সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

প্রাচীন ভারতে যুদ্ধ ইতিহাস ও মুসলমানঃ প্রাক কথন


প্রাচীন ভারতে যুদ্ধ ইতিহাস ও মুসলমানঃ আত্মবিস্মৃত পর্ব


প্রাক কথন
মুসলমান মানেই খুনে হিংস্র বর্বর জাতি, এটাই বর্তমানে ‘মনুবাদী-হিন্দুত্ববাদী’নাগপুরীয় দেশপ্রেমের মৌলিক স্তম্ভ। ‘মুসলমানেরাই আসলে এই ভারতবর্ষের যাবতীয় দুর্দশার জন্য দায়ী’, এই ইতিহাসই মোটামুটিভাবে পড়ানো শুরু হয়েছে সমাজের সর্বত্র। এর সাথে তো আছেই- বিভিন্ন গণমাধ্যম জুড়ে লাগাতার “মুসলমান=জঙ্গী”ও “মুসলমান=অশিক্ষিত বর্বর”এই দুই ইষ্ট মন্ত্রকে পুঁজি করে বানানো অসংখ্য নাটক, সিনেমা, উপন্যাস, গল্প, টিভি সিরিয়াল সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হরেক প্রচারণা।
এর দৌলতে খোদ মুসলমান ঘরের সন্তানদের অনেকে সারাক্ষণ অপরাধবোধ ও হীনমন্যতায় ভোগে। একটু লিবারাল কিন্তু পড়াশোনা বিমুখ ‘আধুনিক’ মুসলমান পরিবার নিজের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মাঝে কোনও আইডল খুঁজে পায় না, অথচ গোটা পৃথিবীজুড়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কমবেশি ১২০০ বছর ছেড়েই দিন, আমাদের ভারতবর্ষকে ৮০০ বছর শাসন করেছিল মুসলমান শাসকেরা, যাদের বদৌলতে আমরা আজকে মুসলমান। আসলে মুসলমানদের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইংরেজদের ২০০ বছরের শাসনের নামে লুন্ঠনের ইতিহাস আমাদের পাঠ্য, আমরা তাদের সম্বন্ধে পড়ছি, জানছি; কিন্তু যারা ৮০০ বছর ধরে হাজারে হাজারে সুলতান, নবাব দিয়ে গেল তাদের নাকি সবটাই কাপুরুষতার ইতিহাস। তাহলে মহাপুরুষ আর বীর কারা?
আমাদের শেখানো হয়েছে তৎকালীন বর্গী বা ডাকাত দলের সর্দার শিবাজী ভোশলের আজকের প্রজন্ম হচ্ছে বীর, যারা মুসলমান সুলতান-নবাবদের অধীনস্থ করদ রাজা বা জমিদার ছিল, তাদের প্রজন্মেরাই আসল বীর। ৮০০ বছরের নবাবী-সুলতানী আমলে তাদেরই গোমস্তা, কর্মচারীদের বংশধরেরাই আসলে বীর। সুতরাং, তাদের থেকেই বীরের আইডল খুঁজে নিতে হয়। মুসলমানেরা এদেশ থেকে লুন্ঠন করে নিয়ে যায়নি, তারা এখানেই এদেশের নাগরিক হয়ে মৃত্যু বরণ করছে। লুন্ঠন তো করেছে ইংরেজ, ফরাসিরা; যে ধারা আজও বহাল সুইস ব্যাঙ্কে টাকা পাঠানোর নামে, এটাও তো লুন্ঠনই- দেশে সম্পদের পাচার। অথচ আমাদের আইডল খুঁজতে একমাত্র এনারাই বিকল্প।
হ্যাঁ, আজকের ভারতীয় সংখ্যাগুরু সমাজে কি ‘আইডল’ হওয়ার মতো ব্যক্তিত্ব নেই! নিশ্চয়ই আছে, বহু বরেণ্য স্মরণীয় ব্যক্তিরা আছেন; কিন্তু তার সাথে মুসলমানেরা ভারতে ইসলামিক শাসনামলের জ্ঞানীগুণীদের বিষয়ে জানবে না? শুধুই শিখবে মুসলমানেরা বর্বর? নিজেকে সম্মান করার অর্থ তো অন্যকে অসম্মান করা নয়, আজকের মহান ব্যাক্তিরাও আমাদের আদর্শ হোক, সাথে সাথে আমরা আমাদের অতীতকেও জানি, এটাই তো সংস্কৃতির অঙ্গ হওয়া উচিৎ ছিল। বর্বরতা দিয়ে ৬ বছরের মোদী সরকার ল্যাজে গোবরে, আর মুসলমানেরা ৮০০ বছর রয়ে গেল শুধুই তরোয়ালের জোরে- এর চেয়ে হাস্যকর আর কিছু হয় না; কিন্তু এটাই আমাদের ইতিহাসের নামে গেলানো হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে। এটাই তো একটা জাতির কাছে সবচেয়ে বড় প্রহসন যারা আপন কৃষ্টির গৌরবময় অতীত জানে না, তারা তো দাসত্বই করবে।
আজকে অধিকাংশ ‘প্রগতিশীল’ মুসলমান, ইসলামী আদব কায়দা, চালচলন, বন্ধুবৃত্ত, খাওয়াদাওয়া সহ নিজের নামধাম থেকেও, পারলে মুসলমানত্বকে এক্কেবারে ধুয়ে পুঁছে ‘খাঁটি’ হিন্দুত্ববাদীদের ‘মতোন’ ‘আদর্শ’ করে তুলতে চায় নিজেদের। কারণ এদের জানানো হয়েছিল তোমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) একজন নারী লোলুপ বদলোক ছিলেন, নামধারী মুসলিম পরিবারগুলো এটাকেই ধ্রুব সত্য হিসাবে মেনেও নেয়। এছাড়া ‘জিহাদি’ মুসলমান মানেই মৃত্যু পরবর্তী ‘৭২ হুর প্রাপ্তির লোভনীয় গল্প’বাজারে দারুণ কাটতি; ‘মনুবাদীরা’ এদের জানায়নি যে, মাত্র ৪০-৫০ বছর আগেও এই মনুবাদীদের পূর্বপুরুষেরা কুল রক্ষার দোহাই দিয়ে বুড়ো বয়স পর্যন্ত শত শত কচি কচি মেয়েদের বিয়ের নামে প্রহসন করে নিজেদের বিকৃত যৌনতাড়না পূর্ণ করত। মানব জন্মেই তো তারা ৭২ বা তারও বেশি ‘হুর প্রাপ্তি’ করে নিয়েছে, এরপর স্বর্গে গিয়ে তাদের যৌনাঙ্গ দিয়ে বীর্য বের হতো, নাকি ‘The End’ লেখা স্লিপ! শুধু কি তাই! আরেকটু পিছিয়ে গেলে, ওই কুলীন বুড়োর মৃত্যুর পর ওনার প্রতিটি বিধবাকেও চিতাতেও তোলা হতো এই গত শতাব্দীতেও; যাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাসই এমন বিকৃত ন্যাক্কারজনক, তারা যে আজ ইসলাম, দলিত, কমিউনিস্টদের ইতিহাস বিকৃত করবে তাতে আর আশ্চর্য কোথায়!
বলা হয় সিনেমা, নাটক, টিভি সিরিয়াল নাকি সমাজের প্রতিচ্ছবি। সেখানে কী বাংলা, কী হিন্দি সিরিয়াল- সর্বক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি TRP পাওয়া ধারাবাহিক গুলো হচ্ছে- এক জন বিবাহিত পুরুষের একাধিক নারী সম্পর্ক, যার কিছু বৈধ বাকিগুলো অবৈধ। দেশের ১৪% তো মাত্র মুসলিম, বাকি ৮৬ শতাংশের ঠিক কত শতাংশের পরস্ত্রী বা একাধিক নারীতে তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলে এই ধরনের সিরিয়াল গুলো দিনের পর দিন জনপ্রিয় হয়ে রয়ে যেতে পারে!
আসলে এটাই তো সমাজের প্রতিচ্ছবি, মুসলমানেরা সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে বিয়ে নামের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে নিলে সে ম্লেচ্ছ বর্বর, বাকিরা ‘স্টেপনি’ হিসাবে মধু খেয়ে নিয়ে ও প্রয়োজন ফুরালে ছেড়ে দিলেই সে আধুনিক, সভ্য হয়ে যায়। মুসলমানেদের ইনস্ট্যান্ট তিনতালাক এদেশে সাজা যোগ্য অপরাধ, আর মোদীজীর মতো মানুষেরা তার অভাগিনী স্ত্রী যশোদা বেনকে ছেড়ে দিলে তা আইনের আওয়াতেই আসেনা, এটাই তো মনুবাদীদের হিপোক্রেসি। গুড়ের স্বাদ সকলেই পেতে চায়, মুসলমান দেখিয়ে ও বলে খায় বলে সে দোষী, বাকিরা প্রকাশ্য প্রতারণা করে বলে সে সৎ- এটা কোনো ন্যায়দন্ড ভাই? যদিও হিপোক্রেটদের কাছে ন্যায়ের আশা রাখেই বা কে?
...ক্রমশ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...