সাহেবের ১২ বছরের অমৃতকালের নর্দমা থেকে জন্মানো কিছু মারণ জীবানু, যাদের দেহ সচল কিন্তু মস্তিষ্ক বা বুদ্ধিমত্তা মৃত ও যান্ত্রিক। মগজে গোবর, রক্তে গোমুত্র আর 'মিত্রো...' শব্দের কু-প্রভাবে, বিকৃত আচার-অনুষ্ঠানে এদের প্রানীর দেখতে লাগলেও, এরা বস্তুত চেতনাহীন।
পরজীবীরা বিভিন্ন কৌশলে পোষকের শরীর থেকে পুষ্টি শোষণ করে এবং ধীরে ধীরে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। RSS এভাবেই কংগ্রেস সহ প্রতিটা বিরোধী দলকে পোষক হিসাবে ব্যবহার করে এসেছে ৮০ বছর ধরে। পরজীবী পোষককে সরাসরি মেরে ফেলে না, RSS ও সেটাই করেছে, দীর্ঘদিন ভেতর থেকে নিঃশেষ করেছে।
এই RSS নামের পরজীবীরা আজকে রাষ্ট্রের শরীরে মলমূত্র ও বিভিন্ন বিষাক্ত ত্যাগ করে সমাজকে পচিয়ে দিয়েছে। এই টক্সিনগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে মিশে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নষ্ট করে দিয়েছে, যার ফলে সমাজের প্রতিটা স্তরে ক্রনিক ক্লান্তি, অ্যালার্জি এবং প্রতিটা গণতান্ত্রিক কাঠামোগত অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে দিয়েছে।
এখানে কি নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদের নিদর্শন দেখুন, সংরক্ষণ বিরোধী একটা সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এদের সকল উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ নেতৃত্ব। দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘সংরক্ষণ হটাও আন্দোলন’ ব্যানার ও বিভিন্ন উচ্চবর্ণের সংগঠনের ডাকে যে বড়সড় আন্দোলন শুরুর ডাক দিয়ে হাতে গোনা কিছু ঐ পরজীবি 'জম্বি' গুন্ডামি শুরু করলে- পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে দমন ও ছত্রভঙ্গ করে। মজার কথা হচ্ছে, ১ জনও ব্রাহ্মণ ছেলেপুলে মার খানি, সিঙ্গেল পার্সন কেউ নয়, যাদের পালিশ করেছে পুলিশের ডান্ডা তারা হয় ঠাকুর, নাহয় অন্য অব্রাহ্মণ। লুকিয়ে পরা এদের DNA এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
এদেরকে রাজনোৈতিক ভাবে, মতাদর্শগতভাবে, গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আত্মসুরক্ষার প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক প্রতিরক্ষার জন্য যত বেশি মুখোমুখি হবে জনগনণের, ওরা তত বেশি পিছিয়ে যাবে। কারণ সত্যিকারের কোন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ওদের নেই, ওরা সবসময় এর ধুতির তলায় তার প্যান্টের তলায় থাকতে অভ্যস্ত। কখনও সামন্ত রাজাদের ধুতির নিচে, কখনও ব্রিটিশদের, তারপর কংগ্রেসের ভিতরে, কখনও জনতা পার্টির ভিতরে আত্মগোপন করে হিন্দু সংস্কৃতিকে সুরক্ষাকবচ বানিয়ে তারা পরজীবির মত টিকে ছিলো।
অ্যাকচুয়ালি আগে রাজনৈতিক দলের বিচক্ষণ নেতা নেত্রীরা জনগণকে মোটিভেট করত, এখন আমরা জনগণ তাদের মোটিভেট করি। ব্যাপারটা মেধার সঙ্গে মেধার লড়াই হয়ে গেছে। যে মানের ছেলেপুলে আগে রাজনৈতিক দলের ফ্রন্টলাইনে থাকতো, দেশজুড়ে সেই মানের ছাত্ররাজনীতি না থাকার কারনে এখন তারা আর উঠে আসেনা। নেতা তোৈরি হয় বড় নেতার চামচাগিরি করে কিম্বা ভ্যান্ডালিজমের মাধ্যমে। মধ্যম মানে ছেলেপুলে শুধু একসময় বামপন্থীদের মধ্য তথেকে নিয়ন্ত্রণ করত, তাদের মানও এতটাই নিম্নমানের যে, আর তারা সমাজের শিক্ষিত শ্রেনীর কাছেই পৌঁছাতে পারছেনা, নিয়ন্ত্রণ করা তো অনেক দূর।
তাই আপনিও লিখুন, আপনার লেখনি কতটা মানের কিম্বা সেটা লিখে আপনি মনের শান্তিত অনুভব করছেন কিনা সেটা আজ ততটা মুখ্য নয়, সেটা মধ্যম কিম্বা অত্যন্ত নিম্নমানের হলেও, তা জনগণকে মোটিভেট করতে পারছো কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন।
সাধারণ মানুষের আচ্ছেদিনের ঘোর মেটে গেছে, ফলত লড়াইটা এখন মুখোমুখি। এটাই এ্যান্টিবায়োটিক এই পরজীবীদের নির্মূল করতে - মুখোমুখি লড়াই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন