বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

ইজরায়েলঃ মিথ বাস্টার

 




এই লেখার মূল উদ্দেশ্য ইরাণকে সমর্থন নয়, ইসরাইলের বিরোধিতা, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা।

সংবাদে প্রকাশ ‘যায়োনিষ্ট অকুপাইড ফিলিস্থিন’ (ZOP) তথা ইজরায়েল নাকি এক তৃতীয়াংশ ধংস হয়ে গেছে, প্রাক্তন মার্কিন সেনা কর্তা ম্যাকগ্রেগরের দাবী মতে অন্তত সেটাই। ভুল কথা, ইজরায়েলের ক্ষতি ১০০% পেরিয়ে এখন মাইনাসে রান করছে। পুরো উলঙ্গ হয়ে গেছে তাদের দম্ভ, অহংকার আর মিথ। তাই সে এখন যুদ্ধ জয়ের চেয়ে নিজেদের দেশের ক্ষয়ক্ষতি লুকাতে ব্যস্ত, প্রকাশ্যের আমেরিকার সাহায্য চাইছে, ধমকি দিচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে। নমঃ নমঃ করে আমেরিকা ঘন্টি বাজাতে বাজাতে বোম্বার জেট নিয়ে হাজিরও হয়েছে। ইজরায়েল ভিক্টিম কার্ড খেলছে, খড়কুটো আঁটকে যেমন ডুবে যাওয়া ব্যাক্তি বাঁচার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে- ইজরায়েল সেই চেষ্টা করছে।

১৯৪৮ থেকে একটু একটু করে একটা পাহাড়সম মিথ গড়ে উঠেছিল- ইজরায়েল অপরাজেয়। দীর্ঘদিন ধরে চালানো একতরফা একটা প্রপাগান্ডা মেসিনারি- পরিকল্পনা করেই এটাকে তৈরি করেছিল। ভক্তেরা বা আমাদের দেশের একটা বড় অংশ আজও বিশ্বাস করে, ইজরায়েল ঠিক ইরাণকেও সিরিয়া বা ইরাক বানিয়ে দেবে। তারা অতীতের ঘোরে বুঁদ হয়ে জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস হয়ে বসে রয়েছে। প্রাক সোস্যালমিডিয়া যুগে শুধু সংবাদ পত্র আর টিভি মিডিয়া ছিল, সেটা ছিল একতরফা। তারা যেটাকে দেখাতো, যেটা বলতো, সেটাই একমাত্র সত্য ছিল। প্রশ্ন করা বা ফ্যাক্টচেকের প্রায় কোন কিছুই ছিলোনা, বারংবার একই মিথ্যা শুনলে, দেখলে বা পড়লে একসময় সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করি আমরা। কিন্তু আজকের যুগে প্রায় সকলের হাতে মোবাইল, সকলে ক্যামেরাম্যান। সস্তার নেটে একটু শ্রম দিলে আসল তথ্য জানা খুব সহজ, তাই কোনো কিছুই আর একমুখী নয়। প্রোপাগান্ডার আয়ু বেশিক্ষণ টেকেনা।

ইজরায়েলের প্রথম গর্ব ছিলো তাদের গোয়ান্দা সংস্থা- মোসাদ। মোসাদকে এমনভাবে পশ্চিমা মিডিয়া উপস্থাপন করেছিল যে, সে অপরাজেয়, অপ্রতিরোধ্য। স্কোরসিটে প্রথম পঞ্চাশের সবকটা স্থানে তারই নাম। তার প্রতিযোগীদের থেকে দুরত্ব কয়েক আলোকবর্ষের। মোসাদ যা খুশি, যেখানে খুশি, যেভাবে খুশি করতে সক্ষম। ইরান দেখিয়ে দিলো- মোসাদ ফোলানো গ্যাস বেলুন, নিজেদের সদর দপ্তর রক্ষা করতে ব্যর্থ। ইরাণের কোথায় অস্ত্র সম্ভার তা খুঁজেই পায়নি, পেলে কি সেটা আস্ত রাখত? অথচ তথাকথিত মোসাদ থাকার পরেও গোটা ইজরায়েল প্রতিটি গুপ্ত ঘাঁটি ইরাণের নখদর্পনে, রীতিমত থ্রিডি ম্যাপ রয়েছে ইজরায়েলের প্রতিটি অলিগলির। মোসাদ টেরও পায়নি তাদের দেশেই ঘোগের বাসা রয়েছে। মোসাদের ফেল ইজরায়েলের মিথের সবচেয়ে বড় ক্ষতি, সবচেয়ে বড় বেইজ্জতি।

ইজরায়েলের মিথ ভেঙে যাওয়ার দ্বিতীয় কারন- তাদের প্রযুক্তি সর্বাধুনিক, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা state of the art। শ্বেতাঙ্গ প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারি প্রতিষ্ঠা করেছিল- ইজরায়েলকে কেউ ছুঁতে পারবেনা। মারণ বিমান বাহিনী, আয়রণ ডোম, ডেভিডস স্লিং, এ্যারো আর মার্কিন থাড- একযোগে বিপুল আয়োজন। প্রত্যাঘাত হানার জন্য ১৮টা মিলিটারি বেস গোটা মধ্যপ্রাচ্যে, সাথে ছোট বড় মিলিয়ে এক ডজন ব্যাটেল-শিপ। এমন বিপুল আয়োজনের ভিড়ে মাছি গলবে সাধ্যি কী! ইরান সেই মিথকে গুড়িয়ে মাটিতে মিসিয়ে দিয়েছে। ইরান রীতিমত রোজ অন্তত ৫-৭ ঘন্টা আগে ম্যাপে এরিয়া সিলেক্ট করে দিয়ে হামলা করে, চেয়ে দেখা ছাড়া সেভাবে কোন প্রতিরোধ করতে পারেনি। ইজরাইলের আকাশে রোজ অন্তত এক ঝাঁক ড্রোন উড়ে আসে মিসাইলের আগে, যারা আইরন ডোমকে ব্যস্ত রাখে। এগুলো তো আর ইরান থেকে আসেনা, আশেপাশের কোথাও থেকে আসে। ইজরায়েলের কোনও প্রযুক্তি ধরতে পারেনি, ড্রোন কোথা থেকে আসে। যারা দাবি করত “We are the chosen one for the promised land.”  আর এই দাবীর সম্পক্ষে নির্বিচারে গনহত্যা করে রোজ একটু একটু করে অন্য রাষ্ট্রের জমি দখল করত, আজ তারাই ইঁদুরের মত বাঙ্কারে লুকাচ্ছে, দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে দলে দলে করে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। প্রযুক্তি আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার state of the art ফানুসকে ফাটিয়ে দিয়েছে ইরানী মিশাইল।

পৃথিবীর সমস্ত টেক জায়েন্ট তাদের সমস্ত প্রযুক্তির সূতিকাগার বানিয়েছিলো ইজরায়েলে। দাবী ছিলো- গোটা পৃথিবীর সেরা প্রযুক্তিতে ছিলো দখলদারদের একচ্ছত্র অধিকার। সমস্ত রোবটিক টেকনোলোজির ধাত্রীগৃহ ছিল একান্তই ইজরায়েলে। ইরান প্রমাণ করেছে সে সব ফাঁপা ও মিথ্যা বুলি ছিলো। ওয়েজম্যান ইন্সটিটিউট হোক বা মাইক্রোসফট অফিস- খোলামকুচির মত রাস্তায় মিসে গেছে। দখলদারেরা পালাতে পারলে বাঁচে। যারা আছে, গর্তে লুকিয়ে নিজেদের মাঝে চুলোচুলি করছে। প্রথম বিশ্ব থেকে সাতদিনের অন্তরালে উদ্বাস্তু শিবিরে পরিনত হয়েছে ‘যায়োনিষ্ট দখলকৃত ফিলিস্তিন’।

আসলে ইজরায়েল রাষ্ট্র যে কারনেই বানাক ব্রিটেন ও রসচাইল্ড পরিবার, গত ৫০ বছর ধরে এটা বিশ্বজুড়ে মস্তানি করা আমেরিকার তোলা আদায়ের ‘পার্টি অফিস’ ছিলো। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কালেকশন এজেন্ট বসিয়ে রেখে প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে তোলা আদায় করে আসছে নানান উপায়ে। শেষ ৩৫ বছরে যত যুদ্ধ, সবটা এই নেতানিয়াহুর অধীনে, তার পরিকল্পনাতে। নেতানিয়াহু আসলে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও বিশ্বস্ত কালেকসন এজেন্ট। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসা ইস্তক এই লোক কখনও ২-৩ বছরের বেশী ক্ষমতার কেন্দ্রের বাইরে থাকেনি। ছলে বলে কৌশলে ইজরায়েলের মূল রাজনৈতিক সিস্টেমে নেতানিয়াহু বারে বারে ফিরে এসেছে বা আমেরিকা তাকে ফিরিয়ে এনেছে।

নেতানিয়াহু যুগের শুরুতে ফিলিস্তিন নামের দেশটার অস্তিত্ব ছিলো, এরপর ধীরে ধীরে দুনিয়ার বুক থেকে ফিলিস্তিন নামটাকেই গায়েব করে দিয়ে- গাজা আর ওয়েষ্ট ব্যাঙ্ক নামে দুটো জেলখানাতে রুপান্তরিত করেছে। যাদের না আছে নিজশ্ব পার্লামেন্ট, না রাজনীতি, না আছে নিজেদের মুদ্রা, না খাদ্য-পানীয়, না আছে নিজেদের কোনো স্বাধীনতা। গাজা জেনোসাইডের মাস্টারমাইড এই নেতানিয়াহু। গনবিধ্বংসী অস্ত্রে থাকার দাবী তুলে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ছাড়খার করে দেওয়ার কারিগর- এই নেতানিয়াহুই। আইসিস ও আল-কায়েদা নামের জঙ্গিগোষ্ঠী এই নেতানিয়াহুর আমলের সৃষ্টি। ‘ইসলামিক জঙ্গীবাদ’ শব্দের জনক ইনিই, এই কারনেই RSS এর পোষ্টার বয় নেতানিয়াহু।

মধ্যপ্রাচ্যে একটা আরবী প্রবাদ রয়েছে- আমাকে তো সেদিনই খেয়ে ফেলা হয়েছিল, যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয় এই প্রবাদের পেছনের গল্পটা হলো- তিনটি ষাঁড় ছিল– সাদা, কালো এবং লাল। তারা একসাথে থাকত। একদিন সিংহ প্রথমে কালো ও লাল ষাঁড়কে বলল, ‘তোমরা যদি আমাকে সাদা ষাঁড়টিকে খেতে বাঁধা না দাও, তাহলে আমি তোমাদের ক্ষতি করব না তারা রাজি হলো। এরপর সিংহ সাদা ষাঁড়টিকে খেয়ে ফেলল। কিছুদিন পর সিংহ আবার ফিরে এসে কালো ষাঁড়কে বলল, যদি লাল ষাঁড়টিকে খেতে বাঁধা না দাও তাহলে তোমার কোন ক্ষতি করব না। ফলে কালো ষাঁড়টি নিশ্চুপ হয়ে লাল ষাঁড়ের বিনাস দেখেছিলো। সর্বশেষ যখন সিংহ কালো ষাঁড়টিকে খেতে আসলো, তখন তাকে বাঁচানোর মতো কেউই ছিল না৷

ইরাক, সিরিয়া, ইজিপ্ট, সৌদি, আমিরাত সবাই সেই ষাঁড়ের দল। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ‘ইতামার বেন গাভির’ স্বীকার করেছে যে, নেতানিয়াহু নিজেকে সিংহ ভেবে Operation Rising Lion নামে ইরাণকেও ষাঁড়ের দলের একটা ভেবে আক্রমণ করেছিলো। ইরাণ সিংহ না হলেও অন্তত হায়েনা যে বটে, সেটার সাক্ষী আজ বিশ্বের সকলে। সিংহ সেজে আরবের প্রায় সকল ‘মোল্লা ষাঁড়’ সাবার করে ইরানের দিকে হাত বাড়াতেই, ইজরায়েলের ভিতরের ছাল ওঠা কুত্তাটা বের হয়ে গেছে।

ইজরায়েল এতদিন যখন যাকে ইচ্ছা গেছে তাকেই মেরেছে, বেহিসাবি মেরেছে। ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে রেখেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে আমেরিকা আর ন্যাটো এ্যাম্বুলেন্সের মত সাইরেন বাজাতে বাজাতে এসে, বোমা ভর্তি বিমান নিয়ে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তকে নিঃশর্ত পূর্ণ সমর্থন করেছে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। আফ্রিকা থেকে ইউরোপের সাপ্লাই লাইন সক্রিয় রাখতে, আর মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়াতে ‘ডর কা মাহল’ বানিয়ে রাখার জন্য ইজরায়েল হলো আমেরিকা আর ইউরোপের প্রাণভোমরা, পাতি বাংলাতে কালেকশন এজেন্ট।

এতোদিন যে যুদ্ধগুলোই ইজরায়েল শুরু করেছে, সাথে সাথে আমেরিকা ও ন্যাটো ঝাঁপিয়ে পরে সহযোগিতা করেছে। সেগুলো একপ্রকার প্রতিরোধহীন ও একতরফা ছিলো। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্থান, লেবানন, লিবিয়া, ইয়েমেন, ইজিপ্ট, সোমালিয়া, তিউনিসিয়া সহ সর্বত্র একতরফা আক্রমণ ছিল। এই দেশগুলো সামরিক সক্ষমতায় আমেরিকার হাাজার ভাগের একভাগও ছিলোনা, কোনো তেমন অস্ত্র সম্ভার ছিলোনা যা দিয়ে সামান্যতম প্রতিরোধ করতে পারে। ফলত ইজরায়েল বা আমেরিকা জোট একতরফা বিজয় পেয়েছে, নিজেদের পুতুল সরকার বসিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের হরির লুঠ চালিয়েছে। সৌদি, বাহারিন বা আমিরাতের মত হিজরে মোল্লা রাজা গুলো শুরুতেই আমেরিকার পায়ে পরে গিয়েছিল, ষাঁড় সেজে। তাদের অভয়ারন্যে রেখে দিয়েছে ডামি রাজা বানিয়ে, আসল সব সিদ্ধান্ত আমেরিকা যা ইজরায়েল কার্যকর করে। এই শতাব্দীর শুরুতেও পৃথিবী একমেরু ছিল, আমেরিকা কেন্দ্রিক। ভেঙে যাওয়া সোভিয়েত থেকে জন্মানো রাশিয়া তখনও কিশোর, চীনও তাই। আজ ২০২৫ এর পৃথিবী দ্বিমেরু যুক্ত। রাশিয়া, চীন রীতিমত আমেরিকার জন্য চ্যালেঞ্জ।

আমাদের দেশ ভারতও এগিয়ে যেতে পারত যদিনা ‘মুসলমান মারাটাকে’ সনাতনী এ্যাজেন্ডা বানিয়ে ফেলতো বিজেপি। বিদেশনীতিতে জোর দেওয়া একটা শিক্ষিত রাষ্ট্রপ্রধান যদি থাকত, আমাদের আজ সেই রেলা হতো, ১৪০ কোটির আওয়াজ কোনো ছেলেখেলা নয়। ক্লাস ফোর ফেইল একটা জোকারকে ক্ষমতায় বসানোতে যা হবার সেটাই হয়েছে, সবর্ত্র ফেকলু গিরি।

ইরানের চেয়ে আমাদের সেনা সক্ষমতা, আমাদের অস্ত্রভান্ডার, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের ব্রেইন, আমাদের নিজশ্ব প্রযুক্তি- কিসে আমরা এগিয়ে নেই? ইরান যেখানে আমেরিকার একটা ধমকিকেও আমল দেয়নি, সেখানে সারেন্ডার সাহেব, ট্রাম্পের ধমকিতে কুঁচকে গিয়ে এডভান্টেজ পজিশন থেকে পিছিয়ে এসেছে হাঁটু গেঁড়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বাকি রাষ্ট্রপ্রধানেরা আসলে ক্লীব ও পশ্চিমাদের উচ্ছিষ্টভোগী দাস। শুধু আমাদের মোদীই নয়, বাংলাদেশের ইউনুস ও পাকিস্তানের শরীফ, এই দুটোও ওয়াসিংটনের পাপেট, জড়ভরত সাক্ষীগোপাল। সিদ্ধান্ত সব কিছু প্রভুর তরফে আসে, এনারা পাঠ করেন মাত্র।

ইরাণে এসে সর্বপ্রথম ইজরায়েল এই প্রথম কোনো ধাক্কা খেলো। কটা বিল্ডিং ধ্বসেছে সেটা বড় কথা নয়, ছয় মাসের মধ্যে আমেরিকা সে সব আবার বানিয়ে ফেলতে সক্ষম। ইজরায়েল ধাক্কা খেয়েছে তার মিথে, তার গর্বে, দম্ভে, অহংকারে। ইজরায়েল মিথ আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, বারংবার- যুগের পর যুগ ধরে বানানো মিথ্যা অপরাজেয়তার গল্পকে নিজেরাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলো। এমন দেশের সম্মুখীন এতোদিনে হয়েছে যাদের নূন্যতম প্রতিরোধ সক্ষমতা আছে, ব্যাস অমনি হেগে ফেলেছে প্যান্টে।

আমেরিকাও কখনও একা যুদ্ধ করেনি, বরং পালাবার ইতিহাস রয়েছে। হলিউডি সিনেমাতে প্রতিটি বিশ্ববিপর্যয় আমেরিকার সেনা একাই ঠেকিয়ে দেয়, তাদের আর্মি এলিয়েনকেও হারিয়ে দেয়। সমস্ত ‘মাস মিডিয়া’ জুড়ে দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে তাদের মিলিটারি সক্ষমতাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে প্রচারযন্ত্রের মহিমাতে। যেই মাত্র রাশিয়ার সম্মুখীন হয়েছে ইউক্রেনের ছদ্মবেশে, লেজে গোবরে হয়ে গেছে। সামান্য নর্থ কোরিয়ার সাথে মেপে পা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র, আর চীনের বিয়য়ে আজকাল হম্বিতব্বি টুকুও করেনা। এটাই মহাশক্তিধর আমেরিকার আসল রূপ।

আমেরিকা নামেই তালপুকুর, আসলে কি ঘটি আদৌ ডোবে? অনেকেই আমাকে ট্রল করতে পারেন, সমলোচনা হতে পারে, ক্ষতি নেই- সমালোচনা বা ট্রলের মধ্য দিয়ে আলোচনাটা তো হোক। আসলেই কি আমেরিকা ততটা ক্ষমতাবান যতটা তারা দাবী করে বা দেখায়? কোন ভয়ে তারা সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যায়নি? জোকার ট্রাম্প ৩ মিনিটে ৫টা ‘সারেন্ডার’ টুইট করলেও হোয়াইট হাউজ ১৪ দিনের সময় নেয়, পরদিন আবার B-2 বোম্বার থেকে অস্ত্র বর্ষণ করে। অবশ্যই যুদ্ধনীতি আমার থেকে শেইখবেনা তারা, কিন্তু এমন দ্বিধাগ্রস্থ আমেরিকাকে কবে দেখেছে? আসলেই কি তারা ভয় পাচ্ছে? হ্যাঁ পাচ্ছে। তাইতো ইজরায়েলকে প্রায় বলি চড়িয়ে দিয়েছে।

আমেরিকা সরাসরি নামলে বিপদ, না নামলে সর্বনাশ। মার্কিন জিউ লবি আমেরিকাকেই আক্রমণ করবে প্রতিশোধে নিতে- ফুলফ্লেজে যুদ্ধে না নামলে। উভয়সঙ্কট, এমন শাঁখের করাতে এর আগে কবে পরেছে আমেরিকা? ভিয়েতনামে দেশপ্রেমের কাছে হেরেছিল, আফগানিস্তানে নাছোড়বন্দা মানসিকতার কাছে পরাজিত হয়েছে। এই প্রথমবার ইজরায়েল নামের মুখোশে প্র্যাকটিক্যালি বিজ্ঞানসম্মতভাবে এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতার লড়াই হচ্ছে, প্রতিদিন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অহংকার, দম্ভ ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। পারমানবিক অস্ত্রের চেয়েও যে একটা পুতুল সরকার জরুরী, সেই এ্যাজেন্ডা এখন প্রকাশ্যে জপছে ইজরায়েল। পশ্চিমা মিডিয়া যাদের জঙ্গি বলে দেখায়, তাদের চেয়েও কালো স্যুটের পশ্চিমা নেতারা বেশী সন্ত্রাসী, আসল জঙ্গি।

মার্কিনীদের এই ভয়টা ইরাণকে নয়, উন্মাদ ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবেনা ইরান আমেরিকার চেয়ে সামরিক সক্ষমতায় এগিয়ে আছে। মরে যাওয়ার ভয় নয়, বেইজ্জত হয়ে যাবার ভয়, মিথ ভেঙে যাওয়ার ভয়। আমেরিকা মানে দাদাগিরির চুড়ান্ত রূপ, আমেরিকার যুদ্ধ বহর মানে বিভিষিকা, আতঙ্ক ও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। ইরান যদি তাদের পাঁচটা সামরিক ঘাঁটি উড়িয়ে দেয়, নৌবহর তলিয়ে দেয়, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে তেলের বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়- এটাই আমেরিকার যজ্ঞের অশ্বকে বেঁধে দেওয়া। এই থাপ্পর টুকুই যথেষ্ট আমেরিকার বেলুন চুপসে দেওয়ার জন্য। ঘাড়ের কাছে ব্রিকস নিঃশ্বাস ফেলছে।

ইরান নামটা হয়ত মিশে যাবে, কিন্তু আমেরিকাকে আকাশ থেকে মাটিয়ে এনে ফেলবে। ইজরায়েল নামের ছদ্মবেশে আদতে যা কিছু সবই তো আমেরিকার। বোমা তেল আবিবে পরলে ক্ষত ওয়াসিংটনে হচ্ছে। প্রতিটা বোমার লক্ষ্য তেল আবিব হলেও নিশানা পরিষ্কার, আমেরিকাকে বার্তা দেওয়া। আমেরিকার সমস্ত স্ট্রাটেজি পলিসি ব্যার্থ, অথচ এই স্ট্রাটেজিতেই গত ৩৫ বছর ধরে বাজি মাত করে এসেছে।

আমেরিকা ভয় পেয়েছে, আরো ভয় পাবে। আর ভয় পেলেই পেট্রোডলার ভোগে যেতে সময় লাগবেনা। পেট্রোডলার গেলে রিজার্ভ কারেন্সী হিসাবে ডলারের দিন শেষ হবে, একদা রুবেলের মত রাস্তায় গড়াগড়ি খাবে। এ দিন আপনি আপনার জীবদ্দশাতে দেখে যাবেন, সিটবেল্ট বেঁধে বসে পড়ুন, ইরান সেই শো এর মঞ্চ বেঁধে দিয়েছে। রাশিয়া আর চীন এবারে সেখানে তুরুক নাচ দেখাবে।

অশিক্ষিত মোদীর বদলে যদি নূন্যতম অটলবিহারীর মতনও একটা প্রধানমন্ত্রী থাকত, রাশিয়ার সাথে মঞ্চে ইন্ডিয়াও থাকত নিশ্চিত। অমেরুদণ্ডী মোদী সিদ্ধান্ত নিতে পারুক বা না পারুক, ব্রিকসের মত বিকল্প বানিজ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠবেই। কাল আমেরিকা ৫০টা খন্ডে ভেঙে যাবেই, তখন মিসিসিপি, লুইসিয়ানা বা ভার্জিনিয়ার সাথে রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরী কিম্বা প্যারাগুয়ে, উরুগুইয়ে আর নিকারাগুয়ার সাথে কোনো তফাৎ থাকবেনা।

ইজরায়েল মুছে যাবেনা, সে থাকবে তার চরিত্র নিয়েই, তবে তাকে সাজানো সিংহ থেকে ঘেয়ো ছাল ওঠা কুত্তা বানিয়ে রাখবে অন্তত আগামী কয়েক দশক। আমেরিকা শেষ ৩৫ বছর ধরে তার সেরা মূল কালেকশন এজেন্ট নেতানিয়াহুকে বলি দিয়ে দেবে। আমেরিকার ঘরে বাইরে বিপদ, ট্রাম্পের মন্ত্র ছিল MAGA, এগেইন গ্রেট কাকে করতে হয়, যে এই মুহুর্তে গ্রেট নয়। মার্কিনিরা বিশ্বাস করে পুনরায় গ্রেট হতে হবে, এই জন্য তারা ট্রাম্পকে জিতিয়েছে, অর্থাৎ আমেরিকা নিজের জ্বালায় জেরবার।

ইউরোপ চালকহীন গাড়ি, কোনো দিশা নেই। কেউ কেউ ফুট কাটছে মাঝেমধ্যে, যদি এই তালে কিছুটা প্রচারের লাইমলাইট পায় এই লোভে। বিশ্ব কোন দিকে বাঁক নেবে সময় উত্তর দেবে। তবে যা খুশি হোক, ইজরায়েল মিথ শেষ। আমেরিকা নিজেও জানেনা সে শেষমেশ কী করবে বা কতটা করবে। তবে যা খুশি হোক- আমেরিকা মিথেরও অবসান শিয়রে, আমরাই দেখে যাব। হরমুজ প্রনালী সম্ভবত বন্ধ এই লেখার সময়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে ভূমিকম্প এলো বলে। যুদ্ধ যে দিকেই গড়াক, খুব শীঘ্র মিটবেনা এই অশান্তি, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে গেলেও সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যতই মুজরো করুক, আমরা যুদ্ধের আঁচ থেকে বাঁচতে পারবনা।


বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫

বুমরাহ মিথ

 


Myth vs Fact

বুমরাহ দুর্দান্ত বোলার সন্দেহের অবকাশই নেই, কিন্তু পরিসংখ্যান কী বলছে?

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে, মোট ৪টি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে ভারত ২০টি ম্যাচ জিতেছে এবং ২টিতে হেরেছে, আর ছয়টি ড্র করেছে। বুমরাহ খেলা ম্যাচে ভারতের জয়ের হার ৪%। একই সময়ে, বুমরাহ ছাড়া মোট ২টি টেস্ট খেলেছে ইন্ডিয়া, যার মধ্যে জয়ের হার ৭১.৪২%, ২০টি জয়, পাঁচটি পরাজয় এবং তিনটি ড্র

ভাইরাল মিমের পিছনে এটাই পরিসংখ্যানগত সত্যতা মিথের উন্মোচনও বটে। পরিসংখ্যাগুলো নিবিড়ভাবে দেখলে বাস্তবতা এবং বুমরাহ আবেগ’ এর মধ্যে বিরাট পার্থক্য দেখা যাবুমরাহ ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় একই সংখ্যক ম্যাচ খেলেছে এবং বর্তমান সিরিজের শেষে, ইংল্যান্ডেও সমান সংখ্যক বা তার বেশি ম্যাচ খেলেছেলর্ডস টেস্টের আগে বুমরাহের ৪৬টি টেষ্টের মধ্যে ৩৪টি এশিয়ার বাইরে SENA দেশগুলিতেব্যাক্তিগত কিছু দক্ষতা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিচুয়েশনে দলকে সেভাবে কন্ট্রিবিউট করতে পারেনি- অন্তত পরিসংখ্যান সেটাই বলছে।

T-20 তে বুমরাহ দলের জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি, যেখানে তার বোলিং গড় আকর্ষনীয় 17.74, ভারতীয় বোলারের মধ্যে বুমরাহর গড় সেরাএই টুকুই।

বুমরা থাকলে সিরিজ জেতেনা এই মিথটাই আসলে আরো একবার প্রমানিত হলো। কারন টেষ্ট ক্রিকেটের মত ধ্রুপদী আসরে বুমরা মোটেও কিম্বদন্তী নয় যতটা আমাদের মিডিয়া ফাঁপিয়ে দেখাবার চেষ্টা করে।

 

মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

আমেরিকা কখনও কোনো যুদ্ধ জেতেনি



ট্রাম্প হচ্ছে আমেরিকার রাখী সাওয়ন্ত বা কঙ্গনা রানাওয়াত। ফুটেজ খাওয়ার জন্য যা খুশি আলবাল বলে দেয়। যেকোনো মূল্যে প্রতি ঘন্টার হেডলাইনে যেন তার নাম থাকে। তার যে শত্রু, সেই লোকের ততটা সমস্যা নেই, যতটা বিপদ বন্ধু হলে। কখন যে বন্ধুর ইজ্জতের নিলামি চড়িয়ে দেবে তা ধরতে পারবেননা। গতরাত্রে ইঁমানুয়েল ম্যাঁকো সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছে।
মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বের নিরিখে- মমতা বাদে তৃণমূল দলের পদাধিকারীদের যতটা গুরুত্ব, কিম্বা বিজেপিতে জেপি নাড্ডার যতটা গুরুত্ব - মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পও তাই। ল্যাম্পপোস্ট। ট্রাম্প হচ্ছে ফাটাকেষ্ট, খবর দেখেনা, খবর পড়েনা- খবর তৈরি করে।
ওদিকে ইরাণের খামেইনি শাসকেরা কী ধোয়া তুলসীপাতা? মোটেও তা নয়, তাদেরও কুকীর্তির শেষ নেই। তারপরেও সে যখন মানবতার শত্রু দখলদার হিজরায়েলের বিরুদ্ধে একদম সামনের সারিতে, সেখানে ইরাণকে সাপোর্ট করা মানবিক দায়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গত ৪৬ বছর ধরে ইরাণের ধোপা-নাপিত বন্ধ করে একঘরে করে রেখেছে আন্তর্জাতিক ভাবে। যত ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়া সম্ভব, সবটা দিয়েছে। সমস্ত ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা - চালিয়েছে। তার পরেও ইরাণ কিন্তু বুক চিতিয়ে এখনও ক্রিজে টিকে আছে।
খামেইনির ইরাণ- কার্টার, রেগন, কশাই বাপবেটা বুশ, শয়তান ওবামা ও যুদ্ধবাজ যায়োনিষ্ট বাইডেনকে দেখেছে, সয়েছে। সোভিয়েতের পতনের পর রাশিয়া-চীন জোড়া উত্থানের আগে অবধি অর্থাৎ নব্বই এর দশকের শেষ থেকে পরবর্তী প্রায় দেড় দশকের আমেরিকার মত একচ্ছত্র ক্ষমতাবান আমেরিকা- ইতিহাসে কখনও ছিলোনা। ইরান সেই পিরিয়ড সয়েও টিকে রয়েছে। শুধু টিকেই নয়- তারা যে অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে ঈর্শনীয় সক্ষমতা হাসিল করেছে- গত চার রাত ধরে গোটা বিশ্ব তার সাক্ষী
সুতরাং, উন্মাদ ট্রাম্প কিছু একটা হেগেছে মুখ দিয়ে, মানেই ইরান পেচ্ছাপ করে ফেলবে এমনটা নয়। এটা নার্ভের লড়াই, আরো কিছুদিন চলবে। খোদ আমেরিকাতেই যায়োনিষ্ট ছাড়া সকলে যুদ্ধ বিরোধী। হিজরায়েলের জন্য আর তারা যুদ্ধে জড়াতে চায়না। যুদ্ধবাজ কুত্তানিয়াহুর অহঙ্কার দম্ভকে টিকিয়ে রাখতে আর মার্কিন নাগরিকেরা তাদের সন্তানের কফিনবন্দী লাশ দেখতে চায়না। তারা বলছে আমেরিকা ফার্স্ট স্লোগান দিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিল, হিজরায়েল ফার্স্ট নয়। মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন, মেগ BiBi গ্রেট এগেন দাবী ছিলোনা।
অবশ্যই যুদ্ধ সক্ষমতায় আমেরিকা এগিয়ে, কিন্তু মানসিক কঠোরতা আর দাঁত চেপে টিকে থাকার লড়াইতে ইরাণ অনেক অনেক কদম এগিয়ে। পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আমেরিকার আছে, মাত্র ৪ বছর আগেই আফগানিস্তান থাকে পালিয়ে এসেছিল। চরম স্বার্থপরেরা কারো বন্ধু হয়না। ইতিহাস বলছে পারস্য কখনও পরাধীন হয়নি, আমেরিকা কখনও কোনো যুদ্ধ জেতেনি।

বাকিটা অদূর ভবিষ্যৎ ই জবাব দিয়ে দেবে।

হি'টলারের ক্যালানি থেকে বেঁচে ফেরা- তোদের বাপ দাদাদের দয়া করেছিল ফিলিস্তিনিরা, থাকার জাইগা দিয়েছিল, খাবার দিয়েছিল। তার পরবর্তী ৭৭ বছর ধরে তোরা সমকালীন বিশ্বে সেই একই গণহত্যা, সেই জেনোসাইড টাই করেছিস, যেটা তোদের পূর্বপুরুষদের উপরে গেস্টাপো বা ব্ল্যাক-শার্ট করেছিলো। ফিলিস্তিন নামটাই ম্যাপ থেকে মুছে দিয়েছিস তোরা।

আজকে প্রমান হয়ে গেছে না'জি দের শত ভূল থাক, তোদেরকে চিনতে কোনো ভুল করেনি, তোদের গনহত্যা করার মত মানবিক কাজ আর দ্বিতীয়টা ছিলনা, আজও নেই। তোরা যেখানে যাবি সেখানেই দখল করে অত্যাচার করবি, বিশৃঙ্খলা করবি, অরাজকতা ছড়াবি, যে থালায় খাবি সেটাতেই ফুটো করে দিবি।
তোদের কোনো রাষ্ট্র থাকতে নেই, শান্তি আর সুস্থতা তোদের রক্তে নেই। শাইলকরা মানুষ নয়, যেখানেই থাকুক তারা অমানুষ কসাই ই হবে।

শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫

কোচ গৌতম গাম্ভীর

 


  • ইংল্যান্ডের মাটিতে তার টেষ্ট গড় ১২.৬
  • তার কোচিং এ শেষ ৯টা ম্যাচে ল্যাজেগোবরে। বাংলাদেশের মত নাবালকদের বিরুদ্ধে ছাড়া সব ম্যাচে হেগেছে। 'পার্ফর্মেন্স গ্যায়া তেল লেনে'।
  • মূলত KKR কোটার প্লেয়ারে ভর্তি।
  • রায়ান টেন ডাসকোটে, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা- এরা খায় না গায়ে মাখে কেউ জানেনা। ডাসকোটে ও তার দেশ কখনও টেস্ট ম্যাচই খেলেনি।
  • ব্রাহ্মণ্য কোটার খেলোয়ার বওয়ার ধারা- শার্দুল ঠাকুর।
  • সিনিয়ারদের 'একে একে নিভিছে দেউটি' আসলে এ্যারোগ্যান্ট গাম্ভীরের ম্যান ম্যানেজমেন্ট এর ব্যার্থতা। নতুনদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে গল্পতে, আসল দোষ কী খন্ডাবে? নাকি সিনিয়িরদের হ্যান্ডেল না করতে পারার ব্যার্থতা আসলে ঔরঙ্গজেবের!
কাল এই দ্বিতীয় টেষ্ট জিতে গেলেও প্রশ্ন গুলোকে ধামাচাপা দেওয়া যাবেনা।
আপনি বলবেন ইংল্যান্ডের মাটিতে ১ ম্যাচে ৫ সেঞ্চুরি, এটাও তো হয়েছে। ব্যাটিং কোচ সিতাংশ কোটাক আর থ্রোয়ার টি দিলীপ তাহলে কী শো-পিস?
মর্নি মরকেল, আরেক KKR কোটার মাল। জাহির খানের বদলে গৌতম গম্ভীর এই চার ওভারের কোচকে জাতীয় কোচ বানিয়েছিল। চচ্চড়ির মসলা দিয়ে বিরিয়ানি দুরস্থান, কষাও রান্না করা যায়না। ফলত ইংল্যান্ডের মাটিতে ইন্ডিয়ান বোলারেরা হাগছে।
সম্ভবত আরেকটা 'পৃথ্বী শ' এর যোগ্য উত্তরসূরী হতে চলেছে জয়সোয়াল। ক্রিকেটীয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, চরম অবাধ্য, উন্নাসিক আর অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্লিপে চার খানা ক্যাচ ফেলে দিচ্ছে, অথচ সামান্যতম অনুশোচনা নেই দৃশ্যত। গাম্ভীর ড্রেসিং রুমে বসে করেটা কী? নুন্যতম কোনো নোট পাঠায় মাঠের অধিনায়ককে! অধিনায়ক নিজেই তো নবীন, জয়সোয়ালকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও রাখতে হবে বা তার বদলে অন্য কাউকে ওখানে নিয়ে আসতে হবে এগুলোর নির্দেশ বাঘেশ্বর ধামের বাচালটা দেবে?
ভক্তদের আসল বাপ তো ইংল্যান্ডই- as per Veer Savarkar. কে জানে, গৌতম গাম্ভীর সেই পিতৃ ঋণের জন্য অর্পণ আহুতি দিচ্ছে কিনা।
দশ দিন বিশ্রাম নেওয়ার পর বুমরাকে রেডি করতে পারেনি একটা টেস্ট ম্যাচের জন্য কত বড় অপদার্থ গম্ভীরের পছন্দের ফিজিওরা I
হর্ষিত রানা কেন এসেছিল আর কেনই বা চলে গেলো এর জবাব বোধহয় পাকিস্তান দেবে। গম্ভীর নিশ্চুপ তার এ্যারোগেন্ট বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে।
গোলি মারো শালোকো- অনুরাগ ঠাকুরের সাথে গৌতম গম্ভীরের কোনো ফারাক আছে? কেন ভিভিএস লক্ষণকে টেষ্টের জন্য কোচের দায়িত্বে বহাল করা হবেনা- ট্রাম্পকে শুধাবো ট্রুথ সোস্যালে।
গম্ভীরের সব সময় পছন্দ ইয়েস ম্যান এবং তল্পিবাহক। আর গম্ভীরকে পছন্দ করেছে নাগপুর। জাহির খান কোচ হবেনা, শামি বা সরফরাজ চান্স পাবেনা- কোনো যুক্তির ধারেপাশে না গিয়েই। অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবেনা।
নাগপুরের নাগপাস থেকে থেকে মুক্ত না হতে পারলে, এই একটা ক্রিকেট যা নিয়ে নানাভাবে বিভক্তরা সবাই একসুরে- ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ভারতীয় হয়ে উঠে, সেটাও আরব সাগরের জলে তলিয়ে যেতে সময় লাগবেনা।

বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫

ভ্যাক্সিন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত

 


সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, এবং সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারাটা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই সময় শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম- করোনা ভ্যাকসিনের ইনজেকশন আমরা নেবনা। এই 'মাস ট্রায়ালের' গিনিপিগ আমরা হবোনা। আজকে প্রমানিত হয়েছে সেদিনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো।


বেশ কয়েকজন -

সেইসব চু'দিরব্যাটা ভক্তেরা কোথায় যারা ভ্যাকসিনের হয়ে লম্বা লম্বা হ্যাজ নামিয়ে লাইন দিয়ে ভ্যাক্সিন নিয়েছিল, পারলে ৮-১০ টা ডোজ নিয়েছিল মগজে, বুকে, সোনাপোনাতে- নাম ভাঁড়িয়ে নিয়েছিল। ভ্যাক্সিনেশনের সার্টিফিকেটে ছিল সাদা দাড়ির "De Brezza জাতের বেবুনটার সহাস্য ছবি। হাঁটুতে বুদ্ধি আর মগজে গোবর হলে এটাই হয়।

লক্ষ লক্ষ এ্যাম্পুল জলের সাথে, যার ভাগে ট্রায়াল ভ্যাকসিনের sample টেস্টিং এলিমেন্ট শরীরে গেছে- তারাই আজ দুমদাম বিনা কারনে পটল তুলছে হার্টফেলের নামে।

কেন নরেন্দ্র মোদী সহ তৎকালীন সরকারে থাকা সকলের বিরুদ্ধে এইভাবে জবরদস্তি mass trial ভ্যাক্সিনেশনের বিরুদ্ধে আজ মামলা হবেনা? কেন সিরাম ইনস্টিটিউট, ভারত বায়োটেক, গেটস ফাউন্ডেশন এর বিরুদ্ধে মামলা হবেনা? লক্ষকোটি টাকার সরকারি ভান্ডার এরাই লুঠেছে, কোভিড ভ্যাক্সিনের ট্রায়াল চালিয়ে। বিশ্বগ্রুর এটাও একটা বিশাল আর্থিক দুর্নীতি, এর অনেকটা ভাগ কর্পোরেট ফান্ডিং এর নামে দলীয় তহবিলে চলে এসেছে। অবশ্যই এটা এক ধরনের জেনোসাইড।

রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভরষা আর নিশ্চয়তা দিয়েছিল যাতে মানুষ বিশ্বাস করে- সিরামের আদর পুনাওয়ালাকে,কিরণ মজুমদার বা এদের মত কর্পোরেট মিথ্যুক চোরেদের। আজ এরা কোথায়? কেন আজ মোদী দায় নেবেনা?

কেন মামলা হবেনা?

বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

গণতন্ত্র ও জায়োনিজম



কি ভাবছেন তারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে?

আপনি ভাবছেন তারা শুধুমাত্র সম্পদের জন্য লড়াই করছে!
আপনি ভাবছেন তারা শুধুমাত্র দাদাগিরি করার জন্য লড়াই করছে!
আপনি ভাবছেন মুসলমান সব থেকে বড় ধর্মোন্মাদ জাতি, কেউ বলবে খ্রিস্টানরা সব থেকে বড় ধর্মোন্মাদ জাতি, তারাই তো ক্রুসেডের নামে লক্ষ কোটি মানুষকে জবাই করেছিল। আরেকটা দল ভাবছে উগ্র হিন্দু তথা আরএসএস বাদী ভক্ত ও তাদের নাগপুরি প্রভুরা সবথেকে ধর্ম উন্মাদ সম্প্রদায়। আসলে আপনি একটি নিরেট গর্ধব, ততটুকুই বোঝেন যতটা আপনাকে বোঝানো হচ্ছে, আপনার চোখ কান নাক এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয় শুধুমাত্র ভোগবিলাসের জন্য, জ্ঞান আহরণের জন্য নয়।
এরা লড়াই করছে ইমাম মাহাদীকে আটকানোর জন্য, দাজ্জালকে বসানোর জন্য, মাসায়া বা মেসিকে স্বাগত জানানোর জন্য। এরা জেরুজালেমের আল-আকসা মসিজদকে- 'হাইকেল ই সুলাইমানি' বা সিনাগগে রূপান্তর করেতে চায়, তাই ইহুদিরা গোটা বিশ্ব থেকে প্রমিশ ল্যান্ডে আসছে ইউরোপ আমেরিকার সুস্থির স্বাচ্ছন্দ্য জীবন ছেড়ে এসে। এরা বিশ্বাস করে তাদের মাসায়া বা পরিত্রাতাএলে ইহুদিরা বিশ্ব শাসন করবে। আর ইসলাম বলছে ইমাম মাহদি ইহুদিদের মাসায়া বা দাজ্জালের সবচেয়ে বড় শত্রু, যে মাসায়াকে কখনও রাজা হতে দেবেনা। এটাই মোটাদাগে গল্পটা। বাকিটার জন্য ইউটিউবে প্রচুর লিঙ্ক পেয়ে যাবেন, বিস্তারিত শুনে নিন আগ্রহ থাকলে।
আপনার কাছে হাস্যকর ও উদ্ভট মনে হতো এগুলো আমি বললে। আজ থেকে দশ-বারো বছর আগে যখন আমরা কেউ কেউ জায়োনিষ্ট শব্দটা লিখতাম এই ফেসবুকের নানা প্রবন্ধে, আপনাদের কাছে মনে হতো এটা আবার কোন ভাষা! পাগল ছাগল জোটে যত্তসব, ব্যাটা ইসলামিক মৌলবাদী ইত্যাদি পদবী জুটতো আমার। সব আজকের দিনে এসে জায়োনিষ্ট শব্দটা বাচ্চা বাচ্চাও জানে। আগামীতে আপনারাও জানবেন কে ইমাম মাহদি, কে দাজ্জাল, কে মাশায়া কিম্বা কে ঈসামসী। সত্যকে চেপে রাখা যায়না মিথ্যার জুমলা দিয়ে।
এই অবধি এক মুহূর্তের জন্য আপনার মাথায় আসেনি- ইহুদিরা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মৌলবাদী ধর্মান্ধ জাতি। প্রতিটা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট মৌলবাদের সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষক। বর্তমান মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী 'রুবিও' একজন ধর্মান্ধ মৌলবাদী জায়োনিস্ট। পশ্চিমা মিডিয়া যেহেতু আপনাকে শেখায়নি এরা মৌলবাদী ধর্মান্ধ, তাই এই ভাবনা আপনার মাথায় আসেইনি। পশ্চিমারা জানে আপনি একটা বুদ্ধিহীন ভাঁড়, সূটেড বুটেড মানেই তারা সর্বোৎকৃষ্ট এবং তারা সমস্ত প্রশ্নের উর্ধ্বে দেবদূতদের আধুনিক রুপ। তারা আপনাকে শিখিয়েছে 'ইসলামিক মৌলবাদ' শব্দটা আর আপনি ওইটুকু জেনেই অর্গাজম করে ফেলেছেন।
আসলে আপনি যা দেখছেন ও ভাবছেন তা হিমশৈলের চূড়াটুকু মাত্র। পৃথিবীতে থাকা প্রতিটি ইহুদি বিশ্বাস করে তারাই একমাত্র মানুষ এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ তাদের। তারা জন্মগতভাবে শাষক। বাকিরা কেউ বেঁচে থাকার যোগ্য নয়, একেবারে ব্রাহ্মণ্যবাদের দাদাঠাকুর। সে আপনি হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, শিখ, আদিবাসী যা খুশি ধর্ম পালন করুন কিংবা আপনি নাস্তিক হন- কিচ্ছু যায় আসে না তাদের। এটা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ, ইমান। ইহুদি ও জায়োনিষ্টদের ধর্মবিশ্বাস মতে, আপনি তাদের চাকরবাকর, আপনার প্রাণের দাম একটা মশা-মাছির চেয়ে এক পয়সাও বেশী নয়।
চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয় আঁটকায় না। তাই চোখ খুলুন, জ্ঞান বাড়ান। আমার জন্য নয়, আপনার নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, আপনার সন্তানের জন্য। চিনে নিন, দেখে নিন আপনার আসল শত্রু কারা।
আলকায়দা ও ওসামা তাদের তৈরি। আইসিস তাদের তৈরি। তালিবান তাদের তৈরি। অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে কে তাদের সৃষ্টি করেছে? গোটা পৃথিবী জুড়ে থাকা ৯৫ শতাংশ মিলিশিয়া জঙ্গি সন্ত্রাসী গ্রুপ এই জায়োনিষ্টদের তৈরি। গোটা পাকিস্তান নামের একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র দেশ সেনাবাহিনী অধীনে, যে সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে এই জায়নবাদী প্রভু গোষ্ঠী, ভারতকে চাপে রাখতে, যুদ্ধের অস্ত্র বিক্রি করতে। এগুলো কি আপনাকে আজকে শিখিয়ে দিতে হবে? আপনি নিজেই তো জানেন সত্যটা।
ভক্তদের বলি, আপনারা যে ইহুদি ধর্মকে আদর্শ করে ইসরাইলকে দ্বিতীয় বাপ বানিয়েছেন, তারা আপনাদের মানুষ বলেই মনে করে না। আপনার ধর্মকে তারা সবচেয়ে বেশী ঘৃণা করে, মুসলমানদের চেয়েও বেশী। আপনার প্রাণের মূল্য গোবরে থাকা কীটপতঙ্গের থেকেও কম। অবশ্য আপনারা গোবরের পোকামাকড়ই বটে।
যুদ্ধটা অর্থনৈতিক ভাবে অবশ্যই চাবাহার আর হাইফার লড়াই। কিন্তু তার পিছনে রয়েছে ৩৫০০ বছরের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস, যার কারনে ইজরায়েল দেশটা ফিলিস্তিনে; ইউরোপ, আমেরিকা বা আফ্রিকাতে নয়।
ইহুদি মৌলবাদ আর জায়োনিষ্ট সন্ত্রাসীরা এখন ভয় পাচ্ছে, আপনি কী শুনতে পাচ্ছেন?

বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫

তামান্নার লাশ


 

৯ বছরের বালিকা, চটি সরকার তামান্নার লাশের দাম দিয়েছে ২০ লাখ।

হ্যাঁরে শুয়োরের বাচ্চা "দুধেল গাই" হজরতেরা, তোদের মা, বোন, বেটির শরীরের দাম ঠিক করে রেখেছিস তো? ইমান কি তোদের বৌ এর জরায়ুরে গজ্জিত রাখা যে, মাসে ৩-৪ দিনের জন্য একবার বের হয় মাসিকের সাথে, তাও 'ঐ' পথে। লজ্জা তোদের থাকতে নেই, বেজন্মা জারজের দল সব।
বিজেপি না মারা অবধি তোদের "ইসলাম বিপন্ন হয়না", তৃণমূলের খুনে বাহিনীর হাতে যারা খুন হয়- তাদের আর মুসলমানত্ব থাকেনা। মুখে বাপের বিচি চুষতে চুষতে "এতেকাফ" মোডে চলে যাওয়া মুমিনের দল শুধু জানে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বললেই 'বিজেপি চলে আসবে'।
এদিকে সুশীলদের একমাত্র লক্ষ্য- বাপের বাঁ'ড়া চোষা, দিদির বিরুদ্ধে বললে গাঁ'ড়ে পুলিসের ভয়, তাছাড়া কালীঘাটের উচ্ছিষ্ট পরবেনা পাতে।
চিরদিন কালীঘাট থাকবেনা, আজকের এই খুনগুলোর বদলা কিন্তু সময় নেবে, গুনে গুনে নেবে।
ছিঃ

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

ব্রিক্স ও ভারত

 


ব্রিক্স ও ভারত

ব্রিক্স সম্মেলন শেষ না হতেই নরেন্দ্র মোদী ও তার দলবল জার্মানি চলে গেছেন। ব্রিক্স সম্মেলনে যাবার আগে কানাডা ও আমেরিকা ভারতকে বেশ ঘষে দিয়েছে। এতদিন যে মোদীজী আমেরিকা, ইজরায়েল করে লাফালেন। অস্ত্রশস্ত্র আমদামি করলেন রাশিয়াকে পিছনে ফেলে, কিন্তু তাতে লাভের লাভ কি হল? ফ্রান্সের যে র‍্যাফায়েল যুদ্ধবিমান নিয়ে এত নাচানাচি, সেই বিমান কিন্তু ইউক্রেনে পাঠায়নি ফ্রান্স

আমেরিকা ডেনমার্কের মাধ্যমে বুক ফুলিয়ে F-16 বিমান পাঠিয়েছিল, তার অর্ধেক উড়ার আগেই ধ্বংস করে ফেলেছে রাশিয়া। আমেরিকার একশো মিলিয়ান ডলারের রিপার ড্রোনও কোনো কাজে আসেনি। প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ৯০% উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। ইজরায়েল এতদিন বরাক টরাক নিয়ে গর্ব করতো, ভারতকে বিক্রিও করেছে বিলিয়ান বিলিয়ান ডলার নিয়ে, সেসব ধ্বংস করে এখন ইজরায়েলের অস্ত্র ব্যাবসাতে লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে ইরান একাইফিলিস্তিন নিয়ে ভারতের এত দশকের অবস্থান এর বিপরীত অবস্থান নিয়ে আমেরিকার পদলেহন করে বাকি বিশ্বে প্রায় একঘরে হয়ে গেছে মোদীর ভারত

স্বভাবতই ব্রিক্স সম্মেলনে ভারতের গুরুত্ব ভয়ানক হ্রাস পেয়েছে। পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা দেশের একজন হয়েও ব্রিক্সে মোদীর ভারত তেমন পাত্তা পায়নি এইবারে, যেমন পেয়েছে ইরান বা তুর্কিয়ে। আসলে কাজান ডিক্লেরেশনে ভারত সই করেছে বটে, কিন্তু মোদীর ভারতের দুই নৌকায় পা দিয়ে চলাটা সবাই লক্ষ্য করেছে। বস্তুত চীন ও রাশিয়া ব্রিক্সে পোল পজিশনে, ভবিষ্যতে তারাই ব্রিক্সের দিক নির্দেশ করবে। এদিকে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ইরান যৌথভাবে নৌ-মহড়া ভারত মহাসাগরে শুরু করছে, ভারত সেখানে দর্শক

মূল সমস্যা হল ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির তুলনামূলক অবনতি, প্রায় প্রত্যেক দেশের সাথেই বানিজ্য ঘাটতি। চীন নিয়ে মোদী প্রশাসনের এত চেঁচামেচি, সেই চীনের সাথে ভারতের বানিজ্য ভয়ানক লজ্জাজনক। চীন ভারতে রপ্তানী করে ১০০ বিলিয়ান ডলারের পণ্য আর ভার সেখানে খুব বেশ হলে ১০ বিলিয়ান ডলার ছুঁতে পেরেছে। আসলে চীন প্রায় সর্বক্ষেত্রেই ভারতের থেকে ১৫-২০ বছর এগিয়ে রয়েছে। মোবাইল প্রযুক্তির ৯৫% যন্ত্রাংশ, ওষুধের ৯০% ভাগ কাঁচামাল, কৃষি মেশিনারি, কেমিক্যালস, ব্যাটারি, সব ক্ষেত্রেই চীনের আধিপত্য। ভারতকে ৯৫% তেল আমদানি করতে হয়, কিন্তু মোদীর সাহস নেই ভেনিজুয়েলা বা ইরান থেকে সস্তায় তেল আমদানি করার। রাশিয়ার থেকে ডিসকাউন্টে যে তেল কেনে ভারত, তার বেশিটাই রিফাইন হয়ে ইরোপে যায় বলে আমেরিকা কিছু বলেনি। অথচ ইরান থেকে স্বল্প খরচে তেল আমদনি করা যেত, যা অতীতে করাও হয়েছে

