অরাজনৈতিক আন্দোলনের যা পরিনতি হওয়ার ছিল, সেটাই হয়েছে। আন্দোলনের গর্ভপাত হয়েছে। গর্ভ হলে সেটা একসময় পতিত হবেই, সেই পতন প্রক্রিয়া সিদ্ধ না অসিদ্ধ, পরিনত না অপরিনত- এগুলো প্রশ্ন থেকে যায়। কে কোন আঙ্গিকে দেখছে, এটার উপরে ডিপেন্ড করে এর সফলতা বিচার করাই যায়।
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪
অরাজনৈতিক আন্দোলন
রাস্তা মুক্তি পেয়েছে। নাটকের থেকে মুক্তি, গানে গানে প্রতিবাদের থেকে মুক্তি, অমেরুদণ্ডী জেলিফিশদের ভিড় থেকে মুক্তি, মিথ্যা আঁতলামো থেকে মুক্তি। গাড়ি আঁটকে আন্দোলনের 'স্টেক দাবী' থেকে মুক্তি। আড়াই মাসের একটা বদ-অভ্যাস থেকে মুক্তি।
রাস্তা তো কোথাও যায়না, সে স্থবির। তাই রাস্তার ভুলও নেই ঠিকও হয়না। মানুষ যায়। কিন্তু মানুষের দোষ খুব কম হয়, কারন মানুষ মনে করে রাস্তা ভুল বা ঠিক হয়। রাস্তা মুক্তি পেলেও তার উদযাপন হয়নি। রাস্তা বলে কী সে মানুষ নয়, তাও সে উদযাপনে মাতেনি। রাস্তাকে যদি কেউ রাস্তায় ফেলে দেয়, সে তো চালচুলোহীন হয়ে রাস্তায় দাঁড়াবে! নাহ, রাস্তা শুয়ে থাকে, দাঁড়ায়না, অরাজনৈতিক আন্দোলনের মতই, দিনের শেষে দাঁড়ায়না।
বিষয়টা হল ভাবের ঘরে চুরি। ক্ষীর খাবার তাড়া। সামনের মানুষগুলোকে অপাংক্তেয় ভাবা। ভুল মানুষ মাত্রই করে, কিন্তু রাতারাতি ফেমাস হয়ে যাওয়া কেউ আর মানুষ থাকেনা, সেলিব্রিটি হয়ে যায় কিম্বা ইনফ্লুয়েন্সার। তখন এনারা ভুলের উর্ধ্বে উঠে যান।
মাননীয়া অনেক বড় সেলিব্রিটি, দেশের অন্যতম বড় ইনফ্লুয়েন্সার। তার ভুল হয়না, হতে পারেনা। বিরোধী নেতারাও সেলিব্রিটি, মাননীয়ার চেয়ে কম, কিন্তু ইনফ্লুয়েন্সার বটে। ডাক্তারেরা এতোদিন আন্দোলন করলেন, অরাজনৈতিক - সেলিব্রিটি বনে গেলেন।
মোদ্দাকথা এদের কারো কোনো ভুল হতে পারেনা।
ভুলটা অভয়ার, কেন সে মরল?
অভয়া তথা তিলোত্তমা জন্য বিচার চাইছিল, এখন তিলোত্তমার বিচার চায় সকলে। বিচারে যদি ফাঁসি হয়? না মানে হতেও তো পারে। এটা ২০২৪, দেখা যাবে যেদিন বিচারের রায় আসবে সেদিন ক্যালেন্ডারে ২১৩৭ সাল। আদালতে প্রমাণ হবে তিলোত্তমাই আসল দোষী ছিল। তাহলে ভিক্টিম কে ছিল? সেটার প্রমানও হবে, সংবাদমাধ্যম আসলে ভিক্টিম, সে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবিদার।
অভয়ার পিতা-মাতার জড়িমানা হবে, যেহেতু তাঁরা জীবীত থাকবেননা সেই সময়ে, সেই জড়িমানার অর্থ জনগণ দেবে ট্যাক্সের মাধ্যমে, কারন অভয়ার বাবা মা সেলিব্রিটি হতে পারেনি, জনগণ রয়ে গিয়েছিল।
তবে অভয়ার পিতা-মাতার কারনেই ডাক্তারেরা বেঁচে গেলো, আমরণ অনসনের কমিটমেন্ট থেকে বেঁচে ঘরে ফিরল। মান্নীয়া তাদের দাবীর মাথায় আগেও মুতেছেন, এবারেও মুতলেন। সমস্যা হল- কীভাবে অনশন তুলবেন, সেই কারন মিলছিলোনা। অভয়ার মা বাবা সেই এক্সিট-পয়েন্ট দিয়ে দিলেন। ডাক্তার, সরকার ও বিচারপ্রার্থী মানুষ- সকলেই বাঁচলেন। রোজকার এই চড়া দাগের থিয়েটার থেকে আমজনতা মুক্তি পেলো।
আচ্ছা তিলোত্তমাটা কে? কেন কল্লোলিনী তিলোত্তমা, আমাদের শহর তিলোত্তমা। অভয়াটা কে? কেন , শতবর্ষ পূর্বে হইচই প্ল্যাটফর্মের একটা সিরিজের নায়িকা, সস্তিকা। আচ্ছা- আর্জিকরটা কী? আদালতের ভাষা এগুলো, শাওয়াল, জবাব, আর্জি, ফরিয়াদ - ইত্যাদি। তাহলে শ্যামবাজারের কাছে ঐ মেডিকেল কলেজটার কী যেন নাম- ওহ, শহীদ মদন মিত্র মেডিকেল কলেজ। ওখানে ডাক্তারদের একটা মুর্তি স্থাপন দরকার।
সেদিন প্রতিবাদী ডাক্তারদের মূর্তি উন্মোচন হবে ডাঃ কুণাল ঘোষের মুর্তি, যিনি একধারে সাংবাদিক ও সেলিব্রিটি ছিলেন। তার তৈরি মতের উপরে সৃষ্ট পথই আদর্শ।
সুতরাং, বিচার হবেই। ভরষা রাখুন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন