বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

আমেরিকার কাছে ভারতের সাধারণ জনগন যখন মোদীর কল্যাণে জিম্মি

 


কোনো গনিকাপুত্র বেজন্মা কি- বিশ্বগুরু প্রভুর সরকারকে প্রশ্ন করেছে ~ কেন হোয়াইট হাউস থেকে এই ধরণের 'এ্যাক্টর' উপমা দেবে? কি অউকাত আছে তাদের? সরকারে থাকা 'বিরাট হিন্দু' হৃদয় সম্রাটের কোন দুর্বলতা রয়েছে? গোটা দেশ ওয়াসিংটন থেকে পাওয়া নির্দেশ মত চলছে। 

বেহায়া নির্লজ্জ দু কান কাটা গরুর বাচ্চারা জাবর কাটছে নিশ্চিন্তে, কারন সাদা চামরার জুতো চাঁটা RSS এর জিনে রয়েছে। এই ধরণের প্রকাশ্যে মুখে মুতে দেওয়ার পরেও মিসাইলে পোড়া ফাদারল্যান্ডের ইমানদন্ড মুখে ভরে বসে রয়েছে কেন নাগপুরের জন্তু জানোয়ার গুলো? এপস্টিন দ্বীপে 'পিৎজা'র দাম মেটাচ্ছে এভাবে? 

ইরান যদি যুদ্ধে না হারে, বিশ্বরাজনীতির DNA পরিবর্তন হয়ে যাবে। ভারতের এই গোবোরখেকো আদানির দাস বিশ্বপ্রভুর চর্বি পোঁদ দিয়ে গেলে নেবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা। 

ইজরায়েলকে ফাদারল্যান্ড বানিয়ে 'গাজা মিটস গোধরা' সামিটের হালুয়া বানাবে রাশিয়া চিন ইরান মিলে। সমস্যা আমাদের ১৪০ কোটি সাধারণ মানুষের, এই মুর্খ এপস্টিন গ্যাং এর কুর্কর্মের মূল্য আমাদের চোকাতে হবে পাই পাই হিসাবে। 

নাড়ু 'চে' ব্যানার্জী জিন্দাবাদ



বর্ধমানের 'ভিঞ্চিদা' তৌসিফ প্রতিকুর হক যখন ঐ বারোভাতারি হোয়াটস্যাপ গ্রুপ গুলো খুলেছিলো SIR এ 'আন্ডার এডজুডিকেশনে' থাকা মানুষগুলোকে নিয়ে, সেখানে কোনো একটা অংশে তার লিখিত দাবী ছিলো- আমি আলিমুদ্দিনে কথা বলে নিয়েছি, চাপ নেই।

সেদিন ওই খোঁচরের কথার ব্যাপ্তিটা ধরতে না পারলেও, আজকে অসুবিধা হচ্ছেনা, 'সম্প্রীতির সোনাগাছি' বানিয়ে আসলে কে বা কারা তৌসিফকে তথাকথিত অনুমতি দিয়েছিলো। প্রতিকুর একা পচেনি, গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার পার্টি স্ট্রাকচারটার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ছড়িয়েছে। প্রতিকুর সেই পচনের পুঁজ অংশটা যে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিকুর সামান্য অংশ মাত্র, আসল পচাগলা অংশটা শরীরের ভিতরেই রয়ে আছে।

নাড়ু ডাক্তারকে কি বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমিরেটাস বানানো যায়না আসক্ত নবতিপর বিমান বসুকে বিশ্রাম দিয়ে? বিজেপির ভাবধারায় তৃণমূলের আদর্শে দীক্ষিত মানুষজনের দাবী মত CPIM এর নতুন যে রূপ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, তার শীর্ষে নাড়ুবাবুর চেয়ে যোগ্য আর কেউ আছে কি? আলিমুদ্দিন নামটাও বড্ড সেকেলে, মোল্লা ছাপ; নারায়ন ব্যানার্জী ভবন হলে এই ভাবের ঘরে চুরির ল্যাটা চুকে যায়।

SIR নিয়ে ভাইপো ও তোলামূলের যা দাবী, ভাইপোর আগের দফায় ভাইপোর ডায়মন্ড কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ তথা গণশক্তির সম্পাদকের যে 'SIR এ মৃত্যু মিছিল' গল্পটা কী পার্টির বক্তব্য নাকি গণশক্তির নাকি ব্যক্তির নিজের? কারন পার্টি সম্পাদক সহ বাকি নেতৃত্ব তো এই লাইনে যায়নি। ভাইপোর ফ্লপ হওয়া রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডাকে এনারা, এই দক্ষিণ ২৪ পরগণা নের্তৃত্ব কবর থেকে খুঁচিয়ে তুলে আনছেন, কী মনোরম এই দৃশ্য। মিলে সুর মেরা তুমহারা, যেন ৯০ এর দশকের ডিডি ন্যাশেনাল। লালকে গেরুয়া, সবুজ ও নীলে মিশিয়ে দেওয়া- রাজ্য রাজনীতির পলিটিক্যাল ইন্ট্রিগ্রিটি তথা সমন্বয়ের একটা মুখ খুঁজতে হলে সেটা নাড়ু ব্যানার্জীর চেয়ে আদর্শ কেউ হতে পারেনা। ভাইপোর পে-রোলের রেঞ্জ নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবনা চিন্তা করতে হবে জনগণকে।

'চে' ডাক্তার ছিলেন, অনেকেই তার ট্যাটু বানান নিজ শরীরে। নারায়ণ ব্যানার্জী বাবু, আপনিও তো ডাক্তার, বিপ্লবীও বটে। একইসাথে প্রতিটা রাজনৈতিক দলে অবাধ গেরিলা যাতায়াত আপনার। পরেরবার যে যে আলিমুদ্দিনের নেতৃবৃন্ধ আপনার সাথে দেখা করতে আসবে, প্লিজ তাদের কপালে ও পাছায় আপনার চাঁদ বদনের একটা ট্যাটু করে দেবেন। হ্যাঁ পাছাতেও, যাতে যৌণ মিলনের সময়েও সংশ্লিষ্ট নের্তৃত্বের সঙ্গী/সঙ্গীনী আপনার ট্যাট্যুকৃত ছবি দেখে উত্তেজনায় 'বুর্জোয়া' জল খসাতে পারে। নতুবা রাজ্যে ততক্ষণ বামেরা সংখ্যাতে ফিরবেনা, যতক্ষণনা 'চে' এর পোজে আপনার থোবরাঙ্কিত ট্যাটুতে বৈপ্লবিক বীর্যপাতে শাহী স্নান করাচ্ছে। 

আমি আপনার সাথে একমত, একশ্রেনীর উদার বাম নেতা আজ আর 'বস্তাপচা' মার্ক্সবাদে নয়, আপনার দেওয়া আধুনিক 'নাড়ুবাদে' বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। তাদের জন্য আপনি ম্যানিফেস্টো রোজই লিখছেন ফেসবুকে, এবার ভোটের আগে সেটাই বই আকারে প্রকাশ করুন প্লিজ, আপনার অনুগামী বামেদের বক্তিতাতে সুবিধা হবে।

- ইতি

আপনার একান্ত ভক্ত, রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি থাকা ৬০ লাখের একজন চুড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল হার্মাদ







মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

রিজিম চেঞ্জ করতে গিয়ে হাতে ভিক্ষার বাটি।

 

মিথ্যা ধাপ্পাবাজি করে ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া আক্রমণ করে সেই দেশের লোককে ভিখারি বানিয়ে নিজেরা তাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি করে আধুনিক ও সভ্য সেজেছিলো।

একই পথে ইরাণে চুলকাতে গিয়েছিলো। যে হারে গাঁ ড়ে মিসাইল ঢুকেছে টেম্পু থেকে নেতানুনু, কেউ হাগতে যাচ্ছেনা বলে মোসাদ সুত্রের খবর, হাগতে গেলেই নাকি পোঁদ দিয়ে প্রাণ বায়ু বেরিয়ে যাবে, এমন ভয়ে সেঁধিয়ে রয়েছে। নিজেরাই নিজেদের মিথ্যা বলছে, যে পারছে এর তার ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। আসলে এভাবে আমেরিকা কুত্তা ক্যালান খেতে পারে সেটা বিশ্বাস বা হজম কোনোটাই হচ্ছেনা। এপস্টিন গ্যাং এর কোনো এক্সিট প্ল্যান নেই এ যাত্রায়, একতরফা বিজয় বলে পালিয়ে যাবারও কোনো পথ খোলা নেই। 

হারেমের আঁধারে জন্মানো জারজ মোল্লা রাজাগুলোর দেশেই হয়তবা রিজিম চেঞ্জ হয়ে গিয়ে ইরানপন্থী সরকার চলে আসবে। যদি ইরান এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এমনিতেই ইরান বলে দিয়েছে, যে দেশ আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে, হরমুজ প্রনালি তার জন্য খোলা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান শক্তিশালী হয়ে গেলে বিশ্বপরাশক্তি আমেরিকা প্যাকেট হয়ে, কেবলমাত্র রিজিওনাল শক্তি হলে নিজ মহাদেশে রয়ে যাবে। ১৯৫৬ সালে মাইটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সুয়েজের জলে তলিয়ে গিয়েছিলো, ঠিক ৭০ বছর পর পারস্য উপসাগরের জলে শ্যাম চাচা তার পিডোফিলিক সাম্রাজ্যকে না ডুবিয়ে ঘরে ফিরবেনা।

আপাতত যুদ্ধের ১০ দিনেই সোস্যালমিডিয়াতে হাজারে হাজারে  'হেল্প ফর ইজরায়েল' ক্রাউড ফান্ডিং এর পেইড প্রোমশন পেজে ছয়লাপ। ভিক্ষা শুধু পাকিস্তানই করেনা, প্রতিটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের এটাই জিনগত চরিত্র। ফিলিস্তিনের দখলদার খাজার ইহুদীগুলোও ভিক্ষায় নেমে পরেছে। যুদ্ধ আর ২ সপ্তাহ ধরে চললে আমার আপনার পাড়াতে কী এই শু য়োরের বাচ্চা বেজন্মা ইহুদীগুলোকে রাস্তার মোড়ে ফুটো এ্যালুমিনিয়ামের বাটি হাতে দেখতে পাবো?


সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ভারতীয়েরা কী বিপদ টের পাচ্ছি?



যুদ্ধকে যারা আমরা একটা রিয়েলিটি শো এর মতো রোজ উপভোগ করছি ফেসবুক ইউটিউব রিলসে, তাদের ধারণা নেই এই যুদ্ধ আর কিছুদিন চললে আমাদের ভারতের মতো দেশের বিপদ আসলে ঠিক কতটা।

হয়তো ভাবছেন যুদ্ধটা সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে, আপনার ডাইনিং টেবিলে তার উত্তাপ পৌঁছাবে না? যুদ্ধের ধোঁয়াতে আকাশ ঢাকতেই কুয়েত, কাতার, বাহারিন সহ সৌদির তেল উত্তোলনে ধস নেমেছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। আমেরিকা তেলের দাম ধরে রাখতে মরিয়া, যাতে দেখানো যায় যে ইরানের কোনো ক্ষমতাই নেই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের। এর ফলে জি-৭ দেশগুলির ইমার্জেন্সি তেল রিজার্ভ হতে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে। যদিও এই রিজার্ভ তেল দিয়ে বড়জোর ২ সপ্তাহ মত সাপ্লাই চেইন সামলাতে পারবে। এই সময়টুকু তারা ইরান হুমকি মোকাবেলা ও হরিমুজ প্রনালি মুক্ত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। 

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কেউই গভীরে যাচ্ছেনা, ভাবছে তেল গ্যাসের দাম বাড়ার মতো প্রত্যক্ষ দুটো ক্ষতি হবে, আর পরোক্ষ হিসাবে অল্প বিস্তর দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচ বাড়ার দরুন। বাস্তবে ভয়টা আরও ভয়াবহ ও সর্বনেশে। ভিডিওতে দেখুন, এক্সপোর্ট মোটামুটি একপ্রকার বন্ধই হয়ে রয়েছে আমাদের পশ্চিম উপকুলের বন্দরগুলো দিয়ে। পেরিসিবল আইটেম মানে কাঁচা মালগুলো আর কয়েকদিনের মধ্যেই পচে যাবে যেগুলো রাস্তায় রয়েছে, ওদিকে উৎপাদনও থেমে নেই। রোজার সময় ওখানে একটা বড় বাজার থাকে, সেটা তো শেষই, নর্মাল বাজারও শেষ। ফলত মারা যাবে আমাদের দেশের চাষী, কৃষিকাজের সাথে জড়িয়ে থাকা ভারতের ৫৮% মানে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ সর্বনাশের সম্মুখীন হবে। আমাদের মত উন্নয়নশীল ‘গরিব’ দেশের জন্য এটা অপূরনীয় ক্ষতি। 

রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর দিলে দেখবেন, মধ্যপ্রাচ্য মাত্র ১৫% এর রপ্তানি অনংশীদার। কিন্তু যখন আপনি নির্দিষ্ট করে কৃষি পণ্যের দিকে তাকাবেন, দেখবেন আমাদের চালের  ৪০% এই অঞ্চলেই যায়। মাংস রপ্তানির প্রায় ৭১% এবং ডিমের ৬৭% রপ্তানি এই আরব দেশগুলোতে যায়। মোট মসলা, চা এবং কাজু বাদামের মতো পণ্যের ৫৫% রপ্তানি এই অঞ্চলের বাজারের সাথে যুক্ত। 

সাধারণ চাল ছাড়াও গম এবং ভুট্টা প্রচুর পরিমাণে পাঠানো হয় ওই দেশগুলোতে। মুসুর, মটর, ছোলা এবং অন্যান্য ডালজাতীয় শস্য সহ ঘি, পনির এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত সামগ্রী সবই বিপুল মাত্রায় পাঠাই আমরা। আম, কলা, বেদানা, আঙুর এর মতো তাজা ফল যায় লক্ষ লক্ষ ডলারের। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পেঁয়াজের বাইরেও, টমেটো, আলু, ভেন্ডি থেকে লাউশাক কোন সব্জি যায় না? ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি রপ্তানি করা হয়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন ফলের রস, আচার, শুকনো ফল, রেডি-টু-ইট খাবার। মধ্যপ্রাচ্য মূলত একটা হাব, বিশেষত দুবাই, সেখান থেকে ইউরোপ ও আফ্রিকার বহু দেশে ট্রান্সশিপমেন্ট হয়। এই যুদ্ধের কারণে সেটাও সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পরেছে, আসন্ন মুক্তির দিশা নাই।

গোটা বিশ্বকে আজ ক্ষতির সামনে এনে দিয়েছে এপস্টিং গ্যাং এর এই যুদ্ধ। সমগ্র পৃথিবী যুদ্ধের আঁচে জ্বলছে আর আমাদের সরকার সত্য লুকাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনের হিসাবটা কিছু এমন, এপস্টিন গ্যাং এর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে, ভারতীয় টাকার হিসাবে ২৯১ লক্ষ কোটি টাকা। এপস্টিন গ্যাং এর মূল দালাল ইসরায়েল বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিন ভারতীয় মুদ্রাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র সরঞ্জাম পুড়ে যাচ্ছে, এর সাথে কয়েক লক্ষ টাকার অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যা তাদের অনুমানের বাইরে ছিল। 

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, সহ ইউরোপের প্রতিটি দেশের শেয়ার মার্কেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূলধন জাস্ট মুছে গেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, জর্ডন, লেবানন, ওমান সর্বত্র কাজকর্ম উৎপাদন সব বন্ধ, খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে, লুঠপাঠ হচ্ছে রীতিমত। ইরাক ইয়েমেনে আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী হয়ে গেছে। মাঝখান থেকে পাকিস্তান নামের ভিখারিটা সৌদির সাথে সামরিক চুক্তি করে ফেঁসে গেছে, তার উপরে রমজান মাসে জাকাতের মরসুমে এমন আর্থিক অবরোধে তাদের হাঁড়ি বন্ধ হয়ে যাবার দশা, জ্বালানি গ্যাস ও তেলের আকাল শুরু হয়েছে, দ্রুত পাকিস্তানেও জনবিদ্রোহ শুরু হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।

ইরানও ধ্বংসের কিনারাতে দাঁড়িয়ে। তাদের ৭০% তেল অবকাঠামো ধ্বংস, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ ইরানি জনগণ বাস্তুচ্যুত। যেহেতু তারা খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাই আধপেটা খেয়ে বেঁচে যাবে হয়তো বা, এপস্টিন গ্যাং যায়োনিস্টদের এই বিধ্বংসী মার হজম করে। কারণ ৫০ বছর বৈশ্বিক অবরোধের অভ্যাস তাদের রয়েছে, পাশাপাশি তারা এনার্জিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাবেই। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্য তেল, এসব ৩০-৫০% অবধি বেড়ে যাবে; এলপিজি, কনজিউমার গুডস, ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিস, গরীব ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে নাভিশ্বাস তুলে দেবে। এই সংকট বর্তমানে আপনার উঠোনে অপেক্ষা করছে, যেকোনো মুহুর্তে ঘরে ঢুকে পরলো বলে। রফতানি কমলে কলকারখানা বন্ধ হয়ে সাপ্লাই চেন ভেঙে যাবে, মানুষ ভোগ্যপন্য কম ক্রয় করবে, পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট শিল্প মার খাবে, গিগ শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে যাবে; দেশ এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়বে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে নোট ছাপাবে, আর সেই ছাপানো কাগজের ভিড়ে আপনার জমানো টাকার মান খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে, ১ ডলারের বিপরীরে ভারতীয় টাকা দেড়শো পাড় করে গেলেও আশ্চর্য হবেননা। শ্রমজীবী মানুষের জন্য এ এক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।

পার্থিব ইকোসিস্টেমে সূচ থেকে হাতি, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে বৈশ্ব রাজনীতির বাপ-কাকারা। যারা চাষাবাদ করে খান, তারা অন্তত না খেতে পেয়ে মরবেনা, বাকিদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার সময়। এই মহাদুর্যোগে একমাত্র সোনা, রুপা কিংবা ভূমিতে বিনিয়োগ করা লোকেরাই নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, কারণ খুব দ্রুত এগুলোর দাম দফার দফায় গতিতে বাড়বে।

আমরা যারা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, আমাদের হাতে কোনও উপায় নেই এই যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করার, আমাদের দেশেরও বস্তুত কোনো ক্ষমতা নেই এই যুদ্ধ থামাবার দিশা দেখাবার, প্রয়োজনও নেই যুদ্ধের শরিক হওয়ার। কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে আড়ঙের বাজি পটকা ফাটা দেখা আর হলিউডি যুদ্ধের সিনেমাকে লাইভ দেখার মতো করে আনন্দ নেওয়া থেকে মানসিকভাবে বিরত থেকে, নিজেদের আসন্ন অতীত নিয়ে ভীত হতেই পারি। দেশের চাষী মরলে আপনার বেঁচে পালাবার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিরাপদ নয়, কেউ নিরাপদ নয়।

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দুই ফুলের ধাষ্টামিকে এড়িয়ে যান

 


৬০ লাখ মানুষ যেখানে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নে জিম্মি হয়ে হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা একজন RSS এর কাঠপুতুলকে নিয়ে সময় নষ্ট করার বাহুল্যতা কি খেটে খাওয়া মানুষের রয়েছে? RSS এর নির্দেশে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে মিডিয়ার ন্যারিটিভ ফিরিয়ে আনতে এই সমস্ত আয়োজন। এই বিতর্কে দেশের কোনো মানুষের কিচ্ছুটি লাভ বা ক্ষতি নেই। এমনিতেই রাজ্যপাল আর রাষ্ট্রপতি পদ দুটোর নামে সাদা হাতি পোষার প্রয়োজন রাষ্ট্রের রয়েছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রশ্ন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।

বুকে হাত রেখে বলুন তো, এই ‘ফালতু’ ঘটনা না হলে ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম আপনার মনে ছিলো? কালাম সাহেবের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বহীন রবার স্ট্যাম্প মার্কা পদ হয়ে গেছে। গুগল না করে এর আগের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবে না অধিকাংশ মানুষ, শুধু এইটুকু মনে আছে আগের রাষ্ট্রপতি তপশিলি জাতির ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তপশিলি উপজাতির। গত ১০ বছরে দেশের তপশিলি জাতি ও উপজাতিরা ঠিক কতটা উপকৃত হয়েছে কেউ জানাবেন দয়া করে? 

এখনও অবধি বিজেপি যাদের যাদের সাথে জোট করেছে তাদের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে, বাকি শুধু তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেনীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চূড়ান্ত অসৎ ও বেপারোয়া। তার পরেও এমন ব্যক্তিকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বয়ে চলেছ, একদিন হজম করে ফেলবে এই বিশ্বাসে। যেহেতু মমতা ভাবের ঘরে চুরি প্রায় করে না বললেই চলে, তাই তাকে এখনও হজম করা হয়নি বিজেপির। এর মূল কারণ RSS যতটা ছোটলোক ইতর ও বর্বর, প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জী তার থেকেও নিচে নামতে পারেন, দ্রুত ও প্রকাশ্যে। এবারে প্রায় চিবিয়ে এনেছে, শুধু গিলে নিতে হবে ঢক করে, আর ঠিক এই স্থানেই মমতা ব্যানার্জী বিজেপির কন্ঠনালীতে আঁটকে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক করতেই হতো, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা, অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও পরিষ্কার- ‘কদিন বিশ্রাম করে নিয়ে আবার নামতে পারব’।

স্বভাবতই, কোন ভণ্ডামি মঞ্চে কে পায়চারি করছেন, মহুয়া ‘শশী’ মৈত্র কাকে কীভাবে বাঙালি পরিচয়ের সার্টিফিকেট বিলি করছেন, কোথায় কখন রাষ্ট্রপতি এসে কী বলছেন, দাঙ্গা বাবুল এবিপির কাকে চমকালো, চটিচাঁটা গায়িকা ইমন সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরল কিনা, কবির সুমন কোন গান গাইছে বা কোন ধান্দাবাজ কোন দল থেকে কোন আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পৌঁছাল তাতে আমাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। যুদ্ধের আবহে তেল গ্যাসের বাজারে আগুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হাহাকার শুরু হলো বলে, তার উপরে SIR এর নামে ইচ্ছাকৃত নাগরিক বিপর্যয়, এসবকে উপেক্ষা করে দুই ফুলের ধাষ্টামিকে নাকের পোঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আন্দোলনের পথেই থাকুন।



আল আকসা আর কতদিন টিকবে?


পরিস্থিতি যা এগোচ্ছে, তাতে আমি একটু শঙ্কিত আল আকসা মসজিদ নিয়ে। ফিলিস্তিনের দখলদার রাষ্ট্র ইজরায়েলের মূল উদ্দেশ্য- মিশরের নীলনদ থেকে ইরাকের ইউফ্রেটিস তথা ফোরাতের মধ্যবর্তী অংশটাকে নিয়ে গ্রেটার ইজরায়েল বানানো হলেও, ইম্মিডিয়েট লক্ষ্য একমাত্র জেরুসালেম দখল করা; আর এই কারণেই গাজাকে খালি করা এত প্রয়োজন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন-কানুনকে কাঁচকলা দেখিয়ে এই গণহত্যার সুপরিকল্পিত আয়োজন।

ইহুদীদের ঈশ্বর 'জিহোভার' দ্বারা প্রতিশ্রুত ভূমির সীমানা ওটাই তাদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ-তোরাহ অনুযায়ী। আপনি এসব গাঁজাখুরি বিশ্বাস করুন বা না করুন- তাতে তাদের কিছু যায় আসে না, তাদের কাছে সত্যও বদলায় না। আর এই ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যই এত হত্যা, এত অত্যাচার; অবশ্য তাতে ওদের সামান্যতম অনুতাপ নেই, কারন ইহুদীরাই একমাত্র ঈশ্বরের 'চুজেন ওয়ান' জাতি, অবশিষ্ট পৃথিবীর সবাই জেনটাইল বা বর্বর দাস সম্প্রদায়ের, যাদের জন্মই হয়েছে ইহুদীদের সেবা করার জন্য, ওদের দ্বারা শাসিত হওয়ার জন্য, সে আপনি মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু বৌদ্ধ যা খুশি হোন- কোনো ফারাক নেই। আপনি সামান্যতম প্রতিবাদ করতে গেলেই আপনাকে অ্যান্টি-সেমেটিক নাম দিয়ে দাগিয়ে, আপনার উপরে সাজা ঘোষনা করবে, আপনার সম্পদ কেড়ে নেবে, পরিশেষে যেকোনো ছুঁতোতে হত্যা করবে।

নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদের যদি কোনো প্যারামিটার হয়- যারা ইহুদীদের সামনে থেকে দেখেছে, তারা জানে ওই প্যারামিটারে ১ থেকে ১০ অবধি সবটা ইহুদীদের দখলে থাকবে, এর পর আমাদের দেশের  RSS মাইন্ডেড লোকজন। অন্ধবিশ্বাস আর হিংস্রতাতে কেউ ইহুদীদের স্পর্শ করতে পারবে না। পৃথিবীতে এমন একটা পাপ বা অপরাধের নাম বলুন যেটা তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে করেনি বা করছে না! জায়োনিস্ট প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে আপনি নিজেও যদি মানসিকভাবে ইহুদী না হয়ে যান, তাহলে সামান্যতম সুস্থ চিন্তা করলেই এই অভিশপ্ত জাতির প্রতিটা ষড়যন্ত্রকে চোখের সামনে ন্যাংটা ভাবে দেখতে পাবেন, ইতিহাসের সারণী ধরে হাঁটলেই। 

যা বলছিলাম, জেরুসালেম দখল না হলে তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তাদের হাজার বছরের প্রতীক্ষিত প্রফেট বা নবী  তথা ঈশ্বরের দূত 'মাশায়ার' আগমন হবে না। তারা বিশ্বাস করে মশায়া আসা মাত্র ইহুদীরা গোটা বিশ্বের শাসক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমগ্র বিশ্বের সমস্ত কিছু তারা জেরুসালেম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে, গোটা পৃথিবী একটাই রাষ্ট্র হবে, আক্ষরিকভাবেই তাদের লালিত স্বপ্ন one order word প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে এই তথাকথিত মাসায়ার আসার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে জেরুসালেমকে অ-ইহুদিদের হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা। 

আজ অবধি তারা টেম্পল রক দখল করতে পারেনি, মুসলিমদের দখলেই রয়েছে মসজিদটা, বা বেথেল থেকে খ্রিস্টানদেরও তাড়াতে পারেনি। আর না পারার জন্যই তারা অস্থির অধৈর্য হয়ে উঠেছে বর্তমান সময়ে, তাদের ধর্মীয় গণনা অনুযায়ী এই দশকেই মাসায়া বা মেসীর আবির্ভাব ঘটবে, তাই তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে মাসায়া বরণের।

ইরাণ বোমা ফেলেছে এমন গল্প শুনিয়ে নিজেরাই ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে টেম্পল রক সহ, ডোম রক ও আল আকসা- সবটা নিশ্চিহ্ন করে দিতেই পারে। যাতে তারা সেখানে থার্ড টেম্পল বানাতে পারে? এটাই তো তাদের মূল লক্ষ্য জেরুসালেমকে নিয়ে। সৌদির তেলক্ষেত্র বা সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সেনা ছাউনিতে যেভাবে ফলস ফ্লাগ আক্রমণ চালিয়েছে ইজরায়েল- তাতে তারা পারে না এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই পৃথিবীতে।

ওহ, আপনি তো আবার কোট পরিহিত পশ্চিমা ইহুদী-খ্রিস্টান জায়োনিস্টদের দেখে ভাবেন তারা শুধু বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে, অন্ধ ধার্মিক নয়। আপনার কানে সপাটে থাপ্পড় মেরে জায়োনিস্টদের বাপ ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক অবোধ্য ধর্মীয় রিচুয়াল প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের মা মাসী এক করে দিয়েছে। যদিও আপনি প্রতিটি ইহুদীকে দেখেছেন মাথায় টুপি পড়ে ১ ফুট লম্বা ঝুলফি সহ, তারপরেও তাদের প্রতি আপনার পবিত্র বিশ্বাস তথা ঈমানের জন্য ওদেরকে আপনি ধর্মান্ধ ভাবতেই পারেননি কখনও। যেন ওদেরকে ধর্মান্ধ ভাবলে আপনার নিজের ধর্ম পতিত হয়ে যাবে, আপনি মানুষ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আসলে তাদের নিয়ন্ত্রিত গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো আপনাকে এমনটাই ভাবতে শিখিয়েছে। 

ব্রিটেনের পতন না হলে আমেরিকার উত্থান হতো না বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে। জামাল নাসেরের হাত ধরে সুয়েজের জলে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক ও সামাজিক ভরাডুবি ঘটে। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে মিশরের মাটি থেকে বাধ্য হয়ে ব্রিটেনকে পালিয়ে যেতে হয়, যার ফলে বৈশ্বিক পরাশক্তির মর্যাদা হারায় ব্রিটেন। এর পরের ৭০ বছর মাইটি আমেরিকার হিংস্র সন্ত্রাসের শতক। ইরানের দৌলতে এবারেই হয়তো হরমুজের জলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সলিলসমাধি ঘটবে! 

১৯৫৬ সালের ব্রিটেনের ছায়া দেখা যাচ্ছে আমেরিকার মধ্যে। এটাই ইহুদীদের জন্য সুবর্ণ সূযোগ, অন্তত তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী- তারা নিজেরা সুপার পাওয়ার বিশ্ব পরাশক্তি হতে চায়। এর জন্য মাসায়াকে আসতে হবে, মাসায়ার জন্য থার্ড টেম্পল বানাতে হবে, থার্ড টেম্পল বানাতে গেলে আল-আকসা মসজিদ নিশ্চিহ্ন করতে হবে- পরিষ্কার ক্রনোলজি।

সে যাই হোক, আল আকসা আর কতদিন টিকে থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। বর্তমানের ইরাণ যুদ্ধ সর্বনাশের শুরু মাত্র, এই জায়োনিস্ট ইহুদীরা আরও বড় সর্বনাশ  বয়ে নিয়ে আসছে আগামীতে, সমগ্র অ-ইহুদী বিশ্বের জনগণের জন্য যা অভিশাপ।



শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

দালাল থেকে সাবধানঃ তৌসিফ হক

 


২০২১ এর নো-ভোট্টুর দল নতুন জামা পরে ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’ হোয়াটস অ্যাপ ঠেক বানিয়েছে একদল ‘প্রতিকুর’। এই নো-ভোট্টু দের চরিত্র সকল বাম সমর্থকেদের জানা রয়েছে। গতকাল তোলামূলের ভন্ডামি মঞ্চ থেকে, শ্রীমান ভাইপো অফিসিয়ালি নোভোট্টু শাখার সমাপ্তি টেনে নতুন জামায় এদেরকে আনার ঘোষণা দিয়েছে, উপরোক্ত ‘হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চ’ সেটারই অন্যতম পার্ট। ধর্ণার মাচা থেকে পাঠ করা ভাইপোর ভাষণ, আর এই whatsapp গ্রুপের এডমিনের বক্তব্য- জেরক্স কপির মতো মিলে যাওয়া কোনো কাকতালীয় নয়। বক্তব্য আসলে একটাই, যেটা i-pac লিখে এদের সকলের কাছে কপি সাপ্লাই করেছে। বাকিটা বোঝার জন্য পোস্টটা পড়ুন।

তৌসিফ হক, নামটা আমাদের মতো বামবৃত্তে যারা রয়েছি তাদের সকলেরই কমবেশি পরিচিত। নিজেকে বাম হিসাবেই পরিচয়ও দেন, আলিমুদ্দিনে যাতায়াতও আছে বলে দাবী করে নানান স্থানে। এই ‘তৌসিফ হক’ যদি সত্যিই বাম হতো- তাহলে ঘোষিতভাবে তৃণমূলের লোকজনের রাজনৈতিক সম্প্রীতির এমন সোনাগাছি গ্রুপ কোন উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে? CPIM West Bengal তো রাজ্যের সর্বত্র কম বেশি শক্তি অনুসারে রাস্তায় রয়েছে এই ইস্যুতে। অন্যান্য বাম দলগুলোর মধ্যে CPI, RSP, ফরওয়ার্ড ব্লক, এমনকি বিধানসভায় মাত্র একটি MLA নিয়ে প্রবল লড়াই দেওয়া Indian Secular Front এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে Indian National Congress পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আন্দোলনে যুক্ত। এর উদ্দেশ্য সৎ হলে, রাজ্যের সর্বত্র যেখানে বামেরা অবরোধ মিছিল করছে, সেখানে যোগ দেয়নি কেন?

শিল্পী মানুষ, গুণ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমন মাদারচোদ যে তলে তলে ‘প্রতিকুর’ হয়ে বসে আছে সেটা গোপন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কেউ আমাকে যুক্ত না করলে জানতেই পারতাম না। নিচের ছবিগুলো দেখুন, বাকী বিচারের ভার একান্তই আপনার, একে আপনি কীভাবে দেখবেন! আর এই “সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চের” হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সাথে বামমনস্ক যারা যুক্ত হয়েছেন ‘আপন’ ভেবে তারা আপনাদের চিহ্নিতকরণের কাজটা করছে i-pac এর হয়ে, যাতে বেছে নিয়ে বাদ দেওয়াটা নিশ্চিত করতে পারে। এরা আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্প অবধি নিয়ে যাবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এদের মিছিলে হেঁটে নিজের পেছন নিজে মারাবেন কিনা সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার। পোঁদ আপনার, গণতান্ত্রিক দেশে নিজ নিজ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন অনুযায়ী কার সামনে প্যান্ট খুলে উবু হয়ে শোবেন সেটাও আপনার চয়েস। প্রত্যেকের বোকাচো দা হওয়ার অধিকার রয়েছে।

এরা রীতিমতো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা প্রতারিতদের একস্থানে জড়ো করে তাদের আন্দোলনকে ভুল পথে চালনা করছে। গ্রুপের এডমিনদের একাংশ অতিবাম, কয়েকটা বোকা সিপিএম সমর্থক আর বাকি সবটা i-pac এর পে-রোলে থাকা পোষ্য বুদ্ধিবিচিদের হায়নার দল। আপনি বলবেন একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ কী এমন আর করে নেবে; ভুল। ত্রিপুরাতে এমনই শয়ে শয়ে আপাত নিরীহ হোয়াটাস অ্যাপ গ্রুপ খুলে সেখানে একেকটা ‘প্রতিকুরদের’ বসিয়ে রেখে বাম সমর্থকদের সাথে ধোঁকাবাজি করে বিপথে চালনা করেছিল। ফলাফল আমরা সকলেই জানি, বাম সরকারের পতন হয়েছিল। আমাকে কেউ এমন একটা গ্রুপে জুড়ে দিয়েছিল বলে নাহয় সেই ‘একটা’ গ্রুপের বিষয়ে জানতে পেরেছি, এমন আরও কত শত গোপন গ্রুপ আছে কে বলতে পারবে? এরা একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলেনি, আমি যেটাতে ছিলাম সেটা মাদার গ্রুপ; এখান থেকে প্রতিটা জেলার জন্য ছোট ছোট গ্রুপ, আরো বিভিন্ন সাবগ্রুপ করেছে। ব্লকে ব্লকে এই ছত্রাকের জাল কতটা বিছিয়েছে এখনই জানা যাচ্ছে না।

আমরা যারা বাম মনস্ক ও বাম সমর্থক, তারা সন্দেহাতীত ভাবে একটু বেশিই আবেগী। কেউ দু’বার লাল সেলাম বা ইনক্লাব জিন্দাবাদ বললেই ধরে নিই- এ তো আমার বৃত্তের লোক, পার্টিজান। আর এই সুযোগে মুখোশ পরা চমনচুতিয়ার দল আমাদের আবেগকে পুঁজি করে আমাদের ধোঁকা দেয়। আসলে এরা সকলে মীরজাফর, সরি মীরজাফর অনেক বস্তাপচা একটা উপমা, বরং ‘প্রতিকুর’ শব্দটাই একদম আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। এই প্রতিকুরেরা লাল পোশাকে সেজে তলে তলে i-pac এর হাতে তামাক খেয়ে দলের ক্ষতি করে চলেছে নিজের সাধ্যমতো। হ্যাঁ, ব্যক্তি তৌসিফ হক কোনো বড় হনু নয়, কিন্তু দলের সর্বত্র এমন ছোট বড় খেঁকি নেড়িতে ভর্তি, যারা আসলে তোলামূলের উচ্ছিষ্ট ভোগী দালাল। তোলামূলের হারামের টাকায় এরা পেট চালায়, আর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশের বাম সমর্থকদের কনফিডেন্সে নিয়ে তাদের ভুল পথে চালনা করে। উদাহরনস্বরূপ, এই তৌসিফের ৫৮ হাজার ফলোয়ারের ৫৭ই বাম মনস্ক, লালজামা এদের টোপ এর ফাৎনা। ‘এঁকে খাই’ না, চেটে খাই।

এই বেজন্মার বাচ্চা ‘বামমনস্ক শিল্পী’ অন্তত হাজার খানিক আন্ডার-এডজুডিকেসনে থাকা মানুষদের নিয়ে আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নামে একটা ফাঁদ খুলেছে, যা i-pac এর নির্দেশিত পথে চালনা হচ্ছে। জয়হিন্দ, বিজেপি হটাও ইত্যাদি স্লোগানের প্র্যাকটিস হচ্ছে। আজকের ধর্না মঞ্চে ভাইপোর করা ভাষণের সাথে যার কোনো ফারাক নেই, কমেন্টে সেই ছবি দিলাম। আমি যেই প্রশ্ন করেছি- “ভুল করেও কেউ যেন তৃনমূল হটাও স্লোগান দেবেন না, তাহলে খাসি করে দেবে”। আমার সেই কমেন্ট প্রথমে ডিলিট করে, ও পরে ডিলিটের কারণ জানতে চাইলে আমাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে। আমি অবশ্য লিখেছিলাম তোদের গ্রুপ তৃণমূলের দালালি করার জন্য জানলে, শুরুতেই গ্রুপে মুতে দিতাম। আমার প্রশ্নে উলঙ্গ হয়ে যেতেই, মহঃ সেলিমের একটা উক্তি সম্বলিত একটা পোস্টার এনে চিপকে দিয়ে নিজেকে সিপিএম প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে, কতবড় শুয়োরের বাচ্চা এই মালটা। ছবিতে দেখুন।

জয় হিন্দ, বিজেপি হটাও এইসব স্লোগানের আড়ালে কোমায় থাকা তৃণমূলকে আমেরিকায় বসে দালালী করা লোক ধরে এনে বাঁচাবার চেষ্টা করছে। তারা জেনে শুনে এরকম কর্মসূচি নিয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচীতে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, উল্টে অরাজোনৈতিক মুখোশের আড়ালে মুখ্যমন্ত্রীর ভণ্ডামি মঞ্চে লোক পাঠানো যায়। এই কারণেই গতকাল একটা প্রি প্ল্যান কর্মসূচি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পার্ক সার্কাসের বুকে নিয়েছিল, যাতে ওই দিক থেকে গতকাল ধর্মতলার মঞ্চে দেখানো পার্শ্ব-শিক্ষকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির মতো কেউ এসে কেউ বিক্ষোভ দেখাতে না পারে। শয়তানি ১০০ শতাংশ শুধু পেটে পেটে নয় মাথা থেকে পা অব্দি। আপনারা দেখে নেবেন ‘প্রতিকুর’ যখন কোনো ইন্টারভিউ দেয়, তখন তিনজন একসাথে কথা বলে। প্রথমত, ফিকে হয়ে যাওয়া লাল জামা পরে ব্যক্তি প্রতিকুর, দ্বিতীয়ত- প্রতিহিংসাপরায়ণ ঋতব্রত এবং বুদ্ধিদাতা সংস্থা আইপ্যাক। ‘মুসলমান’ প্রতিকুরকে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা এখন i-pac তথা তৃণমূলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। 

আমার টাইমলাইনের বন্ধুবৃত্তে থাকা অনেকেই সেই গ্রুপে রয়েছেন, আপনারা গতকাল সন্ধ্যার সেই চ্যাট নিজেরাই দেখতে পাবেন ওই গ্রুপে স্ক্রল করে উপরের দিকে গেলে। বাকিরা অ্যাটাচড ছবিতে দেখে নিন। এটা বিশেষ একটা বাল-ব্যাটার বিরুদ্ধে কোনো ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসানো নয়, এটা প্রতিকুরদের চিহ্নিতকরণের একটা প্রক্রিয়া। তৌসিফ হক এমন কোনো কিডনি ফুসফুস নয় যে সমাজের কাছে সে ম্যান্ডেটারি কিছু, এগুলো বস্তুত ঝাঁটের বাল, ছেঁটে দিলেই নর্দমাতে শোভা পাবে। 

এদের হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চের মুখে পেচ্ছাপ করে দিন। এরা গতকাল শুক্রবার বেলা ১টার সময় পার্কসার্কাসে ধর্ণার আয়োজন কর্মসূচি নিয়েছিল। রোজার মাস, তার উপরে জুম্মাবার। বেলা দেড়টার সময় কে বা কারা যাবে সেখানে? যেখানে বিচারাধীন ভোটারদের ৭৩%ই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ! যদি না জেনে এমন কর্মসূচি করে থাকে তাদের তাদের বোধবুদ্ধি আর অওকাত বিষয়ে প্রশ্ন উঠবে, আর জেনেবুঝে করে থাকলে, যাতে এই ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলন কোনোভাবেই দানা না বাঁধতে পারে সেই জন্য এমন টাইমিং। পরিষ্কার শয়তানি। অরাজনৈতিক রাত দখলের ডাক দেওয়া যাদবপুরের সেই তথাকথিত ‘বামমনস্ক’ মহিলাকে নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যাননি, যিনি সিপিএমকে ভেঙে যেতে দেখার জন্যই আজও বেঁচে রয়েছেন। এরা সকলেই একটা করে প্রতিকুর। কেউ রাতারাতি প্রতিকুর হয় না, দীর্ঘদিন তোলাবাজদের সাথে একথালায় ভাত না খেলে এমন বিশ্বাসঘাতক ‘প্রতিকুর’ জন্মায় না। এদের সর্বাত্মক ছোঁয়াচ না ত্যাগ করলে, কোনদিন দেখবেন আপনাকেও প্রতিকুর বানিয়ে দিয়েছে। 

তাই সাধু সাবধান, তৌসিফের মতো প্রতিকুরেরা ভেড়ার ছাল গাঁয়ে নেকড়ে, আপনার ইজমকে নষ্ট করতে এরা মরিয়া। নতুবা যেই মাত্র তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলেছি, ওমনি বিপ্লবী বাবুর গায়ে ফোস্কা পরে গেছে, এবং সাথে সাথে আমাকে রিমুভ করে দিয়েছে। গান্ডু জানে না আমার তো আরও চারটে নম্বর ওখানে থাকতেই পারে, খেলা কি i-pac একাই জানে! আপনি যদি সত্যিই আপনার আন্দোলনকে কোনো সদর্থক পথে নিয়ে যেতে চান, সেক্ষেত্রে যারা ঘোষিত RSS (বিজেপি ও তৃনমূল দুটোই RSS এর শাখা) বিরোধী দল রাস্তায় আছে, যার যে দল পছন্দ তার মিছিলে যান, i-pac এর এই খোঁচরদের ফাঁদে পরলে আপনি জান মাল ইজ্জত সব খোয়াবেন। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। 

ইলেকশন কমিশনের মাধ্যমে RSS যে বৃহত্তর বে-নাগরিকী করণের চক্রান্ত করেছে; প্রান্তিক মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমান ও তফসিলি হিন্দু সমাজের যে সকল মানুষকে বেনাগরিক করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র রচেছে ‘বিজেপি ও তৃণমূলে’র মাধ্যমে, সেই জাঁতাকলে মানুষগুলো দিশেহারা। যে যার যার মতো করে মরিয়া হয়ে আন্দোলনের পথ খুঁজছে। মানুষ তৃণমূলের ভণ্ডামি ধরে ফেলেছে, রাজ্যসরকারী কর্মী BLO/AREO/BDO ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের একাংশের ইচ্ছাকৃত ভুলের দরুন, ডকুমেন্টস সময়মতো আপলোড না করার দরুন ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ২৭শে ফেব্রুয়ারিই বলে দিয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ যেতে চলেছে, তার মানে উনি শুরু থেকেই সবটা জানতেন। বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলমান, মতুয়া ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের নাম বিচারাধীন তালিকাতে রাখা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষকে জিম্মি বানিয়েছে RSS এর দুই ফুল মিলে।

কেরল এবং তামিলনাড়ু সরকার SIR এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। DA না দেওয়ার জন্য আদালতের মাছি হয়ে পরে থাকা তৃনমূল সরকার কোনো আদালতে যায়নি, উল্টে মানুষকে মিথ্যা বলেছে যে SIR করতেই দেবো না। অথচ মমতা সরকারই ৮০ হাজার BLO  সাপ্লাই করেছে, BDO অফিসের লোকজন সাপ্লাই করেছে, গোটা প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। তারপর আমাদের ফিলাপ করা ফর্ম নিয়ে গিয়ে i-pac এবং তৃণমূল দলের পে-রোলে থাকা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে- যার যা খুশি নামের বানান আপলোড করেছে। আমাদের মতো যাদের হিয়ারিংয়ে ডাক পড়েছিল, তাদের ডকুমেন্ট কারও আপলোড করেছে, কারও করেনি। 

বাঙালির পদবীতে ব্যানার্জি-বন্দ্যোপাধ্যায়, চ্যাটার্জী-চট্টোপাধ্যায় কিংবা শেখ বানান চার রকম, হক বানান তিন রকম, মোহাম্মদের হরেক বানান লেখা হয়। সরকার সেটা জানত না? সরকারের তরফ থেকে নির্যাতন কমিশনকে পরিষ্কার করে একটা একটা হলফনামা বিবৃতি দিলে- সমস্যা শুরুর আগেই সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী তো RSS এর সাথে চুক্তি করেছে মুসলমান, মতুয়া আর তপশিলী হিন্দুদের পথে বসাবে। নতুবা SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগেই শুভেন্দুর দাবী করা এক কোটি কুড়ি লাখ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান করা এক কোটি কুড়ি লাখ, আর ফাইনাল লিস্টের এক কোটি কুড়ি লাখ- হুবহু কী করে মিলে যায়? 

আসামে D-Voter শব্দ একবার ব্যবহার হয়ে গেছে, সেখানে বিতর্কের জন্ম হওয়ার কারণে এবারে নতুন শয়তানি এনেছে নির্যাতন কমিশন- আন্ডার এডুডিকেশন। দুটো একই শব্দ, নতুন বোতলে পুরাতন আইডিয়ার প্রয়োগ। মমতা ব্যানার্জী ও i-pac এর পাশাপাশি, লাল জামা পরিহিত ‘প্রতিকুরদের’ ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকাটা বাম সমর্থক ও কর্মীদের প্রাথমিক সফলতা, আপনি কতটা সতর্ক তার উপরে আপনার এই সাফল্য নির্ভর করবে।

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

ধর্মান্ধ উন্মাদের দল



Iran is run by lunatics, religious fanatic lunatics,” Mr Rubio

নিচের ভিডিওটা ধর্মান্ধ ইরানিদের। একমাত্র বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের বাইরে সমস্ত কিছুকে যে ইরান মিথ্যা বলে এসেছে, তারা আজ  কোনো এক ইশ্বরের কাছে কিছু অবোধ্য মন্ত্র উচ্চারণ এবং কিছু দুর্বোধ্য সাংকেতিক রিচুয়াল তথা আচরণ করে 'প্রার্থনার মাধ্যমে' যুদ্ধে বাঁঁচতে চাইছে। শুধু বাংলাদেশই আয়াতুল কুরশি পড়ে যুদ্ধে যায় না তাহলে- সুপার পাওয়ারের দেশও বিজ্ঞানের মাকে শ্যাওড়া তলায় বসিয়ে রেখে 'দোয়া' মোডে চলে যায়।

৫০০০ বছরের পারস্য সভ্যতার উত্তরাধিকারী আমেরিকা ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ট্যেকনোলজির আইরোন ডোম ও শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দেশ ইজরায়েল, যাদের দেশকে ফিলিস্তিন নামের দখলদারেরা বন্দি করে নিয়েছে, এদের হাতে কম্বল ধোলাই খেয়ে প্রথমে ইরান ডায়লোগ দিচ্ছিল আমরা আমেরিকা ও ইজরায়েলের রিজিম চেঞ্জ করে দেবো। ইরান আপাতত মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে গেছে, ইরানের জাহাজগুলো ভারতীয় সীমান্তে বাঁধা। রিজিম চেঞ্জের গল্প পরে হবে, আগে প্রাণ বাঁঁচুক।

এর আগে পিডিফিলিক ইরান ভয়ানক নারী ক্ষমতায়নের কথা বলে আমেরিকার ইস্কুলে স্বতঃপ্রণোদিত হামলা চালিয়ে ১৬৭টা শিশু কন্যা হত্যা করেছে, আমেরিকা আর ইজরায়েলের নাবালক শান্তিপ্রিয় নাগরিকের বাসভবনে বোমা মেরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের রিজিম চেঞ্জ করতে গিয়েছিল। আমেরিকার রাষ্ট্রনেতাকে হত্যা করেছে অতর্কিতে।


পাল্টা মার খেয়ে এখন ইরান এর আমেরিকার পায়ে ধরে সিজফায়ার চেয়েছে নাবালক ইজরায়েলের কাছে, আমেরিকা মানতে নারাজ, তারা বীরের জাত। আমেরিকা রোজ ইরানে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে মিসাইল দিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের কব্জাতে থাকা ১৯টা ঘাঁটি ছেড়ে ইরান- ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি করে মুখ লুকাচ্ছে। 

ভেনেজুয়েলাতে ইরান যেভাবে ন্যাক্করজনক অভিযান চালিয়ে তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনেছিল স্পেশাল বাহিনী দিয়ে, আমেরিকাতেও সেই একই খেলা খেলতে গিয়ে ৭৬ জন ইরানী সেনা আমেরিকার ফাঁদে বন্দি, তাদের জিম্মি বানিয়েছে আমেরিকা। সুতরাং ইরান এখন সমানে তর্জন গর্জন করছে নিজের দেশে বসে, ওদিকে মাসুম আমেরিকা তার অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে।

একমাত্র বিজ্ঞান আর গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মিথ্যাবাদী আর ফাঁপানো বেলুন ইরানের দণ্ডমুন্ডের কর্তারা আজ মিডিয়ার সামনে, ইশ্বরের কাছে দোওয়া তথা প্রার্থনা সভা করে সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে আশীর্বাদ চেয়েছে- যাতে তারা যে সত্যের পক্ষে লড়াই করছে তারা জিততে পারে।

আমিন বলবেন কিনা আপনার ইচ্ছা। এখন ভিডিওতে আপনি ইরানের বদলে আমেরিকাকে দেখতে পান, জেনে রাখুন, আপনিও একজন পাপী আত্মার অধিকারী হয়ে যাচ্ছেন ক্রমশ। নাহলে সর্বত্র মাসুম আমেরিকাকে দেখতেন না।



ইরানি ফাঁদে আমেরিকা

 


ইরানের ভিতরে ঢুকে এই মার্কিন ডেল্টা ফোর্স আর নেভিসিলের 'অপরাজেয়' যোদ্ধারা ইরানের টপ লেভেলের দুই নেতাকে তুলে আনতে গিয়ে ইরানি বুবিট্রাপে ফেঁসে গেছে- যেভাবে সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফি ও এই সেদিন ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে এনেছিল, ঠিক সেই কায়দাতেই এই চোদনাগুলো ঢুকেছিল ইরানের ভূখন্ডে।

ইরানের এই মিসাইল হামলার নেপথ্যে যে মাস্টারমাইন্ড, সেই আলি লারিজানিকে গোপনে তুলে আনতে গিয়েছিল এই ভোঁদড়ের দল। 

ইরান ভূমে গিয়ে নাবালকের দল এখন লপসি খাচ্ছে, যাবতীয় মার্কিন বীরত্ব আর মিথ এখন গাধার গাঁ' ড়ে। গত বছর জুলাইতে মাইটি ইজরায়েলের কাপড় খুলে নিয়েছিল, এবারে মাইটি আমেরিকার ইজ্জতের নিলামি হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। ইরান মিডিয়া কয়েকটা ছবি প্রকাশ করেছে। AI জেনারেট কিনা জানি না, কারণ যুদ্ধের বাজারে সবাই নিজে মতো করে প্রোপ্যাগান্ডা চালায়। ইরানের দাবী- ১৮০ জনের কাছাকাছি একটা মার্কিন জঙ্গীদলের সবকটাকে ইঁদুরকলে আঁটকা করে খাঁচায় ভরে রেখেছে।

অস্ত্র আর ডলারের ঝনঝনানিতে যে মার্কিনীরা বাকি দুনিয়াকে গোলাম বানাতে চেয়েছিল, গোটা বিশ্বজুড়ে দাদাগিরি, খুন যখম যুদ্ধ আর লুঠের রাজত্ব তৈরি করেছিল- ইরান সেই সব মজলুমের মুখের ভাষা, আত্মার শক্তি হয়ে শয়তানের বুকের উপরে চড়ে বসেছে। অবশ্য এই সবের পরেও যারা এপস্টিন ফাইলের দাবী অনুযায়ী মুজরো করেছে, সেই মাদারিদের কী বা দিন কী বা রাত, আমেরিকার পোঁদ চাঁটা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সালমান খানের ওয়ান্টেড মুভিটা যারা দেখেছে, তাদের সিনগুলো মনে থাকবে হয়তো- প্রকাশ রাজ যখন মুম্বাই পুলিশ কমিশনারকে খুন করতে যায়, তখন পুলিশ কমিশনার বলে- তু আয়া নেহি, তেরেকো লায়া গায়া, তেরে রাইট হ্যান্ড কো হামনেই মারা, তেরোকো মজবুর করদিয়া আনেপে। 

যুদ্ধ কি আদপেই আমেরিকা শুরু করেছে? নাকি চীন রাশিয়া উত্তর কোরিয়া আর ইরান মিলে- দম্ভ ঔদ্ধত্য অহংকারে মত্ত আমেরিকাকে বাধ্য করেছে ইরান আক্রমণ করতে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের ম্যাপ থেকে আমেরিকার নাম মুছে ফেলা যায়। ডলার অর্থনীতিকে কবর দেওয়া যায়। বিশ্বজুড়ে ছিটিয়ে থাকা ৮০০ সন্ত্রাসী ঘাঁটিকে ধ্বংস করা যায়, আমেরিকা নামের সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যবাদী রিজিমের পতন ঘটানো যায়! আমার খুব সন্দেহ আছে, আমেরিকা এসেছে না তাকে আসতে বাধ্য করা হয়েছে?

কী ভয়ানক মাত্রার প্রস্তুতি থাকলে, মাত্র ৪ দিনের মধ্যে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যাবতীয় সামরিক আধিপত্যকে কোমায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা যে শুধুমাত্র বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এবং ব্যয়বহুল সামরিক ঘাঁটি, সম্পত্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে এমনটাই নয়, বরং নিজেদের সামরিক আধিপত্যও প্রমাণিত করতে সক্ষম হয়েছে। হারেমখোর মোল্লারাজাগুলো আমেরিকার সায়াতল থেকে পালিয়ে ইরানের সায়াতলে আশ্রয় নেওয়া জাস্ট সময়ের দাবী। 

ছবিটা AI হোক বা না হোক, নিচের ক্রনোলজি দেখুন-


✅ ট্রাম্পকে উত্যক্ত করা

✅ আলোচনার টেবিলে গোয়ার্তমি করা

✅ খামেইনির শাহাদাতের ঘোষণা

✅ প্রতিটা মার্কিন বেসক্যাম্প ধুলোতে মিশিয়ে দেওয়া

✅ মার্কিন বিমানপোত ও রণতরী ধ্বংস

✅ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মার্কিন রাডার আর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা

✅ বেছে মেছে CIA ও মোসাদের দপ্তর ধ্বংস

✅ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া

✅ বোলতার ঝাঁকের মতো ড্রোন অ্যাটাক

✅ ইজরায়েল জুড়ে কার্পেট মিসাইলিং

✅ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার উপস্থিতিকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উপক্রম করা

✅ ইউরোপকে রাশিয়ার গ্যাস বন্ধ করা

✅ সৌদি, আমিরাত, কুয়েত ও কাতার মিলে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থমূল্যের সমান মার্কিন চুক্তি বাতিল করা।

✅ কুয়েতের গ্যাস আর হরমুজ দিয়ে যাওয়া তেল না গেলে AI ইন্ড্রাস্ট্রির বুদ্বুদ উবে যাওয়া

✅ এতো মার্কিন প্ররোচনার পরেও, এই যুদ্ধে ফ্রান্স জার্মানি ও ব্রিটেনের যোগ না দেওয়া

✅ স্পেনের দাঁত ভাঙা জবাব

✅ কানাডার আকাশপথ ব্যবহারে মার্কিন সংস্থানে শুল্ক গোণা

✅ নপুংশক মোল্লা রাজাগুলোর এমন কাঠ ক্যালানি খেয়েও চুপ করে ছুঁচো গেলা সাপের মতো পড়ে থাকা।

✅ ট্রাম্পের সমানে উত্তেজিত হয়ে ছটপটিয়ে মিথ্যা বলা। প্রকাশ্যে  প্রার্থনা করা। ট্রাম্প যেন ক্রমশ জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস হয়ে যাওয়া।

✅ আমেরিকার রাজপথে মৃত সেনাদের ছবি দেখিয়ে সহানুভূতি ভিক্ষা করা।

✅ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে খাদ্যসঙ্কটে ফেলে দেওয়া।

✅ আমেরিকাতে AI লবি, অস্ত্রলবি আর তেল গ্যাস লবি- এদের প্রায় ঝাঁপ বন্ধ হবার যোগাড় করা, ইরানের মারে।


এই সব বিতর্ক থেকে বাঁচতেই হিরোইক কিছু করার ছক কষেছিল আমেরিকা। ফলত গোপন স্থল অভিযান চালানো ও আঁটকা পড়া। যদিও আমেরিকা ঠিক এই মুহূর্ত অবধি এই ঘটনা স্বীকার করেনি, অস্বীকারও করেনি তবে করবে। এটাই ওদের প্ল্যান B ছিল, তাতেও মুতে দিয়েছে ইরান। আপাতত কোন পথে যায় সেটাই দেখার। আজতক চ্যানেলের 'অঞ্জনা ওম মোদী', হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটের বরাতে এই ঘটনা প্রচার করে খুব ট্রোল হয়েছিল গতকাল রাত্রে।

সব যেন ফিল্মের মতো শট বাই শট এগোচ্ছে। আরও কী কী প্ল্যান আছে কে জানে! তবে সব তো প্ল্যান মতো  হয়না, তাই আনেক্সপেক্টেড বহু কিছু ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে ইরানের, কিন্তু ৯০% প্ল্যান মেপেই হচ্ছে। নতুবা এত ঠান্ডা মাথায় খেলা যায় না, দাবার গুটির মতো ছক না সাজানো থাকলে। এবার লক্ষ্য সম্ভবত দিয়াগো গর্সিয়া আর হাওয়াই দ্বীপ, এই দুটো মার্কিন বেস। সাম্রাজ্যবাদের পাঁজর ভেঙে যাবে এই দুটোকে উড়িয়ে দিলে।

ঠিক এই মুহূর্তে আমেরিকার কাছে কোনো এক্সিট প্ল্যান নেই, পড়ে পড়ে মার খাওয়া ছাড়া। সেকেন্ড প্ল্যান পালিয়ে যাওয়া চুপচাপ, সেটাও একপ্রকার মৃত্যুই। তার পরাশক্তির যে ইমেজ, সেটা মুহুর্মুহ ধর্ষিত হচ্ছে ইরান কর্ত্ক। খাৎনা করার সময়, বাচ্চাছেলেদের যেমন- ওই দেখো বাবু পাখি, এটা বলে টুক করে নুনুর ডগা কেটে দেয় হাজামে, গ্রান্ড মাস্টার ইরান ও তার পিছনে থাকা দুই সেকেন্ড- চীন ও রাশিয়া মিলে, আমেরিকার মুসলমানি দিতে গিয়ে গোঁড়া থেকেই গোটা যন্ত্রে চাকু চালিয়ে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই, পিডোফিলিক ট্রাম্পের কোনটা আগে হবে? 


অ্যাসাসিনেশন না ইমপিচমেন্ট?

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

মার্কিন দম্ভ ঔদ্ধত্যঃ অন্ধত্ব


 এটাকে গান্ডুগিরি না বোকাচো দামো বলব জানি না।


ভিডিওতে আক্রমণের পর হেলিকপ্টারের রোটার ব্লেডগুলো ভালো করে দেখুন। এটা হেলিকপ্টার নয়, এটা শুধু মাটিতে আঁকা একটি ছবি। ইরান- এপস্টিন বাহিনীকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য মাটিতে আঁকা অ্যানামরফিক ছবি ব্যবহার করছে। যেহেতু রাডার নষ্ট, অনেকটা আন্দাজে মিসাইল ফেলছে আমেরিকা এবং ইসরায়েল বাহিনী, তারা ইরানের ছবি ধ্বংস করার জন্য তাদের মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র নষ্ট করছে। আর সেই ভিডিও তারা নিজেরা  ‘বিশাল বড় অর্জন’ হিসেবে সরকারী ওয়েবসাইটে আর সোশ্যাল লমিডিয়াতে প্রকাশ করছে। 

রোজ প্রতি মুহূর্তে আমেরিকা নামের সাদা হাতিটা একটু একটু করে ন্যাংটা হয়ে যাচ্ছে ইরানের হাতে। মিসাইল খেয়ে কেবল হিজড়ে হয়ে যায়নি, বিচি শুকিয়ে পাকস্থলিতে উঠে গেছে এপস্টিন বাহিনী। আতঙ্কে বিচি মাথায় চড়ে গেলে এমনই হয়। মাথায় মগজ থাকে যা দিয়ে মানুষ সুস্থভাবে সিদ্ধান্ত নেই, সেখানে বিচি উঠে গেলে- মগজ যথারীতি স্থান বদল করে অন্ডোকোষে উপস্থিত হয়েছে এপস্টিন বাহিনীর। ফলত মিথ্যাচার, ভুলভাল এমন আলবাল কাজকর্ম হতেই থাকবে।

খবরে প্রকাশ, মাইটি আমেরিকা নাকি US trials LGM-30 G. মিসাইল রেডি করেছে ইরানে মারবে বলে। এর সাথে সাথে যে সত্যগুলো নিজেরাই প্রতিষ্ঠিত করে দিল- মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মিলিটারি বেস আর বেঁচে নেই, মধ্যপ্রাচ্যে এপস্টিন বাহিনীর অস্ত্রসস্ত্রের ভান্ডার ফাঁকা, যুদ্ধজাহাজগুলো গাধার গাঁ ড়ে। আমেরিকা যদি তাদের মেইন ল্যান্ড থেকে মিসাইল মারে, তখন নিউইয়র্ক, ওয়াসিংটন ডিসি তথা পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজও ইরানি ICBM খাবার জন্য চরম দাবীদার হয়ে উঠবে। 

আমেরিকার যত ICBM আছে। তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আছে রাশিয়া , চীন, উঃ কোরিয়ার কাছে। সকলেই মৌকা বুঝে হাত সেঁকে নেবে। ন্যাটোর নড়ার ক্ষমতা নেই, সে পাঁঠা থেকে নির্বীজ খাসি হয়ে বসে আছে।সমস্যা হচ্ছে ভক্তদের মায়ের, কে যে তার আসল 'সুহাগ' বুঝে উঠার আগেই নতুন বাপ বেছে নিচ্ছে ভক্তের দল। প্রথমে আমেরিকা, তারপর চীন, মাঝে রাশিয়া, এখন ইসরায়েল। ভক্তরা যে রেটে বাপ পাল্টেছে, এত ঘন ঘন ডাইরিয়ার রুগীও পায়খানায় যায় না। ভক্তদের মায়ের কি এতে এইডস বা STD হবার ঝুঁকি রয়েছে মিত্রো?

রাশিয়ার মারে ধ্বজভঙ্গ হওয়া ন্যাটো তথা ইউরোপ জায়গা না দেওয়া তে আমেরিকার আর কোনো অপসন বেঁচে নেই। ঔদ্ধত্ব আর অহংকার যখন অন্ধ করে দেয় ক্ষমতার দম্ভে, তখন ফাঁপানো শক্তির গল্প  যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ৮০০টা ভয়ের দোকান খুলে বসেছিল সেগুলো রাতারাতি ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে। ঝাঁপ বন্ধ হলে দাদাগিরি সহ লুঠের রোজগার শেষ। অতএব দাদাগিরির ইজ্জত বাঁচাতে এমন ভুল প্রতিবার করবে আমেরিকা, রোজ করবে, বারবার করবে। ক্ষমতার দাম্ভিকতাতেই কফিনের শেষ পেরেক নিজেরাই মারবে। ইরান তো ওছিলা মাত্র।

ইরান যদি ICBM খায়, নিউইয়র্কেও ইরান জোট বেশ কয়েকটা গুঁজে দেবেই। হিজড়ের বাচ্চাদের কুত্তা দৌড় গোটা দুনিয়া দেখবে। আর ৭টা দিন এভাবেই চলুক, আমেরিকার ৫২টা ভাই হওয়ার অন্নপ্রাশন হবে ইরানের তরফে।

দুঃখের বিষয় হল, অফিসিয়ালি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হলো বলে।



মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

আমরা কী আমেরিকার কাছে পরাধীন?


 আমাদের দেশের বন্দরে আমেরিকান নৌবাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কেন? 


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তাড়া খাওয়া আমেরিকা নামের খেঁকি ঘেয়ো কুত্তাকে আমাদের সমুদ্র বন্দরে এ্যালাও করছে বিশ্বগুরুর সরকার? কোন স্বার্থে? আমাদের পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়েছে? জাতি কী চায় জানতে চেয়েছে? আমরা কি অলিখিতভাবে আমেরিকার উপনিবেশ হয়ে গেছি? আমাদের রাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌমত্ব টিকে আছে? নাকি সব বালবিচি ওই নেতানুনু আর বেটিচো দ ট্রাম্পুদের এপস্টিন বাহিনীর কাছে গচ্ছিত রেখেছি? 

আমেরিকা যার বন্ধু, তার আলাদা করে শত্রুর দরকার হয়? মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজাগুলোকে দেখেও শেখেনি ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড? ওরাই তো পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকাকে মাইটি বানিয়েছিল। আজ যখন তাদের গাঁ ড়ে মিসাইল দাগা হচ্ছে- কোথায় আমেরিকা? পালিয়ে ভারত উপকুলে এসে প্রাণ বাঁচাচ্ছে। যে কাঠ খেয়েছে সে ফার্নিচার হাগুক, আমরা কেন ভিসকাপের নিচে শোবো? আমেরিকার নৌবাহিনীর জাহাজ আক্রমণ করতে গিয়ে চারটে মিসাইল যদি মুন্দ্রা, কান্ডলা, মুম্বাই, JNPT, মার্মাগাঁও, নিউ ম্যাঙ্গালোর বা কোচিন বন্দরে পরে, সেগুলোকে সওয়ার মুরোদ বা শক্তি আছে তো আমাদের? যেখানে আমেরিকা নিজের থুতু চেটে খেয়ে প্যান্টে হাগছে সেখানে আমাদের প্রতিরোধ শক্তি মার্কিনীদের চেয়েও বেশি? মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানের তাড়া খেয়ে ঘেয়ো খেঁকি কুত্তার মতো আমেরিকা যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। গ্রীস সহ অনেকেই জায়গা দেয়নি, যদিও স্পেনের একমাত্র প্রকাশ্য বিবৃতি রয়েছে যে, আমাদের মাটিতে যুদ্ধাপরাধী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোনো স্থান নেই। ন্যাটোকে একা রাশিয়াই নাশবন্দি ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিয়েছে, ন্যাটোর আর উঠে বসার ক্ষমতা নেই।

ইরান ইসরায়েলকেও জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলেছে। তেল আবিবে ফক্স নিউজের প্রতিবেদক বলছে- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এতটাই ভয়াবহ যে, ১ কোটি মানুষকে বাঁচার জন্য আড়াল খুঁজতে দৌড়াতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটা আর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুরো শহর জুড়ে প্রতিটা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি হচ্ছে - আরও বড়, আরও মারাত্মক, যেন সবকিছু গিলে খাচ্ছে। পুরনো বস্তাপচা স্ক্র‍্যাপ মিসাইল দিয়ে এপস্টিন বাহিনীর প্রতিরোধ সিস্টেমকে মেলার পাঁপড়ভাজা বানাবার পর, এখন ইরান চেপে ধরছে তার অস্ত্রাগার থেকে সেরা মালগুলোর সামান্য কয়েকটা বের করে। ইউক্রেন থেকে ইতিমধ্যেই যা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এনেছিল সে সব ফিনিস। এখন ইরান ফেলে ক্যালাচ্ছে যায়নবাদী দুই কশাইকে।

মাইনাবের ইস্কুলে অতর্কিত আক্রমণে ১৬৭ জন শিশু কন্যাকে খুন করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শুধু তাদেরই মারেনি, আজ গণকবরের দৃশ্যমানতার মাঝে সবচেয়ে বড় অদৃশ্য কবরটা আমেরিকারই ছিল। ইরানের বাঁচার সম্ভাবনা অতিক্ষীন হচ্ছে রোজ, কিন্তু সে নিজে মরতে মরতে আমেরিকা মিথ ও তাদের লুঠের সাম্রাজ্যকে হরমুজের জলে নিয়েই ডুবছে। তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খুন হতেই, ইরান ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড় হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো কূটনীতি নেই, কোনো পররাষ্ট্রনীতি নেই, বিশ্বের প্রতি মানবতা নেই, আইনকানুন কিচ্ছু নেই। কারণ বাকি দুনিয়া তার জন্য এগুলোর একটাও দেখয়নি, ফলত আজ সে নবারুণের ভাষায়- গাঁ ড় মারি তোর এথিক্সের। ইরানের একটাই নীতি- যে আমেরিকাকে সাপোর্ট দেবে তার গাঁড়ে মিসাইল গোঁজো, তাতে তার দেশে ১০ হাজার শহীদ হলে হোক। একটা নেতা মরতেই আরেক জন এসে হাজির শহীদ হতে, যিনি আরও বিক্রমে মিসাইল ফাটাচ্ছে। তাদের পরিষ্কার দর্শন- আমরা মরছিই, তবে বাকিদের মেরে মরব।

এমন ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড়ের সামনে আমেরিকা তার নেভাল বাহিনী মানে নৌবাহিনীকে আরবসাগর বরাবর আমাদের ভারতের নানান বন্দরে স্থান দিয়েছে এপস্টিন বাহিনীর ভারতীয় পার্ট- আমাদের চমন চোদনা বিশ্বগুরু। এই হাওয়া বেলুন মার্কিন বাহিনীকে 'আলফা মেল' ভেবে এদ্দিন হারেমখোর মোল্লারাজা গুলো পুষে এসেছে, আজ প্রতিটা আরব মোল্লা রাজার দেশে তান্ডব চালাচ্ছে ইরান নামের উন্মাদ, সে পণ করেছে আমেরিকা আর তার প্রতিটা সহযোগীকে এলাকা ছাড়া করবে। দিশাহীনভাবে অলআউট আক্রমণে যাওয়ার বাইরে একটাই পথ ছিল- আত্মসমর্পণ করা আমেরিকার পায়ে। কিন্তু সবাই তো নরেন্দ্র মোদী নয়, কেউ কেউ তো মানুষও হয় যার মেরুদন্ড আছে। ৪টে মিসাইল আর কিছু কামিকাজে ড্রোনের মার খেতেই যেভাবে আমেরিকা নামের বিশ্বপরাশক্তির মিথকে উলঙ্গ করে ভেতর থেকে খেঁকি কুত্তাটাকে বের করে দিয়েছে, এর পর আর পিছিয়ে আসার জায়গা নেই ইরানের। এক নারকীয় উল্লাসে ইরান বিনাশের খেলায় মেতে উঠেছে- যেটা এপস্টিন বাহিনী নিজেরা যেচে শুরু করেছিলো। এই আমেরিকাই মোদীকে নপুংসক বানিয়ে মাদারির বাঁদরের মতো নাচাচ্ছে।

RSS সমস্যা, তার চেয়েও আমাদের দেশের বড় সমস্যা 'গুজ্জু কার্টেল'। আদানি-আম্বানি-মোদী-শাহ ব্যাস, ভারত সম্পূর্ণ। এদের বিচি আর মগজ দুটোই এপস্টিন বাহিনীর হাতে বন্দি, তাই আমারা ১৪০ কোটি জনগণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছি। এদিকে ওপেন টিভি চ্যানেলে হিজরায়েলি রাজনীতিবিদ বলছে আমাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করতে ১৪০ কোটি ভারতীয় 'দাস' রয়েছে। আমাদের নপুংসক গুলোর একটারও প্রতিবাদ করার অউকাত টুকু নেই, কী করে করবে! আদানি তো ইজরায়েলের হয়ে লক্ষ্মৌ আর নাগপুর অস্ত্র কারখানাতে সত্যিই ইজরায়েলের অস্ত্র বানায়। এরা দেশকে ভালবাসে? এরা নাকি দেশপ্রেম দেখায়? ওয়াক থু তোদের মুখে। এরা মরে গেলেও এদের কঙ্কালের উপরে আগামীতে প্রতিটা ভারতীয়ের পেচ্ছাপ করা নৈতিক দায়িত্ব। সোস্যাল মিডিয়ার একাদধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ফাদারল্যান্ডের প্রভু নেতানুনু আমাদের দেশ সম্বন্ধে কেমন ধারণা পোষন করে। ইহুদিদের বাচ্চারা ভারতীদের সাথে কেমন আচরন করে, ভক্তের মূর্খ বাপ এদেরকে পিতাশ্রী বানিয়ে এসেছে। ওয়াক থুঃ

বেটিচো দ ট্রাম্পুর মাইটি আম্রিকা গাঁ ড়ে যা মিসাইল আর ড্রোন ভরেছে, তার বিচি সমেত সমস্ত যন্ত্র কিডনিতে উঠে গেছে। এখন আর প্যান্টেও মোতার মুরোদ নেই, নিজের পেটেই মুতছে। যত দিন যাবে নিজেরা হাগবে নিজেরাই সেটা খাবে। যেকোনো মূল্যে এখন সিজফায়ারের ঘোমটা চাইছে, যাতে পালিয়ে বেঁচে মুখরক্ষা হয়। সে তারা গাঁ ড় মারাক ঘটি হারাক, যুদ্ধ তারা শুরু করেছিল, তারা মূল্য গুনুক- আমরা কেন আমাদের সমুদ্র বন্দরে আমেরিকাকে সেল্টার দেব? দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানকে হারিয়েছি, এ অবধিও ঠিক আছে নাহয়; কিন্তু তাকে শত্রু বানানোর মধ্যে ভারতের কোন স্বার্থ সুরক্ষিত হবে? আর আমেরিকাকে সেল্টার দিয়েই বা আমদের কোন লাভটা হবে? কদম্বা কারওয়ার, মুম্বই, পোরবন্দর, কোচিন ভেন্ডুরুথে, গোয়া ও লাক্ষাদীপ- এই ভারতীয় নৌ সেনাঘাঁটির প্রতিটাতেই নাকি পলাতক কাপুরষ মার্কিন যুদ্ধবাজ নৌসেনাদল তাদের অবশিষ্ট বেঁচে থাকা জাহাজ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে- সোস্যালমিডিয়ায় বিভিন্ন এক্সপার্টের দাবী অনুযায়ী। শুধু উপস্থিতই হয়নি, গুজ্জু কার্টেল তাদের জামাই আদরে পুষছে খাদ্য, মদ, মেয়েছেলে- সবের যোগান দিয়ে। কত টাকায় দেশকে বিক্রি করেছে এই গুজ্জু কার্টেল?

কোথায় আমাদের দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো? কেন আমরা রাস্তায় নামছিনা RSS এর এই আত্মঘাতী বিদেশনীতির বিরুদ্ধে? RSS আগে ব্রিটিশের জুতো চাঁটতো, এখন আমেরিকার চাঁটছে। মালিক বদলেছে শুধু, এদের জিনে সাদা চামড়ার প্রতি অকৃত্রিম "I beg to remain, SIR, Your most obedient servant" পরিভাষার কিছুই বদলায়নি।

ঝাড়ের বাঁশ গাঁ ড়ে নেওয়ার মূল্য দিতে আমরা ভারতবাসীরা প্রস্তুত তো? 

তাহলে, বলো আম্রিগা মাই কি....... 


ইরান যুদ্ধঃ প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের এক অসম লড়াই

(১) হিন্দ রজবকে চেনেন আপনারা? সম্ভবত না। ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ নামের একটা সিনেমা আছে, দেখে নিতে পারেন। না চেনা অস্বাভাবিক নয়, হিন্দ রজবের...