এবছর যখন দেশীয় কোভিন-১৯ প্রতিষেধক কোভ্যাক্সিনের ট্রায়াল শুরু করেছিল আইসিএমআর ,তখন পূর্ব ভারতে প্রাথমিকভাবে পটনায় টীকাটির ট্রায়াল ডোজ গ্রহণের সুবিধা ছিল।পশ্চিমবঙ্গের আবেদনকারী হিসেবে দুর্গাপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর এ রাজ্য থেকে তখন টীকাটির ডোজ নেওয়ার সুযোগ পান আবেদনকারীদের মধ্য থেকে।যদিও পরবর্তীতে ভুবনেশ্বরে গিয়ে তাঁকে টীকাটির ডোজগুলি নিতে হয়েছিল।স্বাভাবিকভাবেই এই মানবিক উদ্যোগটি যথাযথ প্রচার পেয়েছিল,এমনকী ভারত সরকারের নিজস্ব প্রচারযন্ত্র পিআইবি(প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো)ও ফলাও করে ওই সংবাদটি প্রকাশ করেছিল।
অতি সম্প্রতি কোভ্যাক্সিনের ট্রায়াল এ রাজ্যেও শুরু হয়েছে।আর তার প্রথম ডোজটি নিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম,যিনি কলকাতা পুরনিগমের বর্তমান প্রশাসকও বটে।
স্বভাবতই মিডিয়িকুলও এই ঘটনা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই প্রচার করছে।
কিন্তু এই নিয়ে বিজেপির সেই বিখ্যাত আইটি সেলের ঢঙে অশ্বত্থামা হত ইতি কুঞ্জর স্টাইলে খেলা শুরু করলেন বর্তমান পত্রিকার একদা প্রখ্যাত সাংবাদিক ,বিজেপির টিকিটে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হিসেবে পরাজিত তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নিজস্ব মুখপত্র 'স্বস্তিক'(বাংলা সংস্করণ)এর কার্যনির্বাহী সম্পাদক রন্তিদেব সেনগুপ্ত।
তিনি বলছেন--- এরাজ্য থেকে কোভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজ নিয়েও চিরঞ্জিৎ ধীবর কোনও প্রচারে আসতে চাননি,কিন্তু ফিরহাদ হাকিমের টীকার ডোজ নেওয়া নিয়ে সুকৌশলে প্রচার চলছে। ব্যস এই পোস্ট হুড়মুড়িয়ে বিজেপি সমর্থক রা শেয়ার করছেন।
প্রকৃত ঘটনা:
দেশীয় টীকা কোভ্যাক্সিনের প্রথম ট্রায়াল(তখন এরাজ্যে ট্রায়াল চালায়নি আইসিএমআর) এরাজ্য থেকে প্রথম নিয়েছিলেন চিরঞ্জিৎ ধীবরই।চিরঞ্জিত বাবুকে নিয়ে ও প্রচুর প্রচার হয়েছিল।উল্লেখ্য চিরঞ্জিত বাবু আরএসএসের সক্রিয় সদস্য ও কিছুদিন আগে দুর্গাপুর অঞ্চলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে বিজেপির টিকিটেই লড়েছিলেন।
আর এরাজ্যে যখন আইসিএমআর ও ভারত বায়োটেক রাজ্য সরকারের সম্মতিতে কোভ্যাক্সিন টীকারই এই রাজ্যের জন্য ট্রায়াল চালু করল,তখন এরাজ্যের ট্রায়ালে ফিরহাদ হাকিম প্রথম ডোজ নিলেন।
এই ঘটনাকে নিয়েই রন্তিদেববাবু আইটি প্রচারটি যে উদ্দেশ্যে চালাচ্ছেন,তার অভিমুখ কোন দিকে তা বিজ্ঞ পাঠক নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন!
এরকম আইটি অপপ্রচার রোধে আপনিও সদর্থক ভূমিকা রাখবেন,রাজনৈতিক রঙ নির্বিশেষে--এই আশা রাখি।
লেখাঃ তন্ময়
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন