ওরে.... ভবিষ্যতের নেতা......
এতো মিটিং করে করবি কি তা বল।
মিটিংটা তাও যদি জনগণের উদ্দেশ্যে হতো তাহলেও একটা কথা থাকত। একই ব্যক্তি, একই কথা, একই বক্তব্য- সাত রকম কমিটিতে উপস্থিত থেকে বলে যাচ্ছে নাগাড়ে। একদল লোক বোকার মতো তা শুনে যাচ্ছে বিকারহীন ভাবে। শুনছে শুনছে, চিরকালই শুনবে। আদান-প্রদান বলে শব্দটাই এদের অভিধানের পাতা থেকে উঠে গেছে। সেই বোকার মতো ভ্যাবলা চোখে অন্যমনস্ক ভাবে তাকিয়ে থাকা লোকটা, যে লোকটার কিছু বক্তব্য থাকতে পারে তা কেউ কোনোদিন ভাবনায়-চিন্তায় আনেনি।
কেউ ভাবছে না, যে লোকটা ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে কিন্তু কোথাও বলার সুযোগ বা অধিকার পাচ্ছে না, আদপে লোকটার মধ্যে যে কিছু তো ট্যালেন্ট আছে সেটাই বিকশিত হওয়ার জায়গাই পাচ্ছে না।
নতুন ধারণা আমাদের মাঝে আসবে কী করে!
১০০টা ছেলে সাথে ঘুরছে, কেন ঘুরছে ছেলেগুলোও জানে না, প্রার্থীও জানে না, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বও জানে না, কিন্তু ঘুরছে। মিডিয়া নেই নেই করেও আছে, তথাকথিত ডানপন্থী আন্দোলন ও উত্থানের গল্প আছে। নিজেদের মতো করে তৈরি করে নেওয়া ময়দান আছে, তাই নজর আছে। পয়সা আছে, ফ্লেক্স আছে, পোস্টার আছে, সংগঠন আছে, আত্মবিশ্বাস আছে, রোজ রোজ বড় বড় নেতা সেলিব্রিটির আমদানি আছে- যা যা থাকার দরকার সব আছে।
নেই শুধু পরিকল্পনা।
যেটা থাকতেই পারত সেটাও নেই- সোশ্যাল মিডিয়া। ৫০০ কোটির PK আর ৫০০০ কোটির আঁটি সেলের বিরুদ্ধে সেল্ফি তোলা টিভি সেলেব কিম্বা চার আনার ঘটিগরম। ফল যা হবার তাই হয়েছে- যে প্রচারটা পেতেই পারত, সেটাও পায়নি।
জল নেই, খাবার নেই, দিশা নেই, কিচ্ছু নেই, আছে শুধু আবেগ আর উচ্ছ্বাস। অথচ যেখানে কিছুই ছিল না প্রায়, সেখানে এগুলো সব ছিল, কারণ পরিকল্পনা ছিল। আবেগ-উচ্ছ্বাস দিয়ে একটা দূর পর্যন্ত যাওয়া যায়, তারপর কিন্তু বিনোদ কাম্বলি। ট্যালেন্ট আর সফলতা- দুয়ের মাঝের ফারাকটা হলো পরিকল্পনা।
বরই যখন বরকর্তা হয়, তার অনুষ্ঠান বাড়ি ঘেঁটে না যাওয়াটাই অস্বাভাবিক।
কী হবে এত মিটিং দিয়ে? মানুষের দোরে দোরে না পৌঁছলে হাতে রইবে শুধুই পেন্সিল।
প্রতিষ্ঠিত নেতা দেখেছি, স্ট্রাগলার নেতা দেখেছি, সোনার চামচ মুখে নেওয়া নেতা দেখেছি, ভাবুক আঁতেল দেখেছি, গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল দেখেছি, দরকারের সময় পালিয়ে যাওয়া নেতা দেখেছি, মার খাবার ভয়ে না এসে ফোনের সুইচ অফ করে দেওয়া নেতা দেখেছি, হুকুম জারি করা নেতা দেখেছি- সে কেন নেতা এইটা না জানা নেতা দেখেছি, সহজাত নেতৃত্বের গুণ কম মানুষেরই থাকে, তেমন বিরল নেতাও দেখেছি।
পাশাপাশি- পিতার স্নেহে লাটাই এর সুতো ছেড়ে দেওয়া নেতা দেখেছি, সন্তানকে আগলে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া নেতা দেখেছি- নেতার জন্ম হতে দেখেছি। কিন্তু গাছে ওঠার আগেই এক কাঁদি পেড়ে ফেলা নেতা দেখার বাকি ছিল। সেটাও দেখলাম। দেখলাম বেশ কয়েক স্থানে।
কেউ কেউ ইন্টারভিউ দিচ্ছে- তিনি আবার প্রার্থী
-প্রেম করেন?.
-কেন করব না...
এটা জবাব ছিল।
এতে মানুষের কোন সমস্যা মিটবে? প্রার্থী নাচতে জানলে বা গাইতে জানলে তাতে ভোটারদের কোন সমস্যার সমাধান হবে?
একটা রেসে অনেকে দৌড়ায়, জেতে একজনই। কিন্তু হারের অনুসন্ধান করতে যাওয়ার জন্য যারা যায় তারা মাটিতেই নামেন না, তাই মিটিং চলতেই থাকে। আর সামনের লোকটা বোবা দৃষ্টিতে বাইরের জানালা দিয়ে গ্রীষ্মের লু এর সাথে দৃষ্টি বিনিময় করে সময় কাটায় একই ক্লিশে ডায়লোগ শুনে।
হাল ফেরাতে
লাল ফেরাও
একদম ঠিক, কিন্তু তারও আগে শোনা অভ্যাস করতে হবে, অভিজ্ঞ পার্টি কমরেড মেন্টরের অধীনে ওয়ার্কশপ করতে হবে, এসবের বিকল্প নেই। আবেগে ভোট হয় না, ভোট করাতে হয়, মেসিনারি লাগে, আর লাগে পরিকল্পনা। শক্তি কম হোক বা বেশি, পরিকল্পনার ঘাটতি হলে লড়াই থেকে প্রথমেই পিছিয়ে পড়তে হয়। আর এটা উপলব্ধির বয়স কাঁচা চুলের সকলের থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।
ফেসবুকের কিছু ক্লোজড গ্রুপ আছে, যেখানে রোজ পলিটব্যুরো বসে, সেখানে এসে প্রত্যেকে বা অনেকেই ভয়ানক ভাবগম্ভীর মতামত রাখে এমন ভাবে যেন - এটার এগনস্টে কাল পার্টি কংগ্রেস বসবে, গঠনতন্ত্র বদলে যাবে। কেউ কেউ ভবিষ্যৎবাণী করেন কারো কারো সম্বন্ধে, যিনি তার এলাকাতে ২২দিন থাকার পরেও প্রার্থীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি বা করার যোগ্যতা হয়ে উঠেননি। অথচ খাপ বসিয়ে দিশা ঠিক করে দেওয়ার জন্য সে কী প্রাণপাত লড়াই... তাই হাসি লাগে না, করুণা হয়। মনে হয় ওই মিটিং নেতারা এদেরই যোগ্য উত্তরসূরী নেতা।
বুঝলে ভাল, না হলে আসছে বছর আবার হবে।
ততক্ষণে সামনের বোবা লোকগুলো উসখুস করতে করতে ঘুমিয়ে যাক না হয়,
যে দেখে শেখে না, সে ঠেকে শেখে।
সবই ঠিক থাকে, শুধু সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন