বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪

বাম, বিরোধী, অরাজনৈতিক ও তৃণমূলঃ অবক্ষয় পর্ব

 



"মানুষ যা করে, আর বানর যা করে না, তারই নাম সংস্কৃতি” ।

প্রথম পর্ব- অবক্ষয়
এটা কোন মনিষীর উক্তি জানা নেই, কিন্তু এটা সময়ের মতই ধ্রুব সত্য। এর সাথে যদি বিবর্তনবাদকে জুড়ে বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করা যায়- তাহলে সংস্কৃতির চর্চাই কিছু মানুষকে আরো বেশী সভ্য ও আধুনিক করে তোলে। হার্বার্ট স্পেন্সারের “যোগ্যতমের উদবর্তন” তত্ত্ব অনুযায়ী, যারা আধুনিক তারাই শুধুমাত্র টিকে থাকে, বাকিরা ক্রমশ অবলুপ্ত হয়ে যায়। ল্যামার্কের মতে প্রতিটি জীব তার জীবনকালে অর্জিত সকল বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত করে এবং কোন অঙ্গ ক্রমাগত ব্যবহৃত হলে সেটি সবল, কার্যক্ষম ও সুগঠিত হতে পারে, পাশাপাশি ক্রমাগত অব্যবহৃত কোন অঙ্গ অব্যবহারের দরুন নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়ে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
না না, এটা জীবন বিজ্ঞান বিষয়ক কোনো নিবন্ধ নয়, এটা পাতি রাজনীতি বিষয় একটা লেখা। আমাদের বঙ্গীয় রাজনীতি।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে প্রকৃতিতে “Dwarfism and Gigantism”, মানে বামনাবাদ ও দৈত্যবাদ বিষয়গুলো অভিযোজনের নিয়ম মেনে ঘটে চলে। আমাদের যে চলমান রাজনীতি, সেখানে এই তত্ত্ব এক্কেবারে অনুতে পরমানুতে মিলে যায় প্রকৃতির এই নিয়ম অনুযায়ী। শিক্ষিত, নিষ্ঠাবান, বিশ্বস্ত মানুষের সংখ্যা রাজনীতিতে কমে এলে, অশিক্ষিত, অকর্মন্য ও বাটপারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবেই। উল্টটাও সঠিক। মানে যে দলটাই সমাজের বুকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠুকনা কেন, তার জন্য পরিবেশ পরিস্থিতিকে উপযুক্ত হতে হয়। তৃনমূল নামের পচা সারগর্তের পুষ্টি না পেলে কীভাবে সন্দীপের মত ডাক্তার রূপী ছত্রাকেরা সমাজের বুকে নিজেদের বিস্তার করে? তৃনমূল নামের দলটা আসলে দুষ্কৃতীদের লালন পালনের জন্য গ্রিনহাউস। নীলসাদা শাড়ীর আঁচলের সুরক্ষাতে যেকোনো নবিশ দুষ্কৃতী নিজের খেয়ালে বেড়ে উঠে নিজেদের যাবতীয় অপকর্ম করে যাচ্ছে, এবং তার আর্থিক ভাগা দিচ্ছে পোষককে। মিথোজীবী সম্পর্কের আদর্শ উদাহরণ, যার গোটাটাই বিজ্ঞান।
কোনো এলাকায় যদি মননশীল সাহিত্য, মহান দর্শন, উচ্চাঙ্গের শিল্পকলা, আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিন্তা, উচ্চমানের রাজনীতিক ভাবনা, ইত্যাদির সমঝদার কমে যায়, এগুলোর কদর-সমাদর উধাও হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে ওই এলাকায় প্রতিভাবান গুণী মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। ফলত, যা কিছু অত্যুন্নত ও মহৎ, তার আকার ও প্রভাব আস্তে আস্তে খর্বাকায় হতে হতে বামনরূপ ধারন করে। একসময়ের অভিজাত, উচ্চকূলশীল, মহিমান্বিত বিষয় গুলো প্রতিস্থাপিত হয় নিম্নমানের মেঠো-নাচনকোঁদন আর খেউর-সংস্কৃতি দ্বারা। সংস্কৃতির রসদ মূলত সাধারণ মানুষ, তাদের কর্মকাণ্ড পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতেই সংস্কৃতি বেঁচে থাকে।
শিল্পকলা, দর্শন, সাহিত্য, বিজ্ঞান, রাজনীতি এগুলোর বিকাশ ও বিস্তারের পুরোটাই সাধারন জনগন নির্ভর। কালজয়ী সাহিত্য, উঁচুমানের দর্শন, উঁচু শিল্পকলাকে বুঝতে গেলে মানুষের উঁচু রুচিবোধ জরুরী। একটা সমাজে মানুষের গড় রুচিবোধ নিচে নেমে গেলে, অপ্রয়োজনীয় গৌণ বিষয়াদি তখন সমাজের সর্বত্র বিরাজ করতে থাকে মুখ্য রূপে। স্বভাবতই কুরুচিপূর্ণ নিম্নজাতের অপসংস্কৃতিগুলো আভিজাত্যের চাদর গায়ে সংস্কৃতির নামে মহিয়ান হয়ে উঠে।
শিক্ষা আসল বুদ্ধিজীবি তৈরি করে, ব্রিটিশরা সেই মেধা তৈরির কারখানার পরিসর ছোট করে শ্রমিক তৈরির কারখানা করে দিয়েছিল আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে। রুচিকে ধ্বংস করতে গেলে সবার আগে শিক্ষাকে ধ্বংস করতে হয়, তৃনমূল সরকার সেটাই করেছে। অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য দলদাসকে শিক্ষক বানিয়েছে। শিক্ষক হিসাবে জন্মই যার দুর্নীতির পাঁকে, তার কাছে অর্থই হল শিল্প, অর্থই সংস্কৃতি, অর্থই দর্শন, অর্থই বিজ্ঞান। এই লোকটি ছাত্রদের কী শেখাবে? বাকি যারা শিক্ষাগতভাবে যোগ্য, তারা রোজ চাকরি ভিক্ষা করছে শহরের রাজপথে ধর্নামঞ্চে, হাতেপায়ে পরছে সরকারের, পুলিশের লাঠিপেটা খাচ্ছে। কিশোর প্রজন্ম দেখছে, মেধাবী হলে ভিক্ষা করতে হয়, অরাজনৈতিক হতে হয়।
শিরদাঁড়া শক্ত করে বুক ঠুকে বলা যায়না আমি তৃনমূল নই, আমি তোমার অপশাসনের বিরোধী। এর পরেও সম্মান বেঁচে থাকে শিক্ষকদের? ডাক্তারদের মত একজোট হয়ে এই চাকুরীপ্রার্থীদের উপরে অবিচারের কারনে, কেন এতো দুর্নীতি শিক্ষাক্ষেত্রে- এই প্রশ্নে চাকুরীরত শিক্ষকেরা পথে নেমেছে- দলবেঁধে? নামেনি, কারন এই প্রজন্মের শিক্ষকদের মাঝে দু-একজন ব্যতিক্রমী ছাড়া প্রত্যেকেই নিকৃষ্ট মানের আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর। আপন বাপন চৌকি চাপন, কে অহেতুক ঝামেলা নেয়, আমার তো বেতন এসে যাচ্ছে মাস পহেলাতে। নূন্যতম সামাজিক দায়বদ্ধতা টুকু নেই আগামীর সহকর্মীর প্রতি।
রাজনীতিতে অশিক্ষায়নের জন্য মমতা ব্যানার্জী বাংলার ইতিহাসে নিকৃষ্ট শাসক হিসাবে অমর হয়ে থাকবেন। ‘ক-অক্ষর গোমাংস’ গায়ক নায়কদের এনে রাজনীতিতে নামিয়ে দিয়েছে, বুদ্ধিজীবি সাজিয়ে। সমাজে এদের অবদান কতটুকু? মানুষের হিতে কতটুকু এরা সমাজসেবা করেছে বা প্রান্তিক ভাষাহীন মানুষের জীবন সংগ্রামে কোন সুখ দুঃখের সমব্যাথী অংশীদার হয়েছে? দু’দিন টিভিতে নাম কামিয়েই বিকল্প ও নিশ্চিত রোজগারের ধান্দায় ক্ষমতাসীন দলে নাম লিখিয়েছে। এরাই তো দেশের আগামীর নীতি নির্ধারন করতে গেছে আইনসভাতে। যাদের নিজেদের নীতি নৈতিকতা নেই, তাদের নেতৃত্বে কীভাবে একটা রুচীশীল সমাজ গঠিত হতে পারে? পাগলামোকে রাজনীতি নাম দিয়েছে, অসভ্যতামোকে ডাকে কৃষ্টি নামে। থ্রেট কালচারই যাদের দর্শন, উমেদারির নাম বিজ্ঞান, চাটুকারিতার নাম বিপ্লব, খেউরের নাম সাহিত্য- চুরিকে এরা শিল্প বলবেনা তো কাকে বলবে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...