বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

দ্য এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্স



আগে গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় নাকি এমন একটা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি দিতো। এখন এই সাবজেক্ট পড়ানো বন্ধ করে দিলেও সাবজেক্টের অধ্যয়গুলো পরিষ্কার হয়েছে গত ১১ বছরের অধ্যয়নে

ভয়ানকভাবে উগ্র দেশপ্রেমের সংকীর্তন করো, যাতে অতীতে ব্রিটিশের দালালি ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে থাকা জনসঙ্ঘ বা RSS এর ঘৃণ্য ইতিহাস চাপা দেওয়া যায়

ভীতু মধ্যবিত্ত ও লোভী বে-রোজগার যুব সমাজকে টার্গেট করো, হিন্দুত্ব আর দেশপ্রেমের মদ গেলাও। এরাই আগামীর অন্ধ ভক্ত শ্রেনী সাপ্লাই দেবে, এদের ভোটই ক্ষমতার গদিতে টিকে থাকার অন্যতম উৎস

নিজেরা এলোপাথাড়ি চুরি করো। আদানি আম্বানির মত পুঁজিপতিদের আরো নতুন নতুন চুরির ক্ষেত্র রেডি করে দাও। রামদেবের মত চোর লঞ্চ করো বাজারে। আপদে বিপদে এই পুঁজিপতিরাই দলীয় তহবিলে টাকা দেবে ইলেকটোরাল বন্ডের নামে, যেগুলো ভোট, বোমা, বারুদ, অস্ত্র সহ- মিডিয়া ও দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মচারী কিনতে অর্থ যোগান দেবে

চুরি করে ধরা খাওয়া জনিত বিপদে পরলে, প্রথমে রামের নামে অস্বীকার করো। এরপর হনুমানের দিব্যি খাও

রোজ সন্ধ্যায় পুষে রাখা ‘পমেরিয়ান কুত্তা’ গোদী মিডিয়াকে লেলিয়ে দাও

আঁটিসেল নামের ট্রোল ব্রিগেডকে ছেড়ে দাও মিথ্যার বাজার বসাতে

বলিউডকে দিয়ে নতুন ইতিহাস বানাও

পাকিস্তানকে দিয়ে উত্তেজক ডায়লোগবাজি করাও। দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করো, কিছু জওয়ানকে শহীদ করে দিয়ে যেকোনো ইসলামিক জঙ্গীগোষ্ঠীর নামে বিল ফেরে দাও- পুলওয়ামার মত

এরপর সেনাবাহিনীর কর্তাদের নিয়ে এসে বিবৃতি দেওয়া করাও। সেনার আবেগকে কাজে লাগাও ভোটের ময়দানে

দেশে দাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে দাও। মসজিদ বা কবরের নিচে মন্দির চাপা আছে বলে, লাঠিসোঁটা বন্দুক তরোয়াল নিয়ে লেগে পরো রামের নামে মুসলমান নিধনে।

প্রকাশ্য মঞ্চে রামদেবের মত গেরুয়া পোষাকধারীদের দিয়ে বলাও- হিন্দু খতরে মে হ্যাঁয়

ব্যাস- সব পাপ ধুয়ে গেলে, আবার পুরাতন সাইকেলের পুনরাবৃত্তি করো


এটাই এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্সের মূল সিলেবাস। নাগপুরের গোয়ালঘর থেকে এখন এই বিষয়ে শুধু ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়। ইষ্ট জর্জিয়া থেকে যারা পাশ করে এসেছে, তারাই একমাত্র ডিগ্রি কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারে

সাহেব যেহেতু এন্ট্যায়ার পলিটিক্স, ফলত শুরুতেই ED CBI এর মত সহজ অধ্যয় গুলোকে চাড্ডির নেই-পকেটের লোমশ অঞ্চলে রেখে দিয়েছিলেন। কঠিন সাবজেক্ট ছিলো সুপ্রিম কোর্ট নামের অধ্যয়টা, বড় কঠিন ও জটিল সব ইকুয়েশন। কিন্তু সাহেব এক্সট্রা 2ab খুঁজে পেয়ে গেলেন রঞ্জন গগৈ আর চন্দ্রচুড় নামের দুই বরাহ অবতারের স্বরূপ হিসাবে। এক্সট্রা 2ab মানেই এক্সট্রা এনার্জি। বাকিটা অত্যন্ত সহজ ছিলো। এর পর যখন উনি নন বায়োলজিক্যাল হিসাবে আবিষ্কৃত হলেন- সেই মায়াতে ভেসে আসা সুনীল আরোরা ও রাজীব কুমারের মত IAS অফিসারদের সাহেবে তার বগলের তলায় লোমে আশ্রয় দিলেন।

এমন চাটুকার আইনব্যবস্থা আর সরকারি কর্মচারী পেয়ে গেলে, অরাজকতা নিও-নর্মালাইজড হয়ে যায় সমাজে। গোটা গুজরাত জুড়ে মোদী-শাহ একটা আতঙ্কের নাম ২০০২ থেকেই, শুধু যে কংগ্রেস সেই রাজ্য থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এমনটা নয়, বিজেপির মধ্যেও সকল বিরুদ্ধ মত ভ্যানিস হয়ে গিয়েছিল। হারিন পান্ডিয়া বা বিচারপতি লোয়া কান্ড ঘটিয়ে ‘ডর কা মাহল’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, বাকীটা গোপিনাথ মুন্ডের মার্ডার সেই আতঙ্কককে 'হল অফ ফেমে' পৌঁছে দেয়। দীপক মিশ্র ও চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চই লোয়া হত্যার তদন্ত খারিজ করে দেয়, পুরো রাজযোটক যুগলবন্দি।

স্বভাবতই সাহেব উপলব্ধি করলেন ‘আমি’ ইশ্বরের প্রতিরূপ। ব্যাস, নোটবন্দি নিয়ে মানুষের হয়রানি হোক বা GST নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস, ২ বছর ধরে চলা আন্দোলনে ৭০০ কৃষকের শাহাদাত বা CAA- ছোট বড় কোনো ঘটনাতেই এন্টায়ার পলিটিক্যাল সাইন্স আর ভয়ভীত হলোনা, কারন ক্ষমতার গদিতে অমরত্ব পাওয়ার টোটকা তার করায়ত্ব- ভোটারলিষ্ট ম্যানিপুলেশন তথা ভোট চুরির মহাবিদ্যা। তাতেও শেষ রক্ষা হলোনা, আবকি বার চারশো পার- হাঁক দেওয়া বিশ্বগুরু ২৪০শে আঁটকে যেতেই ক্ষীর খেকো নিতিশ আর চন্দ্রবাবুর বরাত খুলে গেলো।

কথায় আছে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ব্যাপার হলো, মাঝেমাঝে সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নও চলে আসে। যদিও আমাদের মত নিম্নমানের ছাত্রদের সামনে প্রতিটা প্রশ্নপত্র সিলেবাসের বাইরেই থাকে। অতএব, স্বঘোষিত বিশ্বগুরুকে রোজ দুবেলা পায়ুপথে পরিরম্ভন করতে লাগলো ‘গোমাতার নাথ’ দোলান্ড ভাই। বিশ্বগুরুর প্রাণভোমরা আদানি শেঠ- শেঠের অণ্ডকোষ ‘ট্রু ফ্রেন্ড এ্যাট হোয়াইট হাউজের’ হাতে। সেই রেশ ফুরাবার আগেই ফাঁস হয়ে গেলো এক্সট্রা 2ab এর জটিল অঙ্কের সমাধান- ভোট চুরি।

বাবা সাহেব আম্বেদকর সংবিধানে সাধারণ মানুষকে একটি ভোট দেওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন, মোদী তার ভক্তদের চারটি-পাঁচটা ভোট দেওয়ার অধিকার দিয়েছে। ভাবটা এমন- রামের নাম নিয়ে আগামীতে মোদী নিজেই ১৫০ কোটি ভোট একাই দেওয়ার অধিকার দাবী করতে পারে। কারন- প্রাক্তন আইয়াইটিয়ান ও হার্ভার্ডিয়ান জ্ঞানেশ কুমার।

বর্তমান এই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অমিত শাহ এর উচ্ছিষ্ট ভোগী সারমেয় মাত্র। এর আগে কো-অপারেশন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারও আগে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল প্রণয়ন এবং বাতিল-পরবর্তী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, তিন তালাক বিল, এবং অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ তত্ত্বাবধানে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠায় এই জ্ঞানেশ কুমার সরকারের OSD হিসাবে প্রতিটা ঘটনাতে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এর লিঁয়াজো হিসাবে। কে জানে ইনি আগামীতে দেশে থাকবেন নাকি তার পূর্বসূরির মত ‘মাল্টা’তে পালিয়ে যাবেন

যাই হোক, বিপদ আসতেই সায়েব উপরের সিলেবাস মতই খেলা শুরু করে দিলেন। কিন্তু-

👉পমেরিয়ান মিডিয়ার ভৌ ভৌ ব্যার্থ হলো, আঁটিসেলের এঁটুলি বাহিনী ছন্নছাড়া।

👉 ED-CBI খাঁচায় বন্দি, ফাঁপা মিথ্যা ভাষণ ‘লোম কি বাত’ আর খাচ্ছেনা, এমনকি ভক্তেরাও চার অক্ষরের সম্বোধন করছে রাঙ্গা-বিল্লাকে।

👉 বায়ুসেনা কর্তার ৪ আগষ্টের ভাষনের ক্লিপ ১০ তারিখে দেখিয়েও বাজার গরম করা যায়নি, তাই তিন মহিলা সেনা আধিকারিককে KBC তে পাঠিয়েছে- মরিয়া চেষ্টা; সেনার বর্মের আড়ালে লুকাবার।

👉 পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তাদের কয়েকটা রাজনৈতিক জোকারকে দিয়ে পাকিস্তান দেশের ওজনের চেয়ে বড় বড় বুলি-ধমকি দেওয়া করিয়েছে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে, পাবলিক খায়নি।

👉 নেহেরুকে আনা যায়নি।


🔥 অতএব দাঙ্গা বাঁধাও –🔥


হ্যাঁ, উত্তরপ্রদেশের ফতেপুরের একটি মাজার, মানে আব্দুল সামাদ নামের কোনো এক গুণী ব্যক্তির সমাধিস্থল আসলে নাকি শিব/কৃষ্ণ মন্দির বিজেপির হিসাবে। বিজেপির জেলা সভাপতি মাজার ঘেরাও এর ডাক দিলো। যথারীতি প্ল্যানমাফিক RSS এর গ্যাংব্যাং এ জন্মানো বালবাচ্চারা তথা বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরঙ দল ও আরো এই জাতীয় ‘হিন্দু’ জঙ্গী সংগঠনের উন্মাদেরা- যোগীর পুলিশের নিশ্চিন্ত ঘেরাটোপে উল্লেখিত মাজারে ধ্বংসলীলা চালিয়ে দিলো

কিন্তু, কিন্তু, এতে ধর্মের নামে হাইপ তোলা তো দূরস্থান, বরং জাতিধর্ম নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি সুস্থ মানুষের খিস্তি খেয়ে RSS গর্ভবতী হয়ে গেলো। সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ এসেছে দেশের ‘গণতান্ত্রিক ও সেকুলার’ হিন্দুদের তরফ থেকেই আর এতেই ফেল মেরে গেছে BJP-RSS এই দাঙ্গার রাজনীতি। ভোট চুরি ধরা পরতে, RSS তাদের সকল ধরনের অস্ত্র তুণীর থেকে বের করে ফেলেছে। গোটা বিজেপি দল এখন নির্বাচন কমিশনের স্বঘোষিত উকিল সেজে বসে আছে

এই ‘চোর’ সরকার আগামী ৬ মাস গড়ালে আশ্চর্য হবো। হয়তোবা অকাল লোকসভা নির্বাচনের দেশগোড়ায় দেশ, সৌজন্যে মোদীর ‘ভোট চুরি’। কিন্তু RSS আর গুজ্জু কার্টেল কী এত সহজে উৎখাত হবে? ১৫ই আগষ্ট লালকেল্লা থেকে সারেন্ডার মোদী নতুন গল্প শোনাবে। চক্রান্তের গল্প। ১১ বছর ধরে নিজের ‘মনকি বাত’ শোনানো এ্যান্টায়ার পলেটিক্যাল সায়েন্স এখন জনগণের কথা শোনাতে চাইবে

🟧 কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কেঁদে বুক ভাসাবে। এদের আড়ালে নিজেকে আর চুরি লুকাবে লালকেল্লার ভাষনে। জাতির সামনে নাম নেওয়ার মুরোদ নেই ‘মাই ফ্রেন্ড দোলান্দ’ এর, তথাপি আমেরিকান প্রভুকে তুষ্ট রেখে, ভক্তদের বোঝাবার চেষ্টা করবে- ‘ম্যা ঝুঁকেগা নেহি শালা’। ‘ঝোলা উঠাকে চলে যায়েঙ্গে’ গানের আগে নতুন চক্রান্তের গল্প ফাঁদবে।


বলবে- আমেরিকার CIA রাহুল গান্ধীকে ফান্ডিং করে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী স্টেবল সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্তে সামিল হয়েছে। বিরোধীদের দেশদ্রোহী প্রমানের অপচেষ্টা করবে। এটাই শেষ হাতিয়ার বিহার ভোটের আগে। ডিসেম্বরের আগে দেশ প্রথম কোনো নন-বায়োলজিক্যাল রাষ্ট্রপতি পেলেও পেতে পারে, জেলযাত্রা থেকে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা কিছু তো করবেই। এন্টায়ার পলিটিকাল সায়েন্স বিষয়টাই এমন যে

😃 ইলেকশন কমিশন দুর্দান্ত মুডে আছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মতই বলছে- “মায়ের দিব্যি কেটে বল, আমার গা ছুঁয়ে বল সত্যি বলছিস”। মা কালীর দিব্যি না কাটলে- আমি তোকে দলে নেব না। “Manufacture of voteএর ভুরি ভুরি প্রমাণ সত্বেও পক্ষাঘাতগ্রস্থ সুপ্রিম কোর্টের এতটুকু মুরোদ বেঁচে নেই যে, একটা সুয়োমোটো মামলা করে ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে, জনগণের স্বার্থে। যে আদালতে এতদিন দীপক মিশ্র, রঞ্জন গগৈ এবং চন্দ্রচূড়ের মতো বিজেপির পদলেহনকারী দালালেরা রাজত্ব করে গেছে, সেই বিচারব্যবস্থার বেঁচে থাকা নিয়ে সন্দেহ করা প্রতিটি ভারতবাসীর কর্তব্য

সিটবেল্ট কষে বসে পরুন, মোদী ম্যাজিক আর RSS এর ‘হিন্দুত্ব-দেশপ্রেম’ এর আবেগ ফেরির রাজনীতির খাণ্ডবদাহন পর্ব চলছে। এরপর মৌষলপর্ব, ও মহাপ্রস্থানিকপর্ব এর বদলে জেলগমনপর্ব আসবে ক্রমান্বয়ে। জাষ্ট ক্রনোলজি সামঝিয়ে

পাশাপাশি আমাদের রাজ্যের রাজনৈতিক বেশ্যা তোলামুলকেও দেখবেন কেমন ক্ষ্যাপা কুত্তার মত এর তার পায়ে পরে- পেছন চাঁটা শুরু করবে। ইষ্ট জর্জিয়ার সিলেবাস আরেকদিন লিখব

🟥 আমাদের রাজ্যে স্যাডিস্টিক বাম বাচ্চাগুলো রাহুল গান্ধীকে পাপ্পু ডেকে, খানিকটা শুভঙ্কর সরকারের উপরে ঝাল ঝেড়ে- অর্গাজম নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ইলেকশন কমিশন নিশ্চুপ, তার কারণ আছে। কমিশন নিজেরা বিজেপির Crime partnerরাজ্য সিপিএম ঠিক কোন কারণে মৌনতা নিয়ে রয়েছে- এ বিষয়ে জানতে গেলে আপনাকে টাইম ট্রাভেল করে ২০২৮ সালে যেতে হবে। এই সামান্যটুকু টাইম তো লাগবে সম্মেলন/প্লেনাম করে- অনেকক্ষণ বিচি চুলকে দুটো লোম ছিঁড়ে- “কী বলা যায়” সেই সিদ্ধান্ত নিতে। বাম্বাচ্চা গুলো তাদের নেতাদের শুধাচ্ছেনা, তাদের প্রশ্ন- রাহুল গান্ধী কেন মমতা আর ভাইপোর বিরুদ্ধে বলছেনা?

সারাদিন সেটিং সেটিং করে কসে ফেনা তুলে ফেলা আবালগুলো, নিজেদের অন্ধত্ব-ব্যর্থতা- অপদার্থতা ঢাকার জন্য এই সেটিং এর ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। আলিমুদ্দিনের পক্ককেশ জঞ্জালগুলো বিগত ছয় দিনে ‘গোপনে হ্যান্ডেল মারা’ ছাড়া কোনো কিচ্ছু করেনি ভোট চুরি ঈশ্যুতে। সুতরাং, বাম্বাচ্চারা যদি নিজেদের নেতাদের প্রতি ক্ষোভ ঘরে নিয়ে গিয়ে বউয়ের সামনে জানায়- না থালায় ভাত জুটবে, না রাতে বিছানায় জায়গ। ফলত রাহুল গান্ধীই এখন এদের ক্ষোভ নিরসনের এর জায়গা

☢️ ও হ্যাঁ, অখিলেশ ফতেপুর নিয়ে মুখ খুললেও, রাহুল গান্ধী এই ঘটনা বিষয়ে নিরবই রয়েছে। যদিও পথ কুকুর নিয়ে ভিডিও বা টুইট করতে ভোলেননি। তাকে আগামীতে দিল্লির মসনদ পেতে হবে, কী লাভ বেকার RSS কে চটিয়ে! আসলে অপদার্থ শয়তান বাপের জিন যে কথা বলবেই, বাবরি মসজিদের তালা খুলে আজকের দিনের ‘উগ্র হিন্দুত্ব রাজনীতির’ আহ্বান যে তার হাতেই হয়েছিল। তাই রাহুলকে মসিহা ভাবার কোনো কারন নেই মুসলমানের। গু, তবে শুকনো- জুতোয় লেগে ঘরে ঢুকনেনা, এটুকুই স্বস্তি

১৯৪৭ঃ দেশভাগ নাকি দেশ জুড়ে ছিলো?

 


কারা নাগরিক আর কারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, আজকের দিনে এটাই দেশজুড়ে মুখ্য আলোচনার বিষয়। চলুন একটু অন্যভাবে ভাবি আজকে এই স্বাধীনতার দিনে, একটু অন্য আঙ্গিকে।

গতকাল ছিল ১৪ আগস্ট, ৭৯ তম দেশভাগের দিন।

আমাদেরকে এটাই শেখানো হয়েছিল। হয়েছিল, কারন এতে একটা কায়েমী শ্রেনীর লাভ ছিল, আর অবশ্যই সেটা জাতীয় কংগ্রেসের। আজকের বিজেপির বাবা ঠাকুরদারা যেহেতু ইংরেজদের দালালি করত, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়াটা তৎকালীন ভক্তদের রুজি রোজগার ছিল- তাই তারা কংগ্রেসের বিরোধিতা করার পর্যায়েই ছিলোনা। স্বভাবতই নেহেরু-প্যাটেলের প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি সমস্ত ক্রেডিট নিয়েছিল স্বাধীনতার।

‘সেকুলার এবং মুসলিম দুটো আলাদা আলাদা রাষ্ট্রে ‘দেশভাগের’ প্রায় সমস্ত দায় তুলে দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশদের ঘাড়ে; সামান্য কিছুটা দায় জিন্নার ফেজ টুপিতে আর কিছুটা মুচলেকা বীর- সাভারকরের চাড্ডিতে ভরে দিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেসের প্রোপাগান্ডা মেশিনারি।

আসলেও এই ধারণা কি সঠিক? আজকে প্রায় ৮০ বছর পর কী আমরা একটু অন্য ভাবে ভাবতে পারিনা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইংরেজ যদি আর ৫টা বছর টেনে নিয়ে যেত পারত তাদের শাসনকাল, ইতিহাস অনুযায়ী হয়ত গান্ধী, প্যাটেল বা জিন্না- কেউই আর বেঁচে থাকতনা। ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। হতেই পারে আমার ভাবনা ভুল, তবুও একটু ব্যতিক্রমী ভাবলে ক্ষতিটা কী!

আমাদেরকে শেখানো ইতিহাস- স্বাধীনতার মত এতো বিশাল মাপের একটা ঘটনাকে অতি সরলীকরণ করে একটি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণে বেঁধে দেয় না কি? কংগ্রেস স্বাধীনতার ক্রেডিট দাবী করে, RSS-BJP মুসলমান বিতারণ ও দেশে হিন্দুত্ব শাসন প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বের দাবী করে। পাশাপাশি নেহেরু ও জিন্নাকে এই অতিভক্তির কারবারি নাগপুরীরা দেশভাগের জন্য দায়ি করে। কিন্তু মগজের দৃষ্টি দিয়ে যদি দেখা যায়, প্রশ্ন উঠবেই- সত্যিই কি দেশ ভাগ হয়েছিল?

নিচের ছবিতে দেওয়া মানচিত্রের প্রতি এবার লক্ষ্য করুন, স্বাধীনতা পুর্ব ১৯৪৭ সালের ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র এটা। ছোট বড় মিলিয়ে ৫৭০ টিরও বেশি রাজনৈতিক অস্তিত্ব ছিলো তৎকালীন সময়ে। আপনি এককথায় দের দেশীয় রাজ্য বলতে পারেন, তবে এরা আসলে ছিল বংশানুক্রমিক নেটিভ নবাব, রাজা, জমিদার, জায়গীরদার, মনসবদার, চৌধুরি, তালুকদার এমন নানান ব্যাক্তিবর্গের নিজশ্ব ক্ষমতার সমষ্টি, যাদের পরিষ্কার নিজশ্ব সীমানা ছিল। যেখানে নিজ কর ব্যবস্থা ছিল এই নেটিভ ক্ষমতাবানদের হাতে।

দিল্লির সুলতান হোক বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হয়ে রানীর শাসন- সরকারকে সামান্য খাজনা তুলে দেওয়ায় পরিবর্তে তারা যথেচ্চাচারের ক্ষমতা পেতো মোটামুটিভাবে বাত্সরিক আয়ের এক দশমাংশ তৎকালীন ‘সেন্ট্রাল GST’ তথা খালিসাতে পাঠাতে হতো। নিজামত, দেওয়ান, কানুনগো, এই পদবীধারি অধিকারীরা সেন্ট্রালের সাথে নেটিভদের মাঝে যোগাযোগকারী ‘সেন্ট্রালের বেতনভুক’ কর্মচারী ছিল। এরা বিভিন্ন এলাকায় বদলিও হতেন নেটিভ জমিদারেরা কর ফাঁকি দেবার জন্য ধর্মের নামে নিষ্কর জমি’ নামের এক ধরনের জমির চরিত্র তৈরি করেছিল- মদদইমাশ, লাখেরাজ, খয়রাত, আয়মা, পীরোত্তর, দেবোত্তর, মহাত্রাণ, চাকরান, পাইকান ইত্যাদি হিসেবেআলাদা আলাদা স্টেটে আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, সুলতানি আমল থেকে ব্রিটিশ শাসন অবধি কমবেশী একই ব্যবস্থা ছিল। মোদ্দাকথা ছোট ছোট রাজ্য গুলো বহাল তবিয়তেই ছিল নিজশ্ব পরিচয়ে।   

১৯৪৭ সালে ৫৬২টি দেশীয় রাজ্য ভারতীয় কনফেডারেশনে যোগদানের জন্য সম্মতি জানিয়েছিল; হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়, ভোপাল ও কাশ্মীর- এরা ১৫ই আগষ্ট কিন্তু ভারতে যোগ দেয়নিকারন একে অপরের থেকে স্বাধীন শক্তি ছিল। নিজশ্ব স্বাধীন আইন-কানুন ও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল। শুদধুমাত্র বৃহত্তর প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং সন্ধি জাতীয় আলাপ আলোচনার ক্ষেত্রে তারা ব্রিটিশদের উপরে নির্ভরশীল ছিলো। ব্রিটিশরাও লেলিয়ে দিতো একে অন্যের বিরুদ্ধে।

 

তাহলে কী দাঁড়ালো! ১৪ আগস্ট দেশ ভাগ হয়েছিলো নাকি এতগুলি বিভাজিত রাজ্যের একত্রীকর হয়েছিল।

মিউনিটিনির পর থেকে পরবরর্তী ৯০ বছর ধরে ব্রিটিশদের দ্বারা সরাসরি শাসিত অঞ্চলগুলি, সকলে ১৯৪৭ এর নতুন একত্রীকরণের অংশীদার হয়নিদুটো আলাদা সংস্কৃতি এক শাসনের অধীনে বসবাস করতে অস্বীকার করেছিল। ভারত উপমহাদেশের একটা শ্রেনী ব্রিটিশদের পুর্বে ভারতে আসা মুঘলদের বা এককথায় ‘মুসলমানদের’ অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে, তাদের বংশধরদের সাথে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বন্টন করে ‘এক দেশ’ পরিচয়ের অধীনে থাকতে অস্বীকার করেছিল।

তৎকালীন কিছু মুসলমান এমন ছিল যারা নবাবী যুগের আধিপত্যতায় আচ্ছন্ন ছিল। এই ‘অভিজাত’ বিভোরতা তাদের উন্নাসিক ও ঔদ্ধত্ব বানাবার পাশাপাশি ও হিন্দুদের অযোগ্য, তুচ্ছ বা নিচু জাত মনে করত। তারা জানত ভারত উপমহাদেশে ‘মুসলমানেরা’ সংখ্যালঘু, তাই একটা মাত্র ঐক্যবদ্ধ দেশ গঠিত হলে ‘তাদের’ রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হয়ে হ্রাস পাবে। স্বভাবতই এই ‘অভিজাত’ নবাবী মেজাজের মুসলমান ক্ষমতাবান শ্রেনী- হিন্দুদের সাথে থাকতে অস্বীকার করল। উভয় জাতের অভিজাতদের অহং- ‘গরীবদের’ ঠেলে দিলো স্থায়ী রক্তক্ষয়ী ধর্মীয় জাতি দাঙ্গার যুদ্ধে।

তারা এটা ভুলে গেল- আসল ভারতের অধিবাসী সাঁওতাল, গন্ড, দ্রাবিড়, ভীল, কোল, মুন্ডা, ভূমিজ প্রমুখেরা। মুসলমানদের আগে তারাও ভারতের মূলনিবাসীদের আক্রমণ করেছিল, তারাও আসলে অনুপ্রবেশকারীই। তারা সকলেই হিট্টি, সিথিয়ান, তুর্কি শক, হুন, পারস্য ও গ্রীকদের বংশজ। যেহেতু যুদ্ধে মুঘলদের সাথে পেরে উঠেনি পরবর্তী ১০০০ বছর ধরে, তাই ব্রিটিশেরা চলে যাওয়ার গন্ধ পেতেই– বিন কাশিম (৭১২ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ) থেকে শেষ মুঘলের বংশধর ও তাদের অনুগামীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করতে উঠে পরে লাগল; ১০০০ বছরের ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতে।

২০২৫ সালে এসে যে সব জাতীয়তাবাদী স্লোগান শুনতে পায় আমরা, ফেসবুক, টুইটার বা হোয়াটসঅ্যাপে যে বিদ্বেষ গুলোড়ি, তার সূচনা ১২০০ বছর আগে কোনো এক অতীতকালের গর্ভে হয়েছিল, যা আজও বহমান। সত্যটা হল মুসলমান হোক বা হিট্টি, সিথিয়ান, তুর্কি শক, হুন, পারস্য ও গ্রীকদের বংশজ- যারা ‘পিওর ব্লাড’ ছিলো, আজকের ১৪৪ কোটি সংখ্যার নিরিখে তারা গননাতেও আসেনা। এদের বীর্যজাত সন্তানই হোক বা ধর্মান্তরিত হওয়া কোনও উত্তরপুরুষ- সবাইকে নিয়েই তো ‘আমরা’। ‘তাদের’ পৌরুষে জন্মানো আমরা, আমাদের পূর্বপুরুষরা, আমাদের রক্ত, আমাদের জিন- সব এই দেশের, এই মাটিরই বাসিন্দা ছিলেন। সুতরাং, ভাগ যদি হয়ে থাকে সেটা বিশ্বাসের ভাগ হয়েছে, মাটির নয়।

১৯৪৭ সালে বহু ভাষাভাষী, বহু জাতীয় কণ্ঠস্বর, ভিন্ন ভিন্ন অভ্যাসের জাতির অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ একত্রীত হয়েছিল। বিপুল সামাজিক-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ ভূ-রাজনৈতিক ভাবে, তার স্বাধীন ‘নেটিভ স্টেট’ গুলোকে সম্মিলিত করে দুটো আলাদা আলদা মেরুতে, আলাদা শিবিরে যোগ করেছিল, ভাগ করেনি। সুতরাং বিভাজন শব্দটি আমার মতে স্বাধীনতা দিবসের সাথে যায়না, এটা একটা দূরদর্শী প্রোপাগ্যান্ডার অংশ মাত্র।

যদি প্রশ্ন করেন এর জন্য দায়ী কে! এটা কোনো এক বাক্যের জবাব হতে পারেনা, সেই দাবি করাও অন্যায়। কেউ কেউ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, আবার কেউ দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়েছিল। আসলে সকলেই নিজের তরফ থেকে সঠিক ছিল, প্রত্যেকের কাছে নিজশ্ব ক্ষুরধার যুক্তিও ছিলো। কিন্তু সবচেয়ে বড় ছিল, আবার ক্ষমতা হারাবার ভয়। এটা কোনো ধর্ম বা জাতিকে সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ছিলোনা।

একদল নেহেরুকে দোষ দেয় তো অন্য দল জিন্নাহকে কেউ সাভারকরের দলকে। সত্যতা বিচার করলে, তৎকালীন ভারতের এই রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের- দেশভাগের মত এতবড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল? যেকোনো সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়, একসময় এর গতি চুড়াতে পৌঁছায়, ক্রমশ বৃদ্ধি হ্রাস পায়, অবশেষে ক্লান্ত হয়ে শেষ হয়। আন্দোলন সিদ্ধান্ত নেয়না, বড়জোর প্রভাবিত করে মাত্র, গতিপথ নির্ধারণ করেনা পাকিস্তানকে দুই টুকরো তাদের নেতারা করেনি, মুজিব আন্দোলন করেছিল মাত্র। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের ইচ্ছায়, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে - ইন্দিরা গান্ধী তা করিয়েছিলেন।

স্বাধীন ভারতের তেলেঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড গঠিত হয়েছিল। ক্ষমতাসীন সরকার যখন চেয়েছিল তখনই এগুলি গঠিত হয়েছিল। নতুবা ছত্তিশগড়ের জন্য কে আন্দোলন করেছিল? কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার জন্য কে আন্দোলন করেছিল? খালিস্তান বা গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলন আজ অবধি কোনো ফলাফল পেয়েছে? আন্দোলনের ফলাফলের চেয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সবসময় বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে। সেদিনও ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আমাদের লোভ লালসা, অহং, অভিজাত আর প্রতিশোধ মানসিকতা, অন্য পক্ষকে দ্বিতীয় শ্রেনির নাগরিক বানিয়ে রাখার পাশবিক তৃপ্তিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। পুর্বপুরুষের সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির সুযোগ নিয়ে দুটি দেশ তৈরি হয়েছিল, যার কোনো দায় আমাদের আজকের প্রজন্মের নয়। আমরা শুধু ঘৃনা আর ক্ষোভ বয়ে বয়ে যাচ্ছি রক্তের নদী পথে, কেন- তার কারন কেউ জানিনা, খুঁজিনা

একটা রাষ্ট্রের সংজ্ঞা কি? জয় শ্রী রাম ধ্বনি, বন্দেমাতরম, সোনার বাংলা বা পাক সরজমিন বললেই কী রাষ্ট্রের পরিচয় দেওয়া হয়ে যায়? সংজ্ঞা নির্ভর করে সেই রাষ্ট্রের ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্য, ধর্মাচারন ও কৃষ্টি দিয়ে। একটা স্লোগান কখনও একটা জাতিকে সংজ্ঞায়িত করেনা। স্বাধীনতা কোনো শারীরিক বস্তু নয়, এটা একটা দর্শন, মানসিক চিন্তাভাবনা।

স্বাধীনতা আমাদের বৈচিত্রে, এই মাটিতে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদা, একে অন্যের খুশিতে অংশগ্রহণে, দুঃখে কাঁধ দেওয়াতে, সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এবং প্রতিটা ভাষাকে সমানভাবে মূল্য দেওয়াতে, তবে ঐক্যের অনুভূতি জাগবে। ক্ষমাসুলভ ভালোবাসা দিয়ে ছোট ছোট ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করতে না পারলে, ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষীদের আবার সুযোগ দেওয়া হবে- ১৯৪৭ সালে যে সংযুক্তি হয়েছিল, তার বিভাজনে

উপমহাদেশে ‘দেশ-যোগ’ ভারতের জন্য যন্ত্রণার কারন হয়েছিল ১৯৪৭ সালে, ‘দেশভাগ যন্ত্রণার কারণ হয়েছিল ১৯৭১ সালেযোগ বা ভাগ, কোনটাই মানুষের জন্য সুখ বয়ে আনেনি। আজকের দিনেও আমরা রুটিরুজির চিন্তার চেয়ে বড় আতঙ্কে থাকি- আমাদের রাষ্ট্রগত পরিচয় কি? সংখ্যাগুরু সবসময় অন্যপক্ষকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানাবার সামান্য সুযোগ ছাড়েনা। ফলে মানুষ ছিন্নমূল হয়ে যায়, অবৈধ হয়ে যায় নিজের অজান্তে, নিজভূমে, নিজের রক্তের কাছে।

মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫

দুর্গাপুজোতে ১১০০০০ টাকা অনুদান



গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেদিন ইমাম ভাতার ঘোষণা হয়েছিল, সেইদিনই এই দুই হাজার কোটির মাতাল-মচ্ছবের ভিত্তি নিহিত ছিল। আগামী প্রজন্ম পরিতাপ করার ভাষা খুঁজে পাবেনা। আমাদের উত্তর প্রজন্ম যদি আমাদের খ-য়ের ছেলে বলে গালিগালাজ দেয়, আমাদের ছবির সামনে জুতোর মালা ঝুলিয়ে রাখে, তাহলেও আমাদের প্রজন্মের এই পাপ, এই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হবে না।

DA দেওয়ার পয়সা নেই, নতুন সরকারি চাকরি দেয়ার পয়সা নেই, শিক্ষক নিয়োগের মুরোদ নেই, শিল্প কলকারখানা স্থাপনের দায় নেই। আমাদের করের টাকায় মোচ্ছব করার জন্য টাকার অভাব নেই। এটাই তোলামুল সরকার, এটাই মমতা ব্যানার্জির উন্নয়ন।
টাটাগোষ্ঠী সিঙ্গুরের জন্য পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল তৎকালীন ১৪০০ কোটি টাকা। সেই সব মায়ের ভোগে তুলে দিয়ে, সিঙ্গুরের জমি এখন বনবাঁদারে পরিনত হয়েছে। গোটা সিঙ্গুর পর্বে কে লাভবান হয়েছে? রাজ্য? সিঙ্গুরের জনগন? কোনো শিল্পগোষ্ঠী? নাহ, কেউ হয়নি, মমতা ব্যানার্জী আর তার তোলামূল দলের চোরেরা ছাড়া।
শিল্পহীন বাংলার ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছে। রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, যদি তোলামূল করো- চুরির ভাগ পাবে। চুরিই একমাত্র শিল্প। একটা সময় ছিল যখন অর্ধেক ভারতবর্ষ থেকে মানুষ কলকাতায় তথা বাংলায় আসত কাজের সন্ধানে।
আজকের দিনে বাংলা থেকে কত শ্রমিক অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে রয়েছে পরিযায়ী হয়ে, তার কোন তথ্য সরকারের কাছে নেই। তোলা আদায়ের জন্য কেষ্টর মত তোলা-শিল্পীরা ফিরেফিরে আসবে নানা রূপে।
টাটাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণও আমাদের পকেট থেকেই গেছে, ৭৬৬ কোটি টাকা। যদিও টাটা এখনও সুদ সহ পুরো ১৪০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণই চায়। আগামিতে দিতেও হবে, তার জন্য মামলা চলছে সর্বোচ্চ আদালতে।
আমার আপনার পরিশ্রমের টাকা, ঘামের টাকা দিয়ে লুম্পেন শ্রেণীকে বিলানোর যে মচ্ছব চলছে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে, সেটা লুটে খাওয়া সমাজবিরোধী এবং ভোটের দিন বুথ দখলের কারিগরদের প্রতি সামান্য উৎকোচ এই ২০০০ কোটি, পাশাপাশি স্বীকৃতিও বটে- তোমরা সততা ব্রিগেডের সভ্য।
RSS প্রকাশ্যে উগ্রহিন্দুত্বের রাজনীতি করে। মমতা ব্যানার্জি তার থেকেও ভয়ানক, দুধেল গাইদের মসিহা সেজে RSS এর প্রতিটা এ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করেছে ও করে চলেছে।
রাজ্যে বিজেপি বলে কোনো সংগঠন নেই, যা আছে তা দল তোলামূলের গোষ্ঠীকোন্দলের দরুন বিক্ষুব্ধ তোলামূল আর RSS ও তাদের প্রত্যক্ষ শাখা গুলো। মমতা ব্যানার্জী RSS এর সবচেয়ে বড় প্রচারক। নেই বিজেপির জুজু দেখিয়ে দুধেল গাইদের দুয়ে নিচ্ছে ভোটের বাক্সে। ক্ষমতার চেয়ারে বসে নাগপুরের স্বপ্নপূরণ করছে।
আমরআ যদি চোখ বন্ধ রেখে মমতাকে বিশ্বাস করে ভেবে নিই- জোড়াফুলে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে- সেক্ষেত্রে নতুন করে আমাকে আর কেউ চুতিয়া বা গান্ডু বানাতে পারবে না, কারণ অলরেডি আমি চুতিয়া-শ্রী হয়েই রয়েছি তার অনুপ্রেরণায়।
প্রতিটি সুস্থ এবং স্বাভাবিক মানুষের উচিত মমতা ব্যানার্জিকে অবিশ্বাস করা। প্রতিটি মুসলমানের উচিত মমতা ব্যানার্জীর গোটা মুখ্যমন্ত্রীত্ব কালকে পর্যালোচনা করা। বিজেপি পরিচালিত কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এই পর্যায়ের RSS তোষণ করেনি।
মাথায় হিজাবি ঘোমটা দিয়ে দুধেল গাইকে মানব-অস্ত্র বানাচ্ছে, ফলত মারছে মুসলমান, মরছে মুসলমান। যে মরল তার পরিবারও শেষ, যে খুন করলে সে জেলে গিয়ে তার পরিবারকেও শেষ করলো।
কোনো উচ্চবর্ণের হিন্দু তৃণমূল নেতা বা তাদের ছেলেপুলেকে কোনোদিন বোমা মারতে দেখেছেন? তারা নেতা হয়, মুসলমান আর নিম্নবর্গের হিন্দুদের শাসন করে। বোমা বাঁধে মুসলমান আর সিডিউল কাস্ট, মরেও এরাই।
আপনারা দুধের গাই সেজে সামান্য কিছু এটোকাটা খেয়ে নিজের পরিবারকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন, রাজ্যকে ডুবিয়ে দিচ্ছেন। লজ্জা লাগে না আপনাদের আয়নাতে মুখ দেখতে, নিজেকে মুসলমান বলতে লজ্জা লাগে না? ঘেন্না হয় না সন্তানের দিকে তাকাতে?
মগজ অনেকের হাঁটুতে থাকে, আপনারা যারা দুধেল গাই রয়েছেন, আপনাদের মগজ বিচিতে। কমোডে ফ্ল্যাশ করা বীর্যের সুরুয়া খেয়ে শুয়োরের খামারে জন্ম নিলে তবে এই জেনেটিক্যাল পরিবর্তন ঘটে, মাথা থেকে বিচিতে মগজ চালান হয়। প্রতিবার মুঠো মারার সাথে সাথে ঘিলু তথা বীর্য নিঃসরণ হয়। নতুন দুধেল গাই এর জন্ম হয়, সিম্পল ও কিউট প্রসেস।
আপনার ঈমান যদি থাকে- নিজেকে প্রশ্ন করুন, যদি আপনি চোর না হন, চুরির টাকার বখরা না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি বা আপনার পরিবার, আপনার সম্প্রদায় কি পেয়েছে এই তোলামূলের চোর সাম্রাজ্যে?
ভাবুন, ভাবা প্রাক্টিস করুন।

KBC তে কুরেশী



Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS) -Bharatiya Janata Party (BJP) কতটা দেউলিয়া হলে এইভাবে খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচাতে চাইছে মোদীশাহ এর চোর সরকার কে!

কোন গুরুতর সামরিক অভিযানের পর কি আপনি কখনও এমন কিছু দেখেছেন ইতিহাসে?
অন্য কোনো দেশে এমনটা ঘটেছে?
ভারতীয় সেনাকে নিয়ে যে আবেগ রয়েছে প্রতিটি ভারতীয়ের মনে, সেটাকে এইভাবে বানিজ্যিকরণ করা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে? কাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে? সেনাবাহিনীয় সাফল্য কী মনোরঞ্জনের মত সস্তা বিষয়? এটা কী শাসকদলের পৈতৃক সম্পত্তি?
সরকারী চাকুরিরত ব্যক্তির পক্ষে এমন সম্প্রচারে অংশগ্রহন কী সরকার স্বীকৃত বা আমাদের সংবিধান অনুমোদন করে?
ADGPI - Indian Army এটা কী আপনাদের শৌর্যের সাথে যায়- এমন সস্তা মনোরঞ্জন, তাও একটা প্রাইভেট চ্যানেলে,প্রাইভেট কুইজ শো এ?
ভোট চুরি করে চেয়ার দখল করা মোদী সরকার নির্লজ্জভাবে আমাদের সেনাবাহিনীকে তার তুচ্ছ রাজনীতি এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্য ব্যবহার করছে। সেনার আড়ালে নিজেদের চুরি দূর্নীতিকে ঢাকার অপচেষ্টা করছে।
ছিঃ

সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

ভারতের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারন কে করে?

 


কেন পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ খেলবে

এর উত্তর খুব সোজা কিন্তু রচনাত্বক।

প্রত্যেকে চায় তার প্রতিষ্ঠিত হোক, অমিত শাহ তার ছেলেকে এই মুহুর্তে ভারতের সবচেয়ে ধনী যে বেসরকারী সংস্থা (বোর্ড) রয়েছে সেই BCCI এর উচ্চপদে আসীন করিয়ে রেখেছে। বর্তমানে সে ICC এর পদে থাক বা যেখানেই থাক, ছেলের নামে অমিত শাহ পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করছে সেটা সকলে জানি। এখানে এতো বেশি টাকা রয়েছে যে টানা দুটো টার্ম স্বপদে রয়ে যেতে পারলে বাকি জীবন রোজগার না করলেও চলে

এশিয়া কাপের মূল স্পনসর আরব আমিরাতের সরকারী কোম্পানি DP World, যারা ভাইব্রেন্ট গুজরাতের টাইটেল স্পনসর ছিলো। গান্ধীনগরের দীনদয়াল পোর্টের মালিকানার পাশাপাশি মুম্বই এর JNPT বন্দরের ৩টে ডকের মালিকানাও রয়েছে। ‘ভীমাসার-কলকাতা’ পণ্য রেল পরিসেবা চালাবার দায়িত্ব পেয়েছে। এছাড়া ভারত সরকার ও আফ্রিকার মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাঝেও এই DP World জাঁকিয়ে রয়েছে ‘Bharat Africa Setu’ নাম নিয়ে। দুবাই এ জনগনের করের টাকায় ভারত সরকারের তৈরি করা ‘ভারত মার্ট’ শপিং কমপ্লেক্স তৈরির বরাত পেয়েছে।

আদানির যাবতীয় সমুদ্রবন্দর গুলোতে এই DP ওয়ার্ল্ড পণ্য হ্যান্ডেলিং এর কাজ করে। Container Corporation of India (Concor), যা ভারতীয় রেলের প্রাণ- সেই সরকারী পন্য পরিবাহী রেলওয়ে কোম্পানিটিকে বেসরকারীকরন করে ‘ADANI–DP World’ জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাছে বেচে দেওয়ার প্ল্যান পাকা করেছে মোদী সরকার।

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2062903

https://www.dpworld.com/en/news/gujarat-and-dp-world-sign-agreements-to-strengthen-logistics-in-the-indian-state

https://www.cnbctv18.com/infrastructure/concor-privatisation-draws-interest-from-dp-world-adani-and-vedanta-8640071.htm

এর পরের পার্টনার ‘ওয়ান্ডার সিমেন্ট’। যাদের মূল ব্যবসা মার্বেলের, কোম্পানির নাম RK Marble. এর মালিকের নাম ‘বিবেক পাটনি’। এই বিবেক পাটনি অমিত শাহ এর অতি ঘনিষ্টের অন্যতম। গুজরাতে সোহরাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী এনকাউন্টার মামলাতে মূল অভিযুক্ত ছিল CBI এর চার্যশিটে, বিচারপতি লোয়া খুন সন্দেহ তালিকাতেও এই ব্যাক্তিই অমিত শাহ এর হয়ে সুপারি দিয়েছিল বলেই অভিজ্ঞ মহলের বিশ্বাস।

২০০১ সাল থেকে মার্বেলের বাইরে অন্যান্য ব্যবসাতে এদের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে গুজরাতে মোদী সরকারের সৌজন্যে, ২০১৪ সালের পর আক্ষরিক অর্থে এদের অমৃত কাল আসে এবং পরবর্তী ৫ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক, একাধিক সিমেন্ট ফ্যাক্টারির মালিক ও দেশ জুড়ে জমির মালিক হয়ে উঠে।

DP World Wonder Cement এর মত সংস্থা যখন এশিয়া কাপের মুখ্য স্পনসর, সেখানে অমিত শাহ এর ক্ষমতা কী ‘মানা করবে”! জয় শাহ, নেহাতই নাবালক ও নির্বোধ পাপ্পু

কিন্তু প্রশ্ন তো দেশের বিদেশনীতি ও অর্থনীতির, প্রতিরক্ষার, এগুলো তাহলে কে ঠিক করে? অর্থনীতির দিশা কে বা কারা দেয়?

বাকি সকল দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক থাকে, ২০১৪ পূর্ববর্তী আমাদের দেশেও তেমনই ছিল। সেই দপ্তরের মন্ত্রী, আমলা, দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা সেনা শাসন থাকলে সেনা কর্তা প্রমুখ, নানান অঞ্চলের সিলেক্টিভ জনপ্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, বিদেশ ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ পন্ডিতের দল ও উচ্চপদস্থ সরকারী আমলারাই সিদ্ধান্ত নেয়
২০১৪ পরবর্তী RSS শাসিত মোদীর ভারতে এই নিয়মটার পরিবর্তন হয়ে গেছে। মোদী মূলত শো-ম্যান, টেলিপ্রম্পটার সামনে নিয়ে ক্যামেরার দিকে তাক করে আত্মবিশ্বাসের সাথে মিথ্যা বলে, আর শারিরীক অঙ্গভঙ্গী সহ মোটাদাগের অভিনয় করে টেনে টেনে সাম্প্রদায়িক কথা বলে ভক্তদের উদ্দেশ্যে

আপনি ভাবছেন বিদেশমন্ত্রী লেজার জয়শঙ্কর বা গরীবের জেমস বন্ড- অজিত ডোভাল, বৈদেশিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়! অরুন জেটলি বা নির্মলা সীতারামন অর্থনীতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে!

মোদী জামানায় ৯ জন অর্থমন্ত্রকের সেক্রেটারি হয়েছে, বর্তমান জনের নাম অজয় শেঠ। বিতাড়িত অশোক লাভাসা থেকে “কবিশ্রী” রাজীব কুমার- সকলেই এই পদ কলঙ্কিত সরি অলঙ্কৃত করেছে। এদের কাজ কী ধরণের, আজ ভারতেই সকলেই জানে, সৌজন্যে ভোট চুরির ম্যানিপুলেশন ফর্মুলা। এরা IAS ডিগ্রীধারি হলেও, মূলত দিল্লির কেশবকুঞ্জের নেড়ি। কে জানে সুপ্রিম কোর্ট এই ঘেঁয়ো গুলোকেই খাঁচায় বন্দি করার অর্ডার দিয়েছে কিনা!

মোদী জামানার বিদেশ সচিব পদে ২০১৫ সালে প্রথম এ্যাপোয়েন্টমেন্ট ‘লেজার’ জয়শঙ্কর, এরপর যারা এসেছেন- কাগজে লেখা বিবৃতির বাইরে তেমন কোনো কাজ এনাদের করতে হয়নি বা করতে দেয়নি। যিনি কিছু করেছেন এবং তা কার্টেলের পক্ষে, শ্রীংলার মত রাজ্যসভায় যাবার হাতেগরম পুরষ্কারও পেয়েছেন। যিনি বিরুদ্ধে গেছিলেন সেই অশোক লাভাসার ছেলে মেয়েকে জেলে পাঠিয়ে, স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনের নামে মামলা করে, ED এর রেড করিয়ে যাবতীয় হয়রানি করিয়ে, আপাতত এশিয়ান ডেভলপমেন্ট এর একটা পদে পাঠিয়ে তড়িপাড় করে দিয়েছে

তাহলে অর্থমন্ত্রক আর বিদেশ মন্ত্রকের মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর চালায় কে?


