অক্সিজেন প্লান্ট যে আমাদের দরকার, বিগত এক বছর ছেড়ে দিন- এই নির্বাচন চলাকালে ডান-বাম-রাম-তিনু-হনু-নকু-সেকু-শুশি-লিবু কেউ একবারও 'অক্সিজেন প্ল্যান্ট'' শব্দটা উচ্চারণ করেছিলাম?
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
অক্সিজেন প্লান্ট ও বাংলার সরকার
বিজেপি বেচে খাও পার্টি, সাম্প্রদায়িকতা তাদের ভিত্তি আর এমএলএ কেনা ভবিষ্যৎ। তৃণমূল দলটাই তো চোরেদের, কোনো শিক্ষিত ভদ্রলোক সেখানে নেই। এটা তো আমরা বামপন্থীরা জানি ও বিশ্বাস করি। কিন্তু আমাদের ভূমিকাটা কী? শুধুই আঙুল তোলা? বামেরাই বিকল্পের কথা বলে ও বলছে, সেই বিকল্পটা কি সীমাবদ্ধ? শ্রমিক, কৃষকের বাইরে বেকারের কর্মংস্থানের প্রশ্ন- বৃত্ত শেষ? এত বড় সমাজে এটুকুই চাহিদা? গোটা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যবিত্তদের বাস, জনবহুল ও শিক্ষার মান কম- একমাত্র বিকল্প ভাবনাই তো সম্বল।
আমাদের সত্যিকারের কোথায় ঘাটতি আছে সেই সব জানলে তবে তো আমরা কী জাতের প্লান্ট করব সেই নিয়ে চিন্তাভাবনা করব। আমরা কেউ পড়াশোনা করি? আমরা তো কেবল কপি-পেস্ট করি আর ভয় পাই। আমরা কেবল জ্ঞান দিই, আর একটু বড় প্রবন্ধ হলেই কেটে পড়ি। সবটা কি নেতারা করবেন? আমাদের নাগরিক সমাজ কি শুধু প্রশ্ন করবে?
কেরল প্ল্যান্ট বসিয়েছে, এই তথ্য গত সপ্তাহের আগে কে জানতাম? কেরল করে দেখাতে পারে, আমরা বাঙালিরা প্রশ্নটুকুও করতে পারি না। আসলে দীর্ঘ ১০/৭ বছরের শাসনে আমরা যারা তথাকথিত বামপন্থী তারাও সর্বজ্ঞ হয়ে উঠে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে জ্ঞানদা ভাণ্ডার খুলে রেখেছি, যেখান থেকে বিনামূল্যে ভয় বিলি করি। আমাদের ডিগ্রী কোন কাজে আসবে যদি চর্চা না থাকে?
শ্রমিকের সাথে হাত লাগিয়ে কাজ করাটাই কি নেতাদের একমাত্র দায়িত্ব? গরিবিয়ানাটাই কি একমাত্র যোগ্যতা ডিগ্রীর পাশে? তাহলে দিশা দেখানো কাকে বলে? নতুন ভাবনা কে ভাববে? যারা ছিলেন তাদের কাছে নতুন ভাবনা ছিল না বলেই তো অপাংক্তেয় হয়ে গেছিলাম, যারা নতুন এসেছেন তাদের কাছে 'ব্যতিক্রমী' ও 'এগিয়ে থাকা' ভাবনা না পেলে কীসের ডিগ্রী আর কীসেরই বা তরুণ?
কী হবে ফেবুতে বা মিডিয়াতে বড় বড় ডায়লোগ দিয়ে? এই মুহূর্তে কোন কাজে আসবে প্ল্যান্টের ভাবনা? সেটাপ করতে তো ২-৩ মাস, তদ্দিন কী হবে? ঘরে বসে ফোকটে বিবৃতি দিতে ভাল লাগে। আরও ভাল লাগে অন্যের সমালোচনা।
দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদে বিরুদ্ধ মতেরও তো চাষ থাকতে হবে, নতুবা তো উমেদারি করা মোসায়েবে ভরে যাবে পরিবৃত্ত। থিসিস, এ্যান্টিথিসিসের দ্বন্দ্ব হলে তবে না সিন্থেসিস আসবে। কিন্তু ওই- সেই দূরের বোকা মতো, যে লোকটা কখনও কিছু বলেনি, কারণ তাকে কেউ কখনও কিছু শুধায়নি। কেউ ভাবেইনি তারও কিছু বলার থাকতে পারে, যেটা গতানুগতিকতার বাইরে হতেও পারে। কয়েকবার সে বলার চেষ্টা করেছিল বৈকি, তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তাই- আগে নিজেকে বদলাই, তারপর না হয় সমাজ বদলের কথা ভাবব, তারপরে তো বিপ্লব।
অন্যের দিকে একটা আঙুল তুললে বাকি চারটে আঙুল নিজের দিকেই তাক করা থাকে-
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন