মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি


পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে একটা পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কাঠামো কাজ করে, যা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলাফল নয়।

পেপার লিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে একটা বড় অংশ ইচ্ছাকৃত আঁধারে রেখে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো, যে বিষয়ে আলোকপাত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। গদি মিডিয়া এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না এটা স্বাভাবিক কিন্তু তথাকথিত নিরপেক্ষ youtube সাংবাদিক কুলও নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর কোনো ধরনের আলোকপাত করতে সক্ষম হয়নি। স্বভাবতই রাহুল গান্ধী থেকে দীপকে অব্দি কারও মুখে কোনো রা নেই।

বর্তমানে যে পেপার লিক বিষয়টা নিয়ে এত আন্দোলন, সেটার হুইসেল ব্লোয়ার হিসাবে রাজস্থানের সিকর জেলার রসায়নের শিক্ষক শশীকান্ত সুতার প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। সেখানেই প্রথম FIR হয়। তদন্তে দেখা যায় কয়েকজন বিহারের বাসিন্দা যারা দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে গোটা বিষয়টা অপারেট করত। প্রশ্নপত্র ছাপা হতো রাজস্থানের প্রেসে, সেখান থেকে দিল্লির বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে অবিশ্বাস্য মোটা দামে বিক্রি করা হতো। এই অব্দি দেখে মনে হবে- মোটামুটি সবকিছুই একটা দুষ্ট দুর্নীতি চক্র জড়িত - যেমনটা প্রতিটি দুর্নীতিতে হয়ে থাকে। 

কিন্তু এই প্রশ্ন ফাঁস করেছিল কারা? যারা করেছিল তারা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা, পেশায় অধ্যাপক। লাতুরের অধ্যাপক পি. ভি. কুলকার্নি ও প্রফেসর শিবরাজ রঘুনাথ মোটেগাঁওকর, পুনের মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে এবং মনীষা হাভালদার, মনীষা বাঘমারে, নাসিকের শুভম খায়রনার ও ধনঞ্জয় লোখান্ডে। এরা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের। এদের আরো বড় পরিচয় হচ্ছে এরা প্রত্যেকে হয়- অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM), কিম্বা ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (BSM) অথবা    বিদ্যা ভারতী (Vidya Bharati) সংগঠনের সাথে যুক্ত। এই তিনটে সংগঠনই নাগপুরের গোয়াল ঘরের নিজস্ব সংস্থা।

অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁস দুর্নীতিতে যুক্ত প্রত্যেকে আরএসএস এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  এমনকি রাজস্থানের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে যেসব ছাত্র এবং কাউন্সিলর নামের দালালেরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তারাও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এর সাথে সম্পৃক্ত। 

প্রতিটা সাংবিধানিক পদ সেটা বিচারব্যবস্থা হোক কিংবা নির্বাচন কমিশন, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য পদে সরাসরি RSS এর প্রচারকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  সুতরাং যারা প্রশ্নপত্র তৈরি দায়িত্বে ছিল, তারা সেই দায়িত্ব পেতই না- যদি না তারা সরাসরি নাগপুরের আস্থাভাজন হতো। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বলি দেওয়ার আড়ালে মহারাষ্ট্র সরকার আর আরএসএস নিজেদের লুকিয়ে ফেলতে চাইছে।

এই পেপার লিক থেকে প্রাপ্ত দুর্নীতির আর্থিক লাভের একটা বড় অংশ সরাসরি আরএসএস এর হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে যেত বা যায়। বরং বলা ভালো নাগপুর থেকে সরাসরি এই দুর্নীতিটাকে সঞ্চালন করা হতো। যে কারণে এই কেলেঙ্কারিতে ধরা খাওয়া প্রতিটা 'কিংপিন' মহারাষ্ট্রের। অথচ মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাড়নবীসের নাম একবারও শুনেছেন এ বিষয়ে? শোনেননি,  কারণ ব্যথা জায়গায় হাত পড়লেই সেই হাত সরাসরি নাগপুরের গোয়াল ঘরে পৌঁছে যাবে। এই কারণেই পেপার লিক হওয়ার পর দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে রাজস্থানে ডেকে পাঠিয়েছিল। তাকে ধমকাতে কিংবা তদন্তে সহযোগিতা করতে নয়, কেন ফাঁস হলো সম্ভবত এই বিষয়ে জানার জন্য। 

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলি গেছে, সেটা যাওয়ারই ছিল অপদার্থ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু মূল মাস্টারমাইন্ড মহারাষ্ট্র সরকার এবং আরএসএস সরাসরি এই দুর্নীতিতে জড়িত। নতুবা এটা কখনও সম্ভব হতো না। একটা ধর্মেন্দ্র গিয়ে আরেকটা নতুন চোর চলে আসবে,  কিন্তু নাগপুরের গোয়াল ঘরের যারা মাস্টারমাইন্ড তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যতক্ষণ না এদের কান ধরে আইনের সামনে দাঁড় করানো হবে ততদিন এরকম প্রশ্নপত্র ফাঁস চলতেই থাকবে। 

২০১৫ সালের 'ব্যাপম' কেলেঙ্কারিতে ৪০ জনের রহস্য মৃত্যু আমরা কেউ ভুলিনি, কে জানে এবারে কতজন সাক্ষী এবং অপরাধী রহস্য মৃত্যুর শিকার হয়। ব্যাপম কেলেঙ্কারির নায়ক  শিবরাজ সিং চৌহানের সাজা হওয়া তো দূরস্থান, ন্যূনতম তদন্ত টুকু হয়নি। মহারাষ্ট্র সরকার এবং সেই সরকারের মাথা এবং দেবেন্দ্র ফড়নবীশকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে মনে হয় না। যে সমস্ত কিংপিন ধরা পড়েছে, সেই অপরাধীরা যে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, সেই RSS এর শিক্ষক সংগঠনগুলোকে কেন তদন্তের আওতায় আনা হবে না? 

মোহন ভাগবত এমনি এমনি জেন-জি কে সার্টিফিকেট বিলি করতে বসে যায়নি কিংবা মাঝরাতে হ্যালো ফ্রেন্ডস বলে বিশ্বভাঁড় মিছিমিছি ভাঁড়ামি করতে আসেনি instagram এ, RSS কে আড়াল করতে যাবতীয় এইসব ফন্দিফিকির।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

হঠাৎ কেন বন্দেমাতরম?



যাদবপুর, এই বিষয়টা ১০ কোটি পশ্চিমবঙ্গবাসীর মধ্যে- ৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯০ হাজার জন ব্যাক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই 'নূন্যতম' জড়িত নয়।

বন্দেমাতরম, দেশের ১ জন জনগনের রুটি-রুজি জন্যও জরুরী কি? দেশের ইন্ট্রিগ্রিটি, বর্হিশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে জড়িত? এটা গাইলে কী দেশে মেধা, শিল্প, আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির বন্যা না হোক, চোরা স্রোতও কি বইবে? যদি সেটা না ই হয়, তাহলে এটাই কেন দেশের একমাত্র প্রাইম ঈশ্যু? দেশদ্রোহী চোর ধর্ষক বিজেপি/RSS এর জন্য এটা একান্ত জরুরী, কারন প্রতারিত 'হিন্দু' জনগনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্যান্টে হেগেমুতে ফেলছে তাই ধামাচাপা দিতে এটা তাদের জন্য জরুরী। যে হিন্দু জনগণ এদের পরিত্রাতা ভেবেছিল, আজ তারা দেখছে তাদের পরনের কাপড় টুকুও নেই- বিজেপি বেচে দিয়েছে।

আম নাহয় কাটার বাচ্চা, যেকোনো সময় কোনো দেশপ্রেমিক বাঁদর বা বলদের বাচ্চা আমাকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবে- কিন্তু রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে অষ্টপ্রহর অবিচ্ছিন্ন বন্দেমাতরম গাইলে কী "হিন্দু অস্মিতার" নিশান রামমন্দির বা বৈষ্ণদেবী মন্দিরের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরৎ আসবে? বাকি কোনো সামাজিক জলন্ত ঈশ্যুকে নাহয় সামনে আনলামই না।

আমাকে বলুক আমার ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির জন্য আমাকে সরকারী তহবিল থেকে অতি সামান্য আর্থিক সুবিধা দেবে- যেমনটা আম্বানি আদানি পেয়েছে, তার ভগ্নাংশের ভগ্নাংশ মাত্র; আমি রাস্তার মোড়ে চেঁচিয়ে রোজ ৩ বেলা বন্দেমাতরম গাইবো। 

ভাত দেওয়ার ভাতার নয়, তুমি মরালিটি চোদাবার গোঁসাই। 

শমীক ভট্টাচার্য খুব সচেতন ভাবেই নিজেকে 'কমিক' ভট্টাচার্যে ট্রান্সফর্ম করে- যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে শান্তিগোপাল হয়ে যায়- আপনাকে চুতিয়া বানাতে। RSS/BJP যখন সে ঈশ্যু গুলোকে মুখ্য বানায়, জানতে হবে তারা প্যান্টে হেগে বসে আছে- কিম্বা কোনো বড় চুরির ফাঁদ পেতেছে। তাই আলবাল ঈশ্যু তুলে আপনাকে মানে দেশের ৭০% হিন্দুকে মাতিয়ে রেখে, কিছু লুকাতে চাইছে। দেশ বেচে দিচ্ছে।

গ্যাস, চিনি, বাইকের জ্বালানি, সরসের তেল থেকে প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম রোজ বাড়ছে- বাড়েনি আপনার রোজগার। "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগান ওই "জয় শ্রী রাম" স্লোগানের মতই আগামীতে বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে চিহ্নিত হবে। কুলদীপ সেঙ্গার, প্রজ্জ্বল রোভান্না, ব্রিজ ভূষণ সিং, চিন্ময়ানন্দ, আশারাম বাপু বা বাবা রামরহিমও "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগানের আড়ালে ধর্ষন করেছে। রামমন্দিরের চাঁদা চোরটাও "জয় শ্রীরাম" বলেই বামাল নিয়ে পালিয়েছে নাগপুরে। এরা সকলে কি বন্দেমাতরম জানত? ধরে নিচ্ছি নিশ্চই জানতো, যেহেতু বিজেপি করতো। সুতরাং, বন্দেমাতরম বললে কোনো কিছুরই সমাধান হবেনা।

ভোটের আগে এই বেজন্মারাই রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা করে মুখ পোঁদ সকল ফুটো দিয়ে আওয়াজ বের করত, আজ সেই সব ফুটোতে- হয় বাপের ফাটা কন্ডোম কিম্বা মায়ের মাসিকের ন্যাকড়া গুঁজে রেখেছে। আর রোহিঙ্গা শব্দ কেউ শুনতে পান কেউ? এই শুয়োরের বাচ্চাদের কাজই হচ্ছে আম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপ্রাপ্তি থেকে আসা প্রশ্ন গুলো থেকে ক্ষোভকে অন্য পথে চালনা করতে এই সব আলবাল ঈশ্যুকে এমন ভাবে সামনে আনে, যেন এটা ছাড়া জীবন অচল। 

একই পথে কোরবানি বন্ধ করতে গিয়ে গোপালক সম্প্রদায়ের পেটে পা দিয়ে দিয়েছে। আজ রাস্তায় নামাজ বন্ধ, আজান বন্ধ, ঝটকা মাংস- এই সব করে একটা শতাংশ উন্মাদের মানসিক অর্গাজম হচ্ছে- তাতে পেট ভরছে কি? সেই তো মেয়ে বৌকে ন্যাংটা করে র‍্যান্ডি নাচ নাচিয়ে টাকা কামাতে হচ্ছে।

পাঁঠা চোদাগুলো বন্দেমাতরম নিয়ে গাঁড় পেঁয়াজির নতুন নক্সা এনেছে। বন্দেমাতরম অদৌ গাইবো কিম্বা কতটা গাইবো- সেটা তো যারা দেশ স্বাধীন করেছিলো তারাই ঠিক করেই দিয়ে গিয়েছে। আজ যখন সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো ড্রোন টেকনোলজি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে এগোচ্ছে চুতিয়ার বাচ্চারা বন্দেমাতরম নিয়ে হুপ হুপ শুরু করে দিয়েছে। IIT/IIM এ কখনও ক্যালা কাত্তিক মহারাজ তো কখনও শ্রীশ্রী রবিশঙ্করকে ডেকে এনে বক্তিতা দেওয়াচ্ছে- IT সেক্টারে আমাদের দেশের যে উৎকর্ষ ছিলো সেটারও মা-চুদে দেওয়ার পরিকল্পনা একদম খাপে খাপ। ওদিকে ট্রাম্প থেকে পুতিন, যে যখন পারছে বিশ্বগুরুর মায়ের ১০৮ করে দিচ্ছে। 

যেদিন RSS নিজেদের সরকারের খাতায় রেজিস্ট্রেশন করে তাদের সমস্ত সম্পদ ও অর্থের হিসাব দেবে, যেদিন RSS লিখিতভাবে ভারতীয় সংবিধানকে তাদের সংবিধান মানবে, যেদিন "নমস্তে সদা বৎসলে" এর পরিবর্তে সঙ্ঘে বন্দেমাতরম এর পূর্ণ গীত গাওয়া হবে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে- সেদিন তারা ১৫০ কোটি ভারতবাসীকে বাধ্য করুক।

আর তা না করলে, এদের কাঁচা খিস্তিখেউড় করাটা নাগরিক কর্তব্য। যে এদের খিস্তিখেউড় করবেনা, কিন্বা মনে করে এদের খিস্তি দেওয়াটা অন্যায়- তার বাপের DNA এর সাথে নিজের DNA চেক করা দরকার, কে জানে পাড়ার কাকুদের দল দুপুর ঠাকুরপোর ভূমিকাতে আপনার মাতৃদেবীর পোয়াতির কারন হয়েছিলেন কিনা- যেমন আদানি আম্বানি বাবা মিলে "বিজেপির ভারত মাতা"কে পোয়াতি করে দিয়েছে।

শালারা বন্দেমাতরম আর যাদবপুর চোদাচ্ছে।

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

কানাবাবার পাল্টি



পতঞ্জলি ফুডস লিমিটেড (Patanjali Foods Ltd)-এর শেয়ার দর গত ১ বছরে প্রায় ৪০.০৬% নিচে নেমে এসেছে।

এই বছরের ত্রৈরাশিকের রিপোর্ট বলছে পতঞ্জলির শেয়ার ১০০ টাকারও নিচে চলে যাবে আগামী কয়েকটা কোয়ার্টারে, মানে ৯০% এরও বেশী মার্কেট ভ্যালু ফল করবে। 

ফলত, এই ট্যাঁরাচোদ ভণ্ড বাবা নিজের ব্যবসার সাম্রাজ্য বাঁচাতে ড্রেনের ভাসমান গু'এর মত স্রোতের অনুকুলে ভেসে টিকে থাকার লড়াই করছে। বিগত বছরগুলোতে পতঞ্জলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন এবং আধুনিক চিকিৎসার (Allopathy) বিরুদ্ধে মন্তব্যের কারণে সুপ্রিম কোর্ট পতঞ্জলিকে তীব্র তিরস্কার এবং জরিমানা করে। এই সংকটের সময়ে বিজেপি সরকার বা আয়ুষ মন্ত্রক রামদেবকে সুবিধা দেয়নি ফার্মা লবির চাপে। এতে কানাবাবা ক্ষুব্ধ হয়েছে।   

বিজেপির অন্তর্জলী যাত্রা শুরু হয়েছে, আজ অমিত মালব্যের উইকেট গেছে, যে মালব্য গত ১ দশক অমিত ক্ষমতাধর ছিল বিজেপি ও সঙ্ঘের অন্দরে- মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা আর বিদ্বেষমূলক ন্যারেটিভ সেট করার গুণে। রামদেবও এই বিজেপিকে আনতে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ছিল, এই কানাবাবার এমন "দিমাগি নকশাল" হয়ে যাওয়াটা,বিজেপির পক্ষে অনেকটা আত্মলিঙ্গমভাবো হওয়ার মতই।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং সরকারি চাকরিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস (Paper Leak), ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০% থেকে ৯৯% দুর্নীতির যে গল্প নিয়ে মিডিয়াতে মসিহা সাজার চেষ্টা করছে, দ্রুত এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে ২০১১ সালের রামলীলা ময়দানের মতো আবারও বড় আন্দোলনে নামার ফাঁপা আওয়াজ তার চাড্ডির নিচে নামবেনা। এই কানাচোদা নিজেই ভুরি ভুরি দুর্নীতিতে সরাসরি যুক্ত, সাথে নেপালি স্যাঙাৎ টা।  

শ্রম আইন লঙ্ঘন ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন, জমি কেলেঙ্কারি, টেন্ডারে ঘাপলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ভুয়া লোগো ও সার্টিফিকেট ব্যবহার করে করোনিল এর প্রচার, অন্যের তৈরি পণ্য নিজের নামে চালানো, খাবারে ভেজাল ও পেস্টিসাইড, সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা, আয়ুর্বেদিক স্কুলের নামে জমি আত্মসাৎ, সরকারী কর্মীকে গুম খুন করে দেওয়া। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করতে পারার মিথ্যা দাবী করে কোটি কোটি টাকা লুঠ সহ পাপের শেষ নেই। রামদেব আর দূর্নীতি এখন সমার্থক। এখন এই পাপের ঘড়া সম্ভবত পূর্ণ হয়েছে। যার ফলাফল সরাসরি তার ব্যবসাতে পরেছে।

প্রথমত তার সাধু বেসে রাবনের যে ইমেজ তৈরি করেছে, সেটাকে নতুন ভাবে রং করার প্রচেষ্টা, দ্বিতীয়ত উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে নিজের দাম বাড়িয়ে নিতে চাইছে বিজেপির কাছে, এই কারনে খানিকটা ভৌ ভৌ করছে মিডিয়াতে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

নপুংসক মরদ


মাননীয় শুক্রবারী Suvendu Adhikari মহাশয়, বিষয় হলো- আপনার মস্তিষ্কপ্রসূত গরু আন্দোলন বাজারে খায়নি, সরকারি নোটিফিকেশন ছাড়াই আজান বন্ধের মুখেও থুতু দিয়ে দিয়েছে। এখন 'ল্যান্ড জিহাদের' প্রোজেক্ট এনেছেন। এরপর সিভিল কোড লাগু ব্লা ব্লা ব্লা..., মুসলমান টাইট দিলে কি হিন্দুর ঘরের গ্যাসের দাম কমবে? প্রসঙ্গত, আপনি তো আধাবেলার যোগী, আপনার পিতা মানে মোদী ও নাগপুর সম্মিলিত ভাবে মুসলমানের কিচ্ছুটি ছিঁড়তে পারেনি লিঞ্চিং ছাড়া, আপনার মুরোদ তো তার চেয়েও কম। আপনি বড়জোর একটা রাজনৈতিক ছাপড়ি মাত্র, যার অউকাত ওই হাত-পা ছোড়া অবধিই।

মমতার আমলে চুরিটা 'চুরি' হিসাবেই ছিলো। আপনার আমলে সবটাই ধর্মীয় মোড়কে, দেশপ্রেম, হিন্দুত্ব আর মুসলমানকে টাইট দিতে এই চুরি। নিচে জয়ন্তীর ভিডিওটা একটা অতিক্ষুদ্র উদাহরন মাত্র। ভাইপো বিদেশ যায় জেলের বদলে, কারন ভাইপোকে জেলে পাঠালে আপনি শুভেন্দু অধিকারী নিজেও জেলের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাবেন। ভাইপো কোনো নতুন কিছু করেনি যে পাপ আপনার ছিলোনা তোলমূলে থাকা অবধি। একই চোর কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ছিলেন ২০২০ অবধি। সুতরাং আপনার অউকাত নেই তোলামুলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার, তাই রোজ মুসলমান টাইট দেওয়ার গল্পে RSS এর উন্মাদ গুলোকে অর্গাজম দিতে হবেই আপনাকে। ওদিকে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ, জানিনা পোঁদ ওনার জন্য ওপেন কিনা।

আগে নীলসাদা তোলামূল ছিলো, এখন গেরুয়া তোলামূল। নবান্নে কয়েকপিস নমুনা ছাড়া নিচের তলায় কিচ্ছু পরিবর্তন হয়নি একপ্রকারে। সেই এক আমলাতন্ত্র আর একই চুরির ইনফ্রাস্ট্রাকচার। বস্তুত ২০১১ থেকে এই চুরির পাইপলাইন তো আপনারই বিছানো। তাই নাটক কম করো পিয়ো, 

আপনি গে, নপুংশক বা হিজরে যেটা খুশি হতেই পারেন, পুরুষ যে নন এটা ৩ মাসে প্রমান করেছেন, তবে স্বীকৃত চোর বটে। নারদায় প্রকাশ্য ভিডিও না থাকলেও সকলে এটা জানে। রাজ্যের চোরেরা নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে, আগে দিদির অধীনে চুরি করত, এখন দাদার অধীনে।  আগে অম্বা রম্বা হাম্বা শুনতো, এখন ভুলিনি ভুলিনি ভুলিনি শুনছে। ১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে হাম হাম গুড়ি গুড়ি নেত্ত্যও দেখবে। কারন একজন ব্যার্থ মানুষ(!) যার প্রতিটা প্রতিশ্রুতি ধাপ্পাবাজি, আর সেই ধাপ্পা থেকে বাঁচতে মুসলমান টাইটের হরেক ফিকির এনেও প্রতিবার নিজের থুতু চাঁটা বুঁকে হাঁটা কেউ- সার্কাসের ভাঁড়ের চেয়ে উন্নত কিছু হতে পারবেনা।

এগুলো লেখার জন্য এ্যারেস্ট করবেন? অবশ্য মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে জেলে ভরা তো আপনার স্পেশালিটি। ২০১১ থেকে পুলিশকে সাথে নিয়ে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ- সিপিএম আর কংগ্রেসকে পুলিশের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে যেকোনো মূল্যে রাজ্যকে বিরোধী শূন্য বানিয়েছিলেন। আজ গেরুয়া পরলেই সাধু হয়ে যাবেন! অবশ্য, এর বাইরে আপনার অউকাতই বা কি!

মজা কি জানেন, দিল্লিতে জোড়া পাঁঠা বলির প্রতিক্ষায়। দিল্লির ঘটি উল্টালে, পরবর্তী ১ ঘন্টায় রাস্তায় উলঙ্গ করে বাংলার মা-বোনেরা আপনাকে দৌড় করিয়ে ঝাঁটা দিয়ে ক্ষ্যাপা কুকুরকে যেমন পেটায়, আপনার অবস্থা তার চেয়েও অধম করে দেবে।

জয় শ্রী রাম।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের সর্বোচ্চ বিচার ব্যবস্থা ও RSS

 


গত ১২ বছর যাবৎ অমৃতকালের শাসন ব্যবস্থায় আমাদের সুপ্রিম কোর্ট নিজেই একটা সিলবন্ধ প্রহসনে পরিণত হয়েছে। শাসকের প্রতি আনুগত্যে গদগদ অধিকাংশ জোব্বাধারী ভাঁড়, যাদের কাজ শুধু সরকারকে পরিত্রাণ দেওয়া। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক RSS- শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে ভারত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিচারব্যবস্থাকে ব্যবস্থা নিজেদের অধীনস্ত দাসানুদাস ও পোষ্য পর্যায়ে টেনে নামিয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই যখন একমাত্র লক্ষ্য, যেখানে গণতন্ত্র বাঁচল কি মরলো তার কোনো দায় নেই।

সুস্থ গণতন্ত্রে বিচার ব্যবস্থাই গণতন্ত্রের মূল রক্ষাকবচ, যা রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাসক ও আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে, নাগরিকদের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা ও সংবিধানকে প্রতিষ্ঠা রাখাই বিচার ব্যবস্থার একমাত্র কাজ। ফ্যাসিস্ট শাসকরা সাধারণত নিজেদের ক্ষমতাকে কায়েমি করতে এবং সমস্ত বিরোধিতা দমন করতে শাসনকালের শুরুতেই আইন ব্যবস্থাকে দুর্বল করা শুরু করে। RSS ঠিক এটাই করেছে একদম গোড়াতে। অমিত শাহ তো এক কাঠি সরেস হিসাবেই নিজের সর্বভারতীয় কার্যকাল শুরু করেছিল, জাস্টিস লোয়াকে স্বহাঃ করে দিয়ে।

ফলত, নিম্ন মেধার বিচারক, দলদাস বিচারক, উগ্র মৌলবাদী ভাবধারার বিচারকের পাশাপাশি- বিচার ব্যবস্থার মধ্যে থাকা দুর্নীতিপরায়ণ এমন সমস্ত ব্যক্তিকে খুঁজে তাদের সিস্টেমের শীর্ষ পসে বসানো, যারা ইতিমধ্যেই নানান ধরণের আর্থিক বা নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে গলা অবধি ডুবে। ফলত, তাদের অণ্ডকোষ চিপে রেখে ইচ্ছামত ‘যা খুশি’ কাজ করিয়ে নেওয়া যায় এবং যাচ্ছে। RSS অত্যন্ত মোটা দাগে এটাই করে চলেছে সাফল্যের সাথে প্রকাশ্যে।

বিচারপতি দাত্তু অবধি RSS নামের ভাইরাস ততটা জেঁকে বসেনি বিচার ব্যবস্থাতে। এর পর টি.এস. ঠাকুর, রঞ্জন গগৈ, দীপক মিশ্র, চন্দ্রচূড় হয়ে আজকের মহামহিম সূর্যকান্ত। এনাদের আমলে বিচারের বাণী যেন গুপ্তাঙ্গের লোম, প্রকাশ্য আদালতে দেখানো যা অশোভনীয়। তাই সরকার ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া প্রতিটি স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত রিপোর্ট ‘সিলবন্ধ’ খাম নামের ‘খুড়োর কলে’ জমা পরে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এবং প্রতিটা মামলাতে অভিযুক্তরা বেকসুর ছাড়া পেয়ে গেছে, অভিযোগকারী সহ দেশের জনগণ  জানতেই পারেনি- তদন্তে ঠিক উঠে এসেছিল। সাধে কি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কাছ থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আগামীতে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাবেই।

গণতন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া এমন অনুগত পদলেহনকারী এই সকল দলদাস বিচারকদের নাম গোবরের জলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে লেখা থাকবে- সেটা বলাই বাহুল্য। কাল্পনিক শত্রুর ভয় দেখিয়ে দেশে দীর্ঘমেয়াদী জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে ২০১৪ থেকেই, ভোটের আগে দেশপ্রেমের সুড়সুড়ি দিতে পাকিস্তান আর জঙ্গিবাদ চলে আসে। এরপর মন্দির, মসজিদ, গরু শুয়োরের রাজনীতি। একটাই রাষ্ট্রীয় স্লোগান – হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়। পাকিস্তান, হিন্দু, মুসলমান, গরু- এই চারটে শব্দ বাদ দিলে RSS হাতে বক্তব্য দেওয়ার মতো ১০ মিনিটের কোনো সাবজেক্ট যেহেতু নেই, টেলিপ্রম্পটার লাগিয়েও; অতএব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৫০ কোটি জনসংখ্যার দেশে কায়েমি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে রঞ্জন গগৈদের মতো চোর শয়তানদের বিকল্প ছিল না নাগপুরের কাছে। এরাই Sealed Cover Jurisprudence এর ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করে- জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে প্রতিনিয়ত আপোষ করেছে নির্লজ্জভাবে, রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। 


২০১৪ সালে আইপিএল (IPL) স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে বিচারপতির মুকুল মুদগল কমিটি তাদের রিপোর্ট একটি সিলবন্ধ খামে আদালতে জমা দেওয়া থেকে যে পরম্পরা শুরু হয়েছিল, সংখ্যার বিচারেই সেই তালিকা শুধু সুপ্রীম কোর্টের স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিরিখে এমন ‘জাঙিয়ার আড়ালে রাখা যৌনাঙ্গ’ এর অনুরূপ সিলবন্ধ বিচার ব্যবস্থা- বেহায়াপনার সমস্ত সীমারেখা পার করে গেছে। একে একে রাফাল বিমানের দাম কেলেঙ্কারি, আসাম NRC আসাম মামলা, ভীমা কোরেগাঁও মামলা, CBI কর্তা অলোক ভার্মার ঘুষকান্ড, পি. চিদাম্বরম এর জামিন এর বিরোধিতা মামলা, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন কেলেঙ্কারি মামলা, শাহিনবাগ মামলা, কেরল-ভিত্তিক নিউজ চ্যানেল 'মিডিয়া ওয়ান'-এর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল মামলা, আদানি-হিন্ডেনবার্গ মামলা, ৩৭০ ধারা বিলোপ মামলা, দিল্লি বার কাউন্সিল নির্বাচন বিতর্ক মামলা, NEET পেপার লিক মামলা, আম্বানির নরহস্তির পেয়ারের ‘বনতারা মামলা’, মণিপুর জাতিগত সহিংসতা অডিও ক্লিপ মামলা, মানে এভাবে যদি তালিকা করা যায় সেটার সংখ্যা এতোদিনে ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। আজকে ভাইপোর বিদেশ যাত্রার অনুমতি, ঠিক কোন গ্রাউন্ডে মহামান্য বিচারপতিরা অনুমোদন দিয়েছেন, সেটা সিলবন্ধ খামেই হয়ত আঁটকা পরে গেছে। কোনো সন্দেহ নেই, RSS এর অনুমতিক্রমেই এই ‘ডিল’ সম্পন্ন হয়েছে। এর পরেও সুপ্রিম কোর্টের ধারাচূড়ো ধারী ‘খোজা’ বিচারপতিরা আর কিছু পারুক বা না পারুক, আমাকে এই লেখার জন্য বিনা বিচারে উমর খালিদ বানিয়ে দিতেই পারে। 

দুর্নীতিবাজ সরকার বা তার পেয়ারের ডাকাত শেঠেরা যখন জবাবদিহি করার মতো অবস্থায় থাকে না, কিম্বা যে জবাবদিহি পাব্লিক জানতে পারলে হেসেই খুন হবে এবং মূত্র বিসর্জন করে দেবে সিস্টেমের মুখমন্ডলে; সেই হেতু সিলবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেয়ে সুরক্ষিতভাবে ‘চুতিয়া’ বানিয়ে গোটা খেল খতম করে দাও। এটাই তো মাস্টারস্ট্রোক, না রইল বাঁশ না বাজবে বাঁশি। এটাই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কলঙ্কময় বাস্তবতা, আশ্চর্যজনকভাবে এতে এদের কারও নূন্যতম লাজলজ্জা নেই; কোনো এক দার্শনিক বলে গিয়েছিলেন- পতিতাপল্লীতে বসবাস করা বেশ্যাদের নিজেদের পরিবারের মাঝে লজ্জা পেতে নেই, পেলে রুজিরুটি চলবে না। এই লজ্জাহীনতার উপরে ভিত্তি করে দেওয়া বিচারের জন্য- পারম্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে, আইনের মা-বোনকে একসাথে বলাৎকার করে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি রামমন্দির কমিটি পেয়ে যায়। এখানে একমাত্র সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল ‘নাগপুরের’ প্রতি বিচারকের প্রশ্নহীন আস্থা। ফাঁপা বিশ্বগুরুর ছবিকে লটকে রাখতে মন্দির প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন করতেই হতো, অতএব সিলবন্ধ খামই একমাত্র হাতিয়ার। রিপোর্টে কি আছে যেহেতু কেউ জানতে পারলনা, তাই সেই গাঁজাখুরি রিপোর্ট বা নগ্ন সত্যকে সামনে রেখে নতুন করে প্রশ্ন উঠার বদলে, গোটাটাকেই ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হল। 

এভাবে প্রতিটা সিলবন্ধ মামলার ময়না তদন্ত করাই যায়, আশা রাখব পরবর্তী এ্যান্টি RSS সরকার যেদিনই ক্ষমতায় আসুক, তারা প্রকৃত বিচার করবে। জানি না, আমাদের গণতন্ত্রের কঙ্কালটা সেদিন ঠিক কোন লজঝড়ে অবস্থায় থাকবে যখন RSS কে রাজনৈতিক চিতায় বিজেপির সাথে সহমরণে পাঠানো হবে। এই লজঝড়ে অসার গণতন্ত্রের কঙ্কাল নিয়ে এই দেশ কতক্ষণ লড়াই করতে পারবে চিন, পাকিস্তানের মতো শত্রুদের বিপক্ষে?  

এদিকে বাংলাতে মেজোখোকা সরকার ৩ মাসেই চাড্ডিতে ভড়ভড়িয়ে হেগে ফেলেছে। যখন প্রতিটা প্রতিশ্রুতিতে ফেল মেরেছে, তখন মেজোখোকা তার মুখ্যমন্ত্রীত্বের বাসর সাজালেও, কেন্দ্রের ‘আচ্ছে দিন’ এর আরকের নেশা ছুটে গেছে ভক্তদেরও। তার উপরে টিভি মিডিয়া ও আঁটিসেল তুলসীতলায় অন্তিম শ্বাস নিচ্ছে। স্বভাবতই বাংলাতেও শুরুতে RSS এর এ্যাজেন্ডা মতো গরু কুরবানি ঠেকাতে গিয়ে- সেই গরুই বিজেপি ভোটব্যাঙ্কের পায়ুপথে ঢুকে পড়েছে। এরপর রাস্তায় নামাজ নিয়ে ক্যাঁচাল, আম মুসলমান কিচ্ছু প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এখন মসজিদে মাইকে আজান বন্ধ আর ঝটকা মাংসকে মূল ইস্যু বানাচ্ছে, চাড্ডির গুয়ের গন্ধ ঢাকতে। মাইকের সামনে এসে যাত্রাপালার বিবেকের মত ‘আমরা অভয়াকে ভুলিনি’ বলে গলার শিরা ফোলাতে হচ্ছে। সমীকবাবু কি ভালো তোলামুল খুজতেই অতিব্যস্ত!! নতুবা ওনাকে কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেনা কেন, যে- এই মুহুর্তে আপনিই পুলিশ মন্ত্রী, জনগণ যাত্রাপালার সংলাপ নয়, কাজ দেখতে চাইছে, অপরাধের বিচার চাইছে। 

যেকোনো মূল্যে আলোচনাকে গরু-শুয়োর, মন্দির-মসজিদের বৃত্তে আঁটকে রাখতেই হতো। এদিকে কেন্দ্রের ১২ বছর অমৃতকালে সার্ভাইভ করা মুসলমানও তো চালাক হয়েছে, তারা শিখে নিয়েছে- এদের দৌড় কদ্দুর। অতএব, বিভেদের রাজনীতিতে সেভাবে লাভ হচ্ছে না। আম মুসলমান সমাজ শুধু তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি দিয়েই মেজোখোকাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। ইস্যুর মা রোজ গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে জাস্ট ‘উপেক্ষার’ বীর্যে; ফলত ‘ভালো তোলামূল’ সরকারের হাতে হ্যাঁরিকেন, পেছনে বাঁশ। মেজোখোকাকেও আগামীতে সিলবন্ধ খামের প্রমাণিত সিস্টেমে ফিরে যেতে হবে, নতুবা বিজেপিকে ভোট দেওয়া তথাকথিত ‘কট্টর হিন্দুরাই রেডি রয়েছে থুতু, পচা ডিম, পচা আলু নিয়ে।

তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে, তোলামূলের বিসর্জনের পর তারা মারধোর আর ডিম থেরাপিতেই পার পেয়ে গেছে বৃহত্তর পরিসরে। RSS এর ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা হবে না, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যাওয়া মাত্র পরবর্তী ১ মাসে গোটা দেশ জুড়ে কয়েকলক্ষ RSS এর সন্ত্রাসী কারিয়াকর্তা, বিজেপির উগ্রপন্থী নেতামন্ত্রীরা গুম, খুনের শিকার হবে জনরোষের বলি হয়ে। হিন্দুত্বের গাঁজা খাওয়া হিন্দুদের ঘরের ছেলেরাই আজ বেকার, ওদিকে RSS বিজেপির সন্তানেরা বিদেশে বসবাস করে ও কোটি টাকার মালিক। কে জানে, RSS বিজেপির উপরে হওয়া আক্রমণের বিচারও সেদিন সিলবন্ধ খামের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে করা হবে কিনা, ঠিক আজকের মতো করে। 

বিজেপির শেষের শুরু হয়েছে, ব্রেণ ক্যান্সার- এটাই আশার কথা। বিশ্বগুরুর অন্তর্জলি যাত্রা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এরপর এই সমস্ত মামলা পুণরায় চালু হয়ে নতুন করে তদন্ত হবে, আর বলাই বাহুল্য- প্রতিটা ক্ষেত্রে ফলাফল কী হবে! ততদিন একটু ধৈর্য ধরুন, সুযোগ আসবে আইনিভাবে RSS কে সমূলে নির্মুল করার, বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত করে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার।

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

HPV Vaccination by WB Govt


কুখ্যাত মারন 'গার্ডাসিল কোয়াড্রিভ্যালেন্ট' এর মারন থাবা। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এই নিরবে মারন যজ্ঞ চালাচ্ছে, যেখানে কেউ প্রশ্ন করছে মানেই সে রাষ্ট্রদ্রোহী। এতোটা অসহায় জাতি ইতিহাসে কমই ছিলো, যারা নিজেরাও জানেনা তাদের মেয়েরা কেন এই ধ্বংসাত্মক পরীক্ষার শিকার।

আগামীর মায়েদের জন্য এ যে কতবড় অভিশাপ- এর জবাব আগামী দশক দেবে। অবশ্য ততদিন মোদী সরকার আর থাকবেনা। সুতরাং জবাবদিহির দায় নেই। অতএব, সব চাঙ্গা-সি।

২০০৯-২০১০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং গুজরাটে এই ভ্যাকসিনের একটি পাইলট বা ডেমোনস্ট্রেশন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক, ক্ষোভ এবং তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৯ সালে মার্কিন এনজিও 'PATH', 'ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ' (ICMR) এবং স্থানীয় রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে অন্ধ্রপ্রদেশের খাম্মাম জেলা এবং গুজরাটের ভদ্রোদয়ায় আদিবাসী মেয়েদের ওপর এই ভ্যাকসিনের একটি পর্যবেক্ষণমূলক কর্মসূচি চালানো হয়। 

এই ট্রায়াল চলাকালীন মোট ৭ জন কিশোরী (অন্ধ্রপ্রদেশে ৪ জন এবং গুজরাটে ৩ জন) মারা যায়। এর ফলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ২০১০ সালে ভারত সরকার এই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেয়।

২০১৩ সালের ভারতের একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির (Parliamentary Standing Committee) রিপোর্টে উঠে আসে যে, এই প্রজেক্টে গুরুতর প্রশাসনিক ও নৈতিক গাফিলতি (Ethical Violations) ছিল। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের নিরক্ষর অভিভাবকদের না জানিয়ে বা কেবল টিপসই নিয়ে ট্রায়াল চালানো হয়েছিল, এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের কোনো সঠিক ব্যবস্থা ছিল না।

২০১৪ এর পর মোদী ক্ষমতায় এলে, এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে উপরোক্ত মার্কিন সংস্থাকে ক্লিনচিট দিয়ে দেয়। এবং মৃত মেয়েগুলোকেই তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়। পরিষ্কার করে রিপোর্টে লেখা হয়- মৃত্যুগুলো ভ্যাকসিনের বিষক্রিয়া বা রিঅ্যাকশনের কারণে হয়নি। একজন কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছিল, একজন কুয়োয় ডুবে মারা যায়, একজন সাপের কামড়ে এবং বাকিরা ম্যালেরিয়া ও তীব্র ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। এবং এখানেই ধামাচাপা পরে যায় বিষয়টা।

করোনার ভ্যাক্সিন বিষয়টা আমরা জানি, অন্তত ২০টা লম্বা প্রবন্ধ রয়েছে আমার টাইমলাইনে। সেদিন যা যা অনুমান করতে পেরেছিলাম, আজ তা প্রতিটা সঠিক বলে প্রমানিত হয়েছে। সেবারেও ভ্যাক্সিন জনগণকে ফ্রিতে দিয়ে, সরকার আমাদের ট্যাক্সের টাকা থেকে ভ্যাক্সিন মাফিয়াদের পেমেন্ট করেছিলো। আপনি নিশ্চিত থাকুন, ২০০০ বছরের ভারতের ইতিহাসে, এমন মারন মহামারী কখনও আসেনি যা আগামী এক দশকে দেখবেন, সৌজন্যে মোদীজির ভ্যাক্সিন প্রীতি।

বর্তমান যে ভ্যাক্সিনটা দেওয়া হচ্ছে- এর রিপোর্ট কি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল? যাদের উপরে স্যাম্পল প্রয়োগ করা হয়েছিল, তারা কারা? কি তাদের পরিচয়? সেই স্যাম্পল পরীক্ষার রিপোর্ট কি ছিল? নাহ, এসব কিছুই করা হয়নি। কারন এই যে ফ্রি ভ্যাক্সিনেশন চলছে স্কুলের বাচ্চা মেয়েদের উপরে, এটাই তো আসল পরীক্ষা। দেশের সমস্ত সরকারী স্কুল গুলোই তো ল্যাব, এই বাচ্চারা তো গিনিপিগ। তৃতীয় বিশ্বের ২-১০ লাখ মা মারা গেলে কী যায় আসে! বন্ধ্যা হলেও বা কি! বিজেপি-RSS এর ঝুলি তো ভ্যাক্সিন বিক্রির দালালির টাকায় পুষ্ট হয়ে গেছে। অনেক বেশী বেশী তারা প্রচার করবে -হিন্দু খতরে মে হ্যায়।

আপনি ইন্টারনেট খুঁজে এদের বিরিদ্ধে কিছুই পাবেননা, এই ভ্যাক্সিন মাফিয়ারা যে পরিমান সম্পদশালী তথা শক্তিশালী, এদের বিরুদ্ধে টপ লেভেলের কোনো সমালোচক কিছু লিখলেই সেটাকে উড়িয়ে দেয়, প্রয়োজনে ব্যাক্তিও গায়েব হয়ে যায়। আর নিজেদের সপক্ষে এরা এতো বেশি বেশি কি-ওয়ার্ড দিয়ে হ্যাজ নামিয়ে রেখেছে যে- গোটাটাই ম্যানিপুলেট হয়ে রয়েছে। AI কে এরাই তো শিখিয়েছে, AI তো নিজে থেকে কিছু শেখেনা বা শিখতে পারেনা। ফলত, ইন্টারনেটে তেমন বিশেষ কিছু পাবেননা এদের সপক্ষে ছাড়া। আমাদের মত যারা বিন্দু, মানে কেউ নই, তাদের লেখাগুলোকে কন্সপিরেসি থিয়োরি বলে দাগিয়ে দেয়।

আমাদের দেশে ভ্যাক্সিন চক্রের গোটা চক্রটার সাথে শাসক বিজেপি/ আর.এস.এস ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত, এদের প্রতিটা টপ লেভেলের নেতা ও সরকারী উচ্চপদস্থ আমলা- এরা প্রত্যেকে ভাগা পায়, বাকিরা অর্ডার ফলো করে মাত্র। কারন খোলা বাজারে এই ভ্যাক্সিন কেউ কিনবেনা, অতএব সরকারকে দিয়ে বাধ্য করিয়ে কেনানো-

এটা আসলে কাদের সরকার? ভারতীয় জনগনের? নাকি ভ্যাক্সিন এর কারবারীদের? আসলে বিদেশী পুঁজিপতিদের দালাল গুলো রাষ্ট্রপ্রেমের গাঁজা খাইয়ে বিভোর করে রেখেছে।

আগামী ১০-১৫ বছরে এই ভ্যাক্সিনের ফলাফল সামনে আসবেই। সেদিন দোষী করার জন্য কাকে সামনে পাবেন? মসজিদের মাইক বন্ধ, ঝটকা মাংস আর ভালো তৃণমূল- এতেই রাজ্যের ৫০% মানুষের অর্গাজম হয়ে যাচ্ছে। ওদিকে আপনাদের নির্বংশ করার বীজ নিঃশব্দে বপন করা চলছে- ভগবান শ্রী মোদীজির কল্যাণে। আজ সত্যিই হিন্দু খতরে-মে। আগামীর মা এর ভবিষ্যৎ অন্ধকার, কেউ জানেনা কি হবে! হিন্দু জন্মাবে কার গর্ভে? জিজ্ঞাসা করবেননা- হিন্দুকে কে খতরে মে নিয়ে এলো?

মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রতিকুকুরের হিল্লে



প্রশ্ন এটা নয় যে - প্রতিকুকুর কোর্ট রুমে কি করছে, হাইকোর্ট চত্বরে ব্যাগ-ফাইল বয়ে আর্দালি বা দিনমজুরের কাজ করে দিতে পারলে অন্তত পেটটা চলে যাবে, সেখানে গায়ে কালো কোট- একে তাকে টুপি দিয়ে গাড়ির তেলের টাকা হয়ত বা তুলে নেবে। 

একটা ধান্দাবাজ নিকৃষ্ট বিশ্বাসঘাতক, যে চোরের স্যাঙাৎ, সুযোগের অভাবে চুরি করতে পারেনি, সে বেশ্যাপাড়ায় গিয়ে দালালের কাজ করবে, নাকি মদের দোকানে গ্লাস মাজবে,  কিম্বা জুয়ার ঠেকে বুক মেকার হবে, সেটা তার চয়েস। তোমার কি বিশ্বাসঘাতকতা করে- দীর্ঘদিন ধরে সেটা অন্তরে লালন করার পর তবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। প্রতিকুকুরেরা আগামীতে যা করবে, দুর্নীতির জন্যই করবে। তাই এর মত বাজারি মালেদের নিয়ে সময়ের বাজে খর্চা বাড়িয়ে লাভ নেই।

প্রশ্ন হচ্ছে সব্যসাচী বাবুর এতো উথলে পরা পিরিত বা দরদ কেন? চুলকানি ততক্ষণ ভালো যতক্ষণ না ঘা হয়ে যাচ্ছে। প্রতিকুকুর যদি সব্যসাচীর বিরোধী কলিগ হয় সেটা আলাদা কথা, কিন্তু যদি সাথী/সহকারী হয়, বুঝতে হবে পার্টির থেকে বন্ধু বড়- 

অতএব, আগামীতে কেন কেউ সব্যসাচী বাবুদের মত কমরেডদের ২ পয়সা দিয়ে ভরষা বা বিশ্বাস করবে, যারা প্রতিকুকুরের প্রতি এমন উদার ও গদগদ!!

প্রশ্নটা করে রাখলাম সব্যসাচী বাবু.....

জবাব আপনাকে সময় দিয়ে দেবে, উপযুক্ত ফি'জ সহ।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

সিউটা দ্বীপ ও অভিবাসন



প্রায় ২ হাজার মরোক্কান আফ্রিকান অভিবাসী স্পেনের 'সিউটা' নামক একটা দ্বীপে ঢুকে পরেছে। যে কাজটা চতুর্দশ শতাব্দী থেকে স্পেন করেছিলো গোটা বিশ্বজুড়ে- জবরদস্তি অন্যের দেশে ঢুকে পরে দখল করে সেখানে সম্পদ লুঠ করতো, আজ তারা Paid back in one's own coin ফ্রেজের মানেটা সামান্য লেভেলে অনুভব করতে পারছে। যদিও স্প্যানিশ সেনা কমপক্ষে ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে সরকারি তথ্য মতে। অসমর্থিত সুত্রে সংখ্যাটা ৭০ এর বেশী।

এগুলো সময়ের দাবী মেনে ঘটে যাচ্ছে, ঠিক ভুল যে যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করবে। কাঁটাতার গলে কীভাবে ঢোকে সেটার ডকুমেন্টারিও বটে এটা; যদিও যে সব পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ 'বাঙালরা'- আমাগো একখান দেশ আসিলো বলে ছেনালি করবে, তাদের মুখে একটা ন্যাংটা ইলন মাস্ক ছুড়ে মারলে তবে সেটা ঠিকঠাক হয়। সবাই এক দিকে, ইলন মাস্কের অন্তরের ঘেন্না পুঁজ অহমিকা দাম্ভিকতা- এটাও দেখার বিষয় আজকের এই ঘটনাকে ঘিরে।

আসলে এই সিউটা দ্বীপটা স্পেনের মূল অংশ নয়, মরোক্কোরই লাগোয়া অবস্থিত, স্পেন মূল ভূখন্ড অনেক অনেক দূর- মাঝে চওড়া জিব্রাল্টার। এটা স্পেনের জবরদখল করা একটা আফ্রিকান ভূখন্ড। গোটাটাই লৌড়েণ ভোজ্যোম টাইপের....

যেহেতু স্পেনে বামপন্থীদের একটা কোয়ালিশন সরকার চলছে যারা তীব্রভাবে ইজরায়েল ও মার্কিন বিরোধী- তাই এই গোটা বিষয়টা কোনো রাতারাতি কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটা একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রাথমিক পর্যায় না হওয়াই অস্বাভাবিক। স্পেনের অতীত যেমন ঘৃণ্য, তেমনই আজকের পৃথিবীর কশাই ইজরায়েল- ইরানের কম্বল ধোলাই খেয়ে অন্যত্র অশান্ত করবে, এটা আশ্চর্যের নয়।

ভুকা নাঙ্গা মানুষেরা তাদের অধিকার দখল করে নিক এভাবেই, আত্মাহুতি দিয়ে সাথীকে জিতিয়ে দিয়ে। যারা যুগে যুগে বঞ্চনার শিকার হয়েছে অস্ত্র আর অর্থের কাছে- তারা উদোম গায়ে পোশাক পরিহিত নেকড়েদের ছিঁড়ে খেয়ে নিক। বর্ডার ভেঙে লুঠ করে যাদের বৈভব বিত্ত- তাদের কেন বর্ডার সুরক্ষিত থাকবে?

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

পর্তুজিলঃ দুটো ফুটবল দল আর তাদের বদ্ধোন্মাদ ফ্যানেদের গল্প



একজন শিক্ষক তার শিক্ষকতার নজরে পৃথিবীকে দেখে ও বিচার করে। একজন শিশু তার শিশুসুলভ দৃষ্টিতে দুনিয়া দেখে। পুঁজিপতি তার মতো দেখে, শ্রমিক তার শ্রান্ত চোখে দেখে, মার্ক্স তার মতোন করে দেখেছিলো। ট্রাম্প তার মতো করে দেখে, ইরান তার মতো করে। বখাটে ছেলে তার উড়নচণ্ডী মনোভাব নিয়ে দেখে, বেশ্যা শরীর সাজিয়ে দেখে- পার্ভাট ব্যক্তি ৩ দফা মোটা পোশাকের মধ্যে দিয়েও শরীরের কোণা কোণা দেখে নেয়। 

দেখা আর দর্শন দুটো আলাদা বিষয়, চোখ থাকলে দেখা যায় কিন্তু দর্শন এর জন্য কে কোন পরিস্থিতিতে রয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুজিল সমর্থকদের লিবিডো বর্তমানে চরম পর্যায়ে এই বিশ্বকাপের বাজারে, কিন্তু শিরোচ্ছেদের মতো তাদের লিঙ্গচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে- মোতার ছিদ্রটুকু রেখে। এখন উত্তেজনা হলেও নিষ্ক্রমণের সুখানুভূতি নেই। স্বমেহনের জন্য ইন্দ্রিয়টুকুও জ্যান্ত নেই। অগত্যা আলফাল লিখে বা শেয়ার করে বিকৃত মানসিক তৃপ্তি পাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় একটা উপায় বলুন যেখানে এই প্রজাতির প্রাইমেটরা দু-দণ্ড শান্তি পাবে?

এদের মূল বৈশিষ্টই হলো অন্যের খুঁত ধরা, কে আইন মানছে না তা খুঁজে ফেরা। অথচ এরা নিজেরাই আইন মানে না। যুধিষ্ঠির সেজে ফিফার মুন্ডুপাত করে যাবে, কিন্তু তারা পর্তুজিলের কোনো দুর্নীতির কিছুতে কী নিদারুন উপেক্ষার ট্যাকেল দিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। এরা সেই মেসি নামের কুমিরের রচনা মুখস্ত করে রেখেছে। ধরুন তার বাপের অর্শ, বৌ এর সাদাস্রাব, ছেলে পায়ের ফাঁসে দাদের ঘা, মেয়ে পাড়ার লম্পটটার প্রেমিকা। বউ এদিকে আপার হ্যান্ড, শোয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তার উপরে সর্বক্ষণ গঞ্জনা। কাউকে কিছু বলার নেই, তীব্র ফ্রাস্ট্রেশন। কুমতির উপায়? সব ওই আর্জেন্টিনা নামের গঙ্গা বা নদীতে নিয়ে ফেলব, আর নদী মানেই কুমির। 

বাংলাদেশের ক্রিকেট বিজ্ঞানীরা, যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ডক্টরেট পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, সেই তাদের যুক্তি কি আমরা জানি না? ICC মানে- ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল তত্ত্ব, ICC চুর, আম্পায়ার চুর, রোহিত শর্মা চুর- সব তত্ত্ব এখন নিখাদ খোরাক, তাদের নিজেদের দেশেও। পর্তুজিলের দিশেহারারা সেই বাংলাদেশী প্রজাতির জিনতুতো ভাই। মেলালেন তিনি মেলালেন।

২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতে ব্রাজিল ও পর্তুগাল এর আলাদা আলাদা বেস ছিল, কেবল আর্জেন্টিনার খেলার দিনে তারা শর্তসাপেক্ষ বন্ধন করে 'পর্তুজিল' হচ্ছিল। মিশর ম্যাচের আগে দ্রুত ভৌত পরিবর্তন ঘটিয়ে তারা 'মির্তুজিল' হয়েছিলো। পরবর্তী ম্যাচ গুলোতে অক্টোপাস বা গিরগিটির মতো দ্রুত রঙ চেঞ্জ করে "ফ্রার্তুজিল, স্পের্তুজিল বা পর্তুজিল্যান্ড" হবেই হবে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এতো দ্রুত জেনেটিক মিউটেশন কোনো নিম্নবর্ণের জীবেও দেখা যায় না। সুতরাং বুঝে দেখুন, এই পর্তুজিল সমর্থকুল সম্পূর্ণ একটা নতুন ব্রিড- যারা কুত্তালিঙ্গম বন্ধনে একে অন্যের সাথে জননাঙ্গ পথে গিঁট বেঁধে বসে আছে।

আর্জেন্টিনা দেশটাই তো আমেরিকার পুতুল সরকার চালিত, আমাদের দেশের মতোই। বিশ্বগুরু যেমন ট্রাম্পের পাপেট- আর্জেন্টিনাও তাই, ইজরায়েলের দাস- যেমন আমাদের দেশ। এই আমেরিকা চালিত ইজরায়েলের দাস হওয়ার কারণে, আমরা নিজেদের দেশ ছেড়ে নেপাল ভুটান বাংলাদেশ চলে গেছি কি? নাকি ক্রিকেটের সময় আমরা ভানুয়াতু বা উগান্ডাকে সাপোর্ট করি? সুতরাং দুর্নীতিবাজ সরকারের দায়ে, কিম্বা দুর্নীতিবাজ ক্রীড়াবোর্ডের দায়ে মেসি বা আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে খিস্তিখেউড় করাটা যুক্তিযুক্ত?  তাহলে রোহিত শর্মা থেকে অভিষেক শর্মারা কেন খিস্তিখেউড় খায় না? তাহলে জয় শাহ এর জন্য ক্রিকেট দেখা বন্ধ করেননি কেন? 

অক্ষমের শিৎকার শুনতে কমবেশি সকলেরই ভালো লাগে হয়তো বা। আজকাল পানুর বাড়বান্তের জন্য, আওয়াজ শুনেও যে স্খলন হয়- সেই শিল্প মরে গেছে। আগেকার দিনে হারেমে খোজা রাখত রাজা বাদসারা, যারা শিৎকার আর মালিশ দিয়ে আনন্দ প্রদান করত।

পর্তুজিল সমর্থকেরা বর্তমানে খোজা। চোখে দেখছে, কানে শুনছে, কামনা বাসনা সবই জাগছে- শুধু নিজেদের যন্ত্র নেই। ফলত যাবতীয় ঘটনাক্রম বাস্তবের সাথে নয়, অন্ধ জিগাংসার সাথে সম্পৃক্ত। অক্ষমের হতাশার দীর্ঘশ্বাস নিম্নচাপের দমবন্ধ পরিস্থিতির চেয়েও মারাত্বক ও ধ্বংসাত্মক। পর্তুজিলেরা কী নিয়ে আলাপ আলোচনা করবে বলুন তো? কোন সাবজেক্ট পড়ে রয়েছে এই বিশ্বকাপে - আর্জেন্টিনা আর মেসিকে নিয়ে কিছু কুকথা খরচা করে সিজেনটা কাটিয়ে দেওয়া ছাড়া!!

বাকি যা কিছু মলমূত্র দেখছেন- সেগুলো ওই, রেতঃক্ষেপ করতে না পেরে হেগে-মুতেই অর্গাজম নেবার ব্যর্থ চেষ্টা করছে গোটা ফ্যাটারনিটি। আর এটা ফাইনাল অবধি চলবে, তাতে কাল আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডের সাথে হেরে গেলেও, এদের ছিদ্রান্বেশন থামবে না। তখন কমিটির টিমের সংজ্ঞা বদলে যাবে, ফ্রান্স মানে আফ্রিকা, বেলজিয়ামও তাই, ইংল্যান্ড বা স্পেন তো ফুটবল মাফিয়া তাদের প্রিমিয়াম লিগ বা লা-লিগা চালাতে হয় বলে, ইত্যাদি।

মোহাম্মদ সালাহ দুরন্ত খেলেছে, ক্লাসিক বল প্লেয়ার। আর্জেন্টিনা ম্যাচে তাদের বাতিল হওয়া ও পরবর্তীতে দ্বিতীয় গোলটা ছবির মতো সুন্দর। সুন্দরকে সুন্দর বলা যাবে না? তার জন্য আর্জেন্টিনা বা মেসি চোর হয়ে যাবে?

মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়িয়ে নেমে পড়লে যদি তাকে অন্ধ ভক্তি করতে হয়, তখনই তার গাঁড়ে ক্যাৎ করে একটা লাথি মেরে শুধাতে হয়- ইজিপ্টের বর্ডার কেন ফিলিস্তিনের জন্য বন্ধ? আপনি RSS এর সরকারের অধীনে থেকে বছর বছর বাচ্চা পয়দা তো দায়ে পড়ে পড়েন না, ফুর্তি মেরেই করেন। ইজরায়েলে লগ্নি করা আদানির 'ফর্চুন' কোম্পানির তেলে ভাজা চপে কামড় দিয়ে- ফিলিস্তিনের পক্ষে ন্যাকা কান্না কাঁদলে, আপনার বিচিতেও ক্যাৎ করে লাথিটা মারা উচিৎ- ঠিক যতটা জোরে আর্লিং হল্যান্ড শট নিয়েছিল ব্রাজিলের সাথে দ্বিতীয় গোলে।

ফিফা চুতিয়া ও চোর এতে সন্দেহ কীসের! তারাই তো ক্যাপিটালিজম এর মার্কেটে 'স্টার' তৈরি করে বেচে আমার আপনার মতো উপভোক্তার কাছে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। ফিফা তো চ্যারিটি নয়। মেসির চেয়ে রোনাল্ডোর ভক্ত সংখ্যা বেশি, তা তারা রোনাল্ডোকে কেন রেখে দিল না? জার্মানিকে কেন বিদায় নিতে হলো? বড় দল ও সাদা সুপ্রিমেসিকে ফিফা নির্লজ্জভাবে প্রোমোট করে যা তাদের দীর্ঘদিনের অঘোষিত নীতি। টাকা কামাতে হলে ফিফার নেইমার, এম্বাপে, হল্যান্ড, ইয়ামাল, মেসি বা রোনাল্ডোকে চাই ই চায়। যারা মারাতে পারছে তারা টিকে আছে, বাকিরা 'ইউরো' বিশ্বকাপের চেয়ে বড় ইত্যাদি বলে মুখ দিয়ে হাগছে।

ও হ্যাঁ, ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের সামনে পড়লে আর্জেন্টিনার কী হবে, সেই ভেবে ঘেমে ডিহাইড্রেশন হয়ে কষা হাগা বানিয়ে ফেলেছেন অনেকে। আপনারা একটু লবণ জল গুলে খান, ORS এর কাজ করবে। চোঁয়াচোঁয়া ঢেকুর, বদহজম, পেটফাঁপা, গন্ধবায়ুর প্রোকোপে অতিষ্ঠ হয়ে থাকলে- বিশুদ্ধ হোমিওপ্যাথি "কার্বোভেজ" ট্রায় করুন। সমস্ত ধরনের বুকজ্বালা থেকে রিলিফ পাবেন। তার চেয়ে বেশি হলে বি-টেক্স ট্রাই করুন।

এরা হয় উন্মাদ কিম্বা নির্বোধ। এদের প্রায় অধিকাংশই মরসুমি ফ্যান, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আবার চার বছর পর উদয় হবে যদি বেঁচে থাকে। সুতরাং এদের লম্ফঝম্প দেখে ঠিক সেভাবেই আমোদিত হন- যেভাবে বাঁদর নাচের বাঁদরামি দেখে মজা নিই। এর বেশি গুরুত্ব পাবার যোগ্য এরা নয়।

সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

রেলের বেডরোল চুরি



গত ২০ দিনে ১ ডজন চপ্পল জোড়া, টাওয়েল, হ্যান্ড টাওয়েল, বেডসিট, টিভির রিমোট, ইলেকট্রিক কেটলি, এ্যাসট্রে, রিসেপশনের ছাতা, রুম হিটার, গ্লাস, LED বাল্ব, এমনকি হ্যান্ডওয়াসের বোতল ওবধি গায়েব হয়েছে কয়েক ডজন সিকিম-দার্জিলিং এর সবকটা হোটেল মিলিয়ে। 

➤২ জনের বুকিং করে এসে ৫ জন হাজির। একটাই দাবী- আমরা ম্যানেজ করে নেব। কিডস বলে ২ জনের রুম বুক করে, উপস্থিত হয়ে দেখা যায়- একটা কিড ১৯ অন্যটা ১৭। নাও এবারে কোথায় কীভাবে থাকতে দেবে দাও।

➤করিডোরে চেঁচানো

➤খালি আদুর গায়ে গামছা পরিধান করে রিসেপসনে এসে খেজুরে আলাপ।

➤তারস্বরে মোবাইলে রিল দেখা বা ফোনে কথা বলা, পাশে কে আছে থোরাই কেয়ার।

➤ এক প্লেট খাবার নিয়ে ৩ জন বসে খাবার শুরু করে দেওয়া। সাথে সমানে তর্ক- আমরা তো ১ প্লেটে খাচ্ছি, ৩ জনের দাম কেন দেব!

➤বাচ্চার বয়স ২০ হলেও- ও তো কিছুই খায়না প্রায়। ১০ এর কম হলে, - আরে ও তো খেতেই শেখেনি।

➤দার্জিলিং এসেই গুচ্ছের জামাকাপড় ধুয়ে এসে জানতে চাওয়া- কোথায় শুকাতে দেব, যেন ঘুরতে নয়- জামাকাপড় ধুতেই এসেছেন ওনারা।

➤ ট্রেন থেকে ২টোর সময় নামা থেকে হোটেলে পৌঁছানো অবধি ১১৩ বার ফোন না করলে ভ্রমনের মজা কোথায়! ১৫ মিনিট অন্তর অন্তত- ওয়েদার কেমন? টয়লেটটা সাফ করে রাখবেন প্লিজ। 

➤ সকালে নাইটি আর লুঙ্গি পরে এলাকাতে রুট মার্চের পর, দুপুরে ছেলেরা মোটা জ্যাকেটে নিজেকে ঢেকে আর মহিলারা আধা ন্যাংটা হয়ে দার্জিলিং/গ্যাংটককে কে ধন্য করে।

➤ আমরা বাংলাতে কথা বলছি, কিন্তু সামনের জন হিন্দিতেই কথা বলবেন সেটা যতই হাস্যকর হোক না কেন!

➤কলের জল বন্ধ না করা। চেক আউটের সময় সাদা বেডকভার বা টাওয়েল দিয়ে জুতো পরিষ্কার।

➤ ইলেকট্রিক কেটেলে মদের চাটের মাংস কষা গরম করা, বাচ্চার ভাত বানানো।

➤জানালা দিয়ে বিস্কুট চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের টুকরো, থুতু, কুলকুচি করবেই- যতই বলা হোক, দাদা এটা পাহাড়, নিচে অন্য মানুষের বাড়ি; কে কার কথা শোনে!

➤লক্ষ বার মানা সত্বেও কমোডের ভিতরে বাচ্চার ব্যবহৃত ন্যাপি, পিরিয়ডের রক্তাক্ত ন্যাপকিন, কন্ডোম ফেলবেই। এবারে জ্যাম-

➤টয়লেটের সিস্টার্ণ, দরজার লক এমন ভাবে বন্ধ করবে যেন প্রতিশোধ নিচ্ছে।

কত বলব এমন!

ইন্টারেস্টিং তথ্য হচ্ছে গরিব মানুষ যারা বেড়াতে আসেন সাধারণত তারা এই ধরনের কাজ করেনা। এনারা ভয়ে ভয়ে থাকেন। আমরা যে ধরনের হোটেল চালাই তাতে শিল্পপতি বা সমাজের উচ্চবিত্তের মানুষও আসেনা। এই ধরনের ক্লিপ্টোম্যানিয়্যাক কাজ মূলত মধ্যবিত্ত সমাজ থেকে আসা লোকেরা করে; আরো নির্দিষ্ট ভাবে বললে চাকরিজীবী পরিবারগুলো সদস্যেরা। এনারা সব জানেন, ১০০০/১২০০ টাকার রুম বুক করে সিনক্লেয়ার্স/মেফেয়ার/রামাডার সার্ভিস চাইবেন। 

অত্যন্ত প্যাথেটিক ব্যাপার কিন্তু এটাই বাস্তব- এই সম্প্রদায়ের একটা অংশ নিতান্ত অসভ্য যারা সভ্য সমাজে অচল। কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট এর লুচি, ব্রেড, রুট, ডিম ৮০% লোক ব্যাগে ভরবেই ভরবে, সার্ভ করতে করতে গায়েব- যাচ্ছে কোথায়! ওমা কোলের ব্যাগের পলিব্যাগে চালান হয়ে যাচ্ছে। পেপার ন্যাপকিন আর তাতে মিস্টিমৌড়ি- অন্তত ৫০ গ্রাম নিয়ে যাবেই যাবে। এর পর আছে ১২ বছরের বাচ্চার কেন খাবারের দাম লাগবে- এই নিয়ে আডাই ঘন্টার বচসা। অথচ উনি ট্রেনে/বাসে/গাড়িতে বাচ্চার জন্য ফুল সিটের ভাড়া দিয়ে এসেছেন। এই হচ্ছে বাঙালি মধ্যবিত্ত টুরিষ্টের মোটামুটি চরিত্র।

এনারা সকলেই কিন্তু ভদ্রলোক সেজেই থাকেন- আর রাস্তাঘাটে সোস্যালমিডিয়াতে সবচেয়ে বেশী মরালিটির জ্ঞান কপচান।

বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

বালিশব্রতের দলচুরি



অনেকে ভাবছে একটা কবিতাই বোধহয় 'বাসি' বিষফুল উপড়ে নিল কালীঘাট থেকে। দুটো ফুলের একটা ফুল মুছে গেল। বিষয়টা আসলে এটা নয়, মমতার জামানাতে মুকুল রায়, সুমন কাঞ্জিলাল, কৃষ্ণ কল্যাণী, এরা বাইরে তৃণমূল কিন্তু বিধানসভার ভিতরে বিজেপি ছিল- ফলত পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান ছিল।

আজ যে গোমূত্রখোর তোলামূলের জন্ম হলো বালিশব্রতর নেতৃত্বে, সেটাও ঐ PAC পদটা যাতে মেজোখোকার নিজের পদানত থাকে তার জন্য, এই পলাশফুল 'মিথুন'কে দিয়ে সরোগেসি করানো। এর সাথে মমতার দলের বিনাশ করার একটা তৃপ্তিও- মেজোখোকা নেবে। চোরগুলো আপাতত একটা ছাদ পেল, আপদকালীন আশ্রয়ের। স্যান্ডো ববির জন্য খানিকটা দোওয়া করবেন আফনারা, আর কুণাল ঘোষ যে শকুনি 'টু' হয়ে প্রতিজ্ঞা রক্ষা করল- এটাও বিরলতম। শেষবেলাতেও মমতার সমস্ত প্রচারের আলো কেড়ে নিয়ে, উল্টে তাকে দিয়ে পাখার বাতাস করিয়ে নিল। এখানে ন্যাড়া বাগচি নিতান্তই লোমফোঁড়া। কুণাল সত্যিই তোলামূলকে নির্বংশ করে ছ্বড়ে দিলো। 

মোদী আদবানীকে মার্গদর্শক মন্ডলীতে পাঠিয়েছিল, ঋতব্রত মমতাকে একই দশা করল। ক্লাস এইট ফেল ভাইপোকে দিয়ে আর যাই হোক রাজনীতি হবে না। বছর খানেক পর বা কিছু আগে-পরে, মৈথুন ব্রত একটা লেনিন- মার্ক্স এর নাম সহ দল খুলবে, যাতে বাম্বাচ্চাদের ভোটও টানা যায়।

শত্রুর শেষ রাখতে নেই, অনিল বিশ্বাস মমতাকে ছাড় দিয়েছিল। শুভেন্দুকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছাড় দিয়েছিল। শুভেন্দুকে মমতাও ছাড় দিয়েছিল, শুভেন্দুও আগামীতে কাকে কাকে ছাড় দেবে জানিনা- ঋতব্রতকে দিয়ে সেই ছাড়ের যাত্রা শুরু হলো, এটা বলাই যায়। শুভেন্দুর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন কে হবে তা ভবিষ্যতের গর্ভে।

মুসলমানের চারটে বিয়ে হালাল, ঋত বামনার চারটে রাজনৈতিক বিবাহ কমপ্লিট। সিপিএম থেকে লাথ খাবার পর, মুকুল রায়ের পায়ের তলায় বিজেপি ঘুরে এসে তোলামূল হয়েছিল। আজ চটিচাঁটা তোলামূল থেকে বালিশচাঁটা গোমূত্রখোর মিথুনে রুপান্তরের মাধ্যমে- ঋতুচক্র কমপ্লিট হলো। এর পর শুধু অজিত পাওয়ার হওয়া বাকি রইল কামব্রতর। তবে, কে ভালো হেলিকপ্টার শট মারে, আগামী প্রজন্ম তার বিশ্লেষণ করবেই- ধোনী নাকি মোটাভাই!!

তবে, Pratikur Rahaman এর একটা হিল্লে হলো অবশেষে।  না সে চুরির ভাগ পেয়েছে, না ক্ষমতার সুখ। 'ভালো তোলামূল' হওয়ার কল্যাণে যদি এবারে ভাগ্য ফেরে। এত আল্লাকে ডেকেছে, লোকে ৫ বার নামাজ পড়ে, বাতাসে গুঞ্জন- সে নাকি ৬-৭ বার করে নামাজ পড়ছিল ইদানিং। নাস্তিক প্রতিকুর এতদিনে আল্লার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করল। স্রোতের গু হয়ে ভেসে যাবার আগে আবার একটা ঠেক পেয়ে গেল গোমূত্রখোর তোলামূলের ইজেরের তলে। নন্দীগ্রামে কি প্রতিকুর গোমূত্রখোর সনাতিনী তোলামূলের প্রার্থী হতে পারে?

যা হচ্ছে,  এটা রাজনৈতিক ব্যাপারের চেয়েও আগামীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নীল নক্সা আঁকা হলো আজ। তৃণমূল যে দুর্নীতির ধারা শুরু করেছিল, আজ সেই জুতোতে অফিশিয়ালি পা গলালো মেজোখোকার সরকার। মমতা ব্যানার্জী অপ্রাসঙ্গিক একটা জঞ্জালের নাম, ভাইপো জেলে গিয়ে বেঁচে থাকবে। মেরুদণ্ডহীন রাজ্য সরকারি কর্মীরা, বিশেষ করে 'নোবেল পোপেশনের বুদ্ধিজীবী' মাস্টারের দল DA নিয়ে চাঁদমারি হয়ে আত্মলিঙ্গম সমেহনে ছাল চামড়া উঠিয়ে নিজের জ্বালায় জেরবার। জয় শ্রীরাম বলে গলার শিরা ফোলানো সিপিএমের 'শ্রেণিবন্ধু', যারা 'আগে রাম পরে বাম তত্ত্ব' ঢকঢক করে দশরথের বড় ছেলেকে ঈষদুষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে- আয়েশ নিয়ে গিলেছিল, তারা আজ বুলডোজারের সাথে লড়ছে।

আর মুসলমানকে টাইট দিতে যাওয়া বিরাট হিন্দু নিম্নবিত্ত বাঙালি - আজ গ্যাস আর পেট্রোল কিনতে গিয়ে, এখনও বজরং দল বা গোরক্ষা সমিতি বানিয়েই উঠতে পারেনি। তেরোপাতারি অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রাপকেরাও কেউ দুর্গাবাহিনী বানাতে পারেনি। মাঝখান থেকে মুসলমান নিজেই গরুকে জাতীয় পশু বানাবার দাবী তুলে- নাগপুরকে পথে বসিয়ে দিয়েছে।

মেজোখোকার সরকারের হানিমুন পিরিয়ড আরও তিন মাস চলবে, নতুন বউ এর বগলে গন্ধ হয় না, দাঁত মাজতে দেখলেও একটা উর্বশী মেনকা ফিলিংস আসে। পুরাতন হোক একটু, অষ্টমঙ্গলার ঘোর কাটলে বোঝা যাবে- রকেট ক্যাপসুলের দৌড় কতটা।

আজ এটুকুই থাক। তবে গণতন্ত্রের পক্ষে মাত্র একমাত্র এক মাসে একটা দল সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন অবস্থা থেকে জাস্ট গায়েব হয়ে যাওয়া- মোটেও কোনো ভালো বিজ্ঞাপন নয়। এর মূল্য আগামীতে বিজেপিও চোকাবে, যেভাবে আজ তোলামূল তার কর্মফল মেটাচ্ছে। আগামীতে এ নিয়ে বড় লিখব।

মৃত্যুতে অশৌচ পালন করতে হয়, আজ মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক মৃত্যুর শ্রাদ্ধশান্তি পালিত হোক নিষ্ঠার সাথে। দেখবেন, যেন কোনো খামতি না হয়।

ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী



আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা নই, কারণ ক্ষমতায় থাকাকালীন আপনি সর্বনাশ ছাড়া আমাকে কিছু উপহার দেননি; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ভাবে আমাকে রিক্ত, নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত করে ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। ঘরদোর ছেড়ে আজ বিদেশ বিভূঁইতে আদাড়ে পাঁদাড়ে খুঁটে খাচ্ছি পেটের দায়ে। সবই তো আপনার প্রত্যক্ষ দয়াতে, ফলত আমি প্রকাশ্যে আপনাকে শালীনতার মধ্যে রোজ গালিগালাজ করেছি, যতটা আজকের ২০৭ জন বিজেপির বিধায়কেরাও করেনি। 

আপনার প্রতি ভালোবাসা কতটা থাকলে, আজকে যখন আপনি কিছুই নন - তখনও আপনাকে নিয়ে লিখছি। এখানে বাজারে বিকাশ-কান্ড আছে, লাখে লাখে আপনার চোর ভাইদের কেলানি খাওয়ার বিচিত্র মডেল ঘুরে বেড়াচ্ছে, গরু কোরবানি, রাস্তায় নামাজ, ডায়মন্ড মডেল, মেলোডি হানিমুন, এই সমস্ত ইস্যু রয়েছে- সব ছেড়ে আজও আপনাকে নিয়েই লিখছি। দিস ইজ কলড ট্রু লাভ।

সত্য বলতে, স্টকহোম সিনড্রোমের মতোই আমি আপনার মোহে আকৃষ্ট হয়ে গেছি। বিগত ১৫ বছর ধরে আমাদের অস্তিত্বের মাঝে আপনি বিলীন হয়ে গিয়েছেন, রন্ধ্রে রন্ধ্রে আপনি ছিলেন রক্তের অক্সিজেনের মতোই। অধিক উচ্চতায় গেলে যেমন শ্বাসকষ্ট হয়, মেজো খোকার ‘সেমি’ হিন্দুত্বের রাজত্বে আপনার অভাবে আমারও কেমন হেপো রোগীর দশা হয়ে গেছে। মাইরি বলছি, আপনার পোঁয়াপাকা ভাইপোর দিব্যি। ভাষণের নামে ধমকানো চমকানো, আমলাদের কুত্তা বানিয়ে রাখা, মঞ্চ জুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো, পিছনে এক মঞ্চ সুশীল ভাতাজীবী ধান্দাবাজদের জুলুজুলু চোখে তাকিয়ে থাকা, আমরা এটাতেই তো অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মেজোখোকার কোনো কিছুতেই কোনো এন্টারটেইনমেন্ট নেই, সব যেমন কেমন কাটখোট্টা, জোলো স্বাদের। 

গাইয়ে নাচিয়ে আর এক্টো করনেওয়ালা/ওয়ালিদের ভিড় আর তাদের সমঝদারবাবুদের দিয়ে, সংসদ ভবন থেকে রাজ্য বিধানসভা, গোটা সংসদীয় সিস্টেমকে যেভাবে বাইজিবাড়ি বানিয়ে রেখেছিলেন, সেই অভ্যাসে এভাবে ছেদ পড়তে- ভীষণ হতাশাতে ডুবে গেছি। যেখানেই বাইজি বাড়ি সেখানেই মাতাল, লম্পট, দুশ্চরিত্র, ধর্ষক, খুনি, চোর ডাকাতদের ভিড় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আপনি তাদেরকেও নিরাশ করেননি, কিছু উচ্চস্তরীয় ওই জাতের দুষ্কৃতীকে সাংসদ বিধায়ক বানালেও- বাকি প্রায় সকলকে পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিটা রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক পদে বসিয়ে, একটা নিবিড় কর্মসংস্থান গড়ে দিয়েছিলেন। রাজ্যের ৮৮ হাজার বুথে অন্তত ৪ লক্ষ নানান মাপের শিল্পী ‘চোর ডাকাত'দের সম্মানের সাথে চৌর্যবৃত্তির দোকান খুলে দিয়েছিলেন, আজ এরা প্রত্যেকে মাতৃহীনা হয়েছে আপনার চেয়ার গেছে বলে। যদিও চেয়ার আপনি ছাড়েননি, ‘ওরা’ আপনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। 

দুনিয়ার সমস্ত ওঁচা মালগুলোকে এভাবে সংগঠিত কেউ করতে পেরেছিল আপনার আগে? আজ শুধুমাত্র আপনার অভাবে এই তাজা কর্মঠ অপকর্মাগুলো ঘরছাড়া, উন্নয়নের জোয়ারে এদেরকে আপনি ভাসিয়ে এনেছিলেন, গেরুয়া গ্রহণ লেগে ভাটির টান আসতেই স্রোতের ‘গু’ এর মতো এরা সকলে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আপনার শাসনামলে পকেটমারি, কেপমারি, ছিঁচকে চুরি, বাস ডাকাতি, ওয়াগন ব্রেকিং, ব্যাঙ্ক লুঠ, ছিনতাই জাতীয় সমস্ত কুটির শিল্পগুলো লুপ্তপ্রায় করে দিয়েছিলেন। এই শিল্পীদের প্রত্যেককে ভবনে বসিয়ে মা-মাটি-মানুষ এর সরকার বানিয়ে ছিলেন। আজ কীভাবে আমরা চোর নয় (আপাত) কাউকে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে সহ্য করতে পারব! সিভিক পুলিশের কথা সকলে জানে, কিন্তু সিভিক শিক্ষক, সিভিক প্রশাসক, সিভিক মন্ত্রী- আজ সকলেই জারজ সন্তানের মতো বেদনা বিধুর। অথচ, আপনি যদি আইন করে সিভিক মুখ্যমন্ত্রীর পদ বানিয়ে রাখতেন, সেই আইনের বলেই আপনি আজ অল্প হলেও তো ক্ষমতাধর থাকতেন, আজ আমাদের এভাবে কষ্ট পেতে হতো না।

আপনি শুধু শিল্পের সংজ্ঞাই বদলে দেননি, আপনি শিক্ষা স্বাস্থ্য সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি সমস্ত কিছুর পরিভাষা বদলে দিয়েছিলেন। সন্তানকে ভাইপো হিসাবে প্রতিষ্ঠা কতজন করতে পেরেছে সভ্যতার ইতিহাসে? কাশের বালিশে শুইয়ে, সিঙ্গুরের সরষের তেল দিয়ে- নান্দনিক শিল্পের পায়ুমর্দনও যে নান্দনিক ভাবেই করা যায়, সেটাও তো আপনারই অতুল্য কীর্তি। বাঙালির দেশে বিহারি মেড়োদের প্রতিষ্ঠা করেছেন, অশিক্ষিত নেড়ে মোল্লাদের ভিক্ষা দিয়ে দুধেল গাই বানিয়ে ফেলা যায়, তা তো আপনার উদ্ভাবনী। ধর্ষিতা, মৃত লাশ হয়ে ইমাম মুয়াজ্জিন আলেম কিম্বা পুরোহিত, প্রত্যেকের যে রেট হয়- সেটাও তো আপনার দুরদর্শী আবিষ্কার। রাজ্য সরকারি কর্মীদের যে ঘেউ এর পর্যায়ে নামানো যায়, শিক্ষিত আঁতেল বুদ্ধিজীবী সমাজকে ভাতাজীবী বানিয়ে তাদের চাকরবাকরের পর্যায়ে এনে, উলঙ্গ করে ওদেরকে সমাজের সামনে ন্যাংটা করে তুলে ধরা- আপনি ছাড়া আর কেউ কি করেছে! আজ আপনাকে আমি মিস করব না? সংখ্যালঘু তোষণের প্রচারের আড়ালে RSS এর এমন বিস্তার স্বাধীনতার পর কেউ করতে পেরেছিল বাংলার জমিনে? অথচ আপনি যে চরম সাম্প্রদায়িক একজন নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী মহিলা, যার ক্ষমতার মানচিত্র কেবল দক্ষিণ কোলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ- সেটা নিয়ে কাউকে প্রতিবাদ করতে দিয়েছিলেন!

আজ প্রায় কুড়ি দিন হতে চলল, আপনার ওই শ্বাপদের মতো  পদচারনা করে বক্তব্য মঞ্চায়ন হতে না দেখে- জীবনটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। কী যেন নেই, কী যেন নেই সারাক্ষণ এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করছিল, আজ আবার বক্তব্যের নামে মুখ দিয়ে অশ্রাব্য নরগোবর গ্যাসের নিঃসরণ শুনে- আত্মায় একটা পাশবিক তৃপ্তি পেলাম। বড্ড মিস করছিলাম আপনাকে। আপনার দলের ব্লক প্রেসিডেন্ট এর দল, যারা আবার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে BDO পদও সামলাতো, আপনার দলের সেক্রেটারিরাও আজ পাল্টি মেরে দিয়েছে- যারা প্রতিটা থানার বড়বাবু সেজে বসে ছিলেন। সবাই ভাবছে আপনি কেন রাস্তায় নেই, আরে গর্ধব মাথামোটার দল- তোরা তো তবুও কাঁদছিস; ভেবে দেখেছিস কখনও- যার অনুপ্রেরণাতে তোরা এতদিন করে কম্মে খেয়েছিস, তিনি মানে আপনি তো পাথর হয়ে গেছেন। তোরা অল্প শোকে কাতর, আপনি অধিক শোকে পাথর। পাথর কখনও কাঁদে? পাথরের মূর্তি বানিয়ে তার পূজা করতে হয়। আসলে আপনি দেহত্যাগ করছেন না বলে পুজোটা শুরু হচ্ছে না, কবীর সুমোন্দা প্রস্তাবিত মন্দিরটাও তৈরি হচ্ছে না। 

সত্যি বলতে আপনি তো ৪ তারিখে রাজনৈতিকভাবে মারা গেছেন, বিষাক্ত সাপের খোলস দেখে যেমন পক্ষীকূল ভয় পায়, তেমনই কেউ কেউ ভয় পাচ্ছে হয়ত আজও আপনাকে দেখে। অনেকেই মিথ্যা ভ্রমে রয়েছে, আপনি আবার জ্বলে উঠবেন। নষ্টপল্লীর মহিলারা যৌবন হারালে প্রথমে সেই পাড়ারই মাসী হয়, এর পর কোনো বাবুর বাড়ির কাজের লোক, তারপর কোনো মন্দির চত্বরের ভিকিরি। আপনি রাজনৈতিক পতিতাপল্লীর মাসী থেকে আজ ভিকিরি, বাকি জীবনটা দয়া আর সহানুভূতি ভিক্ষা করেই কাটবে। যত দিন যাবে তত আপনি ফেকলু হয়ে যাবেন। সবাই অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে আপনার ঔদ্ধত্বের পতন দেখতে আগ্রহী। একটা করে দিন যাবে, আপনাকে শেয়াল কুকুরে লাথি ঝাঁটা মারবে। 

আপনি নোটার সাথে লড়তে লড়তে হাঁফিয়ে গিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে মড়াকান্না কাঁদবেন, দেওয়ালকে কবিতা শোনাবেন, শূন্যের ক্যানভাসে কোটি টাকার ছবি আঁকবেন, গলির নেড়িটার সাথে রেশ দিয়ে গান গাইবেন, কবিতার নামে শব্দ হাগবেন। ১৫ বছর ধরে উত্যক্ত করে, আমার মতো কত লাখ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে,  দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকে নাকালে জেরবার করা একজন অসভ্য, ইতর, চোর, মিথ্যাবাদী, নির্লজ্জ, বেহায়াকে এমন অসহায় দেখতে পাওয়ার চেয়ে সুখ- আর কিচ্ছুতে নেই, কিচ্ছুতে নেই। আপনি কাঁদতে থাকুন, প্রতিটা ফেসবুক লাইভ আমি দেখবোই দেখব, কথা দিলাম। আর প্রার্থনা করব, আমার মেয়ের নাতি যেন আপনাকে জীবিত দেখে যায়, যখন আপনি অন্ধ হয়ে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুকে কামনা করে তাকে খুঁজে ফিরবেন। এটুকু শুভনন্দন তো করতেই পারি, কী বলেন! 

জয় বাংলা
জয় তোলাবাজি
জয় কাটমানি

বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

ডেরাইভার কোন জন!



বগি কতগুলো আছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ- ইঞ্জিনের ডেরাইভার কোন জন, আর ইঞ্জিনের ইন্ধনের উৎস কী! তেল, কয়লা না বিদ্যুৎ। জীবনের প্রথম বিশ বছর যিনি গান্ধীবাদি ছিলেন, মাওবাদী থেকে খাওবাদী- অবাধ বিচরণ ছিল সর্বত্র। পরের ৯ বছর তিনিই আবার তোলামুল সরকারের হয়ে হেন কোনো পাপাচার দুর্নীতি করতে বাকি রাখেননি- যার দায়ে আজকের দিনে বহু তোলামুলের নেতা জেলে যাচ্ছে রোজ মিছিল করে।

রত্নাকর মানে সমুদ্র, বাল্মীকি মানে উই ঢিবি জাতীয় কিছু। বেশি কিছু লিখলে আবার 'রথ'প্রাপ্তী হবার পুরষ্কার জুটে যেতে পারে।  তবে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা দেখার সুখ এক তূড়ীয় কামনাতৃপ্তি বটে। তোলামুলের ধ্বংস জরুরী ছিল, কে করছে, কীভাবে করছে- সে সব অপ্রয়োজনীয় গৌণ বিষয়। যারা এখানে মানবিকতা আর গণতন্ত্র খুঁজছে- তারা সিপিএমের 'ভক্ত' সম্প্রদায়, যারা না মানুষ না মুনিষ। এরা যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন CPI(M) বেঁচে থাকবে ভুঁয়ে মুড়ে, সিপিএম বা সিপেম কিম্বা সিপিএন করি আমি বলার লোকগুলো ফিরবে না।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল থাকবে, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে, কিন্তু রাজ্যের মানুষ তৃণমূলকে কি দেখে ভোট দিয়েছিল ? বামফ্রন্ট আসার আগে জাতীয় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তার তো একটা নীতি-আদর্শ ছিল। এখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে- তাকে আপনি পছন্দ করুন বা অপছন্দ, তারও নীতি আদর্শ আছে, তৃণমূল কী তুলে ধরেছিল? কী দেখে ভোট দিয়েছিল? শুধু আজকের দিনটা দেখার জন্য? এই প্রজন্মের ভোটার যখন ফটো হয়ে দেওয়ালে ঝুলবে, তখন তার পরবর্তী প্রজন্ম ছবিতে থুতু দেবে- যে এরা তৃণমূলকে ভোট কেন দিয়েছিল। পাপ একা তোলামুল করেনি, বড় অংশের তোলামুল সমর্থক ও ভোটারের দল প্রত্যেকে এর পাপের ভাগিদার।

ভোটে হারতে অমুসলিম তোলামুলেরা না হয় বিজেপির দরজাতে ভোদাংশু হয়ে ঝনকাঠে শুয়ে আছে। কিন্তু সিদ্দিকুল্লাহর দল আবার জামা বদলে 'জমিয়ত-উলামা-ই-হিন্দ' এর মোড়কে নিজেদের লুকিয়ে ফেলেছে। জমিয়ত এতোদিন তোলামুলের সাথে একদেহে লীন হয়ে ছিল, আজকে নতুন করে আর একে আলাদা করা সম্ভব নয়। মুসলমান পাড়া থেকে তোলামুলকে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, পুরাতন জমিয়ত এর পূর্ণ কাঠামোটাকে কবরে পাঠাতে হবে। অন্য সংগঠন আসুক, কিম্বা যারা আছে তাদের প্রত্যেকটা মালকে তাড়িয়ে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক জমিয়তে। জমিয়তের পাড়ার নেতা থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্দিকুল্লাহ- প্রত্যেকে ন্যাংটা হয়ে তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে ভোটের রাজনীতি করেছে, প্রত্যেকে এতদিন চুরি, ডাকাতি, কাটমানি, তোলাবাজি করেছে বা সমর্থন করেছে, আজ এরা কেন রেয়াত পাবে ধর্মীয় বর্মের কারণে?

এদের ৯০% নেতৃত্বরা কেউ অ্যাকাডেমিকভাবে সেই অর্থে শিক্ষিত নয়, জমিয়ত মানেই যে তৃণমূল নয়, সেটা এদের আর বুঝিয়ে বোঝানো যাবে না। এদের স্থায়ী রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটে গেছে, এদের কোনো নেতা রাস্তায় নেই- তারপরেও পরে মুসলমান পাড়াগুলোয় আবার ভোট হলে আবার তৃণমূলই জিতবে- ফেয়ার ভোট হলে। এর কারণ এই জমিয়ত। ইমামভাতা বন্ধের পর প্রতিটা ইমাম ব্যক্তিগত লেভেলে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা তো মমতাকে আল্লাহর ফেরেস্তা বানিয়ে ফেলেছে, যিনি ওদের রুটিরুজি দিত। তারা পেটের দায়ে মরিয়া, সুতরাং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মমতা ব্যানার্জী যে আজ কেবল একটা লাশ, সেটা বিশ্বাস করাতে পারবেন না। এরা পীরের মাজারের মতো মমতার মাজার বানিয়ে নিলেও আশ্চর্য হবো না। তারা পুনরায় যেকোনো উপায়ে মমতাকে বাঁচাতে চাইবে।

এই সুযোগটাই সিদ্দিকুল্লাহ ও তার পেটোয়া বাহিনী নিয়ে নিজেদের বাঁচাতে চাইছে। এদের সকলের গিঁট সিদ্দিকুল্লাহতে এসে বেঁধেছে। মুসলমান সমাজের এই অংশে নৌসাদ, হুমায়ূন, সেলিম কোনোদিন পোঁছাতে পারবে না। আবার এদের অস্বীকার করার বিকল্পও নেই। অতএব, যেকোনো মূল্যে রাজ্য জমিয়তকে ভেঙে দিতেই হবে, নতুবা রাজ্যের মুসলমান সমাজের মুক্তি নেই। তেমনই তোলামুলকেও সমূলে উৎপাটিত করা যাবে না, জীবাণু রয়েই যাবে। 

আমার টাইমলাইন থেকে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে লেখা নেমেছিল গত ৩ বছর ধরে, তার এক শতাংশ আজকের বহু নির্বাচিত বিজেপি MLA নিজের বিধানসভা কেন্দ্র দূরের কথা, গোটা রাজ্যে কোথাও বক্তব্য পর্যন্ত দিয়ে দেখাতে পারেনি। আজকে যদি তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে আমার জেল অবধারিত ছিল, না হলে প্রকাশ্যে মার্ডার। এই ঋজু দত্ত, দীপক ব্যাপারি, কোহিনুর, কার্তিক এরা সবাই ফেসবুকে অন্তত ২০০ খানা প্রোফাইলকে টার্গেট করে রেখেছিল। তার পরেও ৩ গাড়ি বাঁশ নিয়ে যাচ্ছে দেখেও, কাউন্টিং হল অবধি স্বশরীরে তোলামুলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উপস্থিত থাকতে পারাটা আমার ঘনিষ্ঠ জনেদের উৎসাহ ও পাশে থাকার কৃতিত্ব। 

ইজরায়েলের জনগণ আর নেতাদের মধ্যে যেমন খুব একটা পার্থক্য নেই, যেমন তৃণমূলের সমর্থক তৃণমূলের ছোট নেতা মেজো নেতা বড় নেতা সবাই সমান। তৃণমূল সমর্থক থেকে নেতা প্রত্যেকে অপরাধী। তৃণমূলের ৮০ জন MLA এর মধ্যে মাত্র ৩৪ জন প্রথম দিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল। MP দের  হাল অত্যন্ত খারাপ। 

এদের বড় অংশ শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসে জয়েন করার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কে কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত বা কে আগামীকাল গ্রেপ্ততার হয়ে যেতে পারে, সেটা নিশ্চিত না হয়ে কংগ্রেস কাউকে নিতে চাইছে না। এদিকে বিজেপি নতুন নেতৃত্ব তুলতে চেয়ে, তোলামুলের দাগী মালেদের নিতে চাইছে না। ফলে এইরকম পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে অন্তত কয়েক লাখ লোকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। তবে এদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যে জেলে যেতে সক্ষম হয়েছে, তারা পুলিশকে টাকা দিয়ে জেলে গেছে- এটাও  প্রমাণিত হয়ে গেছে, পরে পরে খবর সামনে আসবে। এরা আপাতত ক্যালানি থেকে বাইরে আছে। বাইরে থাকলে যে ফাইন দিতে হতো তার কিছুটা অংশ পুলিশকে দিয়েছে অর্থাৎ এইটা আর একটা কেলেঙ্কারিও চলছে।

এদিকে গোয়ালঘরের গুঁতোগুঁতি, আজ অবধি জর্জ অরওয়েলের 'পশুখামার' গঠিত হলো না পূর্ণাঙ্গ রূপে। কোরবানি সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে হাতে রইল 'ফক্কা', প্রতিশ্রুতি মত কতটা পাওনা গণ্ডা পেলো, তার চেয়েও বড় ফোকাস আসবে- তোলামুল ক্যালাচ্ছি, এই রতিসুখ নিয়েই সোনাপোনা বাগিয়ে চাদর মুড়ি দাও। যারা নাচছে, নাচতে দিন। ওনারা বিনা মিউজিকে জেনারেটার এর শব্দেও নাচে, ক্লান্ত হলে নাচ নিজে থেকেই থেমে যাবে। তখন তারা পরনের ইজের খুঁজে ফিরুক নাহয়- আজ অবধি কোন রাজ্যে গোমাতার বলদ সন্তানেরা কার ভালো করেছে- নিজেদের ছাড়া?

প্রশ্নে বড় গাত্রদাহ হয়, মেজোখোঁকাও আগামীতে স্যারেন্ডার পিতার পথে চলা শুরু না করলেই আশ্চর্য হবো। সাংবাদিক নৈব নৈব চ। ইঞ্জিনের নিজস্ব ইন্ধনের সরবরাহ লাইনই যে মৃত এ রাজ্যে, অগত্যা-

পুনশ্চঃ- ইতিহাস বলছে, নরওয়ে ফেরৎ কেউ আর সুস্থ জীবনে ফেরৎ আসেনি, ফিল্মের মিসেস চ্যাটার্জি হোক কিম্বা বাস্তবের হিরো হুলিগান অনির্বাণ। মোদীজির সুস্থতা কামনা করি। 

সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

তোলামূলের রক্ষিতা



কুত্তাদের সামনে ভিক্ষার বাটি দিয়ে একশ্রেণির ধর্ম পেশাজীবিদের বাঁধা রক্ষিতা বানিয়ে রেখেছিল মান্নীয়া, ক্রমশ 'উম্মতে চটি' হয়ে ওঠা মুনাফেকদের আবার একবার উম্মতে মুহাম্মদী(সাঃ) হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে আজকের ঘোষণা। 

যারা মাত্র হাজার-দু'হাজারে বিকিয়ে গিয়েছিল গত ১৫ বছরে, তোলামুলের হয়ে 'দুধেল গাই' সেজে ভোটের রাজনীতিতে ন্যাংটা 'জিহাদ' করেছিল, আপাতত অতীতের সেই নির্লজ্জতা থেকে এই হারামখোর ইমান-মুয়াজ্জিন প্রজন্ম কি মানুষ হতে পারবে? লিবরেন্ডূ ঝান্ডুর দল যারা চোখে তোলামুলী সুরমা লাগিয়ে জ্ঞানের রজঃস্রাব ছেটাতে আসবেন- জানবেন, আপনার ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিয়েছে মান্নীয়ার ভায়ের দল। চেঁটে খাওয়ার স্বভাব বড় বদঅভ্যাস, খেটে খাওয়ার ইচ্ছা নষ্ট করে দেয়।

আগে এনারা মানুষ হোক, তারপর না হয় মুসলমান হবে। গরিলা, শিম্পাঞ্জি,  ওরাংওটাং কিম্বা কুত্তা শ্রেণির মনুষ্যেতরদের জন্য কোনো লোকাচার ধর্মের বিধান নেই কোনো সমাজে। ইসলামি শরিয়তে পাগল উন্মাদের জন্যও কোনো ধর্মীয় বিধান নেই।

সরকার বদলাতে শুধু যে তোলামুলী চোর-ডাকাতগুলো যে অনাথ হয়েছে তা তো নয়, ভাতাজীবি ভাতারির দল সমেত সমস্ত এঁটোকাঁটা কমিটি, প্রতিটি বুদ্ধিবীচির গায়ে ঘাম দিচ্ছে আবার খেটে খেতে হবে ভেবেই। সিপিএম কে খানিক গালি দিয়ে তাল বুঝে নিতে চাইছে। আবার কোন ইজের ধরে ঝুলে পড়া যায়! এরা কেউ বিজেপি কে কিছু বলছে না। কে জানে কাল আবার ওদের হয়ে গোবর খেয়ে জয়শ্রীরাম বলতে হবে কিনা!

২০১৮ তে ক্ষমতা দখলের আগে ত্রিপুরায় মোদীজি সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে বিজেপি ঢাকঢোল পিটিয়ে তা ঘোষণাও করে। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেছে- পূর্ণাঙ্গ বেতন আজও কমিশন গঠিত হয়নি। 

তৎকালীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেছিলেন, রাজ্যের আর্থিক হাল ভালো নয়, তাই কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ্যভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গে ত্রিপুরার পুনরাবৃত্তি হওয়াটাই নিয়তি সম্ভবত। আশঙ্কা বাড়িয়ে, মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর আজও কিছু ঘোষনা হয়নি, ফক্কা।

স্বীকৃত গরু-বাঁদরের দল সরকার এসেছে, তারা মানুষ নিয়ে খুব বেশি কথা বলবে সে আশা করি না, বললেই লোকে অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের কথা তুলবে। তাই এরা রাস্তায় নামাজ, কোরবানির গরু এসব নিয়েই থাকবে। আমাদের যারা খেটে খেতে হয়, তাদের কোনো ধরনের আশা না রাখাই ভালো।

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

কোরবানি ও শুভেন্দু সরকার

শুভেন্দু সরকারের কাছে আসন্ন কুরবানিটা পার করা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শ্যাম রাখি না কুল দশায় আঁটকে- গো হত্যার নির্দেশ দিলে ভক্তকুল ক্ষেপে যাবে, না দিলে মুসলমান পাড়ায় হওয়া অশান্তির চেয়েও, পশুপালন ইন্ড্রাস্ট্রির স্ট্রাকচারটা ভেঙে যাবে, যেটা সরকারের আমলারা জানে। শুভেন্দু সরকারের এই হাল আমাদের মতো অনেকের কাছে এক উপভোগ্য বিড়ম্বনা। 

গরু কি শুধু মুসলমান খায়? দেশের ২০ শতাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের মাঝে জৈন ছাড়া সকলেই গোমাংস খায়। ৯% আদিবাসীদের সকলে গরুও খায়, শুয়োরও খায়। দেশের ১৭% তফশিলি, যাদের মাঝে চামার দলিত শ্রেণির তারাও প্রায় সকলেই গোমাংস খায়, সস্তার প্রোটিনের উৎস হিসাবে। এছাড়া বহু উচ্চবর্ণের হিন্দুও কোনো না কোনো সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ‘তিন বাটি’ খেতে চলে যায়, প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণ যেখানে গরু/মহিষের মাংস খায়, সেখানে কীভাবে বিজেপি গোমাংস বন্ধ করতে পারবে? হ্যাঁ, যেটা সম্ভব সেটা হলো প্রকাশ্যে গোহত্যা বন্ধ, আর এটাকে সমর্থন করা উচিত। কোলকাতার বিফ হোটেলগুলোতে কি শুধু মুসলমানেরা খায়? একবার জরিপ করে দেখে নেবেন না হয়!

অনিয়ন্ত্রভাবে গরু/মহিষ জবাই কেন বিজেপি বন্ধ করতে চায়, সবার আগে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। বিজেপি কিন্তু কেরল, গোয়া, সিকিম বা উত্তরপূর্ব ভারতে গোহত্যা বিরোধী নয়, সেখানে প্রকাশ্যে সমর্থন না করলেও বিরোধিতা করে না। সেখানে আবার মিথুন তত্ত্ব বিরাজমান। বিশ্বে গোমাংস রপ্তানিতে ভারতের স্থান দ্বিতীয়, যার বাজার মূল্য ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মূল্যে ৩২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এই রপ্তানি কোম্পানিগুলোর মালিকদের অধিকাংশই জৈন, মারোয়াড়ি ও বর্ণ হিন্দু পরিবারের লোকজন, মুসলমানও তাদের মধ্যে রয়েছে আলানা ও লুলু গ্রুপের মতো। অতুল সাবরওয়াল, সুনীল কাপুর, অজয় সুদ, মদন এ্যবটেরা কোটি কোটি টাকা ইলেকশন বন্ডের মাধ্যমে চাঁদা দেয় বিজেপিকে। সুতরাং, এই চাঁদা ওয়ালাদের রিটার্ন গিফট তথা তাদের ব্যবসা সুরক্ষিত করার জন্য, সস্তায় গরু সাপ্লাই দেওয়াটা বিজেপি তথা RSS এর দায়িত্ব। এই কারণেই দেশের গোমাংস খোরদের ‘গোরক্ষা সমিতির’ মাধ্যমে গোহত্যা আঁটকে দিয়ে, সেই গরু যাতে বিজেপির কনফিডেন্সে থাকা গোমাংস রপ্তানি করা কোম্পানির কসাই খানায় পৌঁছে যায় এটাকে নিশ্চিত করে। এটাই মূল ও সহজ সত্য। 

বিজেপি সরকারে এলেই তারা গরু, শুয়োর, মন্দির মসজিদ ও পাকিস্তান নিয়ে আসে। পশ্চিমবঙ্গের সীমানাতে পাকিস্তান নেই, তাই পূর্ব পাকিস্তান আর অনুপ্রবেশ এনে ফেলেছে, যদিও সেই অনুপ্রবেশের ৯৯%ই অমুসলিম। তবে ২০১৬ নাগাদ গরু নিয়ে দেশ জুড়ে যে সেনসেশন ছিল, আজ তার ভগ্নাংশও নেই, তাই বাংলাতে গরু রাজনীতি লকলকে বেড়ে ওঠার আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। গরু জবাই নিয়ে তোলামুলের ৮০ পিস বিধায়ক এবং তাদের সিভিক আইনজীবী নেত্রীর কিছু বক্তব্য শোনা গেছে কি? আসলে বক্তব্য এলে এদের পিতা নাগপুর থেকেই কান মুলে দেবে। গোমাংস রপ্তানি কোম্পানির থেকে প্রাপ্ত আয় নাগপুরেরও অন্যতম বড় উৎস, রুটিরুজিতে কাউকে বরদাস্ত করবে না ওরা, তাই এরাও চুপ। 

গত কালকের সরকারি নোটিফিকেশন পড়ে যা বুঝলাম, এক কথায় গো-মাতা বৃদ্ধ ও অচল হলে জবাই করে খাওয়া যাবে। কোরবানি সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের ফরমানে নতুন কিছু নেই, যা ১৯৫০ সালের কংগ্রেস প্রণীত আইনে ছিল, আজও সেটাই আছে। সেই আইনের পাশাপাশি ০৫/০৭/২০২২ তারিখে জাস্টিস অরিজিৎ ব্যানার্জী ও জাস্টিস রাই চট্টোপাধ্যায়ের একটা ডাবল বেঞ্চের রায়, ১৭/০৭/২০২৩ তারিখে কোলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জাস্টিস শিভগনামনের একটা রায়ের কপি জুড়ে দিয়েছে ১৩/০৫/২০২৬ এর নবান্নের অধ্যাদেশের সাথে। যেটা অনুচ্চারিত সেটা হল, আমরা শুধু সংবিধান আর আদালতের অর্ডার ইমপ্লিমেন্ট করেছি মাত্র। তাই যারা গেল গেল রব তুলছে তারা আসলে ইচ্ছাকৃত তুলছে, যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুধেল গাই রাজনীতি জীবিত থাকে এবং RSS এর প্রচ্ছন্ন মদতে এগুলোকে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে যাতে অস্থিরতাটা বজায় থাকে।

☞ পাবলিক প্লেসে কোরবানি করা যাবে না।
☞ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও ভেটেরিনারি ডাক্তারের যৌথ সার্টিফিকেট লাগবে।
☞ লোকালে সার্টিফিকেট না পেলে রাজ্য সরকারের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।
☞ অমান্য করলে ৬ মাসের জেল কিম্বা ১০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে অথবা দুটোই হতে পারে।
☞ গরুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে, কাজের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য হতে হবে অথবা আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত হতে হবে, তবেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।

অসুস্থ গরু কখনোই কুরবানি হবে না, আর সুস্থ গরু কুরবানির বৈধ সার্টিফিকেট তুমি পাবে না, তাহলে? এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার না হয় সরকারি কর্মচারী, তাকে তো পাওয়া যাবে; কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির যিনি সভাপতি, তিনি তো তোলামুলের- তাকে কীভাবে পাওয়া যাবে! সে তো ধনেপ্রাণে বাঁচার তাগিদে এলাকা ছাড়া, তাহলে! কোন রকম অসুস্থ প্রাণি কুরবানির জন্য কতটা সঠিক সেটাও তো ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। সুতরাং, ব্যক্তিগত ভাবে আমি মন থেকে চাইছি এ বছর কুরবানি গরু বাদে অন্য কিছুতে হোক, উত্তরটা সময় দিয়ে দেবে। যদিও গরুর বয়স মাপের যে একক, সেটা বেশ জটিল; ফলত এই জানালা খোলা রেখে শুভেন্দু সরকার বিড়াল মারার বন্দোবস্ত করে রেখে দিল। 

টিভি চ্যানেলে আজকাল সবকিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর, সব কিছুই ব্রেকিং নিউজ। কিন্তু যতক্ষণে এ সব সংবাদ টিভিতে আসে, তার বহুক্ষণ আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে চলে আসে, তাহলে কেন কেউ টিভি চ্যানেল দেখবে! তাছাড়া ২৪ ঘন্টা ধরে চালাবার মতো খবর কই! অতএব, রাস্তায় ঈদের নামাজ আর কোরবানি উপলক্ষে ওই ২টো লাইনই সারাদিন ধরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। যে বা যারা এই চ্যানেল ভুল করে দেখে ফেলছে, ভাবছে- উফ, বিজেপি সরকার কী চাঁদমারিটাই না করে ফেলেছে হিন্দু হিতার্থে। মোদ্দাকথা, এমন কিছু দেখাও যেগুলো একটা শ্রেণির অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ ঘটবে, কেউ তুরীয় সুখে দেখবে, কেউ আতঙ্কে বারবার শিহরিত হতে চেয়ে দেখবে।

বিজেপির আঁটিসেল যতটা প্রোপ্যাগান্ডা চালাচ্ছে মসজিদ বা গরু নিয়ে, তার চেয়েও মমতার দুধেল গাইগুলো AI জেনারেটেড পোস্টার ভিডিও দিয়ে বেশি বেশি মিথ্যাচার ও আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। আজকে ১০ দিন হলো বিজেপি ক্ষমতায়, সেই অর্থে বড় কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর নেই, এটা তোলামুল ও তাদের কাঠমোল্লাগুলোর জন্য বুকে ব্যথার বড় কারণ। বিজেপি এই মুহূর্তে ক্ষমতায়, তাদের সেভাবে দাঙ্গার আর প্রয়োজন নেই অন্তত পঞ্চায়েত ভোটের আগে, কিন্তু দুধেল গাই সমাজে ‘বিজেপি জুজু’ জিইয়ে রাখতে গেলে কামব্যাক করতে চাওয়া তৃণমোল্লাদের জন্য দাঙ্গা একান্ত আবশ্যিক; সুতরাং প্রোপ্যাগান্ডায় কোনো মন্দা আসেনি বরং বেড়েছে। তোলামুল ক্যালানি খেলেই মুসলমান এর জামা পরে নিচ্ছে, যেটা পক্ষীদের গর্গ করতে পারেনি বলে অ্যারেস্ট হয়ে গেছে। আগের দিন সুজিত গেছে, আজ রথিনের পালা, মুসলমান সাজার উপায় নেই এদের।

গো-পালন মূলত আমাদের রাজ্যের সদগোপ সমাজ আর আদিবাসী সমাজ করে। ১০টা হেলে/বদল গরু বছরে বেচতে পারলে লাখ তিনেক টাকা আমদানি হয়ে যায়, যা দিয়ে একটা পরিবারের সারাবছর চলে যায়। আরেকটু বিশদে গিয়ে বলা যায়- ভূমিহীন কৃষক, তফসিলি জাতি, বেশিরভাগ কৃষিজীবী পরিবার দুধ ও গোবর জৈব সারের জন্য গরু পালন করে। রাজ্যের ৮০% গোপালন অমুসলিম সম্প্রদায় করে, কিন্তু গরু কেনাবেচা, পরিবহণ, চামড়া শিল্পের সাথে যুক্ত ৮০% এর বেশি মানুষ মুসলমান সম্প্রদায়ের। এখানেই হচ্ছে RSS মূল সুবিধা, যদিও সমাজের নিচুতলায় এই ইকোসিস্টেম শতকের পর শতক ধরে চলছে কোনো সমস্যা ছাড়াই। তাই গো-রক্ষা সমিতির নামে সনাতনী জঙ্গিগোষ্ঠী বানাতে হয়েছে রাজ্যে রাজ্যে। সেই সনাতনী গোরক্ষা সমিতির যে নেতা, তাকে বানানোই হয়েছে রোজ মগজধোলাই করে লুম্পেনগিরি করার জন্য, সে কেন আজ ইকোনোমিকস বুঝবে? অতএব শমীক যতই ক্যামেরার সামনে সাধু সন্তের মতো প্রবচন দিন, শুভেন্দুর সরকার যতই কৌশল অবলম্বন করুক কোরবানিটা উতরে দিতে, গোরক্ষা বাহিনীর দল তান্ডব করবেই কিছু পকেটে।

পশ্চিমবঙ্গে কুরবানির বাজার বিশাল অর্থনৈতিক মার্কেট। কমবেশি ৮ লাখের উপরে গরু জবাই হয় শুধুমাত্র ঐ ১ দিনে। একটা সুস্থ স্বাভাবিক প্রমাণ সাইজের গরুর দাম ২০-২৫ হাজারের মধ্যে হয়। কোরবানির বাজারে সেটাই নূন্যতম ৩৫-৪৫ হাজারে পৌঁছায়। দালাল, হাটমালিক সম্মিলিতভাবে এই অতিরিক্ত দামের থেকে ১০০০ টাকার বেশি ভাগা পায় না, অর্থাৎ সেটা যিনি গোপালক তিনিই পায়। এই ৮ লাখ গরু, তাকে কেন্দ্র করে কমবেশী ৫০০০ কোটির ব্যবসা, যার সাথে হাড়, চামড়ার ব্যবসা, মুচি, পরিবহন, সব মিলিয়ে বিপুল টাকার ব্যবসা। যে ৯টা জেলায় শাসক বিজেপি একচ্ছত্রভাবে জিতেছে, অরতিটা জেলায় পশুপালন বেশী, সমস্যার সুত্রপাতও এখান থেকেই হবে।

সুতরাং, গরু কাটা বন্ধ হলে মোটেও সেটা অনায়াস হবে না রাজ্যের পশুপালক সম্প্রদায়ের জন্য। কোরবানির টাকাটা না এলে দুধ/ঘি/পনির সমস্ত শিল্পে তার আঁচ পড়বে, ভয়াবহভাবেই পড়বে। উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দেখে খুশি হওয়া বীর সনাতনীরা যারা গানও বেঁধেছিল বুলডোজার আর যোগীকে নিয়ে, আজ চোখের জলে তারা মূল্য চোকাচ্ছে। বাঙালি ততটা শিক্ষা না নিলেও, উন্মত্ততার পাগলা ঘোড়ায় কিছুটা লাগাম যে পরবে বা পরেছে তাতে সন্দেহ নেই। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ততক্ষণ দেখতে ভালো, যতক্ষণ না সেটা নিজের ঘরের ভেতরে সেটা ঢুকে যাচ্ছে।

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

বামেদের 'শিক্ষিত' ভ্রান্তিবিলাস

যাক পেরেছেন, সেলিম সাহেব এ যাত্রায় পেরেছেন, 
যাক শুরুটা তো হলো, এটাই কি কম আশার কথা!

সিপিএমের কথা বলছিলাম, রাজ্য জুড়ে আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের লুঠেরা বাহিনী সন্দেহ নেই, কিন্তু কিছু কিছু পকেটে সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়ে চলেছে, মূলত মুসলমান সম্প্রদায় টার্গেট হলেও ওই দলে নিম্নবর্নের হিন্দু ও আদিবাসীও রয়েছে। ধনী শ্রেনীর কোনো তোলামুল বা সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে এই অপবাদ- আজ এই লেখার সময় অবধি নেই। ধনী মুসলমান অবধি আক্রান্ত হওয়ার খবর নেই। জনগণের তো আর রঙ হয় না, তারা ভোটার, আজ ফুলের তো কাল কাঁচির, এদের জন্যই তো এত সভা-সমিতি-বক্তৃতা-প্রকল্প-নীতি-আদর্শ। এই আক্রান্ত জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার দরকার ছিল সিপিএম দলের, একে তো এরা গরিব মানুষ, তথাপী এরাই তাত্ত্বিক বামপন্থার ‘শ্রেণিবন্ধু’। দেরি করে হলেও, এবারে সিপিএম জেলা অবধি যেতে সক্ষম হয়েছে। 

বামেদের মানে সিপিএমের সমস্যাটা কোথায়! লাল ফিতের ফাঁস হলো মূল সমস্যা। ধরুন, কারও বুকে ব্যাথা উঠেছে, কোন হাসপাতালে নিয়ে যাবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ হাসপাতালে নিয়ে যাবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন জেলা বা রাজ্য কমিটির থেকে অনুমতি নিতে হবে। ততক্ষণে রুগী পটল তুলেছে। হুগলির নেতা পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমানে বা হাওড়াতে যেতে পারবে না, অনুমতি প্রয়োজন। শৃঙ্খলার নামে এক বিকৃত নাগপাশে বন্দি করে ফেলেছে সাহসী উদ্যমী নেতাদের। সেলিম সাহেবের আজকে খেজুরি যাওয়া কিছুটা আশার আলো অবশ্যই, তবে উনি রাজ্য সম্পাদক, সুতরাং আরও অচলায়ন ভাঙতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের QRT এর মতো ৫টা প্রশাসনিক বিভাগে ৫টা টিম গঠন করা হোক নবীন প্রবীণ নেতাদের মিলিয়ে যারা দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবে। আগামীতে সমস্যা আর সমাধান নামে একটা প্রবন্ধ লিখব।

আলিমুদ্দিন, তাদের পক্ককেশ বর্ষীয়ান নেতা, উঠতি নেতা, যুব নেতা, ছাত্র নেতা, দিল্লী লবি, জেলার লবি, বিশেষ নেতার লবি, এরিয়া কমিটির লবি, শরিকের লবি- সর্বত্র যেটা সর্বজন স্বীকৃত, সেটা হচ্ছে বামেদের প্রার্থীরাই বিধানসভাতে যাওয়ার একমাত্র যোগ্য। কারণ তারা শিক্ষিত, যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও রুচিবান। একচক্ষু বিশিষ্ট হরিণ যতটা শঙ্কিত থাকে তার যে দিকের চোখটা নেই সেই দিক বিষয়ে, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে যে পানে চোখ রয়েছে সেই দিকে। দেখা যায়, অধিকাংশ শিকারির আক্রমণ ভালো চোখের দিক থেকেই হয়। সিপিএমেরও সেটাই হয়েছে- ফাঁপা আত্মবিশ্বাস। গণেশ যেমন মাতা পার্বতীর চতুর্দিকে পাক দিয়ে বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিলেন, বামেরা সেই নিজেদের সংক্ষিপ্ত ‘বিন্দু’ বৃত্ত পানে চেয়েই শিক্ষিত ও রুচিবানের ট্রেন্ড সেট করেছে। গণেশ নিজেই বিঘ্নহর্তা ও সিদ্ধিদাতা ছিলেন, সিপিএমের শিক্ষিতেরা হোলটাইমার- ফলত সিপিএমের একজন জনপ্রিয় মুখও ‘গণপতি’ হয়ে উঠতে পারেনি।

শুরুতেই একটা ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখি, যে লোকটা বিজেপি করে- তার মনের কোণে অনু পরিমাণ হলেও সাম্প্রদায়িকতা থাকবেই, মনুবাদ থাকবে, ব্রাহ্মণ্যবাদ থাকবে, মুসলমানদের প্রতি অকারণ তীব্র ঘৃণা থাকবে, সমাজের প্রতি ধর্ষকাম মানসিকতা থাকবে, পুঁজির প্রতি তীব্র মোহ থাকবে, ভণ্ডামি থাকবে, ভেক থাকবে, নিয়মিত মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হতে হবে। এগুলো একজন প্রাথমিক বিজেপি সমর্থক হওয়ার সহজাত বৈশিষ্ট্যসমূহ। যিনি বিজেপির প্রার্থী হন, সবার আগে উনি দলের সমর্থক। প্রার্থী হয়ে নেতা হওয়ার মাধ্যমে উনি ওই নিকৃষ্ট মানসিকতা যুক্ত মানুষগুলোকে একত্রিত করে, উপরে উল্লেখিত বৈশিষ্টগুলো গুণিতক হারে বাড়িয়ে অসভ্য চূড়ামণি রত্নে পরিণত হন। গু’য়ের ভালো ও মন্দ দিক হয় না, শুকনো বা কাঁচা হতে পারে, কিন্তু গু মানে গু ই। 

তোলামুল স্বীকৃত চোর, সেটা পাড়ার ভ্যানওয়ালা হলে সে ও চোর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে উচ্চস্তরের আমলা যে খুশি হোক- সে চোর চোর চোর। কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকার দিকে কখনও তাকিয়ে দেখেছেন? মেজো খোকার মত দু-এক জন ছাড়া যেহেতু কেউ কখনও প্রশাসনিক পদে গিয়ে শাসক হয়নি, তার চোর হওয়ার সুযোগও আসেনি, অর্থাৎ আজকের দিন অবধি বিজেপির ৯৯% বিধায়ক অর্থনৈতিক ভাবে ‘অপরীক্ষিত’ সৎ। দেখুন, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, মমতা ব্যানার্জী, বিনয় কোনার, বিমান বসু এনাদের মতো মানুষদের নেতৃত্ব গুণ দিয়ে মাপা হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেহাতই অপ্রাসঙ্গিক একটা বিষয় এনাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যোতা যখন প্রার্থীদের মাপকাঠি, বিজেপি সেখানে কোথায় দাঁড়িয়ে? তাদের ৫২ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ৯৬ জন গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল, ৩১ জন উচ্চমাধ্যমিক পাশ, ১৯ জন মাধ্যমিক পাশ। ৯ জন এ্যাকাডেমিক ভাবে স্বাক্ষর। ২০৭ জনের মধ্যে PhD / ডক্টরেট ডিগ্রিধারী, স্বনামধন্য বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট, ডাক্তার, আইনজীবীর সম্মিলিত সংখ্যা ৮৪ জন। এই বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ৭৬% জনের বয়স ৪২-৪৮ এর মধ্যে অর্থাৎ তরুণ। 

বিজেপির প্রার্থী তালিকা গবেষণা করে দেখা গেছে, সেখানে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। প্রথম ধাপে উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণি, দ্বিতীয় ধাপে বিপুল বিত্তবান মধ্য মেধার লোকজন, এনারা রীতিমতো পেশা উল্লেখ করে ITR ফাইলে দাখিল করা সম্পদ উল্লেখ করেছে হলফনামাতে। তৃতীয় শ্রেণিতে RSS লবি থেকে সরাসরি আসা লোকজন, যেখানে শিক্ষা-রুচি বিষয়টা অপ্রয়োজনীয়; চতুর্থত গুন্ডা মস্তান শ্রেণির যারা তোলামুলের লেঠেল বাহিনীর সাথে লড়াই করেছে মাঠে ময়দানে, সেটা তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। 

খরগ্রামের মিতালী মাল, চণ্ডীপুরের পীযুষ কান্তি দাস এরা দ্বিতীয় শ্রেণির- মূলত বিত্তবান। গোটা হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে দলে দলে RSS এর মুখেরা বিজেপির বিধায়ক হয়েছে, যারা তৃতীয় পর্যায়ে ছিল। কাটোয়ার কৃষ্ণ ঘোষ, পাঁশকুড়া পশ্চিমের সিন্টু সেনাপতি, আসানসোলের কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী এনারা চতুর্থ শ্রেণিতে, যারা গুন্ডা মস্তান। বিজেপির নেতারা একদিন সিপিএমের জনপ্রিয় মহিলা নেত্রীদের কাজের মাসীর সাথে তুলনা করে ছিল বলে সমাজমাধ্যমে ঢি-ঢি রব পরে গিয়েছিল, সেই বিজেপিই এবারে রেখা পাত্র, কলিতা মাঝি, মামনি বারুই, শুক্রা মুন্ডাদের বিধানসভাতে এনেছে, যাদের পেশা আক্ষরিক অর্থেই কাজের মাসি বা দিনমজুর; বাম মেনিফেস্টোর তত্ত্বগত হিসাবে এরাই ‘শ্রেণিবন্ধু’। 

প্রথম শ্রেণিতে তাহলে কারা আছে? জামুরিয়ার ডাঃ বিজন মুখার্জী, কাঁথির অরুপ কুমার দাস, কুলটির অজয় পোদ্দার, তমলুকের হরেকৃষ্ণ বেরা, রাম নগরের ডাঃ চন্দ্রশেখর মন্ডল, ভগনবানপুরের শান্তনু প্রামাণিক, পাঁশকুড়ার সুব্রত মাইতি, কেসিয়ারির ভদ্র হেমব্রম, মেদিনীপুর শহরের শঙ্কর গুছাইত, শিলিগুরির শঙ্কর ঘোষ, ডেবরার শুভাশীষ ওম, সিউরির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, মুর্শিদাবাদের গৌরি শঙ্কর ঘোষ, কালনার সিদ্ধার্থ মজুমদার, বর্ধমানের মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বারাবনির অরিজিৎ রায়, রানীগঞ্জের পার্থ ঘোষ, গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো, ঝাড়গ্রামের লক্ষীকান্ত, নয়াগ্রামের অমিয় কিস্কু, কাশিপুরের কমলাকান্ত হাঁসদা, বড়জোড়ার বিল্লেশ্বর সিনহা, দুবরাজপুরের অনুপ সাহা, সাঁইথিয়ার কৃষ্ণকান্ত সাহা, বহরমপুরের সুব্রত মৈত্র, কৃষ্ণনগরের তারকনাথ চ্যাটার্জি, এনারা প্রত্যেকে উচ্চশিক্ষিত এবং প্রায় সকলেই শিক্ষাগত যোগ্যোতা নূন্যতম মাস্টার্স, যার মধ্যে বিজ্ঞান ও আইন বিভাগই আধিক্য। এছাড়া বাকিরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও ইংরাজি সাহিত্যের মানুষও আছে। আরও ৮০-১০০ জনের নাম লেখাই যায়, তাতে অহেতুক তালিকা লম্বা করা ছাড়া কোনো লাভ নেই। 

সেখানে বামেদের তথাকথিত শিক্ষিত ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যোতা কি এদের চেয়ে বেশি? মিলিয়ে দেখেছি, কাঁধেকাঁধেও বলার উপায় নেই। সিপিএমে মূলত নিম্ন ও মধ্যমেধার হামবড়া সবজান্তা উন্নাসিক লোকজন। কেউ কেউ আবার উত্তরাধিকার সূত্রে বাম বা সিপিএম; কোন বাবা, দাদু, মেসো, ঠাকুমা কবে বাম নেতা ছিলেন সেই কারণে তার সিপিএম হওয়াটা অধিকার, যেন জিনে বাম আদর্শ জিনবাহিত একটা বিষয়। মানে আত্মজাহির পরায়ণতার পরাকাষ্ঠা। ব্রাহ্মন্যবাদীরা যেমন গোত্র খোঁজে জন্ম, মৃত্যু বা বিয়ের সময়, একইভাবে সিপিএম বৃত্তে পারিবারিক বাম ঐতিহ্যের গন্ধ বিচার করে একশ্রেণির পোঁয়াপাকা যন্তরের দল কুলীন সাজার মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে। বিজেপির প্রার্থীদের দেখুন তারা সকলে কমবেশি খেটে খায়, পেশা যা খুশি হোক। বামেদের ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের অধিকাংশের পেশা কী? পার্টির হোলটাইমার, যারা জীবনে কখন ২ পয়সা রোজগার করে দেখেনি, তারা নাকি রুজি রোজগারের আন্দোলন করছে! বিজেপির প্রার্থীদের আমরা চিনি না, কিন্তু প্রতিটা এলাকার মানুষ তো তার প্রার্থীকে চিনতো, বামেদের প্রচার ছিলো শিক্ষিত রুচিশীল যোগ্যকে বেছে নিন, তারা বেছে নিয়েছে। 

বামেদের তথাকথিত যোগ্য প্রার্থীদের প্রায় প্রত্যেকে পার্টির হোলটাইমার হিসাবে পাওয়া সামান্য টাকায় দিন গুজরান করে। কে কে কোন নিরাপদ স্থায়ী ব্যবসা/চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত রাজনীতিতে জনসেবা করতে এসেছে? কঠিন জীবন সংগ্রামের লড়াইতে কাল থেকে ছেড়ে দিলে, এদের একজনও সামান্য টোটো চালিয়ে, দুটো কোদাল কুপিয়ে, কাস্তে টেনে, হাতুড়ি পিটিয়ে, সামান্য মুদি দোকান, মিস্টির দোকানে, এমনকি শপিং মলের সেলস গার্ল/বয়ের কাজটুকুও করতে পারবে না, এমন অজ অকর্মার ঢেঁকি এগুলো। কেন এই মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত ধর্মের ষাঁড় গুলোকে মানুষ বেছে নেবে? তাহলে কি এরা বাতিলের দলে, মোটেও নয়, এদের শুধুমাত্র শিক্ষিত, একমাত্র যোগ্য, রুচিশীল এই সব প্যাকেজিং করে রাজনীতির বাজারে বিক্রি করা বন্ধ হোক। সাধারণ বাম আন্দোলনের সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে আসুক না ভোটের ময়দানে, কে মানা করেছে! 

পুঁথিগত শিক্ষাই কি শিক্ষার একমাত্র মাপদন্ড? যিনি নৌকার মাঝি, সে তার পেশায় অশিক্ষিত? যিনি নাপিত, যিনি দর্জি, যিনি জুতো সেলাই করে, মাঠে ধান রোয়ার কাজ করেন, যিনি লেদ মেসিনে কাজ করেন, যিনি রঙের মিস্ত্রি, যিনি মাঠে হাইটেনশন বিদ্যুৎ লাইনের তার লাগাচ্ছেন, এনারা কি অশিক্ষিত? আসলে তিনি তার বৃত্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষিত। ওই ফাঁপা একাডেমিক ডিগ্রীধারী ‘মেধাহীন’ শিক্ষিত সিপিএমের দল, যারা একবেলা নিজের পেটের ভাত নিজে যোগাড় করে খেতে সক্ষম নয়, তারা অন্যকে কাজের দাবীতে আন্দোলন বোঝাতে গেলে লোকে শুনবে কেন? সিপিএম সর্বক্ষণ একটা ইলিউশন বৃত্তের বাস করে, যেখানে আমরাই শ্রেষ্ঠ, আমরাই সৎ, আমরাই একমাত্র গরিবের বন্ধু, আমরা 'লড়াকু' যারা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেয়। আরে বাম পাঁঠার দল, সৎ আর শিক্ষিত হওয়াটা কোনো যোগ্যোতা নয়, মানুষের স্বাভাবিক গুণ এগুলো, আর বামপন্থী দল করতে গেলে এটা আবশ্যিক শর্ত। দুর্নীতিবাজ তোলামুলের কল্যাণে সততাকে আজকাল ডিগ্রী বলে মনে হয়।

একটা দলে তাত্ত্বিক নেতা অবশ্যই দরকার, সেটা ১০% বা বড়জোড় ২০%, আজকের সিপিএমে প্রায় সকলে তাত্ত্বিক নেতা, সকলে পার্টির লেভি বা চাঁদার রোজগারে পালিত। দল করাটাই যেহেতু এদের পেশা, তার কারণে এনারা সারাবছর রাস্তায় থাকেন। জ্যোতি বসুকে কখনও ব্যারিস্টার শিক্ষিত প্রমাণ করতে হয়েছিল? হরেকৃষ্ণ কোনার বা সুকুমার সেনগুপ্তেরা হোলটাইমারের টাকায় পেট চালাতেন? কেউ এনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কখনও জানতে চেয়েছিল? বিজেপি এই ২০২৬ ভোটে তাদের কোন প্রার্থীকে শুধুমাত্র ‘শিক্ষিত’ প্রোজেক্ট করে ভোট চেয়েছে? তাদের প্রতিটা ‘শিক্ষিত’র কেউ হোলটাইমার নয়, প্রত্যেকের নিজ নিজ পেশা আছে, এমনকি RSS এর রক্তবীজগুলোও কিছু না কিছু করে খায়। যদিও এরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই করবে আগামীতে, তার পরেও এদের মুখে কাজের দাবির কথা, রুটি রুজির কথা মানায়। সুতরাং, বামের ভোট শুধুমাত্র ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে রামে যায়নি। যারা নিজেরা কাঠ বেকার, কোনো কাজটি করে না- তাদের মুখে কাজের দাবীতে লড়াই এর কথা আর মমতার মুখে দুর্নীতি মুক্ত সততার কথা আসলে একই। এই কারণেই জনপ্রিয় কোনো সিপিএম ‘শিক্ষিত তরুণ’ নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়নি সমাজে।

শিক্ষিত নেতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু আসল দরকার শ্রমিকদের মধ্যে থেকে নেতা, কৃষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, শিক্ষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, আইনজীবীদের মধ্যে থেকে চাই, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা ছেলেপুলে চাই, গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ধুলোমাখা নেতা চাই। আলিমুদ্দিনে বসা নের্তৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির বদল সবার আগে দরকার। নির্দিষ্ট ছোট ছোট লক্ষ্য দরকার, যেগুলোকে পূর্ণ করার উপরে আগামী নির্ভর করবে। মঞ্চের সামনে নাচ গান দিয়ে কোলকাতার রাজনীতিও চলে কিনা জানি না, গ্রামে এগুলোকে নেটোপালা বলে। এখানে মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক, এখানে মানুষ ১৫ বছর ধরে তোলাবাজদের অত্যাচারের শিকার, এখানে স্কুল কলেজ নেই, ধর্মীয় মেরুকরণের শিকার, একঘরে হয়ে থাকা, ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ানো, ক্ষুদ্রঋণের ফাঁস গ্রামে গ্রামে ক্যান্সার হয়ে গেছে। এগুলোর জন্য শুধু মাত্র ‘মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত’ নেতা চায় না জনগণ।

ISF নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছে। আরাবুলকে দলে না নিলে তারা দুই ২৪ পরগণা মিলিয়ে কমপক্ষে ৭-৮টা আসন পেতে পারত। আরাবুল ইসলাম হচ্ছে- ক্রমশ অত্যাচারীদের মুখ হয়ে ওঠা মমতা ব্যানার্জীর কোম্পানির বিজ্ঞাপনী মডেল, তৃণমূল সংস্কৃতির মূল্যায়নের একক। তাকে দলে নিতেই সাধারণ মানুষ সরে গেছে, যারা এতদিন অত্যাচার করেছে, তাকেই কেন আবার অন্য দলের জামায় ফিরিয়ে আনবে? অতি লোভ নৌসাদ-আব্বাসকে ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, যতই নৌসাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাক, মিন্টু সাহজি আর আরাবুলের অতীতের পাপ কি আন্না হাজারের ভাগে যাবে? জোট যেমন আছে থাকুক, কিন্তু বুথ স্তরে সিপিএম নিজে সংগঠন গোছাক। ISF কোনো দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়।

রাজ্যের প্রকৃত বাম কারা? পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন ‘ক্ষিতি গোস্বামী’। আসলে নরেন চট্টোপাধ্যায়, মনোজ ভট্টাচার্য, স্বপন ব্যানার্জীদের মতো বোঝাদের বয়ে চলা সিপিএম এর জবাব দিতে পারবে না। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আসলে কার প্রতিপক্ষ! এক্ষেত্রে একটাই নাম SUCI, ব্র‍্যাকেট ক্লোজড। এনাদের ম্যানিফেস্টোর সাথে কর্মকান্ডের মিল খোঁজার মতো লুম্পেন নিশ্চয় আপনি নন। দক্ষিণ কোলকাতার রাস্তায় বিপ্লবের ‘রগরগে' স্লোগান, পাহাড়ি নদীর মতো স্রোতস্বিনী মিছিল, এর সাথে পিটুনি খাওয়া আদিম প্রতিভা, সরকারের পর সরকার বদলালেও এদের ঠ্যাঙানি সহ্যের যে সহজাত সৃজনী ক্ষমতা তা বঙ্গ রাজনীতিতে বিরল। আবেগতাড়িত সুড়সুড়ি ভাষণ, মিথ্যার মোড়কে বিল্পবের আরক মিশিয়ে লেখার ‘চালাকি’ এবং বিপ্লবের মরুদ্যানে ‘মরীচিকা’ বিক্রির রাজনৈতিক লাইন বেয়ে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাওয়া SUCI এই বিধানসভা ভোটে কোথায় দাঁড়িয়ে কেউ কি খোঁজ করেছেন?

আমরা একটা নিষ্কর্ষে পৌঁছেছি- শ্রমজীবি মানুষ, শোষিত প্রান্তিক মানুষ, বঞ্চিত অত্যাচারিত নিম্নবিত্ত, নিপীড়িত তফসিলি আদিবাসী সংখ্যালঘু মানুষদের সাথে থাকা (কঠোরভাবে যাদবপুর থেকে ধর্মতলা অবধিই) রাজ্যের ‘আগামার্কা’ খাঁটি বিপ্লবী দল যারা, সেই SUCI এর ভোট শতাংশ বিশ্রী হারে কমে গেছে এই ২০২৬ এর ভোটে। এটা যে বাঙালি সমাজের একটা চূড়ান্ত অবক্ষয়, মহান বিপ্লবী শিবদাস ঘোষ এবং নীহার মুখার্জীর আত্মার তরফে সেই আকাশবাণী আসার অপেক্ষায় প্রভাষ ঘোষ, কে রাধাকৃষ্ণ, কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মতো পলিটব্যুরোর আগুনখেকো বিপ্লবীরা প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তাদের বাঙালি ‘চে’ আনন্দরূপ বা তাদের জন রিড, গ্লেন গ্রিনওয়ার্ল্ড, এজরা ক্লেইন কিম্বা পাতি ভারতীয় সাঁইনাথের চেয়েও উন্নত, বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক ভাদুড়ি মশাইও গবেষণা করে বের করতে পারেননি যে- ৯৯.৯০% আসনে NOTA কেন তাদের সাথে লড়াই করল? 

বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম এরা তো সামান্য মুষ্টিমেয় দু’চারটে স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী, সর্বগ্রাসী, বুর্জোয়া দল; SUCI দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিটা কেন্দ্রে লড়াই করেছে তাদের নির্দিষ্ট টার্গেট নোটা’র সাথে। এর সাথে ছিল হাজারে হাজারে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ যুক্ত নির্দলদের দল। নির্দলদের সাথে আসল টক্কর বাংলা জুড়ে কে নিয়েছে? SUCI নিয়েছে, তথ্য মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। NOTA কি পর্ণশবরীর অভিশাপ নাকি নিকষছায়া? নোটা কি বুর্জোয়া? নোটা ফ্যাসিস্ট? নোটারা ঠিক কোনো কোনো ক্ষেত্রে SUCI এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যার কারণে নোটা SUCI এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে? এ বিষয়ে তারা একটা একটা প্লেনাম ডেকে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত সুত্র। 

পক্ষীদের গর্গদা নাকি মামাবাড়ি গেছে, ভাগ্যিস কুমির সৈকত বিদেশে সেটেলড, কে জানে বরেণ্য সাংবাদিক জিম সাহেব(করবেট নন) আজকাল কোথায় আছে, গত ১৫ দিনের সমস্ত ফেসবুক পোস্ট ডিলিটেড, লর্ড জাহাঙ্গীরের সাথে ছবি সহ। দীপক ব্যাপারি, নির্ভীক অনিন্দ্য এরা প্লাস্টিক সার্জারি না করে কি বাজারে লঞ্চ হবে? বাকি অনেক শুঁয়োপোকা, এ্যানাল-থিসিস লেখা লোকজন এখন রাহুল গান্ধীর সাথে থাকা ছবি দিচ্ছে। এরা প্রত্যেকে তৃণমূলের শাখা সংগঠনের প্রধান, কোনো নিরপেক্ষ কেউ নন। কেউ কি মেজো খোকা, সোনা বিজ্ঞানী তথা রিঙ্কু বৌদির উনি, পাল বাড়ির দর্জি কাকিমার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারী মামলাগুলো পড়ে দেখেছেন? কারা সেই মামলার বাদীপক্ষ? দেখলে বুঝে যাবেন ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, কার্তিক ঘোষ, সুপ্রিয় চন্দ বা রাজ চক্রবর্তীরা কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কেউ তাড়াতাড়ি সাসপেনশ আনিয়ে নিল বা কেউ রাজনীতি ছেড়ে দিল, সব উত্তর ওখানেই নিহিত রয়েছে।

রাজনীতিতে মূলত তিন ধরনের দুষ্কৃতি থাকে, প্রথমটা মস্তান, এরা ধর্ষণ, চুরি, খুন বা হত্যা করতে পারে না। অশান্তি, মারামারি, লাঠালাঠি, মাথা ফাটানো, উত্তপ্ত ভাষণ দেওয়া এগুলো এদের কাজ। দ্বিতীয় হচ্ছে গুন্ডা, যারা তোলা আদায়, থ্রেট দেওয়া, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, এমনকি উত্তেজনার মাথায় খুন অবধি করে ফেলে নির্দ্বিধায়। মস্তানেরা গুন্ডাদের আইডল মানে। তৃতীয় শ্রেণি হচ্ছে ক্রিমিনাল, এরা মাঠে নেমে মারামারি করে না, কখনও নিজের হাতে চাকু, বোমা, বন্দুক হয়ত ছুঁয়ে দেখেনি। কিন্তু প্রতিটা গুন্ডাকে এরা নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিটা গুন্ডার ধর্ম বাপ হচ্ছে এই ক্রিমিনালেরা। প্রতিটা তোলাবাজি, প্রতিটা দাদাগিরি, প্রতিটা দাঙ্গা, প্রতিটা খুনের পিছনে এনাদের বরফ শীতল মস্তিষ্ক কাজ করে, এনাদের অঙ্গুলি লেহনেই বাবলু সিংহ, নিশিকান্ত মন্ডল, নান্টু প্রধান, দেবাশীষ আচার্য কিম্বা চন্দ্রনাথেরা খুন হয়। হিরেন পান্ডিয়া, গোপীনাথ মুণ্ডে, দীনদয়াল উপাধ্যায়, মনোহর পারিক্কর, বিপিন রাওয়াতদের খুনের কোনো তদন্ত হয় না যাদের নির্দেশে, বিচারপতি লোয়ার আত্মা আজও ভুত হয়ে জাস্টিস খোঁজে যাদের কারণে- তারাই হচ্ছে ক্রিমিনাল। রাষ্ট্রীয় স্তরে এই শিল্পের গুণীশ্রেষ্ঠ শিল্পী মোটাভাই হলে, রাজ্যস্তরে সেই গুণের গুণী যে আমাদের মেজোখোকা, সেটা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় না। এদের আসল নাম আপনি জানেন, আমি খুন হতেও চাইনা, জেলে যাবারও শখ নেই আর, তাই লিখিনি। 

এই যে এতদিন সিপিএমের আক্রান্ত স্থলে যেতে না পারা, এই অক্ষমতার দর্পনেই আজ তোলামুল দলটার ‘নেই’ হয়ে যাবার বীজ রোপন করা আছে। মাত্র ১ সপ্তাহ আগেও রাজ্যের সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলটার নাম ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, এরাই প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনের ভোট পেয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, গুন্ডা, মস্তান, ক্রিমিনালের ৯৯% এদের অধীনেই ছিল। ফল বের হওয়ার মাত্র ৭ দিনে তারা বৈধব্যে এসে গেছে, ৭ সপ্তাহে তারা যক্ষ্মা রোগীর মতো কঙ্কালসার হয়ে যাবে, ৭ মাসে তাদের বংশে বাতি দেওয়ার মতো কেউ রইবে না, ৭ বছর পর নামটুকু নেওয়ার জন্য কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। দল হিসাবে সিপিএম তাদের চেয়ে অনেক অনেক উন্নত, ক্ষমতা যাবার দেড় দশক পরেও রাজ্যের ৮০% বুথে নিজেদের এজেন্ট দিতে পেরেছিল। আগামীতে রাজ্যে যখন পরিবর্তন আসবে, সেই সরকার CPM ছাড়া গঠিত হবে না- দেওয়ালে খোদাই নিন। কিন্তু সেটা ৫ বছর পর নাকি ২৫ বছর পর সেটা নির্ভর করবে গত বিধানসভা ভোট থেকে তারা কিছু শিক্ষা নিয়েছে কিনা তার উপরে।

গণশক্তির একটা ট্যাগলাইন আছে, “আমরা নিরপেক্ষ নই, মেহনতী মানুষের পক্ষে”। কিন্তু মেধাহীন শিক্ষা দিয়ে মেহনতী মানুষের কাছে আদৌ আপনারা পৌঁছতে পারবেন? শেষ ১৮ বছর ধরে পারেননি, উন্নাসিকতা ঝেরে ফেলে ‘বাস্তবিক’ শিক্ষিত না হলে আগামী ১৮০ বছরেও পারবেন না।

নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি

পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে...