রবিবার, ১৬ মে, ২০২১

CPIM পার্টির প্রচার পলিশিঃ পর্ব- ২



কী কী হতে পারত, যা হয়নি

পর্ব- ২

বিখ্যাত দার্শনিক ও সমাজ বিজ্ঞানী ‘নোয়াম চমস্কির’ একটা উক্তি আছে। “The general population doesn't know what's happening, and it doesn't even know that it doesn't know.”
বারে বারে ব্যর্থ নেতারাও চমস্কি পড়েন তাই বাণীটা জানেন, আর এটারই সফল প্রয়োগ করে একটা কল্পিত গোলকধাঁধার মাঝে সাধারণ কর্মী সমর্থকদের ভাবনাকে বিপথে চালিত করছেন। প্রায় সকল আম সমর্থকেরা সত্যিই জানে না অন্দরে কী ঘটছে, আর এটাও জানে না যে- তারা জানে না। তাই নেতা কিছু লিখেছে বা বলেছে মানেই সেটাকে ধ্রুব সত্য ভেবে, বিবিধ বিশেষণে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যান।
সমালোচনা ও আত্মসমালোচনা করার কথা নেতারা বলেন না তা নয়, এক্ষেত্রে আত্মসমালোচনার সংজ্ঞা হচ্ছে- ‘যাবতীয় সমালোচনা আত্মার মাঝেই সংরক্ষিত রইবে, আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ জানবে না’। আত্মসমালোচনার মুণ্ডুচ্ছেদে, আত্ম-হারা হয়ে ‘সমালোচনা’ দিনের আলো দেখলেই- দলবেঁধে রে রে করে তেড়ে নেমে পড়ে আগের পর্বে উল্লেখিত ‘খোঁজার’ দল। অথচ এনারা ভোট প্রচারের সময় এই দলবেঁধে একাত্ববোধটা দেখাননি, বিকল্পের কথাটা শুধু মুখেই বলেন, তার ফলিত প্রয়োগ নেই- মানুষ কী দেখে কেন আকৃষ্ট হবে? ফাঁপা বজ্রগর্ভ বুলি শুনে নাকি দুর্বোধ্য তাত্ত্বিক কচকচানি শুনে?
কী হবে সেই বিকল্প প্রচার কৌশল? সেটা আমি বা আমার মতো কোনো কলমচি ঠিক করে দেবে না বা দিতে পারে না, এটা কোনো একক কাজ নয়। এর জন্য আলাদা আলাদা ক্ষেত্র আছে, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্দিষ্টভাবে যোগ্যতা সম্পন্ন মেধা প্রয়োজন, যারা টিম হিসাবে কাজটা এগিয়ে নিয়ে যাবে, এবং মূল পার্টিকে পুষ্ট করবে- যেমন শাখা নদী মূল নদীকে জল যোগান দেয়। পার্টিতে মেধার কোনো ঘাটতি নেই, আর যদি না থাকে তাহলে বামমনস্ক শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের মধ্য হতে মেধা ‘হায়ার’ করতে হবে। কমরেড জ্যোতি বসু কি অশোক মিত্রকে আনেননি? পার্টি মেম্বার হওয়ার আগেই কি মন্ত্রীসভার জন্য কমরেড অসীম দাসগুপ্ত মনোনীত হননি? কাজে পেশাদারিত্ব চাইলে তো পেশাদার মানুষদের নিয়োগ দিতে হবে।
মোদ্দা কথা হলো- সফল হওয়ার বাসনা থাকতে হবে, তারপর তো সফলতা। দক্ষিণপন্থী দলগুলোর দ্বারা অত্যাচারিত নিপীড়িত মানুষ, ধরেবেঁধে আমাদের ক্ষমতার চেয়ারে বসিয়ে দেবে এমন ‘খেয়ালি পোলাও’ মার্কা ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে গেলেও- ভাবনাতে তাজা রক্ত চাই। প্রত্যয়ী আত্মবিশ্বাসের অভাব নিয়ে যুদ্ধ লড়া যায়নি, যাবেও না- জেতা তো দূর অস্ত।
এককালে বাংলার ঘরে ঘরে ‘মায়ের দয়া’ নামে ছোঁয়াচে রোগ হতো, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় জলবসন্ত বা চিকেন পক্স বলে। ‘ভেরিসলা জোস্টার’ নামের অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস এই রোগের জন্য দায়ী। পার্টির প্রচার মাধ্যম ‘বাপের দয়া’ নামের এক মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাল রোগে আক্রান্ত, ভাইরাসের নাম প্রায় সকলেই জানে তাই উল্লেখ করা বাহুল্যতা। আর এই ভাইরাসেরা, রোগ নির্মূলকারী ওষুধ প্রয়োগের আগেই- শুধু প্রেসক্রিপশন দেখেই ভয় খাবে না তো কারা খাবে? এখনও তো ভ্যাক্সিন আসেনি, আসলে এরা তুড়ুক নাচ নাচবে ছটপটিয়ে। অতএব, যতক্ষণ না এই ভাইরাসগুলোকে স্যানিটাইজেশন দ্বারা নিকেশ করে সেটিংপন্থী নেতাদের ভ্যাক্সিন দেওয়া যাবে, তদ্দিন পার্টির রোগ মুক্তি নেই।
অথচ আধুনিক প্রচার কোনো কোয়ান্টাম ফিজিক্স নয়, সিম্পল সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মেধার মিথষ্ক্রিয়া ঘটিয়ে, মানুষের চাহিদা বুঝে- তা সংবেদনশীলতার সাথে গোপনে সমাজে প্রয়োগ করার নাম সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এটা কোনো একক ব্যক্তির সর্বজ্ঞ সেজে আঁতলামো মারার বিষয় নয়। কেরালা সফল প্রয়োগ করেছে, ফলও পেয়েছে। গত লোকসভায় ১টা আসন জেতা দল, বিধানসভায় স্বমহিমায় ফিরেছে। এটা একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টার নাম, যেখানে মেধা, পড়াশোনা, তথ্য-নমুনা সংগ্রহ, সমীক্ষা, অনুশীলন, পর্যালোচনা ইত্যাদি গুলোর সমন্বয় ঘটাতে পারলে তবেই সিদ্ধান্তে আসা যায়, যেটা শ্রেণী সমাজের মনস্তাত্ত্বিক স্তরে ভীষণ ক্রিয়াশীল হয়।
এর জন্য বিশেষ কোনো খরচারও প্রয়োজন নেই, কারণ পার্টিতে দক্ষ কর্মীর অভাব নেই যারা বিনামূল্যে শ্রম দেবে, দরকার শুধু সিস্টেম্যাটিক পরিকল্পনা আর তার বিশ্বাসঘাতকতাহীন রূপায়ন। ২০২১ নির্বাচনের প্রচার কৌশলে কী কী ছিল না সেটা সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আর নেতৃত্বেরা জানেন, কিন্তু কী কী দরকার ছিল সেটা পাঠিয়ে দিয়েছি জায়গা মতো, যাদের পাঠানো দরকার।
যারা আইনসভায় নীতি নির্ধারণ করবে দলের পক্ষে, সেখানে একদল প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী থাকাটা বাধ্যতামূলক, আইন না জানলে সবই তো ফক্কা। দলের একমাত্র সাংসদ, বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য রয়েছেন, কিন্তু ২০২১ বিধানসভায় দলের স্টার ক্যাম্পেনার তালিকাতে তার নাম ছিল না, সেভাবে মিটিং মিছিলেও দেখা যায়নি রিয়ালিটি বা ভার্চুয়াল জগতে। ওনার মতো অভিজ্ঞ সুবক্তাকে দল পেল না, এটা অনভিপ্রেত।
দুটো প্রজন্ম আগের নেতাদের সকলেই টেকনোলোজিতে দুরস্ত আপডেট হবেন এটা ভাবাটা বোকামি, তারা রাজনীতিটা বুঝলেই হবে। দলের নেতারা দল চালাবেন, দলীয় নীতি-নিয়ম ঠিক করবেন, তারা রাজনীতি করবেন, সরকারের বিরোধিতা করবেন যুক্তি দিয়ে, ক্ষমতায় গেলে প্রশাসক হবেন। এই তো কাজ।
প্রচারের দল ব্যাক অফিসে কাজ করবে, নেতাকে মুহুর্মুহ অ্যাসিস্ট করবে, নিতান্ত প্রয়োজনে প্রকাশ্যে আসবে। ব্যাক অফিসের মূল কাজ- বিভিন্ন ডেটা সংশ্লেষ-বিশ্লেষণ করে নেতাদের কাছে নিয়মিত পরিপূর্ণ সত্য তথ্যের যোগান দিয়ে আপডেট রাখবে। নেতাদের বক্তব্য, দলের নীতি মানুষের কাছে সহজে সহজ ভাষায় পৌঁছে দেবে। সুতরাং এইগুলো মাথায় রেখেই প্রচার দলের ব্যাক অফিস সাজাবার দরকার ছিল।
আমরা ২০১৩ থেকে জানি বিজেপির IT Cell রয়েছে, ২০১৯ এ রাজ্যে PK এর i-pac রাজ্যে এসেছিল ঢাকঢোল পিটিয়ে, তৃণমূলের পক্ষে। এরা তো কোনো ব্যক্তি নয়, এরা তো বিশাল একটা সংগঠিত টিম। পার্টি তো জানত- প্রচার দলকে লড়তে হবে এই দুই অসম পুঁজিবাদী ভাড়াটে কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে। রাজ্য তথা দেশজুড়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্যা পার্টিকর্মী ও সমর্থকদের উন্নততর মেধাগুলির সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকল্প কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরা বা বিকল্প কোনো পরিকল্পনা নিয়ে PK ও অমিত মালব্যের টিমকে প্রতিহত করার কোনো সদিচ্ছা ছিল না রাজ্য সিপিএম ডিজিটালের। অথচ এটা কেরল ডিজিটাল করে দেখিয়ে বিজেপিকে শূন্য করে ছেড়েছে। আমাদের রাজ্যের ডিজিটালের এই অনিচ্ছাটাকেই পার্টি দরদী মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছে৷
PK মাত্র ২ বছর আগে দায়িত্ব পেয়ে তার সাফল্য দেখিয়ে গেল, যে এর আগে বাংলার নাড়ি-নক্ষত্রের কিছুই জানত না। সে অবশ্যই বিপুল টাকা নিয়ে তার কায়দায়ে খেলে গেল, আর আমাদের নারায়ণী সেনা শুধু লবিবাজি করে, কাঠি করে, নজরদারি করে, দাদাগিরি করে- যোগ্য লোকেদের তাড়িয়ে একটা ক্ষুদ্র বৃত্তের মাঝে নিজেদের ঢুকিয়ে, একে অন্যের পিঠ চুলকে তুরীয় সুখলাভ করল- এটাও প্রতিভা বৈকি।
PK আমাদের দলের বহু তৎকালীন MLA, অভিজ্ঞ সংগঠকের কাছে ঘুষের ঝোলা নিয়ে গেছিল দল পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু সেই আদর্শবাদী কমরেডরা সব নামধাম ফাঁস করে দিয়েছিল। এগুলো আনন্দবাজার ও তাদের এবিপি সহ সকল প্রথম শ্রেণীর মিডিয়াতে, সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ পেলেও- কিন্তু রাজ্য ডিজিটালের পক্ষ থেকে এই MLA বা সংগঠক কমরেডদের কারও সাক্ষাৎকার নিয়ে বাকিদের সাবধান করেনি। PK এর modus operandi কাউকে অবহিত করেনি রাজ্য ডিজিটাল টিম। কেন? কাকে সুবিধা দিতে? কী লুকাতে?
রাজ্য ডিজিটালের কর্তাব্যক্তিরা এই ভোটে ‘হিন্দু-মুসলমান’ বাইনারির গল্প ফেঁদে ব্যর্থতা লুকাবার চেষ্টা করছেন, অথচ আমাদের রাজ্যে যদি ২৭% মুসলমানের বাস হয়, কেরলেও ২৬.৫৬% মুসলমানের বাস ২০১১ জনগণনা অনুসারে। সেই রাজ্যেও বিজেপি কোটি কোটি টাকা ঢেলেছিল প্রচারে, অন্য দল কংগ্রেসও তাই। মাত্র ২ বছর আগেই কংগ্রেস ১৫টি আসন পেয়েছিল। কিন্তু ২ তারিখের ফলাফলে দেখা গেল- কেরলে বিজেপি খাতা খুলতে পারেনি আর পশ্চিমবঙ্গে আমরা খাতা খুলতে পারিনি। দল তো একটা, পলিটব্যুরোও একটা, কেন্দ্রীয় ডিজিটালের পলিসিও একটাই, তাহলে তারা সেম ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে সফল হলো, আর আমাদের বঙ্গীয় রিংটালের দল- কেউ প্রশ্ন যাতে তুলতে না পারে তার জন্য দল, উপদল, তস্য দল পাকিয়ে গাব জ্বাল দিচ্ছে।
বিপক্ষের কী কী ছিল তা আমরা সব জানতাম, তাহলে আমাদের যা যা নেই সেগুলো নিয়ে ডিজিটালের কে কী পরিকল্পনা করেছিল? কোন অত্যাধুনিক মিডিয়া দল তৈরি করেছিল? আর সেটা তৈরি করে থাকলে তারা কী কী কাজ করেছিল? কোন কোন সেক্টারে করেছিল? কী তাদের পদ্ধতি ছিল? তারা যারা কর্মকর্তারা ছিল, তারা কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে চেয়ারে বসেছিল?
বিধানসভা ভোটের নিরিখে যে প্রশ্নগুলো আগামী পার্টি সম্মেলনে উঠবেই-
১) নবীন বা প্রবীন কোনো প্রার্থীদের নিয়ে কোনো কেন্দ্রীয় ওয়ার্কশপ হয়নি কেন?
২) পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা নেতাদের প্রায় সকলেই, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত গুটিকয়েক কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও যায়নি, কার স্বার্থে যাননি?
৩) আমরা জানতাম আমাদের অর্থ নেই, অথচ প্রথম দফার ৩০ প্রার্থীর এক জনের জন্যও ক্রাউড ফান্ডিং এর আবেদন করা হয়নি। এটা শুরু হয় দ্বিতীয় দফায়- ১৭ই মার্চ গভীর রাত্রে রাজ্য সম্পাদকের পেজ থেকে জানা যায়। মাত্র ১২ দিন সময় পেয়েছিল দ্বিতীয় দফার প্রার্থীরা। শুধু তাই নয় সব প্রার্থীরা এই সুযোগ পায়নি, কারণ তারা কেউ আবেদনও করেনি। কেন এই বেসিক ব্যাপারে দু’মাস আগে থেকে এসবের প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি? কার স্বার্থে?
৪) বহু প্রার্থীর ‘ভোট একাউন্ট’ খোলা হয়েছিল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে, যার IFS কোডের মাথামুণ্ডু নেই, বহু মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরে ঘুরেও টাকাই দিতে পারেনি। কারও কোনো গুগুল পে বা ভার্চুয়াল পেমেন্ট সিস্টেম ছিল না ২৪শে মার্চ অবধি। কোথায় দলের তরফে ‘ডিজিটাল’ এগুলো রেডি করে পাঠিয়ে দেবে, তার বদলে, এ বিষয়ে দলের অনুমতি সংগ্রহ করতেই কালঘাম ছুটেছিল প্রার্থী বা তার এজেন্টদের। ডিজিটাল কি চারটে পোস্টার বানিয়ে ফেসবুকে ‘গ্রুপ গ্রুপ’ খেলার জন্য ছিল? কেন এগুলো করা হয়নি?
৫) বহু কেন্দ্র ছিল সন্ত্রাসকবলিত ভয়ানক উত্তেজনাপ্রবণ। নির্দিষ্ট বিধানসভার প্রতিটা বুথই উত্তেজনাপ্রবণ হয় না, কিন্তু কোন বুথ উত্তেজনাপ্রবণ, কোন বুথ অধিক উত্তেজনাপ্রবণ- তার তথ্য সহ বুথের চরিত্রের তালিকা নতুন প্রার্থীদের কাছে ছিল না। খুব অভিজ্ঞ প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশ এরিয়া কমিটি বা প্রার্থী নিজে, ভোটের ৪ দিন আগে এ সংক্রান্ত তথ্য জানত না। অথচ রাজ্য ডিজিটাল এই তথ্য শুরু থেকেই পাঠিয়ে দিতে পারত, সেই মতো স্থানীয় স্তরে বুথ ধরে ধরে প্রচার কৌশল সাজানো যেত, যা করা যায়নি।
৬) কীভাবে ‘সুবিধা অ্যাপ’ থেকে পার্মিশন নিতে হয়, ভোটের ১০ দিন আগেও অনেক এরিয়া কমিটির প্রবীন সদস্যেরা জানতেন না। তাদের পক্ষে আধুনিক প্রযুক্তি জানাও সম্ভব নয়। নতুন প্রার্থীদের অনেকেই জানত না আদৌ এভাবে পার্মিশন নিতে হয় নির্বাচন কমিশন থেকে। কোনো তরুণ কম্পিউটার জানা ছেলেকেও দায়িত্ব দিয়ে পাঠায়নি ডিজিটাল, এমনকি তাদের কোনো লিখিত নির্দেশিকা বা গাইডলাইন পর্যন্ত ছিল না যে, সুবিধা অ্যাপ কী ও কীভাবে এর ব্যবহার করতে হয়! ফলত বহু ক্ষেত্রে সময়ে সভা-মিছিলের পার্মিশন পাওয়া যায়নি। যে বিধানসভা ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, বিশেষ করে গ্রাম বাংলার বিধানসভার কেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীরা নিজের প্রচেষ্টাতে উপযুক্ত লোকজন যোগাড় করে ঠেকা দেওয়া কাজ চালিয়েছে, ঠকে শিখে।
৭) প্রচারের প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে কমিশনের এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভারের যে সম্পর্ক আছে সেটাই জানত না অধিকাংশ জন নতুন প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট। কারণ প্রচারের দায়িত্বে থাকা ডিজিটালই রিংটাল হয়ে বসেছিল।
৮) কীভাবে নির্বাচন কমিশনে কমপ্লেন করতে হয় সেটা অতি অভিজ্ঞ প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশই জানত না। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া জুড়ে যে ভুরি ভুরি অভিযোগ ছিল, তার অধিকাংশ সঠিকভাবে জমাই হয়নি কমিশনে- নিষ্পত্তি তো দূরস্থান। কতগুলো কমপ্লেন সিপিএম পার্টির তরফে আদতে হয়েছিল সে তো কমিশনের সাইটে গেলে এখনই খুঁজে পাওয়া যাবে। রাজ্য ডিজিটাল কোনো ধরনের সহযোগিতা পাঠায়নি বিধানসভাগুলোতে, সবই স্থানীয় লেভেলে দায়ে পড়ে শিখে ম্যানেজ করেছিল।
৯) কীভাবে মাইক ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে গাড়ির পার্মিশন করাতে হয়, কোথায় হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করা যায়, নির্বাচনী কেন্দ্রের সবচেয়ে এফেক্টিভ ইম্পর্টেন্ট পয়েন্ট, যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে ছোঁয়া যায়- তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না ডিজিটালের। কোথায় হেঁটে মিছিল, কোথায় বাইক মিছিল, কোথায় সাইকেল মিছিল, কোথায় বড় রোড শো, কোথায় পথসভা কোথায় জনসভা- এসব নিয়ে বিধানসভা ধরে ধরে সংগঠকদের সাথে কোনো মিটিং করেনি ডিজিটাল। এরা বিধানসভাগুলোর ম্যাপটুকুই জানত কিনা সন্দেহ।
১০) প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের চরিত্র আলাদা, সেইমতো প্রচারও আলাদা হবে। ৮ দফার ম্যারাথন নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিল, ক্রমাগত ইস্যু বদলেছে। বিরোধীদের কৌশল বদলেছে। আমাদেরকেও সেইভাবে বদলাতে হতো। ব্রাঞ্চ কমিটি, এরিয়া কমিটি বা জেলা কমিটিকে এই বিষয়ে ডিজিটাল কোনো অফিশিয়ালি ডেটা দেয়নি। এমনকি প্রার্থীদের বক্তব্যের জন্য এক লাইনও নোটস পাঠায়নি ডিজিটাল। পরিকল্পনা করে সময় নষ্ট করেছিল রাজ্য ডিজিটাল।
১১) এই ভোটে দুটো ইস্যু ছিল, এক দল ভোটারের মনোভাব ছিল- তৃণমূলকে বামেরা ঠেকাতে পারবে না, তাই বিজেপিকে চাই। অন্য দলটার মনোভাব ছিল- বিজেপি চলে এলে রাজ্যের সর্বনাশ, বামেরা পারবে না, তাই তৃণমূলকেই রাখতে হবে। এই ইস্যুকে প্রকট করার জন্য PK দায়িত্বে এসেই- বিরোধী দলের ব্রাঞ্চ কমিটি অবধি পৌঁছে যাওয়ার অপচেষ্টা করেছিল।
এই ঘোষিত বাইনারি ভাঙতে রাজ্য নেতৃত্বের হাতে কী কী বিকল্প পরিকল্পনা তুলে দিয়েছিল রাজ্য ডিজিটাল? কী কী প্রচার কৌশল নেওয়া হয়েছিল তাদের তরফে? তার কোথায় কতটা রূপায়ন হয়েছিল? এটাই তো ছিল প্রচার দলের মূল কাজ। প্যারালাল উপদল তৈরি করে কিছু চাটুকার জন্ম দেওয়া ছাড়া, ডিজিটাল কিচ্ছু করেনি।
১২) যে বুথে এজেন্ট এর অভাব সেখানে বুথ ও অক্সিলিয়ারি বুথ দুটোকে কেমন ভাবে সামাল দেওয়া যায় সেই ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
১৩) ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন পোলিং এজেন্ট নিয়ে নতুন নিয়ম আসে কমিশনের তরফে। একই বিধানসভার যেকোনো অংশের ভোটার যেকোনো বুথে বসতে পারত। অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকায় এই নিয়ম সম্বন্ধে কোনো আপডেট দেয়নি প্রচারের দায়িত্বে থাকা ডিজিটাল। হাতে লড়াকু কর্মী থাকা স্বত্ত্বেও বহু বুথ ফাঁকা রয়ে গেছিল।
১৪) উপদ্রুত অঞ্চলের প্রার্থী অতিরিক্ত সিকিউরিটি কীভাবে পাবে, নির্বাচনের ২ দিন আগে কেউ কোথাও সহায়তা পায়নি ডিজিটাল পক্ষ থেকে।
১৫) বুথে বুথে কত জন বয়স্ক মানুষ, যারা ঘরে বসে ভোট দেবে কোন প্রার্থী জানত? এটা তো অফিসে বসে কমিশনের সাইট থেকেই জেনে নিয়ে প্রার্থীকে বলে দেওয়া যেত। কেন করেনি?
১৬) কেউ কি ভোটার লিস্ট নিয়ে- সেন্ট্রালি কন্ট্রোলাইজড অ্যানালিসিস করেছিল বিধানসভা ধরে ধরে? আমি তো ঘরে বসে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ২৫১ নং তালডাংড়া বিধানসভার ৯৮ নং বুথে বিজেপি ৩৬৭টা ভোট পেয়ে লিড করছে। ১৮৪ ডোমজুড় বিধানসভার ১৭৮ নং বুথে সিপিএম ৯৫টা ভোট পেয়েছে, ১৪৯ কসবা বিধানসভার ১২৩ নং বুথে সিপিএম ১১০টা ভোট পেয়েছে, ৭২ বহরমপুর বিধানসভার ২২ নং বুথে বিজেপি ৩১০ ভোটে লিড করছে, ১৯৫ জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার ৯২ নং বুথে বিজেপি ১৬০টা ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ চাইলেই করা যায়। তাহলে গত বিধানসভার বুথ ধরে ধরে প্রার্থীদের কাছে ‘ছাত্রবন্ধু’ সাপ্লাই দেয়নি কেন ডিজিটাল?
১৭) নির্বাচনের আগের দিন রাতে থেকে ভয় দেখানো, টাকা-মদ-মাংস বিলানো চলবে এটা জানা কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা করবে সেটাও জানা কথা। এসবের বিরুদ্ধে লড়ে জয় আনতে কীভাবে- কুইক রেসপন্স টিমকে কেমন করে ব্যবহার করতে হয় তা নিয়ে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত অধিকাংশ জনকে জানায়নি রাজ্য ডিজিটাল। না কোনও প্রশিক্ষিত কর্মীকে বিধানসভা ধরে ধরে স্থানীয় এরিয়া কমিটির কাউকে প্রশিক্ষণ দিতে পাঠিয়েছিল। ভোটের দিন বুথ জ্যাম, ভয় দেখানো ইত্যাদি দেখলে কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেমন করে ব্যবহার করতে হয় সে ব্যাপারে কোনো গাইডলাইন ছিল না। সিংহভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী ওয়ার রুমটুকু ছিল না, যাদের ছিল সেটা প্রার্থীর নিজের বা এরিয়া কমিটির ক্যারিস্মাতে। ডিজিটালের কিছু ছিল না। আসলে দু’কান কাটাদের লজ্জা নেই তারা গাঁয়ের মাঝখান দিয়ে যায়। স্বভাবতই, এরা আজও FM, হোর্ডিং, ইতিহাস আর পার্টির শৃঙ্খলার নামে গালগল্প শোনাচ্ছে বুক ফুলিয়ে।
১৮) লড়াই এর ময়দানে কোন অস্ত্রগুলো ছিল যা রাজ্য ডিজিটালের তরফে প্রার্থীরা পেয়েছিল?
১৯) একটা প্রার্থীরও পেজ বানিয়ে সেটাকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হয়নি। মহঃ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীর মতো বড় নেতাদের নিজেদেরই পেজ আছে যেগুলো ডিজিটাল মেনটেন করে না। শতরূপ ঘোষের মতো তরুণ নেতারা নিজের প্রচার নিজেরাই করে। বাকি মীনাক্ষী বা দীপ্সিতার নামে যে পেজগুলো জনপ্রিয় সেগুলোর একটার পিছনেও ডিজিটালের ন্যুনতম অবদান নেই। অথচ ডিজিটাল হাঁসজারু নাম দিয়ে যে ফেসবুক পেজগুলো বানিয়েছিল, সেগুলোর দুরাবস্থা নিজেরাই দেখে নিন- পেজগুলো সব আছে।
নতুবা কান্তি গাঙ্গুলীর মতো প্রবীন নেতাকে নির্বাচন চলাকালীন নিজের ফেসবুক আইডি থেকে- তার ও দলের হয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের জন্য আবেদন করতে হয় জনগণের উদ্দেশ্যে? বুঝে দেখুন এই অপদার্থরা ডিজিটাল না রিংটাল ছিল! কান্তি বাবু আপনি সম্মেলনে শুধাবেন না?
২০) প্রার্থী ও প্রার্থীর এজেন্ট সারাদিন মাটিতে চষে বেড়ায়, আধুনিক প্রচারে প্রতিটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোট ম্যানেজার থাকে, যারা ভোটটা করান অফিসে বসে- কারা ছিল ডিজিটালের তরফে?
২১) স্ক্রুটিনি রিপোর্টে পার্টির কাছে কী তথ্য ছিল? এর অনেকগুলো ধাপ ছিল, ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড ইত্যাদি। একসময় নেতারা এই রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করেই তো পলিসি ও প্রচার কৌশল ঠিক করতেন। স্ক্রুটিনি সিস্টেম আছে নাকি উঠে গেছে? থাকলেও যারা স্ক্রুটিনি করেছিল তারা ভুলভাল মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছিল কেন, তারা কি এই ডিজিটালের অংশ?
২২) যেসব তরুণ-তরুণী কমরেডরা বুথে এজেন্ট হিসেবে বসেছিলেন তারা অনেকেই অনভিজ্ঞ। অনেকেই প্রথমবার বুথ এজেন্ট হয়েছিল। ভোটের নিয়মকানুন সম্পর্কে রাজ্য থেকে কোনো নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল কাগজে বা হোয়াটসএ্যাপে? চ্যালেঞ্জ ভোট কি জানত? কখন চ্যালেঞ্জ করতে হয়? কখন টেন্ডার ভোট করাতে বলতে হয় এসব বুঝিয়েছিলেন কেউ? বহু বুথে তৃণমূলের ফলস ভোটার বুঝতে পেরেও তারা নিয়মগুলি না জানার জন্য এলোমেলো প্রতিবাদ করেও লাভ তুলতে পারেনি। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি আমাদের বর্ধমান শহরের বহু বুথে শাসক দলের বহু ‘হুব্বা’ আঙুলে ‘বোরোলিন’ লাগিয়ে তার উপরে লাগানো ভোটের কালি মুছে একাধিক বার ভোট দিয়েছে।
এমন অনেক অনেক জ্বলন্ত সমস্যা ছিল। যেগুলো চাইলেই মিটিয়ে একটা কমপ্যক্ট লড়াই দেওয়া যেত, হারজিতের ব্যাপার তো লেগেই থাকত।
উপরের ২২ দফা অতীব প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কোন ইউটিউব লাগত? কোন FM লাগত? কোন হোর্ডিং লাগত? কোন চাটার্ড ফ্লাইট লাগত? কোন টিভি মিডিয়া বা প্রিন্ট মিডিয়া লাগত? লাগত ইলেক্টোরাল বণ্ড বা গরু পাচারের অবৈধ টাকা? উপরোক্ত ২২ দফাতে কোথায় লক্ষ কোটি খরচের স্কোপ আছে? তৃণমূল বিজেপি টাকা খরচা করেছে সত্য, সাথে সাথে এগুলও যে তারা করেছিল সেই খবরটা জনগণের থেকে চেপে গেছে সাবালকত্বের ডিগ্রীধারীরা। যারা ‘অ্যাপোলোজেটিক, শুষ্ক সিম্প্যাথি’শব্দবন্ধ দিয়ে নিজেদের ইচ্ছাকৃত ব্যার্থতাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে, তারা অযোগ্যতম, কারন তারা নিকৃষ্ট স্বজনপোষণের ফসল।
যতই সিপিএম-এর দুর্বলতা থাকুক, সাংগঠনিক ত্রুটি থাকুক- এগুলো করার জন্য যা আছে সেটাই যথেষ্ট ছিল। এগুলোর জন্য ইতিহাস নয়, যোগ্যতা লাগত। পরিকল্পনা লাগত। লাগত বিশ্বাসঘাতাহীন রূপায়ন।
আসলে প্রতিপক্ষ আমাদেরকে প্রচার পরিকল্পনাতেই নক আউট করে দিয়েছিল, ২রা মে’র রেজাল্টে নতুন কীই বা হতে পারত। রাজ্য ডিজিটাল একদম পরিকল্পনা করে দলকে ডুবিয়েছে, তাদের পরিকল্পনাহীনতার জন্য। অনভিজ্ঞ প্রার্থীরা জানলই না কীভাবে নির্বাচন লড়তে হয়।
অথচ, আমাদের পূর্বতন শ্রদ্ধেয় নেতা কমরেড কাকাবাবু ১৯৬৭ বিকল্প মিডিয়ার কথা ভেবেছিলেন, গণশক্তি নামের পাক্ষিক সংবাদপত্রের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে কমরেড সরোজ মুখার্জীর নেতৃত্বে গণশক্তির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একে দৈনিক সংবাদপত্রে রুপান্তরিত করা হয়েছিল যেটা তৎকালীন দেশে আর কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ছিল না, কমরেড অনিল বিশ্বাস তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী ছিলেন। তখন পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিনামূল্যে বোর্ডে টাঙিয়ে গণশক্তি পড়াবার ব্যবস্থা করেছিল তৎকালীন নেতৃত্ব।
চল্লিশের দশক থেকে IPTA ছিল, এদের শাখা হিসাবে গণনাট্য সঙ্ঘ, গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘ, গণসঙ্গীত দল ইত্যাদি সামাজিক সাংস্কৃতিক শাখাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো গেছিল। গত ১০ বছরে পলিসিগতভাবে নতুন কী তৈরি করেছি আমরা? রাজ্য ডিজিটালই বা কোন নতুন ভাবনা এনেছে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, যার দ্বারা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি হরেক আঙ্গিকে !
সমকালীন সময়ে প্রচারে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল আমাদের দল, নেতৃত্ব যুবফ্রন্ট খুলে ফেলেছিলো সেই কালেই, তবে না তারা ক্ষমতায় এসেছিল ও ৩৪ বছর টিকে ছিল।
ফেসপ্যাক মুখের কলঙ্ক ঢেকে দেয়, i-pac কলঙ্ক কীসে ঢাকবে?
সুতরাং, পার্টির আজকের এই লাগাতার দুর্দশার মূল কারণ শুধুই নেতৃত্বের ব্যর্থতা নয়, না অর্থাভাব। মূল অভাব ছিল মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে পরিকল্পনামাফিক বিকল্প প্রচার কৌশলের অভাব। কেরালা বা ত্রিপুরা যা পারে আমরা তার সিকিভাগ পারিনি।
যে কর্মীরা মিছিলে হেঁটেছে, যে কর্মীরা বিরোধীদের অত্যাচারে লড়াই করে টিকে আছে, যে কর্মীরা সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সারাবছর সংগঠন করে, যে কর্মীটি মার খেয়ে দীর্ঘদিন পর হাসপাতালে ছাড়া পেয়েই লাল ঝান্ডাটা নিয়ে পাড়ার ভিতর দিয়ে বাড়ি ফেরে, যে কর্মীটি মুছে দেওয়া দেওয়াল পুনরুদ্ধার করে, যে কর্মীটি ছিঁড়ে দেওয়া ফ্ল্যাগ ফেস্টুন পরম মমতায় তুলে আবার লাগিয়ে দেয়, যে কর্মীরা পার্টির অফিস পুনরুদ্ধার করেছে, যে কর্মীরা জানপ্রাণ দিয়ে বুথ রক্ষা করেছে, যে কর্মীরা শত চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেও কাউন্টিং হলে শেষ অবধি টিকে ছিল, এ পরাজয়ের দায় তাদের নয়।
যে সমর্থকদের দল কিছু পাব না জেনেও শুধু লাল ঝান্ডাকে ভালোবেসে, আদর্শের টানে মিছিলে হাঁটে, ব্রিগেডে আসে, ফেসবুকে সগর্বে নিজেকে বামপন্থী বলে পরিচয় দেয়, বিরোধীদের সাথে নীতির প্রশ্নে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমানে সমানে টক্কর দেয়, এ পরাজয়ের দায় তাদের নয়।
এ দায় প্রচারের দায়িত্বে থাকা রাজ্য ডিজিটালের রিংটাল হত্তাকর্তাদের।
…ক্রমশ

বুধবার, ১২ মে, ২০২১

CPIM পার্টির প্রচার পলিশিঃ পর্ব- ১



কী কী হতে পারত, যা হয়নি


গুরুদেবের গল্পে, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করেছিল, সে জীবিত ছিল।
গত ১১ই মে রাত্রে পার্টির রাজ্য সম্পাদক ফেসবুকে একটা পোস্ট শেয়ার করে অনেকগুলো বিষয় প্রমাণ করলেন, বিধানসভায় শূন্য হবার পর।
প্রথমত, পর্যালোচনা করে পার্টির অফিশিয়াল বিবৃতি আসার আগেই, ওপেন ফোরামে আলোচনা করা যায়- যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্টাইলের সাথে হুবহু মিলে যায়, বলে দেওয়া যায় ওটা ‘ছোট্ট ঘটনা’।
দ্বিতীয়ত- সমালোচনা বরদাস্ত হবে না, এটাও মমতা ব্যানার্জি স্টাইলে কপিপেস্ট।
তৃতীয়ত হারের জন্য কেবলমাত্র অজুহাত দায়ী - নেতৃত্ব নয়, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই নিয়েই এই নিবন্ধ।
যেহেতু খোদ রাজ্য সম্পাদক সহ দিল্লী নিবাসী এক পলিটব্যুরো সদস্য একই লেখা শেয়ার করেছেন, তাহলে এটাকেই আমরা সাধারণ সমর্থকেরা ‘পার্টির প্রাথমিক পর্যালোচনা’বলে পার্টির বক্তব্য হিসাবে ধরে নিতেই পারি।
কতগুলো হিসাবে চোখ বুলিয়ে নিন, তারপর বাকি হিসাবগুলোর বিস্তারিত যাব পরবর্তী পর্বগুলোতে। এটা ফেসবুক, তাই পথম দফাতে শুধু ফেসবুকের হিসাব টুকু দিলাম, গুগুল, ইউটিউব, FM, হোর্ডিং, ইতিহাস, ভূগোল, স্ট্রাটেজি, বিজ্ঞান, AI, এ্যাপ্লিকেশন সহ প্রতিটি গল্পে ঢুকে- ভাঁড়ামিটা চিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টাতে ত্রুটি থাকবেনা, ধৈর্য রাখুন। গল্পের গরুকে গাছ থেকে নামিয়ে গোয়ালের গোঁজে বাঁধার মন্ত্রও সমাজে রয়েছে।
দলের একজন পলিটব্যুরো সদস্যের তত্ত্বাবধানে CPIM Digital নামে শাখা সংগঠন কাজ করে রাজ্যে রাজ্যে। মূলত সিপিএম ৩টে রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বা আছে, কেরালা, ত্রিপুরা ও আমাদের পশ্চিমবঙ্গ। চলুন এই ফেসবুকে পার্টির নামে রাজ্যের পেজগুলোর দিকে একটু চোখ বুলিয়ে নিই।
বাংলা সিপিএম ফেসবুক পেজের লাইক ৩১৩ হাজার, আমাদের ৪২টা লোকসভা আসন।
কেরালা সিপিএম পেজ ৬০৮ হাজার লাইক, তাদের মাত্র ২০টা লোকসভা আসন।
কেরালার Digital এর কাজের হিসাবে আমাদের রাজ্য পেজের লাইক হওয়া উচিত ছিল ১২৭৬ হাজার, সে তুলনাতে মাত্র ২৪% কাজ হয়েছে। আচ্ছা ছেড়ে দিন, সেখানে না হয় পার্টি রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল। ত্রিপুরাতে তো বিরোধী দল আমাদের পার্টি। ত্রিপুরাতে মাত্র ২টো লোকসভা আসন, তাদের রাজ্য পেজে লাইক ১৯০ হাজার, ওই অনুপাতে আমাদের রাজ্য পেজের লাইক হওয়া উচিত ছিল ৩৯৯০ হাজার। ত্রিপুরার ডিজিটালের কর্মদক্ষতার তুলনাতে আমাদের রাজ্যের কর্মদক্ষতা মাত্র ৭.৮৪ শতাংশ।
আগামীতে ত্রিপুরাতে দল ক্ষমতাতে আসবে না তো বাংলাতে আসবে?
চলুন গণসংগঠনের দিকে তাকাই-
DYFI পশ্চিমবঙ্গ যেখানে মাত্র ৪২ হাজার লাইক, সেখানে DYFI কেরালার লাইক ২৫১ হাজার।
SFI কেরালা যেখানে ১৫২ হাজার লাইক, সেখানে SFI পশ্চিমবাংলা মাত্র ৬০ হাজার লাইক।
CITU কেরালা ৩১৬০০ লাইক যেখানে, সেখানে CITU পশ্চিমবঙ্গ মাত্র ২১ হাজার লাইক নিয়ে টিমটিম করছে। মহিলা সমিতি, কৃষকসভা সহ বাকিগুলোর পশ্চিমবঙ্গ পেজ ফেসবুকে আদৌ আছে কিনা জানি না, থাকলেও গোরস্থানের সলতের মতো টিমটিম করে বেঁচে আছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, পলিটব্যুরো থেকে যা সিদ্ধান্ত হয় তা তো সকল রাজ্যের জন্যই প্রযোজ্য, রাজ্য সেটাকে রূপায়ন করে। তাহলে বাকি দুটো রাজ্যের তুলনাতে বাংলার এই দশা কেন? ৩টে রাজ্যেই তো CPIM Digital নামধারীরা কাজ করছে।
বাকি দুই রাজ্য এই ফেসবুক মাধ্যমে এত এগিয়ে যেতে পারলে আমাদের রাজ্যের ডিজিটাল রিংটাল হয়ে পড়ে আছে কেন? দুটো কারণ হতে পারে, এক- স্বজনপোষনের দ্বারা অপদার্থ অযোগ্য লোক বসিয়ে রেখেছে, দুই- পিকে অন্য দুটো রাজ্যে বিশ্বাসঘাতকদের নিয়োগ করতে সফল হয়নি- অথবা দুটোই। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সিপিএম ডিজিটাল সিপিএমের পক্ষে কতটা কাজ করেছে তথ্যে যেমন পরিষ্কার, অন্য দলের হয়ে কতটা কাজ করেছে সেটা ভোটের ফলে পরিষ্কার। মাননীয় রাজ্য সম্পাদক ও মাননীয় পলিটব্যুরো সদস্য শুনতে পাচ্ছেন? উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে রইলে প্রতিপক্ষেরা অন্ধ হয়ে যায় না।
কতগুলো এলোমেলো গোঁজামিল দক্ষিণপন্থী বুর্জোয়া যুক্তিজাল বুনে নিজেদের আড়াল করতে চাওয়ার চেষ্টার ত্রুটি নেই। শুরুতেই ভারী ভারী তথ্য দিয়ে মানুষের ভাবনাকে ডাইভার্ট করে দেওয়ার অনবদ্য প্রয়াসও করা হয়েছে, যাতে কেউ প্রশ্ন না তোলার সুযোগ পায়। তৃণমূল যেমন মেলা-খেলা দিয়ে মাতিয়ে রেখে- আসল সমস্যা থেকে মানুষকে দূরে ও ভুলিয়ে রাখে, বিজেপি সেটাই করে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও গরু রাজনীতির নামে। এরা দুই দলই মানুষকে প্রশ্ন করতে দেয় না।
আধুনা এ রাজ্যের বাম রাজনীতিতেও নিজেদের গদি বাঁচাবার তাগিদে এলোমেলো অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক যুক্তি সাজিয়ে- পার্টিকর্মী ও সমর্থকদের মূল সমস্যা ও আলোচনার জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে ‘অর্থাভাব আর সন্ত্রাসের’ বাইনারি দেখিয়ে। সমস্ত রকমের ত্রুটি-বিচ্যুতি, সেটিং, বিশ্বাসঘাতকতা আর অপদার্থতা ভুলে- সমর্থক আর পার্টিকর্মীরা সারাক্ষণ মেতে থাকবে বাইনারির মধ্যে অজুহাত দিতে, টাকা নেই আর ওখানে সন্ত্রাস। অর্থাৎ ‘আমরা কেউ দায় নেব না’স্পষ্ট করে এই বার্তা দেওয়া, এবং পদও ছাড়ব না তাতে আজকের শূন্য আগামীতে মাইনাস হয়ে গেলে যাক, কুছ পরোয়া নেহি।
এই ধরনের কুযুক্তি যারা সাজায়, তারা মূলত অন্তঃপুরের বাসিন্দা, মাটির সাথে যোগ নাই। আগেকার দিনে রাজা বাদশাদের হারেম পাহারাতে ‘খোঁজা’ নামের একধরণের স্বাস্থ্যবান ক্লীব থাকত, যারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সুরক্ষা দিত। এই খোঁজারা আদতে পুরুষের মতো দেখতে হলেও পুরুষত্বহীন নির্বীজ প্রজাতির- গ্রাম্য চলিত ভাষায় অনেকে হিজড়েও বলে এদের। শিশুবয়সেই এদের শুক্রাশয় কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হতো। আজকে রাজ্য পার্টির অন্তঃপুরবাসীরা ওই ধরনেরই মুষ্টিমেয় কিছু খোঁজা পুষে রেখেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, যাদের শুক্রাশয় কাটার সাথে সাথে মগজটাও বন্ধক রাখা হয়েছে। ভাবনা ও চেতনাতে নির্বীজ এই প্রোটোটাইপ নির্বোধ খোঁজারাই মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতে ওই অন্তঃপুরবাসীদের পক্ষে সমানে লড়ে যায়- যুক্তিহীন বিপ্লবী যোদ্ধা সেজে।
হতাশ কর্মী সমর্থকেরা যখন হারের কারন বোঝার চেষ্টা চালাচ্ছে নিজের মত করে, একটা ধান্দাবাজ শ্রেনী তখন জোর করে ঘাড় ধরে চোখে আঙুল দিয়ে বলছে- একমাত্র ‘রেড ভলেন্টিয়ার’ এর উপরেই কনসেন্ট্রেশন করো, দেখছোনা আনন্দবাবুরা ২৪ঘন্টা দেখাচ্ছে। ভোট পরীক্ষা আমারাই দিয়েছিলাম, শূন্য পাওয়ার ব্যার্থতা দোষের স্ক্রুটিনি বিচার আমরাই বিচার করব, তোমরা কর্মী-সমর্থকেরা কলুর বলদ, খাটার সময় খাটবে, প্রশ্ন কিসের? সম্মেলন আসলে দেখে নেব, ইত্যাদি।
আজ সব বাঁধা উপেক্ষা করে রেড ভলেন্টিয়ার মানুষের সেবা করছে, এটাই সত্য; অথচ এই অজেয় ছাত্রযুবরা গত বছরেও রাস্তাতেই ছিল, লকডাউন, আম্পানের সময় বিবিধ জনকল্যাণমুখী কাজ করে ছিল। সে সকলেরও ছবি ভিডিও সব রয়েছে ফোনের গ্যালারিতে। তাহলে মাত্র ১ মাস আগে ভোটের সময় সেসকলের এমন মরিয়া প্রচার করতে কে মানা করেছিল? যেমনটা আজকে অল আউটে রেড ভলেন্টিয়ার নিয়ে প্রচার হচ্ছে!।
যারা মাটিতে দৌড়াচ্ছে, তারা রাস্তাতেই আছে মানুষের পাশে। কিন্তু রাস্তাহীন অন্তঃপুরবাসী উদ্দেশ্যই হচ্ছে- মাতিয়ে রাখো, যেন প্রশ্ন না তোলার সুযোগ না পায়। তার পরেও কেউ বেফাঁস বলে দিলে শৃঙখলার নামে ভয় দেখিয়ে মুখে সেলোটেপ মেরে দাও। যাতে অপদার্থতা, ব্যার্থতা ও অন্তর্ঘাত নিয়ে প্রশ্ন না উঠে।
আচ্ছা পার্টি কি কারও বাপের সম্পত্তি? উত্তরটা খুব সহজ, সকলের জন্য না হলেও কারও কারও জন্য তো বটেই। যারা নিজের রাজনৈতিক সাবালকত্বের বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেন, বাপের পরিচয় ছাড়া তাদের নিজস্ব যোগ্যতা কী? বাপের ব্যাটা একসময় প্রশংসা অর্থে ব্যবহৃত হতো, এখন গালি হিসাবে চলে। স্বজনপোষণ যেখানে প্রকাশ্য সত্য, অন্তর্ঘাতের সন্দেহ সেখানেই শুরু।
আজ আমরা ৩৪ বছরের সুফল প্রচারণা করি গর্বের সাথে। তাহলে ‘আমরা ভোটের রাজনীতি করি না’ বলে যারা গর্ব অনুভব করি, তারা কি ভোটের রাজনীতি করে ক্ষমতায় থাকা ৩৪ বছরকে অস্বীকার করে? যেদিন থেকে পার্টির হাত থেকে রাজ্যের সংসদীয় ক্ষমতা খোয়া গেছে, সেদিন থেকেই সংগঠন রুগ্ন হতে শুরু হয়েছে। যত বড় সংগঠন, তত বেশি মানুষের পাশে থাকা। মূল লক্ষ্য তো রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে শোষনহীন সমাজে গরিব শ্রেণীবন্ধুকে সুরক্ষা দেওয়া- তা বিপ্লবের মাধ্যমে হোক বা সংসদীয় গণতন্ত্র মেনে ভোটের মাধ্যমে। সুতরাং, যারা সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোটে হেরে ‘মানুষের পাশে আছি’ বলে ছেঁদো গল্প ফাঁদছে, তারা আসলে সত্য গোপন করার প্রচেষ্টায় পার্টির ও গরিবের সাথে গাদ্দারি করছে। মানুষ আমাদের পাশে রাখার যোগ্য মনে করেনি, এটাই গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত- কারণ ফল ঘোষণার ১০ দিন পর পর্যন্ত ভোটে নারকীয় সন্ত্রাস, বুথ দখল বা ইভিএমের কারচুপির নামে তেমন কোনো শব্দ নেই পর্যালোচনাতে।
তাহলে কি আমরা বিজেপি-তৃণমূলের চেয়েও অযোগ্য? না তা নয়। আমাদের নীতি অজেয় বিজ্ঞান- কিন্তু তার প্রয়োগ পদ্ধতিটা সেকেলে তাই অযোগ্য। এই কারণেই আমরা হেরে গেলাম, শূন্য হয়ে গেলাম বিধানসভাতে।
হাতের মোবাইলের এ্যপসগুলোও তো নির্দিষ্ট সময়ে আপডেট চায়। মোবাইলে নতুন কোনো নীতি আছে? সেই ফোনে কথা বলা, ক্যালকুলেটর, হ্যাণ্ডি কম্পিউটার, এলার্ম ঘড়ি, ক্যামেরা, টর্চ, বই লাইব্রেরি, এনসাইক্লপিডিয়া, গান শোনা মেশিন, সিনেমা দেখা মেশিন ইত্যাদি। মোবাইল একটা চলমান অত্যাধুনিক সিস্টেম মাত্র, মোবাইলে যে বিষয়গুলো আমরা করি বা দেখি সেটা সবই প্রায় পুরাতন নীতি, নতুন আঙ্গিকে। তাহলে রাজনৈতিক দলের নীতি অক্ষুণ্ণ রেখে সিস্টেমকে আপগ্রেড করব না কেন?
তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম বারের জন্য সংসদীয় গণতন্ত্রে সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করেছিল ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে। ঠিক এর ১ বছর আগে চিটফান্ডের টাকায় পুষ্ট Channel-10 নামের একটা প্রোপ্যাগান্ডা মেশিন বাজারে নামিয়ে দিয়েছিল তারা, যার লাভ পরের বছরই হাতেগরম পেয়ে যায় দল তৃণমূল, কাজ মিটতেই তার প্রয়োজন ফুরিয়েছে, আজ তার অস্তিত্বটুকুও নেই। আজকে যারা ‘বাজারি মিডিয়া আমাদের দেখায় না’ বলে মড়াকান্না কাঁদছে, তাদের কাছে প্রশ্ন- তারা তো নিজের পয়সাতে লাভের জন্য ব্যবসা করতে এসেছে, কেন আমাকে দেখাবে? যদ্দিন আমাকে দেখালে তাদের লাভ ছিল তদ্দিন ‘২৪ ঘন্টা’ আমাদের ২৪ ঘন্টাই দেখাত।
২০২১শে প্রচারে কথা তো ছিল আমরাই বিকল্প, যেখানে লেভির টাকায় দল চলে- সেখানে গত ১ যুগ ধরে বিকল্প নিজস্ব মিডিয়া তৈরি না করে পুঁজিবাদী বুর্জোয়া মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিতে যাবার গল্প কেন? এটাই তো বুর্জোয়াতান্ত্রিক দক্ষিণপন্থী মানসিকতা। বামপন্থী রাজনীতি মানে সম্বৎসর মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ, তারা কেন পুঁজিবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নিজেদের তুলনা করবে? বামেদের প্রচার কৌশল বামেদের মতো করে হবে, যা ইউনিক তথা স্বতন্ত্র, যা অন্যেরা চুরি করবে। পুঁজিবাদ যখন বিপদে পড়ে, তখন আজও সে দাস ক্যাপিটালের পাতাই উল্টায়।
শূন্য একটি পূর্ণসংখ্যা, যা ধনাত্মকও নয়, ঋণাত্মকও নয়। শূণ্যের সামনে অন্য কোনো সংখ্যা বসলে তবে তা মান পায়। শূন্যের সাথে যতকিছুই গুণ করুন, তার ফল শূন্যই হবে। কারণ শূন্যের কোনও মান নেই।
ভেবে দেখুন, যারা শূন্য নিয়ে ভীষণ গর্ব অনুভব করছেন- আপনাদের ন্যুনতম মান আছে কি? যদি আত্মবিশ্বাস থাকে- হ্যাঁ আমার মান আছে, তাহলে শূন্যের সামনে অন্য মৌলিক সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়ে যান, দেখবেন পার্টি, সংগঠন সব দাঁড়িয়ে গেছে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, সমাজ বদলে যাবে। একমাত্র বামপন্থীরাই পারে সমাজ বদলাতে।
…ক্রমশ

সোমবার, ১০ মে, ২০২১

সুভাষ বাউরি আক্রান্ত



পাণ্ডবেশ্বরে আমাদের প্রার্থী সুভাষ বাউরি আক্রান্ত, এ বিষয়ে গত কাল রাত্রেই পশ্চিম বর্ধমানের আমাদের জেলা সেক্রেটারি গৌরাঙ্গ দা পোস্ট দিয়েছেন। কিন্তু আনন্দের ব্যাপার এইটা হল যে- না কোন দ্বিতীয় নেতা এ বিষয়ে কোনো রা কেটেছে, না কোন ডিজিটাল এর 'বাপের দয়া' ভাইরাস গুলো কোথাও কোনো ফুট কেটেছে। তাদের সাঙ্গোপাঙ্গ চামচা আর খোঁজাগুলো কেউ কোথাও এক লাইনও লেখেনি।

তারা তৃণমূলের সাথে সেটিং করে সারাক্ষণ সরকারকে বাঁচাতে ব্যাস্ত। কোনমতে যেন সরকার বিব্রত না হয়, সরকারের উপর যেন মানুষের ক্ষোভ আছড়ে না পরে তার জন্য 'খয়রাতি শ্রম' নিয়েই মাতিয়ে রেখেছে কিছু ছেলেপুলেকে। আর সেই নিয়েই যত নাচাকোঁদা। আজ তো আবার টুইটারের কোনো এক 'মমতা সাপোর্টারদ' গ্রুপের এডমিনকে অক্সিজেন পৌছে দিয়ে এমন গর্বিত হয়েছে, যেন- বাপের বিয়েতে বরযাত্রী যেতে পারার মত উল্লাসে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে গেছে। দলের কর্মী, প্রার্থী আক্রান্ত- সে নিয়ে এদের টাইমলাইনেও কোনো পোষ্ট নেই ১৬-১৭ ঘন্টা পরেও। জানিনা গণশক্তি ছেপেছে কিনা।
অথচ ৩ দিন আগে খনি ধস হয়েছে, শ্রমিকের হাতে কাজ নেই, আমাদের প্রার্থী আক্রান্ত- সবাই শহরের ২০-২৫টা আসনের মধ্যেই ব্যাস্ত। পান্ডবেশ্বরে কোথায় রেড ভলেন্টিয়ার? কে নিয়ে যাবে সেই শ্রমিকদের কাছে খাদ্য, অন্যান্য সামগ্রী? কোথায় সেই ছবি তুলে মানুষে কাছে তুলে ধরার প্রয়াস?
দায়িত্বে থাকা সিপিএমের প্রচার মাধ্যম 'ডিজিটাল' কোথাও ১ লাইনও লিখেছে এই পোষ্ট হওয়া অবধি। পিকে রাজ্য থেকে চলে গেলেও, তাদের বাধ্য পোষ্যের মত সম্পূর্ণভাবে প্রাণ সঁপে দিয়ে- তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে ত্রুটি রাখছেনা। পাশাপাশি এই সব আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলোকে আড়াল করারও নিকৃষ্ট প্রয়াস চলছে, যাতে তৃণমূল বেড়ে খেলতে পায়। পিকে-রাজ্য ডিজিটালের অসামান্য ডাবলস জুটি মাইরি, কিম্বা অসামান্য প্রভুভক্তির নিদর্শন।
সেখানে কোথায় কে মার খেলো কি আসে যায় তাতে!
তৃণমূলী লুম্পেনগুলোকে একটা কথাই বলব- ছিঃ......
সেই লুম্পেন পান্ডবেশ্বরের খনিতে সুভাসকে মারা দুষ্কৃতি হোক বা আলিমুদ্দিনে প্রচারের দায়িত্বে বসেথাকা নির্লজ্জ তৃণমূলী লুম্পেন-
এই লুম্পেনগিরি তথা বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে রোজগার করা অর্থে পালিত সন্তান কিন্তু আপনার ঘরেই বড় হচ্ছে- শোধ তুলে নেবে সে-

শনিবার, ৮ মে, ২০২১

স্বরচিত দাস ক্যাপিটাল


 

শৃঙখলা বজায় রাখতে "স্বরচিত দাস ক্যাপিটাল" ইভেন্ট আয়োজন করুক Digital

মহামতি মার্ক্সের খেলার সাথী, পড়শী, সহপাঠি ও মেন্টরেরা যারা ফেসবুকের আনাচে-কানাচে কিলবিল করছেন, দয়াকরে আপনারা সকলে গর্জে উঠুন।
১) আমরা শূণ্য হলেও বাম, এতেই সর্বোচ্চ তুড়িও তৃপ্তি।
২) মূলত কোলকাতা, তৎসংলগ্ন ও কিছু জেলা শহরে ভলেন্টিয়ার বিপ্লবের নামে সস্তার শ্রম ফেরি, (গ্রামে যদিও এসবের বালাই নেই)
৩) রান্নাঘর রান্নাঘর খেলা
৪) আমরা ভোটের রাজনীতি করিনা, আমাদের রয়েছে "ফুটো পাত্র"।
৫) যত বারই ব্যার্থ হও, শুধু মাত্র সৎ বলে নেতৃত্বের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করতেই হবে আত্মসমীক্ষা ও হারের কারন অনুসন্ধানের জন্য।
৬) চামড়াকে ভিয়েতনামের বাঙ্কারের মতো এতো মোটা করা হোক, যেখানে বিপ্লবের আঁচ না পৌছায় ভিতরে
৭) বহিষ্কারের ১০১টি সহজ উপায়।
৮) শুধুমাত্র রাস্তায় তরুনদের রাখা, ওরা দৌড়াবে, মার খাবে। ক্ষীর খাবেন ইয়েরা...
এগুলোকে চরমভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে এমন ব্যাখ্যামূলক আপডেট ভার্সনই একমাত্র গৃহীত হবে।
নতুন তত্ত্বের নামকরনও করতে পারেন, উদাহরণ স্বরূপ- "ধান্দামূলক বরবাদ" কিম্বা "শূণ্যমূলক খাস্তাবাদ" ইত্যাদি।
আজ মার্ক্সের জন্মদিনে জাতি কী-
এটুকু আশা করতে পারেনা?
পারেনা করতে আশা?

সোমবার, ৩ মে, ২০২১

২০২১ নির্বাচনের ফলাফলঃ সিপিএমের কী করা উচিত আর কী নয়

তৃতীয় পর্ব

সিপিএমের কী করা উচিত আর কী নয়। রইল ব্যাক্তিগত মতামত।

বেলা দুপুর গড়িয়ে ঘড়িতে ২টো অতিক্রান্ত, রাজ্যের ভোটের ফলাফল পরিষ্কার। রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রে বামপ্রার্থীরা সহ জোট কার্যত কোথাও লড়াইয়ে নেই। খুব কষ্ট করে একটা আধটা দ্বিতীয় স্থান পেলেও বাকিগুলোতে জামানত বাঁচানো সম্ভব কিনা সেটাই প্রশ্ন। কোথাও কোথাও ভোট শতাংশ সামান্য বৃদ্ধি হলেও সেটাও প্রাপ্তি নয়, এই মুহূর্তে ২০১৯ লোকসভার চেয়েও ২% ভোট কম পেয়েছে। আমার অনুমান- এটা মূলত মোদী বিরোধী ভোট, লকডাউনে নাজেহাল মানুষের ভোট, পাশাপাশি NRC এর ভয়ে ভীত সংখ্যালঘু ভোটের প্রায় সবটাই তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। মিডিয়াতে একতরফাভাবে বিজেপির সাম্প্রদায়িকতা প্রোপাগান্ডা প্রচার, আর তৃণমূলের ‘দানের রাজনীতি’- এই পর্যায়ে সফল, দুটোরই লাভ তৃণমূল পেয়েছে।
যে সকল তথাকথিত বামপন্থী গর্বের সাথে বলেন- আমরা ভোটের জন্য রাজনীতি করি না, আমরা রাস্তায় থাকি- তাদের মনোস্কামনা পূর্ণ হয়েছে। যারা ভোটের রাজনীতি করে তারাই ভোট পেয়েছে, মানুষ তাদেরই বিকল্প বেছে নিয়েছে। রাস্তায় থাকা আপনার গর্ব, আপনাকে সেখানেই স্থান দিয়েছে- উল্টে আপনার হাতে জুটেছে একটা ফুটো বাটি। এইবার ন্যূনতম লাজলজ্জা থাকলে ওই হেজে যাওয়া আঁতলামো-মাতলামো ভক্তমার্কা ডায়লোগ কপচাবেন।
একজন পার্টি কর্মী হিসাবে- এই পর্যায়ে কিছু পরিষ্কার কথাবার্তা বলি, যা মনে এল। কেউ আবার বলবেন না যেন- ভিতরে আলোচনা করতে হয়, প্রকাশ্যে নয়। গোটা সিস্টেমটাই যেখানে ন্যাংটা হয়ে গেছে যেখানে, সেখানে কীসের ভিতর আর কীসের বাইরে! তাই আপনাদের জন্য জন্য ছোট্ট টিপস- আপনারা বিশাল মাতব্বর, চেকা গিরি ঘরে বসে দেখান, নতুবা গণধোলাই এর শিকার হবেন।
১) কোনোভাবেই কোনো অজুহাত সৃষ্টি করা যাবে না। নীতিগতভাবে এই নির্বাচনে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিপুলভাবে বামপন্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ কোনো বাম প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করে নিজেদের খিল্লি করা যুক্তিহীন। তারা নিজেদের মতো চেষ্টা করেছে, বাকিটা জনতা জনার্দন।
২) মানুষের রায় সার্বিকভাবে মেনে নিতে হবে। রাজ্যের মানুষ সঠিক অর্থে বামপন্থীদের বিরোধী দলের মর্যাদাটুকুও কেড়ে নিয়েছে। মানুষ বামপন্থীদের ন্যূনতম যোগ্য বলে মনে করেনি। বামেদের বিকল্প বার্তা এই পর্যায়ে কোনো কাজে আসেনি, সেটা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে। ফেব্রুয়ারীর ব্রিগেডে আসা মানুষ ও তাদের পরিবার গুলোও সকলে ভোট দেননি।
৩) ‘আমরা মানুষকে বোঝাতে পারিনি’ এসব ছেঁদো গল্প নয়, আসলে আমাদের মধ্যে মানুষকে বুঝতে পারার শক্তি আদৌ অবশিষ্ট আছে কি- এটা নিয়ে ভাবনা দরকার, আমার ব্যক্তিগত হিসাবে এটা নেই। তাই আদ্যিকালের ভাবনা ছেড়ে আরও সংস্কার আসুক দলে।
নিজেরা শ্রমিকের ৭০০ টাকা নুন্যতম দৈনিক মজুরীর জন্য আন্দোলন করব, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা ভাষনে শোনাবো- "মাসে নুন্যতম ২১ হাজার টাকা আয় না থাকলে একটা সংসার চলেনা"। আর পার্টির সর্বক্ষণের কর্মীদের ৪-৫ হাজার টাকা দেবো। জানি এটা বেতন নয়, এটা ভাতা; কিন্তু একজন হোলটাইমার তো অন্য কোনো পেশার সাথে যুক্ত নন, তাহলে তার সংসার কীভাবে চলবে? হোলটাইমার বলে তার পরিবার থাকবেনা বা তার খিদে অন্যের তুলনায় কম লাগবে এমন তো নয়। ভাতা হোক বা যা খুশি, হোলটাইমার রাখতে হলে তাকে নুন্যতম সাম্মানিক দিন, যাতে তার প্রয়োজন মেটে। ভাঁড়ারে চালের পরিমান বুঝে নিমন্ত্রণ করুন, ৩৪১ ব্লকে ১টা করে হোলটাইমার থাক প্রয়োজনে, কিন্ত তারা যেন সাম্মানজনক একটা ভাতা পাক। দরকারে গ্রেড সিস্টেম হোক। নতুবা এ পদ তুলে দিন। বিকল্পের কথা মুখে বলব আর নিজেদের দলের পার্টিজানদের জন্য সেই আদ্যিকালের রদ্দি মার্কা নীতি- এটা স্পষ্ট দ্বিচারিতা। এগুলো ত্যাগ করতে হবে।
৪) ২০১১ নির্বাচনের পর থেকে দলের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিনিয়র নেতাদের মানুষ ন্যূনতম বিশ্বাস করছে না, এটা আবারও প্রমাণিত, তাদের মুখ দেখলেই জনগণ তেড়ে বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সেই নেতারা সহ তাদের আশেপাশে থাকা সকলে একযোগে সরে না গেলে এটাই স্বাভাবিক পরিণতি হতে থাকবে। প্রার্থী তরুণ দিয়ে লাভ হয়নি, কারণ ভাবনাতে তারুণ্য নেই। পার্টির ভিতরে সংস্কার আনতে হলে ওই প্রত্যাখিত নেতাদের সামনে রেখে করা অসম্ভব। আপনারা যথেষ্ট মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন, এবারে ছাত্রযুবদের স্ট্রোক দিতে দিন। এটা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির বিষয় নয়, সংসদীয় গণতান্ত্রিক পশ্চিমবঙ্গে বামেদের নিজেদের আগামীর অস্তিত্বের প্রশ্ন।
৫) এখন আর কোনো অজুহাত নয়, না পরবর্তী সম্মেলনের অপেক্ষা। ন্যূনতম চক্ষুলজ্জা থাকলে- যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের সমস্ত জেলা সম্পাদক, জেলা কমিটি এবং রাজ্য কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করুন। অধিকাংশ জেলা কমিটি, এরিয়া কমিটি কার্যত ঘুঘুর বাসা, অধিকাংশ জনই কাজকর্ম করে না মাটিতে, কবে ঘি দিয়ে ভাত খেয়ে বিপ্লব করে ছিল- সেইটার গল্প বলে ‘কোটায়’ রয়ে গেছে। সারাক্ষণ লবিবাজি করে, পদ বাঁচিয়ে রাখতে। কেউ কেউ তো সরকার পোষিত বামপন্থী।
সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে দিন তরুণ প্রজন্মকে, তারা এর চেয়ে বেশি কীই বা খারাপ করবে যেখানে আপনারা ছেড়ে গেলেন (যদি ছেড়ে যান তবেই)? তার সাথে অবশ্যই বিভিন্ন গণ সংগঠনগুলির মুখগুলিও পদত্যাগ করুন। এখানে বাস্তুঘুঘুদের বাস অধিকাংশ ক্ষেত্রে। চেকা গুলোকে চিহ্নিত করে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হোক।
৬) পার্টির কিছু নেতাদের ছেলে, মেয়ে, আত্মীয়, চামচা এমন বহু প্যারাসাইট অযোগ্য সদস্য থিকথিক করছে দলে- যারা এই নির্বাচনে প্রচার সামলানো সহ নানান গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে- যথারীতি দায়িত্ব নিয়ে ডুবিয়েছে দলকে। তারাও ব্যর্থতার দায় নিয়ে, সম্মান বজায় থাকতে থাকতে নিজেরাই পদত্যাগ করুন নতুবা পার্টিকর্মীরা ঘাড় ধরে আপনাদের নামিয়ে দেবে এবং সেটা ভীষণ অসম্মানজনকভাবে। লেভির টাকায় এসব অপুষ্যি পোষা বন্ধ করতে হবে।
৭) রেড ভলেন্টিয়ার্স নামের হুজুগে আঁতলামো বন্ধ করুন। মানুষ সরকার বেছে নিয়েছে, পরিষেবা দেওয়া সরকারের কাজ। আমাদের কাজ আমাদের পার্টি কর্মী কমরেডদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা আর সংগঠন বাড়ানো, সরকারের ব্যর্থতার জায়গাতে গিয়ে NGO বা প্যারালাল সরকার চালানো নয়। এটা রাজনৈতিক দল, কোনো সেবাশ্রম বা ক্লাব নয়। সোস্যাল মিডিয়াতে বহু স্থানে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে- একশ্রেনীর ছদ্মবেশী বামপন্থী ভেক ধরে থাকা দুর্বৃত্তরা, পার্টি শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে এই গোটা পরিকল্পনাটা PK এর কাছে টাকা খেয়ে তৃণমূলের অপদার্থতা ঢাকার জন্য করেনি তো? এটা অন্তর্ঘাত নয় তো? ভোটের ফলে পরিষ্কার, আমরা মানুষের পাশে থাকতে গেলেও-
মানুষ আমাদের পাশে রাখার যোগ্য মনে করেনি। অনেকে ব্রিটিশ জামানার বিপ্লব কিম্বা তেভাগার সাথে তুলনা করছেন, তারা ইতিহাস জানে না- ব্রিটিশ জামানাতে সংসদীয় গণতন্ত্র তথা ভোটের রাজনীতি ছিল না, ছিল বাঁচার লড়াই। তেভাগা ছিল নিজের অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াই! ভলেন্টিয়ার্সের নামে এই শ্রম ফেরি করা কোন অধিকারের লড়াই?
৮) পার্টির ছাত্র যুবদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে, এই মহামারীকালে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া তাদের রাস্তায় নামিয়ে, কোভিডে আক্রান্তদের বাড়ি বা সংস্পর্শে পাঠিয়ে দিয়েছে। যেখানে পলিটব্যুরো সদস্য মহঃ সেলিম বিবৃতি দিয়ে মিটিং-মিছিল করব না বলে ঘোষণা দিলেন, যখন আংশিক লকডাউন চলছে, ইস্কুল-কলেজ, হাটবাজার সব বন্ধ, আক্রান্তের সংখ্যা রোজ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে, এলোপাথাড়ি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, সেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ- ছাত্রযুবরা শুধুমাত্র একটা কাপড়ের মাস্কের ভরসা করে রাস্তায় ছুটে চলেছে। কাল এদের কিছু হয়ে গেলে কে তার দায় নেবে? কিছু ফেসবুক বিপ্লবী ও আলিমুদ্দিনে থাকা কোটার প্যারাসাইট এই কাজগুলো করছে, যাদের সাথে মাটির যোগাযোগ নেই। এটা অবিলম্বে বন্ধ করুন, আমাদের প্রতিটি কমরেড আমাদের সম্পদ, তাদের জীবন এভাবে বিপন্নতার মুখে ঠেলে দেওয়া- আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটা বিপ্লব নয়, তা যদি হতো- সেক্ষেত্রে গত লকডাউনে রাজ্য জুড়ে পাশে থেকেও ভোটবাক্সে এই দশা হতো না। রাজনীতিটা করুন গুছিয়ে স্বল্প শক্তি নিয়েই এবং করতে দিন মন দিয়ে যারা এটা করছে।
১০) সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন করে একটা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী তরুণ মুখের দল পার্টির মধ্যেও উঠে আসুক, নেতৃত্বের হাল ধরুক। সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে হারতে হারতে তারাও নিজেদের তৈরি করে নেবে, যাদের নিয়ে আগামী ২০২৪ ও ২০২৬ নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে একটা স্পষ্ট সুভদ্র মুখের বার্তা দেওয়া যাবে। দলে আইনের ছাত্রদের, অর্থনীতি জানা কমরেডদের সামনে নিয়ে আসা হোক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে।
১১) খেতমজুর সংগঠন এর উপর জোর দেয়া হোক। এই নির্বাচনে পার্টির সর্বাধিক সদস্য ABTA থেকে এসেছিল৷ সবচেয়ে বেশি দ্বায়ভার নিশ্চিত ভাবেই তাদের নিতে হবে। গত এক বছর ধরে লকডাউনে বেশিরভাগ শিক্ষক- সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, তারই একটা ভার একটা নির্বাচনে দলকে বইতে হলো। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মীয়ভাবে নয় সরাসরি স্পষ্ট করে কেরলের মত কর্মের দিকে তাকাতে হবে। তারুণ্যের দিকে তাকাতে হবে।
সুদীর্ঘ পথে আমাদের জন্য নিশ্চিত ভালো কিছু অপেক্ষা করে আছে ৷
১২) তথ্য, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা ও রূপায়ন- এটা নিয়ে আলাদা সেল খোলা হোক। আগামীর নির্বাচন নিয়ে দ্রুত কর্মশালা করে প্রস্তুতি নেওয়া হোক, সেই মতো দায়িত্ব বণ্টন করে সেখানেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এখন থেকে কাজে লাগিয়ে দেওয়া হোক। সোশ্যাল মিডিয়া টিম পেশাদারভাবে চালানো হোক, পার্টি লাইনের মধ্যে থেকে। রাজ্য জুড়ে জেলা ওয়ারি ভৌগোলিক পরিবেশ অনুযায়ী ডেমোগ্রাফি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, পরিচ্ছন্ন ধারণা থাকা মানুষদের সামনে আনুন। তরুণেরা অনেকেই ভোট বোঝে না, তাদের জন্য কর্মশালা হোক, ভোট ম্যানেজারেরা সারা বছর মাটিতে থেকে প্রার্থীদের জন্য ডেটা রেডি করুক।
১৩) শরিক দলগুলোকে আর কতদিন ও কেন বইবে এই নিয়েও আলোচনা হোক। কারোর কোথাও কোনো সংসঠন নেই সেই অর্থে। CPIM থাকলে তবে তারা আছে, এখন নিজেরাই সমস্যাতে, সেখানে কীসের শরিক আর কীসের বামফ্রন্ট? আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মূল্যায়ন করুন।
১৪) কংগ্রেস নিয়ে মোহভঙ্গ কবে হবে সেটা নিয়ে ভাবতে বসুন।
১৫) শহুরে সস্তা প্রচারের রাজনীতিতে না গিয়ে সিটু, কৃষকসভা এগুলোতে জোর দেওয়া হোক। এখানে খোলনাচলে নেতৃত্ব বদল হোক। SFI ও DYFI তৈরি আছে যোগ্য সঙ্গত দেওয়ার জন্য। দলের ব্যাটনটা তাদের হাতেই যাক এবারে।
আমাদের সময় লাগতে পারে কিন্তু বামপন্থীরা নিশ্চিত ভাবে ঘুরে দাঁড়াবেই। ইতিহাস সাক্ষী।

রবিবার, ২ মে, ২০২১

ফিলিস্তিন ২০২১- প্রথম পর্ব



পর্ব-১
অবৈধ দখলকারী টিউমার ‘ইজরাইল’, নিরপরাধ ফিলিস্তিনি সাধারণ জনগণের ওপর নতুন করে আবার যে হামলা শুরু করেছে তা আজ একাদশতম দিনে পড়েছে। একছত্রভাবে এরিয়াল রকেট হামলায় ভূমি দখলের পুরাতন খেলার ছক মেনেই- বেশ কয়েকশ লাশ আর হাজারে হাজারে মানুষকে বিকলাঙ্গ বানিয়ে দিয়েছে নতুন করে। ইজরায়েলের নিশানার তালিকায় সবার আগে থাকে অসুরক্ষিত নারী ও শিশুরা। কেন এই হামলা বা কী কারণে হামলা অনেক বড় একটা চ্যাপ্টার, বছর ২-৩ আগে আমি সিরিজ করে ১৪-১৫ পর্বের বিপুল বড় প্রবন্ধ নামিয়েছিলাম নানা তথ্য-উপাত্ত সহ, সেটা পড়ে নিতে পারেন। তাই সে বিষয়ে আপাতত যাচ্ছি না, শুধু কিছু বেসিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
একটা বিষয় পরিষ্কার, খেলা এখন একতরফা হচ্ছে না। ফিলিস্তিনিদের পক্ষেও চূড়ান্ত প্রতিরোধ শুরু হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পাল্টা আক্রমণ শানানো হচ্ছে। এবারের এই ইচ্ছাকৃত হামলাতে ইজরায়েল চরম ভুল করেছে, এবারে মাশুল গুনতে হবে চড়া মূল্যে। পরবর্তী পর্বগুলোতে এর বিশদে ব্যাখায় যাব।
আমাদের দেশের মিডিয়া সহ, জায়োনিস্ট পরিচালিত সকল মিডিয়াই ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আর পারদর্শী বলে সর্বত্র প্রচার করে, ফলে এদেশের ভক্ত সম্প্রদায় এক চরম আত্মরতিময় সুখ অনুভব করে- ‘আরবের মোল্লা ক্যালানো’ যোদ্ধাদের জন্য। কিন্তু বাস্তবতা, তথ্য ও ইতিহাস কী বলছে? ইজরায়েল এমন একটা দেশ যারা আজ পর্যন্ত কোনো দেশের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করেনি, সুতরাং জেতা বা হারার প্রশ্নই নেই। ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৮২, ১৯৯৫, ২০০০, ২০০৩, ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৪- মোটামুটিভাবে এই ক’বার তাদের সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের রেকর্ড রয়েছে। প্রতিবারই এরা কেবল নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি জনগণকে খুন করেছে, এক আধাবার মিশরীয়, জর্ডনীয়, সিরিয়ান কিম্বা লেবাননী অধিবাসীদের খুন করেছে। যখন ফিলিস্তিনিদের হয়ে কোনো দল পাল্টা আক্রমণে গেছে, প্রতিবারই হেগেমুতে কাপড়ে-চোপড়ে করেছে। প্রতিবারই ইজরায়েলের অবৈধ পিতা আমেরিকা ও বৈধ পিতা- ন্যাটো এসে ইজরায়েলকে বাঁচিয়ে নর্দমা থেকে তুলেছে। অতএব, বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও কাপুরুষ সেনাবাহিনীর নাম ‘ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স’ এতে কোনো সন্দেহ নেই।
অনেকেই জানেন ইজরায়েল-ফিলিস্তিনের মূল দ্বন্দ্ব ধর্মীয় বিশ্বাসের উপরে স্থাপিত, যা ৫ হাজার বছরেরও বেশি পুরাতন। নৃতত্ত্ববিদ্যা অনুযায়ী জাতি হিসাবে আরবিয়ানরা ‘সেমেটিক গোষ্ঠীর’, তাতে তাদের ধর্মবিশ্বাস ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলমান কিংবা মূর্তিপুজারক প্যাগানও হতেই পারে। এছাড়াও আরো অন্যান্য যদি ছোট কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী থাকে, তার নিশ্চিত ভাবেই সেমেটিক। কিন্তু এই মুহূর্তে ইজরায়েলের মাটিতে যারা নিজেদেরকে ইহুদি বলে দাবি করছে, তারা ওই আরবিয়ান ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির ‘সেমেটিক’ জিনের উত্তরাধিকারী নয়। তারা নিজেরাও সে দাবী করে না, বরং নিজেদের অ্যান্টিসেমেটিক-জায়োনিস্ট বলেই পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করে। এরা প্রায় সকলেই দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী, ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ‘খাজার ককেশীয় জিনের’ উত্তর পুরুষ। খাজার কারা ও কেন, তা নেট ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন, আমি শুধু ক্লু দিলাম।
অর্থাৎ, আজকে যারা ফিলিস্তিনের ভূমিকে নিজেদের পিতৃপুরুষের ভূমি দাবী করে জবরদখল করে ‘ইজরায়েল’ রাষ্ট্র বানিয়ে- অবাধে লুঠতরাজ ও হত্যালীলা চালাচ্ছে, এদের পূর্বপুরুষের সাথে কখনও ‘আরব’ যোগ ছিল না। আরবের অন্যান্য বহু দেশ- সৌদি, সিরিয়া, মিশর এমন কি ইরানেও ইহুদিরা বেশ ভাল সংখ্যাতে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বাস করে, যারা অন্যান্য আরবিয়ানদের মতো দেখতে, অর্থাৎ তারাও সেমেটিক। এরা কিন্তু নানান ইজরায়েলি প্রলোভন স্বত্বেও ইজরায়েলে যায়নি। ইজরায়েলের খাজার ইহুদিরা ‘কটা’ চামড়ার, ‘কটা’ চুল, টিকালো নাক, নীল রঙের চোখের মণি যুক্ত, এবং অধিকাংশই রুক্ষ মেদহীন চেহারা বিশিষ্ট। সেখানে আরবিয়ানরা কালো চুলের, ইজরায়েলিদের তুলনাতে ভোঁতা নাক, কালো চোখের মণি, পেলব মেদযুক্ত শরীরের অধিকারী। নৃতত্ত্ববিজ্ঞানের হিসাবে কোনোভাবেই দুটো জাতি এক নয়, এরা একে অন্যের জাতিগত আত্মীয় নয়। তাহলে কোন হিসাবে এই ইহুদিদের পিতৃভূমি হতে পারে ফিলিস্তিনের ঊষর মরুপ্রান্তর?
বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে কীভাবে ইজরায়েলের জন্ম সেটার জন্য আপনাকে ‘জায়োনিস্ট’ মতবাদ নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, এই পর্ব পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেনই ছিল মূল কুশীলব, নেপথ্যে রথচাইল্ড পরিবার। কিন্তু সুয়েজে দাদাগিরি কেন্দ্র করে- মিশরীয় নাসেরের কাছে হেরে নীলনদে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সলিল সমাধি ঘটলে, মূলত আমেরিকার একটা স্থায়ী সেনাঘাঁটি হিসেবে ইজরায়েলের অভ্যুত্থান ঘটে ষাটের দশকে। আমেরিকা ইজরায়েলের পিতৃত্বের দাবী নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবির্ভূত হয়। অবশ্য, ১৯৩৮ সালে আরবে খনিজ তেলের আবিষ্কার না হলে আদৌ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা, ইজরায়েলকে এভাবে পুত্রস্নেহে লালন করত না, তা বলাই বাহুল্য। ইজরায়েল আদপে আমেরিকার একটা সেনা ঘাঁটি, যেখান থেকে ‘অশিক্ষিত-মূর্খ’ আরবিয়ান রাজাদের ‘মদ-মেয়েমানুষের’ টোপে ডুবিয়ে রেখে, তাদের দিকে অজস্র বোমাবারুদ তাক করে রেখে- তাদের খনিজ সম্পদ কুক্ষিগত করে লুঠ করছে।
বর্তমান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু- নিজ দেশের রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত নড়বড়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেমন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, ঠিক তেমনি গত নির্বাচনে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- গাজা ভূখণ্ড দখল করে দেশের জনগণকে উপহার দেবে। সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, এবং এই বিষয়টা নিয়ে এই মে’২০২১ এর প্রথম সপ্তাহের শুরুর দিকেই বিশ্বজোড়া শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো একজোটে নেতানিয়াহুর নামে বিষোদ্গার শুরু করে দেয়। লিঙ্ক রইল-
বর্তমান ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর নিজ দেশে রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত নড়বড়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেমন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, ঠিক তেমনি গত নির্বাচনে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- গাজা ভূ-খণ্ড দখল করে দেশের জনগণকে উপহার দেবে। সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, এবং এই বিষয়টা নিয়ে এই মে’২০২১ এর প্রথম সপ্তাহের শুরুর দিকেই বিশ্বজোড়া শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো একজোটে নেতানিয়াহুর নামে বিষোদগার শুরু করে দেয়। লিঙ্ক রইল-
এমনিতেই এই নেতানিয়াহু বিপুল পরিমাণ আর্থিক দুর্নীতি, জালিয়াতি, স্বজনপোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত, ক্ষমতায় আছে বলে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়নি। কিন্তু গত দু'বছরে চারটে নির্বাচনে তার দল ‘লিকুদ পার্টি’ গোহারা হেরে ধুঁকছে, তার প্রতিপক্ষও বিপুল ক্ষমতাধর দেশজ রাজনীতিতে, তিনি দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপতি- ‘রেউভেন রেভলিন’। এমতাবস্থায় নেতানিয়াহুর পক্ষে সরকার টিকিয়ে রাখাটাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সরকারের পতন মানেই তার জেলযাত্রা অবধারিত- অতএব লাগাও যুদ্ধ।
নেতানিয়াহু সরকার গত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে এবং তাকে বাধ্য হয়ে জোট সরকার চালাতে হচ্ছে, ফলে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না, এবং এই কারণেই গোলমাল পাকিয়ে নতুন নির্বাচন চাইছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মানুষ সব ভুলে যাবে, দেশপ্রেমের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আবার ক্ষমতায় থেকে যাওয়াও যাবে বা নির্বাচনে জেতা যাবে। আসলে প্রতিটি অপদার্থ শাসকের, নিকৃষ্ট পদ্ধতিগুলোও বিশ্বজনীনভাবে ঠিক মিলে যায়। আমরা জানি ২০১৯ সালের পুলওয়ামা ভুলিনি, নিজেদের সেনা হত্যা করে করে দেশপ্রেমের আবেগে ভাসিয়ে ক্ষমতায় আসার সুফল আজ করোনাকালে মানুষ প্রতিটি শ্বাসে টের পাচ্ছে। যাই হোক, বিষয়ে ফিরি-
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কতটা ইজরাইলপন্থী ছিল তা আমরা জানি, কিন্তু তার পরেও তার শাসনামলে গোটা বিশ্বে আমেরিকা কোথাও যুদ্ধে জড়ায়নি, না ইজরায়েলকে জড়াতে দিয়েছিল। এই কারণেই সম্ভবত তার বিদায় ঘটল এবং বাইডেন এল। ১৯৯৬ পরবর্তী সময়ে থেকে ২০১৬ ট্রাম্পের জমানা অবধি, বিশ্বরাজনীতির ইতিহাস যদি ঘাঁটাঘাঁটি করা যায়, দেখতে পাওয়া যাবে- এ যাবৎ কালে পৃথিবীতে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে- তার প্রতিটিতে আমেরিকা যুক্ত ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে- প্রতিটা যুদ্ধের উপদেষ্টামণ্ডলীতে কোনো-না-কোনোভাবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপস্থিতি অত্যন্ত জোরালোভাবে ছিল।
সুতরাং সেই যুদ্ধবাজ ব্যক্তিটি যখন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তখন ইজরায়েলের নতুন করে বাড়াবাড়ি করাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। ক্ষমতায় আসার সময় দেশে করোনা ও বেকারত্বের পাশাপাশি সাদা-কালো দ্বন্দ্বটা আড়াআড়ি ছিল, স্বভাবতই শুরুতে বাইডেন নিজেকে ততটা প্রকাশ করতে পারেনি। কিন্তু গত মার্চ থেকে লাগাতার তার প্রতিটি বক্তৃতাতে ইজরাইলকে নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছিল, এবং যুদ্ধের জন্য প্রকাশ্য উস্কানি দিতেও কুন্ঠা বধ করেনি। স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতিবাজ নেতানিয়াহুর পতনের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হতেই, বাইডেনের উস্কানির সূত্র ধরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইজরায়েলি নপুংশক সেনার দল।

~ক্রমশ

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...