💥 ১ কথায় উত্তর- “আদানি ও আম্বানি”


কীভাবে? চলুন, সেটাই দেখুন।

১) আম্বানির একটা সংস্থা রয়েছে https://www.orfonline.org/, এই সংস্থার ৯৭% ফান্ডিং করে রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ। আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য এই সংস্থার সর্বোচ্চ কর্তার নাম ‘ধ্রুব জয়শঙ্কর’। হুম, ঠিকিই ধরেছেন, লেজার বাবুরই ছেলে। ইনি ভারত সরকার অনুমোদিত অফিসিয়াল ব্যক্তি। ফলত ট্রাম্পের শপথ গ্রহনে মোদী ডাক না পেলেও মুকেশ আম্বানি ডাক পায়, সৌদিতে ট্রাম্প এলে আম্বানি ঠিক পৌছে যায়। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে ভারত রাষ্ট্রের হয়ে এই সংস্থা বিদেশনীতি তৈরি করে, বিশেষ করে আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অংশে।


২) এর পর রয়েছে India Foundation, যার মাথায় রয়েছে RSS এর কার্যকর্তা প্রচারক রাম মাধব, আর মূল সংগঠন চালায় শৌর্য্য ডোভাল, হুম- ভক্তদের জেমস বন্ডের ছেলে। বাকি আরো কিছু কেষ্টবিষ্টু রয়েছে, তারাও ওই গোয়ালঘরের প্রোডাক্ট, বকনা বাছুর ও বৃদ্ধ ষাঁড়ের দল। এরাও ‘গর্ভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার’ অফিসিয়াল থিঙ্কট্যাঙ্ক, বিদেশ নীতি ও কূটনীতি তৈরি করে।

https://indiafoundation.in/

৩) এদের সাথে রয়েছে আদানি ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ CRF (Chintan Research Foundation), এরা আবার ভারতের অর্থনীতি, বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতিও তৈরি করে, Govt of India এর হয়ে অফিসিয়ালি। ভোট চুরির ডেটা ম্যানেজমেন্ট নাকি এরাই করতো, তাই ৯ই আগষ্ট থেকে এদের মূল ওয়েবসাইট বন্ধ করে রেখেছে। পাশাপাশি আর একটা সংস্থা আছে আদানির- APSE, এদের কাজ বৈদেশিক বানিজ্য বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া।

গত ১০ বছরে ভারতে যত বিদেশী রাষ্ট্রদুত ও বানিজ্যিক প্রতিনিধি দল এদেছে, প্রতেককে ‘হোস্টিং’ করার বরাত পেয়েছিল আদানির এই সংস্থাই। মোদী যখনই বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে গেছে – উপরোক্ত ৩ ধরণের সংস্থার লোকজনই তার সাথে গেছে। বুঝে গেলেন, কারা মূলত ভারতের অর্থনীতি, বিদেশনীতি আর প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ন্ত্রন, তৈরি করে চলেছে মোদীর জামানাতে!
https://www.crfindia.org/

বিজেপি ও তাদের ঘনিষ্ট আমলাদের প্রত্যেকের ছেলে-মেয়ে ‘দেশ বিক্রিতে’ নিয়োজিত প্রতিটি ‘দেশাত্ববোধক’ ও ‘হিন্দুত্বে’ ভরপুর সংস্থার মাথায় বসে রয়েছে। আপনার ছেলে জয় শ্রী রাম নাদে মদজিদের চূড়ায় উঠে গেরুয়া উড়াচ্ছে, তরোয়াল হাতে রামনবমীর মিছিল করছে মুসলমান পাড়ার মুখে, স্বাধীনতা দিবসে মাংস কিনতে বাঁধা দিচ্ছে। দলিত আর মুসলমান মেরে নিজেকে হিন্দুত্বের রক্ষাকর্তা ভাবছে। এটাই RSS এর জাতীয়তাবাদ, আপনার ছেলেকে ধর্ম দিয়ে মাতিয়ে রাখবে, ওদের ছেলেরা দেশ বিক্রি করে বিদেশে সেটেল হয়ে যাবে

দেশের ৭৩% মেইনস্ট্রিম মিডিয়া রিলায়েন্স-জিওর দখলে। হ্যাঁ, হোয়াটস্যাপও, ওখান থেকেই ভক্তদের ইউনিভার্সিটি চলে। বাকি ১৯% মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আদানি গোষ্ঠীর। বাকি যে ৮%, সেগুলো বিজেপির সাংসদ সুভাষচন্দ্রের জি-নিউজ, বা অর্ণবদের মত নাগপুরের হাফপ্যান্টওয়ালাদের। আনন্দবাজারের মত আঞ্চলিক ভাষার মিডিয়া গুলোও RSS এর মতাদর্শেই চলে, নাহলে কেন্দ্রের বিজ্ঞাপন পাবেনা, আর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শাসককে খুশি করে চলে এরা।

সংবাদ প্রতিদিন, খবর ৩৬৫, যুগশঙ্খ বা কলম- এই জাতীয় কাগজ গুলো একমাত্র বাচ্চাকে হাগাবার জন্য মায়েরা কেনে। কেরল আর তামিলনাড়ু ব্যতিরেকে অবশিষ্ট ৭% মিডিয়াই নাগপুরের গোয়ালঘর থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয়। ৯২% মিডিয়া ইতিমধ্যেই গুজ্জু কার্টেলের হাতে। তাই এরা কখনই আপনাকে শুনতেও দেবেনা যে কারা আসলে সরকার চালাচ্ছে। এর বাইরে ২ টাকা পোষ্টের সোস্যাল মিডিয়া ব্রিগেড মহান আঁটসেল তো আছেই মিথ্যা প্রচারের জন্য

মোদী এই গুজ্জু কার্টেলের বিজ্ঞাপনী ও রাজনৈতিক মুখ মাত্র, দেশের আসল নিয়ন্ত্রক ওই দুই গুজরাতি মাফিয়া, যারা দেশের বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী সিস্টেম, CAG, FCI, UPSC, GST, AGI, ASG সহ প্রায় প্রতিটি ফেডারাল স্ট্রাকচারকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে, উগ্র দেশপ্রেম আর হিন্দুত্বের রঙে সাজিয়ে। তলে তলে নিজেরা দেশ লুঠের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আপনার আমার শ্রমের অর্থ এরা চুরি করছে রোজ, আমাদের পূর্বপুরুষের মেহনতও লুঠ করছে নির্বিচারে- ধর্মের গাজর ঝুলিয়ে

তাই আপনি আমি যতই দেশ নিয়ে আবেগান্বীত হই না কেন, ভারত পাকিস্তান ম্যাচ হবে, কারন দেশ যারা চালায়- সেই কার্টেল সরাসরি ভাবে এই ব্যবসার মুনাফাখোর। যেদিন কেন্দ্রের সরকার বদলাবে, এদের অধিকাংশই জেলের ভিতরে থাকবে আজীবন, যেকনো মূল্যে ‘সরকার’ নামের সার্কাসটার তাবু বাঁচাতে মরিয়া এরা

আবার ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ মন্ত্র নিয়ে আপনার দ্বারে ছুটে আসবে এরা। আজ হিন্দু নয়, এই চোর গুলো নিজেরা বিপদে পরেছে, তারা ‘খতরেমে’। তাই হিন্দুত্বর আবেগকে বেচতে আসবে মেজো খোকার রূপ নিয়ে, যার পালে হাওয়া দেবে মুসলমানের মসিহা সাজা ‘কয়লা ভাইপোর পিসি’। মিডিয়াতে ন্যারেটিভ সেট হবে বিজেপি-তৃনমূল, আরেকটা দল সেটিং সেটিং করে চেঁচিয়েই মল খসিয়ে ফেলবে। সবাই নিজের নিজের আখের গুছাবে। আর সেই প্রোপাগান্ডার জলোচ্ছাসে আবার যদি ভেসে যান, আপনার আগামী প্রজন্মের পরনের ত্যানা টুকু বাঁচবে কী?

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...