ভারতের একমত্র জোরের যাগা তার আভ্যন্তরীণ বাজার, এবং প্রভুত ক্রয়ক্ষমতাসপন্ন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়। এদেরই করের টাকা দেশের যত লম্ফঝম্ফ! অথচ ইরান, তুর্কিয়ে চমকে দেবার মত উন্নতি করেছে। অবশ্যই ভারতও করেছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য মাত্র। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে চীন শিক্ষা, স্বাস্থ্যে যে পরিমাণ বিনিয়োগ গত পনেরো বছরে করেছে, ভারত তার কুড়িভাগের একভাগও করেনি। এখানেই আসল সমস্যা। এক সময়ে ভারতীয় রেলের থেকে চীনের রেল খারাপ ছিল। চীন কিন্তু লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা রেলের উন্নয়নে খরচ করেছে, সেকখানে ইন্ডিয়ান রেলের এ্যাচিভমেন্ট হচ্ছে  দৈনিক দুর্ঘটনায় রেকর্ড সৃষ্টি করেলক্ষ লক্ষ রেলের চাকুরিতে পদ খালি, নতুন লাইনের কখবরই নেই। আজ রেলের গণপরিবহনে চীন পৃথিবীর সেরা।

ভারতকে বিশ্বে সম্মানের সাথে টিকে থাকতে হলে নিজের ঘরের দিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষা, গণস্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্তথান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে। পাকিস্তান প্রতিপক্ষ নয়, কিন্তু চিনের সাথে পাল্লা দিতে হলে, অস্ত্র দিয়ে নয়- শিক্ষার উন্নতি দিয়ে করতে হবে, স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে হবে। কয়লা পেট্রোলের বদলে বিকল্প জ্বালানি, বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু হবে কি? বিজেপি থাকলে আশা কম বা নেই। বিশেষ করে অশিক্ষিত নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় থাকলে আগামীতে কোনো সম্ভাবনা নেই ভারতের

প্রস্তাবিত ব্রিক্স কারেন্সি এখনও চালু হয় নি, অদূর ভবিষ্যতে হতে চলেছে। আসলে ব্রিক্স অর্থব্যবস্থা বিভিন্ন ধাপের অন্তিম ধাপ হল, ব্রিক্স কারেন্সি। তার প্রথম ধাপ হল ব্রিক্স সেটলমেন্ট সিস্টেম, ব্রিক্সপে। এখন দুই দেশের মধ্যে বানিজ্য করতে হলে, তা করতে ডলার বা ইউরোর মাধ্যমে। এসব নিয়ন্ত্র করে SWIFT নামের একটি সংস্থা, যার নিয়ন্ত্রক হল আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী ইরোপ।

যেমন ধরা যাক ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করবে। ভারতীয় টাকার সাথে ডলারের মুল্য স্থির বা ইরানের সাথে ডলারের মুল্য স্থির করে ওই সুইফট নামক সংস্থা। এর জন্য যা ইচ্ছে ট্রানজাকশন চার্জ করে সুইফট। সমস্যা শুধু সেখানেই নয়, তার ওপরে আছে নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। এই নিষেধাজ্ঞা আগে জারি করত রাস্ট্রপুঞ্জ এবং তা সর্বতমান্য ছিল। এখন শুরু হয়েছে আমেরিকা ও পশ্চিমী ইয়োরোপের নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ আমেরিকা গোঁসা করলেই যে কোন দেশের মাথায় বজ্রাঘাত। আমদানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এর প্রধান বলি ইরান, রাশিয়া, গণ প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া, ভারত, চীন সহ আরও অনেক দেশ। অর্থাৎ আমেরিকান ডলার শুধু রিজার্ভ কারেন্সিই নয়, এখন তা পশ্চিমাদের রাজনৈতিক অস্ত্র।

এটা যে কোন দেশের সার্বভৌমতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অবমনন। এ ছাড়া আরও অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ইনটারন্যাশন্যাল মনিটারি ফান্ড, বিশ্ববানিজ্য নিয়ামক সংস্থার মাধ্যমে। আমেরিকা বা ডলারের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, মূলত এসব একদেশদর্শী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, অন্য একটা কার্যকরী অর্থনীতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই ব্রিক্সের সৃষ্টি।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইউনিপোলারিটির বিপক্ষে একটি মাল্টিপোলারিটি ব্যবস্থা, যেখানে কোন দেশের আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণ চলবে না। কথায় কথায় কোন দেশের সম্মপত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞার আড়ালে কোনো দেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবেনা। আপাতত পৃথিবীর নটি দেশ এখন ব্রিক্সের সদস্য, প্রাথমিক পাঁচটি সদস্য দেশ ধরে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও সাউথ আফ্রিকা। এ বছর যুক্ত হয়েছে ইরান, ইথিওপিয়া, ইজিপ্ট ও ইউনাইটেড আরব এমিরেটস। সদস্য হবার পথে তুর্কিয়ে ও সৌই আরব। এ ছাড়া আরও বত্রিশটি দেশ সদস্যপদের আবেদন জানিয়েছে। এর মধ্যে এক চীন ছাড়া সকলেই উন্নয়শীল ইকোনমি

ব্রিক্সপে আর একটা ধাপ হল, ডলারে বদলে কান্ট্রি টু কান্ট্রি বার্টার। যেমন ধরা যাক ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করবে, বদলে ভারত চাল, গম, মুর্গি রপ্তানি করবে। বিনিময়ের অনুপাত বা পরিমাণ একমাত্র দুই দেশই ঠিক করবে। এখনকার মত লন্ডন গ্রেন এক্সচেঞ্জ বা শিকাগো গ্রেন মার্কেট দাম ঠিক করবে না বা নিউইয়র্ক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করবে না। এর মধ্যে দুই দেশের সম্মতি ব্যাতীত তৃতীয় কোন দেশের খবরদারীও চলবে না।

লক্ষ্য হল, এইসব লেনদেন বে মূলত ডিজিটাল কারেন্সিতে অর্থাৎ ব্রিক্স কারেন্সিতে। এতো গেলো কান্ট্রি টু কান্ট্রি ব্যবস্থা। এ ছাড়াও বিজনেস টু বিজনেস এবং বিজনেস টু পিপল ব্যবস্থার প্রশ্নও আছে এতে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এগুলির সমন্বয় করবে সিবিডিএস বা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল সিস্টেম। দেশের ক্ষেত্রে তা করবে সে দেশের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। যেমন ভারতের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

একটা বিকল্প অর্থনৈতি ব্যবস্থা গড়ে উঠতে অনেক সময় লাগে, ব্রিক্সেরও লাগবে। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক স্থিতি, এক রকম নয়। যেমন ভারতে ক্ষেত্রে UPI বা চীনের mPay কিংবা রাশিয়ার মীর খুবই বিস্তৃত। কিন্তু বিভিন্ন দেশে তা এখনও গড়ে ওঠে নি, তার জন্য সময় লাগবে, সেটার প্রসে শুরু হয়েছে। মনে রাখা দরকার G-7 ভুক্ত দেশের মোট জিডিপি ও জনসংখ্যার থেকে ব্রিক্সের সম্মিলিত জিডিপি বেশি, জনসংখ্যাও অনেক বেশি। তাই খুব অল্পদিনেই দেখব ডলার তার মান হারাবে, একমাত্র বিনিময় মুদ্রা থাকার কারনে ডলারের যে দাদাগিরি ছিল, সেটার অবসয়ান হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ব্রিক্সপে এবং ব্রিক্স কারেন্সি এসে গেছে

মুশকিলটা কী জানেন, ঠিক এই সময়ে যখন একজন শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর দরকার ছিল ব্রিক্সের রাশ হাতে নিয়ে বিশ্বগুরু হয়ে উঠার জন্য, সেখানে অশিক্ষিত মোদীর লাল চোখের সার্কাস- ইন্ডিয়াকে ক্রমশ মূল্যহীন একঘরে করে দেওয়ার দিকেই নির্দেশ করছে। হাতে পাওয়া সুযোগ ছেড়ে দেবার আরেক নজির আমাদের চোকখের সামনে ঘটে চলেছে। 

 

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...