রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫

একাদশে অকপট


 


কথা কও, কথা কও।

অনাদি অতীত, অনন্ত রাতে

কেন বসে চেয়ে রও?

কথা কও, কথা কও”

বাঙালি মানুষ, কবিগুরুকে পাশ কাটিয়ে কোনো কিছুর উদযাপন করবে এমন ভয়াবহ ও অসম্ভবতম দুঃস্বপ্ন কোনো শিক্ষিত বাঙালিই দেখতে পারে না। অকপট, দিনের শেষে শত তর্ক-বিতর্ক, রাজনীতি-সমাজনীতি, আড্ডা-মন্তাজ, দেশীয়-আন্তর্জাতিক, খেলা-তামাশা ইত্যাদির মাঝে সাহিত্যকে ভালোবেসে এর চর্চা করে যাওয়াটাকেই মূল পরিচয় হিসাবে আঁকড়ে ধরে বেড়ে উঠেছে জন্মলগ্নকাল থেকে।

সুতরাং কবিগুরুর চরণস্পর্শ না করে এই পথের পথিক হওয়া গেলেও টিকে থাকা যায় না। তা সে যাই হোক- এরপর সময়ের চাকা দ্রুত ঘুরেছে, আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হরেক দোলাচলের মাঝে, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে স্মৃতিগুলো অবগুণ্ঠনের জট পাকিয়ে বুকের অতল গভীরে সেঁধিয়ে গেছে, কিন্তু তারা এতোটা দূরেও যায় নি যে- আত্মিক নাড়া দিলে তা ভোরের শিউলির মতো ঝরে পড়বে না। তাইতো কবিগুরুর লাইন ধার করে মনে করিয়ে দিই-

তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর,

যবে আমার জনম হবে ভোর

চলে যাব নবজীবন-লোকে,

নূতন দেখা জাগবে আমার চোখে,

নবীন হয়ে নূতন সে আলোকে

পরব তব নবমিলন-ডোর

তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর”

স্মৃতিগুলোকে ফিরে পাওয়া, ফিরে দেখা, সাম্প্রতিক সমসাময়িকালের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশায় বিতর্কের আয়োজনে বসা মিলন মেলার মানচিত্রে 'অকপট' আসলে একটা ঐতিহ্যবাহী মেলবন্ধন- নবীন ও প্রবীণ কিছু মানুষের মাঝে, যে মেলবন্ধন আয়োজন করে মাত্র ৪২টা রেলের কনফার্ম টিকিটে ৫২জনের একটা দলের প্রফুল্লতামাখা যাত্রাপথ, যার কোথাও কোনও অভিযোগ নেই; অকপট মানে সেই ফেলে আসা দিন, ফেলে আসা শৈশবের সরলতা মাখা বন্ধুত্ব- যাকে চাওয়া ও পাওয়ার মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায় না। আজকাল তো আর কেউ জিজ্ঞাসাও করেনা কোথায় গেট্টু করতে যাওয়া হচ্ছে, যাব বললেই সবাই রেডি। বহু ক্ষেত্রেই পৌঁছে যাবার পর শুধায়- এটাই কি আমাদের গন্তব্য ছিল! আসলে এটা ভরষা, এটা ভালবাসা একে অপরের প্রতি, এটাই অকপট। গুরুদেবের ভাষায় অকপট মানে-

নাই, নাই, কিছু নাই, শুধু অম্বেষণ--

নীলিমা লইতে চাই আকাশ ছাঁকিয়া

কাছে গেলে রূপ কোথা করে পলায়ন,

দেহ শুধু হাতে আসে-- শ্রান্ত করে হিয়া”

অকপট শিক্ষা দেয় নতুন করে পুরাতনকে জানার, নিত্য অন্বেষণের। ইতিহাসের গলি বেয়ে ভবিষ্যতের ওয়ারর্মহোল আবিষ্কারের যৌথ খামার। ক্ষুদ্রজীবনে বিরামহীন যে খোঁজ- তার মাঝেই আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অকপট অন্বেষণের মোক্ষ তো তখনই, যখন কেউ নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে এককভাবে এই বিশ্বচরাচরে

জন্মজয়ন্তীর উৎসব পালনে দৃষ্টিগোচর বাঁধ ভাঙা উল্লাসের পুনরাবৃত্তি এবারে হয়নি আনুষ্ঠানিকতার বাগড়ম্বরা সহ, কিন্তু অকপটের যে মূল চালিকা শক্তি তা হলো- সম্পর্কের বন্ধন; পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। অকপটের যে প্রত্যয় তা আসলে সম্পর্কের সংস্কৃতিতে উচ্চমর্যাদা দিয়ে, সেই কৃষ্টিকে পারিবারিকভাবে হৃদয়ে লালন করার মাধ্যমে, এর জন্য কে কোথায় ভৌগলিকভাবে অবস্থান করছে তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয়- আমার হৃ্দয়ে তাকে বা তাদের আসন দিতে পেরেছি কিনা! এভাবেই রাত্রি দেড়টার সময় হিমালয়ের পাদদেশে, ৩ ডিগ্রি শীতল আবহাওয়াতে বিনা নুনের বিরিয়ানিও অমৃতের স্বাদে ধরা দেয় অকপটুদের কাছে, আসলে এটা কোনো একক প্রচেষ্টার সফলতা নয়, দলগতভাবে আমিত্বের বিসর্জন দিয়ে আমরা হয়ে উঠার নামই 'অকপট'তাই তো কবিগুরু লিখেছেন-

মুক্ত করো হে মুক্ত করো আমারে,

তোমার নিবিড় নীরব উদার

অনন্ত আঁধারে

নীরব রাত্রে হারাইয়া বাক্

বাহির আমার বাহিরে মিশাক,

দেখা দিক মম অন্তরতম

অখণ্ড আকারে”

'অকপট' মানে তো নস্টালজিয়া, যেখানে হারিয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণের ভেদাভেদ, মুছে যায় পূর্ব-পশ্চিমের সীমানা। অবসরপ্রাপ্ত সম্মানীয় সদস্যেরাও অনায়াসে পাল্লা দেয় সদ্য যুবকের সাথে, আসলে বয়স এখানে কেবলই একটা ধ্রুবক মাত্র, অকপট আসলে একটা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়, যেখানে আমরাই আমাদের শিক্ষক, আবার সকলেই মনোযোগী শিক্ষার্থী।

যে যেভাবে পারে খুঁজে ফেরে জীবনের একান্ত স্বাদটুকু, অকপট ‘ডেকার্স লেনের’ ব্যস্ত ফুটপাতের একটা ছোট্ট কাউন্টার স্বরূপ। এখানে খাবারের নামে আদর পরিবেশনা করা হয়, বিনিময়ে ঘৃণা দিলে অগ্নিবর্ষণ করতে পিছুপা হয় না কেউ- এটাই 'অকপট'যারা মানিয়ে নিতে পারেনা, তারা হয় সাথে পথচলা থামিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়, কেউ বা কক্ষ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ইতিউতি আলাপচারিতায় ভেসে বেড়ায় অকপটের সমাপ্তিকাব্য। যখনই এমন কিছু শ্রুতিগোচর হয়, মনে পড়ে যায় কবিগুরুর অমোঘ সৃষ্টি-

শেষের মধ্যে অশেষ আছে,

এই কথাটি মনে

আজকে আমার গানের শেষে`

জাগছে ক্ষণে ক্ষণে

সুর গিয়েছে থেমে তবু

থামতে যেন চায় না কভু,

নীরবতায় বাজছে বীণা

বিনা প্রয়োজনে”

আসলে শেষের যে শেষ নেই এটাই তো অকপটের ধমনীর মূল তন্ত্র, ব্যস্ত জীবনের মাঝে ঝরে পড়া শিউলির গন্ধ নিয়ে মাতোয়ারা হতে অকপটের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঠিকানা আর কিই বা হতে পারে, এখানে জীবন আছে, তাই তো বিচ্ছেদ আছে, অভিমান আছে, বিষাদ আছে, প্রেম আছে, পরিণয় আছে, আছে কত শত অপত্য, রয়েছে মিলনান্তক-বিয়োগান্তক কতই না অধ্যায়, আসলে ব্যক্তিপরিসর যেখানে দলে এসে মিশে যায় তখন তাকে ‘অকপট’ ডাকনামে ডাকা হয়।

চলার পথে দিন যাপনের নানা ধরণের গ্লানির পলি জমে জমে অকপটের ভিত মজবুত না হলে, জনসেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার সংস্থান করা সম্ভব হতো না, কৈশোরের অকপট সেই স্মৃতির ভারে তলিয়ে না গিয়ে তাকে ভর করেই নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে, মাথা তুলেছে নতুন ভোরের স্বপ্নে। অতিক্রান্ত ঋতুপর্যায়ে শীতের শেষে নব বসন্তের দখিনা হওয়ার সাথে অকপট প্রতিদিন চোখ মেলে পৃথিবীর পানে নতুন প্রত্যাশাতে। মনে পড়ে যায় কবিগুরুর লেখনী-

মনে করি এইখানে শেষ

কোথা বা হয় শেষ

আবার তোমার সভা থেকে

আসে যে আদেশ

নূতন গানে নূতন রাগে

নূতন করে হৃদয় জাগে,

সুরের পথে কোথা যে যাই

না পাই সে উদ্দেশ”

'অকপট' মানে তো নতুনকে গড়ে তোলার স্বপ্নকে লালন করা, পথ ভিন্ন হতেই পারে, মতের অমিল হতেই পারে কিন্তু অকপট শেখায় গন্তব্য যখন একটিই তখন সকল বৈরিতাকে একটি খোলসের মাঝে আবৃত রেখে যদি আমরা সাথে সাথে পথ চলি তাহলেই তো প্রাণে সমৃদ্ধি আসে জীবনীশক্তিতে- আর এই প্রাণশক্তিটার নামই তো আসলে অকপটতা। অকপট ভীরুতা, কাপুরুষতাকে প্রশ্রয় দেয় না, কিন্তু অশ্লীলতাকে কঠোর ভাবে দমন করার প্রেরণা দেয়, ক্ষমতার চোখে চোখ রাখতে শেখায়। দাসত্ব, অন্ধত্বের গরল থেকে স্বতন্ত্রতার গরিমার পথের প্রতিটি যাত্রীই আসলে একজন অকপটুএকাদশের অকপট আজ সত্যিকারের একটা ক্রিকেট/ফুটবলের টিম হয়েছে- বয়স নামের সংখ্যার নিরিখে।

ওজোনের চাদর যেমন ঢেকে রাখে প্রকৃতির শুদ্ধতাকে, অকপটের শ্রেষ্ঠ সদস্যেরা পরিচালক রূপে অকপটের সেবা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। বিদ্বেষ, হীনতা, স্বার্থপরতা, মিথ্যাচারের উত্তুরে হাওয়া যখন মুহূর্তে কাঁপন ছড়িয়ে দেয় শিরা-উপশিরায়, শক্ত হাতে তাঁরা পাল সামলে অকপট নামের ডিঙিকে ভাসিয়ে রাখে এই মহাসমুদ্রে।

আজকে ‘একাদশে অকপট’ অকপটজয়ন্তী উৎসবের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন, দেশ ব্যাপী স্বৈরাচারের করাল থাবা রোগের মত সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সর্বগ্রাসী চোরের দল রাজনৈতিক ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ, ক্লীব ও মানসিক পঙ্গুত্বে ভোগা একদল মানসিক বৃদ্ধ বিরোধীর ভূমিকাতে হামাগুড়ি দিচ্ছে। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া দেউলিয়া রাজনীতির নগ্নতা, অপরিকল্পিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, অতি দক্ষিনপন্থী পুঁজিবাদী হায়েনার ক্যানাইন, সাম্রাজ্যবাদীদের যুদ্ধের দামামার সাথে সর্বগ্রাসী কর্পোরেটের ক্ষিদের সাথে যুঝতে গিয়ে আমরা সকলেই রণক্লান্ত, আমাদের হৃদয়ের উষ্ণতা হারিয়ে গেছে সামান্য খিদের চাহিদা মেটাতে। মিথ্যা প্রচারের অনন্ত শীতলতায় ঢেকে যাওয়া সমাজের বুকে একটুকরো রোদ হয়ে বুকের ভিটেতে একটুখানি ওম পৌঁছে দেওয়ার নামই অকপটতা। এ উষ্ণতায় কোনো ভেদাভেদ নেই, আছে মিলন পিয়াসী শুধু সুখ, আর ভাগ করে নেওয়া সুখানুভূতি।

সামাজিক বৈষম্য, জাত, ধর্ম, বর্ণ কিছুই অকপটের বাধা হতে পারে না, আর যেখানে এই বন্ধন আছে তা কখনও অকপট হতে পারে না। তাইতো কবিগুরু বলে গেছেন-

ললাটে দিয়েছে চিহ্ন ‘তুমি আমাদের চেনা' বলে

খসে পড়ে গিয়েছিল কখন পরের ছদ্মবেশ;

দেখা দিয়েছিল তাই অন্তরের নিত্য যে মানুষ;

অভাবিত পরিচয়ে

আনন্দের বাঁধ দিল খুলে

ধরিনু চিনের নাম, পরিনু চিনের বেশবাস

এ কথা বুঝিনু মনে,

যেখানেই বন্ধু পাই সেখানেই নবজন্ম ঘটে

আনে সে প্রাণের অপূর্বতা”

আর এই প্রাণের অপূর্বতা আছেই বলেই কখনও একঘেঁয়েমি গ্রাস করে না অকপটকে, অকপট কঠোর কিন্তু স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, ব্যক্তিত্ববোধের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের সহায়ক, মোহনীয় মানবিক গুণের পৃষ্ঠপোষক। অকপট বর্তমানে বাঁচে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে এঁকে, কিন্তু নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে বর্তমানের অকপটুদের সাথে ভাগ করে নিয়ে স্মৃতিময় করে তোলে বর্তমানকে, আগামীর জন্য।

অকপট মানে তো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের উজ্জ্বল্যের গান, স্মৃতিচারণা কেবলই একটা পথ নির্দেশনা মাত্র- সমাজের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অকপটুদের সাথে নিশ্চিন্তে বেড়ে উঠে নব প্রজন্ম, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রেরণা নিয়ে বস্তু জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারার নামই অকপট অনুশীলন। স্মৃতিধন্য বর্তমান প্রজন্মই পারে আগামীর স্বপ্ন পূরণে আন্তরিকতার অভিব্যক্তিময় পরম্পরা চালিয়ে যেতে। অকপট জানে কবিগুরুর এই কবিতাখানি-

সমুখে শান্তিপারাবার,

ভাসাও তরণী হে কর্ণধার

তুমি হবে চিরসাথি,

লও লও হে ক্রোড় পাতি,

অসীমের পথে জ্বলিবে জ্যোতি ধ্রুবতারকার”

অকপট সদা সর্বদা একটি অকৃত্রিম সংস্করণ, এখানে থাকা মানেই মনের স্ফূর্তি। সংসার-জীবনের কৃত্রিমতার বাধা পেরিয়ে সবাই নিজেকে হালকা করতে অকপট হওয়া, যেখানে কোনো অভিনয় থাকে না। নিজেকে খোলস থেকে বের করে আনার একটা প্রক্রিয়ার নাম 'অকপট'অকপট আসলে অনেক নাম, হরেক চেহারা, ভিন্ন ভিন্ন চঞ্চলতা, অপ্রতুল হর্ষ, অনিঃশেষ পরিতৃপ্তি ঘিরে ভিড় করে থাকা মানুষের দল। তাদের সামঞ্জস্যই হলো তাদের তারতম্যতায়, যেখানে রঙ, রূপ, বর্ণ, গন্ধ সবেতেতেই আছে দৃষ্টান্তমূলক ভিন্নতা; তা সত্ত্বেও প্রত্যেকের উজ্জ্বলতা ও আত্মার পরিশুদ্ধতা একইরকম দীপ্তিময়। একে বিচ্ছিন্ন করে এমন সাধ্যি কার!

কথিত আছে- ‘বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’; কিন্তু অকপট একটা ভার্চুয়াল মাধ্যম হয়েও এর মানে হলো- বিগলিত আবেগের বারিধারা। জীবিকার তাগিদে যতই যান্ত্রিকতায়- বস্তুজীবনের মানবিকতা পথ হারিয়ে ফেলুক, অন্তরের আবেগ কখনও ফুরিয়ে যায় না, আর এই আবেগকেই পুঁজি করে যারা বাসা বেঁধেছে, তাদের সেই বাসার নামই যে 'অকপট'নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত সকলেই এক সমান্তরালে এসে পূর্ণ করে তুলেছে শ্রদ্ধা ও স্নেহের অপূর্ব এক মেলবন্ধনে। এমনই কোনো জন্মদিনের অবসরে কবিগুরু বলে গেছেন-


আজি এই জন্মদিনে

দূরের পথিক সেই তাহারি শুনিনু পদক্ষেপ

নির্জন সমুদ্রতীর হতে”

চোখ আমাদের সামনের দিকে হলেও আমরা দেখতে পায় কেবলমাত্র পিছনের অতীতকে, সেই নির্লোভ, নির্ভেজাল, নিষ্কলুষ শৈশবের কাছে বাঁধা আছে আমাদের প্রাণভোমরা। যাকে আক্ষরিকভাবে ছোঁয়া যায় না ঠিকই, তাই তো অকপট নামের এমন মঞ্চের প্রবর্তনা। অসীম আকুলতা মহাকালের পথ দিয়ে আমরা জীবনের সেই চরম সত্যের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যায়- ‘সময় কখনও ফিরবার নয়’। তবুও মনের জানালা খুলে দিলে অকপট সমাজ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় মূর্তিমান হয়ে। তাই তো কবিগুরু প্রশ্ন করেছেন-

তোমার গেছে যে দিন সে কি একেবারেই গেছে? কিছুই কি নেই বাকি?

বিড়বিড় করতে করতে মন বলে উঠে- ‘রাতের সব তারা-ই আছে দিনের আলোর গভীরে’

কবি শঙ্খ ঘোষের একটি লাইন দিকে আমি নিজেকে অকপটের সাথে সম্পর্ক সম্পৃক্ত করতে পারি আজকের ন্যাংটা সমাজে, যেখানে আমার যা কিছু আছে সবটাই আসলে অকপটের জন্য- তাই তো এই কবিতাটা ‘আমি ও অকপটের’ মাঝে যোগসূত্র স্বরূপ


আমার জন্য একটুখানি কবর খোঁড়ো সর্বসহা

লজ্জা লুকোই কাঁচা মাটির তলে --

গোপন রক্ত যা-কিছুটুক আছে আমার শরীরে, তার

সবটুকুতে শস্য যেন ফলে”

শুভ জন্মবার্ষিকী 'অকপট', পায়ে পায়ে এই পথ চলা শতাব্দীর প্রাচীরকে ভেদ করে কালের গর্ভে যাত্রা করুক এটাই তো অকপট কামনা

শেষে বলি, কবিগুরু যেন অকপটের জন্যই এমন একটা কবিতা এঁকেছিলেন বোধহয়- একে ছাড়া যেন এই আত্মচর্চাটাই অসম্পুর্ণ-

 

সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর

আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর

কত বর্ণে কত গন্ধে, কত গানে কত ছন্দে,

অরূপ তোমার রূপের লীলায় জাগে হৃদয়পুর

আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর

তোমায় আমায় মিলন হলে সকলি যায় খুলে--

বিশ্বসাগর ঢেউ খেলায়ে উঠে তখন দুলে

তোমার আলোয় নাই তো ছায়া, আমার মাঝে পায় সে কায়া,

হয় সে আমার অশ্রুজলে সুন্দরবিধুর

আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর”


-চরৈবেতি



শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

যৌনতাঃ সুস্থ দাম্পত্যের চাবিকাঠি


শখের পুরুষ/নারীকে বিয়ে করেছেন?

তার পরেও অকারন মনোমালিন্য; আর সেই থেকে নিত্য অশান্তি?
দাম্পত্য কলহ যে সকল সময় হাতাহাতি পর্যায়েই পৌছাতে হবে তেমন কোনো মানে নেই, মানসিক দুরত্ব সবচেয়ে বড় সমস্যার কারন। দীর্ঘদিনের এই দুরত্ব ক্রমশ ফাটলে পরিনত হয়, পরকিয়ার জীবানু বাসা বাঁধে।
‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর সেক্সুয়াল মেডিসিন’ নামের একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা ২০২০ সালে একটা জরিপ করে ২০-৪৫ বছর বয়সী বেশ কয়েক হাজার স্যাম্পল দম্পতির উপরে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সংস্থার মতে, সেই সকল সম্পর্কই সুখী, যারা নিজেরা স্বেচ্ছায় যৌনতাকে উপভোগ করে, বাৎসরিক হিসাবে ১৫০ বার- সপ্তাহে নুন্যতম ৩ বার, অর্থাৎ মাসে ১২ যৌন মিলন করে।
পুরুষের চোখে নারী শরীরের সবটাই শিল্পকর্ম, তার কামনা কখনও শেষ হয়না। চোখের ভাষা, ঠোঁটের ইশারা, মুখশ্রীর মায়া, আলগা চুলের হালকা আলগোছামো, আঙুলের সরল সৌন্দর্য, ত্বকের কোমল উজ্জ্বলতা কিংবা নিতম্বের সূক্ষ্ম গড়ন- সব কিছুই মুগ্ধ বিস্ময়ে ছুঁয়ে যায় পুরুষের সচেতন অবচেতন অনুভব। পুরুষের ইন্দ্রিয়ের পর্দায়, কল্পনার ক্যানভাসে চিরস্থায়ী রঙিন মুর্তি কোন এক প্রেয়সীরই হয়। অপরদিকে শখের পুরুষের তারিফ করার মাঝেই নারী তার সৌন্দর্যের সার্থকতা খুঁজে পায়, নিজের পুরুষের শক্ত বাহুডোরেই তার যাবতীয় আত্মিক তৃপ্তি।
সুতরাং, পূর্ণ যৌবনে কোনো দাম্পত্যে যদি স্বাভাবিক যৌনমিলন না হয়, তা নারী পুরুষের স্বাভাবিক চরিত্রের পরিপন্থী, অসুস্থতার লক্ষণ- যেটা শারিরীক হতে পারে বা মানসিক।
একজন দম্পতির কতবার যৌন মিলন করা উচিত তা নির্ভর করে সেই দম্পতি এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার উপর। যেসব স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া ও মনোমালিন্য বেশি হয়, তাদের ‘ডেটা’ পর্যালোচনা করলে দেখা গেছে, তারা নিয়মিত যৌন সহবাস করেনা।
সহবাস করলে দেহ থেকে অক্সিটোসিন সহ নানা হরমোন নির্গত হয়ে দেহ এবং মনে প্রশান্তি-স্বাচ্ছন্দ্য আনে। ঘুম ভালো রাখে, হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে,শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ানো সহ বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য সুস্থ যৌনসম্পর্ক তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরী। বিয়ের আগের মাইগ্রেন বিয়ের পর ভালো হয়ে গেছে এমন উদাহরণ ভারিভুরি।
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অনিয়মিত যৌন সহবাস এক অদ্ভুত ধরনের বৈরিতা শুরু করে, একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হওয়া শুরু হয় এবং যা বাড়তেই থাকে, ওভার থিঙ্কিং শুরু হয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়, ডিপ্রেশন আসার ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ফলে ছোটখাটো বিষয়, নন-ঈশ্যুকে ইশ্যু বানিয়ে নিয়ে আপসে ঝগড়া শুরু করে দেয়।
উপরোল্লেখিত সংস্থার জরিপ মতে, যে সকল স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক ও হাসিখুশি, তারা সপ্তাহে অন্তত পক্ষে ৩ বার বা তার অধিকবার যৌনমিলন করে বাৎসরিক গড়ের হিসাবে। ডেটা এ্যানালিসিস করে দেখা গেছে যে দম্পতিদের মাঝে যৌনমিলন যদি সপ্তাহে ২ বারের কম হয়, তথা বাৎসরিক ৫০ বারের কম মিলিত হয় (২০-৪৫ বছরের দম্পতিদের মধ্যে), তাহলে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে যে দম্পতিটি তাদের দাম্পত্য নিয়ে অসুখী।
যৌনমিলন স্ত্রী-পুরুষকে সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে আসে, নিজেদের মাঝে রসাত্বক একান্ত আলাপচারিতা সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে, সন্দেহ দূর করে, পরকিয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়, পর্ণ আশক্তিকে নির্মূল করে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই আত্মিক বন্ধন গভীর হয়। যে সম্পর্ক যতো গভীর, তাদের সুখী হওয়ার সম্ভাবনাও ততটাই বেশী।
স্পর্শ, দৃষ্টি বিনিময়, নিঃশ্বাসের উষ্ণতা অনুভবই হলো ভালোবাসার নীরব ভাষা। একসময় শরীর কেবলমাত্র আকর্ষণের বাহক হয়ে রয়ে থাকে না, হয়ে ওঠে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের নিঃশব্দ সংলাপের সেতু। চরম মুহূর্তে কামনা আর ঐশ্বরিক প্রেম মিশে যায় এক অনির্বচনীয় পূর্ণতায়, যেখানে শরীর আর মন একে অপরকে জড়িয়ে এক পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতায় পরিনতি পায়।
সঙ্গীর প্রতি অধিক যৌনতা অনুভব কোনো কুপ্রবৃত্তি নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক আহ্বান, আগামীকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র পদ্ধতি। পুরুষের সহজাত আকর্ষণ চোখ দিয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে, একজন স্ত্রী তার পছন্দের পুরুষের স্পর্শে আদরে তার মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পায়। সুস্থ স্বাভাবিক সাংসারিক জীবনে যৌনতা হল পেন্ডুলামের ছন্দ, যাতে মিশে থাকে মায়াবী কোমলতা, যা হৃদয়ের মাঝে ভালবাসাকে উষ্ণ রাখার কৌশলও বটে।
ডিভোর্স হওয়া ৩০০০ স্যাম্পল দম্পতির মধ্যে দেখা গেছে ৮৩% ক্ষেত্রে সেই দম্পতিদের মধ্যে শেষ ৪ বছরের সম্পর্কে, বাৎসরিক গড়ে ৫০ বারেরও কম তারা যৌনসম্পর্কে মিলিত হয়েছিল।
দৈনিক শত সহস্র সংসার ভেঙে যায় অহেতুক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অ-কারনে, যার সত্যিই তেমন কোনো ভিত্তি নেই। সঠিক বোঝাপড়া না হওয়ার কারণে, বন্ধন দানা বাঁধতে বাঁধতে রয়ে যায়, এই সময় দম্পতির মাঝে নিয়মিত দৈহিক সম্পর্ক অনেক ফুটোফাটা মেরামত করে দেয় রাগে অনুরাগে।
তাই নিজের সঙ্গী/সঙ্গীনীর সাথে মনোমালিন্য থাকলে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করুন উভয়ের ইচ্ছাকে সম্মান করে, অবশ্যই অনিয়মিত যৌনমিলনকে স্বাভাবিক করার মাধ্যমে, কারন একটা নারী পুরুষের জুটিকে এই সময়ের থেকে কাছে আর কোনো পরিস্থিতিই আনতে পারেনা।
পার্টনারের তরফে কবে শুরু হবে তার প্রতীক্ষায় সময় আর যৌবনকে খুন করবেন! নাকি আপনি নিজেই উদ্যোগী হবেন একটা দুর্দান্ত ‘শরীরী’ শুরুর জন্য, যা খাদের কিনারা থেকে দাম্পত্যকে বাঁচিয়ে একটা নতুন শুরু দেবে। আজই.....

তোলামুল ও আমরা যারা পরিযায়ী শ্রমিক



আসলে তোলা যারা তুলেছে, চাকরি যারা বিক্রি করেছে, বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসে আছে সরকারী চাকরির- তারা প্রত্যেকে "সততার প্রতীকের" দলের সম্পদ। সেই কারনেই ইনি নিয়মিত সময় অন্তর "কিছু একটা" বলে নিয়মিত সময় নষ্ট করে যাচ্ছেন। নতুবা যারা তোলামূলকে টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তাদের পোঁ'দের চামড়া কপালে তুলে দেবে কেলিয়ে- যারা টাকা দিয়েছে। পুলিশ বা সিভিক দিয়ে এদের বাঁচানো যাবেনা।

একবার ধোলাই শুরু হলে- আবাস যোজনার কাটমানি, ফসলের ন্যায্য মূল্যের কাটমানি সহ যে যে যাকে যাকে যেখানে ঘুষ দিয়েছে, তাকেই ফেলে ক্যালাবে। আর গণধোলাই বড় ছোঁয়াচে রোগ, দাবানলের মত ছড়ায়। কেউ অযোগ্যতার কারনে স্বেচ্ছায় ঘুষ দিয়ে চাকরি চুরি করেছে, কেউ ভয়ে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েছে- কিন্তু ঘুষ যে দিয়েছে এটাই সত্য। উন্নয়নের প্রতীক একবারও অস্বীকার করেনি যে তার দলের সম্পদগুলোর উন্নতি তোলার টাকায় হয়নি।
এবারে সেই এজেন্টরা ক্যালানি খেলেই, একপর্যায়ে বলে দেবে যে, তারা তো মাত্র ৩০% এর মালিক, আসল ৭০ % কালীঘাটে গেছে।
সততার প্রতীক আসলে বাঁচাবার চেষ্টা করছে- দলের চোরগুলো ও নিজেকে। পাব্লিকে চুতিয়া বানাচ্ছে, প্রচারখানা এমন যেন উনি চাকরিহারাদের জন্য এতো পরিকল্পনা করছে। মাঝেমধ্যেই নানান পরিকল্পনা আর ঘোষণা নিয়ে আসছেন।
অহেতুক সময় নষ্ট করছে। প্রতিটা অসৎ ষড়যন্ত্রকারী যেকোনো মূল্যে সময় নষ্ট করার হরেক বাহানা খোঁজে, যুগে যুগে প্রতিটা সমস্যায় তোলামূলের মত 'দাগী' অপরাধীপক্ষ এটাই করে। মমতা ব্যানার্জী নতুন কিছু করছেনা, দলের চোরগুলোকে যতটা দিন সম্ভব রক্ষা করছে ভাঁট বকে।
খোঁজা বিরোধীরা যদি তিথিনক্ষত্র দেখে আন্দোলন করে, মমতা ব্যানার্জী আজীবন মুখ্যমন্ত্রী থাকবে। মুর্সিদাবাদ দাঙ্গা যে রাজ্য সরকারেরই কীর্তি - এটার কেন্দ্রীয় রিপোর্ট থাকা সত্বেও তথাকথিত বিরোধী পক্ষের মুখে এক্সট্রা ডটেড কণ্ডোম লাগানো রয়েছে। নিশ্চিদ্র ব্যবস্থা, এক ফোঁটা আন্দোলনের বীর্য ফেসবুকের বাইরে চোঁয়ানোর জো নেই। কে যে কার ডাবল এজেন্ট সেটা বোঝার জন্য ফেলুদা বা ব্যোমকেশ বক্সী হওয়ার দরকার নেই। সিধু জ্যাঠার মত তথ্য আর পরবর্তী গতিপ্রকৃতি- একটু স্থির ও সুস্থ মস্তিষ্কে নজর রাখলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, বিজেপি এরাজ্যের বিরোধী নয়। তারা সরকারের শরিক। বস্তুত বিজেপি আর তৃণমূলের ৫০% নেতাকাঁথার দল নিয়মিত এদল ওদলে যাতায়াত করে- এরা কমন ও সেম। বিজেপি দাঙ্গা বাঁধায়, তৃণমূল দুধেল গাইদের ভোটের ৯৫% নিশ্চিত করে, বিনিময়ে RSS তার কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত ভূমি পায় তৃণমূল সরকারের তরফে।
আগামী বছরের ভোট আসতে আসতে ছোট বড় কয়েকটা দাঙ্গা বা দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হবে, মুর্সিদাবাদ দাঙ্গা দিয়ে তার ফিতে কাটা হয়েছে। "বিজেপি চলে আসবে" অতএব দুধেল গাইদের ভোট কনসলিডেট করতেই পারলেই আগামী ৫ বছর আবার চোরগুলো রাজত্ব করবে, সহজ ও সরল গণতান্ত্রিক উপায়- অন্ন বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা নয়, জুজু দেখাও ক্ষমতায় থাকো।
ফলে মান্নীয়া এমন প্রকাশ্য মিথ্যাচার করেই যাবে, আপনি আমি সহ্যই করব। ফেসবুকে বিপ্লব করব ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে।

অযত্নের তাল



তপ্ত রৌদ্রে পুড়তে পুড়তে ব্যাঙ্ক থেকে ফেরার পথে পথের ধারে বাইক থামাতে এনাকে পেলাম। তালশাঁস। একটা সময় অন্তত আমাদের মত যারা গ্রামে বেড়ে উঠা, তাদের ছেলেবেলায় কিনে খেতে হতোনা ফল-ফুলুড়ি। ঘরে সারাবছরের বাঁধা কাজ করা কির্ষেন-রাখাল থাকত, তারাই গাছে চড়ে আম-জাম-কাঁঠাল-বেল-তাল পেড়ে আনত। একসময় কচি তাল কালের নিয়মে পেকে গেলে তার আঁটি গুলো বাঁশ বাগানে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হত কলআঁটি জন্মাবার জন্য। সেই কল আঁটির স্বাদ আবার আরেক স্বর্গীয় বিষয়।

তালশাঁস বিক্রেতা আজ ১০টাকায় ৪ পিস করে দিতে দিতে তার নিজের আক্ষেপের কথা জানাচ্ছিলো। দক্ষিণে গুপ্তিপাড়া, পশ্চিমে সাতগাছিয়া- কুসুমগ্রাম, পূর্বে কৃষ্ণনগর আর উত্তরে কাটোয়ার আগে অবধি ছিল এনার বাবার এরিয়া, বাবার হাতেই এনার হাতেখড়ি থুড়ি গাছে-দড়ি। এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এনারা তালগাছ/খেজুরগাছ ঝুড়তেন। এঁড়ে তালগাছ বাদে, মাদি গাছই ছিল নাকি লাখ দশেক, অন্তত ১০০০ মানুষ এই গাছ কাটার সাথে জুড়ে থাকত, সাথে তাদের রুজিরোজগার।
গরমে তাল, শীতে খেজুর- আর গেরস্তের বাড়ির নারকেল গাছ ঝুড়ে দিয়ে কিছু জুটিয়ে নেওয়া, এই ছিল এনাদের বারোমাস্যা। বর্তমানে রাস্তা চওড়ার নামে রাজ্যজুড়ে সমস্ত পাকারাস্তার ধার ন্যাড়া। মাঠের মাঝে নতুন গাছ সেই অর্থে জন্মাতে দেওয়া হয়না, তার উপরে প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাতের কবলে পরা তালগাছের একটা অভিশাপ। বসত বাড়ির আশেপাশে তালগাছ থাকা নাকি অমঙ্গলের নিশান, স্বভাবতই তাল তমাল কেটে ফেলাই দস্তুর। বিল বা নদীর ধারে যে সকল গাছ ছিল, ঢোঙা নৌকা বানাবার জন্য সেসব কাটা পরে যায়। তালগাছ কেউই প্রায় স্বযত্নে লাগায়না, নিজে থেকেই অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠার নাম তাল। গাছে উঠে তালের কাঁদি পারা- এ এক শিল্প। তাল গাছের গা- পুরো করাতের মত ধার, নতুন প্রজন্মের কেউ আগ্রহীই নয় এই পেশাতে আসতে। সব মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই সঙ্কটে।
কে জানে আগামী ২০ বছর পর সাহেবদের সাধের ‘আইস আপেল’ এর অস্তিত্ব আর থাকবে কতটুকু।


ভালো থাকাটা জরুরী



শান্ত হও, মেনে নাও। যে যেতে বাধ্য করেছে, সে অনেক আগেই অন্যের নৌকায় সাওয়ার হয়েছে। চলে যাওয়াটা ফল, বিষ গাছের জন্ম অনেক অনেক আগে। তুমি বিষকে চিনতে পারোনি বা উপেক্ষা করে গেছো সেটা তোমার ব্যর্থতা। সে ভালো থাকতে চেয়ে তোমাকে তাড়িয়েছে, তার অধিকারে হস্তক্ষেপ কোরোনা। জোর করতে নেই। ভালোবাসার আগে ভালো থাকাটা জরুরী। শুধু সম্পর্ক রাখতে হবে বলেই জোর করতে নেই। লোক দেখানো ভালো থেকে তোমার কী লাভ? বাস্তবকে মেনে নাও।

সে তার স্বার্থে তোমাকে ব্যবহার করে ওয়াক থুঃ করে দিয়েছে, যখন তুমি সবথেকে অসহায়। যে পাখি কখনও তোমার ছিলোনা, তাকে ভালোবাসার শিকলে বাঁধতে চাওয়া- তোমার অন্য কোনো পাপের সাজা। সরল হবার আগে সহজ হওয়া জরুরী। মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্ত শক্তি রাখা জরুরী। তোমাকেই আগলাতে হবে নিজেকে। যে মুহুর্তে সে সামাজিকভাবে যৌনতার স্বীকৃতি পেয়ে গিয়েছিল, তোমার সাথে আনুষ্ঠানিক দাম্পত্যের মধ্য দিয়ে- সেখানেই তার উদ্দেশ্য সাধন হয়ে গিয়েছিল। এই চালাকিটা হাসিলের জন্য এতো প্রেম ভালবাসার অভিনয় ছিলো, স্বীকৃতি.....
তুমি যে মূল্যহীন- তা বুঝতে সময় লেগেছে বলেই কষ্ট পাচ্ছো, মনে হচ্ছে ঠকে গিয়েছো। শুরু থেকেই তুমি বোঝা হয়ে গিয়েছিলে, মানুষ অনিচ্ছা সত্বেও তেতো অষুধ খায়- তোমাকেও তেমনই সহ্য করেছে সে, শুরুর দিন থেকে- নিঃশ্বাস বন্ধ রেখে। আজকের দিনটা কোনো ব্যতিক্রমী নয়, ব্যতিক্রমী সেদিন ছিল যেদিন তুমি বিবেক বিসর্জন দিয়ে আবেগের বসে তাকে সৎ ভেবে বসেছিলে। এটা পাপ ছিল। পাপের সাজা ভুগতেই হবে।
তুমি ধোকা খাওনি, সে দিয়েছে। সাদাচোখে মনে হচ্ছে সে জিতে গেছে, বিশ্বাস করো- এটা তাৎক্ষণিক। যত সময় যাবে সামাজিক সুরক্ষার পর্দা সরে গিয়ে কামের লোলুপ দৃষ্টি বিষে যখন প্রতিনিয়ত দংশন জ্বালা অনুভব করবে, সেদিন সেই যাতনার কথা বলার মত কাউকে পাবেনা পাশে। বিশ্বাস করো, এমন দিন আসবেই।
ধোকা ততক্ষণ রোমান্টিক যতক্ষন নিজে না খাচ্ছো। সে যেদিন ধোকা খাবে- লুকানোর জাইগা পাবেনা এতোবড় পৃথিবীতে

"I am going to tell Allah everything before I die"



 وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ

"I am going to tell Allah everything before I die".মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে সিরিয়ান ছোট্ট শিশুটি এই কথা বলেছিল। কে জানে নিরপরাধ সেই ফুলের মত শিশুটির কথা 'আল্লাহ' শুনেছেন কিনা। তবে তাদের উপরে দখলদার জ'ঙ্গীরা ঠিক যেমন অতর্কিত মৃত্যু নামিয়ে এনেছিল, আজ ইরানী মিসাইল দখলদার জ'ঙ্গীদের একই অষুধ গেলাচ্ছে।
সোরোকা হাসপাতাল, যোয়োনিষ্ট দখলকৃত ফিলিস্তিনের জাফাতে অবস্তিত। দখলদারদের দেওয়া নাম তেল-আবিব। সেখানে ইরানী মিশাইল পরেছে।
দখলদারদের নেতা তথা আমেরিকার "কালেকশন এজেন্ট" নেতানিয়াহু কঁকিয়ে কঁকিয়ে মিডিয়াতে মানবতা, শিশু হত্যার কী আবেগঘন অশ্রুসজল বর্ণনা দিচ্ছিলো। গোটা শেতাঙ্গ মিডিয়া আজ সারা দিন এই নিয়েই লীলাকীর্তন চালাচ্ছে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বেদনাতুর ভায়োলিনের সুর সহ।
UN, UNICEF, বিশ্ব মানবতার সমস্ত স্বঘোষিত ধ্বজাধারীদের সে কী নিন্দা। আহা....ঠিক ১ দিন আগে হিজরায়েল ইরাণের হাসপাতালে বোমা মেরে ৩০ জনের উপরে মেরে ফেলেছে। কেউ দেখেনি, কেউ শোনেনি....
ব্যাক ট্যু দ্য স্টোরি-
গত ৪ বছরে এই "আমেরিকার কালেকশন এজেন্ট" নেতানিয়াহুর পোষা কুত্তারা ৩৫টা হাসপাতাল গুড়িয়ে দিয়েছে।

তালিকা-
১.আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্স
২.নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স
৩.আবু ইউসুফ আল-নাজ্জার হাসপাতাল
৪.ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল
৫.কামাল আদওয়ান হাসপাতাল
৬.আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতাল
৭.বাইত হানুন হাসপাতাল
৮.আল-আওদা হাসপাতাল (উত্তর গাজা)
৯.আল-কুদস হাসপাতাল
১০.আবাসান (আলজেরিয়ান) হাসপাতাল
১১.আল-হায়াত হাসপাতাল
১২.আল-হিলাল হাসপাতাল
১৩.মানসিক হাসপাতাল
১৪.আল-রান্তিসি হাসপাতাল
১৫.আল-নাসর শিশু হাসপাতাল
১৬.আল-দুররা হাসপাতাল
১৭.তুর্কি-ফিলিস্তিনি বন্ধুত্ব হাসপাতাল
১৮.চোখের হাসপাতাল
১৯.আল-কারমা হাসপাতাল
২০.রোগী বন্ধু সমিতি হাসপাতাল
২১.জনসেবা হাসপাতাল
২২.দার আল-সালাম হাসপাতাল
২৩.ইয়াফা হাসপাতাল
২৪.সেন্ট জন চক্ষু হাসপাতাল
২৫.আল-সাহাবা হাসপাতাল
২৬.বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতাল
২৭.আমিরাতি হাসপাতাল
২৮.হাইফা চ্যারিটি হাসপাতাল
২৯.আল-ওয়াফা হাসপাতাল
৩০.আল-মাহদি মাতৃত্ব হাসপাতাল
৩১.জর্ডান ফিল্ড হাসপাতাল
৩২.ইয়েমেন আল-সাঈদ হাসপাতাল
৩৩.ইসলামিক বিশেষায়িত হাসপাতাল
৩৪.আল-আমাল হাসপাতাল
৩৫.হামাদ হাসপাতাল
কারা যেন মানবিকতা খুঁজছিলেন যেন!! হালকা করে মুতে শুয়ে পরুন আবার। ওদের তৈরি ওষুধই ওদের গেলানো হচ্ছে।

উত্তরকাশী ধ্বস


 

মেঘ ফাটে, বৃষ্টি নামে কিন্তু সরকার ঘাবড়ায়না, কারণ বন্যায় শব ভেসে যায়, উৎসব নয়, ভোটের উৎসব

মাত্র ৩ বছর আগে উত্তরাখণ্ডের এই ধরালিতে মাত্র ২০টি বাড়ি ছিল, যেমনটা পাহাড়িদের হয়। শেষ ৩ বছরে পর্যটনের নামে ২০০টির বেশী বড় বড় বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে নদী তীর থেকে কমপক্ষে থেকে ২০০ মিটার দূরে হোটেল-রিসর্ট তৈরি করা। কিন্তু, কিন্তু- এই বিল্ডিং গুলো পরিবেশের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একদম প্রায় নদী গহ্বরেই তৈরি করা হয়েছিল।

কেন্দ্র সরকার, রাজ্যসরকার, স্থানীয় MP, স্থানীয় MLA, স্থানীয় জিলা পরিষদ, স্থানীয় পঞ্চায়েত সব বিজেপির। আরতি অরুণ সাঠে, যে ২০২৩ সালেও মহারাষ্ট্র বিজেপির রাজনৈতিক মুখপাত্র ছিল, আজ থেকে তিনি বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হয়ে গেছে। এদের রাজত্বে কেউ কীভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারে?

কংগ্রেস বা অন্য কেউ থাকলে যে পরিস্থিতি বদলে যেত সেটা নয়, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটাই আসলে এমন, ভিতর থেকে ভঙ্গুর ফাঁপা। নির্দিষ্ট পরিমানের একটা ঘুষের বিনিময়ে আইনের মা-মাসি করা জলভাত। সেই টাকার ভাগ দিল্লির আমলা-মন্ত্রী মহলেও ঠিক পৌঁছে যায় শতাংশ হিসাব করে। এই হোয়াইট কলার চোরেরা সুরক্ষিত থাকে, মারা যায় লোভী লগ্নিকারীর অর্থ আর কিছু পর্যটকের সাথে পেটের দায়ে কাজ করতে আসা গরীব পরিযায়ী কর্মচারীর দল।

এই ধরনের অঞ্চলে কোনো ধরনের কনস্ট্রাক্সন করা পরিবেশ মন্ত্রকের গাইডলাইন মতে সম্পূর্ণ অবৈধ। তাহলে এটাকে কী শুধু মাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে দায় এড়িয়ে দেওয়া যাবে? এটা কী মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নয়? রাষ্ট্রব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়? শুধু উত্তরাখণ্ড নয়, হিমাচলে, কাশ্মীরে, কালিম্পং, সিকিমে, অরুণাচলে, মেঘালয়ে- সর্বত্র সাংবিধানিক আইনকে উল্লঙ্ঘন করার উৎসব চলছে, সাথে দেদার লুঠ। হারামের কামাই দিয়ে বিদেশী ব্যাঙ্কে জমছে সম্পদের রাশি।

আগামীকাল, হিমালয়ের আবার কোনো একটা অঞ্চলে এমন ‘বিকাশ’ হবে, আরেকটি ধরালিকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে প্রকৃতির রোষ। এবং, তারপর- নির্বাচনী ফানুসে চড়ে কোনো বিশ্বগুরু আসবেন উন্নয়নের ফেরিওয়ালা হয়ে। চারটে গালফোলানো বুলি আউড়িয়ে উড়ে যাবে ঘুষের ভাগা নিতে। আমি আপনি এই গণতান্ত্রিক অশ্বমেধের যজ্ঞে বলিদানের ঘোড়া হয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করব “ভোগের সমিধ হয়ে।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...