শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪

পঞ্চম পর্ব - Boiling Frog Syndrome


পঞ্চম পর্ব
চুরি, ডাকাতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি সহ যাবতীয় দাবিদাওয়া আন্দোলনকে জিইয়ে রাখা রাজনৈতিক দলের কাজ, গণতন্ত্রে এই কাজ বিরোধীদের দায়িত্ব। ক্ষমতার পালাবদল হলে কোনো অরাজনৈতিক ডাক্তার, কোনো সিনেমার নায়িকা, কোনো গায়ক বা কোনো আম মানুষ মসনদে বসেনা, বড়জোর এদের কেউ কেউ যৎসামান্য অংশীদার হতে পারে ক্ষমতাসীন দলের, কিন্তু মূল চালিকাশক্তি রাজনৈতিক নেতাদের হাতেই থাকে। আর এই পালাবদলের জন্য দরকার মানুষের ভরষা অর্জন করা।
বিরোধী মমতা ব্যানার্জী তার সময়ের বাম সরকারকে বিব্রত করে প্রায় প্রতিটা অঘটনে সংশ্লিষ্ট পরিবারের ভরষা অর্জন করেছিল, আর এভাবেই মানুষের কাছে বার্তা দিয়েছিল, দেখো যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি আর আমিই হচ্ছি নির্যাতিতের আশ্রয়স্থল। মমতা পেরেছিল রিজওয়ানুরের মা কিম্বা তাপসী মালিকের বাবার ভরষা অর্জন করে, তাদেরকে ‘অরাজনৈতিক’ মুখ বানিয়ে তুলতে বাম সরকারের বিরুদ্ধে। আজকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কে সেই ভরষা আদায়ের কাজটা করতে পারেছে?
মইদুল ইসলাম মিদ্যার বাবা ছাড়া সেই অর্থে কারোর ভরষা আদায় করতে পারেনি বামেরা, যারা তৃণমূল দল ও সরকারের দ্বারা অত্যাচারিত। সারদা, নারদা, কামদুনি, কান্ডের কাউকে অত্যাচারিতের মুখ করে তুলতে পেরেছে? এমনকি তিলোত্তমার পরিবারও ১টি শব্দ খরচা করেনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের জন্য। এটা কাদের ব্যর্থতা?
সেটিং তত্ত্বের গবেষণায় মত্ত বাম বিপ্লবীরা কিছুই পারেনি, জানেওনা কীভাবে পারতে হয়। কিছু একটা বলে নিজেদের শিশুতোষ প্রবোধ দিতে হবে, এটারই নাম সেটিং তত্ত্ব, যার আড়ালে নিজেদের যাবতীয় ব্যর্থতাকে লুকিয়ে ফেলা যায়- নিজেদের বৃত্তে। আবার হার্বার্ট স্পেন্সারের “যোগ্যতমের উদবর্তনে” ফিরে আসতে হয়, সেটিং তাত্ত্বিক ‘যোগ্যতমদের’ ভিড়ে স্পষ্ট কথা বলা ‘অযোগ্যেরা’ ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে পরেছে দলে। অবস্থা এমন ভয়াবহ যে- ওহে বিপ্লববাদী দলের কাণ্ডারীরা, এটা ভুল হচ্ছে, বলার সাহসটুকু নেই।
বস্তুত নেতাদের মতে তাঁরা ভুলের উর্ধে। কিন্তু মানুষ এদের যোগ্যোতা বোঝে, তাই ফুটো পয়সার ভরষাও করেনা। অথচ এই সেটিং তত্ত্বের নাম হওয়া উচিৎ ছিল- পরিবার তত্ত্ব, সঙ্ঘ পরিবার। এটাকে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিটি বক্তব্য ভাষণে ফাটা ক্যাসেটের মত বাজানো উচিৎ ছিল , যাতে মানুষের মর্মে গেঁথে যায়।
উচিৎ ছিল, তৃনমূলের দ্বারা অত্যাচারিত পরিবার গুলোর ভরষা আদায়ের। দরকার ছিল প্রতিটা ঘরছাড়া বা খুন-জখম হওয়া দলীয় কর্মীদের পাশে থাকা, উলটে রেড ভলেন্টিয়ার নাম দিয়ে যুব বামকর্মীদের ‘বার খাইয়ে’ সমাজসেবায় নামিয়ে, তৃণমূল সরকারের প্রতিটি ব্যর্থতার জাইগাতে জনরোষ কমিয়ে নবান্নকে স্বস্তি দিয়েছে। সেটা করোনার সময় বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে হোক বা হালের ঘাটাল বন্যায়, কিম্বা আসন্ন ‘ডানা’ ঘুর্ণিঝড় এর সতর্কতাতে। আসল সেটিং তো এখানে, আসল তত্ত্ব এখানে।
নতুবা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদের স্বামী কীভাবে একটা বাম নামধারী ক্যান্টিনের অভিভাবক হতে পারে, কাকে তুষ্ট করতে এমন মহতি আয়োজন, যেখানে আজও জেলায় জেলায় ঘরছাড়া পার্টি কর্মী সমর্থকের সংখ্যা লক্ষাধিক। বিদ্যুৎ মণ্ডলের বাড়িতে প্রতিনধি অবধি পাঠাতে পারেনি, এমন সব পালোয়ান। মানে ওটা ভাইপোর এলাকা, তাই সব চুপ। যারা নিজেদের দলের কর্মীদের সুরক্ষা দিতে পারেনা, তাদেরকে কেন সাধারণ মানুষ ভরষা করবে? ২০১৬ পরবর্তী রাজ্য সিপিএম বয়েলিং ফ্রগ সিনড্রোমে পরে গিয়েছিল, এই প্রজন্মের যুবদের আত্মিক প্রচেষ্টা সত্বেও, নেতৃস্থানীয় নির্জীব এলিটবুড়োদের সৌজন্যে যে তিমিরে ছিল, সেখানেই পরে রয়েছে। পরিকল্পনার চেয়ে এরা প্রার্থনাতে বিশ্বাসী।
এরা জানেনা কোন প্রশ্নটা আদালতকে করতে হয়, কোনটা জনগণকে, কোনটা দলের ফসিল নেতাদের আর কোনটা নিজেকে। সরকার কাউকে মিথ্যা মামলাতে এ্যারেষ্টবকরেছে মানেই তো বিরোধিরা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে উকিল দেবে জামিন করাবার জন্য, কিন্তু লোয়ার কোর্টে পাতে দেওয়ার মত আধখানা উকিল অবধি নেই বাম, কংগ্রেস বা বিজেপি, যে সাথে সাথে কোর্টে দাঁড়িয়ে সাওয়াল করবে এবং জামিন দেওয়াবে। কেউ এ্যারেষ্ট হলে সেই বৃদ্ধ বিকাশবাবুকে হাইকোর্টে দাঁড়াতে হয়, ততদিনে অভিযুক্ত ২-৫ দিন জেল হাজতে অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়ে গেছে। গোটা বিরোধী পরিসরে নিম্নমেধার হামবড়াদের ভিড়, আসল করিৎকর্মা মানুষ জাষ্ট নেই।
কেন মানুষ বিরোধীদের ভরষা করবে এই রাজ্যে?
এই সব দু-পয়সার বিরোধী নেতাদের ঘরের বৌ এদের রাজনৈতিক পরিচয়কে ফুটো পয়সা দিয়ে পোঁছেনা, ফলত যাদের বিরুদ্ধে বললে পাল্টা জবাব আসবেনা- সেই তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দিকে হাওয়াতে তির ছুড়ে পালোয়ান সাজে নিষ্ফলা আক্রোশে। মমতার দলদাস পুলিশের বিরুদ্ধে বলুক, না না না না সেই মুরোদ নেই, পিছনে রুল গুঁজে দিলে অন্ডকোষ শুকিয়ে কিসমিস হয়ে যাবে যে, তাই জুজুর ভয়ে ওসব কথা বলা যাবেনা। বিপ্লব শুধুমাত্র টিভির পর্দায় আর সোস্যাল মিডিয়াতে। আগেকার দিনে রাজা বিদূষক পুষে রাখত, যে মজারচ্ছলে কথার মারপ্যাঁচে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাজার দোষ ধরে দেখাতো। নীলসাদা সরকারও কিছু বাম্বাচ্চা পুষে রেখেছে, বিদূষকের বামা-ক্ষ্যাপা ভার্সন। বাকিটা আপনি রোজ দেখেন। সেটিং আসলে এখানে।
এরপর রয়েছে মমতা ব্যানার্জীর কুখ্যাত থ্রেট কালচার ও ব্ল্যাকমেলিং রাজনীতি। প্রায় প্রত্যেকটি সিপিএম নেতাকে ধরে ধরে ব্ল্যাকমেইল করে বসিয়ে রেখেছে। হয় তুমি তৃণনমূলের ঝান্ডা ধরো, কিম্বা ধীরে ধীরে রাজনীতি ছেড়ে দাও। একান্তই যদি রাজনীতি করো, সেক্ষেত্রে তিথি নক্ষত্র দেখে নির্দিষ্ট লগ্নে আমাদের বিরোধিতা করো কিন্তু ভোট যেন আমাদের বাক্সে আসে সেই গ্যারান্টি নিতে হবে। নতুবা কোনো নেতার বউকে এই স্কুল থেকে ৫০০ কিমি দূরে অন্য জায়গায় ট্রান্সফার করে দেবো, কার বউ এখানকার নার্স তাকে দূরে ট্রান্সফার করে দেবো। কাউকে মেয়ে ছেলে কেস দেওয়ার ভয়, কাউকে গাঁজা কেস, কাউকে অস্ত্র কেস, এই ধরণের মোটা দাগের প্রতিহিংসা থেকে বাঁচার ভয়ে সিপিএমের অধিকাংশ নেতারা জুজু হয়ে বসে আছে। এখানেই আসল সেটিং তত্ত্ব। প্যাম্পার্স পরিহিত স্যারেলাক বেবি আজকের ফেসবুক বাম বিপ্লবীরা এই সবের খবর রাখেনা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...