মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

প্রাচীন ভারতে যুদ্ধ ইতিহাস ও মুসলমানঃ ২



প্রাচীন ভারতে যুদ্ধ ইতিহাস ও মুসলমানঃ আত্মবিস্মৃত পর্ব

দ্বিতীয় কিস্তি

ইতিহাসের আহমেদ শাহ্ আবদালি হোক বা নাদির শাহ্, প্রতিটি মুসলমান শাসকের ভারত আক্রমণের দায়ের বেশ কিছুটা অংশ আজকের মুসলমান ছেলেপুলেদের কমবেশি বইতে হয়, যদিও ঠিকঠাক ইতিহাস না পড়ার দরুন অধিকাংশ ছেলেপুলে জানেই না এনারা কারা। কিন্তু ক্ষমতাসীন, সংখ্যাগুরু জনগণ বা রাষ্ট্র যখন প্রশ্ন তুলেছে তখন হয়ত বা ‘আমরাই’ দায়ী এর জন্য- এমনটা মেনে নিয়ে আমরা মুসলমানেরা চুপ থেকে যাই। একজনও মনুবাদীকে দেখবেন না কোনো শিক্ষিত মুসলমানকে এরা যত্রতত্র পেটাচ্ছে তথা ‘মব লিঞ্চিং’ এর শিকার করতে পেরেছে। শিক্ষিতদের জন্য আইনের নামের প্রহসন আছে, যেখানে লড়াইয়ের জন্য অল্প হলেও ‘সময় ও সুযোগ’ পাওয়া যায়। মব লিঞ্চিং এর জন্য এদের লক্ষ্য অশিক্ষিত গরীব মুসলমান বা দলিত।

তাই এই মব লিঞ্চিং বা অপবাদের যতটা দায় তাদের, তার চেয়ে আমাদের দায় কম কিছু নয়, কারণ এদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আমরাই আমাদের উত্তর প্রজন্মকে দিতে পারিনি। আমরা এই মনুবাদীদের নকল করতে গিয়ে নিজস্ব সত্ত্বাকেই হারিয়ে বসেছি; আর আত্মবিস্মৃত জাতির জন্য লাঞ্ছনাই তো একমাত্র পুরস্কার। ইসলাম কোনো ধর্মকে অপমান করার শিক্ষা দেয় না, যারা এটা করে তারা যে ধর্মেরই হোক সেটা ওই ব্যক্তি বা তাদের গোষ্ঠীর বিকৃত ব্যাখ্যা, যা নিজ স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য অপব্যাখ্যা করেছে। মনুবাদীরা আবার মধ্যযুগের অন্ধকারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে সমাজকে, সূর্য সিদ্ধান্তের নামে জ্যোতিষ আর জ্যামিতিকে মিশিয়ে দেওয়া হোক বা গণেশের মুণ্ডুর প্লাস্টিক সার্জারির তত্ত্ব- আমাদের শেখানো হচ্ছে এটাই আসলে আধুনিকতা, যেমন পশ্চিমারা ‘উলঙ্গ সভ্যতাকে’ আধুনিকতা হিসাবে জাহির করে।

এরা কেউ যেটা স্বীকার করে না যে, ভারতের দীর্ঘ ৮০০ বছরের ইসলামিক শাসনামলে যদি অমুসলিমদের উপরে অত্যাচারই করত তাহলে আজও কেন অমুসলিমরা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৮৬%? এই তথ্য শুধালেই আপনাকে প্রথমেই দেশদ্রোহী বলে দেগে দেবে; তারপরেও যদি আপনি বাগে না আসেন- আপনার জন্য থাকবে UAPA এর মতো আইন, একবার গারদে ভরে দিলে তো ভারতীয় আইন ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা সহ জাস্টিস রঞ্জন গগৈ এর মতোন দালালদের খপ্পরে পরে জীবন শেষ হয়ে যাবে, নতুবা জাস্টিস লোয়া।

বর্তমানের ‘হিন্দুত্ববাদী’ শাসকেরা তথ্য ও যুক্তির ধার ধারে না, যেমন তালিবান বা আইসিস জঙ্গি গোষ্ঠীরা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেনা, আল্লাতন্ত্রের বদলে এরা মোল্লাতন্ত্র কায়েম করে ক্ষমতা ভোগ করে। আসলে স্থান কাল পাত্র ভেদে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ধর্মের মোড়কে ভেক বদলায়, এদের উদ্দেশ্য ও বিধেয় একটাই- ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা দখল’; আর তার জন্য একটা শত্রু খাড়া করতে’ই হয়। হিটলার ইহুদীদের শত্রু সাব্যস্ত করেছিল দেশপ্রেমের প্রতিরুপ হিসাবে, এদেশীয় ব্রাহ্মণ্যবাদীরা মুসলমানেদের সেই স্থানে নিয়ে গেছে।

আপনাকে সুচারুভাবে শেখানো হয়েছে মুসলমানেরাই একমাত্র হিংস্র খুনি লুঠেরা জাতি, এরাই ডজন ডজন বাচ্চা দেয়। এরা যেটা বলেনা- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ থেকে প্রণম্য স্বামী বিবেকানন্দ, এনারাও প্রায় ডজন খানেক ভাইবোন ছিলেন; কিন্তু ওই- যে যা করে করুক, দোষ কেবল মুসলমানের।

এই দোষীদের তালিকাতে আরেকটা নামও এদের হিটলিষ্টে, সেটা হলো কমিউনিস্টরা। আচ্ছা, একটা কথা আমি বুঝিনা যে, পশ্চিমা মিডিয়া সহ আমাদের সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন রাজনৈতিক মুখ, যেমন বিজেপি, তৃনমূল, শিবসেনা, আকালি, বিজেডি প্রমুখেরা বলে কমিউনিস্ট দেশে গণতন্ত্র নেই, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নেই; সেখানে ডিক্টেটরশিপ চলে ইত্যাদি ইত্যাদি। মোদ্দা কথা কমিউনিস্টদের পোঁদে গু, কারণ তারা বর্বর ও ম্লেচ্ছ গোষ্ঠী। এরই সাথে সাথে তারা প্রতিদিন বিভিন্ন মাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ করে যে, কমিউনিস্ট শাসিত দেশের মানুষ ঠিক কতটা অত্যাচারিত, কতটা লাঞ্ছিত; কোথায় কোথায় তারা গণ বিদ্রোহের আঁচ পাচ্ছে, সে দেশের ক্ষমতাসীন নেতারা কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি বুঝে পাইনা, এরা কোত্থেকে তাদেরই ভাষাতে ‘অগণতান্ত্রিক কমিউনিস্ট’ শাসিত দেশ গুলোর খবর যোগাড় করে, কীভাবে? তারা বিদেশী হয়ে যখন ‘গোপন’ খবর আনতে পারছে তাহলে সেখানে সাধারণ মানুষদেরও ‘গণতন্ত্র বা স্বাধীনতা আছে’; নতুবা তারা প্রতিদিনিই গালগল্প বানিয়ে কেচ্ছাকাহিনি প্রকাশ করে ‘নিজস্ব সংবাদদাতা’ নামের বেশ্যাবৃত্তির পিছনে। দুয়ের যেটাই সত্য হোক, তারা যে প্রকাশ্য মিথ্যাচার করে এ বিষয়ে- তা নিয়ে কোনও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের অন্তত কোনও সন্দেহ থাকা উচিত না।

আচ্ছা বলুন তো, স্বৈরাচারী কিম-জং-উন একটাই ‘পোষ্ট’ তাদের দেশে, এটা ঘোষিত। আমাদের রাজ্যেও তো ‘মান্নিয়া’ বাদে সবই ল্যাম্পপোস্ট- তারজন্য কি মান্নিয়াকে কমরেড হতে হয়েছে? মান্নিয়া ছাড়া একজনের নাম বলুন যার শিরদাঁড়া আছে, যিনি পুরুষ! দিব্বি হিজাব পরিধান করে দুর্গা কার্নিভালে চলে যেতে পারেন ভেকধারী হয়ে। আসলে সমস্যাটা তো ব্যক্তি কেন্দ্রিক, পুঁজিবাদী-মৌলবাদী বিশ্ব এদেরকে একটা ‘কমন’ ছাঁচে ফেলে দিয়ে নিজেদের স্বার্থে চরিতার্থ করে- যার নাম কখনও ইসলামোফোবিয়া কখনও কমিউনিজমফোবিয়া। পুরুষত্বহীনেদের বীরত্বই বিভাজনে।

অনেক ভণিতা হলো, মূলত যুক্তি ও তথ্য দিতেই এই প্রবন্ধের অবতারণা, নিজের বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে আপনিই বিচার করবেন, কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা অপপ্রচার। এরপর আমরা একে একে পর পর ভারতবর্ষের বিভিন্ন সাম্রাজ্য ও তৎকালীন সময়ের যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। এতে করে বুঝতে সুবিধা হবে এদেশের মাটিতে ইসলাম ও কমিউনিস্ট ভাবাদর্শ আসার আগে ঠিক কতটা ‘মৌনী’ জাতি সকল বসবাস করত। চলুন মূল প্রবন্ধে যাওয়া যাক-

... ক্রমশ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...