আজ পর্যন্ত কতজন ছাত্র যুব স্বেচ্ছাসেবক এই খয়রাতি শ্রমদান করতে গিয়ে আইসোলেশনে রয়েছে ও কতজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এই সচেতনতা মূলক তথ্যগুলো সেবামূলক মহৎ কাজের প্রদীপের নিচের আঁধারে হারিয়ে যাচ্ছে, কেন? কাকে সুবিধা দিতে?
এই রেড ভলেন্টিয়ার্সদের অতিমানবীয় দৈনিক কর্মকাণ্ডের প্রচারনা দিয়ে কাদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে চাইছেন?
রেড ভলেন্টিয়ারেরা নিশ্চিত অতিমানবিক কাজ করছে, যা ইতিহাস মনে রাখবে- কিন্তু কিছু প্রশ্নের জবাব কে দেবে?
সুস্পষ্ট জিজ্ঞাসা
××××××××××
১) রেড ভলেন্টিয়ারদের বেশিরভাগই সাধারণ ছাত্রছাত্রী, একেবারেই কোথাও কোনো ট্রেনিং নেই- কীভাবে করোনার সাথে যুদ্ধ করতে হয় সেই ব্যাপারে। না রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান। তাহলে কোন যুক্তিতে এভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে?
২) প্রয়োজনীয় সংখ্যায় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে কিট নেই করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। সামান্য কাপড়ের মাস্কই ভরসা, উচ্চসুরক্ষিত N-95 মাস্কটুকুও নেই। এমতাবস্থায় এরা, বিভিন্ন পজিটিভ রোগীর বাড়ি গিয়ে সংক্রামিত হলে অনেক ভলেন্টিয়ারকে দেখে বোঝার উপায় থাকছে না শুরুতে। ফলত এরা অনেক সময় উপসর্গহীন বাহকেরও কাজ করতে পারে৷ এদের মাধ্যমেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে না তো?
৩) তাছাড়াও এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নিজেরা সংক্রমিত হয়ে গেলে এদের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করাবার কোন পরিকল্পনা কে নেবে? পার্টি কি দায়িত্ব নিয়েছে?
৪) ইউনিসেফ, রেড ক্রশের স্বীকৃত ভলেন্টিয়ারিয়ারি সার্ভিসে থাকা সভ্যদের মোটা অঙ্কের ইনসুরেন্স করানো থাকে, যদি তারা আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে ইনসুরেন্স কাজে আসে। রেড ভলেন্টিয়ার্সদের করানো হয়েছে কি?
৫) ফেসবুকে এই খয়রাতি শ্রমের স্বপক্ষে যারা ক্রমাগত লিখছেন- তাদের কজনের ছবি দেখেছেন রাস্তায় দৌড়াতে? শুধান- আপনি কয়টি স্থানে গেছেন? আপনার বাড়ির কতজন রেড ভলেন্টিয়ার্স । রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি দূরের কথা, এরিয়া কমিটির কতজন সিনিয়র সদস্যের ছেলেমেয়েরা রেড ভলেন্টিয়ার্স এর সাথে যুক্ত, যারা মাঠে নেমে সরাসরি করোনা রোগীদের ঘরে/বাড়িতে যাচ্ছেন!
এবারে প্রশ্নটা নিজেকে করুন, উত্তর পেলে নিজের সন্তানকে কেন নামাননি সেই জবাবটা দেবেন দয়া করে।
আর 'CPIM Digital' নামের যে রিঙটাল সংস্থার মস্তিষ্ক প্রসূত এই বৈপ্লবিক ভাবনা- তারা কেউ কি রাস্তায় নেমেছে? নামলে তাদের ছবি কই? না নামলে - নিজেরা সেফ জোনে থেকে পরের ছেলেকে পরমানন্দ সাজিয়ে নামিয়ে কার লাভ করানো হচ্ছে? এটা কমিউনিস্ট আন্দোলনের কত নম্বর ধারার বিপ্লব? এরা কেউ কি নিজেদের দলের ছেলেমেয়েগুলোর সুরক্ষার জন্য কোথাও ১টা শব্দ লিখেছে? বলেছে এদের জন্য বিমার কথা?
আমি নিজে ইউনিসেফের হয়ে দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি দেশ ও দেশের বাইরে নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে ব্রতী ছিলাম, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সহ আফ্রিকার পশ্চিম আফ্রিকার সোমালিয়া, পূর্ব আফ্রিকার অন্তত ৭টা দেশে একাধিকবার গেছি। ভিয়েতনাম গেছি, মায়ানমার গেছি, ফিলিপিন্স গেছি, ইষ্ট ব্লকের সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, ইউক্রেনে গেছি। দেশের মধ্যে চা বাগান, জঙ্গলমহল, চা বাগান, ঝাড়খণ্ড, বাস্তার, কর্ণাটকের আদিবাসীদের উপরে আমরা কাজ করে এসেছি। তাই বিষয়টার কর্মপন্থা সম্বন্ধে অনেকের মতই অল্পস্বল্প জানি। আমাদের রেড ভলেন্টিয়ার্সের নামে যা হচ্ছে এটা আইনত অপরাধ। কেউ যদি মামলা করে কী হবে তার হুঁশ আছে? আমাদের দেশে তো কেউ আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
বিশেষ ভাবে দেখা যাচ্ছে, এসি ঘরে বসা খুব মাঝারি মানের নিম্নমেধার নেতা ও তাদের তল্পিবাহক চ্যালা চামুন্ডারা, যারা মূলত ভারতের অন্য রাজ্যে বা ভিনদেশে বাস করে, এরাই বাস্তবতা উপেক্ষা করে সমাজতন্ত্রের শখের পোলাও বানাচ্ছে আমার আপনার ঘরের ছেলে মেয়েটিকে নিয়ে। আদর্শের নাম করে আত্মহত্যার উস্কানি দেওয়া চলছে৷ সারাদিন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার বাপান্ত করে এনারা, কিন্তু রেড ভলেন্টিয়ার নিয়ে একটা সংবাদ ছাপলেই এরা বাপের বিয়ের বরযাত্রীর মত ধেইধেই করে নাচতে শুরু করে দিচ্ছে প্রায় উলঙ্গ হয়ে।
এর সাথে রয়েছে রাস্তাঘাটে মারধোর খাওয়া, ফোনে উত্যক্ত করা- বিশেষ করে মহিলা কমরেডদের। এগুলো তো বোনাস হিসাবে জমছে। ইনবক্স বা ফোনে তাকে আদর্শের নামে 'চে-লাইট' হিসাবে আখ্যায়িত করে আবার গ্যাস ভরে দেওয়া হচ্ছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত অত্যাচার থেকে সুরক্ষা কে দিচ্ছে? কীভাবে দিচ্ছে?
অথচ অক্সিজেন অন হুইলস নামের একটা সংস্থা- প্রশিক্ষিত কর্মীদের সাহায্যে এই কাজটা চালাচ্ছে, তাদের সাধ্যমত ছোট আকারে। যেমন মাচা, তেমন তো নাচা। এরা নির্বোধের মত- পর্যাপ্ত পিপিই হীন, উন্নত মাস্ক হীন, স্যানিটাইজার হীন, গ্লাভস হীন, রসদ হীন, আপদকালীন চিকিৎসা বিহীন, প্রশিক্ষন বিহীন নয়- সর্বোপরি বিমা নেই এমন কাউকে রাস্তায় নামায়নি- এই ভয়ানক ছোঁয়াচে রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধে।
Dialectical materialism তত্ত্বে সজীব অংশটা মানুষ, বাকিটা জড়। যারা নড়তে চড়তে পারে না সেই অপদার্থগুলো আসলেই জড়, যতই দেখতে মানুষের মতো লাগুক। মার্ক্স বলেছেন স্বত্তা চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করে, চেতনা স্বত্তাকে নয়। আপনি "রিংটালের" গ্যাস খেয়ে স্বত্তা ও চেতনা দুটোই খুইয়ে ভুলে গেছেন আপনি কখনও মানুষ ছিলেন- এখন আপনি কোনো নেতার অন্ধ ভক্ত হয়ে সমানে লেহন করে চলেছেন কিম্বা নিতান্তই শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া জড় পদার্থ।
আপনি আদৌ কমিউনিস্ট নন, যদি আপনি আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েদের এভাবে সুরক্ষাবিহীন রাস্তায় নামিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করেন, আপনি একজন বিকৃত মস্তিষ্কের উন্মাদ। করুণা হয় আপনাদের জন্য।
নতুন করে মার্ক্সবাদ পড়ুন, কারণ মার্ক্সবাদ সত্য। স্বত্তাকে জীবত করে, মানুষ হয়ে উঠে চেতনাবান হন, এই সময় আপনার চেতনা ভীষণ প্রয়োজন কমিউনিস্ট সমাজে। নতুবা আপনার চেতনার রঙে পান্না সবুজ হবে কিনা জানিনা, রাজ্যটা সবুজ হয়েছে তা বাস্তব। আগে নিজেরা সেরে উঠি, তারপর না হয় সমাজকে সারাবো।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন