সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

আ'মোদী'ত অ'চীন' কথা


চীনে কি আমাদের মতো ‘সাধারণ মানুষ’ বাস করে না! এই ধরুন যাদের আমাদের ভাষায় বলি অকম্মা বা নিষ্কর্মা! নূন্যতম যোগ্যতাহীন আম-পাবলিকেরা যারা ‘গুড ফর নাথিং’ তারাও গতরে খাটা ‘নাট, বল্টু, বাইকের যন্ত্রাংশ, মায় টুনি বাল্ব’ পর্যন্ত বানায়। তাদের দেশের সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেগুলোর জন্য অগ্রিম লোন দেয়, ও ফিনিস গুডস কিনে নিয়ে বিদেশের বাজারে তা বিক্রি করে দেশের চূড়ান্ত অকম্মাগুলোকেও আত্মনির্ভর বানিয়ে দিয়েছে। এদিকে চীনা সরকার বৈদেশিক মুদ্রার বিপুল সঞ্চয় গায়ে তুলছে, যে সম্পদ দিয়ে নতুন করে তাদের সাম্রাজ্যবাদী কার্যকলাপ রোজ বাড়িয়ে যাচ্ছে।

আমার দেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন, মাতাল বেওড়া ধরনের লোকজন এখানে চা দোকানে আড্ডা দেয়, রাজনৈতিক দলের হয়ে ঝান্ডা নিয়ে মারামারি করে- আর কাজ বলতে, পঞ্চায়েতের লুঠের বখরার জন্য খেয়োখেয়ি, চালচুরি, গাছচুরি, ত্রিপল চুরি।
সব শেষে আসে আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রকল্প, ১০০ দিনের কাজ। কী যে ছাতার মাথা দেশের উন্নতি হয় এখানে কেউ জানে না, কংগ্রেসের পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি আমদানি করে দিয়েছে। পুকুর পাড়, নয়ানজুলির আগাছা পরিষ্কার, নদী তীরের কাশবন সাফ করা, সহ যত ধরনের অকাজ যার কোনও বস্তুগত গুরুত্ব নেই সেই ধরনের কাজ করানো হয়। কাজ হওয়া তো বাহানা, যে কাজ একজন স্বাভাবিক রোজের শ্রমিক ১ জনে ১ দিনে করবে, সেটাই ১০০ দিনের সরকারি প্রকল্পে ৫০ জন শ্রমিক মিলে ৪ দিনেও শেষ করতে পারবে না- প্রকাশ্য প্রহসন। গরীবেরা ধাপ্পা দিয়ে টাকা পেয়ে খুশি, সরকার এভাবে বিলিয়ে ভোটের রাজনীতি করতে পেয়েই খুশি। আমরা মধ্যবিত্তেরা এসব দেখে নাটক দেখে খুশি।
আমরা ভাবছিও না, যে টাকাটা খরচা হচ্ছে এই ১০০ দিনের প্রকল্পের মজুরিতে সেটার জন্য আমাদেরই ৮০ টাকা লিটার পেট্রোল কিনতে হচ্ছে, কিম্বা রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাকে পুঁজিপতিদের কাছে বেচে দিয়ে হচ্ছে , অথবা চীন, আমেরিকা বা আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের থেকে ঋণ করে এনে সেটা দিচ্ছে।
এতে ডান, বাম, মধ্য, টিকি, দাড়ি, নেড়া সবাই সমান দোষী; কারণ এ বিষয়ে সকলেরই মুখে কুলুপ। দেশের জনগণকে মূর্খ ‘মুফত খোর’ অশিক্ষিত বানিয়ে রেখে নিকৃষ্ট অশিক্ষিত নেতাদের দিয়ে বিশ্বের সেরা হব এমন ভাবনা পাগল ছাড়া কেউ ভাবে না। তাই তিন পা এগোনোর আগেই তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে পরে যায় প্রতিবার; শ্রমের উপযুক্ত প্রয়োগের জন্য দরকার শিক্ষিত রাষ্ট্রনায়ক যে বা যারা দিশা দেখাবে জাতিকে। এই নিয়ে আমরা ‘জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে’ ভাবনা ভাবা গাঁজায় দম দিয়ে চাঁদে যাওয়ারই সামিল।
আমরা ব্যস্ত মমতা না দিলীপ ঘোষ কে আজ বেশি ভুল বকল! মাননীয় পদ্মপাল জগদীশ ‘অপমানখোর’ এর সাথে রাজ্যের সংবাদে দ্রুত শিরোনাম দখল করতে চেয়ে স্বঘোষিত ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালের ‘গণশক্তি’ অভিযানের ফ্লপ-শো এর চেয়েও বেশি হাস্যকর ছিল জয় ব্যানার্জী নামের লম্পটের ভাষণ। এগুলোই আমাদের আলোচ্যসূচী। একটা ফেকু বেওড়া মাল, না সে সিনেমা জগতে কোনো কিছু ঠিক করে করতে পেরেছিল, না বিজেপিতে জয়েন করে আহামরি কিছু করতে পেরেছে; অকাল কুষ্মান্ড হয়ে যা হয় আর কি। ঘরের বৌকে যে সামলাতে পারে না, সে আবার হুমকি দেয় মানুষজনকে মেরে জ্বালিয়ে দেওয়ার, অবশ্য এতে করে তার পেটে থাকা কুচো কৃমিগুলোও যে হেসে অস্থির সেটা পাঁচুইখোর জয়ের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তবুও প্রাত্যহিক জীবনের হরেক লড়াইতে ‘জয়’ দের মতো ক্লাউনের ‘সার্কাস’ দেখতে মন্দ লাগে না। আর এখানেই আমাদের বর্তমান নেতাদের সাফল্য, তারাও আমাদের সামনে এমন রামদাস আটাউলে, অনুব্রত, জয় ব্যানার্জির মতো গাম্বাটগুলোকে সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
এটাই আমাদের রাজনীতি সর্বস্ব গণতন্ত্রের বন্ধ্যা প্রসব। যেখানে পরিকল্পনাই নেই মেয়াদী জনস্বার্থে। কেউ বলার নেই, কেউ ভাবার নেই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...