মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অর্থনীতি বাঁচাতে যুদ্ধ একটা ভীষণ প্রয়োজন

 


রাশিয়া নিজেদের দেশে সৈন্য মহড়া করে, তাই সে যুদ্ধবাজ।

কিন্তু এই অজুহাতে আমেরিকা মাতব্বরি করে অন্য দেশে 8500 সৈন্য পাঠিয়ে দিয়ে- সে মানবতার পক্ষে দন্ডায়মান।


 
ইউক্রেন নিজেই জানেনা তারা আক্রান্ত হতে চলেছে, সেভাবে কোথাও মড়াকান্না কাঁদেনি- অথচ তাদের দেশ থেকে কূটনীতিক অফিসিয়াল দের তুলে নিয়ে এসে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে ইউক্রেনের অর্থনীতি ধসিয়ে দিয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটো জোট। অস্ত্র কিনতে বাধ্য করছে ইউক্রেনকে। এটা খোদ ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ‘ভলোদিমির জেলেন্সকি’ ও প্রধানমন্ত্রী ‘ড্যেনিস স্মিহ্যাল’ এ কথা জানিয়েছে সাংবাদিক সম্মেলন করে।

❎
 ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই- আমেরিকার মাতব্বরি ও অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি, সাথে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রেসার সৃষ্টি করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের জন্য নিন্দা প্রস্তাব এনেছে।

✅
 কিন্তু, যুদ্ধ একটা না লাগালে আমেরিকার যে আর হাঁড়ি চলেনা, অস্ত্র বিক্রি নেই বা থাকলেও তলানিতে। ‘সফটলোনের’ ছিপে উঠা দেশগুলোর কাছে চীনা পটকা বিনে আর গতি নেই, সেই সব দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে ‘কমিউনিস্ট’ লাল চীন। সস্তার অস্ত্রে অস্ত্রবাজারের একটা বেশ বড় অংশে জাঁকিয়ে বসে বাজিমাৎ করছে চীন। ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্ক আর ইজরায়েল সর্বাগ্রে। দামী ট্যাঙ্ক বা অন্যান্য মিশাইল জাতীয় সমরাস্ত্রে রাশিয়া তো মার্কিনীদের মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। এদিকে ব্রিটেন, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ইত্যাদির মত দেশগুলো তাদের এককালের উপনিবেশ গুলোতে এখনও অস্ত্রশস্ত্র বিক্রির একটা বাজার ধরে রেখেছে। বাকি ছিল মধ্যপ্রাচ্য, তাদের মাঝেও সেভাবে বড় কোনো যুদ্ধ নেই এক দশকে- উপরন্তু সকলের গুদামেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত মারণাস্ত্র জং ধরে নষ্ট হচ্ছে বা উৎসবে হাউই-তুবরির মত করে মিশাইল ছুড়ছে শূন্যে। তার উপরে গত এক দশকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বহীন করে প্রায় গায়েব করে দিয়েছে তুরস্ক-রাশিয়া জোট। গত আর্মেনিয়া যুদ্ধেও মার্কিনী গন্ধ টুকু ছিলনা, এমনকি কাজাকিস্তান যুদ্ধেও আমেরিকা অন্তত কোথাও নেই।

যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা বদ- তার মানে কি রাশিয়া দুধে ধোয়া পূত পবিত্র! মোটেও তা নয়, কয়েক বছর আগেই ক্রিমিয়া জবর দখল করেছিল- আজব উপসাগরের কের্চ প্রনালির উপরে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে। ইতিহাস ঘাঁটলে শেষ ৫০০ বছরে এই ক্রিমিয়া অঞ্চলের কের্চ প্রনালির দখলকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫টা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখেছে বিশ্ব। কারন রাশিয়া ভূখণ্ডের মোট ব্যবসার ৬৮%ই সমুদ্রপথের উপরে নির্ভরশীল, আর রাশিয়ার মূল বন্দর কৃষ্ণসাগরের নভোরোসিয়স্ক বন্দর- কারন বছরের অর্ধেক সময় অগভীর আজব সাগর বরফ জমে থাকে, বাকি বন্দরগুলো দিয়ে আফ্রিকা বা এশিয়ার বাজার ধরা ভীষণ ব্যায় সাপেক্ষ। সুতরাং ইউক্রেনের দু-একটা সমুদ্র বন্দর যুক্ত অংশকে দখল করে নিলেই যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেকটাই উন্নতি হবে- সুতরাং রাশিয়াও ‘জোর যার মুলুক তার’ সাম্রাজ্যবাদী নীতিতেই চলছে।

কিন্তু এই যুদ্ধ হবো হবো করেও হয়না বা হচ্ছেনাটা কেন? এর কারন বিশ্লেষণ করে আরেকটা গোটা প্রবন্ধ লিখব এরই ধারাবাহিকতায়।

রাশিয়াকে টাইট দিতে গেলে কৃষ্ণসাগরে মার্কিনী নৌবহর ঢোকাতেই হবে, সেটা করতে গেলে তুরস্কের থেকে ১৫ দিন অন্তর অন্তর অনুমতি নবায়ন হবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে বেড়িয়ে এসে ১০ দিন ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে থেকে তারপর- আজব শর্তের কল।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জ্বালানী- বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য কেউ কেউ ১০০% রাশিয়ার উপরে নির্ভরশীল, যেমন জার্মানি। সুতরাং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেরও অলআউট আক্রমণের সুযোগ নেই- তাই ন্যাটোও ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ নীতি নিয়ে চলে রাশিয়া প্রসঙ্গে।

ওদিকে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে মার্কিনীরা এমন সেঁকে রয়েছে যে তাইওয়ানের আকাশে চীন ফাইটার জেট পাঠালেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে তাইওয়ানের সামরিক অংশীদার আমেরিকা। বুক ফাটলেও মুখ ফাটছেনা চীন জুজুতে। এদিকে চীনা সস্তা পণ্য ইউরোপের বাজারজাত করতে ‘ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলের’ বিকল্প নেই, তাই চীন ব্যবসায়িক কৌশলগত ভাবে রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে রয়েছে- ফলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার একঘরে হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

