার ‘আমি কি হিন্দু’ বা ‘আমি কি তাহলে আজ থেকে মুসলমান’ স্ট্যাটাস দিয়ে আবেগের সর্বধর্ম সম্মিলনীতে ষাড়াষড়ি বাণ ডেকে চরম তৃপ্তি লাভ করছেন অবসরে, যেন আগে ওনারা খ্রিষ্টান ছিলেন অথবা তারা যে হিন্দু/মুসলমান সেটা এই প্রথম জেনেছেন। যারা ফেসবুকে নেই তারা কেউ মাঝ ধরছেন, কেউ টিউশনি করাচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন তো কেউ সেলাই এর বুটিক খুলে ভার্চুয়াল দোকান সাজিয়েছেন পরিবারের অন্যের নামে। এ এক দারুন সময়, অখন্ড অবসরের ফাঁকে- মিউচুয়াল ট্র্যান্সফার উইন্ডোটা খুলছেনা কেন বাপু ছাড়া একটা সার্বজনীন ভাবনা- স্যাটের রায়ে প্রাপ্য DA কবে পাবো!

কেউ এটা শুধাচ্ছেনা, বিনা পরিশ্রমে ট্যাক্সের টাকা ধ্বংসে কদ্দিন বেতন নেব? কদ্দিন আর কাজ না করে বসে থাকবো?

ব্যস, এ কথা যেই কেউ শুধাবে সাথে সাথে সে বা তারা ওঁদের গণশত্রু হয়ে যাবে। নীতি, নৈতিকতা, দাবি ও অধিকার কেবল বাকিদের দায়, শিক্ষক সমাজ noble proffession বলে কথা- তাদের আবার নৈতিকতা কি হে! কেউ কেউ আবার এতটাই রেগে যাবেন যে সামনে পেলে কামড়েও দিতে পারেন।

‘কবে স্কুল খুলবে’, ‘…আর ভাল্লাগছেনা’ এমনটা কটা শিক্ষক স্ট্যাটাস দিয়েছে দেখান দেখি? আসলে চূড়ান্ত স্বার্থপর একটা সমাজ, যাদের পেটে কিছু কাগুজে বিদ্যা রয়েছে ঠিকিই- তোতাপাখির মতো, পেশার খাতিরেই তারা শিক্ষক। চাকরি না পেলে ওয়াগান ব্রোকারও হতে পারত অথবা নগরবধূর সালিশ, কিম্বা সমাজ স্বীকৃতি দিলে পকেটমারিতেও এদের নৈতিকতা বোধে আটকাবে না, এতটাই তফাতে চলে গেছেন এনারা মূল সমাজ থেকে। আসলে সুদখোর কাবুলিওয়ালার সাথে এদের পেশাদারিত্ব দায়বদ্ধতা নিজেরাই এক করে ফেলেছে একটা বিন্দুতে এসে, দুটো সম্প্রদায়েরই চোখের পটি আর অবশিষ্ট নেই সম্মিলিত ভাবে। এক আধজন যারা ব্যতিক্রমী তারা শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে এসেই তারা মানবিক ও বিরল ব্যক্তিত্বের। সিংহভাগ শিক্ষকেরই যেখানে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষা নেই সেখানে আগামীকে শেখাবে কে?

আপনারা মানে সরকারি শিক্ষকেরা বেশ আয়েশের মাঝে, সামান্য ভার্চুয়াল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জীবনের একটা সেরা সময় পার করে চলেছেন এটাই একমাত্র সত্য এই করোনাকালে।

কিন্তু কেন্দ্রের সরকার তো কসাই। কসাই পোলট্রি মুরগিকে বা গোয়ালের ছাগলকে এতো খাওয়ায় বা যত্ন নেয়- যাতে সে বসে খেয়ে অল্প দিনের মাঝেই বিপুল স্বাস্থ্য সৌন্দর্য অর্জন করে। শেষে কি হয়? জবাই।

কসাই সরকারের মাথারা যে আপনাদের শিক্ষক সমাজকে খাইয়ে দাইয়ে মগজে এতো পরিমাণ স্থবিরতার চর্বি জমিয়ে দিয়েছে যে আপনারা ভাবনা গত ভাবে অথর্ব হয়ে গেছেন। আসলে এই নিষ্কর্মা ভোঁতা করে রেখে দিয়ে আগামীতে যে জবাই করবেনা আপনাদের- তার গ্যারান্টি কে দিচ্ছে? শিক্ষক মানে তো আপনারা, সমাজের শিক্ষিত মানুষজনের দল, সরকারি বেতনের গাজরের সৌজন্যে আপনাদের সিংহভাগ শিক্ষক সদস্যই রাজনীতিকে ‘স্ত্রীর গুপ্ত প্রেমিক’ বা ততোধিক গর্হিত অপরাধের চোখে দেখেন।

যে সকল শিক্ষকেরা রাজনীতি সচেতন তাদের থেকে আপনারা বাকিরা ছোঁয়াচে দাদ-হাজা-এগজিমা রোগীর থেকে যেমন ছোঁয়াচ বাঁচায় তেমনটা এড়িয়ে চলেন, পাছে লোকে আপনাকে দেখে ফেলে। বর্তমানে সুস্থ রাজনীতি বোধকে আপনারাই আজ এই পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। না নিজেরা চর্চা করেছেন না ছাত্রদের এ বিষয়ে শিখিয়েছেন। রাজনীতি বিষয়ে টুঁ বা রা টুকু কাটেননা। স্বভাবতই গাঁটকাটা, ওয়াগান ব্রোকার, সিঁধেলচোর, ক্লাস টু ফেল বা এই ধরনের নিকৃষ্ট লোকজন আজ রাজনীতির নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণ করছে। একেই বলে নিয়তির প্রতিশোধ, যেমনটি দিয়েছেন তেমনটিই ফিরৎ পাবেন গুণে গুণে। আজকে আমার মত মানুষের সাথে আপনার আর বস্তুগত কোনো ফারাক নেই ডিগ্রিটুকু ছাড়া।

আগামীকাল যদি সত্যিই সরকার বলে- এতো শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মচারীর কি দরকার! কারণ ইতিমধ্যেই কিছু মুর্খ নেতা বলতে শুরু করেছে (a+b)2 এর ফর্মুলা আমাদের কোনো কাজে আসে, বা একজন মানুষের এতো ডিগ্রির কি দরকার, মার্কসীটের প্রয়োজন নেই ইত্যাদি। আগামীতে এরাই- ডারউইন শিখে কি লাভ! মানুষ তো ঈশ্বরের সৃষ্টি। সালোকসংশ্লেষ মাস্টারমশাই অপ্রয়োজনীয় কারণ এই সংজ্ঞা তো আমাদের জীবনে কোনো কাজে আসে না। কিম্বা ধরুন পামীর মালভুমি বা আন্দিজ পর্বত সম্বন্ধে জেনে কি লাভ সেখানে কি আপনি যাবেন কখনও এই প্রশ্ন তোলে! অথবা ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন নেই সকলের- ইত্যাদি।

অতএব এক ধাক্কায় শিক্ষক সংখ্যা অর্ধেক করে দিতে ১০ মিনিটের জন্য সংসদের মাইক মিউট করে রাখাই যথেষ্ট। এই সপ্তাহেই ২ দিনে বিরোধী শূন্য সংসদে ১৫টা গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে কোনো এথিক্সের তোয়াক্কা না করেই। সুতরাং বরখাস্ত হওয়া প্রাক্তন শিক্ষকেরা সেদিন আন্দোলনে নামবেন যাদের সদ্য চাকরি গেছে, কিন্তু আপনাদের পাশে সেভাবে কাউকে পাবেননা, কারণ অন্যদের দুঃসময়ে আপনারা কারো পাশে দাঁড়াননি। সেদিন বুঝবেন একটা অশিক্ষিত উন্মাদ রাষ্ট্রনেতাদের দল আসলে আপনাদের মাঝে আদর্শহীন আত্মকেন্দ্রিকতার ফসলের চাষ করিয়ে কৌশলে সমাজের ইউনিটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, এবং সমাজ থেকে আসলেই আপনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

অতএব সাধু সাবধান। এখনও সময় আছে, পথে যেতে না পারলেও আওয়াজ তুলুন যতটা আপনার সাধ্য, অন্তত মুখটা হাঁ তো করুন, সমাজের মাঝে লড়াই করা মানুষগুলোকে ভরসা দিন যে আপনারাও তাদের সাথে রয়েছেন। এটুকুই তো চায় সমাজ।

মনে রাখবেন এই কেন্দ্ররাজ্য সরকারদ্বয় একটাও নতুন কোনো সরকারি স্কুল তৈরি করেনি, উপরন্তু নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া এক প্রকার বন্ধই রেখেছে। আপনারা শিক্ষিত, কিন্তু বাস্তব জ্ঞানের প্রয়োগ বিধির অভাবে কতো বড় ভয়ঙ্কর বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সেটার অনুমানই করতে পারেননি।

চাল-ডাল-আলু পেঁয়াজ যদি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে তাহলে সরকারি স্কুল শিক্ষকও একটা কলমের খোঁচায় অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়াটা কোনো কষ্ট কল্পনা নয় অন্তত আজকের পরিস্থিতিতে। কর্পোরেট সংস্থার সাথে সরকারের অবৈধ প্রণয় আজ স্বীকৃত, তাই মুনাফার লক্ষ্যে শিক্ষার বেসরকারি করণের পদক্ষেপ হিসাবে- গণহারে শিক্ষক ছাঁটাই অভিযান শুরু হওয়াটা কোনো অলীক কল্পনা নয়। এ ক্ষেত্রে এখনই যদিনা আপনারা আপনাদের কর্মস্থল স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলার জন্য আন্দোলন শুরু না করেন তাহলে আপনাদের কর্মজীবনের ভবিষ্যতে ঘোর অমানিশা অপেক্ষা করছে।

আপনারা স্যার/ম্যাডাম শিক্ষিত সমাজ, এ নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। আপনারা কারোর জন্য কোনো প্রতিবাদ করেননা সম্মিলিতভাবে, তথা আপনারা স্বার্থপর সেটাও স্বীকৃত। এবারে তো আপনাদের নিজেদের গলা’ই হাঁড়িকাঠে চড়তে চলেছে, আমরা অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিতেরা সেটা আঁচ করতে পারছি, আপনারাও তলিয়ে দেখুন এবং সেই মতো অবস্থান নিন। আমার অন্তত বিশ্বাস আছে যে চেষ্টা করলেই আপনারাও বুঝতে পারবেন গোটা বিষয়টা।

আমার এই প্রতিবেদন যদি ভিত্তিহীন হয় তাহলেও আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি নেই, সত্য হলেও ক্ষতি নেই, তাই আমাকে নিয়ে ট্রল, জোকস, বানানভুল ধরতে ধরতেই একটিবার ভেবে দেখুন- কাল সকালে আপনার সাধের চাকরিটি আর নেই- না মাঠে খাটতে জানেন না পারেন ব্যবসা। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে বাঁচাটাও শেখেননি, যেখানে আপনার দুর্দিনে পাশে পাশে কাউকে পাবে এমন শঙ্কাও ক্ষীন। অন্তত নিজের জন্য ভেবে ১% ভয় পেলেও অন্য অত্যাচারিতদের পক্ষে আওয়াজ তুলুন, তাদের পাশে দাঁড়ান। স্কুল খোলার জন্য আন্দোলন করুন, শিক্ষা দিন, সমাজ করে তুলুন- কারণ আপনারাই শিক্ষিত সমাজ, আপনারাই শিক্ষক।

নতুবা আপনি চরম একা আছেন, আরো একা হয়ে যাবেন। আত্মহত্যা করার জন্য দড়ি বা বিষ কেনার জন্য না আবার লোন করতে হয়।

ভালো থাকবেন।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...