বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

১৯৪৭ঃ দেশভাগ নাকি দেশ জুড়ে ছিলো?

 


কারা নাগরিক আর কারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, আজকের দিনে এটাই দেশজুড়ে মুখ্য আলোচনার বিষয়। চলুন একটু অন্যভাবে ভাবি আজকে এই স্বাধীনতার দিনে, একটু অন্য আঙ্গিকে।

গতকাল ছিল ১৪ আগস্ট, ৭৯ তম দেশভাগের দিন।

আমাদেরকে এটাই শেখানো হয়েছিল। হয়েছিল, কারন এতে একটা কায়েমী শ্রেনীর লাভ ছিল, আর অবশ্যই সেটা জাতীয় কংগ্রেসের। আজকের বিজেপির বাবা ঠাকুরদারা যেহেতু ইংরেজদের দালালি করত, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়াটা তৎকালীন ভক্তদের রুজি রোজগার ছিল- তাই তারা কংগ্রেসের বিরোধিতা করার পর্যায়েই ছিলোনা। স্বভাবতই নেহেরু-প্যাটেলের প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি সমস্ত ক্রেডিট নিয়েছিল স্বাধীনতার।

‘সেকুলার এবং মুসলিম দুটো আলাদা আলাদা রাষ্ট্রে ‘দেশভাগের’ প্রায় সমস্ত দায় তুলে দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশদের ঘাড়ে; সামান্য কিছুটা দায় জিন্নার ফেজ টুপিতে আর কিছুটা মুচলেকা বীর- সাভারকরের চাড্ডিতে ভরে দিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেসের প্রোপাগান্ডা মেশিনারি।

আসলেও এই ধারণা কি সঠিক? আজকে প্রায় ৮০ বছর পর কী আমরা একটু অন্য ভাবে ভাবতে পারিনা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইংরেজ যদি আর ৫টা বছর টেনে নিয়ে যেত পারত তাদের শাসনকাল, ইতিহাস অনুযায়ী হয়ত গান্ধী, প্যাটেল বা জিন্না- কেউই আর বেঁচে থাকতনা। ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। হতেই পারে আমার ভাবনা ভুল, তবুও একটু ব্যতিক্রমী ভাবলে ক্ষতিটা কী!

আমাদেরকে শেখানো ইতিহাস- স্বাধীনতার মত এতো বিশাল মাপের একটা ঘটনাকে অতি সরলীকরণ করে একটি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণে বেঁধে দেয় না কি? কংগ্রেস স্বাধীনতার ক্রেডিট দাবী করে, RSS-BJP মুসলমান বিতারণ ও দেশে হিন্দুত্ব শাসন প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বের দাবী করে। পাশাপাশি নেহেরু ও জিন্নাকে এই অতিভক্তির কারবারি নাগপুরীরা দেশভাগের জন্য দায়ি করে। কিন্তু মগজের দৃষ্টি দিয়ে যদি দেখা যায়, প্রশ্ন উঠবেই- সত্যিই কি দেশ ভাগ হয়েছিল?

নিচের ছবিতে দেওয়া মানচিত্রের প্রতি এবার লক্ষ্য করুন, স্বাধীনতা পুর্ব ১৯৪৭ সালের ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র এটা। ছোট বড় মিলিয়ে ৫৭০ টিরও বেশি রাজনৈতিক অস্তিত্ব ছিলো তৎকালীন সময়ে। আপনি এককথায় দের দেশীয় রাজ্য বলতে পারেন, তবে এরা আসলে ছিল বংশানুক্রমিক নেটিভ নবাব, রাজা, জমিদার, জায়গীরদার, মনসবদার, চৌধুরি, তালুকদার এমন নানান ব্যাক্তিবর্গের নিজশ্ব ক্ষমতার সমষ্টি, যাদের পরিষ্কার নিজশ্ব সীমানা ছিল। যেখানে নিজ কর ব্যবস্থা ছিল এই নেটিভ ক্ষমতাবানদের হাতে।

দিল্লির সুলতান হোক বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হয়ে রানীর শাসন- সরকারকে সামান্য খাজনা তুলে দেওয়ায় পরিবর্তে তারা যথেচ্চাচারের ক্ষমতা পেতো মোটামুটিভাবে বাত্সরিক আয়ের এক দশমাংশ তৎকালীন ‘সেন্ট্রাল GST’ তথা খালিসাতে পাঠাতে হতো। নিজামত, দেওয়ান, কানুনগো, এই পদবীধারি অধিকারীরা সেন্ট্রালের সাথে নেটিভদের মাঝে যোগাযোগকারী ‘সেন্ট্রালের বেতনভুক’ কর্মচারী ছিল। এরা বিভিন্ন এলাকায় বদলিও হতেন নেটিভ জমিদারেরা কর ফাঁকি দেবার জন্য ধর্মের নামে নিষ্কর জমি’ নামের এক ধরনের জমির চরিত্র তৈরি করেছিল- মদদইমাশ, লাখেরাজ, খয়রাত, আয়মা, পীরোত্তর, দেবোত্তর, মহাত্রাণ, চাকরান, পাইকান ইত্যাদি হিসেবেআলাদা আলাদা স্টেটে আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, সুলতানি আমল থেকে ব্রিটিশ শাসন অবধি কমবেশী একই ব্যবস্থা ছিল। মোদ্দাকথা ছোট ছোট রাজ্য গুলো বহাল তবিয়তেই ছিল নিজশ্ব পরিচয়ে।   

১৯৪৭ সালে ৫৬২টি দেশীয় রাজ্য ভারতীয় কনফেডারেশনে যোগদানের জন্য সম্মতি জানিয়েছিল; হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়, ভোপাল ও কাশ্মীর- এরা ১৫ই আগষ্ট কিন্তু ভারতে যোগ দেয়নিকারন একে অপরের থেকে স্বাধীন শক্তি ছিল। নিজশ্ব স্বাধীন আইন-কানুন ও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল। শুদধুমাত্র বৃহত্তর প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং সন্ধি জাতীয় আলাপ আলোচনার ক্ষেত্রে তারা ব্রিটিশদের উপরে নির্ভরশীল ছিলো। ব্রিটিশরাও লেলিয়ে দিতো একে অন্যের বিরুদ্ধে।

 

তাহলে কী দাঁড়ালো! ১৪ আগস্ট দেশ ভাগ হয়েছিলো নাকি এতগুলি বিভাজিত রাজ্যের একত্রীকর হয়েছিল।

মিউনিটিনির পর থেকে পরবরর্তী ৯০ বছর ধরে ব্রিটিশদের দ্বারা সরাসরি শাসিত অঞ্চলগুলি, সকলে ১৯৪৭ এর নতুন একত্রীকরণের অংশীদার হয়নিদুটো আলাদা সংস্কৃতি এক শাসনের অধীনে বসবাস করতে অস্বীকার করেছিল। ভারত উপমহাদেশের একটা শ্রেনী ব্রিটিশদের পুর্বে ভারতে আসা মুঘলদের বা এককথায় ‘মুসলমানদের’ অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে, তাদের বংশধরদের সাথে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বন্টন করে ‘এক দেশ’ পরিচয়ের অধীনে থাকতে অস্বীকার করেছিল।

তৎকালীন কিছু মুসলমান এমন ছিল যারা নবাবী যুগের আধিপত্যতায় আচ্ছন্ন ছিল। এই ‘অভিজাত’ বিভোরতা তাদের উন্নাসিক ও ঔদ্ধত্ব বানাবার পাশাপাশি ও হিন্দুদের অযোগ্য, তুচ্ছ বা নিচু জাত মনে করত। তারা জানত ভারত উপমহাদেশে ‘মুসলমানেরা’ সংখ্যালঘু, তাই একটা মাত্র ঐক্যবদ্ধ দেশ গঠিত হলে ‘তাদের’ রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হয়ে হ্রাস পাবে। স্বভাবতই এই ‘অভিজাত’ নবাবী মেজাজের মুসলমান ক্ষমতাবান শ্রেনী- হিন্দুদের সাথে থাকতে অস্বীকার করল। উভয় জাতের অভিজাতদের অহং- ‘গরীবদের’ ঠেলে দিলো স্থায়ী রক্তক্ষয়ী ধর্মীয় জাতি দাঙ্গার যুদ্ধে।

তারা এটা ভুলে গেল- আসল ভারতের অধিবাসী সাঁওতাল, গন্ড, দ্রাবিড়, ভীল, কোল, মুন্ডা, ভূমিজ প্রমুখেরা। মুসলমানদের আগে তারাও ভারতের মূলনিবাসীদের আক্রমণ করেছিল, তারাও আসলে অনুপ্রবেশকারীই। তারা সকলেই হিট্টি, সিথিয়ান, তুর্কি শক, হুন, পারস্য ও গ্রীকদের বংশজ। যেহেতু যুদ্ধে মুঘলদের সাথে পেরে উঠেনি পরবর্তী ১০০০ বছর ধরে, তাই ব্রিটিশেরা চলে যাওয়ার গন্ধ পেতেই– বিন কাশিম (৭১২ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ) থেকে শেষ মুঘলের বংশধর ও তাদের অনুগামীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করতে উঠে পরে লাগল; ১০০০ বছরের ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতে।

২০২৫ সালে এসে যে সব জাতীয়তাবাদী স্লোগান শুনতে পায় আমরা, ফেসবুক, টুইটার বা হোয়াটসঅ্যাপে যে বিদ্বেষ গুলোড়ি, তার সূচনা ১২০০ বছর আগে কোনো এক অতীতকালের গর্ভে হয়েছিল, যা আজও বহমান। সত্যটা হল মুসলমান হোক বা হিট্টি, সিথিয়ান, তুর্কি শক, হুন, পারস্য ও গ্রীকদের বংশজ- যারা ‘পিওর ব্লাড’ ছিলো, আজকের ১৪৪ কোটি সংখ্যার নিরিখে তারা গননাতেও আসেনা। এদের বীর্যজাত সন্তানই হোক বা ধর্মান্তরিত হওয়া কোনও উত্তরপুরুষ- সবাইকে নিয়েই তো ‘আমরা’। ‘তাদের’ পৌরুষে জন্মানো আমরা, আমাদের পূর্বপুরুষরা, আমাদের রক্ত, আমাদের জিন- সব এই দেশের, এই মাটিরই বাসিন্দা ছিলেন। সুতরাং, ভাগ যদি হয়ে থাকে সেটা বিশ্বাসের ভাগ হয়েছে, মাটির নয়।

১৯৪৭ সালে বহু ভাষাভাষী, বহু জাতীয় কণ্ঠস্বর, ভিন্ন ভিন্ন অভ্যাসের জাতির অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ একত্রীত হয়েছিল। বিপুল সামাজিক-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ ভূ-রাজনৈতিক ভাবে, তার স্বাধীন ‘নেটিভ স্টেট’ গুলোকে সম্মিলিত করে দুটো আলাদা আলদা মেরুতে, আলাদা শিবিরে যোগ করেছিল, ভাগ করেনি। সুতরাং বিভাজন শব্দটি আমার মতে স্বাধীনতা দিবসের সাথে যায়না, এটা একটা দূরদর্শী প্রোপাগ্যান্ডার অংশ মাত্র।

যদি প্রশ্ন করেন এর জন্য দায়ী কে! এটা কোনো এক বাক্যের জবাব হতে পারেনা, সেই দাবি করাও অন্যায়। কেউ কেউ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, আবার কেউ দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়েছিল। আসলে সকলেই নিজের তরফ থেকে সঠিক ছিল, প্রত্যেকের কাছে নিজশ্ব ক্ষুরধার যুক্তিও ছিলো। কিন্তু সবচেয়ে বড় ছিল, আবার ক্ষমতা হারাবার ভয়। এটা কোনো ধর্ম বা জাতিকে সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ছিলোনা।

একদল নেহেরুকে দোষ দেয় তো অন্য দল জিন্নাহকে কেউ সাভারকরের দলকে। সত্যতা বিচার করলে, তৎকালীন ভারতের এই রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের- দেশভাগের মত এতবড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল? যেকোনো সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়, একসময় এর গতি চুড়াতে পৌঁছায়, ক্রমশ বৃদ্ধি হ্রাস পায়, অবশেষে ক্লান্ত হয়ে শেষ হয়। আন্দোলন সিদ্ধান্ত নেয়না, বড়জোর প্রভাবিত করে মাত্র, গতিপথ নির্ধারণ করেনা পাকিস্তানকে দুই টুকরো তাদের নেতারা করেনি, মুজিব আন্দোলন করেছিল মাত্র। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের ইচ্ছায়, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে - ইন্দিরা গান্ধী তা করিয়েছিলেন।

স্বাধীন ভারতের তেলেঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড গঠিত হয়েছিল। ক্ষমতাসীন সরকার যখন চেয়েছিল তখনই এগুলি গঠিত হয়েছিল। নতুবা ছত্তিশগড়ের জন্য কে আন্দোলন করেছিল? কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার জন্য কে আন্দোলন করেছিল? খালিস্তান বা গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলন আজ অবধি কোনো ফলাফল পেয়েছে? আন্দোলনের ফলাফলের চেয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সবসময় বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে। সেদিনও ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আমাদের লোভ লালসা, অহং, অভিজাত আর প্রতিশোধ মানসিকতা, অন্য পক্ষকে দ্বিতীয় শ্রেনির নাগরিক বানিয়ে রাখার পাশবিক তৃপ্তিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। পুর্বপুরুষের সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির সুযোগ নিয়ে দুটি দেশ তৈরি হয়েছিল, যার কোনো দায় আমাদের আজকের প্রজন্মের নয়। আমরা শুধু ঘৃনা আর ক্ষোভ বয়ে বয়ে যাচ্ছি রক্তের নদী পথে, কেন- তার কারন কেউ জানিনা, খুঁজিনা

একটা রাষ্ট্রের সংজ্ঞা কি? জয় শ্রী রাম ধ্বনি, বন্দেমাতরম, সোনার বাংলা বা পাক সরজমিন বললেই কী রাষ্ট্রের পরিচয় দেওয়া হয়ে যায়? সংজ্ঞা নির্ভর করে সেই রাষ্ট্রের ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্য, ধর্মাচারন ও কৃষ্টি দিয়ে। একটা স্লোগান কখনও একটা জাতিকে সংজ্ঞায়িত করেনা। স্বাধীনতা কোনো শারীরিক বস্তু নয়, এটা একটা দর্শন, মানসিক চিন্তাভাবনা।

স্বাধীনতা আমাদের বৈচিত্রে, এই মাটিতে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদা, একে অন্যের খুশিতে অংশগ্রহণে, দুঃখে কাঁধ দেওয়াতে, সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এবং প্রতিটা ভাষাকে সমানভাবে মূল্য দেওয়াতে, তবে ঐক্যের অনুভূতি জাগবে। ক্ষমাসুলভ ভালোবাসা দিয়ে ছোট ছোট ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করতে না পারলে, ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষীদের আবার সুযোগ দেওয়া হবে- ১৯৪৭ সালে যে সংযুক্তি হয়েছিল, তার বিভাজনে

উপমহাদেশে ‘দেশ-যোগ’ ভারতের জন্য যন্ত্রণার কারন হয়েছিল ১৯৪৭ সালে, ‘দেশভাগ যন্ত্রণার কারণ হয়েছিল ১৯৭১ সালেযোগ বা ভাগ, কোনটাই মানুষের জন্য সুখ বয়ে আনেনি। আজকের দিনেও আমরা রুটিরুজির চিন্তার চেয়ে বড় আতঙ্কে থাকি- আমাদের রাষ্ট্রগত পরিচয় কি? সংখ্যাগুরু সবসময় অন্যপক্ষকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানাবার সামান্য সুযোগ ছাড়েনা। ফলে মানুষ ছিন্নমূল হয়ে যায়, অবৈধ হয়ে যায় নিজের অজান্তে, নিজভূমে, নিজের রক্তের কাছে।

মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫

দুর্গাপুজোতে ১১০০০০ টাকা অনুদান



গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেদিন ইমাম ভাতার ঘোষণা হয়েছিল, সেইদিনই এই দুই হাজার কোটির মাতাল-মচ্ছবের ভিত্তি নিহিত ছিল। আগামী প্রজন্ম পরিতাপ করার ভাষা খুঁজে পাবেনা। আমাদের উত্তর প্রজন্ম যদি আমাদের খ-য়ের ছেলে বলে গালিগালাজ দেয়, আমাদের ছবির সামনে জুতোর মালা ঝুলিয়ে রাখে, তাহলেও আমাদের প্রজন্মের এই পাপ, এই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হবে না।

DA দেওয়ার পয়সা নেই, নতুন সরকারি চাকরি দেয়ার পয়সা নেই, শিক্ষক নিয়োগের মুরোদ নেই, শিল্প কলকারখানা স্থাপনের দায় নেই। আমাদের করের টাকায় মোচ্ছব করার জন্য টাকার অভাব নেই। এটাই তোলামুল সরকার, এটাই মমতা ব্যানার্জির উন্নয়ন।
টাটাগোষ্ঠী সিঙ্গুরের জন্য পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল তৎকালীন ১৪০০ কোটি টাকা। সেই সব মায়ের ভোগে তুলে দিয়ে, সিঙ্গুরের জমি এখন বনবাঁদারে পরিনত হয়েছে। গোটা সিঙ্গুর পর্বে কে লাভবান হয়েছে? রাজ্য? সিঙ্গুরের জনগন? কোনো শিল্পগোষ্ঠী? নাহ, কেউ হয়নি, মমতা ব্যানার্জী আর তার তোলামূল দলের চোরেরা ছাড়া।
শিল্পহীন বাংলার ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছে। রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, যদি তোলামূল করো- চুরির ভাগ পাবে। চুরিই একমাত্র শিল্প। একটা সময় ছিল যখন অর্ধেক ভারতবর্ষ থেকে মানুষ কলকাতায় তথা বাংলায় আসত কাজের সন্ধানে।
আজকের দিনে বাংলা থেকে কত শ্রমিক অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে রয়েছে পরিযায়ী হয়ে, তার কোন তথ্য সরকারের কাছে নেই। তোলা আদায়ের জন্য কেষ্টর মত তোলা-শিল্পীরা ফিরেফিরে আসবে নানা রূপে।
টাটাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণও আমাদের পকেট থেকেই গেছে, ৭৬৬ কোটি টাকা। যদিও টাটা এখনও সুদ সহ পুরো ১৪০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণই চায়। আগামিতে দিতেও হবে, তার জন্য মামলা চলছে সর্বোচ্চ আদালতে।
আমার আপনার পরিশ্রমের টাকা, ঘামের টাকা দিয়ে লুম্পেন শ্রেণীকে বিলানোর যে মচ্ছব চলছে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে, সেটা লুটে খাওয়া সমাজবিরোধী এবং ভোটের দিন বুথ দখলের কারিগরদের প্রতি সামান্য উৎকোচ এই ২০০০ কোটি, পাশাপাশি স্বীকৃতিও বটে- তোমরা সততা ব্রিগেডের সভ্য।
RSS প্রকাশ্যে উগ্রহিন্দুত্বের রাজনীতি করে। মমতা ব্যানার্জি তার থেকেও ভয়ানক, দুধেল গাইদের মসিহা সেজে RSS এর প্রতিটা এ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করেছে ও করে চলেছে।
রাজ্যে বিজেপি বলে কোনো সংগঠন নেই, যা আছে তা দল তোলামূলের গোষ্ঠীকোন্দলের দরুন বিক্ষুব্ধ তোলামূল আর RSS ও তাদের প্রত্যক্ষ শাখা গুলো। মমতা ব্যানার্জী RSS এর সবচেয়ে বড় প্রচারক। নেই বিজেপির জুজু দেখিয়ে দুধেল গাইদের দুয়ে নিচ্ছে ভোটের বাক্সে। ক্ষমতার চেয়ারে বসে নাগপুরের স্বপ্নপূরণ করছে।
আমরআ যদি চোখ বন্ধ রেখে মমতাকে বিশ্বাস করে ভেবে নিই- জোড়াফুলে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে- সেক্ষেত্রে নতুন করে আমাকে আর কেউ চুতিয়া বা গান্ডু বানাতে পারবে না, কারণ অলরেডি আমি চুতিয়া-শ্রী হয়েই রয়েছি তার অনুপ্রেরণায়।
প্রতিটি সুস্থ এবং স্বাভাবিক মানুষের উচিত মমতা ব্যানার্জিকে অবিশ্বাস করা। প্রতিটি মুসলমানের উচিত মমতা ব্যানার্জীর গোটা মুখ্যমন্ত্রীত্ব কালকে পর্যালোচনা করা। বিজেপি পরিচালিত কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এই পর্যায়ের RSS তোষণ করেনি।
মাথায় হিজাবি ঘোমটা দিয়ে দুধেল গাইকে মানব-অস্ত্র বানাচ্ছে, ফলত মারছে মুসলমান, মরছে মুসলমান। যে মরল তার পরিবারও শেষ, যে খুন করলে সে জেলে গিয়ে তার পরিবারকেও শেষ করলো।
কোনো উচ্চবর্ণের হিন্দু তৃণমূল নেতা বা তাদের ছেলেপুলেকে কোনোদিন বোমা মারতে দেখেছেন? তারা নেতা হয়, মুসলমান আর নিম্নবর্গের হিন্দুদের শাসন করে। বোমা বাঁধে মুসলমান আর সিডিউল কাস্ট, মরেও এরাই।
আপনারা দুধের গাই সেজে সামান্য কিছু এটোকাটা খেয়ে নিজের পরিবারকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন, রাজ্যকে ডুবিয়ে দিচ্ছেন। লজ্জা লাগে না আপনাদের আয়নাতে মুখ দেখতে, নিজেকে মুসলমান বলতে লজ্জা লাগে না? ঘেন্না হয় না সন্তানের দিকে তাকাতে?
মগজ অনেকের হাঁটুতে থাকে, আপনারা যারা দুধেল গাই রয়েছেন, আপনাদের মগজ বিচিতে। কমোডে ফ্ল্যাশ করা বীর্যের সুরুয়া খেয়ে শুয়োরের খামারে জন্ম নিলে তবে এই জেনেটিক্যাল পরিবর্তন ঘটে, মাথা থেকে বিচিতে মগজ চালান হয়। প্রতিবার মুঠো মারার সাথে সাথে ঘিলু তথা বীর্য নিঃসরণ হয়। নতুন দুধেল গাই এর জন্ম হয়, সিম্পল ও কিউট প্রসেস।
আপনার ঈমান যদি থাকে- নিজেকে প্রশ্ন করুন, যদি আপনি চোর না হন, চুরির টাকার বখরা না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি বা আপনার পরিবার, আপনার সম্প্রদায় কি পেয়েছে এই তোলামূলের চোর সাম্রাজ্যে?
ভাবুন, ভাবা প্রাক্টিস করুন।

KBC তে কুরেশী



Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS) -Bharatiya Janata Party (BJP) কতটা দেউলিয়া হলে এইভাবে খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচাতে চাইছে মোদীশাহ এর চোর সরকার কে!

কোন গুরুতর সামরিক অভিযানের পর কি আপনি কখনও এমন কিছু দেখেছেন ইতিহাসে?
অন্য কোনো দেশে এমনটা ঘটেছে?
ভারতীয় সেনাকে নিয়ে যে আবেগ রয়েছে প্রতিটি ভারতীয়ের মনে, সেটাকে এইভাবে বানিজ্যিকরণ করা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে? কাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে? সেনাবাহিনীয় সাফল্য কী মনোরঞ্জনের মত সস্তা বিষয়? এটা কী শাসকদলের পৈতৃক সম্পত্তি?
সরকারী চাকুরিরত ব্যক্তির পক্ষে এমন সম্প্রচারে অংশগ্রহন কী সরকার স্বীকৃত বা আমাদের সংবিধান অনুমোদন করে?
ADGPI - Indian Army এটা কী আপনাদের শৌর্যের সাথে যায়- এমন সস্তা মনোরঞ্জন, তাও একটা প্রাইভেট চ্যানেলে,প্রাইভেট কুইজ শো এ?
ভোট চুরি করে চেয়ার দখল করা মোদী সরকার নির্লজ্জভাবে আমাদের সেনাবাহিনীকে তার তুচ্ছ রাজনীতি এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্য ব্যবহার করছে। সেনার আড়ালে নিজেদের চুরি দূর্নীতিকে ঢাকার অপচেষ্টা করছে।
ছিঃ

সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

ভারতের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারন কে করে?

 


কেন পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ খেলবে

এর উত্তর খুব সোজা কিন্তু রচনাত্বক।

প্রত্যেকে চায় তার প্রতিষ্ঠিত হোক, অমিত শাহ তার ছেলেকে এই মুহুর্তে ভারতের সবচেয়ে ধনী যে বেসরকারী সংস্থা (বোর্ড) রয়েছে সেই BCCI এর উচ্চপদে আসীন করিয়ে রেখেছে। বর্তমানে সে ICC এর পদে থাক বা যেখানেই থাক, ছেলের নামে অমিত শাহ পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করছে সেটা সকলে জানি। এখানে এতো বেশি টাকা রয়েছে যে টানা দুটো টার্ম স্বপদে রয়ে যেতে পারলে বাকি জীবন রোজগার না করলেও চলে

এশিয়া কাপের মূল স্পনসর আরব আমিরাতের সরকারী কোম্পানি DP World, যারা ভাইব্রেন্ট গুজরাতের টাইটেল স্পনসর ছিলো। গান্ধীনগরের দীনদয়াল পোর্টের মালিকানার পাশাপাশি মুম্বই এর JNPT বন্দরের ৩টে ডকের মালিকানাও রয়েছে। ‘ভীমাসার-কলকাতা’ পণ্য রেল পরিসেবা চালাবার দায়িত্ব পেয়েছে। এছাড়া ভারত সরকার ও আফ্রিকার মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাঝেও এই DP World জাঁকিয়ে রয়েছে ‘Bharat Africa Setu’ নাম নিয়ে। দুবাই এ জনগনের করের টাকায় ভারত সরকারের তৈরি করা ‘ভারত মার্ট’ শপিং কমপ্লেক্স তৈরির বরাত পেয়েছে।

আদানির যাবতীয় সমুদ্রবন্দর গুলোতে এই DP ওয়ার্ল্ড পণ্য হ্যান্ডেলিং এর কাজ করে। Container Corporation of India (Concor), যা ভারতীয় রেলের প্রাণ- সেই সরকারী পন্য পরিবাহী রেলওয়ে কোম্পানিটিকে বেসরকারীকরন করে ‘ADANI–DP World’ জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাছে বেচে দেওয়ার প্ল্যান পাকা করেছে মোদী সরকার।

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2062903

https://www.dpworld.com/en/news/gujarat-and-dp-world-sign-agreements-to-strengthen-logistics-in-the-indian-state

https://www.cnbctv18.com/infrastructure/concor-privatisation-draws-interest-from-dp-world-adani-and-vedanta-8640071.htm

এর পরের পার্টনার ‘ওয়ান্ডার সিমেন্ট’। যাদের মূল ব্যবসা মার্বেলের, কোম্পানির নাম RK Marble. এর মালিকের নাম ‘বিবেক পাটনি’। এই বিবেক পাটনি অমিত শাহ এর অতি ঘনিষ্টের অন্যতম। গুজরাতে সোহরাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী এনকাউন্টার মামলাতে মূল অভিযুক্ত ছিল CBI এর চার্যশিটে, বিচারপতি লোয়া খুন সন্দেহ তালিকাতেও এই ব্যাক্তিই অমিত শাহ এর হয়ে সুপারি দিয়েছিল বলেই অভিজ্ঞ মহলের বিশ্বাস।

২০০১ সাল থেকে মার্বেলের বাইরে অন্যান্য ব্যবসাতে এদের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে গুজরাতে মোদী সরকারের সৌজন্যে, ২০১৪ সালের পর আক্ষরিক অর্থে এদের অমৃত কাল আসে এবং পরবর্তী ৫ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক, একাধিক সিমেন্ট ফ্যাক্টারির মালিক ও দেশ জুড়ে জমির মালিক হয়ে উঠে।

DP World Wonder Cement এর মত সংস্থা যখন এশিয়া কাপের মুখ্য স্পনসর, সেখানে অমিত শাহ এর ক্ষমতা কী ‘মানা করবে”! জয় শাহ, নেহাতই নাবালক ও নির্বোধ পাপ্পু

কিন্তু প্রশ্ন তো দেশের বিদেশনীতি ও অর্থনীতির, প্রতিরক্ষার, এগুলো তাহলে কে ঠিক করে? অর্থনীতির দিশা কে বা কারা দেয়?

বাকি সকল দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক থাকে, ২০১৪ পূর্ববর্তী আমাদের দেশেও তেমনই ছিল। সেই দপ্তরের মন্ত্রী, আমলা, দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা সেনা শাসন থাকলে সেনা কর্তা প্রমুখ, নানান অঞ্চলের সিলেক্টিভ জনপ্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, বিদেশ ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ পন্ডিতের দল ও উচ্চপদস্থ সরকারী আমলারাই সিদ্ধান্ত নেয়
২০১৪ পরবর্তী RSS শাসিত মোদীর ভারতে এই নিয়মটার পরিবর্তন হয়ে গেছে। মোদী মূলত শো-ম্যান, টেলিপ্রম্পটার সামনে নিয়ে ক্যামেরার দিকে তাক করে আত্মবিশ্বাসের সাথে মিথ্যা বলে, আর শারিরীক অঙ্গভঙ্গী সহ মোটাদাগের অভিনয় করে টেনে টেনে সাম্প্রদায়িক কথা বলে ভক্তদের উদ্দেশ্যে

আপনি ভাবছেন বিদেশমন্ত্রী লেজার জয়শঙ্কর বা গরীবের জেমস বন্ড- অজিত ডোভাল, বৈদেশিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়! অরুন জেটলি বা নির্মলা সীতারামন অর্থনীতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে!

মোদী জামানায় ৯ জন অর্থমন্ত্রকের সেক্রেটারি হয়েছে, বর্তমান জনের নাম অজয় শেঠ। বিতাড়িত অশোক লাভাসা থেকে “কবিশ্রী” রাজীব কুমার- সকলেই এই পদ কলঙ্কিত সরি অলঙ্কৃত করেছে। এদের কাজ কী ধরণের, আজ ভারতেই সকলেই জানে, সৌজন্যে ভোট চুরির ম্যানিপুলেশন ফর্মুলা। এরা IAS ডিগ্রীধারি হলেও, মূলত দিল্লির কেশবকুঞ্জের নেড়ি। কে জানে সুপ্রিম কোর্ট এই ঘেঁয়ো গুলোকেই খাঁচায় বন্দি করার অর্ডার দিয়েছে কিনা!

মোদী জামানার বিদেশ সচিব পদে ২০১৫ সালে প্রথম এ্যাপোয়েন্টমেন্ট ‘লেজার’ জয়শঙ্কর, এরপর যারা এসেছেন- কাগজে লেখা বিবৃতির বাইরে তেমন কোনো কাজ এনাদের করতে হয়নি বা করতে দেয়নি। যিনি কিছু করেছেন এবং তা কার্টেলের পক্ষে, শ্রীংলার মত রাজ্যসভায় যাবার হাতেগরম পুরষ্কারও পেয়েছেন। যিনি বিরুদ্ধে গেছিলেন সেই অশোক লাভাসার ছেলে মেয়েকে জেলে পাঠিয়ে, স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনের নামে মামলা করে, ED এর রেড করিয়ে যাবতীয় হয়রানি করিয়ে, আপাতত এশিয়ান ডেভলপমেন্ট এর একটা পদে পাঠিয়ে তড়িপাড় করে দিয়েছে

তাহলে অর্থমন্ত্রক আর বিদেশ মন্ত্রকের মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর চালায় কে?


💥 ১ কথায় উত্তর- “আদানি ও আম্বানি”


কীভাবে? চলুন, সেটাই দেখুন।

১) আম্বানির একটা সংস্থা রয়েছে https://www.orfonline.org/, এই সংস্থার ৯৭% ফান্ডিং করে রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ। আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য এই সংস্থার সর্বোচ্চ কর্তার নাম ‘ধ্রুব জয়শঙ্কর’। হুম, ঠিকিই ধরেছেন, লেজার বাবুরই ছেলে। ইনি ভারত সরকার অনুমোদিত অফিসিয়াল ব্যক্তি। ফলত ট্রাম্পের শপথ গ্রহনে মোদী ডাক না পেলেও মুকেশ আম্বানি ডাক পায়, সৌদিতে ট্রাম্প এলে আম্বানি ঠিক পৌছে যায়। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে ভারত রাষ্ট্রের হয়ে এই সংস্থা বিদেশনীতি তৈরি করে, বিশেষ করে আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অংশে।


২) এর পর রয়েছে India Foundation, যার মাথায় রয়েছে RSS এর কার্যকর্তা প্রচারক রাম মাধব, আর মূল সংগঠন চালায় শৌর্য্য ডোভাল, হুম- ভক্তদের জেমস বন্ডের ছেলে। বাকি আরো কিছু কেষ্টবিষ্টু রয়েছে, তারাও ওই গোয়ালঘরের প্রোডাক্ট, বকনা বাছুর ও বৃদ্ধ ষাঁড়ের দল। এরাও ‘গর্ভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার’ অফিসিয়াল থিঙ্কট্যাঙ্ক, বিদেশ নীতি ও কূটনীতি তৈরি করে।

https://indiafoundation.in/

৩) এদের সাথে রয়েছে আদানি ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ CRF (Chintan Research Foundation), এরা আবার ভারতের অর্থনীতি, বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতিও তৈরি করে, Govt of India এর হয়ে অফিসিয়ালি। ভোট চুরির ডেটা ম্যানেজমেন্ট নাকি এরাই করতো, তাই ৯ই আগষ্ট থেকে এদের মূল ওয়েবসাইট বন্ধ করে রেখেছে। পাশাপাশি আর একটা সংস্থা আছে আদানির- APSE, এদের কাজ বৈদেশিক বানিজ্য বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া।

গত ১০ বছরে ভারতে যত বিদেশী রাষ্ট্রদুত ও বানিজ্যিক প্রতিনিধি দল এদেছে, প্রতেককে ‘হোস্টিং’ করার বরাত পেয়েছিল আদানির এই সংস্থাই। মোদী যখনই বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে গেছে – উপরোক্ত ৩ ধরণের সংস্থার লোকজনই তার সাথে গেছে। বুঝে গেলেন, কারা মূলত ভারতের অর্থনীতি, বিদেশনীতি আর প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ন্ত্রন, তৈরি করে চলেছে মোদীর জামানাতে!
https://www.crfindia.org/

বিজেপি ও তাদের ঘনিষ্ট আমলাদের প্রত্যেকের ছেলে-মেয়ে ‘দেশ বিক্রিতে’ নিয়োজিত প্রতিটি ‘দেশাত্ববোধক’ ও ‘হিন্দুত্বে’ ভরপুর সংস্থার মাথায় বসে রয়েছে। আপনার ছেলে জয় শ্রী রাম নাদে মদজিদের চূড়ায় উঠে গেরুয়া উড়াচ্ছে, তরোয়াল হাতে রামনবমীর মিছিল করছে মুসলমান পাড়ার মুখে, স্বাধীনতা দিবসে মাংস কিনতে বাঁধা দিচ্ছে। দলিত আর মুসলমান মেরে নিজেকে হিন্দুত্বের রক্ষাকর্তা ভাবছে। এটাই RSS এর জাতীয়তাবাদ, আপনার ছেলেকে ধর্ম দিয়ে মাতিয়ে রাখবে, ওদের ছেলেরা দেশ বিক্রি করে বিদেশে সেটেল হয়ে যাবে

দেশের ৭৩% মেইনস্ট্রিম মিডিয়া রিলায়েন্স-জিওর দখলে। হ্যাঁ, হোয়াটস্যাপও, ওখান থেকেই ভক্তদের ইউনিভার্সিটি চলে। বাকি ১৯% মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আদানি গোষ্ঠীর। বাকি যে ৮%, সেগুলো বিজেপির সাংসদ সুভাষচন্দ্রের জি-নিউজ, বা অর্ণবদের মত নাগপুরের হাফপ্যান্টওয়ালাদের। আনন্দবাজারের মত আঞ্চলিক ভাষার মিডিয়া গুলোও RSS এর মতাদর্শেই চলে, নাহলে কেন্দ্রের বিজ্ঞাপন পাবেনা, আর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শাসককে খুশি করে চলে এরা।

সংবাদ প্রতিদিন, খবর ৩৬৫, যুগশঙ্খ বা কলম- এই জাতীয় কাগজ গুলো একমাত্র বাচ্চাকে হাগাবার জন্য মায়েরা কেনে। কেরল আর তামিলনাড়ু ব্যতিরেকে অবশিষ্ট ৭% মিডিয়াই নাগপুরের গোয়ালঘর থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয়। ৯২% মিডিয়া ইতিমধ্যেই গুজ্জু কার্টেলের হাতে। তাই এরা কখনই আপনাকে শুনতেও দেবেনা যে কারা আসলে সরকার চালাচ্ছে। এর বাইরে ২ টাকা পোষ্টের সোস্যাল মিডিয়া ব্রিগেড মহান আঁটসেল তো আছেই মিথ্যা প্রচারের জন্য

মোদী এই গুজ্জু কার্টেলের বিজ্ঞাপনী ও রাজনৈতিক মুখ মাত্র, দেশের আসল নিয়ন্ত্রক ওই দুই গুজরাতি মাফিয়া, যারা দেশের বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী সিস্টেম, CAG, FCI, UPSC, GST, AGI, ASG সহ প্রায় প্রতিটি ফেডারাল স্ট্রাকচারকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে, উগ্র দেশপ্রেম আর হিন্দুত্বের রঙে সাজিয়ে। তলে তলে নিজেরা দেশ লুঠের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আপনার আমার শ্রমের অর্থ এরা চুরি করছে রোজ, আমাদের পূর্বপুরুষের মেহনতও লুঠ করছে নির্বিচারে- ধর্মের গাজর ঝুলিয়ে

তাই আপনি আমি যতই দেশ নিয়ে আবেগান্বীত হই না কেন, ভারত পাকিস্তান ম্যাচ হবে, কারন দেশ যারা চালায়- সেই কার্টেল সরাসরি ভাবে এই ব্যবসার মুনাফাখোর। যেদিন কেন্দ্রের সরকার বদলাবে, এদের অধিকাংশই জেলের ভিতরে থাকবে আজীবন, যেকনো মূল্যে ‘সরকার’ নামের সার্কাসটার তাবু বাঁচাতে মরিয়া এরা

আবার ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ মন্ত্র নিয়ে আপনার দ্বারে ছুটে আসবে এরা। আজ হিন্দু নয়, এই চোর গুলো নিজেরা বিপদে পরেছে, তারা ‘খতরেমে’। তাই হিন্দুত্বর আবেগকে বেচতে আসবে মেজো খোকার রূপ নিয়ে, যার পালে হাওয়া দেবে মুসলমানের মসিহা সাজা ‘কয়লা ভাইপোর পিসি’। মিডিয়াতে ন্যারেটিভ সেট হবে বিজেপি-তৃনমূল, আরেকটা দল সেটিং সেটিং করে চেঁচিয়েই মল খসিয়ে ফেলবে। সবাই নিজের নিজের আখের গুছাবে। আর সেই প্রোপাগান্ডার জলোচ্ছাসে আবার যদি ভেসে যান, আপনার আগামী প্রজন্মের পরনের ত্যানা টুকু বাঁচবে কী?

বাঙালী খেদাও ও বাস্তবতা



বাঙালির উপর অত্যাচার আজকে নতুন কিছু নয়। মুম্বাইতে বিহারি খেদাও অভিযান, এটাও খুব পুরানো নয়। আসল কথা গরিবের উপর অত্যাচার। কোন বড়লোকের উপর আজ অব্দি কখনো কোন রাজ্যে, কোন দেশে অত্যাচার হয়নি।

চতুর্দিকে প্রচারণার আলোকে থাকা তথাকথিত 'বাঙালির উপর অত্যাচার', এই ডাইলেক্ট এর বাইরে গিয়ে আমার এই লেখাটা আপনাকে ঝটকা দেবে। প্রচারণার ধাক্কানিনাদে আমরা কি ক্রমশ সত্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি না?
বাঙালির প্রথম কর্তব্য মমতা ব্যানার্জিকে অবিশ্বাস করা। এটা করতে পারলে আপনি প্রাথমিকভাবে সফল, এবং আপনার চোখ মন এবং ভাবনাচিন্তা সঠিক বিষয় কাজ করবে। নতুবা আপনি এদের প্রচারণার তাবুতে নিজেকে ঢেকে ফেলে ঠিক ততটুকু দেখবেন, যেটা এরা দেখাতে চাইছে।
যে রাজ্যে হামলা হচ্ছে সেখানে মমতা সরকারের কোন বিধায়ক বা সাংসদ যায়নি। না এর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোন বিল পাস করেছে। না সংসদে কোন আওয়াজ তুলেছে তাদের সাংসদেরা। না কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করেছে। তৃণমূলের সাংসদ সামিরুল আলম নিয়মিত রোজ মিথ্যাচার করে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। এর সাথে আরও সাঙ্গোপাঙ্গগুলো তো রয়েছেই।
RSS যেমন হিন্দুদের চুতিয়া বানাচ্ছে রোজ, তৃণমূল তথা মমতা ব্যানার্জি দুধেল গাইদের গান্ডু বানাচ্ছে বিজেপি জুজু দেখিয়ে।
মমতা ব্যানার্জি গেছে বীরভূমে, এরপর যাবে মালদা মুর্শিদাবাদে। কারণ এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকেরাই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এদের পরিবারের ভোটগুলোকে সুরক্ষিত করতে তাদের সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছে। যেখানে আক্রমণ হচ্ছে সেখানে যায় না গিয়ে।
মাননীয় যে দ্রুত এই সাজানো মামলায় সেমসাইড করবে - সেটা প্রত্যাশিত ছিল। প্রতিটা পদক্ষেপ দূর্নীতিতে ডুবে থাকা এই সরকারের দরকার নতুন নতুন ইস্যু। যাতে করে দুর্নীতির প্রশ্ন কক্ষনো না ওঠে, সাথে রয়েছে সেটিং করে থাকা তথাকথিত বিপ্লবী বিরোধী এবং একই হাঁড়ির রান্না খাওয়া বিজেপি। মানুষ দিশেহারা হচ্ছে, হবেও; তবে শেষও আছে।
শ্রমজীবী মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে, এর চেয়ে বড় সত্যি ভারতবর্ষে কমই আছে; কিন্তু মাননীয়া যেটা দেখাচ্ছেন সেটা যে অধিকাংশটাই বানোয়াট, এ বিষয়ে সন্দেহ আমারও ছিল না। তাই এ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে কোন লেখা নামাবার ভরষা পায়নি।
কোথাও তো একটা বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। আগামীতে প্রতিটা গল্প ফাঁস হয়ে যাবে- ঠিক কোথায় কে এই অত্যাচারগুলো করেছিল। লিখে রাখুন, প্রতিটা হামলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। যার জন্য তৃণমূলের একটা সেল কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটা হামলাত এনডোর্সসিং, প্রোডিউস ও প্রোমোট সবটাই করেছে তৃণমূল।
মিডিয়া এই গোটা নাটকের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। টিভি মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা তৈরি করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চোর সরকারের পক্ষে। গোটা ষড়যন্ত্রের বড় স্টেক হোল্ডার , দল তৃণমূলের পরেই।
আপনারা সবাই জানেন গুন্ডা কে কন্ট্রোল করে।
বড্ড দুর্বল চিত্রনাট্য, খুব বাজে অভিনয়। সব মিলিয়ে ধরা পরতেই হতো। ভিনরাজ্যে ঘটে চলা প্রতিটা অত্যাচারের পিছনে এই দল তৃণমূল রয়েছে যারা টার্গেট করে কোথাও পুলিশ সেজে কোথাও গুন্ডা সেজে অত্যাচার চালাচ্ছে। প্রতিটা ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। হামলাকারী=তৃণমূল। যে জল মাননীয়া ঘোলা করে মানুষকে ঘুলিয়ে দিতে চেয়েছেন, সেটাই উনার জন্য বুমেরাং হয়ে যাবে। যাতে করে এই রাজ্যে একটা অবাঙালি দের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় এবং সেটাকে কেন্দ্র করে হানাহানি শুরু হয়ে যায়।
সিট বেল্ট বেঁধে বসে পড়ুন, SIR এর নোটিফিকেশনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের রীতিমতো হুমকি-ধমকি দিয়ে ফেলেছেন। এরপর আরো নাটক শুরু হবে। কমপ্লিট এন্টারটেইনমেন্ট আসতে চলেছে। মহারাষ্ট্রের মতো এই রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে সরকারের সমালোচনা নিষিদ্ধ হলে আশ্চর্য হবেন না।

ভাইপো ও চুরি


 

হ্যাঁ, ভাইপো, চুরি কখনও একতরফা হতে পারেনা। হয়ও নি-

নাগপুরী গোয়ালঘরে সবার জন্য এক নিয়ম। সেম অ্যাপ্লিকেশন তুমি ডায়মণ্ড হারবারে প্রয়োগ করেছো বাছাধন। লোকসভা ডিজলভ হবে কি হবে না সে তো সময় বলবে কিন্তু তুমি যদি বাপের বেটা হও ডায়মন্ড হারবারের ভোটার লিস্ট ধরে ধরে প্রমাণ করে দাও দেখি যে- তুমি চুরি করোনি। তুমি সবাইকে ভোট দিতে দিয়েছিলে!! কোন বুথটা এমন আছে যেখানে ছাপ্পা, রিগিং আর ভয় দেখানো হয়নি?
চুরি গুজরাতেও হয়েছে, মহারাষ্ট্র, কর্নাটকে, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ সর্বত্র হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও হয়েছে, আর সেটা তোমার পিসিমনির পোষ্য পুলিশ আর পাঁচবারের ইনক্রিমেন্ট নেওয়া BDO এর দল মিলে করেছে।
তুমি আর তোমার ক্ষণজন্মা পিসিমনি -চুরি শিল্পের দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় শিল্পী। গনতান্ত্রিক উপায়ে চুরির নানা ধারা উদ্ভাবনের জন্য নোবেলের দাবিদার তোমার পিসিশ্রী।
নপুংশক কংগ্রেস আর সিপিএম এর "দালাল ফালতুবুড়ো" গুলোকে 'সেটিং' করে রেখে- বিজেপির সাথে মিলিজুলি ১৫ বছর ধরে, বাংলা লুঠের প্রাণপাখি যে ভোটার লিষ্টের ভুয়ো ভোটার- সেটা প্রমান হয়ে যেত যদি এ রাজ্যে কোনো বিরোধী দল থাকত।
যুবক দল রাস্তায় আছে- তোমার প্রতিটা রাজনৈতিক দিনের হিসাব নেওয়া হবে আগামীতে। অপেক্ষা করো, পালাবার রাস্তা বন্ধ হবে শিজ্ঞিরি, রাহুল গাব্ধীর পিছন চেঁটে বাঁচা যাবেনা, সে নিজেই সার্ভাইবাল লড়াই করছে।

শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫

মমতার ভুয়ো ভোটার শিল্প

 



আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, পশ্চিমবঙ্গেও এমন লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার তৈরি করে রেখেছে তোলামূল। প্রতিটি বুথে, প্রতিটি পঞ্চায়েতে, প্রতিটা ভোটার লিস্টে।

বুথ দখল, ছাপ্পা, রিগিং, ভয় দেখিয়ে বুথ অব্দি পৌঁছতে না দেওয়া ভোটারকে, মেরে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্ট তাড়িয়ে দেওয়া, ইত্যাদি- এসবের জন্যই উৎসবের নামে, মেলা-খেলার নামে পয়সা উড়িয়ে গুন্ডা কন্ট্রোল করেন তিনি। খুন, জখম, রক্তবন্যা এগুলো চোরেদের দেবীর পায়ে অর্ঘ্য মাত্র।
মাননীয়ার SIR এর বিরোধিতার মূল কারন একমাত্র এইটা। হিন্দু বাঁচলো না মুসলমান বাঁচলো, এসব ধর্মের রাজনীতি আসলে পোলারাইজেশনের জন্য, মূল হচ্ছে ভুতুড়ে ভোটারকে বাঁচিয়ে রাখা। ভাইপোর রাজকীয় লাইফস্টাইল বাঁচিয়ে রাখা। ভুয়ো ভোটার বেঁচে থাকলে তবেই লুটে খাওয়ার জন্য পঞ্চায়েত থেকে নবান্ন- সর্বত্র তোলামুলের এজেন্ট গুলো ৩০-৭০% হরে কালীঘাটে কাটমানির ভাগা পাঠাতে পারবে। এই কারনেই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে BLO দের প্রকাশ্য ধমকি দেয়।
তোলামুলের মূল সাফল্য হচ্ছে- চুরি শিল্পকে বুথ স্তরের একটা বড় অংশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। তোলামূল করা আজকে পেশা, প্রায় প্রত্যেকের কাছে এটা তাদের রুটি রুজির প্রশ্ন। এমন সংগঠিত অপরাধ, যেটা গণতন্ত্রের নামে সম্পূর্ণ মাফিয়া কার্টেল কায়দায় লুঠতরাজ চালানো, বিশ্ব ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। আর এই মাফিয়া কার্টেল চালাবার জন্য ভুয়ো ভোটার হল এদের মূল অস্ত্র। একদিকে গুজ্জু কার্টেলের সহযোগিতায় দেশ লুঠছে, এখানে কালীঘাট কার্টেল। নাগপুরীয় আদর্শের গোয়ালঘর রাজনীতির মূল মন্ত্র যেটা- লুন্ঠন।
কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুটো ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান- শুধুমাত্র এই জেলাগুলো থেকেই লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার বাদ যাবেই যাবে। এই ভোট চুরির মাধ্যমের তোলামুলের আসল উন্নয়ন, আর এটাই অনুপ্রেরনা সততার সাথে।

➤ডুপ্লিকেট ভোটার?
➤ফেক ও ইনভ্যালিড ঠিকানা?
➤ একটা ঠিকানায় বহু ভোটার?
➤ ইনভ্যালিড ফটো?
➤ নতুন ভোটারে কারচুপি?

এই পাঁচটা চুরি বিদ্যার কোনটা ব্যবহার করেনি আমাদের রাজ্যের ভোটারলিষ্টে? এই তোলামুল সরকার ও তার অধীনে থাকা অমেরুদণ্ডী দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মচারীরা এটাই করে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে।
আগে ভুয়ো ভোটার বাদ যাক, যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তারপর নাহয় কে দেশি আর কে বিদেশি - সেই বিবেচনা করা যাবে। রাষ্ট্র কাকে শরণার্থী রাখবে, কাকে ডিপোর্ট করবে, কাকেই বা কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে রাখবে, সেসব অনেক পরের বিষয়।
নিশ্চিন্ত থাকুন, ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া কোন ভারতীয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ভয় তোলামুলের, ভয় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আর ভয় তোলামুলের সাথে যোগ-সাজিস করে সরকারি দপ্তরে মৌরিসপাট্টা গড়ে থাকা কর্মচারীদের।
মানুষকে বিতারিত হওয়ার ভয় দেখিয়ে, সেই ভয়ের পর্দার আড়ালে আসলে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় রয়েছে রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
জাগো বাঙালী জাগো।

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

মূর্খ মোদী ও ট্রাম্পের ট্যারিফ



মূর্খ কখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা, গোবর খেকো কোন বাঁদরের সৎ সাহস থাকতে পারে না। নতুবা ট্রাম্পের মত একজন উন্মাদগ্রস্থ রাষ্ট্রপ্রধান সকাল সন্ধ্যা উঠতে বসতে আমাদের দেশের মান ইজ্জত নিয়ে চু-কিতকিত খেলতে পারত না।

নির্বোধ শ্রেষ্ঠ মোদী আর তার তড়িপার স্যাঙাৎ - নির্লজ্জতার অপর নাম, নতুবা সামান্যতম আত্মসম্মানবোধ যদি থাকতো, তারা জবাব দিত।
২০১৩ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তৎকালীন একজন ভারতীয় কূটনীতিক- দেবযানী খোবরাগাড়ের সাথে দুর্ব্যবহার করেছিল মার্কিন প্রশাসনের কিছু লোকজন।
এর পদক্ষেপ অনুসারে, সেই সময়ের ভারতবর্ষের শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, মার্কিন কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এবং মার্কিন দূতাবাস থেকে নিরাপত্তা ব্যারিকেড অপসারণ করে প্রতিক্রিয়া জানান। ভিডিওতে দেখুন-
ফলশ্রুতিতে দ্রুত মার্কিন প্রশাসনের হুশ ফেরে এবং শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমা স্বীকার করে।
রাষ্ট্রের একটা বিদেশ নীতি থাকতে হয় আর নীতি তৈরি করতে গেলে সঠিক শিক্ষা সহ নৈতিকতার বোধ থাকতে হয়। মোদি সরকারের বিদেশ নীতি তৈরি করে রিলায়েন্সের তথা আম্বানির ORF আর আদানি ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ CRF (Chintan Research Foundation) এবং APSE এর মত সংস্থাগুলো - অজিত ডোভালের ছেলে বা জয়শঙ্করের ছেলেদের ফ্রন্ট লাইনে রেখে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী কর্পোরেট ধান্দাবাজি করে- আপনি আমি ভাবি মোদী-শাহ এর মন্ত্রী সভাই বোধহয় দেশের বিদেশনীতি ঠিক করছে।
আসলে গুজ্জু কার্টেলের দুই সর্বোচ্চ ক্রিমিনাল- শুধু দেশের সম্পত্তি লুট করছে তাই নয়, দেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, সাংবিধানিক সংস্থা ও আমলা তন্ত্রকে সম্পূর্ণ হজম করে ফেলেছে। না হলে ভাবা যায় - দেশের বিদেশ নীতি তৈরি করছে দুটো পুঁজিবাদী কর্পোরেট সংস্থা। কোন লুকোচাপা করে নয় প্রকাশ্য এবং অফিসিয়ালি।
এরা ভাববে দেশের মানুষের স্বার্থ?
বিদেশে গিয়ে চারটে ভাড়াটে নাচিয়ে গিয়ে রুঁদালি গেয়ে "ডায়াস্ফোরা" বানিয়ে আর পমেরিয়ান মিডিয়াকে দিয়ে সর্বক্ষণ ঘেউ ঘেউ করিয়ে কাউকে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী বানানো যায়না৷ চুরি করে হওয়া প্রধানমন্ত্রী - তার কোন দায়বদ্ধ থাকে?
বর্তমানে মোদী উদ্বোধন মিনিস্টার হয়ে গেছে। রেলের উদ্বোধন রেলমন্ত্রী করে না, রাস্তার উদ্বোধন রাস্তা মন্ত্রী করে না, এয়ারপোর্টের উদ্বোধন বিমান মন্ত্রী করে না। যাবতীয় উদ্বোধন এবং তার কৃতিত্ব শুধুমাত্র মোদির; আর যখন সেগুলো ফেটেফুটে যায় বা যখন দায় নেওয়ার প্রশ্ন আসে তখন মোদি মিউট মোডে চলে যায়।
নিরক্ষর মিথ্যাবাদী প্রচারসর্বস্ব একটা ক্লীব- ক্যামেরা খুঁজে খুঁজে নিয়ে অভিনয় টুকু করে। আপনি আমি রোজকার এই ডেইলি টেলি সিরিয়াল দেখে হিন্দু-মুসলমান, গরু-শুয়োর, মন্দির-মসজিদ নিয়ে মেতে থাকি।
আমাদের ঘরের যুবকেরা থাকে রাস্তায় বসে রোজগার চেয়ে, বিচার চেয়ে। বিনা বিচারে ৫ বছর ধরে উমর খালিদ বন্দী থাকে জেলে, দিল্লি পুলিশ এই একটা কাজ নিশ্চিত করেছে। এটাই গোয়ালঘরের গণতন্ত্র।
ওদের লজ্জা হবে না কারণ ওরা চুরি করতেই এসেছে, আপনার কি লজ্জা হয়?

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...