অখণ্ড শক্তিশালী ভারতই চীনের সমস্যা কারণ
এই মুহুর্তে ভারতের প্রয়োজন যেকোনো মুল্যে দেশের অখণ্ডতা বজার রাখার জন্য সবধরনের শক্তি নিয়ে ঝাঁপানো, দলমত নির্বিশেষে। সাম্রাজ্যবাদী চীনের লক্ষ্য ব্যবসা, তার জন্য নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ বা শ্রীলংকার মত ছোট ছোট দেশ সৎ হবে তাদের জন্য তা ততই সহজ হবে নিয়ন্ত্রণ। ভারতের মত বৃহৎ জনশক্তি ও সেই মানানে অর্থ ও সমরশক্তি বিশিষ্ট দেশ যে সব সময় অন্য সকল ‘আমরা পৃথীবি শাসন করব’ ভাবনার দেশ গুলোর জন্য যে অন্তরায় সেটা বলাই বাহুল্য। আর এই জন্যই আমেরিকা, ইজরায়েল সহ রাষ্ট্রপুঞ্জ কেউ সামান্যতম নিন্দা টুকু করেনি চীনের এই অবৈধ অগ্রাসনে, মোদী সরকারের ব্যর্থ বিদেশনীতি আজ উলঙ্গ হয়ে গেছে। তাই কাদা ছড়াছুড়ি না করে দেশের অখন্ডতার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে শত্রু মোকাবিলা করা হোক, কূটনৈতিক স্তর সহ অস্ত্রের ঝনঝনানিতেও।
গালওয়ানের পর সাম্রাজ্যবাদী চীন এবারে আবার ডোকালাম অঞ্চলে অশান্তি বাঁধাবার তাল করেছে, চীন বুঝে গেছে স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভারতে ফাঁপা ডায়লগবাজি সর্বস্ব ‘দুর্বল সরকার' গঠিত হয়েছে, যাদেরকে আক্রমণ করাই যায়। তার উপরে সারেন্ডার মোদীর চীনের কাছে প্রায় আত্মসমর্পন একপ্রকারে ভারতীয় সার্বভৌমত্ব ও সেনার গরিমাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। আমেরিকার চামচাগিরি করতে গিয়ে পড়শি সব কটি দেশের সাথে সম্পর্ক তলানিতে, ভুটানও চীনা সেনাদের মদতে তলে তলে ছোবলের প্রতীক্ষায় করছে, নেপাল তাদের সীমান্ত অঞ্চলে ভারী নির্মানে হাত লাগিয়েছে, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা তো অফিশিয়ালি চীনের উপনিবেশ- বাকি বাংলাদেশ; তাহলেই ষোলকলা পূর্ণ হয়।
ভারতের রাষ্ট্রনেতারা বিদেশ কূটনীতি ভুলে, দেশের মানুষকে পড়ুন (মুসলমানকে) রাষ্ট্রহীন করতে NRC এর নীলনক্সা আঁকতে ব্যাস্ত ছিল, ব্যাস্ত ছিল দেশের মাটিতে জাতিদাঙ্গা সংগঠিত করিয়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ দ্বারা রাজনৈতিক ক্ষমতা সুনিশ্চিত করা। তার জন্য জঙ্গি যোগসাজশে RSS নামের দেশদ্রোহী সংগঠন পাঠানকটের মত পরিকল্পিত হামলা সংগঠিত করেছিল, যাতে দেশের মানুষের কাছে সেনামৃত্যুর আবেগ দেখিয়ে ভোটে জেতা যায়, ভোটে তো জিতে এসেছে- কিন্তু এভাবে নিজের সেনা যারা নিজেরা খুন করে সেটা কি বিদেশী শক্তি লক্ষ্য করবেনা? যখন প্রতিপক্ষের নাম চীন, যারা কমিউনিজমের ভেকধারী নব্য পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদ- তারা সুযোগ কাজে লাগিয়েছে পূর্ণ ভাবে।
অধিক মার্কিন ঘনিষ্টতা পুরাতন বন্ধু রাশিয়াকে রিঙের বাইরে করে দিয়েছিল, নতুন কোনো বন্ধু তো জটাতে সক্ষম হয়নি উপরন্তু শত্রু বাড়িয়েছে। মোদী সরকারের বিদেশনীতি আসলে স্বপার্ষদ মোদীর ব্যাক্তিগত ভ্রমণের ইচ্ছাপূরণ ছাড়া কোনও কাজে আসেনি।
ফেসবুক বা টুইটার তো আর পরীক্ষার হলের প্রশ্নপত্র নয় যে উত্তর অজানা থাকবে, তাই সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিটি ভক্ত সব প্রশ্নের জবাব নিয়ে হাজির, সেটা বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হোক বা না হোক। উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে রাখা ‘পবিত্র বিশ্বাসী’ভক্ত প্রজন্ম তৈরি করার কৃতিত্ব নিশ্চয়ই দাবী করতে পারে ‘সঙ্ঘ পরিবার’, কিন্তু এর মাশুল চরম মূল্যে দিতে হবে আগামী প্রজন্মকে।
কিন্তু সঙ্ঘ-পরিবারের কী যায় আসে! তারা তো ঐতিহ্যগতভাবেই উপনিবেশের পক্ষে, আগে ব্রিটিশ ছিল এখন না হয় চীন হবে!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন