মিথ্যেন্দ্র ধোঁকাদাস ফেকু
‘তিনি’ গালওয়ান উপত্যকা ও দেশের ভূখণ্ডে অবৈধ চীনা অগ্রাসন সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে চলেছেন অনর্গল, এতে আমরা আশ্চর্যান্বিত নই; কারণ এটাই তার পরম্পরা, ঐতিহ্য। উনি যাদের আদর্শ তারা এই মিথ্যাটিকেই অলঙ্কার বলে মনে করেন।
• তিনি তার শৈশবের গল্পগুলি সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি তার শৈশবের কুমির সম্পর্কে মিথ্যা রটনা ছড়িয়েছেন।• তিনি ভাদনগর রেল স্টেশনে চা বিক্রি সম্পর্কে ডাহা মিথ্যা কথা বলেছেন• তিনি তার পড়াশুনা ও ডিগ্রী সম্পর্কে নিখাদ মিথ্যা বলেছেন।• তিনি তার বিবাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি তার স্ত্রী ‘যশোদা বেন’ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিলেন।• তিনি তার ৫৬ ইঞ্চি বুকের মাপ নিয়ে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি তার ‘ই-ইমেল ও ডিজিটাল ক্যামেরা’ ব্যবহার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিমি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন, গুজরাটে চীনা ব্যবসায় সমর্থন করার বিষয়ে তিনি মিথ্যা বলেছেন।• তিনি ‘প্রতি একাউন্টে ১৫ লক্ষ পৌঁছে যাবে’ নামের মিথ্যা বলেছেন।• তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি ‘পুলওয়ামা’ জঙ্গি হামলা নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন।• তিনি ‘আচ্ছে দিন’ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছিলেন।• তিনি ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ সম্বন্ধে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি পেট্রোলিয়াম তেলের দাম সম্পর্কে বলেছেন।• তিনি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছেন।• তিনি নতুন চাকরির ‘সৃজন’ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি তার ব্যর্থ অর্থনীতি ও তার ফলস্বরূপ মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি কালো টাকা সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি বুলেট ট্রেন সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি নোটবন্দী সম্পর্কে ভুরিভুরি মিথ্যা বলেছিলেন।• তিনি ইতিহাস বিকৃত করে নিয়মিত মিথ্যা বলেন।• তিনি তার সব অক্ষমতা দুর্বলতা ঢাকতে নেহেরুর উপর দোষ চাপাতে মিথ্যা বলেন।• তিনি ‘গাটার গ্যাস’ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছেন।• তিনি বিদেশী ‘অভিবাসীদের’ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি লাল আঁখ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি CAA-NRC সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি দেশের করোনা-সংকট সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছেন।• তিনি পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন।• তিনি PM Care সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি ‘প্রধানমন্ত্রী তহবিল’ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছেন।• তিনি করোনাকালের আর্থিক ‘প্যাকেজ’ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি করোনার অজুহাতে বিশ্ব থেকে বিপুল ঋণের বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি দেশের সেনা অপহরণ নিয়ে মিথ্যা বলেছেন।• তিনি এমন একটা প্রাণী- যার গোটাটাই রাশি রাশি মিথ্যাচার।
যেকোনো দাঙ্গা, মুসলমানের উপরে মব লিঞ্চিং, দলিত হত্যা, লেখক হত্যা, সঙ্ঘ পরিবারের শাখা সংগঠনগুলোর জঙ্গীপনা, নেপাল-ভুটান সমস্যা সহ, বহু সংবেদনশীল বিষয়ে মুখে ছিপি এঁটে তামাশা দেখেছেন, মুখ ফসকে টুঁ শব্দটুকু করেননি।
তার হিম্মৎ বা মুরোদ হয়নি, প্রধানমন্ত্রীত্বকালে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করার; কারণ এগুলো করতে গেলে পুরুষত্ত্ব লাগে, তিনি ময়ূরপুচ্ছধারী কাক। আদতে তিনি হলেন উভলিঙ্গ কিন্নর, সে বিষয়েও মিথ্যাচার করেছেন। যে দেশীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের (চামচা নয়) সামনে আসতে ভয় পায়, সে শত্রুদের সামনে কীভাবে লড়বে? কীভাবে বীর সেনারা তার মতো ক্লীব রাষ্ট্রপ্রধানকে সামনে রেখে শত্রু সংহারে যাবে?
‘তিনি মিথ্যা কথা বলেননি’ এমন কিছু আছে কি? দেশজ মিডিয়া হাউজ ‘গোদি মিডিয়া’কে অর্থের দ্বারা খরিদ করে তাদের দিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েই তো আর রাজনৈতিক উত্থান।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফেকু, ধোঁকাবাজ, ও ভীতু ‘সেন্ডিপড’ সদৃশ্য প্রাণী।
এত মিথ্যাচারের পরেও মোদী কেন জিতল, কারণ ইহুদী জায়নবাদীদের দ্বারা ১০০% নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা মিডিয়ার প্রোপাগান্ডায় ‘মুসলমান মানেই জঙ্গি’ এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে গোটা বিশ্বের জনমানসে; ভারতও যার ব্যতিক্রম নয়।
ভারতেও এমন কিছু সুবিধাবাজ, ধান্দাবাজ, ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যক্তিবর্গ আছে যারা সমাজের বুকে বিভেদ সৃষ্টি ও জিইয়ে রাখার মাধম্যে নিজেদের আখের গুছিয়ে রাখতে চায়। কিছু অশিক্ষিত বিকৃতমনস্ক ‘মানুষের’ অন্তরে বাস করা হিংসা, বিদ্বেষ ও ঘৃণাকে, ‘ইসলামবিরোধী দেশভক্তি’র সমার্থক করে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে মোদীর মেকানিজম। যে পদ্ধতিতে ব্রেন ওয়াস করে ইসলামী জঙ্গি সংগঠনেরা মানববোমা বানায়, এদের ভক্ত তৈরির পদ্ধতিও হুবহু নকল।
জাতীয় কংগ্রেসের ব্যর্থতা, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, আর RSS এর পরিকল্পিত বিভাজনমূলক এজেন্ডার ফাঁদে পড়ে গেছে প্রায় ৩০% মূর্খ জনগণ; যারা মনে করেছিল ১৪% মুসলমানই বাকি অমুসলিম ৮৬% এর যাবতীয় দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী। এই ৩০%ই, সাম্প্রদায়িক উত্তেজক কথাবার্তা বলা RSS এর মুখ- মোদীকে নিজেদের ত্রাতা হিসাবে আঁকড়ে ধরেছিল।
RSS ও মোদীর সহযোগিতা করার জন্য মমতা, মায়াবতী, জয়ললিতা, নীতিশ কুমার, নবীন পট্টনায়ক, প্রকাশ আম্বেদকর, আসাউদ্দিন ওয়াইসির মতো ছদ্মবেশী দালালদের দিয়ে দলিত ও মুসলমানদের মাঝে মেরুকরণ করে, বিজেপি বিরোধী ভোটকে শতভাগে বিচ্ছিন্ন করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর সাথে গোটা ভারতের প্রতিটি রাজ্যের প্রতিটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সরাসরি মদত দেওয়ার ঐতিহ্য অতি সুপ্রাচীন, তারাও বিজেপি বিরোধী বিপুল অংশের জনগণকে নিয়মিত বিভ্রান্ত করে বহু দ্বন্দ্বে খণ্ড খণ্ড করে দিতে সক্ষম হয়েছে, ফলস্বরূপ বিজেপির পক্ষে ওই ৩০-৩৫% ভোট একবাক্সে জমা হতেই এই দেশদ্রোহী শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় চলে এসেছে।
আজ ফলাফল চোখের সামনে, সেই মানুষগুলো যারা ১৪% মুসলমানদের ভয়ে মোদীকে ভোট দিয়েছিল তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অদৃষ্টের পরিহাসে, দারিদ্রতা, বেকারত্ব, অনাহার, যন্ত্রণাক্লিষ্ট যহ নানান দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে- কারণ তাদেরই ধাপ্পা দিয়ে ‘মিথ্যুক’ নিজে ও তার সহযোগী ষড়যন্ত্রকারীদের ভোগ ও সম্পদ আহরণের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে।
আজ আর নতুন করে হিন্দু-মুসলমান, মন্দির-মসজিদ, গরু-শুয়োর খাবে না বা খাচ্ছে না। নোটবন্দী, জিএসটির পর অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে কাজ খোয়ানো কোটি কোটি ‘ভক্ত সম্প্রদায়ের’ পেটে এখন রুটির খিদে; মুসলমান তাড়ানোর গল্প ভুলে এখন অনাহারক্লিষ্ট সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চলছে। আজ ভক্ত সম্প্রদায়ের তুলনাতে কমিউনিস্ট বা আম মুসলমানেদের অবস্থা তুলনামূলক ভাবে ভাল জায়গাতে রয়েছে, কারণ বিজেপি ও সঙ্ঘপরিবার এই মুসলমান ও কমিউনিস্টদের উপরে নিয়মিত অন্যায় অত্যাচার করতে করতে তাদের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাঁচার কৌশল শিখিয়ে দিয়েছে, শিখিয়ে দিয়েছে কীভাবে একত্র হয়ে সদ্ভাব রেখে সকলকে নিয়ে বাঁচতে হয়। কমিউনিটি বন্ডিং দৃঢ় হয়েছে এদের মাঝে, যা আগের থেকে অনেক বেশি।
আজকে চীন, নেপাল, ভুটনা তো বাহানা মাত্র- আসলে এ হলো ওই ৩০% মানুষের বোকামির দন্ড, তাদের অন্তরে চাষ করা ঘৃণার ফসল কেটে যারা লাভ নেওয়া নিয়ে গেছে, এখন ধুধুল চুষছে ওই ৩০-৩৫% ভক্ত, যারা মূলত বিজেপির ভোটার। মহার্ঘ পেট্রোলিয়াম কি শুধু মুসলমান আর কমিউনিস্টদের কিনতে হচ্ছে? নাকি দুর্মুল্য বাজারে অগ্নিমূল্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি শুধু মাত্র মুসলমানদের জন্য! দেশপ্রেমিক বিজেপিদের জন্য কি কোনো আলাদা কাউন্টার আছে? আছে শুধুই ভাঁওতা, যে ভাঁওতাকে তারা অলঙ্কার করে মোদীর মতো ব্লাফমাস্টারকে গদিতে এসেছিল, মাস্টার যথারীতি তার মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে গেছে বা যাচ্ছে।
মুসলমানেরা বা কমিউনিস্টরা আর আশ্চর্য হয় না, মুসলমান বিদ্বেষী ৩০% এর দল সময়ের মারে ‘আশ্চর্য’ হতে ভুলে গেছে। বাকিরা তো ক্লীব নপুংশক, না ঘরকা না ঘাটকা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন