বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১

Save Lakshadweep

 


লাক্ষাদ্বীপ, ভারতের জীববৈচিত্র্যেোর দিক থেকে এক অমূল্য সম্পদ। মাত্র ৬০ হাজারের কিছু বেশি মানুষ এই দ্বীপরাজ্যে বসবাস করে যাদের অধিকাংশই গরিব মৎসজীবী। দেশের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন রাজ্য তথা টেরিটরি, ৯৬% নারীশিক্ষা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ, জন্মহার দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম এবং দেশের সবচেয়ে কম অপরাধপ্রবণ অঞ্চল। এমন একটা শান্তিপ্রিয় অঞ্চল প্রায় রাতারাতি নরকগুলজারে পরিণত হয়েছে


সৌজন্যে RSS পরিচালিত বিজেপি

বিজেপি সকল সময় এমন কিছু অদ্ভুত সমস্যা তৈরি করে, যাতে আপনার অন্নবস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি স্থানীয় মৌলিক চাহিদার দাবী ভুলে আপনি মেতে থাকবে কিছু ডেকোরেটেড সমস্যা নিয়ে, যেখানে বেঁচে থাকাটাই যেন আচ্ছে দিন বলে মনে হবে। ভেবে দেখুন বিজেপি তার সাত বছরের অপশাসনে ঠিক এই জিনিসটাই করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন যে সমস্যাটা তৈরি করেছে- তার নাম লাক্ষাদ্বীপ

লাক্ষাদ্বীপ দেশের ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের একটি, কেরালার মূল ভূ-খণ্ড মালাবার উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। লাক্ষাদ্বীপে ১টি মাত্র জেলা রয়েছে, সেটিই একমাত্র লোকসভা আসন। লাক্ষাদ্বীপের রাজধানীর নাম কাভারাত্তি, সবচেয়ে বড় শহর এ্যান্ড্রট। অসংখ্য মৃত প্রবাল কীটের দেহাবশেষ সঞ্চিত হয়ে সমুদ্র মধ্যে এই দ্বীপসমূহের সৃষ্টি হয়েছে বলে এই দ্বীপপুঞ্জকে ‘প্রবাল দ্বীপ’ও বলা হয়ে থাকে। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপার্থিব চোখজুড়ানো, আর এটাতেই এখন পুঁজিবাদী হাঙরদের দৃষ্টি পড়েছে

হঠাৎ লাক্ষাদ্বীপ কেন শিরোনামে?

রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে, রাজ্যসভার CPIM সাংসদ ইলামারাম করিমের লেখা একটা চিঠিকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, যদিও গোদী মিডিয়া এটাকে ধামাচাপা দিয়েই রেখেছে। চিঠিতে রয়েছে, কীভাবে মোদী সরকার লাক্ষাদ্বীপে সাম্প্রদায়িক অশান্তির বীজ বপন করে সেখানের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করছে ও তাদের উপরে অত্যাচারের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। যাতে করে দ্বীপের অধিবাসীরা দ্বীপ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়

স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সকল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে প্রশাসক হিসাবে IAS/IPS অফিসারদেরই নিয়োগ দেওয়া হতো, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এসেই এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটায়। ‘দমন ও দিউ’ এর প্রশাসক হিসাবে গুজরাত বিজেপির নেতাকে প্রশাসক পদে নিযুক্ত করে, ২০১৬ সালে সেই ব্যক্তিকেই ‘দাদরা, নগর ও হাভেলির’ও প্রশাসক পদে বসিয়ে দেয় মোদী। নেতাটির নাম ‘প্রফুল্ল খোদা প্যাটেল’, RSS এর এই স্বয়ংসেবক এতটা মোদী-শাহ্ ঘনিষ্ঠ যে, অমিত শাহ যখন CBI এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল, তখন একে গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছিল

২০২০ সালের ৫ই ডিসেম্বর এই প্রফুল্ল প্যাটেলকেই লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক পদে নিযুক্ত করে ভারতের রাষ্ট্রপতি তথা মোদী। এমনিতেই এই সব কেন্দ্রশাসিত রাজ্যগুলোতে গণতন্ত্রের নিয়ম মেনে নিজেদের প্রশাসক বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ এদের কোনো বিধানসভা নেই। এভাবেই ভারতের পশ্চিম তীরের সবকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে কার্যত একজন গুজরাটি RSS নেতার হাতে তুলে দেওয়া সম্পন্ন হয়

অতঃপর দীর্ঘ ৬ মাসের প্রচেষ্টার দরুন লাক্ষাদ্বীপকে নরকে পরিণত করেছে মোদীর এই ঘনিষ্ঠ মিত্র

প্রফুল্ল প্যাটেল, লাক্ষাদ্বীপে এমন কিছু জনবিরোধী আইন লাগু করেছে সাদা চোখে যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। পাতি বাংলায় ১ লাইনে বললে যা দাঁড়ায়- ৯৭% মুসলিম অধ্যুষিত এই দ্বীপরাজ্যে কঠোর হিন্দুত্ববাদী আইন বলবৎ করেছে। যাতে মুসলমানগুলো উচ্ছেদ হয়ে যায়, আর সেই জমিতে সিলেক্টিভ গুজরাটি বেনিয়ারা হোটেল রিসর্ট বানাতে পারে


CPIM
সাংসদ, করিমের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে- ‘রিফর্ম ও ডেভলপমেন্ট’ এর নাম করে দ্বীপজ মানুষের ঐতিহ্যবাহী যে সংস্কৃতি, তাকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে বিজেপি। এরই ধারাবাহিকতায় লাক্ষাদ্বীপের একমাত্র সাংসদ, NCP এর মহম্মদ ফয়জলও রাষ্ট্রপতিকে লেখা একটি চিঠিতে জানিয়েছেন- প্রশাসক প্রফুল্ল প্যাটেলের এই নীতির বিরোধিতা করার জন্য ৩০০ সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড তথা ছাঁটাই করা হয়েছে বিগত ৫ মাসে। এক কথায় নাগপুরের নির্দেশে চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে পুঁজিপতিদের চৌকিদার বেচুবাবুদের দল


কী আইন প্রণয়ন করেছে?

১) যেহেতু বিধানসভা নেই, তাই পঞ্চায়েতের হাতে- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পশুপালন ও মৎস দপ্তর পরিচালনের ভার ছিল, সেগুলো কেড়ে নিয়ে নিয়ে প্রশাসকের এক্তিয়ারে কুক্ষিগত করেছে প্যাটেল। স্থানীয় মানুষের হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে

২) যাদের দুটোর বেশি সন্তান আছে কিম্বা যারা তৃতীয় বা ততোধিক সন্তান- তারা নির্বাচনে লড়তে পারবে না। এর দ্বারা ৯৮% স্থানীয় নেতা-নেত্রীকে রাজনীতির ময়দান থেকে বাতিল করে দেওয়া গেছে। অথচ দেশের ৩০৩ জন বিজেপি MP এর মধ্যে ৯৬ জনেরই ৩টে সন্তান আছে

৩) ৯৭% মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলে গোমাংস নিষিদ্ধ করেছে, কেউ গোমাংস সমেত ধরা পড়লে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইন এনেছে। মালায়লি সংস্কৃতিতে সর্বধর্ম নির্বিশেষে গোমাংস বৈধ

৪) মদের উপরে এতদিন নানান রেস্ট্রিকশন ছিল দ্বীপরাজ্যটিতে, সেটা তুলে নিয়ে- মদ থেকে যাতে বেশি রাজস্ব আদায় হয় তার উপরে জোর প্রচুর বার খোলা হয়েছে, এবং মদ খেতে একপ্রকার বাধ্য করা হচ্ছে অবৈধভাবে স্থানীয় পুলিশকে ব্যবহার করে। প্রসঙ্গত মোদী তথা প্রফুল্ল প্যাটেলের নিজের রাজ্য গুজরাটে মদ নিষিদ্ধ

৫) সকল সরকারি অফিস সহ স্কুল-কলেজে সমস্ত ধরনের ‘ননভেজ’ খাদ্য আইন করে বন্ধ করে দিয়েছে। একটা দ্বীপরাজ্যে যেখানে সি-ফুডই তাদের মুখ্য খাদ্য- তারা সেই মাছটুকুও খেতে পারবে না

৬) ‘লাক্ষাদ্বীপ ডেভলপমেন্ট অথোরিটি রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২১ (LDAR)’ আইনের বলে দ্বীপের যে কোনো ব্যক্তিকে তার ভূমি থেকে উচ্ছেদ বা রিলোকেট করে দিতে পারবে সরকার, বিনা নোটিশে ও বিনা ক্ষতিপূরণে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মামলা পর্যন্ত করতে পারবে না

৭) ‘প্রিভেনশন অফ অ্যান্টিসোস্যাল অ্যাক্টিভিটিস (PASA)’ নামের একটা নতুন ‘গুণ্ডা আইন’ লাগু করেছে, যার দ্বারা সরকার যে কোনো ব্যক্তিকে জাস্ট হাপিস করে দিলেও, ব্যক্তিটির পরিবারকে ১ বছর পর্যন্ত জানাতে বাধ্য নয়- সেই ব্যক্তি কোথায় আছে বা তার অপরাধ কী? এই সময় সেই ব্যক্তি কোনো রকম আদালত তথা আইনি সুরক্ষা পাবে না

অর্থাৎ, আপনি গোমাংস খেলেন কি না খেলেন, মদ খেলেন কি না খেলেন- আপনাকে এই ছুঁতোতে LDAR আইন দ্বারা আপনার সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে দেবে। এবারে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার দরুন আপনি যদি প্রতিবাদ করেন, কিম্বা শিক্ষা স্বাস্থ্য ইত্যাদি পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে যদি প্রতিবাদ আন্দোলন করেন- তাহলে আপনাকে PASA আইন দিয়ে জাস্ট গায়েব করে দেবে রাষ্ট্র। আপনি আইনি সহায়তাটুকুও পাবেন না, না আপনার পরিবার জানতে পারবে আপনি কোথায় আছেন!

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার দমন পীড়নের মাধ্যমে সকল প্রকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কন্ঠরোধ এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমনে ‘রাউলাট আইন (The Rowlatt Act of 1919)’ প্রণয়ন করেছিল, সেটারই বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে তৎকালীন ব্রিটিশদের পা চাঁটাদের অবৈধ জারজেরা

এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয়, পাতি গোদা আইন। গোটা দেশে ‘হিন্দুত্ব আইন’ লাগু করার আগে ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করার মতো লাক্ষাদ্বীপেই প্রয়োগশালা বানিয়েছে মোদী সরকার

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্যাটেল দায়িত্ব নিয়ে আসার ১ মাস পর পর্যন্ত লাক্ষাদ্বীপ ছিল করোনামুক্ত অঞ্চল, ২০২০ সালে সেখানে কোনো করোনা রোগী ছিল না। এর পরেই আইসোলেশন প্রথা তুলে দিয়ে বিচিত্র সব আইন প্রণয়ন করে প্যাটেল, পাশাপাশি গোমাংস ও মাছ বন্ধ করে দিতেই গরিব মানুষের সস্তার প্রোটিনের অভাব ঘটে, যথারীতি ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ নাগাদ দ্বীপের প্রথম করোনাক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়। গত কাল পর্যন্ত সেখনে ৬৬১১টি করোনা রোগী পাওয়া গেছে, যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও বেশি, যার মধ্যে ২০৫০টি অ্যাক্টিভ। যেখানে করোনার প্রথম ওয়েভে ১ জনও মারা যায়নি, সেখানে দ্বিতীয় ওয়েভে ২৪ জন মারা গেছে। আক্ষরিক অর্থে সেখানে মহামারী চলছে বা প্যাটেলের নেতৃত্বে করোনার চাষ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, যাতে দ্বীপটি দ্রুত জনশূন্য হয়ে পড়ে

সোশ্যাল মিডিয়াতে সরকারের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আওয়াজ না উঠে, সেটাকে রোখার জন্য নতুন আইন এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একমাত্র ‘ক্যু’ আর ‘হোয়াটস অ্যাপই’ সম্পূর্ণ মেনে নিয়েছে সেই আইন- অর্থাৎ আপনি হোয়াটস অ্যাপে যা লিখবেন, চাইলেই বিজেপির নেতারা দেখতে পাবে

এই প্রফুল্ল প্যাটের গুণের কীর্তির শেষ নেই। তার সাথেই অশান্তির দরুন IAS অফিসার কন্নন গোপীনাথন চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে নেয়, তিনি দমন দিউ ও দাদরা নগর হাভেলির জেলাশাসক ছিলেন। ২০১৯ সালে দমনে ৯০টারও বেশি ঘর ভেঙে দেয় প্রশাসক প্রফুল্লের নির্দেশে, দুটো সরকারি স্কুলকে জেলে রুপান্তরিত করে সেই গৃহহীন মানুষগুলোকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি করে দেয়

এই বছরেরই ২২শে ফেব্রুয়ারী ‘দাদরা’র আত্মহননকারী ৭ বারের সাংসদ ‘মোহন দেলকরের’ ১৫ পাতার সুইসাইড নোটে প্রফুল্ল প্যাটেলের নাম বহুবার এলেও- রাষ্ট্রপতি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সেখানে ২৫ কোটি টাকা তোলা চেয়ে হুমকি দেওয়ারও কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত- দাদরা নগর হাভেলির প্রশাসকও এই প্রফুল্ল প্যাটেল। দেলকর ২০২০ সালের জুন মাসে কংগ্রেসে যোগ দেয়, তারও আগে সে বিজেপির সদস্য ছিল, পরে নিজেই একটা দল খুলেছিল। কংগ্রেসে যোগ দেওয়া ইস্তক এই প্রফুল্ল প্যাটেল তাকে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য প্রেসার সৃষ্টি করতে থাকে, এ কথা একটা ফেসবুক লাইভে দেলকর নিজেই জানিয়েছিলেন। এমনকি সংসদেও এ কথা তুলেছিলেন। কোথাও সুরাহা না পেয়ে মুম্বইয়ের একটা হোটেলে বেচারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়

প্যাটেল খুব চতুরতার সাথে গোটা দ্বীপরাজ্য থেকে স্থানীয় মালায়লি ব্যবসায়ীদের বিতাড়িত করে সেখানে পেটোয়া গুজরাটি বেনিয়াদের বসিয়ে দিচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভূ-প্রকৃতি ধ্বংস করে গুজরাটি রিয়েল এস্টেট চক্রকে অবৈধ নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়ে লাক্ষাদ্বীপের বাস্তুতন্ত্রকে চরম ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে

ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর মূল অ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমান ও দলিতকে শারিরীক ভাবে দুর্বল করে দাও, যাতে সে লড়তে না পারে। তার জন্য ধর্ম ও আইনের ফাঁসে বেঁধে দিয়ে সস্তার প্রোটিন সাপ্লাই বন্ধ করে দিতে পারলেই তাদের লক্ষ্য পূর্ণ হবে। এই কারণেই গোটা দেশ জুড়ে তাদের গোহত্যা ও গোমাংস বিরোধী যত কর্মকাণ্ড। এ নিয়ে পরবর্তীতে বিষদে লিখব, কিন্তু এটাই মূল উদ্দেশ্য। যা লাক্ষাদ্বীপের করোনা কাল চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিল

আজ লাক্ষাদ্বীপে হচ্ছে, কাল আপনার এখানে ঘটবে। তাই আজই প্রতিবাদে ফেটে পড়ুন, যেভাবে পারবেন

সমস্ত “বিজেপি ও তাদের ন্যাচারাল অ্যালি” বিরোধী সচেতন মানুষ তথা বামপন্থী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক সমাজের কাছে আবেদন- টুইটারে তথা সোশ্যাল মিডিয়াতে #SaveLakshadweep ট্রেন্ড করে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিচয় দিয়ে মোদী সরকারের মুখে জুতোর বাড়ি মেরে মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন

এখনই করুন, নতুবা বড্ড দেরি হয়ে যাবে। প্রফুল্ল প্যাটেলরা কিন্তু মরিয়া হয়ে উঠেছে


বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

ফিলিস্তিন ২০২১- তৃতীয় পর্ব




লেবাননের হিজবুল্লাহ নামের একটি গোষ্ঠীও সিরিয়া ও ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষকে সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসন, গণহত্যা থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার স্বার্থে যুদ্ধ করছে সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দালালদের সাথে। যদিও অনেক ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকেরা বলে এই হামাস বা হিজবুল্লাহ নাকি জায়োনিস্টদেরই তৈরি, সে এক বিতর্কের বিষয়- যার সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
যাইহোক, হিজবুল্লার রকেটের মান হামাসের চেয়ে উন্নত, এরাও প্রতি মিনিটে বিপুল পরিমাণ ‘আনাড়ি রকেট’ দিয়ে 'আইরন ডোম'কে বিভ্রান্ত করেই দ্বিতীয় মিনিটের আক্রমণে সরাসরি 'আয়রন ডোম’কে টার্গেট করে। ইরানীয় ‘ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড’এর উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতেই ‘আয়রন ডোম’ এর গল্প শেষ হয়ে যায়। প্রসঙ্গত ‘কাশিম সুলাইমানি’ ছিল ইরানের এই ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ডের প্রধান, যাকে আমেরিকা খুন করে গত বছর।
আরা ও ইলন নামক স্থানের দুটো আয়রন ডোম ধ্বংস হয়ে যায় ১৮ই মে। দিশেহারা ইজরালের গাজা সীমান্তের পুঞ্জীভূত শক্তির অনেকটা অংশকে লেবানন ও জর্ডন সীমান্তে মোতায়েন করতে বাধ্য হয়, কারন মোসাদের কাছে হিজবুল্লার আক্রমণ নিয়ে কোনো তথ্য ছিলনা। ফলত গাজায় ইজরায়েলের আকাশ হামলার পরিমাণ কমে যায়। এই সুযোগে হামাস সমানে তার আনাড়ি রকেট হামলা চালিয়ে যেতেই থাকে, এবং মাত্র যে ১০% রকেট ইজরায়েলের মাটি স্পর্শ করছিল, তাতেই একাধিক সামরিক ঘাঁটি, শপিং মল, আবাসন সহ জনাকীর্ণ এলাকাতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হওয়া শুরু হয়।
ইজরায়েলের সরকারী মুখপত্রে ঘোষণা করা হয়- ১১ দিনে গাজা থেকে প্রায় ৪০০০ মত রকেট ইজরায়েলের ভূমি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, যার ৯৫%কে আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া গেছে। কিন্তু সাহাম দাবী করে তাদের পক্ষ থেকে ছোড়া রকেটের পরিমাণ ছিল ১২ হাজারের কিছু বেশি, ইজরায়েল নিজেদের ব্যর্থতার লজ্জা বাঁচাতে মিথ্যা বলছে।
ইজরায়েল স্পষ্টভাবে স্বীকার করেনি তাদের দেশের নিউক্লিয়ার গবেষণা কেন্দ্র বিষয়ে, ‘বায়ো উইপনস’ গবেষণাগারগুলো দেশের ঠিক কোন প্রান্তে অবস্থিত এ বিষয়েও কিছুই খোলসা করে বলেনি। এরই মধ্যে ‘আইরন ডোম’কে বোকা বানিয়ে ইজরায়েলের ‘আসকেলন’ শহরের বিমানবন্দরে গিয়ে হাজির হয় এক দিকভ্রষ্ট আনাড়ি রকেট। বির’সেবা শহরের প্রান্তেও হামাসের একটি আনাড়ি রকেট পৌঁছে গেলে তারা প্রমাদ গুনতে শুরু করে দেয়। কিন্তু ১৯মে তারিখ রাত্রে একটি আনাড়ি রকেট তাদের রাজধানী তেল-আভিভের একটি গ্যাস স্টেশনে পৌঁছে ব্লাস্ট করলে গোটা রাজধানী শহর কার্যত আতঙ্কের চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে যায়। ইজরাইলের অস্ত্র ভান্ডার, সেনাছাউনি, অসামরিক-সামরিক বিমানবন্দরগুলোকে বাঁচাতে ইজরায়েলের পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আতঙ্কিত ইজরায়েলি যুদ্ধপ্রিয় নেতারা সহ জনগণ নিজেরা ক্ষতির মুখে পড়তেই, নিজেদের সরকার, গোয়েন্দাদপ্তর ও সেনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়তে শুরু করে, রাস্তায় বেড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে দেয়।
কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়, হামাসের আনাড়ি রকেট নিজেও জানে না সে কোথায় গিয়ে পড়বে- যদি সেই বিপুল রকেটের সমাহার থেকে একটাও ইজরায়েলের গোপন কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র বা জৈব রসায়নাগারে পৌঁছে গিয়ে ফাটে, মুহূর্তের মধ্যে দেশটা গোরস্থানে পরিণত হবে। সুতরাং, অস্ত্রবিরতিতে যাওয়া ছাড়া কোনো দ্বিতীয় অপশন ছিল না তাদের কাছে।
ওদিকে মিশরের শাসক, মার্কিন পুতুল ‘আল-সিসি’ সরকারের প্রতিনিধি- দালালি করতেই নিজেদের নিয়োজিত করেছিল, কিন্তু সে দেশের মুসলিম ব্রাদারহুড ভীষণ শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, তারা গাজা সংলগ্ন উত্তর সিনাই সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য সমস্ত হাসপাতালগুলো উন্মুক্ত করে দেয়, এবং আফ্রিকার নানান ইসলামিক সংগঠনের তরফে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধের ব্যবস্থাও করে অস্থায়ী হাসপাতাল বানিয়ে ফেলে। পাশাপাশি যুদ্ধের অষ্টম দিনে হুঁশিয়ারি দেয়- ইজরায়েল না থামলে এবার মিশরের ভূমি থেকেও রকেট হামলা করা হবে। বন্ধুহীন ইজরায়েল চক্রবূহ্যে আঁটকা পড়ে যায়।
এই অবস্থায় যুদ্ধের নবম দিন সকালে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল টুইটার একাউন্ট থেকে ঘোষণা করা হয় আমাদের- ৯০০০ পদাতিক সেনা তৈরি রয়েছে, যারা খুব শিগগিরই ময়দানে নামবে। ২০১৪ এর অভিজ্ঞতা থেকে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি হামাস বা হিজবুল্লাহ জানে- এটা হচ্ছে অসহায় ইজরায়েলের একান্ত নিজস্ব ক্ষমতার শেষ খড়কুটো। এর পরেই ন্যাটো বা আমেরিকা বাপকে প্রয়োজন। সুতরাং দ্বিগুণ উৎসাহে হামাস তার প্রতি আক্রমণ চালিয়ে যায়।
ইজরায়েললি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছিল, যে জায়গা থেকে তারা ফেরার জায়গা ছিল না- ওদিকে তার রাষ্ট্রপতিই তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এই পরিস্থিতিতে আপাতদৃষ্টিতে আমেরিকা ‘প্রধানমন্ত্রী না রাষ্ট্রপতি’ কার পক্ষ নেবে- সিদ্ধান্তে না আসতে পারার দরুন, এমনকি মুখেও সেই অর্থে হম্বিতম্বিটুকুও না করাতে ইজরায়েল কার্যত একা হয়ে যায়।
এদিকে সিরিয়াতে থাকা রাশিয়ান সেনার উপরে ইজরায়েলি ‘এরিয়াল’ হামলার কারনে রাশিয়া যারপরনাই খাপ্পা ইজরায়েলের উপরে। গত দশকের শুরুতে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অর্থ আর অস্ত্র দিয়ে ‘আসাদ সরকারের’ বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভায়া ইজরায়েল। এখন সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোই নিজেরা প্রাদেশিক সরকার বানিয়ে অঞ্চল দখল করে বসে আছে, যেখানে না আসাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে- না আমেরিকা তথা ইজরায়েল। বর্তমানে ওই সকল বিদ্রোহী সিরিয়ান গোষ্ঠীগুলোর রোজগারের মূল জাইগা- তেলের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে নিয়মিত দুরপাল্লার রকেট হামলা চালায় ইজরায়েল বিনা কারনে। যার জন্য এরাও ইজরায়েলকে বাগে পেতেই তারা অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য পাঠাতে থাকে হামাসকে।
ওদিকে আন্তর্জাতিক দৌত্যর অ্যাডভান্টেজ যদি কেউ পেয়ে থাকে, সেটা ফিলিস্তিনিই পেয়েছিল এইবারে। ইরান শুরু থেকেই হামাস বা হিজবুল্লাহদের সমর্থন দিয়ে আসে, তার সামান্য প্রকাশ্যে বাকিটা গোপনে। এবারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোকে একত্রিত করার যে প্রচেষ্টা করেছিল, তাতে তারা কূটনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করেছে বলা যেতেই পারে। একসময় ব্রিটিশরা ছিল মধ্যপ্রাচ্যে শেষ কথা, তাদের লেজ ধরে অন্যান্য পশ্চিমা ইউরোপের দেশগুলো শোষণ চালাত, পরে আমেরিকা তাদের একচ্ছত্র দাপট দিয়ে এলাকা দখল করে নেয়। সোভিয়েতের পতন হতে ৯০ এর দশক থেকে শুরু হয় লাগামহীন মার্কিনি দাদাগিরি ও অত্যাচার।
মার্কিন মদতে ঘটা ২০১১ এর তথাকথিত ‘আরব বসন্তের’ দূষিত বাতাস ব্যর্থ প্রমাণিত হতেই- মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের মার্কিন মোহ কাটতে শুরু হয়। ততদিনে চীন বৃহত্তর শক্তি হিসাবে এই অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে, রাশিয়াও নতুন করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে- এদের চেয়েও মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে তুরস্ক- যারা গত শতক পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০০ বছর ধরে রাজত্ব করেছিল এইসব অঞ্চলে। সেই তুরস্ককে চীন ও রাশিয়ার সাথে দৌত্য করতেই মার্কিন প্রশাসন সিঁদুরে মেঘ দেখে।
খালি চোখে দেখে মনে হয়েছিল, এরদোয়ানই বোধহয় জর্ডন এবং ইরাকের বিমানঘাঁটি গুলো ব্যবহার করে ইসরাইল উপর আক্রমণ হানার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু কুয়েতের আমির ঘনিষ্ট পার্লামেন্ট সদস্য ‘আবদুল্লাহ নাফেসির’ একটা টুইটে গোটা মধ্যপ্রাচ্য সহ আমেরিকা ও ইজরায়েলে ভয়ানক আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে যায়। টুইটটির দাবী অনুযায়ী- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তরফে সেনা পাঠানোর সবুজ সিগনাল পাঠানো হয়েছিল, সেই মোতাবেক যুদ্ধের নবম দিনে পাকিস্তানি সেনার চিনা যুদ্ধবিমানের তিনটি বহর ইরাক ও জর্ডনের ৫টি সামরিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
চিন সরাসরি নিজে না লড়ে, আসলে পাকিস্তানকে লেলিয়ে দিয়েছিল। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরাক সফরে গিয়ে সেদেশের সেনার সাথে বেশি কিছু সামরিক চুক্তি করে আসে। এর ফলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রদর্শন করলেও তাঁর বেশি আর এগোতে পারেনি, তখনই বোঝা গেছিল, এর পিছনে চিনের মদত ছাড়া এটা সম্ভব ছিলনা। অর্থাৎ সাপের ছুঁচো গেলা পরিস্থিতি হয়েছিল ইজরায়েলের জন্য।
এক্ষেত্রে অর্থনীতি একটা বড় ভূমিকা কাজ করেছে যুদ্ধ থামিয়ে দিতে।
প্রথমত, অর্থনীতির কারণেই এবারে মার্কিনিরা আগবাড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েনি, তাদের আভ্যন্তরীণ মাথাপিছু ঋণ বিপুল, সেদেশও বর্ণবাদ ও বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত। এর সাথে গোটা বিশ্বের মতো মধ্যপ্রাচ্যেও বিপুল পরিমাণে আর্থিক লগ্নি করে রেখেছে চীন। আমেরিকার সঙ্গে চীনের সংঘাত কোন গোপনীয় গল্প নয়, আমেরিকা যদি সরাসরি ইজরাইলের পক্ষ নেয় সেক্ষেত্রে চীন তুরস্ককে দিয়ে ফিলিস্তিনি জোটের পক্ষ নেবে না এ কথাও জোর দিয়ে বলা যাবে না। প্রত্যক্ষভাবে মার্কিন হামলা মানে সরাসরি চীনের সম্পত্তির উপরে হামলা, অবধারিতভাবে যুদ্ধ বাঁধলে চীন তাদের মিত্রদেশ হিসাবে ইরান ও তুরস্কের পাশে দাঁড়াবে। এদের সাথে রাশিয়াও ঝাঁপিয়ে পড়বে মার্কিনিদের বাগে পেয়ে। সুতরাং এই চার শক্তিধর দেশকে অগ্রাহ্য করার শক্তি মার্কিনিদের ছিল না।
আর ঠিক এই কারণেই, প্রতিবার যেরকম ঘুঘুতে ধান খেয়ে ধানের ‘গোলা’টা নিয়েই পালিয়ে যায়, এবারে ইজরাইলের পক্ষে সেই জিনিসটা হয়নি। তাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতার চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ‘টাইমস অফ ইজরায়েল’ নামের সংবাদপত্র লিখেছে- এটা অপরিকল্পিত যুদ্ধ ছিল, নেতানিয়াহুর একান্ত সিদ্ধান্তে। প্রতিদিন যুদ্ধ চালাবার খরচ ছিল ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উপরে। এর সাথে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আনুসাঙ্গিক খরচা মিলিয়ে এই ১১ দিনের যুদ্ধে ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচা হয়ে গেছে, যা তাদের দুঃস্বপ্নেও ছিল না। মোটকথা চারপাশের সাঁড়াশি আক্রমণে নাস্তানাবুদ হয়ে একপ্রকার রণে ভঙ্গ দিয়েছে কাগুজে বাঘ ‘ইজরায়েল’।
ইজরাইল সারা বছর যে কাজটা করে সেটা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিয়মিত অশান্তি লাগিয়ে রাখা। গুপ্তহত্যা, সরকার বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ঘুষ দেওয়া, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মৌলবাদী সংগঠনগুলোকে অস্ত্র ও অর্থ সাপ্লাই করা ইত্যাদি। এসবের মাধ্যমে রাজনৈতিক অশান্তি সৃষ্টি হলেই সেখানে আমেরিকার এন্ট্রি ঘটে ও তাদের নিয়ন্ত্রিত পুতুল সরকার বসিয়ে দেয়। এর ফলে ইজরায়েলের সকল পড়শি দেশগুলো কার্যত তাদেরই নিয়ন্ত্রণে রয়ে যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জও হিজড়া সেজে থাকে যতক্ষণ না ইজরায়েল আক্রান্ত হয়, তাই তারাও রেকর্ডেড বুলির বাইরে কিছুই বলেনি বা করেনি শুরু থেকে।
শেষ দশ বছরে যদি আমেরিকার সাফল্য দেখা হয় তাহলে তার ঝুলিতে শুধুই শূন্যতা আর হাহাকার ছাড়া কিছু নেই। কাতার হাতছাড়া হয়েছে, সিরিয়া থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে, লিবিয়া থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, ইরাক থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে পাত্তাড়ি গুটিয়েছে। এমনকি আফ্রিকার বহু দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরেক দেশ থেকে তাবু গুটোতে বাধ্য হয়েছে যে জায়গাগুলোতে একসময় একচ্ছত্রভাবে ব্যবসা করত। ইউরেশিয়াতে আজারবাইজান- আর্মেনিয়া যুদ্ধ ঘটল, আমেরিকার নামটুকু উচ্চারিত হয়নি সেখানে, এমনই অপ্রাসঙ্গিক অবস্থায় চলে যাচ্ছে মার্কিনি ঔদ্ধত্য। এমতাবস্থায় সরাসরি যুদ্ধ ছাড়া নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা আমেরিকার পক্ষে অসম্ভব, বরং চীন-রাশিয়া-তুরস্ক-ইরানের উত্থানে তাদের পতনও ক্রমশ ত্বরান্বিত হবে। আর যদি একান্তই যুদ্ধ হয়, তাহলে সেটা অবশ্যম্ভাবীভাবে বিশ্বযুদ্ধই হবে।
…ক্রমশ

মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১

শহীদ কমরেড শ্রীবাস হালদার- রেড ভলেন্টিয়ার



শহীদ কমরেড শ্রীবাস হালদার সম্বন্ধে কাল পর্যন্ত কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি। পার্টির তরফে বা রেড ভলেন্টিয়ারদের তরফেও কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি আসেনি।

আমাদের অমূলক আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে আজকের গণশক্তির ৫ নম্বর পাতা গোটাটাই প্রায় রেড ভলেন্টিয়ারর্সের জন্য বরাদ্দ থাকলেও, সেখানে হতভাগ্য 'রেড ভলেন্টিয়ার' কমরেড শ্রীবাস হালদার নিজের জন্য শহীদ শব্দটুকুও বরাদ্দ করাতে পারেননি। না সিপিআইএম দলের পক্ষে ওয়েবসাইট বা সোস্যাল মিডিয়াতে কোনো শোকবার্তা বরাদ্দ হয়েছে।
রেড ভলেন্টিয়ারগিরির দরুন- ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা পুঞ্জীভূত গণক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে এই স্বেচ্ছাশ্রমদান মূলক অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কিন্তু বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছে, প্রান্তিক শ্রেণীর কমরেড।
আরও নিকৃষ্টতম, ঘটনাটা ঘটার পরেই- যারা ঠাণ্ডাঘরে বসে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিচ্ছিল, তারাই আজ দায় ঝেড়ে ফেলার জন্য নানান অপচেষ্টা শুরু করে দিয়েছে।
প্রথম বিপ্লবী- "রেড ভলান্টিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির কোনো ওপর থেকে নির্দেশ আসার পরে তৈরি সংগঠন নয়। রেড ভলান্টিয়াররা তৈরি হয়েছে নিজেদের অঞ্চলেই। নিজেরা সংগঠিত হয়েই তৈরি...."
দ্বিতীয় বিপ্লবীঃ "রেড ভলেন্টিয়ার কোনো ম্যাণ্ডেটারি এক্টিভিটি নয়, পার্টি এটা করতে বলেনি। পার্টির শক্তি তলানিতে, তাই এটা ব্যক্তিগত স্তরের উদ্যোগ......."।
এই লিস্ট লিখতে থাকলে তা শেষ হবে না। এর মধ্যে 'থান, আধলা, ডেরি' সব নেতারা যেমন চলে আসবে- তেমনই স্বঘোষিত সোভিয়েত বিপ্লবীর দল, ভিয়েতনামের কঞ্চি চিবিয়ে খাওয়া যোদ্ধার দল, হাভানা চুরুটে সুখটান মারা গেরিলা যোদ্ধাদের দল.... কে নেই তাতে!
এরাই 'প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা' হীন হয়ে, আবেগি গল্প ফেঁদে গরীবের শিক্ষিত ছেলেগুলোকে ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে- সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিজের ব্যর্থতা থেকে পার্টির কর্মী সমর্থকদের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেবার লক্ষ্যে।

শহীদ কমরেড শ্রীবাস হালদার সম্পর্কের, 'কয়া পিএএস স্কুলের' শিক্ষিকা মাননীয়া রিম্পি ভৌমিক মহাশয়ার এক স্মৃতিচারনা শেয়ার করলাম। কমরেড হালদার ওই স্কুলেরই অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন।

এই স্কুলে প্রথম যেদিন পা রাখি, এই ছেলেটাই নতুন দিদিমণি বলে স্টাফ রুমে নিয়ে গেল। একটা হাফ প্যান্ট পরে স্কুলের উঠোনে মাটি খুঁড়ছিলো। হ্যাঁ এই আমাদের শ্রীবাস, এতদিন আমাদের মধ্যে ছিল,আজ সকালে দিনের আলোতেই আকাশের তারা হয়ে গেল।
আমি আসার ও অনেক বছর আগে থেকেই কয়া পিএএস হাই স্কুলের সাথে ও জড়িয়ে ছিল। স্কুলের ভোকেশনাল স্টাফ হয়েও,অফিসিয়াল, নন অফিসিয়াল সমস্ত দায়িত্ব পালন করতো।মিড ডে মিল থেকে কন্যাশ্রী কি ছিল না ওর দায়িত্বে। আর আমরা টিচার রাও ওর ওপরেই ছিলাম সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
সেই শ্রীবাস,ছেলে মেয়েদের শ্রীবাস দাদা, শ্রীবাস কাকা মাত্র 30 বছর বয়সে আজ না ফেরার দেশে চলে গেল।
স্কুলে সবার আগে পৌঁছে যেতাম বলে 10 টায় এসে গেট খুলে বসে থাকতো। ফ্যান চলছে না তো শ্রীবাস। কিছু খুঁজে পাচ্ছি না তো শ্রীবাস,স্পোর্টস এর মাঠ থেকে সরস্বতী পুজো,পরীক্ষার হল থেকে স্কুলের অনুষ্ঠান শ্রীবাস তোকে ছাড়া অচল।
স্কুল খুললে আর তোকে দেখতে পাবো না। আমি সিকিমে ঘুরছি,তুই ফোন করে বললি ম্যাডাম এবার ছুটি পাবেন ই পাবেন, ফোর্সের চিঠি এসে গেছে।
আর কোনো আনন্দ আমরা পাবো না রে। একসাথে পাত পেরে বসে মাংস ভাত ও খাওয়া হবে না। আমাদের কত আবদার তুই পূরণ করেছিস, কিন্ত নিজের শরীরের আবদার পূরণ করতে পারলি না।
কি আর বলবো, যেখানেই আছিস ভালো থাকিস, শান্তিতে থাকিস।
তোর অবদান কয়া স্কুল কোনোদিন ভুলতে পারবে না।

রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

Lockdown- ১৫ দিনের টুর্নামেন্ট


 

আনন্দবাজারের ওয়েব লিঙ্কে একটা পোস্টার দেখলাম। সেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। মুদিখানা, মিষ্টির দোকান আংশিক খুলে রাখার সিদ্ধান্তের জন্যও ধন্যবাদ জানাই।
কিন্তু-
✔ ঠিক ঈদের পরদিনই কেন পূর্ণ লকডাউন করা হলো? সংখ্যালঘু তোষণের জন্য?

কেরল,তামিলনাড়ু পশ্চিমবঙ্গে একসাথেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। ওখানেও মুসলিম আছে। সেই সরকারগুলো আগেই লকডাউন ঘোষণা করেছিল। বাংলায় ঈদের পরের দিন ঘোষণা হলো। এভাবেই বিজেপিকে বাড়তে বারবার সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে কেন?

WHO কিন্তু সরকারিভাবে ঘোষনা দিয়েছিল, লকডাউন কোনো প্যান্ডেমিকে সমস্যার সমাধান করেনা, লকডাউন একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল অর্থনীতির জন্য। যদিও WHO প্রচুর ভুলভাল বলে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে সুইডেনের মত অনেক দেশ সেটা প্রমান করে দেখিয়ে দিয়েছিল- লকডাউন করোনার সংক্রমণ রোধে কোনো কার্যকরী নয়, এটাতে পুঁজিপতিদের মুনাফা গুনিতক হারে বাড়ে।
আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তথ্য সহ দাবি করেছেন যে, গত লকডাউন এর কারণে দেশের ২৩ কোটি জনগণ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এই তো দেশের জনগনের আর্থিক পরিস্থিতি।
তার পরেও লকডাউনের মত একটা সস্তা সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো?
➤ আসলে খেলা হবে শুনে যারা ভোট দিয়েছিলেন গত মাসে, ভোট মিটতেই খেলুড়ে সরকার তাদের নিয়েই খেলা শুরু করে দিল।
☞ লোকাল ট্রেন, বাস, মেট্রো, অটোসহ সব যানবাহন বন্ধ।
✔
ব্যাঙ্ক আংশিক খোলা- কর্মীরা কীভাবে যাতায়াত করবে? কোনো ব্যাঙ্কে তো লজিং সিস্টেম নেই।
✔
রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা কীভাবে যাতায়াত করবে?
✔
ফার্মাসিস্ট, প্যাথোলজিস্টরা কীভাবে যাতায়াত করবে?
✔
পেট্রোল পাম্প খোলা ও জুটমিল ৩০% খোলা- এদের কর্মীদের যাতায়াত কীভাবে হবে?
✔
যদি জুটমিল ৩০% খোলা থাকে তাহলে অন্য কলকারখানা কী দোষ করল?
✔
জুটমিলের কাঁচামালই বা আসবে কীভাবে, আর ফিনিস গুডসই বা যাবে কোথায়?
✔ রাইসমিল, কোল্ড স্টোরেজ, ফ্লাওয়ার মিল, প্যাকেটজাত খাদ্য সামগ্রী ইত্যাদি বিষয়ে কোনো পরিষ্কার নির্দেশিকা নেই কেন? বাজারে চাল, আলু, মুড়ি, চানাচুর ইত্যাদির প্রোডাকশন না থাকলে বাজারে কালোবাজারি শুরু হয়ে যাবে। হাহাকার শুরু হয়ে যাবে। এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ নেই কেন?
নেই রাজ্যের সবেধন নীলমণি বেসরকারী কারখানা গুলো বন্ধ হলে, সেখানের শ্রমিকদের বেতন কে দেবে?
কারখানার মালিকেরা সকলেই কমবেশি ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছে। তাদের কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাঙ্কের সুদ তো বন্ধ থাকবেনা। NPA হয়ে লাটে উঠলে সে দায় কার?
✔
অক্সিজেন রিফিলিং সেন্টার, প্রোডাকশন ইউনিট, সিলিন্ডার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট- এই তিনটে ইউনিট ১০০% চালু রাখাই শুধু নয়, বরং বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে নির্দেশিকা কই?
✔
বিভিন্ন ওষুধের ফ্যাক্টারি সেগুলোও কি বন্ধ থাকবে? বহু মফঃস্বলে ছোট ছোট কারখানাতে হেলথ টনিক, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজি, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি ওষুধ তৈরি হয় সেগুলোর কী হবে?
✔
গ্রামে গ্রামে যে প্রাইভেট ও কোয়াক ডাক্তারেরা বসেন, সেগুলো সম্বন্ধে কোনো নির্দেশিকা কোথায়? তারা কীভাবে যাতায়াত করবে? তারা যাতায়াত না করতে পারলে লোক তো চিকিৎসাই পাবে না।
✔
বিয়েবাড়িতে ৫০ জন অ্যালাও- এখন বিয়েবাড়ি কেন হবে?
✔
আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহন বন্ধ জরুরি পরিষেবা ছাড়া। তাহলে এই করোনা পরিস্থিতিতে পুষ্টির জন্য- মাছ, ডিম, পাতিলেবু, ডাল, সোয়াবিন ও ভিটামিন সি এর উৎস ফল কীভাবে রাজ্যে আসবে? কী খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে স্বল্পমূল্যে রোগীর ইমিউনিটি বাড়বে?
✔
উপরোক্ত আইটেমগুলো কি জরুরী পণ্যের মাঝে অন্তর্ভুক্ত আছে? থাকলে যে নির্দেশিকা আছে তার উল্লেখ কই?
✔
মাছ ডিমের অভাব হলে, পোল্ট্রি, গরু ও শুয়োরের মাংসের দাম গরিবের নাগালের বাইরে চলে যাবে। তারা কী খেয়ে সস্তার প্রোটিনের ঘাটতি মেটাবে?
✔
অর্থাৎ একটা ধোঁয়াসা পূর্ণ লকডাউন করে কালোবাজারিদের কাছে বার্তা দেওয়া হলো- আমরা খেলে নিয়েছি, এবার তোমাদের খেলার পালা।
✔
রাস্তায় যে কয়েক হাজার রেড ভলেন্টিয়ার্স আর্ত মানুষের সেবায় নিবেদিত, যার পূর্ণ লাভ নিচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে ব্যর্থ সরকার। এই ভলেন্টিয়াররা কীভাবে যাতায়াত করবে? তাদের সরকারি পরিচয়পত্র না দিলে রাস্তায় পুলিশি হেনস্থার শিকার হলে- মানুষই তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফ্রির পরিষেবা না পেয়ে। মৃত্যু মিছিল বাড়বে।

এই প্রশ্নগুলোর জবাব চান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আর শুধান তাদের ভোট দেওয়া "খেলোয়াড়" ভোটারদের- কেমন এঞ্জয় করছেন সরকারি খেলা?
এত দিন খেলা হবে খেলা হবে শুনছিলাম, চলো এইবারে ১৫ দিনের টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে গেছে।

শনিবার, ২২ মে, ২০২১

কমরেড সুদীপ ঘোষ লাল সেলাম।



আরো একটা দুঃসংবাদ

আমরা আরো একটা কমরেডকে হারালাম। আরো একজন #redvolunteer শহীদ হলেন।
তার মৃত্যু সংবাদ কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত হবে কিনা, কোনো গ্রুপে পোষ্ট হবে কিনা কিম্বা সেই পোষ্ট বারে বারে এডিট হবে কিনা অথবা কোনো কমরেড তার টাইম লাইনে স্মৃতিচারণ করবেন কিনা, কতজন লাল সেলাম বলবেন, কত অমর রহে বলবেন, কতজন তাঁর মৃত্যুর কারন নিয়ে তর্ক বিতর্ক করবেন, কতজন দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইবে- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালেন।
হাওড়ার ডোমজুরের কমরেড সুদীপ ঘোষ। বছর ৪০ এর আশেপাশে বয়স। রেখে গেলেন তার স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তানকে।
বেশ কিছুদিন উনি উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, পরে অবস্থার অবনতি হলে সঞ্জীবনী নামের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
*আমরা জানতে পারিনি তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন।
*তাঁর চিকিৎসার খরচা কে বা কারা বহন করেছে।
*তাঁর কোনো বিমা ছিল কিনা।
কেউ জেনে থাকলে দয়া করে জানাবেন।
পোষ্টের পোষ্টারটাও একজনের টাইমলাইন থেকেই পেলাম।
তালিকা লম্বা হচ্ছে, এর পর কে?
শহীদ কমরেড সুদীপ ঘোষের পরিবারের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, পরিবারের একজনের সরকারি চাকরি ও একটা উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণের জন্য নাগরিক সমাজের সর্বস্তর থেকে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হোক। পার্টি নেতৃত্ব আগামীকাল অসহায় পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে তাদের এই চরম দুর্দিনের দিনে পাশে দাঁড়াক। শহিদ মইদুল আলম মিদ্যার পরিবারের পাশে যেমন দাঁড়ানো হয়েছিল, ঠিক সেইভাবে সমস্ত গণসংগঠনগুলি- শহীদ কমরেড হালদারের পরিবারের পাশে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক।
আপনারা যারা রাস্তায় আছেন, ও রাস্তায় থাকা ছাত্র যুবদের অভিভাবক যারা ঘরে আছেন- আপনারা সুরক্ষা সচেতন হোন, ও সন্তানদের সচেতন করুন। কেউ একজন শহিদ কমরেড হালদারের মতো হারিয়ে গেলে, সকলে সাময়িক হা হুতাশ করলেও- চিরস্থায়ী ক্ষতিটা আপনার পরিবারেরই হবে। কমরেড সেটাই শিখিয়ে গেলেন।
কমরেড সুদীপ ঘোষ লাল সেলাম।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...