আচ্ছা গত ৩ দশকে আমেরিকার হয়ে পাড়ায় পাড়ায় যুদ্ধ লাগিয়ে মোড়ল সেজে যে ব্যক্তি গুলো দৈনিক আলোচনার টেবিলে থাকত- তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছাড়াও আরেকটা নাম সংবাদের শিরোনামে থাকত- সেটা ‘সেক্রেটারি ওফ স্টেট’ পদাধিকারী। হেনরি কিসিঞ্জারের মত সেলিব্রিটিকে বাদ দিলেও- ওয়ারেন ক্রিস্টোফার, কলিন পাওয়েল, কন্ডোলিজা রাইস, হিলারি ক্লিন্টন, জন কেরি থেকে ট্রাম্প জামানার মাইক পম্পেও কেও গোটা বিশ্বজুড়ে মোড়লগিরি করতে দেখা গেছে। এরাই অশান্ত দেশগুলোতে গিয়ে অস্ত্র বেচে বেড়াতো, আর লম্বা চওড়া ভাষণ দিতো।

আজকের এই বাইডেন জামানার সেক্রেটারি অফ স্টেট এর নামটুকু আপনি জানেননা গ্যারান্টি, গুগুল করে তবে বলতে পারবেন- ‘এ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন’ বলে কেউ একজন আছে এই পদে, যার কাজ ছিল দেশে দেশে অশান্তি লাগিয়ে বেড়ানো- কিন্তু সে সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ। মোদ্দাকথা, ‘ব্লিঙ্কেন-বাইডেন’ জুটি চরম ভাবে ফ্লপ অস্ত্র বিক্রির বাজার তৈরি করতে। ট্রাম্প তার চার বছরে যুদ্ধ না লাগালেও অস্ত্র বিক্রিতে বেশ দড়ের ছিল। বাইডেন ঠনঠন গোপাল-

এখনও তিন বছর যদি আমেরিকায় এই বাইডেন থাকে, ‘ইউনাইটেড স্টেট’ আর কতদিন ‘ইউনাইটেড’ থাকবে সেটা যথেষ্ট গবেষণার বিষয়।

৮০ বছরে অতিবৃদ্ধ বাইডেনকে কি ক্ষমতায় রাখবে পুঁজিবাদী অস্ত্র ব্যবসায়ী জায়োনিষ্টরা? নাকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ইহুদী কমলা হ্যারিসকে পুতুল সরকার বানিয়ে একটা মরিয়া চেষ্টা চালাবে এই অস্ত্র ব্যবসায়ীর দল?

উত্তর অবশ্যই সময়ের গর্ভে, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ সাত দশকে আমেরিকা কখনও এতটা গুরুত্বহীন, পঙ্গু তথা অবাঞ্ছিত হয়ে যায়নি। বস্তুত মার্কিন পেট্রো-ডলার অর্থনীতি না থাকলে আমেরিকার নুন্যতম গুরুত্ব নেই আজকের 'সফট লোন সাম্রাজ্যবাদী' চৈনিক দুনিয়াতে।

তাহলে কি অচিরেই পেট্রো ডলারের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে?
পেপার কারেন্সি আবার সেই নব্বই এর দশকের ‘সোভিয়েতের রুবেলের’ মত কেজি দড়ে বিকোবে?
ব্যাঙ্কের জমা পুঁজি রাতারাতি ‘নেই’ হয়ে যাবে?
এর জন্যই কি আমাদের কেন্দ্র রাতারাতি বিল আনছে- ‘ব্যাঙ্ক দেউলিয়া’ হলে গ্রাহক কত পাবে?
কাকে বাঁচাতে করোনা ভাইরাসের আড়ালে ধনীদের সুদি পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে গরীব মেরে?

২০২২ উত্তর না দিলেও ২০২৩ কিন্তু অনেক কিছুর জবাব দিয়ে যাবে। কারন লুসার্ণ চুক্তি উত্তর তুরস্ককে রুখতে ইজরায়েল মরণ কামড় দেবেই- আর সেটা সুপার পাওয়ার হওয়ার লক্ষে।

বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য....
সময় জবাব দেবে।

তবে ‘ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকাকে’ বাঁচতে গেলে একটা বড় যুদ্ধ খুব প্রয়োজন, ইজরায়েলকেও সুপার পাওয়ার হতে গেলে ঠিক ততটাই যুদ্ধ প্রয়োজন- যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুপার পাওয়ার ব্রিটেনের থেকে নিঃশব্দে মার্কিনীদের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছিল।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে, আমরা যুগ সন্ধিক্ষণে। অবশ্য ফেসবুকে বুঁদ ও xhamster বা ইউটিউব শর্টস সর্বস্ব প্রজন্মের কাছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে পড়া বা ভাবার সময় কোথায়!

রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২

ভ্যাকসিন ও উদগান্ডু সমাজ



ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে কিছু উদগান্ডু এমন নাচছে যেন বাপের বিয়ের বরযাত্রীতে ফ্রির ফুচকা খাচ্ছে।

*ভ্যাক্সিন কে আবিষ্কার করেছে কেউ জানেনা,
*ভ্যাক্সিনের নামে নুনজল দিচ্ছে কিনা কেউ জানেনা,
*কেউ সেরেছে কিনা কেউ জানেনা,
*কারা কারা কোন দেশে কোন রোগী ভ্যাক্সিনে সুস্থ হয়েছে কেউ জানেনা, কারা এর স্বেচ্ছাসেবক ছিল কেউ জানেনা।
*সম্পূর্ণ ট্রায়ালের রেজাল্ট কি কেউ জানেনা,
কিন্তু এদের আনন্দের শেষ নেই- কেন আনন্দ কেউ জানেনা, কিন্তু তূরীয় আমোদে ভাসছে কেউ কেউ।
ভ্যাক্সিনের ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়ে মুরগি ধরতে নেমে পড়েছে, অথচ আমি আপনি সকলেই হিল্লি দিল্লি ঘুরে দিব্যু বেঁচে আছি, তার পরেও ভ্যাক্সিন আসার আনন্দে কী উল্লাস, উফ... পারলে জাঙিয়ার যন্ত্রপাতি কপালে সাজিয়ে প্রদর্শন করে সাফল্যের আতিশায্যে।
কিন্তু সাফল্যটা কার আর কিসের সাফল্য?
ম্যালেরিয়ার ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে নোবেল পেয়েছিল রোনাল্ড রস , কিন্তু দুনিয়া কাঁপিয়ে দেওয়া করোনার ভ্যাক্সিন আবিষ্কার কারককে কেউ দেখেনি পৃথিবীতে। কোনো কোম্পানি পেটেন্টও নেয়নি। তার পরেও কোথা থেকে ভ্যাক্সিন এলো কোনো জবাব নেই, না যুক্তি আছে না তর্ক। শুধু আছে উল্লাশ, আর অবোধ ভক্তদের আবেগের বিচ্ছুরণ।
সাধারণ মানুষকে চুতিয়া আর বোকাচোদা বানাবার কি দারুণ খুড়োর কল।
হাজার হোক, বাপের বিয়ের সুখই আলাদা- তার জন্য ফেবুতে একটু উৎসব না দেখালে সমাজ বলবে কি! জানিনা এদের বাপের বিয়ের কি কাগজ আছে, তবুও কেউ কেউ ভ্যাক্সিনেও কাগজ ঢুকিয়ে দিয়েছে, আসলে ঢোকানো বার বেড় করার মাঝেই জীবন আঁটকে গেছে, তাদের মাঝে এমন বিপ্লবের জন্ম দেয় বৈকি।
ভ্যাক্সিনটা ড়াগে নেওয়ার আগে লাইভ কোরো বাছা, তবে নতুন স্টেইন এসে গেছে, তাই 'আসচে বচর আবার হপ্পে'। আবার এর চেয়েও বেশি উল্লাস।
কেউ কিন্তু বলেনি ব্রিটেন নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে, আসলে ভক্তদের মুচলেকা দেওয়া বাপ তো হাজার হোক, অবৈধ বাপের বিরুদ্ধে আর কি বৈধ পদক্ষেপ নেবে!
তাহলে কাকা- এক সিরিঞ্জে ক ফোঁড় ?
3

বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২২

গল্পঃ পাঠশালা ও টিউটোপিয়া।



'নামে কিইবা আসে যায়'।
শেক্সপিয়ার বলেছিলেন এই কথা, অবশ্য না বললেও আমাদের অন্তত ক্ষতি হতোনা। করোনা কখন যে ওমিক্রণ থেকে ফ্লোরোনা হয়ে যাবে ধরতেই পারবেননা, যেমন 'লকডাউন' নাম বদলে 'করোনা প্রোটোকল' হয়ে যাবে ধরতে পারা যাবেনা। সে যাই হোক- নামে যে কিছু যায় আসেনা সেটা আমাদের চেয়ে আর কে ই বা বেশি জানে! মুঘলসরাই, সরি পন্ডিত দীনদয়ালজীর দিব্যি।
করোনা আছে কি নেই, চরিত্র বদলাচ্ছে কি বদলাচ্ছেনা, ভ্যাক্সিন কার্যকরী না ভুয়ো - এগুলোর বিষয়ে যা যা কিছু বলার সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কেউ বলছেন না। বললেও তাদের কথা আমাদের কানে আসছেনা, যা আসছে সবই ভায়া। যা কিছু বলার তার সবটাই বলছে সংবাদমাধ্যম, বাকিটা সরকার করছে ও করাচ্ছে। আর সরকার যখন বলছে সেটাই আদেশ, না মানলেই জেল জরিমানা।
'besarkari hola porisaba bhala hoba' বিশ্বাসীদের মতই "করোনা ভ্যাক্সিন নিলে, ইমিউনিটি বাড়ে" মন্ত্রে বিশ্বাসী একজাতের ভক্তের জন্ম হয়েছে। এদের কাছে কোনো যুক্তি নেই, তবুও পবিত্র বিশ্বাসে কোনো কমতি নেই। যারা যারা ভ্যাক্সিনেশন কমপ্লিটেড, তাদের অধিকাংশেরই আবার করোনা হয়েছে। Covid ভ্যাক্সিনের ফয়েলের গায়েই লেখা আছে- ইমারজেন্সি ইউজ অনলি ইত্যাদি। এর পরেও সরকার প্রায় জোর করে ভ্যাক্সিন দিচ্ছে। কিন্তু ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করলেই "লাদেনের নাতিকে" দেখার লুক নিয়ে আমার দিকে চেয়ে থাকবে অর্ধেক সমাজ। ফলাফল- বেনিয়ারা চুটিয়ে ভ্যাক্সিন ব্যবসা করছে।
আসলে আমরা রয়েছি বৃহৎ যন্তরমন্তর ঘরে।
করোনা নাকি বাড়ছে। যে কিটে করোনা ধরা পরছে- আপনি কি জানেন ওটাতে ক্যামিকেলের মাত্রা কমবেশি করলে পজিটিভ/নেগেটিভ সূচক বদলে যায়। আর এই কিট কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত কয়েকটি হাতে গোনা কোম্পানিই তৈরি করে, যেগুলোর ডিটেলস- সাধারন মানুষের জানার অধিকারের বাইরে।
ইন্টারনেটের যুগে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে এমনিতেই বিজ্ঞাপনের অর্থে ভাটির টান। সেই সুযোগে বিকৃত ও বিক্রিত মিডিয়া মালিকেরা ফার্মা কোম্পানির থেকে মোটা পয়সা খেয়ে গুছিয়ে ভয়ের চাষ করাচ্ছে। আর সাংবাদিকদের কথা নাইবা বললাম, সমাজের নিরেট মূর্খ, মানে যাদের কোনো কাজ জোটেনা তারাই সাংবাদিক হয় আজকের দিনে, যেমন অধিকাংশ শিক্ষক মানেই বাস্তববোধ হীন একপ্রকারের ক্লীব জীব, যারা মানুষের মতই বাচ্চা উৎপাদন করে। তাহলে জানাবেটা কে বা শেখাবেটা কে, যে- চারিদিকে যা হচ্ছে তা ভালো হচ্ছেনা বা ভুল হচ্ছে।
আচ্ছা এই যে ২ তারিখ থেকে লকডাউন হয়ে গেল, কেন হলো? জনগণের কথা ভেবে? সরকার মানুষের কথা ভাবলে তো ২৫শে ডিসেম্বর বা ১লা জানুয়ারি জমায়েতে বাঁধা দিতো। ট্রেন বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাড়িয়ে রাত্রি ১০টা করে দিলো। কিন্তু সবার আগে যে সিদ্ধান্ত নিলো- ইস্কুল বন্ধ, সেটা বহাল রইলো। মদ যেহেতু 'নেই রাজ্যের' একমাত্র রোজগেরে দপ্তর, তাই ওটা খোলা রইলো। ইস্কুল বন্ধ মানেই হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাপলা করার সুযোগ, তৃণমূল স্তর থেকে আমলা স্তর অবধি, সর্বত্র।
ইস্কুলে যারা যায়, তাদের বাড়ির লোক কি রাস্তাঘাটে যাচ্ছেনা ঝুলেঝুলে! বাচ্চারা কি বাপ-মায়ের হাত ধরে মেলা, খেলা, পার্কস্ট্রিট, মন্দির, মসজিদ, ভ্রমণ করতে যাচ্ছেনা? কিন্তু ইস্কুলে গেলেই নাকি এদের করোনা হবে। অথচ গোটা পৃথিবীতে করোনাতে আক্রান্ত কোনো শিশুর সন্ধান মেলেনি আজ অবধি।
কিন্তু কেন ইস্কুল বন্ধ? মানে আমাদের বাংলাতে? কেন আনন্দ গ্রুপের সংবাদমাধ্যম করোনা নিয়ে সারাক্ষণ হুমকি ধমকি বা বলা ভালো ভয় দেখাচ্ছে? কেউ প্রশ্ন তুলছেনা অশুভ আঁতাত নিয়ে।
রাজ্যে কোনো বিরোধী দল না থাকলে এটাই হয়। তৃণমূল নামক দলের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই স্বীকার করছে বিজেপি মানেই তৃণমূল, আর সরকার পোষিত কিছু বুড়ো-হাবড়া আর গিটারিষ্ট/নির্বীজ, ভীতু আঁতেল ছেলেপুলে কমিউনিষ্ট সেজে পদে পোঁদ গুঁজে রয়েছে, যারা- না হোমে লাগে না যজ্ঞে। ফেসবুকে এসে দুটো বৈপ্লবিক কথাবার্তা বলে ফেললেই এদের অর্গাজম হয়ে যায়, ব্যাস তাহলে আর বাকি কী থাকে! গোটাটা নীলসাদা অনুপ্রেরণা। সরকারের সমালোচনা করা বা ভুল ধরার কেউ নেই।
আমরা ইন্টারনেটে 'হোয়াইট হ্যাট জুনিয়ার', বা বাইজুস এ্যাপসের বিষয়ে জানি। এমন আরো বেশ কিছু এ্যাপস রয়েছে যারা অনলাইন দোকান খুলেছে ইস্কুলের। জয় শাহ এর নামে বকলমে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবল ক্ষমতাশালী অমিত শাহ BCCI এর প্রেসিডেন্ট, তারাই বাইজুকে প্রোমোট করছে ক্রিকেটের উন্মাদনার আড়ালে। ভাবুন, এই অমিতক্ষমতাধর 'বাইজু' কি চাইবে- সনাতন পদ্ধতির স্কুল খোলা থাকুক?
বাংলাতে 'টিউটোপিয়া' নামের একটা এ্যাপ চালু হয়েছে, যাদের উদ্বোধনে বাংলার তথাকথিত "বুদ্ধিজীবিদের" প্রায় সকলে উপস্থিত ছিল। তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, হার্ভার্ড প্রবাসী সরকারী দলের অধ্যাপক সাংসদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কে নেই সেখানে। ঘোষীত বিবৃতি রয়েছে এদের প্রত্যেকের। আর আমরা কে না জানি,"তাঁর অনুপ্রেরণা" ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী বা অন্য যে কেউ- কারো স্বেচ্ছা পাঁদার অনুমতিটুকুও নেই। অতএব....
এই টিউটোপিয়ার পার্টনার কে? আমাদের ABP গ্রুপ, মানে আনন্দবাজার পত্রিকা, ABP আনন্দ ও টেলিগ্রাফ। শহরের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিলবোর্ড জুড়ে রয়েছে টিউটোপিয়া। কয়েকলাখের অথোরাইজড ক্যাপিটালের কোম্পানির মুল্য সাড়ে পাঁচকোটি আজকের দিনে, কয়েক বছরে এরাই হাজার কোটিতে পৌছাবে- যদি ইস্কুল এইভাবে বন্ধ থাকে। এই টিউটোপিয়া প্রাঃ লিঃ এর যারা ডিরেক্টর তাদের সম্বন্ধে MCA তে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন- সরকার সহ মিডিয়া, এদের অবাধ যাতায়াত। কমেন্টে লিঙ্ক চাইবেননা, সামান্য খুঁজলেই সব লিঙ্ক পাওয়া যায়। আর না পেলে আপনার মত হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা পাব্লিকের জন্য 'এক্স হ্যামস্টার ডট দেশিই" শ্রেষ্ঠ ঠিকানা, ইয়েস- বিপ্লবের।
সুতরাং, টিউটোপিয়া-সরকারে থাকা মন্ত্রী সান্ত্রী ও আমলা- ABP গ্রুপ সহ এদের এই পূর্ণ চক্রের- ইস্কুল খোলা থাকলে লাভ নাকি বন্ধ থাকলে লাভ? সুতরাং সামান্য ধোঁয়ার গন্ধ পেলেই মনসা এবার নেত্ত্য করবেই, ঢাক বাজুক বা না বাজুক। সামান্য ছুতোনাতা পেলেই ইস্কুল বন্ধ করে দেবে। এর বেশি বলবোনা, আমারও প্রোফাইল বাঁচাবার ভয় আছে, বেফালতু মামলা খেয়ে যাবার ভয় রয়েছে।
সুতরাং বুঝেই গেছেন, গোটাটাই একটা অর্থনৈতিক দুর্নীতি, যার পরিকল্পিত স্ক্রিপ্টে ফেঁসে গেছি আমি, আপনি, আমরা সহ গোটা সমাজ। কাল হোক বা পরশু, ইতিহাসের চাবুক এই সত্য একদিন দিনের আলোতে আনবেই। সেদিনের সংবাদপত্রে আজকের দুর্নীতির খবরও ছাপবে, কিন্তু সেটা পড়ার মত শিক্ষিত থাকবেনা আপনার আগামী পুরুষ। অত্যন্ত দামী অনলাইন শিক্ষা কেবল ধনীদের জন্যই সংরক্ষিত হতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে।
সস্তার অদক্ষ শ্রমিক তৈরির জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব সবার আগে শিক্ষাই বন্ধ করবে এবং করেছেও। আপনি সতর্ক হননি, হবেনওনা। ভুগবে আপনারই উত্তরপুরুষ, না হবে মানুষ না হবে মুনিশ।
টিউটোপিয়া বা এই বাইজুস- এদের বিরুদ্ধে পালটা ক্যাম্পেন চালু করুন আমাদের জনগণের তরফে। এদেরকে গণ বয়কট করুন, পুঁজি কেবল লাভ বোঝে, বয়কট করে এদের লোকশানের ব্যালেন্সসিট ধরান, দেখবেন BlackBerry মোবাইলের মত এরাও জাষ্ট গায়েব হয়ে যাবে। ইস্কুলও খুলবে। হোয়াইট হ্যাট ইতিমধ্যেই 'কোডিং শেখো' থেকে সরে গিয়ে মিউজিক শিক্ষার এ্যাপে পৌঁছে গেছে, কাল ঝাঁপ বন্ধ হলো বলে। আমাদের গণ বয়কটই আমাদের আগামীকে সুরক্ষিত করতে পারে, আমরা ছাড়া আমাদের বাঁচাবার কেউ নেই।
বাকিটা মাস্টারদের হাতে, কারন ছাত্ররা জিয়ো বা এয়ারটেলের মত বিকল্প বেছে নেবে যা পাবে সামনে, অদূর ভবিষ্যতে মাস্টারদের BSNL কর্মীদের হয়ে যাওয়ার দিনটা আজই দেখা যাচ্ছে। সরকারি স্কুলই থাকবেনা যখন, তখন সরকারি স্কুল টিচারদের কী প্রয়োজন! আজ মাস্টাররাই ঠিক করুক, এই অশান্ত সময়ে তারা বেতনযুক্ত আরাম সুখ ভোগ করে আগামীর BSNL কর্মী হবে, নাকি ইস্কুল খোলার জন্য জঙ্গি আন্দোলন করবে।
সহমত হলে লেখাটা শেয়ার করে সমাজকে জানাতেই পারেন।

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অকপট ভ্রমণ

 


সকালে পাঁচশো গ্রাম মত চিংড়ি পাওয়া গেছে। নারকেল-পোস্ত দিয়ে মালাইকারি হতে পারে, দোপেঁয়াজা, ডাব চিংড়ি, রসা, ভাপা, সরষে চিংড়ি, পোস্ত চিংড়ি সহ কত কিই না করা যেতে পারে- আমি সেইটা ভাবছি।
Subrata দা বলছিল, যার যাকেই ট্যাগ করোনা কেন Kushal, Satyaki বা Shabnam কে যেন ট্যাগ কোরোনা- বেশ তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি হেসে বললো- ওরা কি জানিবে চিংড়ির স্বাদ! ইন্দ্রনীল, Nayan বা Sourav যদি চিংড়ি নিয়ে কিছু মতামত দেয় সেটা আলাদা ব্যাপার।
ঠিক এই কারনেই Jayanta কেও ডাকনি, কারন Suparna এ বিষয়ে.... ( বাকিটা বলতে আমার আর সাহস নেই, মাথার চুল না থাকলেও দাড়ি আছে। উঁপড়ালে রক্ষে নেই)
"কিংশুক দা বললেন- চিংড়ি নিয়ে নো চ্যাঙরামো। দরকারে আরো একটা ওয়াটারলু লড়ব। কটা চুনোমাছখেকো কি বলবে চিংড়ি নিয়ে! ওরা কি ভাবে জানবে ওই লালচে কুড়কুড়ে শরীরের ভিতরে আধা ভাপা সাদা শরীরে আলতো করে ছুঁয়ে যাওয়া মসলার চুমু- আহা... পেঁয়াজ, লঙ্কার কুচো সাথে নারকেলের স্বাদ, উফ- সাক্ষাৎ অমৃত। চিংড়ির ওই ছোট কোমল পেলব ত্বকে জিভের ছোঁয়া লাগলে কি যে শিহরণ খেলে যায় গোটা শরীর ও মন জুড়ে তার খবর ঘটি ছাড়া কে রাখে! কাঁসার জামবাটিতে থকথকে গ্রেভিতে গলদা সাম্রাজ্ঞী যখন হাজির হয়, তার রূপের ছটা- মুখীকচুর লতি খোরেরা কী জানবে?
যারা কোনোদিন চিংড়ির দাঁড়া ছোঁয়নি তাদের বারফট্টাই ওই কচুঘেঁচুতেই আঁটকে। চিংড়ি হলো সাক্ষাৎ মহাযোগী, অমন শুভ্র টঙ্কার সম শরীরে দাড়ি গোঁফের জটা- আহা, যেন গোটা ইন্দ্রপুরী ধরা দেয় মানসচক্ষে। রাজপাচকের পাকশালের উমদা চিংড়ির কৌলিন্যে কত বেহেমিয়ানই যে বর্তে গেলো তার হিসাব কি ওরা জানে? জিঁড়ের ফোড়ন দিয়ে সারাজীবন 'শুঁটকি' খেকো বাঙাল গুলো এ স্বাদের ছোঁয়া পাবে কীভাবে!"
যা বুঝলাম, আগামী #অকপটভ্রমণ জুড়ে দার্জিলিং জমজমাট।
বাকিটা অকপটের জন্য ছেড়ে দিলাম

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দুর্গাপুজো


দুর্গাপুজো বাঙালি আবেগ, বর্ণিল উৎসব। উৎসবের ভঙ্গিতে দেবী আগমণ করেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে, বাচ্চাদের নতুন পোশাক নিয়ে, প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজনের সাথে একাত্ম করতে, বয়স্কদের পুনর্মিলনীর স্বাদ হয়ে, পরিবারে খুশির পুঁটুলি হয়ে, সুস্বাদু খাবারের জাদু হয়ে, মন্ডপের দর্শনার্থী হয়ে, আলোর জাদুতে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে। ডাকের সাজ, ঢাকের বোল আর আরতির ধোঁয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে, ভক্তের প্রাণে মধুর স্মৃতি হতে মর্ত্যে নেমে আসেন দেবীসময়ের পায়ে পায়ে দুর্গা পুজোর ইতিহাসও নানান ভাবে আবর্তিত হয়েছে কালের কক্ষপথে। চলুন আজকে সেই সংক্রান্ত একটা অগোছালো এলোমেলো আলাপ করি।

অতুলনীয় উৎসাহ ও ভক্তির সাথে, বিশ্বজুড়ে সনাতনী মানুষ দেবীকে সম্মান জানাতে একত্রিত হয়, তাঁর বিজয় এবং ঐশ্বরিক শক্তি উদযাপন করে মহা সমারোহে। মহিষাসুরের উপর দেবী বিজয়, মন্দের উপর ভালোর জয়ের প্রতীক। দেবী ঐশ্বরিক নারীশক্তির মূর্ত প্রতীক, যিনি একধারে যেমন উগ্র তেমনই মাতৃরূপী করুণাময়ী। এই কারনেই দুর্গাপুজো একটি প্রাথমিক ধর্মীয় আচার থেকে, ক্রমে বিশাল সামাজিক-সাংস্কৃতিক জমকালো অনুষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে

দেবীর শক্তি, স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির পুজা করা হয়। একই সাথে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য আশীর্বাদও আহ্বান করা হয়তাঁর ধারণ করা প্রতিটি অস্ত্র শক্তির প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব করে ভয়, অজ্ঞতা, অহংকার এবং অন্যায়ের মতো অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক মন্দকে পরাজিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। রূপকভাবে, মহিষাসুরের সাথে দেবীর যুদ্ধ, সমাজের মধ্যে ভাল এবং মন্দের মধ্যে চলমান সংগ্রামের প্রতিফলন।

দেবী দুর্গা নারী ক্ষমতায়নের বার্তা প্রদান করেন, অপ্রতিরোধ্য প্রতিকূলতার মুখে, অনৈতিকতার উপর ন্যায় এর বিজয়দেবী নিজে সুরক্ষার মূর্ত প্রতীক, হিংস্রতা এবং লালনের মধ্যে ভারসাম্যের প্রতিরূপ। কর্ম এবং ধৈর্য, ​​ধ্বংস এবং সৃষ্টি, শক্তি এবং সহানুভূতির মধ্যে ভারসাম্যে প্রতীক হলে দেবী দুর্গা। ভারত জুড়ে দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপ রয়েছে, বিশেষ করে নবদুর্গা, নবরাত্রির সময় তাঁর নয়টি অবতারের পূজা করা হয়পশ্চিম ও মধ্য ভারতের কিছু অংশে দুর্গা নানা ভাবে, নানা রূপে পূজিত হন।

নন্দীর উপরে শৈলপুত্রী, সিংহের উপরে কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা এবং কাত্যায়নী, বাঘের উপরে চন্দ্রঘণ্টা, গাধার উপরে কালরাত্রি, ষাঁড়ের উপরে মহাগৌরী, ঘোড়ার উপরে ব্রহ্মচারিণী, সিদ্ধিধাত্রী, ইত্যাদি দেবীর নানার রূপ। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রূপগুলির মধ্যে রয়েছে দশটি জ্ঞান দেবীর সমষ্টি, দশটি মহাবিদ্যা, যেমন কালী এবং তারা, এবং আঞ্চলিক প্রকাশ যেমন পূর্ব ভারতে চণ্ডিকা এবং দক্ষিণ ভারতে মারিয়াম্মান, যা তাঁর সর্বোচ্চ নারীশক্তির বিভিন্ন দিককে মূর্ত করে।

বাংলায় দেবীকে মহিষাসুর মর্দিনী রূপে পূজিত করা হয়। দেবী তাঁর স্বর্গীয় আবাস কৈলাস পর্বত থেকে পিত্রালয়ে বেড়াতে আসেন কন্যা বেশে। ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করে পুষ্পাঞ্জলি এবং আরতি এর মতো বিস্তৃত আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। উৎসবের প্রধান দিন অষ্টমীসন্ধি পুজো, যা অষ্টমী থেকে নবমীতে রূপান্তরের প্রতীক

মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে, কিংবদন্তি রাজা সুরথ সভাসদদের ষড়যন্ত্রে রাজ্যহারা হলে, তা পুনরুদ্ধারে ঋষি মেধাসের পরামর্শে তিনি দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। প্রার্থনায় সন্তুষ্ট দেবী রাজ্য ফিরিয়ে দিলে, রাজা প্রতি বছর বসন্তকালে এই পুজোর প্রচলন করেন, যেটি বাসন্তী পুজো নামেও পরিচিত।

বর্তমান বাংলায় প্রচলিত দুর্গাপুজো রাজা সুরথের পুজো নয়। আজ যে উৎসব দেখা যায় তা রাজসিক পুরাণের ছায়ায় কৃত্তিবাস রচিত, ১৫ শতকের বাংলা রামায়ণ অনুযায়ী। এখানে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার আগে শ্রীরাম কর্তৃক দুর্গার উপাসনার ঘটনা রয়েছে, যেটা আশ্বিন মাসে ঘটেছিল। কথ্য ইতিহাস অনুযায়ী নদীয়া জেলার তাহেরপুরের জমিদার কংস নারায়ণই বাংলায় প্রথম শারদীয় দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলেন, বসন্তকালে প্রচলিত দুর্গাপুজোর পরিবর্তে।

লিখিত ইতিহাসে আমাদের বঙ্গদেশে দেবীর আরাধনার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ৫৫০ খ্রিস্টাব্দে বীরভূমের মাটিতে। পরবর্তীতে ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগরের ভবানন্দ মজুমদার দ্বারা পুজোর উল্লেখ ইতিহাসে পাওয়া যায়, যিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পূর্বপুরুষ ছিলেন। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে সম্ভবত কলকাতায় প্রথম দুর্গোৎসবের আয়োজন হয়েছিলো জমিদার সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারে

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকেও, দুর্গাপুজো জনসাধারণের উৎসব ছিল না। দুর্গাপুজো মূলত ধনী ও ক্ষমতাবানদের একটি উদযাপন ছিল, তাই এটা রাজা-জমিদারদের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল, খুব সীমিতভাবে নির্বাচিত কিছু সাধারণ মানুষ আমন্ত্রণের মাধ্যমে পুজোয় প্রবেশাধিকার পেতো শুধু দর্শনার্থী হিসেবেএর মূল কারণ- দুর্গা পুজো একটি ব্যয়বহুল বিষয়। চার দিন ধরে চলা বিবিধ আচার-অনুষ্ঠান, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে আর্থিকভাবে বহন করা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। শতশত বছর ধরে পুজো পর্যায়ক্রমে রূপান্তরিত হয়েছে। হুগলিগুপ্তিপাড়া পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয় ১৭৯০ সালে, ‘বারোয়ারী দুর্গোৎসব’ ভাবনাটাই এই প্রিয় উৎসবের দুয়ার খুলে দেয় আম মানুষের জন্য। সত্যিকার অর্থে জনসাধারণের উৎসবে পরিণত হয়

আজও গ্রাম বাংলার পুজো কলকাতার পুজোর থেকে সূক্ষ্মভাবে আলাদা। গ্রাম্য জীবনে পুজো চার দিনের নয়, গুণে গুণে দশ দিনের উৎসব। মফঃস্বলের পুজো, শহুরে বিলাসী বৈভবের বাইরে গিয়ে একটা মেঠো সোঁদা গন্ধ বহন করে। শ্রেণী এবং মর্যাদার এক অদম্য আধিপত্য গ্রামীণ মানুষকে বেঁধে রাখে, যা নগর জগতে শিথিল হয়ে যায়। এখানে জীবন কিছুটা ধীর, তাড়াহুড়ো হীন প্রশান্ত। মেঠো থ আর ভেজা কাদা যেমন মাখামাখি করে থাকে, তেমনই আবেগের সাথে ঐতিহ্য ধরা দেয় গ্রামজীবনে- এই অনন্য আনন্দ জীবনের কঠিনতাকেও রাঙিয়ে দেয় অদ্ভুত প্রসন্নতায়। 

বেগ প্রকাশে অক্ষমতা থাকলেও, অনুভবে তাকে রোখা যায়না। স্মৃতির রোমন্থনসুখ অভূতপূর্ব সুখানুভূতি, যেন দূষণমুক্ত বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার মতই ফুরফুরে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মূল ফটকের ভেতরে একটা উঁচু মঞ্চের উপরে শামিয়ানা, তার নিচে সপরিবারে মা দুর্গা। ম্যারাপের অদূরে একটা বাতাবি লেবুর গাছ, পূর্ণ প্রস্ফুটিত শিউলি গাছটার পাশে ফলন্ত আতা গাছ। ইতিহাসের সাথে মাখামাখি করে থাকা ভগ্নপ্রায় পুরাতন প্রাসাদসম দালান থেকে ঝোলা আইভি লতা, শ্যাওলা ধরা ভাঙা ক্ষয়াটে দেওয়াল, তার মাঝে ইতিউতি কিছু জড়াজীর্ণ মুখের সারি।

একটা বদ্ধ ঘর, পুরানো মরচে পড়া বইয়ের সারি, তার গন্ধ যেগুলি স্পর্শ ধরা যায়না, সেই বাতাসে যাপন করলে তবে মেলেপ্রবীনদের মুখে শোনা পারিবারিক ইতিহাস, এখানেই উৎসবের সার্থকতা। অপ্রত্যাশিত আপেক্ষিকতার সমাবেশ ঘটে গ্রামের এই জাতীয় পুজোতে বার্ষিক প্রত্যাবর্তন উদযাপন করতে মিলিত হওয়া শহুরে প্রাণ, গ্রাম্য প্রতিবেশীদের সাথে প্রাঙ্গণ জুড়ে আলাপি বৈঠকে মেতে উঠে, প্রসাদ বন্টনের অছিলায় আনন্দের বন্টনও হয় বৈকি

পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের নগরায়ন হয়েছে বৈকি, অনেক থিমের পুজো আজকাল প্রাচীন এবং আধুনিকের নিখুঁত মিশ্রণ হয়ে উঠছে। প্যান্ডেলের থিম, প্রতিমা উদ্ভাবন ও আলোক সজ্জার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে গেছে। স্বাধীনতা-উত্তর যুগে, কলকাতার দুর্গাপুজো ক্রমশ শৈল্পিক স্বত্তা প্রকাশের একটি জীবন্ত ক্যানভাসে রূপান্তরিত হয়েছে। সৃজনশীল ধারণা নিয়ে আয়োজকদের ক্রমাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, উৎসবটিকে শিল্প ও সংস্কৃতির বার্ষিক প্রদর্শনীতে পরিণত করেছে

আজকের মন্ডপ গুলো জলবায়ু পরিবর্তনের গল্প বলে, লিঙ্গ সমতাকে সামাজিক সমস্যা হিসাবে তুলে ধরে। প্রতিটি প্যান্ডেল যেন একেকটা ছোট গল্প, যার রেশ শেষ হয়েও শেষ হয়না। ধর্মীয় গন্ডির বাইরে গিয়ে আজকের দুর্গাপুজো একটি অর্থনৈতিক উদপানের উৎসব। বিপুল সংখ্যার শ্রমজীবী মানুষের কাছে এটা রুটিরুজি আমদানির কারনে উচ্ছ্বাসের। পোশাক শিল্পের উত্থান ঘটে, ছুটির দিনগুলো পর্যটন শিল্পে বিকাশ ঘটায়, পরিবহণ শিল্পে নতুন রক্ত সঞ্চালন করে। কলকাতায় বিপুল জনসমাগম শহরের অর্থনীতিতে জ্বালানি যোগান দেয়ফলত রাষ্ট্রের জন্যও এটা অর্থনৈতিক শক্তিদায়ক

পুজো যতক্ষণ ধর্মীয়ভাবে সীমাবদ্ধ ছিল, ততক্ষণ এটি শুধুই ভক্তের উৎসব ছিল। আজকে যখন পরিধি বাড়িয়ে বাংলার দুর্গাপুজো বিস্তৃতি লাভ করেছে গণ উৎসবে, থিমের প্যান্ডেল, বহুজাতিক খাদ্যোৎসবে, থিয়েটার, চলচ্চিত্র, হর্ষে, আনন্দ-উল্লাসে পরিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিতে, তখন বৈশ্বিক স্বীকৃতি এসেছে UNESCO থেকে। কোলকাতার ঐতিহ্য হিসেবে ‘দুর্গাপুজো’ নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

অনেকে কলকাতায় গিয়ে দূর্গাপুজো দেখার স্বপ্ন দেখেনকোলকাতার বিখ্যাত কিছু দুর্গাপুজোর জনপ্রিয় স্থান- শোভাবাজার রাজবাড়ী, মোঃ আলী পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, বাগবাজর সর্বজনীন, কুমোরটুলি সর্বজনীন, আহিরীটোলা সর্বজনীন, কাশী বোস লেন, তেলেঙ্গাবাগান, চালতাবাগান, ম্যাডক্স স্কোয়ার, আদি বালিগঞ্জে সর্বজনীন, একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংঘি পার্ক, হিন্দুস্তান পার্ক, দেশপ্রিয় পার্ক, সুরুচি সংঘ, মুদিয়ালি, শিব মন্দির, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, চেতলা অগ্রণী ক্লাব, লাটুবাবু ছাতুবাবুর বাড়ির পুজো, দাঁ ভবন, জানবাজার রাজবাড়ী, ঠনঠনিয়া দত্ত বাড়ি, মল্লিক বাড়ির পুজো উল্লেখযোগ্য।

আজকের দিনে দুর্গাপুজো বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করে, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে, জাতি হিসাবে সূক্ষ্মভাবে নিজেদের সংগঠিত হওয়ার মঞ্চ দেয়। আধুনিকতা আর সাবেকের মিশেলে আসলে আমরা আগামীর ঐতিহ্যকে লালল করে চলেছি। কুমোরদের ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতা, ডাকের সাজ, ঢাকের বাদ্যি, মন্ডপ সজ্জার সৃজনশীলতা, দেবীর আরাধনার জন্য তৈরি করা বিস্তৃত আচার-অনুষ্ঠানই আসলে আদর্শ বনেদিয়ানার প্রতীক। আগামী যাকে উদযাপন করবে অহংকার আর গর্ব হিসাবে।

 

-       - বিলাতের ‘মনিহার’ পত্রিকার পুজোবার্ষিকীতে প্রকাশিত

 

সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

করোনা ভ্যাক্সিনের সাইড এফেক্ট


 

কিছুনা, আসলেই কিছুনা

করোনা পিরিয়ডে, মানে ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে রোড এক্সিডেন্টে মরলেও সরকারি নথিতে করোনাতেই মরেছে লেখা হয়েছে- এর জন্য আবার লিঙ্ক চাইবেনা যেন

অবশ্য মিডিয়ার দেখানো ভয় বাজি, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর টাকা সাইফনিং আর সরকারি বিজ্ঞাপনের দৌলতে একবার ভ্যাকসিন নেবার পর মরলে - আপনি হার্ট ফেল, কিডনি সহ মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে মরুন- করোনা আপনার কখনই হবেনা। মানে যারা এইভাবে মরেছে তাদের কারোরই করোনা হয়নি। কিন্তু সেই ডেটা আছেটা কার কাছে? কতজন সত্যকারের ভ্যাক্সিন নিয়েছে, সেই ডেটা প্রতিটি ভ্যাক্সিন কোম্পানির কাছেই আছে, কারন প্রতিটি ভ্যাক্সিনের নির্দিষ্ট নাম্বার ছিলো

প্রতিটি ভ্যাক্সিন কোম্পানি জানে তাদের "ট্রায়ালে" মর্টালিটি রেট কত। কিন্তু সেটা জনগণকে জানাবেনা। সরকার বা আদালত যারা চালায় তাদের মাঝেই তো "বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে গরু অক্সিজেন দেয়" শীর্ষক রায় দেন। সুতরাং কোভিড সংক্রান্ত আসল তথ্য এ পোড়ার দেশের জনগন কখনই জানবেনা

হ্যাঁ, এখনও ট্রায়ালই চলছে- আজও সেল্ফ ডিক্লিয়ারেশন দিতেই হয়। মানে আপনার পটল তোলার দায় একান্তই আপনার নিজের- সরকার বা ভ্যাক্সিন কোম্পানির কোনো দায় নেই। বুঝতেই পারছেন, কেন আমাদের দেশের কোনো ভ্যাক্সিনই পরিপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তার মাঝে একটিকে তো কেউই মান্যতা দেয়নি

অনেকেই বলবেন, কোটি কোটি মানুষ ভ্যাক্সিন নিয়েছে, কতজন আর মরেছে! জ্বী, নুন-জলে কী আর মানুষ মরে! শুরুতেই বলেছি ট্রায়াল চলছে, তবেই না একটা এ্যাম্পুল থেকে ৫-৭ জনের মাঝে কাউন্টার বিলি করা যায়। যারা একটু কেউকেটা, তারা বাঁচার তাগিদে 'আসল' ভ্যাক্সিন নিয়েছিল- ফলাফল দেখুন- রেল লেগে গেছে সেলিব্রিটি মৃত্যুর। সেই তুলনাতে আপনার পাশের বস্তি বা গ্রামাঞ্চলে করোনা আছে?

জানি আপনি তর্ক করবেন, কারন ভ্যাক্সিন নিয়েছেন, তাই স্বপক্ষে আপনি বলতে দায়বদ্ধ- লেজকাটা শেয়ালের মত।

প্রশ্নই আগেও ছিল- করোনা অদৌ কোনো প্যাথোলজিক্যাল রোগ নাকি এটা একটা ক্যাপিটালিজম রোগ। ভ্যাক্সিনে করোনা না সারলেও যারা ভ্যাক্সিন কোম্পানি খুলেছিলো তাদের পৌষমাস- আঙুল ফুলে বাওবাব গাছ

ভেবে লাভ নেই, আপনি সেই নির্বোধের মতই নেচে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাক্সিন নেবেন, আর সপক্ষে এঁড়ে তর্ক করবেন যুক্তি ছাড়া

 


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...